বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৬৫ / ৭৭ · ৬,৪০১৬,৫০০ / ৭,৬৪৬

৬,৪০১.
বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪০২.
আল মাহমুদ রচিত ও প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - 
  1. বখতিয়ারের ঘোড়া
  2. কাবিলের বোন
  3. পানকৌড়ির রক্ত
  4. সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা

'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ রচিত প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,৪০৩.
কোনটি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস?
  1. সোনালী কাবিন
  2. ডাহুকী
  3. পানকৌড়ির রক্ত
  4. বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস - ডাহুকী।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৪০৪.
‘ ধুমকেতু’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ হল ‘ধুমকেতু’। তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘সারদামঙ্গল’ উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ স্বপ্নদর্শ, নিসর্গ সন্দর্শন, মায়াদেবী, বঙ্গসুন্দরী ইত্যাদি । রেফারেন্সঃ বাংলাপিডিয়া।
৬,৪০৫.
‘কবিরত্ন’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সমরেশ বসু
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা
⇒ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে,
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মরনাম - কালকূট। 
- মোহিতলাল মজুমদার ‘সত্যসুন্দর দাস’ ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৪০৬.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. শবনম
  2. চাচা-কাহিনী
  3. অবিশ্বাস্য
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

 • 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 

- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৪০৭.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন?
  1. অপরাজিতা রায় 
  2. লীলাময় রায়
  3. নীহারিকা দেবী
  4. কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায় — 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

---------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর ‘লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন ‘লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক।
- বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'নীহারিকা দেবী'- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম।
• 'অপরাজিতা দেবী'- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৪০৮.
জাহানারা ইমাম কোন রোগে মারা যান?
  1. ক) কিডনি জটিলতায়
  2. খ) মুখের ক্যান্সার
  3. গ) দূরারোগ্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন এবং মারা যান।

• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো একাত্তরের দিনগুলি
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি।
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪০৯.
‘কাঞ্চন মালা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• ‘কাঞ্চন মালা’ উপন্যাসটির রচয়িতা - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
-------------------- 
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪১০.
'শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।'- উদ্ধৃতাংশটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. খ) স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
  3. গ) আমি কোনো আগন্তুক নই
  4. ঘ) তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।'- নির্মলেন্দু গুণ রচিত 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার অংশ।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। তাকে কবিদের কবি বলা হয়।
- তাঁর ডাকনাম হচ্ছে রতন। প্রিয়জনেরা তাকে 'রতু' বলে ডাকতেন।
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- মুঠোফোনের কাব্য,
- কামকানন ইত্যাদি।

• অনুবাদ কবিতা :
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- রাজনৈতিক কবিতা,
- কাব্যসমগ্র।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।

• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

অন্যান্য অপশন:
'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' - কবিতাটির লেখক ' রফিক আজাদ'।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' - কবিতাটির লেখক 'আহসান হাবীব'।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' - কবিতাটির লেখক 'শামসুর রাহমান'।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪১১.
কোনটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) আনন্দের মৃত্যু
  3. গ) আমি জন্মগ্রহন করিনি
  4. ঘ) হৃৎকলমের টানে
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক, সৈয়দ শামসুল হক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালে।
তিনি সাহিত্যের সব ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন বলে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
'হৃৎকলমের টানে' ১৯৯১ সালে প্রকাশিত সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ। 
'আমি জন্মগ্রহণ করিনি, শামসুল হকের কবিতা।
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
'আনন্দের মৃত্যু' শামসুল হকের গল্প।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিতয জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 

৬,৪১২.
মোতাহের হোসেন চৌধুরী  রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু
  2. সাম্প্রদায়িকতা
  3. সংস্কৃতি- কথা
  4. স্বদেশ চিন্তা’
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃতি- কথা :
- সংস্কৃতি- কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং
- তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):

- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রাম। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

অন্যদিকে,
• বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ - সাম্প্রদায়িকতা।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস  রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ -‘সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু'।
• ড. আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- স্বদেশ চিন্তা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৪১৩.
'সাত ভাই চম্পা' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা
• বাংলা শিশুসাহিত্যে রূপকথার যাদুকর আখ্যায় ভূষিত দক্ষিণারঞ্জনের জন্ম ১৫ ই এপ্রিল ১৮৭৭ ঢাকার উলাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ।
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার ছিলেন বাংলার খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক ও লোককথার সংগ্রাহক, যাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রূপকথাগুলিকে যথাসম্ভব অবিকৃত রেখে সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করা।
• তিনি বাংলা ১৩৬৩ সালের ১৬ই চৈত্র (১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে মার্চ) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্য:
- ঠাকুরমার ঝুলি 
- ঠাকুরদাদার ঝুলি 
- ঠানদিদির থলে 
- দাদামশায়ের থলে 
- খোকাবাবুর খেলা
- উৎপল ও রবি 
- সাত ভাই চম্পা

• চলচ্চিত্র
- তাঁর 'সাত ভাই চম্পা' গল্প অনুসারে ১৯৭৮ সালে চিত্রসাথী পরিচালিত ভারতীয় বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র 'সাত ভাই চম্পা' মুক্তি পায়।
- তাঁর 'কিরণমালা' গল্প অনুসারে ১৯৭৯ সালে বরুন কাবাসি পরিচালিত ভারতীয় ফ্যান্টাসি ফিল্ম 'অরুণ বরুণ ও কিরণমালা' মুক্তি পায়।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪১৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কোন লেখক?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪১৫.
অতুলপ্রসাদ সেনের গানের সঙ্কলনের নাম কী?
  1. ক) আফতাব সঙ্গীত
  2. খ) গীতরত্ন
  3. গ) ভাটির চিঠি
  4. ঘ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে। 

• অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন৷
- তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি৷ 

- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪১৬.
সেলিম আল দীন রচিত কোন নাটকটি ডাকসু মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয় এবং সেইসাথে নাট্য প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করে?
  1. কিত্তনখোলা
  2. এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা
  3. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  4. হরগজ
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন রচিত ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ নাটকটি ডাকসু মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
-----------------------------------
জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ নাটক:

‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ একটি নাটক, যা সেলিম আল দীন রচনা করেছেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে নাটকটি ডাকসু মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয় এবং সেইসাথে নাট্য প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করে। নাটকটি প্রকাশ করে সেলিম আল দীনের নাট্যরচনার প্রতিভা সমাজের সামনে উন্মোচিত হয়।
 -------------
সেলিম আল দীনের সংক্ষিপ্ত জীবনী:
জন্ম: ১৮ নভেম্বর ১৯৪৮, নোয়াখালির সোনাগাজি উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে।
প্রাথমিক পরিচয়: কবি হিসেবে খ্যাত।
নাট্যরচনার প্রসার: ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর নাটক 'নীল শয়তান, তাহিতি' টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত হলে নাট্যরচনার কথা সমাজে পরিচিত হয়।
নাটক: ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ প্রথম মঞ্চস্থ নাটক ও প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৬,৪১৭.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহীম
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
তার রচিত কয়েকটি উপন্যাসঃ
আলমগড়ের উপকথা, কাশবনের কন্যা, কাঞ্চনমালা, জায়জঙ্গল, সমুদ্র বাসর, কাঞ্চনগ্রাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৪১৮.
‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ - কার রচনা?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।

• ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’:
‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প, যা — উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচনা করেন। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত শিশু-সাহিত্য পত্রিকা ‘সন্দেশ’-এ ১৯১৫ সালে। এই গল্পটি পরবর্তীতে সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ (১৯৬৯) এর মাধ্যমে আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে।

• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫) প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

• তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৪১৯.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাসের কাহিনী অবলম্বনে 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের রচনা করেন মহাকবি কায়কোবাদ।
- মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী সাহিত্যক্ষেত্রে কায়কোবাদ নামে পরচিত। 
 - তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’।
- এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই তিনি মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর গীতিকবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশ ও আধ্যাত্মিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি। 
- কায়কোবাদ বাংলার অপর দুই মহাকবি  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কুসুম কানন (১৮৭৩),
- অশ্রুমালা (১৮৯৫),  
- মহাশ্মশান (১৯০৪),
- শিব-মন্দির (১৯২২),
- অমিয়ধারা (১৯২৩),
- শ্মশান-ভস্ম (১৯২৪) ও
- মহরম শরীফ (১৯৩২)।  

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪২০.
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. হরিণের হাড়
  2. ছায়াহরিণ
  3. সারা দুপুর
  4. রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- অরণ্য নীলিমা ও
- রানী খালের সাঁকো।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৪২১.
'অরণ্য গোধূলি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মীর মশাররফ
ব্যাখ্যা
বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, শেষ লগ্ন, অরণ্য গোধূলি, নীড়ভ্রষ্ট ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া। মসনদ তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৪২২.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
প্রদোষে প্রাকৃতজন, দক্ষিণায়নের দিন, পিঙ্গল আকাশ, কুলায় কালস্রোত, যাত্রা, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, যেতে চাই, ওয়ারিশ, বাসর মধুচন্দ্রিমা, উত্তরের ক্ষেপ, দলিল, হিসাবনিকাশ, উপরে ছাপ ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪২৩.
‘কমলে কামিনী' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘কমলে কামিনী' নাটক:
- ‘কমলে কামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল।
- ২০ শে ডিসেম্বর ১৮৭৩ তারিখে নাটকটি ন্যাশনাল থিয়েটারে সর্বপ্রথম অভিনীত হয়।
- উল্লেখযােগ্য চরিত্র : রাজা, সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। তিনি ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীলদর্পণ,
 - নবীন তপস্বিনী,
 - লীলাবতী,
 - কমলে কামিনী। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪২৪.
‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’ - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. গ) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. ঘ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী
- বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’ (১৯৫৫)।

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।
- তারার দেশের হাতছানি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪২৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মুন্সিগঞ্জ
  2. নরসিংদী
  3. গাজীপুর
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪২৬.
বাংলা সাহিত্যে আবু সায়ীদ আইয়ূব এর অবদানের প্রধান ক্ষেত্র কোনটি?
  1. কাব্য সাহিত্য
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• আবু সয়ীদ আইয়ুব:
- আবু সয়ীদ আইয়ুব (১৯০৬-১৯৮২)  বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিক।
- কলকাতায় ওয়েলেসলি স্ট্রিটে পিতামহের বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- বাংলা সাহিত্যে আবু সায়ীদ আইয়ুবের অবদানের প্রধান ক্ষেত্র হল প্রবন্ধ।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রবন্ধকে একটি গভীর ও পরিপূর্ণ রচনা রূপ দেন।
- তাঁর প্রবন্ধগুলিতে দার্শনিক চিন্তা, সমাজ-রাজনীতির বিশ্লেষণ এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির গভীর পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়।
- রবীন্দ্রনাথ, গালিব প্রভৃতি কবিদের কাজ সম্পর্কে তাঁর গভীর বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সাহিত্য চর্চাকে তিনি উন্নীত করে তুলেছেন তাঁর সূক্ষ্ম প্রবন্ধরচনার মাধ্যমে

তাঁর প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবিভ্রাট ও অপরোক্ষানুভূতি,
- সুন্দর ও বাস্তব,
- পথের শেষ কোথায়।

তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ।

- আবু সয়ীদ আইয়ুব ১৯৬৯ সালে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে দিল্লির ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’ এবং ১৯৭১ সালে বিশ্বভারতীর ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি লাভ করেন।
-  ১৯৮০ সালে টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বনিধি’ উপাধি প্রদান করে। - ১৯৮২ সালের ২১ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪২৭.
কবি কায়কোবাদের জন্ম কোথায়?
  1. রংপুর
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
১৮৫৭ সালে  ঢাকা জেলার  নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কুসুম কানন ,
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য)  
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য)
- শিব-মন্দির 
- অমিয়ধারা 
- শ্মশান-ভস্ম 
- মহরম শরীফ 

- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সোমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৬,৪২৮.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• 'সাজাহান' নাটক:
- 'সাজাহান' মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

-------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী, 
- পুনর্জন্ম,
- এ্যহস্পর্শ,
- আনন্দ বিদায়,
- কল্কি অবতার।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৪২৯.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'চাচা কাহিনী' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'চাচা কাহিনী' গল্পগ্রন্থ:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে প্রধানতম। প্রায় প্রতিটি গল্পই বিদেশের পটভূমিকা রচিত।
- বিদেশে বিশেষ করে বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ বয়স্ক ছাত্রদের নিয়েই রচিত। অনেক গল্প। স্বয়ং লেখক যৌবনে বার্লিন প্রবাসী ছাত্র ছিলেন। সে সময়কার নানা কাহিনী গল্পাকারে পরিবেশন করেচেন চাচা কাহিনীতে।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর কলমে খাঁটি দেশী যাদু সেরা বিদেশী পলিশে সারাক্ষণ ঝকঝক করছে। চাচা কাহিনীর মতো এমন বিশুদ্ধ উপাদেয় আন্তর্জাতিক রসিকতা বাংলা ভাষায় অন্তত আগে কখনও পড়া যায়নি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:

- তিনি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- চাকরিসূত্রে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর মুজতবা আলী শেষপর্যন্ত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর অধ্যয়ন করে ১৯২৬ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৩০.
'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. জহির রায়হান
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সেলিম আল-দীন
ব্যাখ্যা
'হাজার বছর ধরে':
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
- টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র।
- আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ। 

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 
 
তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৩১.
‘সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা’ – গ্রন্থের রচয়িতা –
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) এস. ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ রচিত গ্রন্থ হলোঃ সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, বিচিত্র চিন্তা, একালে নজরুল, স্বদেশ চিন্তা, বিশ শতকের বাঙালী, বাংলার পটভূমি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৬,৪৩২.
নিচের কোনটি বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কুচঁবরণ কন্যা
  2. খ) অনুরাগ
  3. গ) জ্ঞানের আলো
  4. ঘ) রূপকথা
ব্যাখ্যা
‘অনুরাগ’ হলো বন্দে আলী মিয়া রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম :
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ।

- জ্ঞানের আলো বন্দে আলী মিয়া রচিত একটি পত্রিকা।
তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম :
- কিশোর পরাগ,
- জ্ঞানের আলো,
- শিশুবার্ষিকী।

- কুচঁবরণ কন্যা ও রূপকথা বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম :
- চোর জামাই, 
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ,
- রুপকথা।

 শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য যে সকল পুরস্কার লাভ করেন : 
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২),
- প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং 
- উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৩৩.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) মতিচূর
  2. খ) সুলতানার স্বপ্ন
  3. গ) পদ্মগোখরা
  4. ঘ) অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা
বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত - বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।
- রোকেয়ার তার নারীবাদী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন মতিচূর প্রবন্ধসংগ্রহের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে।
তার সৃজনশীল রচনার মধ্যে অন্যতম - সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪), অবরোধবাসিনী (১৯৩১) ইত্যাদি।
'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলামের গল্প।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৩৪.
জীবনানন্দ দাশের 'হায় চিল' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) সাতটি তারার তিমির
  3. গ) বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ঘ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

'হায় চিল' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- এই কবিতার সঙ্গে ইয়েটস এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল আছে। 
কবিতাটি হলো -
"হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে-উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!"
========
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪):
- কবি, শিক্ষাবিদ জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রবিরোধী বাংলা কবিতার পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম কবি।
- ড. হুমায়ূন আজাদের মতে, পঞ্চপাণ্ডব বাংলা কবিতায় আধুনিকতা আনায়ন করেন।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - ঝরাপালক; যা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬),
- বনলতা সেন (১৯৪২),
- মহাপৃথিবী (১৯৪৪),
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮),
- রূপসী বাংলা (রচনাকাল ১৯৩৪, প্রকাশকাল ১৯৫৭),
- বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১)। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ এবং বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ।

দ্রষ্টব্য:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বইয়ে "হায় চিল" কবিতাটি "মহাপৃথিবী" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বলা হয়েছে, যা ভুল

৬,৪৩৫.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাখালী
  2. খ) আর্যগাথা
  3. গ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. ঘ) সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪): কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। এই কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিলো। জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ- মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা, বিভা, জলপাইহাটি ইত্যাদি। বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের রচিত জনপ্রিয় কবিতা।
‘আর্যগাথা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। ‘সোনালী কাবিন’ আল মাহমুদ রচিত কাব্য গ্রন্থ। ‘রাখালী’ পল্লীকবি জসীম উদ্দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৬,৪৩৬.
কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) মহাকাব্য
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) গীতিকাব্য
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি- 
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান। 

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৩৭.
’গোলাম মোস্তফা’ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বিশ্বনবী
  2. বুলবুলিস্তান
  3. উত্তর বসন্ত
  4. দিলরুবা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

অন্যদিকে,
• আবদুল কাদির রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘দিলরুবা’, ‘উত্তর বসন্ত'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৩৮.
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ছোট গল্প
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী একজন বিশিষ্ট গদ্য শিল্পী।  
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- তার দ্বিতীয় প্রবন্ধ গ্রন্থ - সুখ এবং  তৃতীয় গ্রন্থ - সভ্যতা। 
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- এই প্রবন্ধে লেখক অন্নচিন্তার নিগড় থেকে মানুষের মুক্তি দেওয়ার চেষ্টাকে অভিনন্দনযোগ্য মনে করেছেন।
 
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৩৯.
"আমার পরিচয়" কবিতাটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা:
- ছোটদের জন্যে সৈয়দ শামসুল হকের নির্বাচিত ছড়াকবিতা নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ 'শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা'।
- 'আমার পরিচয়' কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার পরিচয়

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে ।
তেরোশত নদী শুধায় আমাকে কোথা থেকে তুমি এলে?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে।
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৪৪০.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ: এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৪১.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যনাট্য হলো-
  1. ক) কর্ণফুলী
  2. খ) শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
  3. গ) শ্যামল ছায়ার সংবাদ
  4. ঘ) ইহুদির মেয়ে
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের রচিত দুটি কাব্যনাট্য হলো- ইহুদির মেয়ে (১৯৬২) ও রঙিন মুদ্রারাক্ষস (১৯৯৪)।
ষাটের দশকে রচিত উপন্যাস, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) ও কর্ণফুলী (১৯৬২) ব্যাপক সাড়া জাগায়।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২), ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪), শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৪২.
'বিত্ত নাই বেসাতি নাই' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শহিদ কাদরী
  2. খ) আসাদ চৌধুরী
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) ফজল শাহাবুদ্দিন
ব্যাখ্যা
অনলাইন বই বিক্রির ওয়েবসাইট রকমারির তথ্য অনুসারে 'বিত্ত নাই বেসাতি নাই' এর রচয়িতা কবি আসাদ চৌধুরী৷
৬,৪৪৩.
মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- 
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. সর্বসাচী
  3. শ্রী সত্যসুন্দর দাস
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক।
- জন্ম: ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর, নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- পৈতৃক নিবাস: হুগলির বলাগড়ে।
- পেশা: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
- সমালোচনামূলক প্রবন্ধে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, যেমন কৃত্তিবাস ওঝা, সর্বসাচী, শ্রী সত্যসুন্দর দাস।
- মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৫২।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৪৪.
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।- পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার রায়
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।- পঙক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

⇒ হরিশচন্দ্র মিত্র:

- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৮৬০ সালে হরিশচন্দ্র ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র মাসিক  কবিতা কুসুমাবলী প্রকাশ করেন।
- ১৮৬২ সালে তিনি ‘অবকাশরঞ্জিকা’ নামে অপর একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৮৬৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ঢাকা দর্পণ’ প্রকাশ করেন।
- তাঁর সম্পাদনাকৃত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে রয়েছে ‘কাব্য প্রকাশ’ (১৮৬৪), ‘হিন্দু হিতৈষী’ (১৮৬৫) এবং ‘হিন্দু রঞ্জিকা’ (১৮৬৮)।
- হরিশচন্দ্র ‘মাসিক মিত্র প্রকাশ’ (১৮৭০) নামক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি উনিশ শতকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সর্বোৎকৃষ্ট সাময়িকীসমূহের অন্যতম বলে বিবেচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।
৬,৪৪৫.
'আইনের অন্তরালে' নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. সাঈদ আহমেদ
  3. সানাউল হক
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• 'আইনের অন্তরালে' নাটকটির নাট্যকার - নুরুল মোমেন
- এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন: 
- তিনি ২৫ নভেম্বর, ১৯০৬ সালে ফরিদপুর (তৎকালীন যশোর) জেলার আলফাডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৪৬.
গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম
  2. দুঃখ-দৈন্যের বর্ণনা 
  3. ঈশ্বরে প্রেম
  4. মানবতার জয়গান 
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিল একজন স্বভাবকবি। ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন। অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু; তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৪৭.
ইউনেস্কোর 'আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার' লাভ করেন-
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন (১ জানুয়ারি ১৯৩০ - ৩০ নভেম্বর ১৯৯৮) বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
- তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত।
- বিজ্ঞান জনপ্রিয়করার জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার (১৯৮৩)।
- এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

• শিশু ও বিজ্ঞান-বিষয়ক গল্প
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে,
- অবাক পৃথিবী, 
- আবিষ্কারের নেশায়, 
- রহস্যের শেষ নেই, 
- বিজ্ঞান ও মানুষ, 
- জানা-অজানার দেশে, 
- সাগরের রহস্যপুরী, 
- এ যুগের বিজ্ঞান, 
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা, 
- আজকের বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ, 
- মহাকাশে কী ঘটছে, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৪৮.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সমুদ্রের স্বাদ
  2. খ) জননী
  3. গ) দিবারাত্রির কাব্য
  4. ঘ) পুতুল নাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের স্বাদ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬):
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী (১৯৩৫),
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫),
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬),
- পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬),
- শহরতলী (১৯৪১),
- অহিংসা (১৯৪১)
- স্বাধীনতার স্বাদ (১৯৫১)
- আরোগ্য (১৯৫৩) প্রভৃতি

ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫),
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭),
- সরীসৃপ (১৯৩৯),
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩),
- হলুদ পোড়া (১৯৪৫),
- আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬),
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০),
- ফেরিওয়ালা (১৯৫৩) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৪৯.
'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।' বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. গ) মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তার বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'সংস্কৃতির কথা'। 'সংস্কৃতির কথা' গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি- 'মানুষের বৃদ্ধি দিয়ে কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।', 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৪৫০.
'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হরতাল
  2. ঘুম নেই
  3. পূর্বাভাস
  4. ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়: 
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন'কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

----------------------
• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:

- 'ছাড়পত্র' সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে। মাত্র একুশ বছর বয়সে সুকান্ত মারা যাবার কিছুদিন পূর্বে এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

"ছাড়পত্র" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- ছাড়পত্র,
- আগামী, 
- চারাগাছ, 
- খবর, 
- আঠারাে বছর বয়স, 
- হে মহাজীবন, 
- দেশলাই কাঠি, 
- কৃষকের গান, 
- মধ্যবিত্ত। 

-----------------------
হে মহাজীবন

ছাড়পত্র (সুকান্ত ভট্টাচার্য)

হে-মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥

--------------------

• কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• 'হরতাল' কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি গদ্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ।

৬,৪৫১.
‘বিশ শতকের মেয়ে' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- 'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস। 

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৫২.
নিম্নের কোন গ্রন্থটি জর্জ গ্রিয়ারসনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. পদুমাবৎ
  3. দোহাকোষ
  4. মণিমঞ্জরী
ব্যাখ্যা
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক। ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৫৩.
বাংলা গদ্য সাহিত্যে কোন লেখকের রচনা রীতিকে ‘আলালি ভাষা’ আখ্যা দেয়া হয়?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) রাজনারায়ণ বসু
  3. গ) কালী প্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্রের কথ্যরীতিতে গদ্য-পদ্য রচনা, প্রচুর তদ্ভব এবং চলিত ফারসী শব্দের ব্যবহার এবং ক্রিয়া পদে সাধু ও কথ্য ভাষার মিশ্রণ তার গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। তাঁর লেখা বই আলালের ঘরে দুলাল এই গদ্যের ব্যবহার করা হয়েছিল যার জন্য এর নাম হয়ে যায় ‘আলালী ভাষা’। টেকচাঁদ ঠাকুর যেমন ‘আলালী’ ভাষায় ক্রিয়া পদের সাধু ও চলিত রূপের ব্যবহার করেছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রায় একই সময়ে লেখা হুতোম প্যাঁচার নকশায় তা করেন নি।
Source: bdnews24.com
৬,৪৫৪.
হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত?
  1. ক) বঙ্গভঙ্গ
  2. খ) দেশ বিভাগ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” (২০০৬) উপন্যাসটি দেশ বিভাগের পটভূমিতে লেখা। উপন্যাসের কাহিনী বর্ধমান জেলার বাঁকুড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের ও পরিবারের আশেপাশের হিন্দু মুসলমানদের জীবন থেকে নেয়া। লেখকের অন্যান্য উপন্যাসঃ বৃত্তায়ন, শিউলি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শামুক ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৬,৪৫৫.
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) দেশ বিভাগ
  2. খ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
  3. গ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঘ) কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো কৃষক বিদ্রোহ। 

'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। 
- নুরুলউদ্দীন ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের একজন বিদ্রোহী নেতা। 
- তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে ঝামিয়ে পড়েছিলেন। 
- ইতিহাসের প্রায় বিস্মৃত এই কৃষকনেতাকে বইয়ের পাতা থেকে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরা হয় এই নাটকে। 
- তিনি নুরুলউদ্দীন কে আখ্যায়িত করেন নুরুলদীন নামে।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৫৬.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক ---
  1. ক) সুবচন নির্বাসনে
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) নূরলদীনের সারা জীবন
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় -- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
- নুরুলদীনের সারা জীবন -- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
৬,৪৫৭.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের আসন
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৫৮.
'শিবমন্দির' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
অতি অল্প বয়স থেকেই কায়কোবাদের সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- কুসুম কানন, অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয় ধারা, শ্মশানভষ্ম, প্রেম পারিজাত, মন্দাকিনী ধারা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৪৫৯.
'নেমেসিস' নাটকটি কয় চরিত্র বিশিষ্ট?
  1. এক
  2. দুই
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

'নেমেসিস' নাটক :
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৪৬০.
'প্রথমা' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য- প্রথমা, সম্রাট, ফেরারী ফৌজ, সাগর থেকে ফেরা, হরিণ চিতা চিল, কখনো মেঘ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৬১.
কোনটি ইব্রাহিম খাঁর গ্রন্থ নয়? 
  1. আনোয়ার পাশা
  2. ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  3.  কুচবরণের কন্যে
  4.  সোনার শিকল
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহিম খাঁ রচিত গ্রন্থ নয়- কুচবরণের কন্যে।
• ‘কূচবরণ কন্যা’ বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গল্প।

অন্যদিকে,
• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক - আনোয়ার পাশা।
• ভ্রমণকাহিনি - ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র।
• গল্প - সোনার শিকল।

--------------------------
• ইব্রাহীম খাঁ:

- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৬২.
'কবর' নাটক কার রচনা?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• ‘কবর’ নাটক:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক।

কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না।লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।


----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৬৩.
'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত' রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. তন্বী
  2. অর্কেষ্ট্রা
  3. ক্রন্দসী
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী ইত্যাদি।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কুলায় ও কালপুরুষ।
 
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৬৪.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. দোজখের ওম
  2. খোয়াবনামা
  3. খোয়ারি
  4. দুধভাতে উৎপাত
ব্যাখ্যা

• ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাস:
- ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উপন্যাসটিতে ঐতিহাসিক নানা উপাদান নিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

----------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক। পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

৬,৪৬৫.
বাংলা ভাষার প্রথম ও সম্পূর্ণ ব্যাকরণগ্রন্থ রচয়িতা?
  1. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রথম ও সম্পূর্ণ ব্যাকরণগ্রন্থের রচয়িতা - নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড।
---------------- 
• ব্যাকরণ:
- ভাষা ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম, যা ওই ভাষাকে অশুদ্ধির সীমানায় প্রবেশ করতে দেয় না, শুদ্ধির পরিকাঠামো তৈরি করে তাকে ব্যাকরণ বলে।
 
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:
• পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।
- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।
 
• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।
 
• এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।
 
• ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৬৬.
সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা নয় কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. পালামৌ
  3. দেশে বিদেশে
  4. চাচাকাহিনী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেন পালামৌ।
সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা করেন -
- পঞ্চতন্ত্র,
- দেশে বিদেশে,
- চাচাকাহিনী
- টুনি মেম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৪৬৭.
‘বঙ্গসুন্দরী’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গসুন্দরী কাব্য:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- এ কাব্যে কবি বলেছেন: ‘সর্বদাই হুহু করে মন / বিশ্ব যেন মরুর মতন / চারিদিকে ঝালাপালা / উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা / অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।’
রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’

• বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪) আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত। 

তাঁর রচনাবলির মধ্যে:
- স্বপ্নদর্শন, 
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ, 
-প্রেমপ্রবাহিণী, 
- নিসর্গসন্দর্শন, 
- সারদামঙ্গল, 
- নিসর্গসঙ্গীত, 
- মায়াদেবী, 
- দেবরাণী, 
- বাউলবিংশতি, 
- সাধের আসন, 
- ধূমকেতু উল্লেখযোগ্য।

বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য-সংক্রান্তি,
- অবোধবন্ধু প্রভৃতি।
এসব পত্রিকায় অন্যদের রচনার পাশাপাশি তাঁর নিজের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ভারতী, সোমপ্রকাশ, কল্পনা প্রভৃতি পত্রিকায়ও তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৬৮.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন-
  1. ভাষাবিজ্ঞানী ও কবি
  2. দার্শনিক ও নাট্যকার
  3. কবি ও সংগীতজ্ঞ
  4. প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ ও সংস্কৃতের পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৬৯.
'দু দিনের খেলাঘর' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আকবর হোসেন
  2. অন্নদাশংকর রায়
  3. নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়
  4. শওকত
ব্যাখ্যা

'দু দিনের খেলাঘর' উপন্যাসের রচয়িতা - আকবর হোসেন
এটি একটি পারিবারিক উপন্যাস।
• আকবর হোসেন:
- আকবর হোসেন গত শতকের পঞ্চাশ-সত্তরের দশকের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতিমান ছিলেন।
- কিন্তু তিনি যে বহুমাত্রিক লেখক ছিলেন, তা অনাবিষ্কৃত থেকে গেছে।
- উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি ছোটগল্প, কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও নাটক লিখতেন।
- পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- অভিনয় করতেন।
- আকবর হোসেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে ১লা অক্টোবর ১৯১৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 

আকবর হোসেন রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- অবাঞ্ছিত।
- কি পাইনি।
- মোহমুক্তি।
- ঢেউ জাগে।
- আলো ছায়া।
- দু'দিনের খেলাঘরে।

উৎস: দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদন ও 'দু দিনের খেলাঘর' উপন্যাস।

৬,৪৭০.
দীনেশচন্দ্র সেন কোন রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় পথিকৃৎ -এর ভূমিকা পালন করেন?
  1. ক) বৃহত বঙ্গ
  2. খ) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. গ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  4. ঘ) ময়মনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

দীনেশচন্দ্র সেন (রায় বাহাদুর) ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।

কিশোর বয়স থেকে দীনেশচন্দ্র সেন সাহিত্য-অনুরাগী ছিলেন। কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ - কুমার ভূপেন্দ্রসিংহ (১৮৯০)। এটি একটি আখ্যান কাব্য।
দেশের সংস্কৃতির প্রতি ছিল তাঁর গভীর মমতা। এ মমতা তাঁকে দেশপ্রেম, কবিবন্দনা এবং অতীতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

কুমিল্লায় অবস্থানকালে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুথি সংগ্রহ করেন। ব্যাপক শ্রমসাধ্য এ কাজে তিনি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং দীর্ঘ সময়ের গবেষণায় কুমিল্লা থেকে ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বঙ্গভাষা ও সাহিত্য শীর্ষক একটি আকরগ্রন্থ।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ওপর এটি একটি সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণাগ্রন্থ যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ সমকালের পন্ডিতদের প্রশংসা লাভ করে।
- এ অসাধারণ গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় দীনেশচন্দ্র সেন এ বিষয়ে পথিকৃৎ-এর সম্মান ও পান্ডিত্যের স্বীকৃতি লাভ করেন।

১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯১১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর History of Bengali Language and Literature গ্রন্থ।  এ গ্রন্থের জন্য তিনি পাশ্চাত্যের গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেন। 

সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান। একই সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে এবং ১৯৩১ সালে তিনি জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৭১.
'কাব্যকণ্ঠ' আধুনিক যুগের কোন কবির উপাধি?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. কায়কোবাদ
  4. বিহারিলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• কবি ও গদ্যশিল্পী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে, 
• গোলাম মোস্তফা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
• কায়কোবাদ বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন।
• বিহারিলাল চক্রবর্তীর উপাধি ভোরের পাখি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৭২.
লেখক রফিক আজাদের ডাক নাম কী ছিল?
  1. মানিক
  2. বাচ্চু
  3. আজাদ
  4. জীবন
ব্যাখ্যা
• রাফক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' এর সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৭৩.
আহসান হাবীব রচিত একমাত্র উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অরণ্য নীলিমা
  2. খ) ছায়াহরিণ
  3. গ) শেষরাত্রি
  4. ঘ) সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীব ছিলেন একজন কবি ও সাহিত্যিক।
- আহসান হাবীব রচিত একমাত্র উপন্যাস হচ্ছে ‘অরণ্য নীলিমা’
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটকে উপজীব্য করে রচিত আবসান হাবীবের ‘অরণ্য নীলিমা’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।

অন্যদিকে,
- রাত্রিশেষে (১৯৪৭)
- ছায়াহরিণ (১৯৬২) ও
- সারা দুপুর (১৯৬৪) আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ হচ্ছে: 
- ছোটদের পাকিস্তান (১৯৫৪)
- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭
- ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৭৪.
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সারেং বৌ
  2. খ) হলদে পরীর দেশে
  3. গ) পথ জানা নাই
  4. ঘ) পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক  গ্রন্থ - পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

- তাঁর এই ভ্রমণবৃত্তান্ত প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

• শহীদুল্লাহ কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।

উপন্যাস:
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক

• 'হলদে পরীর দেশে' - জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনী।
'পথ জানা নেই' - শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত গল্পগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৭৫.
‘ছোটদের অভিনয়’ নাটকটি কার রচনা?
  1. সেলিম আল দীন
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. জিয়া হায়দার
  4. আল কামাল আবদুল ওহাব
ব্যাখ্যা
আল কামাল আবদুল ওহাব
- আল কামাল আবদুল ওহাব বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, নাট্যকার, গীতিকার ও সাহিত্য অনুবাদক।
- তিনি ৩১ ডিসেম্বর ১৯৩৮ সালে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
-  তিনি ২০০৮ সালের ২৯ মে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- মহেশখালীর পথে
- বাস্কারভিলের বিভীষিকা
- ছোটদের অভিনয়
- ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প
- নিরুদ্দেশের পথে

সূত্র: যশোর সরকারি সিটি কলেজের ওয়েবসাইট [লিংক]
৬,৪৭৬.
'জীবন ক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রশিদ করিম
  2. রফিক আজাদ 
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'জীবন ক্ষুধা' উপন্যাস:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'জীবন ক্ষুধা' (১৯৫৫) উপন্যাসটি পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশ বিভাগের পটভূমিতে রচিত।
- হালিম হলো অন্যতম চরিত্র। যাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানের মধ্যবিত্তের আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও লালিত আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার দ্বন্দ্বের কথা বর্ণিত হয়েছে।

----------------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮- আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ। 

উৎস: 'জীবন ক্ষুধা' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৭৭.
'আমি কোনো আগন্তুক নই'- কবিতায় কবির অস্তিত্বে কী গাঁথা আছে? 
  1. জলজ বাতাস
  2. ধু ধু নদীর কিনার
  3. স্নিগ্ধ মাটির সুবাস
  4. কার্তিকের ধান
ব্যাখ্যা

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।

'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা:
- 'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীব রচনা করেন।
- কবিতাটি 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে। গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু।
- 'আমি কোন অভ্যাগত নই' একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: 'আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল .....' ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

কবিতাটির কিছু অংশ- 

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই।
দু’পাশে ধানের ক্ষেত
সরু পথ
সামনে ধু ধু নদীর কিনার আমার অস্তিত্বে গাঁথা।
আমি এই উধাও নদীর
মুগ্ধ এক অবোধ বালক।

অর্থ্যাৎ, 'আমি কোনো আগন্তুক নই'- কবিতায় কবির অস্তিত্বে - ধু ধু নদীর কিনার গাঁথা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা।

৬,৪৭৮.
'নূরজাহান' নাটকটির রচয়িতা-
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) হুমায়ুন কবির
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- তারাবাঈ,
- রানা প্রতাপ সিংহ,
- সোরাব রুস্তম,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৪৭৯.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ। এটি রচনা করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৪৮০.
'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. গ) শামসুর রহমান
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'শামসুর রহমান'

শামসুর রহমান ৪ টি উপন্যাস লিখেছেন।
তার রচিত উপন্যাস -
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৮১.
দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পাথরের পুঁথি
  2. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. এই শাওনে এই পরবাসে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত গ্রন্থ- পাথরের পুঁথি; জন্মই আমার আজন্ম পাপ; এই শাওনে এই পরবাসে। 

দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ; 
- এই শাওনে এই পরবাসে; 
- আমি ভাল আছি তুমি; 
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৮২.
'হিংটিং ছট' রম্যগ্রন্থটির লেখক -
  1. নুরুল মোমেন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. বিষ্ণু দে
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।
- ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৮৩.
'বাংলাপিডিয়া' হচ্ছে-
  1. উপন্যাস
  2. জাতীয় জ্ঞানকোষ
  3. বাংলা কাব্য
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা
বাংলাপিডিয়া:
- বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ।
- এ জ্ঞানকোষে প্রায় ১৪৫০ জন পণ্ডিতের সৃজনশীল কাজের সমন্বয় ঘটেছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীনতমকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনা বাংলাপিডিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- ফলে এটি অধ্যয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা সম্ভব।
- প্রথম প্রকাশের পর বাংলাপিডিয়া ব্যাপক উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
- বাংলাপিডিয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, পেশাজীবী এবং সাধারণ পাঠকদের অপরিহার্য সহচরে পরিণত হয়েছে।
- বর্তমান দ্বিতীয় সংস্করণটি (২০১২) ইতিপূর্বে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের (২০০৩) একটি পরিবর্ধিত ও হালনাগাদ রূপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৮৪.
কোন পত্রিকাটি রাজা রামমোহন রায় সম্পাদনা করেন-
  1. ক) সম্বাদ প্রভাকর
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) জ্ঞানান্বেষণ
  4. ঘ) সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
- রাজা রামমোহন রায় 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- এটি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সামাজিক ও হিন্দুধর্মীয় রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে উদার মনোভাব নিয়ে এ পত্রিকা লেখনী ধারণ করে।

অন্যদিকে,
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- কল্লোল প্রথম সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৪৮৫.
’পথে প্রবাসে’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা — ন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণ কাহিনীভিত্তিক গ্রন্থ:
১. যুরোপ প্রবাসীর পত্র;
২. জাপান যাত্রী ;
৩.রাশিয়ার চিঠি ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৮৬.
নিচের কোন নাটকটির রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র?
  1. ক) নবীন তপস্বিনী
  2. খ) কমলে কামিনী
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটকগুলো হলঃ নীলদর্পণ(১৮৬০), নবীন তপস্বিনী, কমলে কামিনী, লীলাবতী।
সধবার একাদশী, বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।

তার বিখ্যাত নীলদর্পণ নাটকটি বাংলার নীল চাষীদের উপর ইংরেজদের অত্যাচারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটিকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে নাম দেন দি ইন্ডিগো প্লান্টিং মিরর।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

৬,৪৮৭.
'রেখাচিত্র' দিনলিপি রচনা করেন কে?
  1. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আবুল ফজল
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনলিপি। 

আবুল ফজল:
- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৪৮৮.
কোনটি শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? 
  1. জননী 
  2. রাইফেল রোটি আওরাত 
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

জাহান্নম হইতে বিদায় হচ্ছে ওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। 

' জাহান্নম হইতে বিদায়' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস: জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭১) (কলকাতায় লেখা ও আনন্দ পাবলিশার্স প্রকাশ)।
- অন্যান্য উপন্যাস: জননী, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, চৌরসন্ধি, রাজা উপাখ্যান, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাংগী, পুরাতন খঞ্জর।
- ক্রীতদাসের হাসি রচিত হয় ১৯৬১ সালে এবং এতে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছে।

------------------
শওকত ওসমান
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আসল নাম: শেখ আজিজুর রহমান এবং সাহিত্যিক নাম: শওকত ওসমান।

গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল, জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প, প্রস্তর ফলক, উভশৃঙ্গ, শ্রেষ্ঠ গল্প, জন্ম যদি তব বঙ্গে, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী।

নাটক:
- আমলার মামলা, তস্কর ও লস্কর, বাগদাদের কবি, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা।

শিশুতোষ রচনা:
- ওটেন সাহেবের বাংলো, তারা দুই জন, ক্ষুদে সোশালিস্ট।

অন্যদিকে,
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস হচ্ছে রাইফেল রোটি আওরাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৮৯.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি।'- সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্য থেকে নেওয়া?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) পূর্বাভাস
  4. ঘ) অভিযান
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত উক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর রচিত হয়।
- বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৯০.
আল মাহমুদ রচিত ‘সোনালী কাবিন’ – একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৬,৪৯১.
''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'' - উক্তিটি কার?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৯২.
’রাত্রিশেষ’ কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. আহমদ শরীফ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগছী
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• ’রাত্রিশেষ’ কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেন- আহসান হাবীব।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০);
- রাণী খালের সাঁকো (১৯৬৫)।

• আহসান হাবীব রচিত  কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- আশায় বাসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৯৩.
'গ্রানাডার শেষ বীর' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. ছোটগল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

----------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৪৯৪.
কেরী সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) প্রমথনাথ বিশি
  4. ঘ) রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তর ভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। 
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু
- তিনি উলিয়াম কেরীকে (১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) বাংলা ভাষা সেখান। 
- রামরাম বসু রচিত বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত মৌলিক গ্রন্থ - প্রতাপাদিত্যচরিত্র (১৮০১)।
- রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।

প্রমথনাথ বিশি রচিত উপন্যাস- কেরি সাহেবের মুন্সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৯৫.
'বর্ণপরিচয়' শিক্ষামূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) কাজী ইমদাদুল হক
  4. ঘ) ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ- আখ্যান মঞ্জুরী, বোধোদয়, ব্যাকরণ কৌমুদী, বর্ণপরিচয়, কথামালা, শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৪৯৬.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।

আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৪৯৭.
'বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য’-গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• আহমদ শরীফ 'বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য' নামক গবেষণা গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

• আহমদ শরীফ:
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৪৯৮.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) উপন্যাসের লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এটি তাঁর প্রথম ও অনেকের মতে শেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়৷
উল্লেখযোগ্য চরিত্র - অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া ইত্যাদি৷
এই উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৪৯৯.
'সংস্কৃতির রূপান্তর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. গোপাল হালদার
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির রূপান্তর':
- 'সংস্কৃতির রূপান্তর' গোপাল হালদার রচিত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
-  ১৯৪১ সালে সংস্কৃতির রূপান্তর এথম রচিত হয়। বিশ্ব-সংস্কৃতির ধারার একটি বাস্তব অবতরণিকা রচনাই ছিল লেখকের উদ্দেশ্য।
- সেদিকে বোধ হয় সংস্কৃতির রূপান্তরই প্রাথমিক প্রয়াস। তারপর নতুন নতুন সংস্করণে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন-পরিবর্ধনের দ্বারা যথাসাধ্য এ গ্রন্থকে পাঠকের সহায়ক করতেও চেষ্টা করা হয়েছে।

উৎস: 'সংস্কৃতির রূপান্তর' গোপাল হালদার।
৬,৫০০.
'বিচিত্র চিন্তা' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
- আহমদ শরীফ একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,(১৯৯৮)
- বিচিত্র চিন্তা,(১৯৮৬)
- ষ্বদেশ অন্বেষা,(১৯৭০)
- স্বদেশ চিন্তা,(১৯৯৭)
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা(১৯৬৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।