বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৬৯ · ২০১৩০০ / ৬,৯৫৩

২০১.
‘তিনি চোখে দেখেন না’- বাক্যে চোখে’ কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. অধিকরণে সপ্তমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

• অতএব ‘তিনি চোখে দেখেন না’- বাক্যটিকে কার দ্বারা বা মাধ্যমে দেখেন না জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চোখে’। তাই ‘চোখে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২.
শব্দ সংক্ষেপ করার জন্য কোন চিহ্নটি ব্যবহার করা হয় না?
  1. অনুস্বার
  2. বিসর্গ
  3. ডট
  4. কোলন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) বিসর্গ। 

-----------------
• ব্যাখ্যা:
শব্দ সংক্ষেপ করার সময় সাধারণত ডট (.) বা কোলন (:) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বিসর্গ (ঃ) কখনও শব্দ সংক্ষেপের জন্য ব্যবহৃত হয় না।

• শব্দ সংক্ষেপ ডট (.)  সবচেয়ে প্রচলিত চিহ্ন। 
উদাহরণ:
ডা. = ডাক্তার। 
প্রা. = প্রাইভেট। 

• কোলন (:) কিছু সংক্ষেপে ব্যবহৃত হয়। 
 উদাহরণ:
বি:দ্র: = বিশেষ দ্রষ্টব্য। 

• উঁয়ো (ঙ)-এর খণ্ডরূপ হলো অনুস্বর (ং)। “ং” (অনুস্বার) কখনো কখনো শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তার ব্যবহার খুব সীমিত ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দেখা যায়।
 উদাহরণ:
• প্রং = প্রমুখ; 
এটি সবচেয়ে প্রচলিত রূপ। বাংলা লেখালেখিতে (বিশেষত সরকারি চিঠিপত্র, নোট, প্রশ্নপত্র, গবেষণা ইত্যাদিতে) “প্রমুখ” শব্দটি সংক্ষেপে লেখা হয়। যেমন- উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আহমেদ, করিম, রশিদ প্রং। (অর্থাৎ — আহমেদ, করিম, রশিদ প্রমুখ)
 
• সং = সঙ্গে;  “সং” বা “সঙ” — “সহ” বা “সঙ্গে” শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যেমন- তিনি পরিবার-সং এসেছিলেন। (অর্থাৎ — পরিবার সহ এসেছিলেন)।
 
শব্দ সংক্ষেপের জন্য ডট (.), কোলন (:), এবং মাঝে মাঝে অনুস্বার (ং) ব্যবহার হয়, কিন্তু বিসর্গ (ঃ) কখনও ব্যবহার করা হয় না। বিসর্গ মূলত উচ্চারণ বা ব্যাকরণগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় (যেমন: দুঃখ, নিঃস্ব ইত্যাদি)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০৩.
'অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।'- এখানে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বানানের অশুদ্ধি 
  2. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি 
  3. গুরুচণ্ডালী দোষ 
  4. বহুবচনের অশুদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• 'অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।' বাক্যটিতে বহুবচনের অশুদ্ধি ঘটেছে। 
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ- অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।

-----------------------------
• বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহু বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। মনে রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা  ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০৪.
‘অতএব, আপনার নিকট বিনীত বাক্যে প্রার্থনা এই, আপনি অনুগ্রহ করিয়া আমার পরিবারবর্গের নিকট এই সংবাদ পাঠাইয়া দিবেন।'- এই বাক্যে নিচের কোন ধরনের অসংগতি লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) দূরান্বয় দোষ
  2. খ) অতি বিনয়ের প্রকাশ
  3. গ) বচনের ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) আসত্তি গুণ পূরণ না হওয়া
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যটিতে বচনের ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
- বাক্যটিতে 'পরিবার' শব্দের সাথে 'বর্গ' যোগ করা হয়েছে।
- এখানে 'পরিবার' অর্থগতভাবে বহুবচন।
- তাই 'পরিবার' এর সাথে পুনরায় 'বর্গ' যোগ করায় এখানে বচনের ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
• একইসঙ্গে দুইবার বহুবচনবাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
২০৫.
"যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।" - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল
  2. যৌগিক
  3. সরল
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।

যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৬.
নিচের কোন বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল হয়েছে-
  1. আধুনিক চেতনাই তার কবির বৈশিষ্ট্য।
  2. রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
  3. আমার অত্যন্ত কার্যবাহুল্যতা ঘটেছে।
  4. তার সৌজন্য ভুলতে পারব না।
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোতে, 'আমার অত্যন্ত কার্যবাহুল্যতা ঘটেছে।' বাক্যটি প্রত্যয়জনিত ভুল।
• শব্দে অনেক সময় প্রত্যয় জনিত ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।
• যেমন- উৎকর্ষতা নয় হবে উৎকর্ষ, ধৈর্যতা নয় হবে ধৈর্য, সৌজন্যতা নয় হবে সৌজন্য, কার্যবাহুল্যতা নয় হবে কার্যবাহুল্য ইত্যাদি।

২০৭.
'চাঁদ দেখা যাচ্ছে'- এ বাক্যে কোন বাচ্যের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ভাববাচ্য 
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদ দেখা যাচ্ছে'- এ বাক্যে কর্মকর্তৃবাচ্যের প্রয়োগ ঘটেছে। 

কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
- যে বাক্যে কর্মকারক কর্তার মতো প্রতীয়মান হয় অর্থ্যাৎ ক্রিয়ার কর্তার মনোযোগ ব্যতীত সম্পাদিত হয়, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- বিষয়টি ভালো শোনায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
- এসিটা চালু হলো। 
- ফুল ফোটে।

উল্লেখ্য,
- সাধারণত প্রাকৃতিক ঘটনামূলক ক্রিয়ায় এই বাচ্যের প্রয়োগ দেখা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৮.
ভাববাচ্যের কর্তায় কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না?
  1. ষষ্ঠী
  2. দ্বিতীয়া
  3. তৃতীয়া
  4. সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্যের কর্তায় সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয় না।

• ভাববাচ্য:

যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৯.
কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ?
  1. একক
  2. একত্রিত
  3. ঐক্য
  4. একত্র
ব্যাখ্যা
• 'একত্রিত'-  অপ্রয়োগের উদাহরণ। 

•  'একত্রিত' শব্দটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে 'একত্র'।

উল্লেখ্য,
বাংলা একাডেমি 'একত্রিত' শব্দকে বাংলা শব্দ হিসেবে গণ্যকরে শুদ্ধ দেখিয়েছে। তবে, শব্দটি ব্যাকরণসম্মত নয়। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ। 
 
 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- অধীনস্ত, আবশ্যকীয়, স্বত্ত্ব, সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
একক, একত্র, ঐক্য, - শব্দগুলো শুদ্ধ প্রয়োগ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২১০.
"মন আমার নাচেরে আজিকে।" - বাক্যে "আজিকে" কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে স্থানে, যে কালে বা যে বিষয়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে ক্রিয়ার আধার বলে। ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
 
যেমন:
অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: মন আমার নাচেরে আজিকে
তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
পঞ্চমী বিভক্তি: ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
সপ্তমী বিভক্তি: বনে বাঘ থাকে।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২১১.
STRANGE-এর বিপরীত?
  1. Similar
  2. Familiar
  3. Peculiar
  4. Obstinate
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: STRANGE-এর বিপরীত?

সমাধান:
STRANGE অর্থ - অচেনা, অপরিচিত, অস্বাভাবিক, বা অদ্ভুত।


প্রতিটি অপশন যাচাই করি:
ক) Similar → সদৃশ বা মিল রয়েছে।

খ) Familiar → পরিচিত, চেনা → STRANGE-এর সঠিক বিপরীত।

গ) Peculiar → বিরল, অদ্ভুত → STRANGE-এর সমার্থক শব্দের কাছাকাছি।

ঘ) Obstinate → জিদি, অনড় → কোন সম্পর্ক নেই।

সুতরাং STRANGE-এর বিপরীত অর্থ হলো Familiar.

২১২.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন।
  1. ক) দুষ্কৃতকারি
  2. খ) দুষ্কৃতিকারি
  3. গ) দুষ্কৃতিকারী
  4. ঘ) দুষ্কৃতকারী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- দুষ্কৃতকারী (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [দুষ্কৃত+√কৃ+ইন্]
অর্থ: দুষ্কর্মকারী, অন্যায়কারী, অপরাধী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১৩.
'তোমার দেখা পেলাম না।' - বাক্যে ‘তোমার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে ২য়া
  2. কর্ম কারকে ষষ্ঠী
  3. করণ কারকে ২য়া
  4. কর্মকারকে ৩য়া
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে।

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৪.
নিচের কোন শব্দটি গুজরাটি?
  1. কাহিনী
  2. চাহিদা
  3. হরতাল
  4. রিকশা
ব্যাখ্যা
• হরতাল (বিশেষ্য পদ)।
- 'গুজরাটি' ভাষার শব্দ।
 অর্থ:
- ধর্মঘট;
- বিক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য যানবাহন, হাট-বাজার, দোকান-পাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করা।

অপরদিকে,
-----------------------
• ‘কাহিনি’ হিন্দি ভাষার শব্দ।
অর্থ: গল্প, আখ্যান, উপন্যাস।
[অভিধান অনুসারে, কিাহিনী বানানটি অশুদ্ধ।]

• চাহিদা (বিশেষ্য পদ)।
- বাংলা ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- বাজারে পণ্যদ্রব্যের প্রয়োজনীয়তা।
- ক্রয়ের ইচ্ছা। 
[ উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে, 'চাহিদা' পাঞ্জাবি শব্দ।]

• রিকশা (বিশেষ্য), 
- এটি জাপানি শব্দ। 
অর্থ: মনুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়ক্যান। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২১৫.
কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল কত?
  1. কোনোরূপ বিরতির প্রয়োজন নেই
  2. ১ (এক) বলতে যে সময় লাগে
  3. ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ
  4. ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়কাল
ব্যাখ্যা
কোলন ড্যাস (:-)
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
- কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।

যেমন:
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২১৬.
'মাতালদের ওই ভাঁটিশালায় নটিনী আজ বীণাপাণি।' - বাক্যে ‘ভাঁটিশালায়’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।

 
‘মাতালদের ওই ভাঁটিশালায় নটিনী আজ বীণাপাণি।’- এখানে 'ভাঁটিশালায়' হলো  অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
• ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
• উদাহরণটিতে ক্রিয়াকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে 'ভাঁটিশালায়' উত্তর পাওয়া যায় তাই 'ভাঁটিশালায়' হলো অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।
 
অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
 
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম),
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা),
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ  = সাবান)।
 
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৭.
যে বাচ্যের কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রতীয়মান হয় তাকে কোন বাচ্য বলে?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
- ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
- ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২১৮.
নিচের কোনটি বাক্যের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) অভিপ্রায়
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) আকাঙক্ষা
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
- এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা

• আকাঙ্ক্ষা: ‘আকাঙক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

• আসত্তি: আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।
- ‘আগামী কাল একটি বিজয় দিবস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৬ই ডিসেম্ব হবে আমাদের স্কুলে উপলক্ষে’- বাক্যটিতে পদবিন্যাস সঠিক বা সুশৃঙ্খল না হওয়ায় বাক্যটি  আসত্তি গুণ হারিয়েছে।
• শুদ্ধরূপ: আগামী কাল ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

• যােগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
২১৯.
‘আইশা মনকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।’ বাক্য কী ধরণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. যোগ্যতা জনিত
  2. কারক জনিত
  3. বানান জনিত
  4. পদক্রম জনিত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আইশা মনকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।’ বাক্যটি বানান জনিত অশুদ্ধ। 
• শুদ্ধ রূপ: পরিমল মনঃকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।

•  (মনঃকষ্ট) সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ। বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২২০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. একান্নবর্তী
  2. আকাঙ্ক্ষি
  3. নিস্কর
  4. আকাশচুম্বি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: একান্নবর্তী (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- একসঙ্গে আহার ও বসবাস করে এমন পরিবার,
- যৌথ পরিবার।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ: আকাঙ্ক্ষী।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- আকাঙ্ক্ষা করে এমন,
- অভিলাষী।

• শুদ্ধ: আকাশচুম্বী (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গগনস্পর্শী,
- অত্যন্ত উঁচু।

• শুদ্ধ বানান: নিষ্কর (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কর দিতে হয় না এমন,
- লাখেরাজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২১.
"টাকায় কি সব হয়?" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. টাকায় কি না হয়।
  2. টাকায় সব হয় না। 
  3. টাকায় কখনো সব হয় না।
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নবোধক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- বাক্যের মূল অর্থ ঠিক রেখে প্রশ্নবাচক বাক্যে কি তুলে দিতে হবে। 
- না, নাই, নি, জানি না, বুঝি না ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
- প্রশ্ববোধক যতিচিহ্ন বাদ দিয়ে দাঁড়ি দিতে হবে।

সে অনুসারে,
"টাকায় কি সব হয়?" - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ - টাকায় সব হয় না।

উৎস : বাংলা একাডেমির প্রমিত ব্যাকরণ; ভাষা শিক্ষা- ডহায়াৎ মামুদ। 

২২২.
'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।' এটি কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।' একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:

- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২২৩.
অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজী প্রতিশব্দ-
  1. সনেট
  2. লিমেরিক
  3. ব্লাংকভার্স
  4. এপিক
ব্যাখ্যা

• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাতে এ ছন্দের সুরমুক্তি ঘটে।
- অর্থাৎ, 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- তিনি 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ। অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২৪.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) কৌতুহল
  2. খ) কৌতূহল
  3. গ) কাংখিত
  4. ঘ) শ্রদ্ধাঞ্জলী
ব্যাখ্যা
কৌতূহল (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = কুতূহল+অ
অর্থ: অজ্ঞাত বিষয়ে জানার আগ্রহ।

অন্যান্য বানানের শুদ্ধ রূপ- 
শ্রদ্ধাঞ্জলি, কাঙ্ক্ষিত

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২২৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রণয়িনি
  2. প্রণয়িনী
  3. প্রনয়িনি
  4. প্রনয়িনী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী
-  শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: প্রেমের পাত্রী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ইতস্থত
  2. হিতস্থত
  3. ইতস্তত
  4. ইথস্তত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ইতস্তত,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = (ইতঃ + ততঃ),
অর্থ: নানাদিকে, সর্বত্র, কুণ্ঠাবোধ, সংশয়, দোটানা অবস্থা, গড়িমসি করার প্রবণতা, দ্বিধা, সংকোচ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২৭.
'স্বদেশের উপকারে নাই যার মন
কে বলে মানুষ তারে? পশু সেইজন?' - মূলত কোন বিষয়ে আলোচিত হয়?
  1. প্রবন্ধ
  2. ভাব-সম্প্রসারণ
  3. রচনা
  4. সারাংশ
ব্যাখ্যা
• 'স্বদেশের উপকারে নাই যার মন
কে বলে মানুষ তারে? পশু সেইজন?' - মূলত 'ভাব-সম্প্রসারণ' এ আলোচিত হয়।  

ভাব-সম্প্রসারণ:
- ভাব-সম্প্রসারণে ভাবের সম্প্রসারণ ঘটে।
- কোনো কবিতা বা গদ্যরচনার অংশকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করাকে ভাব-সম্প্রসারণ বলে। 

ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন:
- ভাব-সম্প্রসারণকে প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত করা যায়: প্রথম অংশে ভাবের অর্থ, দ্বিতীয় অংশে ভাবের ব্যাখ্যা এবং তৃতীয় অংশে ভাবের তাৎপর্য।
- ভাব-সম্প্রসারণের এই অংশগুলোকে আলাদা তিনটি অনুচ্ছেদে উপস্থাপন করা যায়।
- ভাবের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুক্তি দেখাতে হয়, উদাহরণ দিতে হয়, তুলনা করতে হয়।
- ভাব-সম্প্রসারণের বাক্যগুলো যাতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
- প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ভাব-সম্প্রসারণে আলাদা কোনো শিরোনামের দরকার হয় না।
- মূল ভাবটি রূপক বা প্রতীকের আড়ালে থাকলে তাকে স্পষ্ট করতে হয়।
- ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে প্রদত্ত অংশের রচয়িতার নাম উল্লেখ করতে হয় না।
- কমবেশি ২০০ শব্দ অথবা অনধিক ২০টি বাক্যের মধ্যে ভাব-সম্প্রসারণ সীমিত থাকা উচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২৮.
কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. চপলতা
  2. পৌরুষত্ব
  3. গাম্ভীর্য
  4. চতুরতা
ব্যাখ্যা
 • 'পৌরুষত্ব'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - পৌরুষ, পুরুষত্ব।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

অন্যদিকে:
- গাম্ভীর্য, চতুরতা ও চপলতা শব্দ গুলোর শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৯.
নিচের কোন চিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড'?
  1. ব্র্যাকেট
  2. লোপ চিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা

• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

অন্যদিকে,
• থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩০.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'ইহা পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. ক) তাহা
  2. খ) ওটা
  3. গ) সেটা
  4. ঘ) ওহা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির 'ইহা' পরোক্ষ উক্তিতে হবে - তাহা।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি পরিবর্তন:
প্রত্যক্ষ  -  পরোক্ষ
এই  -  সেই।
ইহা  -  তাহা/উহা।
এখানে - ওইখানে।
আগামীকাল - পরদিন।
গতকল্য - পূর্বদিন।
এটা - ওটা/সেটা।
এ - সে।
আজ - সেদিন।
গতকাল - আগেরদিন।
এখন - তখন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৩১.
বাক্যে যতিচিহ্ন 'দাঁড়ি'- এর বিরতি কাল কত সময়?
  1. ক) ১ সেকেন্ড
  2. খ) ১ বলতে যে সময় লাগে
  3. গ) ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. ঘ) থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
- বাক্যে যতিচিহ্ন 'দাঁড়ি'- এর বিরতি কাল ১ সেকেন্ড

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।



উৎস:
১/ প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩/ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৩২.
‘ব্রাহ্মণ’ শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) ব্রাম্‌মন্‌
  2. খ) ব্রাম্‌হন্‌
  3. গ) ব্রাহ্‌মন্‌
  4. ঘ) ব্রাহ্‌মোন্‌
ব্যাখ্যা

ব্রাহ্মণ [ব্রাম্‌হন্‌] (বিশেষ্য){(তৎসম বা সংস্কৃত) ব্রহ্মন্‌+অ(অণ্‌)}
- যিনি ব্রহ্মকে জানেন; হিন্দুমতে উচ্চবর্ণের লোক।
- আর্যদের চারবর্ণের প্রথম বর্ণ।
- বিপ্র; বামুন।
- বেদের অংশবিশেষ।
- পুরোহিত ব্রাহ্মণ; পাচক ব্রাহ্মণ।

ব্রাহ্মণী (স্ত্রীলিঙ্গ)।
ব্রাহ্মণসমাজ (বিশেষ্য) ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

২৩৩.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. আমায় একা রেখে যেওনা। 
  2. বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
  3. তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।
  4. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
ব্যাখ্যা
⇒ (না, নেই, নয়) ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• অশুদ্ধ বাক্য: আমায় একা রেখে যেওনা। 
• শুদ্ধরূপ: আমায় একা রেখে যেও না। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৪.
কোথায় থাকা হয়? - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. ক্রিয়াবাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- কোথায় থাকা হয়?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. যদ্যাপি
  2. যদ্যোপি
  3. যদ্যপি
  4. যদ্যাপিঃ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানানটি হল ‘যদ্যপি’ (অব্যয়) {(তৎসম বা সংস্কৃত) যদি+অপি}।
[সূত্রঃ বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান]
২৩৬.
নিচের কোন শব্দটি প্রমিত বানানে অশুদ্ধ?
  1. রূপালি
  2. মিতালী
  3. বর্ণালি
  4. খেয়ালি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুসারে শুদ্ধ - রূপালি, খেয়ালি, বর্ণালি।
- 'মিতালী' শব্দটির শুদ্ধ বানান — 'মিতালি'। 

- '-আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন: সোনালী হবে না, হবে সোনালি; মিতালী হবে না, হবে মিতালি।

অনুরূপভাবে,
- বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩৭.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।' এটি একটি-
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি'- এটি একটি জটিল বাক্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

-------------------
• সরল বাক্য: 
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন :
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

---------------
• জটিল বাক্যে:  
জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো।

অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই।

[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]
যেমন:
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

• আরো কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
- ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।

-----------------
• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। 
জ্ঞাতব্য : যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। 
যেমন:
- ত্যাগ এবং জ্ঞান মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে। এখানে দুটি বাক্য আছে। যেমন :
- ত্যাগ মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে।
- জ্ঞান মানুষকে মুক্তির পথে পরিচালিত করে। বাক্য দুটির সংযোজক অব্যয় ‘এবং’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ।
২৩৮.
শুদ্ধ বানান -
  1. আটপৌড়ে
  2. আটপৌরে
  3. আঠপৌরে
  4. আটঁপৌরে
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'আটপৌরে'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি বাংলা ভাষার শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- সর্বদা ব্যবহারের উপযুক্ত (আটপৌরে কাপড়)।
- পোশাকি নয় এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩৯.
'আমি অত্যন্ত দুর্বল, তাই আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।'- এই বাক্যের সরল রূপ কী?
  1. আমি অত্যন্ত দুর্বল হইলে কাজ করি না।
  2. আমি দুর্বল, তাই কোনো কাজ করিনি।
  3. আমি দুর্বল এবং আমি অলস, তাই কাজ করছি না।
  4. অত্যন্ত দুর্বলতাবশত আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।
ব্যাখ্যা
আমি অত্যন্ত দুর্বল, তাই আমি কোনো কাজ করতে পারছি না।- এই বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

• এই বাক্যের সরলরূপ: অত্যন্ত দুর্বলতাবশত আমি কোনো কাজ করতে পারছি না। 

• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরিত করার নিয়ম:
- বাক্য পরিবর্তন হলেও অর্থের পরিবর্তন হয় না।
- বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
- সংযোজক, বিয়োজক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
উদাহরণ:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রনয়িণী
  2. প্রণয়নী
  3. প্রণয়িনী
  4. প্রণয়নি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী।

- এটি প্রণয়ী এর স্ত্রীবাচক শব্দ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪১.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
  2. চিঠিটা পড়া হয়েছে।
  3. হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
  4. একটি গান কর।
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
- হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
- একটি গান কর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৪২.
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে বলে-
  1. ক) কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. খ) ভাববাচ্য
  3. গ) কর্মবাচ্য
  4. ঘ) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় ‘বাচ্য’।
বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার :
(১) কর্তৃবাচ্য (২) কর্মবাচ্য ও (৩) ভাববাচ্য।
কর্তৃবাচ্য : যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে
যেমন— ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যথা— শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য : যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

ভাববাচ্য : যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন—
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৪৩.
'যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে' – বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ কোনটি?
  1. ক) বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  2. খ) বিপদের পরপরই দুঃখ আসে।
  3. গ) আগে বিপদ তারপর দুঃখও আসে।
  4. ঘ) বিপদ তারপর দুঃখ আসে।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের যৌগিক বাক্যরূপ হচ্ছে বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য:
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ।
যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৪৪.
'ঝিকে মেরে বৌকে শিখানো' এ বাক্যে 'ঝিকে' পদটি-
  1. কর্তায় ৪র্থী
  2. কর্মে ২য়া
  3. করণে ৪র্থী
  4. অধিকরণে ২য়া
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
ডাক্তার ডাক।
শিক্ষককে জানাও।
ঝিকে মেরে বৌকে শিখানো - কর্মে ২য়া

• কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৫.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করছে?
  1. ক) সে একটু হাসুক
  2. খ) তার মঙ্গল হোক
  3. গ) সদা সত্য কথা বলবে
  4. ঘ) পরিশ্রম করলে সফল হবে
ব্যাখ্যা

আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা-
আদেশ : সদা সত্য কথা বলবে।
সূত্র- এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র(উন্মুক্ত)।

২৪৬.
কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  3. গ) কার্যকারণাত্মক বাক্য
  4. ঘ) সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য
ব্যাখ্যা
যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে হয়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে। যেমন : 
- কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না। 
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
২৪৭.
সারাংশ বা সারমর্ম সাধারণত কয়টি অনুচ্ছেদে লিখতে হয়?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) চারটি
ব্যাখ্যা
• গদ্যরচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারাংশ, আর কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম।

সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম হলো:

- প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
- অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
- প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
 -সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
- সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
- সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
- সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪৮.
'উদ্ধরণ চিহ্ন' ব্যবহারে বিরতির সময় কত?
  1. এক উচ্চারণে যে সময় লাগে
  2. এক সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• যতি বা ছেদচিহ্ন:
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বাক্য-গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তা-ই যতি বা ছেদচিহ্ন।

নিচে বিভিন্ন প্রকার যতিচিহ্নের নাম, আকৃতি এবং তাদের বিরতি কালের পরিমাণ নির্দেশিত হলো:
• কমা (,) ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন (;) ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি (পূর্ণচ্ছেদ) (।) এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!) এক সেকেন্ড।
• কোলন (:) এক সেকেন্ড।
• কোলন ড্যাস (:-) এক সেকেন্ড।
• হাইফেন (-) থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন থামার প্রয়োজন নেই।
• উদ্ধরণ চিহ্ন (" ") 'এক' উচ্চারণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনী-চিহ্ন) '(), [], {}' থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২৪৯.
"ছাগলে কী না খায়।" - বাক্যে 'ছাগলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. কর্তায় ৭মী
  3. করণে ২য়া
  4. কর্তায় ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথমা বিভক্তি: শিহাব বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: শিমুলকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বিভক্তি: নজরুল কর্তৃক অগ্নিবীণা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: আমার খাওয়া হয় নি।
সপ্তমী বিভক্তি: ছাগলে কী না খায়

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২৫০.
"সুখে থেকো, এই দোয়া করি।"- নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণকারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

প্রদত্ত বাক্যটি - 
"সুখে থেকো, এই দোয়া করি।

• উল্লিখিত বাক্যটিতে ক্রিয়াকে (করি) 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'দোয়া'। 
অর্থাৎ,
বাক্যে 'দোয়া' একটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।"
২৫১.
নিচের কোন এক কথায় প্রকাশটি সঠিক নয়?
  1. ক) যা উচ্চারণ করা যায় না = দুরুচ্চার্য।
  2. খ) যা অপনয়ন (দূর) করা যায় না = অনপনেয়।
  3. গ) যা পূর্বে কখনো হয় নি = অভূতপূর্ব।
  4. ঘ) যা পূর্বে দেখা যায় নি = অদৃষ্টপূর্ব।
ব্যাখ্যা

যা উচ্চারণ করা যায় না = অনুচ্চার্য।
যা উচ্চারণ করা কঠিন = দুরুচ্চার্য।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশঃ
যা অপনয়ন (দূর) করা যায় না = অনপনেয়।
যা অপনয়ন (দূর) করা কষ্টকর = দূরপনেয়।
যা পূর্বে দেখা যায় নি = অদৃষ্টপূর।
যা পূর্বে ছিল এখন নেই = ভূতপূর্ব।
যা পূর্বে কখনো হয় নি = অভূতপূর্ব।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

২৫২.
“কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ”- “কলসটি” কোন কারকে কোন বিভক্তি
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) স্থানাধিকরণে সপ্তমী
  3. গ) আধারাধিকরণে সপ্তমী
  4. ঘ) কালাধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারকের প্রকারভেদ
অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

কালাধিকরণঃ
যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে। উদাহরণ-
শরতে শাপলা ফোটে।
সকালে সে চলে যাবে।
প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ।

ভাবাধিকরণঃ
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়। যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
হাসিতে মুক্তা ঝরে।
জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।

আধারাধিকরণঃ
আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:- ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।

১. ঐকদেশিকঃ
বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যে কোনো একস্থানে)
বনে বাঘ আছে। (বনের যে কোনো এক অংশে)
আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্য(নৈকট্য) অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন-
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (ঘাটের কাছে)
‘দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে। (দুয়ারের কাছে)
রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপকঃ
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে। যেমন-
তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)
নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)
কলসটি কানায় কানায় পূর্ণ। (কলসের সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে আছে) 

৩. বৈষয়িকঃ
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন-
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) উচ্ছাস
  3. গ) উপযোগিতা
  4. ঘ) আবিষ্কার
ব্যাখ্যা

-‘উচ্ছাস’ এর শুদ্ধ বানান ‘উচ্ছ্বাস’ । 
- কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বানান 
- গীতাঞ্জলি 
- পিপীলিকা 
- দরিদ্রতা 
- নিশীথিনী 
- পুরস্কার 

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ]

২৫৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সমুহ
  2. অপাংক্তেয়
  3. মরুদ্যান
  4. আদ্যাক্ষর
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'আদ্যাক্ষর' - বানানটি শুদ্ধ।

• 'আদ্যাক্ষর' শব্দের অর্থ:
- প্রথম অক্ষর।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান,
• সমুহ - সমূহ,  
• অপাংক্তেয় - অপাঙ্‌ক্তেয়,
• মরুদ্যান - মরূদ্যান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫৫.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সৌহার্দ্য
  2. গাম্ভীর্যতা
  3. অদ্যাপি
  4. অহোরাত্র
ব্যাখ্যা
'গাম্ভীর্যতা'-  'অপপ্রয়োগ'। 
এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'গাম্ভীর্য' অথবা গম্ভীরতা। 


 তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
২৫৬.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) কুম্ভীলক
  2. খ) কুম্ভিলক
  3. গ) কূম্ভিলক
  4. ঘ) কূম্ভীলক
ব্যাখ্যা

কুম্ভিল, কুম্ভিলক [কুম্‌ভিল, কুমভিলক্‌] (বিশেষ্য)
১ যে লেখক অন্যের গ্রন্থের ভাব ভাষা প্রভৃতি চুরি করে নিজের নামে চালায়; plagiarist।
২ চোর।
৩ শাল মাছ।
৪ শ্যালক।
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) কুম্ভিল+অক; কুম্ভীর>কুম্ভীলক>(প্রাকৃত) কুম্ভিলক}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

২৫৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রাণি
  2. প্রানি
  3. প্রাণী
  4. প্রানী
ব্যাখ্যা
• 'প্রাণী'- বানানটি শুদ্ধ। 

• কিছু বানানের শুদ্ধরূপ: 
- শিরশ্ছেদ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- ন্যূনতম,
- অপরাহ্ণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
২৫৮.
'পৌষ' মাসের নয় তারিখ বোঝাতে কোনটি শুদ্ধ?
  1. নঅই পৌষ
  2. নউই পৌষ
  3. নয়ই পৌষ
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ক এবং খ উভয়ই।
-------------
• নঅই, নউই (বিশেষ্য):
- (বিশেষণ) মাসের নবম দিন (নঅই পৌষ)।

অভিধান অনুযায়ী:
• নঅই পৌষ- সঠিক বানান।
• নউই পৌষ- সঠিক বানান। 
• নয়ই পৌষ - ভুল বানান।

• 'নয়' সংখ্যার সাথে সরাসরি 'ই' যুক্ত না করে 'অ' বা 'উ' স্বরবর্ণ যোগ করে 'নঅই' বা 'নউই' লিখতে হয়।




উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫৯.
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. দ্বিরুক্ত
  2. সরল
  3. পদাত্মক দ্বিরুক্তি
  4. জটিল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।’- উক্ত বাক্যে একটি কর্তা (বৃষ্টি) এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া (পড়ে) আছে তাই এটি একটি সরল বাক্য।

⇒ সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি কর্তা এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: 
• পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। 
• তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
-  জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬০.
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়। এখানে 'যুদ্ধে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান
  2. সম্প্রদান
  3. অধিকরণ
  4. করণ
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক, 
২. অভিব্যাপক এবং 
৩. বৈষয়িক।

• বৈষয়িক:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন -
- রাকিব ব্যাকরণে কাঁচা, কিন্তু অঙ্কে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬১.
কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি?
  1. ঘূর্ণায়মান
  2. গণ্যনীয়
  3. পূজ্য
  4. জ্ঞানবান
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি - গণ্যনীয়
- 'গণ্যনীয়' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - গণনীয়।

অন্যদিকে,
- ঘূর্ণায়মান,
- পূজ্য,
- জ্ঞানবান।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬২.
লিঙ্গ জনিত শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) অনাথানী
  2. খ) নির্দোষীনী
  3. গ) সিংহানী
  4. ঘ) বিদুষী
ব্যাখ্যা
লিঙ্গ জনিত শুদ্ধ প্রয়োগ - অনাথা, নির্দোষ, সিংহী এবং বিদুষী।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
২৬৩.
'যতদিন জীবিত থাকবো ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারনভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

এখানে,'এ ঋণ স্বীকার করব' প্রধান বাক্য আর 'যতদিন জীবিত থাকবো' হলো অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য। 'ততদিন' দিয়ে যুক্ত হয়েছে।     

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

২৬৪.
'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না' - এখানে 'সাবানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে প্রথমা
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. করণে সপ্তমী
  4. কর্তায় প্রথমা
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)। (করণে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৫.
'গলার সবর বেদনায় করুণ হয়ে এল।' এখানে 'বেদনায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।

- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

এরূপ-
- গলার সবর বেদনায় করুণ হয়ে এল।
[গলার সবর কী উপায়ে করুণ হয়ে এল? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বেদনায়'। সুতরাং 'বেদনায়' করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা অ সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৬.
শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. উপসর্গ
  2. শব্দদ্বিত্ব
  3. সমাস
  4. বলক
ব্যাখ্যা
• নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোর নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়। উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়।

⇒ উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।
⇒ প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরো কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে।
⇒ সমাস: শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: ‘হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় ‘হাটবাজার’।

⇒ শব্দদ্বিত্ব: এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

অন্যদিকে,
- বলক হচ্ছে পদের সাথে যুক্ত হয়ে বক্তব্যকে জোরালো করতে ব্যবহৃত লগ্নক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২৬৭.
নিচের কোনটি অপ-প্রয়োগের দৃষ্টান্ত নয়?
  1. জন্মজয়ন্তী
  2. ইদানীংকাল
  3. সপরিবার
  4. জন্মবার্ষিক
ব্যাখ্যা
জন্মজয়ন্তী, ইদানীংকাল ও জন্মবার্ষিক শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ হলো যথাক্রমে জয়ন্তী, ইদানীং ও জন্মবার্ষিকী।
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা এবং বাংলা একাডেমির ডিকশনারি।
২৬৮.
"কত ধানে কত চাল তা আমি জানি।" কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

- কত ধানে কত চাল তা আমি জানি। অপাদানে ৭মী বিভক্তি।
- ধান হতে উৎপত্তি বুঝিয়েছে তাই অপাদান কারক।

অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন -
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৯.
"যদি তুমি না গিয়ে থাকো, তবে বলোনা কেন?" — বাক্যটির কাঠামো?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। 

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
• যে - সে, যা - তা, যিনি - তিনি, যাঁরা - তাঁরা, যদি- তবে ইত্যাদি।
• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন - তখন, যেমন - তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু - সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।
- যদি তুমি না গিয়ে থাকো, তবে বলোনা কেন?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭০.
কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. প্রত্যুষ
  2. প্রবহমান
  3. মুমূক্ষু
  4. যদ্যপি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংল অভিধান অনুসারে, 
মুমূক্ষু - বানানটি ভুল।
এর শুদ্ধ বানান- মুমুক্ষু

• মুমুক্ষু' শব্দের অর্থ: 
- মোক্ষকামী;
- মুক্তিলাভেচ্ছু। 

অন্যদিকে, প্রত্যুষ, প্রবহমান, যদ্যপি- বানানগুলো শুদ্ধ।

• প্রত্যুষ শব্দের অর্থ:- ভোর; প্রভাত; উষাকাল। 
• প্রবহমান শব্দের অর্থ:- বয়ে যাচ্ছে এমন।
 • যদ্যপি শব্দের অর্থ:- যদিও, একান্তই; যদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংল অভিধান। 
২৭১.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. কৃচ্ছ্বসাধন
  2. কৃচ্ছ্রসাধন
  3. কৃচ্ছসাধন
  4. কৃচ্ছ্র্যসাধন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- 'কৃচ্ছ্রসাধন'। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কৃচ্ছ্র + √ সাধ্‌ + অন।
অর্থ:
- ক্লেশকর সাধনা, কৃচ্ছ্রসাধনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৭২.
উৎপত্তির বিচারে 'অক্ষরবৃত্ত' কোন ধরনের শব্দ?
  1. সংস্কৃত ছন্দ
  2. তদ্ভব ছন্দ
  3. অর্ধতৎসম ছন্দ
  4. হিন্দি ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭৩.
ভিয়েতনামি ভাষায় ‘সিত্রাং' অর্থ কী?
  1. ক) ঝড়
  2. খ) তুফান
  3. গ) গাছ
  4. ঘ) পাতা
ব্যাখ্যা
• ২৪ অক্টোবর ২০২২ ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী বরিশাল, চট্রগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আঘাত হানে।
• ‘সিত্রাং’ নামকরণ করে থাইল্যান্ড।
ভিয়েতনামি ভাষায় যার অর্থ ‘পাতা’

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর ২০২২।
২৭৪.
'Brevity is the soul of wit' - এর বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. মানিকে মানিক চিনে।
  2. কথা কম কাজ বেশি।
  3. মানিকের খানিক ভালো।
  4. মিষ্টি কথায় চিড়ে ভেজে না।
ব্যাখ্যা
• 'Brevity is the soul of wit' এর বঙ্গানুবাদ - মানিকের খানিক ভালো।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গানুবাদ: 
• 'Fingers were made before forks' এর বঙ্গানুবাদ - ঠ্যাং থাকতে ক্যান্ নিবি লাঠি?
• 'Do or die' এর বঙ্গানুবাদ - মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
• Fair words butter no parsnips এর বঙ্গানুবাদ - মিষ্টি কথায় চিড়ে ভেজে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৫.
অনুরোধ প্রকাশ পেয়েছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ’সুরঞ্জনা’ ওইখানে যেও নাকো তুমি।
  2. খ) আরমান আমার চিঠিটা দিয়ে এসো তো।
  3. গ) আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।
  4. ঘ) দোয়া করি, ধনী নয়, মানুষের মত মানুষ হও।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাবাচক বাক্যঃ যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদি বুঝায় সেই বাক্যকে অনুজ্ঞা বাচিক বাক্য বলে।
২৭৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. আভিধানিক
  2. আভীধানিক
  3. অভিধানিক
  4. অভীধানিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'আভিধানিক'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: অভিধান + ইক। 
অর্থ:
- শব্দার্থবিদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৭৭.
অধিকরণ কারকে সাধারণত কোন বিভক্তি হয়?
  1. ক) তৃতীয়া
  2. খ) পঞ্চমী
  3. গ) ষষ্ঠী
  4. ঘ) সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘সে’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
-  ‘এ’, ‘য়’, ‘তে’ সপ্তমী বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত। 

যেমন –
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
২৭৮.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) জনশূন্য
  2. খ) জনাকীর্ন
  3. গ) জনগোষ্ঠী
  4. ঘ) জনারণ্য
ব্যাখ্যা

বাংলা অভিধান, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

'জনাকীর্ন' বানানটি অশুদ্ধ।
শুদ্ধ বানান: 'জনাকীর্ণ'।

জনাকীর্ণ (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি- প্রত্যয়: জন + আকীর্ণ।
অর্থ:
- বহু লোক আছে এমন,
- জনবহুল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৭৯.
'বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।' -বাক্যে যে গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. বাহুল্য
ব্যাখ্যা

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলো অর্থগত ও ভাবগত দিক থেকে মিলে গেলে সে বাক্য যোগ্যতা সম্পন্ন হবে। যেমন- বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি হয়। পাখিরা আকাশে উড়ে। এ বাক্য দুটি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে অর্থ প্রকাশে কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ বাক্য দুটিতে ভাবগত ও অর্থগত
সমন্বয় রয়েছে।
- কিন্তু যদি বলা হয়, বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। তাহলে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ বাস্তবতার সঙ্গে বাক্য দুটির কোনো মিল নেই। বাক্যের অর্থ ও বাস্তবতার সাথে মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলন বন্ধন থাকতে হবে।

অন্যদিকে,
• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ভাগিরথী
  2. সমীচীন
  3. কৃষিজীবি
  4. বিভিষিকা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 • শুদ্ধ বানান - 'সমীচীন'।

অন্যদিকে,
- বাকি অপশন গুলর শুদ্ধ বানান:  বিভীষিকা, কৃষিজীবী এবং সমীচীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৮১.
শিক্ষক বললেন, “সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।”- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. শিক্ষক বলল যে, সূর্য থেকে পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।
  2. শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।
  3. শিক্ষক বলিলেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসতে পারে।
  4. শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ আসে।
ব্যাখ্যা

• উল্লেখিত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে- শিক্ষক বললেন যে, সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে পৃথিবীতে তাপ আসে।

• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব ।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

২৮২.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি কোনটি?
  1. আবশ্যক
  2. জ্ঞানবান
  3. গণ্যনীয়
  4. বাহ্য
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য;
বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৩.
‘পুত্তিক’ শব্দের অর্থ-
  1. ক) মৌমাছি
  2. খ) পুতুল
  3. গ) পৌত্রী
  4. ঘ) পবিত্রজল
ব্যাখ্যা
• ‘পুত্তিক’ শব্দের অর্থ - মৌমাছি, উইপোকা, মণিবিশেষ।
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [পুৎ+√তন্+অ+ক (কন্)]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮৪.
"কখন আসা হলো?"- এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তা বাচ্য
  2. কর্ম বাচ্য
  3. ভাব বাচ্য
  4. করণ বাচ্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কখন আসা হলো? - ভাববাচ্যের উদাহরণ।

• ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- কোথা থেকে আসা হলো।
- কখন আসা হলো?
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

অন্যদিকে,
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।

কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
বিষয়টি ভালো শোনায় না।
বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৫.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছের সব বানান অশুদ্ধ?
  1. ক) নিশীথীনি, ধ্বস, পরী
  2. খ) ভুভুক্ষু, মুমুক্ষু, বিভীষিকা
  3. গ) বিদ্রুপ, তক্ষুণি, বিমা
  4. ঘ) পাঞ্জাবি, মিস্ত্রি, দীঘি
ব্যাখ্যা
অপশন ক) এর সবগুলো বানান অশুদ্ধ।
শুদ্ধরূপ - নিশীথিনী, ধস, পরি

অপশন খ) - এর ভুভুক্ষু বানান ভুল। শুদ্ধরূপ - বুভুক্ষু
অপশন গ) - এর বিদ্রুপ ও তক্ষুণি বানান ভুল। শুদ্ধরূপ - বিদ্রূপ ও তক্ষুনি
অপশন ঘ) - এর দীঘি বানান ভুল। শুদ্ধরূপ - দিঘি।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮৬.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
⇒ শুদ্ধ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

⇒ অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
⇒ শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৭.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসকে ____ বলে।
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলাের মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খলভাবে পদ বিন্যাসকেই বলা হয় ক্রম বা আসত্তি। যেমন- আছে নামে যন্ত্র এক রকম অনুবীক্ষণ। এখানে শব্দগুলাে এলােমেলােভাবে সাজানাে হয়েছে এবং শব্দগুলাের মধ্যে কোনাে অর্থগত মিল নেই। সুতরাং এটি বাক্য নয়। কিন্তু যদি বলা হয়- অণুবীক্ষণ নামে এক রকম যন্ত্র আছে। এখানে বাক্যের শব্দগুলাে। সঠিকভাবে সাজানাে হয়েছে এবং বাক্যের অর্থ প্রকাশে কোনাে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়নি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৮.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. স্তূপ
  2. পিপীলিকা
  3. অধ:গতি
  4. গার্হস্থ্য
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- অধ:গতি এর শুদ্ধ বানান হবে -অধোগতি

- অধোগতি শব্দের অর্থ: নিম্নগতি, দুর্দশা।
- এটি একটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

অন্যদিকে,
স্তূপ, পিপীলিকা, গার্হস্থ্য বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮৯.
তার চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল পড়তে লাগল। বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্তৃকারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- তার চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল পড়তে লাগলো।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ
- প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ষষ্ঠী বা এর বিভিক্ত: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়৷
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯০.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. অধীন
  2. অহর্নিশি
  3. একত্র
  4. মৌন
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: অহর্নিশ। 

অন্যদিকে,
বাকি শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯১.
মধ্যযুগের কাব্যে পূর্ণ যতি বোঝাতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ত্রিবিন্দু
  2. খ) দুই দাঁড়ি
  3. গ) সেমিকোলন
  4. ঘ) কোলন-ড্যাশ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হল : 
ক, অন্ত্যযতি
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।) 

খ. অভ্যন্তর যতি
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;) 
৭. হাইফেন (-) 
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:) 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি 
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...) 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})) 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)  


দুই দাঁড়ি (।।)
মধ্যযুগের কাব্যে পূর্ণ যতি বোঝাতে দুই দাঁড়ি ব্যবহৃত হত। কবিতা বা গানের স্তবকের শেষেও দুই দাঁড়ির ব্যবহার দেখা যায় ।
মধ্যযুগের কবিতার উদাহরণ :
মহাভারতের কথা অমৃত সমান ।
কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান ॥

গানের উদাহরণ :
তোমার ময়ূরপঙ্খি বোঝাই করি নীল বাদাম উড়াইয়া ।
ভাটিয়ালি গান গাইয়া, অচিন দেশের নাইয়া, কোন দেশে চলেছ বাইয়া ॥
কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাটকের চরিত্র ও সংলাপের সীমানির্দেশেও দুই দাঁড়ির ব্যবহার প্রচলিত আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২৯২.
আলোয় অন্ধকার দূরীভূত হয়। কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃ
  2. খ) কর্ম
  3. গ) করণ
  4. ঘ) অপাদান
ব্যাখ্যা

আলোর দ্বারা অন্ধকার দূর হওয়া বোঝাচ্ছে। এখানে আলো একটি সহায়ক উপায় বা উপকরণ।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

২৯৩.
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে কী বলে?
  1. মিশ্র বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৪.
‘সে বলতে চায় তথাপি বলে না’ - এটি কোন শ্রেণির বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. ব্যাসবাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বসত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

অতএব, ‘সে বলতে চায় তথাপি বলে না’- এটি একটি যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৫.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. দুরবগম্য
  2. দুরাকাঙ্খী
  3. দুরাক্রম
  4. দুরারোহ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - দুরাকাঙ্খী।
• শুদ্ধ বানান - দুরাকাঙ্ক্ষী,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [দুঃ+আ+√কাঙ্ক্ষ্+ইন্]
অর্থ: অনুচিত উচ্চ আকাঙ্ক্ষাবিশিষ্ট।

দুরবগম্য, দুরাক্রম ও দুরারোহ শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯৬.
"তাঁর চুল পেকেছে কিন্তু বুদ্ধি পাকেনি।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তাঁর চুল পেকেছে কিন্তু বুদ্ধি পাকেনি'- এটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য: 
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন,
- লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
- তাঁর চুল পেকেছে, কিন্তু বুদ্ধি পাকেনি। - বাক্যটি ‘কিন্তু’ যোজকযোগে গঠিত যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
২৯৭.
"ছাগলে বাঘে এক ঘাটে জল খায়" - বাক্যটিতে "ছাগলে বাঘে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৭মী
  2. করণ কারকে ৭মী
  3. কর্তা কারকে ৭মী
  4. সম্প্রদান কারকে  ৭মী
ব্যাখ্যা

• “ছাগলে বাঘে এক ঘাটে জল খায়” বাক্যে ‘ছাগলে বাঘে’ পদটি কর্তৃকারক বা ব্যতিহার কর্তার উদাহরণ।
- যেহেতু ছাগল ও বাঘ একত্রে জল খাওয়ার কাজ সম্পাদন করছে, তাই এ পদটি ব্যতিহার কর্তা হিসেবে চিহ্নিত।
- বিভক্তি: ‘ছাগল’ + এ এবং ‘বাঘ’ + এ, অর্থাৎ ‘এ’ বিভক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সপ্তমী বিভক্তির একটি উদাহরণ।
- সুতরাং, “ছাগলে বাঘে এক ঘাটে জল খায়”  বাক্যটিতে "ছাগলে বাঘে" কর্তা কারকে ৭মী বিভক্তি। 

• কর্তৃকারক:
- বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। 
- যিনি কাজটি করেন তিনি হলেন কর্তা বা কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
• "মুক্তা রান্না করছে" - এখানে 'মুক্তা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
• "ছাত্রীরা মাঠে দৌড়াচ্ছে" - এখানে 'ছাত্রীরা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
- ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ: 
• "কে রান্না করছে?" → উত্তর: "মুক্তা"।
• "কারা মাঠে দৌড়াচ্ছে?" → উত্তর: "ছাত্রীরা"।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২৯৮.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. সান্ত্বনা
  2. শকট 
  3. সন্তোষ
  4. সন্তোষ্ট
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: সন্তোষ্ট।
• শুদ্ধ বানান: সন্তুষ্ট (বিশেষণ পদ), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: তৃপ্ত, আনন্দিত, প্রসন্নচিত্ত। 

অন্যদিকে,
• সান্ত্বনা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সান্ত্বন+আ।
অর্থ: আশ্বাস বা আশা দিয়ে শান্তকরণ, প্রবোধদান। 

• শকট (বিশেষ্য), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √শক্‌+অট।
অর্থ: 
- গাড়ি, যান। 
- কংসের অনুচর অসুর

• সন্তোষ (বিশেষ্য), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ: তুষ্টি, তৃপ্তি, আনন্দ, হর্ষ, খুশি। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৯৯.
'ঘােড়ায় গাড়ি টানে' বাক্যে 'ঘােড়ায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃকারকে ৭মী
  2. খ) সম্প্রদান কারকে ৭মী
  3. গ) কর্তৃকারকে ৪র্থী
  4. ঘ) কর্তৃকারকে ২য়া
ব্যাখ্যা
“ঘােড়ায় গাড়ি টানে” বাক্যে 'ঘােড়ায়'- কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

• বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির। 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০০.
'বাঘে মানুষ খায়' এখানে 'মানুষ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক 
  2. কর্তা কারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. করণ কারক 
  5. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা

• বাঘে মানুষ খায় বাক্যে বাঘের খাওয়ার কাজ 'মানুষ' অবলম্বনে সম্পাদিত হয়েছে বলে 'মানুষ' কর্ম কারক।

----------------------
• কর্ম কারক:

প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, যাকে অবলম্বন করে বা আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে কর্ম কারক বলে।
যেমন:
- রানু বই পড়ে। রানুর পড়ার কাজ 'বই' অবলম্বনে সম্পাদিত হয় বলে 'বই' কর্ম কারক। ক্রিয়ার বিষয়কে বলে 'কর্ম'।
- খুকি ভাত খায়। খুকি কী খায়? ভাত। 'ভাত' কর্ম কারক।
- 'বিহগে ললিত গীত শিখায়েছ ভালোবেসে'। শেখানো কাকে অবলম্বনে হয়েছে? বিহগকে। তাই 'বিহগে’ কারক। 

কর্ম কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: ডাক্তার ডাক। বই এনো। বাঘে মানুষ খায় ইত্যাদি।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: ডাক্তারকে ডাক। রেখো মা দাসেরে মনে ইত্যাদি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তার দেখা পাইনি।
সপ্তমী বিভক্তি: বিপদে যেন করিতে পারি জয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।