বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৫৬ / ৭৭ · ৫,৫০১৫,৬০০ / ৭,৬৪৬

৫,৫০১.
প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. বীরবলের হালখাতা
  2. চার-ইয়ারি কথা
  3. তেল-নুন-লাকড়ি
  4. রায়তের কথা
ব্যাখ্যা
• 'চার-ইয়ারি কথা'- প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ। 

• প্রমথ চৌধুরী:

- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০২.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. মৌরীফুল
  2. মেঘমল্লার
  3. দেবযান
  4. যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• ‘দেবযান’ উপন্যাস:
- ‘দেবযান’ (১৯৪৪) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেততত্ত্ব ও পরলোকতত্ত্ব-ভিত্তিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি রচনার জন্য বিভূতিভূষণ সর্বাধিক কাল ধরে পরিকল্পনা করেছিলেন।
- বাস্তব ও অধিবাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি এর কাহিনি ও চরিত্র বিন্যাসের নিয়ামক।

অন্যদিকে,
 মেঘমল্লার, মৌরীফুল ও যাত্রাবদল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
----------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী। তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৫০৪.
'পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকা আমার ভাসে, মেঘ-মুকুলের পাহাড় থেকে ঝড়ের ঝাপটা আসে। -এই কবিতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) আবু জাফর ওবায়েদ উল্লাহ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- উপরোক্ত কবিতাংশটুকু আহসান হাবীবের 'মেঘনা পাড়ের ছেলে' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

মেঘনা পাড়ের ছেলে
- আহসান হাবীব

আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
মেঘনা নদীর ঢেউয়ের বুকে
তালের নৌকা বেয়ে
আমি বেড়াই হেসে খেলে-
আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে।
মেঘনা নদীর নেয়ে আমি মেঘনা পাড়ে বাড়ি
ইচ্ছে হ’লেই এপার থেকে ওপারে দেই পাড়ি।
তালে তালে তালের নৌকা
দু’হাতে যাই বেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকো আমার ভাসে
মেঘমুলুকের পাহাড় থেকে ঝড়ের ঝাপটা আসে-
মাথার ওপর মুচকি হাসে
বিজলি নামের মেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
আমার ঢেউয়ের সঙ্গে গলাগলি ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা
ঝড়ের সঙ্গে লড়াই ক’রে কাটাই সারাবেলা।
দেশ থেকে যাই দেশান্তরে
মনের নৌকা বেয়ে-
আমি মেঘনা নদীর ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মেঘনা পাড়ের ছেলে- আহসান হাবীব।
৫,৫০৫.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীব রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ছায়া হরিণ
  2. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  3. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা:
- 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে।
- গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু।
- 'আমি কোন অভ্যাগত নই' একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: 'আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল .....' ইত্যাদি।

• উল্লেখ্য, কবির এ কাব্যগ্রন্থের নাম বাংলা একাডেমির 'চরিতাভিধান'সহ অনেক বইয়ে 'দুই হাতে দুই আদিম পাথর' আছে। এটি ঠিক নয়। হবে 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর'।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।
- তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫০৬.
'স্পেনবিজয় কাব্য'- গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গ) সৈয়দ সামসুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'স্পেনবিজয় কাব্য'- রচনাটির রচয়িতা- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

• তাঁর গদ্য বঙ্কিমচন্দ্রের মতো সংস্কৃতবহুল, কবিতা মধুসূদনের মতো ক্লাসিক রীতির।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন
- স্পেনবিজয় কাব্য

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ
- রায়নন্দিনী
- ফিরোজা বেগম

প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কিনারি জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা

ভ্রমন কাহিনি
:
- তুরস্ক ভ্রমণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৫০৭.
হায়াৎ মামুদ এর প্রকৃত নাম কী?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) মনিরুজ্জামান
  3. গ) মাহমুদুজ্জামান
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
হায়াৎ মামুদ ২ জুলাই ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিমবঙ্গের হুগলি জেলার মৌড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মনিরুজ্জামান।
- তাঁর ছেলেবেলা কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে। দেশবিভাগের পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫০ সালে পিতার সঙ্গে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
- তিনি একজন আধুনিক কবি, প্রবন্ধকার, গবেষক ও শিশু সাহিত্যিক।
- শিশুদের নিয়ে জীবনীগ্রন্থ রচনা তার প্রিয় বিষয়।
- তিনি প্রায় অর্ধ-শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা।
- শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর উল্লেখযােগ্য রচনা :
- স্বগত সংলাপ,
- প্রেম অপ্রেম নিয়ে বেঁচে আছি (কাব্যগ্রন্থ),
- রবীন্দ্রনাথ: কিশাের জীবনী,
- নজরুল ইসলাম: কিশাের জীবনী,
- প্রতিভার খেলা- নজরুল,
- বাঙালি বলিয়া লজ্জা নাই,
-  বাংলা লেখার নিয়মকানুন,
- কিশাের বাংলা অভিধান।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫০৮.
নিচের কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক?
  1. ক) মসনদের মোহ
  2. খ) নিমজ্জন
  3. গ) আনারকলি
  4. ঘ) তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা

- সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।
- 'আনারকলি' ও 'মসনদের মোহ' নাটকের রচয়িতা শাহাদাৎ হোসেন।
- তরঙ্গভঙ্গ, বহিপীর, সুড়ঙ্গ ও উজানে মৃত্যু নাটকের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- সেলিম আল দীন রচিত নাটকঃ স্বর্ণবোয়াল, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, হাতহদাই, কেরামতমঙ্গল, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৫০৯.
'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রধান লেখক ছিলেন-
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
  2. খ) মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন প্রমুখ
  3. গ) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী প্রমুখ
ব্যাখ্যা
১৯২৬ সালে গঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজ সমাজের অন্যতম আবুল ফজল গড়ে তুলেন ।
- এই আন্দোলনের মূল কথা ছিলো - 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ঠ, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'
- এ আন্দোলনের মূখপত্র ছিলো বার্ষিক শিখা পত্রিকা।
- 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রধান লেখক ছিলেন আবুল হুসেন, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১০.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. খ) বেদান্তগ্রন্থ
  3. গ) বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. ঘ) রাজাবলী
ব্যাখ্যা
'বেদান্তগ্রন্থ' ও 'বেদান্তসার' গ্রন্থের রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন উইলিয়াম কেরির অধিনস্থ বাংলা বিভাগের প্রধান-পন্ডিত।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হলো: 
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), 
- হিতোপদেশ (১৮০৮), 
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং 
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত। 
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫,৫১১.
'স্বদেশ চিন্তা' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- ষ্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫১২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. জীবন আমার বোন
  3. নরকে লাল গোলাপ
  4. ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক আপাত নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম থোকা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• 'কালো বরফ' মাহমুদুল হক রচিত একটি উপস্যাস। এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।
• 'নরকে লাল গোলাপ' ও "নিঃশব্দ যাত্রা" আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।

------------------
• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক। তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫১৩.
'বাল্মীকির জয়' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. আলী আহসান
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে,
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৫১৪.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. দেয়াল
  3. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় - দেয়াল

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:

- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫১৫.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃত ভাষা থেকে অনুবাদ কৃত গ্রন্থ?
  1. ক) বোধোদয়
  2. খ) কথামালা
  3. গ) শকুন্তলা
  4. ঘ) ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'শকুন্তলা' গ্রন্থটি কালিদাসের নাটক 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' অবলম্বনে রচিত। অভিজ্ঞান শকুন্তলম গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। আর অপশনের বাকিগুলো ইংরেজি থেকে অনূদিত গ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৫১৬.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন-
  1. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তাঁর একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসের পটভূমিস্থান ঢাকা শহর।

------------- 
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৭.
'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মহাকাব্যবিক উপন্যাস 
  2. কাব্যনাট্য 
  3. মহাকাব্য
  4. ত্রয়ী উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' গ্রন্থ:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'।
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়।
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

--------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি। 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫১৮.
কোন গল্পকারের গল্পে ম্যাজিক রিয়েলিজমের প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
  2. রিজিয়া রহমান
  3. শহীদুল জহির
  4. দিলারা হাশেম
ব্যাখ্যা

➝ জাদুবাস্তবতার রচনাভঙ্গি / ম্যাজিক রিয়েলিজমের প্রতিফলন ঘটেছে শহীদুল জহিরের রচনায়
➝ তাঁর প্রতিটি রচনায় জীবনবোধ খুব ঘনিষ্ঠভাবে ফুটে উঠেছে। বাস্তব-পরাবাস্তবের মাঝখানে অনিশ্চিত একটা অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতে তিনি পছন্দ করতেন।
➝ চরিত্রদের একই সঙ্গে অন্তরঙ্গ ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারেন, বিমূর্ত একটা ভাষায়, কিন্তু ঘনিষ্ঠ একটা বয়ানে তিনি বাস্তবের পর্দাপরা মানুষ ও প্রকৃতির জীবনের ভেতরের খবরটি বর্ণনা করতে পারেন। তাঁর ভাষায় বিমূর্ততা একটা স্তরে ছিল গভীর দ্যোতনা ও নিহিতার্থের একটা অবয়ব রচনার প্রয়াস।

◉ শহীদুল জহির:

➝ শহীদুল জহিরের জন্ম ঢাকায় নারিন্দার ভূতের গলিতে। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়।
➝ বাংলা সাহিত্যে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত কথাশিল্পী শহীদুল জহির। পরিচিত এ অর্থে যে তিনি সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে লাতিন আমেরিকার জাদুবাস্তবরীতির একনিষ্ঠ সাধনা করে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
➝ তার রচনায় প্রথম এ রীতির প্রয়োগ ঘটেছে, না কি তার পূর্বেও কেউ কেউ এ রীতিতে লেখার চেষ্টা করেছেন, লিখেছেন, তা গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও একবাক্যে শহীদুল জহির ও জাদুবাস্তবতা সমার্থক।
➝ উত্তর-আধুনিক প্রগতিবাদী লেখক হিসেবেও শহীদুল জহিরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। শহীদুল জহির তাঁর রচিত সাহিত্যে ভাষা ব্যবহারে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করেছেন, হয়তো সফলও হয়েছেন। সাধারণভাবে বলা যায়, তিনি নিম্নবর্গের মানুষের মুখের অকৃত্রিম ভাষাকে পুঁজি হিসেবে নিয়েছিলেন।
➝ বাংলা সাহিত্য জগতের ব্যতিক্রমী স্রষ্টা শহীদুল জহির অকালপ্রয়াত। বিগত শতাব্দীর সত্তরের দশকে সৃজনশীল সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর আগমন ঘটেছিল। 

◉ তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার
- ডুমুরখেকো
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প

উপন্যাস: 
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, 
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,  
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি।

➝ শহীদুল জহির জীবদ্দশায় আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, 'আজকের কাগজ সাহিত্য পুরস্কার' এবং 'প্রথম আলো বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) অর্জন করেছেন।

উৎস: শহীদুল জহির ‘গল্পসমগ্র’; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কালি কলম।

৫,৫১৯.
কোন দুটি রচনা একই শ্রেণির?
  1. গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
  2. ডাকঘর ও শ্রীকান্ত
  3. নীলদর্পণ ও বিষাদ-সিন্ধু
  4. লালসালু ও বলাকা
ব্যাখ্যা
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি - কাব্যগ্রন্থ।
- 'অগ্নিবীণা' কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম - কাব্যগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
- 'ডাকঘর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ - নাটক।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জীবনচরিত মূলক - উপন্যাস।

- 'নীল দর্পণ' হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা - নাটক।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেনের ঐতিহাসিক - উপন্যাস।

- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি - উপন্যাস।
- 'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক -  কাব্য।

উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২০.
জীবনানন্দ দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) গোপালগঞ্জ
  2. খ) জামালপুর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবিও বলা হয়।
- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫২১.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আকবর হোসেন
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫২২.
'কালো বরফ' উপন্যাসে কোন সময়কার কথা ব্যাপকভাবে ফুটে উঠেছে?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) মনন্ত্বর
  3. গ) সামরিক শাসন
  4. ঘ) গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

- তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
• কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৫,৫২৩.
কোনটা ঠিক?
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  2. কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  3. বহিপীর (নাটক)
  4. মহাশ্মশান (নাটক)
ব্যাখ্যা
• বহিপীর নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'বহিপীর' ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

-----------------------
অন্যদিকে,
- কবি জসীম উদ্দীনের কাহিনিকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস- কাঁদো নদী কাঁদো,
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
৫,৫২৪.
কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫২৫.
‘আব্দুল্লাহ’ - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. কাজী আনোয়ারুল হক
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. কাজী মোতাহের হোসেন
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাসটির।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫২৬.
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক রচিত হয় কোন সনে?
  1. ১৯৫২
  2. ১৯৫৩
  3. ১৯৬১
  4. ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
• ‘কবর’ নাটক:
-  ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্র মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়। বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২৭.
‘উত্তর বসন্ত‘ কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল কাদির
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির, (১৯০৬-১৯৮৪)  কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দোবিশারদ, সম্পাদক।
• ১৯০৬ সালের ১ জুন  কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ আবদুল কাদির
- বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার 
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার 
- একুশে পদক 
- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭) ও মুক্তধারা পুরস্কার লাভ করেন।
• ১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবদুল কাদির এর উল্লেখযোগ্য কবিতা ও প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- দিলরুবা  (কাব্য), 
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭), (কাব্য), 
- কবি নজরুল 
- ছন্দসমীক্ষণ 
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫২৮.
কোনটি হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ?
  1. অন্তিম শরের মতো
  2. আগুনপাখি
  3. নামহীন গোত্রহীন
  4. বৃত্তায়ন
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ- বিমুখ প্রান্তর, আর্ত শব্দাবলী, প্রতিবিম্ব, অন্তিম শরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।
হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস- আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শামুক, শিউলি, বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ- নামহীন গোত্রহীন, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন, শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৫২৯.
'চৌরসন্ধি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী ইত্যাদি শওকত ওসমানের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩০.
'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আতাউর রহমান
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থটির রচয়িতা - আবুল মনসুর আহমদ।

আবুল মনসুর আহমদ:

- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩১.
"আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।" - কে লিখেছেন?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শওকত ওসমান
  3. সুভাষ দত্ত
  4. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
"আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।" - কবিতাংশটুকু মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী'র ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতার অংশবিশেষ।
------------------ 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
---------------
কবিতার কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না
----------------  
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩২.
কবি গানের প্রথম কবি কে?
  1. গোঁজলা পুট [গুই]
  2. হরু ঠাকুর
  3. ভবানী ঘোষ
  4. নিতাই বৈরাগী
ব্যাখ্যা
• গোঁজলা গুঁই:
 - গোঁজলা গুঁই (১৮শ শতক)  কবিওয়ালা।
- আঠারো শতকে বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কবিগান নামে এক প্রকার সঙ্গীতধর্মী সাহিত্য রচিত হয়, যা ‘কবিওয়ালা’ নামে এক শ্রেণির সৌখিন বা পেশাদার গায়ক আসরে পরিবেশন করতেন। উঁচু-নিচু সব শ্রেণির শ্রোতাই তখন কবিগান শুনে আনন্দ উপভোগ করত। নতুন ধারার এ গানের আদিগুরু ছিলেন গোঁজলা গুঁই।
- তিনি পেশাদার কবিদল গঠন করে ধনিগৃহে অর্থের বিনিময়ে এ গান গাইতেন।

- গোঁজলা গুঁই  টপ্পা রীতিতে গান রচনা করতেন। ‘এসো এসো চাঁদ বদনি/ এ রসে নিরস করো না ধনি’, ‘প্রাণ, তোরে হেরিয়ে দুখো দূরে গেলো মোর’ প্রভৃতি গানের বিষয় ও রীতি টপ্পার বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাঁর যে গানগুলি পাওয়া গেছে সেগুলি নায়ক-নায়িকার উক্তিরূপে রচিত।

- তাঁর শিষ্য লালু, নন্দলাল, কেষ্টা মুচি, রঘুনাথ দাস ও রামজী পরবর্তীকালে কবিগানে নতুন মাত্রা যোগ করে একে আরও সম্প্রসারিত ও জনপ্রিয় করে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৩.
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• ‘শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ’ অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

--------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩৪.
'আমলার মামলা' নাটকটি লিখেছেন -
  1. সেলিম আল দীন
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. শওকত ওসমান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘আমলার মামলা’ — শওকত ওসমান রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।
--------------------------
শওকত ওসমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক এবং নাট্যকার। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে সমাজের নানা অসঙ্গতি এবং জীবনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
 
• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।
 
শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৫.
'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমণ-কাহিনিমূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
'বন্দর থেকে বন্দরে':
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত রম্যরচনা (ভ্রমণমূলক)।
• তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়ান ভ্রমণ-কাহিনিটি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

---------------
• সানাউল হক:
- সানাউল হক ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯২৪ সালের ২৩ মে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

- সানাউল হকের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় পারিবারিক আবহে। তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।

- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর চিন্তাভাবনা সানাউল হকের সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায় সানাউল হকের কবিতায়, ভ্রমণবৃত্তান্তে, অনুবাদে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে। তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।

- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভকরেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
৫,৫৩৬.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থের অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) মুখরা রমনী বশীকরণ
  4. ঘ) রত্নাবতী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩৭.
"রেইনকোট" ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. নুরুদ্দিন
  2. নুরুল হুদা
  3. অসমান
  4. আজহার
ব্যাখ্যা
• "রেইনকোট" ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র- নুরুল হুদা। 

• "রেইনকোট" ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।

- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৩৮.
'মসনদের মোহ' নাটকটির রচয়িতা-
  1. ইব্রাহিম খাঁ
  2. শাহাদাৎ হোসেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• শাহাদাৎ হোসেন: 
- ১৮৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার পন্ডিতপোল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকার বেতারকেন্দ্রে চাকরি নিয়ে পাক্ষিক এলান পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- শাহাদাৎ হোসেন কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন।
- পঞ্চাশের দশকে রূপচ্ছন্দা ও মসনদের মোহ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ বাংলা বিষয়ের পাঠ্যভুক্ত ছিল। 
- ১৯৫৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্য: 
- মৃদঙ্গ,
- কল্পলেখা,
- রূপচ্ছন্দা;

উপন্যাস ও নাটক: 
সরফরাজ খাঁ,
হিরণলেখা,
পারের পথ,
স্বামীর ভুল,
সোনার কাঁকন,
যুগের আলো,
রিক্তা,
পথের দেখা,
কাঁটাফুল,
আনারকলি,
মসনদের মোহ;

গল্প: 
রূপায়ণ,
এবং শিশুসাহিত্য ছেলেদের গল্প,
মোহন ভোগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,৫৩৯.
কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক নয়?
  1. স্বর্ণবোয়াল
  2. কীর্তনখোলা
  3. বনপাংশুল
  4. আমলার মামলা
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
• তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটকঃ
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।
- আমলার মামলা শওকত ওসমানের নাটক।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৪০.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাসের অংশ নয়-
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. রসকলি
  3. গণদেবতা
  4. পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়ী উপন্যাসঃ
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা ও
- পঞ্চগ্রাম।
• তাঁর রচিত গল্পঃ
- রসকলি,
- ডাকহরকরা,
- বেদেনী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- পথের ডাক,
- দ্বীপান্তর ও
- দুই পুরুষ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৫৪১.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মানচিত্র
  2. খ) জেগে আছি
  3. গ) ক্ষুধা ও আশা
  4. ঘ) অন্ধকার সিঁড়ি
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৫,৫৪২.
নিচের কোনটি জাহানারা ইমামের রচনা নয়?
  1. ক) বুকের ভিতরে আগুন
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) অন্য জীবন
  4. ঘ) চৈতালী ঘূর্নী
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাহানারা ইমাম লেখালেখিতে ব্যস্ত সময় কাটান এবং তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি এ সময়ে প্রকাশ পায়। গল্প, উপন্যাস ও দিনপঞ্জি জাতীয় রচনা মিলিয়ে তাঁর আরও কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে।
সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- অন্য জীবন (১৯৮৫),
- বীরশ্রেষ্ঠ (১৯৮৫),
- জীবন মৃত্যু (১৯৮৮),
- চিরায়ত সাহিত্য (১৯৮৯),
- বুকের ভিতরে আগুন (১৯৯০),
- নাটকের অবসান (১৯৯০),
- দুই মেরু (১৯৯০),
- নিঃসঙ্গ পাইন (১৯৯০),
- নয় এ মধুর খেলা (১৯৯০), 

চৈতালী ঘূর্নী - তারাশঙ্কর বন্দ্যেপাধ্যায়

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৪৩.
'আমার পূর্ব বাংলা' কবিতাটির কবি কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা। এটা বাংলা সাহিত্যেরও একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। কবিতাটি ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং প্রথম আলো।
৫,৫৪৪.
’দোজখের ওম’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. হুমায়ুন আহমেদ
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরি
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ ’দোজখের ওম’।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- অন্যঘরে অন্যস্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- চিলেকোঠার সেপাই,
- দোজখের ওম,
- খোয়াবনামা,
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদের কোন উপন্যাসের বিষয়বস্তু অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে?
  1. কর্ণফুলী
  2. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. ক্ষুধা ও আশা
  4. স্বপ্নশিলা
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:

 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৪৬.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭০ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৪৭.
'লেলিহান পান্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, সূর্য জ্বালার স্বপন, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, লেলিহান পান্ডুলিপি, সাজঘর ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থগুলোর রচয়িতা কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৫৪৮.
'খোয়াবনামা' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।
 
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪৯.
'লালসালু' উপন্যাসের বিদ্রোহিণী চরিত্র কোনটি?
  1. সকিনা
  2. আমিনা
  3. কপিলা
  4. জমিলা
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• উপন্যাসে রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।

• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'লালসালু' উপন্যাস।
৫,৫৫০.
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. দেয়াল
  3. নন্দিত নরকে
  4. লীলাবতী
ব্যাখ্যা

⇒ হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।

♦ হুমায়ুন আহমেদের প্রথম রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার। তবে এটি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস নয়। এটি তাঁর দ্বিতীয় প্রকাশিত উপন্যাস। “শঙ্খনীল কারাগার” প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।

♦ ছাত্রজীবনে লেখা “নন্দিত নরকে” শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (অপ্রকাশিত-পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

♦ উল্লেখ্য, প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো সাহিত্য লেখক পরিচিতি তৈরি করে না। এবং ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব হয়। সুতরাং হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস হিসেবে ‘নন্দিত নরকে’ সঠিক উত্তর গ্রহণ করা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৫১.
হাসান আজিজুল হক সম্পাদিত বই কোনটি?
  1. অতলের আঁধি
  2. অপ্রকাশের ভার
  3. অসীমান্তিক
  4. আমরা অপেক্ষা করছি
ব্যাখ্যা
অসীমান্তিক:
- বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপূর্ব ভারতের মোট একষট্টি গল্পের সমাহারে হাসান আজিজুল হকের সম্পাদনায় 'অসীমান্তিক' বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে।
- এই গ্রন্থে প্রকাশিত গল্প থেকে উঠে আসে তিনটি অঞ্চলের জীবনের পরিপূর্ণ দিক, যা পাঠকের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের উৎস।
- এই গ্রন্থে ওই তিন অঞ্চলের গল্পের সমকালীন ধারাও স্পষ্ট হয়।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
৫,৫৫২.
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত-
  1. রম্য-রচনা
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত 'রম্য-রচনা'।

• শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
- তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গতি,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা,
- ফোকলোরচর্চা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৫৩.
“ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন” ত্রয়ী উপন্যাসর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আবুল ফজল
  4.  আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো “ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন”। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।

----------------------------
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
• তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৪.
'নিশুতি রাতের গাথা' উপনাসের রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• 'নিশুতি রাতের গাথা' উপনাসের রচয়িতা - আনোয়ার পাশা

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৫৫.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস কোনটি?
  1. আমার বন্ধু রাশেদ
  2. নীল পাহাড়ের গান
  3. কালো মেলা
  4. চিক্কোর কাবুক
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার  কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা।
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- পৃথিবীজোড়া গান
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চাষাভুষার কাব্য,
- নিশি কাব্য;
- কামকানন;

অন্যদিকে,
•মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত কিশোর উপন্যাস = আমার বন্ধু রাশেদ।
• শওকত আলী রচিত কিশোর উপন্যাস =নীল পাহাড়ের গান।
• মাহমুদুল হক রচিত কিশোর উপন্যাস = চিক্কোর কাবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৬.
‘পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

পলাশির যুদ্ধ:
- এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য।
- পলাশি যুদ্ধ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে নবীনচন্দ্র সেন ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। 

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস, 
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৫৭.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস কয়টি ভাগে বিভক্ত? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

​উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,৫৫৮.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন।
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ং বেঙ্গলে’ ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৫৯.
বুদ্ধদেব বসুর নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) পুনর্মিলন
  2. খ) মায়া মালঞ্চ
  3. গ) কালসন্ধ্যা
  4. ঘ) তপস্বী ও তরঙ্গিনী
  5. ঙ) গোত্রান্তর
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটকগুলো হলো পুনর্মিলন, তপস্বী ও তরঙ্গিনী, কলকাতার ইলেক্ট্রা, কালসন্ধ্যা, মালঞ্চ ও প্রথম পার্থ। গোত্রান্তর নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য। তার আরেকটি বিখ্যাত নাটক হলো নবান্ন। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৫,৫৬০.
'কবি শ্রীমধুসূদন' গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'কবি শ্রীমধুসূদন' গ্রন্থের রচয়িতা মোহিতলাল মজুমদার।

মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক।
- জন্ম: ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর, নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- পৈতৃক নিবাস: হুগলির বলাগড়ে।
- পেশা: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
- সমালোচনামূলক প্রবন্ধে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, যেমন কৃত্তিবাস ওঝা, সর্বসাচী, শ্রী সত্যসুন্দর দাস।
- মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৫২।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৬১.
কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) বাংলার কাব্য
  3. গ) বৃত্রসংহার কাব্য
  4. ঘ) দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যা ১৯০৮ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।

• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬২.
মুনীর চৈধুরীর 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো-
  1. ক) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  2. খ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) দেশভাগ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৈধুরীর 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন 

'কবর' নাটক
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে
মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬৩.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় মূলক দার্শনিক নিবন্ধ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. নীতিকথা
  4. রাজাবলি
ব্যাখ্যা
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা':
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

অন্যদিকে,
‘নীতিকথা’ মুনশী তারিণীচরণ মিত্র রচিত গ্রন্থ।
'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।  

• কিংবদন্তিও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত ‘রাজাবলি’ গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠরূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫,৫৬৪.
‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার রচিত গ্রন্থে ধ্বনিত হয়েছে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত আলী
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই।'
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

-------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬৫.
গোলাম মোস্তফা কোন কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. বাংলা কবি সংঘ
  2. সাহিত্য সমিতি বোর্ড
  3. পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটি
  4. বাংলা একাডেমি পরিচালনা কমিটি
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬৬.
ইংরেজি ভাষায় জীবনানন্দ দাশের ওপর গ্রন্থ লিখেছেন কে?
  1. ডব্লিউ বি ইয়েটস
  2. ক্লিনটন বি সিলি
  3. অরুন্ধতী রায়
  4. অমিতাভ ঘোষ
ব্যাখ্যা
• ক্লিনটন বি সিলি:
- ক্লিনটন বি সিলি যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্বনামধন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যের অধ্যাপক, বাংলা ভাষা ও ও সাহিত্যের অনুবাদক।
- তার জন্ম ১৯৪১ সালের ২১ জুন। বর্তমানে তিনি শিকাগো ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক।
- তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে গবেষণা করেছেন।
- জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন ক্লিনটন বি সিলি।
- গ্রন্থটির নাম - A Poet Apart যা ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন ফারুক মঈনউদ্দীন। বাংলা অনুবাদ গ্রন্থটি 'অনন্য জীবনানন্দ’ নামে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট (প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪)।
৫,৫৬৭.
আল মাহমুদের কোন কবিতাটি একটি সনেট?
  1. ক) সোনালী কাবিন
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) অন্তরভেদী অবলোকন
  4. ঘ) অবগাহনের শব্দ।
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিলো 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। 
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালী কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। 
- এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে। 
- 'সোনালী কাবিন' এর কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৬৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) রশীদ করিম
  3. গ) ড. মযহারুল ইসলাম
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

গ্রন্থঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
লেখকঃ ড. মযহারুল ইসলাম
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় রচিত জীবনী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গ্রন্থটি বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের একটি প্রামাণ্য দলিল। এখানে ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে সত্যকে উদ্ধার ও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গ্রন্থটি একটি অমূল্য ইতিহাস।

Source: liberationwarbangladesh.org

৫,৫৬৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চার্যাপদের রচনাকাল কত?
  1. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬৫০ - ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬৫০-১২৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের রচনাকাল
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্‌র মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ এবং
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৭০.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস -
  1. টুনি মেম
  2. চাচা-কাহিনী
  3. অবিশ্বাস্য
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস - অবিশ্বাস্য।

সৈয়দ মুজতবা আলী: 

- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৭১.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দোজখের ওম
  2. খােয়াবনামা
  3. দুধেভাতে উৎপাত
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দ ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

​আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ​উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ:
- খোয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

​উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৭২.
‘তুরস্ক ভ্রমণ’ ভ্রমণ-কাহিনিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ভ্রমণকাহিনি - তুরস্ক ভ্রমণ।

-------------------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৩.
'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাসটির লেখক- 
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. মুনীর চোধুরী 
  4. সৈয়দ আলী আহসান 
ব্যাখ্যা

'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাস:
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) একটি উপন্যাস যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ লিখেছেন।
- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৭৪.
'কালো বরফ' উপন্যাসটির বিষয়:
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:

• কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৫,৫৭৫.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) ইবরাহিম খাঁ
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধঃ
- ভবিষ্যতের বাঙালি,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- জীবনের শিল্প,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ
- মোটর যোগে রাঁচী সফর,
- পশ্চিম ভারত।
• 'গ্রানাডার শেষ বীর' তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৭৬.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি?
  1. ক) চাচা-কাহিনী
  2. খ) শবনম
  3. গ) পঞ্চতন্ত্র
  4. ঘ) ময়ূরকণ্ঠী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলীর ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন পঞ্চতন্ত্র

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন। প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।

উল্লেখযোগ্য রচনা - বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্‌- রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ ‘বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে । তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়। গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।

• চাচা-কাহিনী -
তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ
• শবনম - তাঁর রচিত উপন্যাস
• ময়ূরকণ্ঠী -
তাঁর রচিত রম্য-রচনা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৭৭.
ছন্দের যাদুকর বলা হয়- 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত কবি।
- তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতা 'মেথর'।
- দেশাত্মবোধ, শক্তির সাধনা, মানবতাবোধ তাঁর কবিতার ভাববস্তু।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৭৮.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক?
  1. কালীকীর্তন
  2. বোধেন্দুবিকাশ
  3. প্রবোধ প্রভাকর
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবনী:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া চড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিল মধ্যযুগীয়।

- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। ব্যঙ্গের মাধ্যমে অনেক গুরু বিষয়ও তিনি সহজভাবে প্রকাশ করতেন।

- তিনি সবসময় ইংরেজি প্রভাব বর্জিত খাঁটি বাংলা শব্দ ব্যবহার করতেন। ভাষা ও ছন্দের ওপর তাঁর বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর 'বোধেন্দুবিকাশ' (১৮৬৩) নাটকে। নাটকটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। 

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।

- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনা গ্রন্থ:
- কালীকীর্তন ও
- প্রবোধ প্রভাকর।

• তাঁর রচিত নাটক:
- হিতপ্রভাকর ও
- বোধেন্দুবিকাশ।

অন্যদিকে, 
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৭৯.
'গাভী বিত্তান্ত' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সলিমুল্লাহ খান
  3. আহমদ ছফা
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'গাভী বিত্তান্ত':
- আহমদ ছফা রচিত' গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮০.
বিষ্ণু দে রচিত ‘সাত ভাই চম্পা’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮১.
সরদার জয়েনউদ্‌দীন কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. কথাসাহিত্যিক
  2. নাট্যকার
  3. প্রবন্ধিক
  4. ঔপন্যাসিক
ব্যাখ্যা
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮২.
'গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা' রম্য রচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। তাঁর রম্যরচনা- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।
শিশু সাহিত্য- 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ'। প্রবন্ধগ্রন্থ- নানা প্রসঙ্গ, গণসঙ্গতি, মাটি থেকে মহীরুহ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা, ফোকলোরচর্চা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮৩.
দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯২৩
  3. ১৯২২
  4. ১৯২০
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

------------------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:

- দীনেশচন্দ্র সেন(১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।
- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য,
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য,
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড,
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা,
- বাংলার পুরনারী,
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮৪.
মামুনুর রশীদ মূলত কী হিসেবে পরিচিত?
  1. নাট্যকার
  2. কথাসাহিত্যিক
  3. কবি
  4. ঔপন্যাসিক
ব্যাখ্যা
⇒ মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷ 

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮৫.
'ঠাকুরমার ঝুলি'র' সংগ্রাহক কে? 
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. গ) চন্দ্রকুমার দে
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'ঠাকুরমার ঝুলি'র' সংগ্রাহক ও সংকলক - 'দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার'।

• ঠাকুরমার ঝুলি:
- বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে। কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। 
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংগৃহীত কাহিনী নিয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- ঠাকুরমার ঝুলি
- ঠাকুরদাদার ঝুলি
- দাদা মশায়ের থলে
- ঠানদিদির থলে
- খোকা বাবুর খেলা
- আমাল বই 
- কিশোরদের মন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮৬.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. পথের পাঁচালী
  2. মেঘমল্লার
  3. চাঁদের পাহাড়
  4. আদর্শ হিন্দু হোটেল
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
• ভাগলপুরে চাকরি করার সময় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে 'পথের পাঁচালী' রচনা শুরু করেন এবং শেষ করেন ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে। 
• 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ রচনা। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
• অপরাজিত পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ। উভয়গ্রন্থে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ছায়াপাত ঘটেছে।

• প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় পথের পাঁচালীকে চলচ্চিত্রে রূপদানের মাধ্যমে তাঁর পরিচালক জীবন শুরু করেন এবং এর জন্য তিনি দেশিবিদেশী বহু পুরস্কার লাভ করেন।তিনি অপরাজিত এবং অশনি সংকেত উপন্যাস দুটি অবলম্বনেও অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

---------------
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- অপরাজিত,
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- চাঁদের পাহাড়,
- কিন্নরদল,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- মরণের ডঙ্কা বাজে,
- স্মৃতির রেখা,
- দেবযান,
- হীরামানিক জ্বলে,
- উৎকর্ণ,
- হে অরণ্য কথা কও,
- ইছামতী,
- অশনি সংকেত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮৭.
কোন রচনার মধ্য দিয়ে “মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার” দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. চারিদিকে যুদ্ধ
  2. এখনও ক্রীতদাস
  3. সূর্য দীঘল বাড়ি
  4. এবার ধরা দাও
ব্যাখ্যা

এখনও ক্রীতদাস রচনার মধ্য দিয়ে “মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার” দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে ।
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত এই নাটকের ঢাকা শহরে গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার যুদ্ধপরবর্তী অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরা হয়েছে।
- আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪২-২০০৮) নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা। ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ অনার্স ও এমএ (১৯৬৪) ডিগ্রি অর্জন করেন।
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪)
- এখনও দুঃসময় (১৯৭৫)
- এবার ধরা দাও (১৯৭৭)
- শপথ (১৯৭৮)
- সেনাপতি (১৯৮০)
- অরক্ষিত মতিঝিল (১৯৮০)
- ক্রস রোডে ক্রসফায়ার (১৯৮১)
- শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪)।
- তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র-
- সারেং বউ
- সখী তুমি কার
- এখনই সময়
- দুই জীবন।
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস:
-মানব তোমার সারাজীবন (১৯৮৮)
- আহ্ দেবদাস (১৯৮৯)
- তাহাদের যৌবনকাল (১৯৯১)।

সূত্র:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

৫,৫৮৮.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ। তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, কর্ণফুলী, ক্ষুধা ও আশা, খসড়া কাগজ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮৯.
রাজা রামমােহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কি?
  1. ক) মাগধীয় ব্যাকরণ
  2. খ) মাতৃভাষা ব্যাকরণ
  3. গ) ভাষা ও ব্যাকরণ
  4. ঘ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচনা করেন।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর]
৫,৫৯০.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত লালসালু উপন্যাসটি কী নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়?
  1. Night of no moon
  2. How to cook beans
  3. Tree without roots
  4. Cry river cry
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস  লালসালু। 
- এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
উৎস : বাংলা পিডিয়া।
৫,৫৯১.
আবুল ফজল রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) স্বয়ম্বরা
  2. খ) মাটির পৃথিবী
  3. গ) মৃতের আত্মহত্যা
  4. ঘ) প্রদীপ ও পতঙ্গ
ব্যাখ্যা

আবুল ফজল: তিনি মূলত সাহিত্যিক৷ তিনি সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
উপন্যাস :
- চৌচির (১৯৩৪),
- প্রদীপ ও পতঙ্গ (১৩৪৭),
- রাঙ্গা প্রভাত (১৩৬৪)।
গল্পগ্রন্থ :
- মাটির পৃথিবী (১৩৪৭),
- মৃতের আত্মহত্যা (১৯৭৮);
নাটক :
- কায়েদে আজম (১৯৪৬),
- প্রগতি (১৯৪৮),
- স্বয়ম্বরা (১৯৬৬);
আত্মকাহিনী ও দিনলিপি :
- রেখাচিত্র (১৯৬৬)।
প্রবন্ধ :
- বিচিত্র কথা (১৩৪৭),
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা (১৯৬১),
- সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন (১৯৬৫),
- সমকালীন চিন্তা (১৯৭০),
- মানবতন্ত্র ((১৩৭৯)
- শুভবুদ্ধি (১৯৭৪),
- শেখ মুজিব তাঁকে যেমন দেখেছি (১৯৭৮),
- রবীন্দ্র প্রসঙ্গ (১৯৭৯)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,৫৯২.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. রাত্রিশেষ
  2. সারাদুপুর
  3. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৫৯৩.
‘জীবনক্ষুধা’ - উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• 'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা - আবুল মনসুর আহমদ।

আবুল মনসুর আহমদ:

- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। 
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৪.
মানুষের ভাষাকে ''সাধু ভাষা'' হিসেবে প্রথম অভিহিত করেন কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
সাধু ভাষারীতি : যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।
যেমন: ‘এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল।'

সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
- ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়ােজন দেখা দেয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে তারা মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।
- এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।

সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন - রাজা রামমোহন রায়।

সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'
'সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।'ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
'বাংলা ভাষার সংস্কৃত শব্দ-সম্পদ ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ এবং ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করিয়া ইংরেজি গদ্য-সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুসরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাহাকে বাংলা সাধু ভাষা বলে।ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক

বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমােহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তােলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫,৫৯৫.
ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও পরিভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ 'শব্দকথা'র রচয়িতা-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী: 
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ রচনার পথিকৃৎ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৮৬৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জেমোকান্দিতে তাঁর জন্ম। 
- সাধনা, নবজীবন ও  ভারতী পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মধ্য দিয়ে রামেন্দ্রসুন্দরের সাহিত্যিক জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯১৯ সালের ৬ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের  মধ্যে রয়েছে:
- প্রকৃতি,
- জিজ্ঞাসা,
- কর্মকথা,
- চরিতকথা,
- শব্দকথা,
- বিচিত্র জগৎ, 
- নানাকথা প্রভৃতি।

• 'শব্দকথা'য় বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও পরিভাষা সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে।

• আর 'নানাকথা'য় স্থান পেয়েছে যুগ ও জীবন, ব্যক্তি ও সমাজ, শিক্ষানীতি ও সমাজধর্মের কতিপয় প্রচলিত সমস্যা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মতামত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৬.
আবুল মনসুর আহমদের কোন গ্রন্থের ভূমিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন?
  1. ফুড কনফারেন্স
  2. আয়না
  3. জীবনক্ষুধা
  4. সত্য মিথ্যা
ব্যাখ্যা

• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।.’..... 

• এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগ্রন্থসমূহ:
- হুযুর কেবলা,
- গো - দেওতা - কা দেশ,
- নায়েবে নবী,
- লীডরে কওম,
- মুজাহেদীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্মরাজ্য।


• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৯৭.
‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করেন-
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
- বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- চলচ্চিত্রটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিক দৃশ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

⇒ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
৫,৫৯৮.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে বাদশাহ হারুন কার প্রতীক?
  1. সম্রাট আকবর
  2. হুমায়ুন
  3. আইয়ুব খান
  4. ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক; তাতারির হাসি বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৯৯.
'ময়নামতির চর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ - ময়নামতির চর। ১৯৩২ সালে এটি প্রকাশিত হয়। এতে পদ্মানদীর চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে।

বন্দে আলী মিয়া:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- বন্দে আলী মিয়া শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় চিত্রকর ও ব্লক কোম্পানির ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬০০.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ- নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।