বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৩৭ / ৭৭ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ৭,৬৪৬

৩,৬০১.
ভিখু ও পাচি কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) সরীসৃপ
  2. খ) চোর
  3. গ) প্রাগৈতিহাসিক
  4. ঘ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গল্প প্রাগৈতিহাসিক গল্পটি প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থের নাম গল্প।
- এখানে ভিক্ষুক ভিখু ও পাচির চরিত্রের মধ্য দিয়ে মানুষের আদিম প্রবৃত্তিকে তুলে ধরা হয়েছে।
৩,৬০২.
'বনস্পতি' গল্পের রচয়িতা-
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) শহীদ কাদরী
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

- সোমেন চন্দ নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তাঁর রচিত গল্প- ইঁদুর, দাঙ্গা, সংকেত, স্বপ্ন, বনস্পতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬০৩.
‘ফুড কনফারেন্স` আবুল মনসুর আহমেদ কোন ধরনের গ্রন্থ ? 
  1. ক) স্মৃতিকথা
  2. খ) ব্যঙ্গরচনা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ভ্রমনকাহিনী 
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমেদ (৩ সেপ্টেম্বর ১৮৯৮ – ১৮ মার্চ ১৯৭৯) একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
• তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা। 

⇒ ব্যঙ্গরচনা
আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭)
ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)
গালিভারের সফরনামা
স্মৃতিকথা
আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯)
শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

⇒ অন্যান্য রচনা 
জীবনক্ষুধা (১৯৫৫)
আবে হায়াত (১৯৬৮)
হুযুর কেবলা (১৯৩৫)
বাংলাদেশের কালচার (১৯৬৬)
আসমানী পর্দা (১৯৬৪)


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬০৪.
'তিন পুরুষ' - কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. সমর সেন
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা, 
- খোলাচিঠি, 
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  
২. বাংলাপিডিয়া।

৩,৬০৫.
ধুসরতার কবি বলা হয় কাকে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়। ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহঃ
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের বনলতা সেন  কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬০৬.
"একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হব!" - পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) আঠারো বছর বয়স
  2. খ) রানার
  3. গ) ছাড়পত্র
  4. ঘ) প্রার্থী
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'প্রার্থী' কবিতার অংশ। 
কবিতায় বলা হয়েছে- 
"হে সূর্য
তুমি আমাদের উত্তাপ দিও
শুনেছি, তুমি এক জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড,
তোমার কাছে উত্তাপ পেয়ে পেয়ে
একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে
পরিণত হব!" 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: প্রার্থী, সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০৭.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. খেলারাম খেলে যা
  2. সীমানা ছাড়িয়ে
  3. পরানের গহীন ভিতর
  4. নীল দংশন
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 - 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০৮.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস?
  1. উত্তরফাল্গুনী
  2. হাওয়া বদল
  3. রেখাচিত্র
  4. একদা তুমি প্রিয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ উপন্যাস:
- ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।
- পলাশ ও রেবার মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারই স্মৃতি ধরে উভয়ের মনে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। রেবা নতুনভাবে প্রেমের অভিষেক করতে চায় কিন্তু পলাশ বুঝতে পারে তা সম্ভবপর নয়। এরকম একটি কাহিনি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু রচিত এই উপন্যাসটি।

⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০৯.
বদরুদ্দীন ওমর রচনা করেছেন-
  1. সংস্কৃতি কথা
  2. সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  3. সংস্কৃতির সংকট
  4. সভ্যতার সংকট
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন ওমর রচিত গ্রন্থ।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট,
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ইত্যাদি।

• 'সংস্কৃতি' নামে কিছু গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা - ড. আহমদ শরীফ। 
- সংস্কৃতি কথা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই - শওকত ওসমান। 
- সংস্কৃতির রুপান্তর-  গোপাল হালদার। 
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- সভ্যতার সংকট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১০.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. পানকৌড়ির রক্ত
  2. উপমহাদেশ
  3. কালের কলস
  4. বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• 'পানকৌড়ির রক্ত' আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ।

• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১১.
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. লালন শাহ
  3. সঞ্জীব চৌধুরী
  4. হাসন রাজা
ব্যাখ্যা
- 'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক শাহ আবদুল করিম। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। 

শাহ আবদুল করিম:
- লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে। 
- প্রথম জীবনে তিনি বাউল, ভক্তিমূলক, জারি, সারি, রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পালাগান গেয়েছেন।
- কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি গণসঙ্গীত রচনা ও পরিবেশনে খ্যাতি অর্জন করেন।
- সঙ্গীতজীবনের একদিকে তিনি ছিলেন গণচেতনার সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক, অন্যদিকে ছিলেন বাউল-আঙ্গিকের সঙ্গীতশিল্পী। 
- ১৯৫৪ সালে শাহ আবদুল করিম প্রণীত গণসঙ্গীত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
 
তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গানের সংকলন হলো:
- কালনীর ঢেউ,
- ভাটির চিঠি,
- ধলমেলা,
- কালনীর কূলে।
 
তাঁর লেখা ও সুর করা কয়েকটি গান নিম্নরূপ- 
- বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে
- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
- গাড়ি চলে না
- রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না
- আমি কূলহারা কলঙ্কিনী
- কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
- কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু
- আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু
- গান গাই আমার মনরে বুঝাই প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১২.
বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয় কাকে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা ভাষার একজন প্রধান আধুনিক কবি।
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়।

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে -
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৩.
A Code of Gentoo Laws কে রচনা করেন?
  1. ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ব্রাশি হ্যালহ্যাড
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড,(১৭৫১-১৮৩০) প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
> তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন। এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
> তিনি শেরিডনের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় The Love Epistles of Aristaenetus শীর্ষক গ্রন্থটি গ্রিক ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে বেশ খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেন।
> হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gentoo Laws, or Ordinations of the Pundits। গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন। পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। 
> তাঁর A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থ প্রকাশের পর হ্যালহেড লন্ডনে ফিরে যান ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩,৬১৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত বাংলা ভাষা বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিহাস'
  2. 'বাঙ্গলা সাহিত্যের ইতিহাস'
  3. 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত'
  4. 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত'
ব্যাখ্যা
• 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
- গ্রন্থটি বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও ইতিহাস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
'বাঙ্গলা সাহিত্যের ইতিহাস' - এটি সুকুমার সেনের গ্রন্থ।
'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' - এটি মুহম্মদ আবদুল হাইর গ্রন্থ।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৫.
'বায়ান্নোর জবানবন্দী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. আকবর আলী খান
  4. এম. আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
• 'বায়ান্নোর জবানবন্দী' গ্রন্থের রচয়িতা - এম. আর আখতার মুকুল। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।

এম. আর আখতার মুকুল:

- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রূপালী বাতাস,
- রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১৬.
আব্দুল্লাহ আল মুতী কত সালে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার  লাভ করেন? 
  1. ক) ১৯৮৩
  2. খ) ১৯৭৩
  3. গ) ১৯৬৩
  4. ঘ) ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন (১ জানুয়ারি ১৯৩০ - ৩০ নভেম্বর ১৯৯৮) বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ, –বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
- তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত।
- বিজ্ঞান জনপ্রিয়করার জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার (১৯৮৩)।


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১৭.
'দেশে বিদেশে' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী। এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- এটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৮.
নিচের কোনটি আবুল মনসুর আহমদের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ফুড কনফারেন্স
  2. খ) জীবনক্ষুধা
  3. গ) আসমানী পর্দা
  4. ঘ) আয়না
ব্যাখ্যা
সত্য মিথ্যা, জীবনক্ষুধা, আবে হায়াত আবুল মনসুর আহমদের উপন্যাস। আয়না, ফুড কনফারেন্স ও আসমানী পর্দা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৬১৯.
'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. আহমদ ছফা
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. হাসান হাফিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'আহমদ ছফা'। 

• 'ওঙ্কার' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
-------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।
- ছফার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও বাঙালি মুসলমানের মন-এ।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,৬২০.
মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রহসন
  2. কারা- সাহিত্য
  3. রম্যরচনা
  4. জীবনীসাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' কে কারা- সাহিত্য বলা হয়। 

• কারা- সাহিত্য:
- কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় রচিত সাহিত্য 'কারা- সাহিত্য' হিসেবে স্বীকৃত।
- তবে কারাগার থেকে বাইরে গিয়েও এ ধরনের লেখা হতে পারে।
- রচয়িতার জেলে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- কারাগারের সংকীর্ণ জীবনের বাইরে কল্পনার বিস্তার ঘটাবেন সত্য কিন্তু কারাজীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ থাকবে তার রচনায়।
- অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন কারাসাহিত্য লিখেছেন তেমনি অনেক শিল্পী ও সাহিত্যিক কারা সাহিত্য রচনা করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম জেলে বসে লেখেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী, সত্যেন সেন লেখেন 'অভিশপ্ত নগরী' ও পাপের সন্তান';
- মুনীর চৌধুরীর 'কবর' কারা সাহিত্য হিসেবে গণ্য।
- শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বা 'কারাগারের রোজনামচা', মতিয়া চৌধুরীর 'দেয়াল দিয়ে ঘেরা' ইত্যাদিও এ ধারার গ্রন্থ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,৬২১.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ কার লেখা?
  1. ক) এস. ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আবুল হাসেম
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ
- এটি একটি আত্মজীবনী মূলক বই।
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।

তার অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
আত্মজীবনী: – আত্মকথা।
শিশু সাহিত্যে:- মুসলমানী কথা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া, গালিভারের সফরনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২২.
'কালের কলস' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'কালের কলস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা: 'আল মাহমুদ'। 

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬২৩.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা- 'গোবিন্দচন্দ্র দাস'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।
এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২৪.
আবদুল্লাহ গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নাম না জানা ভোর
  2. খ) দিলরুবা
  3. গ) কলকাতা
  4. ঘ) উত্তর বসন্ত
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস হলোঃ ‘নাম না জানা ভোর’ (১৯৬২) এতে ভাগ্যান্বেষী এক গ্রাম্য যুবকের শহুরে উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে উত্তরণের ইতিকথা বর্ণিত হয়েছে। ‘ দিলরুবা’ ও ‘ উত্তর বসন্ত’ হলো আবদুল কাদির রচিত কাব্য। ‘কলকাতা’ হলো আবদুল মান্নান সৈয়দ এর উপন্যাস। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,৬২৫.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ- ভবিষ্যতের বাঙালি, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, জীবনের শিল্প ইত্যাদি।  
৩,৬২৬.
কোনটি রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ফেরারী সূর্য
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. দ্রৌপদী
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
⇒ 'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
• রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত। 
• ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাস বিষয়ে রাজিয়া খান বলেন: আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

⇒ রাজিয়া খান:
• রাজিয়া খান ১৯৩৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
• রাজিয়া খান এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর কর্মজীবনের শুরু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। 
• পরবর্তীতে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে তিনি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীতে যোগ দেন এবং নিয়মিত ভাবে ব্যঙ্গ কলাম- 'কালচার কেটল' লেখা শুরু করেন। 
• পঞ্চাশ দশকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুরাগী ও প্রগতিবাদী লেখিকা হিসেবে লেখালেখি করেছেন রাজিয়া খান। বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীভাবমূর্তি সৃষ্টিতে নারী লেখকদের মধ্যে তাই আকিমুন রহমান তাকে প্রথম দিককার একজন মনে করেন।
• আর ১৫ বছর বয়সেই পুরোদস্তুর উপন্যাস লিখতে শুরু করেন তিনি, আর ১৮ বছর বয়সেই লেখা হয়ে যায় ‘বট তলার উপন্যাস’। ১৮ বছর বয়সে তাঁর লেখা 'বটতলার উপন্যাস' জনপ্রিয়তা পায়।
•  তিনি খুব বেশি লিখে গিয়েছেন তেমন নয়, কিন্তু যা লিখে গেছেন তাতে জটিলায়তন নগরজীবন-অন্তর্গত ব্যক্তিমানুষের নৈঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মরক্তক্ষরণের শিল্পরূপায়ন করেছেন।

অন্যদিকে,
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।
- ‘ফেরারী সূর্য’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস রাজিয়া খান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬২৭.
’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন কে?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ হামজা
  4. ঘ) রেজাউদৌলা
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,৬২৮.
’পথের পাঁচালী’ উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. বঙ্গদর্শন 
  2. দিকদর্শন 
  3. বিচিত্রা
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২৯.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছায়া হরিণ
  2. সারা দুপুর
  3. রাত্রিশেষে
  4. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।  
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।   

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত), 
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, 
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর, 
- ছায়া হরিণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৩০.
নিচের কোনটি নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী?
  1. ক) আমার জীবন
  2. খ) প্রভাস
  3. গ) রৈবতক
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'আমার জীবন' নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী। 

• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• রৈবতক (১৮৮৭), কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩) ও প্রভাস (১৮৯৬) কাব্যত্রয়ী নবীনচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদ্গীতা ও চন্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩১.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক -
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. লালসালু
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. প্রসন্ন পাষাণ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক - তরঙ্গভঙ্গ।

‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক (১৯৬৬):
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
-  এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে - বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে  সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।
- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ  সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উল্লেখ্য,
প্রসন্ন পাষাণ - রশীদ করীম রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩২.
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডবের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন-
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপান্ডব বলে পরিচিত কবিরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে গিয়ে কবিতা রচনা করেছিলেন।
এই পাঁচজন কবি হচ্ছেন -
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- জীবনানন্দ দাস,
- বিষ্ণু দে এবং
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

তারা সবাই কল্লোল পত্রিকায় লিখতেন। এই পঞ্চপান্ডবেরাই আধুনিক বাংলা কবিতার সূচনা করেছিলেন। শুধু রবীন্দ্রবলয়ের কথা বললে তাদেরকে খাটো করে দেখা হবে, মৌলিকত্ব এবং মানে তাদের রচনা সত্যিই অসাধারণ ছিলো।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩৩.
"গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা" - প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. সুফী মোতাহার হোসেন
  2. মুহাম্মদ এনামুল হক
  3. সেলিনা হোসেন 
  4. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' গ্রন্থটির রচয়িতা- মুহাম্মদ এনামুল হক। 
------------------------- 
• মুহম্মদ এনামুল হক: 
- ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।  
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন। 
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্ত্ত ছিল ‘History of Sufism in Bengal’। 
- বাংলা একাডেমী তাঁর নামে ‘মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক’ প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।
-----------
'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা':
- তার বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।
- 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক। 
- মুহম্মদ এনামুল হকের 'গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা' একটি বিখ্যাত বাংলা প্রবন্ধ যা বুলগেরিয়ার গ্যাব্রোভো শহরের মানুষের কৃপণতা ও তাদের নিয়ে প্রচলিত মজার মজার কৌতুক এবং জীবনযাত্রার বর্ণনা দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৩৪.
'ছায়াময়ী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'ছায়াময়ী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- ১৮৫৯ সালে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি বিএ পাস করেন।
- ১৮৬১ সালে তিনি এলএল এবং ১৮৬৬ সালে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ চিন্তাতরঙ্গিণী ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে বৃত্রসংহার (২ খন্ড, ১৮৭৫-৭) মহাকাব্য।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী
- বীরবাহু 
- আশাকানন 
- ছায়াময়ী 
- দশমহাবিদ্যা 
- নলিনী বসন্ত
- রোমিও-জুলিয়েট
- চিত্তবিকাশ ইত্যাদি।
খণ্ডকবিতা:
- জীবনসঙ্গীত
- গঙ্গার উৎপত্তি
- পদ্মের মৃণাল
- ভারতকাহিনী
- অশোকতরু প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩৫.
সংশপ্তক উপন্যাসটির কে রচনা করেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. মাহমুদুল হক
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ বাজি রেখে যুদ্ধে লড়াই করে।
- জাহেদ আমাদের সেই সংশপ্তক যে মৃত্যুর আগেও লড়াই চালিয়ে যাবে।
- সংশপ্তক' উপন্যাস বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বাস্তবতার এক প্রামাণ্য দলিল।
- হিন্দু-মুসলিমের সহঅবস্থানে অসাম্প্রদায়িক জীবনবােধ উপন্যাসের অন্যতম অসাধারণ বিষয়।
- এই উপন্যাস দেশ, জাতি, মানুষ বাঁচানোর সংগ্রাম শুধু নয়, মানবিক চেতনাবোধ, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজে গঠনের আবেদন ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জানান দিয়েছেন লেখক ।
- সংশপ্তক কোনো উপন্যাস নয়, সংশপ্তক লেখকের রেখে যাওয়া বাঙালির ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য চিঠি। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জাহেদ, হুরমতি, লেকু, রমজান, রাবেয়া খাতুন (রাবু), সেকেন্দার, মালু, রামদয়াল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'সংশপ্তক' উপন্যাস।
৩,৬৩৬.
নিচের কোনটি ভ্রমণ কাহিনী?
  1. ক) প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  2. খ) পশ্চিম ভারত
  3. গ) আকবরের রাষ্ট্র সাধনা
  4. ঘ) মাশুকের দরবার
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।
গল্প-
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৩,৬৩৭.
জীবনানন্দ দাশ রচিত ''মৃত্যুর আগে'' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) বনলতা সেন
  2. খ) ধূসর পান্ডুলিপি
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) বেলা অবেলা কালবেলা
  5. ঙ) সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
কবি জীবনান্দ দাশ রচিত ''মৃত্যুর আগে কবিতাটি'' ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যের অন্তর্গত। এটির সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস রচিত কবিতাটির The falling of the Leaves মিল রয়েছে। তার বিখ্যাত বনলতা সেন ও আবার আসিব ফিরে কবিতা দুটি যথাক্রমে বনলতা সেন ও রূপসী বাংলা কাব্যের অন্তর্গত।(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৩,৬৩৮.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ক) ওরা এগারো জন
  2. খ) বসুন্ধরা
  3. গ) একাত্তরের যীশু
  4. ঘ) আবার তোরা মানুষ হ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'।
- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'বসুন্ধরা' 
- ১৯৭৭ সালে এটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কায় পায়। 

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
- কর্ণফুলী
- ক্ষুধা ও আশা
- খসড়া কাগজ
- স্বপ্নশিলা
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৩৯.
কোন সাহিত্যিক 'মৈনাক' ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন?
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার রায়
  3. সমরেশ বসু
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'মৈনাক' হচ্ছে কবি শামসুর রাহমানের ছদ্মনাম।

- এছাড়াও তিনি 'নেপথ্যে', 'জনান্তিকে' প্রভৃতি ছদ্মনামে কবিতা লিখেছেন। 
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। 
- তার ডাক নাম ছিল বাচ্চু।
------------------------------- 
• শামসুর রাহমান:
- মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪০.
অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা জামাল সাহেব কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. ক) রাইফেল রোটি আওরাত
  2. খ) নদী নিঃশেষিত হলে
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
• রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আনােয়ার পাশা যুদ্ধকালে যুদ্ধের ভয়াবহতা এই উপন্যাসে লিখেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা দেখতে পারেননি। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্থানিরা। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।
- রাইফেল রোটি আওরাত’ নামটিতেই উর্দুর গন্ধ। যদিও শব্দগুলো বাংলা ভাষায় পরিচিত তবুও লেখক এই তিনটি শব্দে বুঝিয়েছেন পাকিস্থানিদের হীন মানসিকতাকে।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল সাহেব, কমিউনিস্টকর্মী বুলা এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে: ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত প্রমুখ।


• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালোচক ও শিক্ষাবিদ।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৪১.
কোন কবিতাটি মার্কিন কবি 'Henry wadsworth Longfellow' এর 'A psalm of life' এর ভাবানুবাদ?
  1. ক) জীবন সঙ্গীত
  2. খ) হায় চিল
  3. গ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. ঘ) আমি কোন আগন্তুক নই
ব্যাখ্যা
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কবিতা 'জীবন সঙ্গীত' মার্কিন কবি 'Henry wadsworth Longfellow' এর 'A psalm of life' এর ভাবানুবাদ ।  

'জীবন সঙ্গীত'
--------------- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

 বলো না কাতর স্বরে, বৃথা জন্ম এ সংসারে
এ জীবন নিশার স্বপন,
দারা পুত্র পরিবার, তুমি কার কে তোমার
বলে জীব করো না ক্রন্দন;
মানব-জনম সার, এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
কর যত্ন হবে জয়, জীবাত্মা অনিত্য নয়
ওহে জীব কর আকিঞ্চন।
করো না সুখের আশ, পরো না দুখের ফাঁস,
জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,
সংসারে সংসারী সাজ, করো নিত্য নিজ কাজ,
ভবের উন্নতি যাতে হয় ।

তাছাড়া, 
• হায় চিল 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে। 
• জীবনানন্দ দাশের 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কবিতাটির সাথে W. B. Yeats এর 'The falling of the leaves's' কবিতার মিল রয়েছে। 
• আহসান হাবীবের একটি বিখ্যাত কবিতা 'আমি কোন আগন্তুক নই'।  

উৎস: 'জীবন সঙ্গীত' কবিতা- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়; মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২২ সংস্করণ)। 
৩,৬৪২.
পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন -
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্যর প্রথম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি- ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪৩.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম - ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব।

• ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত।
- তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন।
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
--------------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।
----------------------

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আরো কিছু গ্রন্থ:
• বাংলা সাহিত্যের কথা - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
• বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খণ্ড) - গোপাল হালদার।
• শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
• বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য - আহমদ শরীফ।
• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য - ড. দীনেশচন্দ্র সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৪৪.
‘চাচা কাহিনী’ এর লেখক কে?
  1. দিলারা হাশেম
  2. আবু জাফর শামসুদ্দিন
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৪৫.
'চাকা' গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. সেলিম আল দীন 
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ 
  3. সৈয়দ শামসুল হক 
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন 
ব্যাখ্যা
 • সেলিম আল দীন: 
- সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- তাঁর রচিত হরগজ নাটকটি সুইডিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল কর্তৃক হিন্দি ভাষায় মঞ্চস্থ হয়েছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- বাসন, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- প্রাচ্য, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা, 
- হরগজ, 
- একটি মারমা রূপকথা, 
- বনপাংশুল, 
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,৬৪৬.
'কাবিলের বোন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. মাহমুদুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৩,৬৪৭.
‘ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’- সংলাপটি কার রচনা?
  1. জহির রায়হান
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
• ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
-  এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে - বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার ও সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে। আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে, সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
 • গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৪৮.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. শামসুজ্জামান খান
  2. আহমদ শরীফ
  3. জামিল চৌধুরী
  4. নরেন বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক হলেন আহমদ শরীফ।

• অভিধান ও শব্দকোষ মিলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাংলা একাডেমি প্রায় সত্তরটি অভিধান প্রকাশ করে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাকৃতি পরিভাষাকোষ যেমন রয়েছে, তেমনি বহুখণ্ডে প্রকাশিত অভিধানও রয়েছে।

এসব অভিধানের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিধানের নাম:
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান — মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, 
- চরিতাভিধান — শামসুজ্জামান খান প্রমুখ,
- উচ্চারণ অভিধান — নরেন বিশ্বাস,
- সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান — আহমদ শরীফ,
- সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, দু-খণ্ড — আবু ইসহাক, ১৯৯৩ ও ১৯৯৮),
- বানান অভিধান — জামিল চৌধুরী,
- লেখক অভিধান — আশফাক-উল-আলম প্রমুখ,
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান — মোহাম্মদ আবদুল কাইউম প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৩,৬৪৯.
কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থের খণ্ড-
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
• তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
• তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
• 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
• এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে।
• এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
• মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খণ্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- বিরহ বিলাপ,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৬৫০.
'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

• 'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' গ্রন্থ:
- দীনেশচন্দ্র সেন 'সরল বাঙ্গালা সাহিত্য' রচনা করেছেন অল্পবয়স্ক ও সাধারণ পাঠকের কথা ভেবে। গল্পের ছলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস শেখানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
- এই রচনা তথ্য ভারাক্রান্ত নয়। অনবদ্য সরল ভঙ্গিতে রচিত এই প্রাঞ্জল সাহিত্য-ইতিহাস এক অর্থে বঙ্গদেশের সামাজিক ইতিহাসও।

------------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:

- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫১.
বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ কী জাতীয় গ্রন্থ?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম :
- চোর জামাই
- মৃগপরী
- ডাইনী বউ
- রুপকথা
- কুঁচবরণ কন্যা।

- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫২.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে?
  1. আরণ্যক
  2. চাঁদের পাহাড়
  3. ইছামতী
  4. পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
⇒ পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়।  গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

===============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৩.
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) ডাহুকী
  2. খ) সৌরভের কাছে পরাজিত
  3. গ) উপমহাদেশ
  4. ঘ) আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস নয়- 'সৌরভের কাছে পরাজিত' 
- এটি আল মাহমুদের একটি গল্পগ্রন্থ। 

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:  
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।


• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত, 
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৫৪.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আল মাহমুদ
  3. সুফিয়া কামাল
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
-------------------------- 
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৫.
‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমানের কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. উপন্যাস 
  4. গল্প 
ব্যাখ্যা

‘আরো দুটি মৃত্যু’ গল্প:
‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবিরোধী একটি গল্প। গল্পটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো সমানভাবে বিদ্যমান। এখনো সমাজ-রাষ্ট্র থেকে এই সংকট মুছে যায়নি। গল্পটি লেখা হয় ১৯৭০ সালে

• হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা নিয়ে এই গল্প বলা যেতে পারে। যেখানে গল্পের শুরুটা হয়েছে এভাবে- "নারায়ণগঞ্জ থেকে বাহাদুরাবাদগামী রাত্রির ট্রেনের যাত্রা দিয়ে।

• নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে একলোক ট্রেনে উঠে, তার চোখে মুখে আতংক। হিন্দু বলেই তার ভয় যেন বেশি। তার সাথে একজন গর্ভবতী স্ত্রীলোক যাত্রীও ছিল। লেখক রাতের ট্রেনের চমৎকার বিবরন দিয়েছেন। গল্পের শেষের দিকে দেখা গেলো, গর্ভবতী মহিলাটি নেই। তাকে বাথরুমে খুজেও পাওয়া গেলো না। হঠাৎ চারিদিকে চিৎকার। গর্ভবতী মহিলাটি ট্রেন থেকে পড়ে যায়। এবং মারা যায়। ট্রেনে কাটাপরা মহিলাটির পেটে বাচ্চা ছিলো। অর্থাৎ দুজন মারা যায়। এজন্যই লেখক হয়তো গল্পের নাম দিয়েছেন, 'আরো দুটি মৃত্যু'। মহিলাটি কি পা পিছলে পড়ে যায়, না আত্মহত্যা করে সে বিষয়টা লেখক পরিস্কার করেননি।

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ "একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের 'স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র' এর সম্পাদকও তিনি।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘আরো দুটি মৃত্যু’ গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫৬.
'ঘরে ফেরার দিন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী, একজন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।
- অমিয় চক্রবর্তীর  প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১),
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬),
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০),
- চলো যাই (১৯৬২),
- সাম্প্রতিক (১৯৬৩)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৩,৬৫৭.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনী?
  1. কালের শাসন
  2. দেশে বিদেশে
  3. জার্নাল ক্রীডো
  4. পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী।
দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচনা ভ্রমণকাহিনী।
জার্নাল ক্রীডো ও কালের শাসন অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৫৮.
‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত‘ গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মাহবুবুল আলম
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ — ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’।
- গ্রন্থটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ,
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়,
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন,
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬৫৯.
‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ বইটি কার লেখা?
  1. সুখওয়ান্ত সিং
  2. মেজর রফিকুল ইসলাম
  3. আর্চার কে ব্লাড
  4. মেজর সি আর দত্ত
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ‍মুক্তিযুদ্ধের উপর ‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ বইটি মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং রচিত। এটির পুরো নাম হলো ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার সিন্স ইন্ডিপেন্ডেন্স : দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ (১৯৯৮)।
- মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং ১৯৭১ সালে ভারতের সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে কর্মরত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো এবং আমাজন ডটকম)
৩,৬৬০.
'নীল দংশন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. কাব্যনাট্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'নীল দংশন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস।
- এটি  একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,

• সৈয়দ শামসুল হক:

- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৬১.
'নিরাশ্রয়ী গৃহী' প্রবন্ধ গবেষণাটি রচনা করেছেন-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ - গবেষণাঃ
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয়ী গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- ভয় পেয়ো না বেঁচে আছি।

গল্পঃ
- ভালো মানুষের জগৎ।

ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে উঠা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৬৬২.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি কত প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৭৮ সাল
  2. ১৭২০ সাল
  3. ১৭৬৯ সাল
  4. ১৭৮০ সাল
ব্যাখ্যা

'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
-  তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৬৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অস্তিত্ববাদী নাটক-
  1. তরঙ্গভঙ্গ
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. নয়নচারা
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা

 • ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক (১৯৬৬):
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে - বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।
- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে  সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।
- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ  সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬৬৪.
“আগুন পাখি” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• 'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন- হাসান আজিজুল হক।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- আত্নজা ও একটি করবী গাছ।
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন
- রোদে যাবো
- আমরা অপেক্ষা করছি
- পাতালে হাসপাতালে।
- “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
- তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন।
- শিউলি।
- আগুন পাখি।
- সাবিত্রী উপাখ্যান।
এছাড়া-
• “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
• তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৬৫.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. আরণ্যক
  2. দেবযান
  3. ইছামতী
  4. মেঘমল্লার
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- আরণ্যক,
- দেবযান,
- ইছামতী।

অন্যদিকে,
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প - মেঘমল্লার

• 'মেঘমল্লার':
- গ্রন্থটি রচনা করেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এটি তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৬৬.
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) পদ্মিনী উপাখ্যান
  4. ঘ) পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৮৭): 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরগুপ্তের  সংবাদ প্রভাকর-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।

- রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়/ দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।

- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৬৭.
বাংলাসাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনি কে লেখেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পালামৌ’ (১৮৮০) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- এখানে ছোটনাগপুরের বিশেষ অ লের বর্ণনা আছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৬৬৮.
নিচের কোনজন মহাকাব্য রচনা করেননি?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) রজনীকান্ত সেন
  4. ঘ) যোগীন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে প্রথম ও সার্থক মহাকব্যের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ১৮৬১ সালে তিনি মেঘনাদবধ মহাকাব্য রচনা করেন। কায়কোবাদ ১৯০৪ সালে মহাশ্মশান নামে মহাকাব্য লেখেন। যোগীন্দ্রনাথ বসু ১৯১৪ সালে পৃথ্বীরাজ নামে মহাকাব্য রচনা করেন। এছাড়া, ইসমাঈল হোসেন সিরাজী স্পেন বিজয় কাব্য, নবীনচন্দ্র সেনের রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস, হেমচন্দ্র সেনের বৃত্রসংহার, মুহাম্মদ হামিদ আলীর কাসেম বধ মহাকাব্য হিসেবে স্বীকৃত৷ রজনীকান্ত সেন গীতিকবি হিসেবে পরিচিত। তিনি মহাকাব্য রচনা করেননি। তার গীতিকাব্যের মধ্যে বাণী, কল্যাণী, অমৃত, আনন্দময়ী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৩,৬৬৯.

কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে
মানুষের শোভা পায়?- উল্লেখিত পঙক্তিগুলো কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) উত্তম ও অধম
  2. খ) মানুষ জাতি
  3. গ) মেথর
  4. ঘ) কোন দেশ
ব্যাখ্যা
উত্তম ও অধম  
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কুকুর আসিয়া এমন কামড়
দিল পথিকের পায়
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তাই।
ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়
জাগে শিয়রের আগে।
বাপেরে সে বলে র্ভৎসনা ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নাই দাতঁ?
কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
“তুই রে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের পায়ে
দংশি কেমন করে?”
কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে
মানুষের শোভা পায়?

-------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্য: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলো হলো:
- মেথর, মানুষ জাতি, কোন দেশ, ঝর্ণার গান, দূরের পাল্লা, খাঁটি সোনা, ফুলের ফসল।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৬৭০.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়-এর কোন নাটকে ছিল?
  1. ক) নূরজাহান
  2. খ) সাহাজান
  3. গ) চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) মেবার পতন
ব্যাখ্যা
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি 'সাজাহান' নাটকে ছিল।
নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
তাছাড়া তিনি- প্রতাপসিংহ, দুর্গাদাস, মেবার পতন, নূরজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয় ঐতিহাসিক নাটক রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড.  সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৭১.
'প্রেমের সমাধি' কার উপন্যাস?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
•  'প্রেমের সমাধি' উপন্যাস মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচনা করেছেন।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। 

• নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস;
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৭২.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুহম্মদ আবদুল হাই ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থটি সৈয়দ আলী আহসানের সহযোগে রচনা করেন ১৯৬৮ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৭৩.
'পল্লীসাহিত্য' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'পল্লীসাহিত্য' প্রবন্ধের রচয়িতা- 'ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌'। 

• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্: 
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।

• 'পল্লীসাহিত্য' প্রবন্ধ: 
১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কিশােরগঞ্জ জেলায় পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশনে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সভাপতিত্ব করেন।
- এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে তিনি যে অভিভাষণ দেন, তারই পুনর্লিখিত রূপ এই পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধটি।
- আলােচ্য প্রবন্ধে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলার পল্লিসাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক সম্পর্কে আলােচনা করেছেন।
- লেখক এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, একদিন এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলাদেশে ছিল, আজ উপযুক্ত গবেষক এবং আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্যোগ ও চেষ্টায় সেই সম্পদগুলাে সংগ্রহ করা নিতান্ত প্রয়ােজন।
- বাংলাদেশের লােকসংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য পল্লিসাহিত্যের বিচিত্র সম্পদ বিশেষ যত্নের সঙ্গে আহরণ করা একান্ত আবশ্যক।
- প্রবন্ধটি আবহমান কালের বাঙালি, বাংলাদেশ, লােকসাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি সকলকে সচেতন হতে উৎসাহিত করে।

• তার উল্লেখযোগ্য রচনা হলো: 
-ভাষা ও সাহিত্য, 
-বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, 
-দীওয়ানে হাফিজ, 
-রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম, 
-নবী করিম মুহাম্মাদ, 
-ইসলাম প্রসঙ্গ, 
-বিদ্যাপতি শতক, 
-বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড), 
-বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, 
-ব্যাকরণ পরিচয়, 
-বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, 
-মহররম শরীফ, 
-টেইল ফ্রম দি কুরআন, 
-Buddhist Mystic Songs (১৯৬০), 
-Hundred Sayings of the Holy Prophet, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ)। 
৩,৬৭৪.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে ধীবর সমাজের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। 'ধীবর' কাদেরকে বোঝায়?
  1. তাঁতি
  2. কুমার
  3. জেলে ও মৎসজীবী
  4. কৃষক
ব্যাখ্যা
• তিতাস একটি নদীর নাম:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী প্রমুখ।
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
৩,৬৭৫.
বাংলা ভাষার ‘শুদ্ধতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করা হয় কাকে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ‘শুদ্ধতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করা হয় জীবনানন্দ দাশকে।
এছাড়া, রূপসী বাংলার কবি’, ‘নির্জনতার কবি’, ‘তিমির হননের কবি’, ‘ধূসরতার কবি’ প্রভৃতি নামেও পরিচিত তিনি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৩,৬৭৬.
‘রেইনকোট’ গল্পটি কোন প্রকৃতির?
  1. মনস্তাত্ত্বিক
  2. দ্বান্দ্বিক
  3. রূপক
  4. প্রতীকী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প।
মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
উৎস : সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই।
৩,৬৭৭.
‘মানবতন্ত্র’ কার লেখা?
  1. ক) আবু রুশদ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘মানবতন্ত্র’তে মানুষের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
এখানে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের চেষ্টা আছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৬৭৮.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. কালিন্দী
  4. অভিযান
ব্যাখ্যা
একটি কালো মেয়ের কথা:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস একটি কালো মেয়ের কথা রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
• উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে :
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

• এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। 

অন্যদিকে,
- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'কালিন্দী’ নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- ‘অভিযান’ উপন্যাসে মফস্বল অঞ্চলের ট্যাকসি ড্রাইভারেদের জীবন চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

=========
⇒ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসগ্রন্থ।
৩,৬৭৯.
'প্রভাতফেরির মিছিল যাবে/ ছড়াও ফুলের বন্যা,/ বিষাদগীতি গাইছে পথে/ তিতুমীরের কন্যা।' - কার লেখা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আহসান হাবীব
  4. আবদুল গাফ্‌ফার  চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ‘প্রভাতফেরির মিছিল যাবে/ ছড়াও ফুলের বন্যা,/ বিষাদগীতি গাইছে পথে/ তিতুমীরের কন্যা।’ — এই চরণগুলো আল মাহমুদের ‘একুশের কবিতা’ থেকে নেওয়া।

• 'আল মাহমুদ' সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

একুশের কবিতা' এর অংশবিশেষ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

-------------------
অন্যান্য অপশন সম্পর্কিত তথ্য:

(ক) শামসুর রাহমান: 
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

(গ) আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।

(ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, একুশে কবিতা।

৩,৬৮০.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাখী
  2. কামনা পঞ্চবিংশতি
  3. প্রকৃতির পরিহাস
  4. কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - কঙ্কাবতী।

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৮১.
'সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. কামিনী রায়
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. কুসুমকুমারী দাস
ব্যাখ্যা

আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি কবি কামিনী রায় রচিত "সুখ" কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

সুখ
কামিনী রায়
"আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে 
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) সুখ, কামিনী রায়।

৩,৬৮২.
'রানার' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সঞ্জীব চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
এই কবিতাটি কবির ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
৩,৬৮৩.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার অন্যতম কথাসাহিত্যক হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় পত্রিকায় ১৯৬০ সালে ‘শকুন’ শীর্ষক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে হাসান আজিজুল হক সাহিত্যাঙ্গনে তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ
- শীতের অরণ্য (১৯৬৪)
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)
- জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩)
- নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫)
- পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১)
- নির্বাচিত গল্প (১৯৮৭)
- আমরা অপেক্ষা করছি (১৯৮৮)
- রাঢ়বঙ্গের গল্প (১৯৯১)
- রোদে যাবো (১৯৯৫) ইত্যাদি

- ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর, হাসান আজিজুল হক তার রাজশাহীর বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া
৩,৬৮৪.
কোনটি আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. জাল
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. মহাপতঙ্গ
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'। 

• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।
=============== 
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক ও একজন অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাল’ উপন্যাসের ভূমিকা; বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮৫.
'তিন‌ পুরুষ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) জয়েনউদ্দিন
ব্যাখ্যা

- সমর সেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো- কয়েকটি কবিতা, গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা, নানাকথা, খোলাচিঠি, তিন পুরুষ, সমর সেনের কবিতা।
- তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ- বাবু বৃত্তান্ত (আত্মজীবনী)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৬৮৬.
সৈয়দ শামসুল হক কত বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ২৮
  3. গ) ৩০
  4. ঘ) ৩১
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক
জন্ম - ১৯৩৫ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৬৬ সালে (৩১ বছর বয়সে)

সৈয়দ শামসুল হক সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৩,৬৮৭.
বন্দে আলী মিয়া রচিত 'ময়নামতীর চর' একটি?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) ভ্রমনকাহিণি
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) শিশুসাহিত্য
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)  
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:

কাব্য
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট 
- গল্পগ্রন্থ তাসের ঘর

নাটক
-  মসনদ;

শিশুসাহিত্য
- চোর জামাই
- মেঘকুমারী
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা
- সোনার হরিণ
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা
- কুঁচবরণ কন্যা
- সাত রাজ্যের গল্প এবং

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮৮.
বাংলায় প্রবন্ধ রচনায় প্রথম কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কোন লেখক?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- বাংলা প্রবন্ধ রচনার প্রথম কৃতিত্ব রাজা রামমোহন রায় এর।
- তিনি হিন্দুধর্মের মহান সংস্কারক।

রাজা রামমোহন রায়
- জন্মগ্রহণ করেন ২২ মে, ১৭৭২ সালে এবং  ১৮৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- রামমোহনের প্রথম দিকের রচনাসমূহ ছিল আরবি ও ফারসি ভাষায়।
- তিনি দিল্লির বাদশাহ কর্তৃক ১৮৩০ সালে রাজা উপাধি পান।
- ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন

তাঁর লিখিত গ্রন্থগুলো হলো:
» বেদান্তগ্রন্থ
» বেদান্তসার
» ভট্টাচার্যের সহিত বিচার- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত ‘বেদান্তচন্দ্রিকার’ব জবাবে লিখিত।
» সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
» গৌড়ীয় ব্যাকরণ- বাঙ্গালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮৯.
কোন গ্রন্থটি মহাকাব্য?
  1. আশাকানন
  2. ছায়াময়ী
  3. চিত্তবিকাশ
  4. বৃত্রসংহার
ব্যাখ্যা
'বৃত্রসংহার' কাব্য:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'।
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়।
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়),
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯০.
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পানকৌড়ির রক্ত
  2. অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
  3. ডাহুকী
  4. আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ - অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না।

আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬৯১.
স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মেবার-রাজ
  2. খ) মালতী
  3. গ) দীপনির্বাণ
  4. ঘ) স্বপ্নবাণী
ব্যাখ্যা

- স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- ছিন্নমুকুল, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, কাহাকে, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি ইত্যাদি।
- বিবাহ উৎসব, বসন্ত উৎসব ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৬৯২.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আবু ইসহাক
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাস:
• প্রায় সাত বছরের নিষ্ঠাবান পরিশ্রমে মহাকাব্যিক আখ্যান 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' রচনা সম্পন্ন করেছিলেন আবু জাফর শামসুদ্দীন।
- ১৯৬৮ সালে পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজ শেষ হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরই এর প্রথম প্রকাশনা সম্ভব হয়।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬৯৩.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. মাসিক মাতৃভূমি
  3. সওগাত
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা

অশনি সংকেত: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৯৪.
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শেখ ওয়াজেদ আলি
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সিকান্দার আবু জাফর 
ব্যাখ্যা

• লালসালু - উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত। 

• 'লালসালু':
- লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস।

- এটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।
- এখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয়।
- এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক।
- মজিদ এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
-----------------------------------------
• সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:

- নয়নচারা;
- একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা;
- কাঁদো নদী কাঁদো;
- লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
- বহিপীর;
- তরঙ্গভঙ্গ;
- সুরঙ্গ;
- উজানে মৃত্যু।

উৎস:
লালসালু উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও  সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৯৫.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯৬.
‘জীবনক্ষুধা’ - উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবুল হুসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা - আবুল মনসুর আহমদ।

আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯৭.
‘যে তুমি হরণ করো’ কার লেখা?
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫) এর কবিতায় আত্মগত দুঃখবোধ, মৃত্যুচেতনা, নিঃসঙ্গতাবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রাধান্য পায়।
রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো, পৃথক পালঙ্ক - তার কাব্যগ্রন্থ।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৬৯৮.
‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র-
  1. ক) ওসমান
  2. খ) হাসু
  3. গ) কুবের
  4. ঘ) রসু
ব্যাখ্যা
‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
• এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
• তার অন্য আরেকটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস এর নাম খোয়াব নামা।
• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান
• কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান। জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের সমস্ত মানুষকে ঔপন্যাসিক এ উপন্যাসে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৯৯.
"একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"- বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উক্তি।  

------------------------
• 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ'।
- বর্তমানে পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা। 
- 'পালামৌ' বিহারের একটি স্থানের নাম লেখক চাকরিসূত্রে যখন বিহারে ছিলেন, সেই সময়ের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর এই রচনায় লিখেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

'পালামৌ' রচনার ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭০০.
'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• বৃত্রসংহার:
-'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।

-  মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।