বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৩ / ৬৯ · ১,২০১১,৩০০ / ৬,৯৫৩

১,২০১.
নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে -
  1. ক) সুচরিতেষু
  2. খ) শ্রদ্ধাস্পদেষু
  3. গ) শ্রদ্ধাভাজনাসু
  4. ঘ) প্রীতিভাজন
ব্যাখ্যা
পত্রের শুরুতে নারীকে লিখিত কয়েকটি সম্বোধন:
- শ্রদ্ধাভাজনাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়াসু ইত্যাদি

স্নেহভাজন পুরুষ ও বন্ধুদের সম্বোধন:
- সুচরিতেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, প্রীতিভাজন, স্নেহার্দ্র, স্নেহাশিস - ইত্যাদি

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২০২.
‘কপর্দকহীন’ অর্থ-
  1. ক) বোকা
  2. খ) নিঃস্ব
  3. গ) অসহায়
  4. ঘ) মলিন
ব্যাখ্যা
• ‘কপর্দকহীন’
- অর্থ:  নিঃস/নিঃসম্বল
- প্রকৃতি প্রত্যয় = কপর্দক+হীন

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২০৩.
'ধোপাকে কাপড় দাও'- এখানে ‘ধোপাকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্প্রদানে দ্বিতীয়া
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে দ্বিতীয়া
  4. কর্মে চতুর্থী
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- কর্তা যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কর্মকারক বলে।
- যেমন:
- ধোপাকে কাপড় দাও। (কর্মে দ্বিতীয়া)।
- যেহেতু এখানে স্বত্বত্যাগ করে দেওয়া হয়নি তাই এটি কর্মকারক।

- কিন্তু স্বত্বত্যাগ করে দেওয়া বোঝালে সম্প্রদান কারক হবে।
- যেমন:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
২) উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ৩৬।
১,২০৪.
কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
  1. পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
  2. তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
  3. তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
  4. তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

অন্যদিকে,
সরল বাক্য - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিক বাক্য - তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২০৫.
'অযথা সময় নষ্ট করো না' এটা কি ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন -
- আদেশ : এখান থেকে বিদায় হও।
- অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
- উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করো না।
- নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করো না। 

অন্যদিকে,
• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।যেমন-
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।যেমন -
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।যেমন-
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২০৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মহত্ব
  2. মাহাত্ম্য
  3. মহাত্মা
  4. মর্মস্পর্শী
ব্যাখ্যা
• 'মহত্ব'- বানানটি অশুদ্ধ।  
সঠিক বানান- 'মহত্ত্ব'।

 • 'মহত্ত্ব' শব্দের অর্থ- উদারতা, প্রকর্ষ। 

অন্যদিকে, 
মহাত্মা- অতি মহৎ। 
মাহাত্ম্য - মহানুভবতা, মহিমা, গৌরব। 
মর্মস্পর্শী - মর্মকে স্পর্শ বা আকুল করে এমন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১,২০৭.
‘চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।’ কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে। 
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২০৮.
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তখন তাকে কী বাক্য বলে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

যেমন
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

উল্লেখ্য,
- এবং, ও, আর, অথবা, বা,কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (,), সেমিকোলন (:), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,২০৯.
'পারুল বনের চম্পারে মোর হয় না জানা।' - বাক্যে 'চম্পারে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।

→ কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
- পারুল বনের চম্পারে মোর হয় না জানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১০.
'Money begets Money' এর বঙ্গানুবাদ কী হবে?
  1. টাকায় মানুষেরে চরিত্র নষ্ট হয়।
  2. টাকা মানুষকে অহংকারী করে তোলে।
  3. টাকায় টাকা হয়।
  4. টাকা মানুষকে বিনয়ী করে।
ব্যাখ্যা
• 'Money begets Money' এর বঙ্গানুবাদ -'টাকায় টাকা হয়'।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদ:
- Too many cooks spoil the broth – অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।
- Haste makes waste – তাড়াহুড়ো ক্ষতি আনে।
- Curiosity killed the cat – অতিরিক্ত কৌতূহল বিপদ ডেকে আনে।
- Variety is the spice of life – বৈচিত্রই জীবনের আনন্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২১১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্থানু
  2. কুর্ণিশ
  3. দুরবিন
  4. অশরিরী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান- দুরবিন।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: অশরিরী।
- শুদ্ধ: অশরীরী।

- অশুদ্ধ: কুর্ণিশ।
- শুদ্ধ: কুর্নিশ।

- অশুদ্ধ: স্থানু।
- শুদ্ধ: স্থাণু।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২১২.
'পাছে লােকে কিছু বলে' - বাক্যে 'পাছে লোকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  2. খ) কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তর
  3. গ) কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি
  4. ঘ) কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 

- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৩.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. বীমোহিত
  2. বিমহিতো
  3. বিমোহীত
  4. বিমোহিত
ব্যাখ্যা
• সঠিক বানান: বিমোহিত (বিশেষণ),
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ: মুগ্ধ, অভিভূত, মোহগ্রস্থ, বিহ্বল।

• বাক্য গঠন: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হয়েছি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২১৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) প্রাতঃরাশ
  2. খ) উপর্যপরি
  3. গ) উপর্যুক্ত
  4. ঘ) দুরাদৃষ্ট
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = উপর্যুক্ত। 

অন্যান্য বানানের শুদ্ধ রুপ- 

• দুরদৃষ্ট (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = দুঃ+আদৃষ্ট 
অর্থ:  
- মন্দভাগ্য, পোড়া ভাগ্য। 

• উপর্যুপরি (ক্রিয়াবিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উপরি+উপরি
অর্থ: পরপর, ক্রমান্বয়ে, ক্রমাগত, অবিরাম। 

• প্রাতরাশ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাতঃ+অশ্‌+অ
অর্থ: সকালবেলার প্রথম আহার। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,২১৫.
বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে কোন পদের সম্পর্ক থাকলে, তাকে কারক বলে?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. ক এবং খ উভয়ই
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে।
আবার,
বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠন করে তাকে নামপদ বলে। 
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- অর্থ্যাৎ, বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,২১৬.
ষ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. কষাকষি
  2. ষ্টেশন
  3. ষাণ্মাসিক
  4. বিষয়ী
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান অনুসারে, বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।

⇒ তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে।
- সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও বিষয়ী শব্দগুলোতে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২১৭.
নিম্নের কোন বাক্যে ‘উগ্র’ অর্থে গরম শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
  2. খ) তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
  3. গ) দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
  4. ঘ) শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া জাতীয় এই পদগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: গরম শব্দটি বাক্যে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রকাশ পেতে পারে।

উষ্ণ - এক কাপ খুব গরম চা দাও। 
গ্রীষ্ণ - বৈশাখ জৈষ্ঠ গরমকাল। 
চড়া - সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
উগ্র - তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
অহংকার - দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
শীত নিবারক - শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত অষ্টম শ্রেণি।

১,২১৮.
'আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।'- কোন ধরনের বাক্য?
  1. প্রশ্নবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়:

• বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
আমাকে একটি কলম দাও।
তার মঙ্গল হোক।

• আবেগবাচক বাক্য: কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১,২১৯.
সরল বাক্যে রূপান্তর করুন।
'যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে'।
  1. ক) খারাপ ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে
  2. খ) ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে
  3. গ) তারা ভালো ছেলে এবং শিক্ষকের আদেশ পালন করে
  4. ঘ) যারাই ভালো ছেলে, তারাই শিক্ষকের আদেশ পালন করে
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
তাই 'যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে' বাক্যটির সঠিক সরল বাক্য হলো- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২২০.
'দৃশ্যটি কী দারুণ!' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. আদেশাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা

• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

---------------------
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।
• তার মঙ্গল হােক।
• সৎপথে তার মতি হোক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
 সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২২১.
কোন শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. কোষ
  2. ঊষা
  3. ষ্টিমার
  4. কলুষ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - ষ্টিমার।
- শুদ্ধ বানান - স্টিমার।

অন্যদিকে,
- কলুষ, ঊষা ও কোষ শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

'ষ' ব্যবহারের নয়িম:
- বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, বেহেস্ত, শখ, শয়তান, শরবত, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন; আপস, জিনিস, মসলা, সন, সাদা, সাল (বৎসর), স্মার্ট, হিসাব; স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্ট্রিট, স্টুডিয়ো, স্টেশন, স্টোর। ইসলাম, তসলিম, মুসলমান, মুসলিম, সালাত, সালাম; এশা, শাওয়াল (হিজরি মাস), শাবান (হিজরি মাস)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২২২.
কোনটি সঠিক বাক্য?
  1. উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  2. নদীর জল হ্র্যস হয়েছে।
  3. তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
  4. তিনি আরোগ্য হইয়াছেন।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
শুদ্ধ: উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ: নদীর জল হ্র্যস হয়েছে।
শুদ্ধ: নদীর জল হ্রাস পেয়েছে৷

অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
শুদ্ধ:  তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।

অশুদ্ধ: তিনি আরোগ্য হইয়াছেন।
শুদ্ধ: তিনি আরোগ্য লাভ করলেন।

উৎস:
১) ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৩.
’অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল’-কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

• যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত যোজক/অব্যয়গুলো হলো : এবং, ও, আর, অথবা, বা,কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি ।
 কমা (,), সেমিকোলন (:), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে ।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,২২৪.
'সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা

• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,২২৫.
কোনটি করণ কারকের উদাহরণ?
  1. চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
  2. আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।
  3. আমরা রোজ স্কুলে যাই।
  4. জমি থেকে ফসল পাই।
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা”, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে

অন্যদিকে,
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
যেমন:
- আমাদের বাড়ির দরজি নেয়ামত খলিফা।

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আমরা রোজ স্কুলে যাই।

• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২২৬.
শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ক) অনাথা
  2. খ) অনাথিনী
  3. গ) অনাথীনি
  4. ঘ) অনাথী
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ শব্দ = অনাথা 

অনাথ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ = অনাথা 

অনাথ (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ন+নাথ 
অর্থ: পিতামাতাহীন, এতিম; অসহায় 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,২২৭.
'তিনি এ বাড়িতে থাকতেন।'______ বাক্যটিকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করলে কী হবে?
  1. তিনি অন্য বাড়িতে থাকতেন।
  2. তিনি থাকতেন, তবে অন্য বাড়িতে।
  3. তিনি থাকতেন, তবে এ বাড়িতে।
  4. এ সেই বাড়ি যেটিতে তিনি থাকতেন।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

তেমনিভাবে, 
সরল বাক্য: 'তিনি এ বাড়িতে থাকতেন।' 
জটিল বাক্য: এ সেই বাড়ি যেটিতে তিনি থাকতেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২২৮.
বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  2. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. গাছটি মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
• শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ : দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

অশুদ্ধ : গাছটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
শুদ্ধ: গাছটি সমূল/মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২২৯.
সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য বা গুণ কয়টি?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকে- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,২৩০.
নিচের কোনটি  ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
  2. বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
  3. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য: 
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন- আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না;
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১-সংস্করণ)।

১,২৩১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ইত্যাকার
  2. বারম্বার
  3. তরান্বিত
  4. ঐক্যমত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'ইত্যাকার'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- এই প্রকার,
- এইরূপ।

অন্যদিকে,
→ ঐক্যমত – ঐকমত্য, 
→ তরান্বিত – ত্বরান্বিত, 
→ বারম্বার – বারংবার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৩২.
“Laws does not and can not cover all grounds of morality.” - বিখ্যাত এই উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) আর. এম ম্যাকাইভার
  2. খ) ই এম হোয়াইট
  3. গ) জন অস্টিন
  4. ঘ) মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
• শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়।
আর. এম ম্যাকাইভার এ জন্যই বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৩৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র এবং কনিষ্ট কন্যা বিদেশ গিয়েছে।
  2. বিষয়টির বিষদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
  3. রাষ্ট্রপ্রধানগণ আপাতত ঐক্যমত্যে পৌঁছলেন।
  4. বিবদমান দু'টি দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ব্যাখ্যা
• "বিবদমান দু'টি দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।" - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বাক্য:
• তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র এবং কনিষ্ট কন্যা বিদেশ গিয়েছে। - তার জ্যেষ্ঠপুত্র এবং কনিষ্ঠা কন্যা বিদেশ গিয়েছে।
• বিষয়টির বিষদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। - বিষয়টির বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
• রাষ্ট্রপ্রধানগণ আপাতত ঐক্যমত্যে পৌঁছলেন। - রাষ্ট্রপ্রধানগণ আপাতত ঐকমত্যে পৌঁছলেন।

উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৩৪.
কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?
  1. ক) স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) সায়ত্তশাসন
  3. গ) সায়ত্ত্বশাসন
  4. ঘ) স্বায়ত্ত্বশাসন
ব্যাখ্যা
স্বায়ত্তশাসন (বিশেষ্য):
অর্থ - স্বজাতীয়দের দ্বারা পরিচালিত শাসন; স্বদেশবাসী কর্তৃক রাজ্যশাসন; স্বশাসন।
(স্বায়ত্ত + শাসন)

তথ্যসূত্র:- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৩৫.
সঠিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঐক্যমত
  2. খ) নিরপরাধী
  3. গ) প্রীতিভাজনেষু 
  4. ঘ) বীভিষণ 
ব্যাখ্যা
ঐক্যমত প্রত্যয় ঘটিত অশুদ্ধ বানান।
শুদ্ধ - ঐকমত্য।

নিরপরাধী সমাস ঘটিত অশুদ্ধ বানান।
শুদ্ধ - নিরপরাধ 

বিভীষণ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- রাবণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা। 
- ঘরের শত্রু। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,২৩৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. পিপীলীকা
  2. বুদ্ধিজীবি
  3. অন্তঃস্বত্তা
  4. অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে অগ্ন্যাশয়।
- পিপীলীকা শব্দের শুদ্ধ বানান পিপীলিকা।
- বুদ্ধিজীবি শব্দের শুদ্ধ বানান বুদ্ধিজীবী।
- অন্তঃসত্তা শব্দের শুদ্ধ বানান অন্তঃসত্ত্বা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

১,২৩৭.
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কী বলে?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৩৮.
কোন বাক্যটি দ্বারা অনুরোধ বুঝায়?
  1. তুই বাড়ি যা
  2. ক্ষমা করা ঘোর অপরাধ
  3. কাল একবার এসো
  4. দূর হও
ব্যাখ্যা
স্বরভঙ্গি তথা বাভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্নপ্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
যথা:
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশে: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তোমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বোঝাতে: বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে।

একই ভাবে,
অনুরোধ বোঝাতে: কাল একবার এসো, কাল একবার আসতে পারবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৩৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  3. তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হলাম।
  4. সকল ছাত্ররা উপস্থিত আছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ

অন্যান্য অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
- তার সৌজন্যে মুগ্ধ হলাম।
- সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৪০.
সঠিক বানানটি চিহ্নিত করুন-
  1. ক) গণনীয়
  2. খ) গণণীয়
  3. গ) গণণিয়
  4. ঘ) গননীয়
ব্যাখ্যা
গণনীয়  (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √গণ্‌+অনীয় 
অর্থ:
- গণনা করার উপযুক্ত। 
- গণনা করতে হবে এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,২৪১.
"যেহেতু বৃষ্টি পড়ছিল, তাই আমরা বাইরে যাইনি।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. আশ্রিত খণ্ড
ব্যাখ্যা
• "যেহেতু বৃষ্টি পড়ছিল, তাই আমরা বাইরে যাইনি।" - বাক্যটি  জটিল বাক্য।

জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে ।
যেমন –

- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৪২.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. দরিদ্রতা
  2. উপযোগিতা
  3. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  4. উর্দ্ধ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: উর্দ্ধ।

• শুদ্ধ বানান: ঊর্ধ্ব। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উপরের দিক;
- উপরিভাগ;
- উচ্চতা।

• দরিদ্রতা, উপযোগিতা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৪৩.
নিচের কোন বিরামচিহ্নকে পদ সংযোগ চিহ্ন বলে?
  1. সেমিকোলন
  2. ড্যাস
  3. কোলন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
হাইফেন:
- হাইফেন হচ্ছে শব্দ বা পদ সংযোগ চিহ্ন।
- হাইফেন সব সময় বসে দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে।
- হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের কোন প্রয়োজন নেই।
যেমন-
সোনা-রূপা-মণি-মুক্তা কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই।
[এই বাক্যে সোনা, রূপা, মণি, মুক্তা পড়ার সময় বিরতির কোন প্রয়োজন নেই]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৪৪.
'বাগানে ফুল ফুটেছে।' বাক্যে 'বাগানে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক 
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. অপাদান কারক 
  4. কর্ম কারক 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

এরূপ,
- বাগানে ফুল ফুটেছে। 
['বাগানে’ শব্দটি কোথায় ফুল ফুটেছে- সেই স্থান বা অবস্থান বোঝাচ্ছে। “যেখানে ক্রিয়া সংঘটিত হয়” সেই স্থানের নির্দেশক পদকে অধিকরণ কারক বলে। সুতরাং 'বাগানে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪৫.
'হজরত মুহম্মদ (স) ছিলেন একজন আদর্শ মানব' বাক্যটি নিম্নোক্ত একটি শ্রেণির-
  1. মিশ্র
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. সরল
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

তেমনিভাবে,
- হজরত মুহম্মদ (স) ছিলেন একজন আদর্শ মানব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৬.
আশ্রিত খণ্ডবাক্য কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা -
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।

বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যথা -
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।
তদ্রুপ -
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৪৭.
যেহেতু নির্বাচন হয়েছে, সেহেতু দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবেই। বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) যেহেতু নির্বাচন হয়েছে, সেহেতু দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবেই
  2. খ) নির্বাচন হয়েছে এবং এখন দেশে গণতন্ত্র ফিরবে
  3. গ) নির্বাচন হলে দেশে গণতন্ত্র ফিরবেই
  4. ঘ) দেশে গণতন্ত্র ফিরাতে হলে নির্বাচন লাগবেই
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিলঃ যেহেতু নির্বাচন হয়েছে, সেহেতু দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,২৪৮.
কোনটি ষষ্ঠী বিভক্তি?
  1. দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
  2. এ, য়, তে 
  3. র, এর
  4. হতে, থেকে, চেয়ে
ব্যাখ্যা

• বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।

যথা:
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি:কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৪৯.
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে কী বলে?
  1. বিধেয়
  2. উদ্দেশ্য
  3. শব্দগুচ্ছ
  4. বর্গ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বর্গ:
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
- বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন
- রাজিব ও পাভেল খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।

এই বাক্যে 'রাজিব ও পাভেল', 'খুব সকালে', 'বাড়ির সামনে থাকা', 'স্কুল-বাসে', 'উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,২৫০.
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।' - এখানে কী ধরনের অলংকারের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. যমক
  2. শ্লেষ
  3. ধ্বন্যুক্তি
  4. পুনরুক্তবদাভাস
ব্যাখ্যা
যমক:
- যমক শব্দের অর্থ 'যুগ্ম'।
- একই শব্দ বা প্রায় একই রকম উচ্চার্য শব্দ যদি নির্দিষ্টক্রমে দুই বা তার বেশিবার আলাদা, আলাদা অর্থে বসে, তবে সে অলঙ্কার হবে যমক।
যথা -
'গুরু কাছে লব গুরু দুখ।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
→ ১ম গুরু = পুরোহিত।
→ ২য় গুরু = কঠিন / বড়।

অন্যদিকে,
শ্লেষ:
চরণে একটিমাত্র শব্দ একাধিক অর্থ প্রকাশ করলে এবং পাঠকও যদি একাধিক অর্থেই তাকে গ্রহণ করে তবে তাকে শ্লেষ বলে।
যথা -
'মধুহীন করোনা মা তব মনঃ কোকনদে।'
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(এখানে 'মধুহীন' বলতে মিষ্টিহীন ও মধুসূদনহীন-এ দুই অর্থ প্রকাশিত)

ধ্বন্যুক্তি:
- ধ্বনির উচ্চারণে যদি বিষয়বস্তুকে দৃশ্যমান করা যায়, এমন অলঙ্কার।
- অর্থাৎ কবিতার চরণে ধ্বনিরূপ দিয়ে যদি অর্থের অবতারণা করা যায় তবে তাকে ধ্বন্যুক্তি বলে।
যেমন -
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
বাজছে বাদল গামুর-গুমুর।
টাপুর-টুপুর গামুর-গুমুর
গামুর-গুমুর টাপুর-টুপুর।
ঝাপুর-ঝুপুর ছাপুর-ছুপুর
ছাপুর-ছুপুর ছাপুর-ঝুপুর।'
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে শব্দ দিয়ে এমন ধ্বনিসৃজন হয়েছে, যেন দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে।)

পুনরুক্তবদাভাস:
- একই চরণে একার্থক একাধিক শব্দ যদি বিভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয় কিন্তু বিশ্লেষণে যদি সেই পুনরাবৃত্তির বিভিন্ন অর্থ প্রতীয়মান হয় তাহলে তাকে পুনরুক্তবদাভাস বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে এর দৃষ্টান্ত অল্প।
যেমন -
'নিশীথ রাতে একা বসে গান গাই।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(এখানে নিশীথ ও রাত একার্থ হলেও নিশীথ 'গভীর' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।) 'তনু দেহটি সাজাব তব আমার আভরণে।' -রবীন্দ্রনাথ (এখানে তনু ও দেহ একার্থ হলেও তনু 'ছিপছিপে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫১.
'যে অন্ধ তাকে আলো দাও'– বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. অন্ধতে আলো দাও।
  2. অন্ধকে আলো দাও।
  3. অন্ধকে আলোতে চলতে দাও।
  4. অন্ধকে ব্যাক্তিকে আলো দাও।
ব্যাখ্যা
• 'যে অন্ধ তাকে আলো দাও'– বাক্যের সরল রূপ হচ্ছে - অন্ধকে আলো দাও।

• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।

জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫২.
'সরিষা হইতে তৈল হয়।'- এখানে 'সরিষা হইতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৫মী 
  2. অধিকরণে ৫মী 
  3. অপাদানে ৫মী 
  4. কর্মে ৫মী 
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- সরিষা হইতে তৈল হয়।
[বাক্যেকে 'কি হতে/থেকে তৈল হয়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সরিষা হইতে'। সুতরাং 'সরিষা হইতে' শব্দটি অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৩.
নিচের যেটি বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত-
  1. ক) সবগুলো
  2. খ) একত্র
  3. গ) কর্তৃপক্ষ
  4. ঘ) অনুষ্ঠাতব্য
ব্যাখ্যা
অপশন থেকে মনে হতে পারে অনুষ্ঠাতব্য অপপ্রয়োগ। কিন্তু অনুষ্ঠাতব্য শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ, এর অর্থ - আচরণীয়, করতে হবে এমন।
সব শব্দটি বহুবচন প্রকাশক, এর সাথে গুলোর ব্যবহার অশুদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
১,২৫৪.
তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে, ট-বর্গের সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে কী হয়?
  1. মূর্ধন্য-ষ
  2. মূর্ধন্য-ণ
  3. দন্ত-ন
  4. মূর্ধন্য-ন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:

• ট-বর্গের সঙ্গে যুক্ত দন্ত-ন পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমন, 
মণ্ড, উৎকণ্ঠা, লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড ইত্যাদি।

• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
অর্জ্জন → অর্জন, 
ঊর্দ্ধ → ঊর্ধ্ব, 
কর্ম্ম → কর্ম।

'ক' ও 'র'-এর পরে মূর্ধন্য-ষ বসে, দন্ত-স নয়।
যেমন- 
• ক-এর পরে: চক্ষু, ভিক্ষা
• র-এর পরে: মুমূর্ষু, চিকীর্ষা

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৫৫.
"সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।" - এখানে 'সপ্তপুরুষ' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অধিকরণ
ব্যাখ্যা

কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।  বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। 
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। 

যেমন:
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমাদ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২৫৬.
‘রেখো মা দাসেরে  মনে।’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ২য়া
  2. কর্মে ২য়া
  3. অপাদানে তয়া
  4. অধিকরণে ২য়া
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যে মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।যেমন:
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়,
- শিক্ষককে জানাও,
- অসহায়কে সাহায্য করো, ইত্যাদি। 

কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়। যেমন:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- রেখো মা দাসেরে  মনে

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫৭.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. সময়কাল
  2. মহিমময়
  3. বলিষ্ঠতর
  4. যুবরাজা
ব্যাখ্যা
মহিমময় - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'মহিমময়' শব্দের অর্থ - মহিমাপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• 'যুবরাজা', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: যুবরাজ।

• 'সময়কাল', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল।

• 'বলিষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বলিষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৫৮.
নিচের কোনটি কোলন ড্যাস যতিচিহ্ন?
  1. (;-)
  2. (:-)
  3. (;_)
  4. (-:)
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কোলন ড্যাস (:-):

- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
- কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।
যেমন:
পদ পাঁচ প্রকার:- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২৫৯.
'সাবধান না হলে বিপদে পড়বে' - এর জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) সাবধান হও না হয় বিপদে পড়বে।
  2. খ) যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
  3. গ) তুমি সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
  4. ঘ) যদি সাবধান না হও, বিপদে পরবে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি কর্তা এবন একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে ।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-
সরল বাক্য: সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
জটিল বাক্য: যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৬০.
নিচের কোন বাক্যে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  2. তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
  3. ধীরতা একটি মহৎ গুণ।
  4. মেয়েটির সরলতায় আমি মুগ্ধ।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
• শুদ্ধ বাক্য: তার সৌন্দর্যে সকলে মুগ্ধ।

⇒ ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৬১.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. চ্যাংড়ামি
  2. চ্যাংদোলা
  3. চ্যাচামেচি
  4. চৌহান
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
অশুদ্ধ বানান - চ্যাচামেচি।
-এর শুদ্ধ রূপ:
চ্যাঁচামেচি (বিশেষ্য)
- বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- একাধিক ব্যক্তির একসঙ্গে চিৎকার,
- হট্টগোল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৬২.
'যখন বিপদ আসে তখন দুঃখও আসে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. মৌলিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। - বাক্যটি  জটিল বাক্য।

জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে ।

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য:
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ।
যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,২৬৩.
"মরুপ্রান্তরে নদীর কলকল ধ্বনি শোনা যায়।" - বাক্যটিতে কী ধরনের ভুল আছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা জনিত
  2. আসত্তি জনিত
  3. যোগ্যতা জনিত
  4. গুরুচণ্ডালী জনিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) যোগ্যতা জনিত।
------------------
একটি সার্থক বা আদর্শ বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি গুণ থাকে।
যথা- 
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি এবং
৩. যোগ্যতা।

• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ:
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ:
নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদগুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ:
বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।
-------------------
প্রশ্নে দেওয়া বাক্যটি হলো: “মরুপ্রান্তরে নদীর কলকল ধ্বনি শোনা যায়।”

উল্লেখ্য, মরুপ্রান্তরে সাধারণত নদী থাকে না, কারণ মরুভূমি শুষ্ক এলাকা এবং সেখানে পানির প্রবাহ বা নদী অত্যন্ত বিরল। তাই “মরুপ্রান্তরে নদীর কলকল ধ্বনি” শোনার কথা বাস্তবসম্মত নয়। এটি বাক্যের অর্থগত বা যুক্তিগত ত্রুটি নির্দেশ করে।
 
তাই, এটি যোগ্যতা জনিত ভুল।
------------------
অন্যদিকে,

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।

- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ।

• গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে- গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬৪.
ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের কয়টি গুণ থাকা আবশ্যক?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা :

১. আকাঙ্খা :
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙ্খা বলে।

২. আসত্তি :
বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ  বিন্যাসই আসত্তি।

৩. যোগ্যতা :
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৫.
স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন-এ বাক্যে উদ্দেশ্য কী বা কে?
  1. ক) স্নেহময়ী
  2. খ) স্নেহময়ী জননী
  3. গ) স্বীয় সন্তান
  4. ঘ) অধিক ভালোবাসেন
ব্যাখ্যা
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্মন্ধে যা বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
যেমন – স্নেহময়ী জননী (উদ্দেশ্য) স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন (বিধেয়)।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1.  বিধি লঙ্ঘণ হয়েছে।
  2. নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল।
  3. দেশের লাঠি দশের বোঝা।
  4. কাব্যটির উৎকর্সতা প্রশংসনীয়।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য-  বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য- বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

• অশুদ্ধ বাক্য-  দেশের লাঠি দশের বোঝা।
• শুদ্ধ বাক্য- দশের লাঠি একের বোঝা।

• অশুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্সতা প্রশংসনীয়।
• শুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৬৭.
"প্রশস্ত" এর বিপরীত শব্দ—
  1. সংকীর্ণ
  2. ক্ষুদ্র
  3. ছোট
  4. সীমিত
ব্যাখ্যা
• 'প্রশস্ত' শব্দের বিপরীত শব্দ - সংকীর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত,
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত,
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত,
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ -নির্দয়,
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ -বিনীত, 
- 'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ - বিনয় । 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১,২৬৮.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. পুরস্কার
  2. তিরষ্কার
  3. নূপুর
  4. নিষ্প্রাণ
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) তিরষ্কার।

• বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- 'র- ধ্বনি'র পরে যদি অ, আ স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'স' হবে।
যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি। 

অন্য অপশনগুলির "পুরস্কার; নূপুর; নিষ্প্রাণ" বানান সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৬৯.
আমূল শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. নয় মূল 
  2. মূল থেকে
  3. মূল পর্যন্ত
  4. ন মূল
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয়ের সঙ্গে পরপদ বিশেষ্যের সমাস হয় এবং অব্যয় পদের অর্থই প্রধানরুপে প্রতীয়মান হয় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- জীবন পর্যন্ত = আজীবন;
- সমুদ্র পর্যন্ত = আসমুদ্র;
- মূল পর্যন্ত = আমূল;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- পাদ (পা) থেকে মস্তক পর্যন্ত = আপাদমস্তক;
- আদি থেকে অস্ত পর্যন্ত = আদ্যন্ত;
- কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)। 

১,২৭০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অতলষ্পর্শ
  2. অতলষ্পর্সী
  3. অতলস্পর্শ
  4. অতলস্পর্সী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অতলস্পর্শ'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: অতল + স্পৃশ্‌ + অ।
এর অর্থ:
- তলদেশ ছোঁয়া যায় না এমন,
- অতি গভীর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৭১.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
  2. তাহারা সাংঘাতি আনন্দ হইল।
  3. চোরটি বমাল ধরা পড়েছে।
  4. তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য- চোরটি বমাল ধরা পড়েছে।।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য- সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
• শুদ্ধ বাক্য- সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।

• অশুদ্ধ বাক্য- তাহারা সাংঘাতি আনন্দ হইল।
• শুদ্ধ বাক্য- তাহারা অপরিসীম আনন্দ হইল।

• অশুদ্ধ বাক্য - তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন।
• শুদ্ধ বাক্য - তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,।

১,২৭২.
'চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।' - এখানে 'কাস্তে' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।
- বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৭৩.
নিচের কোনটি প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. উহা
  2. আগামীকাল
  3. ওটা
  4. সেদিন
ব্যাখ্যা

• 'আগামীকাল'- প্রত্যক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
• এই  -  সেই।
• ইহা  -  তাহা/উহা।
• এখানে  -  ওইখানে।
• আগামীকাল  -  পরদিন।
• গতকল্য  -  পূর্বদিন।
• এটা  - ওটা/সেটা।
• এ  -  সে।
• আজ  - সেদিন।
• গতকাল  -  আগেরদিন।
• এখন  -  তখন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৭৪.
নিচের যে গুচ্ছে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটেনি-
  1. ক) অধীন, অজ্ঞানতা
  2. খ) তনুদেহ, পান্তাভাত
  3. গ) সমসাময়িককালে, জন্ম বার্ষিক
  4. ঘ) ভাষী, সবান্ধব
ব্যাখ্যা
সমসাময়িককালে শব্দে 'কালে' ব্যবহার করা যাবে না।
তনু অর্থই দেহ এবং পান্তা দ্বারা পানিতে ভিজানো বাসি ভাত-কেই বুঝায়, তাই এর সাথে ভাত ব্যবহার করতে হবে না।
ভাষা ব্যবহারকারী অর্থে ভাষীর প্রয়োগ শুদ্ধ এবং বান্ধবদের সঙ্গে বুঝাতে সবান্ধব শুদ্ধ।
অর্থাৎ অপশন ঘ-তে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটে নি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,২৭৫.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত
  2. খ) ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়
  3. গ) দশচক্রে ভগবান ভূত
  4. ঘ) তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন
ব্যাখ্যা
• তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন- বাক্যটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বাক্য- তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
• শুদ্ধ বাক্য-
আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত
ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়
দশচক্রে ভগবান ভূত

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৭৬.
শুদ্ধ বানান নয় নিচের কোনটি?
  1. সুকেশীনী
  2. সুকেশী
  3. সুকেশিনী
  4. সুকেশা
ব্যাখ্যা
• 'সুকেশীনী'- বানানটি শুদ্ধ নয়। 
- সুকেশী, সুকেশা, সুকেশিনী- তিনটিই শুদ্ধ। 

• সুকেশী (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সুকেশ+ইন্‌
অর্থ: সুন্দর কেশবিশিষ্ট। 

• সুকেশা
- সুকেশ (বিশেষ্য) এর স্ত্রীবাচক শব্দ। 

সুকেশিনী (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সু+কেশ+ইন্‌+ঈ
অর্থ: সুন্দর কেশবিশিষ্টা,  যে মেয়ের চুল সুন্দর। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৭৭.
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ভ্রাতৃবৃন্দ
  2. অহোরাত্র
  3. নির্দোষ
  4. মহিমামণ্ডিত
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
নিরপরাধী - নিরপরাধ। 
নিরভিমানী - নিরভিমান। 
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র। 
মাতাজাতি - মাতৃজাতি। 
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত। 
ভ্রাতাবৃন্দ - ভ্রাতৃবৃন্দ। 
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার। 
অহোরাত্রি - অহোরাত্র। 
নির্দোষী - নির্দোষ। 
দিবারাত্রি - দিবারাত্র। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,২৭৮.
বাক্যে এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আশক্তি
ব্যাখ্যা
একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার। এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা।

⇒ আকাক্ষা: বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 
⇒ আসত্তি: মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।
⇒ যােগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭৯.
'পৃথিবীতে অবাস্তব বলে কিছু নেই।' - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা সবই বাস্তব।
  2. পৃথিবীতে বাস্তব ও অবাস্তব উভয়ই আছে।
  3. পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।
  4. পৃথিবীতে কিছু কিছু জিনিস অবাস্তব নয়।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য রূপান্তর: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

যেমন:
সরল বাক্য: পৃথিবীতে অবাস্তব বলে কিছু নেই।
যৌগিক বাক্য: পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।

সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ
যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৮০.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. কোথায় থাকা হয়।
  2. আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  3. তোমার পড়া হোক।
  4. আমার খাওায়া হলো না।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে, 
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার পড়া হোক।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮১.
'জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন' - কর্তাবাচ্যের বাক্যটির কর্মবাচ্যের রূপ কোনটি?
  1. ক) জাহানারা ইমাম নিজে একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
  2. খ) জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
  3. গ) জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
  4. ঘ) জাহানারা ইমামের হাত ধরেই একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের কর্তাবাচ্যের বাক্যটি কর্মবাচ্যের রূপ - জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

• কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়।
যেমন:
কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,২৮২.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
  2. মেঘ গর্জন করে তবে ময়ূর নৃত্য করে।
  3. যেহেতু নির্বাচন হয়েছে সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।
  4. শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

অন্যদিকে,
- মেঘ গর্জন করে তবে ময়ূর নৃত্য করে।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।- এটি একটি জটিল বাক্য।
- যেহেতু নির্বাচন হয়েছে সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৩.
যে সব শব্দের সাহায্যে মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় তাকে কি বলে? 
  1. শব্দ
  2. বাক্য
  3. কারক
  4. সমাস
ব্যাখ্যা

• মানুষের মনের ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় বাক্য দিয়ে।

• ভাষা ও বাক্য:
গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়। বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২- সংস্করণ)।

১,২৮৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?  
  1. দাদী
  2. মন্ত্রীত্ব 
  3. সহযোগীতা  
  4. সাধ্বী
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- সাধ্বী। 
----------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দে ঈ-কারের ব্যবহার:
- বাংলা ভাষায় খাঁটি সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার বসে।
- উদাহরণস্বরূপ—
- জননী, নারী, স্ত্রী, সাধ্বী, গাভী, দেবী, কুমারী ইত্যাদি। 
-------------
• ব্যতিক্রম: 
- তৎসম না হওয়া অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রে ঈ-কারের পরিবর্তে ই-কার ব্যবহার করা হয়।
- যেমন—
- মাসি, পিসি, দাদি।

- এছাড়াও, তৎসম শব্দে যদি ঈ-কারান্ত শব্দের সঙ্গে ‘-ত’, ‘-তা’ বা ‘-ত্ব’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তবে ঈ-কার ই-কারে পরিবর্তিত হয়ে লেখা হয়।
- যেমন-
- 'দায়ী' থেকে 'দায়িত্ব',
- 'সহযোগী' থেকে 'সহযোগিতা', 
- 'মন্ত্রী' থেকে 'মন্ত্রিত্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,২৮৫.
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ ও প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে কোন বাক্য ব্যবহৃত হয়?
  1. আবেগসূচক 
  2. প্রশ্নবোধক 
  3. বিবৃতিমূলক 
  4. অনুজ্ঞাসূচক 
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে, 
বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি ।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন:
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য। 
যেমন: 
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড। 
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২৮৬.
'শ্রদ্ধাবান লভে জ্ঞান অন্যে কভু নয়।' - এখানে 'শ্রদ্ধাবান' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্তা
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন:
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
- শ্রদ্ধাবান লভে জ্ঞান অন্যে কভু নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,২৮৭.
কোন বানানটি প্রমিত?
  1. পশ্চাদপদ
  2. পশ্চাৎগামী
  3. পশ্চাদ্‌ভূমি
  4. পশ্চাৎবর্তী
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বানান - পশ্চাদ্‌ভূমি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- পেছনের স্থান,
-  পটভূমি, background।



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৮৮.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছ।
  2. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  3. তারা বাড়ি যাচ্ছে।
  4. অতিশয় দুঃখিত হলাম।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ বাক্য: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছ।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৮৯.
কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. কোলন
  3. দাঁড়ি
  4. প্রশ্ন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন নয় - কোলন।

⇒ বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

- বাক্যের শেষে বসে ৪টি যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন।
- এগুলো হলো:
১. দাঁড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।
- এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৯০.
জটিল বাক্য কোনটি? 
  1. সে ধনী বটে, কিন্তু গরিবকে ভালোবাসে।
  2. সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।  
  3. যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
  4. সে কাল আসবে, তার পর আমি যাব। 
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যােজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলাে যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম
- যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। 

যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততােধিক স্বাধীন বাক্য যখন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যােজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (;), ড্যাশ ( ) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যােজকের কাজ করে।
যেমন -
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছলো, তারপর পড়তে বসল।: 
- সে কাল আসবে, তার পর আমি যাব। 
- সে ধনী বটে, কিন্তু গরিবকে ভালোবাসে। 
- সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১ , ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।

১,২৯১.
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাকে কী বলে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আকাঙ্ক্ষা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন- 'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'– এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু শোনার ইচ্ছা থাকে৷

বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: ''চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে''৷
এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি
১,২৯২.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. বেগম রোকেয়ার মতো বিদ্বান নারী একালেও বিরল।
  2. গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
  3. অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. নতুন নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: বেগম রোকেয়ার মতো বিদ্বান নারী একালেও বিরল।
শুদ্ধ: বেগম রোকেয়ার মতো বিদুষী নারী একালেও বিরল।

অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
শুদ্ধ: নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৯৩.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১টি
  2. ১৩টি
  3. ১৪টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্ন ১৩ টি। সেগুলো হলো:

- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

তবে, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)- এ ত্রিবিন্দু (...) কে যতিচিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
- তাই এতে যতিচিহ্ন ১২ টি উল্লেখ আছে।

• কিন্তু, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:

ক, অন্ত্যযতি,
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)

খ. অভ্যন্তর যতি,
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;)
৭. হাইফেন (-)
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:)
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি,
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...)
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]}))
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

[উল্লিখিত বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে ১৬টি অধিক গ্রহণযোগ্য এবং রিয়েল চাকরির পরীক্ষায় অপশনে ১৬টি থাকলে এটিই উত্তর করতে হবে ]।
১,২৯৪.
বাক্যে অর্ধচ্ছেদ যতিচিহ্ন থাকলে বিরতির সময়কাল কত?
  1. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলতে যে সময় লাগে
  4. থামার প্রয়োজন হয় না
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. মেয়েটি স্বয়ম্বর ।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত।
  3. কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
  4. বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য- বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি স্বয়ম্বর ।
• শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি স্বয়ংবরা।

• অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
• শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

• অশুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
• শুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৯৬.
'লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়'- কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
'লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়'- বাক্যটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

যৌগিক বাক্য
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন –
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল । তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১,২৯৭.
শুদ্ধ বানানে লিখিত শব্দগুচ্ছ নিচের কোনগুলো?
  1. ক) প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রিপরিষদ, সহযোগীতা
  2. খ) শারীরীক, অন্তরীপ, পরীক্ষা
  3. গ) নিশীথিনী, মহীয়ান, হরীতকি
  4. ঘ) শার্দূল, মরুভূমি, ভাগীরথী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান গুচ্ছ: শার্দূল, মরুভূমি, ভাগীরথী

অপশন ক) -তে সহযোগীতা।
অপশন খ) -তে  শারীরীক।
অপশন গ) -তে হরীতকি বানানগুলো অশুদ্ধ।

•  ভুল বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:  সহযোগিতা, শারীরিক, হরীতকী, হরিতকী।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
 
 
১,২৯৮.
ভাববাচ্যের উদাহরণ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. এ পথে চলা যায় না।
  2. শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
  3. চোরটা ধরা পড়েছে।
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  5. রোগী পথ্য সেবন করে।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।


অন্যদিকে,
--------------------
• কর্মবাচ্য:

যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

• কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অনাবাদী
  2. অপদস্ত
  3. অব্যার্থ
  4. অভাগিনি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ শব্দ:  অভাগিনি।
অর্থ: ভাগ্যহীন, হতভাগ্য।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ: অনাবাদী,
শুদ্ধ: অনাবাদি।
অর্থ: অকর্ষিত; চাষাবাদের অযোগ্য।

• অশুদ্ধ: অপদস্ত।
শুদ্ধ: অপদস্থ।
অর্থ: লাঞ্ছিত, অসম্মানিত।

• অশুদ্ধ: অব্যার্থ।
শুদ্ধ: অব্যর্থ।
অর্থ: কখনো বিফল হয় না এমন, অমোঘ, সার্থক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩০০.
সন্ধির অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) অদ্যবধি
  2. খ) চলচ্ছক্তি
  3. গ) দুরদৃষ্ট
  4. ঘ) পশ্বধম
ব্যাখ্যা
অদ্যাবধি = অদ্য +অবধি, চলচ্ছক্তি = চলৎ+শক্তি, দুরদৃষ্ট = দুঃ+অদৃষ্ট, পশ্বধম = পশু+অধম৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান