বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৩৯ / ৭৭ · ৩,৮০১৩,৯০০ / ৭,৬৪৬

৩,৮০১.
শওকত আলী রচিত কোন উপন্যাসে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি রয়েছে?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. উত্তরের খেপ
  3. ওয়ারিশ
  4. পিঙ্গল আকাশ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ওয়ারিশ’ উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটিতে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

⇒ শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।
৩,৮০২.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত 'নবান্ন' নাটকটি লিখেছেন -
  1. মামুনুর রশীদ
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মোতাহের হসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 
- বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত অপরাপর নাটকগুলো হলো:
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮০৩.
মুহম্মদ আবদুল হাই তাঁর কোন গ্রন্থের জন্য ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. ক) বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন
  2. খ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা
  4. ঘ) ভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
গ্রন্থটির বর্ণনাভঙ্গি বিজ্ঞানানুগ, এর ভাষাভঙ্গি ও রচনাকৌশল বিবেচনায় এখানে নিরস তত্ত্বকথাও রসপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ পাঠকও সহজে আকৃষ্ট হয়।
ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০৪.
"শাশ্বত বঙ্গ" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
শাশ্বত বঙ্গ:
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত ‘শাশ্বত বঙ্গ’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ।
- একটি কবিতাসহ ৭৫টি প্রবন্ধ নিয়ে সংকলিত হয় এ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৫৮ সনে, কলকাতা থেকে।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত নবর্পয্যায় (১ম ও ২য় খণ্ড), রবীন্দ্রকাব্য পাঠ, সমাজ ও সাহিত্য, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ, আজকার কথা, নজরুল প্রতিভা, স্বাধীনতা-দিনের উপহার প্রভৃতি গ্রন্থের নির্বাচিত প্রবন্ধ এবং অপ্রকাশিত কিছু প্রবন্ধ নিয়ে গ্রন্থ আকারে ‘শাশ্বত বঙ্গ’ সংকলিত হয়।

কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮০৫.
১৯৮৯ সালে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে সেলিম আল দীন কোন নাটক লিখেন?
  1. নিমজ্জন
  2. ধাবমান
  3. বাসন
  4. হরগজ
ব্যাখ্যা
হরগজ:
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ সালে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে সেলিম আল দীন এ নাটক লিখেন। 
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপঙ্‌ক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০৬.
‘জননী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. বেগম রোকেয়া
  3. সুফিয়া কামাল
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
‘জননী’ উপন্যাস:
- জননী (১৯৫৮) শওকত ওসমান রচিত প্রথম উপন্যাস এবং প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের জননী উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।
- ‘জননী’তে সামাজিক জীবনে শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবান ও দরিদ্র মানুষের পারস্পরিক ঝগড়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন ফুটে উঠেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনদি, ইয়াকুব প্রমুখ।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০৭.
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. জীবন ঘষে আগুন
  2. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  3. শামুক
  4. রোদে যাবো
ব্যাখ্যা

• "শামুক" উপন্যাস:
- ভাবলেও বিস্ময় জাগে যে, এ উপন্যাসটি হাসান আজিজুল হক লিখেছেন তাঁর ১৮ বছর বয়সে। এবং লেখক একটি অমোঘ বাক্য দিয়ে শুরু করেছেন উপন্যাসটি: 'তেলাপোকা পাখি নয়।'
- কথাটি বলেছেন বিশ শতকের তিনের দশকের বাঙালি নিম্ন-মধ্যবিত্ত চেহারার-চরিত্র, বিশেষত একটি কেরানি-চরিত্রর জীবনবাস্তবতা নির্মাণ করতে গিয়ে।

'শামুক' রচিত ও প্রকাশিত হবার ইতিহাস লেখক স্বয়ং লিখেছেন ভূমিকায়-
আমি উপন্যাসটি লিখি এবং মানিক স্মৃতি উপন্যাস প্রতিযোগিতায় জমা দিই। ওরা প্রথমে ৩০০ বইয়ের মধ্যে ১০০ বই বাছাই করে, তারপর ১০০ বইয়ের মধ্যে ২৮টা বই বাছাই করে, তারপরে ২৮টা বইয়ের মধ্যে বেছে নেয় ৭টা বই। 'শামুক' এই সাতটি বইয়ের মধ্যেও ছিল তবে প্রতিযোগিতায় কোন পুরস্কার লাভ করেনি। 'পূর্বমেঘ' পত্রিকায় যখন নিয়মিত লেখালেখি শুরু করি তখন উপন্যাসটি একটি মুসলিম কেরানি চরিত্রে রূপান্তর করে পত্রিকায় পাঠাই। 'পূর্বমেঘ'-এ তিন কিস্তিতে প্রকাশিত 'শামুক'-ই এখন বই আকারে বের হচ্ছে প্রকাশকের চাপে।

কথাপ্রকাশের জসিম উদ্দিন আমার প্রথম উপন্যাস ছাপবেনই। কাজেই আমি বাধ্য হয়ে রাজি হয়েছি। আমি এই উপন্যাসটির কোনো রকম সংশোধনে যাইনি। বিস্তৃত করা, সংশোধন বা কাটাকাটি করার জন্য হাত লাগাইনি। কারণ তা করলেই আমি জানি, বর্তমানের আমি এর মধ্যে ঢুকে পড়ব। যদি কাঁচা মনে হয় কাঁচাই মনে হোক, দরকচা মনে হয়, দরকচাই মনে হোক, জায়গায় জায়গায় কাঁচা, জায়গায় জায়গায় পাকা মনে 

---------------------
• হাসান আজিজুল হক:

- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।
- তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং "শামুক" উপন্যাস হাসান আজিজুল হক।

৩,৮০৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. অলাতচক্র
  2. ওঙ্কার
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
ব্যাখ্যা
• "অলাতচক্র" উপন্যাস:
- আহমেদ ছফা অলাতচক্র উপন্যাসটি প্রথম লিখেছিলেন ১৯৮৫ সালে সাপ্তাহিক 'নিপুণ' পত্রিকার ঈদ সংখ্যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে মুক্তধারা থেকে বই আকারে প্রকাশ করেন পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে।
 
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচনার দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনকারী দেশসমূহের স্বার্থের দিকটি তিনি দেখতে চেয়েছেন।

- অলাতচক্র মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত লেখক দানিয়েল ও ক্যান্সারে আক্রান্ত তাইয়্যেবার মধ্যকার অস্ফুট ভালবাসা, মানসিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখা একটি উপন্যাস। বাংলাদেশের যুদ্ধ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির এত ভিন্নতা খুব সম্ভবত আর কোথাও এভাবে আসে নি।

এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- তায়েবা,
- জাহিদুল,
- দানিয়েল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ওঙ্কার: ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
• 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও লেখক আহমদ ছফা রচিত একটি বাস্তবিক গভীর পর্যবেক্ষণে রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। গাভী বিত্তান্ত উপন্যাসে চিত্রায়িত হয়েছে একজন উপাচার্যের গোলামি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির নোংরা কদর্য রূপ। 
• আহমদ ছফা 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাসের প্রথম খণ্ডটি প্রেমজ অঙ্গীকার নিয়েই প্রেমের কথা বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০৯.
নিচের কোনটি কালীপ্রসন্ন সিংহের গ্রন্থ?
  1. ক) সাবিত্রীসত্যবান
  2. খ) সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ
  3. গ) হুতুম প্যাঁচার নকশা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হুতুম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত একটি সামাজিক নকশা। এতে চড়ক নামে একটি মাত্র নকশা ছিল।
বাবুনাটক, বিক্রমোর্বশী, সাবিত্রীসত্যবান, মালতী-মাধব এগুলো তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১০.
‘শাশ্বতবঙ্গ’ কার লেখা?
  1. ক) কাঙাল হরিনাথ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) কাজী মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) কাজী আবদুর ওদুদ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪-১৯৭০) রচিত ‘শাশ্বতবঙ্গ’ একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ। এটি ১৯৫১ সালে সংকলিত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৮১১.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১লা মে থেকে ১৩ই জুন, ১৯৭৫; লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড শহরে, আর প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৬ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

অন্যদিকে, 
• "বন্দী শিবির থেকে" হলো বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি শামসুর রাহমান রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের আবেগ, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। 

• "পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা" একটি নাটক, যা লিখেছেন বিখ্যাত লেখক শওকত ওসমান। নাটকটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। 
• 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা' কবি শামসুর রাহমান রচিত একটি কাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮১২.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আরণ্যক
  2. যাত্রাবদল
  3. ইছামতী
  4. দৃষ্টিপ্রদীপ
ব্যাখ্যা

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়-  যাত্রাবদল। 

• 'যাত্রাবদল' গল্পগ্রন্থ:

- 'যাত্রাবদল' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প সংকলন।
- 'যাত্রাবদল' প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে।

গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পসমূহ হলো-
- ভণ্ডুলমামার বাড়ি,
- পেয়ালা,
- উইলের খেয়াল,
- কনে দেখা,
- সার্থকতা,
- একটি দিন,
- বাইশ বছর,
- বৈদ্যনাথ,
- ডানপিটে,
- যাত্রাবদল।

-------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী। তিনি ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল।

উৎস: 'যাত্রাবদল' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,৮১৩.
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. উদাত্ত পৃথিবী
  2. সারেং বউ
  3. যাদের দেখেছি
  4. রঙ্গিলা নায়ের মাঝি 
ব্যাখ্যা

• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
--------------------------------
সারেং বউ:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।
--------------------------
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)। 

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা। 

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

অন্যদিকে,
- 'উদাত্ত পৃথিবী' কাব্য গ্রন্থের রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- যাদের দেখেছি- জসীম উদ্‌দীনের স্মৃতিকথা।
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি - জসীম উদ্‌দীনের গানের সংকলন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৮১৪.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিরোধী কোন অঞ্চলের বিপ্লবী আন্দোলন চিত্রিত হয়েছে?
  1. দিনাজপুর
  2. রংপুর
  3. রাজশাহী
  4. সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ শামসুল হক তাঁর 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাটকের ভূমিকাতে লিখেছেন: 'ঐতিহাসিক সুপ্রকাশ রায় নামটি লিখেছেন নূরুলউদ্দিন, আমি ব্যবহার করেছি নূরলদীন - রংপুরের সাধারণ মানুষেরা যেমনটি উচ্চারণ করবে।'
- রংপুরের বুকে নূরুলউদ্দিন যে বিপ্লবের লাল আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, তাকে নির্বাপিত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে।
- সৈয়দ শামসুল হক এই কাব্যনাট্যের চরিত্র নিয়ে লিখেছেন: 'ইতিহাস থেকে আমি পেয়েছি নূরলদীন, দয়াশীল ও গুডল্যাডকে,কল্পনায় আমি নির্মাণ করে নিয়েছি আব্বাস, আম্বিয়া, লিসবেথ, টমসন ও মরিসকে।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮১৫.
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল। - কবিতাংশটুকু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. কমলের চোখ
  2. আমার সময়
  3. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  4. আমার সকল কথা
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
   আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৬.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ছায়াহরিণ
  2. আশায় বসতি
  3. অরণ্য নীলিমা
  4. দুহাতে দু আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:
- আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস 'অরণ্য নীলিমা'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য।

--------------------
• আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'। ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ক।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৭.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- নাটকটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকটি মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এতে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।  
 
-------------------
শওকত ওসমান:
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাঙ্গী। 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়। 

• নাটক:
- তস্কর লস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা, 
- কাঁকর মণি, 
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটক।
৩,৮১৮.
বাংলা সাহিত্যের 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত-
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শামসুল হক
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, হোমশিখা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌ অনুবাদকাব্য- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল, মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮১৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার' লাভ করেন তাঁর কোন সাহিত্যকর্মের জন্য?
  1. ক) অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. খ) খোয়াবনামা
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) দুধভাতে উৎপাত
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একজন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৮২ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৬ সালেকলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’  লাভ করেন।
 - গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান  আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 

উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭),
- খােয়াবনামা (১৯৯৬)।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস

ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬),
- খোয়ারি (১৯৮২),
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫),
- দোজখের ওম (১৯৮৯)।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।]
৩,৮২০.
'ইঁদুর' ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. সানাউল হক
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• 'ইঁদুর' ছোটগল্পটির রচয়িতা - সোমেন চন্দ।

সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮২১.
'আলোকিত গহ্বর' প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. শহীদ কাদরী​
  2. আল মাহমুদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮২২.
আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ক) নববসন্ত
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) মুসলিম কালচার
  4. ঘ) সত্যের সন্ধানে
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ ‘মুসলিম কালচার'। ‘ কালের কলস’ আল মাহমুদ এর কাব্যগ্রন্থ। ‘ সত্যের সন্ধানে’ এর লেখক আরজ আলী মাতুব্বর। ‘নববসন্ত’ হলো আবুল হোসেনের কাব্যগ্রন্থ।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,৮২৩.
শামসুর রাহমান রচিত কবিতা নয় কোনটি?
  1. তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা
  2. স্বাধীনতার জন্য
  3. তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
  4. স্বাধীনতা তুমি
ব্যাখ্যা
⇒ শামসুর রাহমান রচিত কবিতা নয়  ‘স্বাধীনতার জন্য’।
⇒ ‘স্বাধীনতার জন্য’
আবু সাইদ কামাল রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি উপন্যাস।

===============
⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ 'শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’।

• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো- ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮২৪.
নিচের কোন সাহিত্যিক ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. সমর সেন
  2. সেলিম আল দীন
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- টেলিভিশনে প্রচারিত সেলিম আল দীনের প্রথম নাটক 'ঘুম নেই'।
- ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটকটি প্রচারিত হয়। প্রযোজক ছিলেন আতিকুল হক চৌধুরী।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮২৫.
‘উপদ্রুত উপকূলে’ কবিতাটির রচয়িতা- 
  1. খান আতাউর রহমান
  2. জয় গোস্বামী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সমর দাস 
ব্যাখ্যা

‘উপদ্রুত উপকূলে’ কবিতাটির রচয়িতা-- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।
--------------------------------------------------
উপদ্রুত উপকূল
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ 

"রোদ্দুরে পোড়া জোস্নায় ভেজা প্লাবনে ভাসানো মাটি,
চারিপাশে তার রুক্ষ হা-মুখো হাহাকার,
তবু জীবনের বাঁশি বাজে—
উপদ্রুত এ-উপকূলে তবু জীবনের বাঁশি বাজে!
কে বা কারা যেন আজো দাহ করে যায়,
সবুজ পাতায়—
শস্যের মাঠে—"
--------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি গ্রহণ করেন।
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’,
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো' গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- এবং এই গানটিসহ তিনি অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৮২৬.
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরটি বিবিসি রেডিওতে পাঠ করেন -
  1. জহির রায়হান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক: 
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সর্বমহলে ‘সব্যসাচী’ লেখক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর লেখা গান ‘হায়রে মানুষ রঙীন ফানুস’ এক সময় মানুষের মুখে-মুখে ছিল।
- তাঁর রচিত দুটি কাব্যনাট্য 'নুরলদিনের সারাজীবন' এবং 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' বাংলা নাটকে একটি বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- তিনি সর্বকনিষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। 
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- সৈয়দ শামসুল হকের আঙ্গিক-নিরীক্ষার অন্যতম প্রধান ফসল 'পরানের গহীন ভিতর'।
- তেত্রিশটি সনেটের পরম্পরায় রচিত এই কাব্যটি বাংলাদেশের সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। 

- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরটি তিনি দৃপ্তকন্ঠে বিবিসি রেডিওতে পাঠ করে শুনিয়ে সমগ্র বিশ্বের বাঙালি জাতিকে আনন্দে আত্মহারা করে তোলেন। 
- তার দৃঢ়কণ্ঠ সাবলীল উচ্চারণের জন্য তিনি জনসাধারণ্যে পরিচিতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র:
১. বিবিসি বাংলা,
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. বাংলাপিডিয়া।
৩,৮২৭.
'জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জাহানারা ইমাম
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ূন আহমেদের  জনপ্রিয় উপন্যাস - 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
• উপন্যাসটির প্রথম সংস্করণ একুশে বই মেলাতে ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
---------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)। [প্রথম রচিত উপন্যাস; কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত]

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮২৮.
শওকত ওসমানের 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ'।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮২৯.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. কবর
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক:
- মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- 'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

-----------------------
• মুনীর চৌধুরী:

- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্টিমা।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি।
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।
- 'মানুষ' ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- 'নষ্ট ছেলে' রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- 'দণ্ডকারণ্য' তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।

৩,৮৩০.
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো -
  1. ক) রাত্রিশেষ
  2. খ) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  3. গ) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  4. ঘ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো ছায়াহরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫) ইতাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৩১.
’ঠাকুরমার ঝুলি’ কী জাতীয় গ্রন্থ?
  1. রূপকথা
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. পালা
ব্যাখ্যা
• ঠাকুরমার ঝুলি বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় রূপকথার সংকলন।
- এই গ্রন্থের সংকলক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রূপকথার গল্পগুলো সংগ্রহ করেছিলেন তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ থেকে।
-----------------------------------------------------
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠাকুরমার ঝুলির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন।
- জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৩২.
‘কূচবরণ কন্যা’ বন্দে আলী মিয়া রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কূচবরণ কন্যা’ বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৩৩.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় রচিত ‘নবান্ন’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. নুরুল মোমেন
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৮৩৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. ভাষা ও সাহিত্য
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ এনামুল হক ও সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে রচনা করেন- ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (১৯৬৮)।

------------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৩৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যু দিবস কোনটি?
  1. ক) ১৯৬৪ সালের ১ মে
  2. খ) ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই
  3. গ) ১৯৬৬ সালের ১ মে
  4. ঘ) ১৯৭০ সালের ১৩ জুলাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, বাংলা সাহিত্যের কথা, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ। সম্পাদনা গ্রন্থ বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান। সম্পাদিত শিশু পত্রিকা আঙ্গুর। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৩,৮৩৬.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সাধনা
  2. খ) হিতকরী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) কোহিনূর
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যটি প্রথম 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

'মহাশ্মশান' 
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত' কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 -পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
- মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি-উৎস এই গ্রন্থ। 
- মহাশ্মশান কাব্যে মোট তিনটি খন্ড রয়েছে।
- প্রথম খন্ড ১৯ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ড ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খন্ড ৭ সর্গে সমাপ্ত। 
- উল্লেখ্য, 
বাংলাপিডিয়ায়, কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের প্রকাশকাল ১৯০৪ সাল দেয়া। 

প্রধান চরিত্র: 
- এব্রাহিম কার্দি
- জোহরা বেগম
- হিরণ বালা
- আতা খাঁ
- লঙ্গ
- রত্নজি
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা
- আহমদ শাহ্ আব্দালী

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে  ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৩৭.
'বিশ্বনবী' গোলাম মোস্তফা রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. গদ্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বনবী' গোলাম মোস্তফা রচিত - গদ্যগ্রন্থ
- এটি রাসুলুল্লাহ (স) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা: 
 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৩৮.
'ডাকহরকরা' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'ডাকহরকরা' গল্পটির রচয়িতা- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়'। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্ম ১৮৯৮ সালের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়। 
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসের নাম - একটি কালো মেয়ের কথা।

• তার রচিত উপন্যাস:
- কবি,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাগর,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প: 
- রসকলি,
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা প্রভৃতি।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- পঞ্চগ্রাম, 
- গণদেবতা, 
- নাগিনী কন্যার কাহিনী। 

তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া। 
৩,৮৩৯.
'সিরাজদ্দৌলা' গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত একটি-
  1. পৌরাণিক নাটক
  2. ঐতিহাসিক নাটক
  3. কৌতুক নাটক
  4. রোমান্টিক নাটক
ব্যাখ্যা

• 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক:
- 'সিরাজদ্দৌলা' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- নাটকটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গিরিশচন্দ্র 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বাদেশিকতার আদর্শ বিগ্রহে পরিণত করেছিলেন।

---------------
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটকসমূহ হলো-
• পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতার বিদ্রোহ,
- লক্ষণ বর্জন,
- রামের বনবাস, 
- সীতাহরণ, 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, 
- পাণ্ডব গৌরব। 

• রোমান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, 
- আবু হোসেন, 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, 
- মীরকাশিম, 
- ছত্রপতি শিবাজী, 
- অশোক। 

• কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল, 
- সপ্তমীতে বিসর্জন, 
- বড়দিনের বখশিশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৪০.
'আবোল-তাবোল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) হেলাল হাফিজ
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
আবোল-তাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, খাইখাই ইত্যাদি সুকুমার রায়ের শিশুতোষ গ্রন্থ এবং অতীতের কথা তাঁর রচিত কাব্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৮৪১.
'পথের দাবী' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো- 'পথের দাবী'।  

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
---------------------------- 
• 'পথের দাবী' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:  
-  এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস গুলো হল: 
- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুণ্ঠের উইল,
- দেবদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড: সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৩,৮৪২.
‘ছায়া হরিণ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• ছায়া হরিণ

- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- এ কাব্যগ্রন্থে তাঁর সমাজ-সচেতনতা প্রকাশিত হয়েছে।
- ঐতিহ্যাশ্রয়ী কবি এখানে বণিক সভ্যতার রুদ্র রূপ দেখেছেন। তিনি গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্থিত হতে চেয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৪৩.
‘বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত কোন দেশের ভ্রমণ-কাহিনিভিত্তিক রচনা?
  1. ভারত
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. আফগানিস্তানের কাবুল শহর
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে'- ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা 'সানাউল হক'।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

--------------------
• সানাউল হক:
- সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৪), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
৩,৮৪৪.
'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থে কোন প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. ক) গণ অভ্যুত্থানের
  2. খ) ভাষা আন্দোলনের
  3. গ) সামরিক শাসনের
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধের
ব্যাখ্যা
'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগন্থের রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
- ২৩টি কবিতার সমাহারে শামসুর রহমানের এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কবিতা গুলোতে আছে কবির স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ের দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা এবং পাশ্চাত্য পুরাণের পাশাপাশি তাঁর স্বদেশি পুরাণের  মাধ্যমে ব্যক্তিমহিমা সন্ধানের প্রয়াস।
- ১৯৭৫-৮২ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের যুপকাষ্ঠে দেশ ও জনগনের চরম অবস্থার প্রতিফলন আছে এ কাব্যে।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগন্থ: 
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নিলীমা
- নিরালোকে দিব্যরথ
- নিজ বাসভূমে
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৪৫.
‘পদ্মরাগ’ - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. কবি সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হােসেন
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত রচিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪৬.
”সংশপ্তক” উপন্যাসের উপজীব্য বিষয় কী?
  1. নদীয়ার চাঁদ সড়কের জীবন
  2. পল্লী বাংলার বাস্তব জীবন
  3. গ্রামীণ চাষীদের জীবন
  4. নগর ও গ্রামীণ জীবন
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি উপন্যাস।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর উপন্যাস সংশপ্তকে ধারণ করেছে।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- এখানে ঢাকা ও কলকাতার নাগরিক পরিবেশের সঙ্গ বাকুলিয়া ও তালতলি গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশের প্রতীকে সমগ্র বাংলাদেশের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।
--------------------------------------
শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- তিনি সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহূত হন এবং আর ফিরে আসেন নি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪৭.
সামাজিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. খ) আগুনের পরশমণি
  3. গ) রাজসিংহ
  4. ঘ) বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক মূলত একজন ঔপন্যাসিক এবং কথাসাহিত্যিক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্য দীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এবং এটি তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
‘পদ্মার পলিদ্বীপ’ তাঁর রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।
'জাল' তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস।
'শ্যামল ছায়া' হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
'রাজসিংহ' বঙ্কিমচন্দ্রের ঐতিহাসিক উপন্যাস।
'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেনের ঐতিহাসিক উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪৮.
‘এখনও ক্রীতদাস’ নাটকটি কোন নাট্যকারের লেখা?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবুল হাসান
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• ‘এখনও ক্রীতদাস‘ নাটকটির রচয়িতা - আবদুল্লাহ আল মামুন। 

• 'এখনও ক্রীতদাস': 
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস’।
- এই নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।
-------------------------------------

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৪৯.
ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক্ষুধা ও আশা
  2. কর্ণফুলী
  3. ধানকন্যা
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

⇒ ‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসি (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৫০.
ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের 'The Origin and Development of the Bengali Language' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
• "দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ":
- "দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ" (ওডিবিএল) বাংলা ভাষা সংক্রান্ত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় The Origin and Development of the Bengali Language নামে ইংরেজিতে গ্রন্থটি রচনা করেন। সংক্ষেপে এটি ODBL নামেই সমধিক পরিচিত।

- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিষয়ক যে মৌলিক গবেষণার জন্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন, তার ওপর ভিত্তি করেই গ্রন্থখানি প্রণীত এবং ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- প্রকাশের পর থেকেই এটি ভারতীয় ও ইউরোপীয় পন্ডিতবর্গের উচ্চ প্রশংসা ও অনুমোদন লাভ করে আসছে। এখনও ইন্দো-আর্য ভাষার বিজ্ঞানসম্মত পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে এটি বিশিষ্ট গবেষণা কর্মরূপে বিবেচিত হয়।

- সুবৃহৎ এ গ্রন্থের প্রধানত দুটি অংশ: Part-I: Introduction, Phonology এবং Part-II: Morphology, Bengali Index। পরবর্তী সংস্করণে (১৯৭১) সংযোজিত হয় Part-III: Supplementary, Additions, Correction etc. বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশের স্বরূপ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে এ গ্রন্থে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বাংলা ভাষার প্রকৃতি তথা ধ্বনি (বর্ণ ও ছন্দ), রূপমূল (শব্দ) ও ব্যাকরণগত ধারাসমূহ উপস্থাপনে সুনীতিকুমার যে কৌশল অবলম্বন করেছেন তা একই সঙ্গে বর্ণনামূলক ও তুলনামূলক উভয়ই।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- Original and Development of Bengali language,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৫১.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী কোন গ্রন্থ রচনার কারণে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন?
  1. স্পেন বিজয় কাব্য
  2. অনল প্রবাহ
  3. স্বজাতি প্রেম
  4. রায়নন্দিনী
ব্যাখ্যা
• "অনল প্রবাহ" কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।

- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।

- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।

- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

---------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
-স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: "অনল প্রবাহ" কাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৫২.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫৩.
“উত্তরের ক্ষেপ” উপন্যাসটির ঔপন্যাসিক হলেন-
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সরদার জয়েন উদ্দিন
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮৫৪.
সুকান্ত ভট্টাচার্য 'রানার' কবিতাটি কাদেরকে নিয়ে লিখেছেন?
  1. ক) শ্রমজীবী
  2. খ) বুদ্ধিজীবী
  3. গ) বিপ্লবী
  4. ঘ) দুর্নীতিবাজ
ব্যাখ্যা
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'রানার' একটি কবিতা।
- তিনি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন।

• 'রানার' কবিতা:
- রানার কবিতাটি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে লিখা।
- রানার হচ্ছে ডাক হরকরা (যারা প্রাপকের কাছে প্রেরিত চিঠিপত্র পৌঁছে দেয়)।
- রানার কথাটি এখন চালু নেই। এখন পোস্টম্যান বা চিঠি বিলিকারী নামে চালু আছে।
- রানারের কাছে পৃথিবীটা কালো ধোঁয়া মনে হয় অভাবের তাড়নায়।
- সমাজ শ্রমজীবীদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য দিতে চায় না বলে রানারদের অভাব শেষ হবে না বর্ণিত আছে কবিতায়।
---------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২০ বছর ৯ মাসে যক্ষা রোগে মারা যান।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র (কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর রচিত হয়)।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫৫.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. রত্নাবলী
  2. পাষন্ডপীড়ন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ'। সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৮৫৬.
'নূরলদীনের সারাজীবন' নাটকের পটভূমি কী?
  1. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহ্বান-'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৮৫৭.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'কাঁদো নদী কাঁদো' চেতনাপ্রবাহরীতির উপন্যাসটি কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫১
  2. ১৯৬৮
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- ১৯৬৮ সালে  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়।
- তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়। 
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫৮.
'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমেদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. স্মৃতিকথা
  3. উপন্যাস 
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

----------------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮- আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৫৯.
কোনটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. জীবন আমার বােন
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'

 • মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

• জীবন আমার বোন উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৬০.
জীবনানন্দ দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) মাগুরা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

এছাড়া- ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৩,৮৬১.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমাচার চন্দ্রিকা
  2. বঙ্গদূত
  3. বেঙ্গল গেজেট
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিগদর্শন।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগদর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমাচার দর্পণ সাময়িকী।
- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য এর প্রকাশনায় প্রকাশিত বেঙ্গল গেজেট হলো কোন বাঙালির উদ্যোগে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
- ঢাকা প্রকাশ হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।

অন্যদিকে, 
• ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

• ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮২২ সালের ৫ মার্চ 'সমাচার চন্দ্রিকা' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
• রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

-----------------------
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:

- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৬২.
"মোটর যোগে রাঁচী সফর" - ভ্রমণকাহিনির লেখক কে?
  1. আন্নদাশঙ্কর রায়
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ইবরাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা

• এস ওয়াজেদ আলি রচিত ভ্রমণকাহিনি 'মোটর যোগে রাঁচী সফর'।
- ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে রাঁচী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে।

• এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
• প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

• ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- পথে প্রবাসে আন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৬৩.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. একাত্তরের যীশু
  3. খেলাঘর
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
• 'খেলাঘর' উপন্যাস:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মাহমুদুল হক লিখিত উপন্যাস 'খেলাঘর'। 
উপন্যাসটি তিনটি চরিত্রের মধ্যে রেহানা আক্রান্ত, স্কুলমাস্টার মুকুল প্রতিরোধ গড়ছে আর তারই বন্ধু কলেজ-শিক্ষক ইয়াকুব দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

উপন্যাসে মুকুল চরিত্রটি খুব স্পষ্ট। তার চোখ ভরা স্বপ্ন, বুক ভরা সাহস, দেশ স্বাধীন হবেই, গেরিলারা পাক-সেনাদের পরাজিত করবেই। ইয়াকুব চরিত্রটি শুধু দ্বিধাগ্রস্তই নয় অস্পষ্টও। তার দেশপ্রেম আছে অথচ মনে করে- 'এই পরিস্থিতি চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া আর কীইবা করার আছে। এক পর্যায়ে তাকে পরিত্যাক্ত এক বাড়ি, আদিনাথের ভিটাকে নির্দেশ করে বেশ দার্শনিকের মতো কথা বলতে শোনা যায়; "কেন যে মানুষ জায়গা-জমি করে, এখন এখানে বাতি জ্বালাবার কেউ নেই, ক'দিনেরই বা সব।"

আর পুরো উপন্যাসজুড়ে রেহানা চরিত্রটি দুর্বোধ্য, তার আচরণ দেখে ইয়াকুবের পাশাপাশি পাঠকও বুঝে উঠতে পারে না, সে মাঝে মাঝেই অযৌক্তিক আচরণ কেন করে। অবশ্য উপন্যাসের একেবারে শেষের দিকে তার কার্যকারণসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।

--------------
অন্যদিকে,
• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• 'একাত্তরের যীশু' নামের গল্পটি প্রথম ছাপা হয় ১৯৭৩ সালে দৈনিক বাংলা পত্রিকায়। তারপর বাংলা একাডেমির একটা সংকলনে সবশেষ বইয়ে ছাপা হয়েছে ১৯৮৫ সালে। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি শান্ত-সুনিবিড় জনপদকে ঘিরে রচিত হয়েছে 'একাত্তরের যিশু'।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘নরকে লাল গোলাপ’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং'খেলাঘর' উপন্যাস।
৩,৮৬৪.
‘কঙ্কাবতী’ কাব্যগ্রন্থের প্রধান বিষয়-
  1. ক) বিরহ
  2. খ) যুদ্ধ
  3. গ) প্রেম
  4. ঘ) সামাজিক কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
• ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

------------
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৬৫.
'নামহীন গোত্রহীন' গ্রন্থের লেখক-
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শাহেদ আলী
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে
গল্পগ্রন্থঃ
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উপন্যাসঃ
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৮৬৬.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. গুলে বকাওলী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. পদুমাবৎ
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ইউরোপীয় ভারততত্ত্ববিদ। ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে তাঁর জন্ম।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
-  ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে এ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর মৈথিলী ভাষার ব্যাকরণ An Introduction of the Maithili Language of North India এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা।
- এ ছাড়া ১৮৮৩-৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গ্রিয়ারসন রচিত বিহারের সাতটি উপভাষার ব্যাকরণ Seven Grammars of the Dialects and Subdialects of Bihari Language আট খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৬৭.
'দাঙ্গা' গল্পটির লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
- সোমেন চন্দ নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- সোমেন চন্দের ছদ্মনাম, 'ইন্দ্রকুমার সোম।'
- তাঁর রচিত গল্প- ইঁদুর, দাঙ্গা, সংকেত, স্বপ্ন, বনস্পতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৬৮.
"মেঘনাদবধ কাব্য" কত সালে প্রকাশিত হয় ?
  1. ক) ১৮৫০ সালে
  2. খ) ১৮৫৩ সালে
  3. গ) ১৮৬১ সালে
  4. ঘ) ১৮৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য। মেঘনাদবধ কাব্য ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
মেঘনাদবধ কাব্য মধুসূদনের অসাধারণ আবেগঘন, উচ্ছ্বাসপূর্ণ, রসোজ্জ্বল, মননশীল এবং শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী ব্যক্তিত্বের অনুকরণীয় প্রতিফলন।
মেঘনাথ বধ কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো :--
- রাবণ
- মেঘনাদ
- লক্ষণ
- রাম
- প্রমীলা
- বিভীষণ
- সীতা
- সরমা
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৩,৮৬৯.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র কোনটি?
  1. সিকদার
  2. আরেফিন
  3. তিশনা
  4. সেলিনা
ব্যাখ্যা
• কাশবনের কন্যা:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭০.
'ইছামতী' উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা
  2. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  3. প্রেম ও পারিবারিক সম্পর্ক
  4. দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
'ইছামতী' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু লেখকের নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা মানুষ।
- একান্ত অন্তরঙ্গ ভাবমূর্তিতে এদেরকে তিনি গড়ে তুলেছেন। গয়া মেম অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র। রাজারাম দেওয়ান পরম সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ, কিন্তু ইংরেজের চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হতে ছলচাতুরি ও জোচ্চুরি করেছে।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- বিপিনের সংসার,
- চাঁদের পাহাড়,
- দম্পতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়িা।
৩,৮৭১.
'আশাকানন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) দাউদ হায়দার
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্য- চিন্তা তরঙ্গিনী, আশাকানন, দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৮৭২.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন রচিত নাটক-
  1. আলোছায়া
  2. রূপলেখা
  3. নয়া খান্দান
  4. নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী। নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- নৃপেন বোস,
- সুলতা,
- অসীম,
- অমল বাবু,
- ইয়াকুব ইত্যাদি।

----------------
নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭৩.
'বই কেনা' রচনাটি সৈয়দ মুজতবা আলীর কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. ময়ূরকণ্ঠী
  4. শবনম
ব্যাখ্যা
পঞ্চতন্ত্র:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
- গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭৪.
আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার প্রথম কবি কে?
  1. সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার
  2. দিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’। তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭৫.
‘লোক লোকান্তর’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) নির্মেলেন্দু গুণ
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম ‘মীর আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ’।
• আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি বাংলাদেশের অন্যতম কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর
- কালের কলস
- সোনালী কাবিন
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
-দোয়েল ও দয়িতা
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন
- একটি পাখি লেজ ঝোলা
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৭৬.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, হোমশিখা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌
- অনুবাদকাব্য- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল, মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮৭৭.
“একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই অমর পঙ্ক্তির রচয়িতা -
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আবুল ফজল
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• “একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই অমর পঙ্‌ক্তির রচয়িতা হচ্ছেন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল।

-----------------
• আবুল ফজল:
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথা সাহিত্যিক ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- কর্মজীবনে আবুল ফজল শিক্ষকতা করেছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজে। তিনি যখন চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তখন দেশজুড়ে বইছিল ভাষা আন্দোলনের হাওয়া। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রামে আবুল ফজলের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য।

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উক্তি 'একুশ মানে মাথা নত না করা' তো চিরকালই প্রেরণা জুগিয়েছে বাঙালিকে।
- ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার যখন রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিল তখন তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন আবুল ফজল। বলেছিলেন, 'রবীন্দ্রনাথকে মুছে দেওয়ার মতো সামর্থ্য পাকিস্তান কেন, সমগ্র ভূমণ্ডলেরও নেই।''
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহ হলো:
• রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ বিষয়ক প্রবন্ধ: একুশ মানে মাথা নত না করা।

• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া ও The Daily Star Bangla।
৩,৮৭৮.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম কি?
  1. ক) ভাটির গান
  2. খ) অফতাব সঙ্গীত
  3. গ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
  4. ঘ) গীতরত্ন
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
• তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' তাঁর গানের সংকলন।
• তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশোটি।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ।
৩,৮৭৯.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. বৃত্রসংহার
  2. কুরুক্ষেত্র 
  3. রৈবতক 
  4. প্রভাস 
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য:
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
- মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

অন্যদিকে, 
• নবীনচন্দ্র সেন রচিত ত্রয়ী মহাকাব্য: রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৮০.
'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'হাসান আজিজুল হক' 

'আগুন পাখি' উপন্যাস
- ‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে
গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
 - মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- আত্নজা ও একটি করবী গাছ।
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন
- রোদে যাবো
- আমরা অপেক্ষা করছি
- পাতালে হাসপাতালে।
- “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
- তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন।
- শিউলি।
- আগুন পাখি।
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৮১.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বিদ্রোহ
  2. মালতী
  3. দীপনির্বাণ
  4. বিচিত্রা
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক হলেন স্বর্ণকুমারী দেবী।
- তিনি মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন দীর্ঘ ত্রিশ বছর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভগ্নী এবং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা হলেন স্বর্ণকুমারী দেবী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’।

• উপন্যাসসমূহ:
- দীপনির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

• নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৮২.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী : একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
তাঁর প্রকাশিত বিশেষ কাব্যগ্রন্থ:
- 'খসড়া' (১৯৩৮);
- 'এক মুঠো'(১৯৩৯); 
- ‘মাটির দেয়াল’ (১৯৪২);
- 'অভিজ্ঞান বসন্ত' (১৯৫০),
- ‘অনিঃশেষ’ (১৯৭৬)ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

 
৩,৮৮৩.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের চরিত্র নয়-
  1. ক) নজীবউদ্দৌলা
  2. খ) হিরন বালা
  3. গ) জুলেখা
  4. ঘ) ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৮৪.
'বুকের ভিতর আগুন' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দাউদ হায়দার
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি, 
- অন্যজীবন, 
- বুকের ভিতর আগুন
- নাটকের অবসান, 
- নিঃসঙ্গ পাইন, 
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৮৫.
'তীর্থসলিল' সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কোন ধরণের রচনা? 
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. অনুবাদকাব্য
  4. ছড়া
ব্যাখ্যা

'তীর্থসলিল' সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি অনুবাদকাব্য। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন কবি ও ছান্দসিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি ব্যবহার করে নতুন ছন্দ সৃষ্টিই তাঁর কবিপ্রতিভার মূল কীর্তি।
- এজন্য তাঁকে সাধারণভাবে 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দের রাজা' নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তাঁর ছন্দ সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ছন্দ-সরস্বতী প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুতে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যেন-প্রয়াণ কবিতা রচনা করেন।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থসলিল,
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম। 

৩,৮৮৬.
আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে লেখা হয়েছে?
  1. দেশভাগ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ওঙ্কার:
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- 'ওঙ্কার' উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৮৭.
'সাজাহান' নাটকের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
  2. তুলসী লাহিড়ি
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' এর রচয়িতা- 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'।
- এটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক।

• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সুরকার ও গীতিকার।
- তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর দুই অগ্রজ রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলালও সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর কাব্য 'আর্য্যগাথা' এবং বিলেতে থাকাকালে কাব্য 'Lyrics of Ind' প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণজাগরণমূলক গান রচনায় তাঁর অবদান ছিল।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।
- কল্কি অবতার।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই।
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৮৮.
বাংলাদেশের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক কে রচনা করেছেন?
  1. আসকার ইবনে শাইখ
  2. মুনির চৌধুরী
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি রচনা করেছেন সিকানদার আবু জাফর। এটি একটি ঐতিহাসিক ও করুণরসাত্মক নাটক, যা পলাশীর যুদ্ধের পটভূমিতে এবং বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- এক অপরিসীম যন্ত্রনাদগ্ধ পরিণতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে রচনাটি। ট্রাজেডি সদৃশ বেদনা বহতা এই নাটকে বিদ্যমান।
- নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞা একইভাবে ট্র্যাজিডির শিল্পমানকে স্পর্শ করেছে।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফর এর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বন্ধ সিকান্দার
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
• উপন্যাস:
- পূরবী,
- নতুন সকাল। 

• ছোটগল্প:
- মাটি আর অশ্রু,
- কবিতা প্রসন্ন শহর,
- তিমিরাস্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন,
- বাংলা ছাড়ো। 

• নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাউল।

• আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৮৯.
‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ কবি আল মাহমুদের কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'বখতিয়ারের ঘোড়া' কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- বখতিয়ারের ঘোড়া - নামে একটা নাম কবিতা রয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- কালো চোখের কাসিদা, নারী, চেতনাবিন্দু, গিফারীর শেষ দিন।
-------------------
• আল মাহমুদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৯০.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল ভাবনা কী? 
  1. ধর্মীয় শিক্ষায় অনুৎসাহিত করা
  2. ধর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো
  3. ধর্মীয় সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা
  4. কুসংস্কারকে প্রাধান্য দেয়া 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল ভাবনা হচ্ছে- ধর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো।
------------------------------------------------
• 'লালসালু':
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস।
- 'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয় এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক, যে এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে  তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
-------------------------------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৯১.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থটি কোন স্থানে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল?
  1. কান্দাহার
  2. কুন্দুজ
  3. কাবুল
  4. বাগরাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯২.
"যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।" পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা -
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলপঠিত, শ্রুত ও উদ্ধৃত কবিতাটি লিখেছেন লেখক ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২)।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে গঙ্গা থেকে 'বুড়িগঙ্গা' নামে কাব্যসংকলনে এ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন শিশির ভট্টাচার্য এবং অন্যদিন, ৫৮/১২৮ লেক গার্ডেনস, কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

এতে কবিতাটি ছিল নিম্নরূপে:
যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।

উৎস: দৈনিক সমকাল।
৩,৮৯৩.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. গভর্নমেন্ট গেজেট
  4. বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয়- বেঙ্গল গেজেট। 
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

--------------------
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:

- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৪.
'একটি কালো মেয়ের কথা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মাহমুদুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।

- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে:
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সবা থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৯৫.
'অপরাজিত' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'অপরাজিত' উপন্যাস
- 'অপরাজিত' (১৯৩১) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' এর পরিপূরক কথাশিল্প।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় মাসিক 'প্রবাসী' তে।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোর সারথি'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অপু, 
- অপর্ণা,
- লীলা,
- কাজল প্রমুখ। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অপরাজিত, 
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- আরণ্যক,  
- আদর্শ হিন্দু হােটেল,  
- দেবযান 
- ইছামতী, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৬.
'কোকিলারা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মুতী
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন অভিনেতা, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। তাঁর রচিত নাটক- সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, এবার ধরা দাও, শপথ, নিয়তির পরিহাস’, বিন্দু বিন্দু রং, সেনাপতি, অরক্ষিত মতিঝিল, ক্রসরোড ক্রস ফায়ার, আয়নায় বন্ধুর মুখ, এখনও ক্রীতদাস, শাহজাদীর কালো নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, আমাদের সন্তানেরা, ঋতুরাজ, কোকিলারা, মাইক মাস্টার, মেরাজ ফকিরের মা, মেহেরজান আরেকবার। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৮৯৭.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নতুন সকাল
  2. জয়ের পথে
  3. পূরবী
  4. অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- নতুন সকাল ইত্যাদি‌।

তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজউদ্দৌলা,
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- মহাকবি আলাউল,
- মাকড়সা।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৮.
প্রথম কোন বাঙালি বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ। এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়।
-  প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।

- গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচিত হয় তৎকালীন স্কুল-বুক সোসাইটির অভিপ্রায়ে এবং ছাত্রদের পাঠোপযোগী করে। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি। মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৯.
'রেইনকোট' ছোটগল্প গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. আহমদ ছফা
  2. এম আর আখতার মুকুল
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।
• তাঁর রচিত ছোটগল্প-
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৯০০.
'এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি-
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি৷'
- কোন কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. ক) কুলি
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) দুই বিঘা জমি
  4. ঘ) বীরপুরুষ
ব্যাখ্যা

"এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি-
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।"
পংক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
এই কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণি সাহিত্য কণিকা।