বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৪৩ / ৭৭ · ৪,২০১৪,৩০০ / ৭,৬৪৬

৪,২০১.
কোন যুগে বাংলা গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে?
  1. প্রাচীনযুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. অন্ধকারযুগ
ব্যাখ্যা

- আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যের গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের আগে যে সাহিত্য রচিত হয়েছে তা ছিল মূলত কবিতা বা পদ্য নির্ভর। 
- উনবিংশ শতাব্দী থেকে বাংলা সাহিত্যে মূলগত যে বৈশিষ্ট্য পরিদৃষ্ট হয় তা সূত্রাকারে লিপিবদ্ধ করা হলো:
১. গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব
২. সাময়িকপত্রের আবির্ভাব
৩. নাট্যসাহিত্যের জন্ম
৪. প্রবন্ধ (চিন্তামূলক) সাহিত্যের সৃষ্টি ইত্যাদি। 
- এ সময় প্রথাগত কবিতার বদলে কাব্যক্ষেত্রে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পাশ্চাত্য প্রভাব অঙ্গীভূত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।

৪,২০২.
ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খেলাঘর
  2. কালো বরফ
  3. কালো ঘোড়া
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের 'কালো বরফ' ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত। উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- প্রধান চরিত্র: আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে, 
• 'খেলাঘর' (১৯৮৮): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব। ২০০৬ সালে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করা হয়।
• 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি উপন্যাস।
• 'জীবন আমার বোন' (১৯৭২): এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর ঠিক আগের অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের ঢাকা শহরের সমাজ ও রাজনীতির উত্তেজনা জায়গা করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল কবির খোকার বয়ানের মাধ্যমে।

উৎস: 'কালো বরফ' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,২০৩.
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির প্রণেতা-
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) গোলকনাথ শর্মা
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির প্রণেতা- 'রামরাম বসু'

রামরাম বসু
- রামরাম বসু রচিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কেরী সাহেবের মুন্শি‌ হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক। 
- রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২০৪.
রফিক আজাদের ডাক নাম কী ছিল?
  1. রতন 
  2. জীবন 
  3. মিলু 
  4. সজীব 
ব্যাখ্যা

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,২০৫.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
কচিপাতা, ত্রিস্রোতা, দৃষ্টিকোণ, ইলিয়ড, পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস), অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি গ্রন্থাবলীর রচয়িতা আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২০৬.
মাকর্সবাদী কবি ছিলেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তিনি ছিলেন কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু। তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে। নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২০৭.
'কুঁচবরণ কন্যা' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার সেন
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২০৮.
নিচের কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. সবিতা
  2. সন্ধিক্ষণ
  3. দেয়াল
  4.  বেণু ও বীণা
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ নয়- দেয়াল।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদের শেষ উপন্যাস হচ্ছে দেয়াল।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একজন কবি ও ছন্দবিদ ছিলেন।
- জন্ম: ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে।
- পিতা: রজনীনাথ দত্ত (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী), পিতামহ: অক্ষয়কুমার দত্ত (তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক)।
- তিনি ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান কবি ছিলেন।
- বাংলা ভাষার স্বতন্ত্র ছন্দ ও ধ্বনির মাধ্যমে নতুন ছন্দ সৃষ্টি করাই ছিল তার মূল কীর্তি, যার জন্য তিনি “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দোরাজ” নামে পরিচিত।
- তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ ও কলমগীর।
- মৃত্যু: ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

৪,২০৯.
‘জয়গুন ও শফি’ আবু ইসহাক রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. জাল
  3. জয়ধ্বনি
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

 উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- জয়গুন,
- হাস্য,
- মায়মুন,
- শফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোড়ল গদু।

---------------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২১০.
“কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?” এই পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. কামিনী রায়
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

"কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?" পঙ্‌ক্তি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?


• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁর পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
- মূলত কীর্তিপাশার জমিদারের অর্থানুকূল্যে তিনি জীবনযাপন করেন।
- কৃষ্ণচন্দ্র ১৮৫৪ সালে বরিশালের কীর্তিপাশা বাংলা বিদ্যালয়ের প্রধান পন্ডিতপদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। 
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে। 
-  তিনি রামের ইতিবৃত্ত (১৮৬৮) নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন। 
- মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে রচিত তাঁর অপর গ্রন্থ হলো মোহভোগ (১৮৭১)। কৈবল্যতত্ত্ব (১৮৮৩) তাঁর একটি দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ।
- মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক রাবণবধ।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙ্‌ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,২১১.
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'। 

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতার জন্মগ্রহন করেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী। 

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২১২.
'নূরলদীনের সারাজীবন' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. রম্যরচনা
  2. মহাকাব্য
  3. কাব্যনাট্য
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের সারাজীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
-------------- 
• 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য: 

- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২১৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খোয়াবনামা
  2. খোয়ারি
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর মহাকাব্যোচিত উপন্যাস 'খোয়াবনামা'।

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:

- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

•তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,২১৪.
সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. নানাকথা
  2. কয়েকটি কবিতা
  3. নদী ও মানুষের কবিতা
  4. খোলাচিঠি
ব্যাখ্যা
সানাউল হক:
- তিনি ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক ।
- তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশে।

অন্যদিকে,
সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২১৫.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির রচয়িতা - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।
• তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- অন্যঘরে অন্যস্বর,
- দোজখের ওম,
- খোয়াবনামা,
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২১৬.
‘সারেং বৌ’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার 
ব্যাখ্যা

‘সারেং বৌ’ উপন্যাসটির রচয়িতা হচ্ছে শহীদুল্লাহ কায়সার। 

সারেং বৌ:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘সারেং বৌ’ (১৯৬২)।
- উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই উপন্যাসে সব সংস্কার তুচ্ছ করে মানুষকে জয়ী দেখানো হয়েছে। 

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- জন্ম: ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ফেনি।
- পুরো নাম: আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি জহির রায়হানের সহোদর।
- ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ: ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’।
- স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ: ‘রাজবন্দীর রোজনমাচা’।

উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,২১৭.
'মোটর যোগে রাঁচী সফর' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা-
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• 'মোটর যোগে রাঁচী সফর' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা- 'এস ওয়াজেদ আলি'।

এস ওয়াজেদ আলি:
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত, 
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২১৮.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের আসন
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,২১৯.
কোনটি ইমদাদুল হক মিলন রচিত মক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. অন্ধ কথামালা
  2. কালোঘোড়া
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. অলাতচক্র
ব্যাখ্যা
• 'কালোঘোড়া' উপন্যাস:
- পশ্চিম জার্মানীর এক ছোট্ট শহর সিনডেল ফিঙগেনে বসে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের এক নিবিড় গ্রাম নিয়ে উপন্যাস লিখেছিলেন ইমদাদুল হক মিলন। সেই উপন্যাসের নাম 'কালোঘোড়া'।
- 'কালোঘোড়া' মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস।

- ১৯৭১ এর সেই জেগে ওঠার দিনে বাংলাদেশের একটি গ্রামে কেমন চেহারা নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, কেমন করে মুক্তিযুদ্ধ প্রভাবিত করেছিল গ্রামের প্রতিটি মানুষকে, কেমন করে মুক্তিযোদ্ধারা এসে আশ্রয় পায় এক বালকের কাছে, কেমন করে প্রাণ হারায় এক বোবা যুবতী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হোতা কেমন করে নিহত হয় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আর কেমন করেই বা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সেই বালক নিজের অজান্তে হয়ে ওঠে এক মহান মুক্তিযোদ্ধা, প্রাণের বিনিময়ে যে রক্ষা করতে চায় সহযোদ্ধাদেরকে, একরম অনেকগুলো বিষয়কে 'কালোঘোড়া' উপন্যাসে উপজীব্য করেছেন ইমদাদুল হক মিলন।


অন্যদিকে,
- ‘অন্ধ কথামালা’ রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

------------------
• ইমদাদুল হক মিলন:
- ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জন্ম।
- লেখনীশক্তির পাশাপাশি তার রয়েছে নাট্যরচনায় পারদর্শিতা।
- বর্তমানে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদপত্র 'কালের কন্ঠ-এর সম্পাদক পদেও নিয়োজিত রয়েছেন তিনি।
- শিশুতোষ গল্প দিয়ে সাহিত্য অঙ্গনে এ গুণী লেখকের প্রবেশ, যা প্রকাশিত হয়েছিলো কিশোর বাংলা' নামক এক পত্রিকায়।
- তবে পাঠকের নজরে পড়েছিলেন 'সজনী' নামের ছোট গল্প লিখে।
- খুব অল্প বয়সে তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
 - দুই বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী তার বহুল পঠিত উপন্যাস হলো 'নূরজাহান'।
- এছাড়াও ইমদাদুল হক মিলন এর উপন্যাস সমগ্র বিভিন্ন পাঠকপ্রিয় উপন্যাসে ঠাসা।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- জিন্দাবাহার,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা,
- কে,
- তাহারা,
- ভূতের নাম রমাকান্ত কামার ইত্যাদি।

• দেশি- বিদেশি নানা সম্মানজনক পুরস্কারের পাশাপাশি ২০১৯ সালে তিনি একুশে পদক পান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া;  'কালোঘোড়া' উপন্যাস।
৪,২২০.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. গিনিপিগ
  2. মেবার পতন
  3. কিত্তনখােলা
  4. নবীন তপস্বিনী
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। - মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

অন্যদিকে,
• ‘মেবার পতন’ দ্বিজেন্দ্রলালা রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
• ‘নবীন তপস্বিনী’ দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক।
• 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
৪,২২১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছেন?
  1. ব্যাকরণচার্য
  2. ভাষাচার্য
  3. ধ্বনিচার্য
  4. জ্ঞানচার্য
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী। ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো 'অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২২২.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের অর্ন্তভুক্ত নয়? 
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা

রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের অর্ন্তভুক্ত নয়। 
- এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 

আবু জাফর শামসুদ্দীন
- তিনি একজন সাংবাদিক এবং সাহিত্যিক।
- জন্ম: ১৯১১ সালের ১২ মার্চ, ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন।
- প্রথম উপন্যাস: পরিত্যক্ত স্বামী (১৯৪৭)। 

ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন। 

উল্লেখযোগ্য রচনা:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী। 

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,২২৩.
“আঠারো বছর বয়স” কবিতায় আঠারো শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে কতবার? (এমন দুই একটা প্রশ্ন থাকতেই পারে)
  1. ক) আঠারো
  2. খ) তেরো
  3. গ) আট
  4. ঘ) নয়
ব্যাখ্যা
“আঠারো বছর বয়স” কবিতায় “আঠারো” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে নয়বার এবং “আঠারো বছর” ব্যবহৃত হয়েছে সাতবার।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,২২৪.
কৃত্তিবাস ওঝার অনূদিত রামায়ণের নাম কী?
  1. রামলীলা
  2. রামচরিত মানস
  3. শ্রীরাম পাঁচালি
  4. রামায়ণ মহাকাব্য
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি ‘কৃত্তিবাস ওঝা’। কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল ‘মুখোপাধ্যায়’। কবির কাব্যের ‘আত্ম পরিচয়' অংশ থেকে তাঁর বংশ পরিচয় পাওয়া যায়।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন। তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২২৫.
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের মোট দৃশ্যসংখ্যা-
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
-'জাগো বাহে কোষ্ঠে সবাই' বলে অবিস্মরণীয় আহ্বানটি দিয়েছিলো : নূরলদীন।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা।
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪,২২৬.
কোন নাট্যকারের হাতে বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয়?
  1. ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. খ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) তারাচরণ শিকদার
ব্যাখ্যা
- ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা ছিলেন তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক। সুতরাং, তার হাত ধরেই বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয়।

- 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন।

- ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম কীর্তিবিলাস। এই নাটকের রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি। যার নাম কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৪,২২৭.
'ইব্রাহিম কার্দি' - চরিত্রটি কোন নাটকের? 
  1. কবর
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর 
  3. রক্তকরবী
  4. নীলদর্পণ 
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’: 
- এটি মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি: ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'
- এই নাটকের চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:

- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক ছিলেন।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দন্ডকারণ্য।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা ও
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,২২৮.
‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য।
ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’ - উক্তিটি কার?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘তন্বী’ কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে।
⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।

• উৎসর্গপত্রে লিখেছিলেন-
“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।”

⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
• ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। 
• সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
• বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি: কাব্যগ্রন্থ-
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• গদ্যগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,২২৯.
ইউসুফ-জুলেখা কে লিখেছেন?
  1. বাহরাম খান
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. সাবিরিদ খান
  4. আহমদ শাহ
ব্যাখ্যা
মুসলমান কবিরা বিভিন্ন বিদেশী কাহিনীর অনুবাদ করেছেন কাহিনী কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে৷
ইউসুফ-জুলেখার কাহিনী লিখেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর।
হানিফা ও কয়রা পরীর গল্প লিখেছেন সাবিরিদ খান৷
লাইলি-মজনুর প্রণয়ের কথা বলেছেন বাহরাম খান।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ
৪,২৩০.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান 
  3. শওকত ওসমান
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।

- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২৩১.
'ছন্দ সমীক্ষণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ
ব্যাখ্যা
বাংলা ছন্দ বিষয়ক গ্রন্থ- 'ছন্দ সমীক্ষণ' এর রচয়িতা আব্দুল কাদির। দিলরুবা ও উত্তর বসন্ত কাব্যের রচয়িতাও তিনি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,২৩২.
সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. খোয়াবনামা
  3. কাশবনের কন্যা
  4. জননী
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'চাঁদের অমাবস্যা'। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে । 
- উপন্যাসে আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর্জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত সমাজ প্রাভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
 
------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
 
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

অন্যদিকে,
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত ও মিথিক্যাল উপন্যাস 'কাশবনের কন্যা'। 
- জননী (১৯৩৫) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কে সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৩৩.
ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থের নাম কী?
  1. একুশের গল্প
  2. আর্তনাদ
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
• একুশে ফেব্রুয়ারী:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্শা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।
- প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

অন্যদিকে,
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলন বিষয়ক গল্প।
- 'আরেক ফাল্গুন' জহির রায়হানের রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস।

---------------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৩৪.
কোনটি ঠিক?
  1. শেষের পরিচয় (কাব্যগ্রন্থ)
  2. রাজবন্দীর রোজনামচা (নাটক)
  3. বিসর্জন (উপন্যাস)
  4. সে (গল্পগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
• 'সে' গল্পগ্রন্থ: 
- 'সে' হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- উদ্ভট ও অদ্ভুত, সম্ভব ও অসম্ভবের মিলনে গল্পগুলি গঠিত।
- রবীন্দ্রনাথের লেখা 'খাপছাড়া' ও 'ছড়ার ছবি'র কবিতার সঙ্গে এ গল্পগুলির যোগ সহজে লক্ষণীয়।

অন্যদিকে,
• ‘শেষ প্রশ্ন’ (১৯৩১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
• ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
• 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৩৫.
'ওসমান' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন গ্রন্থের প্রধান চরিত্র?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- 'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান। এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি অঙ্কিত হয়েছে।

--------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৩৬.
’চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আবদুল কাদির
  2. আনোয়ার পাশা
  3. আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
’চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’ উপন্যাসটি রচনা করেন-আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী: 
- একজন সুপরিচিত বাংলাদেশি গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর; বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" এর রচয়িতা। 

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি (১৯৫৯),
- সুন্দর হে সুন্দর (১৯৬০),

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (১৯৬০),
- নাম না জানা ভোর (১৯৬২),
- নীল যমুনা (১৯৬৪),
- শেষ রজনীর চাঁদ (১৯৬৭),
- কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫৯),  

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত (১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৩৭.
'অলাতচক্র' কী?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) গল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অলাতচক্র'৷
এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনকারী দেশসমূহের স্বার্থের দিকটি দেখতে চেয়েছেন৷
এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র : তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,২৩৮.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কবিতা কোনটি?
  1.  ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
  2. প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  3. আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
ব্যাখ্যা

• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'।


আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি।
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি-
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিলো
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিলো।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

অন্যদিকে,
• ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা; প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ও বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস; 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,২৩৯.
‘ধন ধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ সংগীতটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রজনীকান্ত
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• "ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক 'সাজাহান' নাটকে এই গানটি পাওয়া যায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- বাংলা সাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।  
- তিনি কিশোর কাল থেকে কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯০৫ সালে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অসামান্য অবদান ছিল। 

• দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান:
- ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’।
- ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।

নকশা-প্রহসন:
- একঘরে।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।

• তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি। 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার-পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া। 
৪,২৪০.
'মজিদ, জমিলা' চরিত্রগুলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. ক) দি আগলি এশিয়ান
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) লালসালু
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন  কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন। 

ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৪১.
'নারীর মূল্য' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) কাজী মোতাহের হোসেন
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অনীলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে 'নারীর মূল্য' নামক নিবন্ধ গ্রন্থটি যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। 
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন -
১) অনীলা দেবী (লেখকের বড় দিদির নাম)
২) শ্রীকান্ত শর্মা
৩) অনুরূপা দেবী
৪) অপরাজিতা দেবী
৫) শ্রী চট্টোপাধ্যায়
৬) পশুরাম (রাজবসু শেখর ও পশুরাম ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, সাহিত্য সমাজে তিনিই পশুরাম নামে অধিক পরিচিত।)
৭) সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, নারীর মূল্য- নিবন্ধ গ্রন্থ।
৪,২৪২.
“আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট”- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সত্যেন সেন
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’- এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৪৩.
বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি কে ব্যবহার করেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ রায়
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• যে যুগে বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জলতা ছিল একান্ত দুর্লভ, তখন রাজা রামমোহন রায় গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
• বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)
• তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• রাজা রামমোহন রায় বাংলা রচনায় যে গদ্যরীতি ব্যবহার করেছেন তাতে বিশেষ কোন প্রকার রীতির প্রতি তিনি দৃষ্টিপাত করেন নি। তািই বলা যায়, তাঁর গদ্যরীতি সাহিত্যরসমণ্ডিত না হলেও তাতে উপযোগিতা থাকায় অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• কবি ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর ভাষারীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘দেওয়ানজি জলের ন্যায় সহজ ভাষা লিখিতেন, তাহাতে কোন বিচার ও বিবাদঘটিত বিষয় লেখায় মনের অভিপ্রায় ও ভাব সকল অতি সহজে স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাইত, এ জন্যে পাঠকেরা অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম করিতেন, কিন্তু সে লেখায় শব্দের বিশেষ পারিপাট্য ও তাদৃশ মিষ্টতা ছিল না’।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,২৪৪.
‘ছন্দ সমীক্ষণ’ কার  উল্লেখযোগ্য লেখনি ? 
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. ঘ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির এর উল্লেখযোগ্য কবিতা ও প্রবন্ধগ্রন্থ: দিলরুবা (১৯৩৩), উত্তর বসন্ত (১৯৬৭), কবি নজরুল (১৯৭০), ছন্দসমীক্ষণ (১৯৭৯), বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত (১৯৮৫), যুগকবি নজরুল (১৯৮৬) ইত্যাদি।

• আনিসুজ্জামান এর  গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য:কাল নিরবধি ( আত্মজীবনী,২০০৩), আমার একাত্তর (১৯৯৭),মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর (১৯৯৮),আমার চোখে (১৯৯৯),বিপুলা পৃথিবী ।


• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,অ-তে অজগর (১৯৮২),কলকাতা (১৯৮০),ক্ষুধা প্রেম আগুন'(১৯৯৪)
• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩),মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী
• প্রবন্ধ:
বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা,দশ দিগণ্তের দ্রষ্টা,নির্বাচিত প্রবন্ধ,করতলে মহাদেশ,আমার বিশ্বাস।


উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর)।
৪,২৪৫.
‘প্রাচ্য ও প্রতীচ্য’ -প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবুল মনসুর
  3. গ) এস. ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
এস. ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ হলোঃ জীবনের শিল্প, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, ভবিষ্যতের বাঙালী, আকবরের রাষ্ট্রসাধনা, মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ, ইকবালের পয়গাম। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,২৪৬.
দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. জীবন আমার বোন
  3. কাবিলের বোন
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন ‘কালো বরফ’ উপন্যাসটি।
- এটি ১৯৯২ সালে  প্রকাশিত হয়।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু- মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে,
- জীবন আমার বোন মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- কাবিলের বোন আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- তিতাস একটি নদীর নাম অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত নদীকেন্দ্রিক উপন্যাস।

• মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জীবন আমার বোন (মুক্তিযুদ্ধকে উপন্যাস),
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: 'কালো বরফ' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৪৭.
‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’- উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) শহরতলী
  2. খ) সোনার চেয়ে দামী
  3. গ) পুতুল নাচের ইতিকথা
  4. ঘ) দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। 
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন - " সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" 
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে। 
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো -
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চিহ্ন,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা, 
- আরোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস।
৪,২৪৮.
‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জোশুয়া মার্শম্যান
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৪৯.
'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' কার রচনা?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।
- গ্রন্থটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ,
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়,
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন,
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,২৫০.
প্লেটোর ‘সিম্পোজিয়াম’ এর অনুবাদ করেন-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক।
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১): তিনি একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
সঞ্চয়ন (প্রবন্ধ সংকলন, ১৯৩৭),
নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫),
সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮),
সিম্পোজিয়াম (অনুবাদ, ১৯৬৫),
গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং
আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
৪,২৫১.
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা-
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা- 'আবদুল গাফফার চৌধুরী'
- - বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- এটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়।

তবে, 'পলাশী থেকে পাকিস্তান' নামক ইতিহাস ভিত্তিক গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী
- একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
- বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্ম ১২ ডিসেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'ডানপিটা শওকত'।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'কৃষ্ণপক্ষ'। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থের নাম 'চন্ত্রদ্বীপের উপাখ্যান।'  

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ: 
- পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)।
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রজনীর চাঁদ,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর,
- ডানপিটে শওকত,
- বাংলাদেশ কথা কয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৪,২৫২.
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) রম্য-রচনা
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত একটি রম্য-রচনা

- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- নানা প্রসঙ্গ
- গণসঙ্গতি
- মাটি থেকে মাহীরুহ
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা
- ফোকলোরচর্চা

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা

তাঁর রচিত শিশু-সাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,২৫৩.
কোনটি আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয়?
  1. জীবনে সমাজে সাহিত্যে
  2. বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব
  3. বিচিত চিন্তা
  4. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয় - সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- এটি মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ।

আহমদ শরীফ: 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
-  ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৫৪.
'জীবন আমার বোন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ইমদাদুল হক মিলন
  2. মাহমুদুল হক
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- মুরাদ,
- রহমান,
- ইয়াসিন,
- রঞ্জু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, 
•  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হয়েছে আল মাহমুদ উপন্যাস 'কাবিলের বোন'।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত প্রথম উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
৪,২৫৫.
কোন উপন্যাসে পঞ্চাশ এর মন্বন্তর, দেশবিভাগ প্রভৃতি চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. লালসালু
  2. সংশপ্তক
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. সূর্যদীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

 সূর্য দীঘল বাড়ী: বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৫৫)। উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬), এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল।
- আবু ইসহাকের উপন্যাসেরই মূল উপজীব্য অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম। 

তাঁর রচিত গল্প
- হারেম (১৯৬২)
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)
- জোঁক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৪,২৫৬.
নিচের কোনটি উপন্যাস ?
  1. ক) আমার বিশ্বাস
  2. খ) স্মৃতির নোটবুক
  3. গ) পোড়ামাটির কাজ
  4. ঘ) ভেসেছিলাম ভাঙ্গা ভেলায়
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ এর রচিত স্মৃতিকথা হলোঃ আমার বিশ্বাস (১৯৮৮), স্মৃতির নোটবুক (২০০১), ভেসেছিলাম ভাঙ্গা ভেলায় (২০০৯), মিটিলনা সাধ ভালবাসিয়া তোমায়(২০১২)। উপন্যাসঃ কলকাতা, পোড়ামাটির কাজ, ক্ষুদা প্রেম আগুন, গভীর গভীরতর অসুখ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,২৫৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. 'খোঁয়ারি'
  2. 'দুধভাতে উৎপাত'
  3. 'খোয়াবনামা'
  4. 'দোজখের ওম'
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা':
- ’খোয়াবনামা’ কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস।
- গ্রাম বাংলার নিন্মবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ বিষয়ক বিভিন্ন শ্রুতি বা লোককথা, জোতদারি সমাজব্যবস্থা, তেভাগা আন্দোলন, দেশভাগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি, হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক ও সংকট প্রবৃত্তি এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- খোঁয়ারি, 'দুধে ভাতে উৎপাত, 'দোজখের ওম'': আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।
- তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,২৫৮.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগকে অপাঠ্য বলেছেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
• ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। 
• সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
• বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

⇒ মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্যের বার বার পুনঃরচনা দেখে মধ্যযুগের উপর ভীষণ বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন আধুনিককালের কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
⇒ তিনি বলেছিলেন 'বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ অপাঠ্য'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি: কাব্যগ্রন্থ-
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৫৯.
‘আগুনের মেয়ে’ – উপন্যাসের রচয়িতা কে ?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি। উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,২৬০.
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. আগুনপাখি
  2. শিউলি
  3. বৃত্তায়ন
  4. নামহীন গোত্রহীন
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।
আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, বৃত্তায়ন, শিউলি তার রচিত উপন্যাস৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৬১.
'যৈবতী কন্যার মন' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'যৈবতী কন্যার মন' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, শকুন্তলা, বাসন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,২৬২.
'কাজলা দিদি' কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) রজনীকান্ত সেন
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  4. ঘ) মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
'কাজলা দিদি' কবিতাটি রচনা করেছেন- 'যতীন্দ্র মোহন বাগচী'। 

'কাজলা দিদি' কবিতা
- যতীন্দ্র মোহন বাগচী

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন
দিদি বলে ডাকি তখন,
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?
আমি ডাকি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো?

উৎস: 'কাজলা দিদি' কবিতা- যতীন্দ্র মোহন বাগচী। 
৪,২৬৩.
'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
• ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
-মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা, রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৪.
ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে গান রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন-
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রাহমান
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর অমর-কর্ম ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত গান:
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি। 

• সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন। এই গানের কথায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি ২১ তারিখে সংঘটিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ফুটে উঠেছে।

• গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় হাসান হাফিজুর রাহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে। 

• গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। আলতাফ মাহমুদের সুরে ১৯৫৪ সালের প্রভাত ফেরীতে প্রথম গাওয়া হয় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। সুরটি এখনো বলবৎ আছে। 

• ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তার ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রেও গানটি ব্যবহার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী জীবনী।
৪,২৬৫.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) পর্তুগালে
  2. খ) ভারতে
  3. গ) ইংল্যান্ডে
  4. ঘ) ইতালিতে
ব্যাখ্যা
জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারী ইতিহাসবিদ এবং সাংবাদিক। তিনি ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীরামপুর ত্রয়ী অন্যতম জোশুয়া মার্শম্যান তাঁর বাবা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,২৬৬.
নিচের কোনটি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক নয়?
  1. ক) বেদের মেয়ে
  2. খ) পদ্মাপাড়
  3. গ) মধুমালা
  4. ঘ) জামাই বারিক
ব্যাখ্যা

- জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম গ্রহণ করেন। 
- জসীমউদ্দীন বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- জসীমউদ্দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- পদ্মাপাড় 
- বেদের মেয়ে 
- মধুমালা 
- পল্লীবধূ 
- গ্রামের মায়া 
 উল্লেখ্য 
- জামাই বারিক নাটকটি রচনা করেন দীনবন্ধু মিত্র 

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৪,২৬৭.
কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার ও প্রকাশ কার শ্রেষ্ঠ কীর্তি?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।

'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম। তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।

তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

-তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪,২৬৮.
ড. আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. স্বরূপের সন্ধানে
  2. আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  3. বাঙালী মুসলমানের মন
  4. বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে
ব্যাখ্যা
- 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন আহমদ ছফা। 

• আনিসুজ্জামান:

- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৬৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' নামে আখ্যায়িত করেছেন কোন কাব্যগ্রন্থ পাঠ করে?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের 'ধূসর পান্ডুলিপি' পড়ে তার কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। 

'ধূসর পান্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থ
- এটি জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কবিতা।
- এই কবিতাগুলির মধ্যে জীবনানন্দীয় কাব্যের নিজস্ব বিষয়, ছন্দভঙ্গি, ভাষা, প্রতিমা সমস্ত বিষয় প্রকাশিত।
- এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমেই আধুনিক বাংলা কাব্যাঙ্গনে জীবনানন্দের প্রতিষ্ঠা নিষচিত হতে থাকে। 

• জীবনানন্দ দাশ
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ: 
* ঝরা পালক।
* ধূসর পাণ্ডুলিপি।
* বনলতা সেন।
* মহাপৃথিবী।
* সাতটি তারার তিমির।
* বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৪,২৭০.
শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গৃহদাহ
  2. খ) দত্তা
  3. গ) পথের দাবী
  4. ঘ) দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস - পথের দাবী (১৯২৬)। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী। কারো কারো মতে, সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী - রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করে। উপন্যাসটি বাংলা ১৩২৯ সালের ফাল্গুন সংখ্যা থেকে “বঙ্গবাণী” পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৭১.
কোনটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ছোটগল্প?
  1. টুনি মেম
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. দেশে-বিদেশে
  4. ময়ূরকণ্ঠী
ব্যাখ্যা

টুনি মেম হচ্ছে সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি ছোটগল্প। 

সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪–১৯৭৪)
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪, পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে।
- পৈতৃক নিবাস: হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রাম।
- গ্রন্থসংখ্যা: প্রায় ৩০টি রচনা (উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনি)।

উল্লেখযোগ্য রচনা:
- উপন্যাস: অবিশ্বাস্য, শবনম। 
- ভ্রমণকাহিনি: দেশে-বিদেশে। 
- রম্যরচনা: পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী। 
- ছোটগল্প: চাচা-কাহিনী, টুনি মেম। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

৪,২৭২.
ভারতের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে কাজী নজরুল ইসলাম কোন কাব্য রচনা করেন?
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) ভাঙার গান
  4. ঘ) চিত্তনামা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে "কাব্যগ্রন্থ" উল্লেখ করা উচিৎ ছিল।
কিন্তু এখানে অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর অগ্নি-বীণা রাখা হয়েছে।

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলাম এর একটি কাব্যগ্রন্থ।
-  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর অবক্ষয় এবং ভারতের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে এটি রচিত।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- নজরুল ২৪শে মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে তাকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
- তাঁর সর্বস্বপণ ছিল দেশপ্রেম ও শোষণবিরোধিতা।

• অগ্নিবীণা:
- এই কাব্যের প্রথম কবিতার নাম 'প্রলয়োল্লাস'।
-  এছাড়াও এই কাব্যের অন্যতম ও জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- কাব্যগ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউজ থেকে এটি ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর অবক্ষয় এবং ভারতের স্বাধিকার আন্দোলনের পটভূমিতে এটি রচিত।
- কাব্যটিতে কবি ভারতীয় পুরাণ এবং পশ্চিম এশীয় ঐতিহ্য ব্যবহার করেছেন দক্ষতার সাথে।
- এটির প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ পরিকল্পনায় ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কাব্যটি উৎসর্গ করা হয় ব্রিটিশ বিরোধী বাঙালি বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বিষের বাঁশি।
- দোলনচাঁপা।
- ভাঙার গান।
- সাম্যবাদী।
- সর্বহারা।
- ফণি-মনসা।
- জিঞ্জির।
- সন্ধ্যা।
- প্রলয় শিখা।
- মরু ভাস্কর।
- নতুন চাঁদ।
- চক্রবাক।
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গানের বই:
- বুলবুল, চোখের চাতক, চন্দ্রবিন্দু, সুরসাকী, জুলফিকার, বনগীতি, গুলবাগিচা, গানের মালা ও গীতি শতদল ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৭৩.
'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক তাঁর দেখা একাত্তরের ভাষ্য শুরু করেছেন নিস্পৃহ নিরাবেগ ভঙ্গিতে।

বইয়ের সূচনাবাক্যে তিনি লিখেছেন:
'আমার জানা ছিল না যে পানিতে ভাসিয়ে দিলে পুরুষের লাশ চিৎ হয়ে ভাসে আর নারীর লাশ ভাসে উপুড় হয়ে। এই জ্ঞান আমি পাই '৭১ সালের মার্চ মাসের একেবারে শেষে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৭৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম কোন উপন্যাস প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যজগতে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. বড়দিদি
  2. পরিণীতা
  3. পণ্ডিত মশাই
  4. দত্তা
ব্যাখ্যা
♦ বড়দিদি:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ।

♦ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনাপাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,২৭৫.
'আত্মকথা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আত্মকথা আবুল মনসুর আহমেদ রচিত স্মৃতিকথা বা আত্মজীবনী। এছাড়াও তাঁর রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ও শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু। তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গালিভারের সফরনামা ও ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,২৭৬.
'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' শামসুজ্জামান খান রচিত-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) স্মৃতিকথা
  3. গ) রম্যরচনা
  4. ঘ) শিশু সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন শামসুজ্জামান খান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ-
- ফোকলোরচর্চা,
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গতি,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা।

তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য-
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

তাঁর রম্যরচনা-
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৭৭.
‘মতিলাল’ নিচের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  2. আধ্যাত্মিকা
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
 আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৭৮.
ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. খ) বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য
  3. গ) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ হলো বাংলা সাহিত্যের কথা।

বাংলা ভাষার ইতিহাস বিষয়ক তার গ্রন্থ বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত। অন্যদিকে, বাঙালি ও বাঙলা এবং বাঙলা সাহিত্য, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থসমূহের রচয়িতা যথাক্রমে আহমদ শরীফ, মাহবুবুল আলম এবং মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান।

(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৪,২৭৯.
মুনীর চৌধুরী রচিত ’কবর’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. গণঅভ্যুত্থান 
  2. স্বাধীনতা যুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. কৃষক আন্দোলন
ব্যাখ্যা

‘কবর’ নাটকের পটভূমি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন উপর ভিত্তি করে রচিত। 

'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,২৮০.
কবি আল মাহমুদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? 
  1. পিরোজপুর জেলায় 
  2. ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায় 
  3. ঢাকা জেলায় 
  4. নেত্রকোনা জেলায় 
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,২৮১.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. ক) শাহ মুহাম্মদ সগীর
  2. খ) আবদুল হাকিম
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)। 
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৮২.
প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. আধ্যাত্মিকা
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. মদ খাওয়া বড় দায়
  4. জাত থাকার কি উপায়?
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়?,
- আধ্যাত্মিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৮৩.
কোনটি নির্মেলেন্দু গুণ রচিত নয়?
  1. ক) না প্রেমিক না বিপ্লবী
  2. খ) নিশিকাব্য
  3. গ) ভলগার তীরে
  4. ঘ) ত্রিবেণী
ব্যাখ্যা

'না প্রেমিক না বিপ্লবী' নির্মেলেন্দু গুণ রচিত ১৯৭২ সালে প্রকাশিত কবিতা। 
'নিশিকাব্য', নির্মেলেন্দু গুণ রচিত ২০০৬ সালে প্রকাশিত কবিতা।
'ভলগার তীরে' ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত নির্মেলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনী।
'ত্রিবেণী' ১৯১২ সালে প্রকাশিত দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,২৮৪.
‘কালিন্দী’ উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১): কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
তাঁর রচিত উপন্যাস - চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২), ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯), কালিন্দী (১৯৪০), গণদেবতা (১৯৪৩), পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪), কবি (১৯৪৪), হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭), আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৪,২৮৫.
'আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।' বিখ্যাত গানটি কার রচনা?
  1. প্রতুল মুখোপাধ্যায়
  2. লালন শাহ্
  3. হাছন রাজা
  4. গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা

• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না। তাই তিনি গেয়েছে 'সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।'
- "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- লালন শাহ্ রচিত বিখ্যাত একটি গান।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,২৮৬.
বন্দে আলী মিয়ার 'তাসের ঘর' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) গল্প
  2. খ) কাব্য
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- বন্দে আলী মিয়ার 'তাসের ঘর' একটি গল্পগ্রন্থ। 

বন্দে আলী মিয়া:
-১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে এন্ট্রান্স (১৯২৩) পাস করে কলকাতার ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমীতে চিত্রবিদ্যায় (১৯২৭) শিক্ষালাভ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্য
- ময়নামতীর চর 
- অনুরাগ 
- পদ্মানদীর চর 
- মধুমতীর চর 
- ধরিত্রী। 
উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে 
- শেষ লগ্ন 
- অরণ্য গোধূলি 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
শিশুতোষগ্রন্থ:
- চোর জামাই 
- মেঘকুমারী 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা 
- সোনার হরিণ 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা 
- কুঁচবরণ কন্যা 
- সাত রাজ্যের গল্প
- জীবনী কামাল আতাতুর্ক ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
- তাসের ঘর। 
নাটক:
- মসনদ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৪,২৮৭.
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের গল্পকার কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ 
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী 
ব্যাখ্যা
• 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্প:
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বেন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক 'মৌচাক' পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডক্তার পরাশর ও নগেন এই গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

-------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৮৮.
সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার, ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'বহিপীর' বহিপীর নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানাের সুযােগ পান।

- তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পীর প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযােগ পান।
- ফলে তিনি লালসালু উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। 
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে। 
চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, আমেনা, হাশেম। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক -
- উজানে মৃত্যু
- সুড়ঙ্গ 
- তরঙ্গভঙ্গ

বিখ্যাত উপন্যাস সমূহ -
- লালসালু (ধর্ম ব্যাবসা কে কেন্দ্র করে রচিত) 
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো 
- দি আগলি এশিয়ান

গল্পগ্রন্থ -
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৮৯.
'Intervention' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. উগ্রস্বাদেশিকতা
  2. হস্তক্ষেপ
  3. অচলাবস্থা
  4. আভিজাত্য
ব্যাখ্যা

• 'Intervention' এর বাংলা পরিভাষা - হস্তক্ষেপ

অন্যদিকে,
Chauvinism - উগ্রস্বাদেশিকতা।
Deadlock - অচলাবস্থা।
Aristocracy - অভিজাততন্ত্র / আভিজাত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৪,২৯০.
'গোস্বামীর সহিত বিচার' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) শ্রীকর নন্দী
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
• রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
• সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
• রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’। 
• রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। বই টি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।
• তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে),
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯১.
"ফুটপাতে ওরা সব এলিয়ে পড়ে রয়েছে। ছাড়ানো খড় যেন।" সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র 'নয়নতারা' গল্প থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশটি __ এর দৃষ্টান্ত ।
  1. ক) উৎপ্রেক্ষ চিত্রকল্প
  2. খ) উপমাসঞ্জাত রূপক
  3. গ) প্রতীকায়িত বাজভৃতি
  4. ঘ) অন্যাসক্ত রূপকাতাস
ব্যাখ্যা
বাংলা একডেমি অভিধান অনুসারে, 
উৎপ্রেক্ষা অর্থঃ (আলঙ্কারিক) উপমান ও উপমেয়ের অভেদ কল্পনা।

সংজ্ঞাঃ
প্রবল সাদৃশ্যহেতু উপমেয়কে যদি উপমান বলে ভুল বা সংশয় হয়  তবে তাকে ‘উৎপ্রেক্ষা’ বলে।
- এ অলঙ্কারে যেন, বুঝি, মনে হয়, প্রায়, ইত্যাদি সম্ভাবনা বাচক শব্দের উল্লেখ থাকে। 

উৎপ্রেক্ষার প্রাণবস্তু হল সংশয়,এবং এই সংশয়ে উপমানপক্ষই প্রবলতা লাভ করে। উৎপ্রেক্ষা শব্দের অর্থ হল বিতর্ক বা সংশয়। যেমন,
মুখ যেন চাঁদ'—এই বাক্যে ‘মুখ উপমেয়, ‘চাদ’ উপমান-এখানে অতিরিক্ত সাদৃশ্যবশত মুখকে চাদ বলে সংশয় জন্মাচ্ছে। এই সংশয় মুখ এবং চাদের অভেদ-সম্পর্ক-বিষয়ে। সুতরাং উৎপ্রেক্ষায় সংশয়ের অর্থ হল অভেদ সংশয়।

মনে রাখতে হবে, সংশয় যদি একপক্ষে না হয়ে উভয় পক্ষে হয়তাহলে সেই অলংকার ‘উৎপ্রেক্ষা' না হয়ে সন্দেহ হবে। যেমন, কী আশ্চর্যসুন্দর তার মুখটি—এ কি মুখ? না চাঁদ। এখানে উপমেয় [ মুখ ] এবং উপমান [চাঁদ] উভয়পক্ষে সংশয় রয়েছে বলে অলংকারটি ‘উৎপ্রেক্ষা’ নয়,সন্দেহ'। উৎপ্রেক্ষাবাচক শব্দ হল ‘যেন’, ‘বুঝি’, ‘মনে হয়’ ইত্যাদি এবংএই শব্দগুলির দ্বারাই সংশয় প্রকাশ পায় ।
ফুটপাতে ওরা সব এলিয়ে পড়ে রয়েছে। ছড়ানো খড় যেন।' এখানে লেখক মৃতদেহ কে আলংকরিক রূপ দিয়েছেন এবং সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, "খড় যেন"। 

সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ বাংলাদেশের প্রথম বাংলাদেশি চেতনা প্রবাহরীতির উপন্যাস রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৯২.
"তিতাস একটি নদীর নাম" - উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা

তিতাস একটি নদীর নাম:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী প্রমুখ।
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
 
অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ।

৪,২৯৩.
সেলিম আল দীন জন্মগ্রহণ করেন-
  1. কুমিল্লায়
  2. ফেনীতে
  3. চট্টগ্রামে
  4. সাভারে
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার ও গবেষক।
• তিনি ফেনীর সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন‌।
• তিনি 'ঢাকা থিয়েটার' এবং 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' প্রতিষ্ঠা করেন।
• তাঁর রচিত নাটক হলোঃ
- শকুন্তলা,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- কেরামতমঙ্গল,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,২৯৪.
'আমআঁটির ভেঁপু' পর্বটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. অপরাজিত
  2. আরণ্যক
  3. পথের পাঁচালী
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
• ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস:
'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূ ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়। গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উপন্যাসের তিনটি ভাগ:
- বল্লালী বালাই,
- আমআঁটির ভেঁপু,
- অক্রূর সংবাদ।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

উল্লেখ্য,
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯৫.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ-
  1. মাধবীলতা
  2. রামেশ্বরের অদৃষ্ট
  3. কণ্ঠমালা
  4. জলপ্রতাপ চাঁদ
ব্যাখ্যা
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দুটি গল্পগ্রন্থের নাম 'রামেশ্বরের অদৃষ্ট' ও 'দামিনী'।

----------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৯৬.
একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক-
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• ’কবর’
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead  নাটকের অনুসারে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে কবর নাটক লেখা হয়।
- ’কবর’ একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।
- বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- কবর নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।
-------------------------------------------------
মুনীর চৌধুরি:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯৭.
'সূর্যদীঘল বাড়ি' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫০
  2. ১৯৫২
  3. ১৯৫৫
  4. ১৯৫৭
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত।
- দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

- উপন্যাসের চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- সূর্য দীঘল বাড়ীর চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

আবু ইসহাকের অন্যান্য রচনা- 
- পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬)
- জাল  (১৯৮৮)
- হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপাত্র (১৯৬৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯৮.
'ভবিষ্যতের বাঙালী' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থ পরিচিতি:
- এস ওয়াজেদ আলি রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ।

- এই গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু- মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে।
- এই গ্রন্থে হিন্দু ও মুসলমানের মিলনে এক জাতি গড়ে তোলা যায় কিনা সে সম্পর্কে তিনি আলোচনা করেছেন। 

এই গ্রন্থের প্রবন্ধগুলোর নাম হচ্ছে:
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- ভবিষ্যতের বাংলা সাহিত্য,
- রাষ্ট্রের রূপ,
- রাষ্ট্র ও নাগরিক,
- হিন্দু-মুসলমান,
- প্রেমের ধর্ম;
- জাতীয় জাগরণ।
----------------------------

• এস ওয়াজেদ আলি:
১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম- গল্পগ্রন্থ 'গুলদাস্তা'
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

তাঁর রচিত গল্প:
- গুলদাস্তা,
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প,
- গল্পের মজলিশ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯৯.
'বটতলার পুঁথি' বলতে কী বোঝায়?
  1. বটগাছের নিচে রচিত পুঁথি
  2. গ্রাম বাংলার পুঁথি
  3. কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত পুঁথি
  4. গ্রাম বাংলার হাতে তৈরি কাগজে ছাপা পুঁথি
ব্যাখ্যা
পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। 
- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস  লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

- ড. আনিসুজ্জামান তাঁর রচিত 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থে এই শ্রেণির কাব্যের নাম সম্পর্কে বলেছেন - 
"কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এইধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে বটতলার পুঁথি নামেও একে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে।" 

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৩০০.
'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) শেখ আজিজুর রহমান
  4. ঘ) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান এর প্রকৃত নাম প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। 
- শওকত ওসমানের 'ক্রিতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী (১৯৫৮),
- ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২),
- সমাগম (১৯৬৭),
- চৌরসন্ধি (১৯৬৮),
- রাজা উপাখ্যান (১৯৭১),
- জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭১),
- দুই সৈনিক (১৯৭৩),
- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩),
- পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩),
- আর্তনাদ (১৯৮৫),
- রাজপুরুষ (১৯৯২);


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।