বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা৪৭প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৪ / ১৪ · ১,৩০১১,৩৪৭ / ১,৩৫৫

১,৩০১.
ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে প্রোটিন সংশ্লেষণ করে কোনটি?
  1. ক) ভলিউটিন
  2. খ) রাইবোসোম
  3. গ) কোষ গহ্বর
  4. ঘ) ক্রোম্যাটোফোর
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজম:
- সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় সাইটোপ্লাজম থাকে।
- এটি সাধারণত বর্ণহীন।
- এতে কোষ গহবর, চর্বি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন যার অধিকাংশই এনজাইম, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ (যেমন- ফসফরাস, লৌহ ও সালফার ইত্যাদি) বিদ্যমান থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে কিছু পদার্থ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখা যায়। যেমন-
১। রাইবোসোম (70S),
২। ক্রোম্যাটোফোর,
৩। কোষ গহ্বর এবং
৪। ভলিউটিন।

রাইবোসোম:
- প্রতিটি রাইবোসোম RNA ও প্রোটিন সহযোগে গঠিত।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ করাই রাইবোসোমের প্রধান কাজ

ক্রোম্যাটোফোর:
- কতক ব্যাকটেরিয়াতে ক্রোম্যাটোফোর থাকে।
- এসব রঞ্জক পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে।

কোষ গহ্বর:
- ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে অত্যন্ত ছোট ছোট কোষ গহবর থাকে। 

ভলিউটিন:
- তরুণ ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে এবং পুরাতন কোষের কোষ গহ্বরে ভলিউটিন থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩০২.
Which of the following is not a by product of Photosynthesis?
  1. Oxygen
  2. Water
  3. Carbon dioxide
  4. None of the above
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ:

- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
- এটি একটি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া।
- ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ ব্ল্যাকম্যান ১৯০৫ সালে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে দু'টি পর্যায়ে ভাগ করেন।
যথা- (ক) আলোক নির্ভর পর্যায়,
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে আলো অপরিহার্য। 
- আলোক নির্ভর পর্যায়ের বিক্রিয়াসমূহ ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েড মেমব্রেনে সংঘটিত হয়। 
খ) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়,
- প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষভাবে আলোর উপর নির্ভরশীল নয় বলে একে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় বলা হয়। 
- এ পর্যায়ের বিক্রিয়াগুলো ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে সংঘটিত হয়।
- সালোকসংশ্লেষণে উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ও পানি তৈরী হয়। কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরী হয় না।
- স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ বেশী হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
১,৩০৩.
আবৃতবীজী উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. আম
  2. জাম
  3. পাইনাস
  4. সুপারি
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

২। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩০৪.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Pithophora
  2. Oedogonium
  3. Spirogyra
  4. Zygnema
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
সর্পিলাকার (Spirogyra)
• জালিকাকার (Oedogonium), 
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
• গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১,৩০৫.
নিচের কোনটি প্রস্বেদনের প্রকার নয়?
  1. মূলীয় প্রস্বেদন
  2. ত্বকীয় প্রস্বেদন
  3. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  4. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

- প্রস্বেদনের প্রকার নয়- মূলীয় প্রস্বেদন 

প্রস্বেদন: 

- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। 
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩০৬.
খাদ্য তৈরীর জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে?
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) জলীয় বাষ্প
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। 
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪টি - পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০৭.
নিচের কোনটির অভাবে কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি হয়?
  1. ক) ম্যাগনেশিয়াম
  2. খ) সালফার
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।


- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।


- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়


- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।


- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে।


- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৩০৮.
নিম্নলিখিত কোন উদ্ভিদ নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ?
  1. আম 
  2. জাম 
  3. সাইকাস
  4. সুপারি
ব্যাখ্যা

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

২। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৩০৯.
সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ হচ্ছে-
  1. মিথোজীবী
  2. পরভোজী
  3. পরজীবী
  4. স্ব-ভোজী
ব্যাখ্যা
- সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ স্বভোজী। 
- যে উদ্ভিদের ফুল হয়, তারা সপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- সপুষ্পক উদ্ভিদ ক্লোরোফিল এর সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। তাই এরা স্বভোজী উদ্ভিদ। 
- সপুষ্পক উদ্ভিদ দুই প্রকার- নগ্নজীবী উদ্ভিদ ও গুপ্তজীবী উদ্ভিদ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১০.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি কোনটি হতে পারে? 
  1. জালিকাকার 
  2. সর্পিলাকার 
  3. গোলাকার 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
সর্পিলাকার (Spirogyra)
জালিকাকার (Oedogonium)
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

১,৩১১.
উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির কতটুকু সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. মাত্র ০.১%
  2. মাত্র ০.০১%
  3. মাত্র ০.০০১%
  4. মাত্র ০.০০০১%
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির মাত্র ০.০১% সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। 

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ- 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়।
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়।
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু।
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো।
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে।
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১২.
তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে -
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে TMV নামক ভাইরাস

• টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV):
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত।
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়।
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে।
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১৩.
সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হয়-
  1. লাল আলোতে
  2. হলুদ আলোতে
  3. কমলা আলোতে
  4. সবুজ আলোতে
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা:
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
- পানি এবং CO₂ থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো।
- সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে।
- সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO₂ পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে।
- কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
- আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়।
- সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না।
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়।
- কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়।
- ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
- সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm অর্থাৎ বেগুনি আলো এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট 'লাল' আলোতে  সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
১,৩১৪.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপ-উৎপাদ কোনটি? 
  1. গ্লুকোজ
  2. পানি 
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সালোকসংশ্লেষণ হলো এমন একটি জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিল নামক রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোকের শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- এই শক্তির সাহায্যে তারা বায়ু থেকে গ্রহণকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং মাটি থেকে আহরিত পানি (H2O) কে ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় উপ-উৎপাদ হিসেবে অক্সিজেন (O2) নির্গত হয়
- বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ-

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে। 
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১৫.
নিচের কোনটি মাইক্রো উপাদান নয়?
  1. Zn
  2. Mn
  3. Mo
  4. Mg
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়।
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন ।
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যেমন: 
(i) ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং 
(ii) মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান ৷

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান :
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয় ।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: 
- নাইট্রোজেন (N),
- পটাশিয়াম (K),
- ফসফরাস (P),
- ক্যালসিয়াম (Ca),
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg),
- কার্বন (C),
- হাইড্রোজেন (H),
- অক্সিজেন (O),
- সালফার (S) এবং 
- লৌহ (Fe).

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে ।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। যথা: 
- দস্তা বা জিংক (Zn),
- ম্যাংঙ্গানিজ (Mn),
- মোলিবডেনাম (Mo),
- বোরন (B),
- তামা বা কপার (Cu) এবং 
- ক্লোরিন (Cl).

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৬.
কোন উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়?
  1. ডালিয়া
  2. আদা
  3. হলুদ
  4. ওলকচু
ব্যাখ্যা
দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩১৭.
কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে কী বলে?
  1. পর্বমধ্য
  2. মুকুল
  3. পর্ব
  4. পত্রকক্ষ
ব্যাখ্যা
কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪ । পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩১৮.
জেমস ওয়াটসন ও ফ্রানসিস ক্রিক ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন-
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৬২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৩ সালে
  5. ঙ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রানসিস ক্রিক ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৩১৯.
সবাত শ্বসন কোথায় ঘটে?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্টে
  2. খ) সাইটোপ্লাজমে
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়াতে
  4. ঘ) উপরের খ ও গ
ব্যাখ্যা
সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস ধাপটি কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং ক্রেবস্ চক্রটি মাইট্রোকন্ড্রিয়াতে ঘটে। সবাত শ্বসনে মোট যে ৩৮টি ATP (অ্যাডিনো সাইন ট্রাই ফসফেট) উৎপন্ন হয়, যা কোষের প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
১,৩২০.
নিচের কোনটি যৌগিক ফল?
  1. ক) কাঁঠাল
  2. খ) ডুমুর
  3. গ) আনারস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
যখন একটি পুষ্পমঞ্জরির সব ফুল মিলে একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যৌগিক ফলের ভিতরে অসংখ্য বীজ থাকে।
যেমন: আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর ইত্যাদি।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩২১.
ব্যাকটেরিয়ার চলাচলের জন্য কোন উপাঙ্গ অপরিহার্য?
  1. ক্যাপসিউল
  2. পিলি
  3. ফ্ল্যাজেলা
  4. রাইবোজোম
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়ার চলাচলের জন্য ফ্ল্যাজেলা অপরিহার্য কারণ ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।

- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে।
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে।
- পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে।
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে।
- এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয়।
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩২২.
বয়োবৃদ্ধ পাতা হলুদ হয়ে যায় কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. সালফার
  3. ফসফরাস
  4. পটশিয়াম
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন (N) এর অভাবজনিত লক্ষণ:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।
- নাইট্রোজেনের অভাবে বয়োবৃদ্ধ পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৩২৩.
মস জাতীয় উদ্ভিদে কোনটি অনুপস্থিত?
  1. মূল
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. রাইজয়েড
ব্যাখ্যা
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা রয়েছে।
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই।
- মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে।
- এরা সবুজ ও স্বভোজী।
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।
- উদাহারণ - ইস্ট, মিউকর ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩২৪.
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান কোনটি?
  1. ম্যাঙ্গানিজ (Mn)
  2. অক্সিজেন (O)
  3. ক্যালসিয়াম (Ca)
  4. পটাসিয়াম (K)
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান:
 
• উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সংখ্যা ১৬ টি।

• উদ্ভিদের পুষ্টির উপাদান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বা অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, 
২. মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বা গৌণ উপাদান। 

• ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলে। যেমন: নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) ও লৌহ (Fe)।
- মনে রাখার উপায়: MgK CaFe for Nice CHOPS

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। যেমন: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

• পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন উদ্ভিদ বায়ু হতে শোষণ করে। অন্য পুষ্টি উপাদান গুলো মাটি হতে মূলের সাহায্যে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান।
১,৩২৫.
পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. ফসফরাস
  2. পটাশিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন - 

পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হয়। 

ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩২৬.
উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর কী দিয়ে গঠিত? 
  1. সেলুলোজ
  2. লিগনিন
  3. কাইটিন
  4. পেকটিন
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCI বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অন্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 
- সেলুলোজের কাজ- উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে । 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান,
- একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়,
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়,
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ, কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৭.
ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো- 
  1. অণুজীববিজ্ঞান
  2. বিবর্তনবিদ্যা
  3. এনটোমোলজি
  4. ভ্রূণবিদ্যা 
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২৮.
কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. লিগনিন
  2. রেজিন
  3. সেলুলোজ
  4. কাইটিন
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঁঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCl বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অস্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। 
- তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান, একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মো ব্যবহৃত হয়
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ। 
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৯.
পানিতে সালোকসংশ্লেষণের হার কত?
  1. ০.০৩%
  2. ০.০৪%
  3. ০.৩০%
  4. ০.৩৩%
ব্যাখ্যা

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টের পৌছায় এবং স্ট্রোমা বা পত্ররন্ধের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে।
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
- বায়ুমন্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% কার্বন ডাই অক্সাইড আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩০.
জীবদেহে কয় ধরনের কোষ বিভাজন ঘটে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

- যে প্রক্রিয়ায় একটি সজীব কোষ বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক নতুন কোষ উৎপন্ন হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে।
- জীবদেহে তিন ধরনের কোষ বিভাজন ঘটে। যথা- অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মিয়োসিস।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৩৩১.
Allium cepa কিসের নাম?
  1. ক) রসুন
  2. খ) আদা
  3. গ) ধনিয়া
  4. ঘ) পিঁয়াজ
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa.
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৩৩২.
পরাগায়ন কত প্রকার?
  1. তিন প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. সাত প্রকার
ব্যাখ্যা
পরাগায়ণ:
• ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন: একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
- উদাহরণ: ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া, শিম, টমেটো, তুলা ইত্যাদি।

২. পর পরাগায়ন: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগায়ন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।
- পতঙ্গ পরাগায়ন: সূর্যমুখী, জুঁই, সরিষা, গোলাপ ইত্যাদি।
- প্রাণীপরাগায়ন: কদম, কলা, কচু, শিমুল ইত্যাদি।
- পানি পরাগায়ন: পাতা শ্যাওলা, কাঁটা শ্যাওলা ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৩.
কোনটি ডারউইনের ক্ষেত্রে মিথ্যা?
  1. ক) ডারউইন একজন প্রকৃতিবিদ ছিলেন
  2. খ) তিনি 'অরিজিন অব স্পিসিস' নামে বই লিখেন
  3. গ) ডারউইন একজন সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ছিলেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই সত্য
ব্যাখ্যা
ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৪.
কোন হরমোন উদ্ভিদের বৃদ্ধির প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে? 
  1. অ্যাবসাইসিক এসিড
  2. অক্সিন
  3. জিব্বেরেলিন
  4. সাইটোকাইনিন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে সমন্বয়: 
- প্রতিটি উদ্ভিদকোষে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম একটি নিয়ম শৃঙ্খলার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এ কারণে সমন্বয় উদ্ভিদের একটি অপরিহার্য কার্যক্রম। এ সমন্বয় না থাকলে উদ্ভিদের জীবনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। 
- উদ্ভিদের জীবন চক্রের পর্যায়গুলো যেমন- অঙ্কুরোদগম, পুষ্পায়ন, ফল সৃষ্টি, বার্ধক্য প্রাপ্তি, সুপ্তাবস্থা ইত্যাদি একটি সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে চলে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি উদ্ভিদ দেহে উৎপাদিত বিশেষ কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী এই জৈব রাসায়নিক পদার্থটিকে ফাইটোহরমোন বা বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 
- ফাইটোহরমোন কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- উদ্ভিদে যেসব হরমোন পাওয়া যায় তার মধ্যে অক্সিন, জিব্বেরেলিন ও সাইটোকাইনিন বৃদ্ধি সহায়ক এবং অ্যাবসাইসিক এসিড ও ইথিলিন বৃদ্ধি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। 
- পাতায় ফ্লোরিজেন নামক হরমোন উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্র মুকুলকে পুষ্পমুকুলে পরিণত করে, তাই দেখা যায় ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান-অষ্টম শ্রেণি।
১,৩৩৫.
'আউশ ধান' কোন ধরনের উদ্ভিদের উদাহরণ?
  1. ছোট দিনের উদ্ভিদ
  2. বড় দিনের উদ্ভিদ
  3. নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• ফটোপিরিওডিজম:

- উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে। ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা:
১। ছোট দিনের উদ্ভিদ।
২। বড় দিনের উদ্ভিদ।
৩। নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

• ছোট দিনের উদ্ভিদ:
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ।
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে।
- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, অ্যাস্টার, ডালিয়া, তামাক, শিম এগুলো ছোট দিনের উদ্ভিদ। রোপা আমন, পাট এগুলোও ছোট দিনের উদ্ভিদ।

• বড় দিনের উদ্ভিদ:
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ।
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে।
- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ।

• নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে।
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়।
- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৬.
পতঙ্গ পরাগী ফুল কোনটি?
  1. জবা
  2. ধান
  3. কদম
  4. শিমুল
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 

পতঙ্গ পরাগী ফুল:
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়।
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

বায়ু পরাগী ফুল:
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই।
 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল:
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা।
যেমন- পাতা শ্যাওলা।

 প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়।
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৭.
ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড়
  2. খ) কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম
  3. গ) কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ দেহে দুই ধরনের কলা বা টিস্যু দেখা যায়।
যথা- ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যু।
ভাজক টিস্যু গুলো বিভাজনের সক্ষম, এদের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড়, কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না‌ এবং এদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাক দেখা যায়।
যে কলা বা টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম তাকে স্থায়ী টিস্যু বলে।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৩৮.
নিচের কোন উদ্ভিদটি সুন্দরবনে জন্মে না?
  1. বাঁশ
  2. টাইগার ফার্ন
  3. অর্কিড
  4. ধুন্দুল
ব্যাখ্যা

- সুন্দরবনের কম লবণাক্ত পানিতে গোলপাতা, হিতাল, সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, আমুর, গরান জন্মে থাকে। অধিক লবণাক্ত অঞ্চলে কাঁকড়া, বাইন, পশুর, ধুন্দুল জন্মে থাকে।
- সুন্দরবনে টাইগার ফার্নের ঝোপ আছে। সুন্দরবনে কোনো বাঁশ জন্মে না। হরেক রকমের অর্কিডও জন্মে সুন্দরবনে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩৩৯.
DNA এর প্রধান কাজ -
  1. ক) প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করা।
  2. খ) জীবের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করা।
  3. গ) জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা।
  4. ঘ) কোষ গঠনে সাহায্য করা।
ব্যাখ্যা
DNA এর প্রধান কাজ হচ্ছে- জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা। 

- DNA এর পূর্ণরুপ হলো Deoxyribonucleic acid.
- ডিএনএ হলো একটি অণু যা কোনও জীবের বিকাশ, বাঁচতে এবং পুনরূত্পাদন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী ধারণ করে।

DNA-এর কাজসমূহ- 
১। ক্রোমােসােমের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
২। বংশগতির আণবিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৩। জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ এবং নিয়ন্ত্রন করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪০.
শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) ফ্লোরিনেশন
  2. খ) ভার্নালাইজেশন
  3. গ) ভার্নাকুলেশন
  4. ঘ) এক্সিলারেশন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং পুষ্পায়নে আলাের মতাে তাপ এবং শৈত্যেরও প্রভাব রয়েছে। দেখা গেছে অনেক উদ্ভিদের অঙ্কুরিত বীজকে শৈত্য প্রদান করা হলে তাদের ফুল ধারণের সময় এগিয়ে আসে। শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন (Vernalization) বলে।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে উদ্ভিদের পুষ্প সৃষ্টিতে উষ্ণতার প্রভাব পড়ে। শীতের গম গরমকালে লাগালে ফুল আসতে বহু দেরি হয়। কিন্তু বীজ রােপণের পূর্বে 2° সেলসিয়াস 5° সেলসিয়াস উষ্ণতা প্রয়ােগ করলে উদ্ভিদে স্বাভাবিক পুষ্প প্রস্ফুটন ঘটে।

১,৩৪১.
প্রাণীর মাধ্যমে পরাগায়ন হয় কোনটিতে? 
  1. সরিষা
  2. পাতা শ্যাওলা
  3. ধান
  4. কদম
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

 প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে।
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪২.
উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের অধিকাংশই কোন মাধ্যমে সম্পন্ন হয়?
  1. ক) কিউটিকুলার প্রস্বেদন
  2. খ) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  3. গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  4. ঘ) ভাস্কুলার প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে।
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'।  
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া।
- কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে।
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন,
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

- উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% হয় পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের মাধ্যম।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪৩.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রো উপাদান কতটি?
  1. ক) ৬টি 
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১৬টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।


- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।

 

- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।


- ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।


- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।


-মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।


- মাইক্রো উপাদান ৬টি।যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৩৪৪.
'Living fossil' বলা হয় কোনটিকে?
  1. মটরশুটি
  2. ফাণ
  3. সাইকাস
  4. মস
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম (Living fossil) বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৫.
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যু-
  1. ক) দুই প্রকার
  2. খ) তিন প্রকার
  3. গ) চার প্রকার
  4. ঘ) পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যু তিন প্রকারের হয়ে থাকে। 
যথা- মাস ভাজক টিস্যু, রিব ভাজক টিস্যু এবং প্লেট ভাজক টিস্যু। 

কোষ বিভাজন অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ- 
(ক) মাস ভাজক টিস্যু (Mass meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষবিভাজন সৰ তলে (plane) ঘটে থাকে, ফলে সৃষ্ট কোষ সমষ্টি কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত না থেকে কোষপুঞ্জ গঠন করে, তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ অঙ্গটি ঘনত্বে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন- বর্ধনশীল ভ্রূণ, রেণুথলি, এন্ডোস্পার্ম তথা সস্য টিস্যু, মজ্জা, কর্টেক্স প্রভৃতি। 

(খ) প্লেট ভাজক টিস্যু (Plate meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষ মাত্র দুটি তলে (plane) বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো প্লেটের মতো করে সজ্জিত হয়, তাকে প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার বিভাজনের ফলে অঙ্গটি আয়তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন -পাতা, বর্ধিষ্ণু বহিঃত্বক। 

(গ) রিব ভাজক টিস্যু (Rib meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো একটি তলে বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো রৈখিক সজ্জাক্রমে একসারিতে অবস্থান করে এবং দেখতে বুকের পাঁজরের ন্যায় দেখায়, তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার কোষ বিভাজনের ফলে একসারি কোষ সৃষ্টি হয়; যেমন- বর্ধিষ্ণু মূল ও কাণ্ডের মজ্জা রশ্মি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৬.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ?
  1. আকাশি
  2. গেওয়া
  3. গজারি
  4. সেগুন
ব্যাখ্যা
- ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
এ বনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।
-অন্যদিকে,
- আকাশি, গজারী বা শাল, সেগুন প্রভৃতি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
১,৩৪৭.
উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে প্রধানত সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) ফ্লোরিজেন
  3. গ) বার্নালিন
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায়্য করে। এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। ধারণা করা হয়, ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে।
ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।