বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৫৪ / ৭৭ · ৫,৩০১৫,৪০০ / ৭,৬৪৬

৫,৩০১.
"ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিষ্ণু দে
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

"ভলগার তীরে" ভ্রমণকাহিনি:
- ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করেছিলেন নির্মলেন্দু গুণ। সেই স্মৃতিকে লিপিবদ্ধ করেছেন "ভলগার তীরে" গ্রন্থটিতে।
- এতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বাস্তবচিত্র পরিস্ফুটিত হয়েছে। লেনিন সম্পর্কে তার নিজস্ব অভিমত ও সোভিয়েত জনগণ সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যাবে।

নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩০২.
'এক মন এক প্রাণ' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) রাবেয়া খাতুন
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
রূপের নেশা, ভাঙ্গা বুক, এক মন এক প্রাণ উপন্যাস গুলোর রচয়িতা গোলাম মোস্তফা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৩০৩.
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আগুনপাখি
  2. সাবিত্রী উপাখ্যান
  3. শিউলি
  4. অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা

• আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শিউলি হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• 'অবিশ্বাস্য' উপন্যাসটির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।

• হাসান আজিজুল হক:

- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩০৪.
'আবিষ্কারের নেশায়' —গ্রন্থটি রচনা করেছেন-
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল-মুতী (১৯৩০-১৯৯৮): জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য। তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ। তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।

উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে -
-আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৩০৫.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পাদিত 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
• 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা':
• ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
• তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
• তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 

------------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক।
- তিনি 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 

• হরপ্রসাদ বহু বিদ্যাপ্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য:
- ১৮৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন ফেলো মনোনয়ন;
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত)।
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই’ উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন;
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩০৬.
বাংলা একাডেমী প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ'-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন-
  1. আব্দুল হাই
  2. আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন
  3. আহমদ ছফা
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন:
- জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি  সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন এবং ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি ছিলেন ইসলামিক একাডেমী অব সাইন্স-এর একজন প্রতিষ্ঠাতা ফেলো; বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো এবং সভাপতি (১৯৮৮-৯১)।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি, 
- বিজ্ঞানের বিস্ময় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩০৭.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

---------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩০৮.
‘দুধেভাতে উৎপাত' – গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প- রেইনকোট, মিলির হাতে স্টেনগান। তার উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লেখা উপন্যাস- চিলেকোঠার সেপাই। অন্যান্য গল্পগ্রন্থ - অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।’
৫,৩০৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি? 
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য।

• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য:
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।
---------------------------

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৫,৩১০.
কোনটি নুরুল মোমেন রচিত প্রথম নাটক?
  1. রূপান্তর
  2. রূপলেখা
  3. আলোছায়া
  4. নেমেসিস
ব্যাখ্যা

নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।
- ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩১১.
মেহনতি মানুষের প্রতিবাদ বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে কোন নাটকে?
  1. ক) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  2. খ) নূরুলদীনের সারাজীবন
  3. গ) ওরা কদম আলী
  4. ঘ) ইবলিশ
ব্যাখ্যা
নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত নাটক 'ওরা কদম আলী' প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালে। 
- এই নাটকের মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে। 
- শোষিত-নিপীড়িত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নিয়ে আসেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সমষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহন করে তা কদম আলী নামক এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে তা দেখানো হয়েছে। 

মামুনুর রশীদ (জন্ম: ১৯৪৮) এর প্রকাশিত নাটক সমূহ-
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮)
- ওরা আছে বলেই (১৯৮০)
- মে দিবস (১৯৮১)
- ইবলিশ (১৯৮২)
- এখানে নোঙর (১৯৮৬)
- গিনিপিগ (১৯৮৫)
- সমতট (১৯৯০)
- পাথর (১৯৯৩)
- লেবেদেফ (১৯৯৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩১২.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নয় কোনটি?
  1. এখানে এখন
  2. হৃৎকলমের টানে
  3. নুরুলদীনের সারাজীবন
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
‘হৃৎকলমের টানে’- সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩১৩.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ গীতি নাট্যটির রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবদুল্লাহ আল-মামুন
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যটির রচয়িতা - সৈয়দ শামসুল হক
প্রশ্নে গীতি নাট্য লিখা থাকলেও এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১লা মে থেকে ১৩ই জুন, ১৯৭৫; লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড শহরে, আর প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৬ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর; কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন লেখক ছিলেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩১৪.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. অবদূত
  2. জরাসন্ধ
  3. দৃষ্টিহীন
  4. যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- ঢাকা জেলার সাভারের নিকটবর্তী উলাইল গ্রামে ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭) ২ বৈশাখ তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন রূপকথার লেখক, শিশুসাহিত্যিক। 
- তিনি 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন।
- প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ঠাকুরমার ঝুলি'র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন।
- জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
- তিনি বিভিন্ন সময়ে 'সুধা' (১৯০১-১৯০৪), 'সারথি' (১৯০৮) ও 'পথ' (১৯৩০-৩২) নামে তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 'পথ' ছিল বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের মুখপত্র।
- দক্ষিণারঞ্জন কিছুদিন ওই পরিষদের সহ-সভাপতি (১৯৩০-৩৩) ছিলেন।
- পরিষদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষা-সমিতির সভাপতিরূপে তিনি বাংলায় বিজ্ঞানের অনেক পরিভাষা রচনায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- ১৩৬৩ বঙ্গাব্দের (১৯৫৭) ১৬ চৈত্র কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• কালিকানন্দের ছদ্মনাম - অবদূত।
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
• মণীশ ঘটক ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১৫.
‘কাঞ্চনমালা’ গ্রন্থটির কার রচনা?
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দীন আবুল কালামের প্রকাশিত উপন্যাসধারা এরকম: কাশবনের কন্যা (১৯৫৪), আলমনগরের উপকথা (১৯৫৪), আশিয়ানা (১৯৫৫), জীবন কাব্য (১৯৫৬), কাঞ্চনমালা (১৯৬১), জায়জংগল (১৯৭৮), মনের মত ঠাঁই (১৯৮৫), সমুদ্রবাসর (১৯৮৬), যার সাথে যার (১৯৮৬), নবান্ন (১৯৮৭), কাঞ্চনগ্রাম (১৯৯৮) এবং আত্মজৈবনিক উপন্যাস ঈষদাভাস (২০১৬)।
৫,৩১৬.
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী কাকে তপোবন-প্রেমিক বলেছেন?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে
  2. জসীম উদ্‌দীনকে
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে
ব্যাখ্যা
• জীবন ও বৃক্ষ:
- 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত 'সংস্কৃতি কথা' শীর্ষক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে তিনি জীবনের সার্থকতা বৃক্ষের মাঝে খুজেছেন।

'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে লিখেছেন:
‘অবশ্য রবীন্দ্রনাথ অন্য কথা বলেছেন। ফুলের ফোটা আর নদীর গতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি নদীর গতির মধ্যেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। তাঁর মতে মনুষ্যত্বের বেদনা নদীর গতিতেই উপলব্ধি হয়, ফুলের ফোটায় নয়। ফুলের ফোটা সহজ, নদীর গতি সহজ নয়। তাকে অনেক বাধা ডিঙানোর দুঃখ পেতে হয়। কিন্তু ফুলের ফোটার দিকে না তাকিয়ে বৃক্ষের ফুল ফোটানোর দিকে তাকালে বোধ হয় রবীন্দ্রনাথ ভালো করতেন। তপোবন-প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ কেন যে তা করলেন না বোঝা মুশকিল।’

-
-------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ (বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের  ভাবানুবাদ।)
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জীবন ও বৃক্ষ' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১৭.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত -
  1. নাটক
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত - নাটক

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩১৮.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮):
- এর জন্ম ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে। 
- উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি গল্প এবং প্রবন্ধও রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১৯.
মুনীর চৌধুরীর 'মানুষ' নাটকটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. দুর্ভিক্ষ
  2. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
• 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
• মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার ।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ‘মুনীর অপটিমা’ তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩২০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড' এর রচয়িতা-
  1. সেলিম আল দীন
  2. শওকত আলী
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় ছিল- অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৮৮ সালে ফিলিপস্‌ পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
 ----------------------------------
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, কালের কণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,৩২১.
'মায়াবী প্রহর' নাটকটি কার রচনা?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
'মায়াবী প্রহর' নাটকটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি তাঁর একটি অত্যন্ত জীবনঘনিষ্ঠ নাটক
 
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নরকে লাল গোলাপ
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
- সূর্য জ্বালার স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩২২.
‘হৃৎকলমের টানে’ - কার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলি
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• ‘হৃৎকলমের টানে’ - সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
 
সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
 
তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।
 
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি। 
 
সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩২৩.
মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপট রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. কালের কলস
  2. আগুনের মেয়ে
  3. কাবিলের বোন
  4. ডাহুকী
ব্যাখ্যা
•"কাবিলের বোন" উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।

- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে' দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস, পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।

- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।

- শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন। এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

--------------
আল মাহমুদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।
৫,৩২৪.
ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন কোনটি?
  1. ক) হাতেম তায়ী
  2. খ) সাত সাগরের মাঝি
  3. গ) মুহূর্তের কবিতা
  4. ঘ) নৌফেল ও হাতেম
ব্যাখ্যা
'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। এতে ১৯টি কবিতা রয়েছে। নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্যনাট্য এবং হাতেম তায়ী কাহিনীকাব্য। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৩২৫.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসের রচিয়তা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪);

সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৬৮ সালে এবং  একুশে পদক ১৯৮৩ সালে লাভ করেন। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৫,৩২৬.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীকে কত সালে মহামহোপাধ্যায় উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ক) ১৮৮৯
  2. খ) ১৮৯৮
  3. গ) ১৯০০
  4. ঘ) ১৯২৭
ব্যাখ্যা
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক।
-  তিনি ১৮৯৮ সালে ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট লাভ করেন।  
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাল্মীকির জয় 
- বৌদ্ধধর্ম 
- কাঞ্চনমালা (উপন্যাস)
- বেণের মেয়ে ( উপন্যাস) 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।]
৫,৩২৭.
‘মাটির দেয়াল’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?.
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ কবিতাবলি, উপহার, খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার। পালাবদল, হারানো আর্কিড, অমরাবতী, অনিঃশেষ, পুষ্পিত ইমেজ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃশীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৫,৩২৮.
গােবিন্দচন্দ্র দাস কোন যুগের সাহিত্যিক?
  1. মধ্যযুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. যুগসন্ধিক্ষণ
  4. অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা
গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- তিনি আধুনিক যুগের কবি।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩২৯.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1.  আমলকীর মৌ
  2. জোহরা
  3. আগুনমুখরা মেয়ে
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা

• 'জোহরা' উপন্যাস:
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

অন্যদিকে,
- 'আমলকীর মৌ' উপন্যাসের রচয়িতা দিলারা হাসেম।
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- 'আগুনমুখরা মেয়ে'উপন্যাসের রচয়িতা নুরজাহান বেগম।  

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

• তাঁর সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৩০.
'ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবুল হাসান
  3. আবুল ফজল
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল ও ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ:
আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষকে মুক্ত করা। এ উদ্দেশে তাঁরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁদের সে আন্দোলনের বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৯২৬ সালে তাঁরা প্রকাশ করেন সমাজের মুখপত্র শিখা। মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখার সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁরা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন। এ গোষ্ঠী তখন ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু করে। তাঁদের আন্দোলনের মূলকথা ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

শিখাগোষ্ঠীর এ আন্দোলনের মাধ্যমে আবুল ফজল যে মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী হয়েছিলেন, পরবর্তীকালে তাঁর রচনায় তার প্রতিফলন ঘটেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৩১.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পুতুল ও প্রতিমা
  2. পঞ্চশর
  3. বেনামী বন্দর
  4. রাজাবলী
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- রাজাবলী।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস:
 বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৩২.
বিখ্যাত 'কোকিলারা' নাটকটি কোন নাট্যকারের রচনা?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
• 'কোকিলারা' নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।

- প্রায় ক্ষেত্রেই নারীদের কথাগুলো না বলাই থেকে যায় কিংবা নারীরা কথা বললেও সে কথাগুলো হয়তো কখনোই শুনতে পায় না কেউ। ‘কোকিলারা’ নাটকটি তিনজন নারীর তেমনই একটি গল্প। তিনজন নারীর তিন গল্পের মিশ্রণ হলেও তিন কোকিলা মিলেই কোকিলারা।

- পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই কোকিলারা নারী হয়ে জন্মেছেন, সমাজে নারী হয়েই বেড়ে উঠেছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই কোকিলারা তাদের না বলা কথাগুলো নিয়েই হারিয়ে গেছেন। পুরুষশাসিত সমাজে কোকিলাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ হয় না সাধারণত। তবে এই ‘কোকিলারা’ সম্পাদিত পান্ডুলিপিতে সংযোজন করা হয়েছে অন্যায় অবিচার না মেনে প্রতিবাদ করার বিষয়টি। সমকাল বিবেচনায় নাট্যকাহিনিতে তা প্রযুক্ত করা হয়েছে।

-----------------
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। এবং তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: 'কোকিলারা' নাটক; প্রথম আলো রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৩৩.
'দুই পুরুষ' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'দুই পুরুষ' নাটক:
- 'দুই পুরুষ' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি নাটক। 

নাটকের ভূমিকায় লেখক লিখেন-
- 'দুই পুরুষ' আমার দ্বিতীয় নাটক। আমার প্রথম নাটক 'কালিন্দী'। কিন্তু 'কালিন্দী' মূলত উপন্নাস। সেই হিসাবে 'দুই পুরুষ' কে আমায়। প্রথম নাটক বলিলেও ভুল হইবে না।

- 'দুই পুরুষ' রচনাকালে নাম দিয়াছিলাম "পিতা-পুত্র", এবং ওই নামেই 'শনিবারের চিঠিতে প্রকাশিত হইতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে বইখানি ছাপাও আরম্ভ হয়।

- ইতিমধ্যে বহুপ্রসিদ্ধ বঙ্গালয় "নাট্যভারতী'র কর্তৃপক্ষ বইখানি শুনিয়া মঞ্চস্থ করিবার অভিপ্রায়ে 'দুই পুরুষ' নামে বইখানিকে গ্রহণ করেন। 

--------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: 'দুই পুরুষ' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৩৪.
বাংলাদেশের কোন ঐতিহাসিক আন্দোলনে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন?
  1. কৃষক আন্দোলনে
  2. বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে
  3. ভাষা আন্দোলনে
  4. তেভাগা আন্দোলনে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি পাকিস্তানে উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি প্রথম উত্থাপন করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

---------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বৈদিক ভাষা, বৌদ্ধ সংস্কৃত, তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব, তিববতি ও প্রাচীন পারসিক ভাষা এবং জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীন খোতনি, প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা শেখেন। 
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। বাংলা লোকসাহিত্যের প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

• সম্পাদনা ও প্রকাশনা:
- শিশুপত্রিকা ‘আঙুর’ (১৯২০), 
- ইংরেজি মাসিক ‘দি পীস’ (১৯২৩), 
- বাংলা মাসিক ‘বঙ্গভূমি’ (১৯৩৭), 
- পাক্ষিক ‘তকবীর’ (১৯৪৭)। 

গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি: প্রমাণ – গৌড়ী/মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা (১৯২৫)। 

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প (১৯২২), 
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১), 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬), 
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (১৯৫৭),
- Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১),
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৩৫.
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
⇒ 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।...... 

⇒ আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আয়না' গল্পগ্রন্থ।
৫,৩৩৬.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'নব উদ্দীপনা' হলো-
  1. ক) প্রবন্ধ 
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৩৩৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন প্রধানত-
  1. ভাষাতত্ত্ববিদ
  2. সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা
  3. ইসলাম প্রচারক
  4. সমাজ সংস্কারক
ব্যাখ্যা
• ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একাধারে ভাষাবিজ্ঞানী ও ভাষাতাত্ত্বিক, গবেষক, অনুবাদক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ। তবে তিনি ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবে বহুল পরিচিত।

-----------------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৩৮.
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হকের 'নুরুলদীনের সারা জীবন' একটি কাব্যনাট্য। 

• নুরুলদীনের সারাজীবন
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৩৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) নাটোর
  2. খ) গাইবান্ধা
  3. গ) পাবনা
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ছিল মঞ্জু।
তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বগুড়া জেলায়। তিনি ১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৩৪০.
'বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ'- পর্বগুলো কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. অপরাজিত
  2. পথের পাঁচালী
  3. আরণ্যক
  4. বিপিনের সংসার
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

• উপন্যাসের তিনটি ভাগ।
- বল্লালী বালাই,
- আমআঁটির ভেঁপু,
- অক্রূর সংবাদ।

--------------------------------- 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়িা।
৫,৩৪১.
'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাস:
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) একটি উপন্যাস যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ লিখেছেন।
- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৪২.
‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হায়
  2. শওকত ওসমান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসটির রচয়িতা জহির রায়হান।

• জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক। ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন। জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।

ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।
তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৪৩.
'লোকায়ত সমাজ ও বাঙালী সংস্কৃতি' - আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত একটি-
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) নাট্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮)
- এর জন্ম ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে। 
- উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি গল্প এবং প্রবন্ধও রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫);

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪);

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৪৪.
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলা বানানের নিয়ম প্রবর্তিত হয়-
  1. ক) ১৯৩৫ সালে
  2. খ) ১৯৩৬ সালে
  3. গ) ১৯৩৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৯ সালে‌
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের গোড়া থেকে বাংলা গদ্যরচনা আরম্ভ হলে বাংলা বানানে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ব্যাপারটি অনুধাবন করে একটি বানান-রীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ প্রস্তাবকে সমর্থন জানান।
এই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 'কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতি' গঠন করে এবং ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৮ই মে প্রথম বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে৷
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)
৫,৩৪৫.
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকের পটভূমি কি?
  1. ক) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  2. খ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।

- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা তাঁর মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২)-এর (১৯৫৯) মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।
- নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৪৬.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাসে কোন সময়ের মানুষের কথা বলা হয়েছে?
  1. ষাটের দশকের
  2. সত্তরের দশকের
  3. আশির দশকের
  4. নব্বইয়ের দশকের
ব্যাখ্যা
ত্রয়ী উপন্যাস:
- 'দক্ষিণায়নের দিন', 'কুলায় কালস্রোত' এবং 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' এই ত্রয়ী উপন্যাস শওকত আলীকে অনন্য করে তুলেছিল। 
- এই ত্রয়ী উপন্যাস সর্ম্পকে শওকত আলী এক সাক্ষাৎকারে উন্মোচন করেছিলেন তার পীড়িত ভাষ্য।
- শওকত আলী অবলীলায় বলেছিলেন, 'ষাটের দশকের মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনার যে পরিবর্তন আসছে, সেটাই 'দক্ষিণায়নের দিন' যার মানে হচ্ছে শীতকাল আসছে। 'কুলায় কাল স্রোত' হচ্ছে পরিবর্তন যেখানে আঘাত করছে। আর 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' হচ্ছে নতুন সময়টি আসার একেবারে আগের সময়টি। মূলত ষাটের দশকে আমাদের মধ্যবিত্ত এবং সমগ্র সমাজব্যবস্থায় একটা পরিবর্তন আসে। নতুন একটা চিন্তা-চেতনা দ্বারা আলোড়িত হয় পুরো সমাজ। ধ্যান-ধারণা চাল-চলন জীবনব্যবস্থায় একটা পরিবর্তনের সুর বেজে ওঠে। সেসবই উপন্যাসে আনতে চেয়েছি।'

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. The Daily Star বাংলা রিপোর্ট প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৩।
৫,৩৪৭.
'বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল হুসেন
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

• 'বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা' গ্রন্থের রচয়িতা আবুল হুসেন।

 আবুল হুসেন: 
- তিনি ১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস যশোরের কাউরিয়া গ্রামে। 
- তিনি প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- তিনি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- ঢাকায় যে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়' তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র 'শিখা' (১৯২৭-১৯৩১) সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- তিনি ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৪৮.
'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধ সংকলনটির লেখক কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জসীম উদ্‌দীন
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহের হোসেন ছিলেন একজন সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী। 
তিনি ৩০শে জুলাই ১৮৯৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।  
পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রাম।

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন (১৯৩৭),
- নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫),
- সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮),
- সিম্পোজিয়াম (১৯৬৫),
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং
- আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।
 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ সংকলন 'সঞ্চয়ন'।

- ১৯৭৫ সালে কাজী মোতাহার হোসেন ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে সম্মানিত হন
- ১৯৭৪ সালে কাজী মোতাহার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন।

- কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমি 'পুরষ্কার’ লাভ করেন 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৪৯.
বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা কে?
  1. শরদিন্দু চট্টোপাধ্যায়
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। 

- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়।
- ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।
- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। - নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা।
৫,৩৫০.
রামনারায়ণ তর্করত্নের বিখ্যাত সামাজিক নাটক কোনটি?
  1. ক) কুলীনকুলসর্বস্ব
  2. খ) বেণীসংহার
  3. গ) রত্নাবলী
  4. ঘ) মালতীমাধব
ব্যাখ্যা
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’  নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৩৫১.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. দুর্ভিক্ষের 
  2. দেশভাগের  
  3. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার  
  4. মুক্তিযুদ্ধের 
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

-----------------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৫২.
'সারেং বৌ' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বৌ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনি।

------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• স্মৃতিকথা:
রাজবন্দীর রোজনামচা।

• ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৫৩.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) পূরবী
  2. খ) কল্পনা
  3. গ) চৈতালি
  4. ঘ) ললিতা তথা মানস
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী
- সোনারতরী
- চিত্রা
- কল্পনা
- বলাকা
- পুনশ্চ
- সেঁজুতি
- শেষলেখা
- পূরবী
- চৈতালি

- ‘ললিতা তথা মানস’ বঙ্কিমচন্দ্র রচিত কাব্যগ্রন্থ।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৫,৩৫৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত "How to Cook Beans" গ্রন্থটির সাহিত্যিক প্রকৃতি কী?
  1. প্রবন্ধ 
  2. উপন্যাসিকা
  3. ছোটোগল্প
  4. ব্যঙ্গ-রচনা 
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।
- আবু শরিয়া ছদ্মনামে তিনি ইংরেজিতেও উপন্যাস/গল্প লিখেছেন। তাঁর এমন একটি উপন্যাস কদর্য এশীয় আর একটি উপন্যাসিকা শিম কীভাবে রান্না করতে হয়। দুটিরই অনুবাদক শিবব্রত বর্মন।

• 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়':
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) - একটি উপন্যাসিকা যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লিখেছেন।
- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

এক আলিশান এশিয়ান হোটেলের ডাইনিং রুমে বসে প্রাচ্যবাসী দেখলেন, এক ফরাসি ভদ্রলোক ওয়েটারকে ধমকে বলছেন, শিম এভাবে রাঁধতে হয় না, শেফকে ডাকুন। হন্তদন্ত হয়ে হোটেলের শেফ এলেন।ফরাসি ভদ্রলোক তাঁকে শিম রান্নার কৌশল বাতলে দিলেন। প্রাচ্যবাসী এর কিছু বুঝতে পারলেন না। তিনি আকস্মিকভাবে ঠিক করলেন, যে দেশের মানুষ নিখুঁতভাবে শিম রাঁধতে জানে, তাঁকে সেই দেশে যেতে হবে।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর ফরাসি দেশে অভিযাত্রার কৌতুককর বর্ণনা দিয়েছেন লেখক।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাসিকা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৫৫.
'রামারঞ্জিকা' সাহিত্যকর্মের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম। 
- আলালের ঘরের দুলাল প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
→ আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭),
→ মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
→ কৃষিপাঠ (১৮৬১),
→ ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮)
→ এবং বামাতোষিণী (১৮৮১)।

- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- আলালের ঘরের উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র মতিলাল। 
• অন্যান্য চরিত্র-
- বাবুরাম,
- ঠকচাচা। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৫৬.
'বাংলা সাহিত্যের কথা' - গ্রন্থটি রচয়িতা কে?
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র লেখা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থের নাম: বাংলা সাহিত্যের কথা।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

--------------
উল্লেখ্য,
সুকুমার সেন রচিত গ্রন্থ- 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস।
মুহম্মদ এনামুল হক ও সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে রচনা করেন- ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (১৯৬৮)।
বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য - আহমদ শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৫৭.
প্যারীচাঁদ মিত্রের সাথে নিচের কোনটি জড়িত?
  1. ওয়েস্ট বেঙ্গল টি কোম্পানি
  2. বেঙ্গল টি কোম্পানি
  3. মিত্র পেপার কোম্পানি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্যারীচাঁদ মিত্র কলকাতায় ১৮১৪ সালের ২২শে জুলাই এক বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম রামনারায়ণ মিত্র। তিনি কাগজ ও হুন্ডি ব্যবসায়ী ছিলেন।
- প্যারীচাঁদ বেঙ্গল টি কোম্পানি এবং ডারাং টি কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন ।
- এছাড়া প্যারীচাঁদ মিত্র অ্যান্ড সন্স বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

প্যারীচাঁদ মিত্র বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র। আলালের ঘরের দুলাল বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রধান সাহিত্যকর্ম হলো - অভেদী, আধ্যাত্মিকা, যৎকিঞ্চিৎ, রামারঞ্জিকা, বামাতোষিণী, গীতাঙ্কুর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

৫,৩৫৮.
হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস -
  1. ক) অষ্টাদশী
  2. খ) স্বপ্নসাধ
  3. গ) সাথী
  4. ঘ) নদী ও নারী
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির ছিলেন মূলত লেখক ও রাজনীতিবিদ৷ 'নদী ও নারী' (১৯৪৫) তার রচিত উপন্যাস৷
তার অন্যন্য রচনা -
কাব্য -
- অষ্টাদশী,
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী,
প্রবন্ধ -
- মার্কসবাদ,
- ধারাবাহিক
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৫,৩৫৯.
'The Spirit of Islam' বইটির লেখক-
  1. সৈয়দ আমির আলী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমির আলী:
- তিনি আইনজীবী, ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে উদ্যোগী এবং ইসলামের ইতিহাস ও সমাজ বিষয়ক লেখক ছিলেন।
- তিনি ১৮৪৯ সালের ৬ এপ্রিল উড়িষ্যার কটকে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৮৬৭ সালে স্নাতক ও ১৮৬৮ সালে ইতিহাসে সম্মানসহ এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগুলির মধ্যে:
 
- এ ক্রাই ফ্রম দি ইন্ডিয়ান মোহামেডানস,
- দি রিয়েল স্ট্যাটাস অব উইমেন ইন ইসলাম।

গ্রন্থপঞ্জি:
- American Journal of Islamic Social Sciences,
- The Failure of Islamic Modernism?,
- Syed Ameer Ali’s Interpretation of Islam,
- The Spirit of Islam.

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৬০.
'অনল প্রবাহ' রচনা করেন-
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. মোজাম্মেল হক
  3. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৬১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “সেঁজুতি” কাব্যগ্রন্থে কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. ক) ২০টি
  2. খ) ২২ টি
  3. গ) ২১ টি
  4. ঘ) ২৩ টি
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের অধিকাংশ কবিতাই কবির মৃত্যু সম্পর্কে ভাবনা এবং পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থে ২২টি কবিতা রয়েছে।
এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- জন্মদিন
- পত্রোত্তর
- যাবার মুখে
- অমর্ত
- পলায়নী
- স্মরণ
- সন্ধ্যা
- ভাগীরথী ইত্যাদি

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থ]

৫,৩৬২.
'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) হেলাল হাফিজ
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।

'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে 
- কবিতা ৭১ 
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা ,

উৎস: যে জলে আগুন জ্বলে, হেলাল হাফিজ।
৫,৩৬৩.
সুধীসমাজ কর্তৃক 'রসরাজ' উপাধিতে ভূষিত হন- 
  1. অমৃতলাল বসু
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• অমৃতলাল বসু:
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে নাট্যকার হিসেবেও অমৃতলালের নাম সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
- তিনি রঙ্গ-ব্যঙ্গমূলক নাটক রচনা ও তাতে অভিনয় করে সুধীসমাজ কর্তৃক 'রসরাজ' উপাধিতে ভূষিত হন।
- নাটক, প্রহসন ও নকশা জাতীয় তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশ। তিনি প্রহসন ও ব্যঙ্গ রচনাতেই অধিক সফল হয়েছেন।
- সমকালের নাগরিক ও গ্রামীণ সমাজের নানা দিক নিয়ে এসব ব্যঙ্গাত্মক নাটক রচিত হয়।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- তিলতর্পণ,
- বিবাহ বিভ্রাট,
- তরুবালা,
- কালাপানি,
- বাবু,
- বিমাতা,
- আদর্শ বন্ধু,
- অবতার,
- চোরের উপর বাটপাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৬৪.
মালাধর বসু রচিত কাব্যের নাম কী?
  1. রাগতালনামা
  2. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
  3. শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  4. গীতগোবিন্দম্
ব্যাখ্যা

মালাধর বসু:
- তিনি মূলত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'রাগতালনামা' লিখেছেন মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি আলাওল।
- "সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী" কাব্যটি লিখেছেন দৌলত কাজী।
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৬৫.
সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে পরিচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লিপিমালা
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) রাজাবলি
  4. ঘ) কথোপকথন
ব্যাখ্যা
• কথোপকথন: 
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগ করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক- এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

• প্রায় দেড়শ ইতিহাসশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে উইলিয়াম কেরি রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘ইতিহাসমালা। এ দেশের  সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথ গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য। সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গ প্রধান।

• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন। 'কথোপকথন' গদ্যপুস্তুকগুলোর মধ্যে অন্যতম।

অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- রামরাম বসু রচিত: লিপিমালা।
- গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: রাজাবলি, বত্রিশ সিংহাসন।
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত: তোতা ইতিহাস।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৩৬৬.
' বনপাংশুল' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশিদ
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. সেলিম আল দীন
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
'যৈবতী কন্যার মন' নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন।

সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক 
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন 
- বাসন 
- মুনতাসির ফ্যান্টাসী
- শকুন্তলা
- কীত্তনখোলা 
- কেরামতমঙ্গল 
- যৈবতী কন্যার মন
- চাকা
- হরগজ
- হাতহদাই 
- নিমজ্জন 
- ধাবমান
- বনপাংশুল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৬৭.
'সুখ' নামে বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেছেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৬৮.
নিচের কোন ব্যাকরণগ্রন্থে প্রথম বাংলা হরফ মুদ্রিত হয়?
  1. Bengali Grammar in the English Language
  2. A Grammar of the Bengali Language
  3. Vocabolario em idioma Bengalla e Potuguez
  4. A Grammar of the Bengal Language
ব্যাখ্যা
• 'A Grammar of the Bengal Language':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেডের 'A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ভাষায় রচিত আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ বই। এটি বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ।

- হ্যালহেডের ব্যাকরণ সম্পূর্ণ ইংরেজিতে রচিত হলেও এতেই প্রথম বাংলা হরফ মুদ্রিত হয়, এ কারণে বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে গ্রন্থটি মূল্যবান। চার্লস উইলকিনসন এবং পঞ্চানন কর্মকার যৌথ প্রচেষ্টায় ছাপাখানার জন্য যে বাংলা হরফ (font) প্রবর্তন করেন, তার সাহায্যেই হ্যালহেডের গ্রন্থে বাংলা উদাহরণগুলি মুদ্রিত হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু দীর্ঘ কবিতার উদাহরণও বাংলা হরফে মুদ্রিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• রামমোহন রায়ের ইংরেজিতে রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ "Bengali Grammar in the English Language" প্রকাশিত হয় ১৮২৬ সালে, কলকাতার ইউনিটারিয়েন প্রেস থেকে। রামমোহন কেরী বা হটনের মতো সংস্কৃতের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ককে বড় করে দেখেননি। তিনি বাংলা ভাষার একটি মূল প্রবণতা লক্ষ্য করেছিলেন। তাই তিনিই প্রথম ব্যাকরণের বিভিন্ন প্রকরণ (বিশেষ্য, বিশেষণ, কারক ইত্যাদি) সম্পর্কে শুধু দৃষ্টান্ত নয়, খানিকটা তাত্ত্বিক আলোচনাও পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করেছেন। 

• উনিশ শতকের প্রথমেই রচিত হয় উইলিয়ম কেরীর বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengali Language' (১৮০১)। হ্যালহেডের ব্যাকরণের অনুকরণে কেরীর গ্রন্থটি প্রণীত, তবে হ্যালহেড যেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেননি, যেমন বিশেষ্য, ক্রিয়াপদ বা পার্টিকেল ব্যবহারের ক্ষেত্র, কেরী তাঁর রচনায় ওই সব ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

• মনোএল ভাওয়ালের একটি গির্জায় ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালনকালে ১৭৩৪-৪২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে "Vocabolario em idioma Bengalla, e Potuguez dividido em duas partes" শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেন। গ্রন্থটি দুটি অংশে বিভক্ত: প্রথম অংশ বাংলা ব্যাকরণের একটি সংক্ষিপ্তসার এবং দ্বিতীয় অংশ বাংলা-পর্তুগিজ ও পর্তুগিজ-বাংলা শব্দাভিধান। গ্রন্থটি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে রোমান হরফে মুদ্রিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৬৯.
মোতাহার হোসেন চৌধুরী মানব জীবনের সাথে কোনটির তুলনা করেছেন?
  1. ক) বৃক্ষ
  2. খ) পাহাড়
  3. গ) পথ
  4. ঘ) নদী
ব্যাখ্যা
বৃক্ষের সাথে মানব জীবনের তুলনা করেছেন মোতাহার হোসেন চৌধুরী। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানব জীবনের সাথে নদীর তুলনা করেছেন। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৩৭০.
"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল উপন্যাস। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা’তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্ত্ত। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। ‘ঠকচাচা’ এর অন্য একটি প্রধান চরিত্র।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৭১.
'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. মোসলেম ভারত
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক। এটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়

কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা শিক্ষক। পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৭২.
'পানকৌড়ির রক্ত'গল্প গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) তারাপদ রায়
ব্যাখ্যা
সোনালী কাবিন আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়। লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, বখতিয়ারের ঘোড়া, প্রেমের কবিতা ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
কাবিলের বোন, চেহারার চতুরঙ্গ, উপমহাদেশ, ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, ডাহুকী ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস এবং পানকৌড়ির রক্ত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ, সৌরভের কাছে পরাজিত তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৭৩.
১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক কোনটি?
  1. মরাচাঁদ
  2. জীয়নকন্যা
  3. গোত্রান্তর
  4. অবরোধ
ব্যাখ্যা

 'জীয়নকন্যা' নাটক:
• ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় বিজন ভট্টাচার্য রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক। 

• গণনাট্য আন্দোলনের ধারায় বিজন ভট্টাচার্যের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে জীয়ন কন্যা (১৯৪৮) গীতিনাট্যটি। এতে বেদে সমাজের নানা সংস্কার, ঐতিহ্য-লালিত প্রথা-পদ্ধতি, জাতিগত বিশ্বাস প্রভৃতির সঙ্গে দেশবিভাগের আশঙ্কায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা-বিদ্বেষের চিত্রও প্রতিফলিত হয়েছে।

• তিনটি দৃশ্যের এ গীতিনাট্যটিতে দেখা যায় যে, বেদে-সর্দার প্রবীরের কন্যা উলুপীকে সর্প-দংশন করে, তাকে বাঁচানোর জন্যে নানা ওঝা-গুণীনের আনাগোনা, কিছুতেই কিছু হয় না। অবশেষে সমস্ত ওঝা-গুণীনের তন্ত্র-মন্ত্র একত্রে চালান করলে সর্প হাজির হয়। কিন্তু সর্প শোনায় নিরাশার বাণী।  তবু উলুপীকে বাঁচানোর জন্য গুণীনের দল বাণে বাণে সর্পকে অস্থির করে তোলে। শেষপর্যন্ত বিষমুক্ত করে উলুপীর মহাজাগরণ ঘটায় 'ভারত মাতার মতো'। আসলে এই প্রয়াস সর্পের বিরুদ্ধে নয়, এ তৎকালীন 'ক্যালাস সরকারের' বিরুদ্ধে এক বিশেষ প্রতিবাদ। 

অন্যদিকে, 
-------------------
• বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'মরাচাঁদ' নাটকে নাট্যকার পবন বাউলের গানের মধ্য দিয়ে সমাজের একেবারে নিম্নশ্রেণির মানুষের জীবন-সংগ্রামকেই চিত্রিত করেছেন।

• বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'গোত্রান্তর' (১৯৬০) নাটকের বিষয়বস্তু ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গবাসীর ভাগ্যবিপর্যয়।

• মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক 'অবরোধ' (১৯৪৭)। অবরোধ নাটকটি কমিউনিজমের আদর্শে কারখানার মালিক-শ্রমিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রচিত, তবু কারখানার মালিকের পুঁজিবাদী স্বরূপ সম্পর্কে নাট্যকারের অনভিজ্ঞতার কারণে গণনাট্য সংঘ এ নাটকটিকে গ্রহণ করতে পারেনি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'Jagannath University Journal of Arts'। 

৫,৩৭৪.
'পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল' পঙ্‌ক্তির রচয়িতা_
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. বিহারী লাল
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।'- চরণটির রচয়িতা 'মদনমোহন তর্কালঙ্কার'।

---------------------------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।
- কবি-প্রতিভার জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পাণ্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

তাঁর রচিত কবিতা সংক্ষেপ-

পাখী সব করে রব,
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার।
পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।।

উৎস: পাখি সব করে রব- কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৭৫.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' কার রচিত উপন্যাস?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসটির রচয়িতা: শওকত আলী। 

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৭৬.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের রচনা?
  1. ক) চোরাবালি
  2. খ) উর্বশী ও আর্টেমিস
  3. গ) আরণ্যক
  4. ঘ) সাত ভাই চম্পা
ব্যাখ্যা
'আরণ্যক' বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের উপন্যাস। উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ, সেই অন্ধকার চাই, রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ ইত্যাদি বিষ্ণু দের কাব্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৭৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) হুমায়ুন আহম্মেদ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস হলো  ‘রাইফেল রোটি আওরাত‘ এবং এই উপন্যাসটির লেখক আনোয়ার পাশা।

• আনোয়ার পাশা, (১৯২৮-১৯৭১)  বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
• জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
• ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল বদরদের একটি দল তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে হত্যা করে।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
• উপন্যাস
- নীড় সন্ধানী (১৯৬৮)
- নিশুতি রাতের গাথা (১৯৬৮)
- রাইফেল রোটি আওরাত (১৯৭৩)

• কাব্য
- নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩)
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী (১৯৭৪)
- অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪)
• গল্পগ্রন্থ
- নিরুপায় হরিণী (১৯৭০)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৭৮.
'মোস্তফা চরিত' গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. খ) মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ
  3. গ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লহ
  4. ঘ) মাওলানা আকরাম খাঁ
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) - সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ
- সমস্যা ও সমাধান,
- মোস্তফা চরিত,
- আমপারার বঙ্গানুবাদ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৭৯.
বাংলা সাহিত্যে কখন গদ্যের সূচনা হয়?
  1. নবম শতকে
  2. ত্রয়োদশ শতকে
  3. ষোড়শ শতকে
  4. উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তকে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৩৮০.
মার্কসবাদী চেতনায় উদ্‌বুদ্ধ ছিলেন কোন কবি?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. বিষ্ণু দে
  3. নুরুল মোমেন
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্‌বুদ্ধ ছিলেন
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩৮১.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত 'সীতার বনবাস' কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮২.
‘History of Bengali Language and Literature’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ব্রাসি হ্যালহ্যাড
ব্যাখ্যা

শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার দীনেশচন্দ্র সেনের জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার সুয়াপুর গ্রামে। 
- তিনি গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুঁথি সংগ্রহ করেন এবং সেসব উপকরণের সাহায্যে ১৮৯৬-এ ''বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' শিরোনামে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন। ১৯০৫ সালে বিনোদবিহারী কাব্যতীর্থের সহযোগিতায় শ্রীকর নন্দীর লেখা ‘ছুটিখানের মহাভারত’-এর পুঁথি এবং হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সহায়তায় মানিক গাঙ্গুলীর লেখা ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’ পুঁথি দুটি দীনেশচন্দ্র সেন প্রথম প্রকাশ করেন।
- ১৯১১ সালে তার সুবিখ্যাত গ্রন্থ History of Bengali Language and Literature’ প্রকাশিত হলে তা সর্বমহলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ''রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোসিপ'' প্রদান করে এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
- সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খন্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- The Vaisnava Literature of Medieval Bengal (১৯১৭),
- Chaitanya and his Companions (১৯১৭)
- The Folk Literature of Bengal (১৯২০),
- The Bengali Ramayana (১৯২০),
- Bengali Prose Style : ১৮০০-১৮৫৭ (১৯২১),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- Glimpses of Bengal Life (১৯২৫),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৮৩.
"বাংলাদেশ" কবিতা কার লেখা?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ কবিতাটি অমিয় চক্রবর্তীর লেখা। 

অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালের ১০ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে।
- তিনি ছিলেন একজন কবি, গবেষক এবং শিক্ষাবিদ।
- পঞ্চকবির মধ্যে তিনি বিশেষভাবে খ্যাত।
- তিনি ১৯২১ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. পাস করেন এবং এরপর শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে তিনি ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি রচনা করেন।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন, যেমন: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- ভারত সরকার ১৯৭০ সালে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।
- অমিয় চক্রবর্তী ১৯৮৬ সালের ১২ জুন শান্তিনিকেতনে মারা যান।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

গদ্য রচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক 
- পুরবাসী 
- পথ অন্তহীন, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৮৪.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক?
  1. তরঙ্গভঙ্গ
  2. তারানা ই পাকিস্তান
  3. তৃণখণ্ড
  4. তৃষ্ণা
ব্যাখ্যা
তরঙ্গভঙ্গ:
- 'তরঙ্গভঙ্গ' (১৯৬৬) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক।
- মৌলবি আবদুস সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু ও স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে।
- বিচারক এর বিচার করতে বসেন। কিন্তু এ নাটকের একটি সংলাপ: ‘ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমায় না। তার চোখে ঘুম নেই।' এ সংলাপের মধ্য দিয়েই বিচারের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পায়।
- আসলে অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত মানুষের অন্তর্গত আর্তনাদ শব্দরূপ পেয়েছে এই নাটকে।
- কাঠগড়ায় অবনত দৃষ্টের আমেনা, জাগ্রতচেতনার প্রতীক হয়ে ওঠা ভাঙাপাত্র নিয়ে বসে থাকা ভিখারিণী, জীবন সম্পর্কে সম্যকভাবে অবগত না থাকা এক যুবক, বাদি মৌলবি আবদুস সাত্তার নেওলাপুরীসহ আদালতের উকিল, সাক্ষী মতলুব আলী, বিচারক ইত্যাদি এই নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

অন্যদিকে,
• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ - তারানা ই পাকিস্তান।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - তৃণখণ্ড।
• জহির রায়হান রচিত উপন্যাস - তৃষ্ণা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮৫.
‘যার যেথা দেশ’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• ‘যার যেথা দেশ’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৩২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮৬.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।  তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮৭.
'হাসনাহেনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
'হাসনাহেনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।

• গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রব্বানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম।
- ১৯৫২ সালে 'যশোর সাহিত্য সংঘ' তাকে 'কাব্যসুধাকর' উপাধিতে ভূষিত করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮৮.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? 
  1. কাবিলের বোন
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. রেইনকোট
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে প্রকাশকালের বিচারে প্রথম দিককার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- প্রকাশকাল: ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, নবকল্লোল পত্রিকার উল্টোরথ পূজাসংখ্যা।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর বর্ণনায়, যেখানে তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতার কথা বলেছেন।
-জীবনের শেষ পর্যায়ে অসুস্থ অবস্থায় দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারাশঙ্কর নাজমা নামের এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংসতা বাস্তব চিত্রের মতো ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র: নাজমা।

অন্যদিকে, 
• 'কাবিলের বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, যা লিখেছেন আল মাহমুদ। এটি 'উপমহাদেশ' উপন্যাসের সাথে একটি বইতে প্রকাশিত হয়েছে এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• 'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৮৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মুসলিম বাঙলা সাহিত্য
  2. বাংলা সাহিত্যের কথা
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. ভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ‘মুসলিম বাঙলা সাহিত্য' এর রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে।

--------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।-
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। বাংলা লোকসাহিত্যের প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। গবেষণাগ্রন্থের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য এবং শিশুসাহিত্যের অনেক মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেন।
- তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনাও করেন।
- তিনি ১৩ জুলাই ১৯৬৯ সালে মৃতুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প (১৯২২),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১),
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬),
- দীওয়ান-ই-হাফিজ (১৯৩৮),
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ (১৯৪২),
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম (১৯৪২),
- আমাদের সমস্যা (১৯৪৯),
- পদ্মাবতী (১৯৫০),
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড ১৯৫৩, ১৯৬৫),
- বিদ্যাপতি শতক (১৯৫৪), বাংলা আদব কী তারিখ (১৯৫৭),
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৫৯), কুরআন শরীফ (১৯৬৩)।

- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।

- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯০.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. কমলে কামিনী
  2. নবীন তপস্বিনী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. লীলাবতী
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক নয় - বিয়ে পাগলা বুড়ো
- এটি তাঁর রচিত প্রহসন।
- প্রহসনটি ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯১.
'কামিনী কাঞ্চন' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. শওকত আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প - কামিনী কাঞ্চন।

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯২.
প্যারীচাঁদ মিত্র কার তত্ত্বাবধানে হিন্দু কলেজে শিক্ষা লাভ করেন?
  1. ডেভিড হেয়ার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত। রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে। তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৯৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ‘রেইনকোট’ গল্পটি রচিত হয়েছে কোন প্রেক্ষাপটে?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প।
মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।

• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই।
৫,৩৯৪.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি কোনটি?
  1. ক) রাশিয়ার চিঠি
  2. খ) পথে প্রবাসে
  3. গ) পশ্চিমের যাত্রী
  4. ঘ) দুয়ার হতে অদূরে
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি 'পশ্চিমের যাত্রী' । 

রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি
পথে প্রবাসে - অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি। 
দুয়ার হতে অদূরে - বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫,৩৯৫.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমনকাহিনী?
  1. ক) বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  2. খ) পথে প্রবাসে
  3. গ) য়ুরোপের চিঠি
  4. ঘ) যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ পথে প্রবাসে (১৯৩১) ও ইউরোপের চিঠি।
তার প্রধান কবিতাগুলো হলোঃ রাখী, কালের শাসন, কামনা পঞ্চবিংশতি, নূতনা রাধা, লিপি, জার্নাল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন - মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৩৯৬.
'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটিতে কোন ঘটনার পেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
  2. ভাষা আন্দোলনের
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের
  4. জমিদারি শোষণের
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।

- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।

- মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।
রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব (৬০)।

উৎস: 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯৭.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) বিনয় ঘোষ
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) রাধারমণ মিত্র
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৬) (প্রবন্ধ) - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই (প্রবন্ধ) - শওকত ওসমান
- সংস্কৃতির রুপান্তর (প্রবন্ধ) - গোপাল হালদার
- সংস্কৃতির কথা (প্রবন্ধ) - মোতাহার হোসেন
- সংস্কৃতির সংকট (প্রবন্ধ) - বদরুদ্দিন ওমর
৫,৩৯৮.
কুন্তলীন পুরস্কার প্রাপ্ত শরৎচন্দ্রের গল্প কোনটি?
  1. ক) মেজদিদি
  2. খ) বড়দিদি
  3. গ) মহেশ
  4. ঘ) মন্দির
ব্যাখ্যা
[লাইভ পরীক্ষায় প্রশ্নে ভুলক্রমে গল্পের জায়গায় উপন্যাস দেয়া ছিল যা সংশোধন করা হয়েছে।]

‘মন্দির' শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত রচনা ও গল্প।
- লেখক এর জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন।
- তার সার্থক ছোটগল্প - মহেশ।
- এছাড়া বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম স্বার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।

- লেখকের অন্যান্য গল্প:

»কাশীনাথ
»রামের সুমতি
»মেজদিদি
»মামলার ফল
»সতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯৯.
‘ভ্রমি দেশে দেশে’ ভ্রমণ কাহিনিটি কার রচনা?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।

⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ ।
৫,৪০০.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন কে?
  1. আবুল হুসেন
  2. মোহাম্মদ আবদুল হাই
  3. আবু ইসহাক
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল হুসেন: 
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
• কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।