ব্যাখ্যা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- অস্তমিত হচ্ছে এমন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২১ / ৬৯ · ২,০০১–২,১০০ / ৬,৯৫৩
বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭প্রকার।
যথা:
প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
'লোকমুখে তোমার বিয়ের কথা শুনেছি।' এখানে 'লোকমুখে' অপাদান কারক ৭মী বিভক্তি।
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
→ জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
→ বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'
(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।
(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
→ লোকমুখে শুনেছি।
→ তিলে তৈল হয়।
→ বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'যার গুন আছে, সে বিনয়ী হয়'-এটি একটি জটিল বাক্য।
বাক্যের বিশ্লেষণ:
সাধারণ রূপে বাক্যটি দুটি অংশে বিভক্ত-
যার গুন আছে → শর্তসূচক অংশ (subordinate clause)।
সে বিনয়ী হয় → মূল বাক্য (main clause)।
• যেহেতু এখানে প্রধান বাক্য এবং উপবাক্য একত্রে আছে, তাই এটি জটিল বাক্য (Complex Sentence)।
উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।
----------------
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সালের সংস্করণ)।
শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিন্দু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ
তিনি পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেছেন।
রাজু এবার এস.এস.সি পাস করেছে।
উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
• অশুদ্ধ বানান - পীড়াপিড়ী।
- শব্দটির শুদ্ধ বানান - পীড়াপীড়ি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- বারবার অনুরোধ উপরোধ বা চাপ প্রয়োগ।
অন্যদিকে,
- বাষ্পীয়, সময়োপযোগী এবং জিগীষা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
• বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।
- 'ঘোড়া মাংস খায়।' - বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ, এখানে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
- "ঘোড়া মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ - ঘোড়া সাধারণত মাংস খায় না ।
• শুদ্ধ বাক্য হবে: ঘোড়া ঘাস খায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
- অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- আহারে রুচি নেই।
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- পড়ুয়ারা ক্লাসে পড়ে।
[এখানে 'কোন স্থানে পড়ে?', প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ক্লাসে'। তাই 'ক্লাসে' অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান - দুস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ: - বিদুষী, নির্বাণ, নিরুপম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
'সন্ন্যাসী' বানানটি শুদ্ধ।
আরো কতিপয় শুদ্ধ বানান :
- শুশ্রূষা,
- মুহুর্মুহু,
- মুমূর্ষু,
- রামায়ণ,
- সার্থকতা,
- শিরশ্ছেদ,
[উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ]
• 'সকল প্রার্থীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন' বাক্যটি 'বাহুল্য দোষে' দুষ্ট।
বাহুল্য দোষ:
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
- বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
- দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
- তাই অগণিত, অনেক, যাবতীয়, সব ইত্যাদি শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে বুহুবচন হবেনা।
- বাক্যটি হবে- প্রার্থীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ষ-ত্ব বিধান মতে :
- ঋ-কারের পর সাধারণত মূর্ধন্য হয়। যেমন - ঋশভ, কৃষি, ঋষি, তৃষনা, কিন্তু বুতিক্রম অস্পৃশ্য দৃশ্য, কৃশ,।
- আগে অ আ ছাড়া অন্য স্বর (অর্থাৎ ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ও) থাকলে অপরের ‘স’ ‘ষ’ হবে। যেমন- শিষ্য, ঊষা, বিষম, দোষ, শ্রীচরণেষু, চতুশপদ, পরিষ্কার ইত্যাদি।
- ফ- এর সঙ্গে যুক্ত স অপরবর্তত থাকবে। যেমন- পরিস্ফুট, বিস্ফোরণ, বিস্ফুরিত ইত্যাদি। ্কিন্তু নিষ্ফলা, দুষ্ফলা।
উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ
• “সত্যকে শিকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বচন (number) সংক্রান্ত।
বানানের ভুল:
বাক্যে “শিকার” লেখা হয়েছে, যা ভুল।এখানের বাক্যের ভাব ও অর্থ অনুসারে, বাংলা বানানের প্রমিত রূপে সঠিক শব্দটি হলো “স্বীকার”।
বচনের ভুল:
বাক্যে “অনেক ব্যক্তিরাই” ব্যবহৃত হয়েছে, যা বচনের দিক থেকে ভুল।
"অনেক" শব্দটি ইতিমধ্যে বহুবচন বোঝায়। তাই আবার "রা" (বহুবচন চিহ্ন) যোগ করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে "ই" (বলক) যোগ করলে হবে: অনেক ব্যক্তিই। অথবা "অনেক" ছাড়া হবে: ব্যক্তিরাই।
বাক্যটির সঠিক রূপ হবে: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিই চায় না।”
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
একটি শব্দ একাধিক অর্থে একবার মাত্র ব্যবহারের ফলে যে অলংকারের সৃষ্টি হয় তাকে শ্লেষ বলে। শ্লেষ শব্দের অর্থ শ্লিষ্ট-মিলিত।
যেমন :
আছিলাম একাকিনী বসিয়া কাননে
আনিলা তোমার স্বামী বান্ধি নিজ গুণে। (মুকুন্দরাম চক্রবর্তী)
এখানে গুণ শব্দ দ্বারা শ্লেষ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে গুণ বলতে ধনুকে ছিলায় আর সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা গুণ বোঝানো হয়েছে।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রভায়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান।
চোষ্য - চূষ্য।
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান।
দুরাবস্থা - দুরবস্থা।
দোষণীয় - দূষণীয়।
নির্গুণিতা - নির্গুণতা।
নির্দোষতা - নির্দোষিতা।
পরিত্যজ্য - পরিত্যাজ্য।
পুজ্যনীয় - পূজনীয়।
পুজ্য - পূজ্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যা থেকে কিছু বিচ্যূত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- দুধ থেকে দই হয়।
- পাপে বিরত হও।
প্রশ্নোল্লেখিত বাক্যে রেখাঙ্কিত অংশটি হলো অপাদান কারক।
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)।
শুদ্ধ বানান- চাকুরিজীবী।
- এখানে 'চাকুরি' ফারসি শব্দ এবং 'জীবী' সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
- “অমি ব্যাট দিয়ে ক্রিকেট খেলে।” - বাক্যটিতে ‘ব্যাট দিয়ে’ করণ কারক নির্দেশ করে।
• করণ কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে যে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) সম্পর্ক থাকে, তাকে কারক বলে।
- কারক দেখায় যে, কে কাজটি করছে, ক্রিয়াটি কার ওপরে ঘটছে, কোথায় বা কীভাবে ঘটছে ইত্যাদি।
- যেই পদ দিয়ে বোঝায় যে কাজটি কোন যন্ত্র, উপকরণ বা উপায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে সেই পদই হলো করণ কারক।
- বাক্যে ক্রিয়াপদকে যদি ‘কী দিয়ে’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করা হয়, তবে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই করণ কারক।
- যেমন:
• রহিম চাবি দিয়ে তালা খুলল (কী দিয়ে খুলল? → চাবি দিয়ে)।
• সে লাঠির দ্বারা দরজাটি ভাঙল (কী দ্বারা ভাঙল? → লাঠির দ্বারা)।
-------------------------------------
• অমি ব্যাট দিয়ে ক্রিকেট খেলে।
- অমি → কর্তৃকারক (ক্রিয়ার সম্পাদক/যে কাজটি করে);
- ব্যাট দিয়ে → করণ কারক (কী দিয়ে কাজটি সম্পাদিত হচ্ছে);
- ক্রিকেট → কর্মকারক (ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু)।
আবার,
- “কী দিয়ে খেলে?” → ব্যাট দিয়ে ⇒ করণ কারক।
- এখানে খেলার কাজটি ব্যাট দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, তাই এটি করণ কারক।
----------------------------------
অন্যদিকে,
- কর্তৃকারক – কাজটি যে করে তাকে বোঝায় (এখানে অমি)।
- কর্মকারক – কাজটি যার উপর হয় তাকে বোঝায় (এখানে ক্রিকেট)।
- অধিকরণ কারক – কাজটি কোথায় বা কখন হয় তা বোঝায়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।
The devil would not listen to the scripture এর বাংলা অনুবাদ: চোর না শুনে ধর্মের কাহিনি।
অন্যদিকে,
- Empty vessels sound much এর বাংলা অনুবাদ: অসারের তর্জন গর্জনই সার।
- Virtue proclaims itself এর বাংলা অনুবাদ: ধর্মের ঢাক আপনি বাজে।
- Beat about the bush এর বাংলা অনুবাদ: অন্ধকারে ঢিল মারা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
- শুদ্ধ বানান - অভ্যন্তরীণ।
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দের অর্থ:
মধ্যবর্তী, অভ্যন্তরে আছে এমন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন করণ কারকে ৩য়া বিভক্তি।
• করণ কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে যে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) সম্পর্ক থাকে, তাকে কারক বলে।
- কারক দেখায় যে, কে কাজটি করছে, ক্রিয়াটি কার ওপরে ঘটছে, কোথায় বা কীভাবে ঘটছে ইত্যাদি।
- যেই পদ দিয়ে বোঝায় যে কাজটি কোন যন্ত্র, উপকরণ বা উপায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে সেই পদই হলো করণ কারক।
- বাক্যে ক্রিয়াপদকে যদি ‘কী দিয়ে’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করা হয়, তবে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই করণ কারক।
- যেমন:
“মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন”- এই বাক্যটিতে যদি প্রশ্ন করা হয় কিভাবে বিদ্যা অর্জন কর তাহলে প্রশ্ন আসবে মন দিয়া।
- তাই বাক্যটিতে 'মন দিয়া' করণ কারক।
- তাছাড়া, এখানে ‘মন’ শব্দটি বিদ্যা অর্জনের উপায় বা সহায়ক বোঝাচ্ছে।
- অন্যদিকে, ‘দিয়া’ (দিয়ে) অনুসর্গটি ৩য় বিভক্তি অর্থাৎ ‘দ্বারা/কর্তৃক’ নির্দেশ করছে।
- তাই, “মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন” বাক্যে ‘মন দিয়া’ পদটি করণ কারকে অর্থে ৩য় বিভক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।
• স্থ-এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- বিধ্বস্থ শব্দে।
- শুদ্ধ বানান- বিধ্বস্ত।
• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:
স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।
উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।
• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।
উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - মনঃকষ্ট।
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- মনের দুঃখ, মনোবেদনা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
- দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
অন্যদিকে,
বিবৃতিমূলক বাক্য - তারা তোমাদের ভোলেনি।
প্রশ্নবোধক বাক্য - সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগসূচক বাক্য - কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
"কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।" - একটি সরল বাক্য।
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
এই বাক্যের জটিল রূপ:
যেহেতু কোথায় কোনো পথ পাই নি তাই তোমার কাছে এসেছি।
এই বাক্যের যৌগিক রূপ:
কোথায় কোনো পথ পাই নি, তাই তোমার কাছে এসেছি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
‘পলায়ণ’- বানানটি অশুদ্ধ।
• দক্ষিণায়ন, রামায়ণ, পরায়ণ, ণ হলেও ণত্ব বিধি অনুযায়ী পলায়ন বানানে ‘ন’ হবে ।
উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।