ব্যাখ্যা
সঠিক উচ্চারণ = মোনিশা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [মনস্+ঈষা]
অর্থ: প্রজ্ঞা, প্রতিভা, তীক্ষ্ণধী।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৮ / ৬৯ · ১,৭০১–১,৮০০ / ৬,৯৫৩
• 'নিরভিমান' - শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - দুরাদৃষ্ট।
- 'দুরাদৃষ্ট' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - দুরদৃষ্ট।
অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- তরুছায়া,
- বিপদুদ্ধার।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
শুদ্ধ বাক্যটি হলো - সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
অপশনের বাকি বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো -
ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী। => ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই। => আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
ইহার আবশ্যক নাই। => ইহার আবশ্যকতা নাই।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে। রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমনঃ
- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে৷
- যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো: দাঁড়ি (1), কমা (,), সেমিকোলন (:), প্রশ্নচিহ্ন (?), বিস্ময়চিহ্ন (!), হাইফেন (-), ড্যাশ (−), কোলন (:), বিন্দু (.), ত্রিবিন্দু (...), উদ্ধারচিহ্ন ('-',"-"), বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]), বিকল্পচিহ্ন (/)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২৪)।
সঠিক বানান:
- অগ্ন্যাশয়, অগ্ন্যুৎপাত
- দারিদ্র, তিতিক্ষা
- দুরতিক্রম্য, হীনম্মন্যতা
- সূচ্যগ্র, সামর্থ্য
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
বাক্য গঠনের নিয়ম:
- বাংলা বাক্যে শব্দের অবস্থান সাধারণত কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া (SOV: Subject-Object-Verb) পদবিন্যাস অনুসারে হয়।
- এটি বাংলা ভাষার বাক্য গঠনের মূল বৈশিষ্ট্য।
• উদাহরণস্বরূপ:
- “রানা (কর্তা) বই (কর্ম) পড়ে (ক্রিয়া)।” এই পদবিন্যাস বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে এবং ব্যাকরণগতভাবে বাক্যটি সঠিক হতে সাহায্য করে।
- বাংলায় শব্দের অবস্থান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে, যেখানে কর্তা সাধারণত বাক্যের শুরুতে, কর্ম (যদি থাকে) মাঝে এবং ক্রিয়া শেষে থাকে।
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
খ) অর্থ ও ভাব অনুযায়ী:
যদিও বাক্যের অর্থ ও ভাব শব্দ নির্বাচন ও বিন্যাসে প্রভাব ফেলে, তবু শব্দের অবস্থান প্রাথমিকভাবে ব্যাকরণগত পদবিন্যাস (কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, অর্থ বা ভাব দ্বারা নয়।
গ) বর্গ বা গুচ্ছ আকারে:
বাংলা বাক্যে শব্দগুচ্ছ (যেমন: বিশেষণ-বিশেষ্য) থাকতে পারে, কিন্তু শব্দের অবস্থান সরাসরি বর্গ বা গুচ্ছের উপর নির্ভর করে না; বরং পদবিন্যাসের নিয়ম এটি নির্ধারণ করে।
ঘ) স্বাধীন পদের পরিচয় নিয়ে:
শব্দের স্বাধীন পদের পরিচয় (যেমন: বিশেষ্য, ক্রিয়া) বাক্যে তাদের ভূমিকা নির্ধারণে সাহায্য করে, কিন্তু অবস্থান নির্ধারিত হয় বাক্যের পদবিন্যাসের নিয়ম অনুসারে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক ব্যাকরণ- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
শুদ্ধ বাক্য: দারিদ্র্য বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশা ও সুহাসি।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।
অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি দারুণ সুবুদ্ধিমতী।
শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি দারুণ বুদ্ধিমতী।
অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই।
শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মহিলার অভাব নেই।
উৎস: ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ এবং উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমন: অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।
যেমন- পোশাক, মাস্টার।
• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
• 'ঐশ্বরীক' - শব্দটি অন্যটি থেকে ভিন্ন। কারণ 'ঐশ্বরীক' শব্দটির বানান অশুদ্ধ, বাকি শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
- তাই সঠিক উত্তর - ঐশ্বরীক।
• 'ঐশ্বরীক' শব্দের শুদ্ধ বানান - ঐশ্বরিক।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- ঈশ্বরের (ঐশ্বরিক শক্তি), ঈশ্বরসম্বন্ধীয়।
অন্যদিকে,
- নিমীলিত, মহীয়সী এবং ব্যুৎপত্তি - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'প্রয়োজনীয়তা' সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এই শব্দের শুদ্ধরূপ - প্রয়োজন।
অন্যদিকে,
- আয়ত্ত,
- অধীন,
- কদাপি।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাক্য:
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।
• যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন -
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
- এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু
- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' - বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
যথা:
মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য: আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।
মিশ্র বাক্য: যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।
সরল বাক্য: সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।
(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
→ তিলে তৈল হয়।
→ বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
ক্রিকেট কোনো উপকরণ বা যন্ত্রের নাম নয়, একটি খেলার নাম। তাই এটি কর্ম কারক।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
• অশুদ্ধ বাক্য: আলস্যতা তাকে পড়াশোনায় পিছিয়ে দিয়েছে।
- বাক্যটিতে ‘তা’ প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: আলস্য তাকে পড়াশোনায় পিছিয়ে দিয়েছে।
----------------------------
• ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় ব্যবহারের নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।
এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।
যেমন- পোশাক, মাস্টার।
• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তাকারক।
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তাকারক।
যেমন-
মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা- কর্তাকারক)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরন, নবম-দশম শ্রেণি।
- অহোরাত্র, কুসংস্কার ও অর্ধাঙ্গি শব্দগুলোতে অপ-প্রয়োগ ঘটেনি।
- ইতিমধ্যে শব্দটির সঠিক প্রয়োগ হবে ইতোমধ্যে।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা ও নির্মিতি, হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান - হরীতকী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জাত এবং বসন্তকালে ফোটে এমন সাদাটে উভলিঙ্গ ফুল ও ভেষজগুণসম্পন্ন জলপাইসদৃশ হলুদাভ কষায় ফল বা তার ডিম্বাকৃতি পাতাবিশিষ্ট মাঝারি উচ্চতার পত্রমোচী বৃক্ষ (আনি. মধ্য এশিয়া)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• উপাচার - বানানটি অশুদ্ধ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সঠিক বানানটি হবে - 'উপচার' ।
'উপচার' শব্দের অর্থ:
- উপকরণ।
অন্যদিকে,
অগ্রগণ্য, স্নেহাস্পদ, স্বত্ব - বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি-
• 'রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।'- বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ব্যাকরণে’। এখানে ‘ব্যাকরণে’ রাকিবের ভালো হওয়ার বিষয় বা ক্ষেত্র নির্দেশ করছে, তাই এটি অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান- চিকীর্ষিত।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- অভিপ্রায়যুক্ত, অভিপ্রেত, অভিলষিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
প্রশ্নের অংশটি অপাদানে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমনঃ
বাবাকে বড্ড ভয় পাই,
ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে,
গাছ হতে ফলটি পড়ল।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই
'সংস্রব' বানানটি শুদ্ধ।
অর্থঃ সম্পর্ক; সম্বন্ধ; ছোঁয়াচ (নেতাদের সংস্রব)।
প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
শিল্পোদ্যোক্তা
মূর্ছনা
মনঃকষ্ট
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষ্যা, ড. হায়াৎ মামুদ।
- ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী 'উল্লেখিত' শব্দ হতে পারে না। অভিধানে এই শব্দ খুঁজে পাওয়া যাবে না। শব্দটি তৈরি হয়েছে এভাবে: উৎ + লিখিত = উল্লিখিত। উৎ মানে - উপরে বা আগে। আর লিখিত মানে যা লেখা হয়েছে এমন। তাঁর মানে উল্লেখিত শব্দের অর্থ দাঁড়ালো 'উপরে লিখিত' বা 'পূর্বে লিখিত'। তাঁর মানে 'উপরে উল্লেখিত, 'উপরোল্লিখিত' বা 'পূর্বোল্লিখিত' ভুল ব্যবহার।
- পরিপ্রেক্ষিত বোঝাবার জন্য 'প্রেক্ষিত' শব্দটি অনেকদিন যাবত ভুলভাবেই সবাই ব্যবহার করছে। 'প্রেক্ষিত' শব্দটি এসেছে 'প্রেক্ষণ' শব্দ থেকে।
- প্রেক্ষণ বিশেষ্য পদ অর্থ দৃষ্টি। এ থেকে তৈরি হয়েছে বিশেষণ পদ 'প্রেক্ষিত' অর্থ দর্শিত বা যা দেখা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
যেকোন সার্থক বাক্যের গুণ তিনটি।
আকাঙ্খা
আসত্তি
যোগ্যতা
- বাক্যের অর্থ প[অরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ জাগে তাকে আকাঙ্খা বলে।
- বাক্যের ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থ সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খল্ভাবে পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদ গুলোর মাঝে অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন এর নামই যোগ্যতা।
- 'প্রিয় বাল্য হতেই কাব্য তিনি' বাক্যটিতে আসত্তি লোপ পেয়েছে। যদি বাক্যটি 'বাল্য হতেই তিনি কাব্য প্রিয়' হলে বাক্যটি সার্থক হয়।
- 'এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।' বাক্যের শুদ্ধ রূপ 'এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।'
- 'তপ্ত ভাতে নুন জুটে না ঠাণ্ডা ভাতে ঘি।' বক্যের শুদ্ধ রূপ 'তপ্ত ভাতে নুন জুটে না পান্তা ভাতে ঘি।'
- 'বুনো ওল, বাঘা তেতুল।' বাক্যটি শুদ্ধ।
উৎস:এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
জীবন্মৃত [জিবন্মৃতো] (বিশেষণ) {(তৎসম বা সংস্কৃত) জীবৎ+ মৃত; (কর্মধারয় সমাস)}
১ জীবিত থেকেও মৃতের ন্যায় অচল-অক্ষম; জীয়ন্তে মরা।
২ নির্জীব; মনমরা।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মানসিকতা' - শুদ্ধ বানান।
অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
উজ্জ্বীবিত - উজ্জীবিত;
অধ্যায়ন - অধ্যয়ন;
ভাষ্কর - ভাস্কর।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।