ব্যাখ্যা
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো :
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।
আপনার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২২ / ৬৯ · ২,১০১–২,২০০ / ৬,৯৫৩
"এইসব প্রকাণ্ড গাছের ভিতরকার মানুষকেও যেন দেখতে পায়।" এই বাক্যে 'মানুষকেও' কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি।
এখানে,
- মানুষকেও' পদটিতে 'মানুষকে' হল পদের মূল অংশ, যার সাথে 'ও' অনুসর্গটি যুক্ত হয়েছে।
- এখানে 'মানুষকে' শব্দটি বাক্যের কর্মপদ, কারণ যাকে দেখা হচ্ছে সেই কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে 'মানুষকে' উদ্দেশ্য করে। তাই এটি কর্ম কারক।
- 'ও' একটি সংযোজক অনুসর্গ যা পদের সাথে যুক্ত হয়েছে।
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।
- কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে - কর্ম কারকে ৭মী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• শুদ্ধ বাক্য: সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ আমাদের একান্ত কাম্য।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নেই।
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
অভিপ্রায় বলতে মূলত ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা কে বোঝায়। 'পড়া শেষে খেলতে যাবো' - বাক্যটি দ্বারা অভিপ্রায় লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে।
যদি এমন বলা হতো, 'আমরা প্রতিদিন পড়া শেষে খেলতে যাই' - তাহলে অভ্যাস প্রকাশ পেত।
আবার যদি এমন বলা হতো, 'আমাদের পড়া শেষে খেলতেই হয়' - তখন আসক্তি প্রকাশ পেত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- 'অহংকার পতনের মূল।'(সহায়ক- অহংকার)।
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।'
[ এখানে ক্রিয়া সম্পাদনের উপায় সাধনা। সুতরাং সাধনায় করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]
করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়। তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে।
- করণ কারকে 'দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ)- তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে 'দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ)- তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি- রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ- বিভক্তি গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে- বিভক্তি তার কথা যেন মধুতে মাখা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসিনী।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষী নও।
শুদ্ধ বাক্য: তুমি নির্দোষ নও।
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।
অশুদ্ধ বাক্য: একটা গোপন কথা বলি।
শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বাক্যটি হচ্ছে- 'ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।'
অন্যান্য অপশন:
অশুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি স্বয়ংবরা।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি স্বয়ংবরা।
অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
অশুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহানগুণ।
শুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
- শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
- অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
- শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
- অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
- শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
- আমি অপমান হয়েছি, তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে, আসছে আগামীকাল কলেজ খুলবে। - ৩টি বাক্যই বাচ্যজনিত কারণে ভুল হয়েছে।
- বাচ্যজনিত ভুল-
- কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
- অশুদ্ধ বাক্য- আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ বাক্য- আমি অপমানিত হয়েছি।
- অশুদ্ধ বাক্য- তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য- তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
- অশুদ্ধ বাক্য- আসছে আগামীকাল কলেজ খুলবে।
শুদ্ধ বাক্য- আগামীকাল কলেজ খুলবে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• দাঁড়ি (।)
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
যেমন
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।
উল্লেখ্য,
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
• ক, খ, ঘ - বাক্যগুলোতে বানানজনিত ভুল রয়েছে।
সঠিক বানান হবে — স্নেহাশিস।
সুতরাং,
সঠিক বাক্য - গ) তাকে স্নেহাশিস দিও।
• ‘স্নেহাশিস’ শব্দটি অর্থ - স্নেহপূর্ণ আশীর্বাদ বা শুভকামনা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
অশুদ্ধ- আলাপচারীতা।
• শুদ্ধ রূপ- আলাপচারিতা।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
আলাপ-আলোচনা, কথোপকথন।
অন্যদিকে,
• আলাপচারী, আলাপনীয় ও আলাপিত বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে
• শুদ্ধ বানান - চর্ব্যচূষ্য।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- চিবিয়ে বা চুষে খেতে হয় এমন,
- বিবিধ সুস্বাদু খাদ্যবস্তু।
অন্যদিকে,
উচ্ছাস – উচ্ছ্বাস।
কিনাঙ্ক – কিণাঙ্ক।
গন্যমান্য – গণ্যমান্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান: পালং।
- এটি অর্ধ-তৎসম শব্দ।
-----------------
• বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।
- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন :
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।
- ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
শুদ্ধ বানান: নিষ্প্রভ।
অর্থ: প্রভাহীন, অনুজ্জ্বল।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
- পুরস্কার,
- নিস্পন্দ,
- নিস্তব্ধ।
-------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।
• অন্যদিকে,
ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
(স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা
• উপরিউক্ত সবগুলো বাক্য শুদ্ধ।
শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বানান - বিশ্রূতী।
- এর শুদ্ধ বানান - বিশ্রুতি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
-খ্যাতি।
অন্যদিকে,
- রৌদ্রকরোজ্জ্বল,
- কিংকর্তব্যবিমূঢ়,
- প্রতিদ্বন্দ্বী,
উপরিউক্ত শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
ব্যতিহার কর্তা:
- কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- সেয়ানে সেয়ানে লড়াই।
- রাজায়-রাজায় লড়াই।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণী।
ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়। (ভাবাধিকরণে ৭মী)।
অন্যদিকে,
আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়। যেমন: তিলে তৈল আছে। ছেলেটি অঙ্কে কাচা। নদীতে পানি আছে।
এটি তিন ভাগে বিভক্ত। যথা : - ১. ঐকদেশিক, ২. অভিব্যাপক এবং ৩. বৈষয়িক।
কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।
উদাহরণ-
ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্টু ছিলাম।
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'অন্যান্য বিষয়গুলোর ক্লাস পরে হবে।' - বাক্যটি 'বহুবচনজনিত' কারণে অশুদ্ধ।
বাক্যটির শুদ্ধ প্রয়োগ - অন্য বিষয়গুলোর ক্লাস পরে হবে।
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
কর্মকারকের প্রকারভেদ:
ক) সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: নাসিমা ফুল তুলছে।
খ) প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।
গ) সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি। [বাক্যে ঘুম কে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করেছে। সুতরাং 'ঘুম ' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।]
ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি পরস্পর অপেক্ষিত কর্মপদ থাকলে প্রধান কর্মটিকে বলা হয় উদ্দেশ্য কর্ম এবং অপেক্ষিত কর্মটিকে বলা হয় বিধেয় কর্ম। যেমন- দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• কমা (,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
অন্যদিকে,
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও বিস্ময় চিহ্ন পূর্ণ যতিচিহ্ন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• "কোথাও আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা।" - এ বাক্যে 'আমার' কর্তা কারক। এখানে ক্রিয়াকে (কে হারাবে?)দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- আমার।
---------------
• কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
যেমন -
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।
- কোথাও আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা।
- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- কর্তব্য নিরূপণে অক্ষম।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী কতিপয় শুদ্ধ বানান হলো-
• শিরশ্ছেদ,
• তিতিক্ষা,
• সংশপ্তক,
• সমীচীন (সংগত, উপযুক্ত, উত্তম),
• মুহুর্মুহু,
• মনীষী,
• শুশ্রূষা,
• ত্রিভুজ,
• পাষাণ,
• মরীচিকা,
• মুমূর্ষু,
• কৃষিজীবী,
• বিকিরণ,
• দধীচি,
• মন্ত্রিসভা,
• মন্ত্রিপরিষদ,
• নিশীথিনী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
'Practice makes a man perfect' এর সঠিক বঙ্গানুবাদ - গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
অন্যদিকে,
- To get rid of one who has served the purpose এর সঠিক বঙ্গানুবাদ - কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
- Diligence is the mother of good luck. এর সঠিক বঙ্গানুবাদ- পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
- Habit is second nature এর বাংলা অনুবাদ: অভ্যাসই স্বভাবে দাঁড়ায়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• শুদ্ধ বানান- আনুকূল্য।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- [অনুকূল + য]
অর্থ:
- পোষকতা; সহায়তা, সাহায্য।
- দাক্ষিণ্য; অনুগ্রহ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - প্রোজ্জল।
- শুদ্ধ বানান: 'প্রোজ্জ্বল'।
• 'প্রোজ্জ্বল' শব্দের অর্থ:
- বিশেষভাবে উজ্জ্বল।
অন্যদিকে,
- কৌতূহল, স্বায়ত্তশাসন এবং মন্ত্রিসভা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান- অদ্ভূত।
- শুদ্ধ রূপ- অদ্ভুত।
• বানানের নিয়ম:
অদ্ভুত শব্দটি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ভূত বানানে ঊ-কার হবে।
যেমন:
- ভূতুড়ে,
- উদ্ভূত,
- ভূতপূর্ব,
- পুঞ্জীভূত,
- ঘনীভূত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - মন্ত্রিপরিষদ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য গঠিত সভা, cabinet।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
ড্যাশ (-):
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে – বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।
- ঐ লোকটি – যিনি গতকাল এসেছিলেন – তিনি আমার মামা।
অন্যদিকে,
কোলন (:) - বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।কমা: - কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
দাঁড়ি - দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- এবার বাঁশিটি বাজাও।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• সঠিক উত্তর কোনোটিই নয়।
• শুদ্ধ বানান - অভিভূত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে আগে বসবে - জনচক্ষু শব্দটি।
• জনচক্ষু (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সূর্য, লোকচক্ষু।
অন্যান্য অপশন গুলোর ক্ষেত্রে বর্ণের ক্রম অনুসারে অভিধানে আগে বসবে-
• জনতন্ত্র (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন-ব্যবস্থা, গণতন্ত্র।
• জনতা (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: সাধারণ মানুষ, জনসাধারণ, অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।
• জননী (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মাতা, মা, আম্মা, জন্মদাত্রী, গর্ভধারিণী।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - ভদ্রোচিত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- ভদ্রলোকের পক্ষে শোভনীয়,
- ভদ্রজনোচিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - গড্ডলীকা।
- শুদ্ধ বানান - গড্ডলিকা।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
-অগ্রবর্তী ভেড়াকে অনুসরণকারী ভেড়ার পাল।
অন্যদিকে,
- কিংকর্তব্যবিমূঢ়,
- জিগীষা,
- অশরীরী।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।