বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৬০১৭০০ / ১,৩৫৫

৬০১.
আলুর লেট ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী হলো -
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. শৈবাল
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা
আলুর লেট ব্লাইট রোগ: 
- আলুর লেট ব্লাইট (নাবিধসা বা মড়ক) রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকের জিনোটাইপ (জিনের বিন্যাস) ও ফিনোটাইপ (বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য)। 
- এই শনাক্তকরণের গবেষণা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. রসিদুল ইসলাম। 
- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৯০ শতাংশ জমিতে ছত্রাকটির যে জিনোটাইপ পাওয়া গেছে সেটি হলো ‘ইইউ-১৩-এ২’, যেটি ব্লু-১৩ হিসেবেও পরিচিত। 
- আলুর মড়ক রোগ ছত্রাকজনিত একটি মারাত্মক রোগ। 
- এই রোগের কারণে আলু নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা ইত্যাদি ক্ষতি হচ্ছে। 
- মূলত এই ক্ষতি কমাতেই ২০১৪ সাল থেকে ছত্রাকের জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ শনাক্তকরণ এবং এর জৈবিক ছত্রাকনাশক উদ্ভাবনের কাজটি শুরু করা হয়। 
- ওই সময় দেশের ১৫টি জেলা থেকে মড়ক রোগাক্রান্ত মোট ৯০টি আলুর পাতার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। 

- এতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্লু-১৩ জিনোটাইপের ছত্রাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। 
- জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেই মূলত মড়ক রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। 
- এ সময় সংক্রমণ তীব্র মাত্রায় হতে থাকলে ছত্রাকনাশক (ডাইথেন এম-৪৬ বা ইন্ডোফিল এম-৪৫) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ২ থেকে ৩ বার ৬ থেকে ৭ দিন পর পর এমনভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে, যাতে গাছ ভালোভাবে ভিজে যায়। 
- মড়ক হলো একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ।
- বাতাসের মাধ্যমেও এটি এক জমি থেকে অন্য জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
- একটি গাছ আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগটি পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
- এ সময় প্রতিরোধী কোনো ব্যবস্থা না নিলে ছত্রাক আক্রমণের তীব্রতার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন কমার আশঙ্কা থাকে সর্বোচ্চ ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ।
- তবে রোগ সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলে ‘সাইমোক্সানিল ও ম্যানকোজেব মিশ্রণ’ বা ‘সাইমোক্সালিন ও ডাইমেথোমর্ফ মিশ্রণ’ অথবা ‘ডাইমেথোমর্ফ ও ম্যানকোজেব মিশ্রণ’ ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৩ থেকে ৪ বার ৪ থেকে ৫ দিন পর পর প্রয়োগ করতে হবে। 

উৎস: Bachelor of Agriculture Education প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৪)।
৬০২.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কী উৎপন্ন হয়? 
  1. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
  2. পানি ও অক্সিজেন
  3. শর্করা ও পানি
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও শর্করা
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- যে জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অংশ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 

- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে কেন গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৬০৩.
কোনটি পরিবহন টিস্যুতন্ত্রের অন্তর্গত?
  1. ক) জাইলেম
  2. খ) স্ক্লেরেনকাইমা
  3. গ) এরেনকাইমা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পরিবহন টিস্যু তন্ত্র (Vascular Tissue System): জাইলেম ও ফ্লোয়েম এর সমন্বয়ে গঠিত টিস্যুতন্ত্রকে পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বলা হয়।
সমস্ত ভাস্কুলার উদ্ভিদের ও পাতার শিরা উপশিরায় এ টিস্যুতন্ত্র থাকে। এ টিস্যুতন্ত্র খাদ্যের উপাদান ও তৈরি খাদ্য পরিবহন করে বলে একে সংযোজনকারী টিস্যুতন্ত্রও (Conducting tissue system) বলা হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৪.
নিচের কোনটি ছোট দিনের উদ্ভিদ?
  1. ক) লেটুস
  2. খ) পালংশাক
  3. গ) ঝিঙা
  4. ঘ) সয়াবিন
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা -
• বড় দিনের উদ্ভিদ:
- আফিম,
- যব,
- মূলা,
- পালংশাক,
- লেটুস
- ঝিঙা,
- মটরশুটি ইত্যাদি।

• ছোট দিনের উদ্ভিদ:
- শিম
- আলু
- ডালিয়া
- সাজিনা
- ইক্ষু
- সয়াবিন
- পাট
- আম
- সূর্যমুখী
- চন্দ্রমল্লিকা,

• নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ:
- আউশ ধান
- কার্পাস
- শসা
- টমেটো
- সূর্যমুখী

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

৬০৫.
'Flora' বলতে কী বুঝায়?
  1. মৎস্যকূল
  2. প্রাণিকূল
  3. উদ্ভিদকূল
  4. পক্ষীকূল
ব্যাখ্যা
Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
'Fauna' বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।
Fauna অর্থ প্রাণিকূল এবং Flora অর্থ উদ্ভিদকূল।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৬.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য-
  1. ভিটামিন- এ
  2. ভিটামিন- সি
  3. লৌহ
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, কচুশাক, লাল শাক, বাধাকপি ইত্যাদি৷ 
লৌহ/আয়রনের উদ্ভিজ্জ উৎস: ফুলকপির পাতা, নটোশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম ইত্যাদি৷

ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎসের তালিকায় কচু শাক দেয়া আছে। তবে, কচু শাক লৌহেরও ভাল উৎস।
যেহেতু, প্রধান উৎস হিসেবে জীববিজ্ঞান বইতে ক্যালসিয়াম সরাসরি বলা আছে, 
তাই ক্যালসিয়াম উত্তর নেয়া হয়েছে। 
৬০৭.
ধানের পরাগরেণু স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম কোনটি?
  1. বায়ু
  2. প্রাণি
  3. পানি
  4. পতঙ্গ
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- পরাগরেণু স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে, যে বাহক পরাগরেণু বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। 
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক, এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, একে অভিযোজন বলা হয়।
- বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য অভিযোজনগুলোও আলাদা যা নিম্নে বর্ণনা করা হলো: 
১। বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন- ধান। 

২। পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

৩। প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। 
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

৪। পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য।  
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। 
-  স্ত্রীফুলের বৃত্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃত্ত ছোট। 
- পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন- পাতাশ্যাওলা। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬০৮.
কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়? 
  1. শ্বসন
  2. অভিস্রবণ 
  3. নিঃসরণ
  4. প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৯.
জগদীশচন্দ্র বসু রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিজ্ঞানের কথা
  2. খ) বিশ্বপরিচয়
  3. গ) বিজ্ঞানের গল্প
  4. ঘ) অব্যক্ত
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন একজন বাঙালি বিজ্ঞানী। তিনি ছোটদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'অব্যক্ত' রচনা করেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১০.
নিচের কোন উদ্ভিদে অগুচ্ছ মূল দেখা যায়?
  1. ক) কেয়া
  2. খ) ধান
  3. গ) নারিকেল
  4. ঘ) সুপারি
ব্যাখ্যা

অস্থানিক মূল হতে পারে দুই ধরনের, যেমন- গুচ্ছ মূল এবং অগুচ্ছ মূল। 
- যেসব মূল একত্রে গাদাগাদি করে গুচ্ছাকারে জন্মায় না বরং পরস্পর থেকে আলাদা থাকে, তাকে অগুচ্ছ মূল বলে। 
কেয়া গছের ঠেশমূল, বটের ঝুরিমূল এ ধরনের অগুচ্ছ মূল। 
- ধান, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি উদ্ভিদের থাকে গুচ্ছ মূল।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

৬১১.
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করে কোনটি? 
  1. গলজি বস্তু
  2. ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. লিউকোপ্লাস্ট
  4. ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
প্লাস্টিড তিন ধরনের- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১২.
কোনটি আবৃতবীজী উদ্ভিদ নয়?
  1. কাঁঠাল
  2. সাইকাস
  3. সুপারি
  4. নারিকেল
ব্যাখ্যা

নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে ডিম্বাশয় থাকে না, ফলে ডিম্বকগুলো নগ্ন থাকে।
যেমনঃ সাইকাস, পাইনাস।

যেসব উদ্ভিদের ফুলে ডিম্বাশয় থাকে এবং ডিম্বক গুলো ডিম্বাশয়ের ভিতরে সজ্জিত থাকে তারা আবৃতবীজী উদ্ভিদ।
যেমনঃ আম, জাম, কাঁঠাল, তাল, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি।

উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি

৬১৩.
কোন উদ্ভিদে স্বপরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) পেঁপে
  2. খ) আম
  3. গ) ধান
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন দু'প্রকার।
যথা- স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন।
- স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
- সরিষা, ধুতুরা, শিম, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।
- পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।

৬১৪.
উদ্ভিদের নিষেক ক্রিয়া কে আবিষ্কার করেন?
  1. মেন্ডেল
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক
  3. স্ট্রাসবার্জার
  4. স্ট্যানলি
ব্যাখ্যা
- মাতৃ জীব থেকে নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে প্রজনন বলা হয়।
- প্রতিটি জীবেরই তার নিজের অনুরূপ বংশধর সৃষ্টির প্রাকৃতিক অবস্থা রয়েছে।
- উদ্ভিদ বিভিন্ন উপায়ে প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে।
- তবে উদ্ভিদে প্রজনন প্রধানত দু'প্রকার।
যথা- যৌন প্রজনন এবং অযৌন প্রজনন।
- দুটি ভিন্ন প্রকৃতির যথা- পুং ও স্ত্রীগ্যামিট পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে যে প্রজনন সম্পন্ন করে তাকে যৌন প্রজনন বলা হয়।
- আকার, আকৃতি ও প্রকৃতিগত পার্থক্যমন্ডিত একটি পুংগ্যামিট ও স্ত্রীগ্যামিট এর মধ্যকার মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেকক্রিয়া (Fertilization) বলা হয়।
- একে নিষেক বা গর্ভাধানও বলে। 
- বিজ্ঞানী স্ট্রাসবার্জার ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে সপুষ্পক উদ্ভিদে নিষেক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৫.
ধান উদ্ভিদে কোন ধরনের পরাগায়ন হয়?
  1. বায়ু পরাগী
  2. পানি পরাগী 
  3. পতঙ্গ পরাগী 
  4. প্রাণী পরাগী 
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৬.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কত ভাগ লিপিড?
  1. ক) ২৫ - ৩০%
  2. খ) ৪০ - ৫০%
  3. গ) ৬৫ - ৭০%
  4. ঘ) ৯০ - ৯৫%
ব্যাখ্যা
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু।
- শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।  

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৭.
উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকাঃ 
নাইট্রোজেন: উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
ম্যাগনেসিয়াম: ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরােফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
পটাশিয়াম: পত্ররন্ধ্র খেলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শােষণে সাহায্য করে। কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
ফসফরাস: মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় উপাদান । ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান।

৬১৮.
উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত নাইট্রোজেন কোন রূপে শোষিত হয়?
  1. নাইট্রেট
  2. অ্যামোনিয়া
  3. নাইট্রোজেন গ্যাস
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

◉ উদ্ভিদ মাটিতে থাকা নাইট্রোজেন সরাসরি শোষণ করতে পারে না, কারণ বাতাসে উপস্থিত নাইট্রোজেন গ্যাস (N₂) উদ্ভিদের জন্য অপ্রত্যক্ষভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয়।
- উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রেট আয়ন (NO₃⁻) এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যামোনিয়াম আয়ন (NH₄⁺) আকারে নাইট্রোজেন শোষণ করে।

উদ্ভিদের মাটি হতে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ: 
- ক্যালসিয়াম মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে মৌল সাহায্য করে।
- মাটিতে নাইট্রোজেন (N) এর পরিমাণ বৃদ্ধি হয় রাইজোবিয়াম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- মাটিতে নাইটোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড সহ ইত্যাদি বায়ুবীয় পদার্থ উপস্থিত থাকে।
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন।
- বাতাসের নাইট্রোজেন পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার পরে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- নাইট্রেট হিসাবে উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে নাইট্রোজেন।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৯.
বংশগতির দুটি সূত্র দিয়েছেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) মেন্ডেল
  3. গ) লিনিয়াস
  4. ঘ) হেকেল
ব্যাখ্যা
অস্ট্রিয়ার ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে জেনেটিক্স বা বংশগতির জনক বলা হয়। তিনি দীর্ঘ ৭ বছর ৩৪ প্রকারের মটরশুটি গাছ পরীক্ষা করেন এবং অবশেষে বংশগতির দুটি সূত্র আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬২০.
কোনটি বায়ু পরাগী ফুল?
  1. কচু
  2. শিমুল
  3. গম
  4. কদম
ব্যাখ্যা
• গম বায়ু পরাগী ফুল।

• পরাগায়ন:

- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
- উদাহরণ: ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া, শিম, টমেটো, তুলা ইত্যাদি।

২. পর-পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে। যথা:

• পতঙ্গ পরাগী ফুল:
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গিন ও মধু গ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যথা:
- জবা,
- কুমড়া,
- সরিষা ইত্যাদি।

• বায়ু পরাগী ফুল:
বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। যথা:
- ধান,
- গম,
- ভুট্টা ইত্যাদি।

• পানি পরাগী ফুল:
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। যথা:
- পাতাশেওলা।

• প্রাণি পরাগী ফুল:
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যথা:
- কদম,
- শিমুল,
- কচু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬২১.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য কোনটি?  
  1. গ্লাইকোজেন 
  2. কাইটিন 
  3. শ্বেতসার 
  4. লিপিড 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২২.
C3 চক্রের অপরনাম কী? 
  1. ক্যালভিন চক্র 
  2. হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র 
  3. CAM চক্র
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• ক্যালভিন চক্র:
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়।
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

• হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র:
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়।
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

• CAM পথ:
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর।
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে।
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে।
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৩.
থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে ভাগ করেন-
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা

- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬২৪.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের স্পোরোফাইট কিসের ওপর নির্ভরশীল? 
  1. নিজস্ব খাদ্য সংগ্রহের উপর 
  2. গ্যামিটোফাইটের উপর 
  3. মৃতজীবী ছত্রাকের উপর 
  4. পরিবেশের আর্দ্রতার উপর 
ব্যাখ্যা

ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
- এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
- গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
- এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
- দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
- এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
- জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
- এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
- জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
- এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৫.
প্রস্বেদন পাতার একটি -
  1. ক) বিশেষ কাজ
  2. খ) স্বাভাবিক কাজ
  3. গ) অসম্পূর্ন কাজ
  4. ঘ) আদৌ পাতার কাজ নয়
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয় তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। এছাড়া কান্ড এবং শাখা-প্রশাখা থেকেও প্রস্বেদন হয়ে থাকে। পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদ দেহে পানি ও খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়। প্রস্বেদন কিছু ক্ষতিসাধন করলেও এই প্রক্রিয়া উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্যের জন্য বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বদনকে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি বা Necessary Evil’ নামে অভিহিত করেছেন।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৬২৬.
জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে বলা হয়- 
  1. এন্ডোফাইটিক শৈবাল
  2. বেনথিক শৈবাল
  3. এপিফাইটিক শৈবাল
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
- অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৭.
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কোন উপাদানটি বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে?
  1. আয়রন
  2. হাইড্রোজেন
  3. সালফার
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে প্রস্বেদন হার নির্ণয় করা যায়?
  1. Lysimeter
  2. Evaporimeter
  3. Potometer
  4. Dendrometer
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন (Transpiration): 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ (সাধারণত পাতা) হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত উদ্ভিদের যে কোনো অংশে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ। 
- গড় হিসেবে শোষিত পানির মাত্র ১% দেহে অবস্থান করে ও কাজে লাগে, বাকি ৯৯% পানি দেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- এটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া, তবে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকরও হতে পারে। 
- বিজ্ঞানী কার্টিস (Curtis) প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (necessary evil) বলেছেন।
- গ্যানং পটোমিটার এর সাহায্যে প্রস্বেদন হার নির্ণয় করা যায়। 

প্রস্বেদনের প্রকারভেদ: 
- যে পথে পানি বাষ্পাকারে উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর হতে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে সে পথের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে প্রস্বেদনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(২) ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): পত্রত্বকের কিউটিকলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): কাণ্ডের লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন। 

অন্যদিকে, 
- Lysimeter - মাটিতে জলের গতিবিধি পরিমাপ করে।
- Evaporimeter - ভেজা পৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলে জল বাষ্পীভবনের হার পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র।
- Dendrometer - একটি সেন্সর যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করতে পারে।

উৎস:
১) জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২) Siencedirect.com
৬২৯.
উদ্ভিদের ফুল, ফল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে কোনটির অভাবে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ম্যাগনেশিয়াম
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) ফসফরাস
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম এর অভাবে উদ্ভিদের ফুল, ফল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

পটাশিয়াম গাছের রোগ প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। শক্ত ও মজবুত কান্ড গঠনে পটাশিয়ামের ভূমিকা রয়েছে। এটি গাছের বিভিন্ন কোষীয় কার্যক্রমের ওপর প্রভাব বিস্তার করায় রোগের ব্যাপকতা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও নেমাটোড প্রতিরোধে পটাশিয়াম কার্যকর ভূমিকা রাখে। মাটিতে অতিরিক্ত চুন ব্যবহারের ফলে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি হলে মাটি থেকে পটাশিয়ামের পরিশোষণ ব্যবহৃত হয়। এতে গাছে রোগ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার জৈব নাইট্রোজেনকে গাছের গ্রহণযোগ্য করার জন্য ক্যালসিয়াম উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৬৩০.
নীলাভ সবুজ শৈবাল কোন রাজ্য এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী?
  1. ক) Monera
  2. খ) Protista
  3. গ) Animalia
  4. ঘ) Fungi
ব্যাখ্যা

নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া হল Monera কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

মনেরার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো –
এরা এককোষী, কলোনিয়াল।
এদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিয়াস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইট্রোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই।
কোষে রাইবোজোম আছে।
এদের কোষ বিভাজন দ্ব বিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয় ।
এরা শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। তবে অনেকে ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য তৈরি করে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬৩১.
ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায় নিচের কোনটির জন্য?  
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) সেন্ট্রোসোম
  4. ঘ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড- সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যে সকল ক্ষুদ্র, দানাদার বিভিন্ন আকারের বস্তু দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় প্লাস্টিড।

এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়।
উদ্ভিদ কোষে সাধারণত তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে।
যথাঃ  ক্রোমোপ্লাস্ট, ক্লোরোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।


 ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়।

ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি

পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩২.
নিষেক ক্রিয়ার পর গর্ভাশয় কিসে পরিণত হয়?
  1. ভ্রূণ
  2. ফলত্বক
  3. ফল
  4. নষ্ট হয়ে যায়
ব্যাখ্যা
নিষেক ক্রিয়ার পর ,
- গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।
- গর্ভাশয় ত্বক ফলত্বকে পরিণত হয়।
- ডিম্বক বীজে পরিণত হয়। 
- সাহায্যকারী কোষ, প্রতিপাদ কোষ নষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৩.
উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবিন্যাস করেন-
  1. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. থিওফ্রাস্টাস
  3. বেনথাম ও হুকার
  4. ক্রোনকুইস্ট
ব্যাখ্যা
থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক। তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৩৪.
কলার চারা লাগানোর সময় পাতা কেটে ফেলা হয়-
  1. ক) প্রস্বেদন রোধ করার জন্য
  2. খ) শ্বসন বন্ধ করার জন্য
  3. গ) অভিস্রবণ ত্বরান্বিত করার জন্য
  4. ঘ) সালোকসংশ্লেষণের উপযোগী করে তোলার জন্য
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয় বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন।
- বায়বীয় অংশ থেকে পানি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যায়।
- প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
- শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- কলার চারা লাগানোর সময় প্রস্বেদন রোধ করার জন্য পাতা কেটে ফেলা হয়।

৬৩৫.
ট্রাইকোডার্মা কী? 
  1. এক প্রকার শৈবাল
  2. এক প্রকার ছত্রাক
  3. এক প্রকার ভাইরাস
  4. এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ট্রাইকোডার্মা: 
- ট্রাইকোডার্মা এক প্রকার ছত্রাক। 
- এ ছত্রাক বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার সাথে ব্যবহার করে যে সার তৈরি করা হয় তাকে ট্রাইকোডার্মা অণুজীব সার বলে। 
- ২৫-৩০° সে তাপমাত্রায় এ ছত্রাক বংশবিস্তার করতে পারে। 
- পচনশীল দ্রব্য বিয়োজনের মাধ্যমে এর জীবন চক্র সম্পন্ন হয়। 
- ট্রাইকো কম্পোষ্ট তৈরিতে ট্রাইকোর্ডামা ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে। 
- এই ছত্রাকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি অন্যান্য অণুজীবের বা ছত্রাকের চেয়ে কঠিন বস্তু যেমন কাঠের গুড়া গাছের শক্ত অংশ বিয়োজন করতে পারদর্শী। 
- মাটিতে এর কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই, তাই এটি পরিবেশ বান্ধব। 
- এ ছত্রাক গাছে রোগ সৃষ্টিকারী অনেক রোগজীবাণু খেয়ে ফেলে এবং গাছের সুরক্ষা দেয়। এজন্য একে ডক্টরস ফাংগাস বলা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৬.
জেনেটিক ডিসঅর্ডারের জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) পয়েন্ট মিউটেশন
  2. খ) ক্রোমোজোমের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি
  3. গ) ট্রানসলোকেশন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসওর্ডারের কারণ : চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন কীভাবে মাতা-পিতা থেকে সন্তানদের মধ্যে উপরিউক্ত রোগগুলো সঞ্চালিত হয় এবং কী ধরনের অনিয়মের কারণে রোগগুলো ঘটে। যে সকল অনিয়মের কারণে
মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হয় তা হলো-
(ক) পয়েন্ট মিউটেশন (জিনের পরিব্যপ্তি, এমনকি একটি নিউক্লিয়োটাইডের পরিব্যপ্তি),
(খ) ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি,
(গ) মায়োসিস কোষ বিভাজনের সময় হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের বিচ্ছিন্নকরণ না ঘটা (Non-disjunction) অ্যানাফেজ দশায় দু’মেরুতে সম-সংখ্যক ক্রোমোসোম বিতরণ না হওয়া) এবং
(ঘ) অসমসত্ত্ব ক্রোমোসোমের মধ্যে অংশের বিনিময় (Translocation) ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৭.
মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে কী থাকে? 
  1. স্টোলন
  2. রাইজোম
  3. শিকড়
  4. রাইজয়েড
ব্যাখ্যা
মস: 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। 
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই। 
মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। 
- এরা সবুজ ও স্বভোজী। 
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়। 
উদাহারণ- Riccia, Antheceros, Semibarbula ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং পরিবেশ শিক্ষা বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৮.
গুচ্ছ ফল কোনটি? 
  1. কাঁঠাল
  2. জাম
  3. আনারস
  4. আতা
ব্যাখ্যা
ফল: 
- নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। 
- শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আম, কাঁঠাল। 
- গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি। 
- প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- সরল ফল, গুচ্ছফল ও যৌগিক ফল। 
১) সরল ফল: 
- ফুলের একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে যে ফলের উৎপত্তি তাকে সরল ফল বলে। যেমন- আম। এরা রসাল বা শুষ্ক হতে পারে। 
- আবার সরল ফল দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) রসাল ফল: যে ফলের ফলত্বক পুরু এবং রসাল তাকে রসাল ফল বলে। এ ধরনের ফল পাকলে ফলত্বক ফেটে যায় না। 
যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি। 

খ) নীরস ফল: যে ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ক হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায় তাকে নীরস ফল বলে। 
যেমন- শিম, ঢেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি। 

২) গুচ্ছ ফল: 
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। 
যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। 

৩) যৌগিক ফল: 
- একটি মজুরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যেমন- আনারস, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬৩৯.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের স্থানীয় উদ্ভিদ প্রজাতি?
  1. রেইনট্রি
  2. শাল
  3. ইউক্যালিপটাস
  4. আকাশমনি
ব্যাখ্যা
শাল ( Shorea robusta ) বাংলাদেশের একটি স্থানীয় ও প্রাকৃতিক বনজ বৃক্ষ। 
- এটি বিশেষত বরেন্দ্র , মধুপুর ও ভাওয়াল , গাজীপুরের বন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়।
 - শাল গাছ কাঠের জন্য বিখ্যাত এবং এটি একটি বহুবর্ষজীবী, শক্ত কাঠের বৃক্ষ। 

অন্যদিকে, 
রেইনট্রি: মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আমদানি করা বিদেশি প্রজাতি।
ইউক্যালিপটাস: অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা দ্রুতবর্ধনশীল গাছ।
আকাশমনি: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থেকে আগত, বাংলাদেশে চাষযোগ্য বিদেশি প্রজাতি।

তথ্যসূত্র:
- বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম। 
- "Flora of Bangladesh" – Bangladesh National Herbarium.
৬৪০.
ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য কোনটি? 
  1. স্টার্চ 
  2. গ্লাইকোজেন 
  3. সেলুলোজ 
  4. গ্লুকোজ 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
১। ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
২। এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
৩। এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
৪। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
৫। এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
৬। ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
৭। এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 
৮। এদের জননাঙ্গ এককোষী। 
৯। স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
১০। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয় এবং 
১১। জাইগোটে মায়োসিস ঘটে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪১.
পাটের আঁশ হলো এক ধরনের -
  1. সার্ফেস ফাইবার
  2. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা
  3. বাস্ট ফাইবার
  4. জাইলেম ফাইবার
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম ফাইবার বা তন্তু (Phloem fibre): 
- স্ক্লেরেনকাইমা কোষ সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়। 
- এগুলো একধরনের দীর্ঘ কোষ, যাদের প্রান্তদেশ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। এদের বাস্ট ফাইবারও বলে। 
- পাটের আঁশ হলো এক ধরনের বাস্ট ফাইবার। 
- উদ্ভিদ অঙ্গের গৌণবৃদ্ধির সময় এ ফাইবার উৎপন্ন হয়। 
- এসব কোষের প্রাচীরে কূপ দেখা যায়। 
- ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে পাতা উৎপাদিত শর্করা এবং মূলে সঞ্চিত খাদ্য একই সাথে উপরে নিচে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪২.
আলােক বর্ণালির কোন অংশটুকুতে সালােকসংশ্লেষণ ভালাে হয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) বেগুনি
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা

আলােক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালােকসংশ্লেষণ ভালাে হয়।
আলাের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরােফিল উৎপাদন কম হয়।
ফলে সালােকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানােমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলােতে সালােকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালাে হয়।

৬৪৩.
মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে কী থাকে? 
  1. শিকড় 
  2. রাইজয়েড 
  3. স্টোলন 
  4. রাইজোম 
ব্যাখ্যা

মস: 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। 
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই। 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। 
- এরা সবুজ ও স্বভোজী। 
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়। 
উদাহারণ- Riccia, Antheceros, Semibarbula ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং পরিবেশ শিক্ষা বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৪.
ত্বকে কাঁটা পাওয়া যায় কোন পর্বের প্রাণীতে?
  1. ক) একাইনোডার্মাটা
  2. খ) মোলাস্কা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) পেরিফেরা
ব্যাখ্যা
একাইনোডার্মাটা শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত (গ্রিক, echino = spin, কণ্টকাবৃত এবং derma = skin,ত্বক)। এ পর্বভুক্ত প্রায় সমস্ত প্রাণীদের দেহত্বক কর্কশ, কণ্টক দ্বারা আচ্ছাদিত এবং দেহ ত্বকের নিচে অবস্থিত চূর্ণময় পাত থেকে অসংখ্য কন্টকাকার অভিক্ষেপ সৃষ্টি হয়।

- মোলাস্কা পর্বের অধিকাংশ সদস্য সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ নরম, মাংসল, অখন্ডিত সাধারণত শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত। ফুলকা বা ফুসফুস দিয়ে শ্বসনকার্য চালায়।

- নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের দেহ নলাকার, উভয় প্রান্ত ক্রমাগত সরু। এরা গোলকৃমি নামে পরিচিত। দেহ গহ্বর অপ্রকৃত বা স্যুডোসিল। দেহ প্রাচীরে শুধু অনুদৈর্ঘ্য পেশীতন্তু থাকে, গোলাকার পেশী থাকে না। নেমাটোডা দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হয়, অনেক সময় এদের দ্বারা গৃহপালিত পশু-পাখি আক্রান্ত হয়।

- পরিফেরা পর্বের অনেক সদস্য পরজীবী হিসেবে অন্য কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহে বসবাস করে।দেহ পৃষ্ঠে অষ্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্র বিদ্যমান। স্পিকিউল নামক অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণ্টক বিশেষ অথবা স্পন্জিল নামক এক প্রকার জৈবতন্তু দ্বারা দেহের কাঠামো গঠিত।

 সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
গমে কিভাবে পরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) মৌমাছির সাহায্যে
  2. খ) বাতাসের সাহায্যে
  3. গ) কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  4. ঘ) বৃষ্টির সাহায্যে
ব্যাখ্যা

• যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমনঃ
- ধান,
- গম,
- ভুট্টা,
- ইক্ষু ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪৬.
নিচের কোনটি গুচ্ছফল নয়?
  1. আনারস
  2. আকন্দ
  3. আতা
  4. চম্পা
ব্যাখ্যা

- আম, জাম ইত্যাদি হলো সরল ফল।
- আতা, আকন্দ, চম্পা, নয়নতারা ইত্যাদি গুচ্ছফল।
- আনারস, কাঁঠাল ইত্যাদি হলো যৌগিক ফল।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৬৪৭.
ছত্রাকের (Fungi) কোষপ্রাচীর প্রধানত কোন উপাদান দিয়ে তৈরি?
  1. Lipid
  2. Cellulose
  3. Chitin
  4. Protein
ব্যাখ্যা

◉ ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের মতো সেলুলোজ দিয়ে নয়, বরং কাইটিন (Chitin) নামক শক্ত ও স্থিতিস্থাপক উপাদান দ্বারা গঠিত।

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
- আর্দ্রতা, উষ্ণতা, খাদ্যসমৃদ্ধ ছায়াযুক্ত বা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশেই ছত্রাকের উপযুক্ত বাসস্থান। 
যথা- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Botrytis, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 
- ছত্রাকের অঙ্গজদেহ লম্বা সুতার ন্যায় নালিকা বা হাইফি (Hypae) দিয়ে গঠিত। হাইফিকে একবচনে হাইফা (Hypa) বলা হয়। 
- এসব হাইফিগুলো প্রচুর শাখা প্রশাখাবিশিষ্ট হয়ে একত্রে অবস্থান করে একটি জটের সৃষ্টি করে। একে মাইসেলিয়াম বলা হয়। মাইসেলিয়ামকে বহুবচনে মাইসেলিয়া বলে। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
১। ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
২। এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
৩। এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
৪। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
৫। ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
৬। ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
৭। এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 
৮। এদের জননাঙ্গ এককোষী। 
৯। স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
১০। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয়। 
১১। জাইগোটে মায়োসিস ঘটে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৮.
কোন ধরনের শৈবাল পাথরের গায়ে জন্মায়?
  1. এপিফাইটিক শৈবাল
  2. বেন্থিক শৈবাল
  3. এন্ডোফাইটিক শৈবাল 
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল
ব্যাখ্যা

- যে শৈবাল পাথরের গায়ে বা পাথরের ফাটলে জন্মায়, তাদের লিথোফাইট বা লিথোফাইটিক শৈবাল বলা হয়। এরা বাতাস, বৃষ্টি এবং জমে থাকা জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। 

শৈবাল: 

- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৯.
নিচের কোনটি অকোষীয়?
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. শৈবাল
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
• ভাইরাস অকোষীয়।
• অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
• কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬৫০.
কোনটি ফ্লোয়েমের প্রধান কোষ যা খাদ্য পরিবহনে মূল ভূমিকা রাখে?
  1. ফ্লোয়েম তন্তু
  2. সীভনল
  3. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা 
  4. সঙ্গীকোষ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 
- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। এই খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। 
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এদের মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। এই তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫১.
একটি আদর্শ ফুলের কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৬ টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।


- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা: পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।


- পুষ্পাক্ষ: ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপরে সাজানো থাকে তাকে বলা হয় পুষ্পাক্ষ। সাধারণত এটি গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে। পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে। এটি পুষ্প পত্রধারণ করে এবং ফুলকে কান্ডের সাথে আবদ্ধ রাখে।


- বৃতি: একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি। এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা হয়। এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে। সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। তবে বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নে সাহায্য করে।


- দলমন্ডল: বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল। এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়। এরা সাধারণত রঙিন হয়।


- পুংস্তবক: দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়। এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক এবং একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এ স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়। একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। 


- পুংকেশরে দন্ডের ন্যায় অংশকে পুংদন্ড (Filament) এবং শীর্ষে থলের ন্যায় অংশকে পরাগধানী বা পরাগরেণুথলি (Anther) বলা হয়। পরাগধানী ও পুংদন্ড সংযোগকারী অংশকে যোজনী বলা হয়।


- পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। এ পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনল গঠন করে। এ পরাগনলে পুংজনন কোষ উৎপন্ন হয়। পুংজনন কোষ সরাসরি জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে।


- স্ত্রীস্তবক: পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়। এটি ফুলের আরও একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়। স্ত্রীস্তবকে এক বা একাধিক গর্ভপত্র থাকতে পারে। এর গর্ভপত্রের তিনটি অংশ থাকে। যথা: গর্ভাশয় (Ovary), গর্ভদন্ড (Style) ও গর্ভমুন্ড (Stigma)।


উৎস: জীববিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম। 
৬৫২.
স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়-
  1. ক) জটিল টিস্যু থেকে
  2. খ) স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু থেকে
  3. গ) ভাজক টিস্যু থেকে
  4. ঘ) ফ্লোয়েম টিস্যু থাকে
ব্যাখ্যা
স্থায়ী টিস্যু- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন যে টিস্যুগুলো বিভাজনে অক্ষম তাদেরকে বলা হয় স্থায়ী টিস্যু। ভাজক টিস্যুগুলো বিভাজন ক্ষমতা লোপ পাওয়ার পর তা বৃদ্ধি পেয়ে একটি নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে এবং স্থায়ী টিস্যুতে পরিণত হয়।
স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাহীন, পূর্ণভাবে বিকশিত এবং সঠিক আকৃতিপ্রাপ্ত।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৩.
কোনটি জাইলেমের টিস্যুর অংশ নয়?
  1. ট্রাকিড
  2. সীভ নল
  3. প্যারেনকাইমা
  4. ভেসেল
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর আসল কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার।
যথা-
১. জাইলেম টিস্যু ও
২. ফ্লোয়েম টিস্যু।

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম টিস্যুর কাজ পানি পরিবহণ করা।
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেম চার ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা-  ট্রাকিড, ট্রাকিয়া বা ভেসেল,  জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু।

ফ্লোয়েম টিস্যু:
- ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত।
যথা- সীভ নল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট তন্তু।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৪.
সূর্যের আলো হতে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. ভিটামিন ই
  2. ভিটামিন কে
  3. ভিটামিন বি
  4. ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা

ভিটামিন ডি:
ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D- এর প্রধান উৎস।
​সূর্যের আলো ভিটামিন ডির প্রাকৃতিক উৎস।
বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।
ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে।
ভিটামিন D -এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়।
দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন D গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে।

​উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫৫.
কোনটি উদ্ভিদ কোষের বাইরে এবং ভেতরে পদার্থের স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে? 
  1. কোষ প্রাচীর
  2. কোষ ঝিল্লী
  3. রাইবোসোম
  4. লাইসোসোম
ব্যাখ্যা
কোষ ঝিল্লী (Plasma membrane): 
- কোষ প্রাচীরের নিচে সমস্ত প্রোটোপ্লাজমকে ঘিরে যে স্থিতিস্থাপক ও অর্ধভেদ্য সজীব পর্দা থাকে তাকে প্লাজমা মেমব্রেন, সেল মেমব্রেন, সাইটোমেমব্রেন বা কোষ ঝিল্লী বলে। 
- মেমব্রেনটি স্থানে স্থানে ভাঁজবিশিষ্ট হতে পারে। 
- প্রতিটি ভাঁজকে মাইক্রোভিলাস (বহুবচনে মাইক্রোভিলাই) বলে। 
- কোষের ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকা মাইক্রোভিলাসকে বলা হয় পিনোসাইটিক ফোস্কা। 
- কোষ ঝিল্লী প্রধানত লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- রাসায়নিকভাবে কোষ ঝিল্লী ৬০-৮০% প্রোটিন, ২০-৪০% লিপিড, ৪-৫% কার্বোহাইড্রেট এবং পানি ও লবণ দিয়ে গঠিত। 

কোষ ঝিল্লী এর কাজ: 
১। কোষকে নির্দিষ্ট আকার দান করে। 
২। কোষ এর আভ্যন্তরীণ সকল বস্তুকে বেষ্টন করে রাখে। 
৩। বাইরের সকল প্রতিকূল অবস্থা থেকে অভ্যন্তরীণ বস্তুকে রক্ষা করে। 
৪। কোষের বাইরে এবং ভেতরে পদার্থের স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে (ভেদ্য, অভেদ্য বা অর্ধভেদ্য হিসেবে)। 
৫। বিভিন্ন বৃহদাণু সংশ্লেষ করতে পারে। 
৬। বিভিন্ন রকম কোষ অঙ্গাণু (যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ইত্যাদি) সৃষ্টিতে সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৬.
ফুলের পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে কী বলা হয়?
  1. কার্পেল
  2. স্টিগমা
  3. স্ট্যামেন
  4. গর্ভপত্র
ব্যাখ্যা
• ফুলের পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে স্ট্যামেন (stamen) বা পুংকেশর বলা হয়। 

• পুস্পপত্রবিন্যাস:
- মুকুলাবস্থায় ফুলের বৃত্তাংশগুলো পরস্পরের সাথে যেভাবে বিন্যস্ত থাকে তাকে বলা হয় এস্টিভেশন বা পুস্পপত্রবিন্যাস।

• সাধারণত ৪ টি স্তবক নিয়ে একটি ফুল গঠিত হয়।
যথা:
- ক্যালিক্স,
- করোলা,
- পুং স্তবক,
- স্ত্রী স্তবক। 

• অ্যানড্রিসিয়াম (Androecium) বা পুংস্তবক:
- দলমণ্ডলের ভেতরে অবস্থিত ফুলের তৃতীয় স্তবক হলো অ্যানড্রিসিয়াম বা পুংস্তবক।
- এর প্রতিটি সদস্যকে বলা হয় স্ট্যামেন (stamen) বা পুংকেশর।
- পুংকেশরের দণ্ডকে বলা হয় ফিলামেন্ট (filament) বা পুংদণ্ড এবং মাথার স্ফীত অংশকে বলা হয় অ্যান্থার (anther) বা পরাগধানী, পরাগধানীর ভেতরে থাকে পোলেন গ্রেন (pollen grain) বা পরাগরেণু।

• সাধারণত ছয়টি পুংকেশরের মাঝে চারটি লম্বা এবং দুটি খাটো হলে তাকে টেট্রাডিনেমাস (tetradynamous) বলে। 
- চারটি পুংকেশরের মাঝে দুটি লম্বা এবং দুটি খাটো হলে তাকে ডাইডিনেমাস (didynamous) বলে।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৬৫৭.
Cycas উদ্ভিদে পরাগায়ন ঘটে কোন মাধ্যমে? 
  1. পানি 
  2. পোকা 
  3. বাতাস 
  4. পাখি 
ব্যাখ্যা

নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা-ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন- Cycas pectinata একটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়। 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৬৫৮.
কোন পুষ্টি উপাদানের অভাব হলে উদ্ভিদে ক্লোরোসিস ঘটে?
  1. বোরন
  2. নাইট্রোজেন
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বিভিন্ন খনিজ বা পুষ্টি উপাদানের ভূমিকা এবং অভাবজনিত লক্ষণ:

• নাইট্রোজেনের অভাব হলে উদ্ভিদের ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে ফলে উদ্ভিদের পাতা হলুদ (পীত বর্ণ) হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে। 
• বায়ুর নাইট্রোজেন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
• ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। এছাড়া ফসফরাসের অভাবে পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যায়।
• টাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
• বোরনের অভাবে কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান।
৬৫৯.
উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. শ্বসন
  3. পরাগায়ন
  4. বীজ উৎপাদন
ব্যাখ্যা

◉ ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) হলো একটি কোষীয় অঙ্গাণু, যা উদ্ভিদের পাতায় এবং সবুজ অংশে পাওয়া যায়।
- এতে ক্লোরোফিল (Chlorophyll) নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা সূর্যের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

ক্লোরোফিল ও সালোকসংশ্লেষণ:
- ক্লোরোফিলের প্রধান উপকরণ হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেসিয়াম।
- লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- পাতার ক্লোরোফিলের পরিমাণের সাথে সালোকসংশ্লেষণের হারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কারণ একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে পারে।
- পুরাতন ক্লোরোপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে যায় এবং তখন নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট সংশ্লেষিত হয়।
- নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লস্টের উপাদান সৃষ্টির হারের উপর সালোকসংশ্লেষণের হার নিভর্রশীল।
- সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন উপাদান দ্রুত এবং প্রচুর পরিমাণে পুনর্গঠিত হওয়া প্রয়োজন।
- তবে কোষে খুব বেশি পরিমাণ ক্লোরোফিল থাকলে এনজাইমের অভাব দেখা দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬০.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কয়টি ম্যাক্রো উপাদান দরকার?
  1. ক) ১০
  2. খ) ৬
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ১২
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলো কে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
ম্যাক্রো উপাদান দশটি; যথা:
- নাইট্রোজেন,
- পটাশিয়াম,
- ফসফরাস,
- ক্যালসিয়াম,
- ম্যাগনেশিয়াম,
- কার্বন,
- হাইড্রোজেন,
- অক্সিজেন,
- সালফার এবং
- লৌহ।
উৎস: নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।

৬৬১.
উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবিন্যাস করেন-
  1. ক) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. খ) থিওফ্রাস্টাস
  3. গ) বেনথাম ও হুকার
  4. ঘ) ক্রোনকুইস্ট
ব্যাখ্যা

- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬৬২.
ইস্টে কোন ধরনের শ্বসন সংঘটিত হয়?
  1. ক) সবাত
  2. খ) অবাত
  3. গ) উভয়টি ঘটে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ইস্টে অবাত শ্বসনের ফলে অ্যালকোহল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়।
এই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের চাপে রুটি ফুলে গিয়ে ভেতরে ফাঁপা হয়।
যে শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংগঠিত হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬৬৩.
কোনটিকে শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা বলা হয়?
  1. রাইবোজোম
  2. নিউক্লিয়াস
  3. মাইট্রোকন্ডিয়া
  4. ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে। এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু।

- রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
- কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬৬৪.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় উপাদান কতটি?
  1. ক) ১২
  2. খ) ১৬
  3. গ) ২২
  4. ঘ) ৩৬
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে মাত্র ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
উৎসঃজীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী

৬৬৫.
অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য কোনটি আবশ্যক?
  1. ক) Ca
  2. খ) Cu
  3. গ) Mn
  4. ঘ) Mo
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন:
১। ম্যাংগানিজ: ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়োজন।
২। কপার: টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
৩। বোরন: উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন, চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
৪। মোলিবডেনাম: অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম (Mo) আবশ্যক
৫। ক্লোরিন: সুপারবিট এর মূল এবং কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৬.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায় কিসের অভাবে?
  1. বোরন
  2. কপার
  3. নাইট্রোজেন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন(N): 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে এক সময় হলুদ হয়ে যায়, কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণ কণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলো ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিস তথা নাইট্রোজেনের অভাবে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

অন্যদিকে, 
- বোরন, কপার ও সালফারের মতো অন্যান্য উপাদান উদ্ভিদের জন্য সহায়ক হলেও নাইট্রোজেনের তুলনায় এই উপাদানগুলো কম গুরুত্বপূর্ণ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৭.
কোনটি সপুস্পক উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) আম
  2. খ) অ্যাগারিকাস
  3. গ) শিমুল
  4. ঘ) পেয়ারা
ব্যাখ্যা
• সপুষ্পক উদ্ভিদ:
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। যেমন: আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি।
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত।
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে।
- এরা প্রধানত দুই ধরনের যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ।
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

• অপুষ্পক উদ্ভিদ:
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। যথা: অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি (বোর্ড বই)।  
৬৬৮.
ব্যাকটেরিয়ার ভুল বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
  2. এরা সাধারণত বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
  3. এরা অকোষীয়।
  4. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক।
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- 
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৯.
E.coli এক ধরণের-
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। গাঠনিক , উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়।

ব্যাকটেরিয়া মাটিতে, পানিতে, বাতাসে, জীবদেহের বাইরে এবং ভেতরে বাস করে। এমনকি মানুষের অন্ত্রেও ব্যাকটেরিয়া বাস করে। যেমন- Escherichia coli। এরা আমাদেরকে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সরবরাহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৭০.
কোনটি বায়ু পরাগায়নের উদাহরণ?
  1. ধান
  2. সরিষা
  3. কচু
  4. শিমুল
ব্যাখ্যা
ধান বায়ু পরাগায়নের একটি উদাহরণ।

• পরাগায়ণ:
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
• উদাহরণ:
- ধুতুরা,
- শিম,
- টমেটো,
- তুলা, ইত্যাদি।

২. পর পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে।
• বায়ু পরাগায়ন:
- ধান,

- গম,
- ভুট্টা,
- ইক্ষু, ইত্যাদি।

• পতঙ্গ পরাগায়ন:
- জবা,
- কুমড়া,
- সরিষা,
- গোলাপ,  ইত্যাদি।

•  প্রাণীপরাগায়ন:
- কদম,
- কলা,
- কচু,
- শিমুল, ইত্যাদি।

• পানি পরাগায়ন:
- পাতা শ্যাওলা,
- কাঁটা শ্যাওলা, ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭১.
পতঙ্গ পরাগায়ন ঘটে কোনটিতে?
  1. কলা
  2. কদম
  3. গোলাপ
  4. তুলা
ব্যাখ্যা
পরাগায়ণ:
• ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন: একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
- উদাহরণ: ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া, শিম, টমেটো, তুলা ইত্যাদি।

২. পর পরাগায়ন: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগায়ন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।
- পতঙ্গ পরাগায়ন: সূর্যমুখী, জুঁই, সরিষা, গোলাপ ইত্যাদি।
- প্রাণীপরাগায়ন: কদম, কলা, কচু, শিমুল ইত্যাদি।
- পানি পরাগায়ন: পাতা শ্যাওলা, কাঁটা শ্যাওলা ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭২.
চা কোন অঞ্চলের উদ্ভিদ?
  1. নাতিশীতোষ্ণ
  2. মৌসুমী
  3. ক্রান্তীয়
  4. ভূমধ্যসাগরীয়
ব্যাখ্যা

চা প্রধানত ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলের ফসল।
- চা বলতে সচরাচর সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরনের উষ্ণ পানীয়কে বোঝায় যা চা পাতা পানিতে ফুটিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে তৈরী করা হয়। 
- চা গাছ থেকে চা পাতা পাওয়া যায়। চা গাছেরবৈজ্ঞানিক নাম: ক্যামেলিয়া সিনেনসিস।
- 'চা পাতা' কার্যত চা গাছের পাতা, পর্ব ও মুকুলের একটি কৃষিজাত পণ্য যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়।
- ইংরজিতে চা-এর প্রতিশব্দ হলো টি (tea)। গ্রীকদেবী থিয়ার নামানুসারে এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল। - চীনে ‘টি’-এর উচ্চারণ ছিল ‘চি’, পরে হয়ে যায় ‘চা’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৭৩.
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপনের ভূমিকা কী? 
  1. পানি পরিবহন করা
  2. গ্লুকোজ উৎপাদন করা
  3. আলো গ্রহণ করা
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ও অক্সিজেন ত্যাগ
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- সব পদার্থই কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি, এ অণুগুলো সবসময় গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলোর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে, এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না অণুগুলোর ঘনত্ব দুই স্থানে সমান হয়। অণুগুলোর এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয়, যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনত্বযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রকার চাপকে ব্যাপন চাপ বলে। 
- কোনো পদার্থের অণুর ব্যাপন ততক্ষণ চলতে থাকে, যতক্ষণ না উক্ত পদার্থের অণুগুলোর ঘনত্ব সর্বত্র সমান হয়। অণুগুলোর ঘনত্ব সমান হওয়া মাত্রই পদার্থের ব্যাপন বন্ধ হয়ে যায়। 
যেমন- ঘরে সেন্ট বা আতর ছড়ালে বা ধূপ জ্বালালে সমস্ত ঘরে তার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে, এটি ব্যাপনের কারণে ঘটে। ধূপের ধোঁয়া ও সেন্টের অণুগুলো অধিক ঘনত্ব সম্পন্ন হওয়ায় সম্পূর্ণ ঘরে কম ঘনত্ব সম্পন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সমস্ত ঘর সুবাসে ভরে যায়। 

ব্যাপনের গুরুত্ব: 
- জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
যেমন- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে, এই অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়। 
- জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। 
- ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়ে যায়। 
- উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়। 
- প্রাণীদের শ্বসনের সময় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদান, রক্ত থেকে পুষ্টি উপাদান, অক্সিজেন প্রভৃতি লসিকায় বহন এবং লসিকা থেকে কোষে পরিবহন করা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬৭৪.
লেবু গাছ কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. বৃক্ষ
  2. বিরুৎ
  3. গুল্ম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদ কাষ্ঠল, সাধারণত কান্ডহীন এবং গোড়া হতে অধিক শাখা-প্রশাখা বের হয়ে ঝোপে পরিণত হয় তাদেরকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে। 
- এই জাতীয় উদ্ভিদের শেকড় মাটির গভীরে যায় না। 
যেমন- লেবু , জবা, রঙ্গন, গন্ধরাজ, গোলাপ ইত্যাদি। 

• অপশন আলোচনা: 
বৃক্ষ (Tree):
- বৃক্ষ হলো দীর্ঘস্থায়ী উদ্ভিদ যার মূল কোনটি মাটির নিচে স্থায়ী অংশ ও গণ্ডি (trunk) থাকে।
- বৃক্ষ সাধারণত একাধিক বছরের জন্য বৃদ্ধি করে এবং শাখা-প্রশাখা প্রসারিত করে।

বিরুৎ (Climber / Vine):
- বিরুৎ হলো এমন উদ্ভিদ যা কোথাও চড়ে বা আটকে নিজেদের সমর্থন করে বৃদ্ধি পায়, যেমন লতাবৃক্ষ।
- ইহার কাণ্ড সাধারণত নমনীয় ও লম্বা হয়ে অন্য বস্তুর ওপর চড়ে উঠে।
- লেবু গাছ সাধারণত এধরনের নয়—এটি স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকে ও লত হিসেবে নয়।

গুল্ম (Shrub):
- গুল্ম হলো ছোট বা মাঝারি আকারের আগাছা-জাতীয় গাছ যা প্রায়শই একাধিক কাণ্ড থেকে উৎপন্ন হয় ও গাছের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট থাকে।
- অনেক ফলদায়ী উদ্ভিদ গুল্মের আকার ধারণ করতে পারে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬৭৫.
গাছের পাতা বেগুনি হয়ে যায় কোনটির অভাবে?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. পটাশিয়াম
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

• ফসফরাস:
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

• পটাশিয়াম:
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৬.
উদ্ভিদের 'পসটুলেটেড হরমোন' বলা হয় কোনটিকে?
  1. অক্সিন
  2. ভার্নালিন
  3. জিবেরেলিন
  4. সাইটোকাইনিন
ব্যাখ্যা
ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়, কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে, যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, সেটাই হচ্ছে হরমোন (Hormone)। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে, যেমন- ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ধারণা করা হয়, ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। তাই দেখা যায়, ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৭.
হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ওষুধ তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয় ?
  1. ইস্ট
  2. E.Coli ব্যাকটেরিয়া
  3. নরভাইরাস
  4. সালমোনেলা
ব্যাখ্যা

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ওষুধ তৈরিতে ইস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহৃত হয়।
ইস্ট ও E.Coli ব্যাকটেরিয়া থেকে ইনসুলিন তৈরি হয়।
[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা-৩১৩]

৬৭৮.
সবাত শ্বসন কয়টি পর্যায় এর মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে থাকে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি পর্যায়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয় যথা: গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো এ সৃষ্টি,ক্রেবস চক্র,ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র।
৬৭৯.
মাইক্রোউপাদানের মধ্যে কোনটি নেই? 
  1. বোরন (B) 
  2. ক্লোরিন (Cl) 
  3. জিংক (Zn) 
  4. নাইট্রোজেন (N) 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এই ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এই ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এই উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮০.
নিচের কোনটিকে উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় "Necessary Evil" বলা হয়? 
  1. প্রস্বেদন
  2. অভিস্রবণ
  3. ব্যাপন
  4. অভিযোজন
ব্যাখ্যা

•  উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রস্বেদন (Transpiration)-কে "Necessary Evil" বলা হয়।

প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়।
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়।
- এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে।
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়।
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary
evil'
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া, কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে।
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

অন্যান্য অপশন:
- অভিস্রবণ (Osmosis): এটি অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে দ্রাবকের (পানির) চলাচল, যা ক্ষতিকর নয়।
- ব্যাপন (Diffusion): এটি অণুর অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনত্বযুক্ত স্থানে স্বতঃস্ফূর্ত চলাচল, যা কোনো অপচয় বা 'Evil' সৃষ্টি করে না।
- অভিযোজন (Adaptation): এটি একটি পরিবেশগত প্রক্রিয়া, যা উদ্ভিদের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য এবং শারীরবৃত্তীয় কোনো প্রক্রিয়া নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৬৮১.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি জারিত হয়?
  1. পানি
  2. কাবন ডাইঅক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছাড়ে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।

উৎস:  উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮২.
মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে কোনটিতে?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) শৈবাল
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) রিকসিয়া 
ব্যাখ্যা
মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে মস বর্গীয় উদ্ভিদে।
এসব উদ্ভিদের দেহে কাণ্ড, পাতা ও মূল থাকে না । মূলের পরিবর্তে এদের রাইজয়েড থাকে । এদের দেহে ক্লোরােফিল থাকায় এরা স্বভােজী । সংবহন কলাতন্ত্র অনুপস্থিত এবং জননাঙ্গ বহু কোশযুক্ত হয় ।
যেমন – পােগােনেটাম, রিকসিয়া, মারক্যানসিয়া  , পলিট্রিকাম ইত্যাদি কয়েকটি সাধারণ মস ।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৬৮৩.
নিচের কোনটি স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন করে?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ফার্ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• অযৌন প্রজনন:
- পুং ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদের যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন প্রজনন বলে।
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে অযৌন স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন হয়ে থাকে এবং আবৃতবীজী উদ্ভিদে সাধারণত দেহ অঙ্গের মাধ্যমে অযৌন জনন হয়ে থাকে।   

• অযৌন স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন:
- নিম্নশ্রেণির বেশকিছু উদ্ভিদে বিভিন্ন ধরনের রেণু বা স্পোর তৈরি হয়। এসব স্পোর অঙ্কুরিত হলে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। যেমন-

ক) শৈবাল - জুওস্পোর, আপ্লানোস্পোর এবং স্থিররেণু বা অ্যাকাইনেটি।
খ) ছত্রাক - কনিডিয়া বা কনিডিয়স্পোর, বেসিডিওস্পোর এবং স্পোরানজিওস্পোর।
গ) ফার্ন -  রেণু বা স্পোর সম-আকৃতির অর্থাৎ হোমোস্পোরাস।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৬৮৪.
ক্লোরোপ্লাস্টের রঙ কেন সবুজ দেখায়?
  1. জ্যান্থফিলের কারণে 
  2. ক্যারোটিনের কারণে 
  3. ক্লোরোফিলের কারণে 
  4. ফাইকোএরিথ্রিনের কারণে 
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়, এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৫.
কোনটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) গোলাপ 
  2. খ) কাঁঠাল
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
যেসব উদ্ভিদের কান্ড শক্ত কিন্তু গুঁড়িহীন অর্থাৎ ক্ষুদ্র কান্ড বিশিষ্ট এবং মাটির সামান্য উপরে ঝোপের মতো শাখাপ্রশাখা সৃষ্টি করে, সেসব উদ্ভিদকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে। যেমন – জবা, রঙ্গন, গোলাপ, বেলি, জুঁই,কাগজি লেবু, গন্ধরাজ ইত্যাদি

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৬৮৬.
ব্যাকটেরিয়ার প্রধান জনন পদ্ধতি কোনটি?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়োসিস
  3. গ) দ্বি-ভাজন
  4. ঘ) অঙ্গজ জনন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ক্রোমোসোম না থাকায় ব্যাকটেরিয়া কোষে মাইটোসিস ও মিয়োসিস ঘটে না। ব্যাকটেরিয়ার প্রধান জনন পদ্ধতি হলো দ্বি-ভাজন পদ্ধতি। এটি একটি অযৌন পদ্ধতি। কুঁড়ি তথা মুকুলোদগম প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়াতে সংখ্যাবৃদ্ধি হতে পারে। কুঁড়ি সৃষ্টির পদ্ধতিকে অঙ্গজ জনন পদ্ধতি বলা যেতে পারে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৮৭.
শালগম কোন ধরনের রুপান্তরিত মূল?
  1. ক) কন্দাকৃতি
  2. খ) রূপান্তরিত প্রধান মূল
  3. গ) অস্থানিক মুল
  4. ঘ) শাখা মূল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মূল কখনও বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে। আকৃতিগত দিক থেকে এরা চার প্রকার যথা- ১। মূলাকৃতিমূল, ২। গাজরাকৃতিমূল ৩। শালগমাকৃতিমূল এবং ৪। কন্দাকৃতিমূল।
মূলাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই প্রধান মূল মোটা ও রসাল হয়। এই মূলের মধ্যভাগ মোটা কিন্তুদুই প্রান্ত ক্রমশ: সরু। যেমন - মূলা।
গাজরাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই, প্রধান মূলটি মোটা ও রসাল হয়। এই মূলের উপরের দিক মোটা এবং নিচের দিকে ক্রমশ: সরু হয়ে যায়। যেমন - গাজর।
শালগমাকৃতি মূল: এই ক্ষেত্রে প্রধান মূলটির উপরের অংশ খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে গোলাকার এবং নিচের অংশ হঠাৎ করে সরু হয়ে যায়। যেমন - শালগম।
কন্দাকৃতি মূল: খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে কখনও কখনও প্রধান মূলটি অনিয়মিত ভাবে মোটা হয়। এদের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই। যথা- সন্ধামালতি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৬৮৮.
গুচ্ছ ফল কোনটি?
  1. ক) আতা
  2. খ) ঢেঁরস
  3. গ) জাম
  4. ঘ) শিম
ব্যাখ্যা
একটি ফুলে যখন অনেকগুলি গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে।
 যেমন: চম্পা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি।

- শিম, ঢেঁরস নিরস ফল।
- জাম রসালো ফল।

সূত্র: ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
৬৮৯.
ডাইব্যাক হয় কিসের অভাবে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) আয়োডিন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা
সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে যাকে ডাইব্যাক বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯০.
কোন উদ্ভিদের শ্বাসমূল আছে?
  1. পাইনাস
  2. কেয়া
  3. সুন্দরী
  4. বট
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে। 
যেমন- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি। 
- সুন্দরী বা গরান উদ্ভিদের শ্বাসমূল আছে। 
- রাস্নায় পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল দেখা যায়। 
- আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোম-জাতীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 
৬৯১.
Agaricus কোন ধরনের ছত্রাক? 
  1. মৃতজীবী ছত্রাক 
  2. বাতাসজ ছত্রাক 
  3. জলজ ছত্রাক 
  4. জীবন্ত ছত্রাক 
ব্যাখ্যা

- Agaricus একটি মৃতজীবী ছত্রাক। 
- এর সাধারণ নাম মাশরুম। 
- Agaricus মানুষের কাছে 'ব্যাঙের ছাতা' নামেও পরিচিত। 
- Agaricus ভেজা মাটিতে, মাঠে-ময়দানে, কাঠের উপরে, খড়ের গাঁদা, গোবর প্রভৃতি পঁচনশীল জৈব পদার্থের উপর জন্মায়। 
- বৃষ্টির দিনে এরা অধিক পরিমাণে জন্মায়। 
- অনেক সময় সবুজ ঘাসের লনে Agaricus এর কোন কোন প্রজাতি দলবদ্ধভাবে একটি বৃত্তের আকারে অবস্থান করে। এ ধরনের বৃত্তকে পরিচক্র (Fairy ring) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯২.
কোনটি Biological coin নামে পরিচিত? 
  1. FTP
  2. ATP
  3. NADPH
  4. NADH
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৩.
উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদসমূহকে কয়টি শ্রেণি ভাগ করেন?
  1. ক) ৩ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৬ ভাগে
ব্যাখ্যা
থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক। তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৯৪.
বীজ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া কখন শুরু হয়? 
  1. রোপণের সময়
  2. ফসল কাটার পর
  3. চারা রোপণের সময়
  4. বীজ উৎপাদনের সময় থেকে
ব্যাখ্যা

বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া: 
- বীজ উৎপাদন থেকেই বীজ সংরক্ষণের শুরু এবং জমিতে এর বপন বা রোপণের মাধ্যমে বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ। 
- বীজ সংরক্ষণ বলতে বীজের উৎপাদন, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বিপণন যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাকেই বোঝায়। 
- বীজ শস্য উৎপাদনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার- 
১) কেবল বীজের জন্যই ফসলের চাষ করা; 
২) নির্বাচিত জমির আশপাশের জমিতে ঐ নির্দিষ্ট বীজ ফসলের অন্য জাতের আবাদ না করা; 
৩) বীজ উৎপাদনের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ সংগ্রহ করা; 
৪) বীজের চারা বৃদ্ধিকালে জমি থেকে ভিন্ন জাতের গাছ তুলে ফেলা; 
৫) বীজের ক্ষেত ঘন ঘন পরিদর্শন করা যাতে (ক) আগাছা দমন (খ) ভিন্ন জাতের গাছ তোলা ও (গ) রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়; 
৬) ফসলের পরিপক্বতার দিকে দৃষ্টি রাখা; 
৭) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ফসল কাটা, মাড়াই করা ও ঝাড়া ইত্যাদি। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৫.
ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২ভাগে
  2. খ) ৩ভাগে
  3. গ) ৪ভাগে
  4. ঘ) ৫ভাগে
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল ধরনের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-

১. ছোট দিনের উদ্ভিদ:
সয়াবিন, আলু, কসমস, ইক্ষু, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি।

২. বড় দিনের উদ্ভিদ:
পালংশাক, লেটুস, আফিম, ঝিঙ্গা, যব ইত্যাদি।

৩. দিন নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
সূর্যমুখী, টমেটো, শসা, কার্পাস, আউশ ধান ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৯৬.
নিচের কোনটিতে আয়োডিন পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) এগারিকাসে
  2. খ) মিউকরে
  3. গ) লাইকেনের
  4. ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
৬৯৭.
মেসোফিল টিস্যু কোথায় থাকে?
  1. মূলে
  2. মজ্জায়
  3. পাতায়
  4. বীজে
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।
কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়।
পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৮.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন করে ___।
  1. জাইলেম 
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. কর্টেক্স
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের ভেতর দুটি প্রধান পরিবহন টিস্যু আছে:- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। এরা একসাথে উদ্ভিদের পরিবহন তন্ত্র (Vascular system) গঠন করে।

ফ্লোয়েম (Phloem):
- ফ্লোয়েমের কাজ হলো পাতায় উৎপন্ন খাদ্য (মূলত গ্লুকোজ বা সুক্রোজ) উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে যেমন মূল, কাণ্ড, ফুল, ফল ইত্যাদিতে পৌঁছে দেওয়া।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সলোকেশন (Translocation)।
- খাদ্য পরিবহন উর্ধ্বমুখী (upward) ও নিম্নমুখী (downward) উভয় দিকেই হতে পারে।

ফ্লোয়েম গঠিত হয় চারটি প্রধান উপাদান-
- সিভ টিউব (Sieve tube), 
- কম্প্যানিয়ন সেল (Companion cell), 
- ফ্লোয়েম ফাইবার (Phloem fiber), 
- ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchyma), 

অপরদিকে:
- জাইলেম (Xylem): পানি ও খনিজ পদার্থ মূল থেকে পাতায় পরিবহন করে।
- ক্যাম্বিয়াম (Cambium): নতুন জাইলেম ও ফ্লোয়েম গঠনে সাহায্য করে, অর্থাৎ এটি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
- কর্টেক্স (Cortex): মূল ও কাণ্ডের ভেতরে থাকা টিস্যু যা খাদ্য ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে, কিন্তু পরিবহন করে না।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৬৯৯.
গাছের শারীরিক বৃদ্ধি হয় কোন সারে?
  1. ক) TSP
  2. খ) MP
  3. গ) SSP
  4. ঘ) Urea
ব্যাখ্যা
টিএসপি এবং ইউরিয়া উভয়ই উদ্ভিদের শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে এ ক্ষেত্রে টিএসপি সার উদ্ভিদের শারীরিক বৃদ্ধিতে বেশি ভূমিকা পালন করে। তাই এটিকে সঠিক উত্তর হিসেবে ধরা হয়েছে। Source: ais.gov.bd
৭০০.
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ব্যাপন
  2. প্রস্বেদন
  3. অভিস্রবণ
  4. ইমবাইবিশন
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে। শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পরিত্যাগ করে।
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের এই প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি