বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৪৯ / ৭৭ · ৪,৮০১৪,৯০০ / ৭,৬৪৬

৪,৮০১.
নিচের কোনটি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. প্রতিদিন ঘরহীন
  2. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  3. সোনলী কাবিন
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

• শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

অন্যদিকে,
- ’প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- শামসুর রহমান।
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাতটি তারার তিমির।
- আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ- সোনালী কাবিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮০২.
'বন্দর থেকে বন্দরে' কোন দেশের ভ্রমণকাহিনি ভিত্তিক রচনা?
  1. আফগানিস্তান
  2. জার্মানি
  3. ফ্রান্স
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে':
- 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সানাউল হক।
- ভ্রমণকাহিনিটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়ে বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
- উনিশ শ পঞ্চাশের দশকের প্রথমে সানাউল হক জাহাজে করে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি থেকে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'বন্দর থেকে বন্দরে'।

অন্যদিকে,
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'পথে প্রবাসে' প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে লন্ডন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপ ভ্রমণের চমকপ্রদ বর্ণনা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮০৩.
ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তার কোন বইয়ে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদের ভাষা বাঙলা?
  1. ক) বাংলা সাহিত্যের উৎপত্তি ও বিকাশ
  2. খ) বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ
  3. গ) বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  4. ঘ) বাঙলা সাহিত্যের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ইংরেজিতে ভয়াবহ বিশাল বই লিখেন 'বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ (১৯২৬)' নামে এবং প্রমাণ করেন চর্যাপদ আর কারো নয়, বাঙালির।
চর্যাপদ এর ভাষা বাংলা৷ এছাড়াও প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ডক্টর সুকুমার সেন, ডক্টর শশিভূষণ দাশগুপ্ত - তারা সবাই ভাষা বিষয়বস্তু পভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাঙলা ভাষায় রচিত৷
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ

৪,৮০৪.
১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ইছামতি
  2. অশনি সংকেত
  3. আরণ্যক
  4. বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা

• 'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কিভাবে বিস্তার লাভ করেছে তাঁর নিখুত বর্ণনা লাভ করেছে এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির পটভূমি বিভূতিভূষণের নিজ গ্রাম বরাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।
- এই উপন্যাসটি সত্যজিৎ রায় একই নামে চলচিত্রে রূপদান করেন।

অন্যদিকে, 
--------------------------
• 'ইছামতী' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু লেখকের নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা মানুষ।
- একান্ত অন্তরঙ্গ ভাবমূর্তিতে এদেরকে তিনি গড়ে তুলেছেন। গয়া মেম অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র। রাজারাম দেওয়ান পরম সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ, কিন্তু ইংরেজের চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হতে ছলচাতুরি ও জোচ্চুরি করেছে।

• ‘আরণ্যক' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস ।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

• 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থটির জন্যেই। 'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ- সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পৰ্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,৮০৫.
ত্রিশোত্তর কালের সাহিত্যিকার কারা?
  1. ক) উনিশ শ' ত্রিশের পর যে সাহিত্যকারকের জন্ম
  2. খ) উনিশ শ' ত্রিশের পর যে সাহিত্য রচনা শুরু করেন
  3. গ) উনিশ শ' ত্রিশের সাহিত্যবলয় থেকে যাঁরা মুক্ত হতে পারেননি।
  4. ঘ) তের শ' ত্রিশের পর যাদের সাহিত্য সুচনা ও বিকাশ হয়
ব্যাখ্যা
ত্রিশােত্তর কালের সাহিত্যকার হলেন যারা উনিশ শ' ত্রিশের সাহিত্যবলয় থেকে মুক্ত হতে পারেননি। এরূপ সাহিত্যকার হলেন শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, সমুদ্রগুপ্ত, সিকান্দার আবু জাফর প্রমুখ।
৪,৮০৬.
'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা। তবে তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র যিনি ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ- সাগরের রহস্যপুরী, এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, রহস্যের শেষ নেই, আবিষ্কারের নেশায়। শিশু ও বিজ্ঞান-বিষয়ক সম্পাদনা- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, বিজ্ঞান ও মানুষ, জানা-অজানার দেশে, তারার দেশের হাতছানি, বিচিত্র বিজ্ঞান, বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা, কীটপতঙ্গের বিচিত্র জগৎ, পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে, আজকের বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ইত্যাদি।
৪,৮০৭.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. দক্ষীণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. নীহাররঞ্জন রায়
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৪,৮০৮.
কোনটি শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস?
  1. দুই সৈনিক
  2. যাত্রা
  3. জলাংগী
  4. সৌরভ
ব্যাখ্যা

• 'যাত্রা' উপন্যাস:
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

অন্যদিকে,
শওকত ওসমান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক; 
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাংগী। 

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮০৯.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কতসালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৮৮২
  2. ১৯২২
  3. ১৯৮২
  4. ১৯২৬
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- জন্ম: ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে।
- ছন্দের জাদুকর ও ছন্দের রাজা হিসেবে খ্যাত।
- পৈতৃক নিবাস: বর্ধমানের চুপী গ্রামে।
- মৃত্যু: ১৯২২ সালের ২৫ জুন।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র ও আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,৮১০.
'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল রচিত উপন্যাস- চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ইত্যাদি। তাঁর রচিত প্রবন্ধ- শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি, বিচিত্র কথা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি। মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৮১১.
'ভলগার তীরে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. শওকত ওসমান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ভলগার তীরে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - নির্মলেন্দু গুণ।

নির্মলেন্দু গুণ:

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮১২.
কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছায়া হরিণ
  2. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  3. রাত্রিশেষে
  4. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।

⇒ আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮১৩.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. কখনো রং কখনো সুর 
  2. সাত নরী হার
  3. সহিষ্ণু প্রতীক্ষা
  4. এখন দুঃসময়
ব্যাখ্যা

• 'এখন দুঃসময়' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ :

  আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কাব্যগ্রন্থসমূহ : 
- কখনো রং কখনো সুর 
- কমলের চোখ
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪,৮১৪.
নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ীকাব্য নয় কোনটি?
  1. রৈবতক
  2. প্রভাস
  3. ভানুমতী
  4. কুরুক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ীকাব্য নয়- ভানুমতী।

-----------------------
• নবীনচন্দ্র সেন:

- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন ‘অবকাশরঞ্জিনী’ প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

• তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার জীবন’ গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
৪,৮১৫.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের 'ঠাকুরমার ঝুলি'র ভূমিকা লিখেছিলেন -
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
- ঢাকা জেলার সাভারের নিকটবর্তী উলাইল গ্রামে ১২৮৪ বঙ্গাব্দে (১৮৭৭) তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন রূপকথার লেখক, শিশুসাহিত্যিক। 
- তিনি 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি বিভিন্ন সময়ে 'সুধা' (১৯০১-১৯০৪), 'সারথি' (১৯০৮) ও 'পথ' (১৯৩০-৩২) নামে তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 'পথ' ছিল বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের মুখপত্র।
- দক্ষিণারঞ্জন কিছুদিন ওই পরিষদের সহ-সভাপতি (১৯৩০-৩৩) ছিলেন।
- পরিষদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষা-সমিতির সভাপতিরূপে তিনি বাংলায় বিজ্ঞানের অনেক পরিভাষা রচনায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- ১৩৬৩ বঙ্গাব্দে (১৯৫৭) কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

-  ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্য বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ঠাকুরমার ঝুলি'র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন।
- জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
 
• তাঁর রচিত উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১৬.
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. ক) প্রবন্ধ সংগ্রহ
  2. খ) মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য
  3. গ) তেল নুন লাকড়ি
  4. ঘ) ক + গ
ব্যাখ্যা
তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

- মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য - অধ্যাপক আনিসুজ্জামান রচিত একটি গবেষণাধর্মী বই।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮১৭.
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদের কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৮১৮.
‘আরেফ আলী’ নামের স্কুল মাস্টার চরিত্রটি আছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা
- 'আরেফ আলী' নামের স্কুল মাস্টার চরিত্রটি আছে চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে পাওয়া যায়।
- স্কুল মাস্টারকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।
- সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য কাদের এক যুবতীকে ধর্ষণ করে যা উপন্যাসে বর্ণিত আছে।
- উপন্যাসটিতে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- আরেফের মনোগত ক্রিয়া এই উপন্যাসের মৌল প্রতিপাদ্য বিষয়।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১৯.
কোনটি আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র নির্ভর নাটক?
  1. এখনও দুঃসময়
  2. সুবচন নির্বাসনে
  3. কোকিলারা
  4. শপথ
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।

তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলো:
- শপথ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮২০.
'শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে'- চরিণটির রচয়িতা কে?
  1. যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'শিশুগণ দেয় মন  নিজ নিজ পাঠে'- চরিণটির রচয়িতা: 'মদনমোহন তর্কালঙ্কার'। 
-----------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

• তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী, 
- বাসবদত্তা।

- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ;
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ এই বিখ্যাত উক্তিটি রচনা করেন তিনি।

- কবি-প্রতিভার জন্য  সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পান্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ  কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

পাখি-সব করে রব- কবিতা, 
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।।

ফুটিল মালতী ফুল, সৌরভ ছুটিল।
পরিমল লোভে অলি, আসিয়া জুটিল।।
গগনে উঠিল রবি, লোহিত বরণ।
আলোক পাইয়া লোক, পুলকিত মন।।

শীতল বাতাস বয়, জুড়ায় শরীর।
পাতায় পাতায় পড়ে, নিশির শিশির।।
উঠ শিশু মুখ ধোও, পর নিজ বেশ।
আপন পাঠেতে মন, করহ নিবেশ।।

উৎস: পাখি-সব করে রব- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২১.
ব্রাহ্মসমাজের সভার মুখপত্র ছিলো- 
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. কল্লোল 
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো। ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।

- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
--------------------
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা। দৈনিক পত্রিকা রূপে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়। 

• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাস। রবীন্দ্র-রোমান্টিক বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

• বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ সালে প্রথম মাসিক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভূত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮২২.
'বাংলা একাডেমি' প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন ছিলেন -
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. কায়কোবাদ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন: 
- তিনি ১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- তিনি ছিলেন 'বাংলা একাডেমি' প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টাদের মধ্যে একজন
- তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৩.
গোলাম মোস্তফা রচিত ‘বিশ্বনবী’ একটি -
  1. প্রবন্ধ
  2. ছোটগল্প
  3. গদ্যকাব্য
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’ হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর জীবন নিয়ে লেখা একটি গদ্যকাব্য।

• ‘বিশ্বনবী’:
- ‘বিশ্বনবী’ ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে নবীপ্রেম, গভীর আবেগ এবং সুললিত ভাষার মাধ্যমে তাঁর জীবন ও কর্ম ফুটে উঠেছে।
- বাংলা সীরাত সাহিত্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উচ্চমানের রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
-----------------------------------
গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭–১৯৬৪) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, লেখক ও অনুবাদক।
- তিনি মূলত ইসলামী ভাবধারার কবিতা লেখার জন্য খ্যাতি অর্জন করেন।
- তার উপাধি ছিল ‘কাব্য সুধাকর।
- এছাড়া তিনি ‘মুসলিম রেনেসাঁসের কবি’ নামেও পরিচিত ছিলেন।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি উপন্যাস, প্রবন্ধ, এবং আরবি ও উর্দু থেকে অনুবাদ করতেও পারদর্শী ছিলেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যরচনা হলো 'বিশ্বনবী'।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- গীতি সঞ্চয়ণ;
- রক্তরাগ ;
- খোশরোজ ;
- কাব্যকাহিনি;
- সাহারা;
- হাস্নাহেনা;
- বুলবুলিস্তান;
- তারানা ই পাকিস্তান বনি আদম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,৮২৪.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- উত্তরাধিকার (প্রথম প্রকাশিত), তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮২৫.
'সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা' প্রবন্ধটি কে রচনা করেছেন?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. যতীন সরকার
  3. আহমদ শরীফ
  4. রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• যতীন সরকার:
- জন্ম: নেত্রকোনা জেলার চন্দপাড়া গ্রামে
- তাঁর প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।
- প্রথম বইয়ের নাম ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’।
- ২০০৮ সালে তাঁর 'নির্বাচিত প্রবন্ধ' প্রকাশিত হয়েছে।
- প্রবন্ধ ও গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালের বাংলা একাডেমী পুরস্কার।

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- 'পাকিস্তানের জন্ম মৃত্যু-দর্শন',
- 'বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য',
- 'প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন'।

উৎস: দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা, ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’ গ্রন্থ।
৪,৮২৬.
বাংলা নাটকের ফর্ম ও ভাষা নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেছেন -
  1. ক) মঈনুল আহসান সাবের
  2. খ) মামুন আহমেদ
  3. গ) কায়েস আহমেদ
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের ফর্ম ও ভাষা নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী কাজ করছেন নাট্যকার সেলিম আল দীন।
ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
তিনি বাংলা নাটকের বিষয়বস্তু নির্বাচনেও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দিয়েছেন।
তার রচিত কয়েকটি নাটকঃ চাকা, ঘুম নেই, জন্দিস ও বিবিধ বেলুন, মুনতাসীরের ফ্যান্টাসি, কেরামতমঙ্গল, কীত্তনখোলা, হাতহদাই, হরগজ।
সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,৮২৭.
'বহিপীর' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:

- তরঙ্গভঙ্গ, 
- সুড়ঙ্গ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:

- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু, 
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৮.
'দরজাটা খোলো' সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রচিত -
  1. ক) গল্প
  2. খ) ছোটদের উপন্যাস
  3. গ) ছোটদের গল্প
  4. ঘ) অনুবাদ
ব্যাখ্যা
'দরজাটা খোলো' সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রচিত - ছোটদের গল্প।

• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।

তাঁর প্রকাশিত প্রধান গ্রন্থগুলো:
প্রবন্ধ-গবেষণা:
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী 
- অনতিক্রান্ত বৃত্ত
-  শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক 
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ  
- বাঙালি কাকের বলি
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া
- নেতা জনতা ও রাজনীতি
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ
- গণতন্ত্রের সন্ধানে

গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ

ছোটদের উপন্যাস :
- বাবুলের বেড়ে ওঠা

ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো

অনুবাদ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব 
- ইবসেনের বুনো হাঁস
- হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৮২৯.
হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
  2. জ্বলো চিতাবাঘ
  3. অলৌকিক ইস্টিমার
  4. কালো ঘোড়া
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- উপন্যাসটিতে হুমায়ুন আজাদ সামরিক-শাসন, স্বৈরাচার এবং একনায়কতন্ত্রের বিরোধিতা করতেন, সেটা তিনি রাশেদ চরিত্র দ্বারা বিভিন্ন রূপক এবং প্রতীকের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। 
 
-----------------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানা।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

• হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস-“কালো ঘোড়া”।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩০.
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক করেন কে?
  1. কালিদাস রায়
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- তাঁর পিতামহ শান্তিরাম সিংহ ছিলেন জোড়াসাঁকো জমিদারির দীউয়ান।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
⇒ হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। 

⇒ সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খণ্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যেরও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩১.
আলাউদ্দিন আল আজাদের কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জীবনজামিন
  2. মানচিত্র
  3. ধানকন্যা
  4. ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দীন আল আজাদের — 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি — 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

স্মৃতিস্তম্ভ- কবিতা,
- আলাউদ্দিন আল আজাদ।

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য। (সংক্ষেপিত)

-----------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

• তার রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৩২.
‘জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরনো শকুন’- কোন কবির রচনা?
  1. শহীদ কাদরী
  2. মাহাবুবুল আলম চৌধুরী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা ‘বাতাশে লাশের গন্ধ’ থেকে প্রশ্নের পঙক্তিটি নেওয়া হয়েছে।
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কাব্যগুলো :
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৮৩৩.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. জামিল চৌধুরী
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ:
- আহমদ শরীফ একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক হচ্ছেন - আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩৪.
“রেইনকোট” গল্পের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. শওকত ওসমান
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
 “রেইনকোট” ছোটগল্প:
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
৪,৮৩৫.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস?
  1. পঞ্চগ্রাম
  2. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
  3. ধাত্রীদেবতা
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৬.
নিচের কোনটি গিরিশচন্দ্র ঘোষের রচনা?
  1. ক) প্রফুল্ল
  2. খ) ভাঙ্গা বুক
  3. গ) হাসু
  4. ঘ) গজ কচ্ছপ
ব্যাখ্যা
প্রফুল্ল নাটকের রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ। ভাঙ্গা বুক উপন্যাসের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা। হাসু শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা জসীম উদদীন এবং গজ কচ্ছপ গ্রন্থের রচয়িতা জাহানারা ইমাম।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৮৩৭.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• 'রাজবন্দীর রোজনামচা' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থটি রচনা করেন - শহীদুল্লা কায়সার

শহীদুল্লা কায়সার:

- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৮.
'বঙ্গে সুফী প্রভাব' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. আবুল ফজল
  2. সুফী মোতাহার হোসেন
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গে সুফী প্রভাব' গ্রন্থটির রচয়িতা- মুহাম্মদ এনামুল হক। 
------------------------- 
• মুহম্মদ এনামুল হক: 
- ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।  
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন। 
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্ত্ত ছিল ‘History of Sufism in Bengal’। 
- বাংলা একাডেমী তাঁর নামে ‘মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক’ প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।
-----------
- 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক। 
- এই ভ্রমণকাহিনিতে তিনি বুলগেরিয়ার 'গ্যাব্রোভো' অঞ্চলের অধিবাসীদের হাস্যপরিহাস বর্ণনা করেছেন। 
- তার ভ্রমণ কাহিনি- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৯.
কোনটি হুমায়ুন কবির রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. অষ্টাদশী
  2. নদী ও নারী
  3. স্বপ্নসাধ
  4. সাথী
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন কবির রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় - নদী ও নারী

নদী ও নারী:
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

হুমায়ুন কবির:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী,
- অষ্টাদশী

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদী ও নারী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪০.
কোন উপন্যাসটি বিভূতিভূষণের লেখা নয়?
  1. ক) আরণ্যক
  2. খ) পথের পাঁচালী
  3. গ) কাজল
  4. ঘ) ইছামতি
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাসের অপুকে নিয়ে তৃতীয় পর্ব লিখেছিলেন তার ছেলে তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই তৃতীয় পর্বের প্রথম খন্ড 'কাজল' এবং দ্বিতীয় ও শেষখণ্ড 'তৃতীয় পুরুষ'।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৮৪১.
‘রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম’ অনুবাদ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. গ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯):
তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প (১৯২২),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১),
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬),
- দীওয়ান-ই-হাফিজ (১৯৩৮),
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ (১৯৪২),
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম (১৯৪২), [অনুবাদ গ্রন্থ]
- Essays on Islam (১৯৪৫),
- আমাদের সমস্যা (১৯৪৯),
- পদ্মাবতী (১৯৫০),
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খন্ড ১৯৫৩, ১৯৬৫),
- বিদ্যাপতি শতক (১৯৫৪),
- বাংলা আদব কী তারিখ (১৯৫৭),
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (১৯৫৭),
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৫৯),
- কুরআন শরীফ (১৯৬৩),
- অমরকাব্য (১৯৬৩),
- সেকালের রূপকথা (১৯৬৫) ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
ড. শহীদুল্লাহ ছাড়াও বাংলা ভাষায় কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬), কান্তি ঘোষ, নরেন দেব (১৮৮৮-১৯৭১), সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪), সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫), শক্তি চট্টোপাধ্যায়সহ (১৯৩৪-১৯৯৫) অনেকে রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম অনুবাদ করেছেন।
তবে কাজী নজরুল ইসলাম ফারসি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে এক অপূর্ব ও অসাধারণ অবদান।


উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিবেদন।

৪,৮৪২.
আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা ও কাফেলা নাটকগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আসকার ইবনে শাইখ
  3. গ) ইব্রাহীম খাঁ
  4. ঘ) শাহাদাৎ হোসেন
  5. ঙ) মামুনর রশীদ
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা ও কাফেলা নাটকগুলো ইব্রাহিম খাঁ রচিত। তস্কর-লস্কর ও আনারকলি যথাক্রমে শওকত ওসমান ও শাহাদাৎ হোসেনের নাটক। বিদ্রোহী পদ্মা ও এপার-ওপার হলো আসকার ইবনে শাইখের নাটক৷ ওরা কদম আলী, এখানে নোঙর, সময়-অসময় নাটকগুলো মামুনুর রশীদের। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৪,৮৪৩.
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) মুকত ওসমান
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।
উপন্যাসঃ লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৮৪৪.
নিচের কোনটি কবি আহসান হাবীবের রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. রাণীখালের সাঁকো
  2. বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
  3. আশায় বসতি
  4. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
ব্যাখ্যা
⇔ আহসান হাবীব:  
• কবি ও পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। 
• আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন।
• ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি “দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।  
• কলকাতায় তিনি তকবীর, বুলবুল ও সওগাত পত্রিকায় কাজ করেন। 

⇒ তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: 
• জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
• বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
• ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি। 

- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।  
⇒ তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:   
• ছায়াহরিণ,
• সারা দুপুর,
• আশায় বসতি,
• মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
• দুহাতে দু আদিম পাথর,
• প্রেমের কবিতা,
• বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি। 

⇒ তাঁর দুটি বিশিষ্ট  উপন্যাস হলো;  
• অরণ্য নীলিমা ও
• রাণীখালের সাঁকো। 
⇒ ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৫.
রমা ও বেণী কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) শ্রীকান্ত
  2. খ) পথের দাবী
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
⇒ 'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

• শরৎচন্দ্রের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ও তার চরিত্র: 
⇒ ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাস: ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, গহর প্রমুখ।
⇒ 'পথের দাবী' উপন্যাস: ভারতী, সব্যসাচী ওরফে ডাক্তার সাহেব।
⇒ ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাস: সতীশ, সাবিত্রী ও কিরণময়ী। 
⇒ ‘গৃহদাহ’ উপন্যাস: অচলা, সুরেশ ও মহিম। 
⇒ ‘দত্তা’ উপন্যাস: বিজয়া, রাসবিহারী, নরেন ও রমা। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৪৬.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটির লেখক কে? 
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) আহম্মেদ শরীফ
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান 
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই (২৬ নভেম্বর ১৯১৯ মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ - ৩ জুন ১৯৬৯) বাংলা ভাষার প্রধানতম ধ্বনিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।

• উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলো:
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪)
- বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন (১৯৫৮)
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯)
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর)।
৪,৮৪৭.
'খোয়াবনামা’ উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৮.
সুকুমার রায় কি ধরণের সাহিত্যের জন্য বহুল সমাদ্রিত?
  1. গীতিকাব্য
  2. উপন্যাস
  3. কথা সাহিত্য
  4. শিশু সাহিত্য
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৯.
'ওরা কদম আলী' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চ আন্দোলনের পথিকৃত। তাঁর নাট্যকর্মে প্রখর সমাজ সচেতনতা লক্ষনীয়। শ্রেণী সংগ্রাম তার নাটকের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক- পশ্চিমের সিঁড়ি, গন্ধর্ব নগরী, ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, ইলিশ, এখানে নোঙর, গিনিপিগ ইত্যাদি।
৪,৮৫০.
শহীদুল্লাহ কায়সারের মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সারেং বউ
  2. খ) সংশপ্তক
  3. গ) পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. ঘ) যাত্রা
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- 'সংশপ্তক' (১৯৬৫) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- এই উপন্যাসকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৮৫১.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. জীবন আমার বোন
  4. কালো বরফ
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে, 
• 'অনিল বাগচীর একদিন' ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
• 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বইটি শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৫২.
জলোচ্ছ্বাস উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
জলোচ্ছ্বাস উপন্যাসের রচয়িতা- 'সেলিনা হোসেন'। 

সেলিনা হোসেন
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৪,৮৫৩.
কোন দুইটি কাব্যগ্রন্থের জন্য আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’ ও ‘সোনালি কাবিন’
  2. খ) ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’
  3. গ) ‘সোনালি কাবিন’ ও ‘পানকৌড়ির রক্ত’
  4. ঘ) ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি তিনি।
প্রধান সাহিত্যকর্ম-
কাব্যগ্রন্থঃ লোক লোকান্তর (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন ( আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়, ১৯৭৩), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৭৬), বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থঃ পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ।
উপন্যাসঃ কবি ও কোলাহল (১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস), ডাহুকী, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, চেহারার চতুরঙ্গ, কাবিলের বোন ইত্যাদি।
১৯৬৮ সালে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা]
৪,৮৫৪.
‘নয়ন ঢুলি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন 
  2. সরদার জয়েনউদ্দীন
  3. সমর সেন 
  4. শামসুজ্জামান খান 
ব্যাখ্যা

‘নয়ন ঢুলি’ উপন্যাসের রচয়িতা সরদার জয়েনউদ্দীন।
------------------------------------
সরদার জয়েনউদ্দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ছিলেন চল্লিশের দশকের একজন গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
- তিনি শিশুতোষ রচয়িতা হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- তিনি পাবনার কামারহাটি গ্রামের কৃষক পরিবারে ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।
- সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক পাকিস্তান, সংবাদ, ইত্তেফাক, অবজার্ভার পত্রিকা এবং বাংলা একাডেমী, ন্যাশনাল বুক সেন্টার, বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ড প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
- কথাসাহিত্যে তাঁর পরিচয় জনসম্মুখে আসে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ নয়ন ঢুলি দিয়ে।
-
সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯৮৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থসমূহ:
- নয়ন ঢুলি;
- বীর কণ্ঠীর বিয়ে;
- খরস্রোত;
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম;
- অষ্টপ্রহর। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :
- নীল রং রক্ত;
- পান্নামতি;
- আদিগন্ত;
- অনেক সূর্যের আশা;
- বেগম শেফালী মির্জা;
- বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ।

• তাঁর বিখ্যাত শিশুতোষ রচনা:
- উল্টো রাজার দেশ;
- অবাক অভিযান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪,৮৫৫.
'নবান্ন' নাটক কার রচনা?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. মামুনুর রশিদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৫৬.
’দি আগলি এশিয়ান’ উন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
ব্যাখ্যা

 • ‘দি আগলি এশিয়ান’ উপন্যাস:
-  ‘দি আগলি এশিয়ান’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহরকে (নাম নেয়া হয়নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।
- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
- এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৫৭.
এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) কালিকলম
  3. গ) সবুজপত্র
  4. ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৪,৮৫৮.
'ক্ষুধা ও আশা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা ও আশা' উপন্যাস:
- 'ক্ষুধা ও আশা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

- ১৯৪৩ সালে যুদ্ধরত ঔপনিবেশিক শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় স্বার্থান্বেষী দেশীয় হিংস্র শোষক শ্রেণী পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ থাকা সত্ত্বেও যে মহা দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করে, তাতে কিংবদন্তীর উর্বরতার ভাণ্ডার বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ অসহায় শ্রমিক-কৃষক নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত গ্রামে গ্রামে শহরে বন্দরে মহানগরীতে অভিজাত ধনাঢ্যব্যক্তিদের চোখের সামনে মৃত্যুবরণে বাধ্য হয়: এই উপন্যাস তারই এক শাদামাটা কাহিনি।

-কিশোর লেখকের নিজের চোখে দেখা যে বাস্তবতা: তুখোড় সমালোচকগণ এর নান্দনিক মূল্যায়ন যা-ই করুন, ক্ষুধা ও আশা যে বিপন্ন মানব অস্তিত্বের এক প্রামাণ্য দলিল তাতেসবাই নিঃসন্দেহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'ক্ষুধা ও আশা' উপন্যাস।
৪,৮৫৯.
আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি কোন ঘটনার পটভূমিতে লেখা?
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- 'ওঙ্কার' উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৬০.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. অতিরিক্ত সংস্কৃত শব্দচয়ন
  2. সংক্ষিপ্ত বাক্য এবং কঠোর যুক্তিনিষ্ঠতা
  3. বহুভাষার শব্দ, বাগ্‌ধারা ব্যবহার
  4. সম্পূর্ণ প্রমিত ও কঠোর সাহিত্যভাষা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাশৈলী ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য:
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা রম্যরচনার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন ভাষা থেকে শ্লোক, রূপক, শব্দ, বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচনের যথার্থ ব্যবহার, সূক্ষ্ম হাস্যরস সৃষ্টিতে দক্ষতা এবং গভীর জীবনবোধকে সহজ–সরল অথচ বুদ্ধিদীপ্ত ভাষায় প্রকাশ করার অসামান্য ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রম্যরচনায় তাঁর ভাষাভঙ্গি এমন স্বতন্ত্র—যা অনুকরণ করা আজও কোনো বাংলা সাহিত্যিকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ তাঁর স্টাইল ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং বহু ভাষাগত উপাদানে সমৃদ্ধ। তিনি ছিলেন এক বহুভাষাবিদ; ফলে তাঁর রচনায় প্রবেশ করেছে বহুভাষার অজস্র শব্দ, বিশেষ উচ্চারণরীতি, ভাষাভঙ্গি, বাগধারা এবং শব্দচয়নের অভিনবত্ব।

বিভিন্ন ভাষার শব্দ, শব্দাংশ বা ধ্বনি মিলিয়ে তিনি অসংখ্য নতুন শব্দ বা ‘জোড়কমল শব্দ’ সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁর রচনাকে দিয়েছে আলাদা স্বকীয়তা, মাধুর্য এবং অনবদ্য রসের স্বাদ।

সাহিত্যিক সৃজনশীলতা, ভাষার খেলায় দক্ষতা, আর রসিকতাকে জীবনের গভীর সত্যের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষমতার জন্যই সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যে একমাত্র ও অদ্বিতীয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।

৪,৮৬১.
'প্রথম আলো' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
♦ 'প্রথম আলো' উপন্যাস:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রথম আলো'। 
- এই উপন্যাসটি ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং এর ইংরেজি অনুবাদ অক্সফোর্ড প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।
- দীর্ঘ প্রবাহিত এই উপন্যাসটির শুরু হয় ত্রিপুরার এক রাজপরিবারের কাহিনি দিয়ে। তারপরে তা ক্রমে ক্রমে এসে দাড়ায় কলকাতার ঠাকুর পরিবারে এবং তৎকালীন অন্যান্য বিশিষ্ট সব মানুষদের নিয়ে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলি সবই প্রায় বাস্তব বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক চরিত্র।
- রবীন্দ্রনাথ, নরেন্দ্রনাথ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, নটী বিনােদিনী, গিরিশচন্দ্র প্রভৃতি চরিত্রের সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
- লেখক প্রথম রবীন্দ্রনাথকে উপন্যাসের চরিত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
- এছাড়াও উপন্যাসের মূল চরিত্র হিসেবে রয়েছে দুটি কাল্পনিক চরিত্র “ভরত ও ভূমিসুতা”।
- উপন্যাসটির ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসসমূহ:
- পূর্ব-পশ্চিম,
- সেই সময়,
- প্রথম আলো,
- একা এবং কয়েকজন।

উৎস: ‘প্রথম আলো’ উপন্যাস, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
৪,৮৬২.
নিচের কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. নবান্ন
  2. বহিপীর
  3. চাকা
  4. কবর
ব্যাখ্যা

• ‘চাকা’ নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘চাকা’।
- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।
- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।


অন্যদিকে,
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক- বহিপীর। 
- “কবর” মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক।
- বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন' একটি নাটক।

• সেলিম আল দীন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৬৩.
‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. নির্মেলেন্দু গুণ
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
• ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’ ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়, যেখানে লেখকের নাম হিসেবে পাওয়া যায় টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)।
- উনিশ শতকের কলকাতার শিক্ষিত বাঙালিদের, বিশেষত পুরুষদের জীবনযাপন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক রচনা ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’।

-----------------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর সাহিত্যিক ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়?,
- আধ্যাত্মিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৬৪.
'বেদান্তগ্রন্থ' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
বেদান্তগ্রন্থ:
- 'বেদান্তগ্রন্থ' (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।
 
রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।
 
তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬৫.
মোকাজান মিঞা প্যারীচাঁদ মিত্রের কোন উপন্যাসটির জীবন্ত চরিত্র?
  1. ক) রামারঞ্জিকা
  2. খ) আলালের ঘরের দুলাল
  3. গ) যৎকিঞ্চিৎ
  4. ঘ) গীতাঙ্কুর
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম উপন্যাস আলালের ঘরের দুলাল।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- ঠকচাচা চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল।
-  মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি ও প্রানময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- কেউ বলেন ‘আলালের ঘরের দুলাল’  বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ।

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
-  প্যারীচাঁদ মিত্র ২২শে জুলাই ১৮১৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২৩শে নভেম্বর ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:  
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং
- বামাতোষিণী 
- যৎকিঞ্চিৎ
- গীতাঙ্কুর
 
• The Zamindar and Royats: এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কারণ, এটি রচিত হয়েছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬৬.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি কোন ধরণের?
  1. ক) রোমান্টিক
  2. খ) অতিনাটক
  3. গ) করুণ রসাত্মক
  4. ঘ) ব্যঙ্গ বিদ্রুপাত্মক
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি করুণ রসাত্মক
- এক অপরিসীম যন্ত্রনাদগ্ধ পরিণতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে রচনাটি। 
- ট্র্যাজেডিসদৃশ বেদনাবহতা এই নাটকে বিদ্যমান। 
- নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞা একইভাবে ট্র্যাজিডির শিল্পমানকে স্পর্শ করেছে। 

 সিকান্দর আবু জাফর(১৯১৯-১৯৭৫):
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক সিকান্দর আবু জাফর এর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ,  ইত্তেফাক,  সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
উপন্যাস
- পূরবী (১৯৪১),
- নতুন সকাল (১৯৪৬);

ছোটগল্প
- মাটি আর অশ্রু (১৯৪২),
- কবিতা প্রসন্ন শহর (১৯৬৫),
- তিমিরান্তিক (১৯৬৫),
- বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫),
- বৃশ্চিক-লগ্ন (১৯৭১),
- বাংলা ছাড়ো (১৯৭১);

নাটক
- সিরাজ-উদ-দৌলা (১৯৬৫),
- মহাকবি আলাউল (১৯৬৬)।

আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন।
তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস (১৯৫৯),
- সেন্ট লুইয়ের সেতু (১৯৬১),
- রুবাইয়াৎ : ওমর খৈয়াম (১৯৬৬) ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৪,৮৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ -এর রচয়িতা কে?
  1. ক) গোবিন্দ হালদার
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা

সিকান্দার আবু জাফর রচিত সংগ্রামের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’।
গোবিন্দ হালদার - এক সাগর রক্তের বিনিময়ে/মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে/পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে...
নজরুল ইসলাম বাবু - সব কটা জানালা খুলে দেও না।
আবদুল লতিফ - ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো আর্কাইভ।

৪,৮৬৮.
'কবর' নাটক কোন বিদেশি নাটকের অনুকরণে লেখা?
  1. Bury The Dead
  2. Buried Emotion
  3. Deadman Land
  4. Buried Island
ব্যাখ্যা
• কবর:
- একাঙ্ক বিশিষ্ট 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead অবলম্বনে রচিত।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- প্রকাশ্যে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৫৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে উদযাপন উপলক্ষে।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৪,৮৬৯.
প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন-
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সোমেন চন্দ
  4. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য—উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- গল্প,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ ও
- একগ্লাস অন্ধকার উলে­খযোগ্য।

অন্যদিকে,
- শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- সোমেন চন্দ ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৭০.
‘বনফুল’ রচিত ‘বিদ্যাসাগর’ কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) জীবনীনাটক
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'বনফুল' বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম। তিনি ১৮৯৯ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। 'শনিবারের চিঠি' নামক ব্যঙ্গ কবিতার মাধ্যমে তিনি তার সাহিত্যকর্ম শুরু করেন। গল্প, কবিতা, উপন্যাস রচনার পাশাপাশি তিনি নাটক রচনা করেছেন।
বনফুলকে জীবনীনাটক রচনার পথিকৃৎ বলা হয়। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত 'শ্রীমধুসূদন'এবং ১৯৪২ সালে প্রকাশিত 'বিদ্যাসাগর' তাঁর রচিত জীবনীনাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৮৭১.
‘শঙ্খমালা’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
⇒ শঙ্খমালা’ কবিতা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'শঙ্খমালা’। 
- এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

• জীবনানন্দ দাশ
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর এডগার অ্যালান পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৮৭২.
'আত্মঘাতী বাঙালি' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) অশোক মিত্র
  2. খ) দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. ঘ) অতুল সুর
৪,৮৭৩.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসে নির্যাতিতা কালো মেয়েটি কে?
  1. আমেনা
  2. নাজমা
  3. জীবন
  4. রেণু
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা' রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়। কর্তব্যের তাগিদেই, মহান মুক্তিযুদ্ধের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অধুনা বিস্মৃত এই উপন্যাসটি পুনর্প্রকাশিত হলো।

- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়ের সর্বশেষ উপন্যাস।

- উপন্যাসে পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে ‘স্পাই’ হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে: 
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভোলো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।’

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
সংগীত শিল্পী ও ট্রানজিস্টার-মেকানিক ডেভিড ভিক্ষাজীবী পিতার কন্যা নাজমার সঙ্গে সঙ্গীত-প্রতিভায় বিমুগ্ধ ছিল। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। তবে, উপন্যাসটিতে ব্যক্তিগত কথকতা ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার সমাজ-রাজনীতি, গণহত্যা ও বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস।
৪,৮৭৪.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত উপন্যাস-
  1. গ্রানাডার শেষ বীর
  2. অজ্ঞাতবা
  3. কলঙ্কবতী
  4. অপসরণ
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

অন্যদিকে,
•  অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত উপন্যাস:
- কলঙ্কবতী, 
- অজ্ঞাতবাস, 
- অপসরণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৭৫.
শহীদুল্লাহ কায়সারের স্মৃতিকথা কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) তিমির বলয়
  3. গ) কারাগারের রোজনামচা
  4. ঘ) রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথা ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৮৭৬.
‘মুকুল’ নামে ছোটদের জন্য প্রকাশিত ম্যাগাজিনের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. লুৎফর রহমান
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- তিনি ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- তিনি বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ' এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' (১৯৫৫)।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

তার রচিত গ্রন্থ:
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিজ্ঞানের বিস্ময়,
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান,
- নতুন দিগন্ত,
- মহাকাশে কী ঘটছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৭৭.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত-
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:  
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 
 
তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।
 
তাঁর উলে­খযোগ্যে উপন্যাস:
• অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
• কঙ্কাবতী,
• যার যেথা দেশ,
• দুঃখমোচন,
• মর্তের স্বর্গ।

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রবন্ধ:  
• তারুণ্য, 
• জীবনশিল্পী,
• ইশারা,
• আধুনিকতা ইত্যাদি।  

অন্যদিকে,
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- ফররুখ আহমেদ ছিলেন মুসলিম জাগরণ এবং ইসলামি স্বাতন্ত্র‌্যবাদী কবি।

উৎস: ‘বিনুর বই’  অন্নদাশঙ্কর রায় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৭৮.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. মাহবুবুল আলম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ
- জীবন আমার বোন
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তন্দ্রা
- অশরীরী
- চিক্কোর কাবুল 
- খেলাঘর
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৭৯.
‘কর্ণফুলী’ উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনা
  2. শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট
  3. চাকমা উপজাতির জীবন ও সংগ্রাম
  4. নারী স্বাধীনতা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

'কর্ণফুলী' উপন্যাস:
বাংলা উপন্যাস জগতে আলাউদ্দিন আল আজাদের “কর্ণফুলী” একটি ব্যতিক্রমধর্মী সৃষ্টি। পাহাড় ও সমুদ্রবেষ্টিত এক বিশেষ জনপদের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে লেখক চিত্রিত করেছেন উপমহাদেশের একটি অনন্য সংস্কৃতির জীবনধারা— চাকমা উপজাতির সংগ্রাম, প্রেম ও অস্তিত্বের গল্প।

উপন্যাসের প্রধান চরিত্ররা হলেন রাঙ্গামিলা, চাকমা দেওয়ানপুত্র, বাঙালি ইসমাইল, জলি ও রমজান। তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ ও সামাজিক বাস্তবতা লেখক গভীর মানবিক দৃষ্টিতে তুলে ধরেছেন। এখানে পাহাড়ি জীবনের কষ্ট, জাতিগত বৈষম্য এবং প্রান্তিক মানুষের সংগ্রাম নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসে চাকমা ভাষার ব্যবহার লেখাটিকে আরও বাস্তব ও জীবন্ত করেছে।
- ‘কর্ণফুলী’ মূলত একটি উপজাতীয় জীবনের কাহিনি, যেখানে মানুষ, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে এক চিরন্তন মানবিক সুরে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম: ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৪,৮৮০.
‘নবান্ন’ নাটকের বিষয়বস্তু কী ?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
  4. ঘ) গণ অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক। 

বিজন ভট্টাচার্য নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন৷
তিনি 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটি রচনা করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
তার রচিত অন্যান্য নাটক-
- জনপদ
- কলঙ্ক
- মরাচাঁদ
- অবরোধ
- গোত্রান্তর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮১.
টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. শ্যামা সংগীত
  2. গীতরত্ন
  3. জ্ঞানপ্রদীপ
  4. সংগীতমাধব
ব্যাখ্যা
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)। 
- বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
 বিনে স্বদেশীয় ভাষা
  পুরে কি আশা।।"

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮২.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) শেষ রাত্রির তারা
  2. খ) মুক্তি
  3. গ) দেয়াল
  4. ঘ) প্রপঞ্চ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত গল্পগ্রন্থ হলোঃ জীবন, শেষ রাত্রির তারা, এক জোড়া প্যান্ট ও অন্যান্য, রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, ল্যাংড়ী। মুক্তি, দেয়াল, প্রপঞ্চ হলো লেখকের রচিত উপন্যাস। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,৮৮৩.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. মেঘের পরে মেঘ
  2. যাত্রা
  3. যুদ্ধ
  4. হিজল কাঠের নৌকা
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত নাটক ‘হিজল কাঠের নৌকা’

অন্যদিকে,
⇒ “মেঘের পর মেঘ” উপন্যাস:
• রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস “মেঘের পর মেঘ”। উপন্যাসটি অবলম্বনে, বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ২০০৪ সালে একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র - মেঘের পরে মেঘ।

⇒ 'যাত্রা' উপন্যাস:
• শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
• ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান ।

⇒ 'যুদ্ধ' উপন্যাস:
• 'যুদ্ধ' ১৯৭১ সালে সংঘটিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
• লেখক এ উপন্যাসে যুদ্ধের বিভিন্ন মাত্রা অনুসন্ধানে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, মনন এবং কল্পনাশক্তির ব্যবহার করছেন। তিনি যুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন ব্যক্তির বেঁচে থাকার সঙ্কট, মূল্যবোধের রূপান্তর, ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুষঙ্গে আঘাত, মৃত্যু, স্বজন হারানোর বেদনার ভেতর দিয়ে।
• তিনি যুদ্ধের দেশীয় প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন একটি সেক্টরের সরাসরি যুদ্ধকে চিত্রিত করে এবং অগণিত মানুষের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও যুদ্ধ সম্পর্কিত দেশজ-ঐতিহ্য সংলগ্ন ভাবনার ভেতর দিয়ে।
• এ উপন্যাসে একটি চরিত্র আছে। যার কোনো নাম নেই। 'লোকটি' অভিধায় যে দেশের সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। অস্ত্রচালনার ট্রেনিং নেয়- যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের পাশে পাশে থাকে । গ্রামে, গঞ্জে, শহরে, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। পুরো উপন্যাস জুড়ে সে একটি প্রতীকী চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্রকন্ঠর; কালের কণ্ঠ রিপোট; ‘যুদ্ধ’ উপন্যাস সেলিনা হোসেন।

৪,৮৮৪.
'চাচা কাহিনীর' লেখক-
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীঃ

- দেশে বিদেশে,
- জলে ডাঙ্গায়।
তাঁর বিখ্যাত রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।
তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৪,৮৮৫.
‘বসন্তকুমারী’ নাটকটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৭৩
  2. খ) ১৮৬১
  3. গ) ১৮৬০
  4. ঘ) ১৮৫৪
ব্যাখ্যা

মুসলিম প্রথম ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
- গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু (১৮৭৩),
- বসন্তকুমারী নাটক (১৮৭৩),
- জমিদার দর্পণ (১৮৭৩),
- এর উপায় কি (১৮৭৫),
- বিষাদ-সিন্ধু (১৮৮৫-১৮৯১),
- সঙ্গীত লহরী (১৮৮৭),
- গো-জীবন (১৮৮৯),
- বেহুলা গীতাভিনয় (১৮৯৮),
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০),
- তহমিনা (১৮৯৭),
- টালা অভিনয় (১৮৯৭),
- নিয়তি কি অবনতি (১৮৮৯),
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (১৮৯৯),
- মৌলুদ শরীফ (১৯০৩),
- মুসলমানদের বাঙ্গালা শিক্ষা (দুই ভাগ ১৯০৩, ১৯০৮),
- বিবি খোদেজার বিবাহ (১৯০৫),
- হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ (১৯০৫),
- মদিনার গৌরব (১৯০৬),
- বাজীমাৎ (১৯০৮),
- আমার জীবনী (১৯০৮-১৯১০),
- আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম (১৯১০) ইত্যাদি।

- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
- তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৮৬.
সৈয়দ মুজতবা আলী মূলত কোন ধরনের রচনার জন্য বিখ্যাত?
  1. রম্য নাটক
  2. আধুনিক উপন্যাস
  3. মহাকাব্য
  4. রম্যরচনা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাশৈলী ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য:
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা রম্যরচনার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন ভাষা থেকে শ্লোক, রূপক, শব্দ, বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচনের যথার্থ ব্যবহার, সূক্ষ্ম হাস্যরস সৃষ্টিতে দক্ষতা এবং গভীর জীবনবোধকে সহজ–সরল অথচ বুদ্ধিদীপ্ত ভাষায় প্রকাশ করার অসামান্য ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি রম্যরচনার জন্য বিখ্যাত।

রম্যরচনায় তাঁর ভাষাভঙ্গি এমন স্বতন্ত্র—যা অনুকরণ করা আজও কোনো বাংলা সাহিত্যিকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ তাঁর স্টাইল ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং বহু ভাষাগত উপাদানে সমৃদ্ধ। তিনি ছিলেন এক বহুভাষাবিদ; ফলে তাঁর রচনায় প্রবেশ করেছে বহুভাষার অজস্র শব্দ, বিশেষ উচ্চারণরীতি, ভাষাভঙ্গি, বাগধারা এবং শব্দচয়নের অভিনবত্ব।

বিভিন্ন ভাষার শব্দ, শব্দাংশ বা ধ্বনি মিলিয়ে তিনি অসংখ্য নতুন শব্দ বা ‘জোড়কমল শব্দ’ সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁর রচনাকে দিয়েছে আলাদা স্বকীয়তা, মাধুর্য এবং অনবদ্য রসের স্বাদ।

সাহিত্যিক সৃজনশীলতা, ভাষার খেলায় দক্ষতা, আর রসিকতাকে জীবনের গভীর সত্যের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষমতার জন্যই সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যে একমাত্র ও অদ্বিতীয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।

৪,৮৮৭.
'ছুটির দিন দুপুরে' শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই।
- সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

• এ ছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: জ্যোৎস্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭), ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮৮.
'আয়নায় বন্ধুর মুখ' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক।
• আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে।
• তিনি এ নাটকটি রচনা করেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের জন্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা দরকার যে, মামুন ‘শপথ’ রচনার আগে ‘নিয়তির পরিহাস’, ‘বিন্দু বিন্দু রং’ শীর্ষক দুটো মৌলিক নাটক ছাড়া ক্রিস্টোফার মার্লোর ‘ডক্টর ফস্টাস’ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।
• এছাড়াও তিনি নাট্যনিরীক্ষা করতে গিয়ে ‘ঋতুরাজ’ শীর্ষক এক কাব্যনাটক রচনা করেছিলেন।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- আয়নায় বন্ধুর মুখ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- সেনাপতি,
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- ক্রসরোড ক্রস ফায়ার,
- এখনও ক্রীতদাস,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- আমাদের সন্তানেরা,
- কোকিলারা,
- মাইক মাস্টার,
- মেরাজ ফকিরের মা,
- মেহেরজান আরেকবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৮৯.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ক) জামিলা
  2. খ) জয়গুন
  3. গ) শশী
  4. ঘ) তাহেরা
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' 
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 
------------------------
• আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০),  ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।  

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম, 
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯০.
'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা', 'কালপুরুষ' - ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. নবীনচন্দ্র দাশ
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা
'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা', 'কালপুরুষ' - ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা সমরেশ মজুমদার।

সমরেশ মজুমদার (জন্ম: ১০ মার্চ ১৯৪২):
- বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক।
- সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস “দৌড়” ছাপা হয়েছিলো দেশেই ১৯৭৫ সালে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে
- সাতকাহন,
- তেরো পার্বণ,
- স্বপ্নের বাজার,
- উজান,
- গঙ্গা,
- ভিক্টোরিয়ার বাগান,
- আট কুঠুরি নয় দরজা,
- অনুরাগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

- তার ট্রিলজি 'উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ' বাংলা সাহিত্য জগতে তাকে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী করেছে।

আরও কিছু লেখকের ত্রয়ী উপন্যাস: 
⇒ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' ও 'সীতারাম'
⇒ নবীনচন্দ্র সেন:  'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র' ও 'প্রভাস'
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পথের পাঁচালি;, 'অপরাজিত' ও 'কাজল'
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'
⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : 'সেই সময়', 'প্রথম আলো' ও 'পূর্ব-পশ্চিম'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯১.
সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম কী?
  1. মইনুদ্দিন আল দীন
  2. মাইন উদ্দিন আহমেদ
  3. মইনুদ্দিন আহমেদ
  4. মফিজ উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
. সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ
- অল্প বয়স থেকেই সেলিম আল দীনের লেখক জীবন শুরু হলেও ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯২.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতার নাম-
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. নজিবর রহমান
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- বিশ শতকের প্রথম দ্বিতীয় দশকের গ্রামীণ মধ্যবিত্ত মুসলিম জীবন ও সমাজের আলেখ্য নিয়ে মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচনা করেন ‘আনোয়ারা” উপন্যাস।
- 'আনোয়ারা' (১৯১৪) শিল্পসম্মত উপন্যাস নয়। তবে মুসলিম মধ্যবিত্তের বিকাশের চিত্র আছে এখানে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে ব্যবসা, চাকরি ইত্যাদিতে মুসলিমদের প্রবেশের সূচনাকালীন কথকতা থাকায় এর সমাজতাত্ত্বিক মূল্য কম নয়।
- তাছাড়া এ সময় মুসলিমরা যে ইংরেজি পড়াশোনাও আরম্ভ করেছে সে চিত্রও এখানে আছে। 

কাহিনি সংক্ষেপ-
আনোয়ারা’ উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে আনোয়ারা নাম্নী এক তরুণীকে ঘিরে। তার জীবনকে যেন লেখক বাঙালি নারীর আদর্শ জীবনরূপে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। যে কিনা সৎ মা গোলাপজানের শত গঞ্জনা সয়েও মুখে টু শব্দটি করে না। মায়ের বাধ্য সন্তান যেমন হয় আনোয়ারাও ঠিক তাই। আনোয়ারার একমাত্র সঙ্গী তার সই হামিদা। অন্যদিকে সৎ মায়ের গঞ্জনাতে শীতল ছায়া দিয়ে চলেছে আনোয়ারার দাদীমা। এই দুটি মানুষের কাছে জীবনের পরম আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে আনোয়ারা। কিন্তু আনোয়ারার জীবন দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও আদর্শপূর্ণ করে রেখেছেন লেখক। নামাজের জন্য ওযু করতে গিয়ে চোখ পড়ে নুরল এসলামের ওপর। যে সৎ, পবিত্র, নিষ্ঠাবান একজন কর্মী। নৌকাতে অবস্থানকালে তার মধুর কণ্ঠের কোরআন পাঠ আনোয়ারাকে মুগ্ধ করে। মনের অজান্তেই ভিনদেশি এই যুবকের মতো কেউ তার স্বামীর আসন দখল করুক এই তার বাসনা।

অনেক পথ পাড়ি দিয়ে বিয়ে হয় আনোয়ারা এবং নুরল এসলামের। কিন্তু এখানেও আনোয়ারার জীবনে আসে কালবৈশাখী ঝড়। এক তিমির থেকে বেঁচে সে এসে উপস্থিত হয় আরও এক গভীর অন্ধকারে। যেখানে তার পক্ষে কেউ নেই।

উৎস: 'আনোয়ারা' উপন্যাস।
৪,৮৯৩.
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস -
  1. অ-তে অজগর
  2. সত্যের মতো বদমাশ
  3. মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা
  4. নেকড়ে হায়েনা
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ।

আবদুল মান্নান সৈয়দ ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯৪.
‘পাপের সন্তান’ উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. সত্যেন সেন
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা
'পাপের সন্তান' উপন্যাস:
- 'অভিশপ্ত নগরী'র দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে পরিকল্পিত 'পাপের সন্তান' (১৯৬৯) শুধু সত্যেন সেনেরই সেরা সৃষ্টি নয়, বাংলা ভাষায় লিখিত একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজি পুরস্কার (১৯৭০) লাভ করেন।
- 'অভিশপ্ত নগরী'তে জেরুজালেম নগরী পতনের কথা আছে।
- 'পাপের সন্তানে' সেই পতনের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত।
- এই দীর্ঘ সময়ে ইহুদিদের সঙ্গে অন্য ধর্ম- জাতির অনেকেরই বিয়ে এবং সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটে।
- পরজাতি স্ত্রীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী ইহুদি সন্তানদের পাপের সন্তান আখ্যা দিয়ে তাদের ধ্বংস কামনা করা হয়।
- এই উপন্যাসের প্রধান পাত্র-পাত্রী মিকা ও শদরা ধর্মীয় ও সামাজিক এই বিধি নিষেধ অতিক্রম করে নীলনদের তীরে এসে নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে চায়। এই নতুনের প্রতি ইঙ্গিতই উপন্যাসের মূলকথা।
- বাংলাদেশে বাইবেল থেকে কাহিনি নিয়ে উপন্যাস রচনা এই প্রথম।

সত্যেন সেন:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক। 
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে 'দৈনিক সংবাদ' এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং 'উদীচী ' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন এবং আমৃত্যু বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।
- তিনি ৫ই ডিসেম্বর, ১৯৮১ শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী, 
- পদচিহ্ন, 
- পাপের সন্তান, 
- আলবেরুনী, 
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯৫.
'ক্রীতদাসের হাসি' কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- মধ্যপ্রাচ্যের কাহিনির আধারে এই উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানকেই তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো এ-প্রসঙ্গে বেশ মিলে যায়। যেমন: বাগদাদের বাদশা হারুন হলেন আইয়ুব খান; বেগম জুবাইদা হলেন পাকিস্তানের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ; তাতারী হলেন পাকিস্তানের সাধারণ জনতা; মেহেরজান হলেন বাংলার স্বাধীনতা।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বণী আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৯৬.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত ‘বেনের মেয়ে’ উপন্যাসের পটভূমি কিরূপ?
  1. ঐতিহাসিক
  2. রাজনৈতিক
  3. রোমান্টিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা

‘বেনের মেয়ে’ (১৯১৯) উপন্যাসটি ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত।
- উপন্যাসের চতিত্রগুলি কাল্পনিক কিন্তু পটভূমি ঐতিহাসিক।
- দশম - একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশে, বৌদ্ধ ধর্মের অবসান আর হিন্দু ধর্মের পুনরুত্থান এর সময়কালে সপ্তগ্রামের এক বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনীটি রচিত হয়েছে।

ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
- বাল্মীকি জয়
- মেঘদূত
- কাঞ্চনমালা
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা।
- প্রাচীন বাংলার গৌরব
- বৌদ্ধধর্ম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

৪,৮৯৭.
‘প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য'- পঙক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) রানার
  2. খ) আঠারো বছর বয়স
  3. গ) প্রার্থী
  4. ঘ) ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
এই পংক্তিটি 'আঠারো বছর বয়স' - কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

-'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
'ছাড়পত্র' - কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সুকান্ত ভট্টাচার্য।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই
- পুর্বাবাস
- অভিযান
- হরতাল
- গীতিগুচ্ছ

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - শামসুর রাহমান রচিত কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৮৯৮.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
⇒ 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন,
ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন, 
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস: 
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯৯.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) যখন উদ্যত সঙ্গীন
  2. খ) আগুনপাখি
  3. গ) জীবন ঘষে আগুন
  4. ঘ) আশাকানন
ব্যাখ্যা

• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
• 'আশাকানন' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্যগ্রন্থ।
• 'যখন উদ্যত সঙ্গীন' হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৯০০.
অমিয় চক্রবর্তীর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অমরাবতী
  2. অনিঃশেষ
  3. এক মুঠো
  4. মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে অমিয় চক্রবর্তী রচিত কবিতা ‘বাংলাদেশ’।
- এটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
---------------------------------------------
 
অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
• কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
 
• অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার, 
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলাদেশ কবিতা।