বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৭৪ / ৭৭ · ৭,৩০১৭,৪০০ / ৭,৬৪৬

৭,৩০১.
' নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব'- প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা হলেন- কালীপ্রসন্ন ঘোষ

• কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত। 
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা।
- নিভৃত-চিন্তা।
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব।
- নিশীথ-চিন্তা। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
- ভ্রান্তিবিনোদ।
- প্রমোদলহরী।
- ভক্তির জয়।
- মা না মহাশক্তি।
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা।
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।
- এছাড়াও 'সঙ্গীতমঞ্জরী' নামে আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং 'কোমল কবিতা' নামে শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩০২.
আবুল মনসুর আহমদ জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) পাবনা
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা

• ৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৮ সালে আবুল মনসুর আহমদ ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি মূলত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
• তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচির ২১ দফা প্রণয়নের অন্যতম একজন নেতা ছিলেন।
• তিনি যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩০৩.
'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে' নেতৃত্ব দেন কে?
  1. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  2. আবুল হুসেন
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন:
- তিনি প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় যে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়' তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি 'ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র 'শিখা' (১৯২৭-১৯৩১) সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- তিনি ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থের:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩০৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখা নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. বহিপীর
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'বহিপীর' ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

-----------------------
অন্যদিকে,
• 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী। 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
• সৈয়দ শামসুল হকের 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্য নাটক।
• মামুনুর রশীদ রচিত নাটক হচ্ছে ওরা কদম আলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩০৫.
‘নীড় সন্ধানী’ আনোয়ার পাশা রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ-গবেষণা
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘নীড় সন্ধানী’ উপন্যাস:
- ‘নীড় সন্ধানী’ আনোয়ার পাশা রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
• "আলো-বাতাস ও বৃক্ষ-ফলশোভিত এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষেরই বেঁচে থাকার জন্য কী অনন্ত আয়োজন। আর প্রত্যেকটি জীবনের মনেই কি অগাধ কামনা- আমি বাঁচব" আনোয়ার পাশার প্রথম নায়ক, 'নীড় সন্ধানী'র হাসান লিখেছিল এই কথা।

• আমি বাঁচব- এই অগাধ কামনা আনোয়ার পাশার প্রায় সকল নায়কেরই এবং নায়িকারও। তারা বাঁচতে চায়। বাঁচার জন্য গভীর ও বিচিত্র আয়োজন করে। উদ্যোগ নেয়। পরিশ্রম করে।

----------------------
⇒ আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার। 
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়ার যায়।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• গল্পগ্রন্থ: নিরুপায় হরিণী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩০৬.
'সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন' - বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) স্বপ্নদর্শন
  2. খ) বঙ্গসুন্দরী
  3. গ) নিসর্গ সন্দর্শন
  4. ঘ) সারদা মঙ্গল
ব্যাখ্যা
• বাংলা কাব্যের 'ভোরের পাখি' বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গীতিকবিতা রচনা শিখিয়েছিলেন।
তার রচিত কিছু বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ -
- প্রেম বাহিনী
- সঙ্গীত শতক
- বঙ্গসুন্দরী
- নিসর্গ সন্দর্শন
- সারদামঙ্গল (শ্রেষ্ঠ কাব্য)

• বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ 'বঙ্গসুন্দরী'।
বিহারীলালের 'বঙ্গসুন্দরী' কবিতার কয়েকটি চরণ:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩০৭.
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থটি কার?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতাঃ
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩০৮.
'হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও' কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন?
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  4. জ্ঞানাণ্বেষণ
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩০৯.
কোন উপন্যাসটি প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত?
  1. আধ্যাত্নিকা
  2. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  3. মৃণালিনী
  4. রাধারানী
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম "টেকচাঁদ ঠাকুর"।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

অন্যদিকে, 
• নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস: 
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩১০.
"কেন পান্থ, ক্ষান্ত হও, হেরি দীর্ঘ পথ/____ বিহনে পুরে কার মনোরথ"
  1. সাহস
  2. মনোবল
  3. উদ্যম
  4. পরিশ্রম
ব্যাখ্যা
• "কেন পান্থ, ক্ষান্ত হও, হেরি দীর্ঘ পথ/উদ্যম বিহনে পুরে কার মনোরথ।" 

---------------------- 
কবিতা- দুঃখ বিনা সুখ হয় না (সম্ভাব শতক কাব্যগ্রন্থ থেকে)
কবি - কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। 

কি কারণ, দীন। তব মলিন বদন?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনোরথ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
----------------------- 
• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক। 
- ১৮৬১ সালে 'ঢাকা প্রকাশ' প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।
- ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ তাঁর রচিত বিখ্যাত একটা পঙ্‌ক্তি।
- ১৯০৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রাসের ইতিবৃত্ত,
- কৈবল্যতত্ত্ব,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'সদ্ভাবশতক'- কাব্যগ্রন্থ, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
৭,৩১১.
রবীন্দ্রনাথ ‘ভোরের পাখি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কোন সাহিত্যিককে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী, (১৮৩৫-১৮৯৪) আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি,
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু  উল্লেখযোগ্য।

• সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

• বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি। এসব পত্রিকায় অন্যদের রচনার পাশাপাশি তাঁর নিজের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া  ভারতী,  সোমপ্রকাশ, কল্পনা  প্রভৃতি পত্রিকায়ও তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে। বিহারীলাল ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩১২.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকাটি কার সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. শেখ ফজলল করিম
  2. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩১৩.
'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা' উপন্যসের রচয়িতা কে? 
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩১৪.
‘চারুপাঠ’ কার সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  2. খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. গ) অতুলপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) অক্ষয়কুমার বড়াল
ব্যাখ্যা

‘চারুপাঠ’ (শিশুপাঠ্য হিসেবে জনপ্রিয়) গ্রন্থটির রচয়িতা হল অক্ষয়কুমার দত্ত।
বাঙ্গালীদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম বিজ্ঞানমনস্ক লেখক।
তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
- ভূগোল (১৮৪১)
- ধর্মনীতি (১৮৫৫)
- পদার্থবিদ্যা (১৮৫৬)।

৭,৩১৫.
'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- লাইনটি কবি সুফিয়া কামালের 'পল্লী স্মৃতি' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

পল্লী স্মৃতি – বেগম সুফিয়া কামাল
বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লী ময়ের কোল,
ঝাউশাখে যেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল
কুলের কাটার আঘাত লইয়া কাঁচা পাকা কুল খেয়ে,
অমৃতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালী মেয়ে
পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশীতে বিষম খেয়ে,
আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।
চৈত্র নিশির চাঁদিমায় বসি‘ শুনিয়াছি রূপকথা,
মনে বাজিয়াছে সুয়ো দুয়োরাণী দুখিনি মায়ের ব্যথা।
তবু বলিয়াছি মার গলা ধরে, “মাগো, সেই কথা বল,
রাজার দুলালে পাষাণ করিতে ডাইনী করে কি ছল!
সাতশ‘ সাপের পাহারা কাটায়ে পাতালবাসিনী মেয়ে,
রাজার ছেলেরে বাঁচায়ে কি করে পৌঁছিল দেশে যেয়ে।”
কল্পপূরীর স্বপনের কাঠি বুলাইয়া শিশু চোখে
তন্দ্রদোলায় লয়ে যেত মোরে কোথা দূর ঘুমলোকে
ঘুম হতে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম
খেলার সাথীরা কোথা আজ তারা? ভুলিয়াও গেছি নাম।
নববর্ষার জলে অবগাহি কভু পুলকিত মনে
গান গাহিয়াছি মল্লার রাগে বাদলের ধারা সনে;
শিশির সিক্ত শেফালী ফুলের ঘন সৌরভে মাতি‘
শারদ প্রভাতে সখীগন সাথে আনিয়াছি মালা গাঁথি‘।
পল্লী নদীর জলে ভাসাইয়া মোচার খেলার তরী,
কাঁদিয়া ফিরেছি সাঁঝের আলোতে পুতুল বিদায় করি‘।
আগামী দিনের আশা-ভরসার কত না মধুর ছবি
ফুঁটিয়া উঠেছে আঁখির পাতায় ডুবেছে যখন রবি।

উৎস: পল্লী স্মৃতি কবিতা – বেগম সুফিয়া কামাল। 
৭,৩১৬.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কয়েকটি কবিতা
  2. খ) বেণু ও বীণা
  3. গ) তিমিরান্তিক
  4. ঘ) পদ্মিনী শঙ্খিনী
ব্যাখ্যা

সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫): সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর (১৯৬৫),
- তিমিরান্তিক (১৯৬৫),
- বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫),
- বৃশ্চিক-লগ্ন (১৯৭১),
- বাংলা ছাড়ো (১৯৭১)।

নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা (১৯৬৫),
- মহাকবি আলাউল (১৯৬৬)।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৭,৩১৭.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে গোলাম মোস্তফা। 

বিশ্বনবী:
- ‘বিশ্বনবী’ রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- এটি একটি গদ্যগ্রন্থ, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জীবনভিত্তিক।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা:
- তিনি ১৮৯৭ সালে যশোর জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন কবি ও লেখক ছিলেন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
- গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ, তবে প্রধান পরিচয় কবি হিসেবে।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে ঢকায় মৃত্যুবরণ করেন।

গোলাম মোস্তফার রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম। 

গোলাম মোস্তফার রচিত গদ্যগ্রন্থসমূহ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৩১৮.
‘বিশ্বনবী’ রসুলুল্লাহর জীবনীমূলক গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) শহীদ আখন্দ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) আসাদুল্লাহ আল-গালিব
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪): কবি ও লেখক। গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
কাব্যগ্রন্থঃ রক্তরাগ (১৯২৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য-কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৯৩৬), হাস্নাহেনা (১৯৩৮), বুলবুলিস্তান (১৯৪৯), তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬), বনিআদম (১৯৫৮), গীতিসঞ্চালন (১৯৬৮) ইত্যাদি তাঁর মৌলিক কাব্য এবং মুসাদ্দাস-ই-হালী (১৯৪১), কালামে ইকবাল (১৯৫৭), শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০) অনুবাদকাব্য।
গদ্যগ্রন্থঃ বিশ্বনবী (১৯৪২), ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬), ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), আমার চিন্তাধারা (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।
উপন্যাসঃ রূপের নেশা, ভাঙাবুক ও এক মন এক প্রাণ।
তিনি আল-কুরআনও (১৯৫৮) অনুবাদ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৭,৩১৯.
কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস?
  1. বিশ শতকের মেয়ে
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. রোদ জ্বলা বিকেল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বিশ শতকের মেয়ে’ নিলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে।

⇒ নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ:
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি (২ খণ্ড ১৯৯৬-৯৭)।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২০.
ভাষা আন্দোলনকে নিয়ে লেখা প্রথম গবেষণামূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
  2. ভাষার জন্য সংগ্রাম
  3. ভাষা আন্দোলন ও বাঙালী মানস
  4. পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি':
- 'পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি'  হলো বদরুদ্দীন উমর রচিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের সামগ্রিক পটভূমি তথা সমকালীন রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তিন খণ্ডে প্রকাশিত বই।
- এটি বাংলা ভাষা আন্দোলন নিয়ে সবচেয়ে তথ্যবহুল সমাদৃত বাংলা বই এবং ভাষা আন্দোলনকে নিয়ে লেখা প্রথম গবেষণামূলক গ্রন্থ।

-----------------
• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।
- ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মারা যান। 

• তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৩২১.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অসমাপিকা
  2. কামিনী কাঞ্চন
  3. মন পবন
  4. প্রকৃতির পরিহাস
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদিৎ

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে, 
- ইউরোপের চিঠি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন -
  1. ক) ৮ মে ১৮৬১ সাল
  2. খ) ৬ মে ১৮৬১ সাল
  3. গ) ৯ মে ১৮৬১ সাল
  4. ঘ) ৭ মে ১৮৬১ সাল
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান।
- পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ১৯১৯ সালে তিনি ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী
- সোনার তরী
- চিত্রা
- চৈতালী
- কল্পনা
- ক্ষণিকা
- গীতাঞ্জলি
- পূরবী
- শেষলেখা
- বলাকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি
- গোরা
- যোগাযোগ
- চতুরঙ্গ
- ঘরে বাইরে
- চার অধ্যায়
- মালঞ্চ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২৩.
’আরেফ আলী’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. লালসালু
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. চাঁদের অমাবস্যা
  4. দি আগলি এশিয়ান
ব্যাখ্যা

•'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।
- ’আরেফ আলী’ চরিত্রটি উপন্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

•  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু।
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩২৪.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ইয়াকুব আলী চৌধুরী
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- 'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা - গোলাম মোস্তফা।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩২৫.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মোতহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভুষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- 'কালিন্দা' - নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- 'রসকলি' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২৬.
"অলীক মানুষ" উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• "অলীক মানুষ" উপন্যাস:
- "অলীক মানুষ" সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস। এটি উনিশ-বিশ শতকের পটভূমিতে একটি মুসলিম পীর পরিবারের জীবন নিয়ে লেখা, যেখানে লৌকিক ও অলৌকিক ঘটনার মিশ্রণ ঘটেছে।
- উপন্যাসটি কোলাজ পদ্ধতিতে লেখা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ, মিথ ও কিংবদন্তী, এমনকি ব্যক্তিগত ডায়েরি ও সংবাদপত্রের কাটিংও ব্যবহার করা হয়েছে।
- এই উপন্যাসে বাঙালি হিন্দু-মুসলিম জীবনের একটি অনাবিষ্কৃত দিক তুলে ধরা হয়েছে।

‘অলীক মানুষ’ বইয়ের প্রাপ্ত পুরস্কার গুলির নাম ও সাল:
- ভুয়ালকা পুরস্কার - ১৯৯০। 
- বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার - ১৯৯৪। 
- সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার - ১৯৯৪। 
- সুরমা চৌধুরী মেমোরিয়াল আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার - ২০০৮।

উৎস: "অলীক মানুষ" উপন্যাস।
৭,৩২৭.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) এলো সে অবেলায়
  2. খ) নির্বাসিত নায়ক
  3. গ) অমৃত কুম্ভের সন্ধানে
  4. ঘ) সাতনরী হার
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, কমলের চোখ, আমার সকল কথা ইত্যাদি।
আহমদ রফিকের কাব্যগ্রন্থ - নির্বাসিত নায়ক।
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের রচয়িতা সমরেশ মজুমদার।
কবি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ 'এলো সে অবেলায়'।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৩২৮.
কোন উপন্যাসে ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দু:খ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌?
  1. ক) সৌরভের কাছে পরাজিত
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) নিশুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা

- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে বিভক্ত।
- উপন্যাসটি মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দু:খ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৩২৯.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. স্বদেশী আন্দোলনের
  2. মুক্তিযুদ্ধের
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
  4. দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরবর্তী দুর্ভিক্ষের
ব্যাখ্যা
• ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

---------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৩০.
'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

- সেলিনা হোসেন একজন প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, জলোচ্ছ্বাস, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, আগষ্টের একরাত, খুন ও ভালোবাসা, কাঁটাতারের প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৩৩১.
'অভিযাত্রিক' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'অভিযাত্রিক' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী:
- অভিযাত্রিক।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী (প্রথম উপন্যাস),
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• তাঁর রচিত গল্পের বই:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- জন্ম ও মৃত্যু,
- কিন্নর দল,
- বিধু মাস্টার,
- রূপহলুদ,
- কুশল পাহাড়ী
- নবাগত ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- 'অভিযাত্রিক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সুফিয়া কামাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩২.
‘আঠারো বছর বয়স’ বিখ্যাত কবিতাটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
• ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি তাঁর “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট। এবং কবিতাটি ৬ মাত্রায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য- যৌবনের উদ্দীপনা, সাসিকতা এবং দুর্বার গতি।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার শেষ পঙক্তি- ‘এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’

--------------------
আঠারো বছর বয়স
- সুকান্ত ভট্টাচার্য

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

----------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর এবং ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা।
৭,৩৩৩.
নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ী মহাকাব্যের অন্তর্ভূক্ত নয়-
  1. রৈবতক
  2. কুরুক্ষেত্র
  3. প্রভাস
  4. রঙ্গমতী
ব্যাখ্যা

• নবীনচন্দ্র সেন চট্টগ্রামের নোয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি মূলত কবি ছিলেন।
• তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য 'পলাশীর যুদ্ধ'।
• এছাড়াও তাঁর রচিত কাব্য- অবকাশ রঞ্জিনী, রঙ্গমতী।
• তাঁর ত্রয়ী মহাকাব্য- 'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস'।
• মহাকাব্য ৩টির নায়ক কৃষ্ণ।
• রৈবতকে কৃষ্ণের আদি, কুরুক্ষেত্রে মধ্য ও প্রভাসে অন্তলীলার কাহিনী বর্ণিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩৩৪.
আবু জাফর শামসুদ্দিনের ছদ্মনাম কি ছিলো?
  1. ক) দৃষ্টিহীন
  2. খ) ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  3. গ) অল্পদর্শী
  4. ঘ) সনাতন পাঠক
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 
 
আবু জাফর শামসুদ্দিন অল্পদর্শী ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
 
৭,৩৩৫.
'পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, অ-তে অজগর, কলকাতা, ক্ষুধা প্রেম আগুন, কলকাতা, পোড়ামাটির কাজ, হে সংসার হে লতা। তাঁর রচিত ছোটগল্প- সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে, মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী ইত্যাদি। প্রবন্ধ- বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা, দশ দিগন্তের দ্রষ্টা, নির্বাচিত প্রবন্ধ, করতলে মহাদেশ, আমার বিশ্বাস।
৭,৩৩৬.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. মরণবিলাস
  2. গাভী বিত্তান্ত
  3. ওঙ্কার
  4. নিহত নক্ষত্র
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা ছিলেন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
• উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত তাঁর উপন্যাস- ওঙ্কার।
• তাঁর রচিত এই উপন্যাসের নায়ক আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
• আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত (বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩৩৭.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণের অনুবাদ কবিতা?
  1. অন্তর্জাল
  2. তোহু
  3. হুলিয়া
  4. রূপজালাল
ব্যাখ্যা

তোহু হচ্ছে নির্মলেন্দু গুণের একটি অনুবাদ কবিতা। 

নির্মলেন্দু গুণ 

- নির্মলেন্দু গুণের জন্ম ২১ জুন ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার কাশবনে।
- ডাকনাম: রতন।
- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবন, সমাজ-বাস্তবতা ও রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

উল্লেখযোগ্য রচনা:
কবিতা 

- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া প্রভৃতি।

অনুবাদ কবিতা 
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

ছোটগল্প
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ। 

উল্লেখ্য, রূপজালাল হচ্ছে নবাব ফয়জুন্নেসার একমাত্র গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৩৮.
'দু'হাতে দু আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'দু'হাতে দু আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থের কবি আহসান হাবীব। 
 -গ্রন্থটি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ 'ধর্ম' প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'মায়ের কবর পাড়ে কিশোর' ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭সালে।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'। ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩৯.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য?
  1. মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী
  2. নারী শিক্ষা প্রসারের অগ্রগামী
  3. আধুনিক যুগের লক্ষণাক্রান্ত
  4. মধ্যযুগের ভাবধারায় পুষ্ট
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৩৪০.
শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক 
  3. ছোটগল্প 
  4. প্রবন্ধ সংকলন 
ব্যাখ্যা

• 'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে শওকত আলী রচিত উপন্যাস 'যাত্রা'। 'যাত্রা' উপন্যাসটি ১৯৭২ সালে রচিত হয়। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

- "যাত্রা" উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা, ঢাকা শহরের গণহত্যা, প্রতিরোধ সংগ্রাম, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।

- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।

৭,৩৪১.
"তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা"- কে লিখেছেন?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ - তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা।
- ধ্বনি ও ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯-১৯৬৯) ১৩৬৪'র ফাল্গুন-চেত্র সংখ্যা 'সমকাল' পত্রিকায় 'তোষামোদেরভাষা' এবং একই পত্রিকার ১৩৬৫'র জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় 'রাজনীতির ভাষা' শিরোনামে দুটি প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধ দুটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত তার 'তোষামোদ ওরাজনীতির ভাষা' গ্রইভুক্ত হয়। 

-----------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৪২.
'সিম্পোজিয়াম' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) গিরিষচন্দ্র ঘোষ
  4. ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন (১৯৩৭),
- নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫),
- সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮),
- সিম্পোজিয়াম (১৯৬৫),
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং
- আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরষ্কার’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৪৩.
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) তাপসমালা
  2. খ) সদ্ভাবশতক
  3. গ) তত্ত্বরত্নমালা
  4. ঘ) চারটি সাধ্বী মুসলমান নারী
ব্যাখ্যা
'সদ্ভাবশতক' (১৮৬১) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের প্রথম সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেন।
- ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন। গুরু কেশবচন্দ্র সেনের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইসলামি সাহিত্য-সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তাপসমালা'
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো 'তত্ত্বরত্নমালা' (১৯০৭)। এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রুমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- তিনি মূল ফারসি গ্রন্থ থেকে গুলিস্তাঁ ও বুস্তাঁর হিতোপাখ্যানমালা, হাদিস বা মেসকাত্ মসাবিহ (১৮৯২-৯৮), দীউয়ান-ই-হাফিজ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ, মহাপুরুষচরিত (১৮৮২-১৮৮৭), মহাপুরুষ মোহাম্মদ ও তৎপ্রবর্তিত এসলাম ধর্ম, এমাম হাসান ও হোসায়নের জীবনী (১৯১১), চারিজন ধর্মনেতা, চারটি সাধ্বী মুসলমান নারী, খলিফাবর্গ, সবমিলিয়ে ৪২টি পুস্তক বাংলা ভাষায় রচনা ও প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৪.
'সঞ্চয়ন' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্য সংকলন
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধটির রচয়িতা - 'কাজী মোতাহার হোসেন'।

উল্লেখ্য,
- সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলন এবং
- সঞ্চিতা - কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য সংকলনের নাম।

কাজী মোতাহের হোসেন:
- 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য- সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৮৫ সালে।
'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৪৫.
'ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. শহীদ কাদরী
  3. মহাদেব সাহা
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা মহাদেব সাহা।
কবি সাংবাদিক মহাদেব সাহার জন্ম ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস (১৯৭২)
- মানব এসেছি কাছে (১৯৭৩)
- কী সুন্দর অন্ধ (১৯৭৮)
- তোমার পায়ের শব্দ (১৯৮২)
- ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস (১৯৮৪)
- আমি ছিন্নভিন্ন (১৯৮৬)
- তোমার জন্য অন্ত্যমিল (১৯৯৬)
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল (১৯৯৬)
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া (১৯৯৭)

তাঁর রচিত প্রবন্ধ
আনন্দের মৃত্যু নেই (১৯৮৪)
মহাদেব সাহার কলাম (১৯৯২)
কবির দেশ ও অন্যান্য ভাবনা (১৯৯৯)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সাহিত্য সাময়িকী।
৭,৩৪৬.
'কুয়াশা' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র: 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কথাসাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক ও সম্পাদক। 
- তাঁর জন্ম কাশিতে ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। 
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- অফুরন্ত, 
- ধূলিধূসর, 
- জলপায়রা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা
- মিছিল, 
- উপনয়ন, 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে, 
- অন্য এক নাম, 
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা, 
- সম্রাট, 
- ফেরারী ফৌজ, 
- সাগর থেকে ফেরা, 
- হরিণ চিতা চিল, 
- এখনো মেঘ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৭.
‘কল্কি অবতার’ কার লেখা প্রহসন?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) দ্বীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
- ‘কল্কি অবতার’ প্রহসনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় লিখেছেন।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- বাংলা সাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।  
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯০৫ সালে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অসামান্য অবদান ছিল। 

• তাঁর রচিত প্রহসনগুলো হল:
- কল্কি অবতার।
- বিরহ।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- পুনর্জন্ম।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলো:
- ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’।
- ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা’ ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটকগুলো হল:
- তারাবাঈ।
- প্রতাপসিংহ।
- দুর্গাদাস।
- নূরজাহান।
- মেবার পতন।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

বাকি অপশনগুলো:
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন:
- এর উপায় কি?( ১ম প্রকাশ-১৮৭৫, ২য় প্রকাশ-১৮৯২)।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• দ্বীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৮.
'রক্তে আমার অনাদি অস্তি' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. এম আর আখতার মুকুল
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. দিলওয়ার
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ দিলওয়ার রচিত কবিতা। 
---------------------
• দিলওয়ার:
- কবি দিলওয়ার ১৯৩৭ সালের ১লা জানুয়ারি সিলেটের সুমরা নদীর দক্ষিণে ভার্থখলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিলেটের সাপ্তাহিক ‘যুগভেরী’ পত্রিকায় ১৯৪৯ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘সাইফুল্লাহ হে নজরুল’ ছাপা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘দিলওয়ার খান’। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জিজ্ঞাসা’ (১৯৫৩) দিলওয়ার খান নামেই লেখেন। এর পরে তিনি নামের শেষে ‘খান’ শব্দ বাদ দেন।
----------------
'রক্তে আমার অনাদি অস্তি' কবিতা:
- সাগরদুহিতা ও নদীমাতৃক বাংলাদেশের বন্দনাই কবিতাটির মূল আলোচ্য বিষয়।
- এই কবিতায় কবি পদ্মানদীর যৌবন কামনা করেছেন। যমুনা নদীর প্রেম কামনা করেছেন।
- কবিতাটি ১৯৮১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থগুলো হলো:
- জিজ্ঞাসা,
- ঐকতান,
- উদ্ভিন্ন উল্লাস।

• গানের বই:
- পূবাল হাওয়া,
- বাংলা তোমার আমার।

• শিশু-সাহিত্য:
- দিলওয়ারের শতছড়া,
- ছড়ায় অআ কখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৪৯.
দান্তের “ডিভাইন কমেডি” -কাব্যের অনুকরণে লেখা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্য নিচের কোনটি?
  1. ক) আশাকানন
  2. খ) বীরবাহু
  3. গ) বৃত্রসংহার
  4. ঘ) ছায়াময়ী
ব্যাখ্যা
মধুসূদন দত্তের পর সবচেয়ে বিখ্যাত মহাকাব্য রচয়িতা - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তার রচিত কাব্যঃ চিন্তাতরঙ্গিণী, বীরবাহু, আশাকানন, ছায়াময়ী, দশমহাবিদ্যা, চিত্তবিকাশ ইত্যাদি। তার খন্ড কবিতার বই - জীবন -সঙ্গীত। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৩৫০.
‘বিরস সংলাপ'- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আাল মাহমুদ
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) এস. ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
আবুল হোসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ ‘নববসন্ত’, বিরস সংলাপ, হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস, দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে, এখনও সময় আছে, রাজ-রাজড়া, আর কিসের অপেক্ষা, রাজাকাহিনী। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৭,৩৫১.
'আমার যত কথা' গ্রন্থের লেখকের নাম-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) গোলাম সারওয়ার
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
গোলাম সারওয়ারের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ছড়াগ্রন্থ ‘রঙিন বেলুন' এবং প্রবন্ধ সংকলন ‘সম্পাদকের জবানবন্দি', অমিয় গরল', আমার যত কথা', স্বপ্ন বেঁচে থাক' উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর
৭,৩৫২.
শিশুতোষ গ্রন্থ ‘রুপকথা’ রচনা করেন কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫৩.
'ইঁদুর' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্প
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- সোমেন চন্দের একটি উল্লেখযোগ্য গল্পের নাম 'ইঁদুর'

• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প।
- কলকাতা থেকে বনস্পতি।
- অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫৪.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. ক) লক্ষণ
  2. খ) ওসমান
  3. গ) জয়গুন
  4. ঘ) ধণঞ্জয়
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫৫.
'বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মযহারুল ইসলাম
  2. খ) রফিকুল আজাদ
  3. গ) হুমায়ুন কবির
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
'বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা মযহারুল ইসলাম। 

প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম (১ জুলাই ১৯২৯ - ১৪ নভেম্বর ২০০৩)
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকাচারবেত্তা, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, লোকতাত্ত্বিক, লোকবিজ্ঞানী, কবি-কথাশিল্পী-সংগঠক ও শিল্পপতি।
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- মাটির ফসল
- বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি
- আর্তনাদে বিবর্ণ
- যেখানে বাঘের থাবা
- অপরাহ্ণে বিবস্ত্র প্রাতরাশ
- দুঃসময়ের ছড়া
- উজানে ফেরার প্রতিধ্বনি

উৎস: বাংলা কবিতার ব্লগ ও দৈনিক পত্রিকা
৭,৩৫৬.
'আলমনগরের উপকথা' শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'আলমনগরের উপকথা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'আলম নগরের উপকথা' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯৫৪ সালে।
- এখানে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।

-----------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫৭.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) পথ ও বিপথ
  2. খ) নদীবক্ষে
  3. গ) শাশ্বতবঙ্গ
  4. ঘ) মানব বন্ধু
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪- ১৯৭০): শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ।
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মঃ নাটক- ‘পথ ও বিপথ’, ‘মানব বন্ধু’। উপন্যাস- ‘ নদীবক্ষে’, ‘আজাদ’। প্রবন্ধ- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১) বাংলার জাগরণ (১৩৬৩), কবিগুরু গ্যেটে (১ম ও ২য় খন্ড ১৩৫৩), কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ (১ম খন্ড ১৩৬৯, ২য় খন্ড ১৩৭৬)।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।]
৭,৩৫৮.
শেক্সপিয়রের ‘রোমিও জুলিয়েটে’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত ‘চারুমুখ চিত্তহারা’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. হরচন্দ্র ঘোষ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• হরচন্দ্র ঘোষের (শেক্সপিয়র রচিত ‘রোমিও জুলিয়েটে’র) অনুবাদকৃত নাটক ‘চারুমুখ চিত্তহারা’।

• হরচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একজন নাট্যকার, অনুবাদক।
- একবার বেকনের প্রবন্ধ ‘ট্রুথ’-এর বাংলা অনুবাদ করার প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের আদিপর্বের নাট্যকার এবং শেক্সপীয়রের নাটকের প্রথম অনুবাদক।
- তাঁর পুরাণ অবলম্বনে রচিত কৌরববিয়োগ (১৮৫৮) একটি উল্লেখযোগ্য মৌলিক নাটক।
 ১৮৮৪ সালের ২৪ নভেম্বর হুগলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।

• তাঁর- 
- ভানুমতী-চিত্তবিলাস (১৮৫৩),
- চারুমুখ-চিত্তহরা (১৮৬৪) ও
- রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪)- 
[নাটকত্রয় যথাক্রমে শেক্সপিয়র মার্চেন্ট অফ ভেনিস, রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট এবং দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫৯.
'সত্যবাবু মারা গেছেন' শীর্ষক বইটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) ফয়েজ আহমদ
  3. গ) আহমেদ ছফা
  4. ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
প্রয়াত প্রখ্যাত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদের লেখা বহুল পঠিত গ্রন্থ ‘সত্যবাবু মারা গেছেন’।
ওই বইয়ের ‘সত্যবাবু মারা গেছেন’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে তিনি লিখেছেন,
রিপোর্টিং-এ কোন কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত বা অনবধানতাবশত যতটুকু ভুলভ্রান্তি থাকে, তার চাইতে বহুগুণ অধিক সঠিক তথ্য স্থান পায়। অর্থাৎ রিপোর্টের যে অংশটুকু মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হবে তার চাইতে হয়তো বহুগুণ সত্য উক্ত রিপোর্ট-এ পাওয়া যাবে। অপর দিকে এই ভুল ও মিথ্যার কোনটার জন্যেই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার দায়ী নন। হয় তো দেখা যাবে, পত্রিকার নীতি বা পত্রিকা মালিকের রাজনীতিই এই অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির জন্যে দায়ী। 

Source: mzamin.com
৭,৩৬০.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কবিতা-
  1. আমার সকল কথা
  2. মাগো ওরা বলে 
  3. সহিষ্ণু প্রতীক্ষা
  4. মা দুঃখ পাবে
ব্যাখ্যা
• বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা, 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে 
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা, তুই কবে আসবি?
কবে ছুটি?”
চিঠিটা তার পকেটে ছিল
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।

“মাগো ওরা বলে
সবার কথা কেড়ে নেবে।
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা
তাই কি হয়?

------------------
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ছিলেন একজন কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো : 
- সাত নরীর হার,  
- কখনো রং কখনো সুর,  
- কমলের চোখ,  
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,  
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,  
- প্রেমের কবিতা, 
- নির্বাচিত কবিতা,  
- আমার সকল কথা,  
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; ‘মাগো ওরা বলে’ কবিতা।
৭,৩৬১.
'বিনুর বই' আত্মজীবনমূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'বিনুর বই' আত্মজীবনমূলক রচনা:
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তিনি বিনুর বই-এর প্রথম পর্ব রচনা করেন।পরস্পরসংলগ্ন অধ্যায় পরম্পরায় মাত্র তিন মাসেই সে লেখা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় পর্বের লেখা শুরু হয় ছিয়াশি বছর বয়সে। যখন শেষ হয় তখন তাঁর বয়স উননব্বই। পরিচ্ছেদগুলি দীর্ঘায়িত।

- জীবনসায়াহ্নের সে রচনা অনেকটাই যেন তাঁর বর্ণময় জীবন ও যাপনের 'Summing up'I 'বিনুর বই' জীবনশিল্পী অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা।

- উভয় পর্বেই অন্নদাশঙ্কর রচনা করে চলেন তাঁর মনের, মননের এক আত্মস্বীকারোক্তিমূলক জীবনকাহিনি। অসামান্য এই কাহিনি একদিকে যেমন আমাদের পরিচিত করিয়ে দেয় তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্ব ও বাঁকবদলের সঙ্গে, তেমনই আমরা জানতে পারি মনস্বী এই লেখকের জীবনদর্শন সম্পর্কেও।

- তাই বিনুর উপলব্ধি আসলে অন্নদাশঙ্করেরই উপলব্ধি। তিনি বলেছেন: 'মানুষকে লেবেল দিয়ে শনাক্ত করা যায় না। মানুষকে ভালোবাসলে তার স্বরূপ জানতে পারা যায়।'

-------------------
অন্নদাশঙ্কর রায়ের অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- দেশকাল পাত্র,
- জীয়ন কাটি,
- ইশারা,
- নতুন করে বাঁচা ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- কামিনী কাঞ্চন,
- যৌবন জ্বালা,
- মন পবন,
- প্রকৃতির পরিহাস।

• ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬২.
হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
  2. একাত্তরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা
  3. একাত্তরের পথের ধারে
  4. একাত্তরের স্মৃতিচারণ
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ - একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা

অন্যদিকে,
- মেজর হামিদুল হোসেন তারেক, বীর বিক্রম রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ - একাত্তরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা।
- শাহরিয়ার কবির রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ - একাত্তরের পথের ধারে।
- আহমেদ রেজা রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ - একাত্তরের স্মৃতিচারণ।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- ফিরে যাই ফিরে আসি (১ম অংশ)।

 • তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা

তাঁর রচিত নাটক:
- চন্দর কোথায় (ভাষান্তরিত)।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
৭,৩৬৩.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. শামসুর রাহমান
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটি আহসান হাবীব এর।
- এটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।
- তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- আশায় বসতি,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬৪.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয় কোন কবিতাটি? 
  1. আঠারো বছর বয়স
  2. বোধন
  3. কলম
  4. বাঙালির গান
ব্যাখ্যা

ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয় বাঙালির গান কবিতাটি।
- বাঙালির গান- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত কবিতা। 
-----------
• ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
------------------------ 
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
"আঠারো বছর বয়স" কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৬৫.
কোনটি মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ?
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
  4. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)। 

অন্যদিকে,
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ ‘বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’ ও ‘সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ’।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।

-----------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬৬.
নিচের কোনটি রূপকথাভিত্তিক সাহিত্য রচনা?
  1. এক কিশোরের মন
  2. নওল কিশোরের দরবারে
  3. টুনটুনির বই
  4. কৃষ্ণপক্ষ
ব্যাখ্যা
• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত রুপকথাভিত্তিক গ্রন্থ “টুনটুনির বই”।

অন্যদিকে,
• ‘এক কিশোরের মন’ হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী রচিত গ্রন্থ।
• ‘নওল কিশোরের দরবারে’ সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প।
• 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।

----------------------
• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫)  প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
-  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

• উপেন্দ্রকিশোর শিশুকিশোরদের জন্য বহুসংখ্যক সাহিত্য পুস্তক রচনা করেছেন, এর মধ্যে উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬৭.
আহসান হাবীব কোন পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) সমকাল
  2. খ) মোহাম্মদী
  3. গ) দৈনিক বাংলা
  4. ঘ) সওগাত
ব্যাখ্যা
হাবীব, আহসান (১৯১৭-১৯৮৫)  কবি ও সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কলকাতায় তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও  সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন।
- কয়েক বছর (১৯৪৩-৪৮) তিনি আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি বিভিন্ন সময়ে  আজাদ,  মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭-৬৪ পর্যন্ত তিনি ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনস-এর প্রডাকশন অ্যাডভাইজার ছিলেন।
- পরে তিনি কিছুদিন দৈনিক পাকিস্তানে কাজ করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬৮.
ডিরোজিওর অনুগামীদের কী বলা হয়?
  1. বেঙ্গল স্টার
  2. ইয়াং রাইজিং
  3. ইয়াং ম্যান
  4. ইয়াং বেঙ্গল
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬৯.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. আলোছায়া
  2. নেমেসিস
  3. নয়া খান্দান
  4. আইনের অন্তরালে
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

------------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

• তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বহুরূপা,
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭০.
'পাখির কাছে ফুলের কাছে'- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৭১.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহাম্মদ দানীউল হক
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত 
- তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। 
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

 • মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৭২.
শিশুতোষ সাহিত্য 'আবোল তাবোল' রচনা করেন কে?
  1. শহীদ কাদরী
  2. সত্যেন সেন
  3. সুকুমার রায়
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৩.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. ক) স্বপ্নদর্শন
  2. খ) সঙ্গীত শতক
  3. গ) বঙ্গসুন্দরী
  4. ঘ) সাধের আসন
ব্যাখ্যা
⇒ “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই হাকারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।’

⇒ বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক 
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৪.
কোন নাট্যকার 'হরগজ' নাটকটি রচনা করেন?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. সেলিম আল দীন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'হরগজ' নাটকটির রচয়িতা- সেলিম আল দীন।

'হরগজ' নাটক:
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে এ নাটক লিখেন। 
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি
ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ
শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালে সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৫.
'রানার' সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ছোটগল্প
  2. স্মৃতিকথা
  3. কবিতা
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ 'রানার' কবিতা:
- রানার সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে লখো কবিতা।
- রানার হচ্ছে ডাক হরকরা মানে (যারা প্রাপকের কাছে প্রেরিত চিঠিপত্র পৌঁছে দেয়)।
- রানার কথাটি এখন চালু নেই। এখন পোস্টম্যান বা চিঠি বিলিকারী নামে চালু আছে।
- রানারদের কাছে পৃথিবীটা কালো ধোঁয়া মনে হয় অভাবের তাড়নায়।
- সমাজ শ্রমজীবীদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য দিতে চায় না বলে রানারদের অভাব শেষ হবে না বর্ণিত আছে কবিতায়।

⇒ সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২০ বছর ৯ মাসে যক্ষা রোগে মারা যান।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র (কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়)।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৬.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. অপরাজিত
  2. মেঘমল্লার
  3. ইছামতী
  4. আদর্শ হিন্দু হোটেল
ব্যাখ্যা

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ - মেঘমল্লার।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- পথের পাঁচালি
- অপরাজিত
- দৃষ্টি প্রদীপ
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- ইছামতী

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার;
- মৌরীফুল;
- যাত্রাবদল;
- কিন্নরদল;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৭৭.
'ছায়া হরিণ' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।

- 'ছায়া হরিণ' গ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 
- মোট কবিতার সংখ্যা ২৫টি। 
- এই কাব্যে তাঁর সমাজ- সচেতনতা প্রকাশিত হয়। 

- সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 

 তাঁর রচিত উপন্যাস-
- অরন্য নীলিমা,
- রাণী খালের সাঁকো।

কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ,
- ছায়া  হরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে
- যাবো, দু’হাতে দুইআদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ-
- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- ছোটদের পাকিস্তান ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৭,৩৭৮.
কৃষেকদের দুঃখ দুর্দশা ও মুক্তির পথ নির্দেশ করে আবুল হুসেনের রচয়িত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বাংলার বলশী
  2. খ) মুসলীম কালচার
  3. গ) অনুমান
  4. ঘ) নব বসন্ত
ব্যাখ্যা
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম: - বাংলার বলশী, মুসলিম কালচার ও বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
• রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন ।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৭৯.
'এই বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি' পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. জীবনানন্দ দাস
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার।'- পঙক্তিটির কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। 
- এই পঙক্তিগুলো 'ছাড়পত্র' কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

'ছাড়পত্র' কাব্য: 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের অনেক কবিতা বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার' - এই পঙক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য: 
- কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর বি ত মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৮০.
আহসান হাবীব রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ-
  1. রাত্রিশেষ
  2. সারাদুপুর
  3. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  4. ছায়া হরিণ
ব্যাখ্যা
⇒ আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৮১.
গাড়ি চলে না, চলে না, নারে........গানের গীতিকার কে?
  1. ক) সঞ্জীব চৌধুরী
  2. খ) বাপ্পা মজুমদার
  3. গ) শাহ্‌ আবদুল করিম
  4. ঘ) দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম  ১৯১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে। 
- তাঁর জীবনের প্রথমপর্বে সঙ্গীতের দীক্ষা ঘটেছিল বাংলা ভাবসাধক ও বাউল পরিমন্ডলে।
- প্রথম জীবনে তিনি বাউল, ভক্তিমূলক, জারি, সারি, রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পালাগান গেয়েছেন। কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি গণসঙ্গীত রচনা ও পরিবেশনে খ্যাতি অর্জন করেন।
- সঙ্গীতজীবনের একদিকে তিনি ছিলেন গণচেতনার সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক, অন্যদিকে ছিলেন বাউল-আঙ্গিকের সঙ্গীতশিল্পী। 
-  কৈশোরকাল থেকেই গণসঙ্গীতের প্রতি শাহ আবদুল করিমের আকর্ষণ ছিল। সম্ভবত জীবনের বাস্তবতা তাঁকে গণসঙ্গীত রচনায় উদ্বুদ্ধ করে।

তাঁর কিছু বিখ্যাত সঙ্গীতের পংক্তি এ রকম:
- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
- কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
- গাড়ি চলে না, চলে না, নারে
- বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে
- গান গাই আমার মনরে বুঝাই
- আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু
- বসন্ত বাতাসে সইগো, ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮২.
নিচের কোনটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. ময়ূরকণ্ঠী
  3. শহর-ইয়ার
  4. পঞ্চতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• 'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- তুলনাহীনা,
- শহর-ইয়ার।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৮৩.
'পুতুল নিয়ে খেলা' বিখ্যাত উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  3. হাসান আজুজুল হক 
  4. আবু ইসহাক 
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নিয়ে খেলা':
'পুতুল নিয়ে খেলা' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসে পাঠক প্রেমিকার বিভিন্ন রূপ দেখতে পান। লেখক অবশ্য সেটা দেখান সিরিও-কমিক ভঙ্গিতে।

-----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)। তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'পুতুল নিয়ে খেলা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৮৪.
'আমি জন্ম গ্রহণ করিনি' কাব্য গ্রন্থের কবি কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. অসীম সাহা
ব্যাখ্যা
• 'আমি জন্ম গ্রহণ করিনি' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা।
- কবিতাটি সৈয়দ শামসুল হকের ‘কবিতাসমগ্র- ১’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৯ তারিখে, বগুড়ায় বসে। অর্থাৎ তাঁর সেবারের জন্মদিনের ১৬ দিন আগে।
- এই কবিতার প্রথম পঙিক্ততেই তিনি তিনবার উচ্চারণ করছেন শিরোনাম-বাক্যটি : ‘আমি জন্মগ্রহণ করিনি, আমি জন্মগ্রহণ করিনি, আমি জন্মগ্রহণ করিনি।’

----------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘কবিতাসমগ্র- ১’ কাব্যগ্রন্থ; ‘কালের কণ্ঠ’ পত্রিকা রিপোর্টস এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মানচিত্র
  2. খ) ক্ষুধা ও আশা
  3. গ) স্বপ্নশিলা
  4. ঘ) লেলিহান পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত কবিতা স্মৃতিস্তম্ভ। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তান সরকার প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে এ কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন। ক্ষুধা ও আশা ও স্বপ্নশিলা তাঁর উপন্যাস এবং লেলিহান পান্ডুলিপি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,৩৮৬.
বত্রিশ সিংহাসন-এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

৭,৩৮৭.
'আমার ঘরের চাবি পরের হাতে'-গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ্
  2. হাসন রাজা
  3. পাগলা কানাই
  4. রাধারমণ দত্ত
ব্যাখ্যা
- 'আমার ঘরের চাবি পরের হাতে' গানটির রচয়িতা লালন শাহ্।

• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

তাঁর জনপ্রিয় গান-
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮৮.
‘তোমার পায়ের শব্দ’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মহাদেব সাহা
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

মহাদেব সাহার রচিত কাব্য গ্রন্থ, 'তোমার পায়ের শব্দ'। গ্রন্থটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো :
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস
- মানব এসেছি কাছে
- কী সুন্দর অন্ধ
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস
- আমি ছিন্নভিন্ন
- তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩৮৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৯০.
"দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" - লাইনটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. রজনীকান্ত সেন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• "দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" - লাইনটির রচয়িতা 'কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার'।
------------------------- 

কবিতা- দুঃখ বিনা সুখ হয় না (সম্ভাব শতক কাব্যগ্রন্থ থেকে)
কবি - কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। 

কি কারণ, দীন। তব মলিন বদন?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনোরথ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
----------------------- 
• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক। 
- ১৮৬১ সালে 'ঢাকা প্রকাশ' প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।
- ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ তাঁর রচিত বিখ্যাত একটা পঙ্‌ক্তি।
- ১৯০৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রাসের ইতিবৃত্ত,
- কৈবল্যতত্ত্ব,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'সদ্ভাবশতক'- কাব্যগ্রন্থ, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
৭,৩৯১.
কাজী নজরুল ইসলামের গীতিনাট্য কোনটি?
  1. ক) পুতুলের বিয়ে
  2. খ) ঝিলিমিলি
  3. গ) মধুমালা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ ঝিলিমিলি। তাঁর কিশোর নাটক পুতুলের বিয়ে এবং আলেয়া ও মধুমালা গীতিনাট্য। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৩৯২.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'হরপ্রসাদ শাস্ত্রী' কেন বিখ্যাত?
  1. চৈতন্য দেবের জীবনী সাহিত্য রচনার জন্য
  2. চর্যাপদের ভাষা বাংলা তা প্রমাণের জন্য
  3. প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্য আবিষ্কারের জন্য
  4. নাটক রচয়িতা হিসেবে
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা ভাষার প্রথম নিদর্শন — চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। তার এ অমর কীর্তির জন্য তিনি বিখ্যাত। 

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১) প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পন্ডিত। 

• অনুসন্ধিৎসু হরপ্রসাদ প্রাচীন বাংলার পুঁথির খোঁজে চারবার নেপাল যান ১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৯০৭ এবং ১৯২২ সালে। ১৯০৭ সালে তাঁর হাতে আসে বাংলার প্রাচীনতম কবিতা-সংগ্রহ চর্যাগীতির পুঁথি। দীর্ঘ ৭/৮ বৎসর পুঁথির রচনাগুলি গবেষণা করে তিনি আবিষ্কার করেন যে, গানগুলির ভাষা প্রাচীন বাংলা। ১৯১৬ সালে হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা গ্রন্থে দুটি দোহা কোষ ও ডাকর্ণব পুঁথির সঙ্গে চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় পুঁথি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়। চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগানের সংকলনটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা বাংলাভাষা ও সাহিত্যের গবেষণায় তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
-------------------- 
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৯৩.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস?
  1. পথের দাবী
  2. বিরাজবৌ
  3. শ্রীকান্ত
  4. বামুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা এবং একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলো:
- অনিলা দেবী,
- অপরাজিতা দেবী,
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

• এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৯৪.
আনোয়ার পাশা রচিত ‘হাস্নাহেনা’ কি ধরণের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) রম্যরচনা
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) উপন্যাস 
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
রাজশাহী কলেজে বিএ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে তিনি রচনা করেন ‘হাস্নাহেনা’ শিরোনামে একটি রম্যরচনা

উপন্যাস:
- নীড় সন্ধানী
- নিষুতি রাতের গাথা
- রাইফেল রোটি আওরাত

গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী

কাব্য:
- নদী নিঃশেষিত হলে
- সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
৭,৩৯৫.
'নূরজাহান' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) হুমায়ুন কবির
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'নূরজাহান' নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। এটি তাঁর বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- মেবার পতন, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, দুর্গাদাস, তারাবাঈ, রানা প্রতাপ সিংহ, সোরাব রুস্তম, সিংহল বিজয় ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৩৯৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা
• জাহান্নম হইতে বিদায়:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান: সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধকালে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গাজী রহমান,
- এডভোকেট রেজা আলী,
- বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

অন্যদিকে,
• ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের প্রথম উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার। গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেনের ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’ নাচোলের তেভাগা আন্দোলন ও তাঁর কিংবদন্তিতুল্য সংগঠক ও নেত্রী ইলা মিত্রকে নিয়ে লেখা ইতিহাস-নির্ভর জীবনী উপন্যাস।

-----------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাংগী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- তারা দুই জন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৯৭.
‘দিলরুবা’ ও ‘উত্তর বসন্ত’ কবিতাগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবদুল কাদির
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির: 
- আবদুল কাদির (১৯০৬-১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা, 
- কবি নজরুল, 
 - কাজী আব্দুল ওদুদ। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৯৮.
'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাসটি কোন রীতিতে রচিত?
  1. স্থিতলক্ষ্যবাদী রীতিতে
  2. বাস্তববাদী রীতিতে
  3. রোমান্টিক রীতিতে
  4. চেতনাপ্রবাহ রীতিতে 
ব্যাখ্যা

'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস বিষয়ে আলোচনা:
• বিষয় ও শিল্প বিচারে বাংলা উপন্যাসের ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্এ ক ব্যতিক্রমধর্মী, অভিনব ও গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস 'কাঁদো নদী কাঁদো'। 

• 'কাঁদো নদী কাঁদো' মূলত চেতনাপ্রবাহরীতিতে (stream of consciousness) রচিত। এতে চেতনায় প্রবহমান ধারার মাধ্যমে চরিত্র, আখ্যান ও তার অন্তর্গত বাণী রূপায়িত হতে থাকে। ভাবনার প্রবাহ (ইনটেরিয়র মনোলগ), ফ্ল্যাশব্যাক, ফ্ল্যাশফরোয়ার্ড তথা চেতনাপ্রবাহরীতির মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে গিয়ে যে-কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা উপন্যাসটিকে জটিল করে তুলেছে।

• বস্তুত  চতনাপ্রবাহরীতির জটিলতম কৌশলই এখানে প্রয়োগ করা হয়েছে। কিংবা লেখক এক্ষেত্রে চেতনাপ্রবাহরীতি এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যে, তা এমন জটিল হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই জটিলতা আসলে শৈল্পিক ঘোর নির্মাণ এবং তা এই উপন্যাসের বহুকৌণিক বিষয় বা তার আবেদনের দাবি।

• উপন্যাসে কুমুরডাঙ্গা নামের দরিদ্র মহকুমা শহরের জনজীবন, স্টিমারঘাট উদ্বোধনকালে স্থানীয় হিন্দু জমিদারকে আমন্ত্রণ না জানানোর ফলে তার লেলানো লাঠিয়ালদের দৌরাত্ম্য তথা প্রতিশোধস্পৃহা বা পেশিশক্তির আধিপত্য, বাকাল নদীতে চর পড়ায় অনিশ্চিতকালের জন্য তার স্টিমারঘাট বন্ধ হওয়া, তাতে চাকরি হারানো কর্মচারী খতিব মিঞার অসহায়ত্ব, বন্ধ ঘাট নিয়ে উকিল কফিল উদ্দিনের ধারণা, তা চালুর জন্য তাঁর তথাকথিত সংগ্রাম বা প্রচেষ্টা, নতুন হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফা ও তাঁর বাগদত্তা খোদেজার মৃত্যু বা আত্মহত্যা রহস্য, তাৎপর্যপূর্ণ এক নির্মোহতায় আক্রান্ত ডাক্তার বোরহানউদ্দিন- সমাজের রোগগ্রস্ত মানুষ সম্পর্কে তার ধারণা-বিশ্বাস, মানুষের নদীর কান্না শোনা প্রভৃতি বিষয় যে শুধু এক নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে তা নয়, এসব এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার-বিশেস্নষণ করে তাতে অভিনব মাত্রা দেওয়া হয়েছে।

উৎস: কালি ও কলম পত্রিকা এবং 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস।

৭,৩৯৯.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা কোনটি?
  1. চাঁদের পাহাড়
  2. তৃণাঙ্কুর
  3. বিপিনের সংসার
  4. দেবযান
ব্যাখ্যা
• "তৃণাঙ্কুর":
"তৃণাঙ্কুর" বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি বিখ্যাত রচনা। এটি মূলত একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, যেখানে লেখক প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো তার জীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে, 
• 'চাঁদের পাহাড়' প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা রোমাঞ্চকর উপন্যাস।

• 'বিপিনের সংসার' বিখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ ভারত-এর ইংরেজ শাসন আমলের শেষ সময়ে পশ্চিমবঙ্গ-এর গ্রামীণ পটভূমিতে।

• 'দেবযান' হলো প্রখ্যাত কথাসহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাস মৃত্যু ও জীবন উপলব্দি নিয়ে রচিত।

--------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো হলো-
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- অংশনি সংকেত (অসমাপ্ত),
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দৃষ্টিপ্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়,
- বিপিনের সংসার,
- দেবযান ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং "তৃণাঙ্কুর" গ্রন্থ।
৭,৪০০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোথায় থেকে?
  1. ক) অর্ধমাগধী
  2. খ) শৌরসেনী
  3. গ) মৈথিলী
  4. ঘ) গৌড়ী বা মাগধী প্রাকৃত
ব্যাখ্যা
প্রাকৃত মধ্যভারতীয় আর্যভাষা। ‘প্রকৃতি’ অর্থ সাধারণ জনগণ এবং তাদের ব্যবহূত ভাষাই প্রাকৃত ভাষা, অর্থাৎ প্রাকৃত জনের ভাষা প্রাকৃত ভাষা। 
প্রাকৃত ভাষা প্রধানত পাঁচ প্রকার - মহারাষ্ট্রী, শৌরসেনী, মাগধী, অর্ধমাগধী ও পৈশাচী।
- মাগধী প্রাকৃত ছিল পূর্বভারতীয় মগধের ভাষা, তাই এর নাম হয়েছে ‘মাগধী’।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমাণ করেন যে, গৌড়ী বা মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। 
 [উৎস : বাংলাপিডিয়া]