ব্যাখ্যা
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: অক্ষর পরিচয়, অক্ষরজ্ঞান।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১২ / ৬৯ · ১,১০১–১,২০০ / ৬,৯৫৩
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে 'র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর হলো: ক) ভুল নেই।
ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “এই দূরবীক্ষণ দিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠ স্পষ্ট দেখা যায়।”
এই বাক্যটি বাংলা ব্যাকরণ, বানান, এবং অর্থের দিক থেকে সঠিক।
অন্যান্য অপশন,
বানান: ‘দূরবীক্ষণ’, ‘চাঁদের’, ‘পৃষ্ঠ’, ‘স্পষ্ট’, এবং ‘যায়’ শব্দগুলোর বানান সঠিক এবং প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুসারে লেখা।
যোগ্যতা: বাক্যটি অর্থপূর্ণ এবং স্পষ্টভাবে বোঝায় যে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে চাঁদের পৃষ্ঠ পরিষ্কারভাবে দেখা সম্ভব। শব্দগুলোর ব্যবহার যথাযথ এবং বাক্যের গঠন সঠিক।
প্রত্যয়: বাক্যে ব্যবহৃত শব্দগুলোর প্রত্যয় (যেমন: ‘চাঁদের’ শব্দে ‘-এর’ সম্বন্ধপদ, ‘যায়’ শব্দে ক্রিয়াপ্রত্যয়) সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন:
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।
• কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- আমার গানের মালা আমি করবো কারে দান।
• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম) - এখানে 'আমাকে কী দাও?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বই'। তাই 'বই' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি।
• বাক্যটি - "ছুরিতে কাটল ফল।" -
- এখানে "কিসের দ্বারা কাটল?" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছুরিতে'।
- এবং ৭মী বিভক্তি (এ) এর প্রয়োগ ঘটেছে।
- সে অনুসারে এখানে 'ছুরিতে' হচ্ছে করণে ৭মী বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।
অন্যদিকে,
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।
যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা:
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমনঃ
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্বণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান- স্নেহাশিস ।
- শব্দটির অর্থ- স্নেহাশীর্বাদ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপটি হচ্ছে-
- বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
শুদ্ধ বাক্যঃ
- আইনত তিনি একাজ করতে পারেন না।
- এটা কাঁচা হাতের লেখা।
- বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
- মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• অশুদ্ধ বানান- সমাহীত।
• শুদ্ধ বানান: সমাহিত।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সমাধিস্থ।
- ধ্যানমগ্ন।
- মীমাংসিত।
- সম্পাদিত।
- অবহিত।
স্ত্রীবাচক শব্দ- সমাহিতা/শমাহিতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।
অন্যদিকে,
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।
যেমন- পোশাক, মাস্টার।
• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বাক্য:
- বাংলা ভাষার শুদ্ধ প্রয়োগ হলো সৃজনশীলভাবে সঠিক বলা বা লেখা।
- এটি ব্যাকরণের নিয়ম মেনে করা হয়, যা ভাষাকে সুন্দর, মার্জিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখে।
- বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল রাষ্ট্র → অশুদ্ধ।
- বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র → শুদ্ধ।
- উন্নতশীল অশুদ্ধ কারণ এখানে বিশেষ্য পদ উন্নয়নশীল শুদ্ধ।
---------------------
• বাংলায় বহুল প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্য এবং তাদের শুদ্ধ রূপ নিচে দেওয়া হলো:
- বিদ্বান মহিলা → অশুদ্ধ।
- বিদুষী মহিলা → শুদ্ধ।
- দশচক্রে ঈশ্বর ভূত → অশুদ্ধ।
- দশচক্রে ভগবান ভূত → শুদ্ধ।
- আসছে আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে → অশুদ্ধ।
- আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে → শুদ্ধ।
- আমি এ ঘটনা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছি → অশুদ্ধ।
- আমি এ ঘটনা চাক্ষুষ দেখেছি / প্রত্যক্ষ করেছি → শুদ্ধ।
- মেয়েটি বিদ্বান কিন্তু ঝগড়াটে → অশুদ্ধ।
- মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে → শুদ্ধ।
- আমি সাক্ষী দিব না → অশুদ্ধ।
- আমি সাক্ষ্য দেব না → শুদ্ধ।
- আমি গীতাঞ্জলী পড়েছি → অশুদ্ধ।
- আমি গীতাঞ্জলি পড়েছি → শুদ্ধ।
- আবশ্যকীয় বিছানাপত্র নিয়ে আসবেন → অশুদ্ধ।
- আবশ্যক বিছানাপত্র নিয়ে আসবেন → শুদ্ধ।
- গাছটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে → অশুদ্ধ।
- গাছটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে → শুদ্ধ।
- তিনি স্বস্ত্রীক কুমিল্লা বাস করেন → অশুদ্ধ।
- তিনি সস্ত্রীক কুমিল্লা বাস করেন → শুদ্ধ।
- এ কথা প্রমাণ হয়েছে। → অশুদ্ধ।
- এ কথা প্রমাণিত হয়েছে। → শুদ্ধ।
- পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়। → অশুদ্ধ।
- পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়। → শুদ্ধ।
- ঘটনা বর্ণনা হয়েছে। → অশুদ্ধ।
- ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। → শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান - কূপমণ্ডূক।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- সীমাবদ্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - বিদুষী।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- বিদ্যাবতী নারী।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - নিপীড়িত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- নির্যাতিত, নিগৃহীত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পটিয়সী' - অশুদ্ধ বানান।
• 'পটিয়সী' এর শুদ্ধ বানান: পটীয়সী।
-----------------------
• 'পটীয়ান' শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত পটু, সুদক্ষ।
• 'পটীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - পটীয়সী।
----------------
অন্যদিকে,
কণ্ঠস্থ, ভস্মীভূত, ইতঃপূর্বে - বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান নয়- অন্তঃজগত।
-----------------------------------
• অশুদ্ধ বানান - অন্তঃজগত।
• শুদ্ধ বানান - 'অন্তর্জগৎ'।
• শব্দের অর্থ:
- মনোজগৎ, ভাবলোক, চিন্তারাজ্য।
• অন্তর্জগৎ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো- অন্তঃ + জগৎ।
• অন্তর্জগৎ' শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
• অন্তর্জগৎ' একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
• অন্তর্জগৎ এর বিপরীত শব্দ - বহির্জগৎ।
• অন্তর্জগৎ' শব্দটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: 'অন্তর্' (উপসর্গ) এবং 'জগৎ' (নামপদ/প্রকৃতি);
- এখানে 'অন্তর্' উপসর্গটি 'জগৎ' শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'অন্তর্জগৎ' শব্দটি তৈরি করেছে।
--------------------------
অন্যদিকে,
- অভ্যন্তরীণ, দ্বন্দ্ব, সম্প্রীতি- শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'অন্ধজনে দেহ আলাে।' - বাক্যে 'অন্ধজনে' সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে।
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।
যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান- কনীনিকা।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
• 'অনূযায়ী' এর শুদ্ধ বানান - অনুযায়ী।
• 'পিঁপীলিকা' এর শুদ্ধ বানান- পিপীলিকা।
• 'বীভিষীকা' এর শুদ্ধ বানান- বিভীষিকা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'যুপকাষ্ঠ' - বানানটি শুদ্ধ নয়।
এর শুদ্ধ বানান- যূপকাষ্ঠ।
• 'যূপকাষ্ঠ' তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
• 'যূপকাষ্ঠ' শব্দের অর্থ:
যে কাঠের ওপর রেখে পশু বলি দেওয়া হয়, হাড়িকাঠ।
অন্যদিকে,
- নূন্যতম শব্দের শুদ্ধ বানান - ন্যূনতম।
- নুপুর এর শুদ্ধ বানান - নূপুর।
- প্রাতঃরাশ শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রাতরাশ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- শ্রেষ্ঠতম এর শুদ্ধরূপ : শ্রেষ্ঠ/সর্বশ্রেষ্ঠ,
- রাজাগণ এর শুদ্ধরূপ : রাজগণ,
- শুধুমাত্র এর শুদ্ধরূপ : শুধু/মাত্র।
অন্যদিকে,
- 'অহোরাত্র' শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সঠিক শব্দঃ
- সম্ভবপর
- বিদ্রূপ/ বিদ্রুপ
- দরিদ্রতা
- গড্ডলিকা/ গড্ডালিকা
সোর্সঃ বাংলা একাডেমী অভিধান; বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান।
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
• যে - সে, যা - তা, যিনি - তিনি, যাঁরা - তাঁরা ইত্যাদি।
• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন – তখন, যেমন - তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু -সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।
যেমন:
- মুসলিমদের যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
[প্রদত্ত বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন অপ্রধান খণ্ডবাক্য 'যা - তা' সাপেক্ষ সর্বনাম দ্বারা যুক্ত হয়ে ভাব প্রকাশ করছে।]
অন্যদিকে,
• পরিশ্রমী ব্যক্তিরাই জীবনে সাফল্য লাভ করে।
• সৎ লোক কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
বাক্যগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।
• তিনি বিদ্বান কিন্তু তাঁর বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।বাক্যটি সরল বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ); বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।
অন্যদিকে,
-সৌহার্দ;
- চাঞ্চল্য;
- স্বতঃপ্রণোদিত।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।বাক্যটি সঠিক
প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিবেন।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সঠিক বাক্যসমূহ-
তার বাবা একজন বুদ্ধিজীবী।
সমুদয় সভ্য আসিয়াছেন।
শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হলেন।
তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অন্ত্য যতিচিহ্ন নয়- সেমিকোলন। এটি অভ্যন্তর যতিচিহ্ন।
• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।
• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।
• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
• করণ কারক:
• যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ‘দিয়ে’ ‘কতৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন-
ভেড়া দিয়ে হাল চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
- 'তিনি নিরহঙ্কারী ও নিরপরাধী মানুষ।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'তিনি নিরহঙ্কার ও নিরপরাধ মানুষ।'
- 'তিনি স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'তিনি সচ্ছল পরিবারের সন্তান।'
- 'অপরাহ্ন লিখতে অনেকেই ভুল করে।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।'
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রতিম বাংলা বানানের নিয়ম।