বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৬৮ / ৭৭ · ৬,৭০১৬,৮০০ / ৭,৬৪৬

৬,৭০১.
‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’- ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাঙাল হরিনাথ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত।
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ গ্রন্থ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
 
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
 
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''
 
-----------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ২৫শে মে, ১৮৩৫ সালে কলকাতার নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল। 
 
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭০২.
'একাত্তরের যীশু' কে লিখেছেন?
  1. ক) শাহরিয়ার কবির
  2. খ) বেগম সুফিয়া কামাল
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহীম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
‘একাত্তরের ডায়েরি’ স্মৃতিকথাটির রচয়িতা সুফিয়া কামাল। অন্যদিকে জাহানারা ইমাম এর রচনা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ এবং শাহরিয়ার কবির এর রচনা ‘একাত্তরের যীশু’। সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭০৩.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুর পর 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কে রচনা করেন?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী 
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭০৪.
'মজলুম আদিব' কার ছদ্মনাম?
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন। তিনি মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত। শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৬,৭০৫.
'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয় কাকে?
  1. ঈম্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭০৬.
উইলিয়াম টডের 'Annals of Rajasthan' থেকে কাহিনীর অংশ নিয়ে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. পদ্মিনী উপাখ্যান
  3. নীতিকুসুমাঞ্জলি
  4. কনকাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর বিখ্যাত উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।
সেটি হচ্ছে - 
স্বাধীনতাহীনতায়     কে বাঁচিতে চায় হে,
             কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল       কে পরিবে পায় হে,
           কে পরিবে পায়?

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮২৭-১৮৮৭):
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।
- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ। তিনি ভেক-মুষিকের যুদ্ধ নামে হোমারের কাব্যেরও অনুবাদ করেন।
- তাঁর কলিকাতা কল্পলতা  গ্রন্থকে কলকাতা সম্পর্কে প্রথম ইতিহাসমূলক রচনা বলে মনে করা হয়। এতে কলকাতার ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।
- তিনি মুকুন্দরামের কবিকঙ্কণ চন্ডী সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন (১৮৮২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭০৭.
'বাংলাদেশ' কবিতার রচয়িতা-
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) নির্মুলেন্দু গুণ
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' কবিতার রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কবিতাটি রচিত অক্ষরবৃত্ত ছন্দে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭০৮.
ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার ভাববস্তু ছিলো না ----
  1. ক) দেশাত্মবোধ
  2. খ) শক্তির সাধনা
  3. গ) প্রকৃতি প্রেম
  4. ঘ) মানবতার বন্দনা
ব্যাখ্যা
ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার ভাববস্তু ছিলো- দেশাত্মবোধ, শক্তির সাধনা ও মানবতার বন্দনা। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭০৯.
‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটির রচয়িতা-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর - মাসিক “সমকাল” পত্রিকা সম্পাদনা করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তার রচিত বিখ্যাত গান - আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৭১০.
'পাঁচালিকার' হিসাবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়।

দাশরথি রায়:
- দাশরথি রায় ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। 
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।

-------------------
• পাঁচালি:
- পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা।
- এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।
- পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি।
- আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।
- পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ দাশরথি রায়।
- ‘দাশু রায়ের পাঁচালি’ সারা বাংলায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১১.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা -
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা - গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
-   তাকে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়। 
- তিনি ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস ১৯১৮ সালে ১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।


• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- প্রসুন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম, 
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য), 
- কস্তুরী, 
- চন্দন, 
- ফুলরেণু (সনেট), 
- বৈজয়ন্তী, 
- শোক ও সান্ত্বনা, 
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১২.
‘চোর জামাই’ শিশুতোষ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. ফররুখ আহমদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১৩.
শামসুজ্জামান খান কোন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ছিলেন?
  1. ক) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী
  2. খ) জাতীয় জাদুঘর
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য- 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ'। রম্যরচনা- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প। প্রবন্ধগ্রন্থ- নানা প্রসঙ্গ, গণসঙ্গতি, মাটি থেকে মহীরুহ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা, ফোকলোরচর্চা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭১৪.
নিচের কোনটি আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) আশায় বসতি
  2. খ) ছায়াহরিণ
  3. গ) সারা দুপুর
  4. ঘ) রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭), তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। অরণ্য নীলিমা ও রানী খালের সাঁকো আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৭১৫.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ডা. লুৎফর রহমান
  4. নুরজাহান বেগম
ব্যাখ্যা
• বেণের মেয়ে' উপন্যাস:
- 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক।
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭১৬.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. ক) মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন
  2. খ) ছাত্রদের যেকোনো অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিতেন।
  3. গ) সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা তার উপদেশ ছিল
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই সত্য
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাশীল ও শিক্ষক। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'। ডিরোজিও-র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য। এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৭১৭.
'পালামৌ' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা

- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহোদর।
- 'পালামৌ' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- যাত্রা, বৈজিকতত্ত্ব, বাল্যবিবাহ, সৎকার, বৃত্রসংহার ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
- কণ্ঠমালা, মাধবীলতা, জালপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৭১৮.
‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করা হয় কাকে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. নুরুল মোমেন
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• বাংলায় সর্বাধিক সংখ্যক নাটক রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ মঞ্চাভিনয়ের প্রথম যুগে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও অভিনয় প্রতিভাবলে এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হন। ১৮৭৭ সালে মেঘনাদবধ কাব্যে রামচন্দ্র ও মেঘনাদ উভয় ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দেখে সাধারণী পত্রিকার সম্পাদক অক্ষয়চন্দ্র সরকার তাঁকে ‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করেন।

-------------------
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।

- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন। পরে দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৮৭১ সালে বাগবাজার দল ন্যাশনাল থিয়েটার নামে প্রথম সাধারণ রঙ্গমঞ্চ স্থাপন করে অভিনয় আরম্ভ করে। ১৮৮০ সালে তিনি পার্কার কোম্পানির চাকরি ত্যাগ করে কম বেতনে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারের ম্যানেজার হন। তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭) এ মঞ্চেই অভিনীত হয়।

-  গিরিশচন্দ্র শেকসপীয়রের ম্যাকবেথ (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ ও দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস, মধুসূদনের  মেঘনাদবধ কাব্য ও নবীনচন্দ্রের পলাশীর যুদ্ধ কাব্যের নাট্যরূপ দেন। তিনি অধিকাংশ নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে নিজেই অভিনয় করেছেন এবং বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সুযোগ করে দিয়ে একটি অভিনয় স্কুল গড়ে তুলেছিলেন।

- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন। তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 

- তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০। সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো: অভিমন্যুবধ (১৮৮১), সীতার বনবাস (১৮৮১), সীতাহরণ (১৮৮২), পান্ডবের অজ্ঞাতবাস (১৮৮২), প্রফুল্ল (১৮৮৯), জনা (১৮৯৪), আবু হোসেন (১৮৯৬), বলিদান (১৯০৪), সিরাজদ্দৌলা (১৯০৫), মীরকাশিম (১৯০৬), ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭), শঙ্করাচার্য (১৯১০), বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,৭১৯.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এর পৈত্রিক নিবাস কোথায়?
  1. বর্ধমান
  2. নদীয়া
  3. ময়মনসিংহ
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে 'বঙ্গ আমার জননী আমার', 'ধনধান্য পুষ্পভরা' ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• নাটক:
• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- প্রতাপসিংহ,
- তারাবাঈ,
- সিংহল বিজয়,
- তাপসী।

• রোমান্টিক নাটক:
- সীতা,
- ভীষ্ম,
- সোহরাব- রুস্তম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী,
- কল্কি অবতার, 
- বিরহ,
- পূণর্জন্ম,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- আনন্দ বিদায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২০.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কি ধরনের রচনা?
  1. ছোটগল্প
  2. কাব্যনাট্য
  3. উপন্যাস
  4. পত্রোপন্যাস
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর, কুড়িগ্রামে।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- তিনি মূলত লেখক হিসাবে পরিচিত।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওায়াজ পাওায়া যায়,
- নুরুলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন।

তাঁর একমাত্র প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

গল্প:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২১.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সামাজিক নাটক?
  1. নূরজাহান
  2. বঙ্গনারী
  3. মেবার পতন
  4. দুর্গাদাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী,
- এক ঘরে
- কল্কি অবতার,
- বিরহ
- পূণর্জন্ম,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- আনন্দ বিদায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- ১৯ জুলাই, ১৮৬৩ সালে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সমবেত কণ্ঠসঙ্গীতের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা নাটকে প্রথম দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন।
- তাঁর রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থের নাম Lyrics of Ind.

• তাঁর রচিত নাটক:

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- প্রতাপসিংহ,
- তারাবাঈ,
- সিংহল বিজয়,
- তাপসী।

• রোমান্টিক নাটক:
- সীতা,
- ভীষ্ম,
- সোহরাব-রুস্তম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২২.
'স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আকরাম-আল-হোসেন
  2. আবু সয়ীদ আইয়ুব
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. শাহ্ কামাল
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই:
- শাহ্ কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট ১২৬টি কবিতা আছে।
- 'স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই' গ্রন্থটির নাম কবিতা।
- 'স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই' কবিতাটির কিছু লাইন -

স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই

যুদ্ধ! যুদ্ধ! যুদ্ধ!
স্বার্থের যুদ্ধ
ক্ষমতার যুদ্ধ
ধর্মের যুদ্ধ
বর্ণবাদের যুদ্ধ
হিংসার যুদ্ধ
সব যুদ্ধে একাকার বিশ্ব
আমি যুদ্ধ চাই না
তুমিও যুদ্ধ চাওনা
অথচ যুদ্ধ হচ্ছে
যুদ্ধ হবে
যুদ্ধ হয়

শাহ্ কামাল:
- তিনি ২৮ ই অক্টোবর, ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম কামাল হোসেন।
- পিতা - পিয়ার আলী, মাতা - আলেয়া বেগম।
- সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান 'কণ্ঠশীলন' হতে তিনি সম্মান এর সাথে উত্তীর্ণ হন।
- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা এর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি একজন সফল শিক্ষক প্রশিক্ষকও।
- সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে অভীজ্ঞ এই শিক্ষক জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ওয়ার্কশপের নির্বাচিত সহকারী শিক্ষক।
- ২০০৪ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'একা' প্রকাশিত হয়।
- ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় 'কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এর সভাপতি তিনি। 
- 'কিছুমিছু' গ্রুপ থেকে সম্মাননা স্মারক পেয়েছন ২০২২ সালে।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বৃষ্টির অনশনে শিশিরের কান্না বিলাস,
- ওরা কী চায়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দিন চলে যায়,
- জমশেদ আলীর মেহমানদারী।

উৎস: 'স্বাধীনতার স্বাধীনতা চাই' কাব্যগ্রন্থ, শাহ্ কামাল।
৬,৭২৩.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম 
  2. আহমদ ছফা
  3. নীহাররঞ্জন রায়
  4. বদরুদ্দীন উমর 
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৬,৭২৪.
"রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস" ত্রয়ীকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. কায়কোবাদ
  4. কালিদাস
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। 
 
উল্লেখ্য, 
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকাব্যের নাম বৃত্রসংহার আর নবীনচন্দ্র সেনের মহাকাব্য দুটি—পলাশীর যুদ্ধ এবং তিন খণ্ডে রচিত মহাকাব্য রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস। 

• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭২৫.
“একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী” - চরণটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? 
  1. অর্কেস্ট্রা
  2. অমরাবতী
  3. তন্বী
  4. মেঘদূত
ব্যাখ্যা

- ‘অর্কেস্ট্রা’ (১৯৩৫) কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত উক্ত উক্তিটি ব্যক্ত করেছেন।
- অন্যদিকে, 'অমরাবতী' অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

কবিতাটি নিম্নরূপ-

একদা এমনই বাদলশেষের রাতে—
মনে হয় যেন শত জনমের আগে—
সে এসে সহসা হাত রেখেছিল হাতে,
চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে ;
সে-দিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া
মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে ;
অনাদি যুগের যত চাওয়া, যত পাওয়া
খুঁজেছিল তার আনত দিঠির মানে |
একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী ; (সংক্ষিপ্ত)

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডবের একজন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭২৬.
'রসকলি' গল্পটি রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. আল মাহমুদ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য বহ্নি,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৭২৭.
'বন্দর থেকে বন্দরে'- ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা- 
  1. শওকত ওসমান
  2. সানাউল হক
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'বন্দর থেকে বন্দরে'- ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা 'সানাউল হক'।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকাহিনি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

--------------------
• সানাউল হক:
- সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭২৮.
‘আসাদের শাট’ কবিতাটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত হয়?
  1. ১৯৫২ -র ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থান
  3. ১৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৬৬- ছয়দফা
ব্যাখ্যা
-  ১৯৬৯ সালের ২০জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শাট’র্ কবিতাটি।
- তাঁর লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। 
-----------------------------------------------
• শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
-  ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে। 
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭২৯.
কোনটি জহির রায়হানের রোমান্টিক উপন্যাস?
  1. ক) শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. খ) আরেক ফাল্গুন
  3. গ) বরফ গলা নদী
  4. ঘ) আর কত দিন
ব্যাখ্যা
শেষ বিকেলের মেয়ে জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস এবং এটি একটি রোমান্টিক উপন্যাস। তার অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো- আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কতদিন, হাজার বছর ধরে, কয়েকটি মৃত্যু, একুশে ফেব্রুয়ারি, তৃষ্ণা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৭৩০.
'বন্দর থেকে বন্দরে' রম্য রচনাটির রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

• সানাউল হক মূলত কবি ছিলেন।
• তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' তাঁর রচিত রম্যরচনা।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থঃ
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- প্রবাসে যখন,
- বিরাশির কবিতা,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ,
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- একটি ইচ্ছা সহস্র পালে,
- কাল সমকাল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৩১.
‘জয়গুন’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. আবু ইসহাক
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘জয়গুন’ চরিত্রের স্রষ্টা- আবু ইসহাক।

• সূর্য দীঘল বাড়ী:

- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

------------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৩২.
'দীপনির্বাণ' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস - দীপনির্বাণ।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- ছিন্নমুকুল, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, কাহাকে, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি ইত্যাদি।
বিবাহ উৎসব, বসন্ত উৎসব - ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৩৩.
আহমদ ছফা রচিত কবিতা কোনটি?
  1. ক) অলাতচক্র
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) কবি ও কোলাহল
  4. ঘ) জল্লাদ সময়
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস হলোঃ ‘অলাতচক্র’। ‘জল্লাদ সময়' আহমদ ছফা রচিত কবিতা। আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত কাব্য হলো ‘মানচিত্র’। আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস হলো ‘ কবি ও কোলাহল’। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৬,৭৩৪.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) পত্রসংকলন
ব্যাখ্যা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ১৯৩৪ সালে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাত নরী হার।
এছাড়াও,
- কখনো রং কখনো সুখ, কোমলের চোখ ও আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি তাঁর রচিত অন্যতম কাব্যগ্রন্থ।
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা হল আমি কিংবদন্তির কথা বলছি।

তার অন্যতম কবিতা : মাগো ওরা বলে, কোন এক মাকে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৬,৭৩৫.
‘বাংলা কাব্যের ইতিহাস’ - প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল কাদির
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দ বিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস,
- কবি নজরুল,
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৩৬.
কোন বিখ্যাত কবি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দিয়েছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দিয়েছিলেন। 

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা ভাষার একজন শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি প্রদান করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৩৭.
গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদ কোন লেখকের রচনার বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীনের রচনায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫);
গল্পগ্রন্থ: জীবন (১৯৪৮), রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮), ল্যাংড়ী (১৯৮৪);
প্রবন্ধ: চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪), Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩), সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭), লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।
এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন।
শিল্পীর সাধনা (১৯৬৭) ও পার্ল বাকের সেরা গল্প (১৯৬৮) তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৬,৭৩৮.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক রচনা নয় কোনটি?
  1. কবর
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. ওঙ্কার
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভকরে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

অন্যদিকে, 
------------------------
• 'কবর' নাটক
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম 'আর্তনাদ'।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ। এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

• 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' উপন্যাস:
"নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি" উপন্যাস লিখেছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন। এটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত একটি উপন্যাস এবং এটি "একুশের উপন্যাস" নামক একটি সংকলন গ্রন্থের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৩৯.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. বিজয়গুপ্ত
  2. মালাধর বসু
  3. বিপ্রদাস পিপলাই
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না, ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৪০.
কোনটি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. কালো বরফ
  2. জীবন আমার বোন
  3. কালো ঘোড়া
  4. কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'।
• ‘কালো বরফ’ মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।
• ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কালো ঘোড়া’।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৬,৭৪১.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ-র ইংরেজি ভাষায় লিখিত একটি রচনা হলো-
  1. ক) Night of no moon
  2. খ) How to Cook Beans
  3. গ) Tree without roots
  4. ঘ) Cry river cry
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- কাঁদো নদী কাঁদো ও চাঁদের অমাবস্যা তাঁর রচিত উপন্যাস।
- বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ, উজানের মৃত্যু ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
- 'নয়নচারা' ও 'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' তাঁর গল্পগ্রন্থ।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans'' 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং দ্যা ডেইলি স্টার।
৬,৭৪২.
'সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত 'সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক আবু ইসহাক। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৪৩.
'পোড়ামাটির কাজ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
'পোড়ামাটির কাজ' উপন্যাসের রচয়িতা আবদুল মান্নান সৈয়দ।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস - পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী, অ-তে অজগর, গভীর গভীরতর অসুখ, ক্ষুধা প্রেম আগুন, শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৪৪.
'হাতহদাই' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন
 ১৯৯৫ সালে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবি, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।

নাট্যশিক্ষার্থীদের জন্য তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ (১৯৮২)।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
কাব্যগ্রন্থ-
- কবি ও তিমি (১৯৯০),

উপন্যাস-
- অমৃত উপাখ্যান (২০০৫)। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক (১৯৭৩),
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন (১৯৭৫),
- বাসন (১৯৮৫)
- কীর্তন খোলা (১৯৮৩) ,
- কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮),
- প্রাচ্য (১৯৯৮),
- হাতহদাই (১৯৯৭),
- যৈবতী কন্যার মন (১৯৯৩),
- চাকা (১৯৯১),
- হরগজ (১৯৯২),
- একটি মারমা রূপকথা (১৯৯৫),
- বনপাংশুল (১৯৯৬),
- নিমজ্জন (২০০২),
- ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল (২০০৭),
- ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ (নৃত্যনাট্য, ২০০৭),
- পুত্র (২০০৮) ইত্যাদি।

- ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর 'চাকা' নাটকের চলচ্চিত্রায়ন করেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোর্শেদুল ইসলাম এবং
- ২০০১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর 'কিত্তনখোলা' নাটক নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন আবু সাইয়িদ।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৬,৭৪৫.
‘রসকলি’ - গল্পটি রচনা করেন কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫৬ সালে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।
- তাঁর ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- ধাত্রীদেবতা।
- গণদেবতা।
- পঞ্চগ্রাম।
- কবি।
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৪৬.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কোন কবি মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী হিসেবে পরিচিত?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. আব্দুল হাকিম
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক। তাঁর ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৪৭.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রাত্রিশেষ
  2. ছায়া হরিণ
  3. সারা দুপুর
  4. আশায় বসতি
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- 'রাত্রিশেষ'। 

• আহসান হাবীব: 
- একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ: 
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- মোট কবিতার সংখ্যা - ২৮।
- গ্রাম ও নগর উভয়কেন্দ্রিক কবিতা এখানে আছে। 

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা, 
- আশায় বসতি, 
- সারা দুপুর, 
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৪৮.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) শিখা
  2. খ) তত্ত্ববোধিনী
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) সাধনা
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু ছিল চমৎকার।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকার নাম 'সংবাদ প্রভাকর' 
- এটি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।  

[উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা]
৬,৭৪৯.
কোন গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী?
  1. ক) আশা-আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে
  2. খ) ভবিষ্যতের বাঙালি
  3. গ) উন্নত জীবন
  4. ঘ) সভ্যতা
ব্যাখ্যা
‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
- এছাড়া, প্রাচ্য ও প্রতিষ্ঠিত, জীবনের গল্প ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস - গ্রানাডার শেষ বীর।
- তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী - মোটরযোগে রাঁচি সফর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৫০.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট-
  1. ক) বিশ্বযুদ্ধ
  2. খ) দেশবিভাগ
  3. গ) দুর্ভিক্ষ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সূর্য দীঘল বাড়ি আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৭৫১.
নিচের কোনটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস?
  1. আবদুল্লাহ
  2. আনােয়ারা
  3. চাঁদের অমাবস্যা
  4. লালসালু
ব্যাখ্যা
- মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের প্রধান আশ্রয় পাত্র-পাত্রীর মনােজগতের ঘাত-সংঘাত ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া।
- চরিত্রের অন্তর্জগতের জটিল রহস্য উদ্ঘাটনই ঔপন্যাসিকের প্রধান লক্ষ্য। 
- মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসে কাহিনি অবলম্বন মাত্র, প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে মানবমনের জটিল দিকগুলাে সার্থক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা।
- বিশ্বসাহিত্যে ফরাসি লেখক গুস্তাভ ফ্লবেয়ার লিখিত ‘মাদাম বােভারি',
- রুশ লেখক দস্তয়ভস্কি লিখিত ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট এবং
- বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের ‘চতুরঙ্গ', সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র ‘চাঁদের অমাবস্যা’ ও ‘কাঁদো নদী কাঁদো' মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের উজ্জ্বল উদাহরণ।
উৎস : একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা সহপাঠ।
৬,৭৫২.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৫৩.
আহমদ ছফা কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. উত্থানপর্ব
  2. সাহিত্য সংক্রান্তি
  3. সমাচার চন্দ্রিকা
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• আহমদ ছফা কোন সম্পাদিত পত্রিকার নাম  'উত্থানপর্ব'।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:

- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা 'সাহিত্য সংক্রান্তি'।
- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা 'সমাচার চন্দ্রিকা'।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা 'কবিতা'।

উৎস:

১. বাংলাপিডিয়া।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৫৪.
'পতঙ্গ পিঞ্জর' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী ইত্যাদি শওকত ওসমানের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৫৫.
'মাগো, ওরা বলে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 'মাগো, ওরা বলে', ,কোন এক মাকে'। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা, আমার সময়, বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৭৫৬.
কে 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা' উপদেশটি দিয়েছিলেন?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. গ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তরুণ হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও মাত্র সতের বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস পড়াতেন এবং তার পাঠদানের পদ্ধতি ছিল তার ধ্যান-ধারণার মতোই গতানুগতিকতা মুক্ত। তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'। ডিরোজিও'র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য। এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৬,৭৫৭.
কোন আন্দোলনের সময় দ্বিজেন্দ্রলাল রায় গণজাগরণমূলক গান রচনা করেন?
  1. স্বদেশি আন্দোলন 
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে 'বঙ্গ আমার জননী আমার', 'ধনধান্য পুষ্পভরা' ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- প্রতাপসিংহ,
- তারাবাঈ,
- সিংহল বিজয়,
- তাপসী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৫৮.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়-
  1. সুবচন নির্বাসনে
  2. মেরাজ ফকিরের মা
  3. আমলার মামলা
  4. এখনো ক্রীতদাস
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
• আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- নিয়তির পরিহাস,
- বিন্দু বিন্দু রং,
- ঋতুরাজ,
- আয়নায় বন্ধুর মুখ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- সেনাপতি,
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- ক্রসরোড ক্রস ফায়ার,
- এখনও ক্রীতদাস,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- আমাদের সন্তানেরা,
- কোকিলারা,
- মাইক মাস্টার,
- মেরাজ ফকিরের মা,
- মেহেরজান আরেকবার ইত্যাদি।

• অন্যদিকে আমলার মামলা শওকত ওসমানের নাটক।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৫৯.
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিশ্বনবী
  2. বুলবুলিস্তান
  3. বনি আদম 
  4. খোশরোজ
ব্যাখ্যা

• 'বিশ্বনবী' গদ্যগ্রন্থ:
-'বিশ্বনবী' গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

--------------------
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৬০.
"আত্মজা ও একটি করবী গাছ" গল্পগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. দেশ বিভাগ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. সামরিক শাসন
ব্যাখ্যা
"আত্মজা ও একটি করবী গাছ" হাসান আজিজুল হক এর দেশ বিভাগের পটভূমিকায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। 
- দেশ বিভাগ হলে সৃষ্ট ব্যক্তি চরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থটি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- শীতের অরণ্য (১৯৬৪)
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)
- জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩)
- নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫)
- পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১)
- আমরা অপেক্ষা করছি (১৯৮৯)
- রোদে যাবো (১৯৯৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৬১.
'আবার আসিব ফিরে ধানসঁড়িটির তীরে'- চরণটি কোন কবির রচনা?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

"আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো— কিশোরীর— ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে-ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলায় নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়;"
------------------------- 
•  জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৬২.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. চৈতালি
  2. লোক-লোকান্তর
  3. সর্বহারা
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

‘পূর্বাভাস’ হলো সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে সমাজের চিত্র এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্ট ও দুঃখের বিষয়গুলো গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তাঁর জন্ম ১৫ আগস্ট, ১৯২৬ সালে।
- পরিচিতি: কিশোর কবি, মার্কসবাদী কবি ও মানবতার কবি।
- কাব্যে ফুটে উঠেছে মানুষের, বিশেষ করে শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের বিষয়।
- নজরুলের পর সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের সুর লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৬৩.
'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা-
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা

• 'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।

তাঁর রচিত অন্য একটি ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৬৪.
কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুবাদকাব্য?
  1. অভ্র আবীর
  2. সবিতা
  3. মণি মঞ্জুষা
  4. বেণু ও বীণা
ব্যাখ্যা

মণি মঞ্জুষা হচ্ছে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুবাদকাব্য।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একজন কবি ও ছন্দবিদ ছিলেন।
- জন্ম: ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে।
- পিতা: রজনীনাথ দত্ত (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী), পিতামহ: অক্ষয়কুমার দত্ত (তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক)।
- তিনি ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান কবি ছিলেন।
- বাংলা ভাষার স্বতন্ত্র ছন্দ ও ধ্বনির মাধ্যমে নতুন ছন্দ সৃষ্টি করাই ছিল তার মূল কীর্তি, যার জন্য তিনি “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দোরাজ” নামে পরিচিত।
- তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ ও কলমগীর।
- মৃত্যু: ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৬৫.
'নবশক্তি' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন কোন ঔপন্যাসিক?
  1. আবু ইসহাক
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

- জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত ১৯৩৪ সালে কুমিল্লার বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী নরেন্দ্র দত্তের সঙ্গে কলকাতা যান। সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন। তিনি মোহাম্মদী, আজাদ, নবযুগ, কৃষক, যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।

- ১৯৪৫ সালে বিখ্যাত দেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করে তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে কিছুদিন উপার্জন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বভারতীর প্রকাশনা শাখায় খন্ডকালীন চাকরি করেন।

- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন। তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো-
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৬৬.
কোনটি দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. নামহীন গোত্রহীন
  2. পাতালে হাসপাতালে
  3. আগুনপাখি
  4. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
ব্যাখ্যা

• হাসান আজিজুল হক একজন বাংলাদেশী ছোট গল্পকার এবং কথাসাহিত্যিক।
• দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা, দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ আত্মজা ও একটি করবী গাছ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থঃ
- পাতালে হাসপাতালে,
- নামহীন গোত্রহীন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- আগুনপাখি (দেশ বিভাগ নিয়ে রচিত),
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
• তার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্প- একাত্তরঃ করতলে ছিন্নমাথা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৬৭.
'নয়নচারা' কোন সাহিত্যিকের রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. আবুল ফজল
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'নয়নচারা' গল্পগ্রন্থ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- দুর্ভিক্ষ পীড়িত গ্রাম নয়নচারা। এই গ্রামের অধিবাসী আমু, ভুতো, ভুতনির গল্প রয়েছে এতে।
- গল্পগ্রন্থটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয় কলকাতা থেকে।
- গ্রন্থটিতে বিন্যাস্ত রয়েছে আটটি গল্প। গল্পগুলো যথাক্রমে ‘নয়নচারা’, ‘জাহাজী’, ‘পরাজয়’, ‘মৃত্যুযাত্রা’, ‘খুনী’, ‘রক্ত’, ‘খণ্ড চাঁদের বক্রতায়’ ও ‘সেই পৃথিবী’। 
- নয়নচারা গ্রন্থটির প্রারম্ভেই রয়েছে নামগল্পটি।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৬৮.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৮৫৮ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৫৯ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৬৯.
গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যসমূহের মুখ্য বিষয়বস্তু-
  1. নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম
  2. দুঃখের বর্ণনা
  3. দেবতার বন্দনা
  4. ব্যঙ্গবিদ্রূপ
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিল একজন স্বভাবকবি। ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন। অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু:
- তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুকুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৭০.
'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল? পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. ফররুখ আহমদ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 • 'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত 'কোন দেশে' কবিতার অন্তর্গত।

কোন্ দেশে
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কোন্ দেশেতে তরুলতা
সকল দেশের চাইতে শ্যামল?
কোন্ দেশেতে চলতে গেলেই
দলতে হয় রে দুর্বা কোমল?
কোথায় ফলে সোনার ফসল,
সোনার কমল ফোটে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরই বাংলা রে!
(সংক্ষিপ্ত)

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপাধি দেন), ছন্দের রাজা, বাস্তববাদী কবি নামে সমধিক পরিচিত।
- ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা, 
- অভ্র ও আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার লাইনসমূহ:
- মুধুর চেয়ে আছে মধুর\ সে আমার এই দেশের মাটি\ আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি। (খাঁটি সোনা)
- জোটে যদি মোটে একটি পয়সা,/ খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি' /দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার/ ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী। (ফুলের ফসল)
- কালো আর ধলো বাহিরে কেবল/ ভিতরে সবারই সমান রাঙা। (মানুষ জাতি)।
- পালকি চলে/ পালকি চলে... /দুলকি চালে/ নৃত্য তালে! (পালকির গান)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৭১.
'বেদান্তগ্রন্থ' ও ‘বেদান্ত সার' কার রচনা?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) গোলকনাথ শর্মা
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ বেদান্তগ্রন্থ ও বেদান্ত সার।
 
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- পথ্য প্রদান
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৬,৭৭২.
'বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন' ভ্রমণকাহিনীটির রচয়িতা-
  1. ক) মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. খ) মুহম্মদ এনামুল হক
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
- 'বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন' ভ্রমণকাহিনীটির রচয়িতামুহম্মদ আবদুল হাই।  

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা 
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali
- ভাষা ও সাহিত্য 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত 
ভ্রমণকাহিনী:
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,৭৭৩.
নীলদপর্ণ নাটকের কাহিনী কোন অঞ্চলের?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীলদপর্ণ নাটকের কাহিনী মেহেরপুর অঞ্চলের। নাটকটি প্রথম প্রকাশ করা হয় ঢাকার বাংলা প্রেস থেকে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৭৭৪.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. ক) তিলক
  2. খ) বাসন্তী
  3. গ) বনমালী
  4. ঘ) তিতাস নদী
ব্যাখ্যা
ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারন কাহিনীকে অবলম্বন করে 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি রচনা করেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৭৭৫.
'পরানের গহীন ভেতর' সৈয়দ শামসুল হক রচিত- 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস 
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'পরানের গহীন ভেতর' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

​সৈয়দ শামসুল হক:

- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

​তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

​সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬,৭৭৬.
নিচের কোন উপন্যাসটি আবু ইসহাকের গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস?
  1. ক) পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. খ) জাল
  3. গ) ওয়ারিশ
  4. ঘ) ময়ূরীর মুখ
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০),  ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।  

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম, 
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৭৭.
'আমার পরিচয়' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আমার পরিচয়' কবিতাটি লিখেছেন- 'সৈয়দ শামসুল হক'। 

'আমার পরিচয়' কবিতা
---------- সৈয়দ শামসুল হক

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, ‘কোথা থেকে তুমি এলে ?’

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

উৎস: 'আমার পরিচয়' কবিতা- সৈয়দ শামসুল হক।
৬,৭৭৮.
বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক-
  1. ক) অক্ষয় কুমার বড়াল
  2. খ) অতুল প্রসাদ সেন
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) কাজেম আল কুরাইশী
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক। তিনিই প্রথম বাংলায় গজল রচনা করেন। তার রচিত বাংলা গজলের সংখ্যা ৬-৭টি। তাঁর মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা! গানটি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অণুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তাঁর গানগুলি দেবতা, প্রকৃতি, স্বদেশ, মানব ও বিবিধ নামে পাঁচটি পর্যায়ে বিভক্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানের বিশেষ গুণগ্রাহী ছিলেন। অতুলপ্রসাদী গান নামে পরিচিত এই ধারার একজন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী হলেন কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়।
৬,৭৭৯.
'দুর্দিনের দিনলিপি' স্মৃতিগ্ৰন্থটি কার লেখা?
  1. আবুল ফজল
  2. আবদুল কাদির
  3. জাহানারা ইমাম
  4. মুশতারি শফী 
ব্যাখ্যা
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' গ্রন্থটির রচয়িতা- আবুল ফজল।
- “দুর্দিনের দিনলিপি” - ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রোজনামচা।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আত্মগোপন করেন এবং সে সময় তিনি এই ডায়রি লিখেন। 

----------------
• আবুল ফজল:
- ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলায় তাঁর জন্ম। 
- তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন। 
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা।
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। 
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- মাটির পৃথিবী, 
- বিচিত্র কথা, 
- রাঙ্গা প্রভাত,
- রেখাচিত্র, 
- দুর্দিনের দিনলিপি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৮০.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. ময়ূরকণ্ঠী
  3. চাচা-কাহিনী
  4. শবনম
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ - চাচা-কাহিনী।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত রম্য রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র।
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮১.
"কুরুক্ষেত্র" কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। 

নবীনচন্দ্র সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস,
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৭৮২.
'মানুষের মানচিত্র' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ গবেষণা
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মানুষের মানচিত্র' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর 'মানুষের মানচিত্র' (১৯৮৪) কাব্যগ্রন্থে লক্ষ করা যায় নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে আকাঙ্ক্ষার সূদুঢ় অভিব্যক্তি। 

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- উপদ্রুত উপকূল,
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম,
- মানুষের মানচিত্র,
- ছোবল,
- মৌলিক মুখোশ।

• কাব্যনাট্য: বিষ বিরিক্ষের বীজ।
• ছোটগল্প: সোনালি শিশির।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত বিখ্যাত গান: ‘ভাল আছি ভাল থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।'
• বিখ্যাত কবিতা: ‘বাতাসে লাশের গন্ধ' (জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ।
৬,৭৮৩.
‘তোমার মার বাড়ি, তুমি যাও, আমি আমার বাড়িতে থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো।’ উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  3. কারাগারের রোজনামচা
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।

গ্রন্থটির কিছু অংশ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’য় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।
কারাগারের রোজনামচায় প্রসঙ্গক্রমে অনেকবার এসেছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা। শেখ মুজিব তিনি নিজের সন্তান, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন, বাবা-মা সবকিছু ফেলে দেশের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠকে বেছে নিয়েছিলেন। পরিবারের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণ দেখি তাঁর লেখায়: ‘৮ ফেব্রুয়ারি ২ বৎসরের ছেলেটা এসে বলে, ‘আব্বা বালি চলো’। কি উত্তর ওকে আমি দিব। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম, ও তো বোঝে না আমি কারাবন্দী। ওকে বললাম, ‘তোমার মার বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো।’ ও কি বুঝতে চায়!..

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৬,৭৮৪.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  2. খ) কোকিলারা
  3. গ) এখনও ক্রীতদাস
  4. ঘ) ফলাফল নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' সেলিম আল দীন রচিত নাটক। 
'ফলাফল নিম্নচাপ' মমতাজউদ্দিন আহমদ রচিত নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৮৫.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেয়ালের দেশ
  2. খ) সীমানা ছাড়িয়ে
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে৷
তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
'নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৯০) তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস৷
এই উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়৷
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস), সীমানা ছাড়িয়ে, নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ৷
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৬,৭৮৬.
বাংলা সাহিত্যে গিরিশচন্দ্র সেনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি-
  1. কুরআনের বঙ্গানুবাদ
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা
  3. আত্মজীবনী রচনা
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
⇒ তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

⇒ তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮৭.
'পারাপার' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই "কবিতাবলী" (১৯২৪-২৫)।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১),
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬),
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০),
- চলো যাই (১৯৬২),
- সাম্প্রতিক (১৯৬৩)।

তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।

৬,৭৮৮.
শওকত ওসমান তাঁর লিখিত কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার পেয়েছিলেন?
  1. জননী
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. বনী আদম
  4. জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৮৯.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ’- রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবুল মনসুর
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ হলোঃ ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’(১৯৬৮), ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)। আত্মজীবনী – আত্মকথা। শিশু সাহিত্যেঃ মুসলমানী কথা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া, গালিভারের সফরনামা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৬,৭৯০.
নিচের কোনটি ‘খোয়াবনামা’ - উপন্যাসের প্রেক্ষাপট?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. ফকির-সন্যাসী আন্দোলন
  3. ১৯৪৩ সালে মন্বন্তর
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
উপন্যাসটির বিসষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্য সহ
- ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিখুঁতভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭৯১.
"ভায়া লাফ দেয় তিন হাত, হেসে গান গায় দিন রাত” ছড়াটি কার সম্পর্কে?
  1. জসীম উদ্দিন
  2. পাগলা কানাই
  3. লালন শাহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কবি গোলাম মোস্তফা কর্তৃক রচিত 'ভায়া লাফ দেয় তিন হাত, হেসে গান গায় দিন রাত' ছড়াটি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে।

• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯২.
কবি কায়কোবাদের আসল নাম কি?
  1. ক) কাজেম আল কোরায়েশী
  2. খ) কাসেম আল কোরায়েশী
  3. গ) কায়কোবাদ আল কোরায়েশী
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী। তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট রচনা করেন। তার কাব্যগ্রন্থ-- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশশ্মান (মহাকাব্য) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৭৯৩.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রূপকথা
  2. কুঁচবরণ কন্যা
  3. ধরিত্রী
  4. মৃগপরী
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম 'ইসলাম দর্শন' পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর (১৯৩০),
- অনুরাগ (১৯৩২),
- পদ্মানদীর চর (১৯৫৩),
- মধুমতীর চর (১৯৫৩),
- ধরিত্রী (১৯৭৫); ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা;
- ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কৃচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৪.
‘চৌচির’ উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আবু ইসহাক
  2. আবুল ফজল
  3. আল মাহমুদ
  4. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ‘চৌচির’ উপন্যাসের লেখক: 'আবুল ফজল'।
- এটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------- 
কবি পরিচিতি:
আবুল ফজল ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৩০ সালে এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৫.
'না প্রেমিক না বিপ্লবী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণকে। প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, কবিতা অমীমাংসিত রমণী, বাংলার মাটি বাংলার জল, চাষাভুষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, শিয়রে বাংলাদেশ, মুঠোফোনের কাব্য, নিশিকাব্য ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৭৯৬.
‘ছন্দের জাদুকর’ বলা হয় কোন কবিকে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত' কে ‘ছন্দের জাদুকর’ বলা হয়। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২):
- কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ  অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন  তত্ত্ববোধিনী  পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন  ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- প্রথম জীবনে তিনি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন।
- পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।
- তিনি নানাবিধ ছন্দোনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।  
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তাঁরই।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- হোম শিখা,
- ফুলের ফসল,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায়-আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন,
- শিশু-কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৭৯৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আমার ছেলেবেলা
  2. খ) গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. গ) তৃণাঙ্কুর'
  4. ঘ) মৌরীফুল
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তৃণাঙ্কুর'।  
প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালে। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালি
- অপরাজিত
- দৃষ্টি প্রদীপ
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- ইছামতী

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার
- মৌরীফুল
- যাত্রাবদল
- কিন্নরদল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৭৯৮.
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পঞ্চপান্ডবের অন্যতম কবি ছিলেন।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'তন্বী'।
• কাব্যটি তিনি রবীন্দ্রনাথের শ্রীচরণে উৎসর্গ করেন।
• তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ক্রন্দসী,
- অর্কেস্ট্রা,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- প্রতিদিন,
- দশমী,
- প্রতিধ্বনি,
- সংবর্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৭৯৯.
'আব্দুল্লাহ্’ উপন্যাসটি কার?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) ইমদাদুল হক
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

- কাজী ইমদাদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস 'আব্দুল্লাহ্'।
- তাঁর রচিত কাব্য: আঁখিজল ও লতিকা।
- প্রবন্ধমালা তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
- নবীকাহিনী তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৮০০.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় বই -
  1. ক) ভ্রান্তিবিলাস
  2. খ) কথোপকথন
  3. গ) পথ্যপ্রদান
  4. ঘ) হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা
কলকাতা ও শ্রীরামপুর এলাকার নানা শ্রেণির মুখের ভাষা রচিত গ্রন্থ হচ্ছে কথোপকথন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় বই এটি। উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ