বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৪০ / ৭৭ · ৩,৯০১৪,০০০ / ৭,৬৪৬

৩,৯০১.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) গেরিলা ও বীরাঙ্গনা
  2. খ) নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  3. গ) কাঁটাতারের প্রজাপতি
  4. ঘ) উৎস থেকে নিরন্তর
ব্যাখ্যা
'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেন রচিত একটি গল্প। জলবতী মেঘের বাতাস, পরজন্ম, মানুষটি, অনূঢ়া পূর্ণিমা, মতিজানের মেয়েরা ইত্যাদি তাঁর রচিত গল্প।
হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, জলোচ্ছ্বাস, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, আগষ্টের একরাত, খুন ও ভালোবাসা, কাঁটাতারের প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৯০২.
বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন 'অব্যক্ত' এর রচয়িতা কে?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. জামাল নজরুল ইসলাম
  4. জাফর ইকবাল
ব্যাখ্যা
• বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন 'অব্যক্ত' এর রচয়িতা: জগদীশচন্দ্র বসু। 
--------------------- 
জগদীশচন্দ্র বসু: 
- জগদীশচন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'. 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন।

• 'অব্যক্ত' প্রবন্ধ সংকলন:
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধাবলী 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত।
- 'অব্যক্ত' একটি পুস্তক যা আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রচিত কুড়িটি প্রবন্ধের সংকলন। প্রবন্ধগুলো বৈজ্ঞানিক চিন্তার ফল।

• 'অব্যক্ত' প্রবন্ধ সংকলনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: 
উদ্ভিদের জন্ম ও মৃত্যু,
গাছের কথা,
অদৃশ্য আলোক,
অগ্নি পরীক্ষা,
বিজ্ঞানে সাহিত্য।

তাঁর ইংরেজি রচনাবলি হচ্ছে:
- Responses in the Living and Non-living,
- Plant Responses as a Means of Physiological Investigations,
- Comparative Electrophysiology,
- Physiology of the Asent of Sap,
- Physiology of Photosynthesis,
- Nervous Mechanism of Plants,
- Collected Physical Papers,
- Motor Mechanism of Plants,
- Growth and Tropic Movement in Plants. 

উল্লেখ্য,
• আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন এবং ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

• জামাল নজরুল ইসলাম - বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ’বই কৃষ্ণগহ্বর’ (ব্ল্যাক হোল)। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো ‘মাতৃভাষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং অন্যান্য প্রবন্ধ’, ও ‘শিল্প, সাহিত্য এবং সমাজ’।

• জাফর ইকবাল - বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯০৩.
'পঞ্চতন্ত্র' রম্যরচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'পঞ্চতন্ত্র' রম্যরচনার রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল তাঁর রচিত অন্যান্য রম্যরচনা। চাচা কাহিনী, টুনি মেম তাঁর রচিত ছোটগল্প এবং অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার, তুলনাহীন তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৯০৪.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. মানুষ
  2. চিঠি
  3. চাকা
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা

• 'চাকা' নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক 'চাকা'।
- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।
- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে, 
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

--------------------------
• সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার। তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।

- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।

- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সং

সেলিম আল দীন রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো-
- ঘুম নেই,
- সর্প বিষয়ক গল্প,
- মুনতাসির'
- কীত্তনখোলা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- ধাবমান'সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- পুত্র,
- জুলান,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- যৈবতী কন্যার মন,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'চাকা' নাটক।

৩,৯০৫.
‘নেমেসিস’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. তুর্কি আক্রমণ
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯০৬.
"এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।" - এ লাইনগুলোর কোন কাব্যের?
  1. পূর্বাভাস
  2. ছাড়পত্র
  3. অভিযান
  4. গীতিগুচ্ছ
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• 'ছাড়পত্র' কাব্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের অনেক কবিতা বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- এ কাব্যের 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার' - পঙক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৯০৭.
‘হাসনাহেনা’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ- রক্তরাগ, হাসনাহেনা, খোশরোজ, সাহারা, গুলিস্তান, বনি আদম, কাব্য কাহিনী, বুলবুলিস্তান ইত্যাদি।
তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ- রূপের নেশা, ভাঙাবুক ও এক মন এক প্রাণ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৯০৮.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের আখ্যানকেন্দ্র কোথায়?
  1. ক) বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) পুলিশ লাইনস
  3. গ) সাভার
  4. ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত উপন্যাসের আখ্যানকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
উৎসঃ প্রথম আলো
৩,৯০৯.
'আগুনপাখি' উপন্যাস কে লিখেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. আহসান হাবীব 
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'আগুনপাখি' উপন্যাস:
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- এর মধ্য দিয়েই লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসটিতে প্রথাগত চরিত্র-নাম নেই। তবে সব চরিত্রই বোঝা যায়। এগুলো ত্রিমাত্রিক এবং দ্বন্দ্বসংকুল।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯১০.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) ময়নামতির চর
  2. খ) বায়ান্ন গলির এক গলি
  3. গ) সোনাঝরা দিন
  4. ঘ) বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
বকুলপুরের স্বাধীনতা, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, কী চাহ শঙ্খচিল, হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার নাটক গুলোর রচয়িতা মমতাজ উদ্দিন আহমদ।
এ গোল্ডেন এজ বা সোনাঝরা দিন, দ্য গুড মুসলিম, দ্য বোনস অব গ্রেস ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা তাহমিনা আনম।
বায়ান্ন গলির এক গলি, ফেরারী সূর্য, অনন্ত অন্বেষা, মেঘের পর মেঘ ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন এবং
ময়নামতির চর, অনুরাগ, পদ্মা নদীর চর, মধুমতির চর, ধরিত্রী কাব্যের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৯১১.
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় কোন উপন্যাসের জন্য মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ লাভ করেন?
  1. ক) দেবযান
  2. খ) ইছামতী
  3. গ) পথের পাঁচালি
  4. ঘ) অপরাজিত
ব্যাখ্যা
ইছামতী উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ লাভ করেন।

- বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত ‘ইছামতী’ উপন্যাসটি ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়। নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আছে এ উপন্যাসে।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো :
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- পথের পাঁচালি,
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- অশনি সংকেত ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯১২.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত ঐতিহাসিক নাটক কোনটি? 
  1. রাবণবধ
  2. সীতার বনবাস
  3. হীরার ফুল
  4. সিরাজদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

• 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক:
- 'সিরাজদ্দৌলা' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- নাটকটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গিরিশচন্দ্র 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বাদেশিকতার আদর্শ বিগ্রহে পরিণত করেছিলেন।

---------------
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটকসমূহ হলো-
• পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতার বিদ্রোহ,
- লক্ষণ বর্জন,
- রামের বনবাস, 
- সীতাহরণ, 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, 
- পাণ্ডব গৌরব। 

• রোমান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, 
- আবু হোসেন, 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, 
- মীরকাশিম, 
- ছত্রপতি শিবাজী, 
- অশোক। 

• কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল, 
- সপ্তমীতে বিসর্জন, 
- বড়দিনের বখশিশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯১৩.
'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সমরেশ বসু
  2. হরপ্রসাদ রায়
  3. রশীদ করীম
  4. সমর সেন
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সমর সেন।

সমর সেন:

- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯১৪.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
 -ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
 -ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯১৫.
লেখক আবুল হুসেন কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন ?  
  1. ক) পরিচয়
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) শিখা
  4. ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
- আবুল হুসেন (১৮৯৬ - ১৫ অক্টোবর ১৯৩৮)ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় লেখক, চিন্তাবিদ ও সমাজসংস্কারক।
- বাংলার মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে আবুল হুসেন লেখালেখি করেছেন। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন।
 - ১৯২৬ সালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠিত হয়। তিনি এতে অংশ নিয়েছিলেন।
 - সংগঠনের মুখপত্ররূপে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার সম্পাদনায় তিনি জড়িত ছিলেন।


উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী (লেখক হুমায়ুন আজাদ)
৩,৯১৬.
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  2. খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) পলাশীর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটির মূল উপজীব্য হলো পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। রক্তাক্ত প্রান্তর এর মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধে নর-নারীর প্রেম। কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ থেকে এর কাহিনী নেয়া হয়েছে। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৩,৯১৭.
‘দুঃখবাদী’ কবি বলা হয় কাকে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. ঘ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
⇒ যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
• রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
•  দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন দুঃখবাদী কবি, আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
• প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- মরীচিকা,
- মরুশিখা,
- মরুমায়া,
- সায়ম্,
- ত্রিযামা,
- নিশান্তিকা এবং
- কবিতা-সংকলন অনুপূর্বা।
[প্রথম তিনখানি কাব্যের নামকরণে অগ্নি, রুদ্র ও মরুর দহন এবং শেষের তিনটির নামকরণে রাত্রির অন্ধকারের প্রতীক-দ্যোতনা প্রকাশ পেয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯১৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতায় রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো:
♣ গল্প:
• সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
• আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
• নামহীন গোত্রহীন, 
• পাতালে হাসপাতালে, 
• জীবন ঘষে আগুন। 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা অপরূপ শিল্পরূপ লাভ করেছে তাঁর ‘নামহীন গোত্রহীন’ গ্রন্থে।

♣ উপন্যাস:
• বৃত্তয়ায়ন,
• আগুনপাখি,
• সাবিত্রী উপাখ্যান,
• শিউলি।

♣ প্রবন্ধ:
• কথাসাহিত্যের কথকতা,
• অপ্রকাশের ভার,
• কথা লেখা কথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯১৯.
‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) বেগম সুফিয়া কামাল
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল বরকত
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”।
- এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯২০.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবৎ' সম্পাদনা করেন কে?
  1. জেমস লং
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক। ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯২১.
'স্বদেশ অন্বেষা' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ইব্রাহীম খাঁ
  2. আহমদ শরীফ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা - স্বদেশ অন্বেষা

• আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯২২.
''আমি কিংবদন্তির কথা বলছি'' কবিতায় কবির পূর্ব পুরুষের করতলে কীসের সৌরভ ছিলো?
  1. রক্তজবার
  2. শ্বাপদের
  3. পলিমাটির
  4. শস্যদানার
ব্যাখ্যা
• ''আমি কিংবদন্তির কথা বলছি'' কবিতায় কবির পূর্ব পুরুষের করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিলো। 
-------------------
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা,
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
--------------------
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

 • 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা - 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'। 

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৯২৩.
অমিয় চক্রবর্তীর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) একমুঠো
  2. খ) অনিঃশেষ
  3. গ) মাটির দেয়াল
  4. ঘ) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
 অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম। 
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১), 
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬), 
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বংলাপিডিয়া।
৩,৯২৪.
'কথা দিয়েছিলাম তোমাকে' কবিতাটি কার?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
'কথা দিয়েছিলাম তোমাকে' হুমায়ুন আজাদ রচিত 'আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে' কাব্যের অন্তর্গত।
কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে ।
কাব্যটির উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি কবিতা,
- তরুণী সন্তু,
- যে তুমি ফোটাও ফুল,
- যদি একবার তাকাও,
- পর্বত
- শিশু ও যুবতী ইত্যাদি।
এই কাব্যে হুমায়ুন আজাদ মানুষের অমরত্বের সন্ধান করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯২৫.
'ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯২৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা

'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের কাব্যের সর্বত্র যে বিষাদ গভীর অতীতচারিতা, পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটির প্রতি অনুরাগ, কাব্যদেহে প্রসাধনের প্রতি নির্মোহ ও জীবনের প্রতি আসক্তি নিরাসক্তির দ্বন্দ্ব, 'পরিশেষ' কাব্যেও তা ফুটে উঠেছে।
- রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'পরিশেষ' গ্রন্থটি অতুলপ্রসাদ সেনকে উৎসর্গ করেন। 

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯২৭.
'সধবার একাদশী' প্রহসনটির রচয়িতা -
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র: 
- নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র  ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯২৮.
“এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতেই ফুরালো”- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই উক্তিটি কার সম্পর্কে বলেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে উদ্দেশ করে এই উক্তিটি করেন— “এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতেই ফুরালো।”

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে উদ্দেশ করে এই উক্তিটি করেন-  “এতো বড় প্রতিভা কেবলই ইয়ার্কিতে ফুরালো।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অসামান্য প্রতিভা মূলত ব্যঙ্গ-রসাত্মক ও অপ্রধান বিষয়নির্ভর রচনাতেই নষ্ট হয়েছে, যা সাহিত্যকে গভীরতা বা স্থায়ী মূল্য দিতে পারেনি। 
- তিনি গুপ্তের ছড়া ও বিদ্রূপাত্মক কবিতাকে “ইয়ার্কি” হিসেবে দেখতেন এবং 
- মনে করতেন, এ ধরনের প্রতিভাসম্পন্ন কবির উচিত ছিল বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘস্থায়ী ও উচ্চমানের সৃষ্টিকর্ম রেখে যাওয়া।
-----------------------------
উল্লেখ্য,
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট। তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র ‘সংবাদ প্রভাকর’- এর সম্পাদক ও প্রকাশক।
-তাঁর কবিতায় সমাজচিত্র, বিদ্রূপ ও ঐতিহ্যবোধ মিলেমিশে এক অনন্য ধারা সৃষ্টি করে, যা আধুনিক কাব্যের দিকে রূপান্তরে ভূমিকা রাখে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী – হুমায়ুন আজাদ। 

৩,৯২৯.
‘তারার দেশের হাতছানি'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মতী
  3. গ) আবদুল হাই
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মতী শরফুদ্দূন (১৯০৩-১৯৯৮) রচিত গ্রন্থ হলো এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, সাগরের রহস্যপুরী, তারার দেশের হাতছানি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,৯৩০.
‘The Zamindar and Royats’ প্রবন্ধটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. বঙ্গভঙ্গের
  2. নীলকরদের অত্যাচারের
  3. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের
  4. পঞ্চাশের মন্বন্তরের
ব্যাখ্যা
• The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

-------------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

• প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ:
- আামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক:
- 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১),
- 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫),
- 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি।

• সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা:
- 'অভেদী' (১৮৭১),
- 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

• 'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।
• 'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৩,৯৩১.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) শামসুল হক
ব্যাখ্যা

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তাকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- রবীন্দ্র কাব্য ধারার গীতিকবিতা রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলোঃ
• মায়া কাজল,
• শান্তি ও প্রার্থনা,
• মন ও জীবন,
• উদাত্ত পৃথিবী,
• অভিযাত্রিক,
• মোর জাদুদের সমাধি পরে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৯৩২.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যটির রচয়িতা কে ?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
মহাশ্মশান কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা; যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন। যুদ্ধকাহিনীর মধ্যে অনেকগুলি প্রণয়বৃত্তান্ত স্থান পেয়েছে। Source: Banglapedia
৩,৯৩৩.
''প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে'' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সমর সেন
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান।
তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- এক ধরনের অহংকার,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- অক্টোপাস,
- অদ্ভূত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায় ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৯৩৪.
‘অন্ধকারটা স্বপ্ন, অলীক। আলোটাই সত্য, আলোটাই স্থায়ী।’- কোন সাহিত্যের অংশ?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'অন্ধকারটা স্বপ্ন, অলীক। আলোটাই সত্য, আলোটাই স্থায়ী'- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের অংশ।

রক্তাক্ত প্রান্তর মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থ থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৯৩৫.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?' কবিতাংশটি কার?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) জসীমউদদীন
ব্যাখ্যা

• কবিতা মুকুল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।
• কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে।
• তাঁর রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।
• 'কবিতার কথা' নামে জীবনানন্দ দাশের একটি প্রবন্ধ।
কবিঃ কুসুমকুমারী দাশ
কবিতাঃ আদর্শ ছেলে
আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চাই বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৯৩৬.
‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’- কার লেখা?
  1. ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহাম্মদ আব্দুল হাই
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৩৭.
কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক রচনা?
  1. অসমাপিকা
  2. বিনুর বই
  3. পথে প্রবাসে
  4. যার যেথা দেশ
ব্যাখ্যা
⇒ বিনুর বই:
• অন্নদাশঙ্করের বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তিনি বিনুর বই-এর প্রথম পর্ব রচনা করেন।
• পরস্পরসংলগ্ন অধ্যায় পরম্পরায় মাত্র তিন মাসেই সে লেখা সম্পন্ন হয়।
• দ্বিতীয় পর্বের লেখা শুরু হয় ছিয়াশি বছর বয়সে। যখন শেষ হয় তখন তাঁর বয়স উননব্বই। পরিচ্ছেদগুলি দীর্ঘায়িত।
• জীবনসায়াহ্নের সে রচনা অনেকটাই যেন তাঁর বর্ণময় জীবন ও যাপনের 'Summing up'।
• বিনুর বই জীবনশিল্পী অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা।
উভয় পর্বেই অন্নদাশঙ্কর রচনা করে চলেন তাঁর মনের, মননের এক আত্মস্বীকারোক্তিমূলক জীবনকাহিনি। অসামান্য এই কাহিনি একদিকে যেমন আমাদের পরিচিত করিয়ে দেয় তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্ব ও বাঁকবদলের সঙ্গে, তেমনই আমরা জানতে পারি মনস্বী এই লেখকের জীবনদর্শন সম্পর্কেও।
• তাই বিনুর উপলব্ধি আসলে অন্নদাশঙ্করেরই উপলব্ধি। তিনি বলেছেন: 'মানুষকে লেবেল দিয়ে শনাক্ত করা যায় না। মানুষকে ভালোবাসলে তার স্বরূপ জানতে পারা যায়।'

===========
⇒ অন্নদাশঙ্কর রায়:
 
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 

⇒ তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।
 
⇒ তাঁর উলে­খযোগ্যে উপন্যাস:
• অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
• কঙ্কাবতী,
• যার যেথা দেশ,
• দুঃখমোচন,
• মর্তের স্বর্গ।

⇒ তাঁর উলে­খযোগ্য প্রবন্ধ:  
• তারুণ্য, 
• জীবনশিল্পী,
• ইশারা,
• আধুনিকতা ইত্যাদি।  

উৎস: ‘বিনুর বই’  অন্নদাশঙ্কর রায় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৩৮.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃকোড়ে' - এই বাক্যের স্রষ্টা কে?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃকোড়ে' - এই বাক্যের স্রষ্টা - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

• পালামৌ - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনী।

‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা। ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’-এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য । সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ।

- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৩৯.
‘হ-য-ব-র-ল’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'হ-য-ব-র-ল' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নেমেসিস, রূপান্তর, যদি এমন হতো, নয়া খান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন, ইত্যাদি।
তাছাড়া 'হ-য-ব-র-ল' নামে সুকুমার রায় রচিত একটি রম্যরচনা রয়েছে।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৯৪০.
"বং বঙ্গ বাঙ্গালা বাংলাদেশ" - গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. রিজিয়া রহমান
  2. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  3. আহমদ শরীফ
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

• "বং বঙ্গ বাঙ্গালা বাংলাদেশ" গ্রন্থটি বিশিষ্ট আইনবিদ, লেখক ও ভাষাবিদ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান রচনা করেছেন।
- গ্রন্থটি - ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সম্পর্কে তথ্য:
জন্ম: ৩ ডিসেম্বর ১৯২৮।
মৃত্যু: ১১ জানুয়ারি ২০১৪।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা।
- ভাষা, সাহিত্য ও আইনশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে।
- ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি পদে অভিষিক্ত হন।
- তিনি একুশে পদক (১৯৯৮) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০০৯) পেয়েছেন।

উল্লেখ্য,
যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; প্রথম আলো আর্কাইভ।

৩,৯৪১.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৪২.
'মামা গো!' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আসাদ চৌধুরী
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা


সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম। কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন। তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: আবোল-তাবোল (১৯২৩), হ-য-ব-র-ল (১৯২৪), পাগলা দাশু (১৯৪০), বহুরূপী (১৯৪৪), খাইখাই (১৯৫০), অবাক জলপান, শব্দকল্পদ্রুম, ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৪৩.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' কার রচনা ?
  1. সুকুমার সেন
  2. আশুতোষ চৌধুরী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ''বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ যা দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন ১৮৯৬ সালে।

- কিশোর বয়স থেকে দীনেশচন্দ্র সেন সাহিত্য-অনুরাগী ছিলেন। কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ কুমার ভূপেন্দ্রসিংহ (১৮৯০)। এটি একটি আখ্যান কাব্য।

- কুমিল্লায় অবস্থানকালে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুথি সংগ্রহ করেন। ব্যাপক শ্রমসাধ্য এ কাজে তিনি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং দীর্ঘ সময়ের গবেষণায় কুমিল্লা থেকে ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বঙ্গভাষা ও সাহিত্য শীর্ষক একটি আকরগ্রন্থ।

- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ওপর এটি একটি সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণাগ্রন্থ যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ সমকালের পন্ডিতদের প্রশংসা লাভ করে। এ অসাধারণ গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় দীনেশচন্দ্র সেন এ বিষয়ে পথিকৃৎ-এর সম্মান ও পান্ডিত্যের স্বীকৃতি লাভ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৪৪.
'পথে প্রবাসে' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী 
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।

----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৪৫.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অর্কেস্ট্রা
  2. খ) প্রথম পার্থ
  3. গ) উর্বশী ও আর্টেমিস
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ - মহাপৃথিবী।

জীবনানন্দ দাশ

জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ওই কাব্যান্দোলনে।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ- 
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৪৬.
শামসুর রহমানের রচনা কোনটি?
  1. ক) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  2. খ) কয়েকটি কবিতা
  3. গ) নিরালোকে দিব্যরথ
  4. ঘ) উত্তরাধিকার
  5. ঙ) পদাতিক
ব্যাখ্যা
নিরালোকে দিব্যরথ কাব্য কবি শামসুর রহমানের। এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, কয়েকটি কবিতা, উত্তরাধিকার ও পদাতিক গ্রন্থসমুহ যথাক্রমে সেলিনা হোসেন, সত্যেন সেন, শহীদ কাদরি এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায় রচিত।(সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা)
৩,৯৪৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত “Buddhist Mystic Songs” গ্রন্থে, চর্যাপদের কত জন কবির কথা বলা হয়েছে?
  1. ২১
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ২৬
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত - Buddhist Mystic Song গ্রন্থে ২৩ জন কবির কথা বলা হয়েছে।
আবার ড. সুকুমার সেনের ''বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস'' - গ্রন্থে ২৪ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
তাই বলা হয় চর্যাপদের কবি সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪ জন।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩,৯৪৮.
'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।' উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগুলো নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'।
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে।

'সংস্কৃতির কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি:
- 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।',
- 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'

সংস্কৃতি-কথা' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কিছু উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হলো-
- মেরুদণ্ড,
- নবযুগ,
- আমাদের দৈন্য,
- মনুষ্যত্ব,
- জীবন ও বৃক্ষ,
- লাইব্রেরী,
- বর্ষাপঞ্জী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৪৯.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা

সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

অন্যদিকে, 
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।

৩,৯৫০.
মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম কোথায়?
  1. কুমিল্লা
  2. নোয়াখালী
  3. চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ। 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৫১.
একুশের প্রথম সংকলনের সম্পাদক কে?
  1. ক) মাহবুবর রহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) আ ন ম গাজীউল হক
  4. ঘ) আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান
- ১৯৫৩ সালে পুঁথিপত্র প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- হাসান হাফিজুর রহমানের অনুরোধে নিজ হাতে উৎসর্গপত্রটি লিখে দেন আনিসুজ্জামান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৫২.
'সুবচন নির্বাসনে' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. লুৎফর রহমান
  3. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৫৩.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক 'যে অরণ্যে আলো নেই' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মামুনুর রশিদ
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহীম
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা
'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত নাটক। 

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক
- দুইয়ে দুইয়ে চা
- যে অরণ্যে আলো নেই (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
- রোদজ্বলা বিকেল 
- সূর্যাস্তের পর

তাঁর রচিত উপন্যাস
- বিশ শতকের মেয়ে 
- এক পথ দুই বাক
- কেয়াবন সঞ্চারিনী 
- বহ্নিবলয়

গল্প: 
- রমনা পার্কে

প্রবন্ধ
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি
- শরৎ প্রতিভা
- বাংলার কবি মধুসূদন (১৯৬১)
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছদিত কন্যা আমি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৫৪.
'অজ্ঞাতবাস' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায়: একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক ও বিশিষ্ট ছড়াকার৷ তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

তার রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- রাখী (১৯৩২),
- কালের শাসন (১৯৩৩),
- কামনা পঞ্চবিংশতি (১৯৩৪),
- নূতন রাধা (১৯৪৩) প্রভৃতি।

উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ (১৯৩২);
- অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩),
- কঙ্কাবতী (১৯৩৪),
- দুঃখমােচন (১৯৩৬),
- মর্তের স্বর্গ (১৯৪০),
- অপসরণ (১৯৪২)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

 
৩,৯৫৫.
'আগুন পাখি' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'আগুন পাখি' উপন্যাস:
- 'আগুন পাখি' হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী
- জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন,
- রোদে যাবো,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৫৬.
'ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প' কার রচনা?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শহীদ কাদরী
  3. ফজলে লোহানী
  4. শহীদুল জহির
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অকলা প্রয়াত লেখক, বাংলা সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়েলিজমের সার্থক প্রয়োগদাতা শহীদুল জহিরের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্যা গল্প’।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ হলো :
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূণিমা ছিল,
- মুখের দিকে দেখি,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৯৫৭.
'হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি লিটেরেচার' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন
- দীনেশচন্দ্র সেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। 
- ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলায় তাঁর জন্ম।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসনির্ভর গ্রন্থ ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ রচনা করেন।
- তার সুবিখ্যাত গ্রন্থ “হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি লিটেরেচার” ১৯১১ সালে প্রকাশিত হলে তা সর্বমহলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।
- দীনেশচন্দ্র সেন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুঁথি সংগ্রহ করেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন।
- লেখনীর মাধ্যমে তিনি গ্রামবাংলার লোকসাহিত্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন।
- তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
- এই গ্রন্থগুলোর পালাগান, গীতিকা বা কাব্যগুলো সংগ্রহ করে দেন চন্দ্রকুমার দে। 
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর কলকাতার বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৫৮.
'সারাদুপুর' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শঙ্খ ঘোষ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থের রচিয়তা হাসান আজিজুল হক।
এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
এই গ্রন্থে মোট আটটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন

তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- পাতালে হাসপাতালে
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন 
- শিউলি 
- আগুনপাখি 
- সাবিত্রী উপাখ্যান 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- কথাসাহিত্যের কথকতা 
- অপ্রকাশের ভার 
- কথা লেখা কথা 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক: একাত্তর-করতলে ছিন্নমাথা 
সম্পাদনা: অসীমন্তিক 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৩,৯৫৯.
কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস রচনা প্রথম প্রয়াস?
  1. কলিকাতা কমলালয়
  2. নববাবু বিলাস
  3. নববিবি বিলাস
  4. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
ব্যাখ্যা

উনিশ শতকের প্রথম দিকে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের উদ্ভব ঘটে ।
- এর মূলে রয়েছে পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রভাব ।

- ফুলমণি ও করুণার বিবরণ ( ১৮৫২) উপন্যাস তৈরির একটি প্রচেষ্টা ।
- কাল গত দিক দিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের প্রয়াস হেনা ক্যাথারিন ম্যালেন্স রচিত ফুলমণি ও করুণার বিবরণ ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

৩,৯৬০.
কোনটি আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) নীড় সন্ধানী
  2. খ) নিশুতি রাতের গাথা
  3. গ) নিরুপায় হরিণী
  4. ঘ) নদী নিঃশেষিত হলে
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।
- আনোয়ার পাশাকে ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করে।

• আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।
৩,৯৬১.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. প্যারিচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৬২.
আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস কোনটি?
  1. ব্যোমকেশ
  2. ফেলুদা
  3. কাকাবাবু
  4. জাল
ব্যাখ্যা

• 'জাল' উপন্যাস:
​- 'জাল' বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবু ইসহাকের একটি গোয়েন্দা উপন্যাস। 
- ​এই উপন্যাসটি ১৯৫০ সালে জাল নোটের কয়েকটি মামলার তদন্তের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত। 
- ​'জাল' একটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস, গতানুগতিক ডিটেকটিভ উপন্যাস নয় । তা'ছাড়া এর ভেতর আছে অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে আবু ইসহাকের উদ্ভাবিত কিছু মৌলিক পদ্ধতি।
- উপন্যাসটি ১৯৮৮ সালে 'আনন্দপত্র' ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয় । কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনার পর এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নসাস থেকে।

​অন্যদিকে, 
• 'শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত- ব্যোমকেশ। 
• সত্যজিৎ রায় রচিত- ফেলুদা। 
 • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত- কাকাবাবু। 
​​
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৬৩.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. তেভাগা আন্দোলনের
  4. ১ম বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৬৪.
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কাব্যটি কার লেখা?
  1. শামসুর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল ফজল
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা রয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা হচ্ছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতা।  

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা, 
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৬৫.
‘কী চাহ শঙ্খচিল’ নাটকটি রচনা করেন-
  1. মামুনুর রশীদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা-  মমতাজউদদীন আহমদ।

• মমতাজউদদীন আহমদ:  
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক: 
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৬৬.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) সাত ভাই চম্পা
  2. খ) চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী
  3. গ) সন্দ্বীপের চর
  4. ঘ) নিসর্গ সন্দর্শন
ব্যাখ্যা
সন্দ্বীপের চর, উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, দিবানিশি চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী, উত্তরে থাকে মৌন, আমার হৃদয়ের বাঁচো ইত্যাদি বিষ্ণু দের কাব্যগ্রন্থ।
নিসর্গ সন্দর্শন কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৯৬৭.
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" -গানের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. আবুল ফজল
  3. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী। 

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

 তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৬৮.
ফররুখ আহমেদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৪৪ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমেদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়
এই বইয়ের ১৯টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- পাঞ্জেরী,
- সিন্দবাদ,
- আকাশ-নাবিক,
- ডাহুক,
- এই সব রাত্রি
- লাশ
- আউলাদ
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও সাত সাগরের মাঝি]

৩,৯৬৯.
'মণি মঞ্জুষা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'মণি মঞ্জুষা' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি অনুবাদ কাব্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯১১৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- লেখকের অপর একটি অনুবাদ কাব্য তীর্থরেণু।

অন্যদিকে, মুহম্মদ এনামুল হক রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'মনীষা মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৭০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. সংস্কৃতির সংকট
  3. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  4. সংস্কৃতি রূপান্তর
ব্যাখ্যা
 • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু'।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

অন্যদিকে,
• সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
• সংস্কৃতির সংকট বদরুদ্দিন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
• সংস্কৃতির রূপান্তর গোপাল হালদার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭১.
কোন সাহিত্যিকের রচিত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় - রচিত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• পথের পাঁচালী:

- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া।
------------------------- 
• 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'। 
--------------------- 
 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭২.
৭ই মার্চের পটভূমিতে রচিত কবিতা-
  1. ক) ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ - শামসুর রাহমান
  4. ঘ) ‘আমার পরিচয়’ - সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - কবিতাটি লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ।
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা।
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
------------------------
কবিতাটি শেষ হয়েছে এভাবে- 

"শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷"।
 --------------------------- 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ - কবিতা। 
৩,৯৭৩.
‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ বিখ্যাত প্রহসনটি কোন নাট্যকার কর্তৃক রচিত?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন। 
- প্রহসনটি ১৮৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

----------------------
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর:
• জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪৯-১৯২৫) ছিলেন নাট্যকার, গীতিকার, সংগীতজ্ঞ, অনুবাদক, চিত্রশিল্পী ও সংগঠক। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে ১৮৪৯ সালের ৪ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঞ্চমপুত্র এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অগ্রজ। 

• তিনি স্বদেশপ্রেমে ও জাতীয়তা চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একে একে ‘ব্রাহ্মধর্মবোধিনী সভা’ (১৮৭২), ‘সারস্বত সমাজ’ (ওই), ‘আদি ব্রাহ্মণসমাজ সঙ্গীত বিদ্যালয়’ (১৮৭৫), ‘সঞ্জীবনী সভা’ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেন।

• জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক জীবনের সূচনা হয় নাটক-প্রহসন রচনার মাধ্যমে। তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রহসনগুলো হলো-

- কিঞ্চিৎ জলযোগ (প্রহসন, ১৮৭২),
- হঠাৎ নবাব (প্রহসন, ১৮৮৪),
- এমন কর্ম আর করব না ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য রচনা।

• বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- পুরুবিক্রম,
- অশ্রুমতি,
- স্বপ্নময়ী। 
তাঁর অধিকাংশ নাটক জোড়াসাঁকো ও কলকাতার নাট্যশালায় একাধিকবার অভিনীত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩,৯৭৪.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মধুমতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. ময়নামতির চর
  4. চরের জীবন
ব্যাখ্যা
• চরের জীবন - সিজাজুল হক ভুঞা রচিত একটি কবিতা। 

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,  
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী। 
 
তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ, 
- রূপকথা, 
- কুঁচবরণ কন্যা।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,  
- শেষ লগ্ন, 
- অরণ্য গোধূলি, 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- মসনদ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৩,৯৭৫.
‘ইঁদুর’ - ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা
ঢাকার ‘প্রগতি লেখক সংঘ’ -এর প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দ। তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর। হুমায়ুন আহমেদ জানিয়েছিলেন - এই ছোট গল্পটি পড়েই তার কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরনা পেয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন। তার গল্পের গ্রন্থঃ সংকেত ও অন্যান্য গল্প, বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৭৬.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩ খণ্ডে রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- অপরাজিত,
- দৃষ্টিপ্রদীপ,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- বিপিনের সংসার,
- দেবযান,
- ইছামতি,
- অশনি সংকেত ইত্যাদি
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৭৭.
'দেশ' পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ ও সম্পাদিত পত্রিকাসমুহ: 
- জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯৩৪ সালে কুমিল্লার বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী নরেন্দ্র দত্তের সঙ্গে কলকাতা যান। সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।

- পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন। তিনি মোহাম্মদী, আজাদ, নবযুগ, কৃষক, যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।

- ১৯৪৫ সালে বিখ্যাত 'দেশ' পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করে তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে কিছুদিন উপার্জন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বভারতীর প্রকাশনা শাখায় খন্ডকালীন চাকরি করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭৮.
আল মাহমুদ রচিত 'কালের কলস' কোন ধরনের রচনা?
  1. কথাসাহিত্য
  2. নৃত্যনাট্য
  3. কাব্য
  4. উপন্যাস
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: 'আল মাহমুদ'। 
- গ্রন্থটি ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৭৯.
'মানব মুকুট' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. গোলাম মোস্তফা 
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী: 
- শক্তিশালী প্রবন্ধলেখক হিসেবে এয়াকুব আলী চৌধুরী খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- মানব মুকুট তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে তিনি এখানে মানবজাতির সেবক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখিয়েছেন।
- এয়াকুব আলীর রচনার মূল উপজীব্য ইসলামি দর্শন ও সংস্কৃতি।
- গাম্ভীর্যপূর্ণভাব, মাধুর্যপূর্ণ ভাষা ও বলিষ্ঠ বক্তব্যের সমন্বয়ে তাঁর রচনাশৈলী অনন্য।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলা না  উর্দু হবে এ বিতর্কে তিনি বাংলা ভাষাকেই সমর্থন করেন।

• তাঁর প্রধান রচনা হলো:
- ‘মানব মুকুট’,
- ‘নূরনবী’,
- ‘শান্তিধারা’,
- ‘ধর্মের কাহিনি’।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৮০.
'আলোক বিজ্ঞান' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. জাফর ইকবাল
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'আলোক বিজ্ঞান' গ্রন্থটির রচয়িতা - কাজী মোতাহার হোসেন
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

কাজী মোতাহার হোসেন: 
- তিনি ৩০শে জুলাই, ১৮৯৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রাম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরষ্কার’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে, 
- সিম্পোজিয়াম, 
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৮১.
‘নামহীন গোত্রহীন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. শওকত ওসমান
  3. রশীদ হায়দার
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৭৫ সালে।
- সাতটি গল্পে সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থটির গল্পগুলিতে মানুষের বিপর্যয়ের চরম দুর্দশার চিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণকে।

---------------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ।
৩,৯৮২.
নীলদর্পন নাটকের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশের জন্য আদালত যে টাকা জরিমানা করেন, তা কে পরিশোধ করে দেন?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) রাধানাথ শিকদার
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) ক্লিন্টন বি. সিলি
ব্যাখ্যা

দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পন নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে ছাপার জন্য প্রকাশক রেভারেন্ড লঙ নামক এক পাদ্রিকে আদালতে ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়; কারণ অনুবাদে অনুবাদকের নাম উল্লেখ ছিলোনা। পরে সেই জরিমানা কালিপ্রসন্ন সিংহ আদালতে নিজে হাজির হয়ে পরিশোধ করে দেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৯৮৩.
‘অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. সোমেন চন্দ
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

‘অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। 

অনল প্রবাহ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য।
- ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে মোট নয়টি কবিতা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একজন লেখক, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- জন্ম: ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই, সিরাজগঞ্জ জেলা।
- তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত।

রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অনল প্রবাহ,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী,
- প্রেমাঞ্জলি। 

প্রবন্ধসমূহ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা। 

ভ্রমণ কাহিনী:
- তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৮৪.
'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
  1. ঘুম নেই
  2. হরতাল
  3. ছাড়পত্র
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

• 'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা। 'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা 'দুর্মর' তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিকায় লেখা।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁকে কিশোরকবি বলা হয়।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- মিঠেকড়া,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৮৫.
'মুহূর্তের কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদ। তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি।
মুহূর্তের কবিতা তাঁর সনেট সংকলন, নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্যনাট্য এবং হাতেম তায়ী কাহিনীকাব্য। নতুন লেখা, সিন্দাবাদ, হাবেদা মরুর কাহিনী, সিরাজাম মুনীরা তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৯৮৬.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. দুয়ে দুয়ে চার
  4. সূর্যাস্তের পর
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম:
- ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন মৃত্যু বরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর

তাঁর আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৯৮৭.
'নিষেধের বিড়ম্বনা' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
বাঙলার নদীর সমস্যা, শতকরা পঁয়তাল্লিশের জের, নিষেধের বিড়ম্বনা, বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা আবুল হুসেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৯৮৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য কোনটি?
  1. প্রথমা
  2. সম্রাট
  3. ফেরারী ফৌজ
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৮৯.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অন্য এক আলিঙ্গন
  2. আনন্দের মৃত্যু
  3. আমি জন্মগ্রহণ করিনি
  4. একদা এক রাজ্যে
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিঙ্গন,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৯০.
চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে কে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ?
  1. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকুমার সেন
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৯৯১.
গাড়ি চলে না, চলে না, নারে........গানের গীতিকার কে?
  1. সঞ্জীব চৌধুরী
  2. বাপ্পা মজুমদার
  3. শাহ্‌ আবদুল করিম
  4. দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• শাহ্‌ আবদুল করিম:
- লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম ১৯১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে। 
- তাঁর জীবনের প্রথমপর্বে সঙ্গীতের দীক্ষা ঘটেছিল বাংলা ভাবসাধক ও বাউল পরিমন্ডলে।
- প্রথম জীবনে তিনি বাউল, ভক্তিমূলক, জারি, সারি, রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পালাগান গেয়েছেন। কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি গণসঙ্গীত রচনা ও পরিবেশনে খ্যাতি অর্জন করেন।
- সঙ্গীতজীবনের একদিকে তিনি ছিলেন গণচেতনার সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক, অন্যদিকে ছিলেন বাউল-আঙ্গিকের সঙ্গীতশিল্পী। 
-  কৈশোরকাল থেকেই গণসঙ্গীতের প্রতি শাহ আবদুল করিমের আকর্ষণ ছিল। সম্ভবত জীবনের বাস্তবতা তাঁকে গণসঙ্গীত রচনায় উদ্বুদ্ধ করে।

তাঁর কিছু বিখ্যাত সঙ্গীতের পঙ্‌ক্তি এ রকম:
- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।
- কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া।
- গাড়ি চলে না, চলে না, নারে।
- বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে।
- গান গাই আমার মনরে বুঝাই।
- আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু।
- বসন্ত বাতাসে সইগো, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯২.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীনের উপন্যাস নয়?
  1. ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. খ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. গ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন: 
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দৈনিক  সোলতান পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- এর আগে তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
- উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
- উপন্যাস:
ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
→ পদ্মা মেঘনা যমুনা, 
→ সংকর সংকীর্তন, 
→ দেয়াল। 

⇒ বিঃদ্রঃ 'পদ্মার পলিদ্বীপ 'আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস। 

- গল্পগ্রন্থ:
→ জীবন, 
→ রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
→ ল্যাংড়ী। 

- প্রবন্ধ:
→ চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য, 
→ Sociology of Bengal Politics, 
→ সোচ্চার উচ্চারণ।

এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন।
- শিল্পীর সাধনা (১৯৬৭) ও পার্ল বাকের সেরা গল্প (১৯৬৮) তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ।

- সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮), সমকাল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৯), একুশে পদক (১৯৮৩), শহীদ নূতনচন্দ্র সিংহ স্মৃতিপদক (১৯৮৬), মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) এবং মৃত্যুর পর ফিলিপস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন।
- ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৩.
'আস্তিকতা হোক আর নাস্তিকতা হোক, কোন জিনিসকে পূর্ব থেকে গ্রহণ না করা; জিজ্ঞাসা ও যুক্তি দিয়ে বিচার করা' বক্তব্যটি নিচের কোনটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. ক) ইয়ংবেঙ্গল
  2. খ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
• ইয়ংবেঙ্গল বলতে বোঝায় ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক।
• এর প্রবর্তক ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
• ইয়ংবেঙ্গল আত্মপ্রকাশ করে ১৮৩১ সালে।

• ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী ও হিন্দু কলেজ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ডিরোজিওর শিষ্যরাই ইয়ংবেঙ্গল নামে পরিচিত,ইয়ংবেঙ্গলরা মূলত ইংরেজ ভাবধারাপুষ্ট বাঙালী যুবক।
- ইয়ংবেঙ্গলের আদর্শ - আস্তিকতা হোক আর নাস্তিকতা হোক, কোন জিনিসকে পূর্ব থেকে গ্রহণ না করা; জিজ্ঞাসা ও যুক্তি দিয়ে বিচার করা।
- তারা সাহিত্যে যুক্তিশীলতা ও মানবিকতাকে বড় করে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- ডিরোজিওর প্রধান গ্রন্থ – ‘The Fakeer of Jungkeera’ হিন্দু কলেজের মেধাবী ছাত্র ও সাহিত্যিকরা হলেন – প্যারীচাদ মিত্র, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র, কালিপ্রসাদ ঘোষ, হরচন্দ্র ঘোষ, মাধবচন্দ্র মল্লিক, রামতনু লাহিড়ী প্রমুখ।

সূত্র:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর )
৩,৯৯৪.
'চাচা কাহিনি' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'চাচা-কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৫.
নিচের কোনটি আবু ইসহাকের উপন্যাস নয়?
  1. ক) সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. খ) জাল
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) হারেম
ব্যাখ্যা
হারেম আবু ইসহাক রচিত একটি গল্প। বাকিগুলো তাঁর রচিত উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প- মহাপতঙ্গ। জোঁক তাঁর একটি ছোটগল্প। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৯৯৬.
নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য?
  1. ক) একদা এক রাজ্যে
  2. খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. গ) হৃৎকলমের টানে
  4. ঘ) প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান
ব্যাখ্যা
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য
- সৈয়দ শামসুল হক এটি রচনা করেন।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পীর সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।

• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: হৃৎকলমের টানে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৯৭.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত কোন গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে?
  1. গুলদাস্তা
  2. জীবনের শিল্প
  3. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  4. ভবিষ্যতের বাঙালি
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যতের বাঙালি:
- এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইতে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে
- এই বইটির জন্য তিনি বিখ্যাত হন। 

এস ওয়াজেদ আলি:  
- প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯১৯ সালে 'Bulletin of the Indian Rationalistic Society' নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'গুলদাস্তা' (১৯২৭)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালি (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প,
- গল্পের মজলিশ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৮.
"কী চাহ শঙ্খচিল" মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত কী ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ গবেষণা
ব্যাখ্যা
• "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটক:
- "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটকের রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমেদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনা মূর্তি নির্মাণ করেছেন।আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ। রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান লালনকে নিয়ে সন্দেহ। 

উৎস: "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ
৩,৯৯৯.
নিচের কোন গ্রন্থটি এস ওয়াজেদ আলীর একটি ভ্রমণ কাহিনী?
  1. মাশুকের দরবার
  2. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  3. গ্রানাডার শেষ বীর
  4. মোটর যোগে রাঁচী সফর
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলী: প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

গল্প:
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০);

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]
৪,০০০.
শওকত ওসমানের জন্ম কোথায়?
  1. ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জে
  2. রাজশাহী জেলার পুঠিয়ায়
  3. হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে
  4. কলকাতা শহরে
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।