বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৭৫ / ৭৭ · ৭,৪০১৭,৫০০ / ৭,৬৪৬

৭,৪০১.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম কী?
  1. মুনীম
  2. সুদীপ্ত শাহিন
  3. ওসমান
  4. হাড্ডি খিজির
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম - ওসমান।

• উপন্যাস অনুসারে, 
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত এই উপন্যাসে ওসমান (ওরফে রঞ্জু), একজন ছোটোখাটো সরকারি চাকুরে, প্রধান চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। তিনি দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় এসে একটি চিলেকোঠায় বাস করেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তার জীবন ও রূপান্তরের গল্প উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয়। যদিও হাড্ডি খিজির এবং আনোয়ারের মতো চরিত্রগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, ওসমানই মূলত প্রধান চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হন।

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:

- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র - ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার,
- আলাউদ্দিন,
- আলতাফ,
- হাড্ডি খিজির,
- রানু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন - আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
-  জহির রায়হান রচিত ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসের চরিত্র - মুনীম।

----------------------
----------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,৪০২.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. যাত্রা
  2. দুই সৈনিক
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. কালো ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• "দুই সৈনিক" 
- গ্রামের পটভূমিতে লেখা শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হল দুই সৈনিক।
- পাক বাহিনীর মেজর হাকিম ও ক্যাপ্টেন ফৈয়াজ এই দুইজনকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের নামকরণ করা হয় ’দুই সৈনিক’।
- শওকত ওসমান এই উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বহু ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনাংশ উল্লেখ করেছেন মাত্র।

উল্লেখ্য,
• শওকত ওসমান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস :
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
-  দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
 - জলাংগী

অন্যদিকে.
- ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: কালো ঘোড়া।
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: ’যাত্রা’।
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: রাইফেল রোটি আওরাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪০৩.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কথা কয়:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
- এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা।
৭,৪০৪.
মামুনুর রশীদ কোন শিল্পকর্মের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. কবিতা
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ: 
মামুনুর রশীদ একজন বিশিষ্ট নাট্যকার হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জন্মগ্রহণ করেন। নাট্যকলায় তাঁর অবদানের জন্য তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

মামুনুর রশীদ-এর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• ওরা কদম আলী, 
• ওরা আছে বলেই, 
• মে দিবস,
• এখানে নোঙর, 
• গিনিপিগ, 
• সমতট, 
• পাথর,
• লেবেদেফ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪০৫.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ এর প্রকৃত নাম কী?
  1. সৈয়দ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. আবু মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ শেখ
ব্যাখ্যা
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য- উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪০৬.
’কবর’ নাটকটি রচিত হয় কোন সনে?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা

• ’কবর’:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead  নাটকের অনুসারে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে কবর নাটক লেখা হয়।
- ’কবর’ একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।
- বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষ্যে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- কবর নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

• মুনীর চৌধুরি:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪০৭.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. পথের দাবী → শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. নেকড়ে অরণ্য → শওকত ওসমান
  3. চাঁদের অমাবস্যা → সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ক্রীতদাসের হাসি → শওকত আলী
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) ক্রীতদাসের হাসি → শওকত আলী।
কারণ, ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসটি শওকত ওসমান রচিত, শওকত আলী নয়।

অন্যদিকে,
পথের দাবী → শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়;
নেকড়ে অরণ্য → শওকত ওসমান;
চাঁদের অমাবস্যা → সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ; - অপশনগুলো সঠিক।
 ----------------
• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------
• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪০৮.
কোন গ্রন্থ রচনার জন্য শওকত ওসমান আদমজি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. দুই সৈনিক
  4. পতঙ্গ পিঞ্জর
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের ''ক্রীতদাসের হাসি” (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালােচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে। তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪০৯.
'বীরবাহু' আখ্যান কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আব্দুল হাকিম
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বীরবাহু' আখ্যান কাব্যের রচয়িতা - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৪ সালে।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বৃত্রসংহার, 
- চিন্তাতরঙ্গিণী, 
- আশাকানন, 
- ছায়াময়ী, 
- দশমহাবিদ্যা, 
- চিত্তবিকাশ, 
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১০.
'সংকর সংকীর্তন' উপন্যাসটি কার?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসঃ
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা ও
- সংকর সংকীর্তন।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- দেয়াল,
- প্রপঞ্চ
- পরিত্যক্ত স্বামী ইত্যাদি।
উৎসঃ: বাংলাপিডিয়া।

৭,৪১১.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘টুনি মেম’ একটি-
  1. ছোটগল্প
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. কাব্য
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• টুনি মেম সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ছোটগল্প।

⇒ সৈয়দ মুজতবা আলী:

•  সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
• গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায় ;

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,
- শহ্র-ইয়ার;

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী এবং

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১২.
হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. ক) ভবিষ্যতের বাঙালী
  2. খ) সমকালীন চিন্তা
  3. গ) বাঙালী মানস
  4. ঘ) শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

এস ওয়াজেদ আলী  (১৮৯০-১৯৫১) রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১৩.
'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থোর কবি কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. আল মাহমুদ
  3. আসাদ চৌধুরী
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শহীদ কাদরী

শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১৪.
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. নুরুল মোমেন
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- বিজন ভট্টাচার্য এর বিখ্যাত নাটক 'নবান্ন'।
- পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে নাটকটি রচিত হয়েছে।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক।
- এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জীয়নকন্যা'
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১৫.
'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসে কোন মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে?
  1. এশিয়া
  2. আমেরিকা
  3. ইউরোপ
  4. আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসে আফ্রিকা মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে।
• এটি বাংলা রোমাঞ্চকর উপন্যাস।
• 'শঙ্কর' নামক ভারতবর্ষের সাধারণ এক তরুণের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার কাহিনী এতে বর্ণিত আছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪১৬.
ময়ূরকণ্ঠী কোন ধরণের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) রম্যরচনা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ভ্রমণবৃত্তান্ত
ব্যাখ্যা

‘ময়ূরকণ্ঠী’ হলো সৈয়দ মুজতবা আলী এর একটি রম্যরচনা।
তার রচিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা ‘পঞ্চতন্ত্র’।
[সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]

৭,৪১৭.
নিচের কোন সাহিত্যিক ১৯৭১ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার্স থেকে পাক হানাদার বাহিনীর অনুগত আলবদর সদস্যরা তাঁকে ঢাকার মিরপুরের বধ্যভূমিতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
- তিনি একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

অপরদিকে,
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী মারা যান ২০১৯ সালে। 
• ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু। 
• আব্দুল কাদির ১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১৮.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. হরতাল
  2. আকাল
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন। পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১৯.
সাহিত্যের রূপ ও রীতির বিচারে কোন গ্রন্থটি ব্যতিক্রম?
  1. বাংলা কাব্য
  2. দিবারাত্রির কাব্য
  3. শেষের কবিতা
  4. নদী ও নারী
ব্যাখ্যা

• সাহিত্যের রূপ ও রীতির বিচারে ব্যতিক্রমী হলো — 'বাংলা কাব্য'। 
কারণ, 'দিবাবাত্রির কাব্য' (বিখ্যাত উপন্যাস), 'শেষের কবিতা' (উপন্যাস) এবং 'নদী ও নারী' (উপন্যাস) – এই তিনটিই গদ্য সাহিত্য বা উপন্যাস। 'বাংলা কাব্য' নামে কোনো ধরনের উপন্যাস নেই। বাংলা কাব্য বলতে বাংলা সাহিত্যের কবিতার রূপকে বোঝানো হয়েছে।
---------------------------
• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

• শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

• "নদী ও নারী" উপন্যাস:
- 'নদী ও নারী' হুমায়ুন কবিরের একমাত্র উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম তিনি রচনা করেন ইংরেজিতে Men and Rivers নামে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। এর সাত বছর পর প্রকাশিত হয় বাংলা উপন্যাসটি (১৯৫২ সালে)।

- 'নদী ও নারী' একসময়ের পূর্ববঙ্গ বর্তমান বাংলাদেশের পদ্মাবিধৌত ফরিদপুর অঞ্চলের ভূমিহীন কৃষিশ্রমজীবী বাঙালি মুসলমানের জীবনচিত্র। বাংলাদেশের বাঙালি মুসলমানের সমাজইতিহাসে উপন্যাসটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

- এই উপন্যাসে আমরা দেখি নদী ও নারী জীবনকে কতটা গভীরভাবে আলোড়িত করে। উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে লেখক বাঙালি মুসলমানের সমাজ, সংস্কৃতি ও জীবনের ভেতর-বাহিরকে চমৎকার নৈপুণ্যে তুলে ধরেছেন। মানুষের জীবন যে শেষপর্যন্ত সার্বক্ষণিক যুদ্ধেরই জীবন এই সত্যই পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের মধ্য দিয়ে লেখক রূপায়িত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪২০.
'Linguistic Survey of India' ভাষাসমীক্ষামূলক গবেষণাকর্মটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯০০
  2. খ) ১৯০৩
  3. গ) ১৯০৫
  4. ঘ) ১৯০৭
ব্যাখ্যা
- জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন রচিত 'Linguistic Survey of India' একটি ভাষাসমীক্ষামূলক গবেষণাকর্ম।
- ভারতে প্রচলিত ১৭৯টি ভাষা ও ৫৪৪টি উপভাষার বিবরণ সম্বলিত গবেষণাকর্মটি ১১টি খণ্ডে ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।

• কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪২১.
মুসলিম সাহিত্য সমাজের বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আবদুল কাদির
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির (১৯০৬-১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা, 
- কবি নজরুল, 
 কাজী আব্দুল ওদুদ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪২২.
প্রমথ চৌধুরী কোন জেলায় জন্মগ্রহন করেন?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) যশোর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জগত্তারিণী স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। ১৯৪৬ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৭,৪২৩.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত আত্মজীবনী কোনটি?
  1. ক) রেখাচিত্র
  2. খ) লেখকের রোজনামচা
  3. গ) আত্মকথা
  4. ঘ) আমর এই ছোট ভুবন
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত আত্মজীবনী – ‘আত্মকথা’ (১৯৭৮)। ‘রেখাচিত্র’ ও ‘লেখকের রোজনামচা’ রচয়িতা হলেন আবুল ফজল। ‘আমার এই ছোট ভুবন’ হলো আবুল হোসেনের স্মৃতিকাথা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৭,৪২৪.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ কোন পুরস্কার লাভ করেন?
  1. নজরুল স্বর্ণপদক
  2. মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার
  3. আলাওল সাহিত্য পুরস্কার
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪২৫.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রথমা
  2. কুয়াশা
  3. কখনো মেঘ
  4. মৃত্তিকা
ব্যাখ্যা

• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ- মৃত্তিকা।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র:

- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা, ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪২৬.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশু সাহিত্যটির রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. মামুনুর রশিদ
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া।
- গ্রন্থটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
----------------------- 
বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুঁচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪২৭.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত ‘নদীবক্ষে' একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
- ‘নদীবক্ষে’ (১৯১৮) রচিত উপন্যাস। এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজ চিত্র।
- এই উপন্যাসে যে অন্ত্যজ চাষি মুসলিম জীবনের  নির্ভরযোগ্য উল্লেখ আছে তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও আকৃষ্ট করেছিল এবং তিনি সে কথা লিখেছিলেন।
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থ বর্ণিত হয়েছে।

• কাজী আবদুল ওদুদের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছে:
- উপন্যাস: নদীবক্ষে (১৯১৮)
- সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ: শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪২৮.
নিচের কোন সাহিত্যিক খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- তাঁর রাজনৈতিক জীবন খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

• আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
৭,৪২৯.
রাজা রামমোহন রায় 'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ক) ১৮১৮
  2. খ) ১৮২১
  3. গ) ১৮২৮
  4. ঘ) ১৮২৯
ব্যাখ্যা
বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৩০.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত "বাংলার মাটি বাংলার জল" কী ধরণের গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) সমালোচনামূলক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- একদা এক রাজ্যে,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বিরতিহীন উৎসব,
- বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা,
- প্রতিধ্বনিগণ,
- ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী,
- মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,৪৩১.
শওকত ওসমানের উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আমলার মামলা
  2. খ) কুলায় কালস্রোত
  3. গ) রাজা উপাখ্যান
  4. ঘ) পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী ইত্যাদি শওকত ওসমানের উপন্যাস এবং আমলার মামলা তাঁর রচিত নাটক। কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন শওকত আলীর উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৩২.
আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাঙালী মুসলমানের মন
  2. আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  3. স্বরূপের সন্ধানে
  4. বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে
ব্যাখ্যা
- 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটি আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয়। 
- 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন আহমদ ছফা। 
------------------------ 
• আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৩৩.
কাঁটা হেরি ক্ষ্যান্ত কেন ______ তুলিতে।
  1. ক) কুসুম
  2. খ) পুষ্প
  3. গ) কমল
  4. ঘ) গোলাপ
ব্যাখ্যা
"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙক্তিদ্বয় কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
-----------------------

• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:  
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবার। 
-  ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।
- এ পঙক্তিধারী কবিতাটি এক সময় স্কুলপাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৩৪.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ছায়াহরিণ
  2. সারা দুপুর
  3. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. অরণ্য নীলিমা
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব মূলত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক।
- আহসান হাবীব রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
- ১৯৬২ সালে তাঁর রচিত ‘ছায়াহরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর
- আশায় বসতি, 
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা, 
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা ও 
- রানী খালের সাঁকো।

•‘অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:   
- আহসান হাবীবের রচিত 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। 
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৩৫.
“মরু-দুলাল" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী কাদের নেওয়াজ
  4. শাহাদত হোসেন
ব্যাখ্যা

• 'মরু-দুলাল':
- 'মরুদুলাল' বইটি লিখেছেন বিখ্যাত বাঙালি কবি ও লেখক গোলাম মোস্তফা। এটি নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনীর উপর লেখা একটি জনপ্রিয় জীবনী গ্রন্থ। 

- “মরু-দুলাল” বইখানির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও সর্বশেষ চতুর্থ সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। দীর্ঘ ৬৫ বৎসর পর বইখানির বর্তমান পঞ্চম সংস্করণ ২০১৬ সনে প্রকাশিত হয়েছে। 

- বইখানির প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় লেখক লিখেছিলেন “মরু- দুলাল" তাঁহার ঐতিহাসিক গ্রন্থ “বিশ্বনবীর” একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- রক্তরাগ,
- কাব্য-কাহিনী,
- খোশরোজ, 
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম,
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

----------------
অন্যদিকে, 
'মরুভাস্কর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- কাজী নজরুল ইসলাম। 
'মরুচন্দ্রিকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- কাজী কাদের নেওয়াজ।
'মরুকুসুম' উপন্যাসের রচয়িতা- শাহাদত হোসেন।

উৎস: 'মরু-দুলাল' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,৪৩৬.
'পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকা আমার ভাসে, মেঘ-মুকুলের পাহাড় থেকে ঝড়ের ঝাপটা আসে। -এই কবিতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- উপরোক্ত কবিতাংশটুকু আহসান হাবীবের 'মেঘনা পাড়ের ছেলে' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

মেঘনা পাড়ের ছেলে
- আহসান হাবীব

আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
মেঘনা নদীর ঢেউয়ের বুকে
তালের নৌকা বেয়ে
আমি বেড়াই হেসে খেলে-
আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে।
মেঘনা নদীর নেয়ে আমি মেঘনা পাড়ে বাড়ি
ইচ্ছে হ’লেই এপার থেকে ওপারে দেই পাড়ি।
তালে তালে তালের নৌকা
দু’হাতে যাই বেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকো আমার ভাসে
মেঘমুলুকের পাহাড় থেকে ঝড়ের ঝাপটা আসে-
মাথার ওপর মুচকি হাসে
বিজলি নামের মেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
আমার ঢেউয়ের সঙ্গে গলাগলি ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা
ঝড়ের সঙ্গে লড়াই ক’রে কাটাই সারাবেলা।
দেশ থেকে যাই দেশান্তরে
মনের নৌকা বেয়ে-
আমি মেঘনা নদীর ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মেঘনা পাড়ের ছেলে- আহসান হাবীব।
৭,৪৩৭.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. টুনি মেম
  3. চাচা কাহিনী
  4. তুলনাহীনা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- সিলেটের শাজজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে একটি ছাত্র-হলের নামকরণ করা হয়েছে।

♦♦ সাহিত্যকর্ম:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর রবীন্দ্র-সান্নিধ্য ও শান্তিনিকেতনের জীবনের সব কথা লিপিবদ্ধ আছে তাঁর ‘গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন’ বইয়ে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়্যাত-ই-ওমর খৈয়ম' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন।

♦ উপন্যাস
- অবিশ্বাস্য, 
- শবনম, 
- শহর-ইয়ার, 
- তুলনাহীনা।

♦ ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে বিদেশে।

♦ রম্যরচনা/ছোটগল্প:
- চাচা কাহিনী, 
- পঞ্চতন্ত্র, 
- টুনি মেম, 
- সত্যপীরের কলমে।

উৎস :
১. ডেইলি স্টার বাংলা।
২. দৈনিক জনকন্ঠ।
৭,৪৩৮.
বিলাসী গল্পের ন্যাড়া চরিত্রের মাঝে কার ছায়া ফুটে ওঠেছে?
  1. ক) অনীল বাগচির
  2. খ) শ্রীকান্তের
  3. গ) শরৎচন্দ্রের নিজের
  4. ঘ) কারোরই না
ব্যাখ্যা
বিলাসী গল্পের ন্যাড়া চরিত্রের মাঝে শরৎচন্দ্রের নিজের ছায়া ফুটে ওঠেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৪৩৯.
'মোস্তফা চরিত' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) মোঃ বরকতুল্লাহ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) মাওলানা আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) - সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ
- সমস্যা ও সমাধান,
- মোস্তফা চরিত,
- আমপারার বঙ্গানুবাদ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৪০.
‘কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ’ গানের সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ বসু
  2. খ) অতুলচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ’ গানের সংকলনের রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন

• অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৪১.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. শব্দকল্পদ্রুম
  2. খাই খাই
  3. টুনটুনির বই
  4. বহুরূপী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘টুনটুনির বই’ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল;
- হ-য-ব-র-ল;
- পাগলা দাশু;
- শব্দকল্পদ্রুম;
- বহুরূপী;
- খাই খাই;
- অবাক জলপান;
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৪২.
জর্জ কুম্বের "The Constitution of man" গ্রন্থের অবলম্বনে ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধবিচার’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান 
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. গিরিশচন্দ্র সেন 
ব্যাখ্যা

• 'বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ।
- ১৮৪৮ জানুয়ারি মাস থেকে এ পত্রিকায় অক্ষয়কুমার দত্তের দার্শনিক রচনা ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’ প্রকাশ শুরু হয়।
- ব্রিটিশ Phrenologist জর্জ কুম্ব (George Combe, ১৭৮৮-১৮৫৮)- এর "The Constitution of man considered in relation to external object (1828)" গ্রন্থের ভাব অবলম্বনে ভারতবর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে অক্ষয়কুমার দত্ত এটা লিখেছেন।
- রচনাটি পরে ১৮৫১ ও ১৮৫৩ সালে দুই খণ্ডে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৪৩.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আনোয়ারা 
  2. সূর্যদীঘল বাড়ি
  3.  আবদুল্লাহ
  4. জোহরা 
ব্যাখ্যা

 আবদুল্লাহ:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 • তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

অন্যদিকে,
• নজীবর রহমান রচিত উপন্যাস-  আনোয়ারা।
• আবু ইসহাক  রচিত উপন্যাস-  সূর্যদীঘল বাড়ি।
• মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস-  জোহরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৪৪.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) ওরা কদম আলী
  2. খ) কোথাও কোন ক্রন্দন নেই
  3. গ) সন্দীপের চর
  4. ঘ) তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
ব্যাখ্যা
ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, ইবলিশ, এখানে নোঙর, গিনিপিগ, সমতট, পাথর ইত্যাদি মামুনুর রশিদ রচিত নাটক।
সন্দীপের চর, উর্বশী ও আর্টেমিস, সাত ভাই চম্পা, চোরাবালি, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, দিবানিশি ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিষ্ণু দে।
উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া, কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও ইত্যাদি শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,৪৪৫.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মীর মোশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কিভাবে বিস্তার লাভ করেছে তাঁর নিখুত বর্ণনা লাভ করেছে এই উপন্যাসে। 
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। 
- 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির পটভূমি বিভূতিভূষণের নিজ গ্রাম বরাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।
- এই উপন্যাসটি সত্যজিৎ রায় একই নামে চলচিত্রে রূপদান করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৪৬.
'স্বদেশ অন্বেষা' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি । 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৪৪৭.
'হাসির গানের রাজা' নামে বাংলা সাহিত্যে খ্যাতি লাভ করেন-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. আহসান হাবীব
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের (১৮৬৩-১৯১৩) জন্ম কৃষ্ণনগরে। এম. এ. পাশ করে । বিলাত থেকে কষিবিদ্যা শিক্ষার জন্য সরকারি বৃত্তি নিয়ে তিনি বিলাত গমন করেন। ফিরে প্রথমে সেটেলমেন্ট অফিসার এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ করেন।

- নাট্যকার হিসেবে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রতিষ্ঠা অধিক হলেও হালকা ছাঁদে রচিত কবিতা ও গানে তাঁর প্রতিভা বিকশিত হয়েছে। ব্যঙ্গরসাত্মক কবিতা নিয়েই সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আগমন। 'আর্যগাথা', 'মন্ত্র', 'আলেখ্য', 'ত্রিবেণী', 'হাসির গান' ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ তাঁর রচিত। এই সব রচনায় কৌতুকরসের প্রাধান্য এবং ভাষা ও ছন্দের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম সমসাময়িক কবিগোষ্ঠীর চেয়ে তাঁকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছিল।

- স্বদেশী গানের রচয়িতা হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচয় উল্লেখযোগ্য। 'হাসির গানের রাজা' হিসেবে তাঁর খ্যাতি নাটক রচনাকারীর চেয়েও বেশি। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় জীবনের বহু বিচিত্র বিষয়কে তীব্র ব্যঙ্গবিদ্রূপের উপজীব্য করেছিলেন।

- তাঁর প্রতিভা ছিল প্রধানত গীতিকবির। ব্যঙ্গকবিতা ও হাসির গানের আকারে তাঁর এ ধরনের প্রতিভার সার্থক বিকাশ ঘটেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম।
৭,৪৪৮.
শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন কোন সাহিত্যিক?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. রফিক আজাদ
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- অধ্যাপক হোসেন শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৪৯.
কোনটি আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র নির্ভর নাটক?
  1. এখনও ক্রীতদাস
  2. কোকিলারা
  3. সুবচন নির্বাসনে
  4. শপথ
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।

তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলো:
- শপথ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৫০.
দাদা ভাই কার ছদ্ম নাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হরিনাথ মজুমদার
  3. সোমেন চন্দ্র
  4. রোকনুজ্জামানখান
ব্যাখ্যা
• রোকনুজ্জামান খান এর ছদ্মনাম - দাদাভাই।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - ভানুসিংহ ঠাকুর৷
- সোমেন চন্দের ছদ্মনাম - ইন্দ্রকুমার সোম।
- 'হরিনাথ মজুমদার' এর ছদ্মনাম - কাঙাল হরিনাথ।

রোকনুজ্জামান খান:
- তিনি একজন সাংবাদিক, শিশুসংগঠক ছিলেন।
- ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলায় সাহিত্য-সংস্কৃতসমৃদ্ধ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
ছড়া:
- হাট্রিমাটিম।

অনুবাদ:
- আজব হলেও গুজব নয়।

সম্পাদনা:
- ঝিকিমিকি,
- আমার প্রথম লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৫১.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত একটি - 
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প 
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা

- 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত একটি - উপন্যাস। 

• আবদুল মান্নান সৈয়দ

- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস-
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

• তাঁর রচিত ছোটগল্প-
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৫২.
’সংস্কৃতি-কথা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, লেখক।
- নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং  কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন। 
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- তিনি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি - কথা।
- সভ্যতা,
- সুখ, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য’,
- আদেশপন্থী 
- অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৫৩.
'গিনিপিগ' নাটক কে রচনা করেছেন?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. নুরুল মোমেন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।
- নাটকটি ১৯৮৫ সালে প্রাকাশিত হয়।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৫৪.
‘উজানে মৃত্যু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'উজানে মৃত্যু' নাটক:
- 'উজানে মৃত্যু' (১৯৬৬) একটি এবসার্ড নাটক।
- নাটকের মুখ্য বিষয় আধুনিক সভ্যতার অন্তঃশূন্যতা, এর ক্লান্তিকর পথপরিক্রমা, নিরাশাবাদী ভাব কিন্তু সুখের জন্য অসীম প্রতীক্ষা, যা শেষ হবার নয়।
- এবসার্ড শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, জীবনের এলোমেলো ভাব প্রকাশিত হবে শিল্পের শরীরে। তাই এবসার্ড নাটকে থাকবে সংলাপ ও পাত্রপাত্রীর আপাত সমন্বয়হীনতা। কিন্তু এর গভীরে প্রবাহিত থাকবে পরিত্রাণের অন্তঃশীলা।

-----------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৫৫.
হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতা কোনটি?
  1. ক) শোকার্ত তরবারি
  2. খ) আলোকিত গহ্বর
  3. গ) আরো দুটি মৃত্যু
  4. ঘ) আধুনিক কবি ও কবিতা
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতাঃ শোকার্ত তরবারি, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শবের মত, যখন উদ্যত সঙ্গিন। তার প্রবন্ধঃ আলোকিত গহ্বর, আধুনিক কবি ও কবিতা,সাহিত্য প্রসঙ্গ। গল্পঃ আরো দুটি মৃত্যু।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৪৫৬.
"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন
  2. দুঃখ বিনা সুখ হয় না
  3. সুখ
  4. সদ্ভাবশতক
ব্যাখ্যা

"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিদ্বয় কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
-----------------------

• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:  
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবার। 
-  ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।
- এ পঙক্তিধারী কবিতাটি এক সময় স্কুলপাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৫৭.
'গণদেবতা' উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি?
  1. পঞ্চগ্রাম
  2. চৈতালি ঘূর্ণি
  3. নিকেতন
  4. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
• 'গণদেবতা' উপন্যাস:
- 'গণদেবতা' উপন্যাসটি "বিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধের বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যেরই একটা যুগ-পরিচায়ক উপন্যাস।

- এই সুবৃহৎ উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় 'চণ্ডীমণ্ডপ' নামে ১৩৪৭ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাস থেকে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস সময়কালে প্রকাশিত হয়েছিল। "১৩৪৯ বঙ্গাব্দের ২০শে কার্ত্তিক গণদেবতা (চণ্ডীমণ্ডপ) নামাঙ্কিত হয়ে শক্তিরঞ্জন সোম কর্তৃক গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয়।” তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ অনুভূতির মাধ্যমে 'গণদেবতা' উপন্যাসটি রূপায়িত হয়েছে।

- তিনি গণদেবতা (চণ্ডীমণ্ডপ) উপন্যাসটিকে উৎসর্গ করেছিলেন সরোজ কুমার রায় চৌধুরী মহাশয়কে। উল্লেখ্য গণদেবতা উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'পঞ্চগ্রাম' অংশটি ১৩৫০ বঙ্গাব্দে মূল উপন্যাসের সহিত যুক্ত হয়ে ক্যাতায়নী বুক স্টল থেকে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি নতুন সংস্করণ প্রকাশনার সময় লেখক প্রয়োজন মতো পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করেছিলেন। সমগ্র 'গণদেবতা' উপন্যাসটিকে লেখক উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর পরম শ্রদ্ধাভাজন শ্রীযুক্ত কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাপঞ্জিতে 'গণদেবতা' ও 'পঞ্চগ্রাম' নামে দুটি উপন্যাস পাওয়া যায়। আসলে "গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম, একটি উপন্যাসের দুটো খণ্ড” একটি 'চণ্ডীমণ্ডপ' অন্যটি 'পঞ্চগ্রাম', এই দুই অংশের সাধারণ নাম 'গণদেবতা'।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 'গণদেবতা' উপন্যাসে ১৯২০ এর দশকের বীরভূমের গণ জীবনের সার্বিক চিত্র এঁকেছেন, তা ঔপনৈবেশিক ভারতের প্রতিটি গ্রামেরই প্রতিচ্ছবি। 

----------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'গণদেবতা' উপন্যাস;  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৫৮.
‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. হুমায়ন আজাদ
  4. শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা

- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গানটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন।
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

• অতুলপ্রসাদ সেন:
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৫৯.
কায়কোবাদ রচিত ‘অশ্রুমালা’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গীতিকাব্য
  2. খ) মহাকাব্য
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি -
• গীতকাব্য - অশ্রুমালা (১৮৯৫)
• মহাকাব্য - মহাশ্মশান (১৯০৫)
 
• কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ ‘অশ্রুমালা’ (১৮৯৬)।
- এই কাব্যের মূল সুর প্রেম।
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।
 
- কায়কোবাদ হচ্ছেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তাঁর প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- ‘মহাশ্মশান’ কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
 
উৎস: বাঙলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৬০.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মারা যান?
  1. ২৩ বছর
  2. ২১ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ১৮ বছর
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- ২৯শে বৈশাখ ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে মাত্র একুশ বছর বয়সে কবি মৃত্যুবরণ করেন। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৭,৪৬১.
বাংলা গীতি কবিতায় ভোরের পাখি কে?
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে ভোরের পাখি উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- সারদামঙ্গল, বঙ্গসুন্দরী ইত্যাদি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্য।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)
৭,৪৬২.
'চাচা কাহিনী' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
চাচা কাহিনী ও টুনি মেম সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্প। পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল এগুলো তাঁর রচিত রম্যরচনা। অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার, তুলনাহীন তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৪৬৩.
'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে সাপ্তাহিক কলাম লিখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন বাংলা ১৩১৭ সালের ২৮ ফাল্গুন (মার্চ, ১৯১১) তৎকালীন ঢাকা জেলার কালীগঞ্জ থানার দক্ষিণবাগ গ্রামে এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- আবু জাফর শামসুদ্দীনের সাহিত্য জীবনের শুরু হয় ১৯৩২ সালে। তিনি অসংখ্য গল্প, বেশকিছুসংখ্যক উপন্যাস, নাটক, মননশীল প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনি প্রভৃতি রচনা করেছেন। তাঁর রচিত এবং প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশটির অধিক। তাঁর হাজার পৃষ্ঠার সুবৃহৎ উপন্যাস 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। উভয় বাংলায় এ-গ্রন্থ উচ্চ প্রশংসা অর্জন করে।

- উপমহাদেশের একজন প্রথম সারির সাংবাদিক এবং কলামিস্ট হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। 'দৈনিক সোলতান' পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি  খুলনা,  কলকাতা ও কটকে কিছুকাল সরকারি চাকরি করেন। এর পাশাপাশি তিনি  আজাদ, ইত্তেফাক, পূর্বদেশ ও  সংবাদ পত্রিকায় বিভিন্ন পদে চাকরি করেন।

- ১৯৭৫ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক 'সংবাদ'-এ 'অল্পদর্শী' এই ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর আগে তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন।

- সাহিত্য এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, বেগম জেবুন্নিসা-কাজী মাহবুবুল্লাহ স্বর্ণপদক, জহুর হোসেন চৌধুরী স্মৃতি স্বর্ণপদক, সমকাল সাহিত্য পুরস্কার, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রভৃতি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• উপন্যাস:
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৪৬৪.
বাংলা সঙ্গীতে প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. নিধু বাবু
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• ঠুমরি (ঠুম্রি/ঠুংরি): 
- ঠুমরি এক প্রকার লঘু রাগসঙ্গীত; খেয়ালের পরেই এর স্থান।
- এ গানের সুর অতি মিষ্টি, তাই এর নাম হয়েছে ঠুমরি।
- বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুংরি / ঠুমরি আমদানি করেন অতুল প্রসাদ সেন।  
------------------
অতুলপ্রসাদ সেন: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি, গীতিকার, গায়ক। 
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন ।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
- তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৬৫.
কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করে রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ-
  1. কালের কলস
  2. দশ দিগন্তে উড়াল 
  3. দিনযাপন
  4. বাংলার বল্‌শী
ব্যাখ্যা

'বাংলার বল্‌শী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ সংকলন 'বাংলার বল্‌শী'। 
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বল্‌শী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে। 

------------------
• আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
-  তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম: বাংলার বলশী, মুসলিম কালচার ও বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি 'কৃষকের আর্তনাদ', 'কৃষকের দুর্দশা' ও 'কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন। তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৬৬.
"সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদ" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত সাহিত্যকর্ম:

- হুতোম প্যাঁচার নকশা
- পুরাণসংগ্রহ
- সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৬৭.
শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ক) উত্তরাধিকার
  2. খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া
  3. গ) এই শীতে
  4. ঘ) ভয় নেই
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরীর রচিত প্রথম কবিতা ‘এই শীতে’ বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, ‘উত্তরাধিকার’ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা
৭,৪৬৮.
“আবে হায়াত ও জীবন ক্ষুধা” এ দুটি উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আহমদ শরীফ
  4. ড. লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৬৯.
'প্রেমাঞ্জলি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) নজিবুর রহমান
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলির প্রতিযোগী হিসেবে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখেন প্রেমাঞ্জলি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৪৭০.
কোনটি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) বন্ধু বিয়োগ
  2. খ) অনুরাগ
  3. গ) বঙ্গসুন্দরী
  4. ঘ) সন্দর্শন
ব্যাখ্যা
• বাংলা গীতিকবিতার ধারার ‘ভোরের পাখি’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত
- শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী। 

• তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 
• বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার  গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’।

অন্যদিকে,
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘অনুরাগ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৭১.
'মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ'- এর রচিয়তা কে?
  1. ক) আবুজাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
আবুজাফর ওবায়দুল্লাহ ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)
- তাঁর সর্বাধিক জননন্দিত কাব্যগ্রন্থ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১)

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে :
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এবং
- জীবিত অবস্থার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ (২০০২)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
 
৭,৪৭২.
‘অশনিসংকেত’ উপন্যাসটির উপজীব্য বিষয় কোনটি?
  1. ভারত ভাগ
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. শিক্ষার প্রসার
  4. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
অশনি সংকেত:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৭৩.
"আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, 
তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।" - উক্তিটি কোন লেখকের?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৭৪.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. ক) যাত্রাবদল
  2. খ) অপরাজিতা
  3. গ) মেঘমল্লার
  4. ঘ) অপরাজিত
ব্যাখ্যা
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খন্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'অলোক সারথী'। 

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
• ‘অপরাজিতা’ নামক কাব্যের রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অপরাজিত' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৭৫.
হাসান আজিজুল হক রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ কোনটি?
  1. নামহীন গোত্রহীন
  2. আগুনপাখি
  3. জীবন ঘষে আগুন
  4. অসীমান্তিক
ব্যাখ্যা
• অসীমান্তিক:
- বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপূর্ব ভারতের মোট একষট্টি গল্পের সমাহারে হাসান আজিজুল হকের সম্পাদনায় 'অসীমান্তিক' বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে।
- এই গ্রন্থে প্রকাশিত গল্প থেকে উঠে আসে তিনটি অঞ্চলের জীবনের পরিপূর্ণ দিক, যা পাঠকের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের উৎস।
- এই গ্রন্থে ওই তিন অঞ্চলের গল্পের সমকালীন ধারাও স্পষ্ট হয়।

--------------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- অসীমান্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৭৬.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "আরণ্যক" উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. প্রেম
  3. দুঃখ-দারিদ্র্য
  4. গ্রামীণ জীবন
ব্যাখ্যা
'আরণ্যক' উপন্যাস:
- 'আরণ্যক' (১৯৩৯) রচনার আগে কর্মসূত্রে বিভূতিভূষণ কিছুকাল ভাগলপুর নিকটবর্তী এক বনাঞ্চলে থাকতেন।
- সেই বনভূমি ও তার সঙ্গে যুক্ত অরণ্যচারী অজস্র মানুষের সংস্পর্শের অভিজ্ঞতাই এই উপন্যাসের ভিত্তিভূমি।
- মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্কের টানাপোড়েন, বহু বিচিত্র মানুষের চরিত্র, তাদের দুঃখ-দারিদ্র্য, আশা ও আনন্দ এই কাহিনির উপজীব্য।
- উপন্যাসটি ডায়েরিরীতিতে উত্তমপুরুষের জবানিতে রচিত। অরণ্যের সৌন্দর্য ও ভয়ালতা, অরণ্যবাসীর বিশ্বাস ও সংস্কার এবং আর্যসভ্যতা এবং অনার্য সভ্যতার দ্বন্দ্বের এমন তীব্র কাহিনি বাংলা উপন্যাসে এই প্রথম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু পান্না, বুদ্ধ সিংহ, খাম্বা ইত্যাদি।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৭৭.
‘হিরণবালা’ মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. তারাবাঈ
  2. নূরজাহান
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
 ⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

অন্যদিকে,
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত নাটক:
- নূরজাহান,
- তারাবাঈ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৭৮.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য কোনটি?
  1. ওটেন সাহেবের বাংলো
  2. অবাক জলপান
  3. ইতল বিতল
  4. পাখির বাসা
ব্যাখ্যা

• সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য- অবাক জলপান। 

• সুকুমার রায়ের ‘অবাক জলপান' ছোট্ট একটি নাটিকা। এতে একটি গল্প বলা হয়েছে। তবে পথিক, ঝুড়িওয়ালা, বৃদ্ধ, খোকার মামা— এই চারজন লোকের কথোপকথন বা সংলাপের  মধ্যদিয়ে গল্পটি বলা হয়েছে বলে এটি নাটিকা। ছোট্ট নাটককে নাটিকা বলে।

‘অবাক জলপান' নাটিকার কাহিনি হচ্ছে-
ভীষণ তৃষ্ণার্ত একটি লোক তেষ্টায় নানান জনের কাছে গিয়ে জল চাইছে, কিন্তু কেউ তাকে জল দিচ্ছে না। বরং তার কথা বলার মধ্যে নানা রকম খুঁত ধরছে। শেষ পর্যন্ত বেশ বুদ্ধি খাটিয়ে ফন্দি এঁটে এক বিজ্ঞানীর নিকট থেকে সে জল আদায় করল। এটি একটি হাসির গল্প।

অন্যদিকে, 
- শওকত ওসমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ 'ওটেন সাহেবের বাংলো'।
- শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল।
- 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থটির রচয়িতা- ফররুখ আহমদ।

----------------
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘অবাক জলপান'।

৭,৪৭৯.
আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বখতিয়ারের ঘোড়া
  2. খ) গাভি বিত্তান্ত
  3. গ) গন্ধবণিক
  4. ঘ) কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা

মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১১ জুলাই ১৯৩৬ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯), যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত, ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

গল্পগ্রন্থ :
- পানকৌড়ির রক্ত (১৯৭৫),
- সৌরভের কাছে পরাজিত (১৯৮৩),
- গন্ধবণিক (১৯৮৬),
- ময়ূরীর মুখ (১৯৯৪)।

উপন্যাস :
- ডাহুকী (১৯৯২),
- উপমহাদেশ (১৯৯৩),
- আগুনের মেয়ে (১৯৯৫),
- চেহারার চতুরঙ্গ (২০০০),
- কাবিলের বােন (২০০১)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,৪৮০.
সোমেন চন্দের লেখা 'ইঁদুর' একটি -
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোট গল্প
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দের লেখা 'ইঁদুর' একটি ছোট গল্প।

- জীবনের পরতে পরতে বাস্তবতার অনুশীলন যে আমরা প্রতিনিয়ত করে চলেছি , আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌড়ে সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম  মানুষের বিরুদ্ধে।
- এই পটভূমিতে ইঁদুর একটি অসাধারন গল্প যার থেকে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

- ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে।

- তাঁর অন্যান্য গল্প সমূহ -
- বনস্পতি

- সোমেন চন্দের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সাহিত্যিক জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে গল্পগুলিতে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন। তাঁর গল্পের মৌলিক আবেদন ছিল গণ সচেতনতা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৮১.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আমি জন্মগ্রহণ করিনি
  2. এক মুঠো জন্মভূমি
  3. জলেশ্বরীর গল্পগুলো
  4. তাস
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৮২.
"জনতার সংগ্রাম চলবেই
আমাদের সংগ্রাম চলবেই
জনতার সংগ্রাম চলবেই।।" - বিখ্যাত গানটির গীতিকার কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. ডি এল রায়
  3. দাউদ হায়দার
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
"জনতার সংগ্রাম চলবেই
আমাদের সংগ্রাম চলবেই
জনতার সংগ্রাম চলবেই।।" - বিখ্যাত গানটির গীতিকার সিকান্দার আবু জাফর। 
- গানটির সুরকার ছিলেন শেখ লুৎফর রহমান। 
- তাঁর রচিত এই গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। 

সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক, 
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাওল,
- শকুন্ত উপাখ্যান।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- পূরবী।

তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৮৩.
কোনটি জসীম উদ্‌দীন এর কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) নকশী কাঁথার মাঠ
  2. খ) রাখালী
  3. গ) বেদের মেয়ে
  4. ঘ) মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'বেদের মেয়ে' জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক।

• জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক: 
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী।
- হাসু।
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।
• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবা কাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৮৪.
'উত্তর ফাল্গুনী' কার রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

কাব্যগ্রন্থঃ
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তর ফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০),
- দশমী (১৯৫৬);

প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- স্বগত (১৯৩৮),
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)।

- এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদ কাব্যগ্রন্থও আছে। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৪৮৫.
কাজী মোতাহার হোসেন চৌধুরীর বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. ক) শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  2. খ) সঞ্চয়ন
  3. গ) সঞ্চিতা
  4. ঘ) বালুচর
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা।
তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
সঞ্চয়ন (১৯৩৭), নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫), সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮), সিম্পোজিয়াম (১৯৬৫), গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরষ্কার’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৪৮৬.
‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো’ কাব্যগ্রন্থটির লেখক হলেন-
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. আহসান হাবীব
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• ‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো'- আহসান হাবীব রচিত একটি 'কাব্যগ্রন্থ'  

• আহসান হাবিব:
- আহসান হাবিব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

- অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৮৭.
নিচের কোনটি আবুল হাসান এর রচনা?
  1. ক) রাজা যায় রাজা আসে
  2. খ) আমার সকল কথা
  3. গ) খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
  4. ঘ) আমার বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান: কবি ও সাংবাদিক। তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷

কাব্যগ্রন্থ:
- 'রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- ‘যে তুমি হরণ করাে’ (১৯৪৭),
- ‘পৃথক পালঙ্ক' (১৯৭৫)।
- তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮);
গল্প সংকলন: 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ' (১৯৯০)। আবুল হেসেন মিয়া 

আবুজাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্য গ্রন্থ; 'আমার সকল কথা ,খাঁচার ভিতর অচিন পাখি।'
 আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত প্রবন্ধ 'আমার বিশ্বাস'

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৭,৪৮৮.
'অবক্ষয়' যুগের কবি কে?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) রামনিধি গুপ্ত
  4. ঘ) সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
• আধুনিক যুগের প্রথম ভাগের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৭০০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল ধরা হয়ে থাকে। 
- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
আবার, 
ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত  অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত। 
- মধ্যুযুগের শেষ ও  আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে। 

তাই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধি এবং অবক্ষয় উভয় যুগের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৮৯.
‘শাশ্বতবঙ্গ’ প্রবন্ধ সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
‘শাশ্বতবঙ্গ’ প্রবন্ধ সংকলন:
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন ‘শাশ্বতবঙ্গ’। এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়। 'শাশ্বতবঙ্গ’ এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

কাজী আবদুল ওদুদ:

- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৯০.
আমি কোন আগন্তুক নই কবিতাটির রচনাকারী কে?
  1. ক) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) হুমায়ূন আজাদ
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

“আমি কোন আগন্তুক নই'' কবিতাটি রচনা করেন আহসান হাবীব
তার দুহাতে দুই আদিম পাথর কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি যা ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। এই কবিতায় শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
বাতাসে লাশের গন্ধ রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)

৭,৪৯১.
'কাঞ্চনমালা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

 • 'কাঞ্চনমালা' উপন্যাসের রচয়িতা - শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম।

উল্লেখ্য, 'কাঞ্চনমালা' নামে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীরও একটি উপন্যাস রয়েছে।

• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

উপন্যাস: 
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৯২.
'কাবিলের বোন' কোন ধরনের রচনা?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে’ দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৯৩.
’প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. শওকত ওসমান
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
- প্রদোষে প্রাকৃতজন বাংলাদেশের স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক শওকত আলী রচিত একটি বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তুর্কিদের আক্রমণ ও সেন রাজাদের সময়য়ে বঙ্গদেশের প্রাকৃতজনদের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এ উপন্যাসে।
---------------------------------------------------------------------
• শওকত আলী:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা'।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৯৪.
কে সর্বপ্রথম লালনগীতি সংগ্রহ করেন?
  1. ক) দ্বীনেশ্চন্দ্র দেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) গঙ্গাকিশোর চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম লালন সাঁই এর গান সংগ্রহ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  রবীন্দ্রনাথ লালন শাহর ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি থেকে ২০টি গান তিনি  'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

লালন শাহ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৯৫.
'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
সত্যমিথ্যা, জীবনক্ষুধা ও আবে হায়াত উপন্যাস ত্রয়ের রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ। আয়না, ফুড কনফারেন্স, আসমানী পর্দা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ এবং তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু। তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৯৬.
‘জায়জঙ্গল’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুজ্জামান খান
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘জায়জঙ্গল’ উপন্যাস:
- সুন্দরবনের জনবিরল বনজঙ্গলঘেরা পরিবেশে শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'জায়জঙ্গল' (১৯৭৩) উপন্যাস রচিত। সে দিক থেকে এটিকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা চলে।
- উপন্যাসের একটি চরিত্রও সুন্দরবন অঞ্চলের নয়, উপন্যাসের পটভূমিই কেবল সুন্দরবন। তবে এ অঞ্চলের বর্ণনা দিতে ঔপন্যাসিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। 
- যে মানুষগুলোর চিত্র এ উপন্যাসে আছে তারা সেটেলার; জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের চাপে তারা পিতৃপুরুষের নিবাসভূমি পরিত্যাগ করে সমুদ্রতীরবর্তী শ্বাপদসংকুল সুন্দরবন অঞ্চলে বাস করতে বাধ্য হয়েছে। 
- ফেরারি খুনি, জেলপলাতক আসামি, গোপন বিপ্লবী, পলাতক প্রেমিক-প্রেমিকারা একত্র হয়ে গড়ে তোলে 'জায়জঙ্গলে'র জগৎ। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়নাল শেখ, মিন্নত আলি, যুবতী সাজু, মহাজন জলিল মিয়া। 
- উপন্যাসের ঘটনা উপস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে লেখক মৎস্যশিকার, নানা বিশ্বাস-অবিশ্বাস, জাদু-টোনা ইত্যাদির মাধ্যমে আঞ্চলিকতা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন।

-----------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:

- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস: 
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৯৭.
মুনীর চৌধুরীর 'মুখরা রমনী বশীকরণ' নিচের কোনটি থেকে অনূদিত হয়েছে?
  1. ক) As You Like It
  2. খ) Taming of the Shrew
  3. গ) Measure for Measure
  4. ঘ) Twelfth Night
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরীর 'মুখরা রমনী বশীকরণ' নাটকটি William Shakespeare এর বিখ্যাত কমেডি Taming of the Shrew অনূদিত।
- ১৯৭০ সালে এটি অনুবাদ করেন। 
- এটি সর্বাংশে একটি কমেডি। 
- এটি পাঁচ অংক বিশিষ্ট নাটক।
- এই নাটক সম্পর্কে মুনীর চৌধুরী বলেছেন ঃ কাহিনিটি স্থূল কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৯৮.
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস -
  1. অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
  2. আগুনের মেয়ে
  3. পানকৌড়ির রক্ত
  4. সৌরভের কাছে পরাজিত
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস - আগুনের মেয়ে

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৯৯.
রফিক আজাদ সম্পাদিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. কালিকলম
  2. কণ্ঠস্বর
  3. উত্তরাধিকার
  4. দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' এর সম্পাদক ছিলেন রফিক আজাদ।

• ‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকা:

- মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
- ২০০৯ সালের আগে পর্যন্ত এটি ত্রৈমাসিক আকারেই প্রকাশিত হতো।
- বাংলা একাডেমির প্রথম অঙ্গিকারের কথা মনে রেখেই সম্প্রতি উত্তরাধিকার পত্রিকাকে আবার নব পর্যায়ে এবং নতুন আঙ্গিক ও বিন্যাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং জুলাই ২০০৯ থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।


অন্যদিকে,
• 'কণ্ঠস্বর' সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক - আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। 
• মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে ‘দৈনিক আজাদ’ প্রকাশিত হয়।
• ‘কালিকলম’ মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।

---------------------
• রফিক আজাদ: 

- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫০০.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস-
  1. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও উত্তরের খেপ
  2. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পিঙ্গল আকাশ
  3. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা
• "দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন" উপন্যাস ত্রয়ী:
- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন গ্রন্থ তিনটি শওকত আলীর ‘ত্রয়ী উপন্যাস’ বলে স্বীকৃত। উপন্যাস তিনটিই বিশ শতকের সত্তর দশকের শেষদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিত্রার পর পর কয়েক বছরের (১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮) ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আরো অনেক পরে।

 - ঢাকার এশিয়া পাবলিকেশন্স থেকে যে শওকত আলীর উপন্যাস শিরোনামে তিনটি খণ্ড (২০০০, ২০০১, ২০০৭ সালে) প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রচনাকালের দিক বিবেচনায়ও এই তিন উপন্যাস সেখানে স্থান পায়নি। আবার তিনটি উপন্যাসই শুধু দক্ষিণায়নের দিন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার প্রকাশনা সংস্থা বিদ্যাপ্রকাশ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে।

- আলাদা করে শুধু পূর্বরাত্রি পূর্বদিন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তধারা (ঢাকা) থেকে ১৯৮৬ সালে। এর প্রচ্ছদশিল্পী ছিলেন হাশেম খান। লেখক গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। উৎসর্গপত্রে শওকত আলী লিখেন, “প্রিয় লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আপনাকে’।

- বইটির মূল্য ছিল সাদা কাগজে ৪০.০০ টাকা এবং লেখক কাগজে ৩০.০০ টাকা। বিশ শতকের আশির দশকে ঢাকার প্রকাশনা জগতে ‘লেখক কাগজ’ নামে একপ্রকার নিম্নমানের কাগজে বই প্রকাশিত হতো, যা ‘নিউজপ্রিন্ট’ থেকে সামান্য উন্নত ছিল।

• 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাসের এই প্রথম প্রকাশনায় লেখক ছোট্ট এক ভূমিকাপত্রে জানিয়েছিলেন-
১৯৭৬, ১৯৭৭ এবং ১৯৭৮-এ সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র ঈদ সংখ্যায় দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন যথাক্রমে প্রকাশিত হয়। একই পাত্র-পাত্রী থাকলেও রচনা তিনখানি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিলো। পূর্বরাত্রি পূর্বদিন সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ ত্রয়ী রচনার শেষ উপন্যাস হিসেবে ঈষৎ পরিমার্জনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলো।

উপন্যাসগুলোর উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- রাখী,
- রাখীর ভাই মনি,
- সেজান
- নিজামউদ্দিন। 

উৎস: 'দক্ষিণায়নের দিন' উপন্যাসের ভূমিকা এবং 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাস।