বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১২ / ৬৯ · ১,১০১১,২০০ / ৬,৯৫৩

১,১০১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সাক্ষরতা
  2. স্বাক্ষরতা
  3. সাক্ষ্যরতা
  4. স্বাক্ষ্যরতা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সাক্ষরতা
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: অক্ষর পরিচয়, অক্ষরজ্ঞান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১০২.
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।'- এখানে 'ফুলের' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. সম্বন্ধ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে 'র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১০৩.
"এই দূরবীক্ষণ দিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠ স্পষ্ট দেখা যায়।" - বাক্যে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ভুল নেই
  2. বানানজনিত ভুল
  3. উপমাজনিত 
  4. প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) ভুল নেই।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “এই দূরবীক্ষণ দিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠ স্পষ্ট দেখা যায়।”
এই বাক্যটি বাংলা ব্যাকরণ, বানান, এবং অর্থের দিক থেকে সঠিক। 

অন্যান্য অপশন,
বানান: ‘দূরবীক্ষণ’, ‘চাঁদের’, ‘পৃষ্ঠ’, ‘স্পষ্ট’, এবং ‘যায়’ শব্দগুলোর বানান সঠিক এবং প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুসারে লেখা।

যোগ্যতা: বাক্যটি অর্থপূর্ণ এবং স্পষ্টভাবে বোঝায় যে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে চাঁদের পৃষ্ঠ পরিষ্কারভাবে দেখা সম্ভব। শব্দগুলোর ব্যবহার যথাযথ এবং বাক্যের গঠন সঠিক।

প্রত্যয়: বাক্যে ব্যবহৃত শব্দগুলোর প্রত্যয় (যেমন: ‘চাঁদের’ শব্দে ‘-এর’ সম্বন্ধপদ, ‘যায়’ শব্দে ক্রিয়াপ্রত্যয়) সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০৪.
শুদ্ধ বানান –
  1. তত্তাবধান
  2. আটপৌরে
  3. কুজ্জটিকা
  4. ইত্যকার
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান – 'আটপৌরে'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

অন্যদিকে,
ইত্যকার – ইত্যাকার,
কুজ্জটিকা – কুজ্ঝটিকা,
তত্তাবধান – তত্ত্বাবধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১০৫.
সঠিক বানান নয় কোনটি?
  1. ধরণি
  2. মূর্ছা
  3. গুণ
  4. প্রানী
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান: প্রানী।

শুদ্ধ বানান: প্রাণী (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (প্রাণ + ইন্),
অর্থ:
- মানুষ পশু পাখি কীটপতঙ্গ প্রভৃতি জীব।

অন্যদিকে,
• ধরণি (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: পৃথিবী, ধরা, যে সবকিছু ধারণ করে।

• মূর্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: অচৈতন্য অবস্থা; মোহপ্রাপ্তি।

• গুণ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: ধর্ম স্বভাব, প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১০৬.
'আমাকে একখানা বই দাও।' বাক্যে 'বই' কোন কারক? 
  1. করণ কারক 
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন:
- বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

• কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- আমার গানের মালা আমি করবো কারে দান।

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।

- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম) - এখানে 'আমাকে কী দাও?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'বই'। তাই 'বই' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,১০৭.
দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক- বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী কোন বিভক্তি? 
  1. তৃতীয়া বিভক্তি
  2. প্রথমা বিভক্তি
  3. দ্বিতীয়া বিভক্তি
  4. শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি:  
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি:  ০, অ।
- দ্বিতীয়া বিভক্তি : কে, রে।
- তৃতীয়া বিভক্তি : দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
- চতুর্থী বিভক্তি : কে, রে।
- পঞ্চমী বিভক্তি : হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
- ষষ্ঠী বিভক্তি : র, এর।
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১০৮.
"রহিম ভালো ফুটবল খেলতে পারে" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিস্ময়সূচক বাক্য
  2. খ) বিবৃতিমূলক বাক্য
  3. গ) প্রশ্নবোধক বাক্য
  4. ঘ) আদেশসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
'রহিম ভালো ফুটবল খেলতে পারে' হচ্ছে - বিবৃতিমূলক বাক্য।

• বিবৃতিমূলক বাক্য: 
- এ বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা বর্ণনা নির্দেশ করা হয়। 
- এই ধরনের বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অস্তিবাচক বাক্য ও নেতিবাচক বাক্য।

বিবৃতিমূলক বাক্যের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে - 
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৯.
'অরণ্যে রোদন' না বলে 'বনে ক্রন্দন' বললে বাক্যটি কী হারাবে?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) ঊদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা
• বাগধারার শব্দ পরিবর্তন:
- বাগধারা ভাষাবিশেষের ঐতিহ্য।
- এর যথেচ্ছ পরিবর্তন করলে শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- যেমন- ‘অরণ্যে রোদন' (অর্থ : নিষ্ফল আবেদন)-এর পরিবর্তে যদি বলা হয়।
- ‘বনে ক্রন্দন’ তবে বাগধারাটি তার যোগ্যতা হারাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০১৯)। 
১,১১০.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশিষ্টতা
  2. কৃপণতা
  3. স্বাতন্ত্র‌্যতা
  4. চঞ্চলতা
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাতন্ত্র‌্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।

• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধরূপ - শুদ্ধরূপ:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• স্বাতন্ত্র‌্যতা - স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• বৈশিষ্ট্যতা -বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
• চাঞ্চল্যতা - চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১১১.
"ছুরিতে কাটল ফল।" - এ বাক্যে "ছুরিতে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• বাক্যটি - "ছুরিতে কাটল ফল।" - 
- এখানে "কিসের দ্বারা কাটল?" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছুরিতে'।
- এবং ৭মী বিভক্তি (এ) এর প্রয়োগ ঘটেছে। 
- সে অনুসারে এখানে 'ছুরিতে' হচ্ছে করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১১২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. মহর্শি
  2. মহর্ষি
  3. মহর্সি
  4. মহর্ষী
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - মহর্ষি
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [মহান্ + ঋষি]
অর্থ: ঋষিশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১১৩.
'যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে।'- কোন শ্রেণির বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. জটিল বা মিশ্র
  3. সরল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা; যতই -ততই ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন: 
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৪.
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।'- এখানে 'ফুলের' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারকে ৪র্থী
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী
  3. কর্মকারকে ২য়া
  4. সম্বন্ধ কারকে ৬ষ্ঠী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১১৫.
কোন বাক্যে উত্তম পুরুষ ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. ওরা কি করে?
  2. আপনি গিয়েছিলেন?
  3. তোরা কবে আসবি?
  4. আমরা যাচ্ছি না।
ব্যাখ্যা
• ‘আমরা যাচ্ছি না।’- বাক্যে আমরা উত্তম পুরুষের দৃষ্টান্ত।

পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
১. উত্তম পুরুষ,
২. মধ্যম পুরুষ,
৩. নাম পুরুষ।

⇒ উত্তম পুরুষ: ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।
⇒ মধ্যম পুরুষ: বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।
⇒ নাম পুরুষ: বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৬.
বাক্যে সামান্য বিরতি নির্দেশ করে-
  1. কমা
  2. দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
কমা (,) বাংলা ভাষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ যতিচিহ্ন যা বাক্যে সামান্য বিরতি নির্দেশ করে এবং বক্তব্যকে স্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত করতে সাহায্য করে। এটি পূর্ণযতিচিহ্ন নয়, তাই কমা দিয়ে বাক্য শেষ হয় না। নিচে কমার ব্যবহারের প্রধান ক্ষেত্রগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:

কমার ব্যবহার:
• শব্দ, বাক্যাংশ বা অধীন বাক্য পৃথক করা: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ, বাক্যাংশ বা অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশের ছয়টি ঋতু।

• সম্বোধন পদের পরে: কাউকে সম্বোধন করার সময় নাম বা সম্বোধন পদের পর কমা বসে।
উদাহরণ: সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• বাক্যের মধ্যে ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত তথ্য আলাদা করা: বাক্যে কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

• উদ্ধৃতি বা সরাসরি কথনের আগে: কোনো উদ্ধৃতি বা সরাসরি কথন শুরুর আগে কমা বসে।
উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।"

• বাক্যে স্পষ্টতা আনতে: বাক্যের গঠন জটিল হলে পড়ার সুবিধার্থে বা অর্থ স্পষ্ট করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।

অন্যদিকে,
• দাঁড়ি, বিস্ময়চিহ্নের মাধ্যমে বাক্যের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং এগুলোপূর্ণ যতিচিহ্ন হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
• বাক্যাংশ বা বাক্যের অংশকে সংযুক্ত করতে এবং নির্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১১৭.
‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ — এটুকু বললে বাক্যের কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়?
  1. আসত্তি
  2. পদক্রম
  3. যোগ্যতা
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

অন্যদিকে,
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১১৮.
"ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।" - এখানে কোন ধরনের খণ্ডবাক্য রয়েছে?
  1. বিশেষণ স্থানীয়
  2. ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয়
  3. বিশেষ্য স্থানীয়
  4. কার্যবাচক
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা:
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১১৯.
স্বভাবতই ‘ণ’ হয় কোন শব্দে?
  1. ক) চিক্কণ
  2. খ) বেণু
  3. গ) লণ্ঠন
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমনঃ
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্বণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১,১২০.
"রফিক বললো, "আমি বাড়ি যাবো।" - পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. রফিক বললো সে বাড়ি যাবে।
  2. রফিক বললো যে, সে বাড়ি যাবে।
  3. রফিক বললো, বাড়ি যাবো।
  4. রফিক বললো বাড়ি যেতে হবে।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
• প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

সে অনুসারে, 
বাক্যটি হবে - রফিক বললো যে, সে বাড়ি যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২৩ সংস্করণ)।
১,১২১.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. স্নেহাশিস 
  2. স্নেহাশীষ 
  3. স্নেহশিষ 
  4. স্নেহশীষ 
ব্যাখ্যা

•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান- স্নেহাশিস ।
- শব্দটির অর্থ- স্নেহাশীর্বাদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১২২.
’আভরণ'
  1. ক) অলংকার
  2. খ) গাছের বাকল
  3. গ) আচ্ছদন
  4. ঘ) জিনিসপত্র
ব্যাখ্যা
• আভরণ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [আ+√ভৃ+অন]
অর্থ: ভূষণ, অলংকার, গহনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১২৩.
‘দুঃখের দহন’ কোন প্রকার সম্বন্ধ পদ?
  1. ক) অভেদ সম্বন্ধ
  2. খ) কার্যকারণ সম্বন্ধ
  3. গ) ব্যাপ্তি সম্বন্ধ
  4. ঘ) উপমান-উপমেয়
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ বহু প্রকারের হতে পারে। যেমন:
অধিকরণ সম্বন্ধ : রাজার রাজ্য, প্রজার জমি।
কার্যকারণ সম্বন্ধ : অগ্নির উত্তাপ, রোগের কষ্ট।
হেতু সম্বন্ধ : ধনের অহংকার, রূপের দেমাক।
ব্যাপ্তি সম্বন্ধ : রোজার ছুটি, শরতের আকাশ।
অভেদ সম্বন্ধ : জ্ঞানের আলোক, দুঃখের দাহন।
উপমান-উপমেয় সম্বন্ধ : ননীর পুতুল, লোহার শরীর।
নির্ধারক সম্বন্ধ : সবার সেরা, সবার ছোট।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১,১২৪.
কোনটি লগ্নক নয়?
  1. উপসর্গ
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
'উপসর্গ' লগ্নক নয়।

লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের। যথা:

বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১২৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিরঃবধি
  2. ঘূর্নিঝড়
  3. লন্ঠন
  4. সুবর্ন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'লন্ঠন'- শব্দটির বানান শুদ্ধ।
কারণ, 
'ণ-ত্ব' বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন নেই। 'লন্ঠন' - ইংরেজি শব্দ।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ বানান:
নিরঃবধি- নিরবধি, 
ঘূর্নিঝড় - ঘূর্ণিঝড়,
সুবর্ন - সুবর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১২৬.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ইন্দ্রযালিক
  2. মনোহারিণী
  3. কুসংষ্কার
  4. সন্তোস
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মনোহারিণী
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- উচ্চ পদমর্যাদাসম্পন্ন মহিলা।

অন্যদিকে,
- ইন্দ্রযালিক - ইন্দ্রজালিক,
- কুসংষ্কার - কুসংস্কার,
- সন্তোস - সন্তোষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১২৭.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
  2. খ) নির্বাচন উপলক্ষ্যে পুরোদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
  3. গ) নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। - বাক্যটি শুদ্ধ।

• নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। - বাক্যে 'সারা দেশব্যাপী' বাগ্‌ভঙ্গিটির ব্যবহার বাহুল্য দোষে দুষ্ট। 'দেশব্যাপী' শব্দের অর্থ সারা দেশ। সুতরাং দেশব্যাপীর পুর্বে অযথা 'সারা' লেখা সমীচীন নয়। এটি বাক্যটিকে অশুদ্ধ, মেদবহুল, ও অসুন্দর করে দিয়েছে।

লিখতে হবে: নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,১২৮.
নিম্নের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) এটা কাঁচা হাতের লেখা।
  2. খ) সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
  3. গ) বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
  4. ঘ) জ্যোৎস্না রাত বড়ই মধুর।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপটি হচ্ছে-
- বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১২৯.
'লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।' এখানে ‘জাতিতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক।
 যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ –কলম),
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়। (উপায় – সাধনা)।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

কর্মকারক:
- কর্তা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কি বা ‘কাকে' জিজ্ঞেস করে যে উত্তর পাওয়া যায় তা কর্ম এবং ক্রিয়া পদের সঙ্গে কর্মের সম্বন্ধই কর্মকারক।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৩০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) আইনত অনুসারে তিনি একাজ করতে পারেন না।
  2. খ) এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. গ) বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
  4. ঘ) মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসি।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যঃ
- আইনত তিনি একাজ করতে পারেন না।
- এটা কাঁচা হাতের লেখা।
- বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
- মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,১৩১.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অভীভুত
  2. অভিভুত
  3. অভীভূত
  4. অভিভূত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - অভিভূত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৩২.
'টেস্ট পরীক্ষা' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) টেস্‌ট্‌ পোরিক্‌খা
  2. খ) টেস্ট্‌ পরিখ্কা‌
  3. গ) টেস্‌ট পরিখ্‌কা
  4. ঘ) টেস্ট পোরিক্ষা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে টেস্‌ট্‌ পোরিক্‌খা।

• টেস্ট পরীক্ষা:
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে টেস্‌ট্‌ পোরিক্‌খা।
- এর অর্থ হচ্ছে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,১৩৩.
কোন শব্দগুচ্ছের সবগুলো বানানই শুদ্ধ?
  1. ভবিষ্যৎ, ভৌগলিক, যক্ষা
  2. যশলাভ, সদ্যোজাত, সংবর্ধনা
  3. স্বায়ত্তশাসন, অভ্যন্তর, উপর্যুক্ত
  4. ঐক্যতান, কেবলমাত্র, জন্মবার্ষিক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তৃতীয় শব্দগুচ্ছের সবগুলো বানান শুদ্ধ। প্রথম শব্দ গুচ্ছের ২টি, দ্বিতীয় শব্দগুচ্ছের ১ টি ও চতুর্থ শব্দগুচ্ছের ২ টি বানান ভুল।
ভুল বানানগুলোর শুদ্ধরূপ - ভৌগলিক = ভৌগোলিক, যক্ষা = যক্ষ্মা, যশলাভ = যশোলাভ, ঐক্যতান = ঐকতান, কেবলমাত্র = কেবল।
১,১৩৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সমীচীন 
  2. সমাহীত 
  3. সমীক্ষিত 
  4. সমীকরণ 
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান- সমাহীত। 

• শুদ্ধ বানান: সমাহিত।
- শব্দটি বিশেষণ পদ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- সমাধিস্থ। 
- ধ্যানমগ্ন।
- মীমাংসিত।
- সম্পাদিত। 
- অবহিত।

স্ত্রীবাচক শব্দ- সমাহিতা/শমাহিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১,১৩৫.
আমার যাওয়া হবে না। - বাক্যে 'আমার' কী?
  1. কর্মবাচ্যের কর্তা
  2. ভাববাচ্যের কর্তা
  3. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা
  4. কর্ম-ভাববাচ্যের কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে। যেমন -
১. কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মপদের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্যে): আমার যাওয়া হবে না
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): কলমটা লেখে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৩৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিষ্প্রাণ
  2. আয়ুস্কাল
  3. ঘূর্ণ্যমান
  4. দৌরাত্ম্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- আয়ুস্কাল এর শুদ্ধ বানান হবে আয়ুষ্কাল।

অন্যদিকে,
- 'নিষ্প্রাণ' বানানটি শুদ্ধ।

• 'ঘূর্ণ্যমান' বানানটি সঠিক। 

• দৌরাত্ম্য - বানানটি সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম। 
১,১৩৭.
ভোর হলে, সে ব্যক্তি, ঐ ইউরোপীয়ের সঙ্গে কিছুটা দূরে গেলো। এটি কী ধরণের বাক্য?
  1. ক) মিশ্র
  2. খ) জটিল
  3. গ) সরল
  4. ঘ) যৌগিক
ব্যাখ্যা
সরলঃ ভোর হলে, সে ব্যক্তি, ঐ ইউরোপীয়ের সঙ্গে কিছুটা দূরে গেলো।
যৌগিকঃ যখন ভোর হলো তখন সে ব্যক্তি ঐ ইউরোপীয়ের সঙ্গে কিছুটা দূরে গেলো।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,১৩৮.
নিচের কোন বানানটি প্রমিত নিয়ম অনুসারে অশুদ্ধ?
  1. মরণ
  2. মাস্টার
  3. ভূমিসাৎ
  4. মূর্চ্ছা
ব্যাখ্যা

• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

অন্যদিকে,
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৩৯.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. দশচক্রে ভগবান ভূত
  2. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল রাষ্ট্র
  3. আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে
  4. মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য:
- বাংলা ভাষার শুদ্ধ প্রয়োগ হলো সৃজনশীলভাবে সঠিক বলা বা লেখা।
- এটি ব্যাকরণের নিয়ম মেনে করা হয়, যা ভাষাকে সুন্দর, মার্জিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখে।
- বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল রাষ্ট্র → অশুদ্ধ। 
- বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র → শুদ্ধ।
- উন্নতশীল অশুদ্ধ কারণ এখানে বিশেষ্য পদ উন্নয়নশীল শুদ্ধ। 
---------------------
• বাংলায় বহুল প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্য এবং তাদের শুদ্ধ রূপ নিচে দেওয়া হলো: 

- বিদ্বান মহিলা → অশুদ্ধ। 
- বিদুষী মহিলা → শুদ্ধ। 

- দশচক্রে ঈশ্বর ভূত → অশুদ্ধ। 
- দশচক্রে ভগবান ভূত → শুদ্ধ। 

- আসছে আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে → অশুদ্ধ।
- আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে → শুদ্ধ।

- আমি এ ঘটনা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছি → অশুদ্ধ।
- আমি এ ঘটনা চাক্ষুষ দেখেছি / প্রত্যক্ষ করেছি → শুদ্ধ।

- মেয়েটি বিদ্বান কিন্তু ঝগড়াটে → অশুদ্ধ।
- মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে → শুদ্ধ।

- আমি সাক্ষী দিব না → অশুদ্ধ।
- আমি সাক্ষ্য দেব না → শুদ্ধ।

- আমি গীতাঞ্জলী পড়েছি → অশুদ্ধ।
- আমি গীতাঞ্জলি পড়েছি → শুদ্ধ।

- আবশ্যকীয় বিছানাপত্র নিয়ে আসবেন → অশুদ্ধ।
- আবশ্যক বিছানাপত্র নিয়ে আসবেন → শুদ্ধ।

- গাছটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে → অশুদ্ধ।
- গাছটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে → শুদ্ধ।

- তিনি স্বস্ত্রীক কুমিল্লা বাস করেন → অশুদ্ধ।
- তিনি সস্ত্রীক কুমিল্লা বাস করেন → শুদ্ধ।

- এ কথা প্রমাণ হয়েছে। → অশুদ্ধ।
- এ কথা প্রমাণিত হয়েছে। → শুদ্ধ।

- পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়। → অশুদ্ধ।
- পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়। → শুদ্ধ।

- ঘটনা বর্ণনা হয়েছে। → অশুদ্ধ।
- ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। → শুদ্ধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৪০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কূপমন্ডূক
  2. কূপমণ্ডূক
  3. কুপমণ্ডূক
  4. কুপমন্ডূক
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - কূপমণ্ডূক
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- সীমাবদ্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৪১.
অপাদান কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।
  2. বাড়িতে কেউ নেই।
  3. ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
  4. লোকমুখে এ কথা শোনা যায়।
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

 বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

এরূপ-
• লোকমুখে এ কথা শোনা যায়।
[ বাক্যকে কোথা হতে শোনা যায়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লোকমুখে'। সুতরাং 'লোকমুখে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]

অন্যদিকে, 
• এ বাড়িতে কেউ নেই।- অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 
• আমি প্রভাতে উঠেছিলাম।- অধিকরণ কারকের উদাহরণ। 
• ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।- কর্মকারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪২.
সঠিক বানান নির্ণয় করুন।
  1. বিদূষী
  2. বিদুষী
  3. বীদুষি
  4. বিদূষি
  5. বিদুষি
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - বিদুষী
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বিদ্যাবতী নারী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৪৩.
শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহার এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) কমা
  2. খ) বিন্দু
  3. গ) কোলোন
  4. ঘ) ড্যাশ
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে কিংবা বাক্যের আবেগ (আনন্দ, বেদনা, দুঃখ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশের উদ্দেশে বাক্যগঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন।

বিন্দু
শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিন্দু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- তিনি পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেছেন।
- রাজু এবার এস.এস.সি পাস করেছে।

উৎস বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
১,১৪৪.
"মাটিরে আমি যে বড়ো ভালোবাসি।" - বাক্যে 'মাটিরে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্তা কারক
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।

কাব্যভাষায় কর্মকারকে ‘রে বিভক্তি হয়:
যেমন –
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মাের প্রার্থনা।
- মাটিরে আমি যে বড়ো ভালোবাসি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1.  নিপীড়ীত
  2.  নিপিড়িত
  3. নীপিড়িত
  4. নিপীড়িত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - নিপীড়িত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- নির্যাতিত, নিগৃহীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৪৬.
‘যেই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম? - এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য: কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

উল্লেখিত, ‘যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম’।-  বাক্যটি মিশ্র বা জটিল বাক্য। বাকিগুলো যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪৭.
'ইয়ারাই দুনিয়ায় আগুন লাগেয়া দিল।'- এখানে 'দুনিয়ায়' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়।

- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- ইয়ারাই দুনিয়ায় আগুন লাগেয়া দিল।
[বাক্যে ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'দুনিয়ায়'। তাই, 'দুনিয়ায়' শব্দটি অধিকরণ কারকের সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৮.
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই?
  1. ক) ণ
  2. খ) ষ
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দের বানানে 'ণ' এবং 'ষ' - এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব, ষত্ব বিধান। 

• বাংলা, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না৷
তাছাড়া সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়।

•  বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়ােজন হয় না।
যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৪৯.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নির্নিমেষ
  2. পটিয়সী
  3. ভস্মীভূত
  4. ইতঃপূর্বে
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পটিয়সী' - অশুদ্ধ বানান।

• 'পটিয়সী' এর শুদ্ধ বানান: পটীয়সী।
-----------------------
• 'পটীয়ান' শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত পটু, সুদক্ষ।

• 'পটীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - পটীয়সী।
----------------

অন্যদিকে,
কণ্ঠস্থ, ভস্মীভূত, ইতঃপূর্বে - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৫০.
"সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না।" এই বাক্যে 'মেঘে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• "সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না।" এই বাক্যে 'মেঘে' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- এখানে সাদা মেঘ থেকে বৃষ্টির বিচ্যুতি বুঝাচ্ছে তাই এটি অপাদান কারক।

• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। 
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।
১,১৫১.
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৫২.
সেমিকোলন চিহ্নে কত সময়ে থামতে হয়?
  1. কমা অপেক্ষা বেশি, দাঁড়ির চেয়ে কম বিরতি
  2. দাঁড়ির চেয়ে বেশি
  3. কমার চেয়ে কম
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে। একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়। শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না। সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে।

যেমন:
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৫৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?  
  1. অন্তঃজগত
  2. অভ্যন্তরীণ
  3. দ্বন্দ্ব
  4. সম্প্রীতি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান নয়অন্তঃজগত। 
-----------------------------------
• অশুদ্ধ বানান - অন্তঃজগত।
• শুদ্ধ বানান - 'অন্তর্জগৎ'।
• শব্দের অর্থ:
-  মনোজগৎ, ভাবলোক, চিন্তারাজ্য।

• অন্তর্জগৎ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো- অন্তঃ + জগৎ।
• অন্তর্জগৎ' শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
• অন্তর্জগৎ' একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
• অন্তর্জগৎ এর বিপরীত শব্দ - বহির্জগৎ।
• অন্তর্জগৎ' শব্দটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: 'অন্তর্' (উপসর্গ) এবং 'জগৎ' (নামপদ/প্রকৃতি);
- এখানে 'অন্তর্' উপসর্গটি 'জগৎ' শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'অন্তর্জগৎ' শব্দটি তৈরি করেছে। 
--------------------------
অন্যদিকে,
- অভ্যন্তরীণ, দ্বন্দ্ব, সম্প্রীতি- শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৫৪.
কোনটি সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ?
  1. শিক্ষক ছাত্রকে প্রশ্ন করলেন।
  2. জমি থেকে ফসল দেখা যায়।
  3. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  4. শিক্ষককে জানাও।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
→ ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।

অন্যদিকে, 
ক) শিক্ষককে জানাও = কর্ম কারক।
খ) ডাক্তার ডাক। - কর্মে শূন্য।
ঘ) গাছ থেকে কাঠ পাই।
"গাছ থেকে" → উৎস থেকে কিছু পাওয়া বোঝাচ্ছে, তাই এটিও অপাদান কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৫৫.
‘তিনি চোখে দেখেন না’ বাক্যে ‘চোখে’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে, করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। 
- করণ শব্দটির অর্থ যন্ত্র , সহায়ক বা উপায়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়। 
- 'তিনি' চোখে দেখেন না'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৫৬.
'অন্ধজনে দেহ আলাে।' - বাক্যে 'অন্ধজনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ষষ্ঠী
  4. সম্প্রদানে ৭মী
ব্যাখ্যা

• 'অন্ধজনে দেহ আলাে।' - বাক্যে 'অন্ধজনে' সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে।

সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,১৫৭.
'খেলা হলো জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম।' - এর প্রশ্নবোধক বাক্য কোনটি?
  1. ক) খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম কি?
  2. খ) খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম নয় কি?
  3. গ) খেলা কি জীবজগতের কর্ম নয়?
  4. ঘ) খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম না?
ব্যাখ্যা
নেতিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নবোধক বাক্যে রুপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে এবং নেস্তিবাচক বাক্যকে প্রশ্নবোধক বাক্যে রূপান্তরের পর প্রশ্নবোধক বাক্যে প্রশ্ন চিহ্ন (?) বসাতে হবে।

নিয়ম১ঃ
নেতিবাচক বাক্যের না-সূচক শব্দ তুলে দিতে হয় এবং নির্দেশক হলে 'কি' এবং নঞর্ধক বাকা হলে 'নাকি', ‘নয় কি'-সহ জিজ্ঞাসার চিহ্ন (?) ব্যবহার করতে হয়। যেমন :
নেতিবাচক : খেলা হলো জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম।
প্রশ্নবোধক : খেলা জীবজগতের নিষ্পাপ কর্ম নয় কি?
নেতিবাচক : আর পথ নেই।
প্রশ্নবোধক আর কি পথ নেই?

নিয়ম ২ঃ
'না' সূচক শব্দ তুলে দিয়ে 'হ্যাঁ'-সূচক অর্থপূর্ণ শব্দের ব্যবহার করতে হয় এবং 'কি', 'নয় কি', শব্দ ব্যবহার করে জিজ্ঞাসা চিহ্ন বসাতে হয়।
যেমন :
নেতিবাচক : দুঃখের আর অন্ত নেই। প্রশ্নবোধক : দুঃখের অন্ত আছে কি? 

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৫৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনূযায়ী 
  2. পিঁপীলিকা
  3. কনীনিকা
  4. বীভিষীকা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- কনীনিকা। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।  


• 'অনূযায়ী' এর শুদ্ধ বানান - অনুযায়ী।
• 'পিঁপীলিকা' এর শুদ্ধ বানান-  পিপীলিকা। 
• 'বীভিষীকা' এর শুদ্ধ বানান-  বিভীষিকা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৫৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ন্যূনতম
  2. নূপুর
  3. যুপকাষ্ঠ
  4. প্রাতরাশ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'যুপকাষ্ঠ' - বানানটি শুদ্ধ নয়। 
 এর শুদ্ধ বানান- যূপকাষ্ঠ। 

• 'যূপকাষ্ঠ' তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

• 'যূপকাষ্ঠ' শব্দের অর্থ:
যে কাঠের ওপর রেখে পশু বলি দেওয়া হয়, হাড়িকাঠ।

অন্যদিকে,
- নূন্যতম শব্দের শুদ্ধ বানান - ন্যূনতম।
- নুপুর এর শুদ্ধ বানান - নূপুর।
- প্রাতঃরাশ শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রাতরাশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৬০.
একটি বাক্যের কয়টি অংশ থাকে?
  1. পাঁচটি
  2. চারটি
  3. তিনটি
  4. দুইটি
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৬১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. নথিপত্র
  2. ণথিপত্র
  3. নতিপত্র
  4. নথিপত্ত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - নথিপত্র

• নথিপত্র (বিশেষ্য)
- মিশ্র শব্দ (হিন্দি নথি+ সংস্কৃত পত্র)
অর্থ: কোন বিষয়ে এক সঙ্গে গেঁথে রাখা কাগজপত্র; দলিল দস্তাবেজ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,১৬২.
তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ বাক্যকে কোন দোষে দুষ্ট করে?
  1. ক) দুর্বোধ্যতা
  2. খ) গুরুচণ্ডালী
  3. গ) রীতিসিদ্ধ
  4. ঘ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ বাক্যকে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া, প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৬৩.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. শ্রেষ্ঠতম
  2. রাজাগণ
  3. শুধুমাত্র
  4. অহোরাত্র
ব্যাখ্যা

- শ্রেষ্ঠতম এর শুদ্ধরূপ : শ্রেষ্ঠ/সর্বশ্রেষ্ঠ,
- রাজাগণ এর শুদ্ধরূপ : রাজগণ,
- শুধুমাত্র এর শুদ্ধরূপ : শুধু/মাত্র।
অন্যদিকে,
- 'অহোরাত্র' শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৬৪.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) বীদ্রুপ
  2. খ) গড্ডালীকা
  3. গ) দারিদ্রতা
  4. ঘ) সম্ভবপর
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক শব্দঃ
- সম্ভবপর
- বিদ্রূপ/ বিদ্রুপ
- দরিদ্রতা
- গড্ডলিকা/ গড্ডালিকা

সোর্সঃ বাংলা একাডেমী অভিধান; বাংলা একাডেমি বাংলা বানান-অভিধান।

১,১৬৫.
'কান্নায় শোক কমে'- এ বাক্যে 'কান্নায় কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. সম্প্রদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণকারক
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত ‘কান্নায় শোক কমে” বাক্যে  বাক্যে ‘কান্নায়’ হলো অধিকরণ কারক।

- এটি হলো অধিকারণ কারকের মধ্যে ভাবাধিকরণ কারকের অন্তর্গত।

ভাবাধিকরণ অধিকরণ কারক:
- যদি কোন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিরকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬৬.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
  3. তার কথা প্রমাণ হলো।
  4. বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• বাক্যটিতে বিশেষ্যের বিশেষণ-রূপ সঠিক ভাবে ব্যবহার হয়নি।

• অশুদ্ধবাক্য : তার কথা প্রমাণ হলো।
• শুদ্ধবাক্য : তার কথা প্রমাণিত হলো।।

• অশুদ্ধবাক্য : অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
• শুদ্ধবাক্য : অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

অন্যদিকে,
- অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৬৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মালদ্বিপ
  2. পর্তুগিজ
  3. বাঙালি
  4. গ্রিস
ব্যাখ্যা
• যে কোন দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই/ঈ কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে নিশ্চিন্তে ই-কার (ি)) দেওয়া যাবে।
যেমন-
দেশ:
- গ্রিস, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি ইত্যাদি।
- ব্যতিক্রম- মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা।

জাতি:
- বাঙালি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।

ভাষা:
- হিন্দি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি।

উৎস:
১) লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৬৮.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. পরিশ্রমী ব্যক্তিরাই জীবনে সাফল্য লাভ করে।
  2. তিনি বিদ্বান কিন্তু তাঁর বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।
  3. মুসলিমদের যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
  4. সৎ লোক কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
ব্যাখ্যা

 • জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
• যে - সে, যা - তা, যিনি - তিনি, যাঁরা - তাঁরা ইত্যাদি।
• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন – তখন, যেমন - তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু -সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- মুসলিমদের যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
[প্রদত্ত বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন অপ্রধান খণ্ডবাক্য 'যা - তা' সাপেক্ষ সর্বনাম দ্বারা যুক্ত হয়ে ভাব প্রকাশ করছে।]

অন্যদিকে,
• পরিশ্রমী ব্যক্তিরাই জীবনে সাফল্য লাভ করে।

• সৎ লোক কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
বাক্যগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।
• তিনি বিদ্বান কিন্তু তাঁর বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।বাক্যটি সরল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৬৯.
আপ্যায়নের উদ্দেশ্য যে দাওয়াত পত্র তাকে বলে-
  1. ক) আমন্ত্রণপত্র
  2. খ) নিমন্ত্রণপত্র
  3. গ) মানপত্র
  4. ঘ) অভিনন্দন পত্র
ব্যাখ্যা
নিমন্ত্রণ, নেমন্তন্ন (বিশেষ্য) - দাওয়াত; ভোজনে আহ্বান,।
আমন্ত্রণ - আহ্বান ,অভ্যাগত, আহূত।

সুতরাং যে সকল দাওয়াত বা আহ্বানে আহ্বানকারীর পক্ষ থেকে ভুরি-ভোজের ব্যবস্থা থাকে তাকে নিমন্ত্রণ এবং যেখানে আহ্বানকারীর পক্ষ থেকে সাধারণত ভোজের ব্যবস্থা থাকে না বা মাঝে মাঝে থাকলে তা ভুরিভোজ নয় তাকে আমন্ত্রণ বলে।

সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,১৭০.
"ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।" - বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. প্রত্যয়জনিত
  2. পদক্রম জনিত
  3. বহুবচনজনিত
  4. যোগ্যতার অভাব 
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৭১.
কোনটি শুদ্ধ শব্দ?
  1. ক) প্রানি
  2. খ) প্রানী
  3. গ) প্রাণি
  4. ঘ) প্রাণী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'প্রাণী'- বানানটি শুদ্ধ। 

বাংলা একাডেমী আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে
কিছু বানানের শুদ্ধরূপ
- শিরশ্ছেদ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- ন্যূনতম,
- অপরাহ্ণ,
- জ্ঞানভূষিত, 

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 
১,১৭২.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. শুশ্রূষা
  2. মুমূর্ষু
  3. সায়ত্ত্বশাসন
  4. সর্বস্বান্ত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - সায়ত্ত্বশাসন
- শুদ্ধ বানান - স্বায়ত্তশাসন।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।

অন্যদিকে,
- সর্বস্বান্ত, 
- মুমূর্ষু, 
- শুশ্রূষা।
উপরিউক্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৭৩.
‘আমাকে একখানা বই দাও।' বাক্যটিতে 'বই’ - শব্দটির কারক ও বিভক্তি কোনটি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• ‘আমাকে একখানা বই দাও।' বাক্যটিতে 'বই’ - শব্দটি কর্মে শূন্য বিভক্তি। 

কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন -
- সেলিম বই পড়ে।
এ বাক্যের কর্ম হলাে 'বই'। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়ােগে)

খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: তাকে বল।
রে বিভক্তি: ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।'

গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: তােমার দেখা পেলাম না।

ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৪.
উৎপত্তির বিচারে 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ' হলো -
  1. খাঁটি বাংলা ছন্দ
  2. তৎসম ছন্দ
  3. তদ্ভব ছন্দ
  4. দেশি ছন্দ
ব্যাখ্যা
⇒ মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ “তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

অন্যদিকে,
⇒ অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
১,১৭৫.
দুটি পদের সংযোগস্থলে কী বসে?
  1. ক) ড্যাশ
  2. খ) হাইফেন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) কোলন ড্যাশ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব। 
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৭৬.
‘এমন ছেলে  আর দেখিনি’ – বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন্ কারকে কোন্ বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। 

কর্মকারকের প্রকারভেদ: 
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম - নাসিমা ফুল তুলছে। 
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম - ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও। 
• সমধাতুজ কর্ম - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

কর্ম কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
১মা বা শূন্য বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক,
- এমন ছেলে আর দেখিনি।

২য়া বিভক্তি:
- ডাক্তারকে ডাক,
- তাকে বল।

৬ষ্ঠী বিভক্তি:
- তোমার দেখা পাইনি।

৭মী বিভক্তি:
- ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
১,১৭৭.
পাপে বিরত হও-এটি কোন কারক? 
  1. কর্তৃকারক
  2. করণকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ); বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,১৭৮.
নেতিবাচক বাক্য কোনটি?
  1. ক) রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিল না।
  2. খ) রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিল!
  3. গ) রাশেদ কি তাহার অর্থ বুঝিল না?
  4. ঘ) রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিতে ব্যর্থ হইল।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিল না।

নেতিবাচক বাক্য :
- যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।

উদাহরণ:

- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
১,১৭৯.
নিচের কোন শব্দটি অপপ্রয়োগ?
  1. সৌহার্দ
  2. চাঞ্চল্য
  3. গাম্ভীর্যতা
  4. স্বতঃপ্রণোদিত
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

অন্যদিকে, 
-সৌহার্দ; 
- চাঞ্চল্য; 
- স্বতঃপ্রণোদিত।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৮০.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. শাশ্বত
  2. প্রজ্বলিত
  3. জাজ্বল্যমান
  4. গমণ
ব্যাখ্যা
• 'গমণ'- বানানটি অশুদ্ধ। শব্দটির শুদ্ধরূপ: 'গমন'।
-------------------
অন্য অপশনগুলো সঠিক।
কারণ,  
• 'জাজ্জ্বল্যমান' এর শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান। 
• 'প্রোজ্বলিত' এর শুদ্ধ বানান- প্রজ্বলিত।
• 'শ্বাশত' এর শুদ্ধ বানান- শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি বাংলা বানান- অভিধান। 
১,১৮১.
কর্ম কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. শিক্ষককে জানাও।
  2. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  3. জমি থেকে ফসল পাই।
  4. বাবা বাড়িতে আছেন।
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
উল্লেখ্য, 
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 

অন্যদিকে,
"ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।" - সম্বন্ধ কারকের উদাহরণ।
"জমি থেকে ফসল পাই।" - অপাদান কারক। 
• বাবা বাড়িতে আছেন। - অধিকরণ কারক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,১৮২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. স্বাতন্ত্র্যতা
  2. স্বাতন্ত্র্য
  3. স্বতন্ত্রতা
  4. খ এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
"স্বাতন্ত্র্য" এবং "স্বতন্ত্রতা" — দুটি শব্দই বাংলা ভাষায় শুদ্ধ।

• "স্বাতন্ত্র্যতা" - শব্দটি অশুদ্ধ।

আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
- উপর্যুক্ত;
- প্রতিদ্বন্দ্বিতা;
- উচ্ছল;
- একান্নবর্তিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১৮৩.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক
  1. ক) গতকালের সভায় সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন
  2. খ) ছেলেটি ভয়ংকর মেধাবী
  3. গ) নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী
  4. ঘ) তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন
ব্যাখ্যা

নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।বাক্যটি সঠিক

প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিবেন।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৮৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য নয়?
  1. ক) তার বাবা একজন বুদ্ধিজীবী
  2. খ) সমুদয় সভ্য আসিয়াছেন
  3. গ) শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হলেন
  4. ঘ) তিনি আরোগ্য হইয়াছেন
ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যসমূহ-
তার বাবা একজন বুদ্ধিজীবী।
সমুদয় সভ্য আসিয়াছেন।
শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হলেন।
তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,১৮৫.
‘সে পরিশ্রম করেছে কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় নি’- গঠন অনুসারে বাক্যটি-
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) মিশ্র
  4. ঘ) জটিল
ব্যাখ্যা
⇒ যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক
বাক্য বলে।

• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, নতুবা, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- তাঁর টাকা আছে কিন্তু তিনি দান করেন না।
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে কিন্তু কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- বুঝে শুনে উত্তর দাও নতুবা ভুল হবে।
- সে পরিশ্রম করেছে কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় নি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৮৬.
কোন শব্দটির প্রয়োগ যথার্থ?
  1. ক) বাহ্যিক
  2. খ) বৈচিত্রতা
  3. গ) দৈন্যতা
  4. ঘ) মনোকামনা
ব্যাখ্যা
‘মনোকামনা’ শব্দটির প্রয়োগ যথার্থ।
অপশনের বাকি শব্দগুলোর সঠিক ব্যবহার হলোঃ
বাহ্যিক - বাহ্য
বৈচিত্রতা - বৈচিত্র, বিচিত্রতা
দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,১৮৭.
অন্ত্য যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• অন্ত্য যতিচিহ্ন নয়- সেমিকোলন। এটি অভ্যন্তর যতিচিহ্ন।

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।

১,১৮৮.
নিম্নের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) নির্দ্দিষ্ট
  2. খ) কার্যালয়
  3. গ) সূর্য্য
  4. ঘ) পর্ব্বত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = কার্যালয় 

অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ - নির্দিষ্ট, সূর্য, পর্বত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,১৮৯.
কোনটি বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) নিগৃহিত
  2. খ) নিঃস্বার্থ
  3. গ) নিকুঞ্জ
  4. ঘ) নিদ্রাকর্ষক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - নিগৃহিত
• শুদ্ধ বানান - নিগৃহীত (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [নি+√গ্রহ্+ত]
অর্থ: নির্যাতিত, লাঞ্ছিত, দণ্ডিত ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, নিঃস্বার্থ; নিকুঞ্জ; নিদ্রাকর্ষক বানাগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৯০.
'ভেড়া দিয়ে হাল চাষ করা সম্ভব নয়।' কোন কারক?
  1.  কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
• যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ‘দিয়ে’ ‘কতৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন-
ভেড়া দিয়ে হাল চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৯১.
'রাজু পুস্তক পাঠ করছে।' বাক্যটির কর্মবাচ্যে রূপ হবে-
  1. রাজু কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  2. রাজু কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  3. রাজু কর্তৃক পুস্তক পাঠ্য হচ্ছে।
  4. পুস্তক কর্তৃক রাজু পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য: রাজু পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: রাজু কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
------------------------------------------
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
-  কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
-  কর্তায় তৃতীয়া , কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

যেমন:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,১৯২.
উক্তি পরিবর্তন করুন: পাভেল বললো, "আমার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।"
  1. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।
  2. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকে।
  3. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকতো।
  4. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি এ বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।” - এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। – এটি পরোক্ষ উক্তি।

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
প্রত্যক্ষ উক্তি: পাভেল বললো, "আমার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকতো

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৯৩.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) দেশ গোটা ছারখার হয়ে গেছে
  2. খ) সাতেক গোটা আম এনো।
  3. গ) দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম।
  4. ঘ) কমলালেবু গোটা দুই আছে।
ব্যাখ্যা
• 'দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম।'- বাক্যটি সঠিক। 

• 'গোটা’ বচনবাচক শব্দের আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে।
এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য।
‘গোটা’ শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন-
- গোটাসাতেক আম এনো।
- গোটা দেশই ছারখার হয়ে গেছে।
- গোটাদুই কমলালেবু আছে (অনির্দিষ্ট)।
- দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম (নির্দিষ্ট)।
- একখানা বই কিনে নিও (অনির্দিষ্ট)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ। 
১,১৯৪.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. তিনি নিরহঙ্কারী ও নিরপরাধী মানুষ।
  2. তিনি স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান।
  3. অপরাহ্ন লিখতে অনেকেই ভুল করে।
  4. তিনি পৈতৃক ভিটায় বসবাস করেন।
ব্যাখ্যা

- 'তিনি নিরহঙ্কারী ও নিরপরাধী মানুষ।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'তিনি নিরহঙ্কার ও নিরপরাধ মানুষ।'
- 'তিনি স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'তিনি সচ্ছল পরিবারের সন্তান।'
- 'অপরাহ্ন লিখতে অনেকেই ভুল করে।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।'
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রতিম বাংলা বানানের নিয়ম।

১,১৯৫.
কোনটি প্রমিত বানান?
  1. খ্রিস্টান
  2. গড্ডালিকা
  3. অহোরাত্রি
  4. মিথস্ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = মিথস্ক্রিয়া।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
-পারস্পরিক ক্রিয়া, আন্তঃক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = খ্রিস্টান;
• শুদ্ধ = খ্রিষ্টান;

• অশুদ্ধ = গড্ডালিকা;
• শুদ্ধ = গড্ডলিকা;

• অশুদ্ধ = অহোরাত্রি;
• শুদ্ধ = অহোরাত্র;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৯৬.
'কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা।' - বাক্যে 'কূলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

• সপ্তমী বা এ, তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই। কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৯৭.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ?
  1. বিচিত্রতা
  2. উৎকর্ষ
  3. মিত্রতা
  4. সাদৃশ্যতা
ব্যাখ্যা
• 'সাদৃশ্যতা' শব্দটি প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
এর সঠিক শব্দ: সাদৃশ্য, সদৃশ। 

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।  
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,১৯৮.
''পুরষ্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত 'অপরিস্কার''। - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে-
  1. ক) প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  2. খ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  3. গ) দুটোই অশুদ্ধ
  4. ঘ) দুটোই শুদ্ধ
ব্যাখ্যা
র-ধ্বনির পরে যদি অ,আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়।কিন্তু অ,আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।সুতরাং পুরষ্কার এবং অপরিস্কার শব্দ দুটো অশুদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,১৯৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিষ্কর
  2. নিষ্কলঙ্ক
  3. নিষ্প্রভ
  4. বাচষ্পতি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: বাচষ্পতি।

• বাচস্পতি (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কথাবার্তায় পটু ব্যক্তি,
- বৃহস্পিত।

------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. গননা
  2. গনণা
  3. গণণা
  4. গণনা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'গণনা'
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √গণ্‌ +অন + আ।
অর্থ: 
- হিসাব,
- অঙ্কের সমাধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।