বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

চর্যাপদের কবিগণ

মোট প্রশ্ন৩৭৫এই পাতা৭৫প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

চর্যাপদের কবিগণ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩৭৫ / ৩৭৫

৩০১.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যার আদি পদকর্তা হিসেবে কোন কবির নাম উল্লেখ করেছেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা 
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা

• চর্যার আদি পদকর্তা বিষয়ক আলোচনা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আদি পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম উল্লেখ করেছেন। চর্যাপদের প্রথম চর্যাটি লুইপার। এতে মনে হতে পারে চর্যাগীতিকাগুলির সংগ্রাহক লুইয়ের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

সুকুমার সেন মনে করেন- লুই অভিসময়ের বই লিখেছিলেন। আর কোন চর্যাকর্তা বা বৌদ্ধ তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্য বিশুদ্ধ বৌদ্ধ দর্শনের বই লিখেননি। এখানেও লুইয়ের প্রাচীনত্বের প্রমাণ। লুইপার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে কেউই সন্দেহ প্রকাশ করেন না।

তবে,  অন্যবিধ প্রমাণের সাহায্যে- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, দেখিয়েছেন শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু, এবং কিঞ্চিৎ পূর্ববর্তী। তাই শবরপাকেই প্রথম রচয়িতা মনে করা যেতে পারে। তারপরই অবশ্য লুইপা।

-----------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: ‘চর্যািগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০২.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।'' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ধর্মপা
  3. শান্তিপা
  4. ঢেণ্ডণপা
  5. বীণাপা
ব্যাখ্যা
ঢেণ্ডণপা:
- নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- ঢেণ্ডণপা চর্যাপদের ৩৩নং পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যায় বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যাপদে 'ঢেণ্ডণপা' রচিত পদ,

''টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৩.
কুক্কুরীপা রচিত কোন পদটি লুপ্ত?
  1. ৩৩নং 
  2. ২৫নং 
  3. ৪৮নং
  4. ২৩নং
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" - চর্যাপদের ২নং পদ।

এর চলিত বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৩০৪.
চর্যাপদের চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. সরহপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে- 
- চর্যাপদে সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন - কাহ্নপা (১৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - সরহপা (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।
- পঞ্চম সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - লুইপা, শবরপা, শান্তিপা (২টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৫.
নিচের কোন জন চর্যাপদের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. তাড়কপা
  3. জ্ঞানদাস
  4. জয়নন্দী
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস- মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
---------------- 
• চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন।
- তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে।
- নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।

চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন : 
লুই, কুক্কুরী, বিরুপা, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী।

- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

• জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 
• তাড়কপা ৩৭ নম্বর পদ রচয়িতা। 
• মহীধরপা ১৬ নম্বর পদের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।।
৩০৬.
‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী। হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’— এই পদটি চর্যাপদের কত নম্বর পদ?
  1. ১নং
  2. ১০নং
  3. ৩৩নং
  4. ৫০নং
ব্যাখ্যা

ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যার ৩৩নং পদটি হলো:

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৭.
"হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।" - পদটি কে লিখেছেন?
  1. লুইপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে ৬টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া গেছে।
এগুলো হলো: 

• অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী। (ভুসুকুপা, ৬ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হরিণ তার নিজের মাংসের জন্যই সকলের শত্রু।

• হাথেরে কাঙ্কণ মা লোউ দাপণ। (সরহপা, ৩২ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হাতের কঙ্কন দেখতে আয়নার দরকার নেই। নিজেই তুমি নিজের মন বোঝ।

• হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী। (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)
আধুনিক বাংলা : হাঁড়িতে ভাত নেই কিন্তু নিত্য প্রেমিক আসে।

• দুহিল দুধু কি বেণ্টে ষামায়? (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : দোহন করা দুধ কি বাটে প্রবেশ করানো যায়?

• বর সুণ গোহালী কি মো দুঠ বলন্দে (সরহপা, ৩৯ নম্বর পদ)।
আধুনিক বাংলা : বরং শূন্য গোয়াল ভালো, কি করব আমি দুষ্ট বলদে।

• আণ চাহন্তে আণ বিনঠা (কঙ্কনপা, ৪৪ নম্বর পদ)।
আধুনিক  বাংলা : এক চাইতে অন্য বিনষ্ট হলো।

উৎস:
চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

৩০৮.
ভুসুকুপা কোথাকার রাজপুত্র ছিলেন?
  1. গৌড়
  2. মগধ
  3. সৌরাষ্ট্র 
  4. বিহার
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩০৯.
কাহ্নপা কোন রাজার রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন?
  1. গোপাল
  2. দেবপাল
  3. মহীপাল
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১০.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২১ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৩ জন
  4. ২৪ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবিগণ:
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে
 
এরা হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩১১.
কে সম্প্রতি ‘নতুন চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন?
  1. জগন্নাথ উপাধ্যায়
  2. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
  3. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• নতুন চর্যাপদ:
⇒ শতবর্ষ আগে (১৯১৬) হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর চর্যাপদ-প্রকাশ আমূল বদলে দিয়েছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস। পাশাপাশি এসেছিল মৈথিলি, উড়িয়া ও অসমীয়া সাহিত্যের ইতিহাস পুনর্বিবেচনার প্রসঙ্গ।

⇒ তিন দশক পরে রাহুল সাংকৃত্যায়ন তিব্বতে পাওয়া ২০টি চর্যা প্রকাশ করেন (১৯৫৪) এলাহাবাদ থেকে। পরের দশকে শশিভূষণ দাশগুপ্ত সন্ধান পান (১৯৬৩) আর এক গুচ্ছ চর্যার, যার ৯৮টি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় নব চর্যাপদ (১৯৮৮) গ্রন্থে। আশির দশকে জগন্নাথ উপাধ্যায় নেপাল থেকে সংগ্রহ করেন চর্যার তিনটি নতুন পুথি; যার থেকে ১৬৫টি গান বারাণসী থেকে দেবনাগরী অক্ষরে প্রকাশিত হয় চর্যাসংগ্রহ (২০১২) নামে। নেপাল-তিব্বত অঞ্চলে তন্দ্রচর্চা ও বজ্রযানী-আরাধনায় দীর্ঘকাল ধরে যে মন্ত্রগান ব্যবহার হয় তা চর্যারই অনুবৃত্তি।

⇒ সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ এর আবিষ্কৃত ‘নতুন চর্যাপদে’ সংকলিত হয়েছে মূলত বজ্রযানী দেবদেবীর আরাধনার গীত।
⇒ বর্তমান সংকলনে উপস্থাপিত ৩৩৫টি নতুন চর্যা সে-ধারারই অন্তর্গত। এতে সরহ, শবর, ডোম্বী, দারক, গোদারি, কাহ্ন, ভুসুকুর মতো পরিচিত চর্যাকারদের পদ রয়েছে।

⇒ আবার শাস্ত্রীর সংকলনে পদ নেই এমন প্রাচীন চর্যাকার- জালন্ধরী নাগার্জন, তিলোপা, নারোপা, লীলাবজ্র, অদ্বয়বজ্রের পদও স্থান পেয়েছে। এই তিন শতাধিক পদ আনুমানিক ১০০ কবির রচনা, যার ৮০ জন চিহ্নিত।

⇒ বর্তমান সংকলনে নব-সংগৃহীত ৩৩৫টি পদের সঙ্গে রাহুলের বর্তমান সংকলনে নব-সংগৃহীত ৩৩৫টি পদের সঙ্গে রাহুলের ২০টি, শশিভূষণের ২১টি এবং জগন্নাথের ৩৭টি পদ পরিশিষ্টরূপে যুক্ত হয়েছে।

⇒ অষ্টম থেকে বিশ শতকের মধ্যে রচিত এই চার শতাধিক চর্যা বাংলা সাহিত্যের নতুন উপকরণ। সংকলিত হওয়ার পূর্বে দীর্ঘকাল মুখে মুখে প্রচলিত থাকার সময়ে এর পাঠে পরিবর্তন সত্ত্বেও প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভাষার রূপ হিসেবে এর গুরুত্ব অনন্য। আবার বৌদ্ধধর্ম, বিশেষত তন্ত্রযান, বজ্রযান ও বৌদ্ধ দেবদেবীর বিকাশ অধ্যয়নের ক্ষেত্রেও পদগুলো গুরুত্বপূর্ণ।


 
উৎস: ‘নতুন চর্যাপদ’ সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।
৩১২.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - এটি চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ১নং 
  2. ৩৩নং 
  3. ২৪নং 
  4. ২৩নং 
ব্যাখ্যা

ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেগুণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচিত পদ:

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - এটি চর্যাপদের ৩৩নং পদ।
- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৩.
'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

• 'হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা - ঢেণ্ডণপা।

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা।
- তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।। (পদ: ৩৩)

• চর্যাপদে ৬ টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে।
এগুলো হলো:
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২৩ জন
  2. ২৪ জন
  3. ২২ জন
  4. ২৬ জন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি। তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩১৫.
"আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী" চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ৩৩ নং
  2. ৩১ নং
  3. ৬ নং
  4. ৩৯ নং
ব্যাখ্যা
"আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী" চর্যাপদের  ৬ নংপদ।

- ৬নং পদের রচয়িতা ভুসুকুপা।
- এটি চর্যাপদের একটি প্রবাদ বাক্য।

• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি।
এগুলো হলো:
- আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী ( ভুসুকুপা, ৬ নং পদ)।
- দুহিলা দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২ নং পদ)।
- হাড়িতে ভাত নাহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলন্দেঁ (সরহপা,৩৯ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪ নং পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৬.
'এক সো পদমা চউসট্‌ঠী পাখুড়ি।
তাহিঁ চড়ি নাচই ডোম্বি বাপুড়ি।। - পদটি রচয়িতা কে?
  1. ডোম্বীপা
  2. সরহপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• 'এক সো পদমা চউসট্‌ঠী পাখুড়ি।
তাহিঁ চড়ি নাচই ডোম্বি বাপুড়ি।।

- এই পদটির রচয়িতা - কাহ্নপা
- এটি কাহ্নপা রচিত ১০নং পদ।

কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১৭.
'দুলি দুহি পীড়া' ধরণ ন জাই। রুখের তেগুলি কুম্ভীরে খাই।' চর্যার পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ভুসুকুপা 
  2. শবরপা 
  3. কুক্কুরীপা
  4. শান্তিপা 
ব্যাখ্যা

•  কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা (২, ২০ ও ৪৮)। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল]। তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে।

 - কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন।

- তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুক্কুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুকুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।
- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুক্কুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুকুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে
- যোগভাবনাপ্রদেশ,
- স্রবপরিচ্ছদ।

কুকুরীপা রচিত চর্যার পদগুলো হলো:
১. দুলি দুহি পীড়া' ধরণ ন জাই। রুখের তেগুলি কুম্ভীরে খাই'।
২. আঙ্গন ঘরপণ সুন ভো বিআতী। কানেট চোরে নিল অধরাতী।
৩. সসুরা নিদ গেল বহুড়ী জাগই'। কানেট চোরে নিল কা গই মাগই 1
৪. দিবসহি' বহুড়ী কাউহি' ডর' ভাই'। রাতি ভইলে কামরু জাই"।
৫. অইসনী" চর্যা কুকুরীপাত্র গাইল"। কোড়ি মাঝে একু হিঅহি" সমাইল।

আধুনিক বাংলায় রূপান্তর:
১. মাদি কচ্ছপ দোহন করে দুগ্ধ-পাত্রে, দুধ ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।
২. ওগো প্রসূতি, ঘরের কাছে আঙিনা। অর্ধরাতে চোর কানপাশা নিয়ে গেল।
৩. স্বশুর নিদ্রা গেল, বধূ রইল জেগে। কানপাশা চোরে নিলে কার কাছে মাগা যায়?
৪. দিনে বধূ কাকের ভয়ে ভীত হয়। রাত হলে কামরাজ্যে [বা কামরূপ) যায়।
৫. এমন চর্যা কুক্করীপা গাইলেন। কোটির মধ্যে একের চিত্তে তা প্রবেশ করল।

উৎস: 'চর্যাগীতি পাঠ' ড. মাহবুবুল হক।

৩১৮.
ডোম্বীপার গুরু ছিলেন-
  1. শবরপা
  2. বিরূপা
  3.  কাহ্নপা
  4. ভাদেপা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
• ধর্মপার গুরু ছিলেন - কাহ্নপা।
• বীণাপার গুরু ছিলেন - ভাদেপা।
• শবরপা নিজে নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৯.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৬ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা ”(১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২০.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. ধর্মপা
  2. দারিকপা
  3. শরবপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - শরবপা। তবে, শবরপা নামে একজন কবি আছেন।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২১.
নিচের কোন জন চর্যাপদের পদকর্তা নয়?
  1. টেণ্ডণপা
  2. ভাদেপা
  3. ধর্মপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
• 'টেণ্ডণপা' - নামে চর্যাপদের কোন পদকর্তা ছিলো না। 

• চর্যাপদের কিছু প্রধান কবির নাম:
- কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা, ভাদেপা, ধর্মপা, মহীধরপা, ঢেণ্ডণপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা।
----------------------------
• চর্যাপদে কবির সংখ্যা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল-তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা-কোশ' (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।
- সে বিচারে এক কথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- কিছু প্রধান কবির নাম: কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা।
--------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড.সৌমিত্র শেখর।
৩২২.
চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা 
  3. শবরপা 
  4. লুইপা 
ব্যাখ্যা

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।সেগুলো হলো: ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯।

- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন। কারও কারও অনুমান চর্যার ভুসুকুর সময় একাদশ শতকের মধ্যভাগ।

- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩২৩.
বঙ্গ-কামরূপী ভাষায় পদ রচনা করেন কোন কবি?
  1. সরহপা
  2. বীণাপা
  3. শান্তিপা
  4. জয়নন্দীপা
ব্যাখ্যা
• সরহ পা: 
- সরহ পা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা ছিল বঙ্গ-কামরূপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা।তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
• বীণাপা রচিত চর্যাপদের ভাষা ছিল বাংলা।
• শান্তিপা রচিত চর্যাপদের ভাষা ছিল প্রাচীন মৈথিলি।
• জয়নন্দীপা রচিত পদের ভাষা ছিল আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ তথা প্রত্ন-মৈথিলি-উড়িয়া-বাংলা-আসামি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৩২৪.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. আর্যদেবপা
  2. তাড়নপা
  3. দারিকপা
  4. মহীধরপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - তাড়নপা

উল্লেখ্য, 'তাড়কপা' নামে চর্যাপদের কবি রয়েছে, 'তাড়নপা' নামে নয়।

চর্যাপদ:
- 'চর্যাপদ' বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- 'চর্যাপদ' আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে) এবং ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে -
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
সে বিচারে এককথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।

এরা হলেন -
- লুইপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, ধর্মপা, ঢেণ্ডণপা, বিরুপা, বীণাপা, ভাদেপা, ভুসুকুপা, মহীধরপা, শবরপা, শান্তিপা, সরহপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা, চাটিল্লপা, আর্যদেবপা, দারিকপা, তাড়কপা, কঙ্কণপা, জয়নন্দীপা, তন্ত্রীপা, লাড়ীডোম্বীপা। 
- লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩২৫.
চর্যাপদে কতজন কবির পদ রয়েছে? 
  1. ২১ জন
  2. ২২ জন 
  3. ২৩ জন
  4. ২৪ জন
ব্যাখ্যা

• চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়। তবে এঁদের মধ্যে লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায়নি। সুতরাং চর্যাপদে ২৩ জন কবির পদ রয়েছে। 

যদিও প্রশ্নটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে তবে অপশন অনুসারে 'গ' সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। 

-----------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের - একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে * (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবি:
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়। গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন। তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে। নামের শেষে গৌরবসূচক 'পা' যোগ করা হয়েছে।

 চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন-
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ঢণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা; মহীধরপা; লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; ধর্ম্মপা; তন্ত্রীপা। লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩২৬.
চর্যার কোন পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. ৩৩নং 
  2. ৪৯নং 
  3. ২৬নং 
  4. ৪৮নং
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

-------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহববল আলম।

৩২৭.
বৌদ্ধধর্মে'র ইতিবৃত্ত ও চর্যাপদের পুথি সংগ্রহে কে প্রথম নেপাল যাত্রা করেন?
  1. কীর্তিচন্দ্র
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা
• "চর্যাপদ" আবিষ্কারের ইতিহাস:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বৌদ্ধধর্মে'র ইতিবৃত্ত সন্ধানেই নেপাল যাত্রা করে এ-পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পূর্বে এ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে প্রথম প্রবৃত্ত হোন- রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। সম্ভবত তিনিই প্রথম নেপাল যাত্রা করে সংস্কৃতে রচিত অনেকগুলি বৌদ্ধ ধর্ম ও সাহিত্যের পুথি প্রাপ্ত হোন এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে Sanskrit Buddhist Literature In Nepal নাম দিয়ে সে সবের একটি তালিকাও প্রকাশ করেন। রাজেন্দ্রলাল মিত্রের পর তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেপালে পুথি সংগ্রহের চেষ্টায় যান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ধর্ম ঠাকুরকে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ বলে মনে করেছিলেন 'নানা কারণে আমার সংস্কার হইয়াছিল যে, ধর্মমঙ্গলের ধর্মঠাকুর বৌদ্ধ ধর্মের শেষ'। শাস্ত্রী মশায়ের এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে অসার প্রমাণিত হয়েছে। তিনবার তিনি নেপালে যান, ১৮৯৭-৯৮ খ্রীষ্টাব্দে দুবার এবং শেষবার ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে। এই শেষবার তিনি ১৯০৭ সালে সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ আবিষ্কার করেন।

- তিনি বলেন- নেপালে গিয়া আমি কয়েকখানি পুথি দেখিতে পাইলাম। একখানির নাম চর্যাচয্যবিনিশ্চয়, উহাতে কতকগুলি কীর্ত্তনের গান আছে ও তাহার সংস্কৃত টীকা আছে। গানগুলি বৈষ্ণবদের কীর্ত্তনের মত, গানের নাম চর্যাপদ।

উৎস: "চর্যাগীতিকা" মুহম্মদ আবদুল হাই।
৩২৮.
চর্যাপদের ভাষাতে কোন ভাষার প্রভাব রয়েছে-
  1. বৈদিক 
  2. আর্য
  3. মৈথিলী 
  4. অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের ভাষার বৈশিষ্ট্য:
চর্যাপদের ভাষা বাংলা বলে প্রমাণিত হলেও তাতে অপভ্রংশের কিছু কিছু নিদর্শন আছে। চর্যাপদ যে সময়ের রচনা তখন বাংলা ভাষা তার পূর্ববর্তী স্তর অপভ্রংশ থেকে নিজস্ব রূপ গ্রহণ করলেও একেবারে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ে নি। চর্যাকারেরা অনেকেই অপভ্রংশে পদ রচনা করেছেন। তাঁদের বাংলা রচনাতে তাই প্রাকৃত বা অপভ্রংশের প্রভাব থাকা স্বাভাবিক।

অপভ্রংশের প্রভাব লক্ষ করা যায় এ সব ক্ষেত্রে: আইসন, জৈসন, জিম, তিম, জসু, তসু প্রভৃতি শব্দ; নিষেধার্থক 'মা' অব্যয়ের ব্যবহার—মা হোহি; ক্বচিৎ যুক্ত ব্যঞ্জনের উপস্থিতি—আচ্ছিলেঁ সংপুন্না; 'ইউ' প্রয়োগে অতীতকাল তোড়িউ; ‘মি’ বিভক্তি—পীবমি, পুছমি; সর্বনামজাত ক্রিয়াবিশেষণ—জব, তব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৩২৯.
ভুসুকুপা কোন অঞ্চলের রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়?
  1. মিথিলা
  2. বিহার
  3. সৌরাষ্ট্র
  4. উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৩০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে নিচের কোন কবি বাঙালি ছিলেন?
  1. দারিক পা 
  2. বীণা পা 
  3. বিরূপ পা
  4. শান্তি পা 
ব্যাখ্যা

• বিরূপ পা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন, জালন্ধরী পার শিষ্য বিরূপ ছিলেন বাঙালি। তাঁর জন্মস্থান দেবপালের রাজ্য ত্রিপুরায়। তাঁর শিষ্য ডোম্বী পা। - বিরূপ আট শতকে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে, বিরূপ পা ভিক্ষুরূপে সোমপুরী বিহারে বাস করতেন। তিনি দেবপালের রাজত্বকালে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮৩০ সালের শেষের দিকে। তিনি ছিলেন বহু গ্রন্থ প্রণেতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৩৩১.
চর্যাপদের কোন কবির প্রকৃত নাম 'শান্তিদেব'?
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. ভাদেপা
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৩২.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. দোহাকোষ
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
চর্যাপদের কবি ‘ঢেণ্ডণপা’ পেশায় ছিলেন-
  1. মাঝি
  2. জেলে
  3. তাঁতি
  4. কুলি
ব্যাখ্যা

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। 
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। 
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচিত ৩৩নং পদটি-

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৪.
”আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।”-পঙ্​ক্তিটির লেখক কে?
  1. ভদেপা
  2. ভুসুকুপা
  3. শান্তিপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

”অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী” -পঙ্​ক্তিটির লেখক- ভুসুকুপা।

ভুসুকুপা:

- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়। তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৩৫.
নিম্নোক্ত কে প্রাচীন যুগের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. শান্তিপা
  3. ভুসুকুপা
  4. তুলারম্ভপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- তুলারম্ভপা।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৩৬.
চর্যাপদের পদসংখ্যা কতগুলি?
  1. ৪১টি
  2. ৫১টি
  3. ৫৬টি
  4. ৬২টি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের পদসংখ্যা বিষয়ক আলোচনা:
• চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা (গান সংখ্যা) ৫১টি। কিন্তু শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫০টি।
• চর্যাপদের কয়েকটি পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সাড়ে ৪৬টি পদ আবিষ্কৃত হয়েছে। অর্থাৎ, চর্যাপদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি। ২৩ এর অর্ধেক পাওয়া গেছে; আর ২৪,২৫ ও ৪৮ সংখ্যক পদ পাওয়া যায়নি। চর্যাপদে ৬টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়।

• সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'। যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
• টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মতবিরোধের সৃষ্টি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৩৩৭.
চর্যাপদের কোন কবি বিষ্ণুনগরের রাজা ছিলেন?
  1. দারিকপা
  2. চাটিল্লপা
  3. তন্ত্রীপা
  4. কঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
কঙ্কণপা:
- বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণের পূর্বে কঙ্কণপা বিষ্ণুনগরের রাজা ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ৪৪ নং পদটির রচয়িতা।
- গবেষকদের মতে তিনি ৯৮০ থেকে ১১২০ খ্রিস্টাব্দ অবধি জীবিত ছিলেন।
- কঙ্কণপার লেখায় বাংলার সঙ্গে ব্যাকরণের কিছু অপভ্রাংশের রূপ পাওয়া যায়।
- তিনি দারিকপার শিষ্য ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।
৩৩৮.
"ঘন বসতিতে আমার ঘর (অথচ) পাড়া পরশি নেই। হাঁড়িতে ভাত নেই, (কিন্তু) ঘরে প্রতিদিনই অতিথির আগমন।" - উদ্ধৃতাংশটুকু চর্যাপদের কোন কবির পদের বাচ্যার্থ?
  1. শবরপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- তিনি নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদে তিনি একটি (৩৩নং) পদ রচনা করেন।

এই একটিমাত্র পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
যেমন:
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী।
হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী৷।' (পদ: ৩৩)

বাচ্যার্থ (৩৩ সংখ্যক):
ঘন বসতিতে আমার ঘর (অথচ) পাড়া পরশি নেই। হাঁড়িতে ভাত নেই, (কিন্তু) ঘরে প্রতিদিনই অতিথির আগমন। ব্যাঙ সাপকে কাটে, কী আশ্চর্য, দোয়া দুধ আবার বাঁটে প্রবেশ করে। বলদ বিয়ায়-গাভী বন্ধ্যা। তিন সন্ধ্যা পাত্রে দুধ দোহন করা হয়। যা সেই বুদ্ধি-তা-ই-খারাপ বুদ্ধি। যে চোর সেই কোটাল। প্রত্যেক দিন শৃগাল সিংহের সঙ্গে যুদ্ধ করে। ঢেণ্টনপা-এর গীত কদাচিৎ বোঝা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা।
৩৩৯.
কুক্কুরীপা রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ৪৬নং
  2. ২০নং
  3. ৪৮নং
  4. ২নং
ব্যাখ্যা
কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কুক্কুরীপা রচিত পঙক্তি হলো:

“দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪০.
চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন- 
  1. সরহপা 
  2. কুক্কুরীপা 
  3. শবরপা 
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

• ভুসুকু পা:
- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে। নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু—এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন। তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধা হন। তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন। কারও কারও অনুমান চর্যার ভুসুকুর সময় একাদশ শতকের মধ্যভাগ।
- 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'—ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩৪১.
'কৃষ্ণাচার্য পাদ' চর্যার কোন কবির নাম?
  1. কুক্কুরীপা 
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা

• কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি। তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪২.
চর্যাপদের কবি ভুসুকুপা জীবনের শেষ পর্যায়ে কোথায় অবস্থান করেন?
  1. পাটনা
  2. নালন্দা
  3. সৌরাষ্ট্র
  4. বিহার
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে। নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু-এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন।
- তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধা হন। তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন।
- কারও কারও অনুমান চর্যার ভুসুকুর সময় একাদশ শতকের মধ্যভাগ। 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'-ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪৩.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
  1. মগধ
  2. বিহার
  3. রাঢ়
  4. তিব্বত
ব্যাখ্যা

লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে ও প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ:
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪৪.
চর্যাপদের কোন কবি সোমপুর বিহারের আচার্য ছিলেন?
  1. ক) আর্যদেবপা
  2. খ) শবরপা
  3. গ) কাহ্নপা
  4. ঘ) লুইপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি - কাহ্নপা। তার প্রকৃত নাম - কৃষ্ণাচার্য পাদ।
- ঐতিহাসিকগণ তাকে উড়িষ্যার অধিবাসী মনে করলেও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক জিতেন্দ্রলাল বড়ুয়া তাকে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার বলে প্রমাণ করেন।
- কাহ্নপা পরিনত বয়সে সোমপুর বিহারের আচার্য্য ছিলেন। রাজা ধর্মপালের রাজত্বকালে তিনি সেখানে অবস্থান করেন।
- তার রচিত পদের সংখ্যা - ১৩টি; কিন্তু প্রাপ্ত পদের সংখ্যা ১২টি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪৫.
কোন কবি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন?
  1. সরহপা
  2. দারিকপা
  3. কঙ্কণপা
  4. ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা। ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
- 'দারিকপা' সালিপুত্র নামক স্থানের (কামরুপের কাছে) রাজা ছিলেন।
- 'কঙ্কণপা' বিষ্ণুনগর (মতান্তরে বিষ্ণুপুরের) রাজা ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড.সৌমিত্র শেখর।
৩৪৬.
চর্যাপদের কত নং পদে পঁউয়া খালের(পদ্মা খাল) নাম আছে?
  1. ৬নং
  2. ২৪নং
  3. ২৩নং
  4. ৪৯নং
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের বাঙালি কবি ভুসুকুপা রচিত ৪৯নং পদে 'পউয়া খাল' এর কথা বলা আছে।

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- বাজ ণাব পাড়ী পঁউআ খালে বাহিউ।
- অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।
-'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪৭.
কুক্কুরীপা রচিত কোন পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি?
  1. ৪৯নং 
  2. ৪৮নং
  3. ২৫নং
  4. ২৪নং 
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

-------------------
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহববল আলম।

৩৪৮.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদের রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. ঢেণ্ডণ পা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪৯.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" চর্যার কত নং পদ?
  1. ১নং 
  2. ৩৩নং 
  3. ২নং
  4. ৪৯নং 
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" চর্যাপদের ২নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫০.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যার আদি পদকর্তা হিসেবে কার নাম উল্লেখ করেছেন?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. সরহপা
  4. দারিকপা
  5. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• চর্যার আদি পদকর্তা বিষয়ক আলোচনা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আদি পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম উল্লেখ করেছেন। চর্যাপদের প্রথম চর্যাটি লুইপার। এতে মনে হতে পারে চর্যাগীতিকাগুলির সংগ্রাহক লুইয়ের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

সুকুমার সেন মনে করেন- লুই অভিসময়ের বই লিখেছিলেন। আর কোন চর্যাকর্তা বা বৌদ্ধ তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্য বিশুদ্ধ বৌদ্ধ দর্শনের বই লিখেননি। এখানেও লুইয়ের প্রাচীনত্বের প্রমাণ।

লুইপার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে কেউই সন্দেহ প্রকাশ করেন না। তবে অন্যবিধ প্রমাণের সাহাযো- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, দেখিয়েছেন শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু, এবং কিঞ্চিৎ পূর্ববর্তী। তাই শবরপাকেই প্রথম রচয়িতা মনে করা যেতে পারে। তারপরই অবশ্য লুইপা।

উৎস: ‘চর্যাগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই।
৩৫১.
চর্যাপদের পদকর্তা নয় কে?
  1. শবরপা
  2. সরহপা
  3. ভাদেপা
  4. কম্বলপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদকর্তা নয়- কম্বলপা ।

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

• চর্যাপদে কবির সংখ্যা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল-তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা-কোশ' (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।
- সে বিচারে এক কথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- কিছু প্রধান কবির নাম: কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা।

• চর্যাপদের কিছু প্রধান কবির নাম:
- কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা, ভাদেপা, ধর্মপা, মহীধরপা, ঢেণ্ডণপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতি পাঠ - ড. মাহবুবুল হক।
৩৫২.
"আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।"- পদটি চর্যার কোন কবির রচনা?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• 'আপণা মাংসে হরিণা বৈরী'- ভুসুকু পা রচিত চর্যাপদের ৬নং পদ।

-----------------
• ভুসুকু পা:

- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা। তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।

- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু-এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন। তিনি রাউত বা অশ্বারোহী সৈনিক ছিলেন। পরে ভিক্ষু ও সিদ্ধা হন।

- তবে অনেকে এই শান্তিদেব ভুসুকু ও চর্যা রচয়িতা ভুসুকুকে পৃথক ব্যক্তি বলে অনুমান করেছেন।
- 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা-

কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ।
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩৫৩.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদের রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. লুইপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদে:
- চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫৪.
'কাহ্নপা' রচিত পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। 
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- দ্বিতীয় সর্বাধিক পদরচয়িতা কবি ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি; ২২,৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি; ২, ২০, ৪৮)। তবে তাঁর রচিত ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে বাংলা দেশের লোক ছিলেন চর্যার কোন কবি?
  1. কাহ্নপা
  2. ডোম্বীপা
  3. শবরপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা
• শবরপা:
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- সেই সূত্রে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে, শবরপা চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক।
- তিনি সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে মোট ১৬টি গ্রন্থ লিখেছেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ সংখ্যক পদ তাঁর রচনা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ শবরপাকে লুইপার গুরু বলে উল্লেখ করেছেন।

• শবরপা রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি হলো:
“উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সরবী গীবত গুঞ্জরী মালী॥” (পদ: ২৮)

(অর্থাৎ- উঁচু পর্বতে শবরী বালিকা বাস করে। তার পরিধানে ময়ূরের পুচ্ছ, গলায় গুঞ্জার মালা।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৬.
চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা-
  1. লুইপা
  2. ভুসুকপা
  3. কাহ্নপা
  4. অনির্ণেয়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা।

পদ - ১
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

(আধুনিক বাংলায় রূপান্তর)

কায়া তরুর মত, পাঁচটি তার ডাল
চঞ্চল চিত্তে কাল প্রবেশ করেছে।।
দৃঢ় করে নাও, মহাসুখ পরিণাম
কবি লুই বলেছে, গুরুকে জিজ্ঞেস করে জান।।

- চর্যায় তিনি মোট দুইটি পদ লিখেছেন। (১ ও ২৯ সংখ্যক)।

• লুইপার গুরু ছিলেন - শবরপা। ড. শহীদুল্লাহর মতে, তিনি চর্যাপদের প্রাচীনতম কবি।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে, তিনি বাংলাদেশের লোক।

• চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচিয়তা - কাহ্নপা। তিনি ১৩টি পদ রচনা করেন।
• চর্যাপদ রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থান - ভুসুকুপার।তিনি ৮টি পদ রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫৭.
"সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।" - পদটি রচনা করেন কে?
  1. ভাদেপা
  2. মহীধরপা
  3. কম্বলাম্বরপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা
কম্বলাম্বরপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রারম্ভের কবি। তিনি জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন।
- তিনি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন, মতান্তরে তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- তিনি চর্যাপদের ৮নং পদটি রচনা করেন।

কম্বলাম্বরপা রচিত পদ:

"সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।"

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩৫৮.
চর্যার প্রথম পদটির রচিয়তা কে?
  1. লুইপা
  2. কাহ্নপা
  3. শবরপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন। 
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।

- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৯.
মধ্যযুগের কবি নন কে?
  1. জয়নন্দী
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দ দাস
  4. জ্ঞান দাস
ব্যাখ্যা
• জয়নন্দী প্রাচীন যুগের কবি। তিনি চর্যাপদের কবিগণের একজন। 

-------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৬০.
তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা চর্যাপদের কত নম্বর পদ রচনা করেন?
  1. ১৪নং
  2. ১৮নং
  3. ২৮নং
  4. ২৯নং
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের — ডোম্বীপা নামের এক পদকর্তা ত্রিপুরার রাজা ছিলেন।
 
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা ।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে জানা যায়।
 
• অন্যান্য অপশনে,
- কম্বলাম্বরপা কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন। মতান্তরে তার জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- দারিকপা শালিপুত্র নামক স্থানের(কামরূপের কাছে) রাজা ছিলেন। তার নাম ছিল ইন্দ্রপাল। অনেকের মতে,তিনি উড়িষার অধিবাসী ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬১.
"সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।" - চর্যাপদে এই পদের রচয়িতা কে?
  1. কম্বলাম্বরপা
  2. ধর্মপা
  3. মহীধরপা
  4. ডোম্বীপা
ব্যাখ্যা
কম্বলাম্বরপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রারম্ভের কবি। তিনি জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন।
- তিনি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন, মতান্তরে তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- তিনি চর্যাপদের ৮নং পদটি রচনা করেন।

কম্বলাম্বরপা রচিত পদ:

"সোনে ভরিতী করুণা নাবী।
রূপা থোই নাহিক ঠাবী।।
বাহতু কামলি গঅণ উবেসে।"

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩৬২.
চর্যাপদের যে পদকর্তা কৃষ্ণাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন-
  1. চাটিল
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. মহিজ্ঞ
  5. বিরুআ
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা- কৃষ্ণাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন।

• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন শজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন।  
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণাচার্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৩.
চর্যাপদে পদ রচনার সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে কে রয়েছেন?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৬৪.
চর্যাপদের কবি আর্যবেদ পা কার শিষ্য ছিলেন?
  1. লুইপা
  2. জালন্ধরী
  3. গোরক্ষনাথ
  4. নাগার্জুন
ব্যাখ্যা
আর্যদেব পা:
- শহীদুল্লাহর মতে তিনি কম্বলাম্বরপার সমকালীন অর্থাৎ খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রথম দিকের কবি ছিলেন।
- তারানাথের মতে তিনি ছিলেন মেবারের রাজা এবং গোরক্ষনাথের শিষ্য। 
- শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন: 'তাঁহার ভাষা অনেকটা বাঙ্গালা বটে; কিন্তু উড়িয়া ভাষা বলাই সঙ্গত।'

অন্যদিকে,
- জালন্ধরীপার শিষ্য ছিলেন - বিরুপা।
- কবি শবরপা - তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের প্রায় সমসাময়িক কালে বাংলাদেশে যে সব সংস্কৃত-প্রাকৃত-অপভ্রংশ সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ উপকরণ নয়।
- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৫.
‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ - এর প্রথম কবি কে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. ডোম্বীপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ - এর প্রথম কবি হচ্ছে লুইপা।

• চর্যার কবি লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- 'লুইপা' রচিত চর্যার পদ সংখ্যা দুইটি। লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত - ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'- এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। 
- সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল।

লুইপা রচিত চর্যাপদের প্রথম পদ-
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।'

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং
২। বাংলাপিডিয়া।
৩৬৬.
ভুসুকুপা চর্যার কত নং পদে 'পদ্মা নদী'র কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. ৬নং
  2. ৩০নং
  3. ৪৯নং
  4. ৪১নং
ব্যাখ্যা

• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/৪১নং/৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ত্র মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁউআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।

৪৯নং পদ:
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালে বাহিউ।
অদঅ বঙ্গাল দেশ' লুড়িউ।

আধুনিক গদ্যে রূপান্তর:
বজ্র নৌকায় পাড়ি দিয়ে পদ্মাখালে বাইলাম। লুণ্ঠন করলাম অদ্বয় রূপ বাঙ্গাল দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

৩৬৭.
ভুসুকুপা'র প্রকৃত নাম কী?
  1. বিরু ভট্ট
  2. শান্তিদেব
  3. শান্তিপাদ
  4. কানাই
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৬৮.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা কোন অঞ্চলের লোক ছিলেন?
  1. রাঢ়
  2. কামরূপ
  3. উড়িষ্যা
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা

লুইপা:
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইপা রাঢ় অঞ্চলের লোক
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

লুইপা রচিত চর্যার প্রথম পদটি:
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৬৯.
''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' - পঙ্‌ক্তিটি চর্যাপদের কোন কবির রচনা?
  1. ঢেণ্ডণপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• ''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল 
চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা। 
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

পদ - ১:
''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল 
চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।''
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।
 
• লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। 
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭০.
চর্যাপদ কত বঙ্গাব্দে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৩০৭ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে) এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা। চর্যাপদের অন্যান্য কবিরা হলেন- সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুকুরীপা, মীনপা, আর্যদেব প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩৭১.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. গুণ্ডরীপা
  2. আর্যদেবপা
  3. কঙ্কণপা
  4. মাহীধরপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন - মাহীধরপা

চর্যাপদের কবিগণ:
- চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে:
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৭২.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. কাহ্নপা
  2. শবরপা
  3. লুইপা
  4. ভাদেপা
ব্যাখ্যা
• শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

'শবরপা' রচিত উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৩.
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই। রাতি ভইলে কামরু জাই।।" — এই পঙ্‌ক্তি কোন পদ থেকে নেওয়া?
  1. চর্যাপদের ১নং পদ
  2. চর্যাপদের ২নং পদ
  3. চর্যাপদের ২০নং পদ
  4. চর্যাপদের ৪৮নং পদ
ব্যাখ্যা

• 'কুক্কুরীপা' সম্পর্কিত তথ্য:
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা। তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুক্কুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পঙ্‌ক্তি হলো:
"দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।" - চর্যাপদের ২নং পদ।

এর চলিত বাংলা অর্থ- দিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেই সে কামরূপ যায়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৩৭৪.
লুইপা-র গুরু ছিলেন চর্যার কোন কবি?
  1. শবরপা
  2. কাহ্নপা
  3. বিরুপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা
• শবরপা:
- তারানাথের মতে শবর ছিলেন বঙ্গের একজন নাগাচার্য। তিনি নাগার্জুনের শিষ্য এবং লুইপা-র গুরু।

- ড. সুকুমার সেনের মতে শবর ছদ্মনাম। শবরের মতো জীবনযাপন করতেন বলে তনি 'সিদ্ধশবরী', 'শবরীস্বর' ইত্যাদি নামে পরিচিতি লাভ করেন।

- শবরপা ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দ) বর্তমান ছিলেন। তারানাথের মতে, তিনি নবম শতকের কবি। আর ড. সুকুমার সেন তাঁর জীবৎকালের সর্বনিম্ন সীমা দ্বাদশ শতকের শেষ ভাগ বলে মনে করেন।

- শবরপা বিক্রমশীলায় বসবাস করেছেন। তাঁর রচিত পদে ভণিতার উল্লেখ নেই। তবে টীকায় সিদ্ধাচার্য শবরপা কথাটির উল্লেখ আছে।

- তিনি চর্যার ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন। 

- শবরপার রচনাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: 'সহজোপদেশ স্বাধিষ্ঠান', 'বজ্রযোগিনীসাধন' 'চিত্তগুহ্যগাম্ভীরার্থ গীতি', 'মহামুদ্রাবজ্রগীতি', 'শূন্যতা ছবি' ইত্যাদি।

• শবরপা রচিত দুইটি উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি- 

উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহি সবই সবরী বালী। 
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সরবী গীবত গুঞ্জরী মালী।। 

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।
৩৭৫.
বঙ্গ-কামরূপী ভাষায় পদ রচনা করেন কোন কবি?
  1. বীণাপা
  2. সরহপা
  3. শান্তিপা
  4. জয়নন্দীপা
ব্যাখ্যা

• সরহ পা: 
- সরহ পা ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁর জন্মস্থান রাজ্ঞীদেশ সম্ভবত উত্তরবঙ্গ-কামরূপ ।
- কামরূপের রাজা রত্নপাল (১০০০-৩০ সাল) ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- তিনি এগার শতকের প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা ছিল বঙ্গ-কামরূপী।
- তিনি ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা।তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

অন্যদিকে,
• বীণাপা রচিত চর্যাপদের ভাষা ছিল বাংলা।
• শান্তিপা রচিত চর্যাপদের ভাষা ছিল প্রাচীন মৈথিলি।
• জয়নন্দীপা রচিত পদের ভাষা ছিল আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ তথা প্রত্ন-মৈথিলি-উড়িয়া-বাংলা-আসামি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।