বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৬৭ / ৭৭ · ৬,৬০১৬,৭০০ / ৭,৬৪৬

৬,৬০১.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপ দেন কে?
  1. ক) ঋত্বিক ঘটক
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) গৌতম ঘোষ
  4. ঘ) ঋতুপর্ণ ঘোষ
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন  সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
তিনি  ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে বিভক্ত।
- উপন্যাসটি মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
৬,৬০২.
'তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষাগরু'- এই কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত "নীলকর" নামক বিখ্যাত কবিতায় মহারানী ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে বলেছেন: 

"তুমি মা কল্পতরু আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাঁকানো
কেবল খাবো খোল বিচিলি ঘাষ॥ ...
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব 
ঘুষি খেলে বাঁচব না।"

----------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, ঈশ্বর গুপ্ত রচনাবলী-ড.  শ্রীশান্তিকুমার দাশগুপ্ত। 
৬,৬০৩.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো - যার যেথা দেশ, অজ্ঞাতবাস, কঙ্কাবতী, দুঃখমোচন, মর্তের স্বর্গ, অপসরণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬০৪.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থটি কী ধরনের রচনা?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক উপাখ্যান
  3. সামাজিক নাটক
  4. আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। চরিত্র: দনুবানু।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬০৫.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  3. গ) বহিপীর(নাটক)
  4. ঘ) মহাশ্মশান (নাটক)
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- 'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সামাজিক নাটক।  
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত 
- নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’ (মরণোত্তর, ১৯৮৩) লাভ করেন। 
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক: 
তরঙ্গভঙ্গ 
সুড়ঙ্গ 
উজানের মৃত 

অন্যদিকে,
কবি জসীম উদদীনের কাহিনীকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস- কাঁদো নদী কাঁদো,
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৬,৬০৬.
“রাত্রিশেষ” কী ধরনের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা

কবি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

৬,৬০৭.
”অসমাপিকা” উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৬০৮.
কোন বিশ্ববিদ্যালয় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীকে ডি.লিট উপাধি প্রদান করেন?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভকরেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬০৯.
প্রথম কোন বৈয়াকরণিক বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  3. মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০) ছিলেন প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক। তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন। এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

- তিনি শেরিডনের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় The Love Epistles of Aristaenetus শীর্ষক গ্রন্থটি গ্রিক ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে বেশ খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেন। অনুবাদ এমনই অনবদ্য ও জনপ্রিয় ছিল যে, চার বছরে গ্রন্থটির তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

- তাঁর A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ভাষায় রচিত আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ বই। এটি বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ।

- হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gento Laws, or Ordinations of the Pundits। গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৬১০.
‘লালসালু’ উপন্যাসে অশীতিপর বৃদ্ধ কে?
  1. আক্কাসের বাপ
  2. সলেমনের বাপ
  3. তাহের-কাদেরের বাপ
  4. পির সাহেব 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: সলেমনের বাপ।

• 'লালসালু' উপন্যাসের অংশবিশেষ:

শীর্ণ লোকটি চীৎকার করে গালাগাল করে লোকদের। খালেক ব্যাপারী ও মাতব্বর রেহান আলী ছিল। জোয়ান মদ্দ কালু মতি, তারাও ছিল। কিন্তু লজ্জায় তাদের মাথা হেঁট। নবাগত লোকটির কোটরাগত চোখে আগুন। 
–আপনারা জাহেল, বেএলেম, আনপাড়হ। মোদচ্ছের পীরের মাজারকে আপনারা এমন করি ফেলি রাখছেন?

গ্ৰাম থেকে একটু বাইরে একটা বৃহৎ বাঁশঝাড়। মোটাসোটা হলদে তার গুঁড়ি। সেই বাঁশঝাড়ের ক-গজ ওধারে একটা পরিত্যক্ত পুকুরের পাশে ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে আছে গাছপালা। যেন একদিন কার বাগান ছিল সেখানে। তারই একাধারে টালখাওয়া ভাঙা এক প্ৰাচীন কবর। ছোট ছোট ইটগুলো বিবৰ্ণ শ্যাওলায় সবুজ, যুগযুগের হাওয়ায় কালচে। ভেতরে সুড়ঙ্গের মতো। শেয়ালের বাসা হয়তো। ওরা কী করে জানবে যে, ওটা মোদাচ্ছের পীরের মাজার?

সভায় অশীতিপর বৃদ্ধ — সলেমনের বাপও ছিল। হাঁপানির রোগী। সে দম খিঁচে লজ্জায় নত করে রাখে চোখ।
----------------

 "লালসালু" উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 

• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  "লালসালু" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬১১.
কোন কবিকে স্বভাব কবি নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মনোজ বসু
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস  ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

• কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কে গণমানুষের কবি বলা হয়।
• আবদুল করিম কে সাহিত্যবিশারদ বলা হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬১২.
'ছিন্নমুকুল' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

- স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- ছিন্নমুকুল,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- কাহাকে,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বিবাহ উৎসব,
- দেব কৌতুক,
- বসন্ত উৎসব।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৬১৩.
'বটতলার উপন্যাস' গ্রন্থের লেখকের নাম কী?
  1. ক) দিলারা হাশেম
  2. খ) রাজিয়া খান
  3. গ) রিজিয়া রহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
রাজিয়া খান আমিন মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করলেও সাহিত্যের অঙ্গনেও তাঁর সমান পদচারণা ছিল।
- সাহিত্যকর্মে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালে।
- তাঁর সাড়া জাগানো বই ‘বটতলার উপন্যাস’।
- উপন্যাস, গল্প, নাটক ও কবিতাসহ সাহিত্যের সবগুলো শাখায় তার সমান পদচারণা ছিল।
- রাজিয়া খান আমিনের ছাত্র এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলছিলেন বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করে সেটি প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরা তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
- অধ্যাপক ইসলাম মনে করেন রাজিয়া খান আমিন তাঁর ‘বটতলার উপন্যাস’–এর মাধ্যমে সাহিত্যে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বিবিসি নিউজ।
৬,৬১৪.
'রামেশ্বরের অদৃষ্ট' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা

- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহোদর।
- 'পালামৌ' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।

তাঁর রচিত গল্পঃ
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট,
- দামিনী।


তাঁর রচিত প্রবন্ধঃ
- যাত্রা,
- বৈজিকতত্ত্ব,
- বাল্যবিবাহ,
- সৎকার,
- বৃত্রসংহার।

তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জালপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৬১৫.
'সোনালী শিশির' কোন ধরনের রচনা? 
  1. নাটক
  2. গল্প
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• "সোনালী শিশির" একটি ছোটগল্প। এটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা একটি গল্প।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬১৬.
"যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. হেলাল হাফিজ
  3. আল মাহমুদ
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - হেলাল হাফিজ।

'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

হেলাল হাফিজ:

- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬১৭.
'নূরজাহান ও সাজাহান' ঐতিহাসিক নাটকদ্বয় কার রচনা?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'নুরজাহান' নাটক:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত 'নুরজাহান' নাটক ১৩১৪ সাল ১লা চৈত্র শনিবার প্রথম মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশকালে এর মূল্য ছিল দ্বি টাকা আট আনা। 

- নাটকের উৎসর্গপত্রে লিখা ছিল: বঙ্গসাহিত্যের গুরুহিন্দুর হিন্দুত্বের প্রতিষ্ঠাতা প্রাজ্ঞ, মনীষী, দেশভক্ত, স্বধৰ্ম্মব্রত ভারতের গৌরব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সি, আই, ই-র পুণ্যস্মৃতি উদ্দেশে এই সুরজাহান নাটক উৎসর্গীকৃত হইল। 

-----------------
• 'সাজাহান' নাটক:
- 'সাজাহান' নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। 
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------
তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: 'নুরজাহান' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬১৮.
বিখ্যাত উপন্যাস 'বিষাদ-সিন্ধু' এর চরিত্র কোনটি?
  1. ক) মোতালেব
  2. খ) মজিদ
  3. গ) ইয়াজিদ
  4. ঘ) ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস 'বিষাদ-সিন্ধু'। 
- তাঁর খ্যাতি মূলত এই গ্রন্থটির জন্যই। 
- 'বিষাদ-সিন্ধু' একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ৩ টি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে। 
সেগুলো হচ্ছে:
- মহরম পর্ব্ব (১৮৮৫)
- উদ্ধার পর্ব্ব (১৮৮৭)
- এজিদ-বধ পর্ব্ব (১৮৯১)
- বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।

- মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র ইব্রাহিম কার্দি ।
- 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -  মজিদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬১৯.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. মেঘনাধবধ
  2. বিষাদ সিন্ধু
  3. মহাশ্মশান
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
রক্তাক্ত প্রান্তর:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা, আহমদ শাহ আবদালি, নজীবউদ্দৌলা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।
 
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৬২০.
নীলিমা ইব্রাহিম কত সালে বেগম রোকেয়া পদক লাভ করেন ?
  1. ক) ১৯৬৯ সালে
  2. খ) ১৯৯৬ সালে
  3. গ) ২০০০ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
নীলিমা ইব্রাহিম সমাজকর্ম ও সাহিত্যে অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য বহু পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।
সেগুলি হলো:
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৯),
- জয়বাংলা পুরস্কার (১৯৭৩),
- মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (১৯৮৭),
- লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯),
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্মৃতিপদক (১৯৯০),
- অনন্য সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬),
- বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬),
- বঙ্গবন্ধু পুরস্কার (১৯৯৭),
- শেরে-বাংলা পুরস্কার (১৯৯৭),
- থিয়েটার সম্মাননা পদক (১৯৯৮) ও
- একুশে পদক (২০০০)।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৬,৬২১.
'হিতপ্রভাকর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত 'হিতপ্রভাকর' ও 'বোধেন্দুবিকাশ' প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬২২.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) এখনও ক্রীতদাস
  2. খ) মানব তোমার সারা জীবন
  3. গ) হায় পার্বতী
  4. ঘ) খলনায়ক
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস হলোঃ’ মানব তোমার সারা জীবন’, ‘হায় পার্বতী’, ‘খলনায়ক’। ‘এখনও ক্রীতদাস’ হলো নাটক।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৬,৬২৩.
‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬২৪.
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত 'জায়জঙ্গল' উপন্যাসের উপজীব্য কোনটি?
  1. গারো পাহাড় অঞ্চল
  2. পদ্মানদীর তীরবর্তী অঞ্চল
  3. শাহপরীর দ্বীপ
  4. সমুদ্রতীরবর্তী শ্বাপদসংকুল সুন্দরবন অঞ্চল
ব্যাখ্যা
জায়জঙ্গল:
- সুন্দরবনের জনবিরল বনজঙ্গলঘেরা পরিবেশে 'জায়জঙ্গল' (১৯৭৩) উপন্যাস রচিত। সে দিক থেকে এটিকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা চলে।
- উপন্যাসের একটি চরিত্রও সুন্দরবন অঞ্চলের নয়, উপন্যাসের পটভূমিই কেবল সুন্দরবন। তবে এ অঞ্চলের বর্ণনা দিতে ঔপন্যাসিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। 
- যে মানুষগুলোর চিত্র এ উপন্যাসে আছে তারা সেটেলার; জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের চাপে তারা পিতৃপুরুষের নিবাসভূমি পরিত্যাগ করে সমুদ্রতীরবর্তী শ্বাপদসংকুল সুন্দরবন অঞ্চলে বাস করতে বাধ্য হয়েছে। 
- ফেরারি খুনি, জেলপলাতক আসামি, গোপন বিপ্লবী, পলাতক প্রেমিক-প্রেমিকারা একত্র হয়ে গড়ে তোলে 'জায়জঙ্গলে'র জগৎ। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়নাল শেখ, মিন্নত আলি, যুবতী সাজু, মহাজন জলিল মিয়া। 
- উপন্যাসের ঘটনা উপস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে লেখক মৎস্যশিকার, নানা বিশ্বাস-অবিশ্বাস, জাদু-টোনা ইত্যাদির মাধ্যমে আঞ্চলিকতা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা, 
- কাশবনের কন্যা, 
- কাঞ্চনমালা, 
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬২৫.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি।
- ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:

- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- যাত্রা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬২৬.
'বিদ্যোৎসাহিনী' পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন-
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
• কালীপ্রসন্ন শিল্প ও সংস্কৃতির, বিশেষত নাট্যসাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নাটক ও যাত্রার মাধ্যমে সামাজিক জ্ঞান বৃদ্ধির মানসে তিনি বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চ (১৮৫৬) প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রথম মঞ্চস্থ হয় 'বেণীসংহার' নাটক এবং কালীপ্রসন্ন স্বয়ং এতে অভিনয় করেন।

• ১৮৫৭ সালে তিনি কালিদাসের সংস্কৃত নাটক বিক্রমোর্বশীয় অনুবাদ করেন এবং ১৮৫৮ সালে তিনি রচনা করেন 'সাবিত্রীসত্যবান' নাটক। বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চে উভয় নাটকই মঞ্চস্থ হয় এবং তিনি দুটিতেই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

• তৎকালীন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি সাময়িকী প্রকাশ করেন: বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫), সর্বতত্ত্ব প্রকাশিকা (১৮৫৬) এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ। তিনি নিজ সম্পাদনায় কিছুদিন পরিদর্শক নামে একটি দৈনিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। প্রসিদ্ধ হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্ধের উপক্রম হলে কালীপ্রসন্ন প্রচুর অর্থ সাহায্য দিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় বাঁচাতে সহায়তা করেন। 

• প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে। বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। এটি বাংলা সাহিত্যেরও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বিস্ময়ের ব্যাপার যে, কালীপ্রসন্ন মাত্র ত্রিশ বছরের জীবনে তাঁর এ সকল কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৮৭০ সালের ২৪ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৬২৭.
‘লালসালু’ কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) ব্যাঙ্গধর্মী
  4. ঘ) পত্রোপন্যাস
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- কাঁদো নদী কাঁদো
- চাঁদের অমাবস্যা।

তাঁর রচিত নাটকঃ
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- নয়নচারা ,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৬২৮.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) নয়নচারা
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) কাঁদো নদী কাঁদো
  4. ঘ) উজানে মৃত্যু
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন  কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন। 

ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬২৯.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  3. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ হলো মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দ্বারা রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়। এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য হলো গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন করা।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ খ্রিস্টান ধর্মযাজক। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনার আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি। ১৭৪৩ সালে, তিনি দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
এগুলো হলো-
- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৩০.
কলকাতার নানা শ্রেণির মুখের ভাষা রচিত গ্রন্থ হচ্ছে-
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) পথ্যপ্রদান
  3. গ) ভ্রান্তিবিলাস
  4. ঘ) হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা
কলকাতা ও শ্রীরামপুর এলাকার নানা শ্রেণির মুখের ভাষা রচিত গ্রন্থ হচ্ছে কথোপকথন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় বই এটি। উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ
৬,৬৩১.
'টুনটুনির বই' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
ব্যাখ্যা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫)  প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
-  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
উপেন্দ্রকিশোর শিশুকিশোরদের জন্য বহুসংখ্যক সাহিত্য পুস্তক রচনা করেছেন,
এর মধ্যে উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন। 

- তাঁর কন্যা সুখলতা রাও ও পুণ্যলতা চক্রবর্তী এবং পুত্র  সুকুমার রায় ও সুবিনয় রায় পরবর্তীকালে শিশুসাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেন। বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পৌত্র (সুকুমার রায়ের পুত্র)।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৩২.
'কৃষ্ণপক্ষ' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

উল্লেখ্য,
- 'কৃষ্ণপক্ষ' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস। 

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৩৩.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. রূপাই 
  2. রতন 
  3. নিতাই
  4. অমল 
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসসূমুহ হলো:
- আরোগ্য নিকেতন,
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৩৪.
'সারাদুপুর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আবদুল কাদির
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• 'সারাদুপুর':
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম - 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।
- কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ :
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৩৫.
'মেথর' - কবিতার কবি কে?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালে কলকাতার নিমতাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত ছিলেন কবি। ‘ছন্দের রাজা’ ও ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে তিনি খ্যাত ছিলেন। তাঁর বহু আলোচিতা কবিতা - 'মেথর'।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগুলো: 
- সবিতা
- সন্ধিক্ষণ
- বেণু ও বীণা
- কুহ ও কেকা
- অভ্র আবীর
- হসন্তিকা
- বেলা শেষের গান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৩৬.
'কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশতলে মেশে'। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই উক্তিটির মাধ্যমে কী বুঝিয়েছেন?
  1. বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
  2. বাংলার সামাজিক জীবন
  3. বাংলার সবুজ মাঠ
  4. বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
• "এত স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধুম্র পাহাড়
কোথায় এমন হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে
এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।" - কবিতাংশটুকু কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ধন ধান্য পুষ্প ভরা কবিতার অংশবিশেষ। 

• কবিতাংশটুকুর অর্থ : 
- ‘হরিৎ’ অর্থ সবুজ বর্ণ।
- ‘ক্ষেত্র’ অর্থ চাষের জমি, খেত। 
- কবি এখানে হরিৎ ক্ষেত্র বলতে সবুজ মাঠকে বুঝিয়েছেন।
---------------------------- 
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৩৭.
"এই খেদ আমার মনে-
ভালোবেসে মিটল না এ সাধ, কুলাল না এ জীবনে!
হায়- জীবন এত ছোট কেনে?
এ ভুবনে।"
কোন উপন্যাস থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে?
  1. শ্রীকান্ত
  2. পুতুল নাচের ইতিকথা
  3. অপরাজিত
  4. কবি
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ - 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেন? এই ভুবনে। '

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- কালিন্দী
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা

উৎস : বাংলাপিডিয়া ও কবি উপন্যাস।

৬,৬৩৮.
আহমদ ছফা রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস কোনটি?
  1. গাভী বিত্তান্ত
  2. ওঙ্কার
  3. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
  4. অলাতচক্র
ব্যাখ্যা

• ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ উপন্যাসে লেখকের ব্যক্তিজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির প্রতিফলন থাকায় এটিকে আত্মজৈবনিক উপন্যাস বলা হয়।

• 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাস:

- আহমদ ছফার দুই খণ্ডে সমাপ্ত আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' একটি অসাধারণ প্রেমের উপন্যাস। উপন্যাসটি ‘প্রাণপূর্ণিমার চান’ নামে সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী'। 

- নর-নারীর প্রেম হলো সবচাইতে জটিলতম শিল্পকর্ম। প্রেমজ একটি অঙ্গীকার না থাকলে প্রেমের কাহিনি বয়ান করা যায় না। আহমদ ছফা 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাসের প্রথম খণ্ডটিতে প্রেমজ অঙ্গীকার নিয়েই প্রেমের কথা বলেছেন।

- লেখক একেকটি নারী চরিত্রকে এমন জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন, নারীদের মনো-জগতের এমন উন্মোচন ঘটিয়েছেন; গ্রন্থটি পাঠ করলে মনে হবে জীবনের করুণতম অভিজ্ঞতার উৎস থেকেই জন্ম লাভ করেছে এই সমস্ত চরিত্র।

- প্রেমে পড়ার জন্য যেমন সৎ, একনিষ্ঠ হৃদয়বৃত্তির প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন প্রেমের কথা বয়ান করার জন্য আরেক ধরনের নিষ্ঠা এবং সততার। শক্তির সঙ্গে সততার সম্মিলন সচরাচর ঘটে না। আহমদ ছফা এই অনুপম রচনাটিতে সেই আপাত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন।

-----------------------
আহমদ ছফা রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৬,৬৩৯.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯৩৯ সালে
  4. ১৯৪৯ সালে
  5. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।
এছাড়াও, 
'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস। 
৬,৬৪০.
পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষ্যে সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন?
  1. গীতিগুচ্ছ
  2. ছাড়পত্র
  3. হরতাল 
  4. আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৪১.
'আব্দুল্লাহ্' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) ইমদাদুল হক মিলন
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- আব্দুল্লাহ্।
'আঁখিজল' ও 'লতিকা' তাঁর রচিত কাব্য। 'প্রবন্ধমালা' তাঁর রচিত প্রবন্ধ এবং 'নবীকাহিনী' তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৪২.
'বিজয়া ও নরেন' চরিত্র দুটি শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) দত্তা
  2. খ) বড়দিদি
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• ‘দত্তা’ উপন্যাস:
- ‘দত্তা’(১৯১৮) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সুখপাঠ্য প্রেমের উপন্যাস।
- ১৩২৪-২৫ বঙ্গাব্দে ‘ভারতবর্ষে’ প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসটি ‘বিজয়া’ (১৯৪৩) নামে নাট্যায়িত হয়। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৪৩.
'অরণ্য নীলিমা' আহসান হাবীবের রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• ‘অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:   
• আহসান হাবীবের রচিত 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। 
• উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়। 
• 'রাণীখালের সাঁকো' তাঁর রচিত আরেকটি উপন্যাস।  

• আহসান হাবীব:  
• কবি ও পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। 
• ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
• তিনি 'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।  
• কলকাতায় তিনি তকবীর, বুলবুল ও সওগাত পত্রিকায় কাজ করেন। 

- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
⇒ তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:   
• ছায়াহরিণ,
• সারা দুপুর,
• আশায় বসতি,
• মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
• দুহাতে দু আদিম পাথর,
• প্রেমের কবিতা,
• বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

⇒ এছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: 
• জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
• বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
• ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৪৪.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জীবন আমার বোন
  2. নূরলদীনের সারাজীবন
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী।

অন্যদিকে,
• "নূরলদীনের সারাজীবন" সৈয়দ শামসুল হকের লেখা একটি কাব্যনাটক, যা ব্রিটিশ আমলে ১৭৮৩ সালের রংপুর কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' হলো আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি বিখ্যাত মহাকাব্যিক উপন্যাস, যা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য।

---------------
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।

৬,৬৪৫.
’জন্ডিস’ একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্প সংকলন
ব্যাখ্যা
• জন্ডিস কোন রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষ্মণমাত্র।
- রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়।

• যেহেতু অপশনে সাহিত্য সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, ধারনা করা যায় যে, এটি ’জন্ডিস’ এর পরিবর্তে ''জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন'' বুঝানো হয়েছে।

• 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক।
সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব।

সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা, যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৪৬.
‘হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে?’ উক্তিটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কালিন্দী
  2. আরোগ্য নিকেতন
  3. কবি
  4. গনদেবতা
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
-  উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে। '

------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
৬,৬৪৭.
আবুল হাসান রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ওরা কয়েকজন
  2. খ) ওরা এগারো জন
  3. গ) রাজা রাজ্য রাজধানী
  4. ঘ) সত্যের সন্ধানে
ব্যাখ্যা
'ওরা কয়েকজন' আবুল হাসান রচিত কাব্যনাট্য।  
- এটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে। 

 কবি ও সাংবাদিক আবুল হাসান এর জন্ম ৪ঠা অগস্ট ১৯৪৭৷

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- যে তুমি হরণ করাে (১৯৪৭),
-  পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৬৪৮.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশ ভাগ
  2. খ) সামরিক শাসক
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস – ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস –
- জাহান্নম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৪৯.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. জীবনানন্দ দাশ 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত 'সারদামঙ্গল' কাব্য পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত করেন।

------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৫০.
'ইঁদুর' ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. সুকুমার রায়
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• 'ইঁদুর' ছোটগল্পটির রচয়িতা - সোমেন চন্দ।

সোমেন চন্দ:

- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৫১.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা নয়?
  1. চতুরঙ্গ
  2. চয়নিকা
  3. জীবনস্মৃতি
  4. সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস- চতুরঙ্গ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।

• 'চয়নিকা' রচনা সংকলন:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম রচনা সংকলন 'চয়নিকা'। 
- প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এলাহবাদের ইন্ডিয়ান প্রেস থেকে পাঁচকরি মিত্র কর্তৃক মুদ্রিত এবং শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত। 
- প্রথম সংস্করণে ১৩০ টি কবিতা ছিল। 

• 'জীবনস্মৃতি' আত্মজীবনী:
- 'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এখানে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত কালের কাহিনি ও ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। 
- আত্মজীবনী রচনার প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এ গ্রন্থে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন।

অন্যদিকে,
• 'সংস্কৃতির সংকট' — বদরুদ্দীন উমর রচিত একটি প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।  

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩. বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৫২.
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আল মাহমুদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

⇒ আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৫৩.
'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. শওকত আলী
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' রচনা করেন ' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ'।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ইতিহাস-সচেতন কবি। ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতায় তিনি যখন বলেন:

‘আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে—
এ—দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?’

তখন তাঁর কবিস্বরূপ আপনাতেই ধরা পড়ে। তাঁর এ সংগ্রামী চেতনা পাঠককে বর্তমানের নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে ভবিষ্যতের দিকে।

---------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ :
- ছোবল,
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার,
- উপদ্রুত উপকূলইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৫৪.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) সমাচার দর্পন
  2. খ) দিগদর্শন
  3. গ) বেঙ্গল গেজেট
  4. ঘ) বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা

জন ক্লার্ক মার্শম্যান (১৮ আগস্ট, ১৭৯৪ ৮ জুলাই, ১৮৭৭) : তিনি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি, ইতিহাসবিদ এবং সাংবাদিক। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।  
• ১৮১৮ সালে জন ক্লার্ক মার্শম্যান তাঁর বাবার সাথে যৌথভাবে “দিগদর্শন” নামে প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটির উপজীব্য বিষয় ছিল - যুবসমাজের প্রতি শিক্ষামূলক উপদেশ।
• তাছাড়া ১৮১৮ সালেই তাঁরা “সমাচার দর্পণ” নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশনা শুরু করেন।

সোর্সঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৬৫৫.
”ইছামতী” উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

•”ইছামতী” উপন্যাসের রচয়িতা- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৫৬.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শহীদ কাদরী
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সমর সেন
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা শহীদ কাদরী।

• উত্তরাধিকার:

- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'- এ (১৯৬৭)।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙ্‌ক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

• শহীদ কাদরী:
- শহীদ কাদরী ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- শহীদ কাদরী ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- শহীদ কাদরী ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ),
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৫৭.
'সভ্যতা' ও 'সুখ' গদ্যগ্রন্থগুলির রচয়িতা কে?
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) নিলীমা ইব্রাহিম
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মােতাহের হােসেন চৌধুরী:
তিনি মূলত বিশিষ্ট গদ্যশিল্পী ছিলেন।
তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলাের নাম :
- সংস্কৃতি-কথা (১৯৫৮)
- সভ্যতা (১৯৬৫)
- সুখ (১৯৬৮)

তিনি সংস্কৃতি সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানববাদী সংজ্ঞার্থ দেন 'সংস্কৃতি-কথা' প্রবন্ধে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬,৬৫৮.
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. নানাকথা
  2. আত্মকথা
  3. বিচিত্র কথা
  4. নানাচর্চা
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী রচিত গ্রন্থ নয় ‘বিচিত্র কথা‘।
• ‘বিচিত্র কথা’ জয়ন্তী অধিকারী রচিত একটি প্রবন্ধ সংকলন

⇒ প্রমথ চৌধুরী:

- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৫৯.
নিচের কোনটি আবুল ফজলের দিনলিপি মূলক গ্রন্থ?
  1. ক) প্রগতি
  2. খ) আত্মলিপি
  3. গ) রেখাচিত্র
  4. ঘ) আত্মকাহিনী
ব্যাখ্যা

আবুল ফজলের দিনলিপিঃ রেখাচিত্র।
নাটকঃ প্রগতি, আত্মকাহিনী, স্বয়ম্বরা, কায়েদে আজম।
গল্পগ্রন্থঃ মাটির পৃথিবী, মৃতের আত্মহত্যা ইত্যাদি।
তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার (১৯৩১) সম্পাদক ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৬৬০.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকে জোহরা বেগমের স্বামীর নাম কী?
  1. কার ফরমার
  2. নজিবউদ্দৌলা
  3. ইব্রাহিম কার্দি
  4. দনুবাবু
ব্যাখ্যা
রক্তাক্ত প্রান্তর:
- এটি মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থ থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ।
- নাটকে ইব্রাহীম কার্দির স্ত্রী জোহরা বেগম। 
- নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’।  

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৬১.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থ "বাংলা সাহিত্যের কথা" কে রচনা করেছেন?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন 
  2. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. আশুতোষ মুখোপাধ্যায় 
  4. সুকুমার সেন 
ব্যাখ্যা
• ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম- বাংলা সাহিত্যের কথা।

• গ্রন্থটি একাধিক সংস্করণে প্রকাশিত হয়:
- প্রথম সংস্করণ-এপ্রিল, ১৯৫৩।
- দ্বিতীয় নতুন সংস্করণ-এপ্রিল, ১৯৬৩
- তৃতীয় পরিমার্জিত সংস্করণ-কার্তিক ১৩৭৩ (অক্টোবর ১৯৬৬)
- চতুর্থ পরিবর্ধিত নূতন সংস্করণ-শ্রাবণ ১৩৭৫ (জুলাই ১৯৬৮)

-----------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ,
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়,
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন,
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের কথা (প্রথম খণ্ড)
৬,৬৬২.
এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) গুলদাস্তা
  2. খ) ভবিষ্যতের বাঙালি
  3. গ) জীবনের শিল্প
  4. ঘ) প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'গুলদাস্তা'।
- এর প্রকাশকাল ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ।
- এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 

শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: 
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),

গল্প:
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০);

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৬৩.
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ডাহুকী
  2.  কাবিলের বোন
  3. বখতিয়ারের ঘোড়া
  4. আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস নয়- বখতিয়ারের ঘোড়া। 
- 'বখতিয়ারের ঘোড়া' আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

-----------------
• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদ একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- প্রহরান্তে পাশফেরা,
- একচক্ষু হরিণ,
- মিথ্যাবাদী রাখাল,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৬৪.
'তাপসমালা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
'তাজকেরাতুল আওলিয়া' অবলম্বনে ৯৬ জন মুসলিম সাধকের জীবনচরিত নিয়ে 'তাপসমালা' রচনা করেন গিরিশচন্দ্র সেন

গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৯১০) সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ তিনিই প্রথম করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৬৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) ধাত্রীদেবতা
  2. খ) গণদেবতা
  3. গ) কবি 
  4. ঘ) পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা
-তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস হলো: ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

- “ কবি” উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ডোম সম্প্রধায়ের একজন যুবকের কবিরূপে প্রতিষ্ঠা
এবং দুটি নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের “জীবন এত ছোট ক্যানে” সংলাপটি ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
 - চৈতালী ঘূর্ণি
 - ধাত্রীদেবতা
 - গণদেবতা
 - পঞ্চগ্রাম
 - কালিন্দী
 - কবি
 -আরোগ্য নিকেতন
 - পঞ্চপুন্ডলী
 - রাধা
 - অরণ্যবহ্নি
 - একটি কালো মেয়ের কথা 
 - সুতপার তপস্যা


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৬৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কোন অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন?
  1. সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান
  2. সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান
  3. আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
  4. বাংলা একাডেমী ছোটদের অভিধান
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন। 
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।
---------------- 
- ১৯৫৫ সালে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে অভিধান চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।
- অভিধান ও শব্দকোষ মিলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাংলা একাডেমী প্রায় সত্তরটি অভিধান প্রকাশ করে। 
 
এসব অভিধানের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিধানের নাম:
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান — মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, 
- চরিতাভিধান — শামসুজ্জামান খান প্রমুখ,
- উচ্চারণ অভিধান — নরেন বিশ্বাস,
- সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান — আহমদ শরীফ,
- সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, দু-খণ্ড — আবু ইসহাক, ১৯৯৩ ও ১৯৯৮),
- বানান অভিধান — জামিল চৌধুরী,
- লেখক অভিধান — আশফাক-উল-আলম প্রমুখ,
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান — মোহাম্মদ আবদুল কাইউম প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৬,৬৬৭.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. গ) মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার প্রথম আঞ্চলিক অভিধান- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান। এই অভিধানটি রচনা করেছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের নাম- ভাষা ও সাহিত্য, বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, বাংলা সাহিত্যের কথা, গল্প সঞ্চয়ন, রকমারি, শেষ নবীর সন্ধানে, সেকালের রূপকথা, ছোটদের রাসুলুল্লাহ ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৬৬৮.
'গঙ্গা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।

- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।

- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন। জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।

- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।

- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৬৯.
'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন-
  1. শওকত ওসমান
  2. সত্যেন সেন
  3. শওকত আলী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
শওকত আলী একজন বাঙালি কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

 তাঁর রচিত  উপন্যাসঃ
- উত্তরের খেপ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ 

তাঁর রচিত গল্প:
- উন্মুল বাসনা 
- লেলিহান স্বাদ 
- শুন হে লক্ষিন্দর 
- বাবা আপনে যান  

তিনি ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে একুশে পদক লাভ করেন। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৭০.
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লিপিমালা
  2. খ) তোতা ইতিহাস
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ- কথোপকথন, ইতিহাসমালা। চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ তোতা ইতিহাস। রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ লিপিমালা এবং মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৭১.
‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ ইব্রাহীম খাঁ রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

----------------------------
• ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র:

- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইব্রাহীম খাঁ খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।
- তিনি ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন।
- সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি।
- তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন।
- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গেলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন।
- এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।
- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ইবরাহীম খাঁকে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

---------------------
• ইব্রাহীম খাঁ:
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', ইবরাহীম খাঁ।
৬,৬৭২.
রুশ বিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে আবুল হুসেন কোন প্রবন্ধ রচনা করেন?
  1. কৃষকের আর্তনাদ
  2. কৃষকের দুর্দশা
  3. কৃষি বিপ্লবের সূচনা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• রুশ বিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে আবুল হুসেন রচনা করেন- কৃষকের আর্তনাদ, কৃষকের দুর্দশা, কৃষি বিপ্লবের সূচনা।
--------------------- 
• আবুল হুসেন: 

- তিনি ১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস যশোরের কাউরিয়া গ্রামে। 
- তিনি প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- তিনি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- ঢাকায় যে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়' তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র 'শিখা' (১৯২৭-১৯৩১) সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- তিনি ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৭৩.
‘আগুনপাখি’ কোন অঞ্চলের মানুষকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে?
  1. কলকাতা
  2. বর্ধমান
  3. ঢাকা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

‘আগুনপাখি’ উপন্যাসে হাসান আজিজুল হক বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ঐ এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন, রাজনীতির প্রভাব এবং সাম্প্রদায়িকতা ফুটিয়ে তুলেছেন।

◊ ‘আগুনপাখি’:
- হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসটি বিংশ শতাব্দীর ভারত বিভাগের প্রেক্ষাপটে বর্ধমান অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি জীবনের নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসে বিশেষভাবে একটি গ্রামীণ পরিবারের উত্থান-পতন এবং দেশভাগের সময়কার ভয়াবহ পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে।
- কাহিনীটি মূলত এক সাধারণ গ্রাম্য গৃহিণীর দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মন্বন্তর এবং মানুষের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষার সংঘাত সুস্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়েছে।
- এর মাধ্যমে হাসান আজিজুল হক সাধারণ মানুষের সংগ্রামী জীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত আশা ও দুঃখকে গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে বর্ধমান জেলয় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছেন;
- যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক এবং ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক।
- তিনি ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ;
- নামহীন গোত্রহীন;
- পাতালে হাসপাতালে;
- জীবন ঘষে আগুন;
- আমরা অপেক্ষা করছি;
- রোদে যাবো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- বৃত্তায়ন;
- সাবিত্রী উপাখ্যান;
- আগুনপাখি;
- শিউলি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধসমূহ:
- অপ্রকাশের ভার;
- কথা লেখা কথা;
- কথাসাহিত্যের কথকতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

৬,৬৭৪.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'টুনি মেম' একটি -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. ছোটগল্পগ্রন্থ
  4. রম্য-রচনা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৭৫.
'বন্দর থেকে বন্দরে' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) শরৎচন্দ্র
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
বন্দর থেকে বন্দরে সানাউল হক রচিত রম্যরচনা। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- পদ্মিনী শঙ্খিনী, প্রবাসে যখন, বিরাশির কবিতা, উত্তীর্ণ পঞ্চাশ, নদী ও মানুষের কবিতা, সম্ভবা অনন্যা, সূর্য অন্যতর, বিচূর্ণ আর্শিতে, একটি ইচ্ছা সহস্র পালে, কাল সমকাল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৭৬.
আহসান হাবীব কোন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন?
  1. কোহিনূর
  2. ইত্তেফাক
  3. দৈনিক বাংলা
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব 'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন।

• আহসান হাবিব: 
- ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ :
- রাত্রিশেষ
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

অন্যদিকে,
- কোহিনূর পত্রিকার সম্পাদক -  মো: ইয়াকুব আলি  চৌধুরী।
- ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক - তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া।
- কবিতা পত্রিকার সম্পাদক - বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৭৭.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র কোনটি?
  1. ক) করমালী
  2. খ) কিশোর
  3. গ) সুবল
  4. ঘ) অনন্ত
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম- 'কিশোর'

তিতাস একটি নদীর নাম
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত। 
 - ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৭৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ইতিহাসগ্রন্থটির রচয়িতা কে?  
  1. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. মানোয়েল দা আসুম্পসাঁও
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ইতিহাসগ্রন্থ- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'। 
- এই ইতিহাসগ্রন্থটির রচয়িতা- দীনেশচন্দ্র সেন। 
--------------------------- 
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার সুয়াপুর গ্রামে।
- কিশোর বয়স থেকেই দীনেশচন্দ্র সাহিত্যপ্রেমী ছিলেন।
- ১৮৯৬ সালে পুথিসংগ্রহ ও পুথিপাঠের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনে নতুন পর্বের সূচনা ঘটে।

- ১৯১১ সালে তাঁর রচিত 'History of Bengali Language and Literature' প্রকাশিত হয়। 
- 'History of Bengali Language and Literature' গ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি পাশ্চাত্যের গবেষক ও সাহিত্য সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান।
- ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোশিপ’  লাভ করেন।
- ফেলোশিপ লাভের পর তিনি মৈমনসিংহ-গীতিসহ পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (চার খণ্ড, ১৯২৩-১৯৩২) সম্পাদনা করেন। 
- এছাড়া তিনি এর ইংরেজি অনুবাদ Eastern Bengal Ballads (চার খণ্ড, ১৯২৩-১৯৩২) ও সংকলন ও সম্পাদনা করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২১ সালে ভারত সরকার তাকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি প্রদান করে। 
-------------------------- 
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থ নিয়ে কিছু কথা-
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ইতিহাসগ্রন্থ।
- এটি রচনা করেছেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- ১৮৯৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সঙ্গে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে। 
------------------------
অন্যদিকে,

• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড- 
- বাংলা ভাষার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ গ্রন্থ হলো ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড-এর লেখা 'A Grammar of the Bengali Language'। 
- এটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ। 
- এর প্রকাশনার জন্য হ্যালহেড ভারতে প্রথম বাংলা মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেন। 

• মানোয়েল দা আসুম্পসাঁও-
-  ১৭৪৩ সালে মানোয়েল দা আসুম্পসাঁও পর্তুগিজ ভাষায় একটি ব্যাকরণ প্রকাশ করেছিলেন;
- তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না, বরং একটি অভিধানের অংশ ছিল।

• রাজা রামমোহন রায়-
- রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' নামে একটি বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশ করেন;
- যা ছিল তার লেখা ইংরেজি ব্যাকরণের বাংলা অনুবাদ এবং
- এটিই ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম।

৬,৬৭৯.
কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন ____ তারিখে।
  1. ক) ১২ ভাদ্র
  2. খ) ২৯ আগস্ট
  3. গ) ২৫ মে
  4. ঘ) ১১ জ্যৈষ্ঠ
ব্যাখ্যা
২৪ মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ,১৩০৬ বঙ্গাব্দ) কাজী নজরুল ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৬৮০.
আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
  2. স্বপ্নশিলা
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৮১.
'দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. ক) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) জোশুয়া মার্শম্যান
  4. ঘ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিজোরিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তরুণ হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৬ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। তিনি ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস পড়াতেন এবং তাঁর পাঠদানের পদ্ধতি ছিল তাঁর ধ্যান-ধারণার মতোই গতানুগতিকতামুক্ত।

হেনরি লুই ভিভিয়ানের সহায়তায় ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে হিন্দু কলেজের ছাত্রদের নিজস্ব একটি সাহিত্য ও বিতর্ক সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ সংঘ শ্রেণীকক্ষের বাধানিষেধের বাইরে ডিরোজিও-এর পরিচালনায় তরুণদের মনোযোগ আকর্ষণকারী বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীনভাবে আলোচনা করার একটি সাধারণ মিলনস্থানের সংস্থান করে।

ডিরোজিওর শিক্ষা ছাত্রদের মধ্যে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয় এবং তারা বিদ্যমান অবস্থা সম্পর্কে সন্দেহ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে। ডেভিড হিউম ও জেরেমি বেনথামের যুক্তিবাদী দর্শন ও টমাস পেইনের মতো প্রগতিবাদী চিন্তাবিদদের প্রভাবে তারা সবকিছুই যুক্তির মাপকাঠিতে বিচার করতে শুরু করে। ধর্মের প্রতি তাদের মনোভাব ছিল ভল্টেয়ারের মতো। 

রাধাকান্ত দেব এর (১৭৮৪-১৮৬৭) নেতৃত্বে রক্ষণশীল হিন্দুদের কর্তৃত্ত্বাধীন হিন্দু কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদের নজরে আনা হয়। ১৮৩১ সালের এপ্রিল মাসে ডিরোজিওকে হিন্দু কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। 

ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ সাধনের কাজেও ডিরোজিও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ‘ ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান’ নামে একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৮২.
‘কোকিলারা’ নাটকটির রচয়িতা -
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. সাইদ আহমদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪২-২০০৮): একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- প্রথম কোকিলা, দ্বিতীয় কোকিলা, তৃতীয় কোকিলা - ইত্যাদি নামে নাটকের চরিত্রগুলো চিত্রিত করা হয়েছে।
তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলোঃ
- শপথ (১৯৬৪),
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪),
- এখনও দুঃসময় (১৯৭৫),
- এবার ধরা দাও (১৯৭৭),
- শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪),
- এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪),
- কোকিলারা (১৯৯০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাঃ ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৮৩.
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচিত গল্প কোনটি?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ী
  2. বনমানুষ
  3. জাল
  4. জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'বনমানুষ' গল্প:
- ভারত বিভাগের আগে ১৯৪৬ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়েছিল, এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে 'বনমানুষ' গল্পটি লিখিত। গল্পটি লেখকের 'হারেম' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• গল্পের মূলভাব:
এ গল্পের লেখক বনবিভাগে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন। তিনি দ্বিগুণ বেতনে কলকাতায় চাকরি করতে আসেন। কলকাতায় এসে প্রথমে তাঁর নিজেকে সভ্য মানুষ মনে হতে থাকে। কিন্তু তিনি তখন সাম্প্রদায়িক হানাহানির মুখোমুখি হতে থাকেন। তিনি দেখেন এ শহরের মানুষেরা ধর্মের নামে পরস্পরকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। বনের পশুপাখিরাও এ রকম পরস্পরকে হত্যা করে না। তখন লেখক আবার বনবিভাগের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লেখকের কাছে এ শহরের সভ্য মানুষের চেয়ে বনে বসবাসকারী অশিক্ষিত মূর্খ মানুষকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়। 'বনমানুষ' গল্পটি সংকীর্ণ ধর্ম-পরিচয়মুক্ত মানবিক বোধসম্পন্ন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করে; কারণ ধর্ম নিয়ে মানুষে সংঘাত মানুষ পরিচয়টিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। কেননা জীব হিসেবে মানুষ অন্য সব প্রাণীর তুলনায় জ্ঞান, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতায় শ্রেষ্ঠ।

অন্যদিকে, 
• বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' (১৯৫৫)।
• আবু ইসহাকের তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
• আবু ইসহাক রচিত একমাত্র নাটক 'জয়ধ্বনি'।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম ও দশম শ্রেণি সাহিত্য পাঠ এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬,৬৮৪.
'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আব্দুল গাফফর চৌধুরি
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত প্রথম বইয়ের নাম এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের নাম- আবিষ্কারের নেশায়, বিজ্ঞান ও মানুষ, সাগরের রহস্যপুরী, তারার দেশের হাতছানি, বিজ্ঞানের বিস্ময়, শিক্ষা ও বিজ্ঞান: নতুন দিগন্ত, মহাকাশে কী ঘটছে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৮৫.
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' শহীদুল জহির রচিত কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক বিষয়ক প্রবন্ধ
  3. সমাজ সমস্যামূলক গবেষণা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির। এটি তাঁর রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- সোনায় মোড়ানো হাতের কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। বাংলা আখ্যানগদ্যের এমন অপূর্ব রূপ ও ভঙ্গি এর আগে তো ছিলই না, এখনও বিরল।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৮৫ সালে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাসিন্দা যুবক আব্দুল মজিদ রায়সাহেব বাজারে যাওয়ার পথে কারকুন বাড়ি লেন থেকে বের হয়ে নবাবপুর রোডে উঠলে তার ডান পায়ের স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে ফট্ করে ছিঁড়ে যায়। এভাবে এই কাহিনির শুরু। ৬২ পৃষ্ঠা পরে কাহিনির শেষে দেখা যায়, আব্দুল মজিদ দৈনিক ইত্তেফাকে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে তার বাড়িটি বিক্রি করে লক্ষ্মী লক্ষ্মীবাজার থেকে বসত উঠিয়ে চলে যায়, ফলে তার অস্তিত্বই যেন মুছে যায়।
কিন্তু শহীদুল জহির এইটুকু পরিসরে ফুটিয়ে তুলেছেন একাত্তরের নয় মাসে ঢাকা শহরের একটি মহল্লার সমগ্র জীবন। তখন কী ঘটেছিল, তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার দেড় দশক না পেরোতেই আব্দুল মজিদকে কেন তার বসতবাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যেতে হলো, এই নিদারুণ প্রশ্নের মধ্যে নিহিত রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির এক নিষ্করুণ বাস্তবতা।

উৎস: 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস।
৬,৬৮৬.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) ঘুম নেই
  4. ঘ) অভিযান
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৬৮৭.
'শিখা' পত্রিকার পঞ্চমতম সংখ্যা সম্পাদনা করেন কে?
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল ফজল
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।

• সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। এরাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল বুদ্ধির মুক্তি। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে। শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।

• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন। শিখার প্রতিটি সংখ্যায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ এবং সাহিত্য-সভায় পঠিত রচনা প্রকাশিত হত। শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

• প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৮৮.
‘কুরুক্ষেত্র’ কাব্য রচনা করেন -
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. কায়কোবাদ
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ‘কুরুক্ষেত্র’ কাব্য রচনা করেন - নবীনচন্দ্র সেন

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস,
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৮৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেয়াল
  2. জীবন
  3. সংকর সংকীর্তন
  4. পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে 'সংকর সংকীর্তন' উপন্যাসটি অন্তর্ভুক্ত।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯০.
'স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের সংসার পরিপূর্ণ।' - এই উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের সংসার পরিপূর্ণ।' - এই উক্তিটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর
- এটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের উক্তি।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে ১৯০৩ সালে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- ১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; সংস্কৃতি কথা, মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
৬,৬৯১.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) শামুসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা'  উপন্যাসটির রচয়িতা- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'। 

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯২.
'ডানপিটে শওকত' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৯৩.
’মৃত্তিকা’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ‘মৃত্তিকা’ গল্পগ্রন্থ লিখেছেন- প্রেমেন্দ্র মিত্র।

•  প্রেমেন্দ্র মিত্র:

- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে। 
- ১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয় এবং গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে।
- ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা মাসিক 'কালিকলম' সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯৪.
‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
 
------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা, সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  
 
• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯৫.
‘খাঁটি সোনা’ কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত বিখ্যাত দুটি কবিতা হলো ‘খাঁটি সোনা’ এবং ‘মেথর’।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
৬,৬৯৬.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সাজাহান
  2. নূরজাহান
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. সিংহলবিজয় 
ব্যাখ্যা

• 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটির ১৯০৯ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম প্রথম নাটক রচনা করেন।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে ‘Lyrics of Ind’ (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৯৭.
'স্মৃতির নোটবুক' কোন সাহিত্যিকের স্মৃতিকথা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আব্দুল কাদির
  3. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন,

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯৮.
কোনটি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. ক্ষুধা ও আশা
  4. মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

-------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• নাটক:
- নরকে লাল গোলাপ, 
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৯৯.
সুফিয়া খাতুন রচিত বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) প্রবাসের প্রাপ্তি
  2. খ) পথে প্রান্তরে
  3. গ) সােনা ঝরা দিন
  4. ঘ) জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ পুরস্কার প্রাপ্ত ভ্রমণকাহিণি ‘প্রবাসের প্রাপ্তি’ এর রচয়িতা সুফিয়া খাতুন

সুফিয়া খাতুন:
সুফিয়া খাতুন জন্ম মে ১৯২২ সালে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে। এই বিদুষী সংগ্রামী নারী সারাজীবন সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করেছেন।
- তারই প্রকাশ ঘটেছে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে' (২০০৫)-এ।
- শিশুদের জন্য রচনা করেছেন ‘সােনা ঝরা দিন’ (২০০৬)।
- দীর্ঘ তিন যুগ ধরে তাঁর পরিচিত পরিবেশ এবং নিকটজনদের নিয়ে কিছু সরস ও সহজবােধ্য কবিতা রচনা করেছেন। সেগুলাে মলাট বন্দি করেছেন ‘আপন ভুবন’ নামক কাব্যগ্রন্থে।
- জীবনের মনোরম দিনগুলি কাটিয়েছে প্রবাসী সন্তানদের সঙ্গে ইউকে ও ইউএসএ-তে।
- তারই দিনলিপির খসড়া প্রণয়ন ‘প্রবাসের প্রাপ্তি’।
- গ্রন্থটি ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। 
- ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ তিনি  মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে', সুফিয়া খাতুন এবং ।
৬,৭০০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের কোন গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন?
  1. দাদামশায়ের থলে
  2. খোকাবাবুর খেলা
  3. ঠাকুরমার ঝুলি
  4. কিশোরদের মন
ব্যাখ্যা
"ঠাকুরমার ঝুলি":
• "ঠাকুরমার ঝুলি" বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় রূপকথার সংকলন। এই গ্রন্থের সংকলক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠাকুরমার ঝুলির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন।

• জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

•  প্রথম গ্রন্থে বালকদের উপযোগী রূপকথা, দ্বিতীয় গ্রন্থে নারীদের ব্রতকথা, তৃতীয় গ্রন্থে মালঞ্চমালা, পুষ্পমালা প্রভৃতি গীতিকথা এবং চতুর্থ গ্রন্থে বৈঠকি গল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থসমূহ পূর্ববঙ্গের পল্লী এলাকার কথাসাহিত্যকে বাংলা সাহিত্যে এক স্থায়ী আসন দান করেছে।

-----------------
দক্ষিণারঞ্জনের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- ঠানদিদির থলে,
- দাদামশায়ের থলে ইত্যাদি।  

তাঁর শিশুবিষয়ক গ্রন্থ:
- খোকাবাবুর খেলা,
- আমাল বই,
- কিশোরদের মন,
- চারু ও হারু,
- ফার্স্ট বয়,
- লাস্ট বয়,
- উৎপল ও রবি,
- বাংলার সোনার ছেলে,
- সবুজ লেখা,
- আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী প্রভৃতি তাঁর শিশুবিষয়ক গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।