বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৪১ / ৭৭ · ৪,০০১৪,১০০ / ৭,৬৪৬

৪,০০১.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. কায়কোবাদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,০০২.
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি - বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ১৯৫৬ 'সাহিত্য পত্রিকার'র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' (১৯৬৪) রচনার জন্য স্মরণীয়।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ৩রা জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি, 
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, 
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,০০৩.
'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. সমর সেন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• সমর সেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলোঃ
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।
- তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ- বাবু বৃত্তান্ত (আত্মজীবনী)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০০৪.
'এই খেদ মোর মনে
ভালবেসে মিটল না আশ কুলাল না এ জীবনে।
হায়, জীবন এতো ছোট কেনে?
এ ভুবনে?' - সংলাপটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) পঞ্চগ্রাম
  2. খ) কবি
  3. গ) অরণ্যবহ্নি
  4. ঘ) ফেরা
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি (১ম প্রকাশিত উপন্যাস)
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস)।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ-
'এই খেদ মোর মনে
ভালবেসে মিটল না আশ কুলাল না এ জীবনে।
হায়, জীবন এতো ছোট কেনে?
এ ভুবনে?'

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০০৫.
রফিক আজাদের ডাক নাম কী ছিল?
  1. বাচ্চু
  2. আজাদ
  3. জীবন
  4. রফিক
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০০৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. আঙুর
  2. সুধাকর
  3. কোহিনুর
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

• আঙুর পত্রিকা:
- সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় নভেম্বর ১৯২০ সালে।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• 'সুধাকর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আব্দুর রহিম।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ।
- অমিয় শতক।
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মবতী।
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।
- গল্প সংকলন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- ইকবাল
- আমাদের সমস্যা।
- বাংলা আদব কি তারিখ।
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- আঙুর।
- দি পীস।
- বঙ্গভূমিক।
- তকবীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,০০৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  2. খ) খোয়াবনামা
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) দুধভাতে উৎপাত
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
এই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।
খোয়াবনামা - তাঁর রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল ও দুধভাতে উৎপাত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,০০৮.
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”
কোন কাব্য থেকে গৃহীত?
  1. ক) আকাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) ঘুম নেই
  4. ঘ) অভিযান
ব্যাখ্যা
“ছাড়পত্র” (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর ৩ মাস পর প্রকাশিত হয়। প্রশ্নে উল্লেখিত লাইনগুলো এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। সুকান্তের অন্যান্য কবিতার বইঃ ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি। পঞ্চাশের মণ্বন্তর নিয়ে লেখা তার সাহিত্য সংকলন - আকাল। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,০০৯.
মেঘমল্লার গ্রন্থের রচয়িত হলেন –
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)।

তার রচিত ছােটগল্পগ্রন্থগুলাের নাম:
- মেঘমল্লার (১৯৩১),
- মৌরীফুল (১৯৩২),
- যাত্রাবদল (১৯৩৪),
- কিন্নরদল (১৯৩৮)।

মেঘমল্লার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্পগ্রন্থ। বইটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৪,০১০.
'হৃৎকলমের টানে' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• "হৃৎকলমের টানে" প্রবন্ধ:
- কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের বিচিত্র-বিপুল সৃষ্টিবিশ্বের এক অনুপম নিদর্শন 'হৃৎকলমের টানে'; তাঁর সাহিত্যকলামের সংকলন। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে 'সংবাদ' এর সাহিত্য সাময়িকীর পাতায় যাত্রা শুরু করেছিলো সৈয়দ শামসুল হকের কলাম 'হৃৎকলমের টানে'। সাহিত্যের সূত্রে এসেছে সংস্কৃতি-রাজনীতি-সমাজ-স্বদেশ ও বিশ্বভাবনা। জগৎ ও জীবনকে তাঁর দৃষ্টির নিজস্বতায় যেভাবে উপলব্ধি করেছিলেন তারই শিল্পভাষ্য ধরা রইল এইসব খণ্ড রচনায়।

- ধারাবাহিক সেই কলাম থেমে গেছে কালের স্রোতে, জীবনাবসান ঘটেছে সৈয়দ হকের। সংকলন হিসেবে প্রকাশিত কলাম 'হৃৎকলমের টানে' প্রবন্ধ হিসেবে নতুন করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশের পরপরই এই বইভুক্ত লেখাগুলাে যেমন আলােড়ন তুলেছিল তেমনি আজও পাঠক এইসব লেখায় খুঁজে পান সৈয়দ শামসুল হকের জগৎ ও জীবনদর্শনের সারবত্তা। বাংলা মননশীল সাহিত্যের ধারাও এই রচনা-সিরিজ যােগ করেছে নতুন মাত্রা।

- সৈয়দ শামসুল হকের রচনার এক পুরােধা প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স নতুন কলেবরে, অখণ্ড অবয়বে প্রকাশ করছে হৃৎকলমের টানে। পাঠক নিশ্চয়ই বইটি পড়তে পড়তে নতুন করে আবিষ্কার করবেন সৈয়দ শামসুল হককে।

-------------
• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: "হৃৎকলমের টানে" প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০১১.
'গালিভারের সফরনামা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. অন্নদাশংকর রায়
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা:
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,০১২.
'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য কে রচনা করেছেন?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সত্যেন সেন
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'বৃত্রসংহার' গ্রন্থ: 
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'। 
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। 
- দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়। 
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির
ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়),
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৪,০১৩.
‘রানিখালের সাঁকো’ উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. আহসান হাবীব
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ‘রানিখালের সাঁকো’ উপন্যাস:
- ছোটদের জন্য আহসান হাবীবের লেখা উপন্যাস ‘রানিখালের সাঁকো’।
উপন্যাসটি চিরায়ত কিশোর সাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে কয়েক প্রজন্মের পাঠপ্রিয়তার কারণেই।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
-  ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০১৪.
নিচের কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. চিঠি
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কেউ কিছু বলতে পারে না' জর্জ বার্নার্ড শ এর 'You never can tell'-এর বাংলা অনুবাদ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:

- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,০১৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. রেইনকোট
  2. সাড়ে তিন হাত ভূমি
  3. বর্ণচোরা
  4. বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' উপন্যাস:
- একটি কবরের আয়তন কত? এই প্রশ্নের উত্তর, 'সাড়ে তিন হাত ভূমি'। জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৭১ সাল, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে, সময়টা বর্ষাকাল। আগরতলায় ট্রেনিং নিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধা ঢুকেছেন বাংলাদেশে। এই দলে আছেন রবি। ঢাকায় গেরিলা অপারেশন শুরু হওয়ার আগে দুদিনের জন্য এসেছেন এসেছেন নিজেদের গ্রামে। বিকেলবেলা বাড়িতে ঢুকে দেখেন উঠোনে পড়ে আছে বাবার লাশ, বসার ঘরে মায়ের লাশ, বোনের লাশ তার ঘরে, সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীর লাশ পেছন দিককার উঠোনে। এই দেখে অনুভূতিহীন হয়ে যান রবি। এক সময় উঠোনে কবর খুঁড়তে শুরু করেন। যখন যার কবর খুঁড়ছেন, ঢুকে যাচ্ছেন তার স্মৃতির ভেতর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' একেবারেই অন্য মাত্রার উপন্যাস।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- জিন্দাবাহার,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা,
- কে,
- তাহারা,
- ভূতের নাম রমাকান্ত কামার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তি নাটক- বর্ণচোরা, বকুলপুরের স্বাধীনতা। 

উৎস: 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,০১৬.
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ না কোনটি?
  1. ক) হরগজ
  2. খ) মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী
  3. গ) বাসন
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম হলো মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী, হরগজ, বাসন, হাতহদাই। বহুব্রীহি লিখেন হুমায়ূন আহমেদ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - মোহসীনা নাজিলা
৪,০১৭.
প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান 'সংকলন করেছেন?
  1. ক) অশোক মুখোপাধ্যায়
  2. খ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) জগন্নাথ চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত বাংলা ভাষার 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান যথাশব্দ।
- ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর বার্ষিক সম্মিলনীর সভাপতির ভাষণে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙ্গলা ভাষা, শব্দকোষ, সাহিত্য প্রভৃতি সব দিকেই বহু অনুসন্ধান ও গবেষণা হইয়াছে, ভালো অভিধানও বাহির হইয়াছে এবং আরও হইতেছে। কিন্তু ইংরেজি Roget's Thesaurus-এর মত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারশৈলী অনুসারে, বিভিন্ন প্রকারের দ্যোতনার শব্দের বিশেষ কার্য্যকর অভিধান ছিল না। বাঙ্গালি সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকের পক্ষে “যথাশব্দ” অভিধানখানি এইরূপ একখানি অপরিহার্য্য পুস্তকরূপে এখন দেখা দিল।’

উল্লেখ্য, যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

‘‘রজে-র থিসরাসের বিষয় এবং শব্দবিন্যাসের ধরনকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে, বাংলা ভাষায় প্রথম থিসরাস ছাপা হয়েছে ‘যথাশব্দ’।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই অভিধানের সঙ্কলক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আগে প্রাণতোষ ঘটক একটি ছোট আকারের সমার্থশব্দ-সঙ্কলন করেছিলেন— নাম ‘রত্নমালা’ (আশ্বিন ১৩৬২; ১৯৫৫)। এই গ্রন্থের বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক নয়— বর্ণনাক্রমিক।
- আরও একটি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক থিসরাস তথা ‘অভিধান’ প্রকাশিত হয়েছে— মণিমঞ্জুষা ( বৈশাখ ১৩৯৩; ১৯৮৬), সঙ্কলক ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী। এই অভিধানের বিন্যাস বিষয়ানুযায়ী নয়— বর্ণানুক্রমিক।’’
- এ সব তথ্য স্বয়ং অশোক মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘সংসদ সমার্থশব্দকোষ’ (ডিসেম্বর ১৯৮৬)-এর ভূমিকায় জানিয়েছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো আর্কাইভ ও আনন্দবাজার সম্পাদকীয়।
৪,০১৮.
'হিংটিং ছট' রম্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. ফররুখ আহমদ
  3. নুরুল মোমেন
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০১৯.
নিচের কোন আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়?
  1. কোকিলারা
  2. এখন দুঃসময়
  3. সুবচন নির্বাসনে
  4. ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
• 'ওরা কদম আলী 'মামুনুর রশীদ রচিত নাটক।

- বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তাঁর রচিত প্রথম নাটক- 'শপথ'।

আব্দুল্লাহ আল মামুন এর  বিখ্যাত কয়েকটি নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে
- কোকিলারা,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।
-------------------------------------------------------------------------
লাইভ পরীক্ষায় প্রশ্নে ভুল ছিলো। প্রশ্নে 'নাটক' এর পরিবর্তে 'উপন্যাস' লিখা হয়েছিলো।
প্রশ্নটি হওয়ার কথা "নিচের কোনটি আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়?"
প্রশ্নটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০২০.
''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।''- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: গোলাম মোস্তফা।

কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
মোস্তফা, গোলাম:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
 
৪,০২১.
আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ক) নববসন্ত
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) মুসলিম কালচার
  4. ঘ) সত্যের সন্ধানে
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ ‘মুসলিম কালচার'। ‘ কালের কলস’ আল মাহমুদ এর কাব্যগ্রন্থ। ‘ সত্যের সন্ধানে’ এর লেখক আরজ আলী মাতুব্বর। ‘নববসন্ত’ হলো আবুল হোসেনের কাব্যগ্রন্থ।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,০২২.
বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক কে?
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. সেলিম আল দীন
  3. সাঈদ আহমদ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক : সাঈদ আহমদ। 

• সাঈদ আহমদ: 
- সাঈদ আহমদ (১৯৩১-২০১০) নাট্যকার, চিত্রসমালোচক, শিক্ষাবিদ। তাঁর জন্ম পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।

উল্লেখ্য, 
• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে সাঈদ আহমদ রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
• বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটকও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০২৩.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. পাগলা দাশু
  2. খাইখাই
  3. আবোল-তাবোল
  4. এলাটিং বেলাটিং
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমান রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য ‘এলাটিং বেলাটিং’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০২৪.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• 'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন উমর রচিত একটি প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।  

বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ছিলেন একাধারে বাংলাদেশি মার্কসবাদী লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক সক্রিয়তাবাদী, ইতিহাসবিদ, লেখক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। 
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থ।

৪,০২৫.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) গণ অভ্যুত্থান
  4. ঘ) পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসন
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালােচনা করা হয়েছে। 
- মধ্যপ্রাচ্যের কাহিনির আধারে এই উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানকে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো এ প্রসঙ্গে মিলে যায়। 
যেমন, বাদশা হারুন হলেন আইয়ুব খান, বেগম জুবাইদা হলেন পাকিস্তানের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ; তাতারী হলেন পাকিস্তানের সাধারণ জনতা; মেহেরজান হলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যা তুর্কি থেকে বার বার হাতবদল হয়েছে। 
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয়৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০২৬.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাত্রিশেষ
  2. খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫): কবি ও সাংবাদিক।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
তাছাড়া ছায়াহরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫) ইতাদি তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
উপন্যাস- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) ও রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)।
শিশুতোষ গ্রন্থ- জ্যোৎস্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭), ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮) ইত্যাদি।
উৎসঃবাংলাপিডিয়া
৪,০২৭.
মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় ছিলেন একজন ভেষজ চিকিৎসক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধ,
- স্পেনবিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তারা-বাঈ,
- রায়নন্দিনী,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কিনারি জীবন,
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা।

ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,০২৮.
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদের কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,০২৯.
‘ক্ষুধা প্রেম আগুন'  আব্দুল মান্নান সৈয়দ এর কোন ধরেনের গ্রন্থ ? 
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
- আবদুল মান্নান সৈয়দের জন্ম অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের পশ্চিম বঙ্গে জালালপুর নামক গ্রামে ১৯৪৩ সালে।

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,অ-তে অজগর (১৯৮২),কলকাতা (১৯৮০),ক্ষুধা প্রেম আগুন'(১৯৯৪)
• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩),মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী
• প্রবন্ধ:
বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা,দশ দিগণ্তের দ্রষ্টা,নির্বাচিত প্রবন্ধ,করতলে মহাদেশ,আমার বিশ্বাস।

উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর)।
৪,০৩০.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিসর্গ সন্দর্শন
  2. মাটির দেয়াল
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. বন্ধু-বিয়োগ
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - বন্ধু-বিয়োগ, প্রেম প্রবাহিণী, নিসর্গ সন্দর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,০৩১.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ফরিদপুর
  2. কলকাতা
  3. বরিশাল 
  4. হুগলী
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- কবি ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- কবি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে ১৩ ই মে ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,০৩২.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- তার কাব্যগ্রন্থ হলো- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশশ্মান (মহাকাব্য) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০৩৩.
'চাঁদের অমাবস্যা' কোন ধরনের উপন্যাস? 
  1. রোমান্টিক 
  2. রাজনৈতিক 
  3. সামাজিক 
  4. মনস্তাত্ত্বিক 
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত “চাঁদের অমাবস্যা” একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

---------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
 - উজানে মৃত্যু ইত্যাদি। 

উপন্যাস:
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,০৩৪.
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী নাটক কোনটি?
  1. সুড়ঙ্গ
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. নয়নচারা
  4. বহিপীর
ব্যাখ্যা

• ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে- বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।

- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে  সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ  সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

----------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,০৩৫.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জলাংগী
  2. আর্তনাদ
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম- আর্তনাদ।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো-
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী ইত্যাদি।

------------------
শওকত ওসমান রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো- 
• উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- মনিব ও তাহার কুকুর,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ভাব ভাষা ভাবনা,
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর। 

• নাটক:
- আমলার মামলা,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- মস্কুইটোফোন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট,
- পঞ্চসঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।
৪,০৩৬.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজ্জাম্মেল
ব্যাখ্যা
- 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটি রচনা করেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৩৭.
'অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মেজর শরিফুল হক ডালিম
  2. মেজর রফিকুল ইসলাম
  3. মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল
  4. কর্নেল আবু তাহের
ব্যাখ্যা
• 'অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা' গ্রন্থটির রচয়িতা - মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল

মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল: 

- তিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক।
- বরিশাল জেলার উজিরপুরে ১৯৪২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম।
- আবদুল জলিল ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে ট্রেনী অফিসার হিসেবে যোগ দেন।
- তাঁকে ৯ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু নভেম্বর মাসে তাঁকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- সীমাহীন সময়,
- দৃষ্টিভঙ্গী ও জীবন দর্শন,
- সূর্যোদয়,
- অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,০৩৮.
‘অশনিসংকেত’ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয় কোনটি?
  1. দেশভাগ
  2. পানি পথের ১ম যুদ্ধ
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. পানি পথের ২য় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

অশনি সংকেত: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,০৩৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পরিত্যক্ত স্বামী
  3. দেয়াল
  4. রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,

- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
 
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৪০.
হুমায়ুন কবির রচিত 'নদী ও নারী' একটি-
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. নাটক
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির, রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক।
তিনি ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।

প্রবন্ধ:
 - ধারাবাহিক,
- শরৎ- সাহিত্যের মূলতত্ত্ব
- বাংলার কাব্য
- মার্কসবাদ
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী

কাব্য:
- স্বপ্নসাধ
- সাথী
- অষ্টাদশী

উপন্যাস:
- নদী ও নারী

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]

 
৪,০৪১.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস কোনগুলো?
  1. ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পরিত্যক্ত স্বামী এবং সংকর সংকীর্তন।
  2. খ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন
  3. গ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং দেয়াল
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পরিত্যক্ত স্বামী এবং দেয়াল
ব্যাখ্যা
ত্রয়ী উপন্যাস বলতে মূলত স্বাভাবিক যোগসূত্র ও ধারাবাহিকতায় এক সাথে তিনটি উপন্যাসকে বোঝানো হয়।

আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস-
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
দেয়াল,
পরিত্যক্ত স্বামী,
প্রপঞ্চ ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৪,০৪২.
সত্যেন সেন রচিত ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম
  2. মহাবিদ্রোহের কাহিনী
  3. প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ
  4. অভিযাত্রী
ব্যাখ্যা
• অপশনে উল্লিখিত - (মহাবিদ্রোহের কাহিনী, প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম) সবগুলোই  সত্যেন সেন রচিত ইতিহাসগ্রন্থ।
- 'অভিযাত্রী' তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ।

• সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪,০৪৩.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,০৪৪.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত প্রথম মৌলিক নাটক কোনটি?
  1. সীতাহরণ
  2. সিরাজদ্দৌলা
  3. আগমনী
  4. সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
-  তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক 'আগমনী' (১৮৭৭) গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে মঞ্চেই অভিনীত হয়।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।
- তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,০৪৫.
সমর সেনের উপাধি ছিল-  
  1. স্বভাব কবি
  2. নাগরিক কবি 
  3. কবি কন্ঠহার 
  4. আধুনিক নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা

সমর সেনের উপাধি ছিল- 'আধুনিক নাগরিক কবি'। 
-----------------------------------------
সমর সেন:
-  সমর সেন ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা অরুণ সেন ছিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক।
- তাঁর পিতামহ ছিলেন প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন।
- সমর সেন রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী রাজনীতিতেও নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।
- সমর সেনকে আধুনিক নাগরিক কবি বলা হয়।
- কারণ তাঁর কবিতায় নগর জীবন, সমাজ এবং আধুনিক মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা গভীরভাবে ফুটে উঠে।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- কয়েকটি কবিতা;
- গ্রহণ;
- নানা কথা;
- খোলা চিঠি;
- তিন পুরুষ। 

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হচ্ছে- বাবু বৃত্তান্ত। 
----------------------------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
• শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়।
• কবি কন্ঠহার বিদ্যাপতির উপাধি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,০৪৬.
পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?
  1. দাশরথি রায়
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়।

• দাশরথি রায়:
- দাশরথি রায় ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।

-------------------
• পাঁচালি:
- পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা।
- এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।
- পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি।
- আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।
- পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ দাশরথি রায়। ‘দাশু রায়ের পাঁচালি’ সারা বাংলায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।

অন্যদিকে,
• বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। 
• পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু ছিলেন গদ্য সাহিত্য সূচনা পর্বের লেখেক। তিনি বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,০৪৭.
আল মাহমুদের উপন্যাস কোনটি?
  1. পানকৌড়ির রক্ত
  2. কাবিলের বোন
  3. বখতিয়ারের ঘোড়া
  4. পাখির কাছে ফুলের কাছে
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদের উপন্যাস হচ্ছে কাবিলের বোন। 

আল মাহমুদ:
- কাবিলের বোন তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

৪,০৪৮.
'জীবন এতো ছোট ক্যানে?' ক্ল্যাসিক সংলাপটির কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. জীবনানন্দ দাশ 
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- সংলাপটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত। 

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪১)। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

----------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,০৪৯.
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি -
  1. ছোটগল্প
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি - উপন্যাস।
 
নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
-  বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন 
 
তার সাহিত্যকর্ম:
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ।
 
ছোটগল্প:
- রমনা পার্কে।
 
আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৫০.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. ক) উজানের মৃত্যু
  2. খ) নীল ময়ূরের যৌবন
  3. গ) কীর্তন খোলা
  4. ঘ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
- সেলিম আল দীন রচিত নাটক কীর্তন খোলা। 

তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৫১.
'কুমড়ো ফুলে-ফুলে,নুয়ে প’ড়েছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা।' কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
'কুমড়ো ফুলে-ফুলে,নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা।' কবিতাংশটুকু আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ  রচিত 'কোন এক মাকে'  কবিতার অন্তর্গত।

কোন এক মাকে
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

কুমড়ো ফুলে-ফুলে,
নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
কবে ছুটি?
(সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে :
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাতনরী হার (১৯৫৫)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চো্খ
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৫২.
বাংলা সাহিত্যে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কেন বিখ্যাত?
  1. ক) চর্যাপদের ভাষা বাংলা তা প্রমাণের জন্য
  2. খ) চৈতন্য দেবের জীবনী সাহিত্য রচনার জন্য
  3. গ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের জন্য
  4. ঘ) প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্য আবিষ্কারের জন্য
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। তার এ অমর কীর্তি্র জন্য তিনি বিখ্যাত। 

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১)  প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।

• অনুসন্ধিৎসু হরপ্রসাদ প্রাচীন বাংলার পুঁথির খোঁজে চারবার নেপাল যান ১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৯০৭ এবং ১৯২২ সালে। ১৯০৭ সালে তাঁর হাতে আসে বাংলার প্রাচীনতম কবিতা-সংগ্রহ চর্যাগীতির পুঁথি। দীর্ঘ ৭/৮ বৎসর পুঁথির রচনাগুলি গবেষণা করে তিনি আবিষ্কার করেন যে, গানগুলির ভাষা প্রাচীন বাংলা। ১৯১৬ সালে হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা গ্রন্থে দুটি দোহা কোষ ও ডাকর্ণব পুঁথির সঙ্গে চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় পুঁথি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়। চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগানের সংকলনটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা বাংলাভাষা ও সাহিত্যের গবেষণায় তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৫৩.
মনিপুর রাজকন্যা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় কাহিনী অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) বিসর্জন
  2. খ) চিত্রাঙ্গদা
  3. গ) ডাকঘর
  4. ঘ) অচলায়তন
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্রাঙ্গদা নাটকটি রচনা করেন।
- এই নাটকে মনিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০৫৪.
'একক সন্ধায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. আহসান হাবিব
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' সৈয়দ আলী হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• সৈয়দ আলী হাসান:
- সৈয়দ আলী হাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,০৫৫.
রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ কোনটি?
  1. মাগধীয় ব্যাকরণ
  2. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  3. মাতৃভাষা ব্যাকরণ
  4. ভাষা প্রকাশ ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
---------------------
• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 
-------
আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ " - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,০৫৬.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. নিহত নক্ষত্র
  3. জাগ্রত বাংলাদেশ
  4. উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

• 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা।
• এটি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
• এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।
• সূর্য তুমি সাথী তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
• নিহত নক্ষত্র তাঁর রচিত গল্পসংগ্রহ।
• উপমহাদেশ উপন্যাসের রচয়িতা আল মাহমুদ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,০৫৭.
মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে 'যাত্রা' উপন্যাসটি লিখেছেন-
  1. শওকত ওসমান
  2. শহিদুল জহির
  3. শওকত আলী 
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• ‘যাত্রা’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রাণরক্ষার তাগিদে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার করুণ ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাপ্রবাহ ডায়েরি বা দৈনন্দিন দিনপঞ্জির আদলে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে নগরবাসীর আত্মরক্ষার্থে পলায়ন, আশ্রয়ের সন্ধান, উদ্বাস্তু জীবনের অসহায়ত্ব এবং সেই যাত্রাপথেই ধীরে ধীরে প্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, মানুষের ভয়–হতাশা–আশা এবং টিকে থাকার আপ্রাণ সংগ্রামের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো মিলিয়ে ‘যাত্রা’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে এক গভীরভাবে মর্মস্পর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

-----------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। 
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,০৫৮.
''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর লেখক কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কবি গোলাম মোস্তফা
  3. আহসান হাবীব
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• ''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর লেখক: কবি গোলাম মোস্তফা।

কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৫৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1.  দুধভাতে উৎপাত
  2. দোজখের ওম
  3. খোয়ারি
  4. খােয়াবনামা
ব্যাখ্যা

• 'খােয়াবনামা' উপন্যাসের রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
এ উপন্যাসটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭):
- কথাসাহিত্যিক।
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা,
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,০৬০.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) জয়ধ্বনি
  2. খ) কায়েদে আজম
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) শাহজাদীর কালো নেকাব
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল মামুন: একজন বিশিষ্ট নাট্যকার।
তার রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪),
- এখনও দুঃসময় (১৯৭৫),
- এবার ধরা দাও (১৯৭৭),
- শপথ (১৯৭৮),
- সেনাপতি (১৯৮০),
- অরক্ষিত মতিঝিল (১৯৮০),
- ক্রস রোডে ক্রসফায়ার (১৯৮১),
- শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪),
- আয়নার বন্ধুর মুখ (১৯৮৩),
- এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪),
- তোমরাই (১৯৮৮),
- দূরপাল্লা (১৯৮৮),
- তৃতীয় পুরুষ (১৯৮৮),
- আমাদের সন্তানেরা (১৯৮৮)

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০৬১.
“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম” কার সুর করা গান?
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) শাহ আব্দুল করিম
  3. গ) হাসন রাজা
  4. ঘ) লালন সাঁই
ব্যাখ্যা
শাহ আব্দুল করিম এর লেখা ও সুর করা বিখ্যাত কিছু গান হলো-
“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”, “বন্দে মায়া লাগাইছে”, “গাড়ি চলে না”, ''গান গাই আমার মনরে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা''।
নিজের রচিত গানগুলোর সুরও দেন তিনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,০৬২.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক-
  1. গোত্রান্তর
  2. পাথর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. সমতট
ব্যাখ্যা

• গণনাট্য সংঘের অন্যতম অভিনেতা এবং 'নবনাট্য' আন্দোলন'র প্রবক্তা বিজন ভট্টাচার্য।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।
• পাথর ও সমতট নাটকের রচয়িতা মামুনুর রশিদ।
• 'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০৬৩.
‘দুঃখ কোরো না, বাঁচো’ কোন কবির কাব্য?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. নির্মেলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

'দুঃখ কোরো না, বাঁচো' নির্মেলেন্দু গুণ রচিত কাব্য। প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।

বাংলাদেশের কবিদের কবি হিসাবে পরিচিত নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ -
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই
- না প্রেমিক না বিপ্লবী
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
- চৈত্রের ভালোবাসা
- বাংলার মাটি বাংলার জল
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র
- চাষাভুষার কাব্য
- দূর হ দুঃশাসন
- শান্তির ডিক্রি
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০৬৪.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৮৫৬ সালে
  3. গ) ১৯৬১ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন  সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি  ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৬৫.
'সীমান্তের চিঠি' কার লেখা?
  1. ক) ইব্রাহিম খলিল
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
'সীমান্তের চিঠি' বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম খলিলের লেখা।
উৎসঃদৈনিক যুগান্তর
৪,০৬৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের কোন পণ্ডিত সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. গোলকনাথ শর্মা
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।
- ভারতের প্রধান প্রধান ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে কলেজে এক একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে ছিলেন একজন অধ্যাপক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক। 
-  বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়। সব কয়টি বিভাগে কয়েকজন পন্ডিত ও মুন্সি ছিলেন।

- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০১ সালের ৪ মে  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন। পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার তাঁর অন্য বাঙালি সহকর্মীদের তুলনায় বেশি সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সমূহ:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮)
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৪,০৬৭.
‘সাতটি তারার তিমির’ কাব্যগ্রন্থের সাতটি তারা বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
  1. ক) সাতটি শহর
  2. খ) সাতটি
  3. গ) সাতটি মহাদেশ
  4. ঘ) সাতজন মহামানব
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
জীবনানন্দ দাশ রচিত সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর তালমালাট পৃথিবীর অবস্থা বুঝাতে গিয়ে তিনি তার কাব্যগ্রন্থের নাম দিয়েছেন ‘সাতটি তারার তিমির’।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,০৬৮.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) উপহার
  2. খ) একমুঠো
  3. গ) খসড়া
  4. ঘ) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবিতাবলী। উপহার, খসড়া, একমুঠো, মাটির দেয়াল, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, অনিঃশেষ ইত্যাদি তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,০৬৯.
নিচের কে একজন শিশু সাহিত্যিক?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

- সুকুমার রায় একজন বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে 'ননসেন্স রাইমের' প্রবর্তক।
- তিনি 'সন্দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম-

ছড়াগ্রন্থঃ
- আবোলতাবোল,
- খাইখাই।

গল্পঃ
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা।

নাটকঃ
- অবাক জলপান,
- চলচিত্তচঞ্চরী।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,০৭০.
মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. হায়াৎ মামুদ
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) আখতারুজ্জামান
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য আনিসুজ্জামানের প্রথম বই।
সামাজিক ইতিহাসের পটভূমিকায় এতে বাঙালি মুসলমানদের সাহিত্যকর্মের (১৭৫৭-১৯১৮) আলোচনা আছে। অনেক অজ্ঞাত পূর্ব তথ্য সাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাষা ও সাহিত্য ও ধর্ম, রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে সে সময়ের লেখকদের ভাবনা এতে উদঘাটিত হয়েছে। 

৪,০৭১.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ভাষারীতি অনুসরণ করতেন?
  1. ক) আলালী ভাষা
  2. খ) ব্রজবুলি
  3. গ) হুতোমী
  4. ঘ) বীরবলী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় 'বীরবলী' ভাষারীতি অনুসরণ করতেন।
তাঁর গদ্যভাষায় বীরবলী (প্রমথ চৌধুরীর মতো) চমক ও গভীর মননশীলতা রচনার প্রধান বৈশীষ্ট্য। 

• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
- যার যেথা দেশ
- কঙ্কাবতী
- দুঃখমোচন
- মর্তের স্বর্গ
- অপসারণ ইত্যাদি।

• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণকাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৭২.
নিচের কোনটি উপন্যাস? 
  1. কালের কলস
  2. বখতিয়ারের ঘোড়া
  3. ডাহুকী
  4. পানকৌড়ির রক্ত
ব্যাখ্যা

• “ডাহুকী' উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত প্রথম উপন্যাস - ডাহুকী।
- নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধেই ১৯৯২ সালে বের হয় আল মাহমুদ রচিত প্রথম উপন্যাস “'ডাহুকী।
- গড়পড়তা আয়তনের উপন্যাস 'ডাহুকী”র প্রধান চরিত্র আতেকা বানু ৷ তাঁর সঙ্গে তীব্রভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর কিশোরীকালের আবেগ ।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪,০৭৩.
কোনটি সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত উপন্যাস?
  1. নয়ান ঢুলি
  2. বেলা ব্যানার্জীর প্রেম
  3. অষ্টপ্রহর
  4. অনেক সূর্যের আশা
ব্যাখ্যা

 • ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস:
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিতে সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা, 
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি,
- খরস্রোত, 
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম, 
- অষ্টপ্রহর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,০৭৪.
কোনটি গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. কুসুম কানন
  2. রক্তরাগ
  3. অমিয়ধারা
  4. প্রেম-পারিজাত
ব্যাখ্যা

• 'রক্তরাগ' ১৯২৪ সালে প্রকাশিত গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• গোলাম মোস্তফা:

- গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম,
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে-
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

অন্যদিকে, 
• কুসুম কানন, অমিয়ধারা এবং প্রেম-পারিজাত কবি কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,০৭৫.
আলোছায়া নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) ইব্রাহিম খাঁ
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আলোছায়া, রূপান্তর, নেমেসিস, হিংটিং ছট, নয়া খান্দান, যেমন ইচ্ছা তেমন ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন৷ কালসন্ধ্যা, মায়ামালঞ্চ এবং তপস্বী ও তরঙ্গিনী হলো বুদ্ধদেব বসুর রচিত নাটক। আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা, কাফেলা নাটক রচনা করেন ইব্রাহিম খাঁ। সুবচন নির্বাসনে, এখন দুঃসময় প্রভৃতি নাটকের রচয়িতা আব্দুল্লাহ আল মামুন। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৪,০৭৬.
'বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন' গ্রন্থের রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। এটি তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থ। ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি রচনার জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,০৭৭.
প্রথম বাঙ্গালী সাংবাদিক কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সুকুমার সেন
  3. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বাঙালীদের প্রচেষ্ঠায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
- প্রথম বাঙ্গালী সাংবাদিক: গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য। 

• 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকা: 
- উপমহাদেশে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে দিগ্দর্শন নামে বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।
- এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন।
- একই বছর মে মাসে শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিরা আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে।
- এটি ছিল জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ।
- ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দেই বাঙালি মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেটি প্রকাশিত হয়, প্রকাশক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য, কারো কারো মতে গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য।
- মাঝে মধ্যে এতে ইংরেজি ও হিন্দিতে কিছু নিবন্ধ মুদ্রিত হলেও সাধারণভাবে এর ভাষা ছিল বাংলা।
- হরচন্দ্র রায় ছিলেন বাঙ্গাল গেজেটি-র সম্পাদনাকার্যে গঙ্গাকিশোরের অন্যতম সহযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৭৮.
বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা' রচনা করেন কে?
  1. দাউদ হায়দার
  2. রফিক আজাদ
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,০৭৯.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. আশাকানন
  2. বৃত্রসংহার
  3. চিত্তবিকাশ
  4. চিন্তাতরঙ্গিণী
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' গ্রন্থ:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'।
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়।
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

--------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি। 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,০৮০.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আব্দুল হাই
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- 'ফজল' এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- এরফান মাতব্বর,
- আরশেদ মোল্লা,
- জঙ্গুরুল্লা,
- জরিনা,
- রূপজান ইত্যাদি।

• আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।

• তার অন্যান্য সাহ্যিতকর্ম:
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,০৮১.
নিচের কোনটি আবুল কামাল শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. ক) দৈনিক নবযুগ
  2. খ) নয়া সড়ক
  3. গ) দৈনিক আজাদ
  4. ঘ) সমকাল
ব্যাখ্যা
'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা ।
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ-
-  ১৯২৩-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- দৈনিক নবযুগ (১৯২০) পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমেদ যুগ্মভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- ভারত ভাগের পর স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল- 'নয়া সড়ক'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৮২.
'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) ইব্রাহিম খাঁ
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি। পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ- কবিতা- রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক। তাঁর রচিত কাব্যনাট্য- ওরা কয়েকজন।
৪,০৮৩.
কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) ভালো মানুষের জগৎ- গল্প
  2. খ) বাবুলের বেড়ে ওঠা- ছোটদের উপন্যাস
  3. গ) অন্বেষা- নাটক
  4. ঘ) অ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব- অনুবাদ
ব্যাখ্যা
‘অন্বেষা’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৪,০৮৪.
আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. ক) ভংকর
  2. খ) ভীরু
  3. গ) নির্ভীর
  4. ঘ) দুর্বার
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

এই কবিতার দুটি লাইন-
''এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,''

তাই বলা যায় আঠারো বছরের বৈশিষ্ট্য নয় 'ভীরু'
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য - যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,০৮৫.
রামরাম বসু রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেদান্তসার
  2. খ) বেদান্তগ্রন্থ
  3. গ) ইতিহাসমালা
  4. ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
কেরী সাহেবের মুন্শি‌ হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক। 
- তাঁর রচিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।

- উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ- কথোপকথন ও ইতিহাসমালা।
- রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ- বেদান্তসার, বেদান্তগ্রন্থ। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৮৬.
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা, মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,০৮৭.
'সবুজ মাঠ পেরিয়ে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শেখ রেহেনা
  2. খ) শেখ কামাল
  3. গ) সিমির হোসেন রিমি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা।
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:-
১। ‘‘শেখ মুজিব আমার পিতা’’,
২। ওরা টোকাই কেন?,
৩। বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’’,
৪। দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’’,
৫। ‘‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’’,
৬। আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’’,
৭। ‘‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’’,
৮। ‘‘সাদা কালো’’,
৯। ‘‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’’,
১০।মুজিব বাংলার, বাংলা মুজিবের,
১১। Miles to Go, The Quest for Vision-2021 (two volumes) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
৪,০৮৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ধীবর
  2. কাহার
  3. ডোম
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে 'ডোম' সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

• 'কবি' উপন্যাস:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে ।
- এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 
======================
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম। 
- ১৯৭০ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
- প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। 
- তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি 
- ধাত্রীদেবতা 
- কালিন্দী
- গণদেবতা 
- পঞ্চগ্রাম 
- কবি 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা 
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি।
• গল্পগ্রন্থ:
-  বেদে
- পটুয়া
- মালাকার
- লাঠিয়াল
- চৌকিদার
- বাগদী
- বোষ্টম
- ডোম ইত্যাদি।
• ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা। 

- উল্লেখ্য, 'কবি' নামে হুমায়ুন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,০৮৯.
‘সারা দুপুর’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল হোসেন
  4. ইমদাদুল হক মিলন 
ব্যাখ্যা

‘সারা দুপুর’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- আহসান হাবীব। 
-------------------------------- 
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব (১৯১৭–১৯৮৫) ছিলেন আধুনিক বাংলা কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় আসেন এবং আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক ও ইত্তেহাদসহ নানা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনসে প্রডাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
- পরে দৈনিক পাকিস্তানে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি অরণ্য নীলিমা  ও রাণীখালের সাঁকো নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশ); 
- ছায়াহরিণ;
- সারা দুপুর;
- আশায় বসতি;
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো;
- দুহাতে দু আদিম পাথর;
- প্রেমের কবিতা; ও
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

• শিশুদের জন্য তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে আছে:
- ছোটোদের পাকিস্তান; 
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর ও
- ছুটির দিন দুপুরে।
---------------------------- 
• 'সারা দুপুর' কাব্য নিয়ে কিছু তথ্য:
- 'সারা দুপুর' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে গণ্য হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে ছাব্বিশটি কবিতা রয়েছে।  
- কবিতাগুলোতে নগর জীবনের ক্লান্তি, মধ্যবিত্ত জীবনের চাপ ও মানুষের গভীর অনুভূতি সুচারুভাবে ফুটে উঠেছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের জন্য আহসান হাবীবকে আদমজী সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৪,০৯০.
'অনল-প্রবাহ' রচনা করেন-
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. মোজাম্মেল হক
  3. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ' কাব্য:
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
• 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।

• 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
• ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
• প্রথম সংস্করণে কবিতাগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ-ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

• বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
• সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,০৯১.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রায়নন্দিনী
  2. উদ্বোধ
  3. উচ্ছ্বাস
  4. অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় ছিলেন একজন ভেষজ চিকিৎসক।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- তারা-বাঈ,
- রায়নন্দিনী,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধ,
- স্পেনবিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,০৯২.
'হৃৎকলমের টানে' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'হৃৎকলমের টানে' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা- সৈয়দ শামসুল হক

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৯৩.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে কোনটি রচনা করেন?
  1. ক) জঙ্গম
  2. খ) তন্বী 
  3. গ) সে ও আমি
  4. ঘ) লী
ব্যাখ্যা
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকোচ্ছ্বাসমূলক উপন্যাস লী রচনা করেন। 


বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন বিকাশ (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্য:
- বনফুলের কবিতা 
- অঙ্গারপর্ণী 
- চতুর্দশী 
- আহবনীয় 
- করকমলেষু 
- বনফুলের ব্যঙ্গ কবিতা 
- নতুন বাঁকে ইত্যাদি।
উপন্যাস:
- তৃণখন্ড
- জঙ্গম (তিন খন্ড)
- অগ্নি 
- ডানা (তিনখন্ড)
- স্থাবর 
- অগ্নীশ্বর 
- হাটেবাজারে 
- ত্রিবর্ণ 
- ভুবনসোম 
- প্রচ্ছন্ন মহিমা 
- উদয় অস্ত ইত্যাদি। 
গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প 
- বিন্দুবিসর্গ 
- অদৃশ্যলোকে
- তন্বী  
- অনুগামিনী
- দূরবীণ 
- মণিহারী 
- বহুবর্ণ 
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,০৯৪.
সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সত্যপীর
  2. কলমগীর
  3. কবিরত্ন
  4. নবকুমার
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।

- সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে, 
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৯৫.
'মানবতন্ত্র' আবুল ফজল এর রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- 'মানবতন্ত্র' আবুল ফজল এর রচিত একটি- প্রবন্ধগ্রন্থ।

• আবুল ফজল:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।,
- আবুল ফজল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।
- দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিচিত্র কথা;
- সাহিত্য সংস্কৃতি সাধনা;
- সাহিত্য সংস্কৃতি জীবন;
- সমকালীন চিন্তা;
- মানবতন্ত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,০৯৬.
'হিতপ্রভাকর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) অন্নদাশংকর রায়
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- ছোটবেলা থেকেই মুখে মুখে কবিতা রচনা করতেন এবং কবিয়ালদের গান বেঁধে দিতেন।
- সমসাময়িক ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে তিনি অসংখ্য খন্ডকবিতা সংবাদ প্রভাকরে প্রকাশ করেন।
- উনিশ শতকের প্রথম ভাগের এ কবি স্বদেশমূলক যেসব কবিতা রচনা করেছেন তার জন্যও তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (১৮৩৩) ও প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) সম্পাদনা করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত হিতপ্রভাকর (১৮৬১) ও বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,০৯৭.
‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. ফজল শাহাবুদ্দীন
  2. শঙ্কর
  3. আনিস চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'হাজার বছর ধরে':
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
- টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র।
- আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ। 

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 
 
তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৯৮.
শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
  1. ক) দলিল
  2. খ) যেতে চাই
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা

- শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- উত্তরের খেপ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০৯৯.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয় কোন লেখক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. ইব্রাহীম খাঁ
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।

--------------------
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১০০.
”ময়নামতির চর” কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  2. খ) হুমায়ূন কবীর
  3. গ) রওশন ইজদানী
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
- ”ময়নামতির চর” কাব্যটি রচনা করেন বন্দে আলি মিয়া
• বন্দে আলী মিয়া:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বন্দে আলী মিয়া শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় চিত্রকর ও ব্লক কোম্পানির ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্য:
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ ইত্যাদি।
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।