বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৬২ / ৭৭ · ৬,১০১৬,২০০ / ৭,৬৪৬

৬,১০১.
রাজা রামমোহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কি?
  1. ক) মাগধীয় ব্যাকরণ
  2. খ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  3. গ) মাতৃভাষা ব্যাকরণ
  4. ঘ) ভাষা ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৬,১০২.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. চতুষ্কোণ
  2. সার্বজনীন
  3. তৈলচিত্রের ভূত
  4. আরোগ্য
ব্যাখ্যা
• ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বেন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক ‘মৌচাক’ পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডক্তার পরাশর এই গল্পের একটি চরিত্র।

⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১০৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধঃ দলিলপত্র' কে সম্পাদনা করেন?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) ড. আনোয়ার হসেন
  4. ঘ) মোহাম্মদ সুলতান
ব্যাখ্যা

১৫ খণ্ডে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র’ সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
তিনি ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ নামে সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থঃ বিমুখ প্রান্তর
অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ আর্ত শব্দাবলী, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬,১০৪.
‘বৈতালিক’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গোলাম কুদ্দুস
  4. আকবর হোসেন
ব্যাখ্যা
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১৯১৮-১৯৭০) একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক।
- প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে।
- কালক্রমে তিনি গল্প,  উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। 

• তাঁর রচিত কিশোরগ্রন্থ: 
- সপ্তকান্ড,
- অন্ধকারের আগন্তুক,
- ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫২),
- ছুটির আকাশ,
- খুশির হাওয়া,
- ঝাউ বাংলোর রহস্য,
- পঞ্চাননের হাতি,
- পটলডাঙ্গার টেনিদা,
- গল্প বলি গল্প শোন,
- অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ,
- টেনিদার অভিযান (১৯৪১) ইত্যাদি। 

• উপন্যাস:
- উপনিবেশ (৩ খন্ড),
- সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী,
- মন্দ্রমুখর,
- শিলালিপি,
- লালমাটি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- বৈতালিক,
- অসিধারা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১০৫.
'সোনালি কাবিন' কবিতাটি কোন ধরনের?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. চতুর্দশপদী
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালি কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের/ চতুর্দশপদীর সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ।
৬,১০৬.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘শাশ্বতী’ কবিতাটি তার কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক্রন্দসী
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. সংবর্ত
  4. আর্কেস্ট্রা
ব্যাখ্যা

বাঙলার অধিকাংশ কবি সাধারনত স্বভাবকবি। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পরিহার করেছিলেন স্বভাবকবিত্ব। তাই তাঁর কবিতা দুরূহ বলে মনে হয়। 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। কবিতা ছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধের বই রয়েছে। তাঁর গদ্যও বাংলা ভাষায় দুরূহতম।
- আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন। 

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি :
- তন্বী (১৯৩০)
- অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫)
- ক্রন্দসী (১৯৩৭)
- উত্তর ফাল্গুনী (১৯৪০)
- সংবর্ত (১৯৫৩)
- দশমী (১৯৫৬)

তাঁর প্রবন্ধ গ্রন্থ :
- স্বগত (১৯৩৮)
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)

তাঁর একমাত্র অনুবাদগ্রন্থ :
- প্রতিধ্বনি (১৯৫৪)

> তাঁর শাশ্বতী কবিতাটি রয়েছে 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

৬,১০৭.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. ক) নরকে লাল গোলাপ
  2. খ) কী চাহ শঙ্খচিল
  3. গ) বর্ণচোর
  4. ঘ) বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- মায়াবী প্রহর,
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
- সূর্য জ্বালার স্বপ্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে
- 'বর্ণচোর', ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’ ও ‘কী চাহ শঙ্খচিল’- মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১০৮.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১০৯.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শামসুল হক
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক শওকত আলী জন্মগ্রহণ করেন দিনাজপুরে।
তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস-
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১১০.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন -
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১১১.
'খসড়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ), উপহার, খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেওয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার, পালাবদল, ঘরে ফেরার দিন, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, অমরাবতী, অনিঃশেষ, নতুন কবিতা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,১১২.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের বিখ্যাত উপন্যাস -
  1. সংশপ্তক
  2. আনোয়ারা
  3. কবি
  4. আবদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- 'সংশপ্তক’ (১৯৬৫) উপন্যাসের রচয়িতা শহীদল্লা কায়সার।
- ‘কবি’ উপন্যাসটি লিখেছেন - তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়। 
- কাজী ইমদাদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস 'আবদুল্লাহ্'।

----------------------

মোহাম্মদ নজিবর রহমান ও তাঁর সাহিত্য:


• জন্ম: পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে।
• সাহিত্যিক জীবনের শুরু: ইসমাইল হোসেন সিরাজীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।
• প্রথম উপন্যাস: আনোয়ারা (১৯১৪), যা তাঁর জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

অন্যান্য উপন্যাস: 
• প্রেমের সমাধি, 
• পরিণাম, 
• গরীবের মেয়ে, 
• দুনিয়া আর চাইনা, 
• মেহেরুন্নিসা।

সাহিত্যিক অবদান: 
• নজিবর রহমান গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ জীবনকে তাঁর লেখায় চিত্রিত করেছেন।
• সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: 
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
• বাংলাপিডিয়া।
৬,১১৩.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) কাকজ্যোৎস্না
  2. খ) কোকিলারা
  3. গ) এখন দুঃখসময়
  4. ঘ) প্রথম যৌবন
ব্যাখ্যা
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত(১৯০৩-১৯৭৬)
- কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এর জন্ম ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল নোয়াখালী শহরে। দ
- ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
- তিনি  উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব দেখান। 
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বেদে (১৯২৮)।
- অচিন্ত্যকুমারের গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় সত্তর।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-

উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না,
- বিবাহের চেয়ে বড়,
- প্রাচীর ও প্রান্তর,
- প্রথম কদমফুল;

কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা,
- আমরা,
- প্রিয়া ও পৃথিবী,
- নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম,
- উত্তরায়ণ;

নাটক:
একাঙ্ক নাট্য-সংকলন;

গল্পগ্রন্থ:
- টুটাফুটা,
- কাঠ-খড় কেরোসিন,
- চাষাভূষা ,
- একরাত্রি  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১১৪.
'পঞ্চতন্ত্র' রম্য রচনাটির রচয়িতা-
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
• তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
• তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীঃ
- দেশে বিদেশে,
- জলে ডাঙ্গায়।
• তাঁর বিখ্যাত রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।
• তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৬,১১৫.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  3. দুই সৈনিক
  4. জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো:
- নেকড়ে অরণ্য,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাঙ্গী,
- দুই সৈনিক।

• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ - জন্ম যদি তব বঙ্গে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১১৬.
‘ফুড কনফারেন্স’- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

তার রচিত আরো দুটি বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ -
- আয়না (ব্যঙ্গ গল্পের সংকলন)
- আসমানী পর্দা

-----------------
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াৎ।

স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৬,১১৭.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে ‘ভোরের পাখি’ উপাধি কে দিয়েছিলেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- ১৮৩৫ সালে তিনি কলকাতার নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পথপ্রদর্শক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবেও তিনি খ্যাত। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সারদা মঙ্গল’ কাব্য পাঠের পরে তাঁকে ‘ভোরের পাখি’ নামে অভিহিত করেন।
- ১৮৯৪ সালের ২৪ মে বিহারীলাল চক্রবর্তী মৃত্যুবরণ করেন। 

• তার প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন। 

• বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য সংক্রান্তি,
- অবোধ বন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,১১৮.
'গীতি সঞ্চয়ন' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'গীতি সঞ্চয়ন' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - গোলাম মোস্তফা
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা: 
 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১১৯.
আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. সমর সেন 
  2. বিষ্ণু দে
  3. শামসুর রাহমান
  4. ক ও গ 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক। শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।

- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়। কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।

আবার, 
• সমর সেন:
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন। তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• মার্ক্সবাদী কবি- বলা হয় বিষ্ণু দে'কে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসার।

৬,১২০.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) মোহাম্মদ নজীবর রহমান
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ: 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হতো। 
- রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- কাহিনির নায়কের নামে গ্রন্থের নামকরণ করা হয়েছে।  
--------------------
• কাজী ইমদাদুল হক: 
- কাজী ইমদাদুল হক শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর  খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা শিক্ষক। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল,
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ, ১৯১৩, ১৯১৬),
- নবীকাহিনী,
- প্রবন্ধমালা,
- কামারের কান্ড ও
- আবদুল্লাহ।

- আবদুল্লাহ উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।

- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
- অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,১২১.
“উত্তরের ক্ষেপ” কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4.  প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

“উত্তরের ক্ষেপ” শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস। 

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)।
- জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস "পিঙ্গল আকাশ" (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।            

শওকত আলী রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১২২.
'অভিশপ্ত নগরী'র দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে পরিকল্পিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ভোরের বিহঙ্গী
  2. পদচিহ্ন
  3. পাপের সন্তান
  4. বিদ্রোহী কৈবর্ত
ব্যাখ্যা
•পাপের সন্তান: 
- অভিশপ্ত নগরী'র দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে পরিকল্পিত ‘পাপের সন্তান' (১৯৬৯) শুধু সত্যেন সেনেরই সেরা সৃষ্টি নয়, বাংলা ভাষায় লিখিত একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজি পুরস্কার (১৯৭০) লাভ করেন ।
- ‘পাপের সন্তানে’ সেই পতনের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত।
- এই দীর্ঘ সময়ে ইহুদিদের সঙ্গে অন্য ধর্ম-জাতির অনেকেরই বিয়ে এবং সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটে।
- পরজাতি স্ত্রীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী ইহুদি সন্তানদের পাপের সন্তান আখ্যা দিয়ে তাদের ধ্বংস কামনা করা হয়।
--------------------------- 
• সত্যেন সেন: 

 - সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক।
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে দৈনিক  সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং উদীচী (১৯৬৯) সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী, 
- পদচিহ্ন,
- পাপের সন্তান, 
- কুমারজীব,  
- বিদ্রোহী কৈবর্ত, 
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১২৩.
শহীদুল্লাহ কায়সারের রচিত স্মৃতিকথা হচ্ছে - 
  1. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ 
  2. একদা এক রাজ্যে 
  3. রাজবন্দির রোজনামচা
  4. সীমানা ছাড়িয়ে 
ব্যাখ্যা

শহীদুল্লাহ কায়সারের রচিত স্মৃতিকথা হচ্ছে রাজবন্দির রোজনামচা।    

শহীদুল্লাহ কায়সার
- শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তাঁর পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়।
- ১৯৫৮ সালে তিনি সংবাদ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।
- সাহিত্যকর্মে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি সারেং বৌ উপন্যাসের জন্য ১৯৬২ সালে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে তাঁকে ঢাকার বাসভবন থেকে অপহরণ করা হয় এবং তিনি আর ফিরে আসেননি।

প্রধান রচনা
- উপন্যাস: সারেং বৌ, সংশপ্তক, কৃষ্ণচূড়া মেঘ, তিমির বলয়, দিগন্তে ফুলের আগুন, সমুদ্র ও তৃষ্ণা, চন্দ্রভানের কন্যা, কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।
- ভ্রমণবৃত্তান্ত: পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
- স্মৃতিকথা: রাজবন্দির রোজনামচা।

অন্যদিকে, 
- একদা এক রাজ্যে হচ্ছে সৈয়দ শামসুল হক এর কবিতা। 
- সীমানা ছাড়িয়ে হচ্ছে সৈয়দ শামসুল হক এর উপন্যাস।  

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২. বাংলাপিডিয়া। 

৬,১২৪.
'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত- 
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হরিনাথ মজুমদার 
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ- জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত নকশা জাতীয় রচনা।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,১২৫.
‘কখনো রং কখনো সুর’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবিব
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ সাতনরী হার, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, সহিষ্ণু প্রতীক্ষা, আমার সময়, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৬,১২৬.
“তাহারেই পরে মনে” কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে কোনটি তুলনীয়?
  1. ক) প্রকৃতির সৌন্দর্য
  2. খ) প্রকৃতির বিরূপতা
  3. গ) বসন্তের আমেজ
  4. ঘ) শীতের রিক্ততা
ব্যাখ্যা

কবি সুফিয়া কামাল রচিত 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা - তাহারেই পড়ে মনে।
উক্ত কবিতায় কবি শীতের রিক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন, বস্তুত এর মাধ্যমে তিনি তার প্রয়াত স্বামীকে স্মরণ করেছেন।

বেগম সুফিয়া কামালের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- উদাত্ত পৃথিবী,
- মায়া কাজল,
- অভিযাত্রিক।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৬,১২৭.
অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত ভ্রমণকাহিনী কোনটি?
  1. ভলগার তীরে
  2. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  3. য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র
  4. পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে পথে প্রবাসে।  

অন্নদাশঙ্কর রায়
- তিনি একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং ছড়াকার।
- তিনি ‘লীলাময় রায়’ ছদ্মনামে লিখতেন।

ভ্রমণ কাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি। 

উপন্যাসসমূহ:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস, ১৯৩০), 
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস। 

অন্যদিকে,
- "ভলগার তীরে" (Volgar Teere) মূলত বাংলাদেশী কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর একটি ভ্রমণকাহিনী।
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী "বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন"
-'য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

৬,১২৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মৌরীফুল
  2. মেঘমল্লার
  3. যাত্রাবদল
  4. অপরাজিত
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১২৯.
নিচের কোনটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. বাংলা সাহিত্যের কথা
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ নয়।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত রচনা করেছেন - মুহম্মদ আবদুল হাই ও  সৈয়দ আলী আহসান।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:

- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৩০.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৯৪ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯৪৩ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি: 
- এটি বাঙালি মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের (১৮৯৩) অনুপ্রেরণায় কয়েকজন উদীয়মান মুসলিম লেখক ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁরা হলেন  মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমিতির সম্পাদক মনোনীত হন।
- একটি পরিচালক পরিষদ দ্বারা সমিতি পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩১.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. কাজেম আল কোরেশী
  3. মীর মশাররফ হোসেন 
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৬,১৩২.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থঃ
• আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
• নামহীন গোত্রহীন,
• পাতালে হাসপাতালে,
• সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
• জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
• আগুনপাখি,
• সাবিত্রী উপাখ্যান,
• শামুক,
• শিউলি,
• বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,১৩৩.
এস ওয়াজেদ আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) বিলেতে সাড়ে সাত’শ দিন
  2. খ) পশ্চিম ভারত
  3. গ) বাতায়ন
  4. ঘ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা

এস ওয়াজেদ আলী: প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;
গল্প:
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);
উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০);
ভ্রমণকাহিনী:
-পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,১৩৪.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আনিসুজ্জামান
  4. ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৷
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩৫.
দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা  ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।

- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো-

- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিইয়া।
৬,১৩৬.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. পুতুল নিয়ে খেলা (গল্প)- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. পুতুল নিয়ে খেলা (উপন্যাস)- হাসান আজুজুল হক 
  3. পুতুল নিয়ে খেলা (প্রবন্ধ) বুদ্ধদেব বসু 
  4. পুতুল নিয়ে খেলা (উপন্যাস)- অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নিয়ে খেলা':
- 'পুতুল নিয়ে খেলা' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসে পাঠক প্রেমিকার বিভিন্ন রূপ দেখতে পান। লেখক অবশ্য সেটা দেখান সিরিও-কমিক ভঙ্গিতে।

-----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)। তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'পুতুল নিয়ে খেলা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,১৩৭.
সোমেন চন্দের লেখা 'ইঁদুর' একটি -
  1. কাব্য
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দের লেখা 'ইঁদুর' একটি ছোট গল্প।

• 'ইঁদুর' ছোটগল্প:
- জীবনের পরতে পরতে বাস্তবতার অনুশীলন যে আমরা প্রতিনিয়ত করে চলেছি , আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌড়ে সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম  মানুষের বিরুদ্ধে।
- এই পটভূমিতে ইঁদুর একটি অসাধারন গল্প যার থেকে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
-------------------
• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- কলকাতা থেকে বনস্পতি,
- অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩৮.
নিচের কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস?
  1. ক) প্রেমাঞ্জলি
  2. খ) তারাবাঈ
  3. গ) অনল প্রবাহ
  4. ঘ) স্পেন বিজয় কাব্য
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস হচ্ছে- তারাবাঈ। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন। 
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। 
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্য গ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা 
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন 
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- মহাশিক্ষা ইত্যাদি।
উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ 
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন
- জাহানারা ইত্যাদি। 
প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম 
- সুচিন্তা
- তুর্কী নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা 
- আদব কায়দা শিক্ষা ইত্যাদি। 
সঙ্গীতগ্রন্থ:
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী
- প্রেমাঞ্জলি। 
ভ্রমণ কাহিনী:
- তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,১৩৯.
'চিন্তাতরঙ্গিণী' কাব্যের রচয়িতা -
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) দাউদ হায়দার
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
- 'চিন্তাতরঙ্গিণী' কাব্যের রচয়িতা - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম কাব্য 'চিন্তাতরঙ্গিণী' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- কাব্যটি প্রতিবেশী এক বন্ধুর আত্মহত্যার ঘটনা অবলম্বনে রচিত।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বৃত্রসংহার।
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪০.
ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' এর রচয়িতা কে?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা

• ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' এর রচয়িতা- 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'।
- এটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক।

• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সুরকার ও গীতিকার।
- তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর দুই অগ্রজ রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলালও সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর কাব্য 'আর্য্যগাথা' এবং বিলেতে থাকাকালে কাব্য 'Lyrics of Ind' প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণজাগরণমূলক গান রচনায় তাঁর অবদান ছিল।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।
- কল্কি অবতার।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই।
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৬,১৪১.
জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ক) সমাচার দর্পন
  2. খ) দিগদর্শন
  3. গ) ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. ঘ) বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
- জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদিত পত্রিকা নয়- বেঙ্গল গেজেট
- 'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক জেম্স অগাস্টাস-হিকি। 

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়
- সদ্গুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ
- Murray's Grammar
- Outline of the History of Bengal 
- The History of India
- How Wars Arrive in India

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা
- দিগদর্শন
- সমাচার দর্পণ
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
- গভর্নমেন্ট গেজেট

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।  
৬,১৪২.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:

- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪৩.
‘সুড়ঙ্গ’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
'সুড়ঙ্গ' নাটক:
• 'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি নাটক।
• এই নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন। তাই অনেক সময়ই সংলাপে সামঞ্জস্যহীনতা, অস্পষ্টতা ও নাটকে রহস্যময়তা পরিদৃষ্ট হয়।

• ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে। সবাই ভাবে বিয়েতে অমত তার। কিন্তু রাবেয়া জানায় বরে তার আপত্তি নেই। তাহলে কেন রাবেয়ার এ অবস্থা? শুরু হয় রহস্যময়তা! রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তার চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ- রূপকটি এখানেই।

-----------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪৪.
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্পটি কোন লেখকের উপন্যাস থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্প:
- ‘আম আঁটির ভেঁপু' শীর্ষক গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান নিয়ে গল্পটি রচিত হয়েছে।
- গল্পের চরিত্রগুলো হলো: অপু, দুর্গা, সর্বজয়া।
 
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।
 
ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪৫.
"অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না" - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬,১৪৬.
'৬৯ এর পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসের নাম কী?
  1. ক) জল্লাদ সময়
  2. খ) গাভী বৃত্তান্ত
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) নিহত নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
'৬৯ এর পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসের নাম 'ওঙ্কার'।
- এ উপন্যাসের নায়ক আবু নাসের।
-------------------
আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১):
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়। সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- উদ্ধার (১৯৭৫),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- অলাতচক্র (১৯৯০),
- ওঙ্কার (১৯৯৩),
- গাভীবৃত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬) 

তাঁর গল্পগ্রন্থ:
নক্ষত্র (১৯৬৯)


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. দুধভাতে উৎপাত
  2. খোয়ারি
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৬,১৪৮.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের নারী নির্যাতনের করুণ বাস্তবতা নিয়ে রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির লেখক কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. আবদুল্লাহ আল মামু
  4. মমতাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার  মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
-  মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।

রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব(৬০)। 

অন্যদিকে, 
• আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- আয়নায় বন্ধুর মুখ। 
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- নরকে লাল গোলাপ। 
• নীলিমা ইব্রাহীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক - যে অরণ্যে আলো নেই। 

উৎস: 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪৯.
বনফুলের রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অগ্নি
  2. খ) চার অধ্যায়
  3. গ) মুক্তধারা
  4. ঘ) আগুনপাখি
ব্যাখ্যা
• প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
- বনফুল রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস 'অগ্নি' ।
- উপন্যাসটি ভারতের ১৯৪২ সালের আগস্ট আন্দোলনের  পটভূমিতে রচিত।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে। 
- উপন্যাসের নায়ক উক্ত আন্দোলনের নেতা অংশুমান। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- তৃণখন্ড,
- স্থাবর ,
- বৈতরণীর তীরে, 
- দ্বৈরথ,
- নির্মোক,
- সে ও আমি 
- জঙ্গম
- নবদিগন্ত প্রভৃতি।

- 'চার অধ্যায়' (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'আগুনপাখি' 
- 'মুক্তধারা' নাটকটি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৫০.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম কী?
  1. ক) কয়েকটি গান
  2. খ) গীতরত্ন
  3. গ) আফতাব সঙ্গীত
  4. ঘ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে।
- অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি।
- “মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা” বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৫১.
‘পুতুল নিয়ে খেলা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
• লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।

• এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য ইত্যাদি।

।উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৫২.
আল-মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' একটি -
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. মহাকাব্য
  5. উপকথা
ব্যাখ্যা

‘সোনালী কাবিন’ আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়।
তার রচিত আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো - মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, বখতিয়ারের ঘোড়া, লোক লোকান্তর, কালের কলস ইত্যাদি।
সূত্র: LiveMCQ লেকচার।

৬,১৫৩.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি কোন লিপিতে লেখা হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. রোমান
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা

• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থের রচয়িতা মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়। 
- গুরুশিষ্যের কথপোকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য। 
- তিনি ছিলেন একজন ধর্মযাজক।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৫৪.
শ্রীমতি ক্যাফে উপন্যাসটি কার?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) সমরেশ বসু
  5. ঙ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
শ্রীমতি ক্যাফে উপন্যাসটি সমরেশ বসু রচিত। তার আরো কয়েকটি উপন্যাস হলো- গঙ্গা, বিবর ও প্রজাপতি। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৬,১৫৫.
‘আমি কবি যত কামারের, কাঁসারির আর ছুতারের মুটে মজুরের আমি কবি যত ইতরের’- এটি কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচায
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
  5. ঙ) অমিয় চক্রবতী
ব্যাখ্যা
‘আমি কবি যত কামারের, কাঁসারির আর ছুতারের মুটে মজুরের আমি কবি যত ইতরের’- এটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথমা’ এর ‘আমি কবি যত’ কবিতার অন্তগত। এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৬,১৫৬.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত শতক
  3. নিসর্গ সন্দর্শন
  4. সাধের আসন
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,১৫৭.
'কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।'- পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. কামিনী রায়
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• 'কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।'- পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

পাখি-সব করে রব-
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।

-------------------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,১৫৮.
'যদ্যপি আমার গুরু' গ্রন্থে লেখক গুরু হিসেবে কার কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. ক) ড: মুহাম্মদ ইউনুস
  2. খ) স্যার ফজলে হাসান আবেদ
  3. গ) অধ্যাপক আনিসুজ্জান
  4. ঘ) অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
'যদ্যপি আমার গুরু' বাংলাদেশের অগ্রণী চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মূলক রচনাটি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশের আগে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রায় চার মাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। 
- লেখক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৫৯.
‘নেমেসিস’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. প্রেম ও বিরহ
  2. পানি পথের যুদ্ধ
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঐতিহাসিক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
‘নেমেসিস’ নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।
 
নুরুল মোমেন বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া ,
- আইনের অন্তরালে ,
- শতকরা আশি ,
- রূপলেখা ,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৬০.
‘প্রেম ও ফুল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• ‘প্রেম ও ফুল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - গােবিন্দচন্দ্র দাস

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৬১.
বর্ধমানের মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সাবিত্রী উপাখ্যান
  2. খ) বৃত্তায়ন
  3. গ) আগুনপাখি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Live পরীক্ষায় এই প্রশ্নের ঘ) অপশনটি অনাকাঙ্খিতভাবে ফাঁকা ছিলো।
তবে সঠিক উত্তর প্রথম ৩টি অপশনে থাকায় উত্তর বাতিল করা হয় নি।
সঠিক উত্তর - গ) আগুন পাখি।
===================
হাসান আজিজুল হক:

- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” উপন্যাসটি দেশ বিভাগের পটভূমিতে লেখা
- আগুনপাখি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের কাহিনী বর্ধমান জেলার বাঁকুড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের ও পরিবারের আশেপাশের হিন্দু মুসলমানদের জীবন থেকে নেয়া।
- এতে বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ন ঘটেছে।


হাসান আজিজুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক ইত্যাদি। 

হাসান আজিজুল  হক রচিত গল্প:
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,  
- রোদে যাবো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো আর্কাইভ।
৬,১৬২.
বিহারীলাল চক্রবর্তী কোন পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কবিতা
  2. প্রগতি
  3. পূর্ণিমা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ছিলেন আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায়। তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর পূর্বে বাংলা গীতিকবিতার ধারা প্রচলিত থাকলেও এর যথার্থ রূপায়ণ ঘটে তাঁর হাতেই। তিনি বাংলা কাব্যের প্রচলিত ধারার রদবদল ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার প্রবর্তন করেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর রচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কবিদের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব রীতিই ফুটে উঠেছে।

- নিসর্গসন্দর্শন কাব্যে বিহারীলাল বঙ্গপ্রকৃতির শোভা অপূর্ব ভাব-ভাষা ও ছন্দ-অলঙ্কার প্রয়োগের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

- বঙ্গসুন্দরী কাব্যে কয়েকটি নারী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি গৃহচারিণী বঙ্গনারীকে সুন্দরের প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছেন।

- সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• 'কবিতা' ও 'প্রগতি' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,১৬৩.
'পঞ্চতন্ত্র' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সমরেশ বসু
  3. আবুল ফজল
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
 সৈয়দ মুজতবা আলী একজন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
তিনি ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে  জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস -
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

ছোটগল্পগ্রন্থঃ
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম।

রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র
- ময়ূরকণ্ঠী।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৬,১৬৪.
আহসান হাবীব প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. রাত্রিশেষে
  2. সারাদুপুর
  3. ছায়া হরিণ
  4. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
ব্যাখ্যা
⇒ আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

⇒ তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।

⇒ আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৬৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অবেলায় অসময়' - এর রচয়িতা কে?
  1. আমজাদ হোসেন
  2. মাহমুদুল হাসান
  3. রশীদ হায়দার
  4. শহীদুল জহির
ব্যাখ্যা
অবেলায় অসময়:
- আজ ছ'দিন। গোলাবারুদের প্রচণ্ড শব্দে উড়ে গেছে এদেশের সমস্ত পাখি। বসতির ধুলাবালি-কাদায় মানুষের চিহ্ন আছে শুধু, কিন্তু মানুষ নেই কোথাও। তারই পাড়ে পাড়ে, দীর্ঘ এক নদীতে, একটাই মাত্র নৌকো সাংঘাতিক সন্তর্পণে, ভয়ে ভয়ে, ছুপছুপ করে এগুচ্ছে - এভাবেই শুরু হয়েছে আমজাদ হোসেনের অনবদ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অবেলায় অসময়'
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে আমজাদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের যে চিত্র এঁকেছেন তা যেমন জীবন্ত, বাস্তবানুগ, তেমনি মর্মবিদারকও।
- তাঁর উপন্যাসে বর্ণিত কাশেম, সাকিনা, ব্রজরাণী, আলীর মতো প্রতিটি চরিত্র এবং তাদের ঘিরে গড়ে ওঠা ঘটনাগুলো পাঠকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে এবং তাঁকে নিয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই ভয়াল দিনগুলোতে।

আমজাদ হোসেন:
- তিনি ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার, নাট্যকার, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক।
- ১৯৫৮ সালে তাঁর যৌবনের প্রথম কবিতা ছাপা হয় পশ্চিমবঙ্গের দেশ পত্রিকায় ।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত 'কৃত্তিবাস' পত্রিকায় ছাপা হয় ছোটগল্প 'স্থিরচিত্র'।
- ছোটগল্প ও উপন্যাসে অবদানের জন্য পরপর দুইবার অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার (১৯৯৩-৯৪) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারে (২০০৪) ভূষিত হন।
- এছাড়া তিনি নাটক ও চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কারসহ অসংখ্য দেশি-বিদেশি (ইউএসএসআর উইমেন অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউএসএসআর জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সুভেন্যির পুরস্কারসহ) পুরস্কার।
- আমজাদ হোসেন ১৯৯৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

উৎস: 'অবেলায় অসময়' উপন্যাস, আমজাদ হোসেন।
৬,১৬৬.
'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটকটি রচনা করেন-
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. মমতাজউদ্দীন আহমদ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটক:
- 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজউদ্দীন আহমদ রচিত একটি নাটক।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত শতবর্ষের নাটক নামক গ্রন্থ থেকে 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটিকাটি সংকলিত ও সম্পাদিত হয়েছে।
- নাটিকাটি স্বদেশচেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়।
- নাট্যকার এখানে আমাদের দেশের পুলিশ সদস্যদের মানবতাবোধ এবং দেশাত্মবোধ অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় প্রকাশ করেছেন।
- একজন দারোগা, দুইজন পুলিশ সদস্য এবং একজন বিপ্লবীকে নিয়ে রচিত এ নাটকের প্রতিটি চরিত্রই আপন মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

মমতাজউদ্দীন আহমদ:
- মমতাজউদ্দীন আহমদ ১৮ই জানুয়ারি ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যকার ও অভিনেতা হিসেবে খ্যাতিমান। বাংলাদেশের নাট্যশিল্প আন্দোলনের তিনি পুরোধা পুরুষ।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
- ২০১৯ সালের ২রা জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- পালা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি।

গবেষণা ও প্রবন্ধ:
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত,
- বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত,
- প্রসঙ্গ বাংলাদেশ,
- প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৬৭.
“হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো” পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. রফিক আজাদ
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• “হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো” পঙ্‌ক্তিটি রফিক আজাদ রচিত ‘নত হও, কুর্নিশ করো’ কবিতা অংশ।

নত হও, কুর্নিশ করো
রফিক আজাদ -সংকলিত (রফিক আজাদ)   

হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,
তোমার উদ্ধত আচরনে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খ
পেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ,

অতএব, নত হও, বিনীত ভঙিতে করজোড়ে
ক্ষমা চাও, পায়ে পড়ো, বলো: কদ্যপি এমনটি হবে না, স্যার,
বলো: মধ্যবিত্ত হে বাঙালী ভদ্রমহোদয়গণ,
এবারকার মতো ক্ষমা করে দিন…

--------------
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে
- সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৬৮.
'কৃষ্ণপক্ষ' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. শিশুতোষ গদ্য 
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থ:
• 'কৃষ্ণপক্ষ' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ। অধিকাংশ গল্প ১৯৫০-৫১ সালে লেখা এবং সবগুলোই ইতিপূর্বে বিভিন্ন সাময়িক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। 

• ১৯৫৩ সাল থেকে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর গল্প লেখার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরু। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই এত দীর্ঘদিন পর প্রথম গল্পগ্রন্থ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথম পর্যায়ের গল্পগুলোর ভাষা, আঙ্গিক ও কাহিনিগত বিভিন্ন ত্রুটি লেখকের চোখে পড়েছিল। সেজন্য গ্রন্থটি প্রকাশের আগে লেখক এসব ত্রুটি যতটা সম্ভব শুধরে নিয়ে, গোটা বইয়ের বিষয়-বৈচিত্র্য আনার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের কয়েকটি গল্পও জুড়ে দিয়েছিলেন। এই গল্পগুলো হলো- কৃষ্ণপক্ষ, পূর্বাশা, নাম ভূমিকা এবং ইতিহাস।

• গল্প লেখার প্রাথমিক প্রচেষ্টার যুগে লেখককে  সর্বাধিক উৎসাহ জুগিয়েছিলেন কবি আহসান হাবীব ও তালিম হোসেন।

----------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:

- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত গ্রন্থসমূহ
• উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থ।

৬,১৬৯.
‘খসড়া কাগজ' – উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ- জেগে আছি, ধানকন্যা, মৃগনাভি, অন্ধকার সিঁড়ি ইত্যাদি। কাব্যগ্রন্থঃ মানচিত্র, ভোরের নদী মোহনায় জাগরণ ইত্যাদি। উপন্যাসঃ তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০), কর্ণফুলী, শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, খসড়া কাগজ ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৭০.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা - দীনেশচন্দ্র সেন

বঙ্গভাষা ও সাহিত্য: 
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ 
বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৭১.
'স্মৃতিস্তম্ভ' নিচের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ধানকন্যা
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  4. ঘ) মৃগনাভি
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- কর্ণফুলী (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি 
- মৃগনাভি 
- ধানকন্যা 
- যখন সৈকত 
- অন্ধকার সিঁড়ি 
- জীবনজামিন 
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৬,১৭২.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় কখন?
  1. ১৯৬৫ সালে 
  2. ১৯৭৩ সালে 
  3. ১৯৮০ সালে 
  4. ১৯৫২ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
‘সোনালী কাবিন’ হলো আল মাহমুদ রচিত একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থ, যা — ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালী কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেট অন্তর্ভুক্ত, যা একটি দীর্ঘ কবিতার রূপে পাঠকের সামনে আসে। এটি আল মাহমুদের প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই — ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম — মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি — 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ — 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,১৭৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রকাশিত উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা' ⎯ এর কালো মেয়েটির নাম কী?
  1. সালমা
  2. জামিলা
  3. নাজমা
  4. সালেহা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি লেখকের সর্বশেষ রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র নাজমা নামের এই আশ্চর্য কালো মেয়ে হয়ে ওঠে ১৯৭১-এর তৎকালীন পূর্ব বাংলার নির্যাতিত-নিপীড়িত মা-বোনদের প্রতীক।
-------------- 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- পঞ্চগ্রাম,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা ,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৭৪.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. আবুল ফজল 
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. হুমায়ূন আহমেদ 
  4. শওকত আলী 
ব্যাখ্যা
• ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান:
- উনবিংশ শতকের শেষার্ধের পটভূমিকায় বাংলার এক বিশিষ্ট অঞ্চলের জীবনধারা আবু জাফর শামসুদ্দীন সজীব করে তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,১৭৫.
'রেখাচিত্র' আবুল ফজলের কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) দিনলিপি
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
'রেখাচিত্র' আবুল ফজলের একটি দিনলিপি ও আত্মকাহিনী।
বিচিত্র কথা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, সমকালীন চিন্তা, শেখ মুজিব: থাকে যেমন দেখছি - ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
তাঁর রচিত উপন্যাস - প্রদীপ ও পতঙ্গ, চৌচির, রাঙা প্রভাত এবং
কায়েদে আজম, প্রগতি, স্বয়ম্বরা - ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,১৭৬.
'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হতো কাকে?
  1. মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।  তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক  হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৭৭.
'ফুড কনফারেন্স'  আবুল মনসুর আহমেদ রচিত- 
  1. স্মৃতিকথা
  2. রাজনৈতিক  উপন্যাস
  3. সামাজিক গল্প
  4. রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনা
ব্যাখ্যা

• 'ফুড কনফারেন্স'  আবুল মনসুর আহমেদ রচিত- রাজনৈতিক ব্যঙ্গরচনা 
- এ বইয়ে গল্প আছে সর্বমোট নয়টি—
- ‘ফুড কনফারেন্স’, ‘সায়েন্টিফিক বিযিনেস’, ‘এ আই সি সি’, ‘লঙ্গরখানা’, ‘রিলিফ ওয়ার্ক, ‘গ্রো মোর ফুড’, ‘মিছিল’, ‘জমিদারি উচ্ছেদ’ এবং ‘জনসেবা ইউনিভার্সিটি।
- প্রতিটি গল্পই সুখপাঠ্য।
- আবুল মনসুর আহমদের নিজস্ব ভাষাগুণে সাধারণ গল্পও হয়ে ওঠে অনন্য।

• আবুল মনসুর আহমেদ:

- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও প্রথম আলো প্রতিবেদন।লিংক

৬,১৭৮.
কুমড়াে ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা—লাইনটি কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. ক) কখনাে রং কখনাে সুর
  2. খ) লোক লোকান্তর
  3. গ) কোন এক মাকে
  4. ঘ) স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) - কবি, সরকারি কর্মকর্তা। ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

তাঁর উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে :
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে (কুমড়াে ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা)


কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কখনাে রং কখনাে সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৯৩) ইত্যাদি৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,১৭৯.
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ 'সংস্কৃতির রূপান্তর' রচনা করেন কে?
  1. গোপাল হালদার
  2. কাজী মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  3. আহমদ শরীফ
  4. রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'সংস্কৃতির রূপান্তর' প্রবন্ধ:
- 'সংস্কৃতির রূপান্তর' গোপাল হালদার রচিত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ১৯৪১ সালে সংস্কৃতির রূপান্তর প্রথম রচিত হয়। বিশ্ব-সংস্কৃতির ধারার একটি বাস্তব অবতরণিকা রচনাই ছিল লেখকের উদ্দেশ্য।
- সেদিকে বোধ হয় সংস্কৃতির রূপান্তরই প্রাথমিক প্রয়াস। তারপর নতুন নতুন সংস্করণে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন-পরিবর্ধনের দ্বারা যথাসাধ্য এ গ্রন্থকে পাঠকের সহায়ক করতেও চেষ্টা করা হয়েছে।

উৎস: 'সংস্কৃতির রূপান্তর' গোপাল হালদার।
৬,১৮০.
কায়কোবাদ প্রকাশিত প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. ক) অশ্রুমালা
  2. খ) বিরহ বিলাপ
  3. গ) কুসুম কানন
  4. ঘ) অমিয় ধারা
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ  'বিরহ বিলাপ'
- মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি এ কাব্যগ্রন্থ লিখেন। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭০ সালে।
- কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য। 

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 
- অশ্রুমালা
 - শ্মশানভষ্ম
- কুসুমকানন
- অমিয়ধারা 
- শিবমন্দির 
- মহররম শরীফ
----------
কায়কোবাদ
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
- 'মহাশ্মশান' কাব্যটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮১.
‘Lyrics of Ind’ কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জহির রায়হান
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

Lyrics of Ind, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ১৮৬৩ সালে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, নাট্যকার।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, সম্রাট সাহাজানকে নিয়ে প্রথম নাটক রচনা করেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,১৮২.
নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. ক) মীর মোশাররফ হোসেন - মৌমাছি
  2. খ) সমরেশ বসু - কালকূট
  3. গ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বীরবল
  4. ঘ) কালী প্রসন্ন সিংহ - টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
কিছু উল্লেখযোগ্য লেখকের ছদ্মনাম নিম্নরুপ- 
- মীর মোশাররফ হোসেন - গাজী মিয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভানুসিংহ
- প্রমথ চৌধুরী - বীরবল
- প্যারীচাঁদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর
- কাজেম আল কোরায়েশী - কায়কোবাদ
- কালী প্রসন্ন সিংহ - হুতোম পেঁচা
- ফররুখ আহমদ - বানভট্ট
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বনফুল
- বিমল ঘোষ - মৌমাছি
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- সমরেশ বসু - কালকূট
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - নীল লোহিত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮৩.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত 'আঁখিজল' কি জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬):
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
• কাব্য:
- আঁখিজল,
- লতিকা।
• প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধমালা।

• শিশুতোষ গ্রন্থ-
- নবীকাহিনী।

• উপন্যাস- ‘আবদুল্লাহ' (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮৪.
‘গাছপাথর’ ছদ্মনামে লিখালিখি করতেন কোন প্রাবন্ধিক?  
  1. ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী 
  4. সাইদ আহমদ
ব্যাখ্যা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ছদ্মনাম - ‘গাছপাথর’।
-------------------------------------------- 
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন, মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি মার্ক্সবাদী ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন। 
- তিনি “গাছপাথর” ছদ্মনামে লিখালিখি করতেন।
- দৈনিক সংবাদে 'গাছপাথর' ছদ্মনামে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশের সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করেছে।

• তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থসমূহ:
- অন্বৈষণ;
- রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি;
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক;
- গণতন্ত্রের পক্ষ-বিপক্ষ;
- দ্বিজাতিতত্ত্বের সত্য-মিথ্যা;
- লিঙ্কনের বিষণ্ণ মুখ;
- নজরুল ইসলাম: কবি ও অন্যান্য;
- শেক্সপীয়রের মেয়েরা ইত্যাদি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- শেষ নেই;
- কণার অনিশ্চিত যাত্রা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব;
- ইবসেনের বুনো হাঁস। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
প্রথম আলো পত্রিকা। 

৬,১৮৫.
‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্য
  3. আত্মজীবনী
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ মীর মশাররফ হােসেনের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা।

মীর মোশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। 
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ  ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- মীর মশাররফ হোসেন 'আজীজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস 'রত্নবতী' ও নাটক 'বসন্তকুমারী' তাঁর রচনা।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রত্নবতী,
- বিষাদ-সিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮৬.
'ওরা কদম আলী' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মামুনুর রশীদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

• ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা- 'মামুনুর রশীদ'

'ওরা কদম আলী' নাটক:
- ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- শোষিত- নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটক। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী
নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,১৮৭.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. রেইনকোট
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- লেখক মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মানুষজন তাদের আপনজন ও বসতভিটা হারিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।  
 
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ - বন্দী শিবির থেকে। 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোট বহন করছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
• শওকত ওসমান রচিত নাটক - পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৮৮.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৮৫৪ সালে 
  2. ১৮৫৮ সালে 
  3. ১৮৭৫ সালে 
  4. ১৮৭৮ সালে 
ব্যাখ্যা

• "আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। এর আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্তৃত। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। 'ঠকচাচা' এর অন্য একটি প্রধান চরিত্র।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিতি লাভকরে।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।

- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।

উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা। এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে রয়েছে-
- বাবুরাম,
- বাবুরামের পুত্র মতিলাল,
- ধূর্ত উকিল বটলর,
- অর্থলোভী বাঞ্ছারাম,
- তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,১৮৯.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ময়নামতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. মধুমতীর চর
  4. উড়ানীর চর
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ - ময়নামতীর চর, পদ্মানদীর চর, মধুমতীর চর। 

অন্যদিকে, 
উড়ানীর চর- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতা।
-------------------- 
বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতীর চর,  
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী। 
 
তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ, 
- রূপকথা, 
- কুঁচবরণ কন্যা।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,  
- শেষ লগ্ন, 
- অরণ্য গোধূলি, 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- মসনদ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৬,১৯০.
'ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া' গ্রন্থটি রচনা করেন-
  1. ক) শহীদুল্লা কায়সার
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৯১.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে যে রচনায়-
  1. ক) পতঙ্গ পিঞ্জর
  2. খ) নেকড়ে অরণ্যে
  3. গ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  4. ঘ) চৌরসন্ধি
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান: কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- জাহান্নাম হইতে বিদায় ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

তার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস জাহান্নাম হইতে বিদায়-এ মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে, যেখানে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে বাংলাদেরশের স্বাধীনতা কামী শরণার্থী বাঙালীরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে উঠেন।  

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৬,১৯২.
‘স্বরূপের সন্ধানে‘ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
আনিসুজ্জামান (১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭ - ১৪ মে ২০২০) ছিলেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক।
• তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। 
• তিনি ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯) ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তার গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।
• আনিসুজ্জামান ২০২০ সালের ১৪ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যকর্ম:
- মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য 
- স্বরূপের সন্ধানে (১৯৭৬)
- কাল নিরবধি (আত্মজীবনী)
- আমার একাত্তর 
- মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর 
- আমার চোখে 
- বিপুলা পৃথিবী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৯৩.
‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. মামুনুর রশীদ
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত একটি নাটক।

-------------------
• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- বর্ণচোরা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল।
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং যুগান্তর পত্রিকা,রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
৬,১৯৪.
'সুড়ঙ্গ' নাটকটি রচনা করেছেন কে? 
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
- 'সুড়ঙ্গ' নাটকটি রচনা করেছেন- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়।  
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’  ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫-৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার দৈনিক  স্টেটস্ম্যান পত্রিকার সাব-এডিটর ছিলেন।
- ১৯৬০-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্যারিসে পাকিস্তান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং ১৯৬৭-৭১ সাল পর্যন্ত ইউনেস্কোর প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ছিলেন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস  লালসালু (১৯৪৮) ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরে এটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর প্যারিসে তাঁর মৃত্যু হয় এবং প্যারিসের উপকণ্ঠে মদোঁ-স্যুর বেল্ভু-তে তিনি সমাহিত হন।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- তাঁর অন্য দুটি উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) ও কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮) বাংলা সাহিত্যে দুটি ব্যতিক্রমধর্মী সৃষ্টি। তিনি এ দুটি উপন্যাসে ‘চেতনাপ্রবাহ রীতি’ ও ‘অস্তিত্ববাদ’-এর ধারণাকে অসাধারণ রূপক ও শিল্পকুশলতায় মূর্ত করে তুলেছেন।
- লালসালু 
- দি আগলি এশিয়ান 
- How does one cook beans ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- নয়নচারা 
- দুই তীর 
- গল্প সমগ্র। 
নাটক:
- বহিপীর 
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,১৯৫.
আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  2. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. বাংলা সাহিত্যের কথা
  4. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থটির যৌথ রচয়িতা - মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ - রচিত বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ - বাংলা সাহিত্যের কথা।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'।
- 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• আবদুল হাই:
- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৯৬.
কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করেন কে?
  1. বসন্তরঞ্জন রায়
  2. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. আবুল ফজল
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,১৯৭.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা কত সালে প্রতিষ্ঠা হয়?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৪১ সালে
  3. ১৮৫১ সালে
  4. ১৮৪৫ সালে
ব্যাখ্যা
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:

- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৯৮.
‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’-গানটির রচয়িতা কে?
  1. হাসন রাজা
  2. শাহ আবদুল করিম
  3. লালন শাহ্‌
  4. মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

তাঁর জনপ্রিয় গান-
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১৯৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. আগুনের পরশমণি
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা 'চিলেকোঠার সেপাই' একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল
ওসমান। এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

অন্যদিকে,
--------------------- 
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
১৯৮৬ সালে হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আগুনের পরশমণি'। 'আগুনের পরশমণি'তে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা অপারেশনের দুঃসাহসিক বর্ণনা, গেরিলাদের গোপন তৎপরতা, স্বাধীনতা সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারী কিছু চরিত্র উপস্থাপন করে ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ রচনা করলেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই উপন্যাসটির কাহিনি শুরু হয়েছে। বদিউলের সঙ্গে ওই ভদ্রলোকের কন্যার মানবিক দুর্বলতা প্রকাশিত যুদ্ধকালীন পরিবেশে।

• 'জাহান্নম হইতে বিদায়' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস। ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে। এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন। প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৬,২০০.
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় কোন সালে?
  1. ২০১০
  2. ২০১২
  3. ২০১১
  4. ২০১৩
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে

অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।