বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৪৪ / ৭৭ · ৪,৩০১৪,৪০০ / ৭,৬৪৬

৪,৩০১.
'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাসঃ
- উত্তরের খেপ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৩০২.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করতেন?
  1. দৈনিক নবযুগ
  2. জ্ঞানান্বেষণ
  3. দৈনিক স্বরাজ
  4. সম্বাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
⇒ জীবনানন্দ দাশ:  
• তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত। 
•  তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী 'তিরিশের কবিতা' নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
• তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
• মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 

⇒ তিনি 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
⇒ তিনি ‘দৈনিক স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন।
⇒ ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।    

অন্যদিকে,
- ‘জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- দৈনিক নবযুগ (১৯২০) পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমেদ যুগ্মভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪,৩০৩.
‘মহাপতঙ্গ’ ছোটগল্পটি কার লেখা?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
মহাপতঙ্গ ও হারেম আবু ইসহাক রচিত গল্প।
এছাড়াও তাঁর রচিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য ছোট গল্প ‘জোঁক’।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৩০৪.
‘হাজার বছরের বাঙ্গালি সংস্কৃতি’ বইটির লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসন
  2. ডঃ মোঃ শহীদুল্লাহ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গোলাম মুরশিদ
ব্যাখ্যা
• গোলাম মুরশিদ:
- জীবিকা উপার্জনের জন্যে অধ্যাপনা এবং বেতার সাংবাদিকতা করলেও গোলাম মুরশিদের নেশা আগাগোড়াই গবেষণা করা।
- বৈষ্ণব পদাবলী থেকে রবীন্দ্রনাথ, বাংলা গদ্য এবং নাটকের ইতিহাস থেকে নারী জাগরণের ইতিহাস ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন।
- সমাজমনস্ক ব্যক্তি হিশেবে লিখেছেন বাংলার সমাজ, সমাজ-সংস্কার, স্বাধীনতা আন্দোলন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত তাঁর বিদ্যাসাগর বক্তৃতামালার ওপর ভিত্তি করে রচিত রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ (১৯৮১) রবীন্দ্রমানস এবং বাঙালি মুসলিম-মানস সম্পর্কে একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনা।
- Reluctant Debutante : Response of Bengali Women to Modernization (১৯৮৩) বাঙালি মহিলাদের আধুনিকতা সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী গ্রন্থ।
- কালান্তরে বাংলা গদ্য (১৯৯২) পুরোনো বাংলা গদ্য এবং তার বিবর্তন সম্পর্কে মৌলিক আলোচনা।
- আর, তাঁর আশার ছলনে ভুলি (১৯৯৫) সমালোচকদের মতে জীবনীসাহিত্যে এক নতুন মাইলফলক।
- কিংবদন্তীর আঁধি থেকে মুক্ত করে এ গ্রন্থে মাইকেল মধুসূদনকে তাঁর সত্যিকার স্বরূপে তুলে ধরেছেন গোলাম মুরশিদ। 
- হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি গ্রন্থটি গোলাম মুরশিদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। 

উৎস: হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও প্রথম আলো।
৪,৩০৫.
মোহাম্মদ নজিবর রহমানের কালজয়ী উপন্যাস 'আনোয়ারা' সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৫
  2. ১৯২০
  3. ১৯১৪
  4. ১৯৩২
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 
----------------------
মোহাম্মদ নজিবর রহমান ও তাঁর সাহিত্য:


• জন্ম: পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে।
• সাহিত্যিক জীবনের শুরু: ইসমাইল হোসেন সিরাজীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।
• প্রথম উপন্যাস: আনোয়ারা (১৯১৪), যা তাঁর জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

অন্যান্য উপন্যাস: 
• প্রেমের সমাধি, 
• পরিণাম, 
• গরীবের মেয়ে, 
• দুনিয়া আর চাইনা, 
• মেহেরুন্নিসা।

সাহিত্যিক অবদান: 
• নজিবর রহমান গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ জীবনকে তাঁর লেখায় চিত্রিত করেছেন।
• সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: 
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
• বাংলাপিডিয়া।
৪,৩০৬.
'প্রবোধ চন্দ্রিকা' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৩০৭.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গ্রন্থের নাম কি?
  1. জঙ্গনামা
  2. ইমামগণের কেচ্ছা
  3. জয়নবের চৌতিশা
  4. আফৎনামা
ব্যাখ্যা
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।

- 'মুক্তল হােসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

- মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। 
  তাঁর রচিত গ্রন্থ
 - ইমামগণের কেচ্ছা ও
 -আফৎনামা 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
 
৪,৩০৮.
নিচের কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. আনন্দ বিদায়
  2. কালবেলা
  3. নিমজ্জন
  4. নূরজাহান
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন রচিত নাটক - নিমজ্জন

অন্যদিকে,
- সাঈদ আহমদ রচিত নাটক - কালবেলা।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত নাটক - আনন্দ বিদায়, নূরজাহান।

নিমজ্জন:
- ‘নিমজ্জন' নাটকের দীর্ঘ ব্যাপ্তি ছিল।
- নাটকটি মঞ্চায়নের আগে যখন পাঠ করা হয় তখন এটা ছিল আট ঘণ্টা ব্যাপী।
- সেলিম আল দীনের ইচ্ছে ছিল নাটকটি পুরোটাই মঞ্চে রাখার। তাহলে মঞ্চ নাটকে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়।
- গ্রাম থিয়েটার কর্তৃপক্ষ প্রথমে ভেবেছিলেন, তাই হবে।
- যে দিন নাটক মঞ্চায়ন হবে, সেদিন আট ঘণ্টায় কয়েকটা বিরতি দিয়ে তা সম্পন্ন করা হবে। বিরতির ফাঁকে খাবার ও ইনডোর বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে।
- কিন্তু সব কিছু বিবেচনার পরে সে চিন্তা পরিত্যাগ করে। নাটকটি দুই ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩০৯.
রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. কোনো খেদ নেই
  3. অসম্ভবের পায়ে
  4. ভাত দে হারামজাদা
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩১০.
আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) স্বরূপের সন্ধানে
  2. খ) বাঙালী মুসলমানের মন
  3. গ) আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  4. ঘ) বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে
ব্যাখ্যা
• আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন আহমদ ছফা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩১১.
'স্বাধীনতা' এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো - কবিতাটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - কবিতাটি লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ। এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা। কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩১২.
‘মুকুল’ নামে ছোটদের জন্য প্রকাশিত ম্যাগাজিনের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. লুৎফর রহমান
  2. রেজাউল করিম
  3. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- তিনি একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- তিনি বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ' এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮। তাঁর প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' (১৯৫৫)।

তার রচিত গ্রন্থ:
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিজ্ঞানের বিস্ময়,
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান,
- নতুন দিগন্ত,
- মহাকাশে কী ঘটছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩১৩.
'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনে কী ধরনের সাহিত্য স্থান পেয়েছিল?
  1. শুধু কবিতা
  2. শুধু কবিতা ও গল্প
  3. প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস
  4. শুধু গল্প
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।

- এই সংকলনে স্থান পেয়েছিল একুশের প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' থেকে এটি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিককর্মী মোহাম্মদ সুলতান। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি'  গানটি প্রথম এ গ্রন্থে সংকলিত হয়
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩১৪.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটির প্রেক্ষাপট কী?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতা
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬):

- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
• অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার, 
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩১৫.
বাংলা সাহিত্যে গোবিন্দচন্দ্র দাস কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন- 
  1. নাগরিক কবি 
  2. স্বভাবকবি
  3. পল্লীকবি
  4. বিদ্রোহী কবি
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিলেন বাংলা সাহিত্যেরে একজন স্বভাবকবি। ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু। তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুকুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,৩১৬.
ডব্লিউ. বি. ইয়েটস্‌ - এর "He reproves the curlow" কবিতার প্রভাব রয়েছে জীবনানন্দ দাশের কোন কবিতায়?
  1. ক) মৃত্যুর আগে
  2. খ) বনলতা সেন
  3. গ) মহাপৃথিবী
  4. ঘ) হায় চিল
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বিখ্যাত কবিদের প্রভাব:
- কবি জীবনান্দ দাশ রচিত ''মৃত্যুর আগে" কবিতাটি ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যের অন্তর্গত। এটির সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস রচিত কবিতাটির The falling of the Leaves মিল রয়েছে।
- তার 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথেও ইয়েটস্‌-এর He reproves the curlow কবিতার মিল রয়েছে।
- বনলতা সেন কবিতাটিতে এডগার অ্যালান পো - এর কবিতা 'টু হেলেন' এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮) [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দের 'ধূসর পান্ডুলিপি' পড়ে তার কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩১৭.
নদীর বুকে উৎপন্ন চরকে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
  1. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  2. নিকেতন
  3. আরোগ্য নিকেতন
  4. কালিন্দী
ব্যাখ্যা
• 'কালিন্দী' নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩১৮.
"কালের কলস" - কাব্যটি কে লিখেছেন?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. আল মাহমুদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• 'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: 'আল মাহমুদ'। 
- গ্রন্থটি ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৪,৩১৯.
শওকত আলী রচিত 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের নায়ক -
  1. অত্যাচারী সামন্তবর্গ
  2. অন্ত্যজ হিন্দুর দল
  3. অন্ত্যজ বৌদ্ধের দল
  4. বাংলার গণমানুষ
ব্যাখ্যা
প্রদোষে প্রাকৃতজন:
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪) শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত।
- অত্যাচারী সামস্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু এবং বৌদ্ধের দল।
- এই উপন্যাসের সময় ধরা হয়েছে রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল।
- সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ করে আর্য ও অনার্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অসাম্য এ উপন্যাসের বিষয়।
- উপন্যাসে কোনো একক ব্যক্তিকে নায়ক করা হয় নি। প্রাকৃতজন অর্থাৎ বাংলার গণমানুষ সমষ্টিগতভাবে এই উপন্যাসে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- সঙ্গতি বিধানের লক্ষ্যে একাদশ শতাব্দীর অন্তিম কালের ভাষারূপ উপন্যাসে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে পাঠক উপন্যাসটি পাঠকালে সত্যি যেন লক্ষ্মণ সেনের ওই সময়ে ফিরে যান।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।
৪,৩২০.
'কীটনাশকের কীর্তি' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প?
  1. দুধভাতে উৎপাত
  2. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা

• 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ:
- 'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গল্পগ্রন্থের নামগল্প 'দোজখের ওম'।
-ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প।

এগুলো হচ্ছে-
- কীটনাশকের কীর্তি,
- যুগলবন্দি,
- অপঘাত ও
- দোজখের ওম নামক।

--------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৩২১.
'শিখা' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবুল হুসেন
  3. মুন্সি আহমদ আলী
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

•  আবুল মনসুর আহমদ - এ পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

অন্যদিকে,
• আবুল হুসেন, আবদুল কাদির, এবং মুন্সি আহমদ আলী প্রত্যেকেই শিখা পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন এর প্রথম সম্পাদক, আবদুল কাদির এর প্রকাশনার দায়িত্বে ছিলেন, এবং মুন্সি আহমদ আলী এটি মুদ্রণের দায়িত্ব পালন করেন। 
----------------- 
শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
 

৪,৩২২.
‘রসকলি’ বিখ্যাত ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আখতারুজ্জাম ইলিয়াস
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘রসকলি’ গল্প:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প ‘রসকলি’। 'রসকলি' গল্পটি ১৩৩৪ সালের ফাল্গুন মাসে 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• গল্পটি মূলত বৈরাগী জীবনের পটভূমিকায় লেখা হলেও গল্পের জীবন লেখকের পরিচিত অভিজ্ঞতার জগৎ থেকে উৎসারিত।

• 'রসকলি' গল্পের প্লট থেকে শুরু করে চরিত্র-চিত্রণ সমস্ত বিষয় বাস্তব ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। যেখানে লেখক বৈষ্ণবীয় চেতনার সঙ্গে একটি ত্রিকোণ প্রেমের মাধুরী রচনা করেছেন। পাশাপাশি বৈষ্ণব সমাজের রূপ বৈচিত্র্যের একটা সার্থক নিদর্শন এই গল্পের মধ্যে উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য,
• 'রসকলি' নামে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গল্পগ্রন্থও রয়েছে। এতে মোট ৯টি গল্প আছে।
- কালাপাহাড়,
- তাসের ঘর,
- মতিলাল,
- মুসাফিরখানা,
- শ্মশান-বৈরাগ্য,
- নুটু মোক্তারের সওয়াল,
- সাতে অগ্রদানী,
- আছে প্রতিমা,
- রসকলি।

উৎস: ‘রসকলি’ গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩২৩.
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) আলী আহসান
ব্যাখ্যা
বন্দর থেকে বন্দরে সানাউল হক রচিত রম্যরচনা। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- পদ্মিনী শঙ্খিনী, প্রবাসে যখন, বিরাশির কবিতা, উত্তীর্ণ পঞ্চাশ, নদী ও মানুষের কবিতা, সম্ভবা অনন্যা, সূর্য অন্যতর, বিচূর্ণ আর্শিতে, একটি ইচ্ছা সহস্র পালে, কাল সমকাল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩২৪.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে এই বিখ্যাত উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। তার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী পালামৌ গ্রন্থে এ উক্তিটি উদ্বৃত্ত করা হয়েছে। এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৩২৫.
শওকত আলীর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ওয়ারিশ
  2. খ) অষ্টপ্রহর
  3. গ) খেলারাম খেলে যা
  4. ঘ) নয়ন ঢুলি
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৩২৬.
বুদ্ধদেব বসু রচয়িত গল্প কোনটি?
  1. ক) পরিক্রমা
  2. খ) হাওয়া বদল
  3. গ) সাড়া
  4. ঘ) লালমেঘ
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩২৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মেঘমল্লার
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. মৌরীফুল
  4. যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা

'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'।
- উপন্যাসটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলায় মাতুলালয়ে জন্ম।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩২৮.
বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষ প্রশ্ন’
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’
  3. কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুহেলিকা’
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাস: 
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে নিত্য রূপান্তরশীল মানুষ, জীবন ও সমাজের চলমান আদলটিকে ধরার চেষ্টা করেছেন বিশ শতকের প্রথমার্ধের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত ভারতীয় বাঙালির মন-মানস এবং পটভূমির পরিপ্রেক্ষিতে। 

-----------------
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

----------------------
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য এটাকে 'রোমান্স' ধর্মী উপন্যাস বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩২৯.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) আঙ্গুর
  2. খ) স্বদেশ
  3. গ) সমকাল
  4. ঘ) শিখা
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৩৩০.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রজনী
  2. নববিধান
  3. পদ্মরাগ
  4. প্রেমের সমাধি
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন:
- পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- নজিবর রহমান  ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা (১৯১৪) লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,  
- পরিণাম,  
- গরীবের মেয়ে,  
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৩১.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ঠাকুরদাদার ঝুলি
  2. ঠানদিদির থলে
  3. দাদামশায়ের থলে
  4. গুপী গাইন বাঘা বাইন
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- ১৮৭৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোক সংগ্রাহক। 
- তিনি 'সুধা' নামক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।  

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদামশায়ের থলে,
- ঠানদিদির থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 
--------------------------
অন্যদিকে,
'গুপী গাইন বাঘা বাইন'- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত গ্রন্থ। 

• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত কয়েকটি গ্রন্থ: 
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং 
- গুপী গাইন বাঘা বাইন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৩২.
'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থের লেখক?
  1. আবুল ফজল 
  2. আবুল হাসান
  3. আহসান হাবীব
  4. ইবরাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা

• আবুল হাসান:
- আবুল হাসান একজন সৃষ্টিশীল কবি। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- উৎসর্গ পত্রে লেখক লিখেন- উৎসর্গ আমার মা, আমার মাতৃভূমির মতোই অসহায়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে রয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক চেতনা, মানবিক যন্ত্রণা ও আত্মবীক্ষণের দারুণ প্রকাশ।

এই কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য কবিতা:
- বনভূমির ছায়া;
- প্রত্যাবর্তনের সময়;
- স্বীকৃতি চাই;
- পাখি হয়ে যায় প্রাণ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৩৩.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস নয় -
  1. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  2. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  3. সংশপ্তক
  4. সারেং বৌ
ব্যাখ্যা
• ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি - ভ্রমণকাহিনি

শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৩৪.
'রেখাচিত্র' আবুল ফজল রচিত একটি -
  1. দিনলিপি
  2. নাটক
  3. গল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'রেখাচিত্র' আবুল ফজল রচিত একটি - দিনলিপি।

আবুল ফজল:

- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ফজল, আবুল  ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৩৫.
শাহ আব্দুল করিম রচিত গ্রন্থ-
  1. ক) ধলমেলা
  2. খ) সারাদুপুর
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) নতুন সকাল
ব্যাখ্যা
করিম, শাহ আবদুল (১৯১৬-২০০৯) লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার। ১৯৫৪ সালে শাহ আবদুল করিম প্রণীত গণসঙ্গীত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গানের সংকলন হলো আফতাব সঙ্গীত (১৯৪৮), কালনীর ঢেউ (১৯৮১), ভাটির চিঠি (১৯৯৮), ধলমেলা (১৯৯০), কালনীর কূলে (২০০১)।
৪,৩৩৬.
মুনীর চৌধুরীর রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক কোনটি?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. নষ্ট ছেলে
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য। এতে তিনি যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেন। নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর (রচনাকাল: ১৯৫৩, প্রকাশকাল: ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯):
- মানুষ (১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে (১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক। 
- রাজার জন্মদিন (১৯৪৬)
- চিঠি (১৯৬৬)
- দণ্ডকারণ্য মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। 'দণ্ড', 'দণ্ডধর', 'দণ্ডকারণ্য' নামে তিনটি নাটক একত্রিত করে ১৯৬৬ সালে 'দণ্ডকারণ্য' নামে প্রকাশিত হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টিকারী উপকরণ এক চোর দণদ বা লাঠির সাহায্যে চুরি করে নিয়ে গেলে সংসারে শান্তি আসে। এই সন্দেহ এবং লাঠির ব্যবহার নিয়ে হাস্যরসাত্নক নাটক দণ্ড।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

উৎস:- উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৩৭.
"দণ্ডকারণ্য" নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা- মুনীর চৌধুরী । 

দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
যথা:
- দণ্ড, 
- দণ্ডধর, 
- দন্ডকারণ্য।
------------------------- 
মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম:

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:

"কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
"রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
"মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
"নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
"পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
"দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:

"কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৪,৩৩৮.
'কুঁচবরণ কন্যা' বন্দে আলী মিয়া রচিত- 
  1. প্রহসন
  2. উপন্যাস
  3. শিশুতোষ গ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'কুচবরণ কন্যা'শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া। 

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৩৯.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. সৈয়দ শামসুল হক 
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আবু ইসহাক 
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- 'সারেং বৌ' বিখ্যাত উপন্যাসটি রচিত হয়  ১৯৬২ সালে।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

 • শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
-  শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা
- চন্দ্রভানের কন্যা
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৪০.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনী কোনটি?
  1. ক) বন্দর থেকে বন্দরে
  2. খ) নয়া জগতের পথে
  3. গ) পালামৌ
  4. ঘ) দেশে বিদেশে
  5. ঙ) পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
পালামৌ ভ্রমণকাহিনী রচনা করেন সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বন্দর থেকে বন্দরে, নয়া জগতের পথে, দেশে বিদেশে ও পথে প্রবাসে ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা যথাক্রমে সানাউল হক, ইব্রাহিম খাঁ, সৈয়দ মুজতবা আলী ও অন্নদাশংকর রায়। (সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা)
৪,৩৪১.
বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে আবদুল গাফ্‌ফার চৈধুরীর জীবনভিত্তিক প্রামাণ্য সৃষ্টি কোনটি?
  1. শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
  2. পলাশী থেকে ধানমন্ডি
  3. পনের আগস্ট
  4. শেখ মুজিব: তাকে যেমন দেখেছি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জীবনভিত্তিক রচনা আবদুল গাফ্‌ফার চৈধুরীর পলাশী থেকে ধানমন্ডি (২০০৭)।
উল্লেখ্য,
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরনে রচনা করেন "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" গানটি।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ডানপিটে শওকত (১৯৫৩)।

তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- 
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
- নাম না জানা ভোর
- নীল যমুনা 
- শেষ রজনীর চাঁদ
- কৃষ্ণপক্ষ
- সম্রাটের ছবি
- সুন্দর হে সুন্দর
- ডানপিটে শওকত

সম্পাদনা: বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

- আবুল মনসুর আহমদ রচিত গ্রন্থ - শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।
- আবুল ফজল রচিত গ্রন্থ - শেখ মুজিব: তাকে যেমন দেখেছি
৪,৩৪২.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান- 
  1. চব্বিশ পরগনা 
  2. হুগলি
  3. বর্ধমান 
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৪৩.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত 'আঁখিজল' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক একজন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- তিনি ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর  খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি কবিতা,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক  শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিতি।
-  আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
-  ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’।

• উপন্যাস- আবদুল্লাহ্।
• কাব্য- আঁখিজল ও লতিকা।
• প্রবন্ধ- প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৪৪.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) সোমিত্র শেখর
  3. গ) হায়াৎ মামুদ
  4. ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
মুহাম্মদ আবদুল হাই একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন।
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

 মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৪৫.
কবি আহসান হাবীব কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পিরোজপুর জেলা
  2. ঢাকা জেলা
  3. মানিকগঞ্জ জেলা
  4. বরিশাল জেলা
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।

⇒ আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৪৬.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি?
  1. পথে প্রবাসে
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. দেশে বিদেশে
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• 'পথে প্রবাসে' ও 'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণ কাহিনি দুটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- অন্নদাশঙ্কর 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৪৭.
শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস ‘শ্রীকান্ত’ কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
⇒ 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'। 
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়। 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি: 
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।' 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
৪,৩৪৮.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয়-
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. কড়ি দিয়ে কিনলাম
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসঃ
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- প্রপঞ্চ ইত্যাদি।
• অপরদিকে, বিমল মিত্রের ত্রয়ী উপন্যাস হলোঃ
- সাহেব বিবি গোলাম,
- কড়ি দিয়ে কিনলাম ও
- একক দশক শতক।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৪৯.
'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থের উপজীব্য-
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) গণঅভ্যুত্থান
  3. গ) আয়ুব খানের স্বৈরতন্ত্র
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ। এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
• এই গল্পগ্রন্থে ৫টি গল্প সংকলিত হয়েছে।
• এগুলো হলোঃ
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।
• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রচিত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৩৫০.
কোন নাটকে এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) বিষবৃক্ষ
  2. খ) লীলাবতি
  3. গ) নীলদর্পণ
  4. ঘ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক বেনামীতে মুদ্রিত ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০)।
- এই নাটকে এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
-  নাটকটির নাম ছিল ‘নীলদর্পণম নাঠকম’ এবং বিজ্ঞপ্তিটি ছিল:‘নীলকর-বিষধর-দংশনকাতর-প্রজা নিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনাচৎ পথিকেনাভি প্রণীতম।’
- নাটকে নাট্যকারের নাম ছিল না।
- অনুমান করা হয় এটি ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন।
- অনুবাদের প্রকাশক হিসেবে নাম থাকায় পাদ্রী রেভারেন্ড লং রাজদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল।
- ‘সধবার একাদশী’ (১৮৬৬) নামক প্রহসনটিতে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৩৫১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক কে?
  1. ক) হ্যানা ক্যাথেরিন ম্যুলেনস
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয়৷
- তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন। 
- তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

- বাংলা সাহিত্যের‌ প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৫২.
আবদুল করিমকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. খ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) নদীয়া সাহিত্য সভা
  4. ঘ) চট্টল ধর্মমন্ডলী
ব্যাখ্যা
• আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩) গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুসলমান কবিদের পুঁথি সংগ্রহ করেছেন। 
- তিনি চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
-  বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখন্ডে প্রকাশ করে।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পান্ডুলিপিগুলির একটি সুবিন্যস্ত তালিকা পুঁথি পরিচিতি শিরোনামে প্রকাশ করেছে।
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়। 
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৫৩.
কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান কোন উপন্যাসের জন্য আদমজি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক্রীতদাসের হাসি 
  2. জাহান্নম হইতে বিদায় 
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. দুই সৈনিক 
ব্যাখ্যা
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

'ক্রীতদাসের হাসি'উপন্যাসে বাঙালী জনতার প্রতিবাদী রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো তাতারি এবং আইয়ুব খানের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো বাদশা হারুন চরিত্রের মাধ্যমে।
তিনি 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের জন্য আদমজি পুরস্কার লাভ করেন। 


 তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ক্রীতদাসের হাসি 
- সমাগম 
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান 
- জাহান্নম হইতে বিদায় 
- দুই সৈনিক 
-  নেকড়ে অরণ্য 
- পতঙ্গ পিঞ্জর 
- রাজসাক্ষী 
- জলাংগী 
-পুরাতন খঞ্জর 

তাঁর রচিত গল্প: 
- পিঁজরাপোল 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প 
- প্রস্তর ফলক 
- উভশৃঙ্গ 
- শ্রেষ্ঠ গল্প 
- জন্ম যদি তব বঙ্গে 
-  ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী 

তাঁর রচিত নাটক 
- আমলার মামলা 
-তস্কর ও লস্কর 
- বাগদাদের কবি 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা 

শিশুতোষ: 
- ওটেন সাহেবের বাংলো
- তারা দুই জন 
- ক্ষুদে সোশালিস্ট 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৩৫৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) ভাষা ও সাহিত্য
  2. খ) বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. গ) বাংলা সাহিত্যের কথা
  4. ঘ) মুসলিম বাঙলা সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ‘মুসলিম বাঙলা সাহিত্য' এর রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে। 

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৫৫.
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা, আমার সময়, বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৩৫৬.
নিচের কোনটি শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস?
  1. অনুবর্তন
  2. বিরাজ বৌ
  3. সারেং বৌ
  4. দেবযান 
ব্যাখ্যা

• 'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
- কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
"কদম" সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে "নবিতন"কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী "মোড়ল" ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়।

অন্যদিকে, 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: বিরাজ বৌ,
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অনুবর্তন' ও 'দেবযান'। 

-----------------------
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ: 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ'।
• স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ: 'রাজবন্দীর রোজনমাচা'।

উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'সারেং বৌ' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৫৭.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রশীদ করিম
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস: 
- উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়। 

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :
- শাকের
- সেলিনা
- অণিমা
- শেখর,

রশীদ করীমের  অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি
- প্রসন্ন পাষাণ
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৫৮.
'কবিগুরু গ্যেটে' কোন নাটকের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) কবর
  2. খ) হ্যামলেট
  3. গ) কমেডি অফ এরর
  4. ঘ) ফাউস্ট
ব্যাখ্যা
'কবিগুরু গ্যেটে' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে। 
- এতে লেখক দুই খন্ডে বিভক্ত জার্মান মহাকবি ও নাট্যকার গ্যেটেরজীবন ও কর্মের আলোচনা করেছেন। 
- এই গ্রন্থে গ্যেটের নাটক 'ফাউস্ট' এর রসগ্রাহী পরিচয় দেয়া হয়েছে। 
- বাংলা ভাষায় গ্যেট সম্বন্ধে এটি প্রথম বই। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৫৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৬০.
নিচের কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গীতসংকলন?
  1. আনন্দ-বিদায়
  2. অশোকসঙ্গীত
  3. আর্য্যগাথা
  4. গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা

• 'আর্য্যগাথা' গীতসংকলন:
- 'আর্য্যগাথা' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি গীতসংকলন। 

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় খুব অল্পবয়স থেকেই গান রচনা করতেন এবং নিজেই সুর দিয়ে গাইতেন। বিলেত যাওয়ার আগে মাত্র সতেরো বছর বয়সের মধ্যে লেখা একশো আটটি গান নিয়ে তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

- কিশোর বয়সে লেখা এ গানগুলিতে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য ও লাবণ্য, জগতের শোক-জরাজাত দুঃখাবসন্নতা, ঈশ্বরভক্তি এবং স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।

এ পর্বের একটি গান হলো:
'গগনভূষণ তুমি জনগণমনোহারী!/
কোথা যাও নিশানাথ, হে নীল নভোবিহারী!।'

---------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রহসন বা লঘু রসাশ্রয়ী নাটক:
- একঘরে,
- কল্কি অবতার,
- বিরহ,
- এ্যহস্পর্শ বা সুখী পরিবার,
- পুনর্জন্ম, 
- আনন্দ-বিদায়। 

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'অশোকসঙ্গীত' হলো বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি ও লেখিকা কামিনী রায়ের লেখা একটি বিখ্যাত সনেট সংগ্রহ, যা তিনি ১৯১৪ সালে রচনা করেন।
• 'গীতিগুঞ্জ' বিশিষ্ট বাঙালি গীতিকার, সুরকার ও গায়ক অতুলপ্রসাদ সেন-এর লেখা একটি বিখ্যাত গানের সংকলন গ্রন্থ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৬১.
’বঙ্গসুন্দরী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৬২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. অলাতচক্র
  2. অনিল বাগচীর একদিন
  3. আগুনের পরশমণি
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনি  উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।

- সেকালে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা প্রবাহের মধ্যে বসে লেখা, আমাদের সমগ্র ইতিহাসে একটি মাত্র উপন্যাসই পাওয়া যায়-এ উপন্যাসই হচ্ছে “রাইফেল রোটি আওরাত"। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস এর রচনাকাল। লেখক শহীদ আনোয়ার পাশা নিহত হলেন ১৯৭১ সালেরই ১৪ই ডিসেম্বর। স্বাধীনতা লাভের মাত্র দু'দিন আগে তিনি যে অমর কাহিনি উপন্যাসে বিধৃত করেছেন নিজেই হয়ে গেলেন তারই অঙ্গ চিরকালের জন্য।

- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- ড. খালেক,
- ড. মালেক,
- ছাবেদ আলী,
- হাসমত,
- জামাল সাহেব প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অলাতচক্র' এর রচয়িতা - আহমদ ছফা। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।

• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'আগুনের পরশমণি'। উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার। এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।

উৎস: 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৬৩.
সানাউল হক রচিত ‘বন্দর থেকে বন্দরে’ ভ্রমণকাহিনিতে কোন দেশে ভ্রমণের কথা উল্লেখ রয়েছে?
  1. ব্রিটেন
  2. বেলজিয়াম
  3. ভারত
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা

সানাউল হকের ভ্রমণকাহিনি ‘বন্দর থেকে বন্দরে’ অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
------------------------------------------------
• সানাউল হক: 
- সানাউল হক ছিলেন চল্লিশের দশকের একজন খ্যাতিমান কবি, অনুবাদক, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মী।
- তিনি ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চৌরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম- আল মামুন সানাউল হক।
- তাঁর কবিতায় স্বদেশপ্রেম ও ব্যক্তিগত অনুভূতি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
- অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত 'বন্দর থেকে বন্দরে' নামক ভ্রমণ-কাহিনির জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি খ্যাতি লাভ করেছেন। 
- সানাউল হক ১৯৯৩ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- প্রবাসে যখন,
- বিরাশির কবিতা,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪,৩৬৪.
'নেমেসিস' নাটকে নূরুল মোমেন কোন বিষয়কে তুলে ধরেছেন?
  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  2. ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  4. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

--------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৬৫.
'পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফার রচিত উপন্যাস- সূর্য তুমি সাথী, ওঙ্কার (উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস), একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, মরণবিলাস, গাভী বিত্তান্ত, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৩৬৬.
বাংলা 'সমবেত কণ্ঠসংগীত' এর প্রবর্তক কে?
  1. অতুল প্রসাদ সেন
  2. ফররুখ আহমদ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একজন কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
• তিনি ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
• তিনি বাংলা 'সমবেত কণ্ঠসংগীত' এর প্রবর্তক।
• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটকঃ
- তারাবাঈ,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- দুর্গাদাস,
- সোহরাব রুস্তম,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৬৭.
'রক্তরাগ' কোন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

১৮৯৭ সালে ঝিনাইদহে গোলাম মোস্তফা জন্মগ্রহন করেন।
'রক্তরাগ' ১৯২৪ সালে প্রকাশিত গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত আরও কাব্যগ্রন্থ,
-খোশরোজ,
-কাব্যকাহিনী,
-সাহারা,
- হাসনাহেনা,
-বুলবুলিস্তান,
-তারানা ই পাকিস্তান,
-বনি আদম,
- গীত সঞ্চয়ন ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৩৬৮.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৬৯.
বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. লালন সাাঁই
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন: 
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৭০.
‘তিথিডোর’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আহমদ ছফা
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
⇒ ‘তিথিডোর’ উপন্যাস:
- বুদ্ধদেব বসুর ঔপন্যাসিক-প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রকাশ ‘তিথিডোর’ (১৯৪৯) উপন্যাস।
- বিষয়াংশ, মৌল-জীবনার্থ এবং প্রকরণ-স্বাতন্ত্র্যের দৃষ্টিকোণে তিথিডোর বাংলা উপন্যাসের ধারায় প্রকৃত অর্থেই এক স্মরণীয় নির্মাণ। - আলোচ্য উপন্যাসে আমরা বুদ্ধদেব বসুর বাস্তব-জীবনপ্রীতি ও পরিবার-সংলগ্নতার পরিচয় পাই।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিবর্তমুখী সমাজমানসের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এ-উপন্যাস।
- সত্যেন ও স্বাতীর প্রেম-আখ্যানের অন্তরালে এখানে প্রতিভাসিত হয়েছে চল্লিশের দশকের বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের নানামাত্রিক চিত্র।
- বুদ্ধবেদ বসু মূলত চরিত্রের অন্তঃবাস্তবতার রূপকার; কিন্তু তিথিডোর উপন্যাসে, অন্তঃবাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জীবনের বহিরঙ্গ রূপকেও শিল্পিত করেছেন।

--------------------
⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক,  সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তিথিডোর’ উপন্যাসের ভূমিকা।
৪,৩৭১.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক- 
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাটক: 
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।

• সৈয়দ শামসুল হক:

- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৭২.
"তোরা কোথায় গেলি? সব ঘুমিয়ে নাকি? উঠে আয়।“ আহ্বানটি মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• ‘কবর’ নাটক:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।
বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।

- 'কবর' নাটকটির কাহিনি রাতের মাত্র কয়েক ঘন্টার। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত এর কাহিনি।
- মুর্দা ফকির কবরের বাসিন্দা। সে মৃত মানুষের সাথে অহরহ কথা বলে।
- মুর্দা ফকির সব মৃতদের উঠে আসতে আহ্বান করেন, বলেন- "তোরা কোথায় গেলি? সব ঘুমিয়ে নাকি? উঠে আয়। তাড়াতাড়ি উঠে আয়। সব মিছিল করে উঠে আয়। গুলি, গুলি হবে। ফুর্তি করে উঠে আয়। কবর খালি করে উঠে আয়।'

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৭৩.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট- 
  1. স্বদেশী আন্দোলন 
  2. দেশবিভাগ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. ফকির ও সন্ন্যাসী আন্দোলন 
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
-জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬)
- জাল (১৯৮৮)
গল্পগ্রন্থ:
- হারেম (১৯৬২)
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
৪,৩৭৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ : দলিলপত্র সংকলন ও সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ : দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়। 
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।
-  ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- কর্মজীবনে হাসান হাফিজুর রহমান শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরে চাকরি এমন বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক  বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে  সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান  (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন। 
-  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানীদের নিয়ন্ত্রিত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করলেও গণচেতনা ও গণদাবির প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। 

 তাঁর মৌলিক গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে:
- বিমুখ প্রান্তর (১৯৬৩),
- আধুনিক কবি ও কবিতা (১৯৬৫),
- সীমান্ত শিবিরে (১৯৬৭),
- আর্ত শব্দাবলী (১৯৬৮),
- আরো দুটি মৃত্যু (১৯৭০),
- মূল্যবোধের জন্যে (১৯৭০),
- যখন উদ্যত সঙ্গীন (১৯৭২),
- সাহিত্য প্রসঙ্গ (১৯৭৩),
- দক্ষিণের জানালা (১৯৭৪),
- প্রতিবিম্ব (১৯৭৬),
- বজ্রে চেরা আঁধার আমার (১৯৭৬), 
- শোকার্ত তরবারী (১৯৮২),
- আমার ভেতরের বাঘ (১৯৮৩) ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৭৫.
নিচের কোনটি আধুনিক যুগের সৃষ্টি নয়?
  1. সাময়িকপত্র
  2. নাট্যসাহিত্য
  3. কাব্যসাহিত্য
  4. প্রবন্ধসাহিত্য
ব্যাখ্যা
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৭৬.
'ওঙ্কার' কোন লেখকের ও কোন পটভূমিতে রচিত উপন্যাস?
  1. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের
  2. আখতারুজ্জমান ইলিয়াস-ভাষা আন্দোলনের
  3. আনোয়ার পাশা- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের
  4. আহমদ ছফা- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
ব্যাখ্যা
• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- আহমদ রচিত ছফা 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত। আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৭৭.
'কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতো জাত ভিন্ন বলায়' এই পংক্তিটি নিচের একজনের লেখা-
  1. লালন শাহ
  2. সিরাজ সাঁই
  3. মদন বাউল
  4. পাগলা কানাই
ব্যাখ্যা
•  ‘কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতো জাত ভিন্ন বলায়’ -গানটির রচয়িতা বাউল সম্রাট খ্যাত লালন শাহ্।

--------------------
• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

• তার অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর।’
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।’
- ‘মিলন হবে কত দিনে।’
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।’
- ‘তিন পাগলের মেলা।’
- ‘সময় গেলে সাধন হবে না’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৭৮.
'খোয়াবনামা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর
  2. সিপাহী বিদ্রোহ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
খোয়াবনামা:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ
- ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই, 
- খােয়াবনামা

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর, 
- খোঁয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৭৯.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫) ;
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৮০.
'দীপনির্বাণ' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'দীপনির্বাণ' স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস।

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২)  কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ
- বিদ্রোহ,  
- মেবার  রাজ, 
- ছিন্নমুকুল, 
- হুগলীর ইমামবাড়ী, 
- বিচিত্র, 
- স্বপ্নবাণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- বিবাহ উৎসব,
- রাজকন্যা,
- যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৮১.
'ভবিষ্যতের বাঙালী’ লিখেছেন-
  1. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• 'ভবিষ্যতের বাঙালি':
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- ভবিষ্যতের বাঙালি তার বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু- মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে।

• এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম- গল্পগ্রন্থ 'গুলদাস্তা'
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

তাঁর রচিত গল্প:
- গুলদাস্তা,
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প,
- গল্পের মজলিশ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৮২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ- 
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. ভাষা ও সাহিত্য
  3. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  4. উপরের সবকটি 
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন। এবং ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৩৮৩.
'কবর' নাটকটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
• 'কবর':
- কবর নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

- 'কবর' নাটকের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
- এটি এক অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষ্যে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:

- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দন্ডকারণ্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৮৪.
'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ), উপহার, খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেওয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার, পালাবদল, ঘরে ফেরার দিন, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, অমরাবতী, অনিঃশেষ, নতুন কবিতা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৩৮৫.
‘জাত থাকার কি উপায়’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) মীর মশাররফ হোসেন
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র(১৮১৪-১৮৮৩)রচিত গ্রন্থ হলোঃ জাত থাকার কি উপায়(১৮৫৯), মদ খাওয়া বড় দায়,। তাঁর রচিত উপন্যাসঃ আলালের ঘরের দুলাল, আধ্যাত্মিকা। রেফারেন্সঃ বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৮৬.
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো--
  1. ক) সীপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
  3. গ) কৃষক বিদ্রোহ
  4. ঘ) চাকমা বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো কৃষক বিদ্রোহ। 

'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। 
- নুরুলউদ্দীন ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের একজন বিদ্রোহী নেতা। 
- তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে ঝামিয়ে পড়েছিলেন। 
- ইতিহাসের প্রায় বিস্মৃত এই কৃষকনেতাকে বইয়ের পাতা থেকে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরা হয় এই নাটকে। 
- তিনি নুরুলউদ্দীন কে আখ্যায়িত করেন নুরুলদীন নামে।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৮৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. যাত্রাবদল
  2. দৃষ্টিপ্রদীপ
  3. মৌরীফুল
  4. কিন্নরদল
ব্যাখ্যা
• 'দৃষ্টিপ্রদীপ' উপন্যাস:
- 'দৃষ্টিপ্রদীপ' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস, যা আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক অনন্য সমন্বয়।
- উপন্যাসটি প্রথমে প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এবং পরে গ্রন্থকারে প্রকাশ পায়।
- এটি একজন যুবক জিতুর জীবনকেন্দ্রিক গল্প, যিনি তার আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট-
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিতু দার্জিলিংয়ে তার পরিবার—ভাই নিতাই ও বোন সীতার সঙ্গে বসবাস করে। গল্পে জিতুর জীবনযাত্রা, তার অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং সমাজের কুসংস্কার ও প্রচলিত রীতিনীতির প্রতি তার প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। জিতুর চরিত্রের মাধ্যমে বিভূতিভূষণ মানবজীবনের গভীর দার্শনিক প্রশ্ন এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির বিষয়টি অন্বেষণ করেছেন।

---------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'দৃষ্টিপ্রদী' উপন্যাস, বিভতিভষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৪,৩৮৮.
“হায় চিল” কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আবু ইসহাক
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘হায় চিল’ - জীবনানন্দ দাশের “মহাপৃথিবী” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা। এই কবিতায় ইংরেজ কবি W.B Yeats এর “He reproves the curlow” কবিতার মিল রয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৮৯.
প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'কবিতার কথা' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. আহসান হাবীব
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৯০.
সুফিয়া কামাল রচিত ‘জাগো তবে অরণ্য কন্যারা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অভিযাত্রিক
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. মন ও জীবন
  4. মায়া কাজল
ব্যাখ্যা
⇒ কবি সুফিয়া কামাল রচিত ‘জাগো তবে অরণ্য কন্যারা’ কবিতাটি ‘উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
•  'উদাত্ত পৃথিবী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

• এই কবিতার মূল সুর হলো-
চারিদিকের পরিবেশ, বিশেষ করে অরণ্য-প্রকৃতি ধ্বংসের লীলা চলছে। এতে পৃথিবীর মানুষ ফল-ফুল-শস্যহীন হয়ে নিরানন্দময় পরিবেশের শিকার। কবি অরণ্যের গাছপালাকে কন্যা হিসেবে অভিহিত করে কামনা করেছেন, তারা যেন মানুষের মনে চেতনার সঞ্চার করে চতুর্দিকে খাদ্যের সংস্থান ও অপার আনন্দের ব্যবস্থা নেয়ে- মানুষকে অস্তিত্ব বিপন্নতার হাত থেকে রক্ষা করে।

⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৯১.
‘তিস্তাপারে বৃত্তান্ত’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. দেবেশ রায়
  2. সমরেশ বসু
  3. শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. হরিশংকর জলদাস
ব্যাখ্যা

দেবেশ রায় (১৯৩৬-২০২০) বাংলা কথাসাহিত্যের সেই বিস্ময় যিনি নিজস্ব ঘরানা-বাহিরানায় সমাজবিশ্ব আর ব্যক্তিমানুষকে আশ্চর্য নৈপুণ্যে গভীর সংবেদনে তরঙ্গায়িত করেন। তাঁর সমগ্র কথাসাহিত্য সেই দূরপাল্লার নৌবহর।
- দূরবিনের দুই দিক দিয়ে তিনি ক্রমান্বয়ে দেখে গিয়েছেন দেশকাল, প্রান্ত প্রান্তিক, ভণ্ড ধ্বস্ত অথচ প্রতিরোধী বাস্তবতা। ইতিহাস পুরাণের প্রেক্ষিতে ব্যক্তিমানুষের উত্থান তাঁর প্রিয় বিষয়। এখানেই তিনি স্বতন্ত্র, সমুজ্জ্বল।
- তিস্তাপারের মানুষের জীবনচিত্র নিয়ে দেবেশ রায় রচনা করেন বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস : দৈনিক প্রথম আলো ও আনন্দবাজার পত্রিকা রিপোর্ট।

৪,৩৯২.
‘মাটির দেয়াল’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - মাটির দেয়াল।
- ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৯৩.
উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'The Taming of The Shrew' অনুবাদ করেন কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. সেলিম আল দীন
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৩৯৪.
উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) খোয়াবনামা
  2. খ) কর্ণফুলী
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আলআজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে উপন্যাস আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস 'কর্ণফুলী'। 
 -আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড়-সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদে উপন্যাস।  
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ান পুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।  

তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- কর্ণফুলী (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৪,৩৯৫.
‘বন্ধুবিয়োগ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা

- ‘বন্ধুবিয়োগ’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৮৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৯৬.
'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়'- বক্তব্যটি কোন লেখকের উপন্যাসে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস। এটি তাঁর রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- 'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়'- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আনোয়ারা,
- নুরুল এসলাম,
- খাদেম,
- আজিমুল্লাহ,
- গোলাপজান ইত্যাদি।

-----------------------
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'আনোয়ারা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৩৯৭.
'বাহানা' জাহির রায়হান রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• বাহানা:
- এটি হলো একটি উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র। পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র।
- পূর্ব পাকিস্তান আমলে জহির রায়হান ছবিটি নির্মাণ করেন।
- এই চলচ্চিত্রটি ১৯৬৫ সালের ১৬ এপ্রিল মুক্তি পায়।

---------------
• জাহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক। তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন।
- তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৩৯৮.
কোন নাটকটি দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে তুলনা করেছেন?
  1. অবরোধ
  2. কলঙ্ক
  3. জনপদ
  4. নবান্ন
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৩৯৯.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসে সমাজের কোন বিষয়টি চিত্রিত হয়েছে?
  1. ক) আবদুল্লাহ নামক এক তরুণের জীবন সংগ্রাম
  2. খ) কৃষকের জীবনের করুণ চিত্র
  3. গ) বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা
  4. ঘ) মজুতদারদের শোষণ
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' - উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৪০০.
’বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন’ কিশোর উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. মাহমুদুল হক
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার  কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা।
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- পৃথিবীজোড়া গান
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চাষাভুষার কাব্য,
- নিশি কাব্য;
- কামকানন;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।