বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৫৮ / ৭৭ · ৫,৭০১৫,৮০০ / ৭,৬৪৬

৫,৭০১.
’উজান মৃত্যু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-এর রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- ’উজান মৃত্যু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-এর রচিত একটি- নাটক।
- জীবন চলার পথে খেটেখাওয়া মানুষগুলো কত ধরনের অত্যাচার, নির্যাতন, শোষণ ও অন্যায়ের শিকার হন- সে বিষয়গুলোই 'উজানে মৃত্যু' নাটকে উঠে এসেছে।
-----------------------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প 'হঠাৎ আলোর ঝলকানি'। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তার রচিত প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০২.
'মানচিত্র' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) তুলসী লাহিড়ী
  2. খ) আনিস চৌধুরী
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
আনিস চৌধুরী(১৯২৯-১৯৯০)
- সমাজসচেতন নাট্যকার।
- সমাজের নিখুঁত চিত্রাঙ্কনে তাঁর বিশিষ্টতা।
- তাঁর 'মানচিত্র', 'এলবাম', 'চেহারা', 'তবুও অনন্যা' বাংলাদেশের নাট্যসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
- তাঁর নাটকে  মধ্যবিত্ত মানুষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, দুঃখ-দারিদ্র ও সংগ্রামী চেতনা সার্থ ভাবে ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫,৭০৩.
ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন-
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

৫,৭০৪.
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস-
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. কাশবনের কন্যা
  3. আগুনের মেয়ে
  4. কাঞ্চনমালা
ব্যাখ্যা
• কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস 'আগুনের মেয়ে'। 
- উপন্যাসটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক),
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন।

অন্যদিকে, 
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’; কাঞ্চনমালা।
• 'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৫.
'হুতোম প্যাঁচা' কোন লেখকের সাহিত্য ছদ্মনাম?
  1. বিনয় মুখোপাধ্যায়ের
  2. প্যারিচাঁদ মিত্রের
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহের
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম- হুতোম প্যাঁচা। 

• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম 'হুতোম প্যাঁচা'। কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন একজন  সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক ও সমাজকর্মী। প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২) এবং 'পুরাণসংগ্রহ' (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• বিনয় মুখোপাধ্যায়ের  ছদ্মনাম- যাযাবর। 
• প্যারিচাঁদ মিত্রের টেকচাঁদ ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর। 
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- বনফুল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৫,৭০৬.
'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
ও সে সকল দেশের রানি; সে যে – আমার জন্মভূমি।'
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অমর এই পংক্তিটি তাঁর কোন সাহিত্যকর্মে রয়েছে?
  1. সাজাহান
  2. আর্যগাথা
  3. প্রতাপসিংহ
  4. বঙ্গনারী
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
- কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

♦♦ সাহিত্যকর্ম 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য 'আর্যগাথা'।
- তাঁর রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থের নাম Lyrics of Ind. 

♦ সাজাহান
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে সর্বপ্রথম নাটক লেখেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক “সাজাহান”।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে রচিত।
- এই নাটকের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, কারা রুদ্ধ সম্রাট শাহজাহান তার পুরোনো দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করছেন। কারাগারের এক টুকরো জানলা দিয়ে তিনি চারপাশের প্রাকৃতিক শোভা দেখে আপনা মনেইে গেয়ে উঠলেন,

'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
ও সে সকল দেশের রানি সে যে – আমার জন্মভূমি।'

- দেশ মাতৃকার প্রতি অটুট ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়েছে এই গানে। 

♦ কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

♦ ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

♦ নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

♦ পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।
- চন্দ্রগুপ্ত। 

♦ সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৭০৭.
'নটগুরু' কোন লেখকের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল?
  1. গিরিশচন্দ্র সেন
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু' হিসেবে। রঙ্গমঞ্চের অভিনয় ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তিনি নাট্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অভিনয়- সাফল্য তাঁর নাট্যরচনা প্রতিভাকে উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল । গিরিশচন্দ্র তাঁর নাটক রচনায় সাহিত্যের প্রয়োজনের চেয়ে মঞ্চের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা ছিলেন।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি প্রথমে হেয়ার স্কুল এবং পরে ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে অধ্যয়ন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৮.
'বিন্দু-বিসর্গ' আত্মজীবনী গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• 'বিন্দু-বিসর্গ' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত - আত্মজীবনী
- গ্রন্থটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন মৃত্যু বরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭০৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত “রেইনকোট” গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. দোজখের ওম
  3. খোঁয়ারি
  4. জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
ব্যাখ্যা
⇒ “রেইনকোট” ছোটগল্প:
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• “রেইনকোট” গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
৫,৭১০.
"একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"- উক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ্য বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

---------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭১১.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. আরোগ্য নিকেতন
  3. ধাত্রী দেবতা
  4. কালিন্দী
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্যবহ্নি’ উপন্যাস:
- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।

অন্যদিকে,
- ‘আরোগ্য নিকেতন’ উপন্যাসে এক কবিরাজের জীবনদর্শনের সঙ্গে নব্যশিক্ষিত ডাক্তারের সংঘাত উল্লেখখ করা হয়েছে। 
- ‘ধাত্রী দেবতা’ এক সহিষ্ণু জমিদার বংশকে কেন্দ্র করে দেশের সমাজ ও রাজনৈতিক জীবনের নানা আন্দোলন ও পরিবর্তন এই উপন্যাসের উপজীব্য।
- 'কালিন্দী’ নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।

--------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের কোন গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন?
  1. দাদা মশায়ের থলে
  2. ঠাকুরদাদার ঝুলি
  3. ঠানদিদির থলে
  4. ঠাকুরমার ঝুলি
ব্যাখ্যা

• 'ঠাকুরমার ঝুলি': 
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রচিত একটি রূপকথার গ্রন্থ। 
- ঠাকুরমার ঝুলির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন। জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
- গ্রন্থটি ছিল বালকদের উপযোগী একটি রূপকথা। 

----------------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

দক্ষিণারঞ্জনের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি (১৯০৭, এটি বালকদের উপযোগী একটি রূপকথা), 
- ঠাকুরদাদার ঝুলি (১৯০৯, এটি নারীদের ব্রতকথা),
- ঠানদিদির থলে (১৯০৯, এটি মালঞ্চমালা, পুষ্পমালা প্রভৃতি গীতিকথা),
- দাদামশায়ের থলে (১৯১৩, এই গ্রন্থেবৈঠকি গল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়) ইত্যাদি।  

শিশুসাহিত্যিক হিসেবেও দক্ষিণারঞ্জনের খ্যাতি আছে। তাঁর শিশুবিষয়ক গ্রন্থগুলো হলো-
- খোকাবাবুর খেলা,
- আমাল বই,
- কিশোরদের মন,
- চারু ও হারু,
- ফার্স্ট বয়,
- লাস্ট বয়,
- উৎপল ও রবি,
- বাংলার সোনার ছেলে,
- সবুজ লেখা,
- পৃথিবীর রূপকথা (অনুবাদ),
- চিরদিনের রূপকথা,
- আমার দেশ,
- আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭১৩.
“নদী ও নারী” উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ুন কবির 
  4. রফিক আজাদ 
ব্যাখ্যা

• “নদী ও নারী” হুমায়ুন কবির' রচিত উপন্যাস।

• হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি দার্শনিক, লেখক, কবি, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- হুমায়ুন কবির ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির। ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তিনি মারা যান।

- হুমায়ুন কবিরের একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসটি প্রথমে ১৯৪৫ সালে ইংরেজিতে ‘Men and Rivers’ নামে প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৫২ সালে “নদী ও নারী” নামে বাংলায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসে নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার চিত্রণ করা হয়েছে।

• তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৭১৪.
নিচের কোনটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. হিতোপদেশ
  2. বেদান্তগ্রন্থ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

বেদান্তগ্রন্থ:
- 'বেদান্তগ্রন্থ' (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭১৫.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অর্কেস্ট্রা
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. কুলায় ও কালপুরুষ
  4. সংবর্ত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কুলায় ও কালপুরুষ’ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
⇒ কাব্যগ্রন্থ:  
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

⇒ প্রবন্ধগ্রন্থ:
• স্বগত,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৫,৭১৬.
‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি কোন বিষয়ের উপর রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশ ভাগ 
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি:
- ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন।

উপন্যাসটি ১৯৩৮ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের পটভূমিতে রচিত। ১৯৪৭-এ দেশভাগ, রাজনৈতিক বিভাজন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সঙ্গে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের (যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত) ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র নিয়ে লেখেন ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’। উপন্যাসে শ্রমিক শোষণ, সাম্রাজ্যবাদ, এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চিত্র আছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের লড়াই গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। অধিক প্রচলিত এবং গ্রহণযোগ্য উত্তর 'ভাষা আন্দোলন' নেওয়া হলো।
------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাস।
৫,৭১৭.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ।

• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না।

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর। গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত। এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম।
৫,৭১৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. মৌরীফুল
  2. অপরাজিত
  3. নবান্ন
  4. পথের দাবী
ব্যাখ্যা
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'।

অন্যদিকে,
- মৌরীফুল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প।
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো - পথের দাবী।
--------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭১৯.
"কত গ্রাম, কত পথ যায় স’রে স’রে–
শহরে রানার যাবেই পৌঁছে ভোরে" - কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কালী প্রশন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
"কত গ্রাম, কত পথ যায় স’রে স’রে–
শহরে রানার যাবেই পৌঁছে ভোরে;" - পঙক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'রানার' কবিতার অংশ।

সুকান্ত ভট্টাচার্যে (১৯২৬-১৯৪৭)
- বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট। 
- তাকে বলা হয় বাংলা ভাষায় মার্কসীয় ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর পৈতৃক বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার অন্তর্গত ঊনশিয়া গ্রামে।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

- মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।
৫,৭২০.
' শোকার্ত তরবারী  ' হাসান হাফিজুরের লেখা-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- আর্ত শব্দাবলী 
- অন্তিম শরের মতো 
- যখন উদ্যত সঙ্গীন 
- শোকার্ত তরবারী 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: 
- আধুনিক কবি ও কবিতা
- মূল্যবোধের জন্য
- সাহিত্য প্রসঙ্গ
- আলোকিত গহবর

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৭২১.
‘যৈবতী কন্যার মন’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বৃন্দাবন দাস
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) নাসিরুদ্দীন
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব।
সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলোঃ সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য, বাসন, কেরামতমঙ্গল, কীর্তন খোলা, হাতহদাই, শকুন্তলা, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, চাকা, যৈবতী কন্যার মন, হরগজ, নিমজ্জন, একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,৭২২.
বাংলার গীতিকবিতার জনক কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে ভোরের পাখি উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- সারদামঙ্গল, বঙ্গসুন্দরী ইত্যাদি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্য।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

৫,৭২৩.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আবদুল হাই
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

আবদুল হাই:
- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

​তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭২৪.
'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. রফিক আজাদ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল:
- 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই গল্পগ্রন্থে ৫টি গল্প সংকলিত হয়েছে।
• এগুলো হলো:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

• তাঁর রচিত গল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।

৫,৭২৫.
বাংলা সাহিত্যে 'নটগুরু' হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছেন-
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র 
ব্যাখ্যা

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল 'নটগুরু' হিসেবে। রঙ্গমঞ্চের অভিনয় ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তিনি নাট্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অভিনয়-সাফল্য তাঁর নাট্যরচনা প্রতিভাকে উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল।

• গিরিশচন্দ্র তাঁর নাটক রচনায় সাহিত্যের প্রয়োজনের চেয়ে মঞ্চের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তাই শেষ বয়সে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, 'একখানি নাটকও তিনি নিজের ইচ্ছামত লিখে যেতে পারেন নি।' এই আক্ষেপে নটের কাছে নাট্যকারের পরাভবই ব্যক্ত হয়েছে। গিরিশচন্দ্র ছিলেন প্রথমে নট ও মঞ্চাধ্যক্ষ, পরে নাট্যকার।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• রামনারায়ণ তর্করত্ন 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার করে 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিগুরু হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।  

৫,৭২৬.
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক কত অঙ্কবিশিষ্ট?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।
তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত নাটক-
- কবর (তাঁর 'কবর' নাটকের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
এটি এক অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষ্যে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- রাজার জন্মদিনে,
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।
অপরদিকে, জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- আরেক ফাল্গুন
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৭২৭.
‘আমি জন্মগ্রহণ করিনি’ কী ধরনের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

'আমি জন্মগ্রহণ করিনি' ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সৈয়দ শামসুল রচিত কাব্যগ্রন্থ।
তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে,-
- পরানের গহীন ভিতর,
- বিরতিহীন উৎসব,
- বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, প্রতিধ্বনিগণ,
- ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যগুলো হলো'
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

তার রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী,
- মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭২৮.
নিচের কোনটি রম্যরচনা?
  1. ক) জলে ডাঙ্গায়
  2. খ) পাদটীকা
  3. গ) চাচা কাহিনী
  4. ঘ) পঞ্চতন্ত্র
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙ্গায়' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল তাঁর রচিত রম্যরচনা।
- 'চাচা কাহিনী' ও 'টুনি মেম' তাঁর রচিত ছোটগল্প।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৭২৯.
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) কবিতা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি প্রবন্ধ সংকলন। 
- ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে এটি সংকলন করা হয়। 
- প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত। 

• কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদীবক্ষে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- শাশ্বত বঙ্গ।

• সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ: 
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ 
- নজরুল প্রতিভা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩০.
 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. আরেফ আলী 
  2. মোবাশ্বের
  3. শশী
  4. আলিফ
ব্যাখ্যা

 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী  নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৩১.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'এই বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'-এই সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি 'পালামৌ' গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।

• 'পালামৌ':

- পালামৌ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি।
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা।
- এই জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার পালামৌ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।
- এটি প্রথমে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

•তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা
- মাধবীলতা
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

•তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

উৎস: ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩২.
'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ- স্বপ্নদর্শন, সংগীত শতক, বঙ্গসুন্দরী, নিসর্গ সন্দর্শন, বন্ধু বিয়োগ, প্রেম প্রবাহিনী, সারদামঙ্গল, সাধের আসন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৩.
কোনটি এস ওয়াজেদ আলি রচিত উপন্যাস?
  1. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  2. ভবিষ্যতের বাঙালী
  3. গ্রানাডার শেষ বীর
  4. মোটর যোগে রাঁচী সফর
ব্যাখ্যা
• 'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

--------------
• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

• ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৩৪.
‘বাঙলা’ চলচ্চিত্রটি কোন উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
• যাত্রা- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৩৫.
'শিবমন্দির' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কাজেম আল কোরেশী
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরাশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)। মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- মহাশ্মশান (মহাকাব্য), কুসুম কানন, অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয়ধারা, শ্মশানভষ্ম, মহররম শরীফ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৭৩৬.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  2. খ) ৪৭ এর দেশভাগ
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) ফরায়েজি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১): প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। আহমদ ছফা ‘উত্থানপর্ব’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর রচিত উপন্যাস ওঙ্কার (১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত, প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে), এই উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।
তাছাড়া সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭), উদ্ধার (১৯৭৫), একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯), মরণবিলাস (১৯৯০), গাভি বিত্তান্ত (১৯৯৪), অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬), বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬) ইত্যাদি তার অন্যান্য উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৭৩৭.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী।

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৩৮.
‘যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।’ উক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী মোতাহের হোসেন
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৩৯.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক- 
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. চাকা
  3. অবরোধ
  4. রাণী পালঙ্ক
ব্যাখ্যা

• ‘চাকা’ নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘চাকা’।

- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।

- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে, 
• 'দণ্ডকারণ্য' (১৯৬৬) নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। এই নাটকে তিনটি পর্ব আছে। যথা-দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য।  
• মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে 'অবরোধ' (১৯৪৭) বিজন ভট্টাচার্য রচিত একটি নাটক।
• দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক ‘রাণী পালঙ্ক’।

--------------------
• সেলিম আল দীন রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো-
- ঘুম নেই,
- সর্প বিষয়ক গল্প,
- মুনতাসির’ 
- কীত্তনখোলা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- ধাবমান‘সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- পুত্র,
- জুলান,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- যৈবতী কন্যার মন,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘চাকা’ নাটক । 

৫,৭৪০.
'নীল-দর্পণ' নাটকটি কোন ইংরেজি সাহিত্যের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. Taming of the Shrew
  2. Apple of Discord
  3. Uncle Tom's Cabin
  4. You never can tell
ব্যাখ্যা
নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাত আচরণমূলক নাটক নীলদর্পণ (১৮৬০) এর রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- অনেকেই এই নাটকটিকে Uncle Tom's Cabin এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। 
- নাটকটির ঘটনা, বিষয়চিন্তা, রচনাস্থান, প্রকাশস্থান, মুদ্রনালয়, প্রথম মঞ্চায়ন সবই বাংলাদেশে।
- প্রথম প্রকাশের সময়  ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে তা প্রকাশিত হয়। 
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরন, তোরাপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী (১৮৬৩),
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
- সধবার একাদশী (১৮৬৬),
- লীলাবতী (১৮৬৭),
- জামাই বারিক (১৮৭২),
- কমলে কামিনী (১৮৭৩) প্রভৃতি।

সামাজিক নাটক:
- সধবার একাদশী
- লীলাবতী 

প্রহসন:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো
- জামাই বারিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৭৪১.
‘অশনি সংকেত’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘অশনি সংকেত’ উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘অশনি সংকেত’ উপন্যাসের পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘মাতৃভূমি’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসে বিভূতিভূষণ তাঁর স্বগ্রাম বারাকপুর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহাকুমা শহরে দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- এই উপন্যাসটি সত্যজিৎ রায় একই নামে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন।

----------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলোর নাম:
- পথের পাঁচালি,
- অপরাজিত,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতি,
- অশনি সংকেত।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।
৫,৭৪২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি কোন জেলা থেকে আবিষ্কার করেন?
  1. কাঁকিল্যা
  2. হুগলি
  3. বর্ধমান
  4. বাঁকুড়া
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে।
- রাধা ও কৃষ্ণের প্রেম নিয়ে এই কাব্যটি রচিত হয়েছে। এটি ১৩ খণ্ডে বিভক্ত।
- বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪৩.
'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা - আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
 
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৪৪.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৪৫.
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে” কোন কবিতার চরণ?
  1. ক) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  2. খ) লোক লোকান্তর
  3. গ) রক্তে আমার অনাদি অস্থি
  4. ঘ) কবিতা, তোমার দরজায়
ব্যাখ্যা
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে”- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার চরণ। 

• 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা: 
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা। 
৫,৭৪৬.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) বিহারীলাল
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) সতেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দের রাজা' ও 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ-
- কুহু ও কেকা,
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- হোম-শিখা,
- ফুলের ফসল,
- তুলির লিখন,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতী,
- কাব্য সঞ্চয়ন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৪৭.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

ভাত দে হারামজাদা:
- রফিক আজাদের বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'।
- এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষকালে খ্যাতি পাওয়া রফিক আজাদের কবিতা।

ভাত দে হারামজাদা
রফিক আজাদ

ভীষণ ক্ষুধার্ত আছি, উদরে, শরীরজুড়ে বেপর
অনুভূত হতে থাকে-প্রতিপলে-সর্বগ্রাসী ক্ষুধা
অনাবৃষ্টি যেমন চৈত্রের শস্যক্ষেতে জ্বেলে দেয়
প্রচণ্ড দাবানল-তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোনো দাবি
অনেকে অনেককিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায়;
বাড়ি, গাড়ি, টাকা কড়ি-কারো বা খ্যাতির লোভ আছে
আমার সামান্য দাবি পুড়ে যাচ্ছে পেটের আগুনে-
ভাত চাই-এই চাওয়া সামান্য দাবি বা গরিব
সরু বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চাল হলে
কোন ক্ষতি নেই-মাত্র খানিক ভাত চাই;
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য-সব দাবি।

উল্লেখ্য,
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- রফিক আজাদ মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৪৮.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. দক্ষীণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- দীনেশচন্দ্র সেন। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৪৯.
কোনটি কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. সাড়ে তিন হাত ভূমি
  2. জীবন আমার বোন
  3. একটি কালো মেয়ের কথা
  4. উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

• 'উপমহাদেশ' উপন্যাস: 
- 'উপমহাদেশ’ কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন লেখক।

-----------------------
• কবি আল মাহমুদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

অন্যদিকে, 
• 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।
• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে -কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টকে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'উপমহাদেশ' উপন্যাস।

৫,৭৫০.
”কাঁদো নদী কাঁদো” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

'কাঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮) উপন্যাসটির রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
---------------------------------------
কাঁদো নদী কাঁদো:
- কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত।
- উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাঁকাল নদীর তীরে অবস্থিত কুমুরডাঙ্গা শহরের মানুষের জীবন ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।
- নদীটি পলি জমে মৃতপ্রায় হওয়ায় স্টিমারঘাট সরানো হয়, যা শহরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সংকট সৃষ্টি করে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মুহাম্মদ মুস্তাফা।
- তার বাবা খেদমতউল্লাহ্‌ চেয়েছিলেন ছেলে উকিল হোক।
- বাবার মৃত্যুর পর মুস্তাফা বহু কষ্টের মধ্য দিয়ে শিক্ষালাভ করে সেই স্বপ্ন পূরণ করে।
- উপন্যাসটি চেতনাপ্রবাহ রীতিতে লেখা, যেখানে মুস্তাফার জীবন ও অবচেতন মন তবারক ভুঁইয়া নামের স্টিমারযাত্রীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে নদীর মৃত্যু, শহরের সংকট, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও চেতনাপ্রবাহের মাধ্যমে মানুষের জীবনের করুণতা ও বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছিল।
----------------------------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
 - সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৫১.
কোন গবেষক সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন?
  1. ক) বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. খ) ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সুকুমার সেন
  4. ঘ) ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
Source: Banglapedia

৫,৭৫২.
'শ্রীকান্ত শর্মা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
• 'কমলাকান্ত' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৫৩.
পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসীদের চরদখল ও জীবন-সংগ্রাম নিয়ে আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. পদ্মাপাড়
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- ফজল এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- এরফান মাতব্বর,
- আরশেদ মোল্লা,
- জঙ্গুরুল্লা,
- জরিনা,
- রূপজান ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি'। 
• "পদ্মা মেঘনা যমুনা" আবু জাফর শামসুদ্দীনের লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
• "পদ্মাপাড়" জসীমউদ্‌দীনের লেখা একটি জনপ্রিয় নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৫৪.
'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' কে লিখেছেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) রামমোহন রায়
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৫৩ সালের ৬ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ চর্যাপদ নেপালের রাজদ্রবারগ্নথাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়
- মেঘদূত
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
- বেণের মেয়ে
- কাঞ্চনমালা 
- প্রাচীন বাংলার গৌরব
- বৌদ্ধধর্ম 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৫,৭৫৫.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
কচিপাতা, ত্রিস্রোতা, দৃষ্টিকোণ, ইলিয়ড, পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস), অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি গ্রন্থাবলীর রচয়িতা আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৫৬.
'প্রফুল্ল' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্ত নাটক প্রফুল্ল‌।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীর কাসিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- মায়াবসান,
- বলিদান,
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- লক্ষ্ণণ বর্জন,
- সীতাহরণ,
- জনা, 
- শঙ্করাচার্য,
- মুকুলমুঞ্জরা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫৭.
“আরো দুটি মৃত্যু” - কার রচিত গল্প?
  1. ক) সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান অমর হয়ে আছেন ভাষা আন্দোলনের পর প্রথম প্রকাশিত সাহিত্য সংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারী” ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ( ১৯৮২-৮৩) সম্পাদনা করে। তার রচিত কবিতাঃ আর্ত শব্দাবলী, বিমুখ প্রান্তর, অন্তিম শরের মত, শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৫৮.
‘সে এখন পরের বাড়ির কাঁথা সিলাই করে, আর সে সুইয়ের ফোড় আমার বুকে আইয়া বিন্ধে।’- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. সাদা হাওয়া
  3. নক্সী কাাঁথার মাঠ
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
• উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।
• উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।
• ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসের কিছু উক্তি হলো:
• ‘তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।’- করমালীর উক্তি।
• ‘সে এখন পরের বাড়ির কাঁথা সিলাই করে, আর সে সুইয়ের ফোড় আমার বুকে আইয়া বিন্ধে।’-করমালীর উক্তি।
• ‘হেই পুলা, তুই আমার নাওয়ে যাইবি? আমি খালে-বিলে জাল লইয়া ঘুরি, মাছ ধরি- মাছ বেচি, নাওয়ে রান্ধি-নাওয়ে খাই।’ উক্তিটি কিশোরের।
• ‘মনের মত মানুস পাইলাম না।’ উপন্যাসে উক্তি বলেছেন জনৈক মালো যুবক।

------------------------------
• অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:
- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৫৯.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. বিলাসিনী
  2. বিধুমাস্টার
  3. অভাগীর স্বর্গ
  4. মাস্টারমশায়
ব্যাখ্যা
• "বিধুমাস্টার" বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প। 
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র পিন্টু  ও তার গৃহশিক্ষক বিধুমাস্টার। 

"বিধুমাস্টার" গল্পের সারসংক্ষেপ:
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পিন্টু ও তার ভাই-বোনদের পড়ানোর জন্য বিধুভূষণ চট্টোপাধ্যায় নামে এক গৃহশিক্ষক (বিধুমাস্টার) আসেন। প্রথমে পিন্টু মাস্টারমশাইকে অপছন্দ করত, কারণ তিনি খুবই সাধারণ, লাজুক ও অল্পশিক্ষিত ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে মাস্টারমশাই শিশুদের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে তাদের মন জয় করে নেন। তিনি নিজের সামান্য উপার্জন থেকেও ছাত্রদের ঘুড়ি, লাটাই ও কুলফি কিনে দিতেন।

একদিন পিন্টু মাস্টারমশাইয়ের ছোট, জরাজীর্ণ ঘর দেখে তাঁর প্রতি সহানুভূতি বোধ করে এবং ঠিক করে যে মাস্টারমশাই যাতে অযথা খরচ না করেন, তা দেখবে। কিন্তু তার আগেই মাস্টারমশাইয়ের শিক্ষাগত অযোগ্যতা মেজোকাকার চোখে পড়ে। মেজোকাকা বুঝতে পারেন যে তিনি ভালোভাবে পড়াতে পারেন না, তাই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। পিন্টু বুঝতে পারে যে সে-ই মাস্টারমশাইয়ের ভুলত্রুটি খুঁজে কাকার কাছে বলে বলে তাঁর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ফলে সে তীব্র অপরাধবোধে ভুগতে থাকে

অন্যদিকে, 
• প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প 'বিলাসিনী'।
• 'অভাগীর স্বর্গ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছোটগল্প।
• 'মাস্টারমশায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।

উৎস: "বিধুমাস্টার" ছোটগল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৬০.
'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রথম সংকলনের সম্পাদক কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. আব্দুল গণি হাজারী
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্শা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।
- প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬১.
কোনটি বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ?
  1. সংস্কৃতি কথা
  2. সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই
  3. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  4. সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা।
• শওকত ওসমান রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৬২.
আব্দুল কাদির রচিত কবিতা কোনটি?
  1. ক)  উত্তর বসন্ত
  2. খ) আকাশনীলা
  3. গ) রূপালি স্নান
  4. ঘ) শোকার্ত তরবারি
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির, কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দোবিশারদ, সম্পাদক।
১৯০৬ সালের ১ জুন কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭), ও

প্রবন্ধগ্রন্থ
- কবি নজরুল (১৯৭০
- লোকায়িত সাহিত্য
- কাজী আব্দুল ওদুদ

- 'আকাশনীলা' কবিতার রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ। 
- 'রূপালি স্নান' কবিতার রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
- 'শোকার্ত তরবারি' কবিতার রচয়িতা  হাসান হাফিজুর রহমান। 
 
৫,৭৬৩.
একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি ?
  1. ক) ওরা কদম আলী
  2. খ) নেমেসিস
  3. গ) রক্তকরবী
  4. ঘ) চিত্রাঙ্গদা
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক 'নেমেসিস'।
- ১৯৩৯-'৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লিখেন। 
- 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়। 
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। 
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের একক চরিত্র বিশিষ্ট
- অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছে নৃপেন বোস, তাঁর সুলতা, ম্যানাজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তবচিত্র অঙ্কিত হয়েছে। 

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক
- যদি এমন হতো (১৯৬০),
- নয়া খান্দান (১৯৬২),
- আলোছায়া (১৯৬২),
- আইনের অন্তরালে (১৯৬৬),
- শতকরা আশি (১৯৬৭),
- রূপলেখা (১৯৬৯) ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)।

উল্লেখ্য,
- নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটকে এক বোবা চরিত্রের মাধ্যমে গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্যে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান পাধান্য পেয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সাংকেতিক নাটকে' ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের এবং মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৬৪.
'বাবরের প্রার্থনা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শঙ্খ ঘােষ
  2. আল মাহমুদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
ব্যাখ্যা
• শঙ্খ ঘোষ: 
- শঙ্খ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি।
- সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী।
- একজন রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব রয়েছে।
- তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ, কিন্তু শঙ্খ ঘোষ নামেই তিনি পরিচিত। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
→ দিনগুলি রাতগুলি (১৯৫৬),
→ নিহিত পাতাল ছায়া (১৯৬৭),
→ এখন সময় নয় (১৯৬৭),
→ আদিম লতা গুন্যময় (১৯৭২),
→ মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয় (১৯৭৫), 
→ মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে (১৯৮৪),
→ বন্ধুরা মাতি তরজায় (১৯৮৪),
→ বহুল দেবতা বহুল স্বর (১৯৮৬), 
→ বাবরের প্রার্থনা (১৯৭৬)
→ ধুম লেগেছে হৃদ কমলে (১৯৮৭) ইত্যাদি।

- তিনি 'বাবরের প্রার্থনা' নামক কাব্যগ্রন্থের জন্য ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম।
৫,৭৬৫.
"এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি" কোন কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ?
  1. ক) আকাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) হরতাল
  4. ঘ) অভিযান
ব্যাখ্যা
"এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি" পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ। 
- 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়। 
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে স্মরণীয় গ্রন্থ। 
-----------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য, (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।

তাঁর অন্যান্য রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- আকাল (১৯৪৩)
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫)প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬৬.
‘ইয়ংবেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন-
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জোশুয়া মার্শম্যান
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। 
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ং বেঙ্গলে’ ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৬৭.
কোনটি মামুনুর রশীদ রচিত নাটক?
  1. ওরা কদম আলী
  2. নয়া খান্দান
  3. রূপার কৌটা
  4. সরীসৃপ
ব্যাখ্যা

 'ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা- 'মামুনুর রশীদ'

'ওরা কদম আলী' নাটক:
- ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- শোষিত- নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটক। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী
নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ‘নয়া খান্দান’ নুরুল মোমেন রচিত একটি নাটক।
- ‘রূপার কৌটা’ মুনীর চৌধুরী রচিত একটি অনুবাদ নাটক। 
- ‘সরীসৃপ’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৬৮.
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে রচিত আহমদ ছফার উপন্যাস-
  1. ওঙ্কার
  2. গাভী বিত্তান্ত
  3. অলাতচক্র
  4. মরণবিলাস
ব্যাখ্যা

- আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’ (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
• অলাতচক্র (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত),
• সূর্য তুমি সাথী,
• ওঙ্কার (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রচিত),
• অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
• পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ,
• একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
• মরণবিলাস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৭৬৯.
আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কালের কলস
  2. খ) সোনালী কাবিন
  3. গ) লোক লোকান্তর
  4. ঘ) বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ লোক-লোকান্তর। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো- কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, সোনালী কাবিন, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, দোয়েল ও দয়িতা, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৭৭০.
‘পানকৌড়ির রক্ত’ কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণ কাহিনী
  2. রম্যরচনা
  3. কথা সাহিত্য
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• কবি আল মাহমুদের প্রথম গল্পগ্রন্থ হলো ''পানকৌড়ির রক্ত'' যা কথা সাহিত্যের অন্তর্গত। এটি ঢাকার বর্ণমিছিল প্রকাশনী থেকে ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থ আল মাহমুদ ।
৫,৭৭১.
‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা

‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থের লেখক মুহম্মদ আবদুল হাই ‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ ভ্রমণ কাহিনী রচনা করেছেন।
- এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুহাম্মদ আবদুল হাই সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪), তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০) ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৭২.
'নেমেসিস' - কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৭৩.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক-
  1. ক) আরেক ফাল্গুন
  2. খ) দণ্ডকারণ্য
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) কবর
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।
তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত নাটক-
- কবর,
- রাজার জন্মদিনে,
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর 'কবর' নাটকের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক। বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষ্যে____ মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৭৭৪.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যটি কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. আনন্দ-বিরহ, প্রেম- বেদনা ইত্যাদির প্রকাশ
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. সিপাহি-বিদ্রোহ নিয়ে
  4. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। 

'মহাশ্মশান' কাব্য: 
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত' কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 -পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
- মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি-উৎস এই গ্রন্থ। 
- মহাশ্মশান কাব্যে মোট তিনটি খন্ড রয়েছে।
- প্রথম খন্ড ১৯ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ড ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খন্ড ৭ সর্গে সমাপ্ত। 
- উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ায়, কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের প্রকাশকাল ১৯০৪ সাল দেয়া।

প্রধান চরিত্র: 
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।
-------------------
কায়কোবাদ: 
- কায়কোবাদের প্রকৃত নাম: কাজেম আল কোরেশী।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: বিরহ-বিলাপ। 
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম মহাকাব্য রচয়িতা ।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি। 

তাঁর অন্যান্য কাব্য:
- বিরহ-বিলাপ 
- অমিয়ধারা,
- অশ্রুমালা,
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৭৫.
'আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে,
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?' উক্তিটি কোন কবির?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

কবিতাঃ বাতাসে লাশের গন্ধ
কবিঃ রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন।
বাতাশে লাশের গন্ধ-
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দোলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ-
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়।
এ চোখে ঘুম আসে না। সারারাত আমার ঘুম আসে না-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ,
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমোতে পারিনা।
রক্তের কাফনে মোড়া কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন-
স্বাধীনতা, সে আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।

৫,৭৭৬.
'কোকিলারা' বিখ্যাত নাটকের নাট্যকার কে?
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'কোকিলারা' নাটক:
- 'কোকিলারা' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়। নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

• তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলো:
- শপথ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৭৭.
কোনটি আল মাহমুদের রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. সোনালী কাবিন
  2. উপমহাদেশ
  3. যাত্রা
  4. দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ :
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ -  সোনালী কাবিন।
- তিনি 'বাংলা একাডেমি' পুরস্কার লাভ করেন ১৯৬৮ সালে।
- একুশে পদক' লাভ করেন ১৯৮৬ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তাঁর উপন্যাস -  উপমহাদেশ।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো :
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- সোনালী কাবিন,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- পাখির কাছে ফুলেরর কাছে,
- প্রেমের কবিতা,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 

- উপমহাদেশ,
- ডাহুক,
- আগুনের মেয়ে,
 - চেহারার  চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন,

অন্যদিকে,
-  হুমায়ন আহমেদ রচিত উপন্যাসে - দেয়াল।
- শওকত আলী রচিত উপন্যাস - যাত্রা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৭৮.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত কবিতার নাম কি?
  1. ক) সন্ধিক্ষণ
  2. খ) হসন্তিকা
  3. গ) মেথর
  4. ঘ) অভ্র আবীর
ব্যাখ্যা
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত কবিতার নাম হচ্ছে 'মেথর'

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৮৮২ সালে কলকাতার নিমতাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর কবিতার ভাববস্তু ছিল দেশাত্মকবোধ, শক্তির সাধনা ও মানবতার বন্ধনা।
- ছন্দের রাজা ও ছন্দের জাদুকর হিসেবে খ্যাতি ছিল সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের।
- তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতার নাম ‘মেথর’।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা সমূহ সমৃদ্ধ ছন্দের ঝঙ্কারে।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য গুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৭৯.
কায়কোবাদের প্রকৃত নাম কী?
  1. কাজেম আল কোরেশী
  2. আবু নাসের কায়কোবাদ
  3. কায়কোবাদ ইসলাম
  4. আবুল হোসেন কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’
- কবি বলেছেন ‘আমি যখন বার বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার বিরহ- বিলাপ  নামক ক্ষুদ্র কাব্য প্রকাশিত হয়।’ 
-কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ  ‘মহাশ্মশান’ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর
৫,৭৮০.
মুসলিম সাহিত্য সমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন না -
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল কাদির
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• মুসলিম সাহিত্য সমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন না - আবুল হাসান

কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন ফরিদপুর (বর্তমান রাজবাড়ী) জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক ও চিন্তাবিদ ছিলেন। 
- ১৯৬৫-তে নবপর্যায়ে প্রকাশিত 'তরুণ পত্র' পত্রিকাটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হন।
- তিনি ছিলেন বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলনকল্পে ১৯২৬-এ প্রতিষ্ঠিত 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' সমিতির অন্যতম নেতা।
- তিনি সাহিত্য সমাজের পত্রিকা 'শিখা'য় (১৯২৭) তাঁর মুক্তচিন্তা ও যুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন লেখার জন্য ঢাকার নওয়াব পরিবার কর্তৃক নিগৃহীত হন।
- তিনি ১৯ মে, ১৯৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদীবক্ষে।

• তাঁর রচিত সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ,
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৮১.
কোনটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং ঢাকায় মঞ্চস্থ প্রথম নাটক?
  1. সাজাহান
  2. নীলদর্পণ
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শেষ নবাব
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

• 'নীলদর্পণ' নাটক: 
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৭৮২.
‘ধানকন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ এর কোন ধরনের গ্রন্থ ? 
  1. ক) উপন্য়াস 
  2. খ) নাটক 
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কবিতা 
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ (জন্ম : ৬ মে, ১৯৩২ - মৃত্যু : ৩ জুলাই, ২০০৯) বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক। 

উপন্যাস
• তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০)
• শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২)
• কর্ণফুলী (১৯৬২)
• ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪)
• খসড়া কাগজ (১৯৮৬)

গল্প
• জেগে আছি (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ)
ধানকন্যা
• মৃগণাভি
• উজান তরঙ্গে
• যখন সৈকত

কবিতা
• মানচিত্র
• লেলিহান পান্ডুলিপি
• স্মৃতিস্তম্ভ

নাটক
• নরকে লাল গোলাপ : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
• এহুদের মেয়ে
• মরোক্কোর জাদুকর
• মায়াবী প্রহর


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৮৩.
'হ য ব র ল' সুকুমার রায় রচিত-
  1. কবিতা
  2. গল্প
  3. প্রহসন
  4. ছড়া
ব্যাখ্যা

- হ য ব র ল হল সুকুমার রায় রচিত একটি রম্য গল্প।
- যা প্রকাশ হয়েছিল ১৯২১ সালে।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘হ-য-ব-র-ল’ গ্রন্থ।

৫,৭৮৪.
'স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি' - প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ - স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ, 
- দরজাটা খোলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৮৫.
কায়কোবাদের রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) বিরহ-বিলাপ
  2. খ) শিবমন্দির
  3. গ) কুসুমকলি
  4. ঘ) অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী।

তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'বিরহ-বিলাপ'
তার অন্যান্য রচনা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান (১৯০৫)
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা (১৮৯৫)
এছাড়াও তিনি - কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

 
৫,৭৮৬.
'পঞ্চতন্ত্র' গ্রন্থটি কার রচনা? 
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আবুল ফজল
  4. সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ 
ব্যাখ্যা

• 'পঞ্চতন্ত্র' প্রবন্ধ সংকলন:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর 'পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

----------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৮৭.
'দুর্দিনের দিনলিপি' স্মৃতিগ্ৰন্থটি কার লেখা?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবদুল কাদির
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) মুশতারি শফী 
ব্যাখ্যা
'দুর্দিনের দিনলিপি' গ্রন্থটির রচয়িতা - আবুল ফজল। 

আবুল ফজল:
- ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলায় তাঁর জন্ম। 
- তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন। 
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা।

- “দুর্দিনের দিনলিপি” - ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রোজনামচা।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আত্মগোপন করেন এবং সে সময় তিনি এই ডায়রি লিখেন।
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। 
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- মাটির পৃথিবী, 
- বিচিত্র কথা, 
- রাঙ্গা প্রভাত,
- রেখাচিত্র, 
- দুর্দিনের দিনলিপি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৭৮৮.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দু:খ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনী অবলম্বনে রচিত নাটক-
  1. ক) গোত্রান্তর
  2. খ) কলঙ্ক
  3. গ) অবরোধ
  4. ঘ) নবান্ন
ব্যাখ্যা

- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক নবান্ন।
- এই নাটকের পটভূমি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দু:খ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনী।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।
• তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য ছিল সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৭৮৯.
'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কোন কবি?
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন কবির।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক।
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব।
- বাংলার কাব্য।
- মার্কসবাদ।
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ।
- সাথী।
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৯০.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মস্থান কোথায়?
  1. কলকাতা
  2. নদীয়া
  3. বর্ধমান
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৯১.
'আবদুল্লাহ্' উপন্যাসটির ঔপন্যাসিক কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬):
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল (১৯০০),
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা (১৯০৪),
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ, ১৯১৩, ১৯১৬),
- নবীকাহিনী (১৯১৭),
- প্রবন্ধমালা (১৯১৮),
- কামারের কান্ড (১৯১৯) ও
- আবদুল্লাহ (১৯৩২)।
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি। এতে তৎকালীন মুসলিম সমাজের নানা দোষত্রুটি অতিশয় দক্ষতার সঙ্গে তিনি তুলে ধরেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৯২.
'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. আল মাহমুদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• 'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: 'আল মাহমুদ'। 

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৭৯৩.
’একক সন্ধ্যায় বসন্ত’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

 সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৯৪.
‘বিদ্যাভূষণ’ কার উপাধি?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ’ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে,
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর উপাধি- সাহিত্য রত্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৯৫.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সরদার জয়েন উদ্দিন
  2. সত্যেন সেন
  3. সোমেন চন্দ
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• উত্তরাধিকার:
- শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে উত্তরাধিকার।
- বাংলা কবিতা আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভূক্ত আছে।

• শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার।
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৭৯৬.
“অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ” রচনা করেন -
  1. ক) চন্দ্রকুমার দে
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. ঘ) সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ - বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স, অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ, সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৭৯৭.
'দেয়াল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী, ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল, প্রপঞ্চ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৭৯৮.
'আয়না' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৭৯৯.
রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের পটভূমি কী?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  2. খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকটি ১৯৬২ সালে রচিত হয়।
- এটি একটি ঐতিহাসিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) এর প্রেক্ষাপটে রচিত নাটকে রক্তাক্ত প্রান্তর নয়, রক্তাক্ত অন্তরই মুখ্য হয়ে ওঠে, সেই সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ও মানবীয় প্রেমের জয়গান করুণ রসে সিক্ত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮০০.
'জায়জঙ্গল' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. জহির রায়হান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'জায়জঙ্গল' উপন্যাস:
- এটি শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি উপন্যাস।
- সুন্দরবনের জনবিরল বনজঙ্গলঘেরা পরিবেশে 'জায়জঙ্গল' (১৯৭৩) উপন্যাস রচিত। সে দিক থেকে এটিকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা চলে।
- উপন্যাসের একটি চরিত্রও সুন্দরবন অঞ্চলের নয়, উপন্যাসের পটভূমিই কেবল সুন্দরবন।
- তবে এ অঞ্চলের বর্ণনা দিতে ঔপন্যাসিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
- যে মানুষগুলোর চিত্র এ উপন্যাসে আছে তারা সেটেলার; জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের চাপে তারা পিতৃপুরুষের নিবাসভূমি পরিত্যাগ করে সমুদ্রতীরবর্তী শ্বাপদসংকুল সুন্দরবন অঞ্চলে বাস করতে বাধ্য হয়েছে।
- ফেরারি খুনি, জেলপলাতক আসামি, গোপন বিপ্লবী, পলাতক প্রেমিক-প্রেমিকারা একত্র হয়ে গড়ে তোলে 'জায়জঙ্গলে'র জগৎ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়নাল শেখ, মিন্নত আলি, যুবতী সাজু, মহাজন জলিল মিয়া।
- উপন্যাসের ঘটনা উপস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে লেখক মৎস্যশিকার, নানা বিশ্বাস-অবিশ্বাস, জাদু-টোনা ইত্যাদির মাধ্যমে আঞ্চলিকতা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- তিনি বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন ।

তাঁর কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নেই,
- শাহের বানু,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

তাঁর কয়েকটি উপন্যাসের নাম:
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।