বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৫২ / ৭৭ · ৫,১০১৫,২০০ / ৭,৬৪৬

৫,১০১.
কোনটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত স্মৃতি চারণমূলক রচনা?
  1. ক) কণ্ঠমালা
  2. খ) পালামৌ
  3. গ) মাধবীলতা
  4. ঘ) রামেশ্বরের অদৃষ্ট
ব্যাখ্যা
- ‘পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটি বিখ্যাত স্মৃতি চারণমূলক রচনা। 
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য হলো 'বন্যেরা বনে সুন্দর,শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'
- লেখক চাকরিসূত্রে বিহারে থাকা অবস্থায় এই ভ্রমন-অভিজ্ঞতা নিয়ে এটি রচনা করেন।
- কথিত হয় যে,  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পাঠ করে ভ্রমণে উৎসাহিত হয়েছিলেন।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ১৮৩৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- প্রথমে তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ভ্রমর (১৮৭৪) সম্পাদনা করেন।
- সঞ্জীবচন্দ্র Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities (১৮৬৪) গ্রন্থে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক ধারাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
- ১৮৮৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য রচনাসমূহ:
 » কণ্ঠমালা
 » মাধবীলতা
 » রামেশ্বরের অদৃষ্ট
 » দামিনী
 » সৎকার
 » বাল্যবিবাহ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১০২.
'উজানে মৃত্যু' নাটকের রচয়িতা -
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'উজানে মৃত্যু' নাটকের রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১০৩.
'আগুনপাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
আগুনপাখি:
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- এর মধ্য দিয়েই লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসটিতে প্রথাগত চরিত্র-নাম নেই। তবে সব চরিত্রই বোঝা যায়। এগুলো ত্রিমাত্রিক এবং দ্বন্দ্বসংকুল।
- মেঝ বউ  চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
৫,১০৪.
আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  2. দেশে বিদেশে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. পশ্চিমের যাত্রী
ব্যাখ্যা

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

------------------------
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলী কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছিলেন। তাঁর আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

অন্যদিকে,
• পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি- 'যে দেশে মানুষ বড়'। তিনি ভ্রমণ করেছিলেন রুশদেশে। লিখেছেন বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা।

• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - শহীদুল্লাহ কায়সার।  বইটি ককেশাস পাদদেশ থেকে শুরু করে পামীর মালভূমি, হিন্দুকুশ ও হিমালয়ের মধ্য দিয়ে হরপ্পা-মহেনজোদাড়োর পূর্বসূরিদের সাথে মিলিত হওয়া এক ঐতিহাসিক পথকে তুলে ধরে, যা সভ্যতার দীর্ঘ যাত্রাপথের সাক্ষী। 

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি 'পশ্চিমের যাত্রী'। এটি ইউরোপের ভ্রমণকাহিনি।

------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১০৫.
নিম্নের কোন সাহিত্যিক ‘পঞ্চকবি’র অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শওকত ওসমান 
  3. নজরুল ইসলাম
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান ‘পঞ্চকবি’র অন্তর্ভুক্ত নন।

পঞ্চকবি: 
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন ও রজনীকান্ত সেন— এ পাঁচজন কবি ও গীতিকারকে ‘পঞ্চকবি’ বলা হয়।
- শওকত ওসমান এদের অন্তর্ভুক্ত নয়। 
- এদের প্রত্যেকেই দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও আধ্যাত্মিক ভাবনায় অনুপ্রাণিত সঙ্গীত রচনা করেছেন।
- রবীন্দ্রনাথের গানে রয়েছে দার্শনিকতা;
- নজরুলের গানে পাওয়া যায় বিদ্রোহের ছোঁয়া;
- দ্বিজেন্দ্রলালের গানে বিরাজমান ঐতিহাসিক চেতনা;
- অতুলপ্রসাদের গানে রয়েছে ভক্তি ও প্রেমের অপূর্ব সংমিশ্রণ ;
- আর রজনীকান্তের গানে ছিল গভীর আধ্যাত্মিকতা ও আত্মসমর্পণবোধ।
- এদের সম্মিলিত অবদানই বাংলা কাব্যসঙ্গীতকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। 
------------------------------------
উল্লেখ্য,
- শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,১০৬.
কোনটি আনোয়ার পাশার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত 
  2. চিলে কোঠার সেপাই
  3. আরেক ফাল্গুন 
  4. নিশুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা

রাইফেল রোটি আওরাত হচ্ছে আনোয়ার পাশার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

রাইফেল রোটি আওরাত
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- অন্যান্য চরিত্র: ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত।
- ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা
- তিনি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম: ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

সাহিত্যকর্ম:

উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী,
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)। 

কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী,
- অন্যান্য কবিতা। 

অন্যদিকে, 
-  উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'চিলে কোঠার সেপাই' (১৯৮৭)।
- জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন এবং এর পরবর্তীকালের ঢাকা শহরের পরিস্থিতি।

উৎস:
1) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
2) বাংলাপিডিয়া। 

৫,১০৭.
'সাবিত্রী উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতার নাম -
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. সেলিনা হোসেন
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
‘সাবিত্রী উপাখ্যান’ উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'সাবিত্রী উপাখ্যান' প্রকাশ পায় তাঁর উপন্যাস 'আগুন পাখি'র (২০০৬) সাত বছর পর ২০১৩ সালে।
- বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাজমনস্ক উপন্যাস এটি। উপন্যাসটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন করে লেখা।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১০৮.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একজন বাঙালি কবি ও ছড়াকার। তার কবিতায় ছন্দের কারুকাজ, শব্দ ও ভাষা যথোপযুক্ত ব্যবহারের কৃতিত্বের জন্য তাকে ছন্দের যাদুকর নামে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, হোমশিখা, ফুলের ফসল, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, মনিমঞ্জুষা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌ অনুবাদ সম্পাদনা- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল।
৫,১০৯.
কোনটি কাব্যনাট্য?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. বীরাঙ্গনা
  3. বিসর্জন
  4. নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক।
- 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।
- নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' একটি সার্থক কাব্যনাট্য।
--------------
• কৃষ্ণকুমারী: 

- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক রচনা করেন। 

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস্স' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠিত নয়।

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক — নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,১১০.
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন কোন উপাধি পান?
  1. পণ্ডিতরাজ
  2. রায়বাহাদুর
  3. কবিরাজ
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার ছিলেন।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১১১.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ সালে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ।
- 'বাংলা সাহিত্যের কথা' প্রবন্ধের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত প্রবন্ধের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা সুকুমার সেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,১১২.
হাসান আজিজুল হক রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বৃত্তায়ন
  2. আগুনপাখি
  3. শিউলি
  4. শামুক
ব্যাখ্যা

• ‘শামুক’ উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হক রচিত প্রথম উপন্যাস ‘শামুক’ রচনা করেন ১৯৫৭ সালে, যখন তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর।

এই উপন্যাস লেখার একটি নেপথ্য কাহিনি আছে, যা লেখন গ্রন্থের ভূমিকায় বিবৃত করেছেন-
১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বরে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পরে ‘উল্টোরথ’ পত্রিকার তরফ থেকে ‘মানিক স্মৃতি উপন্যাস’ প্রতিযোগিতার জন্যে নবীন লেখকদের কাছে উপন্যাস জমা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। হাসান আজিজুল হক তখন সেই ১৯৫৭ সালে একটি উপন্যাস লিখে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেন, যার নাম ‘শামুক’। দপ্তরে জমা পড়া ৩০০ পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথম দফায় ১০০টি রচনা বাছাই করা হয়। মনে রাখতে হবে, বিচারকমণ্ডলীতে তখনকার বিখ্যাত সব কথাসাহিত্যিকেরা ছিলেন। যা হোক ওই ১০০টা উপন্যাস থেকে প্রথম দফায় ২৮টা এবং পরে ৭টা বাছাই করা হয়। ওই সাতটা উপন্যাসের মধ্যে হাসান আজিজুল হকের লেখাটি ছিল।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি তখন তিনি আজিজুল হক। ওই নামে আরেকজন লেখক ছিলেন বলে ষাট দশকের গোড়ায় নামের আগে 'হাসান' শব্দটি বসান ।
 
যথাসময়ে 'মানিক স্মৃতি পুরস্কার'-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রথম হন মতি নন্দী। তাঁর উপন্যাসের নাম ‘নক্ষত্রের রাত’, দ্বিতীয় হন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উপন্যাসের নাম ছিল ‘সমুদ্র মানুষ’। তৃতীয় হন পূর্ণেন্দু পত্রী তাঁর ‘তিন নম্বর ছাগলছানার গল্প’-র জন্যে। চতুর্থ হয়েছিলেন হাসান আজিজুল হক। কিন্তু পুরস্কার না পেলে যা হয়, তাই হল;  অর্থাৎ তাঁর নাম কেউ জানল না, অচিরেই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেলেন তিনি।

১৯৬০ সালে সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘শকুন’ গল্পের মধ্য দিয়ে হাসান আজিজুল হকের লেখক হিসেবে নতুন করে অভিযাত্রা শুরু হলে তিনি রাজশাহীর পূর্বমেঘ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতে থাকেন। ওই পত্রিকার সম্পাদকদ্বয় মুস্তাফা নূর উল ইসলাম ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর প্রবল চাপের মুখে ওই ‘শামুক’ উপন্যাসটিকে পুনর্লিখন করে পত্রিকা দপ্তরে জমা দেন যা ওই পত্রিকার পরপর তিনটি সংখ্যায় ছাপা হয়।

এরপরেই ওটা ক্রমশ বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতে থাকে। অনেকদিন পরে লেখকের ঘোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও উপন্যাস আকারে 'শামুক' গ্রন্থাকারে ২০১৫ সালে প্রকাশিক হয়। উপন্যাস লেখার আটান্ন বছর পরে সেটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যটি অভিনব এবং কৌতূহলোদ্দীপক। বইয়ের ভূমিকায় অকপটে লেখক ওই লেখাটির জন্মকাহিনি বিবৃত করেন।

-------------------
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাসসূমুহ হলো:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘শামুক’ উপন্যাস।

৫,১১৩.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র’ সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন- “একুশে ফেব্রুয়ারি” (মার্চ, ১৯৫৩) সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- তাঁর সম্পাদনায় বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র” প্রকাশিত (১৯৮২-৮৩) হয়।      
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর। 

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,  
- মূল্যবোধের জন্য,  
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,  
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১১৪.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদের শিশুতোষ গ্রন্থ নয়?
  1. ক) পাখির বাসা
  2. খ) ছড়ার আসর
  3. গ) কাফেলা
  4. ঘ) ফুলের জলসা
ব্যাখ্যা
ফরুক আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিত। তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো- পাখির বাসা, হরফের ছড়া, চাঁদের আসর, ছড়ার আসর, ফুলের জলসা ইত্যাদি। আর কাফেলা তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,১১৫.
'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১১৬.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের রচনার বিশেষত্ব কী ছিল?
  1. প্রেম ও বিপ্লব
  2. প্রকৃতি প্রেম
  3. ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
  4. ধর্মীয়নীতি
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
-  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ব্যবহৃত ছদ্মনাম ছিল 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। 

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১১৭.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১১৮.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) কাজী ইব্রাহীম খাঁ
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রজনীর চাঁদ, কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর, ডানপিটে শওকত, বাংলাদেশ কথা কয়, পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,১১৯.
'আনন্দের মৃত্যু' সৈয়দ শামসুল হক রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
আনন্দের মৃত্যু:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ 'আনন্দের মৃত্যু'।
- এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাদা পাহাড়ের মতো, তৃষ্ণা, কবি, নাম, আনন্দের মৃত্যু, বন্ধুর সঙ্গে সন্ধ্যে ও শেষ বাস, পরাজয়ের পর, কালামাঝির চড়নদার, ঘরে ফেরা, যদি জানতে চান, শিকার এই গ্রন্থভুক্ত গল্প।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১২০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. সংস্কৃতির সংকট
  3. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  4. প্রবন্ধ সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু'।
-------------- 
⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।
----------------------- 
অন্য অপশনে,
• সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
• সংস্কৃতির সংকট বদরুদ্দিন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
• প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,১২১.
'হুতোম প্যাঁচার নক্সা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. রম্যরচনা
  2. উপন্যাস
  3. চিত্রকর্ম
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'য় (১৮৬২) অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে সে যুগের সমাজজীবনের ক্ষত চিহ্নের যথার্থ ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।
- 'আলালের ঘরের দুলালে'র চার বছর পরে প্রকাশিত এ গ্রন্থে বাচনভঙ্গি, রচনারীতি, আঙ্গিক প্রভৃতি দিক থেকে লেখক নতুনত্ব সৃষ্টি করেছেন।
- নকশা উপন্যাস নয়, তা সামাজিক সমস্যামূলক ব্যক্তিগত রচনা।
- তারপরও 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' উপন্যাসের মতোই আশ্চর্যরকম সুখপাঠ্য।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু।

------------------------
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক।
- তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত।
- তিনি ১৮৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১২২.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) রূপসী বাংলা
  2. খ) বনলতা সেন
  3. গ) ধূসর পান্ডুলিপি
  4. ঘ) ঝরা পালক
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহঃ
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,১২৩.
'জীবন বিনিময়' কবিতাটির লেখক কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
  3. কাজী আবদুল ওদুদ 
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• 'জীবন বিনিময়' কবিতাটির লেখক  'গোলাম মোস্তফা'।
- কবিতাটি 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

জীবন বিনিময়- কবিতা,
– গোলাম মোস্তফা।

বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে, নিদ নাহি চোখে তাঁর-
পুত্র তাঁহার হুনায়ন বুঝি বাঁচে না এবার আর!
চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরন-অন্ধকার।

রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম কবিরাজ দরবেশ
এসেছে সবাই, দিতেছে বসিয়া ব্যবস্থা সবিশেষ,
সেবাযত্নের বিধিবিধানের ত্রুটি নাহি এক লেশ।
------------------------ 
• গোলাম মোস্তফা: 
 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

তাঁর সম্মাননা ও উপাধি:
‘কাব্য সুধাকর’ — যশোর সংঘ কর্তৃক (১৯৫২)।
‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ — পাকিস্তান সরকার কর্তৃক (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; জীবন বিনিময়- কবিতা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,১২৪.
'নেমেসিস' কোন জাতীয় রচনা?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. গীতি কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘নেমেসিস’ নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

-----------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১২৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির নাম কী?
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. রক্তের অক্ষর
  3. বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি
  4. ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ‘১৯৭১’ উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জীবনের শেষবেলায় কলম ধরেন বাংলা ভাষার অন্যতম কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- আবেগ ও বাস্তবতার শব্দ মিশেলে তিনি উপস্থাপন করেন ‘১৯৭১’ উপন্যাসটি।
- তারাশঙ্কর তাঁর ‘১৯৭১’ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন একাত্তরের গ্রামীণ জীবনের চিত্র। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে এই উপন্যাসে হয়ে উঠেছে একাত্তরে হাজার নারীর প্রতীক। সেই সঙ্গে সহচরিত্র— রহিম, মি. সেন ও ছায়ার মাধ্যমে সময়ের মুখ খুলে দিয়েছে এ কথাশিল্পী। যার পরতে পরতে রয়েছে হৃদয়ছোঁয়া মা-মাটি-মানুষের ভালোবাসা।

- '১৯৭১' উপন্যাসের দুটি অংশ- ‘সুতপার তপস্যা’ ও  ‘একটি কালো মেয়ের কথা’।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পূর্বে যখন ‘সুতপার তপস্যা’ এবং ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ বই দুটি প্রকাশের আলোচনা হচ্ছিল তখন তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থার মধ্যেই বলেন, ‘দুটো বই এক হয়ে বেরোবে, তার নাম হবে- ১৯৭১’।

অন্যদিকে,
• 'চৈতালী ঘূর্ণি' (১৯৩২) উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
• ‘রক্তের অক্ষর’ রিজিয়া রহমান রচিত উপন্যাস।
• রাবেয়া খাতুনের উপস্থাপনায় এক বিশ্বস্ত দলিল উপন্যাস ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’।
- ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’ নামের ন্যায় এমন প্রেক্ষাপটেই এ উপন্যাসের পটভূমি বিস্তারিত হয়েছে। ’৪৭-পূর্ব ঢাকার সমাজ জীবন, রাজনীতি, দাঙ্গা এসেছে এ উপন্যাসে।

উৎস: ‘১৯৭১’ উপন্যাস তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১২৬.
কবি বন্দে আলী মিয়া কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পাবনা
  2. যশোর
  3. রংপুর
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ দুটি:
- চাচা-কাহিনী, 
- টুনি মেম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১২৭.
'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা- মুনীর চৌধুরী । 

দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
যথা:
- দণ্ড
- দণ্ডধর
- দন্ডকারণ্য

মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি (১৯৬৬),
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক, নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। 
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): রূপকাশ্রয়ী নাটক।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)।
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১২৮.
'বোবা কাহিনী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. জসীম উদ্‌দীন 
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘বোবা কাহিনী’ - জসীম উদ্‌দীন  রচিত উপন্যাস।

বোবা কাহিনী:
- 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই; নিছক সরল ও সাদামাটা গল্প আছে।

জসীম উদ্দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯) একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

জসীম উদ্দীনের রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ (E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন),
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে,
- রাখালী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,১২৯.
শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস  রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন। 
- মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯),  মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৩০.
“বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন , বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে”- এই উদ্ধৃতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
“বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন , বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে- এই উদ্ধৃতাংশটুকু সুকুমার রায়ের ''ষোল আনাই মিছে'' কবিতা থেকে নেয়া।

লোকে বলে, কাঁঠাল সে পাকে নাকি কিলিয়ে?
বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে-এই উদ্ধৃতাংশটুকু সুকুমার রায়ের ''পাকাপাকি'' কবিতা থেকে নেয়া।

এছাড়াও, তিনি শিশুদের জন্য হ- য- ব- র- ল এবং আবোল-তাবোল গ্রন্থগুলো রচনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) ও বাংলা কবিতা।

৫,১৩১.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘নিষিদ্ধ লোবান’ কী ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

“নিষিদ্ধ লোবান" সৈয়দ শামসুল হক এর লিখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------------------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সৈয়দ শামসুল হকের প্রধান রচনা:
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলে যা।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫,১৩২.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মূলত কী ছিলেন? 
  1. কবি ও সাংবাদিক 
  2. ঔপন্যাসিক ও চিত্রকার 
  3. নাট্যকার ও চিন্তাবিদ 
  4. ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক 
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- তিনি একজন খ্যাতনামা কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘ভ্রমণকারী বন্ধু’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি যুগসন্ধির কবি (অর্থাৎ মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সংযোগসেতু) হিসেবে পরিচিত।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা সংবাদ প্রভাকর সম্পাদনা করেন।
- তিনি শুধু সংবাদ প্রভাকর নয়, বরং সংবাদ রত্নাবলী, সংবাদ সাধুরঞ্জন নামের পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,১৩৩.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন-
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা

• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নামঃ
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
• বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
• মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
• রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
• কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,১৩৪.
'আমার সাক্ষ্য' আত্মজীবনী গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আলী আহসান এর আত্মজীবনী - আমার সাক্ষ্য।

---------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,১৩৫.
'আমাকে কি মাল্য দেবে দাও' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. মোঃ মনিরুজ্জামান
  3. সেলিনা হোসেন
  4. ফজল-এ-খোদা
ব্যাখ্যা

⇒ “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।

• নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

কবিতাটির সংক্ষিপ্তরূপ-

আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও
- নির্মলেন্দু গুণ
তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও।
এই নাও আমার যৌতুক, এক-বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।
ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব,
শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে।
আমি জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব,
তোমার পায়ের কাছে নামাব পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ কবিতার সমাহার।

৫,১৩৬.
'মগের মুলুক' কাব্যটি কে লিখেছেন?
  1. ক) গোবিন্দ্রচন্দ্র দাস
  2. খ) নবীন চন্দ্র দাস
  3. গ) মনোজ বসু
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'মগের মুলুক' কাব্যটি গোবিন্দ্রচন্দ্র দাস লিখেছেন। 

• গোবিন্দচন্দ্র দাস হচ্ছেন স্বভাবকবি।
- ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- প্রসূন 
- প্রেম ও ফুল 
- মগের মুলুক 
- কস্তুরী 
- চন্দন 
- শোক ও সান্ত্বনা 
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৩৭.
শহীদুল্লা কায়সারের মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয় কোনটিকে?
  1. সমুদ্র ও তৃষ্ণা
  2. দিগন্তে ফুলের আগুন
  3. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  4. সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেয়া। এর অর্থ বোঝায়, যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে, পালিয়ে আসে না। শহীদুল্লা কায়সার এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর উপন্যাস 'সংশপ্তক'কে (১৯৬৫) ধারণ করেছেন। 'সংশপ্তক'কে তাই মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।

- হিন্দু- মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের অন্যতম বর্ণিত বিষয়। এখানে ঢাকা ও কলকাতার নাগরিক পরিবেশের সঙ্গে বাকুলিয়া ও তালতলি গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশের প্রতীকে সমগ্র বাংলাদেশের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে।

- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাবেয়া খাতুন (রাবু),
- জাহেদ,
- সেকেন্দার,
- মালু,
- হুরমতি,
- লেকু,
- রমজান,
- রামদয়াল ইত্যাদি।

----------------
• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৩৮.
'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শাহেদ আলী
  3. আল মাহমুদ
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
•'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা আল মাহমুদ। 

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

- কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
-আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থ আল মাহমুদ।
৫,১৩৯.
মুনীর চৌধুরী অনূদিত উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘The Taming of The Shrew’-এর অনুবাদ কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) কেউ কিছু বলতে পারে না
  3. গ) রূপার কৌটা
  4. ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটকের পাশাপাশি অনূদিত নাটকও রয়েছে।
উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'The Taming of The Shrew' অনুবাদ করেন, 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে।
রূপার কৌটা, কেউ কিছু বলতে পারে না তাঁর অনুবাদ নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,১৪০.
ইসমাইল হোসেন সিরাজী কোন কাব্যগ্রন্থ রচনার কারণে কারাবরণ করেছিলেন?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. অনল-প্রবাহ
  3. উচ্ছ্বাস
  4. প্রেমাঞ্জলি
ব্যাখ্যা

- ইসমাইল হোসেন সিরাজী কারাবরণ করেছিলেন 'অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের কারণে।
-------------------------------------------
• ‘অনল প্রবাহ’:
- অনল প্রবাহ হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি গীতিকাব্য, যা তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- সাহিত্য ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘অনল-প্রবাহ’ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- এ কারণে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের কবিদের মধ্যে একজন হিসেবে কারাবরণ করেন।
-------------------------------------
• ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০–১৯৩১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি লেখক, কবি, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- তাঁর জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- জন্মস্থানের সঙ্গে পরিচয় বজায় রাখতেই তিনি নিজের নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সমাজে নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি পরিচিত।
- তাকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়।
- সাহিত্যকর্মের দিক থেকেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অনল-প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী ও
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫,১৪১.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. দুই সৈনিক
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়- ‘ক্রীতদাসের হাসি’।

• ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাস:

- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), দুই সৈনিক (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭২) এবং জলাঙ্গী।

------------------------
• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৪২.
'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না' বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না' বিখ্যাত উক্তিটি সৈয়দ মুজতবা আলীর। তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী- দেশে বিদেশে, জলেডাঙ্গা। পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল এগুলো তাঁর রম্যরচনা। চাচা কাহিনী ও টুনি মেম তাঁর ছোটগল্প। অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার, তুলনাহীন তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,১৪৩.
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সানাউল হক। 

সানাউল হক ছিলেন একজন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক। 
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে  
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা
- সূর্য অন্যতর
- বিচূর্ণ আর্শিতে
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৪৪.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত- 'কাব্যগ্রন্থ'।

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি। 

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,১৪৫.
‘মানচিত্র’ কাব্যগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. নির্মেলেন্দু গুণ
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

উল্লেখ্য,
'মানচিত্র' - নাটকটির রচয়িতা- আনিস চৌধুরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৪৬.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'কাবিলের বোন' এর রচয়িতা কে? 
  1. আহমদ ছফা
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন'- কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল-মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্যখ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে’ দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম।
৫,১৪৭.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. তুমি সেই তরবারী
  2. পরানের গহীন ভিতর
  3. আলোর জন্য
  4. নীল দংশন 
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  

তাঁর রচিত কবিতা: 
- একদা এক রাজ্যে 
- বৈশাখের রচিত পংক্তিমালা 
- পরানের গহীন ভিতর 
- বেজান শহরের জন্য কোরাস 
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে 
- আমি জন্ম গ্রহণ করিনি 

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকমলের টানে 

তাঁর রচিত গল্প: 
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান 
- জলেশ্বরী গল্পগুলো

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- এক মহিলার ছবি 
- অনুপম দিন 
- সীমানা ছাড়িয়ে 
- খেলারাম খেলে যা 
- নীল দংশন 
- স্তব্ধতার অনুবাদ 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ  
- তুমি সেই তরবারী 
- অন্য এক আলিখান 
- এক মুঠো জন্মভূমি 
- আলোর জন্য 
- রাজার সুন্দরী 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ]
৫,১৪৮.
আধুনিক যুগের সূচনাকালে কোন লেখকগণ সক্রিয় ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রামরাম বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলাম
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী ও বেগম রোকেয়া
  4. আল মাহমুদ ও জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা লেখক:
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে, যা মূলত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার সময়কাল।
এই সময়ের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিকদের মধ্যে মুন্সি রামরাম বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, প্যারীচাঁদ মিত্র প্রমুখের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

- রামরাম বসু লিখেছিলেন ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ — বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক গদ্যরচনা।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের সংস্কারক ও বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।

অন্য অপশনগুলো —
• রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল: আধুনিক যুগের পরবর্তী পর্যায়ের কবি।
• সৈয়দ মুজতবা আলী ও বেগম রোকেয়া: বিংশ শতাব্দীর লেখক।
• আল মাহমুদ ও জীবনানন্দ দাশ: উত্তর-আধুনিক বা আধুনিক কবি হলেও যুগের সূচনাকালের নন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৪৯.
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) নীলকণ্ঠ পাখির খোজে
  2. খ) মানুষের ঘরবাড়ি
  3. গ) ঈশ্বরের বাগান
  4. ঘ) অলৌকিক জলযান
  5. ঙ) ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় খ্যাতিমান ভারতীয় লেখক। তার রচিত উপন্যাসবলীর মধ্যে নীলকণ্ঠ পাখির খোজে, ঈশ্বরের বাগান, মানুষের ঘরবাড়ি, অলৌকিক জলযান অন্যতম। তিনি সম্প্রতি মারা যান। ওয়ারিশ উপন্যাসটি শওকত আলী রচিত। (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)
৫,১৫০.
"বিন্দু বিসর্গ" গল্পগ্রন্থ রচনা করেন কে? 
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

"বিন্দু বিসর্গ" গল্পগ্রন্থ:
- এটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'বিন্দু বিসর্গ' নামে নীলিমা ইব্রাহিমের আত্মজীবনী রয়েছে।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,১৫১.
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ক) বর্ষ-আবাহন
  2. খ) ঝরাপালক
  3. গ) রূপসীবাংলা
  4. ঘ) আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
জীবনানন্দ দাশের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই । ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' প্রকাশিত হয়। কবিতাটি ১৯১৯ সালে 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৫,১৫২.
নিচের কোনটি একটি প্রহসন?
  1. ক) হুতুম পেঁচার নকশা
  2. খ) রাবণবধ
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

'নূরজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটক,
'সধবার একাদশী' দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন,
'রাবণবধ' গিরিশচন্দ্র ঘোষের পৌরাণিক নাটক
এবং 'ডাকঘর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,১৫৩.
স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তােমার / ভয় কি বন্ধু—পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. ক) স্মৃতিস্তম্ভ
  2. খ) কোন এক মা'কে
  3. গ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  4. ঘ) লোক লোকান্তর
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন আল আজাদ :
পেশায় মূলত অধ্যাপক। তবে মূলত পরিচিতি কবি হিসেবে। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০); গল্পগ্রন্থ।

কাব্যগ্রন্থ :
- মানচিত্র (১৯৬১),
- ভােরের নদীর মােহনায় জাগরণ (১৯৬২)।

স্মৃতিস্তম্ভ (স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তােমার / ভয় কি বন্ধু-) কবিতাটি লিখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। কবিতাটি মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- মৃগনাভি (১৯৫৩),
- অন্ধকার সিড়ি (১৯৫৬),
- যখন সৈকত (১৯৬৭),
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার (১৯৭৫),
- জীবনজমিন (১৯৮৮)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,১৫৪.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. রত্নাকুমারী
ব্যাখ্যা
• "আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর (১৮১৪-১৮৮৩) ১৮৫৭ সালে এটি রচনা করেন।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্তু। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। 'ঠকচাচা' এর অন্যতম  একটি প্রধান চরিত্র।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিতি লাভ করে।

অন্যদিকে, 
• প্যারীচাঁদ মিত্রের দ্বিতীয় গ্রন্থ 'মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়' ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির মধ্যে তৎকালীন গোঁড়া শ্রেণির ব্যক্তিদের চিত্রাঙ্কন করা
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত ও প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।

• কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের রোমান্সমূলক উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৫৫.
আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয় -
  1. ক) ভয়ংকর
  2. খ) ভীরু
  3. গ) নির্ভীক
  4. ঘ) দুর্বার
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
এই কবিতার দুটি লাইন-
''এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,''

তাই বলা যায় আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয় 'ভীরু'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর

৫,১৫৬.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনা নয়?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) অনেক সূর্যের আশা
  3. গ) কাঁদো নদী কাঁদো
  4. ঘ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১): আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার৷
প্রধান সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

নাটক:
- বহিপীর
- সুড়ঙ্গ
- তরঙ্গভঙ্গ
- উজানে মৃত্যু

পুরস্কার:

- বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬১, লালসালু' উপন্যাসের জন্য
একুশে পদক (মরণােত্তর), ১৯৮৩
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০১ (শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার, ‘লালসালু' উপন্যাসের
চলচ্চিত্ররূপের জন্য)

সৈয়দ আলী আহসান, সেলিম আল দীন এবং সেলিনা হোসেন যথাক্রমে ১৯৮২, ২০০৭ এবং ২০০৯ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

- অনেক সূর্যের আশা উপন্যাসের রচয়িতা সর্দার জয়েনউদ্দিন।

৫,১৫৭.
সাঈদ আহমদ রচিত 'প্রতিদিন একদিন' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- 'প্রতিদিন একদিন' সাঈদ আহমদ রচিত একটি নাটক। 

সাঈদ আহমদ
- শিক্ষাসনদ অনুসারে তিনি ১৯৩১ সালের ১লা জানুয়ারি পুরান ঢাকার ইসলামপুরের আশেক লেনে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে পোস্টগ্রাজুয়েশন ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। 
- তিনি বাংলাদেশের নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক। 
- তিনি ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত নাটক:
- কালবেলা 
- মাইলপোস্ট 
- তৃষ্ণায়
- প্রতিদিন একদিন
- শেষ নবাব ইত্যাদি। 
- তাঁর রচিত শেষ নাটক 'শেষ নবাব' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনলোকে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৫৮.
'ধন ধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' এই গানটি কোন নাটকে?
  1. ক) সাজাহান
  2. খ) নূরজাহান
  3. গ) প্রতাপ সিংহ
  4. ঘ) বঙ্গনারী
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
- তাঁর সাহিত্যে দেশপ্রেমের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক।
- এটি সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লেখা প্রথম নাটক‌।
• তাঁর বিখ্যাত গানঃ
ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক - সকল দেশের সেরা;
ও সে, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানি সে যে - আমার জন্মভূমি।
এই নাটকে ব্যবহৃত হয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- নূরজাহান,
- তারাবাঈ,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়,
- দুর্গাদাস,
- রানা প্রতাপসিংহ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,১৫৯.
'পঞ্চপাণ্ডব' কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত 'পঞ্চপাণ্ডব' কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন।

 পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৬০.
আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' কোন কবি অনুবাদ করেন?
  1. ক) দুশান জাজবিভেল
  2. খ) ইমরে কারতেজ
  3. গ) এলেন গিন্সবার্গ
  4. ঘ) ইমানুয়েল জাসরিন
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' দুশান জাজবিভেল অনুবাদ করেন।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ
- জাল

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৬১.
'কাঁদো, প্রিয় দেশ' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো, প্রিয় দেশ' প্রবন্ধগ্রন্থ:
• শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কাঁদো, প্রিয় দেশ'।
• 'কাঁদো, প্রিয় দেশ'-এর বারোটি লেখাই অশ্রুমাখা।
• এ অশ্রু শুধু ব্যক্তি শেখ মুজিবের জন্যে নয় বরং বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সংস্কৃতির জন্যেও বটে।
• শেখ মুজিবকে অন্নদাশঙ্কর রায় বাঙালিত্বের শুদ্ধ প্রতীক হিসেবে কল্পনা করতেন। তাই তাঁর অকস্মাৎ প্রস্থান তার কাছে সমস্ত বাঙালির পতন হিসেবে প্রতিভাত।

• পদ্মা-মেঘনা-গৌরী-যমুনা যতদিন বহমান থাকবে ততদিনই শেখ মুজিবুর রহমানের কীর্তি সমুজ্জল থাকবে বলে যে কীর্তিমান বাঙালির ছড়ায় ঐতিহাসিক উচ্চারণ ধ্বনিত হয়েছিল সেই অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস নিধনযজ্ঞ দেখে চুপ থাকতে পারেননি। সবাই যখন মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিল তখন অন্নদাশঙ্কর অভীক-কণ্ঠে এই অন্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন। শুধু তা-ই নয় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে 'বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়' বলে বিদেশি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চুপতাকেও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

==============
⇒ অন্নদাশঙ্কর রায়:  

• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
- কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৬২.
আবুল ফজলের উপন্যাস নয়-
  1. ক) চৌচির
  2. খ) প্রদীপ ও পতঙ্গ
  3. গ) রেখাচিত্র
  4. ঘ) রাঙ্গা প্রভাত
ব্যাখ্যা
রেখাচিত্র আবুল ফজল দিনলিপি। চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং রাঙ্গা প্রভাত তাঁর রচিত উপন্যাস। তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন। মাটির পৃথিবী, মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৬৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যটি পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. সাধের আসন
  2. সারদামঙ্গল
  3. সঙ্গীত শতক
  4. বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• 'সারদামঙ্গল' কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন 'ভোরের পাখি' বলে।

• সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।  এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

-------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৬৪.
‘মোটর যোগে রাঁচী সফর’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. আহমদ শরীফ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
• 'মোটর যোগে রাঁচী সফর' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলী।

--------------------------
• এস ওয়াজেদ আলী:
- এস ওয়াজেদ আলী একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলীর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,১৬৫.
কোন সাহিত্যিকের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিমূর্ল কমিটি গঠিত হয়?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) কাজী মোতাহের হোসেন
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বে 'একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিমূর্ল কমিটি' গঠিত হয়।
- ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি এই কমিটি গঠন করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি।
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
৫,১৬৬.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে এলাহাবাদ হিন্দু সাহিত্য সম্মেলন কোন উপাধিতে ভূষিত করে?
  1. ভাষাচার্য
  2. সাহিত্য বাচস্পতি
  3. পদ্মবিভূষণ
  4. জ্ঞানতাপস
ব্যাখ্যা
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ‘অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)’।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ভাষাতত্ত্ব এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তাঁকে এলাহাবাদ হিন্দু সাহিত্য সম্মেলন ‘সাহিত্য বাচস্পতি’ (১৯৪৮) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৬৩) উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে,
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৬৭.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. পাগলা দাশু
  2. ডানপিটে শওকত
  3. গো হাকিম
  4. আবোল তাবোল
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

অন্যদিকে,
• সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য গুলো হলো- আবোলতাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, ব্যাঙের সমুদ্র দেখা, খাইখাই, ইত্যাদি।
• 'গো হাকিম' আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৬৮.
‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে রূপক-প্রতীকের মাধ্যমে কোন শাসকের সমালোচনা করা হয়েছে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. বল্লাল সেন
  4. বাদশাহ হারুন-অর-রশীদ
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------
• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,১৬৯.
হাসান আজিজুল হক মূলত কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. ক) সাংবাদিক
  2. খ) ঔপন্যাসিক
  3. গ) কথাসাহিত্যিক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্প: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৭০.
‘শকুন্তলা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ‘শকুন্তলা’ গ্রন্থটির রচয়িতা - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,১৭১.
সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে রাজা রামমোহন রায়ের রচিত গ্রন্থ-
  1. বেদান্তগ্রন্থ
  2. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
  3. গোস্বামীর সহিত বিচার
  4. খ + গ
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
• বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
• ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
• রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
• রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
• তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

⇒ সতীদাহ প্রথার প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থ: 
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
২. গোস্বামীর সহিত বিচার।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
 
৫,১৭২.
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ-
  1. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  2. একদা এক রাজ্যে
  3. পরানের গহীন ভিতর
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ৷
তার অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- পাতালে হাসপাতালে
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন
ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,১৭৩.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ওঙ্কার
  2. খ) ক্ষুধা ও আশা
  3. গ) চৌচির
  4. ঘ) কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন আল আজাদ : মূলত কবি হিসেবে পরিচিত।

উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- কর্ণফুলী (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,১৭৪.
কোনটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) কাঞ্চনমালা
  2. খ) প্রাচীন বাংলার গৌরব
  3. গ) বেণের মেয়ে
  4. ঘ) বিবাহ উৎসব
ব্যাখ্যা

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক।
- 'কাঞ্চনমালা' ও 'বেণের মেয়ে' তাঁর রচিত উপন্যাস।
- তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা, প্রাচীন বাংলার গৌরব, মেঘদূত ব্যাখ্যা, ভারত মহিলা, বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,১৭৫.
'তোতা ইতিহাস' কার রচনা?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. গ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  4. ঘ) গোলকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা
⇒ চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৭৬.
'ফেরারী কবির খোঁজে' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কোন কাব্যভুক্ত কবিতা?
  1. কখনো রং কখনো সুর
  2. কমলের চোখ
  3. আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. সহিষ্ণু প্রতীক্ষা
ব্যাখ্যা
'ফেরারী কবির খোঁজে' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যভুক্ত কবিতা।
- গ্রন্থটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: আত্মচরিত, কারণ আমার ভালবাসা, কৃষ্ণচূড়া লোহার খাঁচা, কয়েকটা শব্দ, রোদ্ ভিজিয়ে নদীর কাছে, কবিতা রক্তাক্ত ক্ষত, মা কখনো যায় না চ'লে, মৃত্যুর পরে, কণ্ঠকে রোধ করো, কারণ ঘাতক না হ'লে, আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ইত্যাদি।

ফেরারী কবির খোঁজে,

- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

এখানে সূর্য ওঠে
সহসা বৃষ্টি পড়ে
এখানে ফসল্ ফলে
শিশুরা ক্ষুধায় মরে ।

এখানে অনেক নদী
মেঘেরা রঙিন শাড়ি
এখানে ফুলের পাখি
ফেরারী কবির খোঁজে।

এখানে নবীন সবি
শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদে
এখানে শোভন সবি
কবিরা দীপান্তরে।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাতনরী হার' (১৯৫৫)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা: আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, কোন এক মাকে।
- তিনি ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- কখনো রং কখনো সুর,
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।
৫,১৭৭.
‘কুরুক্ষেত্র’ কাব্য রচনা করেন কে ?
  1. বিষ্ণু দে
  2. নুরুল মোমেন
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• ‘কুরুক্ষেত্র’ কাব্য রচনা করেন - নবীনচন্দ্র সেন।

নবীনচন্দ্র সেন:

- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। 

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস, 
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৭৮.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. উপহার
  2. কবিতাবলী
  3. অনিঃশেষ
  4. এক মুঠো
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ:
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি 'অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে ।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

অমিয় চক্রবর্তী:
- তার জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,১৭৯.
বাংলা ভাষায় কোরান শরীফ-এর অনুবাদক “ভাই গিরিশচন্দ্র সেন” কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. ক) হিন্দু ধর্ম
  2. খ) খ্রিস্ট ধর্ম
  3. গ) ব্রাহ্ম ধর্ম
  4. ঘ) নাথ ধর্ম
ব্যাখ্যা

গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৯১০) : ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ তিনিই প্রথম করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,১৮০.
ফিউশন ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন-
  1. সেলিম আল দীন
  2. নুরুল মোমেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র 
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

নাট্যকার সেলিম আল দীন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব, ফিউশন তত্ত্ব'র প্রবক্তা এবং নিউ এথনিক থিয়েটারের উদ্ভাবনকারী। তিনি শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমকে একীভূত করে একটি নতুন শিল্পরীতি প্রবর্তন করেন, যা দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব নামে পরিচিত।

• এই দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বের মূল ধারণা হলো, জীবনের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের পারস্পরিক সম্পর্ককে স্বীকার করে নেয়া। সেলিম আল দীন মনে করতেন, জীবনকে কেবল একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিকে দেখা উচিত নয়, বরং বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন মাধ্যমে এর প্রকাশ হওয়া উচিত।
সেলিম আল দীন তার নাটকে এই দ্বৈতাদ্বৈতবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরেছেন। তার "চাকা" নাটকে তিনি নিজেকে "দ্বৈতাদ্বৈতবাদী" হিসেবে ঘোষণা করেন। এছাড়া, তার "হরগজ" নাটকেও এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়।

------------------
সেলিম আল দীন রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ: কবি ও তিমি।

• উপন্যাস: অমৃত উপাখ্যান।

• নাটক:
- তিনটি মঞ্চ নাটক: মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,১৮১.
রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পধর্মী উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নষ্টনীড়
  2. খ) চতুরঙ্গ
  3. গ) দেনা পাওনা
  4. ঘ) রবিবার
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চতুরঙ্গ হলো ছোট গল্পধর্মী উপন্যাস
- অন্যদিকে তার রচিত নষ্টনীড় হলো উপন্যাসধর্মী ছোট গল্প

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,১৮২.
ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের স্থপতি হিসাবে বিবেচনা করা হয় - সোমেন চন্দকে।
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ
- তিনি ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' -এর প্রতিষ্ঠাতা।

- তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর।
- তার রচিত অন্যান্য ছোটগল্প - দাঙ্গা, সংকেত, বনস্পতি, স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৮৩.
‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  3. শওকত ওসমান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস:
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিতে সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নিদারুণ অর্থনৈতিক সংকট মানবাত্মাকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিলো। এর ফলশ্রুতি-এক মুঠো আহার না পেয়ে মানুষ নিজের ইজ্জত খোলাম-কুচির মতো বিকিয়েছিলো, পশুর চেয়েও নিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিলো তার নৈতিক ধর্ম। সেসব দিনের অনেক ঘটনা চাক্ষুষ দেখবার দুর্ভাগ্য লেখকের হয়েছিল; সেগুলো আঘাত করেছে তাঁর মানসপটে, হৃদয়ে। এ উপন্যাস সেসব মনোবেদনারই জীবন্ত চেতনা বা ভাষারূপ।

- যেহেতু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধই হচ্ছে এ উপন্যাস গর্ভাঙ্কের আদি পটভূমি, সেজন্য অকাল্পনিক মানুষ হিটলার, চার্চিল, মুসোলিনি, স্ট্যালিন, তোজো, গোয়েবলস প্রমুখ কুশীলব এ উপন্যাসের চরিত্র।

-------------------------------
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:

- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৮৪.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) ছাড়পত্র
  2. খ) ঘুম নেই
  3. গ) সহসা সচকিত
  4. ঘ) হরতাল
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য,মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

'সহসা সচকিত' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৮৫.
“স্বদেশে পরবাসী” কার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থঃ স্বদেশে পরবাসী। একাত্তরের ঢাকা, নির্ভয় করো হে, ঘর গেরস্থির রাজনীতি ইত্যাদি। তার শিশুতোষ উপন্যাস - “কাকতাড়ুয়া” (১৯৯৬)। এতে বুধা নামের এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনী বিবৃত করা হয়েছে। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৫,১৮৬.
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,১৮৭.
’কুহু ও কেকা’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. আল মাহমুদ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত :
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছন্দের জাদুকর, ছন্দের রাজা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের চুপী গ্রামে। 
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:

-সবিতা (১৯০০),
- সন্ধিক্ষণ (১৯০৫),
- বেণু ও বীণা (১৯০৬),
- কুহু ও কেকা (১৯১২),
- অভ্র ও আবীর (১৯১৬),
- হসন্তিকা (১৯১৯),
- বেলা শেষের গান (১৯২৩),
- বিদায় আরতি (১৯২৪),
- কাব্য সঞ্চয়ন (১৯৩০)।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৮৮.
'ফোঁড়া' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছেঃ
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,১৮৯.
"একটি কথার দ্বিধা থর থর চূড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী।"- কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) অর্কেস্ট্রা
  2. খ) শাশ্বতী
  3. গ) তন্বী
  4. ঘ) ক্রন্দসী
ব্যাখ্যা
‘অর্কেস্ট্রা’ (১৯৩৫) কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতায় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত উক্ত উক্তিটি ব্যক্ত করেছেন।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

একদা এমনই বাদলশেষের রাতে—
মনে হয় যেন শত জনমের আগে—
সে এসে সহসা হাত রেখেছিল হাতে,
চেয়েছিল মুখে সহজিয়া অনুরাগে ;
সে-দিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া
মেতেছিল তার চিকুরের পাকা ধানে ;
অনাদি যুগের যত চাওয়া, যত পাওয়া
খুঁজেছিল তার আনত দিঠির মানে |
একটি কথার দ্বিধাথরথর চুড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী ; (সংক্ষিপ্ত)

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডবের একজন। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ
- তন্বী (১৯৩০), 
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), 
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০), 
- দশমী (১৯৫৬);
- প্রতিদিন (১৯৫৪)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৯০.
'তোতা ইতিহাস' গল্পগ্রন্থটি চণ্ডীচরণ মুনশী কোন সাহিত্য থেকে অনুবাদ করেন?
  1. আরবি 
  2. ফারসি
  3. ইরানী 
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা

• 'তোতা ইতিহাস':
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি গল্পগ্রন্থ। যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

-----------------
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন।
- তিনি ছিলেন বাঙ্গালী লেখক। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,১৯১.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর মহাকাব্য রচনার প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে কোন রচনায়?
  1. ক) বৃত্রসংহার
  2. খ) স্পেনবিজয় কাব্য
  3. গ) রৈবতক
  4. ঘ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
'স্পেন বিজয় কাব্যে'র রচয়িতা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। 
- এ কাব্যের মাধ্যমে লেখক মহাকাব্য লিখতে চেয়েছেন। 
- কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে। 
- স্পেন বিজয় কাব্য এর বিষয়বস্তু স্পেনের সম্রাট রডারিকের সাথে মুসলমান বীর তারেকের সংগ্রাম কাহিনী বর্ণনার মাধ্যমে মুসলিমদের অতীত বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে।
- বৈশিষ্ট্যের বিচারে এটি পরিপূর্ণ  মহাকাব্য হয় নি।

তার রচিত অন্যান্য কাব্য:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- মহাশিক্ষা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৯২.
হুমায়ুন কবিরের সাথে যৌথ সম্পাদনায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. প্রগতি
  3. চতুরঙ্গ
  4. চিত্রদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়;
- রেখাচিত্র;
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'পূর্ববাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
• বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা 'চিত্রদর্শন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৯৩.
'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী : একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
তাঁর প্রকাশিত বিশেষ কাব্যগ্রন্থ:
- 'খসড়া' (১৯৩৮);
- 'এক মুঠো' (১৯৩৯); 
- ‘মাটির দেয়াল’ (১৯৪২);
- 'অভিজ্ঞান বসন্ত' (১৯৫০),
- ‘অনিঃশেষ’ (১৯৭৬) ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনা:
- ‘চলাে যাই';
- 'সাম্প্রতিক’,
- ‘পুরবাসী';
- 'পথ অন্তহীন’ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

৫,১৯৪.
দীনবন্ধু মিত্র এর উপাধী কি ছিল?
  1. ক) দাদা ভাই
  2. খ) চারণ কবি
  3. গ) রায়বাহাদুর
  4. ঘ) পদাতিক কবি
ব্যাখ্যা
১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফল্ভাবে ডাকবিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য তৎকালীন সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধীতে ভূষিত করে। [সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৫,১৯৫.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. খ) ওয়ারিশ
  3. গ) উত্তরাধিকার
  4. ঘ) হাতহদাই
ব্যাখ্যা

• 'উত্তরাধিকার' শহীদ কাদরীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
• 'ওয়ারিশ' শওকত আলী উপন্যাস।
• 'হাতহদাই' সেলিম আল দীনের নাটক।
• প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,

উল্লেখ্য,
উত্তরাধিকার - নামে সমরেশ মজুমদার একটি জনপ্রিয় উপন্যাসও রচনা করেছেন।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

 
৫,১৯৬.
'সংশপ্তক' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  2. আবু ইসহাক 
  3. আল মাহমুদ 
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,১৯৭.
সৈয়দ শামসুল হক কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. রংপুর
  3. কুষ্টিয়া
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হৃৎকলমের টানে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৯৮.
কোন কাব্যের জন্য বিহারীলাল চক্রবর্তী 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. সারদা মঙ্গল
  2. সাধের আসন
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. দেবরাণী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৯৯.
স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা - কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা
বর্ণচোর - মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
তার রচিত অন্যান্য নাটক:
- বকুলপুরের স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- আমাদের শহর
- রাক্ষুসী
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
- কী চাহ শঙ্খচিল
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া
৫,২০০.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. বোধেন্দুবিকাশ
  4. রাজাবলি
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা  প্রকাশ করেন। অর্থসংকটের কারণে মাঝে চার বছর বন্ধ থাকার পর ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট সপ্তাহে তিন সংখ্যা হিসেবে পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিল মধ্যযুগীয়। মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্রের সাহিত্যাদর্শ যখন লুপ্ত হয়ে আসছিল, তখন তিনি বিভিন্ন বিষয় অবলম্বনে খন্ডকবিতা রচনার আদর্শ প্রবর্তন করেন। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। ব্যঙ্গের মাধ্যমে অনেক গুরু বিষয়ও তিনি সহজভাবে প্রকাশ করতেন।

• তিনি সবসময় ইংরেজি প্রভাব বর্জিত খাঁটি বাংলা শব্দ ব্যবহার করতেন। ভাষা ও ছন্দের ওপর তাঁর বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর 'বোধেন্দুবিকাশ' (১৮৬৩) নাটকে।

• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনা গ্রন্থ:
• তিনি রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (১৮৩৩) ও প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) সম্পাদনা করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত নাটক:
• হিতপ্রভাকর (১৮৬১) ও বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' 'হিতোপদেশ' ও 'রাজাবলি' গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।