বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৫৭ / ৭৭ · ৫,৬০১৫,৭০০ / ৭,৬৪৬

৫,৬০১.
'সত্যসুন্দর দাস' কার ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'সত্যসুন্দর দাস' মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম।

মোহিতলাল মজুমদার:
- তিনি ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।
- তিনি বঙ্গদর্শন পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন পসারী,
- বিস্মরণী,
- স্মরগরল, 
- হেমন্ত গোধূলি।

• তাঁর প্রবন্ধ সমালোচনা :
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধুসূদন।

অন্যদিকে,
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের উপাধি: দুঃখবাদী কবি।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় চিত্ররূপময়, রুপসী বাংলার কবি, ধূসরতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬০২.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  2. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  3. বাংলা সাহিত্যের কথা
  4. বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
ব্যাখ্যা

• "বাংলা সাহিত্যের কথা":
- "বাংলা সাহিত্যের কথা" ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত গ্রন্থইতিহাস গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগের (যেমন: ১ম খণ্ড ও ২য় খণ্ড) ইতিহাস আলোচনা রয়েছে। 

গ্রন্থটি একাধিক সংস্করণে প্রকাশিত হয়:
- প্রথম সংস্করণ-এপ্রিল, ১৯৫৩।
- দ্বিতীয় নতুন সংস্করণ-এপ্রিল, ১৯৬৩
- তৃতীয় পরিমার্জিত সংস্করণ-কার্তিক ১৩৭৩ (অক্টোবর ১৯৬৬)
- চতুর্থ পরিবর্ধিত নূতন সংস্করণ-শ্রাবণ ১৩৭৫ (জুলাই ১৯৬৮)

-------------------
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ,
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়,
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন,
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet.

অন্যদিকে, 
• দীনেশচন্দ্র সেনের গ্রন্থ "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য"। 
• ড. সুকুমার সেনের গ্রন্থ "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস"।
• গোপাল হালদার রচিত গ্রন্থ ‘বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের কথা (প্রথম খণ্ড)

৫,৬০৩.
’অবাক সূর্যোদয়’ কবিতার লেখক কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
’অবাক সূর্যোদয়’
হাসান হাফিজুর রহমান

কিশোর তোমার দুই
হাতের তালুতে আকুল সূর্যোদয়
রক্তভীষণ মুখমণ্ডলে চমকায় বরাভয়।
বুকের অধীর ফিনকির ক্ষুরধার
শহিদের খুন লেগে
কিশোর তোমার দুই হাতে
দুই সূর্য উঠেছে জেগে।
------------------------------------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
 - হাসান হাফিজুর রহমান ১৪ই জুন ১৯৩২ সালে জামালপুর জেলার কুলকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ভাষা-আন্দোলনের একজন অসাধারণ সংগঠক।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারি গ্রন্থটি বিস্ময়কর আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- ১৯৭৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প'-এর তিনি ছিলেন প্রধান।
- তাঁর সম্পাদনায় ষোলো খণ্ডে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র' প্রকাশিত হয়।
- তিনি কবি, সমালোচক ও গল্পকার হিসেবে খ্যাতিমান।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- আর্ত-শব্দাবলি,
- অন্তিম শরের মতো ইত্যাদি।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,

• গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্য নবম ও দশম শ্রেণি।
৫,৬০৪.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দোজখের ওম
  2. খোয়াবনামা
  3. খোঁয়ারি
  4. অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬০৫.
আবু ইসহাক রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. উত্তরাধিকার
  2. ক্রান্তি
  3. প্রগতি
  4. ধান শালিকের দেশ
ব্যাখ্যা
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমীর 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল ‘মধুর মাটি’।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- ফজল এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রূপজান ইত্যাদি।

আবু ইসহাক:

- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। তাঁর পিতা মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ, মাতা আতহারুন্নিসা।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'। তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

তাঁর রচিত নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬০৬.
'আমার পূর্ববাংলা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) রৌদ্র করোটিতে
  2. খ) বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. গ) নিরালোকে দিব্যরথ
  4. ঘ) একক সন্ধ্যায় বসন্ত
ব্যাখ্যা
‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা। এটা বাংলা সাহিত্যেরও একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। কবিতাটি ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৫,৬০৭.
নিম্নের কোন কবি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আল মাহমুদ
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

সাংবাদিক আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) পেশাগত জীবনে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন।
- পঞ্চাশ দশকের ক্যারিয়ারিস্ট জেনারেশনের চলতি রীতি ধরে তিনি ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সকল পরীক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন পদে কাজ করেন।
১৯৮২ সালে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন।
- ১৯৮৪ সালে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন।
- ১৯৯১ সালে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাংককস্থ FAO কার্যালয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৭ সালে FAO থেকে অবসর গ্রহণের সময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মহাপরিচালক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো
- সাত নরীর হার (১৯৫৫),
- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি (১৯৮১),
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ।

৫,৬০৮.
'দশমী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সোমেন চন্দ
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) শামসুল হক
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থঃ
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- দশমী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- উত্তর ফাল্গুনী।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।
• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৬০৯.
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্প
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) উপকথা
ব্যাখ্যা
হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস
- বাশবাদি গ্রামে কাহার জাতির লোকেরা বাস করত। কাহারদের পুরানো বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিবর্তন নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।

 তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসঃ
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- অরণ্যবহ্নি (সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে রচিত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস),
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা; উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে  রচিত।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৬১০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) কালো ঘোড়া
  2. খ) যাত্রা
  3. গ) ফেরারী সূর্য
  4. ঘ) নীলদংশন
  5. ঙ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
কালো ঘোড়া, যাত্রা, ফেরারী সূর্য ও নীল দংশন যথাক্রমে ইমদাদুল হক মিলন, শওকত আলী, রাবেয়া খাতুন ও সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ। অন্যদিকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত চিলেকোঠার সেপাই ১৯৬৯ সালের প্রেক্ষাপট নিয়ে আবর্তিত। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৫,৬১১.
‘কর্ণফুলী’ উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উপজাতীয় জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- উপন্যাসে চাকমা ভাষারও ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা,
- প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা),
- বাঙালি ইসমাইল,
- জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

• তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

• নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

• কাব্যগ্রন্থগুলো মধ্যে:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, 
- সাজঘর,
- শ্রেষ্ঠ কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৫,৬১২.
বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দোরাজ' নামে পরিচিত ছিলেন- 
  1. দ্বিজেন্দ্রনাথ রায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. সুকুমার রায় 
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৬১৩.
ছন্দের জাদুকর ছিলেন কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
-  বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের হিসেবে খ্যাত ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'।
- তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর অপর কৃতিত্ব বিদেশি কবিতার সফল অনুবাদ। আরবি, ফারসি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার বহু কবিতা অনুবাদ করে তিনি  বাংলা সাহিত্যএর বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধি সাধন করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
সবিতা,
সন্ধিক্ষণ,
বেণু ও বীণা,
কুহু ও কেকা,
তুলির লিখন,
হোমশিখা,
অভ্র-আবীর,
হসন্তিকা,
বেলা শেষের গান,
বিদায় আরতি।

অনুবাদকাব্য:
তীর্থ সলীল,
তীর্থ রেণু,
ফুলের ফসল,
মণি মঞ্জুষা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬১৪.
শহীদুল জহির রচিত ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ
  3. স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা
  4. পাকিস্তান শাসনের সময় গ্রামীণ সমাজের অবস্থা
ব্যাখ্যা

‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস:
- ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী সমাজের জটিল বাস্তবতা তুলে ধরে। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, স্বাধীনতার পর মানুষের জীবন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, আদর্শগত ভাঙন, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রাম কিভাবে প্রতিফলিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নময় মানবিক ও নৈতিক রাষ্ট্রগঠনের আশা কীভাবে বাস্তব রাজনীতির চাপের মুখে বিকৃত হয়েছে, তা সূক্ষ্ম ও প্রতীকী ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে শুধু ঐতিহাসিক ঘটনার সরল বর্ণনা নেই; বরং যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতা, ব্যক্তিগত জীবন ও নৈতিক সংকটের সংঘর্ষকে শিল্পময়ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
----------------
শহীদুল জহির:
- শহীদুল জহির  (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ – ২৩ মার্চ ২০০৮) ছিলেন বাংলাদেশী গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও সরকারি কর্মকর্তা।
- শহীদুল জহির তাঁর লেখায় জাদুবাস্তবতার কৌশল এবং নিম্নবর্গের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- তাঁর জন্মস্থান পুরান ঢাকার নারিন্দার ৩৬ ভূতের গলিতে।
- তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ শহীদুল হক। 
- ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।। 
- তাঁর রচনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে কাল্পনিক উপাদানের মিলন ঘটে, যা “শহীদুল জহিরীয়” ধারার জন্ম দেয়। 
- জীবদ্দশায় তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, আজকের কাগজ সাহিত্য পুরস্কার ও প্রথম আলো বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেছেন।

- শহীদুল জহির বাংলা সাহিত্যের ব্যতিক্রমী কথাশিল্পী।
- তিনি ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতার প্রয়োগে সমগ্র বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
- তাঁর গল্পে বাস্তব ও পরাবাস্তবের মাঝখানে অনিশ্চিত একটি জায়গায় চরিত্রগুলো ঘুরে বেড়ায়, যেখানে বিমূর্ত ভাষা ব্যবহার করেও জীবনের অন্তর্নিহিত সত্য ও মানুষের দৈনন্দিন অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হয়।
- তিনি নিম্নবর্গের মানুষের অকৃত্রিম ভাষাকে সাহিত্যিক পুঁজি হিসেবে নিয়েছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-

• গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার,
- ডুমুরখেকো,
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প। 

• উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি। 

উৎস:
‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালি ও কলম।

৫,৬১৫.
‘পালামৌ’ কার রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি। ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৬১৬.
একুশের প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'র সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬১৭.
আল মাহমুদের লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) পাখির কাছে ফুলের কাছে
  2. খ) ডাহুকী
  3. গ) গন্ধবণিক
  4. ঘ) ময়ূরীর মুখ
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, পাখির কাছে ফুলের কাছে, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
ডাহুকী, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, চেহারার চতুরঙ্গ, কাবিলের বোন ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
এবং পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬১৮.
বাংলাদেশে বাইবেল থেকে কাহিনী নিয়ে রচিত সর্বপ্রথম উপন্যাস কোন দুটি?
  1. ক) ভোরের বিহঙ্গ, অভিশপ্ত নগরী
  2. খ) পদচিহ্ন, পাপের সন্তান
  3. গ) রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ, অভিযাত্রী
  4. ঘ) অভিশপ্ত নগরী, পাপের সন্তান
ব্যাখ্যা
সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ সত্যেন সেন বাইবেলের কাহিনী অবলম্বন করে বাংলাদেশে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন। প্রথম উপন্যাস ‘অভিশপ্ত নগরী’ এবং এর দ্বিতীয় খন্ড ‘পাপের সন্তান’। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬১৯.
”সংস্কৃতির সংকট” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3. শওকত ওসমান
  4. ড. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর:
- ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট,
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ইত্যাদি।
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৬২০.
‘সাজাহান’ নাটকের প্রধান রচিয়তা কে?
  1. ক) ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
  2. খ) তুলসী লাহিড়ি
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) বলাইচাঁদ মুখোপধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ‘সাজাহান’ নাটকটি রচনা করেছেন ‘হাসির গানের রাজা’ নামে খ্যাত দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ই প্রথম নাটক লেখেন।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হল:
 - তারাবাঈ
 - প্রতাপ-সিংহ
 - দুর্গাদাস
 - নূরজাহান
 - মেবার পতন
 - সাজাহান
 - চন্দ্রগুপ্ত
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হল:
 - পরপারে
 - বঙ্গনারী
তাঁর একটি জনপ্রিয় দেশাত্নবোধক গান-
“ধনধান্য পুষ্পভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা”

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬২১.
'নামহীন গোত্রহীন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৬২২.
"ব্যাকরণ কৌমুদী" - কে রচনা করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা

• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ " - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।
• ড. সুকুমার সেন - 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৬২৩.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  3. ধ্বনিবিজ্ঞান ও আরবি ধ্বনিতত্ত্ব
  4. আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
• "ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব":
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব'। বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বিশেষণ রয়েছে এই গ্রন্থে।

- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে। ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

- ধ্বনিবিজ্ঞান ও ধ্বনিতত্ত্বের মত এক কঠিন বিষয়কে লেখক সহজ, সরল এবং তথ্যভিত্তিক করে লিখেছেন। দশটি অধ্যায়ে স্তরে স্তরে সাজানো হয়েছে বইটি। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য পাঠ্যতালিকাভুক্ত এই বিষয়ের উপর এখন পর্যন্ত এ মানের দ্বিতীয় বই রচিত হয়নি।

- গ্রন্থের প্রথম সংস্করণে আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালার (International Phonetic Alphabet) কোনো আলোচনা ছিল না। দ্বিতীয় সংস্করণে IPA-র একটি চার্ট এবং উদাহরণসহ কিছু আলোচনা যোগ করা হয়েছে।

- প্রথম সংস্করণ বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল। এ সংস্করণ প্রকাশের ভার নিয়েছিলেন ষ্টুডেন্ট ওয়েজ।

অন্যদিকে, 
•  'ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। 
• 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও আরবি ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা এ কিউ এম আবদুস শাকুর খন্দকার 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া এবং "ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব" গ্রন্থ।
৫,৬২৪.
'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. সেলিনা হোসেন
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• 'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'সেলিনা হোসেন'। 

• সেলিনা হোসেন: 
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

• তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬২৫.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' কোন লেখকের নকশা জাতীয় রচনা?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. প্রমথনাথ বিশী
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী 
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত নকশা জাতীয় রচনা।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে। 
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৬২৬.
‘ রৈবতক’, ‘কুরুক্ষেত্র’ ও ‘প্রভাস’ ত্রয়ী কাব্যের রচিয়তা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘রৈবতক’, ‘কুরুক্ষেত্র’ ও ‘প্রভাস’:
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
-  এ গুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে।
- নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত।
- কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

⇒ নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।
৫,৬২৭.
দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূবাল হাওয়া
  2. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. পদ্মাপাড়
  4. পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ - জন্মই আমার আজন্ম পাপ।

অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - পঞ্চগ্রাম।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক - পদ্মাপাড়।
- দিলওয়ার রচিত গানের বই - পূবাল হাওয়া।

দাউদ হায়দার:

- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬২৮.
নিচের কোনটি উপন্যাস ?
  1. ক) নদীবক্ষে
  2. খ) শাশ্বত বঙ্গ
  3. গ) মানব বন্ধু
  4. ঘ) বাংলার জাগরণ
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত নাটক ‘পথ ও বিপথ', ‘মানব বন্ধু’। ‘ নদীবক্ষে’ – উপন্যাস। ‘শাশ্বত বঙ্গ' ও ‘বাংলার জাগরণ' – প্রবন্ধ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৫,৬২৯.
আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসের প্রকাশ কাল -
  1. ১৯৮১ সাল
  2. ১৯৭১ সাল
  3. ১৯৮৩ সাল
  4. ১৯৭৩ সাল
ব্যাখ্যা

- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি। 
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, কালের কণ্ঠ ]

৫,৬৩০.
'হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো'
- কার রচিত কবিতার লাইন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
- আঠারো বছর বয়স (ছাড়পত্র), রানার, এক যে ছিল, হে মহাজীবন (ছাড়পত্র) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।

তাঁর 'হে মহাজীবন' কবিতাটি হলো-
''হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'হে মহাজীবন' কবিতা।
৫,৬৩১.
'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুর রহমান
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

বাতাসে লাশের গন্ধ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৭৭ সালে রচনা করেন 'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতাটি।

বাতাসে লাশের গন্ধ
 - রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়। (সংক্ষিপ্ত)

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রামে।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা-
- এই বাসর এ লগন,
- আলোছায়া,
- নির্লিপ্তা,
- মালা বদল,
- মন-মানসী,
- মায়াডোর,
- প্রেয়সী,
- আত্ম তৃপ্তি প্রভৃতি।

• উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল,
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- মানুষের মানচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৩২.
'বিচিত চিন্তা' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. আবুল মনসুর আহমদ 
  3. শহীদ কাদরী 
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

'বিচিত চিন্তা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'বিচিত চিন্তা' ড. আহমদ শরীফ রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই এবং এর প্রথম প্রকাশ ১৯৬৮ সনে এবং দ্বিতীয়
মুদ্রণ হয় ১৯৭৫ সনে।

- এই গ্রন্থে সংকলিত রচনাগুলো পনেরো বছরের পরিসরে বিভিন্নমুখী অনুভব চিন্তার ফসল। আলোচ্য গ্রন্থে মোট বায়ান্নটি প্রবন্ধ সংকোলিত হয়েছে-যা আগেই বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছিল।

--------------------
• আহমদ শরীফ:

- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'বিচিত চিন্তা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৩৩.
হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’ - 
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• ‘আগুনপাখি’ উপন্যাস:
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- এর মধ্য দিয়েই লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসটিতে প্রথাগত চরিত্র-নাম নেই। তবে সব চরিত্রই বোঝা যায়।এগুলো ত্রিমাত্রিক এবং দ্বন্দ্বসংকুল।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

--------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।

৫,৬৩৪.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত - নাটক।

• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৩৫.
নিচের কোনটি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ? 
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. ভাষা ও সাহিত্য
  3. সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত "ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৯৩৯) আধুনিক বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ, যা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সরল ভাষায় রচিত।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী। ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে, 
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, ভাষা ও সাহিত্য, বাঙ্গালা ব্যাকরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৩৬.
আবুল হুসেন রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে কোন প্রবন্ধটি রচনা করেন?
  1. সত্যের সন্ধানে
  2. কালের কলস
  3. কৃষকের দুর্দশা
  4. মাটির পৃথিবী
ব্যাখ্যা
• আবুল হুসেন রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে 'কৃষকের দুর্দশা' প্রবন্ধটি রচনা করেন।

• আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়, তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন ।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘ কালের কলস’ আল মাহমুদ এর কাব্যগ্রন্থ।
- ‘সত্যের সন্ধানে’ এর লেখক আরজ আলী মাতুব্বর।
- 'মাটির পৃথিবী' আবুল ফজল রচিত গল্পগ্রন্থ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৩৭.
কবি কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কব্যগ্রন্থের মূল সুর কি?
  1. ক) বিরহ
  2. খ) বিদ্রোহ
  3. গ) বিচ্ছেদ
  4. ঘ) প্রেম
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি- 
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান। 

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৩৮.
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আগুনের মেয়ে
  2. খ) শেষ বিকেলের মেয়ে
  3. গ) ধান কন্যা
  4. ঘ) কাশবণের কণ্যা
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস 'আগুনের মেয়ে'। 
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- ডাহুকী
- উপমহাদেশ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- আগুনের মেয়ে
- চেহারার চতুরঙ্গ
- কাবিলের বোন

অন্যদিকে, 
'কাশবনের কন্যা' বা 'The Girl in the Reeds' শামসুদ্দীন আবুল কালামের উপন্যাস।
'ধান কন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস। 
'শেষ বিকেলের মেয়ে' জহির রায়হান রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৩৯.
'জীবন বিনিময়' কবিতাটির লেখক-
  1. ফররুখ আহমদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'জীবন বিনিময়' কবিতাটির লেখক- 'গোলাম মোস্তফা'।
- কবিতাটি 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
------------------------ 
• গোলাম মোস্তফা: 

 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৪০.
'বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন' বিখ্যাত ভ্রমণ গ্রন্থের লেখক-
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) আব্দুল হাই
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আব্দুল হাই রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ গ্রন্থের নাম- বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন। 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' রচনার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৪১.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আহমদ ছফা
  3. আবু ইসহাক
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'।
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

-------------------------- 
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৪২.
কোনটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য?
  1. হৃৎকলমের টানে
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. নীল দংশন
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য:
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাতব্বর,
- পির সাহেব,
- মাতব্বরের মেয়ে,
- পাইক,
- গ্রামবাসী,
- তরুণদল ও
- মুক্তিযোদ্ধারা।

-----------------
• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- নিষিদ্ধ লোবান (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৪৩.
বিশ্ব-গণহত্যার ঘটমান কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) নিমজ্জন
  2. খ) ধাবমান
  3. গ) হরগজ
  4. ঘ) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা
• 'নিমজ্জন' সেলিম আল দীন রচিত নাটক।
বিশ্ব-গণহত্যার ঘটমান কাহিনি ও দৃশ্যচিত্রের সমন্বয়ে- এর কাহিনি গড়ে উঠেছে। 

• সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।
- তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

• সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা, যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৪৪.
গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রক্তরাগ
  2. প্রসূন
  3. সাহারা
  4. হাসনাহেনা
ব্যাখ্যা
গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিল একজন স্বভাবকবি।
- ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু:
- তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুকুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ- রক্তরাগ, সাহারা, হাসনাহেনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৪৫.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'-এর রচয়িতা কে? 
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর 
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।

- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’:

‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি
তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।

-------------------------------
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ছিলেন একজন কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৪৬.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. শওকত আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের লেখক হাসান আজিজুল হক।

• হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৪৭.
আবুল মনসুর আহমদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার কোন মন্ত্রী ছিলেন?
  1. ক) সংস্কৃতি মন্ত্রী
  2. খ) স্বাস্থ্য মন্ত্রী
  3. গ) শিক্ষা মন্ত্রী
  4. ঘ) কৃষি মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। 
- তিনি খেলাফত, অসহযোগ স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। 
- তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠানা নেতা ছিলেন। 
- তিনি ২১ দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রণেতা।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন। 

তাঁর রচিত রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৪৮.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আনোয়ার পাশা
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৪৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) শিল্পীর সাধনা
  2. খ) ল্যাংড়ী
  3. গ) দেয়াল
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন
- একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল

গল্পগ্রন্থ:

- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:

- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প
সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৬৮ সালে এবং  একুশে পদক ১৯৮৩ সালে লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৫০.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

------------------

• আলাউদ্দিন আল আজাদ তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৫১.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' এ উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে-
  1. আদিবাসী মানুষ অরণ্য জনপদে বাস করে
  2. বনের পশু বনে থাকতেই ভালোবাসে
  3. জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
  4. প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য আদি ও অকৃত্রিম
ব্যাখ্যা
• 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' প্রবাদটির অর্থ- 'জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর।'

• ''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'' - চমৎকার এ কথাটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পালামৌ' নামের ভ্রমণকাহিনীতে।
- এর মূলভাব হলো সৌন্দর্য্য সর্বত্র বিকশিত হয় না । প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

---------------------
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ্য বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

---------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৫২.
মহাকাব্যোচিত উপন্যাস 'খোয়াবনামা' - কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান 
  2. শওকত আলী 
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবুল মনসুর আহমদ 
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।

'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৫৩.
'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হুমায়ুন কবির
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তিনি 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৫৪.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. অরণ্যবহ্নি
  3. একটি কালো মেয়ের কথা
  4. জলসাঘর
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭১ সালেরই ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় লেখকের।

সাহিত্যকর্ম
- তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী এবং ২টি ভ্রমণ কাহিনী।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস চৈতালী ঘূর্ণি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে এই উপন্যাসের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- আরোগ্য নিকেতন,
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৫৫.
'আমার পূর্ববাংলা' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাস
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা। এটা বাংলা সাহিত্যেরও একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। কবিতাটি ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৫,৬৫৬.
নদীর পারের চরকে কেন্দ্র করে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
  2. অরণ্য বহ্নি
  3. কালিন্দী
  4. কবি
ব্যাখ্যা
• 'কালিন্দী' উপন্যাস: 
- রচয়িতা: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- প্রথম প্রকাশ – ১৯৪০।
- নদীর পারের চরকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস।

• উপন্যাসের প্রথম পর্ব- 
- নদীর ও-পারে একটা চর দেখা দিয়াছে।
- রায়হাট গ্রামের প্রান্তেই ব্রাহ্মণী নদী–ব্রাহ্মণীর স্থানীয় নাম কালিন্দী, লোকে বলে কালী নদী; এই কালী নদীর ও-পারের চর জাগিয়াছে। এখন যেখানে চর উঠিয়াছে, পূর্বে ওইখানেই ছিল কালী নদীর গর্ভভূমি। এখন কালী রায়হাটের একাংশ গ্রাস করিয়া গ্রামের কোলে কোলে বহিয়া চলিয়াছে। গ্রামের লোককে এখন বিশ হাত উঁচু ভাঙন ভাঙ্গিয়া নদীগর্ভে নামিতে হয়।

অন্যদিকে,
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাগুলো-  
• বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস - হাঁসুলীবাঁকের উপকথা।
• 'কবি' উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের এক ছেলের কবি হয়ে যাওয়া চিত্রিত করা হয়েছে।
• আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন 'অরণ্য বহ্নি' উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, 'কালিন্দী' উপন্যাস।
৫,৬৫৭.
"এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
• "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে":
- "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে" আবদুল্লাহ আল-মুতী রচিত গ্রন্থ।
- গ্রন্থের প্রকাশক ছিল- নওরোজ কিতাবিস্তান।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে আগামী দিনের বিজ্ঞানী আর কারিগর বাংলাদেশের কিশোর কিশোরীদের।

- নুন, চিনি, প্লাস্টিক, আগুন, বাতাস, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, তাপমাত্রা, বিবর্তন, বজ্রপাত, বৃষ্টি, ভূমিকম্প - এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগ্রহ-উদ্দীপক গল্প বলেছেন এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে বইটিতে। শুধুমাত্র বিজ্ঞানের কথা কিন্তু না, আছে ইতিহাসের টুকরো টুকরো মজার গল্প, বিজ্ঞান না জানা মানুষদের হাজার বছরের পুরাতন বিশ্বাস ও সংস্কারের কথা।

এই গ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- রহস্যের ঝাঁপি, 
- নুনের মতন ভালবাসা, 
- চিনি শুধু মিষ্টি নয়, 
- আগুন! আগুন!, 
- ফেলনা থেকে খেলনা, 
- আটকে গেল দম!, 
- ঘড়ি চলে টিক টিক, 
- সময় মাপার কাহিনী, 
- দুধ-ভাত খাওয়া ঘড়ি, 
- হাড় কাঁপানো শীতে, 
- ঠাণ্ডা লেগে কাবু, 
- মেঘে মেঘে টক্কর, 
- আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, 
- টলমল পদভরে, 
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে। 

উৎস: "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে" গ্রন্থ আবদুল্লাহ আল-মুতী।
৫,৬৫৮.
কোনটি হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস?
  1. বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন
  2. আব্বুকে মনে পড়ে
  3. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না
  4. বুকপকেটে জোনাকি পোকা
ব্যাখ্যা
⇒ 'আব্বুকে মনে পড়ে’ উপন্যাস:
• হুমায়ুন আজাদের 'আব্বুকে মনে পড়ে’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
• উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
• উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক শিশু।
• ১৯৭১ সালে যার বয়স ছিল চার বছর। যার মনে বার বার ভেসে উঠে যুদ্ধ করতে যাওয়া তার বাবার স্মৃতি। 

⇒ হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- বুকপকেটে জোনাকি পোকা,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন’ কিশোর উপন্যাসের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৫৯.
'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণকাহিনিটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৬০.
'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত ছিলেন-
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।

- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত কবি। 
- তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতা 'মেথর'।
- দেশাত্মবোধ, শক্তির সাধনা, মানবতাবোধ তাঁর কবিতার ভাববস্তু। 

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্যঃ
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৬১.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কাকে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজশেখর বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেমপ্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৬২.
'মগের মুলুক' ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
গোবিন্দচন্দ্র দাস (১৮৫৫-১৯১৮)

গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি বর্তমান গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরের এক দরিদ্র কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন স্বভাব কবি৷ ভাওয়াল রাজ কালীনারায়ণ রায়ের অনুগ্রহে লালিত পালিত হন।

কলকাতার সাপ্তাহিক নবযুগ পত্রিকায় ভাওয়ালের রাজা রাজেন্দ্রনারায়ণ রায় ও রাজমন্ত্রী সুপ্রসিদ্ধ সাহিত্যিক কালীপ্রসন্ন ঘোষের অনেক অপ্রীতিকর প্রসঙ্গের অবতারণা করে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। রাজা বিভ্রান্ত হয়ে এ প্রবন্ধের লেখক গোবিন্দচন্দ্র দাসকে মনে করে তাকে জয়দেবপুর থেকে নির্বাসন দেন। তিনি শেরপুরে চলে যান এবং ‘মগের মুলুক' (১৮৯২) ব্যঙ্গকাব্য রচনা করে তাকে অন্যায়ভাবে নির্বাসন দেওয়ার প্রতিবাদ জানান ৷ তিনি সেপ্টেম্বর ১৯১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কাব্যগ্রন্থ
- প্রসূন (১৮৭০)
- প্রেম ও ফুল (১৮৮৮)
- কুঙ্কুম (১৮৯১)
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য, ১৮৯২)
- কস্তুরী (১৮৯৫)
- চন্দন (১৮৯৬)
- ফুলরেণু (সনেট, ১৮৯৬)
- বৈজয়ন্তী (১৯০৫)
- শোক ও সান্ত্বনা (১৯০৯)


তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৬৩.
'এই শাওনে এই পরবাসে' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) তালিম হোসেন
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) দিলারা হোসেন
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
- 'এই শাওনে এই পরবাসে' গ্রন্থটি লিখেছেন দাউদ হায়দার

• দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে পাবনা জেলার দোহার নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন একজন কবি।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- পাথরের পুঁথি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৬৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক কোনটি?
  1. ক) চন্দ্রগুপ্ত
  2. খ) সিংহল বিজয়
  3. গ) সাজাহান
  4. ঘ) প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় । নাটকটির রচয়িতা, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। ১৯০৯ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক নাটক। বাংলা নাট্যজগতের  অন্যতম মঞ্চসফল নাটক 'সাজাহান'। সংলাপের আড়ম্বর, বাকশৈলীর বর্ণাঢ্যতা, আবেগের প্রচণ্ডতা ও ঘটনার অতি-নাটকীয়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই প্রথম নাটক রচনা করেন। 
'চন্দ্রগুপ্ত' ১৯১১ সালে প্রকাশিত, দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত ঐতিহাসিক নাটক ।
'সিংহল বিজয়' ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত ঐতিহাসিক নাটক ।
'প্রায়শ্চিত্ত' ১৯০২ সালে প্রকাশিত, দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত সামাজিক নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৬৬৫.
'রসরাজ' কোন সাহিত্যিকের উপাধি?
  1. মুকুন্দদাস
  2. সুভাষ মুখপাধ্যায়
  3. পঞ্চনান কর্মকার
  4. অমৃতলাল বসু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'রসরাজ' অমৃতলাল বসুর উপাধি।

• অমৃতলাল বসু:
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে নাট্যকার হিসেবেও অমৃতলালের নাম সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
- তিনি রঙ্গ-ব্যঙ্গমূলক নাটক রচনা ও তাতে অভিনয় করে সুধীসমাজ কর্তৃক ‘রসরাজ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- নাটক, প্রহসন ও নকশা জাতীয় তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশ।
- তিনি  প্রহসন ও ব্যঙ্গ রচনাতেই অধিক সফল হয়েছেন।
- সমকালের নাগরিক ও গ্রামীণ সমাজের নানা দিক নিয়ে এসব ব্যঙ্গাত্মক নাটক রচিত হয়।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- তিলতর্পণ (১৮৮১),
- বিবাহ বিভ্রাট (১৮৮৪),
- তরুবালা (১৮৯১),
- কালাপানি (১৮৯২),
- বাবু (১৮৯৩),
- বিমাতা (১৮৯৩),
- আদর্শ বন্ধু (১৯০০),
- অবতার (১৯০২),
- চোরের উপর বাটপাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৬৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত ’হাসুলীবাঁকের উপকথা’ উপন্যাসটি একটি-
  1. রাজনৈতিক উপন্যাস
  2. আঞ্চলিক উপন্যাস
  3. ধর্মীয় উপন্যাস
  4. রোমান্সধর্মী উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• হাসুলীবাঁকের উপকথা:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা হলো তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৪৭ সালে প্রকশিত হয়।
- রাঢ় অঞ্চলের বিশেষ মানুষজনদের ইতিবৃত্ত রচনার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ।
- আর তাই অনিবার্যভাবে 'উপকথা' শব্দটি গ্রন্থনামে লক্ষ করা যায়। 
- কাহিনি বিন্যাসের ক্ষেত্রে নদী প্রবাহের ধারাটিই এখানে লক্ষণীয়।
- 'কোপাই' নদীর তীরবর্তী মানুষজন এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। 
-------------------------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি হাবু শর্মা ছদ্মনামে লিখতেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, হাসুলীবাঁকের উপকথা’গ্রন্থ ।
৫,৬৬৭.
মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ কোন শ্রেণীর রচনা?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
  3. গ) রূপক
  4. ঘ) ঐতিহাসিক
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’- ঐতিহাসিক রচনা।

 ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৬৮.
'ডাকহরকরা' গল্পের রচয়িতা কে? 
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2.  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ডাকহরকরা' গল্পটির রচয়িতা- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্ম ১৮৯৮ সালের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা'।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কবি,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাগর,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- পঞ্চগ্রাম,
- গণদেবতা, ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৬৯.
'পুত্র' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সুফিয়া কামাল
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
- সেলিম আল দীন 'পুত্র' হারানাে এক দম্পতির অবিশ্রান্ত বিলাপ ও স্মৃতি মন্থরতা এ নাটকে রূপায়িত করেছেন।
- মাইটাল সিরাজ ও তার স্ত্রী যমুনা পারের আবছা । তাদের পুত্র মানিক আমগাছে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। নিয়মানুসারে ধর্মীয় কৃত্যহীন লাশ মাটিতে পুঁতে আমগাছটি কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনার দুবছর পর এক শীতের রাতে উষ্ণতা পেতে এক দম্পতি আমগাছটির শিকড় দিয়ে আগুন জ্বালায়। এক দিকে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে আসতে থাকে আম গাছটির শিকড়, অন্য দিকে মা-বাবার অন্তরে পুত্র হারানাের যন্ত্রণা যেন দ্বিগুণ যন্ত্রণায় জ্বলতে থাকে। মৃতপুত্রের অপূরণীয় সব উচ্ছাস আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করতে করতে এক সময় গাছের শিকড়কেও পুত্র ভাবতে থাকে তারা। নাটকের শেষাংশে দেখা যায়, নতুন সন্তানের তীব্র কামনায় স্ত্রী আবছা স্বামীকে তালাক দিয়ে ফিরে যায় ফেলে আসা যমুনার তীরে।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৭০.
বিজন ভট্টাচার্যের নাটকে কোন মতবাদ প্রাধান্য পায়?
  1. মার্কসবাদ
  2. পুজিঁবাদ
  3. বস্তুবাদ
  4. নিরপেক্ষতাবাদ
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য:
- ১৯০৬ সালে ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য।
- তাঁর অন্যতম সার্থক নাটক হলো নবান্ন (১৯৪৪) নাটক।
- তিনি নাটক রচনায় মার্কসবাদ মতবাদ কে প্রাধান্য দেন।

• তার রচিত নাটক :
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৭১.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. গল্প 
  3. উপন্যাস 
  4. কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১লা মে থেকে ১৩ই জুন, ১৯৭৫; লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড শহরে, আর প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৬ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৭২.
'মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!' - গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - গানটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন।  
- গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। 

অতুলপ্রসাদ সেন: 
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন। 
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৭৩.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম-
  1. আবদুল কাদের
  2. খতিব মিয়া
  3. আক্কাস আলী
  4. আরেফ আলী
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য
বিষয়।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৭৪.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত “নুরুলদীনের সারাজীবন” কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু কি?
  1. মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা
  2. ইংরেজদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন
  3. স্বদেশী আন্দোলন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

রাজস্ব আদায়ে কৃষক প্রজাদের উপর অত্যাচার চরমে পৌছালে রংপুরের কৃষকরা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ - নুরুলদীন। ১৭৮৩ সালে নুরুলদীনের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা ইংরেজ সৈন্যদের ঘাটি আক্রমন করে। প্রাণপণ যুদ্ধের পর নুরুলদীন আহত ও বন্দী হয়। পরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এই কাহিনী নিয়েই সৈয়দ শামসুল হক রচনা করেন নাটক - নুরুলদীনের সারাজীবন।
তার অন্যান্য নাটক -
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- গণনায়ক
- ঈর্ষা ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৭৫.
কাজী ইমদাদুল হক কোন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম স্থপতি ছিলেন?
  1. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. মুসলমান সাহিত্য সমিতি
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধমালা।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ‘আবদুল্লাহ' (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৭৬.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটির প্রধান পুরুষ চরিত্র কোনটি?
  1. কিশোর
  2. গণেষ
  3. রসু
  4. হোসেন মিঞা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
• উপন্যাসটি জেলে ও মৎসজীবীদের অন্ত্যজ জীবন নিয়ে রচিত। 
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।
• এই উপ্যনাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- নয়াবসত,
- রামধনু,,
- সাদা হাওয়া,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৭৭.
'সংশপ্তক' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লা কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল 'আবু নঈম মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ'।
- তিনি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সংশপ্তক' তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- তাঁর 'সারেং বৌ' উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
- তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- রাজবন্দীর রোজনামচা।
- ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৫,৬৭৮.
আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার স্রষ্টা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত
- শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস:

১. বাংলাপিডিয়া।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।
৫,৬৭৯.
রামরাম বসু রচিত গদ্যপুস্তক কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. হিতোপদেশ
  3. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  4. বত্রিশ সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু ও 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থ :
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ:
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- লিপিমালা।

অন্যদিকে,
- রাজাবলি, হিতোপদেশ ও বত্রিশ সিংহাসন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গদ্যপুস্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৮০.
‘পলাশির যুদ্ধ’ কাব্যটি কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য
  3. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  4. সনেট
ব্যাখ্যা
পলাশির যুদ্ধ:
- এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য।
- পলাশি যুদ্ধ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে। ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে নবীনচন্দ্র সেন ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস,
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৮১.
কোনটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক?
  1. ক) কবর
  2. খ) দন্ডকারণ্য
  3. গ) কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. ঘ) পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
ব্যাখ্যা
'কবর' ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
- নাটকটি রচনা করেন মুনীর চৌধুরী।

• মুনীর চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। পিতা খানবাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- জেলে বন্দী অবস্থায়ই তিনি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় রচনা করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক কবর।
- ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা নিহত হন। 

• তাঁর রচিত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর (ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক),
- দন্ডকারণ্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৮২.
কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. সাঁওতাল পরগনা, বিহার
  2. শায়েস্তাবাদ, বরিশাল
  3. নোয়াখালী জেলায়
  4. হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য, 
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা,  
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৮৩.
কোনটি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস?
  1. ক) নিশীথিনি
  2. খ) আগুনপাখি
  3. গ) শামুক
  4. ঘ) বৃত্তায়ন
ব্যাখ্যা
'নিশীথিনি' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস,
-নন্দিত নরকে,
-শঙ্খনীল কারাগার,
-অরণ্য,
-দ্বৈরথ,
-ইরিনা,
-সাজঘর,
-আমাদের শাদা বাড়ি
-নীল অপরাজিতা
-জলপদ্ম,
-কুহুরানী ইত্যাদি।।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
৫,৬৮৪.
'একটি কাফি' কবিতার রচয়িতা -
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী  বিষ্ণু দে ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন। তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- কাব্যভাবনা ও প্রকাশরীতিতে বুদ্ধিবৃত্তি ও মননশীলতাকে অঙ্গীকার করেই তিনি কবিতা লেখেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- দেশের অতীত ও বর্তমানের নানা বিষয় এবং বিদেশের বিশেষত ইউরোপের শিল্প-সাহিত্যের বিচিত্র প্রসঙ্গ তাঁর কাব্যের শরীর ও চিত্রকল্প নির্মাণ করেছে। এসব কারণে তাঁর কাব্য দুর্বোধ্যতার অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়।

- "একটি কাফি" কবিতাটি  কবির 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩৩),
- চোরাবালি (১৯৩৭),
- সাত ভাই চম্পা (১৯৪৪),
- রুচি ও প্রগতি (১৯৪৬),
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ (১৯৫২),
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার (১৯৫৩),
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮),
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত (১৯৬৩),
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা (১৯৬৬),
- মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা (১৯৬৭),
- In the Sun and the Rain (১৯৭২),
- উত্তরে থাকো মৌন (১৯৭৭),
- সেকাল থেকে একাল (১৯৮০),
- আমার হূদয়ে বাঁচো (১৯৮১) ইত্যাদি। 

- তাঁর রয়েছে ১০টি কাব্য সংকলন, ৭টি অনুবাদগ্রন্থ এবং ২টি সম্পাদিত গ্রন্থ। তাঁর একটি সম্পাদিত গ্রন্থ হচ্ছে এ কালের কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৮৫.
'আয়না' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শহীদুল জহির
  2. আতাউর রহমান
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. মুহম্মদ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।

---------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আয়না' গল্পগ্রন্থ।
৫,৬৮৬.
'বোবা কাহিনী' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'বোবা কাহিনী' জসীম উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস।

• জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- তিনি ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

• বোবা কাহিনী:
- এটি জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম ও একমাত্র উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত রয়েছে।
- শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছিরের নিগৃহের কথা বর্ণিত রয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক: 
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী।
- হাসু।
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৮৭.
'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) উপন্যাসগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
‘সমুদ্রের স্বাদ’ (১৯৪৩) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ১৯ বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫),
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭),
- মিহি ও মোটা কাহিনী (১৯৩৮)
- সরীসৃপ (১৯৩৯),
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৮৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন গল্পসংকলনের গল্পগুলোতে গ্রামবাংলার জমিদারের প্রতাপ ও তার অবক্ষ্যয়ের শোচনীয় রূপ বর্ণিত হয়েছে?
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. নিকেতন
  3. জলসাঘর
  4. ডাকহরকরা
ব্যাখ্যা
• 'জলসাঘর' গল্পসংকলন:
- 'জলসাঘর' ১১টি গল্পের সংকলন।
- প্রত্যেকটি গল্পের পটভূমি গ্রামবাংলার জমিদারের প্রতাপ ও তার অবক্ষ্যয়ের শোচনীয় রূপ।
- জমিদারতন্ত্রের সমৃদ্ধি ও অবসানের রূপ এই গল্পগুলিতে লক্ষ্য করা যায়। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৮৯.
‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ গানটি কোন নাটকে আছে?
  1. সিরাজদৌল্লাহ
  2. নূরজাহান
  3. সাজাহান
  4. কবর
ব্যাখ্যা

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক ‘সাজাহান’ -এ এই গানটি ছিল।
- মোগল সম্রাট সাজাহানের করুণ পরিণতি ও ছেলে আরঙ্গজেবের ক্ষমতাগ্রহণকে কেন্দ্র করে এই নাটকটি রচিত হয়েছে।
তাঁর অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটক হলো :
- প্রতাপসিংহ
- দুর্গাদাস
- মেবার পতন
- নূরজাহান
- চন্দ্রগুপ্ত
- সিংহল বিজয়
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৯০.
আবু ইসহাকের রচিত গোয়েন্দাভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. যাত্রা 
  2. জাল
  3. দূরবীন
  4. ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা

• 'জাল' উপন্যাস:
​- 'জাল' বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবু ইসহাকের একটি গোয়েন্দা উপন্যাস। 
- ​এই উপন্যাসটি ১৯৫০ সালে জাল নোটের কয়েকটি মামলার তদন্তের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত। 
- ​'জাল' একটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস, গতানুগতিক ডিটেকটিভ উপন্যাস নয় । তা'ছাড়া এর ভেতর আছে অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে আবু ইসহাকের উদ্ভাবিত কিছু মৌলিক পদ্ধতি।
- উপন্যাসটি ১৯৮৮ সালে 'আনন্দপত্র' ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয় । কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনার পর এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নসাস থেকে।

​অন্যদিকে, 
• '​যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• ​শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা তিন প্রজন্মের কাহিনির সংমিশ্রণে রচিত উপন্যাস হচ্ছে "দূরবীন"।
• ​শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' উপন্যাসে চারটি প্রজন্মের চিন্তাভাবনা ও জীবন যাপনের ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে আত্ম আবিষ্কারের কাহিনি গভীর বিশ্বস্ততার সঙ্গে নির্মিত হয়েছে।
​​
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৯১.
'উত্তরের খেপ' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
শওকত আলী রচিত উপন্যাস - উত্তরের খেপ। 

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৯২.
মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক) চিলেকোঠার সেপাই
  2. খ) নিষিদ্ধ লোবান
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) রেইনকোট
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

অন্যদিকে,
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস ।
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ শৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধি বিষয়ক কাব্যনাট্য।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান‘ মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৯৩.
‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’- উক্তিটি কার?
  1. মহাদেব সাহা
  2. সমর সেন
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’- বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন এর। 

• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৯৪.
'শিবমন্দির' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) অক্ষয় কুমার সরকার
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'শিবমন্দির' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কায়কোবাদ। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে। 

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৯৫.
'অনুপম দিন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  
তিনি  সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৯৬) , আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৯), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩) এবং একুশে পদক (১৯৮৪)  লাভ করেন । 


তাঁর রচিত কবিতা: 
- একদা এক রাজ্যে 
- বৈশাখের রচিত পংক্তিমালা 
- পরানের গহীন ভিতর 
- বেজান শহরের জন্য কোরাস 
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে 
- আমি জন্ম গ্রহণ করিনি 

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকমলের টানে 

তাঁর রচিত গল্প: 
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান 
- জলেশ্বরী গল্পগুলো

তাঁর রচিত উপন্যাস : 
- এক মহিলার ছবি 
- অনুপম দিন 
- সীমানা ছাড়িয়ে 
- খেলারাম খেলে যা 
- নীল দংশন 
- স্তব্ধতার অনুবাদ 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ  
- তুমি সেই তরবারী 
- অন্য এক আলিখান 
- এক মুঠো জন্মভূমি 
- আলোর জন্য 
- রাজার সুন্দরী 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ]
৫,৬৯৬.
'বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিনয় ভট্টাচার্য
  2. বিনয় ঘোষ
  3. বিনয় বর্মণ 
  4. সুবিনয় ঘোষ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা - বিনয় ঘোষ।
-----------
বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন - সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- বিনয় ঘোষ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিদ্যাসাগর বক্তৃতা’র প্রথম বক্তা (১৯৫৭) ছিলেন।
- ১৯৫৮-৬০ সাল পর্যন্ত তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রকফেলার রিসার্চ স্কলার হিসেবে গবেষণারত ছিলেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘কালপেঁচা’। ১৯১৭ সালের ১৪ জুন কলকাতায় তাঁর জন্ম, পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে।
- বিনয় ঘোষ ইতিহাস ও রাজনীতিবিষয়ক পর্যালোচনায় বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়। 
- ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের (১৯৪৩) সঙ্গে বিনয় ঘোষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এখানে তাঁর ল্যাবরেটরী নাটকটি অভিনীত হয়।
- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ ও ক্ষেত্রসমীক্ষা-ভিত্তিক আলোচনাগ্রন্থ পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি (১৯৫৭) তাঁর বিশিষ্ট রচনা।
- মার্কসবাদের আলোকে সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ এসব গ্রন্থের প্রধান আকর্ষণ।

তাঁর রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ: 
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি, 
- সোভিয়েট সভ্যতা (২ খন্ড), 
- ফ্যাসিজম ও জনযুদ্ধ, 
- সোভিয়েট সমাজ ও সংস্কৃতি প্রভৃতি।

• তাঁর রচিত গবেষণাগ্রন্থ:
- শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ, 
- মেট্রোপলিটন মন, 
- বাংলার নবজাগৃতি, 
- বিদ্যাসাগর ও বাঙালীসমাজ, 
- বিদ্রোহী ডিরোজিও, 
- সুতানুটি সমাচার, 
- বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা, 
- মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ, 
- বাংলার বিদ্বৎ সমাজ, 
- কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত, 
- বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৯৭.
তেভাগা আন্দোলনকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. অক্টোপাস
  2. কালো বরফ
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. নাঢ়াই
ব্যাখ্যা
• ‘নাঢ়াই’ শওকত আলী রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলনের পেক্ষাপট আলোচিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'ক্রীতদাসের হাসি':
'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান এর প্রকৃত নাম প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। 
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

• মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস হচ্ছে - 'কালো বরফ'। কালো বরফ উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনি ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।
• 'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'শামসুর রহমান'।

---------------------
• শওকত আলী: 

- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। 

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উওরের খেপ, 
- বসত, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৯৮.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ইউরোপের চিঠি
  2. দেশে বিদেশে
  3. জাভা যাত্রীর পত্র
  4. রাশিয়ার চিঠি
ব্যাখ্যা

• 'পথে প্রবাসে' ও 'ইউরোপের চিঠি' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
• লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন

• এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা প্রথম উপন্যাস (১৯৩০),
-  কঙ্কাবতী
-  দুঃখমোচন
- অপসরণ
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দেশে বিদেশে  ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।
- জাভা যাত্রীর পত্র ও রাশিয়ার চিঠি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৬৯৯.
‘ইঁদুর’ গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সমর সেন
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  4. সরদার জয়েনউদ্দীন 
ব্যাখ্যা

‘ইঁদুর’ গল্পের রচয়িতা- সোমেন চন্দ। 
------------------------------------------ 
• সোমেন চন্দ:
- সোমেন চন্দ ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্রকুমার চন্দ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে নরসিংদিতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ঢাকায় প্রগতি লেখক সংঘের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চায় সক্রিয় হন।
- বাংলা সাহিত্যে গণসাহিত্য ধারার সূচনায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ‘বন্যা’ নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন।
- তাঁর ‘ইঁদুর’ গল্পটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। 
- উপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ইঁদুর গল্প পড়েই কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন। 
- ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হন।
- মৃত্যুর পর তাঁর রচনাগুলো বিভিন্ন সংকলনে প্রকাশিত হয়। 

- তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ-
'ইঁদুর',   
• ‘সংকেত ও অন্যান্য গল্প’,
• 'বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প’।
• ১৯৭৩ সালে রণেশ দাশগুপ্ত সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ নামে তাঁর গল্পসমূহের একটি সংকলন সম্পাদনা করেন।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,৭০০.
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসনের রচয়িতা -
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।  
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো 'জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পণ” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পণ” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে। 

অন্যদিকে: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা। 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন 'এর উপায় কি?'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।