বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৭১ / ৭৭ · ৭,০০১৭,১০০ / ৭,৬৪৬

৭,০০১.
নিচের কোনটি বন্দে আলি মিয়া কর্তৃক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. কুঁচবরন কন্যা
  2. কামাল আতাতুর্ক
  3. মেঘকুমারী
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই, 
- মৃগপরী, 
- মেঘকুমারী, 
- ডাইনী বউ,
- কামাল আতাতুর্ক,
- রূপকথা,
-  ছোটদের নজরুল, 
-কুচঁবরণ কন্যা।
--------------------- 
• বন্দে আলী মিয়া: 
- ১৯০৬ সালে পাবনা জেলার রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।

 শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য যে সকল পুরস্কার লাভ করেন : 
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২),
- প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং 
- উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম :
- কিশোর পরাগ,
- জ্ঞানের আলো,
- শিশুবার্ষিকী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০০২.
'বিরহ বিলাপ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
অতি অল্প বয়স থেকেই কায়কোবাদের সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- কুসুম কানন, অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয় ধারা, শ্মশানভষ্ম, প্রেম পারিজাত, মন্দাকিনী ধারা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,০০৩.
নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নয়?
  1. ক) খেলারাম খেলে যা
  2. খ) এক মহিলার ছবি
  3. গ) নীল দংশন
  4. ঘ) এখানে এখন
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
তিনি মাত্র ২৯ বছর বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- নিষিদ্ধ লোবান ও নীল দংশন।
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- সীমানা ছাড়িয়ে, এক মহিলার ছবি, অনুমপ দিন, ত্রাহী, 'দেয়ালের দেশ', 'খেলারাম খেলে যা', তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য- গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,০০৪.
’নিগ্রো সাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. সেলিম আল দীন
  3. আহমদ শরীফ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

-  'নিগ্রো সাহিত্য' সেলিম আল দীন রচিত বাংলা প্রবন্ধ।
-  আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে এটি তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' 
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

• সেলিম আল দীন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০০৫.
'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যগ্রন্থের কবি -
  1. আল মাহমুদ
  2. রফিক আজাদ
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথক পালঙ্ক’ আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
-------------------------
◉ আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম ⎯ আবুল হোসেন মিয়া। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য ⎯ 'ওরা কয়েকজন'।

• তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন ⎯ আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০০৬.
'ময়নামতির চর' — কবিতাটির লেখক কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

• 'ময়নামতির চর'- কবি বন্দে আলী মিয়া রচিত কবিতা।

• ‘ময়নামতীর চর’ কবিতার মূলভাব:
নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোতে ভাঙা–গড়ার কারণে অনেক চর সৃষ্টি হয়। ‘ময়নামতীর চর’ তেমনি একটি চরের নাম। এই চরে যারা বাস করে তারা অনেক সংগ্রাম করে টিকে থাকে। চরের সেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিদিনকার জীবনচিত্র আর চরের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় ফুটে উঠেছে।

--------------------
ময়নামতির চর - কবিতা,

– বন্দে আলী মিয়া।

এ-পারের এই বুনো ঝাউ আর ও পারের বুড়ো বট
মাঝখানে তার আগাছায় ভরা শুকনো গাঙের তট ;
এরি উঁচু পারে নিত্য বিহানে লাঙল দিয়েছে চাষী,
কুমীরেরা সেথা পোহাইছে রোদ শুয়ে শুয়ে পাশাপাশি |

------------------ 
বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর, 
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, প্রথম আলো- পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলাপিডিয়া।

৭,০০৭.
‘চাচা-কাহিনী ও টুনি মেম’ গল্পগ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০০৮.
'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন -
  1. আবুল হুসেন
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. আবুল মনসুর
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০০৯.
'নামহীন গোত্রহীন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থঃ
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,০১০.
আবুল মনসুর আহমদ জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৮ সালে আবুল মনসুর আহমদ ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচির ২১ দফা প্রণয়নের অন্যতম একজন নেতা ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০১১.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী' কখন প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫২ সালে 
  2. ১৯৫৩ সালে 
  3. ১৯৫৪ সালে 
  4. ১৯৫৫ সালে 
ব্যাখ্যা

১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন গ্রন্থ- 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।
------------------------------
হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান একজন বাংলা সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন কমিউনিস্ট ছিলেন। 
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ।
- ১৯৫৩ সালে ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে তিনি ১৬ খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশ করেন।
- এই দলিলপত্রটি তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল মস্কোর সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল হাসপাতালে জীবনাবসান ঘটান।

- তাঁর মৌলিক গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• বিমুখ প্রান্তর;
• আধুনিক কবি ও কবিতা;
• সীমান্ত শিবিরে;
• আর্ত শব্দাবলী;
• আরো দুটি মৃত্যু;
• মূল্যবোধের জন্যে;
• যখন উদ্যত সঙ্গীন;
• সাহিত্য প্রসঙ্গ; 
• দক্ষিণের জানালা;
• প্রতিবিম্ব; 
• শোকার্ত তরবারী; 
• আমার ভেতরের বাঘ।

• তাঁর বাংলায় অনুবাদকৃত গ্রন্থ- হোমারের ওডিসি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৭,০১২.
নদীর পারের চর ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. কালিন্দী
  4. অরণ্য বহ্নি
ব্যাখ্যা
• 'কালিন্দী' উপন্যাস: 
- রচয়িতা: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- প্রথম প্রকাশ – ১৯৪০।

• উপন্যাসের প্রথম পর্ব- 
- নদীর ও-পারে একটা চর দেখা দিয়াছে।
- রায়হাট গ্রামের প্রান্তেই ব্রাহ্মণী নদী–ব্রাহ্মণীর স্থানীয় নাম কালিন্দী, লোকে বলে কালী নদী; এই কালী নদীর ও-পারের চর জাগিয়াছে। এখন যেখানে চর উঠিয়াছে, পূর্বে ওইখানেই ছিল কালী নদীর গর্ভভূমি। এখন কালী রায়হাটের একাংশ গ্রাস করিয়া গ্রামের কোলে কোলে বহিয়া চলিয়াছে। গ্রামের লোককে এখন বিশ হাত উঁচু ভাঙন ভাঙ্গিয়া নদীগর্ভে নামিতে হয়।

অন্যদিকে, 
• ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
• আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন 'অরণ্য বহ্নি' উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, 'কালিন্দী' উপন্যাস।
৭,০১৩.
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ভূমিপুত্র
  2. মাটির জাহাজ
  3. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০১৪.
কোনটি শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) জলাঙ্গী
  3. গ) দুই সৈনিক
  4. ঘ) যাত্রা
ব্যাখ্যা

- 'যাত্রা' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।
- অপরদিকে, শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
- 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,০১৫.
ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে রচিত উপন্যাস-
  1. হাসলী বাঁকের উপকথা
  2. পুতুল নাচের ইতিকথা
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ইতিকথার পরের কথা
ব্যাখ্যা

- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
- এটিতে মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,০১৬.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আহসান হাবীব
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ'। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থের গদ্যভাষ্যে লেখক বলেছেন- 'দারিদ্র্য, দুর্ভাবনা, উৎসাহ, পুরস্কার, ভালোবাসা আর স্বপ্ন এইসব নিয়ে আমার যে পিরোজপুর তাকে ছেড়ে এসেছি প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে। বেরিয়ে এসে সেই যে পা রাখলাম মহানগরী কোলকাতায় তারই নাম জীবনসংগ্রাম।' এই সংগ্রাম তাঁর এবং তাঁর কালের, তাঁর সমাজের।

-------------
আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'রাত্রিশেষ' কাব্যগ্রন্থ।
৭,০১৭.
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাতনরী হার,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০১৮.
'বত্রিশ সিংহাসন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) রাজীব লোচন মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন উইলিয়াম কেরীর অধীনস্থ বাংলা বিভাগের প্রধান-পন্ডিত।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হলো: 
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), 
- হিতোপদেশ (১৮০৮), 
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং 
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)। 
- বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭,০১৯.
‘নিমগাছ’ গল্পটি কার লেখা?
  1. ক) বনফুল
  2. খ) কালকূট
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বনফুল নামে লিখতেন। ‘নিমগাছ’ গল্পটি প্রতীকী গল্প।
- একজন গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউয়ের সঙ্গে নিমগাছের তুলনা করা হয়েছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,০২০.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কে ?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

- ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]

৭,০২১.
মুনীর চৌধুরীর জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. মুন্সিগঞ্জ
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. মানিকগঞ্জ
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ‘মুনীর অপটিমা’ তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০২২.
গিরিশচন্দ্র সেন কিসের অনুবাদের জন্য খ্যাত?
  1. ক) কুরান শরিফ
  2. খ) ইঞ্জিল
  3. গ) রামায়ণ
  4. ঘ) ভগবদ গীতা
ব্যাখ্যা

গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৯১০) : ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ তিনিই প্রথম করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৭,০২৩.
কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. মাটির দেয়াল
  2. একমুঠো
  3. পূর্বাভাস
  4. খসড়া
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

অন্যদিকে,
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০২৪.
পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. জ্ঞাসদাস
ব্যাখ্যা

পূর্বরাগ:
রূপ গোস্বামী ''উজ্জ্বলনীলমণি'' গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞার্থে বলেছেন -
- মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে পূর্বরাগ।
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চন্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় কাব্যরূপ।

আবার,
- প্রেমিক বা প্রেমিকা যখন গোপনে কোনো একটা নির্দিষ্ট স্থানে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য যাত্রা করে তাকে অভিসার বলে।
- প্রাচীন কাব্যে কবিতার শেষে কবিরা নিজেদের নাম - পরিচয় দিতেন যাকে ভণিতা বলা হয়।
- প্রেমাবিষ্ট হৃদয়ের একটি বিশিষ্ট ভাবকে প্রেমবৈচিত্ত্য বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,০২৫.
‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. হুমায়ূন আজাদ
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
• 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা - এস ওয়াজেদ আলি।
- ভবিষ্যতের বাঙালী তার বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু- মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে।

এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম- গল্পগ্রন্থ 'গুলদাস্তা'
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

তাঁর রচিত গল্প:
- গুলদাস্তা,
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প,
- গল্পের মজলিশ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০২৬.
নিচের কোনটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্পগ্রন্থ?
  1. মৃত্তিকা
  2. প্রথমা
  3. কুয়াশা
  4. প্রতিশোধ
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি একাধারে  কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উপন্যাস: 

- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
 - প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে, 
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

অন্যদিকে:
• ‘প্রথমা’ হচ্ছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য।
• ‘কুয়াশা’ হচ্ছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের উপন্যাস।
• ‘প্রতিশোধ’ হচ্ছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের উপন্যাস।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০২৭.
সুফিয়া কামাল তার কোন সংকলনটি বেগম রোকেয়াকে উৎসর্গ করেন?
  1. ক) অভিযাত্রিক
  2. খ) মৃত্তিকার ঘ্রাণ
  3. গ) সাঁঝের মায়া
  4. ঘ) মোর জাদুদের সমাধি পরে
ব্যাখ্যা

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- শান্তি ও প্রার্থনা,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ,
- মোর জাদুদের সমাধি পরে।

গল্পঃ
- কেয়ার কাঁটা।

আত্মজীবনীঃ
- একালে আমাদের কাল।

স্মৃতিকথা/ ডায়েরীঃ
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,০২৮.
'উজানে মৃত্যু' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'উজানে মৃত্যু' নাটকের রচয়িতা- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক- বহিপীর, সুরঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,০২৯.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. দাউদ হায়দার
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তরুণ হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৯২৬ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৮ সালে 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন' নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

- 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।

- ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ সাধনের কাজেও ডিরোজিও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং 'দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' নামে একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৩০.
'আবদুল্লাহ্' উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবদুল করিম 
  3. নজিবর রহমান
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ্:
- কাজী ইমদাদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস 'আবদুল্লাহ্' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে মোসলেম ভারত পত্রিকায়৷
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷

কাজী ইমদাদুল হক
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৩১.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. সঙ্গীত শতক
  2. নিসর্গ সন্দর্শন
  3. সাধের আসন
  4. বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
⇒ “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।’

⇒ বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক, 
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩২.
আনিসুজ্জামান রচিত 'স্বরূপের সন্ধানে' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• আনিসুজ্জামান রচিত 'স্বরূপের সন্ধানে' আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।

আনিসুজ্জামান:

- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৩৩.
'আলোক সারথী' নামকরণ করা হয়েছিল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. অপরাজিত
  2. অশনি সংকেত
  3. দৃষ্টি প্রদীপ
  4. আরণ্যক
ব্যাখ্যা
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'। 

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
• ‘অপরাজিতা’ নামক কাব্যের রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অপরাজিত' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩৪.
নিচের কোনটি রূপকথাভিত্তিক সাহিত্য রচনা?
  1. ইতল বিতল
  2. কৃষ্ণপক্ষ
  3. এক পয়সার বাঁশি
  4. টুনটুনির বই
ব্যাখ্যা
• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত রুপকথাভিত্তিক গ্রন্থ — “টুনটুনির বই”।

অন্যদিকে,
• ‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থ: সুফিয়া কামালের একগুচ্ছ ছড়া নিয়ে 'ইতল বিতল' প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ: এক পয়সার বাঁশি।
• 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।

----------------------
• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫)  প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
-  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

• উপেন্দ্রকিশোর শিশুকিশোরদের জন্য বহুসংখ্যক সাহিত্য পুস্তক রচনা করেছেন, এর মধ্যে উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩৫.
টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে সেলিম আল দীন কোন নাটক লিখেন?
  1. হাতহদাই
  2. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  3. কিত্তন খোলা
  4. হরগজ
ব্যাখ্যা
'হরগজ' নাটক:
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ সালে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে সেলিম আল দীন এ নাটক লিখেন।
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩৬.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করা হয় কোন রচনায়?
  1. ক) The Zamindar and Royats
  2. খ) The Indigo Planting Mirror
  3. গ) Tree Without Roots
  4. ঘ) Cry River Cry
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র তাঁর The Zamindar and Royats নামক প্রবন্ধে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করেছেন। 

প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)
- টেকচাঁদ ঠাকুর প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩৭.
নির্মলেন্দু গুণ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) সিরাজগঞ্জ
  2. খ) নেত্রকোণা
  3. গ) মানিকগঞ্জ
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। তাঁর ডাক নাম 'রতন' এবং প্রিয়জনেরা তাকে 'রতু' বলে ডাকেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই, 
- না প্রেমিক না বিপ্লবী, 
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, 
- ও বন্ধু আমার, 
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, 
- চাষাভূষার কাব্য, 
- পৃথিবীজোড়া গান, 
- দূর হ দুঃশাসন।
- দুঃখ করো না, বাঁচো,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- মুজিব- লেনিন -ইন্দিরা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।

• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৭,০৩৮.
'শেখ মুজিব : তাকে যেমন দেখেছি' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মযহারুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম সদস্য আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ হলো 'শেখ মুজিব : তাকে যেমন দেখেছি'। এটি ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। তার অন্যান্য প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে, বিচিত্র কথা, সমকালিন চিন্তা, শুভবুদ্ধি ইত্যাদি। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৭,০৩৯.
শহীদ কাদরীর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ময়নামতি চর
  2. তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  3. সোনালী কাবিন
  4. ধূসর পাণ্ডু লিপি
ব্যাখ্যা
'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' শহীদ কাদরী রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থে 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' একটি নাম কবিতাসহ মোট ৩১টি কাবিতা রয়েছে।

অন্যদিকে,
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ - ধূসর পাণ্ডু লিপি।
'সোনালী কাবিন' রচিত কাব্যগ্রন্থ আল মাহমুদ।
”ময়নামতি চর” কাব্যটির রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।

শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৪০.
'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শহীদ কাদরী
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শামসুল হক
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- উত্তরাধিকার (প্রথম), তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৪১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা কোনটি?
  1. ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. খ) শকুন্তলা
  3. গ) সীতার বনবাস
  4. ঘ) রত্নপরীক্ষা
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর,একজন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। 
 ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ  এবং এর প্রকাশকাল- ১৮৯২ সাল।
তার অন্যান্য মৌলিক রচনা-
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
 -ব্রজবিলাস,
- রত্নপরীক্ষা ইত্যাদি।

অনুবাদমূলক গ্রন্থ-
- বেতাল পঞ্চবিংশতি,
- ভ্রান্তিবিলাস,
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৭,০৪২.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হকের কী ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যনাট্য
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক |
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

তাঁর রচিত কবিতা: 
একদা এক রাজ্যে 
- বৈশাখের রচিত পংক্তিমালা 
- পরানের গহীন ভিতর 
- বেজান শহরের জন্য কোরাস 
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে 
- আমি জন্ম গ্রহণ করিনি 

কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন 

প্রবন্ধ:
- হৃৎকমলের টানে 

গল্প: 
তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান 
- জলেশ্বরী গল্পগুলো

উপন্যাস : 
- এক মহিলার ছবি 
- অনুপম দিন 
- সীমানা ছাড়িয়ে 
- খেলারাম খেলে যা 
- নীল দংশন 
- স্তব্ধতার অনুবাদ 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ  
- তুমি সেই তরবারী 
- অন্য এক আলিখান 
- এক মুঠো জন্মভূমি 
- আলোর জন্য 
- রাজার সুন্দরী 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ]
৭,০৪৩.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ‘মানচিত্র’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম।  

⇒ উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:  
• তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়), 
• কর্ণফুলী (আদিবাসীদের নিয়ে), 
• শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন, 
• ক্ষুধা ও আশা। 

⇒ উল্লেখযোগ্য নাটক: 
• নরকে লাল গোলাপ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),  
• মরক্কোর যাদুকর, 
• ধন্যবাদ, 
• মায়াবী প্রহর, 
• নিঃশব্দ যাত্রা। 

⇒ কাব্যগ্রন্থ: 
• মানচিত্র (স্মৃতিস্তম্ভ কবিতা),
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ‘মানচিত্র’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ।
  
• ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।   

⇒ গল্পগন্থ:
• জেগে আছি,
• ধানকন্যা,
• জীবন জমিন।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৪৪.
'আলবেরুনী' কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন:
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সত্যেন সেন রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৪৫.
'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
  2. মুক্তিযুদ্ধের
  3. তেতাল্লিশের মন্বন্তরের
  4. ভাষা আন্দলনের
ব্যাখ্যা
• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল:
- 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

এই গল্পগ্রন্থে ৫টি গল্প সংকলিত হয়েছে। এগুলো হলো:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

---------------------
• তাঁর রচিত গল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
৭,০৪৬.
মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর রচনা কোনটি?
  1. নূরলদীনের সারা জীবন
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বুকের ভিতর আগুন
  4. নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমাম রচিত "বুকের ভিতর আগুন" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
উপন্যাসটি ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• জাহানারা ইমাম:
- মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী নামে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণময় ও মর্মস্পর্শী ঘটনা বর্ণনা করে।
- মৃত্যু: ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন, আমেরিকার মিশিগান স্টেট, ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস। 

অন্যদিকে,
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন। রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'নন্দিত নরকে' হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৪৭.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস 
  3. শহীদ কাদরী 
  4. শামসুজ্জামান খান 
ব্যাখ্যা

'রাজবন্দীর রোজনামচা’ গ্রন্থটির রচয়িতা- শহীদুল্লা কায়সার। 
--------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সারেং বৌ’,
- ‘সংশপ্তক’,
- ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’,
- ‘তিমির বলয়’,
- ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’,
- ‘সমুদ্র ও তৃষ্ণা’,
- ‘চন্দ্রভানের কন্যা’,
- ‘কবে পোহাবে বিভাবরী’ (এবং অসমাপ্ত রচনা)।

• তাঁর বিখ্যাত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ- ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। 
-------------------------------- 
• ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ নিয়ে কিছু কথা:
- 'রাজবন্দীর রোজনামচা’ শহীদুল্লা কায়সার রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। 
- এতে লেখক তাঁর রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন।
- জেলজীবনের দৈনন্দিন বাস্তবতা, মানসিক টানাপোড়েন এবং একজন রাজনৈতিক বন্দির অন্তর্গত উপলব্ধি এই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু।
- বইটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে স্মৃতিকথা হিসেবে লেখা হলেও তা সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। 

৭,০৪৮.
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতাটির কবি কে?
  1. মাহবুব আলম চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. আবুজাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি':
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।
----------------------------
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,০৪৯.
হাসান আজিজুল হক সম্পাদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আগুনপাখি
  2. খ) নামহীন গ্রোত্রহীন
  3. গ) আমাদের শাদা বাড়ি
  4. ঘ) অসীমান্তিক
ব্যাখ্যা
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত, অসীমান্তিক গ্রন্থটির সম্পাদক হাসান আজিজুল হক।
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপূর্ব ভারতের মোট একষট্টি গল্পের সমাহার বইটিতে।
এই গ্রন্থে প্রকাশিত বইটি থেকে উঠে আসে তিনটি অঞ্চলের জীবনের পরিপূর্ণ দিক,যা পাঠকের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের উৎস। এই অর্থে বইটি অত্যন্ত মূল্যবান। 'আসীমান্তিক' গ্রন্থে ওই তিন অঞ্চলের গল্পের সমকালীন ধারাও স্পষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৫০.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বাংলা উচ্চারণ অভিধান’ কে সম্পাদনা করেন?
  1. সুধীরচন্দ্র সরকার
  2. পবিত্র সরকার
  3. নরেন বিশ্বাস
  4. জামিল চৌধরী
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৫ সালে ঢাকায় বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে অভিধান চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠান একভাষিক, দ্বিভাষিক, বহুভাষিক, বিষয়ভিত্তিক এবং পারিভাষিক নানা ধরনের অভিধান ও শব্দকোষ প্রণয়ন ও প্রকাশ করে আসছে।
- অভিধান ও শব্দকোষ মিলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাংলা একাডেমী প্রায় সত্তরটি অভিধান প্রকাশ করে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাকৃতি পরিভাষাকোষ যেমন রয়েছে, তেমনি বহুখন্ডে প্রকাশিত অভিধানও রয়েছে।

এসব অভিধানের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিধানের নাম:
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান (মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ১৯৬৫),
- চরিতাভিধান (শামসুজ্জামান খান প্রমুখ, ১৯৮৫),
- উচ্চারণ অভিধান (নরেন বিশ্বাস, ১৯৮৯),
- সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান (আহমদ শরীফ, ১৯৯২),
- সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, দু-খন্ড (আবু ইসহাক, ১৯৯৩ ও ১৯৯৮),
- বানান অভিধান (জামিল চৌধুরী, ১৯৯৪),
- লেখক অভিধান (আশফাক-উল-আলম প্রমুখ, ১৯৯৮),
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান (মোহাম্মদ আবদুল কাইউম, ২০০৮) প্রভৃতি।

নরেন বিশ্বাস লেখক, শিক্ষক ও আবৃত্তিকার। তিনি বাংলা উচ্চারণ নিয়ে অনেক কাজ করেছন।
তাঁর গ্রন্থগুলো হলো :
- অলঙ্কার অন্বেষা
- কাব্যতত্ত্ব অন্বেষা
- প্রসঙ্গ : বাঙলা ভাষা
- ভারতীয় কাব্যতত্ত্ব

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।

৭,০৫১.
কোনটি উপন্যাস?
  1. নেমেসিস
  2. সোনার তরী
  3. গড্ডলিকা
  4. কন্যাকুমারী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো ঘ) কন্যাকুমারী। এটি রাশিদা আখতার রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস। এক সংগ্রামী দম্পতির সংগ্রামের কাহিনী এই উপন্যাসে বিধৃত হয়েছে৷ 

অন্যদিকে,
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- ‘গড্ডলিকা’ রাজশেখর বসুর গল্পগ্রন্থ এবং
- ‘নেমেসিস’ নুরুল মোমেনের বিখ্যাত নাটক।

উৎস: 'কন্যাকুমারী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭,০৫২.
সম্ভাবশতক কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ১৮৩৪ সালে বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে। মৃত্যুবরণ করেন ১৯০৭ সালের ১৭ই জানুয়ারি খুলনাতে।উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৫৩.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- গ্রন্থটির লেখক - কালীপ্রসন্ন সিংহ। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৫৪.
'সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আহমদ ছফা
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর রচয়িতা - আবু ইসহাক

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' (২ খণ্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৫৫.
'চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত 'তোতা ইতিহাস' (১৮০৫) কোন ভাষা থেকে অনূদিত?
  1. ফরাসি
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭,০৫৬.
‘ক্রীতদাসের হাসি’ শওকত উসমান রচিত একটি-
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
তৎকালীন পাকিস্থানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসন ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে এ উপন্যাস রচিত হয়। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’র তাতারী চরত্রটি। ১৯৬২ সালে তিনি এ উপন্যাসটি রচনা করেন।
৭,০৫৭.
‘নূরজাহান’ উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) ইমদাদুল হক মিলন
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘নূরজাহান' 
- বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন -এর সুদীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান' যে-গ্রামবাংলার বাস্তব চিত্র ধারণ করে আছে, সেই গ্রাম নির্মীয়মাণ এক পাকা সড়কের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে প্রতিদিন।
-নুরজাহানের বড় হয়ে-ওঠা, বিয়ে, দুর্ভাগ্য, ভণ্ড ফতোয়াবাজের হাতে অপমানিত হওয়া এবং শেষমেশ আত্মহত্যার করুণ কাহিনির পাশে লেখক এক গ্রামীণ জনপদের মানুষের নিখুঁত জীবনচিত্র এঁকেছেন। 
------------------------------

• ইমদাদুল হক মিলন
- ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জন্ম।
- লেখনীশক্তির পাশাপাশি তার রয়েছে নাট্যরচনায় পারদর্শিতা।
- বর্তমানে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদপত্র 'কালের কন্ঠ-এর সম্পাদক পদেও নিয়োজিত রয়েছেন তিনি।
- শিশুতোষ গল্প দিয়ে সাহিত্য অঙ্গনে এ গুণী লেখকের প্রবেশ, যা প্রকাশিত হয়েছিলো কিশোর বাংলা' নামক এক পত্রিকায়।
- তবে পাঠকের নজরে পড়েছিলেন 'সজনী' নামের ছোট গল্প লিখে।
- খুব অল্প বয়সে তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
 - দুই বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী তার বহুল পঠিত উপন্যাস হলো 'নূরজাহান'।
- এছাড়াও ইমদাদুল হক মিলন এর উপন্যাস সমগ্র বিভিন্ন পাঠকপ্রিয় উপন্যাসে ঠাসা।

- তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো-  জিন্দাবাহার', 'নিঝুম নিশিরাতে', 'যাবজ্জীবন', ‘কালাকাল', 'কালো ঘোড়া', 'ভূমিপুত্র', 'পরাধীনতা', 'কে', 'তাহারা', 'ভূতের নাম রমাকান্ত কামার' ইত্যাদি।
- দেশি- বিদেশি নানা সম্মানজনক পুরস্কারের পাশাপাশি ২০১৯ সালে তিনি একুশে পদক পান।

সূত্র: নূরজাহান - ইমদাদুল হক মিলন।
৭,০৫৮.
‘ওয়ারিশ’ উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শওকত আলী
  3. রফিক আজাদ
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- ওয়ারিশ,
- উত্তরের খেপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৫৯.
'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' অতুলপ্রসাদ সেন রচিত বিখ্যাত গান।

• অতুলপ্রসাদ সেন:

- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৬০.
কোনটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ?
  1. নাম না জানা ভোর
  2. নীল যমুনা
  3. বাংলাদেশ কথা কয়
  4. ডানপিটে শওকত
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী প্রথম উপন্যাস - চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:

- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৬১.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের  'দুর্মর' কবিতাটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের 
  2. ভাষা আন্দোলনের
  3. তেভাগা আন্দোলনের
  4. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের 
ব্যাখ্যা

• 'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা। 'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা 'দুর্মর' তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিকায় লেখা।

--------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি। তাঁকে কিশোরকবি বলা হয়।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- মিঠেকড়া,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৭,০৬২.
শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিষিদ্ধ হয়?
  1. ক) পথের দাবী
  2. খ) দেনা পাওনা
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) দত্তা
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করে লেখা শরৎচন্দ্রের “পথের দাবী” উপন্যাসটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিষিদ্ধ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,০৬৩.
'পদ্মা নদীর চর' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যঃ
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মা নদীর চর,
- মধুমতির চর,
- ধরিত্রী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭,০৬৪.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. দুই সৈনিক
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 
- নাটকটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো:
- নেকড়ে অরণ্য,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাঙ্গী,
- দুই সৈনিক।

--------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৬৫.
তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? 
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. গণদেবতা
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. চৈতালি ঘূর্ণি
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদিৎ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০৬৬.
‘সাত নরী হার’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আল মাহমুদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাত নরী হার' (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,০৬৭.
‘চোর জামাই’ শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
⇒ বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা,
- ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৬৮.
নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকর্মের নাম কী?
  1. ক) পদ্মরাগ
  2. খ) কেয়ার কাঁটা
  3. গ) উৎস থেকে নিরন্তর
  4. ঘ) রূপজালাল
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকীর্তি হলো ''রূপজালাল'' নামক গ্রন্থ।
- এটি গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
তিনি দানশীল ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার এজন্য তাকে নওয়াব উপাধি প্রদান করে।
বাংলাদেশে তিনি একমাত্র মহিলা যিনি এই উপাধি পান।

'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া রচিত উপন্যাস। 
‘কেয়ার কাঁটা’ সুফিয়া কামাল রচিত গল্পগ্রন্থ।
'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেন রচিত একটি গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৬৯.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) ইব্রাহিম খাঁ
  3. গ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
কাফেলা, কামাল পাশা, আনোয়ার পাশা, ঋণ পরিশোধ, ভিস্তি বাদশা ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা ইব্রাহিম খাঁ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,০৭০.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি কার লেখা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মুনীর চৌধুরী 
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরীর রচিত নাটক হচ্ছে ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’। 

রক্তাক্ত প্রান্তর:
- মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি মহাকবি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ গ্রন্থের কাহিনী থেকে নেওয়া।
- এটি মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- নাটকটির কাহিনী তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধে (১৭৬১) ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত এবং এতে তিনটি অঙ্ক রয়েছে।
- ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ একটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক, সরাসরি ঐতিহাসিক নয়।
- প্রধান চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা প্রমুখ।

মুনীর চৌধুরী
- জন্ম: ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর, মানিকগঞ্জ শহর।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে তিনি বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর, তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

রচিত নাটকসমূহ:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক,
- অন্যান্য। 

রচিত অনুবাদ নাটকসমূহ:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ। 

রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,০৭১.
'সংবাদ সাধুরঞ্জন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ছদ্মনাম। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,০৭২.
গবেষণামূলক গ্রন্থ 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' এর রচয়িতা কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়'।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য,
- বৃহৎবঙ্গ,
- বঙ্গসাহিত্য পরিচয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,০৭৩.
শওকত ওসমান রচিত 'জাহান্নম হইতে বিদায়' একটি-
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  4. সামাজিক নাটক
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান রচিত 'জাহান্নম হইতে বিদায়' একটি- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' (১৯৭১) শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কলকাতায় বসে লেখা হয় এবং আনন্দ পাবলিশার্স তা প্রকাশ করে।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:

 উপন্যাস: 
- ক্রীতদাসের হাসি 
- সমাগম 
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান 
- দুই সৈনিক 
-  নেকড়ে অরণ্য 
- পতঙ্গ পিঞ্জর 
- রাজসাক্ষী 
- জলাংগী 
-পুরাতন খঞ্জর 

 গল্প: 
- পিঁজরাপোল 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প 
- প্রস্তর ফলক 
- উভশৃঙ্গ 
- শ্রেষ্ঠ গল্প 
- জন্ম যদি তব বঙ্গে 
-  ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী 

নাটক:
- আমলার মামলা 
- তস্কর ও লস্কর 
- বাগদাদের কবি 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা 

শিশুতোষ: 
- ওটেন সাহেবের বাংলো
- তারা দুই জন 
- ক্ষুদে সোশালিস্ট 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৭৪.
'স্বভাব কবি' বলা হয় কাকে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
'গোবিন্দচন্দ্র দাস':
- গোবিন্দচন্দ্র দাসকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়
- তিনি ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
গোবিন্দ চন্দ্র দাস ১৯১৮ সালে ১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রসুন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুকুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
 - কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৭৫.
‘হায়রে মানুষ রঙীন ফানুস’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস' গানটি ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত 'বড় ভালো লোক ছিল' চলচ্চিত্রে গাওয়া হয়।
- গানটির গীতিকার ছিলেন বিখ্যাত কথা-সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক।
- গানে সুর প্রদান করেন আলম খান এবং এই গানে কণ্ঠ দেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। 

--------------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:

- সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫-২০১৬) ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, কথা-সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অর্থ উপার্জনের জন্য ছদ্মনামে স্কুল ও কলেজের নোটবই, সিনেমার চিত্রনাট্য, কাহিনী ও গান লিখতে শুরু করেন। পাশাপাশি কবিতা, গল্প, উপন্যাস লিখতে থাকেন।
- গীতিকার হিসেবেও তিনি সিনেমা জগতে নন্দিত হন। তাঁর লেখা গান ‘হায়রে মানুষ রঙীন ফানুস’ এক সময় মানুষের মুখে-মুখে ছিল।

তাঁর রচিত চিত্রনাট্য ও কাহিনিগুলো হলো: ‘শীত বিকেল’, ‘মাটির পাহাড়’, ‘তোমার আমার’, ‘কখগঘঙ’, ‘ছদ্মবেশী’, ‘অধিকার’, ‘বড় ভাল লোক ছিল’, ‘ময়নামতি’-র জন্য প্রাপ্ত পুরস্কারের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে সুনাম অর্জন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৭,০৭৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নয়নচারা
  2. দি আগলি এশিয়ান
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. উজান মৃত্যু
ব্যাখ্যা

'দি আগলি এশিয়ান' উপন্যাস:
'দি আগলি এশিয়ান' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহরকে (নাম নেয়া হয়নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন - জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।
- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
- এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৭৭.
নিচের কোনটি শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. জলাঙ্গী
  2. যাত্রা
  3. দক্ষিণায়নের দিন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে।
- এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

অন্যদিকে,
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- দক্ষিণায়নের দিন শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৭৮.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে কয়টি পুঁথি সংকলিত হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা':
• ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
• তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
• তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 

--------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'  নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- হরপ্রসাদ বহু বিদ্যাপ্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য:
- ১৮৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন ফেলো মনোনয়ন;
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত)।
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই’ উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন এবং ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,০৭৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. স্টাডিজ ইন প্রাচীন বাংলা
  2. এনালাইসিস অফ সংস্কৃত রুটস
  3. দি হিস্ট্রি অব বেঙ্গল
  4. অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৮০.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কায়কোবাদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• 'আলো ও ছায়া' - এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। 

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৮১.
কোন উপন্যাসে চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. ক) মরণবিলাস
  2. খ) স্বপ্নশীলা
  3. গ) খসড়া কাগজ
  4. ঘ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক নরকে লাল গোলাপ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,০৮২.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪) উপন্যাস এর লেখক শওকত আলী
সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনী রচিত।
তার অন্যান্য উপন্যাস -
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ , ইত্যাদি 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,০৮৩.
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- উক্তিটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. নয়া বসত
  3. দু রঙা প্রজাপতি
  4. শাদা হাওয়া
ব্যাখ্যা

"তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৮৪.
বিনয় ঘোষ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  2. বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
  3. বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ
  4. বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ' গ্রন্থের রচয়িতা - বিনয় ঘোষ

অন্যদিকে,
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ - বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।

বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন - সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘কালপেঁচা’।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়।

তাঁর রচিত গবেষণাগ্রন্থ:
- শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ,
- মেট্রোপলিটন মন,
- বাংলার নবজাগৃতি,
- বিদ্যাসাগর ও বাঙালীসমাজ,
- বিদ্রোহী ডিরোজিও ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,০৮৫.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিক্ষোভ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) পূর্বাভাস
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) ঘুম নেই
  4. ঘ) হরতাল
ব্যাখ্যা
‘বিক্ষোভ’ কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘ঘুম নেই’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা।

বিক্ষোভ
 সুকান্ত ভট্টাচার্য 

দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম,
হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানলাম।
জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠেছে কেঁপে
ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,
কখনো কেউ কি ভূমিকম্পের আগে
হাতে শাঁখ নেয়, হঠাৎ সবাই জাগে?
যারা আজ এত মিথ্যার দায়ভাগী,
আজকে তাদের ঘৃণার কামান দাগি।
ইতিহাস, জানি নীরব সাক্ষী তুমি,
আমরা চেয়েছি স্বাধীন স্বদেশভূমি,
অনেকে বিরূপ, কানে দেয় হাত চাপা,
তাতেই কি হয় আসল নকল মাপা?

------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
• সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। 

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র , 
- পূর্বাভাস, 
- মিঠেকড়া, 
- অভিযান, 
- ঘুম নেই, 
- হরতাল, 
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

- পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

উৎস: ঘুম নেই কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৮৬.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. স্বগত
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. সংবর্ত
  4. তন্বী
ব্যাখ্যা
• 'স্বগত' সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ ভারতী ভবন, কলিকাতা থেকে ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। 

--------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৮৭.
'অনল প্রবাহ' কোন ধরনের কাব্য?
  1. শোষিত মানুষের জাগরণমূলক 
  2. মুসলিম জাগরণমূলক 
  3. বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ জাগরণমূলক 
  4. রোমান্সধর্মী
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

 তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,০৮৮.
বিখ্যাত ‘কর্ণফুলী ‘ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ (জন্ম : ৬ মে, ১৯৩২ - মৃত্যু : ৩ জুলাই, ২০০৯) বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক। 
• সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য আলাউদ্দিন আল আজাদ বেশসংখ্যক পুরস্কারে ভূষিত হন।তার মধ্যে--
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার 
- ইউনেস্কো পুরস্কার 
- একুশে পদক 
• তাঁর মৃত্যু ঢাকায়, ৩ জুলাই ২০০৯।

• আলাউদ্দিন আল আজাদের কাবগ্রন্থগুলির মধ্যে -
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 
- লেলিহান পান্ডুলিপি 
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ 
- সাজঘর ও
- শ্রেষ্ঠ কবিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• উপন্যাস
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র 
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন 
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- ক্ষুধা ও আশা 
- খসড়া কাগজ 

• গল্প
- জেগে আছি (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ)
- ধানকন্যা
- মৃগণাভি

• নাটক
- নরকে লাল গোলাপ : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
- মরক্কোর যাদুকর 
- মায়াবী প্রহর 
- ধন্যবাদ 
- নিঃশব্দ যাত্রা 
• তাঁর দুটি কাব্যনাট্য, ইহুদির মেয়ে  ও রঙিন মুদ্রারাক্ষস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৮৯.
কৃষক বিদ্রোহের কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. নূরলদীনের সারাজীবন
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. নীল দংশন
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

------------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- এখানে এখন।
- নূরলদীনের সারাজীবন (কৃষক-বিদ্রোহ),

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,০৯০.
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক-
  1. কালবেলা
  2. মাইলপোস্ট
  3. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  4. শেষ নবাব
ব্যাখ্যা
⇒ স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

⇒ সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকার সাঈদ আহমদ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- শেষ নবাব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৯১.
‘অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  2. হেনরি ডিরোজিও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. মনোএল দ্যা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,০৯২.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে-
  1. মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের স্বামী ভক্তি
  2. মুসলিম সমাজের নারী শিক্ষা
  3. গ্রামীণ মুসলিম সমাজের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
  4. গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- কাজী ইমদাদুল হকের শেষ রচনা 'আবদুল্লাহ্' উপন্যাসের ৩০ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত তিনি লিখতে পেরেছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুর পরে আনোয়ারুল কাদীর বাকি ১১ পরিচ্ছেদ রচনা করেন মূল গ্রন্থকারের
খসড়া-অবলম্বনে। তবে আবদুল কাদির বলেছেন, তাঁদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ পার্থক্য ঘটেছে।

- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

- আবদুল্লাহ্ (১৯৩৩) উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সমাজের যেসব সমস্যার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে, পিরবাদ তার মধ্যে প্রথম।


উপন্যাসে চিত্রিত সমস্যসমূহ ও কাহিনি সংক্ষেপ-
• উপন্যাসের নায়ক আবদুল্লাহ্ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, ধর্মপ্রাণ, কিন্তু কুসংস্কারবিরোধী। তার মতে, পির-মুরিদি ব্যবসাটা হিন্দুদের পুরুতগিরির অনুকরণ, ইসলামে তার স্থান নেই। কাসেম গোলদারের বাড়িতে নিজের পিতৃপুরুষের অলৌকিক ক্ষমতার গল্প শুনে তার মনে বিস্ময় জাগে: 'পুত্রের পীরত্বে পিতার হৃদয়ে এরূপ সাংঘাতিক হিংসার উদ্রেক আরোপ করিয়া ইহারা পীর-মাহাত্ম্যের কি অদ্ভুত আদর্শই মনে মনে গড়িয়া তুলিয়াছে!' পির হওয়ার সহজ পথ ত্যাগ করে আবদুল্লাহ্ চাকরি করে উপার্জন করতে প্রবৃত্ত হয়েছে।

• আশরাফ-আতরাফভেদ আরেক সামাজিক সমস্যা। সৈয়দ সাহেবের মাদ্রাসায় এদের পাঠদানের বৈষম্য দেখে আবদুল্লাহ্ বিস্মিত হয় এবং মৌলভী সাহেবকে তার কারণ জিজ্ঞাসা করে। মৌলভী সাহেব জানান, আতরাফের সন্তানেরা তো মিয়াদের সমান চলতে পারে না, তাই সৈয়দ সাহেব এই বিষম শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছেন।
আবদুল্লাহ্ যখন বলে, একেবারেই যদি তাদের পড়ানো না হয়, তাহলে কি আরো ভালো হয় না?, মৌলভী সাহেব তখন বলেন, গরিবেরা যখন শিখতে চায়, তখন তাদের একেবারে নিরাশ করলে খোদার কাছে কী জবাব দেবেন, তাছাড়া গোম্বারে এলেমদান করলে অনেক সওয়াব হয়, একথা কেতাবে আছে। এই সমস্যার চরম অভিব্যক্তি দেখা যায় মসজিদের ইমাম জোলা বলে যখন সৈয়দ সাহেব তাঁর পিছনে নামাজ পড়তে অস্বীকার করেন, তখন। এমনকী, সুফী সাহেব পর্যন্ত সৈয়দ সাহেবের এমন বংশাভিমান সম্পর্কে কোনো কথা বলেন না। এই অশিষ্টতার বিরুদ্ধে আবদুল্লাহ্ এক মূর্তিমান প্রতিবাদ-সে জোলা ইমামের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বংশমর্যাদা-প্রসঙ্গে মীর সাহেবের কথায় আবদুল্লাহ্‌র মনোভাবই প্রতিধ্বনিত হয়েছে: 'কবরের ওপারের দিকে তাকাবার আমি কোন দরকার দেখি নে।'

• পর্দাপ্রথার শ্বাসরুদ্ধকর কড়াকড়ির বিরুদ্ধেও আবদুল্লাহ্ সাহস করে দাঁড়িয়েছে। পল্লীসমাজের পরনিন্দা-প্রবৃত্তি এবং খাতকের প্রতি মহাজনের অত্যাচারের চিত্র-উদ্‌ঘাটনে কাজী ইমদাদুল হক অকুণ্ঠ। হিন্দু-মুসলমান-বিরোধের পর্যালোচনাও তিনি করেছেন, সেখানে তিনি দায়ী করেছেন সম্প্রদায়কে নয়, ব্যক্তিকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস। 
৭,০৯৩.
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-এর 'পল্লীসাহিত্য' মূলত -
  1. ক) দিনপঞ্জি
  2. খ) গল্প
  3. গ) স্মৃতিকথা
  4. ঘ) অভিভাষণ
ব্যাখ্যা
১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কিশােরগঞ্জ জেলায় পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশনে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সভাপতিত্ব করেন।
- এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে তিনি যে অভিভাষণ দেন, তারই পুনর্লিখিত রূপ এই পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধটি।
- আলােচ্য প্রবন্ধে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলার পল্লিসাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক সম্পর্কে আলােচনা করেছেন।
- লেখক এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, একদিন এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলাদেশে ছিল, আজ উপযুক্ত গবেষক এবং আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্যোগ ও চেষ্টায় সেই সম্পদগুলাে সংগ্রহ করা নিতান্ত প্রয়ােজন।
- বাংলাদেশের লােকসংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য পল্লিসাহিত্যের বিচিত্র সম্পদ বিশেষ যত্নের সঙ্গে আহরণ করা একান্ত আবশ্যক।
- প্রবন্ধটি আবহমান কালের বাঙালি, বাংলাদেশ, লােকসাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি সকলকে সচেতন হতে উৎসাহিত করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ)
৭,০৯৪.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত-
  1. মোটরযোগে রাঁচী সফর
  2. ভ্রমি দেশে দেশে
  3. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

শহীদুল্লা কায়সার: 
- শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস 'সারেং বউ'। এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণবৃত্তান্তের রচয়িতা - শহীদুল্লা কায়সার। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। 
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ, 
- সংশপ্তক, 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

- শহীদুল্লা কায়সার  বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং  আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন। 

অন্যদিকে,
- এস.ওয়াজেদ আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনি হলো: পশ্চিম ভারত, মোটরযোগে রাঁচী সফর। 
- সৈয়দ মুজতবা আলী রিচিত ভ্রমণ কাহিনি দেশে বিদেশে।
- ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,০৯৫.
কবিগানের আদি গুরু কে?
  1. ক) গোঁজলা গুঁই
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) নিধু বাবু
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
৭,০৯৬.
কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মান সূচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করে ____ সালে।
  1. ক) ১৯৩৬
  2. খ) ১৯৭৪
  3. গ) ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৯৭৬
ব্যাখ্যা
১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিতষিত করে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,০৯৭.
ভাষা ও ছন্দের ওপর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় কোন রচনায়?
  1. ক) বোধেন্দুবিকাশ
  2. খ) হিতপ্রভাকর
  3. গ) প্রবোধ প্রভাকর
  4. ঘ) কালীকীর্তন
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- স্বদেশ ও স্বসমাজের প্রতি ঈশ্বরচন্দ্রের অনুরাগ ছিল অত্যন্ত নিবিড়।
- তিনি বাংলা ভাষার উন্নয়নের জন্য যে আন্দোলন করেছেন তা আজ স্মরণীয় হয়ে আছে।
- তিনি সবসময় ইংরেজি প্রভাব বর্জিত খাঁটি বাংলা শব্দ ব্যবহার করতেন।
- ভাষা ও ছন্দের ওপর তাঁর বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) নাটকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,০৯৮.
কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে তাঁর অসমাপ্ত 'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাসটি কে সমাপ্ত করেন?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবুল ফজল
  3. কাজী আনোয়ারুল কাদির
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ্‌:
- 'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।

কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আবদুল্লাহ্‌।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৯৯.
‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্যটির রচয়িতা কে?’
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রেলাল রায়
ব্যাখ্যা
মহাশ্মশান কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা; যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন। যুদ্ধকাহিনীর মধ্যে অনেকগুলি প্রণয়বৃত্তান্ত স্থান পেয়েছে।
Source: Banglapedia
৭,১০০.
"প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ" - কার রচনা?
  1. মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলাম
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
ইতিহাস সংবলিত সত্যেন সেনের রচনা: -
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামের কাহিনী,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।
তার বিখ্যাত উপন্যাস: -
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- পদচিহ্ন,
- আল বেরুনী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।