বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৪ / ৬৯ · ২,৩০১২,৪০০ / ৬,৯৫৩

২,৩০১.
'রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।' এখানে 'রাজায়-রাজায়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)।

ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার
কর্তা বলে।
যেমন:
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৩০২.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি রয়েছে?
  1. গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
  2. ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
  3. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
ব্যাখ্যা
• বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি:
- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

যেমন:
অশুদ্ধ: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
শুদ্ধ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: দশচক্রে ভগবান ভূত।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
শুদ্ধ বাক্য: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩০৩.
পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন হয় কী অনুসারে?
  1. কর্তা
  2. উদ্দেশ্য
  3. কর্ম
  4. বিধেয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কর্তা।

• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, “আমি এখনই বের হচ্ছি।”
পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

২,৩০৪.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মূলসহ
  2. বিবিধপ্রকার
  3. বুদ্ধিমান
  4. অদ্যাপি
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩০৫.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. অভ্যন্তর
  3. ঘূর্নিপাক
  4. ঐন্দ্রজালিক
ব্যাখ্যা
• 'ঘূর্নিপাক'-  বানানটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ বানান- 'ঘূর্ণিপাক'। 

• 'ঘূর্ণিপাক' শব্দের অর্থ- বায়ু বা জলের প্রচণ্ড আবর্ত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩০৬.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
  2. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
  3. সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
  4. অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়। কারণ অপশনে সবগুলো বাক্যই শুদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
- এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
- সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
- অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩০৭.
মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর এক মাত্রার গণনা করা হয় কোন ছন্দে?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. পায়রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।

• স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- স্বরবৃত্ত ছন্দে মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর এক মাত্রার গণনা করা হয়।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া।

২,৩০৮.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - সবগুলোই। অপশনে সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩০৯.
নিচের কোন শব্দটিতে প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. দরিদ্রতা
  2. দুর্বলতা
  3. চাপল্যতা
  4. সুজনতা
ব্যাখ্যা
• 'চাপল্যতা' শব্দটিতে - প্রত্যয়জনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: চাপল্য/চপলতা।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দ্যতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দরিদ্রতা; দুর্বলতা, সুজনতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩১০.
'হে সিন্ধু! বন্ধু মোর- মজিনু তব রূপে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) প্রার্থনাসূচক
  2. খ) অনুজ্ঞাসূচক
  3. গ) কার্যকারণাত্মক
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক
ব্যাখ্যা

অর্থানুসারে বাক্যকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে

বর্ণনা বা বিবরণমূলক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনামূলক বাক্য।
যেমন- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘােরে।
লােকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি
প্রশ্নবােধক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য।
যেমন: তুমি কি লােকটিকে চিন? সে কি আজ বাড়ি যাবে?
তুমি কি প্রতিদিন স্কুলে যাও ইত্যাদি।
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরােধ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।
যেমন - আদেশ: এখান থেকে বিদায় হও।
- অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
- উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করাে না।
- নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করাে না।
- প্রস্তাব : চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি।
ইচ্ছাসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস্, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যেমন - তােমার মঙ্গল হােক।
পরীক্ষায় সফল হও।
বিস্ময়সূচক বাক্য: যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বুঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন - 'হে সিন্ধু! বন্ধু মোর- মজিনু তব রূপে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৩১১.
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কোন কারক বলে?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্মকারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

২,৩১২.
'হাইফেন' চিহ্নের জন্য কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলার সময়
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার দরকার নেই
ব্যাখ্যা
যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
- কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- কোলন - এক সেকেন্ড।
- ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
- একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
- যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
- ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
- ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩১৩.
'অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর।' এই বাক্যে 'শোকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে ৭মী
  2. করণ কারকে ৭মী
  3. কর্ম কারকে ৭মী
  4. কর্তৃকারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর।' এই বাক্যে 'শোকে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তি।

• করণ কারক:

- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ); উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩১৪.
‘যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর’ বাক্যটির যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. সাফল্য চাইলে, তবেই পরিশ্রম কর।
  2. সাফল্য চাও যদি, তবে পরিশ্রম কর।
  3. সাফল্য চাইলে, তাহলে পরিশ্রম কর।
  4. পরিশ্রম কর, এবং সাফল্য লাভ কর।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক: আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩১৫.
বাংলা ভাষায় কারক কত প্রকার?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
• কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্কে বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
১। কর্তা কারক।
২। কর্ম কারক।
৩। করণ কারক।
৪। অপাদান কারক।
৫। অধিকরণ কারক।
৬। সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩১৬.
‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’- এটা কোন ধরনের বাক্য?
  1. আবেগসূচক বাক্য
  2. প্রার্থনাসূচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
  4. ইচ্ছাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
•  ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’- এটা 'অনুজ্ঞাসূচক বাক্য'। 
-------------- 
 • অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন-
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
---------------
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়:
• আবেগসূচক বাক্য: 
যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয় আবেগসূচক বাক্য। 
যেমন: 
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড। 
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য। 

বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন :
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন :
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

ইচ্ছাসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যথা
- তােমার মঙ্গল হােক।
- পরীক্ষায় সফল হও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,৩১৭.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. কিরীট 
  2. জাজ্জ্বল্যমান
  3. নিষ্পৃহ 
  4. প্রাঙ্গন 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - 'কিরীট'।
• 'কিরীট':
- মুকুট, শিরোভূষণ।

অন্যদিকে,
- প্রাঙ্গন - প্রাঙ্গণ (উঠান);
- নিষ্পৃহ - নিস্পৃহ (বাসনাহীন);
- জাজ্জ্বল্যমান - জাজ্বল্যমান(অতিশয় উজ্জ্বল, সুস্পষ্ট)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩১৮.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
  2. কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
  3. মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ!
  4. ক ও গ উভয়ই
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়। উপরিউক্ত অপশনের সবগুলো বাক্যই শুদ্ধ।

তাছাড়া,
শুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
শুদ্ধ: কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।
শুদ্ধ: মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ!

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩১৯.
অশুদ্ধ বানান -
  1. অনাবশ্যক
  2. অভিভুত
  3. ভ্রাতুষ্পুত্র
  4. ভদ্রোচিত
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - অভিভুত
- শুদ্ধ বানান - অভিভূত।
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।

অর্থ: 
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।

অন্যদিকে,
- অনাবশ্যক, ভ্রাতুষ্পুত্র এবং ভদ্রোচিত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩২০.
'সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।' - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।

​​যেমন:
- সালমা সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

​​​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৩২১.
একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. দাড়ি
  3. কমা
  4. সেমিকোলন 
ব্যাখ্যা

 • সেমিকোলন (;)
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

২,৩২২.
কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
  2. ধনের ধর্ম আছে কিন্তু তা অসাম্য।
  3. পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
  4. তুমি যদি ভালো হও তবে সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
- পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারিদ্র হলেও তিনি সুখী।

অন্যদিকে,
• ধনের ধর্ম আছে কিন্তু তা অসাম্য।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
• তুমি যদি ভালো হও তবে সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৩২৩.
কোনটি সঠিক?
  1. সোনালি ও দিঘি
  2. মিতালী ও শাড়ি
  3. বর্ণালি ও তরকারী
  4. রূপালী ও সরকারি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে। তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

- ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্‌ স্থানে অনুস্বার (ং) লেখা যাবে।
যেমন: অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।
• বিকল্পে ঙ্‌ লেখা যাবে।
• ক্ষ-এর পূর্বে সর্বত্র ঙ্‌ হবে।
যেমন: আকাঙ্ক্ষা।

- অতৎসম অর্থাৎ নিজস্ব (অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ইত্যাদি) ও বিদেশি শব্দে সর্বদা ঈ-কার এবং ঊ-কার বর্জিত হবে।
যেমন: তরকারি, মুলা, দিঘি, সরকারি, শাড়ি, পশমি, ইমান, কুরান, নিচু, ভুখা ইত্যাদি।

- '-আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন: সোনালী হবে না, হবে সোনালি; মিতালী হবে না, হবে মিতালি
অনুরূপভাবে, বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

- তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। অতৎসম শব্দে 'ণ' হবে না, তার বদলে হবে 'ন'।
যেমন: অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান, ধরন, সোনা ইত্যাদি। 

- তৎসম শব্দের বানানে ষ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। এ-ছাড়া অন্য কোনো শব্দের ক্ষেত্রে সংস্কৃত ষ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু সে-সব ক্ষেত্রে ষ-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ তা নয়।
যেমন: সাল, শহর, হিসাব, শখ, শৌখিন, পোশাক।
কিন্তু বোষ্টমী, খ্রিষ্টান ইত্যাদি।

- ইংরেজি শব্দের প্রতিবর্ণীকরণে S- এর জন্য 'স' এবং Sh, -sion, - ssion, -tion ইত্যাদির জন্য সাধারণত 'শ' ব্যবহার হবে।
যেমন: স্টেশন, কমিশন, শার্ট, ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩২৪.
বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত প্রাচীনতম ছন্দ কোনটি?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• ছন্দ:
কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল। হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত অন্যতম প্রাচীন ছন্দ।
• অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে রবীন্দ্রনাথ একে মুক্ত করে এতে এক নতুন রীতি প্রবর্তন করেন, যে কারণে মাত্রাবৃত্তকে কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথেরই সৃষ্টি বলে মনে করেন।
• এ ছন্দ চর্যাপদে  প্রথম লক্ষিত হয়। মূলত মাত্রাবৃত্ত একটি সর্বভারতীয় ছন্দ এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃতের সময় থেকেই এটি ভারতবর্ষে প্রচলিত।
• বাংলা ভাষায় এটি প্রবেশ করেছে  প্রাকৃত ও  অপভ্রংশ কবিতা এবং সংস্কৃত কাব্য  গীতগোবিন্দম্-এর মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছেন যে, এ ছন্দের সৃষ্টি হয়েছে সংস্কৃত ছন্দকে বাংলায় ভেঙে নিয়ে।

• অন্যান্য বাংলা ছন্দের তুলনায় মাত্রাবৃত্ত একটি দুর্বল ছন্দ; কেননা পর্বদৈর্ঘ্য অনুযায়ী চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার এ ছন্দে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল উচ্চারণভঙ্গি ফুটে ওঠে এবং এতে শক্তি বা সুরের স্বাভাবিক প্রকাশ না হয়ে কেবল মাত্রারই প্রাধান্য প্রতিফলিত হয়। এজন্যই এ ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।
• বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
• চর্যাপদে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রথম প্রকাশ পরিলক্ষিত হলেও সেখানে তা একেবারেই সাধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩২৫.
"যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩২৬.
"বাচ্চা কালে দুঃখের দিন দেখছি হয়।" - বাক্যে 'বাচ্চা কালে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অপদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- বাচ্চা কালে দুঃখের দিন দেখছি হয়। (অধিকরণে সপ্তমী)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩২৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. চ্যাচামেচি
  2. চ্যাঁচামেচি
  3. চ্যাঁচামেছি
  4. চ্যাঁছামেচি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'চ্যাঁচামেচি'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- একাধিক ব্যক্তির একসঙ্গে চিৎকার, হট্টগোল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩২৮.
একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে কোন ধরণের বাক্যে?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।

• কয়েকটি সরল বাক্যের উদাহরণ হচ্ছে - 
- জেসমিন সবার জন্যে চা বানিয়েছে।
- পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৩২৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. পুরষ্কার
  2. তৃষার্ত
  3. কৌতুহল
  4. আবিস্কার
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: তৃষার্ত,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [তৃষা +√ঋ+ত]
অর্থ: তৃষ্ণা-পীড়িত, পিপাসায় কাতর, পিপাসিত।

অন্যান্য বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
- পুরষ্কার = পুরস্কার।
- আবিস্কার = আবিষ্কার।
- কৌতুহল = কৌতূহল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৩০.
অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. তরুছায়া
  2. মূলসহ
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. শ্রেষ্ঠতম
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় - মূলসহ।

উল্লেখ্য, 
• 'সমূলসহ', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: মূলসহ। 
 ----------------- 
অন্যদিকে,
• 'তরুছায়া', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: তরুচ্ছায়া।

• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান।

• 'শ্রেষ্ঠতম', উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
২,৩৩১.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. আকাশে মেঘ ছিল না, কিন্তু বজ্রপাত হলো।
  2. তিনি ধনী হয়েও সুখী ছিলেন না।
  3. সূর্য উদিত হয়, তবে অন্ধকার দূর হয়।
  4. তুমি যা বলেছিলে, সবই খেটে গেছে।
ব্যাখ্যা
তুমি যা বলেছিলে, সবই খেটে গেছে।- এটি জটিল বাক্যের উদাহরণ।
বাক্যে ‘তুমি যা বলেছিলে’ বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য এবং সবই খেটে গেছে আশ্রিত বাক্য।

⇒ জটিল বাক্য:

যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

অন্যদিকে,
- যৌগিক বাক্য: সূর্য উদিত হয়, তবে অন্ধকার দূর হয়।
- সরল বাক্য: তিনি ধনী হয়েও সুখী ছিলেন না।
- যৌগিক বাক্য: আকাশে মেঘ ছিল না, কিন্তু বজ্রপাত হলো।‘

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৩২.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সরলতা
  2. সরল
  3. সারল্যতা
  4. সারল্য
ব্যাখ্যা
• তা প্রত্যয়ের প্রয়োগের নিয়ম অনুসারে, অশুদ্ধ প্রয়োগ- সারল্যতা। 

অন্যদিকে, 
সরলতা, সরল  ও সারল্য শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

-----------------
• 'তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে। 

• সারল্যতা - সারল্য, সরলতা।
• সাদৃশ্যতা - সাদৃশ্য, সদৃশতা।
• সামর্থ্যতা - সামর্থ্য, সমর্থতা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৩৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) ইতিপূর্বে
  2. খ) ইতঃপূর্বে
  3. গ) ইতোপূর্বে
  4. ঘ) ইতপূর্বে
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- ইতঃপূর্বে।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [ইতঃপূর্ব+বা. এ]
অর্থ: এর আগে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৩৪.
একটি সার্থক বাক্য যোগ্যতা হারায় কোন কারণে?
  1. রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার অভাবে
  2. অসম্পূর্ণ ভাব
  3. অলংকারহীনতা
  4. কর্তার অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা

সার্থক বাক্য:
- যে বাক্য শুনে বা পড়ে একটি সম্পূর্ণ অর্থ বা ভাব বোঝা যায়, তাকে সার্থক বাক্য বলে।
- সার্থক বাক্যের যোগ্যতা হারানোর ৬টি কারণ উল্লেখ করা হলো:
১️. রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার অভাব:
- রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার অভাবে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।
- যেমন- গবেষণা মানে হচ্ছে অনুসন্ধান।
- আর গবেষণা = গো + এষনা- এর অর্থ গরু খোঁজা।
- এখন গরু খোঁজা আর অনুসন্ধান এক জিনিস না।
- কেউ যদি অনুসন্ধান করতে গিয়ে গরু খোঁজে তাহলে রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার কারণে বাক্য তার যোগ্যতা হারাবে।

২️. বাহুল্য দোষ:
- বাহুল্য দোষ হলো বাক্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ বা একই অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা।
- উদাহরণস্বরূপ, "সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত", এতে বাহুল্য দোষ রয়েছে, কারণ "সকল" এবং "আলেমগণ" একই অর্থ প্রকাশ করে।

৩️. গুরুচণ্ডালী দোষ:
- সাধু ও চলিত ভাষাকে একসাথে ব্যবহার করে বাক্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। 
- এর উদাহরণ- তিনি বড় বজ্জাত ভদ্রলোক।
- ‘তিনি বড় বজ্জাত ভদ্রলোক’- বাক্যটিতে ‘বজ্জাত’ (চলিত ভাষা) আর ‘ভদ্রলোক’ (সাধুভাষা) একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে।
- এখানে সাধু ও চলিত ভাষার অপ্রয়োজনীয় মিশ্রণ ঘটেছে, তাই বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষযুক্ত হয়েছে। 

৪️. উপমার ভুল প্রয়োগ:
- উপমার ভুল প্রয়োগের উদাহরণ "সে পাথরের মতো শক্ত।"
- এখানে "পাথর" একটি জড়বস্তু, আর "সে" একজন ব্যক্তি।
- যেহেতু তাদের মধ্যে তুলনাটি সঠিক নয়, তাই এটি উপমার ভুল প্রয়োগ। 

৫️. বাগধারার ভুল প্রয়োগ:
- বাগধারার ভুল প্রয়োগের উদাহরণ: অকাল কুষ্মাণ্ড (অপদার্থ) বলতে কোনো অপদার্থ ব্যক্তিকে বোঝানো উচিত।
- কিন্তু যদি বলা হয় "কুষ্মাণ্ডগুলো পেকেছে" তবে তা ভুল হবে কারণ এখানে আভিধানিক অর্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।  
- এখানে বাগধারা আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা অর্থবিকৃতি ঘটায়।

৬. দুর্বোধ্যতা:
- "তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছ" এই বাক্যটি দুর্বোধ্য কারণ 'প্রপঞ্চ' শব্দটি চাতুরি অর্থে ব্যবহৃত হলেও এটি বর্তমানে অপ্রচলিত।
- 'প্রতারণা' শব্দের বদলে 'প্রপঞ্চ' ব্যবহার করলে বাক্যটি দুর্বোধ্য হয়ে যায়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা — সৌমিত্র শেখর;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

২,৩৩৫.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আবশ্যক
  2. একত্র
  3. করিতকর্মী
  4. ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা

'করিতকর্মী' শব্দে প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: করিতকর্মা।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- একত্রিত - একত্র;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩৩৬.
সন্ধির নিয়মে সমস্যমান পদের চেহারায় পরিবর্তন রোধে কোন বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. সেমিকোলন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন (-):
হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন। অর্থাৎ বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদ হাইফেন দিয়ে যুক্ত করা হয়। বাক্য পাঠ করার সময়ে এই যতি উচ্চারণের উপরে কোনো প্রভাব ফেলে না।

- নিম্নে হাইফেনের সাধারণ কিছু প্রয়োগ তুলে ধরা হলো:

• সন্ধি এড়াতে হাইফেন:
সন্ধির নিয়মে অনেক সময়ে সমস্যমান পদের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন রোধ করার জন্য অনেক সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
যেমন:
- ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার দিকে চালিত করে।
- ন্যায়-অন্যায় বুঝি না, আক্রমণের পালটা হিসাবে প্রতি-আক্রমণ হয়, সেটা জানি।

• উপরের উদ্ধৃতি দুটিতে তিনটি সমাসবদ্ধ পদকে হাইফেন দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে, সন্ধিবদ্ধ হলে এগুলির চেহারা হত যথাক্রমে গণান্দোলন, ন্যায়ান্যায়, এবং প্রত্যাক্রমণ। কিন্তু শব্দগুলির এমন চেহারা অপ্রত্যাশিত হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে সন্ধির বদলে হাইফেন প্রযুক্ত হয়েছে।

-------------------------

• পদের সমাসবদ্ধতা প্রকাশে হাইফেন:
বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছাত্র-ছাত্রীদের খাবার পানি সরবরাহ করার জন্য স্কুলের বারান্দায় ফিল্টার বসানো হয়েছে।
- লাল-সবুজের পতাকা শোভিত বাংলাদেশের গ্যালারিতে আনন্দের বন্যা!
- রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়, উলু-খাগড়ার প্রাণ যায়।

• একাধিক পদ মিলে পদবন্ধ-সমাস তৈরি হওয়ার সময়েও হাইফেন ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও এইসব পদবন্ধ বিশেষণ হিসাবে কাজ করে।
যেমন:
- সিগনালে-দাঁড়িয়ে-থাকা গাড়িটার উপরে ট্রাকটা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। 

• সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন-স্কুল-পালানো ছেলে।
• অনুকার শব্দ বা প্রায় সমার্থক একাধিক শব্দ দিয়ে শব্দদ্বৈত গঠনের কাজে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- গোল-গোল চোখ করে তাকিয়ে সে চলে যায়।
- ঝড়ের বাতাসে কড়-মড় করে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে।

• পরপদ অভিন্ন হলে প্রথমটিতে হাইফেন:
একাধিক সমাসবদ্ধ পদে পরপদ অভিন্ন হলে কোনো একটার পরপদ অক্ষুণ্ণ রেখে অন্যটার পরপদের পরিবর্তে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা- ও মুক্তি-সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

• লাইনের শেষে শব্দ ভাঙতে হাইফেন:
লাইনের মধ্যবর্তী ফাঁক দৃষ্টিকটুভাবে যাতে কম বা বেশি হয়ে না যায়, সেজন্য অনেক সময়ে লাইনের শেষ শব্দকে যৌক্তিকভাবে ভাঙা হয়। শব্দকে এভাবে ভাঙার সময়ে প্রথম অংশের শেষে হাইফেন ব্যবহার করতে হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
২,৩৩৭.
কোন বাক্যে কমার অসংগত প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কেউই জানেনা, সে কোথায় গেছে
  2. বেশ, তাই হবে
  3. তার কাঁধে বিরাট বোঝা, হাতে লাঠি
  4. তুমিও যাবে, আমিও যাব
ব্যাখ্যা
কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে।
যেমন:
- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে।
যেমন:
- রশিদ, এদিকে এসো।
- বেশ, তাই হবে।

৪) এক জাতীয় একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা প্রয়োগে তাদের আলাদা করতে হয়।
যেমন:
- সে ক্লাসে ঢুকল, বই নিল।
- তার কাঁধে বিরাট বোঝা, হাতে লাঠি

৫) ভাবান্তরমূলক বাক্যাংশের পর কমা দিতে হয়।
যেমন:
- আমার মনে হয়, সে আসবে।
- তার কাঁধে বিরাট বোঝা, হাতে লাঠি

অন্যদিকে,
- দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।
- তুমিও যাবে; আমিও যাব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৩৩৮.
মুখ্য কর্ম সাধারণত কোনটি হয়?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. বস্তুবাচক
  3. পরিমাণবাচক
  4. স্থানবাচক
ব্যাখ্যা
• কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৩৯.
বাবা বাড়িতে আছেন। বাক্যে 'বাড়িতে' কোন কারক?
  1. ক) অপাদান কারক
  2. খ) সম্বন্ধ কারক
  3. গ) কর্ম কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
- বাবা বাড়িতে আছেন। বাক্যে 'বাড়িতে' অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২,৩৪০.
‘মৃতজনে দেহ প্রাণ।’ - এখানে ‘মৃতজনে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।
- বেগম সাহেবা প্রতিদিন ভাড়ার থেকে নিজ হাতে গরিবদের চাল দিতেন।
- মৃতজনে দেহ প্রাণ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৪১.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
  2. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  3. দারিদ্র্য বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।
  4. নিরপরাধীকে মুক্তি দাও।
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বাক্য: দারিদ্র্য বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।


অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
- শুদ্ধ বাক্য: দৈন্য / দীনতা প্রশংসনীয় নয়।

- অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
- শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

- অশুদ্ধ বাক্য: নিরপরাধীকে মুক্তি দাও।
- শুদ্ধ বাক্য: নিরপরাধকে মুক্তি দাও।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৪২.
‘ঘর থেকে শুধু দুই পা ফেলিয়া।’ বাক্যে ‘ঘর থেকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- তিলে তৈল হয়।- বাক্যকে কি থেকে তেল হয়? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘তিলে’। সুতরাং এ বিভক্তি যোগে ‘তিলে’ অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকের এরূপ কিছু উদাহরণ হলো:
- এ বনে বাঘের ভয় - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় - অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় - অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর - অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে - অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• ‘ঘর থেকে শুধু দুই পা ফেলিয়া।’- প্রদত্ত বাক্যকে 'কি থেকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ঘর থেকে’। সুতরাং 'ঘর থেকে' অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৪৩.
'সুখী হও।' বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. অনুরোধ
  2. উপদেশ
  3. প্রার্থনা
  4. সম্ভাবনা
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

​• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বোঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা। আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
উপদেশ - মানুষ হও।
প্রার্থনায় - সুখী হও।
অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৩৪৪.
‘সে’ এর প্রত্যক্ষরূপ কোনটি?
  1. এই
  2. ইহা
  3. এটা
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা।
- এ - সে।
- এটা - ওটা / সেটা।
- এখন - তখন।
- আগামীকাল - পরদিন।
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন।
- ওখানে - ঐখানে।
- গতকল্য - পূর্বদিন।
- এখানে - সেখানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৪৫.
'তাকে আসতে বললাম, তবু এলাে না- কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যোজক
ব্যাখ্যা
বিরােধ যােজক: এ ধরনের যােজক বাক্যের দুটি অংশের সংযােগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরােধ তৈরি করে।
যেমন -
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালাে করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

বিকল্প যােজক: এ ধরনের যােজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আননা।
- চা না-হয় কফি খান।

কারণ যোজক: এ ধরনের যােজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযােগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন -
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাপেক্ষ যােজক:এ ধরনের যােজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২,৩৪৬.
উক্তি পরিবর্তন করুন: শিক্ষক বললেন, "কাল তোমাদের ছুটি থাকবে।"
  1. শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
  2. শিক্ষক বললেন যে, পরদিন তোমাদের ছুটি থাকবে।
  3. শিক্ষক বললেন যে, পূর্বদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
  4. শিক্ষক বললেন যে, সেদিন আমাদের ছুটি থাকবে।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

• যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
• আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তির কালবাচক পদকে পরোক্ষ উক্তিতে অর্থ অনুসারী করতে হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "কাল তোমাদের ছুটি থাকবে।"
→ পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পরদিন আমাদের ছুটি থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৪৭.
'যেই তাঁর দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।'- কোন ধরনের বাক্য? 
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• 'যেই তাঁর দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।' - জটিল বাক্য।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- মিশ্র বা জটিল বাক্য যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা-

১. যে পরিশ্রম করে (আশ্রিত বাক্য), সে-ই সুখ লাভ করে (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
২. সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (আশ্রিত বাক্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৩৪৮.
কোনটি বাক্যের প্রধান অংশ নয়?
  1. ক) কর্তা
  2. খ) কারক
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ:
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৪৯.
সর্বপ্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার ঘটে কোন গ্রন্থে?
  1. শকুন্তলা
  2. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্নের প্রচলন:
- বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্ন প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক ও বলা হয়।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতা কোথাও যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না।
- শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৩৫০.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) স্ট্রিট
  2. খ) কিশমিশ
  3. গ) স্টেশন
  4. ঘ) ফটোষ্ট্যাট
ব্যাখ্যা
বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।

তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৫১.
বাংলায় কোন চিহ্নটিকে সংযোগ চিহ্ন বলা হয়?
  1. ইলেক চিহ্ন
  2. হাইফেন
  3. ড্যাস
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

• দুটো শব্দের সংযোগ বোঝাতে হাইফেন বসে।
যেমন:
- আমার মা-বাবা বেড়াতে গেছেন।
- পাপ-পুণ্য, ভালো-মন্দ বিবেক দিয়ে বুঝতে হয়।

• সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেন বসে।
যেমন:
- আমাদের প্রীতি-উপহার গ্রহণ করুন।
- তাদের মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক।

• একই ধরনের শব্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে হাইফেন বসে।
যেমন:
- বাংলাদেশ নদ-নদীর দেশ।
- ঢাকা-খুলনা-বরিশাল এ দেশের বড় শহর।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৩৫২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. নির্মুলীকরণ
  2. নির্মূলীকরণ
  3. নির্মূলীকরন
  4. নির্মলীকরণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'নির্মূলীকরণ'।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- 'নির্মূলীকরণ' শব্দের অর্থ:
- নির্মূলন,
- উন্মূলন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৫৩.
'শুধুমাত্র' শব্দে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি
  2. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি
  3. সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি
  4. প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ।
সুস্বাগত - স্বাগত। 
প্রয়োজনীয়তা - প্রয়োজন। 
সঠিক - ঠিক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩৫৪.
কোন যতিচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়?
  1. কোলন
  2. হাইফেন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলন চিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

অন্যদিকে,
থামার প্রয়োজন নেই - হাইফেন।
১ সেকেন্ড থামতে হয় - কোলন; দাঁড়ি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৩৫৫.
‘তা’ প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অধৈর্যতা
  2. একতা
  3. কৃপণতা
  4. অলসতা
ব্যাখ্যা
• ‘অধৈর্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: অধৈর্য, ধীরতা।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৫৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মুলো
  2. মুলা
  3. ধুলি
  4. ধূলো
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা ও বানান অভিধান অনুসারে,
• মুলা ও মুলো দুটি শব্দের বানানই শুদ্ধ।

- যেহেতু বানান দুটোই শুদ্ধ, তাই প্রমিত রীতি বিবেচনায় নিয়ে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর বিবেচনায় নিতে হবে।

• বাংলা প্রমিত রীতি অনুসারে সঠিক শব্দ - মুলা। মুলো শব্দটি বর্জনীয়।

প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির অনেকগুলো শব্দ বর্জনীয়।
যেমন- ধুলো, তুলো, মুলো, পুজো ইত্যাদি না লিখে ⎯ ধুলা, তুলা, মুলা, পূজা ইত্যাদি লিখতে হয়।

অর্থাৎ,
- ধুলা, তুলা, মুলা, পূজা - শব্দগুলো গ্রহণযোগ্য।
- ধুলো, তুলো, মুলো, পুজো - শব্দগুলো কথ্য রীতির হওয়ায় ব্যবহার বর্জনীয়।

অপশনের অন্যান্য শব্দ:
- ধুলি শব্দের সঠিক বানান - ধূলি।
- ধূলো বানানটি ভুল; সঠিক রূপ - ধুলো (তবে এই শব্দও প্রমিত রীতিতে বর্জনীয়)।

----------------------
প্রমিত রীতি:
বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়। এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়। এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে।
একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় 'প্রমিত রীতি'। এটি 'মান রীতি' নামেও পরিচিত।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
ক) প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেমন- 'করা' ক্রিয়ার রূপ: করছে, করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, করছিল, করেছিল, করব, করবে, করতে, করে, করলে, করার। সর্বনামের ক্ষেত্রে যেমন তারা, এদের, যা, তা, ও, কেউ ইত্যাদি। - অনুসর্গের ক্ষেত্রে যেমন থেকে, হতে, সঙ্গে ইত্যাদি।

খ) প্রমিত রীতিতে শব্দ ব্যবহার আলোচ্য বিষয়ের উপরে নির্ভরশীল।
প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন তৎসম 'বৎসর'-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব 'বছর'-ও লেখা যায়।
একইভাবে 'চন্দ্র'-ও লেখা যায়, 'চাঁদ'-ও লেখা যায়।

গ) প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।
যেমন 'ধুলো, তুলো, মুলো, পুজো, সবচে' ইত্যাদি না লিখে 'ধুলা, তুলা, মুলা, পূজা, সবচেয়ে' ইত্যাদি লিখতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৫৭.
‘দুধ থেকে দই হয়।’ বাক্যে ‘দুধ থেকে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত 'হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- দুধ থেকে দই হয়।
(কোথা থেকে পাই? উত্তর পাওয়া যায় ‘দুধ থেকে’। সুতরাং ‘দুধ থেকে’ অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।)

- গাছ থেকে ফল পাই।
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।

---------------------------
অন্যদিকে,
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৫৮.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
  2. আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
  3. আজকাল বিদ্যান মেয়ের অভাব নেই।
  4. আমার বড় দুরবস্থা। 
ব্যাখ্যা

• আমার বড় দুরবস্থা। বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
- শুদ্ধ: আমার আর বাঁচার সাধ নাই।

- অশুদ্ধ: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
- শুদ্ধ: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

- অশুদ্ধ: দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
- শুদ্ধ: দৈন্য/ দীনতা প্রশংসনীয় নয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৩৫৯.
মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক্ষুণ্ন
  2. অঘ্রাণ
  3. ঘর্ষণ
  4. কারণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: অঘ্রাণ।
• শুদ্ধ: অঘ্রান।
[অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।]

--------------------
• নিয়ম:
বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
• এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
• ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
• ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৬০.
লেখার সময় বিশ্রামের জন্য আমরা যে চিহ্নগুলো ব্যবহার করে থাকি সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক) বিশ্রাম চিহ্ন
  2. খ) বিরাম চিহ্ন
  3. গ) বিভাজন চিহ্ন
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 
- যতিচিহ্নকে বিরাম চিহ্ন বা বিরিতি চিহ্নও বলে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৬১.
করণ কারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) টাকায় টাকা হয়।
  2. খ) তার কথা যেন মধুতে মাখা
  3. গ) রফিক তাস খেলে।
  4. ঘ) গ্যাসে গাড়ি চলে।
ব্যাখ্যা
রফিক তাস খেলে।- বাক্যে করণ কারকে শূন্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে । 

করণ কারক
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
- আবার, এ, য়, তে বা সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটে। 

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
- তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. লক্ষ্যণীয়
  2. নিস্পৃহ
  3. সত্ত্বা
  4. মুমূক্ষু
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নিস্পৃহ' - শুদ্ধ বানান।

• 'নিস্পৃহ' শব্দের অর্থ:
- বাসনাহীন,
- নিরাকাঙ্ক্ষ,
- অনাসক্ত।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• লক্ষ্যণীয় - লক্ষণীয়,
• সত্ত্বা - সত্তা,
• মুমূক্ষু - মুমুক্ষু।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৬৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্থায়িত্ত
  2. স্থয়ীত্ব
  3. স্থায়িত্ব
  4. স্থায়ীত্ব
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - স্থায়িত্ব
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: স্থিতিশীলতা, স্থায়ী অবস্থা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৬৪.
'সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।' - বাক্যটির সরল রূপ কী হবে?
  1. সে মোটা ও তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা, তবে তার গায়ে শক্তি নেই।
  3. সে শারীরিকভাবে ভারী হলেও শক্তিহীন।
  4. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৬৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?  
  1. সুষুপ্ত
  2. অনুষঙ্গ
  3. প্রতিষেধক
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

এখানে, সবগুলো বানানই শুদ্ধ।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন,
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

২,৩৬৬.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ণ
  2. তীক্নদৃষ্টি
  3. তিরস্কার
  4. তিতীর্ষু
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: তীক্নদৃষ্টি।
• শুদ্ধ বানান: তীক্ষ্ণদৃষ্টি (বিশেষণ পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সতর্ক দৃষ্টিসম্পন্ন।

অন্যদিকে, শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
• শুদ্ধ বানান- অপরাহ্ণ,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় - [অপর+অহ্ণ]
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

• শুদ্ধ বানান: তিরস্কার (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

• শুদ্ধ বানান: তিতীর্ষু,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পার হতে উচ্ছুক, তরণেচ্ছু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৬৭.
'ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।' - এখানে 'ঘরেতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত -'এ', –'য়', -'য়ে', -তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি যাব।
- মন আমার নাচেরে আজিকে
- খিলিপান দিয়ে ঔষধটা খেয়ে নিও।
- ছাদ থেকে নদী দেখা যায়।
- ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে। অধিকরণে সপ্তমী।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৩৬৮.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. পরিস্কার
  2. পুরস্কার
  3. তিরস্কার
  4. সংস্কার
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: পরিস্কার।

• শুদ্ধরূপ- পরিষ্কার (বিশেষণ),
- সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = (পরি + √কৃ +অ));
অর্থ: পরিচ্ছন্ন, সরল, সহজবোধ্য, স্পষ্ট।

অপশনে উল্লিখিত পুরস্কার, তিরস্কার ও সংস্কার শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৬৯.
'তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল 
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৩৭০.
'বাঁশি বাজে ঐ দূরে।' যে বাচ্যের উদাহরণ-
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. যৌগিকবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ দূরে।

[এখানে কর্তা নেই। বাঁশি নিজেই কর্তার মতো বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বা বাজার কাজ সম্পন্ন করছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৭১.
‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ২য়া
  2. কর্মে ২য়া
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• ‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক। 
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
লোকমুখে শুনেছি।
তিলে তৈল হয়।
বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

• ‘সব ঝিনুকে মুক্তা পাওয়া যায় না’ - বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কি থেকে মুক্তা পাওয়া যায় না' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ঝিনুকে' (ঝিনুক থেকে)। তাই, 'ঝিনুকে' অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৭২.
সংশপ্তক শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) বর্ণনাতীত
  2. খ) আরক্ত
  3. গ) নির্ভীক
  4. ঘ) পরাভব
ব্যাখ্যা
সংশপ্তক (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সংসপ্ত+ক 
অর্থ:
- যুদ্ধে জয়লাভ বা মৃত্যু এমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সৈনিক।
- মহাভারতোক্ত শ্রীকৃষ্ণের নারায়ণী সেনা। 
- নির্ভীক। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
২,৩৭৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) এষণ
  2. খ) এরুপ
  3. গ) এক্ষণ
  4. ঘ) এজেন্সি
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান - এরুপ।
- এর শুদ্ধ বানান - এরূপ।
এরূপ ( বিশেষ্য, বিশেষণ, ক্রিয়া বিশেষণ, সর্বনাম)
- বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- এরকম
- এই প্রকার

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৩৭৪.
“সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়”- বাক্যে ‘সাধনায়’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- চেষ্টায় সব হয়।
- সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়।
[বাক্যটিকে কী উপায়ে সিদ্ধি লাভ হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সাধনায়’। সুতরাং ‘সাধনায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]


• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৭৫.
'বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।' কর্মবাচ্যে রূপান্তর করুন-
  1. সকলের আদরে বিদ্বান অভিভূত।
  2. সকলেই বিদ্বানকে আদর করে থাকে।
  3. বিদ্বানকে সবাই খুব আদর করেন।
  4. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে:
(১) কর্তায় তৃতীয়া (২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং (৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

কর্তৃবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
(গ) মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।

কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২,৩৭৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) আশক্তি
  2. খ) আষক্তি
  3. গ) আসক্তী
  4. ঘ) আসক্তি
ব্যাখ্যা
আসক্তি (বিশেষ্য) - গভীর অনুরাগ; লিপ্সা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
২,৩৭৭.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন।
  1. ক) অস্তমান
  2. খ) অস্তমাণ
  3. গ) অস্তায়মান
  4. ঘ) অস্তায়মাণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- অস্তায়মান 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [√অন্তায়্+মান (শানচ্)]
অর্থ: অস্তমিত হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৭৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সুত্র
  2. নির্মুল
  3. হরীতকী
  4. কৃপন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'হরীতকী' - শুদ্ধ বানান।

• 'হরীতকী' শব্দের অর্থ:
- গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জাত এবং বসন্তকালে ফোটে এমন সাদাটে উভলিঙ্গ ফুল ও ভেষজগুণসম্পন্ন জলপাইসদৃশ হলুদাভ কষায় ফল বা তাঁর ডিম্বাকৃতি পাতাবিশিষ্ট মাঝারি উচ্চতার পত্রমোচী উদ্ভিদ।

অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ বানান: 
• সুত্র - সূত্র,
• নির্মুল - নির্মূল, 
• কৃপন - কৃপণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৭৯.
শুদ্ধ শব্দটি চিহ্নিত করুন-
  1. ক) আলসতা
  2. খ) আলস্যতা
  3. গ) অলসতা
  4. ঘ) কোনটি
ব্যাখ্যা
সঠিক শব্দ = অলস/অলসতা

অনুরূপভাবে-
সুজন/সৌজন্য 
দীনতা/দৈন্য 
ঐক্য/একতা
কৃপণ/কার্পন্যতা
দরিদ্র/ দারিদ্রতা
মধুর/মধুরতা/মাধুর্য

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৩৮০.
কোনটি কর্তৃবাচ্য?
  1. তুমিই ঢাকা যাবে।
  2. তোমাদের কখন আসা হলো?
  3. আমার যাওয়া হবে না।
  4. এবার একটি গান করা হোক।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- তুমিই ঢাকা যাবে।
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য - তোমাদের কখন আসা হলো? আমার যাওয়া হবে না। এবার একটি গান করা হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৮১.
বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনের জন্য ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে প্রদান করা হয় -
  1. আমন্ত্রণপত্র
  2. নিমন্ত্রণপত্র
  3. মানপত্র
  4. স্মারক পত্র
ব্যাখ্যা
মানপত্ৰ: 
- কাউকে সংবর্ধনা দানের জন্যে প্রশংসাসূচক অভিনন্দন পত্র বা মানপত্র দেওয়া হয়।
- মানপত্রে ব্যক্তির গুণাবলী ও প্রশংসা স্থান পায়।
- দেশ-বিদেশ থেকে উচ্চতর সম্মান, আন্তর্জাতিক খ্যাতি অথবা নিজের এলাকায় বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনের জন্য উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে মানপত্র প্রদান করা হয়
- মানপত্র সংবর্ধনা সভায় পাঠ করা হয় এবং অভিনন্দিত ব্যক্তিকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৮২.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. ক) পার্বতীয়
  2. খ) সম্ভ্রান্তশালী
  3. গ) আবশ্যকতা
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা

আবশ্যকতা শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
আবশ্যকতা ((বিশেষ্য)) - প্রয়োজনীয়তা।
উদাহরণ - ইহার আবশ্যকতা নাই।

অন্যদিকে,
- পার্বতীয় শব্দটি বাক্যে প্রয়োগে ভুল হবে।
সঠিক ব্যবহারিক রূপ - পার্বত্য
- সম্ভ্রান্তশালী ও ভুল। এর সঠিক রূপ - সম্ভ্রান্ত

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান ও ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৩৮৩.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি সাক্ষী দিব না।
  2. একটা গোপন কথা বলি।
  3. এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
  4. ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

অশুদ্ধ বাক্য: একটা গোপন কথা বলি।
শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৮৪.
কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে কী যুক্ত হয়?
  1. পদ ও অনুসর্গ
  2. নির্দেশক ও বিভক্তি
  3. বিভক্তি ও অনুসর্গ
  4. উপসর্গ ও প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৩৮৫.
শব্দের সঠিক প্রয়োগ কোনটি?
  1. ক) বক্তব্য রাখা
  2. খ) ঘোষনা দেয়া
  3. গ) ফোন দেয়া
  4. ঘ) বক্তব্য পেশ করা
ব্যাখ্যা

বাক্যে শব্দের সঠিক প্রয়োগ গুলো নিম্নরূপ-
বক্তব্য পেশ করা
ঘোষনা করা
ফোন করা

উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ

২,৩৮৬.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. দোষ স্বীকার করলে তােমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না।
  2. তিনি বেড়াতে এসে কেনাকাটা করলেন।
  3. মহৎ মানুষ বলে সবাই তাঁকে সম্মান করেন।
  4. ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন যোজক যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

[প্রশ্নে উল্লিখিত অন্যান্য বাক্যগুলো - সরল বাক্য।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৮৭.
'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যটিতে 'জল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে শূন্য
  2. করণ কারকে শূন্য
  3. কর্তা কারকে শূন্য
  4. সম্প্রদান কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যে 'জল' শব্দটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (০ বিভক্তি),কারণ জল নিজেই ক্রিয়াটি (নামা) সম্পন্ন করছে এবং এর সাথে কোনো বিভক্তি চিহ্ন বা প্রত্যয় যুক্ত নেই।

• কর্তৃকারক
:
- বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। 
- যিনি কাজটি করেন তিনি হলেন কর্তা বা কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
• "মুক্তা রান্না করছে" - এখানে 'মুক্তা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
• "ছাত্রীরা মাঠে দৌড়াচ্ছে" - এখানে 'ছাত্রীরা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
- ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ: 
• "কে রান্না করছে?" → উত্তর: "মুক্তা"।
• "কারা মাঠে দৌড়াচ্ছে?" → উত্তর: "ছাত্রীরা"।

• শূন্য বিভক্তি:
- যে বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হলেও কোনো চিহ্ন বা প্রত্যয় (যেমন -কে, -র, -এ) যোগ হয় না, কিন্তু বাক্যে স্পষ্ট ভূমিকা পালন করে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
- সহজ কথায়, শব্দটি নিজেই কারক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।
- উদাহরণ:
• "আমি খেলছি" - 'আমি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি , কারণ কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি কর্তার কাজ করছে।
• "পাখি আকাশে উড়ছে" - 'পাখি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি, কারণ এটি কর্তার কাজ করছে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২,৩৮৮.
'পাদচ্ছেদ' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ কোনটি?
  1. ১ বলতে যে সময় লাগে
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• 'পাদচ্ছেদ' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ - ১ বলতে যে সময় লাগে

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৮৯.
'ধান থেকে চাল হয়' এই বাক্যে 'ধান' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

• বিভিন্ন অর্থে অপাদানের ব্যবহার:
- স্থানবাচক : তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন।
- দূরত্বজ্ঞাপক : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম দুশো কিলোমিটারেরও বেশি।
- নিক্ষেপ : বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।
- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই, ধান থেকে চাল হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৩৯০.
ব্যাকরণের কোন অংশে 'উক্তি' আলোচনা করা হয়?
  1. ক) বাক্যতত্ত্বে
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্বে
  3. গ) অর্থতত্ত্বে
  4. ঘ) রূপতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
'উক্তি' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)
২,৩৯১.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. মহত্ত্ব
  2. ইতিমধ্য
  3. প্রনয়ণ
  4. সংষ্করণ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 প্রমিত বানান- মহত্ত্ব।

অন্যদিকে,
 'ইতিমধ্য' এর শুদ্ধ রূপ- 'ইতিমধ্যে/ইতোমধ্যে'।
 'প্রনয়ণ' এর শুদ্ধ রূপ- 'প্রণয়ন'।
 'সংষ্করণ' এর শুদ্ধ রূপ- 'সংস্করণ'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৯২.
ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়। - এই বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বাহুল্যজনিত
  2. খ) সঠিক শব্দ প্রয়োগ জনিত
  3. গ) বাচ্যজনিত
  4. ঘ) বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত
ব্যাখ্যা

- ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়। - এই বাক্যে বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি আছে।
এই বাক্যের শুদ্ধ রূপ হবে - ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২,৩৯৩.
শুদ্ধ বানান নয় কোনটি?
  1. প্রতিপত্তি
  2. প্রতিচী
  3. প্রতিপক্ষীয়
  4. প্রতিচিত্র
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - প্রতিচী।
• বানানের শুদ্ধরূপ - প্রতীচী (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [প্রত্যচ্+ঈ],
অর্থ: পশ্চিম দিক, পশ্চিম দিকে অবস্থিত দেশসমূহ।

অন্যদিকে,
প্রতিপত্তি, প্রতিপক্ষীয় ও প্রতিচিত্র শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৩৯৪.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. দুর্ণীতি
  2. ত্রিনয়ণ
  3. অগ্রণায়ক
  4. অন্ত
ব্যাখ্যা

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। 
এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক

এছাড়াও
- ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন-
অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
- দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ), বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৩৯৫.
'লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয়।' এখানে 'লাঙল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে ৩য়া বিভক্তি
  2. করণ কারকে ৩য়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. কর্তৃ কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
'লাঙল দিয়ে জমি চাষ করা হয়।' এখানে 'লাঙল' করণ কারকে ৩য়া বিভক্তি।

: করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত তৃতীয়া বিভক্তি( 'দ্বারা', "দিয়ে, কর্তৃক) ইত্যাদি যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৩৯৬.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. তার দুচোখ অশ্রুজলে ভেসে গেল।
  2. এক মাঘে শীত যায় না।
  3. বুনো ওল, বাঘা তেতুল।
  4. তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
ব্যাখ্যা
‘তার দুচোখ অশ্রুজলে ভেসে গেল।’ বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ - ‘তার দুচোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।’
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
২,৩৯৭.
প্রথম অংশের ব্যাখ্যা বা উদাহরণ উপস্থাপন করতে কোন যতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. ড্যাশ
  2. সেমিকোলন 
  3. কোলন 
  4. কমা 
ব্যাখ্যা

প্রথম অংশের ব্যাখ্যা বা উদাহরণ উপস্থাপন করতে কোলন যতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

কোলন (:)
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। 

অন্যদিকে, 
ড্যাশ (-)
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন - বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।
- ঐ লোকটি - যিনি গতকাল এসেছিলেন তিনি আমার মামা।

কমা (,)
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- যেমন- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

সেমিকোলন (;)
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন - সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২,৩৯৮.
‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ বাক্যে ‘জল’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)

- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকার নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে 'কে'?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।

কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথম বা শূন্য বিভক্তি: 
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে ইত্যাদি।

• দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- আমাকে যেতে হবে।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি।

• তৃতীয় বিভক্তি: তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
• পঞ্চমী বিভক্তি: আমা হতে এ কাজ হবে না সাধন।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার যাওয়া উচিত।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- পাগলে কিনা বলে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।

• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ বাক্যে ‘জল’ কর্তা কারক। কারণ এখানে ‘জল’ পড়ার ক্রিয়া নিজেই সম্পাদন করছেন। সুতরাং জল কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৯৯.
নিচের কোনটি সঠিক বাক্য?
  1. অশ্রুজলে বুক ভেসে গেল।
  2. তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন।
  3. তুমি টাকাটি আত্মসাৎ করেছ।
  4. বিদ্যানকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধবাক্য- তুমি টাকাটি আত্মসাৎ করেছ।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ বাক্য= অশ্রুজলে বুক ভেসে গেল।
• শুদ্ধ বাক্য = অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।

• অশুদ্ধ বাক্য = তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন।
• শুদ্ধ বাক্য = তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিবেন।

• অশুদ্ধ বাক্য =বিদ্যানকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
• শুদ্ধ বাক্য = বিদ্বানকে সকলে শ্রদ্ধা করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪০০.
'বাজার শেষ করে বাড়ি' - বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. যোগ্যতা
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. আসত্তি
  4. মাধুর্য
ব্যাখ্যা
‘বাজার শেষ করে বাড়ি'— বাক্যটিতে আকাঙ্ক্ষার অভাব রয়েছে। বাজার শেষ করে বাড়ি যাব’ লেখা হলে বাক্যটি দ্বারা সম্পূর্ণ মনােভাব প্রকাশ পেত। যােগ্যতা- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যােগ্যতা হারায়। কারণ রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না। আসক্তি- ‘শেষ বাজার করে যাব বাড়ি’ লিখলে বাক্যের আসত্তি গুণ হারায়। তাই বাক্যের আসত্তি গুণ রক্ষা করতে লিখতে হবে- বাজার শেষ করে বাড়ি যাব।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর