বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৭৩ / ৭৭ · ৭,২০১৭,৩০০ / ৭,৬৪৬

৭,২০১.
’ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্রাচার্য
ব্যাখ্যা
• ’ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা আহসান হাবীব। 
- আহসান হাবীব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- এ কাব্যগ্রন্থে তাঁর সমাজ-সচেতনতা প্রকাশিত হয়েছে।
- ঐতিহ্যাশ্রয়ী কবি এখানে বণিক সভ্যতার রুদ্র রূপ দেখেছেন। তিনি গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্থিত হতে চেয়েছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২০২.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে' - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্বদেব বসু
  2. কামিনী রায়
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২০৩.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সুকুমার রায়
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- এটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস।
এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২০৪.
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের পণ্ডিত ছিলেন -
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী: 
- ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম অধ্যাপক।
- ১৮০৫ খ্রী. কাদির বখশ রচিত ফারসী গ্ৰন্থ ‘তুতীনামা’র বঙ্গানুবাদ করেন।
- গ্রন্থটি ‘তোতা ইতিহাস’ নামে প্রথমে শ্ৰীরামপুর মিশনারী প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।
- তার রচিত এই তোতা ইতিহাস একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এতে মোট ৩৫ টি গল্প আছে।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২০৫.
'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যস
  2. খ) ঐতিহাসিক নাটক
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন আজাদঃ লেখক ও অধ্যাপক।
তার রচিত কবিতার বইগুলো হলোঃ
- অলৌকিক স্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি৷

উপন্যাস-
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

যেহেতু, অপশনে কাব্যগ্রন্থ বা কবিতার বই নেই; তাই সঠিক উত্তর হিসাবে ঘ) কোনটিই নয় ধরা হয়েছে।

৭,২০৬.
'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) রমানন্দ চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- এটি ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গ্রন্থ।
- কলিকাতা কমলালয় প্রকাশিত হয় ১৮২৩ সালে।
- এ গ্রন্থে তিনি কলকাতার জীবনযাত্রার পরিচয় তুলে ধরেন বিশেষ করে নব্য ধনীদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা। 
-----------------------

ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৭৮৭-১৮৪৮):
- লেখক, সাংবাদিক ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা।
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন।
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে ১৮২৫ সালে প্রকাশিত নববাবুবিলাস এবং ১৮৩১ সালে নববিবিবিলাস অন্যতম।
- নববাবুবিলাস গ্রন্থে তিনি নব্যধনীদের অসংযমী জীবনযাত্রাকে বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ করেন। 
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে দূতীবিলাস (১৮২৫), শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ (১৮৩১) এবং আশ্চর্য্য উপাখ্যান (১৮৩৫) উল্লেখযোগ্য।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২০৭.
'আগুন পাখি' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হাসান আজিজুল হক 
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

'আগুন পাখি' উপন্যাস:
- 'আগুন পাখি' হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন,
- রোদে যাবো,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২০৮.
শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রবন্ধ সংগ্রহ
  2. গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা
  3. মাটি থেকে মহীরুহ
  4. শাশ্বত বঙ্গ
ব্যাখ্যা
• শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'মাটি থেকে মহীরুহ'।
- গ্রন্থটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
- তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গতি,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা,
- ফোকলোরচর্চা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

অপশন আলোচনা:
• প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ- প্রবন্ধ সংগ্রহ।
• কাজী আবদুল ওদুদের প্রবন্ধ শাশ্বত বঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২০৯.
"পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা

• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণবৃত্তান্তের রচয়িতা শহীদুল্লা কায়সার। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। 

শহীদুল্লা কায়সার (১৯২৭-১৯৭১) : 
- কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধারার সকল আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- বামপন্থী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তিনি শ্রমিক-জনতার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য সক্রিয় সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব দিতেন। 
-  ১৯৫২-র  ভাষা আন্দোলন-এ তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং ৩জুন গ্রেফতার হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি পুনরায় গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ হন। ১৯৫৮ সালের ১৪ অক্টোবর সামরিক শাসক কর্তৃক তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন এবং প্রায় চার বছর কারাভোগের পর ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি লাভ করেন।

- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান  উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
 তাঁর অন্যান্য উপন্যাস-
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)
- রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২) 

- তাঁর স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২১০.
'খাইখাই' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
আবোলতাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, খাইখাই, ব্যাঙের সমুদ্র দেখা ইত্যাদি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত শিশুতোষ সাহিত্য। অতীতের কথা সুকুমার রায়ের কাব্য এবং হেসোরামের ডাইরী তাঁর রম্যরচনা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,২১১.
'জমিলা, মজিদ' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. চরিত্রহীন
  3. লালসালু
  4. পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা প্রমুখ।
 
------------------------- 
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
---------------
অন্যদিকে, 
• পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের চরিত্র:
- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

• চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র:
-  সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।

• ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র:
- রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২১২.
'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আনিসুজ্জামান
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' গ্রন্থটির রচয়িতা - আনিসুজ্জামান।

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২১৩.
'অশোক সৈয়দ' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম প্রিয়দর্শী।

---------------------
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক। 
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা আর তিন পরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২১৪.
‘মা যে জননী কান্দে’ কোন ধরণের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- ‘মা যে জননী কান্দে’ এক ধরনের কাব্য বা কাব্যগ্রন্থ।
- অনেকে এটিকে কাহিনী কাব্য হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।
- এই গ্রন্থ সম্পর্কে কবি জসীমউদ্দীন বলেন, 'মা যে জননী কান্দে' বইখানায় এবং ইতিপূর্বে প্রকাশিত আমার ‘সখিনা' কাব্যে মাঝে মাঝে আমি গ্রাম্য গীত-কবিতার ছন্দ ব্যবহার করিয়াছি।
-এই ছন্দকে কেহ যেন প্রচলিত বাংলা পয়ার ছন্দ মনে করিবেন না। বাংলা পয়ার ছন্দে তেমন ধূনিবৈচিত্র্য নাই; কিন্তু গীতি-কবিতার ছন্দ যদিও পয়ারেরই দোসর, লোক-সাহিত্যে কবিরা ইচ্ছামতো শব্দ যোগ করিয়া ইহাতে নানা রকমের ধূনির সৃষ্টি করিয়াছেন । 

জসীমউদ্দীন 

- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা,  শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:
 
- নক্সী কাঁথার মাঠ
- সোজন বাদিয়ার ঘাট 
- রঙিলা নায়ের মাঝি
- মাটির কান্না
- সুচয়নী
- পদ্মা নদীর দেশে
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
- পদ্মাপার
- বেদের মেয়ে 
উৎস: মা যে জননী কান্দে এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২১৫.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনী কোনটি?
  1. ক) দেশান্তর
  2. খ) দেশে বিদেশে
  3. গ) জলে ডাঙ্গায়
  4. ঘ) পালামৌ
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় ভ্রমণ সাহিত্যের প্রথম রচয়িতা হল সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম 'পালামৌ' (১৮৮০)।
- ছোটোনাগপুরের বিশেষ অঞ্চলের ভ্রমণকাহিনি।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২১৬.
'নেমেসিস' নাটকটির রচয়িতা-
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটকটির রচয়িতা- নুরুল মোমেন।

নুরুলমোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
যদি এমন হতো 
নয়া খান্দান 
আলোছায়া 
আইনের অন্তরালে 
শতকরা আশি 
রূপলেখা 
যেমন ইচ্ছা তেমন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,২১৭.
'আনোয়ার পাশা' নাটকটির রচয়িতা-
  1. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ার পাশা' নাটকটির রচয়িতা- 'ইব্রাহীম খাঁ'। 

প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ: 

- প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর স্মৃতিকথা বাতায়ন সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: 
- 'কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,২১৮.
মহাকবি 'কায়কোবাদ' এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কুসুমকানন
  2. খ) শিবমন্দির
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’। 
- কবি বলেছেন ‘আমি যখন বার বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার বিরহ- বিলাপ  নামক ক্ষুদ্র কাব্য প্রকাশিত হয়।’ 
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ  ‘মহাশ্মশান’ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর
৭,২১৯.
নিচের কোনটি নাটক নয়?
  1. ক) উজানে মৃত্যু
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) তরঙ্গভঙ্গ
  4. ঘ) নয়নচারা
ব্যাখ্যা
নয়নচারা, দুই তীর, গল্পসমগ্র সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ছোটগল্প। বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ, উজানের মৃত্যু ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক এবং লালসালু, কাঁদো নদী কাঁদো ও চাঁদের অমাবস্যা তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,২২০.
'অশ্রুমালা' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) মহাকাব্য
  2. খ) গীতিকাব্য
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) গাঁথাকাব্য
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি - কায়কোবাদ। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী।
তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'বিরহ-বিলাপ'
তার অন্যান্য রচনা -
মহাকাব্য - মহাশ্মশান (১৯০৫)
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা (১৮৯৫)
এছাড়াও তিনি -
কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,২২১.
‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শহীদ কাদরী
  2. সমরেশ মজুমদার
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাস:
- ‘উত্তরাধিকার’ সমরেশ মজুমদার রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কাহিনির শুরু উত্তরবঙ্গের একটি চা-বাগানের পটভূমিকায়। ১৯৪৭ সালের পনেরই আগস্টে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা দিবস উৎযাপনের সময় অনিমেষ নামে একটি কিশোর প্রথম শুনেছিল 'বন্দেমাতরম্' শব্দটি। শব্দটির অর্থ পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তার ধ্বনি-ব্যঞ্জনা তার মনকে নাড়া দিল।
- এই কাহিনি সেদিনকার সেই কিশোর তরুণ অনিমেষের আত্ম-অনুসন্ধানের কাহিনি, আত্ম-জিজ্ঞাসার কাহিনি।
- ১৯৮৪ সালে অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন উত্তরাধিকার উপন্যাসের নায়ক অনিমেষের মধ্য জীবন-পর্বের কাহিনিটি।

অন্যদিকে,
- 'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- 'শহীদ কাদরী'।

--------------------------
• সমরেশ মজুমদার:
- সমরেশ মজুমদারের জন্ম ২৬ ফাল্গুন, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ।
-  প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প 'দেশ' পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে।
- প্রথম উপন্যাস 'দৌড়'। প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে 'দেশ' পত্রিকায়।
- 'দৌড়' চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার লাভ করেন।
- এছাড়াও ১৯৮৪ সালে 'কালবেলা' উপন্যাস রচনার জন্য পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
- দৌড়,
- এই আমি রেণু,
- উত্তরাধিকার, 
- বন্দীনিবাস,
- বড় পাপ হে,
- উজান গঙ্গা,
- বাসভূমি,
- লক্ষ্মীর পাঁচালি,
- উনিশ বিশ,
- সওয়ার,
- কালবেলা ইত্যাদি।
 
উৎস: ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাস সমরেশ মজুমদার এবং ‘অনেকেই একা’ সমরেশ মজুমদার।
৭,২২২.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মারা যান?
  1. ১৮ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২১ বছর
  4. ২৩ বছর
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- ২৯শে বৈশাখ ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে মাত্র একুশ বছর বয়সে কবি মৃত্যুবরণ করেন। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,২২৩.
'মে দিবস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• 'মে দিবস' নাটকের রচয়িতা - মামুনুর রশীদ
- এটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।

মামুনুর রশীদ:
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২২৪.
'মনীষা মঞ্জুষা' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহাম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'মনীষা মঞ্জুষা' গ্রন্থ:
- 'মনীষা মঞ্জুষা' মুহম্মদ এনামুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থটিতে মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য, মধ্যযুগীয় সাহিত্য, ভাষার বিবর্তন, এবং সমসাময়িক সাহিত্যিক প্রবণতার উপর আলোকপাত করেছেন। এছাড়াও, বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে।

--------------------
• মুহম্মদ এনামুল হক:

- মুহম্মদ এনামুল হক ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল 'History of Sufism in Bengal'।
- বাংলা একাডেমি তাঁর নামে 'মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক' প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য,
- মনীষা মঞ্জুষা,
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; 'মনীষা মঞ্জুষা' গ্রন্থ।
৭,২২৫.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার জনক বলা হয় কাকে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক গীতি কবিতা রচনা করেন বিহারীলাল চক্রবর্তী। এজন্যে তাকে বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার জনক বলা হয়। রবীন্দ্রনাথ তার ভাবশিষ্য ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাকে ভোরের পাখি হিসেবে অভিহিত করেন৷ বঙ্গসুন্দরি (১৮৭০) তার প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ। তবে তার শ্রেষ্ঠ গীতিকবিতা গ্রন্থ হলো সারদা মঙ্গল (১৮৭৯) । (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৭,২২৬.
‘নদী ও নারী’ উপন্যাসে কোন নদী ও পরিবেশের চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. পদ্মা নদী
  2. তিতাস নদী
  3. যমুনা নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা
নদী ও নারী:
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২২৭.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত "বাংলাদেশ" কবিতাটি কার রচনা? 
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত "বাংলাদেশ" কবিতাটি অমিয় চক্রবর্তীর রচনা।  

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'দেশিকোত্তম' (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,২২৮.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলি
  2. খ) কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক ছিলেন আহমদ শরীফ।
- শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক আহমদ শরীফ  ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি  চট্টগ্রাম জেলার  পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

- অধ্যাপক শরীফ মধ্যযুগের চল্লিশোর্ধ্ব কাব্যের পুথি সম্পাদনা করেছেন।
- সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: আলাওলের তোহফা (১৯৫৮) ও সিকান্দরনামা (১৯৭৭), মুহম্মদ খানের সত্য-কলি-বিবাদ-সংবাদ (১৯৫৯), মুসলিম কবির পদসাহিত্য (১৯৬১), জয়েনউদ্দীনের  রসুলবিজয় (১৯৬৪), মুজাম্মিলের নীতিশাস্ত্রবার্তা (১৯৬৫), মধ্যযুগের রাগতালনামা (১৯৬৭), বাঙলার সূফীসাহিত্য (১৯৬৯), আফজল আলীর নসিহতনামা (১৯৬৯), বাউলতত্ত্ব (১৯৭৩), সৈয়দ সুলতানের  নবীবংশ,  রসুলচরিত (১৯৭৮) ইত্যাদি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও পুথি গবেষণাসূত্রে অধ্যাপক শরীফ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বিশিষ্টতা অর্জন করেন এবং এ ক্ষেত্রে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী হন।
- তিনি তাঁর গবেষণা ও ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানদের অবদানের যথার্থ পরিচয় তুলে ধরেন।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস প্রণয়নে অধ্যাপক শরীফের অনন্যতা এখানে যে, তিনি হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল বাঙালির সাধনাকেই অসাম্প্রদায়িক ও উদার দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করেছেন।
- ফলে তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দুখন্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে।
- এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা। 
- মধ্যযুগের সাহিত্য বিষয়ে তাঁর আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সৈয়দ সুলতান: তাঁর গ্রন্থাবলী ও তাঁর যুগ (১৯৭২), মধ্যযুগের সাহিত্যে সমাজ ও সংস্কৃতির রূপ (১৯৭৭) ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য (১৯৮৫)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,২২৯.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. প্রবন্ধ 
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

• 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।   

----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।

- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।

- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- মধ্যবিত্তের সংকট ও জীবনযন্ত্রণা আহসান হাবীবের কবিতার মুখ্য বিষয়। সামাজিক বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংগ্রামী চেতনা এবং সমকালীন যুগযন্ত্রণা তাঁর কবিতায় শিল্পসম্মতভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে। তাঁর ভাষা ও প্রকাশভঙ্গিতে নাগরিক মননের ছাপ আছে।

- সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪), নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭), একুশে পদক (১৯৭৮), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০) এবং আবুল কালাম স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৪) লাভ করেন।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, 
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২৩০.
মুনীর চৌধুরী রচিত 'কেউ কিছু বলতে পারে না' একটি -
  1. ক) অনুবাদ গল্প
  2. খ) অনুবাদ উপন্যাস
  3. গ) অনুবাদ প্রবন্ধ
  4. ঘ) অনুবাদ নাটক
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত অনুবাদ নাটক হলো রূপার কৌটা (মূল: জর্জ গলজওয়ার্দি রচিত The Silver Box), কেউ কিছু বলতে পারে না (মূল: জর্জ বার্নার্ড শ রচিত You Never Can Tell) এবং মুখরা রমণী বশীকরণ (মূল: উইলিয়াম শেকসপিয়ার রচিত Taming of the Shrew)।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,২৩১.
রম্য লেখক হিসেবে সুপরিচিত কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা রম্য লেখক। তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলো দেশে-বিদেশে, জলে ডাঙ্গায়, চাচা কাহিনী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,২৩২.
ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষাদ-সিন্ধু
  2. আরণ্যক
  3. অশনি সংকেত
  4. ইছামতী
ব্যাখ্যা

‘আরণ্যক' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

অন্যদিকে,
'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কিভাবে বিস্তার লাভ করেছে তাঁর নিখুত বর্ণনা লাভ করেছে এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির পটভূমি বিভূতিভূষণের নিজ গ্রাম বরাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।
- এই উপন্যাসটি সত্যজিৎ রায় একই নামে চলচিত্রে রূপদান করেন।

'ইছামতী' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু লেখকের নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা মানুষ।
- একান্ত অন্তরঙ্গ ভাবমূর্তিতে এদেরকে তিনি গড়ে তুলেছেন। গয়া মেম অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র। রাজারাম দেওয়ান পরম সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ, কিন্তু ইংরেজের চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হতে ছলচাতুরি ও জোচ্চুরি করেছে।

'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থটির জন্যেই। 'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ- সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পৰ্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,২৩৩.
কাবুল শহরের কাহিনী নিয়ে লেখা গ্রন্থ-
  1. ক) জলে ডাঙ্গায়
  2. খ) পথে প্রবাসে
  3. গ) দেশে বিদেশে
  4. ঘ) পালামৌ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
• তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
• তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীঃ
- দেশে বিদেশে (কাবুল শহরের কাহিনী নিয়ে লেখা। আফগানিস্তানের কাবুলে অধ্যাপনা কালে সেখানকার বিচিত্র অভিজ্ঞতার আলোকে এই গ্রন্থ রচনা জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।)
- জলে ডাঙ্গায়।
• তাঁর বিখ্যাত রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।
• তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।
• পথে প্রবাসে অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণ কাহিনী।
• পালামৌ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৭,২৩৪.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ইছামতী
  2. দেবযান
  3. আরণ্যক
  4. মেঘমল্লার
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- আরণ্যক,
- দেবযান,
- ইছামতী।

অন্যদিকে,
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প - মেঘমল্লার

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৩৫.
কোন কবি বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডবদের মধ্যে অন্যতম?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) মোহিতলাল মজুমদার
  4. ঘ) জসিম উদ্দিন
ব্যাখ্যা

ত্রিশের দশকে বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রকাব্য ধারার বাহিরে গিয়ে কাব্য চর্চা করতেন এমন পাঁচ জন কবিকে বাংলা সাহিত্যের পঞ্চ পান্ডব বলা হয়
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চ পান্ডব হলেন:-
- জীবনানন্দ দাস
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
- অমিয় চক্রবর্তী
- বুদ্ধদেব বসু
- বিষ্ণু দে
[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৭,২৩৬.
'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) জীবনানন্দ দাস
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১),
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬),
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০),
- চলো যাই (১৯৬২),
- সাম্প্রতিক (১৯৬৩)।

তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।

 
৭,২৩৭.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অশনি সংকেত
  2. চাঁদের পাহাড়
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

অন্যদিকে, 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস: অশনি সংকেত, চাঁদের পাহাড়।
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- দিবারাত্রির কাব্য।

---------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- লালসালু, 
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৩৮.
সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত 'সরলা ও মেহের বয়াতির' প্রেমের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. অনেক সূর্যের আশা
  2. বেগম শেফালী মির্জা
  3. রোদের ঢেউ
  4. আদিগন্ত
ব্যাখ্যা
'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে। 
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে। 

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:

- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা, 
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি 
- খরস্রোত 
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম
- অষ্টপ্রহর  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৩৯.
''সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন”- পঙক্তিদ্বয় বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সারদামঙ্গল
  2. সঙ্গীত শতক
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. স্বপ্রদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত।
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ গ্রন্থ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’

এ কাব্যে কবি বলেছেন:

''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

-----------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৪০.
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বুলবুলিস্তান
  2. বিশ্বনবী
  3. কাব্যকাহিনী
  4. খোশরোজ
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বনবী' গোলাম মোস্তফা রচিত- গদ্যগ্রন্থ।
- এটি রাসুলুল্লাহ (স) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• গোলাম মোস্তফা:

- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৪১.
‘লেলিহান পান্ডুলিপি’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

মানচিত্র,
লেলিহান পান্ডুলিপি,
ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
সূর্য জ্বালার স্বপন,
নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
সাজঘর ইত্যাদি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

৭,২৪২.
"আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর" - কে লিখেছেন?
  1. আবুল হুসেন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৭,২৪৩.
'যে অরণ্যে আলো নেই' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) ছোট গল্প
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
- 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীম রচিত নাটক। 

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৪৪.
'তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?' কার রচিত কবিতাংশ?
  1. ক) জসীমউদদীন
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
ব্যাখ্যা

কবিতাঃ বনলতা সেন
কবিঃ জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী- ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

৭,২৪৫.
কুসুমকুমারী দাশের গদ্যগ্রন্থের নাম কী?
  1. পৌরাণিক আখ্যায়িকা
  2. নদীর কাহিনি
  3. ছায়াপথের গল্প
  4. পৌরাণিক আখ্যান
ব্যাখ্যা
কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৪৬.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি
তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- 'আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ' 

'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি। 

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৭,২৪৭.
'বাংলাদেশ কথা কয়' সম্পাদনা করেন-
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ কথা কয়' সম্পাদনা করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, শেষ রজনীর চাঁদ, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা ইত্যাদি তাঁর উপন্যাস। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,২৪৮.
'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থটির কবি হলেন -
  1. শামসুর রাহমান
  2. আহসান হাবীব
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' - সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

সৈয়দ আলী আহসান:

-  ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৪৯.
'পথে প্রবাসে' কার রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা — অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৫০.
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল' এর রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আবু ইসহাক
  3. আবদুল মানান সৈয়দ
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'। 

• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।
=============== 
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক ও একজন অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাল’ উপন্যাসের ভূমিকা; বাংলাপিডিয়া।
৭,২৫১.
'রুপজালাল' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
- 'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসার গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনীমূলক রচনা।  

• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৫২.
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. খ) তারাচরণ শিকদার
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
• ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক। গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
• দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২৫৩.
'বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ অপাঠ্য' কে বলেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
• ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। 
• সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
• বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

⇒ মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যের বার বার পুনঃরচনা দেখে মধ্যযুগের উপর ভীষণ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন আধুনিককালের কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
⇒ তিনি বলেছিলেন 'বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ অপাঠ্য'।


তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি: কাব্যগ্রন্থ-
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• গদ্যগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৫৪.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর কোন উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন?
  1. দোজখের ওম
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. খোয়াবনামা
  4. খোঁয়ারি
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) লাভ করেন। 

---------------------
• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'খোয়াবনামা' উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলন, দেশবিভাগ, পলাশীর যুদ্ধ, সিপাহি বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ প্রভৃতি আন্দোলন-সংগ্রাম ঐতিহাসিক ঘটনার সংমিশ্রণ ঘটেছে।

বগুড়ার কাৎলাহার ও এর আশপাশের মানুষের কাহিনি রূপলাভ করেছে খোয়াবনামা উপন্যাসে। কাৎলাহার বিল ও তার পাশের গ্রাম গিরিরডাঙা, নিজগিরির ডাঙ্গা ও গোলাবাড়ি হাট প্রভৃতি স্থানের লোকায়ত চেতন-অবচেতন জগতের সঙ্গে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ঘটনা উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে।

ভারত ভাগ হয়ে গঠিত হয় নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান। পাকিস্তানি শাসকেরা নতুন আইন তৈরি করে। দেশবিভাগের পর ঘটে মানবিক বিপর্যয়। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানসের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, সংগ্রাম, স্বপ্নভঙ্গ, গ্রামীণ ও শহুরে জীবনের রাজনৈতিক প্রতিঘাতও পাকিস্তানের সহযোগীদের চরিত্র উন্মোচনে লেখকের প্রগতিশীল মননের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

তেভাগা প্রসঙ্গের রূপায়ণে ইলা মিত্রের সংগ্রামী জীবনের প্রসঙ্গ গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের কথাবার্তায় উদাহরণ হিসেবে এসেছে। তমিজের বাবা, দাদা-পরদাদা, চেরাগ আলী, বাঘার মাঝি, কুলসুম, শরাফত ম-ল, কেরামত, ফুলজান, বৈকুণ্ঠের কাহিনি; অন্যদিকে দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশত্যাগ, রিফিউজি আগমন, তেভাগা আন্দোলনের বিবরণ, ৫৯টি পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'খোয়াবনামা' উপন্যাস।
৭,২৫৫.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন- “একুশে ফেব্রুয়ারি” (মার্চ, ১৯৫৩) সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। 

- তাঁর সম্পাদনায় বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র” প্রকাশিত (১৯৮২-৮৩) হয়।      
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৭,২৫৬.
‘অনলপ্রবাহ’ রচনা করেন -
  1. মোজাম্মেল হক
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।
-------------------- 
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: 
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য, 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম, 
- নূরুদ্দীন। 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন, 
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা। 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,২৫৭.
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. খ) ক্ষুধা ও আশা
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) ধানকন্যা
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

• তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশকাল - ১৯৬২ সাল।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসী (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৫৮.
'কায়েদে আজম' নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. ঘ) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা

আবুল ফজল: তিনি মূলত সাহিত্যিক৷ তিনি সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
উপন্যাস :
- চৌচির (১৯৩৪),
- প্রদীপ ও পতঙ্গ (১৩৪৭),
- রাঙ্গা প্রভাত (১৩৬৪)।
গল্পগ্রন্থ :
- মাটির পৃথিবী (১৩৪৭),
- মৃতের আত্মহত্যা (১৯৭৮);
নাটক :
- কায়েদে আজম (১৯৪৬),
- প্রগতি (১৯৪৮),
- স্বয়ম্বরা (১৯৬৬);
আত্মকাহিনী ও দিনলিপি :
- রেখাচিত্র (১৯৬৬)।
প্রবন্ধ :
- বিচিত্র কথা (১৩৪৭),
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা (১৯৬১),
- সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন (১৯৬৫),
- সমকালীন চিন্তা (১৯৭০),
- মানবতন্ত্র ((১৩৭৯)
- শুভবুদ্ধি (১৯৭৪),
- শেখ মুজিব তাঁকে যেমন দেখেছি (১৯৭৮),
- রবীন্দ্র প্রসঙ্গ (১৯৭৯)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,২৫৯.
দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ রচনা -
  1. নীলদর্পণ
  2. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  3. লীলাবতী
  4. জামাই বারিক
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র
- নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র  ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৬০.
'পথের ডাক' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'পথের ডাক' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি নাটক। 



-----------------

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৬১.
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।” কোন কবিতার চরণ?
  1. নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় 
  2. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. কবিতা, তোমার দরজায়
  4. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
ব্যাখ্যা

• “যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে”- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার চরণ। 

• 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা: 
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে' ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
-------
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা।

৭,২৬২.
কোনটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. চোখের বালি
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৬৩.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. ক) রূপকথা
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) গ্রাম্যগীতিকা
  4. ঘ) রূপকথা-উপকথা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ সংকলন করেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৬৪.
নিচের কোনটি কারা-সাহিত্য?
  1. আমি সৈনিক
  2. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  3. পলাশী থেকে পাকিস্তান
  4. হ-য-ব-র-ল
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কে কারা- সাহিত্য বলা হয়। 

• কারা- সাহিত্য:
- কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় রচিত সাহিত্য 'কারা- সাহিত্য' হিসেবে স্বীকৃত।
- তবে কারাগার থেকে বাইরে গিয়েও এ ধরনের লেখা হতে পারে।
- রচয়িতার জেলে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- কারাগারের সংকীর্ণ জীবনের বাইরে কল্পনার বিস্তার ঘটাবেন সত্য কিন্তু কারাজীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ থাকবে তার রচনায়।
- অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন কারাসাহিত্য লিখেছেন তেমনি অনেক শিল্পী ও সাহিত্যিক কারা সাহিত্য রচনা করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম জেলে বসে লেখেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী, সত্যেন সেন লেখেন 'অভিশপ্ত নগরী' ও পাপের সন্তান'। 
- মুনীর চৌধুরীর 'কবর' কারা সাহিত্য হিসেবে গণ্য।
- শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বা 'কারাগারের রোজনামচা', মতিয়া চৌধুরীর 'দেয়াল দিয়ে ঘেরা' ইত্যাদিও এ ধারার গ্রন্থ।
-----------------------------
-----------------------------
আরো কিছু বিশেষ তথ্য:

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ, 
- আমি সৈনিক।

অন্যদিকে, 
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ'পলাশী থেকে পাকিস্তান'।
• শিশু-কিশোর গল্প 'হ-য-ব-র-ল' এর রচয়িতা- সুকুমার রায়। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,২৬৫.
নিচের কোনটি কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রবন্ধের সংকলন?
  1. সঞ্চিতা
  2. সঞ্চয়িতা
  3. সঞ্চয়ন 
  4. সঞ্চরণ
ব্যাখ্যা

• 'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধটির রচয়িতা - 'কাজী মোতাহার হোসেন'।

উল্লেখ্য,
- সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলন এবং
- সঞ্চিতা - কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য সংকলনের নাম।

কাজী মোতাহের হোসেন:
- 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য- সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৮৫ সালে।
'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২৬৬.
‘আলোর পরশ' নামক ইতিহাস ভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী আবুল হোসেন
  2. খ) আবুল হাশেম খান
  3. গ) মবিনউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) আকবর হোসেন
ব্যাখ্যা
• আবুল হাশেম খান
- আবুল হাশেম খান (১৯০৯) ‘আলোর পরশ' নামক উপন্যাসের রচয়িতা।
- উপন্যাসটি ইতিহাস ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসে কৃতিত্ব দেখানোর জন্য তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
৭,২৬৭.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আহসান হাবীব
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস - কাবিলের বোন।
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে’ দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়,রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে,যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্হান,নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান,মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান,আন্দালিব -মোমেনা,রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৬৮.
'দুর্দিনের দিনলিপি' কার রচনা?
  1. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  2. আনোয়ার পাশা
  3. আবুল ফজল
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।

• আবুল ফজল:

- ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• তাঁর রচিত দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৬৯.
শহীদুল্লা কায়সারের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. সংশপ্তক
  2. দিগন্তে ফুলের আগুন
  3. সারেং বৌ
  4. কবে পোহাবে বিভাবরী
ব্যাখ্যা

• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 - তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• স্মৃতিকথা: রাজবন্দীর রোজনামচা।
• ভ্রমণবৃত্তান্ত: পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২৭০.
'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্য
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প - সমুদ্রের স্বাদ।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৭১.
'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত কোন ধরণের নাটক?
  1. ধর্মীয়
  2. সামাজিক
  3. পৌরাণিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- 'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সামাজিক নাটক।  
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত 
- নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’ (মরণোত্তর, ১৯৮৩) লাভ করেন। 
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক: 
তরঙ্গভঙ্গ 
সুড়ঙ্গ 
উজানের মৃত 
 
[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৭,২৭২.
নিচের কোনটি শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. মিনু
  3. পাখি
  4. ছবির রং
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি;
- সমাগম;
- রাজা উপাখ্যান;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- পতঙ্গ পিঞ্জর;
- রাজসাক্ষী;
- জলাঙ্গী;
- পুরাতন খঞ্জর;
- বনি আদম;
- জননী;
- চৌরসন্ধি;

অন্যদিকে,
- ’মিনু’ গল্পের লেখক, বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
- ‘পাখি’ গল্পের লেখক, লীলা মজুমদার।
- ’ছবির রং’ গল্পের লেখক, হাসেম খান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণির আনন্দ পাঠ।
৭,২৭৩.
‘প্রথম প্রহর’, ‘বিমর্ষ রাত্রি’, ‘তৃষ্ণা’ , আগুন-পাখি’ গ্রন্থসমূহের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. শামসুদ্দিন আবুল কামাল
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

 তাঁর রচিত গল্প: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

 তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- প্রথম প্রহর,
- বিমর্ষ রাত্রি,
- তৃষ্ণা,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস :
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) প্রথম আলো, ১৬ নভেম্বর ২০২১।
৭,২৭৪.
'আনোয়ারা' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) কাজী এমদাদুল হক
  2. খ) মীর মশাররফ হোসেন
  3. গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত ‘আনোয়ারা’ (১৯১৪) উপন্যাস এক সময় মুসলিম-রচিত প্রথম সার্থক সামাজিক উপন্যাস হিসাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে স্থান লাভ করে।
Source: dailysangram.com
৭,২৭৫.
'বন মানুষ' গল্পের লেখক কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'বন মানুষ' গল্পের লেখক আবু ইসহাক। 

• 'বন মানুষ':

- ভারত বিভাগের আগে ১৯৪৬ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়েছিল।
- এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে 'বনমানুষ' গল্পটি লিখিত। এ গল্পের লেখক বনবিভাগে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন।
- তিনি দ্বিগুণ বেতনে কলকাতায় চাকরি করতে আসেন। কলকাতায় এসে প্রথমে তাঁর নিজেকে সভ্য মানুষ মনে হতে থাকে।
- কিন্তু তিনি তখন সাম্প্রদায়িক হানাহানির মুখোমুখি হতে থাকেন।
- তিনি দেখেন এ শহরের মানুষেরা ধর্মের নামে পরস্পরকে নির্মমভাবে হত্যা করছে।
- বনের পশুপাখিরাও এ রকম পরস্পরকে হত্যা করে না।
- তখন লেখক আবার বনবিভাগের চাকরিতে ফিরেযাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
- লেখকের কাছে এ শহরের সভ্য মানুষের চেয়ে বনে বসবাসকারী অশিক্ষিত মূর্খ মানুষকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়।
- 'বনমানুষ' গল্পটি সংকীর্ণ ধর্ম-পরিচয়মুক্ত মানবিক বোধসম্পন্ন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করে; কারণ ধর্ম নিয়ে মানুষে সংঘাত মানুষ পরিচয়টিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
- কেননা জীব হিসেবে মানুষ অন্য সব প্রাণীর তুলনায় জ্ঞান, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতায় শ্রেষ্ঠ।

• আবু ইসহাক:

- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া ও  বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৭,২৭৬.
আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. পরিত্যক্ত স্বামী
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় -পরিত্যক্ত স্বামী।
- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর রচিত অন্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৭,২৭৭.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত ঐতিহাসিক নাটক কোনটি?
  1. ক) হীরার ফুল 
  2. খ) লক্ষ্মণ বর্জন
  3. গ) রামের বনবাস
  4. ঘ) অশোক
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ, (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
• ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
• ১৮৭২ সালে তিনিই প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।
• গিরিশচন্দ্র প্রায় চল্লিশটি নাটক রচনা করেছেন এবং ততোধিক সংখ্যক নাটক পরিচালনা করেছেন।
• ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• পৌরাণিক নাটক
- রাবণবধ 
- সীতার বনবাস 
- সীতার বিদ্রোহ 
- লক্ষ্মণ বর্জন
- রামের বনবাস
- সীতাহরণ 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস
-পাণ্ডব গৌরব 

রোমান্টিক নাটক
- মুকুলমুঞ্জরা
- আবু হোসেন

• ঐতিহাসিক নাটক
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী 
- অশোক 

• কৌতুক নাটক
- হীরার ফুল 
- সপ্তমীতে বিসর্জন 
- বড়দিনের বখশিশ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,২৭৮.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- সংলাপটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ফাগুনের দিনগুলো
  2. একুশের গল্প
  3. আগুনের পরশমণি
  4. আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
⇒ 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন,
ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন, 
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস: 
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,২৭৯.
'অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা?
  1. ক) মুহম্মদ এনামুল হক
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ড. আহম্মদ শরীফ
ব্যাখ্যা
'অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা- 'সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়'

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৮৯০ সালের ২৬শে অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন বাঙালি ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।  

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স 
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা 
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ 
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচর অফ মর্ডান ইন্ডিয়া 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৮০.
“দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন” উপন্যাস ত্রয় কার রচনা?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. শওকত আলী
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন’:
- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন গ্রন্থ তিনটি শওকত আলীর 'ত্রয়ী উপন্যাস' বলে স্বীকৃত।

- উপন্যাস তিনটিই বিশ শতকের সত্তর দশকের শেষদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিত্রার পর পর কয়েক বছরের (১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮) ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আরো অনেক পরে।

- ঢাকার এশিয়া পাবলিকেশন্স থেকে যে শওকত আলীর উপন্যাস শিরোনামে তিনটি খণ্ড (২০০০, ২০০১, ২০০৭ সালে) প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রচনাকালের দিক বিবেচনায়ও এই তিন উপন্যাস সেখানে স্থান পায়নি। আবার তিনটি উপন্যাসই শুধু দক্ষিণায়নের দিন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার প্রকাশনা সংস্থা বিদ্যাপ্রকাশ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে।

- এই ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে আলাদা করে শুধু পূর্বরাত্রি পূর্বদিন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তধারা (ঢাকা) থেকে ১৯৮৬ সালে। লেখক গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। উৎসর্গপত্রে শওকত আলী লিখেন, 'প্রিয় লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আপনাকে'।

অন্যদিকে,
• ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস।
• ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা ও সংকর সংকীর্তন হলো আবু জাফর শামসুদ্দিন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস

---------------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলীর জন্ম ১৯৩৬ সালে দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

• শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উওরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘দক্ষিণায়নের দিন’ উপন্যাসের ভূমিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৮১.
বাংলা ভাষায় অনূদিত নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. মুখরা রমণী বশীকরণ
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. চিঠি
ব্যাখ্যা
• 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

উল্লেখ্য,
• কবর নাটক:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত ‘Bury The Dead’ নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ‘কবর’ নাটকটি রচিত হয়েছে। সমাধি থেকে মানুষের আত্মার পুনরুত্থান ঘটে ‘Bury The Dead’ নাটকে, মূলত এই ঘটনার অনুকরণ ঘটে ‘কবর’ নাটকে। 
- Bury The Dead নাটকের অনুকরণ ঘটলেও ‘কবর’ অনুবাদ নাটক নয়।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৮২.
'ইঁদুর' গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

 • 'ইঁদুর' ছোটগল্প:
- জীবনের পরতে পরতে যে বাস্তবের অনুশীলন প্রতিনিয়ত আমরা চর্চা করে চলেছি, আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌরে সমাজব্যবস্থার কাছে আনত সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম সেই মানুষের বিরুদ্ধে।
- এরকম পটভূমিকায় সোমেন চন্দের এক অসাধারণ গল্প ইঁদুর।
- বাংলা ছোটগল্পের ধারায় 'ইঁদুর' খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ : জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

সোমেন চন্দ:

- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম। তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,২৮৩.
'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয় কাকে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  3.  ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

- তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই-এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৮৪.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি ছিল-
  1. কবিরত্ন
  2. ছন্দোরাজ
  3. কলমগীর
  4. ত্রিবিক্রম বর্মণ
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' উপাধিতে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৮৫.
টেকচাঁদ- কোন সাহিত্যিক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শামসুর রাহমান
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪) ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। 
শান্তিনিকেতনে অধ্যয়নকালে হস্তলিখিত বিশ্বভারতী পত্রিকায় তাঁর কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়। তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে আনন্দবাজার, দেশ, সত্যযুগ, শনিবারের চিঠি, বসুমতী, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

তাঁর ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- তিনি সত্যপীর,
- রায়পিথোরা,
- ওমর খৈয়াম,
- টেকচাঁদ,
- প্রিয়দর্শী ইত্যাদি ছদ্মনামে।

অন্যদিকে, 
- শামসুর রাহমান মুক্তিযুদ্ধকালে 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন।
-  প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৭,২৮৬.
হুমায়ুন কবির রচিত একমাত্র বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. নদী ও নারী
  2. গণদেবতা
  3. আরোগ্য নিকেতন 
  4. দেয়াল 
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি দার্শনিক, লেখক, কবি, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- হুমায়ুন কবির ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তিনি মারা যান।

- হুমায়ুন কবিরের একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৯৪৫ সালে ইংরেজিতে ‘Men and Rivers’ নামে প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৫২ সালে “নদী ও নারী” নামে বাংলায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার চিত্রণ করা হয়েছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।
--------------------------------- 
অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- গণদেবতা, আরোগ্য নিকেতন। 
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত সর্বশেষ উপন্যাস- দেয়াল। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৭,২৮৭.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যনাট্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি সাহিত্যিক।
- তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
-------------
- 'নিষিদ্ধ লোবান' ও 'নীল দংশন' তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির নাম গেরিলা

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৮৮.
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার” - এই পঙ্‌ক্তি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া?
  1. পূর্বাভাস
  2. ছাড়পত্র
  3. মিঠেকড়া
  4. হরতাল
ব্যাখ্যা

“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার” - এই পঙক্তি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া। 

ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ এর সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর ৩ মাস পরে, ১৯৪৭ সালে।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- বিখ্যাত পঙক্তি: "এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার"। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- জন্ম: ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট, কলকাতা, মাতুলালয়।
- পৈতৃক নিবাস: ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়া।
- কাব্যে উচ্চারিত হয়েছে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা।
- মৃত্যু: মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে, ১৩ মে ১৯৪৭।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,২৮৯.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
  1. যাত্রা
  2. মাধবীলতা
  3. পালামৌ
  4. কণ্ঠমালা
ব্যাখ্যা
⇒ পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

⇒ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৯০.
'বুলবুলিস্তান' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. আসকার ইবনে শাইখ
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,২৯১.
আব্দুল কাদির কী ধরনের কবি হিসেবে পরিচিত? 
  1. ডিফেন্স অফ বেঙ্গল
  2. স্বভাব কবি
  3. ছন্দের জাদুকর
  4. ছান্দসিক কবি
ব্যাখ্যা

• আব্দুল কাদির ছান্দসিক কবি হিসেবে পরিচিত।

• আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির (১৯০৬–১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দবিদ ও সম্পাদক।
- তাঁর উপাধি ছিল ছান্দসিক কবি।
- কুমিল্লার আড়াইসিধা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সাহিত্যিক ১৯২৬ সালে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন–এর অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র ‘শিখা’ (১৯২৭) বার্ষিকীর প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
 - দিলরুবা;
- উত্তর বসন্ত;
- কবি নজরুল;
- ছন্দসমীক্ষণ;
- কাজী আবদুল ওদুদ;
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত এবং 
- যুগকবি নজরুল।

উল্লেখ্য,
• গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিলেন একজন বাঙালি স্বভাবধর্মী কবি।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক কবিদের একজন হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর জন্ম ও বাসস্থান ছিল ময়মনসিংহে।

• পাদ্রি লং - প্যারিচাঁদ মিত্রকে “ডিফেন্স অফ বেঙ্গল” উপাধি দেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল টেকচাঁদ ঠাকুর।
-বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮) তাঁরই সৃষ্টি, যা বাংলা উপন্যাস ধারার পথিকৃৎ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

• বাংলা সাহিত্যে “ছন্দের জাদুকর” হিসেবে পরিচিত কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে এই উপাধি দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- 'ছন্দের জাদুকর' নামে পরিচিত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত-এর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো 'কাব্য-সঞ্চয়ন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৭,২৯২.
'কেউ কিছু বলতে পারে না' কোন নাটকের বাংলা অনুবাদ?
  1. The Importance of Being Earnest 
  2. You Never Can Tell
  3. The Admirable Crichton
  4. What Every Woman Knows
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- কবর  (পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন),
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য, 
- মানুষ (১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- নষ্ট ছেলে (রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাট),
- দণ্ডকারণ্য  (তিনটি নাটকের সমন্বয়। এতে দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য),
- রাজার জন্মদিন। 
 
অনুবাদ নাটক: 
- কেউ কিছু বলতে পারে না (জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ),
- রূপার কৌটা (জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ),
- মুখরা রমণী বশীকরণ  (উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ)। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২৯৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'খোয়াবনামা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
  3. ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)
উপন্যাসটির বিসষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্য সহ
- ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিখুঁতভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
- এই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৯৪.
কবি আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৯৫.
বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার -
  1. মামুনুর রশীদ
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আব্দুল মান্নান সৈয়দ:
- কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ- গবেষণা, জীবনী, নাটক/কাব্যনাটক, স্মৃতিকথা, অনুবাদ-কবিতা, সম্পাদনা- সব ধরনের গ্রন্থ রচনাতেই তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- তিনি একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ছিলেন।

আবুল হোসেন:
- তিনি চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৯৬.
'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' গানের সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন:
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৯৭.
স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. হরগজ
  3. হাতহদাই
  4. ধাবমান
ব্যাখ্যা
• স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

------------------------
• সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৯৮.
"আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।" - লাইনটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো 
  2. ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  3. আসাদের শার্ট
  4. স্বাধীনতা তুমি
ব্যাখ্যা

• আসাদের শার্ট:
- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’।
- ১৯৬৯ সালের ২০জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শাট’র্ কবিতাটি।
- তাঁর লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

তাতে কবি লিখেছিলেন -
''আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’'

-------------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২৯৯.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩০০.
গোয়েন্দা কাহিনি অবলম্বনে আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস-
  1. চৌচির
  2. জাল
  3. জয়ধ্বনি
  4. মুক্তি
ব্যাখ্যা
• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- এটি একটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস, গতানুগতিক ডিটেকটিভ উপন্যাস নয়। তা' ছাড়া এর ভেতরে আছে অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে আবু ইসহাকের উদ্ভাবিত কিছু মৌলিক পদ্ধতি।
- উপন্যাসটি ১৯৮৮ সালে 'আনন্দপত্র ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জিনার পর এটি গ্রন্থকারে প্রকাশিত হলো নসাস ঢাকা থেকে।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক ও একজন অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

অন্যদিকে,
•'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল।
• 'মুক্তি' উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাল’ উপন্যাসের ভূমিকা; বাংলাপিডিয়া।