বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৬ / ৬৯ · ২,৫০১২,৬০০ / ৬,৯৫৩

২,৫০১.
’মা’ ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। এটি একটি
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• ’মা’ ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।- এটি একটি জটিল বাক্য

=======
 
সাপেক্ষ সর্বনামের বা সাপেক্ষ যোজক ছাড়াও নিম্নের উপায়ে জটিল বাক্য হতে পারে। এই জায়গা অনেক অনেক এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে বুঝে নিতে হবে।  

শর্টকাট : সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ + সরল বাক্য = জটিল বাক্য

মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
এই উদাহরণটি অনেক বইয়ে সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। চলুন সরল বাক্যের শর্তগুলো মনে করি।
সরল বাক্যে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। আর যৌগিক বাক্যে অবশ্যই অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে শুধু কমা থাকবে এবং বাক্যগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করবে না, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হবে। 
এবার ওপরের বাক্যটিকে ভেঙে লিখি। 
    মা ছিল না। বলে। কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
‘মা ছিল না।’ এটি একটি সরল বাক্য এবং এখানে সমাপিকা ক্রিয়া (ছিল) আছে। 
‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।’ এটিও একটি সরল বাক্য এবং এখানেও সমাপিকা ক্রিয়া (দেয়নি) আছে।   
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া আছে এবং একাধিক সরল বাক্য পাওয়া গেছে। সুতরাং এটি সরল বাক্য নয়। 
এবার দেখি এটি যৌগিক বাক্য কি না। যৌগিক বাক্যের মূল কথা হলো দুটি সরল বা জটিল বাক্য বাক্য অব্যয় দ্বারা সংযোগ থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে কমা থাকবে। যোৗগিক বাক্যের সরল বাক্যগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে, অর্থাৎ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে না। 
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের অন্তর্গত ‘মা ছিল না’ এবং ‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের মাঝে কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় নেই এবং বাক্য দুটি স্বাধীন নয়, একটি অন্যটির ওপর নির্ভর করছে, এখানে অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বলে’ নামক অনুসর্গ আছে, তাই এটি যৌগিক বাক্যের শর্ত পূরণ করতে পারে না। 
এবার তবে জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই। জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত  হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো। 
অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই। 


[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]

    কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
 
সূত্র : মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
২,৫০২.
যে পদ দ্বারা কোনও বিষয়ে বক্তার ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকটিত হয় তাকে বলে-
  1. কারক 
  2. বাগ্‌ধারা 
  3. ক্রিয়া 
  4. বাক্য 
ব্যাখ্যা

• বাক্য:
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'যে পদ বা শব্দ-সমষ্টির দ্বারা কোনও বিষয়ে বক্তার ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকটিত হয়, সেই পদ বা শব্দ-সমষ্টিকে বাক্য (sentence) বলে।'

ভাষাবিদ জ্যোতিভূষণ চাকী বলেছেন, 'যথাযথ বিন্যস্ত শব্দসমষ্টি যদি একটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৫০৩.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময় কোন ধরনের শব্দের পরিবর্তন আনতে হয়?
  1. কালবাচক
  2. স্থানবাচক
  3. ক এবং খ উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন,
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।” 
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৫০৪.
নিচের কোন যতি চিহ্নের ক্ষেত্রে কোনাে বিরামের প্রয়ােজন হয় না?
  1. ক) কমা
  2. খ) কোলন
  3. গ) প্রশ্নবােধক চিহ্ন
  4. ঘ) ব্র্যাকেট
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কালঃ
কমা- ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
সেমিকোলন- ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ- এক সেকেন্ড।
প্রশ্নবোধক চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
কোলন- এক সেকেন্ড।
ড্যাস- এক সেকেন্ড।
কোলন ড্যাস- এক সেকেন্ড।
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন)- থামার প্রয়োজন নেই।
ধাতু দ্যোতক চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

২,৫০৫.
'তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. নেতিবাচক বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।' - সরল বাক্য

সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা -
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
এখানে 'পদ্মফুল' উদ্দেশ্য এবং 'জন্মে' বিধেয়।

এ রকম:
- বৃষ্টি হচ্ছে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- খোকা আজ সকালে স্কুলে গিয়েছে।
- তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
- স্নেহময়ী জননী (উদ্দেশ্য) স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন (বিধেয়)।
- বিশ্ববিখ্যাত মহাকবিরা (উদ্দেশ্য) ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনী দ্বারা অমরতার সঙ্গীত রচনা করেন (বিধেয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৫০৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. আটপৌঢ়ে
  2. জাজ্বল্যমান
  3. ইত্যকার
  4. উর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান-  জাজ্বল্যমান। 



অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
আটপৌড়ে - আটপৌরে। 
ইত্যকার - ইত্যাকার। 
উর্ধ্ব - ঊর্ধ্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫০৭.
‘যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. খণ্ড
  3. সরল
  4. জটিল
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য। 

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৫০৮.
‘এ সফরে বাঁধা দিও না।’- বাক্যে ‘সফরে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা

⇒ অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
যেমন:
• এ সফরে বাঁধা দিও না।

[বাক্যটিকে কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে বাঁধা দিও না দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সফরে’। অতএব এখানে সফর অধিকরণ কারক এবং শব্দে ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত থাকায় ‘সফরে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৫০৯.
বাক্যের ভেতরে বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হলে, কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. ড্যাশ
  2. ত্রিবিন্দু
  3. বন্ধনী
  4. বিকল্পচিহ্ন
ব্যাখ্যা
বন্ধনী:
- অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন ও কালনির্দেশের ক্ষেত্রে বন্ধনীর ব্যবহার হয়।
- বাক্যে বিশেষ ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হলে বাক্যের ভেতর এর ব্যবহার হয়।
- বন্ধনী তিন প্রকার: প্রথম বন্ধনী ( ), দ্বিতীয় বন্ধনী { } ও তৃতীয় বন্ধনী [ ]।
যেমন:
- তিনি বাংলা ভাষার বিবর্তন (চর্যাপদের সময় থেকে পরবর্তী) নিয়ে আলোচনা করবেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে,
ত্রিবিন্দু (...):
- কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন:
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

বিকল্পচিহ্ন: 
- একটির বদলে অন্যটির সম্ভাবনা বোঝাতে বিকল্পচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- যেমন, শুদ্ধ/অশুদ্ধ চিহ্নিত করো ৷

ড্যাশ (-):
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে – বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।
- ঐ লোকটি – যিনি গতকাল এসেছিলেন – তিনি আমার মামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৫১০.
'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। 
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা -
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই। 
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং 
৩. ভাবাধিকরণ।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

সপ্তমী বিভক্তি:
- এ বাড়িতে কেউ নেই।
- গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।

• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার - ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।

• ক্রিয়াকে কখন / কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
- 'গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।' - এখানে 'কোথায় কাঁঠাল?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাছে'। তাই 'গাছে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৫১১.
‘যে সহে, সে রহে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. অমিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে সহে, সে রহে।
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

=============
⇒ সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন ৷

➤ সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে ৷ 
যেমন:
- আমরা তিন ভাইবোন।

➤ বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। 
যেমন:
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

⇒  যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি-এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৫১২.
নিচের কোন বানানগুলো শুদ্ধ?
  1. ক) নীরস, শিরশ্ছেদ, মূর্ধন্য
  2. খ) অনুপুঙ্খ, অধঃগতি, শঙ্কা
  3. গ) স্বস্ত্বি, ষ্টুডিও, স্ফূর্তি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

(ক) শব্দগুচ্ছের সবগুলো বানান সঠিক।
(খ) শব্দগুচ্ছে অধোগতি বানান ভুল রয়েছে।
(গ) শব্দগুচ্ছে স্বস্তি ও স্টুডিও বানান ভুল রয়েছে।
সূত্র: বাংলা একাডেমী থেকে প্রণীত অভিধান।

২,৫১৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. যশসতি
  2. যশস্বতি
  3. যশসতী
  4. যশস্বতী
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর - যশস্বতী।
- ‘যশস্বতী’ শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘যশস্বতী’ অর্থ: খ্যাতিমান, যশস্বিনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫১৪.
বাংলা ভাষার ব্যবহৃত সেমিকোলন চিহ্নটি হলো-
  1. ক) (:)
  2. খ) (/)
  3. গ) (;)
  4. ঘ) (-)
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে ব্যবহূত বিরামচিহ্নগুলো হচ্ছে:
- কমা (,),
- সেমিকোলন (;),
- কোলন (:),
- হাইফেন (-),
- ড্যাস (—),
- ঊর্ধ্বকমা (’),
- উদ্ধৃতিচিহ্ন (“ ”),
- বিকল্প চিহ্ন (/)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ]
২,৫১৫.
'সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।' কোন ধরণের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ডিত
  5. কোনোটীই নয়
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মন করে।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৫১৬.
কোন শব্দগুচ্ছ সঠিক বানানে লেখা হয়েছে?
  1. নৈর্ঋত, অগ্রগন্য
  2. নৈর্ঋত, অগ্রগণ্য
  3. নৈঋত, অগ্রগণ্য
  4. নৈইঋত, অগ্রগন্য
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানানে লেখা: নৈর্ঋত, অগ্রগণ্য

নৈর্ঋত - এর অর্থ দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের মধ্যবর্তী কোণ। 
অগ্রগণ্য- সবার আগে উল্লেখযোগ্য, প্রধান, শ্রেষ্ঠ,

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান , বাংলা একাডেমি]
২,৫১৭.
'পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ।' - বাক্যে ‘পুরাতনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- পুরাতনে শ্রদ্ধা রাখ। (অধিকরণে সপ্তমী)।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৫১৮.
'খিলিপান দিয়ে ওষুধ খাবে।' - 'খিলিপান দিয়ে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে তৃতীয়া
  2. অধিকরণে তৃতীয়া
  3. করণে তৃতীয়া
  4. কর্তায় তৃতীয়া
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’ ‘য় ’ ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

- প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: আমি ঢাকা যাব।
- তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৫১৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভদ্রোচিত
  2. ভদ্রচিত
  3. ভদ্রোছিত
  4. ভদ্রাচিত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - ভদ্রোচিত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- ভদ্রলোকের পক্ষে শোভনীয়,
- ভদ্রজনোচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৫২০.
'তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।' - বাক্যে 'তোমাদ্বারা' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কারণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন:
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৫২১.
"প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

বাচ্য:
- বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
- প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:
১. কৰ্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য। 

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
• পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
• প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
• আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন –
• ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
• শরতে শিউলি ফোটে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৫২২.
'দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো তারপর ট্রেন এলো।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. সাধিত বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- সে সৎ, অথচ গরিব।
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।

এরূপ-
- দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর ট্রেন এলো।- বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

এখানে,
দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো (সরল বাক্য) ট্রেন এলো(সরল বাক্য) এই দুইটি বাক্য তারপর যোজক অব্যয়ের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ায় এটি একটি যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,৫২৩.
বাংলা ছন্দের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ক) অমিত্রাক্ষবৃত্ত
  2. খ) মাত্রাবৃত্ত
  3. গ) স্বরবৃত্ত
  4. ঘ) অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা ছন্দ তিন রকমের।
যথা:
- অক্ষরবৃত্ত,
- মাত্রাবৃত্ত এবং
- স্বরবৃত্ত।

- কবিতার পঙ্ক্তির শেষে মিলহীন ছন্দকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ বলা হয়।
- অর্থাৎ কবিতার দুটি পঙ্ক্তির শেষ অক্ষরের ধ্বনির সাম্য না থাকলে তাকে অমিত্রাক্ষর বলা চলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৫২৪.
কারক কয় প্রকার?
ব্যাখ্যা
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
কারক সম্পর্ক বােঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে। 

কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
২,৫২৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কৃষিজীবী
  2. কৃষিজিবী
  3. কৃষিজীবি
  4. কৃষীজীবি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- কৃষিজীবী।
- এটি বিশেষণ পদ।
প্রকৃত প্রত্যয়- [কৃষিজীব+ইন্]। 
অর্থ:
- চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫২৬.
গুরুচণ্ডালী দোষ বলতে বোঝায়- ও -ভাষার মিশ্রণ?
  1. সাধু ও চলিত
  2. সাধু ও দেশী
  3. দেশী ও বিদেশী
  4. বাঙলা ও ইংরেজি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
---------------------- 
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
- বাংলা গদ্যে বা রচনায় এবং চলিত কথাবার্তায় এ দু রীতির মিশ্রণ পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ এবং দূষনীয় ও বর্জনীয়।
যেমন-
''ধরণীর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো জিনিস জানিবার ও বুঝিবার প্রবৃত্তি মানুষের মন থেকে যেদিন চলিয়া যাবে সেদিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করবে।'' - বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা ও শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ। 
২,৫২৭.
নিচের কোনটি জটিল বাক্যের বৈশিষ্ট্য?
  1. দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য থাকে
  2. একটিমাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে
  3. একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও একাধিক আশ্রিত বাক্য থাকে
  4. কিন্তু, অথবা, অথচ যোজক ব্যবহৃত হয়
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
- সে যে অপরাধ করেছে,

• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

অন্যদিকে,
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৫২৮.
’যিনি গুণবান ব্যক্তি, তিনি বিনয়ী হন।’-এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. খণ্ডবাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
ব্যাখ্যা

 ’যিনি গুণবান ব্যক্তি, তিনি বিনয়ী হন।’-এটি কোন ধরনের বাক্য?

জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

২,৫২৯.
“ডিঙি টেনে বের করতে হবে”। - কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. যৌগিক
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য:
ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

তেমনিভাবে,
- ডিঙি টেনে বের করতে হবে।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৫৩০.
বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সরণি
  2. ধমনি
  3. কিংবদন্তি
  4. সোনালী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুসারে শুদ্ধ - সরণি, ধমনি, কিংবদন্তি।
- 'সোনালী' শব্দটির শুদ্ধ বানান — 'সোনালি'। 
-------------------- 
• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে। তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

- অতৎসম অর্থাৎ নিজস্ব (অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ইত্যাদি) ও বিদেশি শব্দে সর্বদা ঈ-কার এবং ঊ-কার বর্জিত হবে।
যেমন: তরকারি, মুলা, দিঘি, সরকারি, শাড়ি, পশমি, ইমান, কুরান, নিচু, ভুখা ইত্যাদি।

- '-আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন: সোনালী হবে না, হবে সোনালি; মিতালী হবে না, হবে মিতালি।
অনুরূপভাবে - বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৫৩১.
'জ্যোতীন্দ্র' - শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. সমাস ঘটিত
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. বাহুল্যজনিত
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'জ্যোতীন্দ্র' শব্দটি 'সন্ধিজনিত' কারণে অশুদ্ধ।
- 'জ্যোতীন্দ্র' শব্দের শুদ্ধরূপ 'জ্যোতিরিন্দ্র'।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।
- এর সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে - জ্যোতিঃ + ইন্দ্র = জ্যোতিরিন্দ্র।

উৎস: 
১) ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৩২.
"তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।" - এখানে 'জলে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে কিসের দ্বারা বা কি দ্বারা (কি দিয়ে) প্রশ্ন করলে উত্তরে করণ কারক পাওয়া যায়।
যেমন-
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় – সাধনা)

এরূপ-
- তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
[বাক্যকে কি দিয়ে / দ্বারা মার ভিজায়ে রেখেছি? প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'জলে'। সুতরাং জলে করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২,৫৩৩.
’কোথা থেকে আসা হলো’ এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ’কোথা থেকে আসা হলো’ এটি ভাববাচ্যের উদাহরণ।

 ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন
আমার যাওয়া হলো না।
কোথা থেকে আসা হলো।

এখানে 'যাওয়া', 'আসা'- এগুলো হলো ক্রিয়া-বিশেষ্য।

অন্যদিকে,
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন :ঝরনা ছবি আঁকে।

 কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন: পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৫৩৪.
অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
  2. আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলো।
  3. আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
  4. আসছে ২ এপ্রিল, ২০১৯ আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: আসছে ২ এপ্রিল, ২০১৯ আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।

• "আসছে" শব্দটি সাধারণত ভবিষ্যৎ সময় নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন: আসছে শুক্রবার; আসছে জানুয়ারি; আসছে বছর। 

• কিন্তু "আসছে" শব্দের সঙ্গে পূর্ণ তারিখ ও সাল (২ এপ্রিল ২০১৯) ব্যবহার করলে ভাষাগত অসঙ্গতি হয়। কারণ সাল উল্লেখ থাকায় সময়টি সুস্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট, সেখানে "আসছে" শব্দটি অতিরিক্ত ও বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়ে।

• শুদ্ধরূপ:
- “আগামী ২ এপ্রিল, ২০১৯ আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।”
বা,
- যদি বছর উল্লেখ না করা হয়: “আসছে ২ এপ্রিল আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।”

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৫৩৫.
যতিচ্ছেদ বা বিরামচিহ্ন ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) শব্দতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

যতিচ্ছেদ বা বিরামচিহ্ন বাংলা ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়
চারটি। যথা-
(১) ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
(২) শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
(৩) বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
(৪) অর্থতত্ত্ব (Semantics)

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম:
বাক্য, বাক্যের অংশ, বাক্যের প্রকার, বাক্য বিশ্লেষণ, বাক্য পরিবর্তন, পদক্রম, বাগধারা, বাক্য সংকোচন, বাক্য সংযোজক, বাক্য বিয়োজন, যতিচ্ছেদ বা বিরামচিহ্ন প্রভৃতি বিষয় বাক্য-প্রকরণে আলোচিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৫৩৬.
‘অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।’- বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বহুবচন জনিত
  2. প্রত্যয় জনিত
  3. বানান জনিত
  4. বাচ্যজনিত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।’- প্রদত্ত বাক্যে বানান জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে,
• অতৎসম শব্দের বানানে ক্ষেত্রে 'ণ' ব্যবহার হয় না। অতৎসম শব্দের বানানে ‘ন’ ব্যবহৃত হয়।

• অঘ্রান (তদ্ভব শব্দ),
- এটি ‘অগ্রহায়ণ’ তৎসম শব্দের কথিত রূপ।

===========
⇒ ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫৩৭.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. দাঁড়ি
  2. হাইফেন
  3. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  4. ড্যাশ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিচের কোনটি ভিন্ন?

সমাধান:
হাইফেন ব্যাতিত বাকি সবগুলো যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল এক সেকেন্ড

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাশ - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাশ - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চারণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চারণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
২,৫৩৮.
সঠিক বানান কোনটি?
  1. বাল্মিকী
  2. বাল্মিকি
  3. বাল্মীকি
  4. বাল্মীকী
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান = বাল্মীকি।
-------------------------------------------
 ‘বাল্মীকি’ শব্দের অর্থ:
- রামায়ণের ও মনি প্রণেতা কবি ও মুনি, আদিকবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫৩৯.
গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন চিহ্ন
  2. কোলন চিহ্ন
  3. কমা চিহ্ন
  4. সমান চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয়-
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৫৪০.
'কথায় কথা বাড়ে।'- বাক্যে 'কথায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অপাদানে শূন্য
  3. করণে ৭মী
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।(উপকরণ = কলম)।
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায় (উপায় = সাধনা)।
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।(উপকরণ = সাবান)।

এরূপ- 
- কথায় কথা বাড়ে।
[বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'কথায়'। সুতরাং 'কথায়' য়-বিভক্তি যুক্ত হয়ে করণে ৭মী কারক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৫৪১.
শুদ্ধ বাক্যটি চিহ্নিত করুন-
  1. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দরিদ্রের শিকার হন
  2. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দারিদ্রতার শিকার হন
  3. বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন
  4. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দরিদ্রতার স্বীকার হন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন।

অন্যদিকে,
• অপশন ‘ক’ তে দরিদ্রের বানানটি অশুদ্ধ। এবং অপশন ‘ঘ’ তে ‘স্বীকার’ শব্দটির কারণে বাক্যের যোগ্যতা গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
• 'দারিদ্রতা' শব্দটি প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
- এর সঠিক শব্দ: দারিদ্র্য, দরিদ্রতা।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৫৪২.
কর্মকারকে ২য়া বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) আমি চিনি গাে চিনি তােমারে
  2. খ) কোন কাননে ফুটল ফুল
  3. গ) গুরুজনে কর নতি।
  4. ঘ) বিপদে যেন করিতে পারি জয়
ব্যাখ্যা
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ- 
১। বাবা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
২। আমি চিনি গাে চিনি তােমারে [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ] 
৩। ঈদের চাঁদ উঠেছে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৪। কোন কাননে ফুটল ফুল। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৫। গুরুজনে কর নতি। [ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি ] 
৬। বিপদে যেন করিতে পারি জয়। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ] 
৭। ডাক্তারকে ডাক। [ কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি ]  
৮। গৃহহীনে গৃহ দিলে আমি থাকি ঘরে। [ কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি ]  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪৩.
কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. সরস্বতী
  2. সরসত্বী
  3. স্বরসতী
  4. স্বরসতি
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - সরস্বতী
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- বিদ্যা ও কলার দেবী, বাণী, বীণাপাণি, ভারতী, বাগদেবী, মহাশ্বেতা।
- প্রাচীন নদীবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৫৪৪.
'আকাশে চাঁদ উঠেছে।' - বাক্যে 'আকাশ' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

​যেমন:
​- পুকুরে মাছ আছে। 
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে

​এরূপ- 'আকাশে চাঁদ উঠেছে।'- বাক্যকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আকাশে'। সুতরাং 'আকাশে' অধিকরণ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৫৪৫.
'চাঁদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।'- এ বাক্যটিতে কিসের অভাব?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) মাধুর্য
ব্যাখ্যা

যোগ্যতা - বাক্যের অন্তর্গত পদ সমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নামই যোগ্যতা।
যেমনঃ চাঁদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- এটা যোগ্যতাহীন বাক্য কারণ-  চাঁদে বসে চাঁদ দেখানো অসম্ভব।
সঠিক- ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

২,৫৪৬.
দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভুল করে৷ বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) প্রত্যয় জনিত
  2. খ) সমাস জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) বানান জনিত
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত বাক্যটিতে ‘ব্যক্তি’ বানান ভুল রয়েছে৷
সঠিক বাক্যটি হবে - দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল করে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,৫৪৭.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৫৪৮.
কখনো কখনো কোন বাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য: 
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
তেমনিভাবে,
কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৫৪৯.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) সূক্ষ্ম
  2. খ) ঝ্যাটানো
  3. গ) যশস্কাম
  4. ঘ) যষ্টি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংল অভিধান অনুসারে, 
ঝ্যাটানো এর শুদ্ধ বানান- ঝ্যাঁটানো। 
ঝ্যাঁটানো অর্থ: ঝাঁটা দিয়ে প্রহার। 

সূক্ষ্ম (তৎসম শব্দ) এর অর্থ- ধারালো, তীক্ষ্ণ, মিহি।  
যশস্কাম (তৎসম শব্দ) এর অর্থ- যশ বা খ্যাতি কামনা করে এমন।
যষ্টি (তৎসম শব্দ) এর অর্থ- লাঠি, ছড়ি, দন্ড।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংল অভিধান। 
২,৫৫০.
'সত্যি সেলুকাস, এ দেশ বড় বিচিত্র!' – কোন বাক্য? 
  1.  মিশ্র বাক্য 
  2. বিস্ময়বোধক বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: খ) বিস্ময়বোধক বাক্য।

• বিস্ময়বোধক বাক্য:
যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তাজ্জব ব্যাপার!
- কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
- সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এ দেশ!

"সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এ দেশ!" বাক্যটির বিস্ময়বোধক হওয়ার ব্যাখ্যা: 
‘সত্যি সেলুকাস, এ দেশ বড় বিচিত্র!’ এই বাক্যটি একটি বিস্ময়বোধক বাক্য। এটি বিস্ময়, আশ্চর্য বা আবেগ প্রকাশ করে, যা বিস্ময়বোধক বাক্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাক্যটিতে ‘সত্যি’ এবং ‘বড় বিচিত্র’ শব্দগুলো বক্তার আশ্চর্য বা বিস্ময়ের ভাব প্রকাশ করছে।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
(ক) মিশ্র বাক্য: মিশ্র বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন খণ্ড বাক্য থাকে, যেমন ‘যদি তুমি যাও, তবে আমি যাব।’ এই বাক্যে তেমন কোনো অধীন খণ্ড নেই।
(গ) যৌগিক বাক্য: যৌগিক বাক্যে দুই বা ততোধিক প্রধান খণ্ড সমন্বয় সংযোজক (যেমন: এবং, কিন্তু) দিয়ে যুক্ত থাকে, যেমন ‘আমি গেলাম এবং সে এল।’ এই বাক্যে একটিমাত্র প্রধান খণ্ড রয়েছে।
(ঘ) জটিল বাক্য: জটিল বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন খণ্ড থাকে, যা সাধারণত ‘যে’, ‘যদি’ ইত্যাদি দিয়ে যুক্ত হয়। এই বাক্যে তেমন কাঠামো নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৫৫১.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. উষ্ণ
  2. রুক্মিণী
  3. ভাষণ
  4. ক্রন্দণ
ব্যাখ্যা
⇒ ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন:পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘ন’ কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৫৫২.
'তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - বাক্যে 'মধু' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. অপাদান
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- তবু যেন তা মধুতে মাখা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২,৫৫৩.
সর্বনামের অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে এবং তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।
  2. খ) তিনি চান, তারা তাদের পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।
  3. গ) অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
  4. ঘ) সবকটি।
ব্যাখ্যা
‘অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি’- বাক্যটিতে সর্বনামের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
 বাক্যটির শুদ্ধ প্রয়োগ: টেলিফোনে যোগাযোগ করেও অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি।

অন্য বাক্যগুলি শুদ্ধ প্রয়োগ। এদের অশুদ্ধ রূপ: 

অশুদ্ধ: দুষ্কৃতকারীরা তিনি ও তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।
শুদ্ধ: দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে এবং তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।

অশুদ্ধ: তিনি চান, তারা তার পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।
শুদ্ধ: তিনি চান, তারা তাদের পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।

উৎস : উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সমীহীত
  2. সমীহিত
  3. সমিহিত
  4. সমিহীত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: সমীহিত। 
- বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- চেষ্টিত।
- অভীষ্ট, ঈপ্সিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২,৫৫৫.
'জ্ঞানী লোক সকলের সম্মান পান।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. যৌগিক
  3. সরল
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। এখানে 'জ্ঞানী লোক' উদ্দেশ্য এবং 'সকলের শ্রদ্ধার পাত্র' বিধেয়।

এইরূপ
- জ্ঞানী লোক সকলের সম্মান পান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৫৫৬.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. ক) ইন্দ্রজালিক
  2. খ) ঐন্দ্রজালিক
  3. গ) ঈন্দ্রজালিক
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান গুলো হচ্ছে - ইন্দ্রজালিক, ঐন্দ্রজালিক।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
২,৫৫৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. জলচ্ছাস
  2. জলোচ্ছাস
  3. জলোচ্ছ্বাস
  4. জলোচ্চাস
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সঠিক বানান হলো - জলোচ্ছ্বাস।


উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৫৫৮.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. তীক্ষ্মদৃষ্টি
  2. তিলোওমা
  3. তিরষ্কৃত
  4. তিতীর্ষু
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: তিতীর্ষু,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পার হতে উচ্ছুক, তরণেচ্ছু।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• অশুদ্ধ: তীক্ষ্মদৃষ্টি।
• শুদ্ধ বানান: তীক্ষ্ণদৃষ্টি (বিশেষণ পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সতর্ক দৃষ্টিসম্পন্ন।

• অশুদ্ধ: তিলোওমা।
• শুদ্ধ বানান: তিলোত্তমা (বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ উভয়ই)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পরমা সুন্দরী।

• অশুদ্ধ: তিরষ্কৃত।
• শুদ্ধ বানান: তিরস্কৃত (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অবজ্ঞাত, নিন্দিত, র্ভৎসনা করা হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫৫৯.
"যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।" - যৌগিক বাক্যের রূপান্তর কোনটি?
  1. তুমি গেলে তার দেখা পাবে।
  2. তুমি গিয়ে তার দেখা পেতে পার।
  3. সেখানে তুমি গেলে, তার দেখা পাবে।
  4. তুমি যাবে এবং তার দেখা পাবে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
 
• "যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।" — এটি একটি জটিল বাক্য, কারণ এখানে "যদি–তবে" সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার হয়েছে।

এখন একে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে দুটি স্বাধীন বাক্য ব্যবহার করতে হবে এবং যৌগিক যোজক (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা, না হলে, তাই, তাহলে ইত্যাদি) ব্যবহার করতে হবে।

যৌগিক রূপান্তর হতে পারে এইরকম:
- তুমি যাবে এবং তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৫৬০.
নিচের কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) পদান্বয়
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকে।
যথা - আকাঙ্খা, আসত্তি ও যোগ্যতা

- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একপদের পর অন্যপদ শোনার যে আগ্রহ জাগে, তাকে বলা হয় আকাঙ্খা।

- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খলভাবে পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি।
মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যের পদগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে অর্থ প্রকাশে বাধার সৃষ্টি না করে।

- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
২,৫৬১.
নিচের কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়?
  1. দাঁড়ি চিহ্ন
  2. কোলন
  3. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  4. বিষ্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• ‘কোলন’ প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়।

- বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন।
- এগুলো হলো: দাঁড়ি চিহ্ন, প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং বিস্ময় চিহ্ন।
- এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

দাঁড়ি (।):
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
 যেমন:
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

প্রশ্নচিহ্ন (?):
- সাধারণত কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে প্রশ্নচিহ্ন বসে।
 যেমন:
- তারা কখন এসেছে?
- বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কী?

বিস্ময়চিহ্ন (!):
- সাধারণত বিস্ময়, দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি প্রকাশের জন্য বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- মানে কী! সে আর চাকরি করবে না!
- তার গানের কণ্ঠ দারুণ!

অন্যদিকে, 
কোলন (:):
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য ।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৫৬২.
'ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।' বাক্যে 'ফেরদৌসী কর্তৃক' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় তৃতীয়া
  2. কর্তায় শূন্য
  3. কর্তায় ষষ্ঠী
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
ক) প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।

খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

গ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ঘ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২,৫৬৩.
একই বাক্য রচনায় তৎসম ও দেশি ভাষারীতির মিশ্রণকে বলে-
  1. গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. দ্বিত্বজনিত দোষ
  3. বাচ্যজনিত দোষ
  4. বাহুল্যতার দোষ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- অশুদ্ধঃ গরুর শকট (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধঃ গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি)
অশুদ্ধঃ মড়াদাহ (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধঃ শবদাহ (তৎসম + তৎসম)
শুদ্ধঃ মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৬৪.
নিচের কোন বাক্যে অলংকার আবেগের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।
  2. খ) আহা! বেচারার এত কষ্ট!
  3. গ) উহ্‌, কী বিপদে পড়া গেল।
  4. ঘ) দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
ব্যাখ্যা
• "দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?" বাক্যটিতে 'দূর' অলংকার আবেগে'র প্রয়োগ ঘটেছে।

• মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যে সব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
- অলংকার আবেগে এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্যতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
- এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি  ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্য অলংকার আবেগ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: যাকগে, ওসব কথা থাক।
অন্যদিকে, 
হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন = সম্বোধন আবেগ। 
আহা! বেচারার এত কষ্ট = করূণা আবেগ।
উহ্‌, কী বিপদে পড়া গেল = আতঙ্ক আবেগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৫৬৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিসুতি
  2. নিসুতী
  3. নিশুতী
  4. নিষুতি
ব্যাখ্যা

• নিষুতি বানানটি শুদ্ধ।
• এর অর্থ হচ্ছে গভীর রাত বা গভীর রাতের নিদ্রা।
• নিশুতি (গভীর রাত) বানানটিও সঠিক।
উৎসঃ‌ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

২,৫৬৬.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করব।
  2. কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
  3. বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।
  4. তাকে সপরিবার দাওয়াত কর।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধশালী দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধিশালী দেশ।

অন্যদিকে,
- তাকে সপরিবার দাওয়াত কর।
- কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
- শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করব।
উপরের বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৫৬৭.
নিচের কোনটিতে অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কৃপণতা
  2. খ) দরিদ্রতা
  3. গ) অলস্যতা
  4. ঘ) উৎকৃষ্টতা
ব্যাখ্যা
• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ বা ‘ত্ব’ যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন- অলস্য ‍বিশেষ্য শব্দ এর সাথে আবারও তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে অলস্যতা হলে শব্দটি অশুদ্ধ হয়। 

অশুদ্ধ শব্দের শদ্ধরূপ দেয়া হলো:
• অশুদ্ধ - অলস্যতা
• শুদ্ধ -অলসতা 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - অলস+তা
অর্থ: কুঁড়েমি, জড়তা, শ্রমবিমুখতা।
--------------------

• শুদ্ধ- কৃপণতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- কৃপণ+তা
অর্থ: ব্যয়কুন্ঠতা, অনুদারতা, কঞ্জুসি।

• শুদ্ধ - দরিদ্রতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - দরিদ্র+তা
অর্থ: দারিদ্রর‌্য।

• শুদ্ধ - উৎকৃষ্টতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - উৎ+√কৃষ্+তা
অর্থ: উওম, শ্রেষ্ঠ, উন্নত ।

উৎস:  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও আধুনিক বাংলা একাডেমির অভিধান।
২,৫৬৮.
কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. ক) তুমি আমার বাড়িতে না আসলে আমি অখুশি হব
  2. খ) তুমি আমার বাড়িতে আসলে আমি খুশি হব
  3. গ) তুমি আমার বাড়িতে এস, আমি খুশি হব
  4. ঘ) তুমি যদি আমার বাড়িতে আস আমি খুশি হব
ব্যাখ্যা
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমনঃ তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
এখানে, 'তুমি আমার বাড়িতে এস, আমি খুশি হব' বাক্যটিতে কোন যোজক উল্লেখ নেই কারণ অনেক সময় সাধারণ কথাবার্তায় যোজক নাও ব্যবহৃত হতে পারে। এখানে বাক্যটি যৌগিক কারণ এ বাক্যগুলো জটিল বাক্যের মত একটি আরেকটির উপর নির্ভর করে না।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
২,৫৬৯.
'তারা তোমাদের ভোলেনি।’ - কোন প্রকার বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘তারা তোমাদের ভোলেনি।’ - বিবৃতিবাচক বাক্য

 • বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
→ সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন -
→ আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৫৭০.
'তিলে তৈল আছে' বাক্যে আধারাধিকরণের কোন প্রকার বোঝানো হয়েছে? 
  1. ঐকদেশিক
  2. অভিব্যাপক
  3. বৈষয়িক
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) অভিব্যাপক

আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ হলো সেই ধরনের অধিকরণ যা কোনো স্থানের, বস্তু বা বিষয়ের অবস্থান, বিস্তৃতি বা গুণাবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক,
৩. বৈষয়িক। 

১. ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের কোনো এক স্থানে),
  বনে বাঘ আছে। (বনের কোনো এক অংশে),
  আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে),
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়।
  ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।
  দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী, ভিক্ষা দেহ তারে।
  রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

২. অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
- উদাহরণ:
  তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী),
  নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)। 

৩. বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক আধারাধিকরণ হয়।
- উদাহরণ:
  আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)। 

২,৫৭১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. সুকেশা
  2. সুকেশী
  3. সুকেশীনী
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সুকেশা, সুকেশী (ক + খ)।
- 'সুকেশা, সুকেশী' শব্দদ্বয় বিশেষণ।
- দুটিই সংস্কৃত শব্দ।
- 'সুকেশা, সুকেশী' অর্থ: সুন্দর কেশবিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫৭২.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরভিমান
  2. অহর্নিশ
  3. উপরোক্ত
  4. নির্দোষ
ব্যাখ্যা
• 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধরূপ - উপর্যুক্ত / উপরিউক্ত।
- এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

অন্যদিকে,
নিরভিমান; অহর্নিশ; নির্দোষ - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫৭৩.
নিচের বাক্যটিতে কয়টি বিরাম চিহ্ন বসবে?
গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত বাক্যে ৬টি বিরাম চিহ্ন বসেছে। 
কমা (,): কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন :গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।

নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
সুজন, দেখ তাে কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তাে পাপ।”

উৎস: নবম - দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
২,৫৭৪.
'আমাকে যত খুশি সাজা দিও।' - বাক্যে 'আমাকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  2. কর্মকারকে দ্বিতীয়া
  3. করণে দ্বিতীয়া
  4. অপাদানে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি:
- তাকে বল।
- আমাকে যত খুশি সাজা দিও
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৫৭৫.
জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন: 'জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।'
  1. যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  2. যে জ্ঞানী সেই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  3. জ্ঞানী লোক মাত্রই সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
  4. জ্ঞানী লোক তাই সকলে শ্রদ্ধা করে।
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।' - বাক্যের জটিল রূপ: যেসব লোক জ্ঞানী, তারা সকলের শ্রদ্ধার পাত্র

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৫৭৬.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. গণাগোষ্ঠী
  2. গণগোষ্ঠি
  3. গনগোষ্ঠি
  4. গনাগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - গনাগোষ্ঠী,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [গনা+স. গোষ্ঠী],
অর্থ: সমস্ত আত্মীয়স্বজন, গোষ্ঠীবর্গ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৫৭৭.
'মা আছে বলে তাঁর- বাক্যটিতে কীসের অভাব রয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. আসক্তি
  4. যোগ্যতা
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়।
বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক।
এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি অখণ্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে।

ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা

১. আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন
'মা আছে বলে তাঁর’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: 'মা আছে বলে তাঁর কোন সমস্যা নাই। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

২. আসত্তি: মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন
কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন-
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।'
বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে।
কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২,৫৭৮.
বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় -
  1. ক) মেসোবিরতিতে
  2. খ) ট্রপোবিরতিতে
  3. গ) স্ট্র্যাটোবিরতিতে
  4. ঘ) আয়নমন্ডলে
ব্যাখ্যা
• আয়নমন্ডল মূলত মেসোমন্ডলের ঊর্ধ্বাংশ থেকে তাপমন্ডলের নিম্নাংশ (৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
আয়নমন্ডলে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।

অন্যদিকে, 
• বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশা ইত্যাদি সকল কিছুই ট্রপোমণ্ডলে সংঘটিত হয়।
• আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়বৃষ্টি থাকে না।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৭৯.
"সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।" - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা অথচ তার গায়ে শক্তি নেই।
  3. মোটা কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
  4. সে মোটা এবং তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৫৮০.
প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. উদ্ধারচিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. বন্ধনী চিহ্ন
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• বাক্যের অর্থ-সঙ্গতি রক্ষার জন্য সর্বনামের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
পরোক্ষ উক্তি: সাজ্জাদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

২,৫৮১.
’গতকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে।’ এর ইংরেজি অনুবাদ হলো-
  1. It has been raining for yesterday.
  2. It has been raining since yesterday.
  3. It had been raining since yesterday.
  4. It had been raining for yesterday.
ব্যাখ্যা
’গতকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে’ এর ইংরেজি অনুবাদ: It has been raining since yesterday.
----------------------
• কিছু গুরত্বপূর্ণ প্রবাদ বাক্যের অনুবাদ:
- The grapes are sour এর বাংলা অনুবাদ: আঙুর ফল টক।
- All covet, all lost. এর বাংলা অনুবাদ: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।
- Empty vessels sound much এর বাংলা অনুবাদ: অসারের তর্জন গর্জনই সার।
- Grasp all , lose all এর বাংলা অনুবাদ: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।
- Habit is second nature এর বাংলা অনুবাদ: অভ্যাসই স্বভাবে দাঁড়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৫৮২.
ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত পদকে কী বলা হয়?
  1. সমাস
  2. কারক
  3. সন্ধি
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
⇒ কারক: কারক শব্দের অর্থ - যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয় প্রকার:
১. কর্তৃ কারক,
২. কর্ম কারক,
৩. করণ কারক,
৪.সম্বন্ধ/ সম্প্রদান কারক,
৫. অপাদান কারক,
৬. অধিকরণ কারক।

অন্যদিকে,
⇒ বিশেষণ পদ:

যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষণ পদকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
১. নাম বিশেষণ।
২. ভাব বিশেষণ।

⇒ সমাস:
সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের ক্রিয়াকে সমাস বলে।
যেমন:
- দেশের সেবা = দেশসেবা।
- বই ও পুস্তক = বইপুস্তক।

⇒ সন্ধি: পাশাপাশি দ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধি তিন প্রকার। যথা:
- স্বরসন্ধি,
- ব্যাঞ্জনসন্ধি ও
- বিসর্গসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,৫৮৩.
নিচের কোন বাক্যটি প্রয়ােগগত দিক থেকে শুদ্ধ?
  1. আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
  2. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
  3. তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
  4. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম ।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।

অন্যান্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ -
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই।

• অশুদ্ধ বাক্য: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত। 
• শুদ্ধ বাক্য: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত। 

• অশুদ্ধ বাক্য: সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম । 
• শুদ্ধ বাক্য: সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৫৮৪.
নিম্নের কোনটি অন্ত্যযতি নয়?
  1. ক) বিন্দু (.)
  2. খ) প্রশ্নচিহ্ন (?)
  3. গ) বিস্ময়চিহ্ন (!)
  4. ঘ) দুই দাঁড়ি (।।)
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হল: ১৬ টি। 
ক, অন্ত্যযতি
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।) 

খ. অভ্যন্তর যতি
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;) 
৭. হাইফেন (-) 
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:) 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি 
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...) 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})) 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)
২,৫৮৫.
'একজন ফটোগ্রাফওয়ালা ডেকে আনো।' - এখানে 'ফটোগ্রাফওয়ালা' কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
- সে রােজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।
- একজন ফটোগ্রাফওয়ালা ডেকে আনো।

- কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে বিভক্তি হয়।
যেমন –
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
২,৫৮৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঘূর্ণন
  2. ঘূন্যমাণ
  3. ঘৃর্ণিত
  4. ঘূর্নায়মাণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণন (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় = (√ঘূর্ণ্ + অন),
যার অর্থ: অনবরত আবর্তন, চক্রগতি।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণায়মান (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘুরছে এমন।

• শুদ্ধ বানান: ঘৃণিত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘৃণা করা হয়েছে এমন, অবজ্ঞাত, অবহেলিত।

• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণ্যমান (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘোরানো হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫৮৭.
‘ইতিমধ্যে’ এর সঠিকরূপ কোনটি?
  1. ক) ইতিঃমধ্যে
  2. খ) ইতোঃমধ্যে
  3. গ) ইতোমধ্যে
  4. ঘ) ইতঃমধ্যে
ব্যাখ্যা
‘ইতিমধ্যে’ এর সঠিকরূপ ইতোমধ্যে। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২,৫৮৮.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. স্বাগত
  2. অদ্যাপিও
  3. বিবিধপ্রকার
  4. অশ্রূধারা
ব্যাখ্যা
স্বাগত - শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেনি।

অন্যদিকে,
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - অদ্যাপিও, বিবিধপ্রকার, অশ্রূধারা।
এদের শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাপি/অদ্যও, বিবিধ, অশ্রুধারা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৫৮৯.
বাক্যে অবস্থিত ক্রিয়ার কার্যের সঙ্গে বিশেষ সম্বন্ধযুক্ত পদ ই হলো _____?
  1. ক) বাক্য 
  2. খ) বাচ্য
  3. গ) পদ
  4. ঘ) উক্তি
ব্যাখ্যা
বাচ্য:
'বাচ্য' বাংলা ব্যাকরণে বহুল পরিচিত একটি পরিভাষা। ইংরেজি Voice শব্দের বাংলা পরিভাষা হলো বাচ্য। বাক্যে অবস্থিত ক্রিয়ার কার্যের সঙ্গে বিশেষ সম্বন্ধযুক্ত পদকে বাচ্য বলা হয়।

- বাচ্য হলো বাক্যের প্রকাশভঙ্গির স্বরূপ নির্ধারক পাঠ। তাই বাক্যের বিভিন্ন ধানের প্রকাশভঙ্গিকে বাচা বলা যায়।
যেমন-
- হেরা ফুটবল খেলতে পারে না।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৫৯০.
কোন শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অধীনস্ত
  2. সৌন্দর্যতা
  3. বিলাসবহুল
  4. প্রসারতা
ব্যাখ্যা

• 'বিলাসবহুল' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - আমোদ-প্রমোদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাযুক্ত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
প্রসারতা - প্রসার,
অধীনস্ত - অধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৫৯১.
‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা জনিত
  2. খ) আসত্তি জনিত
  3. গ) বাহুল্য জনিত
  4. ঘ) যোগ্যতা জনিত
ব্যাখ্যা
‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে’ বাক্যটি কবিতায় মানা হলেও গদ্যে যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,৫৯২.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  2. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  3. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  4. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৫৯৩.
'আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।' - বাক্যে কোন ধরনের অধীন খণ্ডবাক্য ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্যস্থানীয়
  2. ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
  3. উপসর্গগত
  4. বিশেষণস্থানীয়
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।

যেমন:
আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৫৯৪.
কোলনের ক্ষেত্রে সাধারণত কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন 
  3. ১ বলার দিগুণ সময় 
  4. থামার প্রয়োজন নেই 
ব্যাখ্যা

সাধারণ বাক্যবিন্যাসে  দৃষ্টান্তচ্ছেদ বা কোলনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি রাখা হয়, যা প্রায় ১ সেকেন্ডের সমান।
-------------------
• কোলন (:) –
- কোলন (:) বাংলা ব্যাকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ যতিচিহ্ন।
- এটি পূর্ণ বাক্যের পর উদাহরণ, তালিকা, ব্যাখ্যা, উদ্ধৃতি বা সংলাপ এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- এটি সাধারণত ‘অর্থাৎ’, ‘যেমন’ বা ‘নিচে দেওয়া হলো’—এই ধরনের ভাব প্রকাশ করে।
- কোলনের আগে থাকা বাক্য অবশ্যই পূর্ণ বা স্বাধীন বাক্য হতে হবে।

কোলনের প্রধান ব্যবহারসমূহ:

• উদাহরণ বা তালিকা দেখাতে:
- উদাহরণ:
- “আমাদের ক্লাসে তিনজন প্রধান শিক্ষক আছেন: মিস্টার রহমান, মিসেস দত্ত ও মিস্টার চৌধুরী।”
- “আমার প্রিয় ফল: আম, কলা, আনারস।”

• ব্যাখ্যা বা কারণ বোঝাতে:
- উদাহরণ:
- “তার বক্তব্য স্পষ্ট: আমাদের সবাইকে সাহায্য করতে হবে।”

• উদ্ধৃতি বা সংলাপের আগে:
- উদাহরণ: সুমি বলল: “আজকে আমি স্কুলে যাব না।”

• নাটকের সংলাপ:
- রাহুল: তুমি কোথায় যাচ্ছ?
- সুমি: বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি।

• শিরোনাম ও উপশিরোনাম আলাদা করতে:
- উদাহরণ:
- “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়।”

• সময় নির্দেশ করতে:
- উদাহরণ: ০৮:৪৫। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,৫৯৫.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্য?
  1. আমরা কঠোর পরিশ্রম করি
  2. চিঠিটা পড়া হয়েছে
  3. ছেলেটি ছবি আঁকে
  4. কোথা থেকে আসা হলো
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে। 
- হালাকু খাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন। 
- একটি গান কর।
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- ছেলেটি ছবি আঁকে।

• ভাববাচ্য
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন –
- আমার যাওয়া হলো না ।
- কোথা থেকে আসা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২,৫৯৬.
প্রশ্ন নং ১ - ৬: শব্দের সঠিক বানান নির্ণয় করুনঃ
  1. আশ্বস্ত
  2. আশ্বস্থ
  3. আস্বস্ত
  4. আস্বস্থ
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: আশ্বস্ত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- আশ্বাস বা ভরসাপ্রাপ্ত,
- আশঙ্কামুক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৫৯৭.
গঠন অনুযায়ী বাক্য কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার:
(১) সরল বাক্য,
(২) মিশ্র বা জটিল বাক্য,
(৩) যৌগিক বাক্য।

১. সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
 যেমন- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

২. জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
 যেমন- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

৩. যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
 যেমন- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

২,৫৯৮.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. কুলাটা নারীকে বর্জন কর
  2. কুলটা নারীকে বর্জন কর
  3. কূলাটা নারীকে বর্জন কর
  4. কূলটা নারীকে বর্জন কর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য - কুলটা নারীকে বর্জন কর
এখানে সবগুলো শব্দই শুদ্ধ হওয়ায় বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অন্যান্য বাক্যগুলোতে 'কুলটা' বানান ভুল লিখায়, অন্যান্য বাক্যগুলো অশুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৫৯৯.
‘যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম’। -এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য: কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

উল্লেখিত, ‘যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম’।-  বাক্যটি মিশ্র বা জটিল বাক্য। বাকিগুলো যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬০০.
শুদ্ধ বানান -
  1. নাসিক্যভবন
  2. নাসিক্যীভবন
  3. নাসিক্যিভবন
  4. নাসীক্যীভবন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'নাসিক্যীভবন'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- কোনো শব্দের নাসিক্যব্যঞ্জন লুপ্ত হওয়ার ফলে পূর্ববর্তী স্বরের অনুনাসিকত্ব লাভ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।