বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৫১ / ৭৭ · ৫,০০১৫,১০০ / ৭,৬৪৬

৫,০০১.
কোনটি আনিসুজ্জামান রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  2. কাল নিরবধি
  3. সত্যের সন্ধান
  4. স্বরূপের সন্ধানে
ব্যাখ্যা
• আনিসুজ্জামান রচিত গ্রন্থ নয় - সত্যের সন্ধান
- এটি আরজ আলী মাতুব্বর রচিত গ্রন্থ।

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০০২.
'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' গানের সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. ডি. এল রায়
  3. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' গানের সংকলনের রচয়িতা - অতুলপ্রসাদ সেন। 

অতুলপ্রসাদ সেন:

- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০০৩.
'কবর‘- নাটকের রচিয়তা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০০৪.
'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা, প্রেম যেখানে সর্বস্ব ইত্যাদি সৈয়দ আলী আহসানের কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,০০৫.
অস্তিত্ববাদী দর্শন আছে কোন উপন্যাসে?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. চোখের বালি
  3. গৃহদাহ
  4. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত চাঁদের অমাবস্যা একজন গৃহশিক্ষকের অস্তিত্ব সংকট ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার আখ্যান।
এই উপন্যাসের মৌল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে আরেফ আলীর মনোগত ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ, এটি একটি মনোসমীক্ষামূলক উপন্যাস।

উৎস : চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,০০৬.
'ব্যাকরণ মঞ্জরি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাকরণ মঞ্জরি' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক
- এটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

মুহম্মদ এনামুল হক: 
- ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পণ্ডিত ব্যক্তি।  
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন। 
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্ত্ত ছিল ‘History of Sufism in Bengal’। 
- বাংলা একাডেমি তাঁর নামে ‘মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক’ প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য,
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব,
- ব্যাকরণ মঞ্জরি

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা (এই ভ্রমণকাহিনিতে তিনি বুলগেরিয়ার 'গ্যাব্রোভো' অঞ্চলের অধিবাসীদের হাস্যপরিহাস বর্ণনা করেছেন),
- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০০৭.
নিম্নের কোন সাহিত্যিক মহাকাব্য রচনা করেছেন?
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) দ্বীজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকব্যের কবি ছিলেন।
তার রচিত মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।
- কাব্যটি ১৮৭৫-১৮৭৭ সময়ে রচিত হয় যা দুই খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে সর্গ রয়েছে, ১-১১ পর্যন্ত। দ্বিতীয় খণ্ডে সর্গ সংখ্যা ১২-১৫।
- মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে। একসময় বাংলাদেশে কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের যা খ্যাতি তা মূলত এ কাব্যের জন্যই।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু
- আশাকানন
- ছায়াময়ী
- দশমহাবিদ্যা
- চিত্তবিকাশ
- চিন্তাতরঙ্গিণী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০০৮.
'তত্ত্বরত্নমালা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) গিরিশ চন্দ্র সেন
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
কোরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশচন্দ্র সেন। প্রকাশিত গ্রন্থ তাপসমালা, তত্ত্বরত্নমালা, মহাপুরুষ চরিত, জীবনচরিতমালা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,০০৯.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আর্তনাদ
  2. খ) হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) নিরন্তর ঘন্টা ধ্বনি
ব্যাখ্যা

• কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,০১০.
'উত্তরের খেপ' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

- শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ
- উত্তরের খেপ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০১১.
আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?




ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- খ) ৩

ব্যাখ্যা:
আহমদ শরীফের গবেষণা অনুসারে, মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে তিনজন কবি ছিলেন।
যথা:
১। অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস- সর্বপ্রাচীন চণ্ডীদাস,
২। চণ্ডীদাস- চৈতন্য পূর্বকালের বা জ্যেষ্ঠ সমসাময়িক এবং 
৩। দীন চণ্ডীদাস- আঠারো শতকের শেষার্ধ।

এই তিনজনের রচিত পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী এবং বৈষ্ণব ভক্তির প্রতিফলন ঘটেছে। 

• আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য") অনুসারে,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য")।

৫,০১২.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্য নয়?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) সাতটি তারার তিমির
  3. গ) অর্কেস্ট্রা
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
- 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচনা করেন।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহন করেন।
- পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- তাঁর স্ত্রী রাজেশ্বরী বাসুদেব প্রসিদ্ধ গায়িকা ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী।
- অর্কেস্ট্রা।
- ক্রন্দসী।
- উত্তরফাল্গুনী।
- সংবর্ত।
- দশমী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত।
- কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়াও 'প্রতিধ্বনি' নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১৩.
কাকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. চন্দ্রকুমার দে 
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
 
তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,০১৪.
কোনটি হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গ্রন্থ?
  1. অলৌকিক ইস্টিমার
  2. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  3. শোকার্ত তরবারী
  4. কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'শোকার্ত তরবারী' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• হাসান হাফিজুর রহমান:

- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ - ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী"।
- এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী, 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'অলৌকিক ইস্টিমার' ও 'কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ' হুমায়ুন আজাদের যথাক্রমে কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাস।
- 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১৫.
কবি আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ নয়-
  1. লোক লোকান্তর
  2. একচক্ষু হরিণ
  3. দোয়েল ও দয়িতা
  4. আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।


• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।


• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ ইত্যাদি।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০১৬.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্য-
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. সেইদিন এই মাঠ
  4. আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা
⇒ 'বেলা অবেলা কালবেলা' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা এই কাব্য দুটি কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিলো।

⇒ জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৫,০১৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০১ সালের ৪ মে  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।
- ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন।
- পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯)  সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর অন্য বাঙালি সহকর্মীদের তুলনায় বেশি সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেকার সবচেয়ে ভালো বাংলা গদ্য লেখক। 

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।

- এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক। তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,০১৮.
পঞ্চাশের মনন্ত্বরের প্রেরণায় রচিত কাব্য সংকলন---
  1. ক) আকাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) হরতাল
  4. ঘ) পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা
• কবি সুকান্তের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ 'আকাল'।
- 'আকাল' (১৯৪৭) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মনন্ত্বর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা। 
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতা গুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা রাখেন কবি সুকান্ত। 
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপধ্যায় এর ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান, 
- হরতাল ও
- গীতিগুচ্ছ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১৯.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস- পরিত্যক্ত স্বামী, ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল, প্রপঞ্চ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,০২০.
“পুঁই ডালিমের কাব্য” - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

পুঁই ডালিমের কাব্য - শামসুদ্দিন আবুল কালাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ

লেখকের অন্যান্য গ্রন্থ :
উপন্যাস:
- আলমগড়ের কথা
- কাঞ্চনমালা
- জায়জঙ্গল
- সমুদ্রবাসর
- কাঞ্চনগ্রাম

গল্পগ্রন্থ :
- অনেক দিনের আশা
- ঢেউ
- পথ জানা নাই
- দুই হৃদয়ের তীর
- শাহের বানু

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০২১.
'বাবুলের বেড়ে ওঠা' - কী ধরণের রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) ছোটদের গল্প
  3. গ) ছোটদের উপন্যাস
  4. ঘ) অনুবাদ
ব্যাখ্যা
'বাবুলের বেড়ে ওঠা'- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত ছোটদের উপন্যাস।

• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।

তাঁর প্রকাশিত প্রধান গ্রন্থগুলো:

প্রবন্ধ-গবেষণা:
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী 
- অনতিক্রান্ত বৃত্ত
-  শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক 
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ  
- বাঙালি কাকের বলি
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া
- নেতা জনতা ও রাজনীতি
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ
- গণতন্ত্রের সন্ধানে

গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ

ছোটদের উপন্যাস :
- বাবুলের বেড়ে ওঠা

ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো

অনুবাদ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব 
- ইবসেনের বুনো হাঁস
- হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৫,০২২.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক কোনটি?
  1. তিমিরান্তিক
  2. জয়ের পথে
  3. মহাকবি আলাউল
  4. মাটি আর অশ্রু
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক- 'মহাকবি আলাউল'।

সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর;
- তিমিরান্তিক;
- বৈরী বৃষ্টিতে;
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু;
- জয়ের পথে;
- নবী কাহিনী;
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস;
- সেন্ট লুইয়ের সেতু;
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,০২৩.
‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. বিচিত্রা
  2. কল্লোল
  3. প্রবাসী
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা

‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়। গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০২৪.
‘নটগুরু’ হিসেবে পরিচিত-
  1. সেলিম আল দীন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন। তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় 'গৈরিশ ছন্দ'।
- গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।
- ১৮৭২ সালে তিনিই প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭) এ মঞ্চেই অভিনীত হয়।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• তাঁর রচিত পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ, সীতার বনবাস, সীতার বিদ্রোহ, লক্ষ্মণ বর্জন, রামের বনবাস, সীতাহরণ, পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, পাণ্ডব গৌরব।

• তাঁর রচিত রোম্যান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, আবু হোসেন।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, মীরকাশিম, ছত্রপতি শিবাজী, অশোক।

• তাঁর রচিত কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল, সপ্তমীতে বিসর্জন, বড়দিনের বখশিশ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,০২৫.
‘রাজাকাহিনী’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আাল মাহমুদ
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
আবুল হোসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ ‘নববসন্ত’, বিরস সংলাপ, হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস, দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে, এখনও সময় আছে, রাজ-রাজড়া, আর কিসের অপেক্ষা, রাজাকাহিনী। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৫,০২৬.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার সেন
  2. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  3. আশুতোষ চৌধুরী
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৫,০২৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসের নাম কি?
  1. ক) পদ্মানদীর মাঝি
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) আনন্দ মঠ
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

- ‘চোখের বালি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলোঃ
- মহেন্দ্র 
- আশা
- বিহারী
- বিনোদিনী 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘পদ্মানদীর মাঝি’’
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

৫,০২৮.
‘ওরা কদম আলী’ নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

মামুনুর রশীদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক।
তিনি টিভির জন্যেও অসংখ্য নাটক লিখেছেন এবং অভিনয় করেছেন।
'ওরা কদম আলী’ নাটকটি ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।
মামুনুর রশীদ প্রকাশিত নাটকের নাম হলো :
- ওরা কদম আলী
- ওরা আছে বলেই
- মে দিবস পাথর
- সমতট
- লেবেদেফ
- এখানে নোঙ্গর
মামুনুর রশীদ ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করে।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৫,০২৯.
নুরুল মোমেন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক -
  1. নেমেসিস
  2. বহুরূপা
  3. রূপলেখা
  4. যেমন ইচ্ছা তেমন
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

নুরুল মোমেন: 

- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৩০.
'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন-
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- 'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন- সিকান্‌দার আবু জাফর।  

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯শে মার্চ তৎকালীন তেঁতুলিয়া গ্রাম, খুলনায় বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। 
- তিনি দৈনিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক 'মিল্লাত' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' এই বিখ্যাত গানটি তিনি রচনা করেন। 
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত  গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- কবিতা,
- বৃশ্চিকলগ্ন।

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু, 
- জয়ের পথে,
- পূরবী,
- নবী কাহিনী।

নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- সিরাজউদ্দৌলা,
- মহাকবি আলাওল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,০৩১.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. আহসান হাবীব
  3. বুদ্ধদেব বসু 
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।   

----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।

- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।

- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- মধ্যবিত্তের সংকট ও জীবনযন্ত্রণা আহসান হাবীবের কবিতার মুখ্য বিষয়। সামাজিক বাস্তবতা, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সংগ্রামী চেতনা এবং সমকালীন যুগযন্ত্রণা তাঁর কবিতায় শিল্পসম্মতভাবে পরিস্ফুটিত হয়েছে। তাঁর ভাষা ও প্রকাশভঙ্গিতে নাগরিক মননের ছাপ আছে।

- সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪), নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭), একুশে পদক (১৯৭৮), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০) এবং আবুল কালাম স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৪) লাভ করেন।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, 
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৩২.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন -
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল হুসেন
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন: 
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,০৩৩.
প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রামারঞ্জিকা
  2. বামাতোষিণী
  3. The Zamindar and Royats
  4. বেনামী বন্দর
ব্যাখ্যা
• রামারঞ্জিকা, বামাতোষিণী, The Zamindar and Royats- প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত গ্রন্থ। 
অন্যদিকে, 
বেনামী বন্দর- প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ। 

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে: 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

• The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

• ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

• তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৩৪.
'বেদুঈনদের দেশে' - রচনাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) ইব্রাহীম খাঁ
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ
- একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবেও ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল।
- তিনি বিভিন্ন লেখায় মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের কথা বলেছেন।
- নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।

• সেগুলির মধ্যে,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- বাতায়ন,
- ব্যাঘ্র মামা,
এবং বেদুঈনদের দেশে প্রধান।

• তাঁর স্মৃতিকথা বাতায়ন সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশবস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,০৩৫.
নিচের কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. আরোগ্য
  2. আরোগ্য নিকেতন
  3. অমৃতস্য পুত্রা
  4. রসকলি
ব্যাখ্যা
• 'আরগ্য নিকেতন' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- 'আরোগ্য' ও 'অমৃতস্য পুত্রা'  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- 'রসকলি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্যবহ্নি
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৩৬.
রামমোহন রায়ের 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮২৫ সালে
  2. খ) ১৮২০ সালে
  3. গ) ১৮২২ সালে
  4. ঘ) ১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়: 
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রাজা রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ  বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ। 
- এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- রাজা রামমোহন হিন্দুধর্মের মহান সংস্কারক। পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- রামমোহনের প্রথম দিকের রচনাসমূহ ছিল আরবি ও ফারসি ভাষায়।
- তাঁর সংস্কারমূলক ও উদারবাদী ধারণাসমূহের প্রচারের জন্য ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন 
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২) এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৩৭.
হুমায়ুন কবির কোন পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন?
  1. ক) পূর্বাশা
  2. খ) স্বাক্ষর
  3. গ) স্বদেশ
  4. ঘ) চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

অক্সফোর্ডে Sis ও Cherwell নামক দুটি পত্রিকা এবং অক্সফোর্ড থেকে দেশে ফিরে ১৯৩২ সালে বারোমাসি নামে একটি মাসিক পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
- তবে বাংলা সাময়িক পত্রের ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন তাঁর সম্পাদিত অতি উঁচুমানের চতুরঙ্গ (১৯৩৯-৬৯) ত্রৈমাসিকের জন্য।

অন্যান্য পত্রিকাগুলোর সম্পাদকঃ
পূর্বাশা -- সঞ্জয় ভট্টাচার্য
স্বাক্ষর -- রফিক আজাদ ও শিকদার আমিনুল হক
স্বদেশ -- আহমদ ছফা

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৫,০৩৮.
বিষ্ণুদের রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ-
  1. সাহিত্যের ভবিষ্যৎ
  2. বিবিধপ্রসঙ্গ
  3. সাম্য
  4. তরুণের বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
- বিষ্ণুদের রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - সাহিত্যের ভবিষ্যৎ।

• বিষ্ণু দে : 
- তিনি ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- তিনি ”পরিচয়“ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অন্যদিকে :
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - বিবিধপ্রসঙ্গ।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - সাম্য।
- শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - তারুণের বিদ্রোহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৩৯.
মাজারের কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস-
  1. ক) কাঁদো নদী কাঁদো
  2. খ) চাঁদের অমাবস্যা
  3. গ) পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. ঘ) লালসালু
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস লালসালু। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ। গ্রামের একটি ভাঙ্গা কবরকে প্রখ্যাত পীরের মাজার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কাহিনী সূত্রপাত হয়।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,০৪০.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. গাভী বিত্তান্ত
  2. সূর্য তুমি সাথী
  3. ওঙ্কার
  4. নিহত নক্ষত্র
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থী সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক ছিলেন।
• তাঁর প্রথাবিরোধী, নির্মোহ, অকপট দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য বুদ্ধিজীবী মহল বিশেষ আলোচিত ছিলেন।
• তাঁর উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস- ওঙ্কার।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,০৪১.
জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলন বিষয়ক গল্পের নাম কী?
  1. ক) আরেক ফাল্গুন
  2. খ) কয়েকটি মৃত্যু
  3. গ) আর কত দিন
  4. ঘ) একুশের গল্প
ব্যাখ্যা
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলন বিষয়ক গল্প।
গল্পের প্রধান চরিত্রে ছিল,
- তপু,
- রেণু ও রাহাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৪২.
'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়-
  1. সাধের আসন
  2. স্বপ্নদর্শন
  3. সঙ্গীত
  4. বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• 'সাধের আসন', কাব্যগ্রন্থকে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন',একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন;
- সঙ্গীত;
- শতক;
- বঙ্গসুন্দরী;
- নিসর্গ;
- সন্দর্শন;
- বন্ধু বিয়োগ;
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪৩.
'আমার পূর্ব বাংলা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. অতুপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• ‘আমার পূর্ব বাংলা'- সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

• অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

• প্রবন্ধ:
- সতত স্বাগত।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।
----------------------------------------
আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা;
-----------------সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)
ঘর আর বিদেশ আঙিনা
তিনটি ফুল আর একটি পাতা নিয়ে/ কদম্ব তরুর একটি শাখা মাটি/ ছুঁয়েছে
আরও অনেক গাছ পাতা লতা/ নীল হলুদ বেগুনি অথবা সাদা
কাকের চোখের মতো কালোচুল/ এলিয়ে
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ নীলাম্বরীতে দেহ ঘিরে (বৃষ্টিভেজা পূর্ব বাংলা যেনো নীল শাড়ি পরা কোনো নারী)
তুমি আমার পূর্ব-বাংলা-/ পুলকিত সচ্ছলতায়, প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।।

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪৪.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) কিশোর কবি
  2. খ) মার্কসবাদী কবি
  3. গ) রোমান্টিক কবি
  4. ঘ) বিদ্রোহী কবি
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর বি ত মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,০৪৫.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থঃ
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৪৬.
কোন গ্রন্থ রচনার দায়ে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়?
  1. স্পেন বিজয় কাব্য
  2. অনল প্রবাহ
  3. নব উদ্দীপনা
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্যের পরিচয়:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।

- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'- এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাবাটিতে।

- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।

- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পুজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

-------------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বার্থী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী,
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস,
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• ভ্রমণ কাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৪৭.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রথম প্রবন্ধ কোনটি?
  1. আকবরের রাষ্ট্র সাধনা
  2. মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ
  3. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  4. অতীতের বোঝা
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলি:
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪৮.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে রচিত প্রবন্ধ 'The Zamindar and Royats'- এর রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন। 
--------------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
-  প্যারীচাঁদ মিত্র ২২শে জুলাই ১৮১৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২৩শে নভেম্বর ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।
- The Zamindar and Royats: এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কারণ, এটি রচিত হয়েছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে :  
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়, 
- রামারঞ্জিকা, 
- কৃষিপাঠ,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং 
- বামাতোষিণী।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম উপন্যাস আলালের ঘরের দুলাল।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- ঠকচাচা চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল।
-  মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি ও প্রানময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- কেউ বলেন ‘আলালের ঘরের দুলাল’  বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ।

তাঁর রচিত ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: 
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪৯.
”চোখের বালি” কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক
  2. রাজনৈতিক
  3. রম্য
  4. মনস্তাত্ত্বিক 
ব্যাখ্যা

 'চোখের বালি':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক ছিলেন।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গীতাঞ্জলি’ অবলম্বনে ‘Song Offerings’ ১৯১২সালে প্রকাশিত হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘গীতাঞ্জলি’ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়নি। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’ বা ‘Song Offerings’ গ্রন্থের জন্য।
- বৃটিশ সরকার ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নাইটহুড উপাধি প্রদান করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ডি. লিট্ উপাধি প্রদান করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে- বাইরে,
- চার অধ্যায়,
- মালঞ্চ ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২) চোখের বালি উপন্যাস।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৫০.
সৈয়দ শামসুল হকের জন্মস্থান কোনটি?
  1. মুন্সিগঞ্জ
  2. কুড়িগ্রাম
  3. কুমিল্লা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- তাঁর জীবনের প্রথম মঞ্চনাটক- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
- ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- তাঁর রচিত ‘রক্ত গোলাপ’ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে প্রথম জাদুবাস্তবতা নিয়ে আসে পাঠকের কাছে। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৫১.
পল্লীসাহিত্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলাে -
  1. ক) অসাম্প্রদায়িকতা
  2. খ) অনুবাদপ্রবণতা
  3. গ) তত্ত্বের সচেতন প্রয়ােগ
  4. ঘ) লিখিত রুপের প্রাধান্য
ব্যাখ্যা

পল্লীসাহিত্য প্রবন্ধে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন 'রূপকথা, পল্লিগাথা, ছড়া প্রভৃতি দেশের আলো বাতাসের মতো সকলেরই সাধারণ সম্পত্তি। তাতে হিন্দু মুসলমান কোনো ভেদ নেই। যেরূপ মাতৃস্তনো সন্তান মাত্রেরই অধিকার,সেরূপ এই পল্লিসাহিত্যে পল্লিজননীর হিন্দু মুসলমান সকল সন্তানেরই সমান অধিকার।'
অর্থাৎ, পল্লিসাহ্যিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর অসাম্প্রদায়িকতা।

৫,০৫২.
মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ কার সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৫৩.
কাজী মোতাহের হোসেনের প্রথম প্রবন্ধ সংকলন কোনটি?
  1. ক) আলোক বিজ্ঞান
  2. খ) সঞ্চয়ন
  3. গ) সে পথ লক্ষ্য করে
  4. ঘ) গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহের হোসেন ছিলেন একজন সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী। 
তিনি ৩০শে জুলাই ১৮৯৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।  
পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রাম।

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন (১৯৩৭),
- নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫),
- সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮),
- সিম্পোজিয়াম (১৯৬৫),
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং
- আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।
 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ সংকলন 'সঞ্চয়ন'

- ১৯৭৫ সালে কাজী মোতাহার হোসেন ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে সম্মানিত হন
- ১৯৭৪ সালে কাজী মোতাহার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন।

- কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমি 'পুরষ্কার’ লাভ করেন 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
 
৫,০৫৪.
"আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।" - কবিতাংশটুকু কে লিখেছেন? 
  1. সুফিয়া কামাল
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার 
ব্যাখ্যা

• "আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: গোলাম মোস্তফা।

-------------------
কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
মোস্তফা, গোলাম:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৫৫.
শওকত আলী তাঁর রচিত কোন গ্রন্থটি স্ত্রী শওকত আরা বেগমকে উৎসর্গ করেন?
  1. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  2. পিঙ্গল আকাশ
  3. যেতে চাই
  4. কুলায় কালস্রোত
ব্যাখ্যা

• 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ কথা সাহিত্যিক শওকত আলী লিখিত প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
- পিঙ্গল আকাশ গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৬১ সালে মাসিক পূবালী'র ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরে কলকাতার হরফ প্রকাশনী থেকেও ১৯৬৬ সালে উপন্যাসটির একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন স্ত্রী শওকত আরা বেগমকে।
- উপন্যাসের নায়ক মঞ্জু। মঞ্জুর নিজস্ব বয়ানে কাহিনী বেড়ে উঠেছে। তার জীবন সংগ্রামই এই কাহিনীর মূল বিষয়বস্তু। এক দ্বান্দ্বিক কাহিনি রয়েছে উপন্যাসটিতে।

-----------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। )। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উওরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৫৬.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অনল প্রবাহ
  2. খসড়া
  3. উদ্বোধ
  4. উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - খসড়া

অন্যদিকে,
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী কাব্যগ্রন্থ - অনল প্রবাহ, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধ।

অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৫৭.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি? 
  1. পদুমাবৎ
  2. পদ্মাবতী
  3. মধুমালতী 
  4. চন্দ্রাবতী 
ব্যাখ্যা

• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- সংস্কৃত ভাষাসহ অন্যান্য প্রাচ্যভাষা ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর আগ্রহ ছিল।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে মধ্যযুগের কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন।

• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta. (1930)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৫৮.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কমলে কামিনী
  3. চক্ষুদান
  4. বর্ণ-পরিচয়
ব্যাখ্যা
 কমলে কামিনী:
- দীনবন্ধু মিত্রের 'কমলে কামিনী' তাঁর শেষ রচনা এবং সর্বশেষ নাটক। 
- এ নাটকের পটভূমি কাছার অঞ্চল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাজা,সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 -  নীল দর্পন,
 - নবীন তপস্বিন,
 - লীলাবত,
 - কমলে কামিনী। 

অন্যদিকে:

- 'ভদ্রার্জুন' ইংরেজী ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক। নাটকটি রচনা করেন তারাচরণ শিকদার। 
- 'চক্ষুদান' প্রহসনটির রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন।
- 'বর্ণ-পরিচয়' রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।  

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৫৯.
বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত নয় কোনটি?
  1. ক) বিষবৃক্ষ
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বিষবৃক্ষ, চোখের বালি, কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের বিধবার প্রেম থাকলেও শরৎন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গৃহদাহ উপন্যাসের ত্রিভুজপ্রেমের চিত্র ফুটে ওঠে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,০৬০.
প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান সংকলন করেছেন-
  1. অশোক মুখোপাধ্যায়
  2. জগন্নাত চক্রবর্তী
  3. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ‘সমার্থক শব্দের অভিধান':
- ‘সমার্থক শব্দের অভিধান' একটি থিসরাস জাতীয় অভিধান।
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ‘সমার্থক শব্দের অভিধান' গ্রন্থটি।
- বাংলোদেশে থিসরাস জাতীয় অভিধানের মধ্যে এটিই প্রথম রচনা।
- এছাড়া থিসরাস জাতীয় অভিধানের মধ্যে কলকাতা থেকে প্রকাশিত অশােক মুখােপাধ্যায় এর ‘সমার্থশব্দকোষ' বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। - উক্ত দুটি অভিধান ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত পিটার মার্ক রজে’র ইংরেজি ভাষায় বিখ্যাত থিসরাস ‘থিসরাস অব ইংলিশ ওয়ার্ডস এন্ড ফ্রেজেস' অবলম্বনে, বিষয়ভিত্তিক সাজানাে হয়।
- প্রয়ােজনীয় শব্দের কাংখিত প্রতিশব্দ খুঁজে পেতে আপনাকে | বিষয়ভিত্তিক সূচিতে খোঁজ করতে হবে, যদিও বর্ণানুক্রমিক সূচি থিসরাস গ্রন্থের শেষে রয়েছে।

উৎস: ‘সমার্থক শব্দের অভিধান' গ্রন্থের ভূমিকা।
৫,০৬১.
“স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’- কবিতাটি কার রচনা?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশি সাহিত্যে কবিদের কবি হিসাবে গণ্য করা হয় - নির্মলেন্দু গুণকে।
তার রচিত অন্যতম কবিতা 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো'
১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে যে কবিতাগুলো রচিত হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম সেরা কবিতা।

"কটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে-
‘কখন আসবে কবি?’ ‘কখন আসবে কবি?’"

উৎসঃ বাংলা কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০৬২.
'কালো বরফ' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মামুনুল হক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কালো বরফ' উপন্যাসটির লেখক - মাহমুদুল হক
- অপশনে মাহমুদুল হক না থাকায় শুদ্ধ উত্তর কোনটিই নয়

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৬৩.
কোন লেখক চলিত ভাষাকে মান ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. জসীমউদ্দিন
ব্যাখ্যা
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। 
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।
- তিনিই চলিত ভাষাকে মান ভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৫,০৬৪.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উত্তর ফাল্গুনী
  2. ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম
  3. সাতনরী হার
  4. তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা
ব্যাখ্যা
 রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তর ফাল্গুনী।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার।
• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬৫.
বিখ্যাত 'আনোয়ারা' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. আবুল ফজল
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:

- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৬৬.
‘কবিতার কথা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
‘কবিতার কথা’ গ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। 
উল্লেখ্য যে জীবনানন্দ দাশও ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

সৈয়দ আলী আহসান (১৯২০-২০০২)  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়। 
- পরে আজাদ, মাসিক  মোহাম্মদী,  সওগাত পত্রিকায় বাংলা ভাষায় তাঁর গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। 

ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় রচিত তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Our Heritage (1948),
- ইকবালের কবিতা (সম্পাদনা, ১৯৫২),
- কবিতার কথা (১৯৫২),
- নজরুল ইসলাম (১৯৫৪),
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত আধুনিক কাল (মুহম্মদ আব্দুল হাই সহযোগে, ১৯৫৬),
- প্রেমের কবিতা (ফরাসি অনুবাদ Poems d’amour : Claire & Yvan Goll, 1959),  
- ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা  (১৯৬৫), পদ্মাবতী, (সম্পাদনা, ১৯৬৮),
- কাব্যসমগ্র, (১৯৭৪),
- রবীন্দ্রনাথ : কাব্যবিচারের ভূমিকা (১৯৭৪),
- জার্মান সাহিত্য (১৯৭৬),
- আধুনিক বাংলা কবিতা : শব্দের অনুবাদ মধুসূদন : কাব্য কবি ও কাব্যাদর্শ,
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯৬), কথাবিচিত : বিশ্বসাহিত্য (২০০১),
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - প্রাচীনযুগ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মধ্যযুগ (২০০১),
- বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ : আমাদের আত্মপরিচয় (২০০২),
- আমেরিকা : আমার কিছু কথা (২০০২)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬৭.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. চৈতালী ঘূর্ণি
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭১ সালেরই ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় লেখকের।

সাহিত্যকর্ম
- তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী এবং ২টি ভ্রমণ কাহিনী।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস চৈতালী ঘূর্ণি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আরোগ্য নিকেতন,
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা

তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬৮.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) সাত নরীর হার
  2. খ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. গ) এখনও সময় আছে
  4. ঘ) কখনো রং কখনো সুর
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো : 
- সাত নরীর হার,  
- কখনো রং কখনো সুর,  
- কমলের চোখ,  
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,  
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,  
- প্রেমের কবিতা, 
- নির্বাচিত কবিতা,  
- আমার সকল কথা,  
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

- বিঃদ্রঃ আবুল হেসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ: 'এখনও সময় আছে'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬৯.
কবি সুকান্তের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আকাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) হরতাল
  4. ঘ) অভিযান
ব্যাখ্যা
কবি সুকান্তের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ 'আকাল'।
- 'আকাল' (১৯৪৭) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মনন্ত্বর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা। 
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতা গুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা রাখেন কবি সুকান্ত। 
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপধ্যায় এর ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য, (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।
তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫)প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭০.
‘হুরমতি’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  2. সংশপ্তক
  3. জননী
  4. আগুনপাখি
ব্যাখ্যা
• 'সংশপ্তক' উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মধ্যে 'হুরমতি' অন্যতম। 
- এটি শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস।

• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ, 
- সংশপ্তক, 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ, 
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন, 
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)। 

স্মৃতিকথা:
রাজবন্দীর রোজনামচা। 

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭১.
ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে মৃত্যুবরণ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) সোমেন চন্দ
  2. খ) কল্যাণ মিত্র
  3. গ) হুমায়ুন কবির
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের স্থপতি হিসাবে বিবেচনা করাহয় - সোমেন চন্দকে।

• ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' -এর প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দ ।
• তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর। হুমায়ুন আহমেদ জানিয়েছিলেন - এই ছোট গল্পটি পড়েই তাঁর কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরনা পেয়েছিলেন।
• তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প - দাঙ্গা, সংকেত, বনস্পতি,স্বপ্ন ইত্যাদি।

- ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৭২.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত বই কোনটি?
  1. মাটির দেয়াল
  2. খসড়া
  3. কবিতাবলী
  4. এক মুঠো
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭৩.
"শামুক" হাসান আজিজুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. প্রবন্ধ 
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. ছোটগল্প 
ব্যাখ্যা

• "শামুক" উপন্যাস:
- এই উপন্যাসটি হাসান আজিজুল হক লিখেছেন তাঁর ১৮ বছর বয়সে। এবং লেখক একটি অমোঘ বাক্য দিয়ে শুরু করেছেন উপন্যাসটি: 'তেলাপোকা পাখি নয়।'
- কথাটি বলেছেন বিশ শতকের তিনের দশকের বাঙালি নিম্ন-মধ্যবিত্ত চেহারার-চরিত্র, বিশেষত একটি কেরানি-চরিত্রর জীবনবাস্তবতা নির্মাণ করতে গিয়ে।

'শামুক' রচিত ও প্রকাশিত হবার ইতিহাস লেখক স্বয়ং লিখেছেন ভূমিকায়-
আমি উপন্যাসটি লিখি এবং মানিক স্মৃতি উপন্যাস প্রতিযোগিতায় জমা দিই। ওরা প্রথমে ৩০০ বইয়ের মধ্যে ১০০ বই বাছাই করে, তারপর ১০০ বইয়ের মধ্যে ২৮টা বই বাছাই করে, তারপরে ২৮টা বইয়ের মধ্যে বেছে নেয় ৭টা বই। 'শামুক' এই সাতটি বইয়ের মধ্যেও ছিল তবে প্রতিযোগিতায় কোন পুরস্কার লাভ করেনি। 'পূর্বমেঘ' পত্রিকায় যখন নিয়মিত লেখালেখি শুরু করি তখন উপন্যাসটি একটি মুসলিম কেরানি চরিত্রে রূপান্তর করে পত্রিকায় পাঠাই। 'পূর্বমেঘ'-এ তিন কিস্তিতে প্রকাশিত 'শামুক'-ই এখন বই আকারে বের হচ্ছে প্রকাশকের চাপে।

কথাপ্রকাশের জসীম উদ্‌দীন আমার প্রথম উপন্যাস ছাপবেনই। কাজেই আমি বাধ্য হয়ে রাজি হয়েছি। আমি এই উপন্যাসটির কোনো রকম সংশোধনে যাইনি। বিস্তৃত করা, সংশোধন বা কাটাকাটি করার জন্য হাত লাগাইনি। কারণ তা করলেই আমি জানি, বর্তমানের আমি এর মধ্যে ঢুকে পড়ব। যদি কাঁচা মনে হয় কাঁচাই মনে হোক, দরকচা মনে হয়, দরকচাই মনে হোক, জায়গায় জায়গায় কাঁচা, জায়গায় জায়গায় পাকা মনে 

---------------------
• হাসান আজিজুল হক রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-

• গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

• উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।
- তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং "শামুক" উপন্যাস হাসান আজিজুল হক।

৫,০৭৪.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা

• জীবন আমার বোন উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- একজন বাংলাদেশি লেখক।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

- তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
• কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।

৫,০৭৫.
‘কবি শ্রীমধুসূদন’ প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. খ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
⇒ মোহিতলাল মজুমদার রচিত প্রবন্ধ ‘কবি শ্রীমধুসূদন’। প্রবন্ধটি ১৩৫৪ খ্রিষাটাব্দে প্রকাশিত হয়।

• মোহিতলাল মজুমদার:

- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়। 
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,০৭৬.
“ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়” কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) আত্মজীবনী
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা

জসীমউদ্‌দীন (১৯০৩-১৯৭৬) : পল্লীকবি হিসেবে খ্যাত। তবে অনেকে মনে করেন তিনি আধুনিক কবি।

তার কাব্যগ্রন্থ -
- বালুচর,
- রাখালী,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

বিখ্যাত গাথাকাব্যগুলো হলো-
- নকশীকাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে।

তার রচিত ভ্রমণকাহিনি হলো-
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

নাট্যগ্রন্থ -
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধূমালা,
-পল্লীবধূ।

‘জীবন কথা’ হলো তার আত্মজীবনী।
‘যাদের দেখেছি’, ‘ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়’ হলো তার রচিত স্মৃতিকথা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৫,০৭৭.
শওকত ওসমান কোন উপন্যাসের জন্য 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন?
  1. জননী
  2. বনি আদম
  3. জাহান্নাম হতে বিদায়
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের জন্য 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

• ক্রীতদাসের হাসি:
- ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি আরব্য রজনী আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা-এর শেষ গল্প 'জাহাকুল আবদ'- এর অনুবাদ।
- রচনা এবং প্রকাশকাল অনুযায়ী ধারণা করা হয় এ উপন্যাসে রূপকারের আইয়ুবি স্বৈরশাসনের স্বরূপ এবং পূর্ব বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের অন্তর্সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি যেন মানব জীবনের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হাবশি গোলাম তাতরী, আব্বাসীয় খলিফা হারুণ অর রশিদ, মেহেরজান। 

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- বনি আদম, 
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- আর্তনাদ,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭৮.
'পঞ্চতন্ত্র' ও 'ময়ুরকন্ঠী' গ্রন্থদ্বয়ের লেখক কে?
  1. সৈয়দ আহমদ
  2. সৈয়স আলী আহসান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'পঞ্চতন্ত্র' 'ময়ুরকন্ঠী' গ্রন্থদ্বয়ের লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী। 

- শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে।
- তিনি সত্যপীর, রায়পিথোরা, ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী ইত্যাদি ছদ্মনামে আনন্দবাজার, দেশ, সত্যযুগ,  শনিবারের চিঠি, বসুমতী, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন। এছাড়া  মোহাম্মদী, চতুরঙ্গ, মাতৃভূমি,  কালান্তর, আল-ইসলাহ্  প্রভৃতি সাময়িক পত্রেরও তিনি নিয়মিত লেখক ছিলেন।

- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণকাহিনী
- দেশে-বিদেশে (১৯৪৯),
- জলে-ডাঙায় (১৯৬০);
- উপন্যাস
- অবিশ্বাস্য (১৯৫৪),
- শবনম (১৯৬০),
- শহ্র-ইয়ার (১৯৬৯);

রম্যরচনা
- পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২),
 -ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫২) 

ছোটগল্প
- চাচা-কাহিনী (১৯৫২),
- টুনি মেম (১৯৬৪)।

- মুজতবা আলীর ডি.ফিল অভিসন্দর্ভ The Origin of Khojahs and Their Religious Life Today (১৯৩৬) বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর আরেকটি অনবদ্য গ্রন্থ পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭৯.
'আমরা অপেক্ষা করছি' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
'আমরা অপেক্ষা করছি' গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত 'আমরা অপেক্ষা করছি' একটি গল্পগ্রন্থ।
- গল্পগ্রন্থটি মিনি মাগনার, চুমকুড়ি হাওয়া নেই, মাটির তলার মাটি, সমুখে শান্তি পারাবার, পাব্লিক সার্ভেন্ট, অচিন পাখি, এই কয়েকটি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
- নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবনের চিত্র, দারিদ্র্যের কষাঘাতে বিবর্ণ নর-নারীর প্রেমহীনতা, অসুস্থ রাজনীতির ছোবলে সন্তানহারা পিতার শোক ইত্যাদি বিষয় গল্পগুলোতে ফুটে উঠেছে।

---------------------
হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; আগুনপাখি, হাসান আজিজুল হক।
৫,০৮০.
'অবকাশরঞ্জনী' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. নুরুল মোমেন
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- নবীনচন্দ্র সেনের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'অবকাশরঞ্জনী'।
- এটি তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মচিন্তামূলক ভাবধারার কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক আখ্যানকাব্য পলাশীর যুদ্ধ।
- তাঁর রচিত ত্রয়ীকাব্য হলোঃ
• রৈবতক,
• কুরুক্ষেত্র ও
• প্রভাস।
- তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম 'আমার জীবন'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০৮১.
আলাউদ্দীন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানচিত্র
  2. সন্ধ্যা
  3. অন্ধকার সিঁড়ি
  4. স্মৃতির মিনার
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দীন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি  'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

• তার রচিতঁ গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৮২.
‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. আত্মস্মৃতি
ব্যাখ্যা
⇒ 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

⇒ শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
৫,০৮৩.
"মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো" - কোন ধরনের রচনা? 
  1. উপন্যাস
  2. শিশুতোষ গল্প 
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী 
ব্যাখ্যা

• "মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো" - কবি আল মাহমুদ-এর লেখা একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
-----------------

• আল মাহমুদ:

- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• 'মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো' কাব্য:
'মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো' হলো বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি আল মাহমুদ-এর লেখা একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা তার কবিতায় গ্রামীণ জীবন ও নারীবাদী চেতনার পাশাপাশি রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিষয়বস্তুর প্রতিফলন ঘটায় এবং এটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। 

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৮৪.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
  2. ক্ষুধা ও আশা
  3. কর্ণফুলী
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত প্রথম উপন্যাস
- ১৯৬০ সালে 'পদক্ষেপ' পত্রিকার ঈদসংখ্যায় এ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- একে তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। একজন চিত্রশিল্পীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তার জীবন ও প্রেমকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। এ সময়ে যাঁরা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করেন, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
- ছাত্রাবস্থায় আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদপত্রে খন্ডকালীন চাকরি করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস।
৫,০৮৫.
‘কুমুদ’, ‘মতি’ চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) পদ্মানদীর মাঝি
  2. খ) পুতুলনাচের ইতিকথা
  3. গ) অহিংসা
  4. ঘ) জননী
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
পুতুলনাচের ইতিকথা বাঙালি সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো :
- শশী,
- কুসুম,
- কুমুদ,
- মতি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]

৫,০৮৬.
বাংলাদেশে নতুনধারার নাটকের পথিকৃৎ কে?
  1. সেলিম আল দীন 
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে তিনি তাঁর সুবিস্তৃত নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন রচনায় লিখেছেন-শিল্পাদর্শে তিনি ছিলেন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী। আসলে, পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বৎসরের নন্দতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার পূর্বক তিনি বাংলা সাহিত্যে এক নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেছেন।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

উল্লেখ্য, 
"সেলিম আল দীন তাঁর নাটকে নিজের গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বাংলার লোকজ উপাদানকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চের পুরোনো ধ্যান-ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর শিল্পচিন্তার নাম ছিল 'কথানাট্য'। প্রতিটি নাটকে কবিতা, গান, গল্প ও নাট্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন সেলিম আল দীন। তিনি লোকজ উপাদানের সঙ্গে মিথ বা পুরাণকেও অসাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন।"
সুতারাং বলা যায় যে, সেলিম আল দীন বাংলাদেশে নতুনধারার নাটকের পথিকৃৎ।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা। 

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৫,০৮৭.
'ব্যোমকেশের ডায়েরি' কার রচনা?
  1. শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ঐতিহাসিক উপন্যাস, ইতিহাশ্রয়ী গল্প, সামাজিক গল্প, কবিতা সাহিত্যের প্রায় শাখাতেই বিচরণ করছেন।
- তার জন্ম উত্তর প্রদেশের জৌনপুর শহরে।
- তিনি কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে আইন নিয়তে পড়াশোনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- ব্যোমকেশের ডায়েরি,
- ব্যোমকেশের কাহিনি,
- ব্যোমকেশের গল্প,
- দুর্গরহস্য,
- রিড়িয়াখানা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,০৮৮.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত নাগরিক উপন্যাস কোনটি?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. আরণ্যক
  3. শাদা হাওয়া
  4. দৃষ্টি প্রদীপ
ব্যাখ্যা
• 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস:
- 'শাদা হাওয়া' অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস। এ উপন্যাস লেখা সম্পন্ন হয় ১৯৪২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, সোনার তরী পত্রিকায়।
- কলকাতায় বিলিতি সেনা, যাদের টমি নামে অভিহিত করা হত, তাদের আগমনকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখিত।
- উপন্যাসের চরিত্র গোয়েন্দা গোবিন্দ শর্মার চিন্তাবাক্যের সূত্রে বহু রাজনৈতিক সন্দর্ভ লিখেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। তাতে পুরনো ভারতচিন্তা যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে যুদ্ধবিরোধী ভাবনাও।

অন্যদিক, 
• অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রভৃতি আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
• 'আরণ্যক' ও 'দৃষ্টি প্রদীপ' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

উৎস: 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৮৯.
‘প্রবোধ প্রভাকর' – গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত গ্রন্থ সমূহঃ রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (সম্পাদনা, ১৮৩৩), প্রবোধ প্রভাকর, হিতপ্রভাকর, বোধেন্দুবিকাশ। তার সম্পাদিত পত্রিকা সংবাদ প্রভাকর। (১৮৩১)। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৫,০৯০.
ইমদাদুল হকের উপন্যাস নিচের কোনটি?
  1. জোহরা
  2. মানবজমিন
  3. সারাবেলা
  4. উত্তম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• ইমদাদুল হক মিলন রচিত উপন্যাস ‘সারাবেলা’।

• ইমদাদুল হক মিলন:

-  জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ বিক্রমপুরে জন্ম।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘বন্ধু’ ১৯৭৩ । প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন' ১৯৭৬। বাংলাদেশে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
- তাঁর রচিত তিন পর্বের দীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান' কালজয়ী সাহিত্য হিসেবে গণ্য। 

•তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দুঃখ কষ্ট,
- ও রাধা ও কৃষ্ণ,
- এক দেশ,
- প্রিয় নারী জাতি,
- ভূমিপুত্র,
- পরবাস,
- নায়ক,
- সারাবেলা,
- রূপনগর,
- কালো ঘোড়া,
- নূরজাহান,
- তখন ছিলাম আমি, 
- কথা ছিলো,
- আশায় আশায় থাকি,
- কোন কাননের ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জোহরা উপন্যাসটি মোজাম্মেল হক রচনা করেন। 
- 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,০৯১.
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সরদার জয়েন উদ্দীন
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

- সিরাজুল ইসলাম মূলত অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- 'গণতন্ত্রের সন্ধানে' তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
- তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ অন্বেষা, দ্বিতীয় ভুবন, নিরাশ্রয় গৃহী, আরণ্যক দৃশ্যাবলী, স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, বাঙালিকে কে বাঁচাবে, নেতা জনতা ও রাজনীতি, ভয় পেয়ো না বেঁচে আছি ইত্যাদি।
- 'বাবুলের বেড়ে ওঠা' তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।
- 'দরজাটা খোলো' তাঁর রচিত ছোটদের গল্প।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০৯২.
'বাদশাহ নামদার' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
বাদশাহ নামদার হুমায়ূন আহমেদ রচিত বাংলা ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ২০১১ সালে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়।
- বইটিকে হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম সেরা সৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।
- হুমায়ূন আহমেদ বাদশাহ নামদার বইটি লেখার সময় গুলবদন বেগম রচিত হুমায়ুন-নামা এবং জওহর আফতাবচির তাজকিরাতুল ওয়াকিয়াত গ্রন্থ থেকে ইতিহাসের ঘটনাবলি নিয়েছেন। আফতাবচি সম্রাট হুমায়ুনকে পানি পান করাতেন।
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (অপ্রকাশিত-পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৯৩.
সৈয়দ মুজতবা আলী’র উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) পঞ্চতন্ত্র
  2. খ) অবিশ্বাস্য
  3. গ) চাচা কাহিনী
  4. ঘ) জলে-ডাঙায়
ব্যাখ্যা
বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ ছাত্রদের নিয়ে রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ 'চাচা কাহিনী' রচনা করেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ভ্রমণকাহিনীঃ দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে-ডাঙায় (১৯৬০); উপন্যাসঃ অবিশ্বাস্য, শবনম; রম্যরচনাঃ পঞ্চতন্ত্র উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫,০৯৪.
'ছত্রপতি শিবাজী' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি সংগীতস্রষ্টা, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যপরিচালক ও নট। বাংলা থিয়েটারের স্বর্ণযুগ মূলত তাঁরই অবদান। তিনি অনেক নাটক রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো- ঐতিহাসিক নাটক- সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম, ছত্রপতি শিবাজী। সামাজিক নাটক- প্রফুল্ল, মায়াবসান, বলিদান। পৌরানিক নাটক- রাবণবধ, অভিমন্যুবধ, সীতার বনবাস, লক্ষ্ণণ বর্জন, সীতাহরণ, পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, জনা। চরিত্র নাটক-্ চৈতন্যলীলা, বিল্বমঙ্গল ঠাকুর, শঙ্করাচার্য। রোমান্টিক নাটক- মুকুলমুঞ্জরা, আবু হোসেন।
৫,০৯৫.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ইউরোপের চিঠি
  2. জার্মানির শহরে বন্দরে
  3. রাশিয়ার চিঠি
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা
• ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

অন্যদিকে,
- দেশে বিদেশে- সৈয়দ মুজতবা আলী।
- রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- জার্মানীর শহরে বন্দরে -  জসীম উদদীন।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৯৬.
নিচের কোন লেখকের সাহিত্যিক নাম 'আবুল হাসান'?
  1. আবুল হোসেন মিয়া
  2. আবুল হুসেন
  3. আবুল হোসাইন
  4. আবুল হাসান মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া।
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৯৭.
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কার লেখা?
  1. ইব্রাহীম খাঁ
  2. ডি. এল. রায়
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ': 
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,০৯৮.
নিচের কোন সাহিত্যিককে ধূসরতার কবি বলা হয়?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
ধূসরতার কবি বলা হয়।
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের।
- কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে।
- তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার ।
৫,০৯৯.
মহাকাব্যের কবি হিসেবে পরিচিত -
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি।
- 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী, 
- দশমহাবিদ্যা, 
- চিত্তবিকাশ, 
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১০০.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
•  উপন্যাসটি জেলে ও মৎসজীবীদের অন্ত্যজ জীবন নিয়ে রচিত। 
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থের নাম:
- নয়াবসত
- রামধনু,
- সাদা হাওয়া,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।