বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৭৭ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৭,৬৪৬

৩,৫০১.
‘সাধের আসন’ কাব্যগ্রন্থটিকে কোন কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. সারদামঙ্গল
  3. বন্ধুবিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ':
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,৫০২.
কত সালে জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে আসেন?
  1. ১৭৬০ সালে
  2. ১৭৯১ সালে
  3. ১৮৩৭ সালে
  4. ১৭৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৭৬০ সালের ২০ এপ্রিল জোশুয়া মার্শম্যান জন্মগ্রহণ করেন ওয়েস্টবেরিলি উইলট শায়ার লন্ডনে।
- ১৭৯১ সালে তিনি ধর্ম যাজকতায় দীক্ষা নেন।
- ১৭৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর মার্শম্যান মিশনারির কাজে  ভারতের শ্রীরামপুরে আসেন। যোগদান করেন উইলিয়াম কেরির সাথে।
- ১৮৩৭ সালের ৫ ডিসেম্বরে জোশুয়া মার্শম্যান মৃত্যবরণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫০৩.
বিখ্যাত চলচিত্র  'সারেং বৌ' এর পরিচালক কে ? 
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুল জব্বার 
  3. গ) হুমায়ূন  আহম্মেদ 
  4. ঘ) চাষী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস 'সংশপ্তক' নিয়ে ধারাবাহিক নাটকের পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে তিনি পান প্রবাদপ্রতিম খ্যাতি। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে 'সারেং বৌ' (১৯৭৮), 'শখী তুমি কার', 'এখনই সময়', 'জোয়ারভাটা', 'শেষ বিকেলের মেয়ে। 
- সারেং বৌ ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র
- ছবিটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আবদুল্লাহ আল মামুন
- তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে 'সুবচন নির্বাসনে', 'এখন দুঃসময়', 'সেনাপতি', 'এখনও ক্রীতদাস', 'কোকিলারা', 'দ্যাশের মানুষ', 'মেরাজ ফকিরের মা', 'মেহেরজান আরেকবার' ইত্যাদি৷ 
- চাষী নজরুল ইসলাম এর  বিখ্যাত চলচিত্র : ওরা ১১ জন - (১৯৭২) ,পদ্মা মেঘনা যমুনা - (১৯৯১), হাঙর নদী গ্রেনেড - (১৯৯৭)
-হুমায়ূন আহমেদ এর চলচ্চিত্র  :শঙ্খনীল কারাগার,আগুনের পরশমণি,নন্দিত নরকে,শ্রাবণ মেঘের দিন। 


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,৫০৪.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  2. গ্রানাডার শেষ বীর
  3. মোটর যোগে রাঁচী সফর
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি: 
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলি ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ: 
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস: 
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী: 
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৩,৫০৫.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. রাজা যায় রাজা আসে
  2. ওরা কয়েকজন
  3. পৃথক পালঙ্ক
  4. যে তুমি হরণ করো
ব্যাখ্যা

• আবুল হাসান:
- আবুল হাসান একজন সৃষ্টিশীল কবি। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫০৬.
‘মোদের গরব মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা’ - গানটির রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. রাধানিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'মোদের গরব মোদের আশা / আ-মরি বাঙলা ভাষা' - গানটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন। 
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়বাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫০৭.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত কোন পরিচয়ে খ্যাত?
  1. নাট্যকার
  2. শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক
  3. কবি
  4. প্রবন্ধকার
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- ১৮৭৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোক সংগ্রাহক। 
- তিনি 'সুধা' নামক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদামশায়ের থলে,
- ঠানদিদির থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫০৮.
সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বাবু বৃত্তান্ত
  2. নানাচর্চা
  3. খোলাচিঠি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'খোলাচিঠি'।

• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত

• অপশন আলোচনা:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'নানাচর্চা'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,৫০৯.
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৮৬৫ সালে
  3. ১৮৬০ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৫১০.
'জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন' বিখ্যাত পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বাতাসে লাশের গন্ধ
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন। (সংক্ষিপ্ত) 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫১১.
"মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা" প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বদরুদ্দীন ওমর
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫১২.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. অভিযান
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে রচনা করেছিলেন।
- গ্রন্থটি মূলত মার্কসবাদী চেতনা দ্বারা প্রভাবিত এবং গণমানুষের দুঃখ-কষ্ট, শোষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটায়।
- এছাড়াও এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রতিফলনও দেখা যায়।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্তকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
------------------------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৫১৩.
বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধির কাল কোনটি?
  1. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
  2. ১৭৬০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  3. ১৭৩০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৫১৪.
'আকাল' কাব্য সংকলনটি সম্পাদনা করেন-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- আকাল একটি কাব্য সংকলন যা পঞ্চাশের মন্বন্তর প্রেরণায় সম্পাদিত হয়।
- সংকলনটি সম্পাদনা করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৪৪ সালে 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের ভুমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। 

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২০ বছর ৯ মাসে যক্ষা রোগে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র (কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর রচিত হয়)।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫১৫.
‘ইউরোপের চিঠি’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫১৬.
"যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই"- উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. আহমদ ছফা
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই" মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত একটি উক্তি।

------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ,
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫১৭.
'মানুষ মরে গেলে পচে যায়,বেঁচে থাকলে বদলায়,কারণে-অকারণে বদলায়।'- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কবর 
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. নবান্ন 
  4. মানুষ 
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫১৮.
তেভাগা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. জঙ্গনামা
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা

খোয়াবনামা উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ প্রভৃতি ঐতিহাসিক উপাদান উপন্যাসের নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে ।
- উপন্যাসটির রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ।
- ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত লেখকের প্রথম উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের রচিত গল্পগ্রন্থ:
- দুধে ভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল

গল্পগ্রন্থ: রেইনকোট, মিলির হাতে স্টেনগান ইত্যাদি

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৩,৫১৯.
বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন ও গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. অনেক দিনের আশা
  2. কাশবনের কন্যা
  3. দুই হৃদয়ের তীর
  4. পথ জানা নাই
ব্যাখ্যা

• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

--------------------
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল ইত্যাদি।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫২০.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত প্রথম প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. ক) এখনো ক্রীতদাস
  2. খ) শপথ
  3. গ) সুবচন নির্বাসনে
  4. ঘ) এখন দুঃসময়
ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত বিখ্যাত নাটক- শপথ (প্রথম প্রকাশিত), সুবচন নির্বাসনে, এখন দুঃসময়, এবার ধরা দাও, শাহজাদীর কাল নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, এখনো ক্রীতদাস, কোকিলারা, মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি। উপন্যাস- মানব তোমার সারাজীবন, তাহাদের যৌবনকাল, হায় পার্বতী, এই চুনীলাল, গুন্ডাপান্ডা বাবা, খলনায়ক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৫২১.
’সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’ কে রচনা করেন?
  1. আবু ইসহাক
  2. আহমেদ শরীফ
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
-আবু ইসহাক ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।

•তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি:
- তহারেম;
- মহাপাত্র ।

• উপন্যাসের অনুরূপ গল্পগুলিতে ভূমিহীন মানুষ, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ্য-পীড়িত মানুষের জীবন এবং বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের জীবনের নানা সমস্যা স্থান পেয়েছে।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক 'জয়ধ্বনি'।
• তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা 'স্মৃতিবিচিত্রা' প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।

অন্যদিকে,
• ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচনা করেন- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
• আহমেদ শরীফ রচনা করেন- বাংলা একডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান।
• হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন- বঙ্গীয় শব্দকোষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২২.
'পরানের গহীন ভিতর' কাব্যের কবি কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. শামসুর রাহমান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
'পরানের গহীন ভিতর' কাব্যের রচয়িতা - সৈয়দ শামসুল হক।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস, 
- শীত বিকেল, 
- আনন্দের মৃত্যু, 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২৩.
'সোনালী কাবিন' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) বিনয় ঘোষ
ব্যাখ্যা
সোনালী কাবিন আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়। লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, বখতিয়ারের ঘোড়া, প্রেমের কবিতা ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
কাবিলের বোন, চেহারার চতুরঙ্গ, উপমহাদেশ, ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, ডাহুকী ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস এবং পানকৌড়ির রক্ত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ, সৌরভের কাছে পরাজিত তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫২৪.
'ডাহুকী' - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. আল মাহমুদ
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

‘ডাহুকী’ উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত প্রথম উপন্যাস - ডাহুকী।
- নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধেই ১৯৯২ সালে বের হয় আল মাহমুদ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘ডাহুকী।
- গড়পড়তা আয়তনের উপন্যাস ‘ডাহুকী’র প্রধান চরিত্র আতেকা বানু। তাঁর সঙ্গে তীব্রভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর কিশোরীকালের আবেগ।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৫২৫.
'রুপজালাল' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) আত্মজীবনী
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসার গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনী মূলক রচনা।  

নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩)  
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব,  ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু,  সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫২৬.
সুকুমার রায় রচিত কবিতার বই কোনটি?
  1. কুঁচবরণ কন্যা
  2. খাই খাই
  3. টুনটুনির বই
  4. গুপী গাইন বাঘা বাইন
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া। 
• 'টুনটুনির বই' এবং 'গুপী গাইন বাঘা বাইন' উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত শিশুসাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘হ-য-ব-র-ল’ গ্রন্থের ভূমিকা এবং ‘পাগলা দাশু’ গল্পগ্রন্থের ভূমিকা।
৩,৫২৭.
বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম বই-
  1. লাইলি মজনু
  2. বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা
  3. ব্যবহরিক বাংলা অভিধান
  4. আধুনিক বাংলা অভিধান 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম বই ছিল—
দৌলত উজির বাহ্‌রাম খাঁর- লাইলি মজনু।

বাংলা একাডেমি সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।

- বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর।
- প্রথম প্রকাশিত বইটি ছিল লাইলি মজনু, যা মধ্যযুগীয় বাংলা প্রেমকাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
- পরে একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ এবং ব্যবহরিক বাংলা অভিধান, আধুনিক বাংলা অভিধান ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি; প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট- লিংক।

৩,৫২৮.
"একুশ মানে মাথা নত না করা" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আবুল ফজল
  3. শামসুর রাহমান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• “একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই "রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ বিষয়ক" প্রবন্ধের রচয়িতা হচ্ছেন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক — আবুল ফজল।

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবুল ফজলের বিখ্যাত উক্তি 'একুশ মানে মাথা নত না করা'।
- ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার যখন রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিল তখন তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন আবুল ফজল।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• আবুল ফজল:
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথা সাহিত্যিক ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- কর্মজীবনে আবুল ফজল শিক্ষকতা করেছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজে। তিনি যখন চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তখন দেশজুড়ে বইছিল ভাষা আন্দোলনের হাওয়া। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রামে আবুল ফজলের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহ হলো:
রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ বিষয়ক প্রবন্ধ: একুশ মানে মাথা নত না করা।

• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া ও The Daily Star Bangla।
৩,৫২৯.
'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমদ রচিত একটি- 
  1. প্রবন্ধ 
  2. গল্পগ্রন্থ 
  3. নাটক 
  4. উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

  'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ । এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স, 
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫৩০.
বাংলা সাহিত্যের ‘আধুনিক যুগ’ শুরু হয় কবে?
  1. ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৩১.
১৯৫৩ সালে প্রকাশিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনটি কে সম্পাদন করেছিলেন?
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম সংকলন টির নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

একুশে ফেব্রুয়ারি

- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২জন লেখক লিখেছেন। 
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৩২.
আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) কৃষ্ণপক্ষ
  2. খ) শেষ রাত্রির চাঁদ
  3. গ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  4. ঘ) বাংলাদেশ কথা কয়
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাসঃ
চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (১৯৬০, প্রথম উপন্যাস), নাম না জানা ভোর (১৯৬২), নীল যমুনা (১৯৬৪), শেষ রাত্রির চাঁদ (১৯৭৬)।
গল্পগ্রন্থঃ
কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫৯), সম্রাটের ছবি (১৯৫৯), সুন্দর হে সুন্দর (১৯৬০)।
শিশুতোষ গ্রন্থঃ
ডানপিঠে শওকত, আঁধার কুঠির ছেলেটি, ভয়ংকরের হাতছানি।
‘বাংলাদেশ কথা কয় (১৯৭২)’ তার সম্পাদনা গ্রন্থ। তিনি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানের রচয়িতা। তিনি ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’ (২০০৭) নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। ]
৩,৫৩৩.
'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল' - পঙ্‌ক্তিটি রচিয়তা কে?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
পাখি-সব করে রব-
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী, 
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৩,৫৩৪.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে?
  1. পথের পাঁচালী
  2. দৃষ্টিপ্রদীপ
  3. ইছামতী
  4. আরণ্যক
ব্যাখ্যা

• 'দৃষ্টিপ্রদীপ' উপন্যাস:
'দৃষ্টিপ্রদীপ' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস, যা আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক অনন্য সমন্বয়। উপন্যাসটি প্রথমে প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এবং পরে গ্রন্থকারে প্রকাশ পায়।
- এটি একজন যুবক জিতুর জীবনকেন্দ্রিক গল্প, যিনি তার আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

উপন্যাসের বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট-
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিতু দার্জিলিংয়ে তার পরিবার—ভাই নিতাই ও বোন সীতার সঙ্গে বসবাস করে। এ উপন্যাসে জিতুর জীবনযাত্রা, তার অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং সমাজের কুসংস্কার ও প্রচলিত রীতিনীতির প্রতি তার প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। জিতুর চরিত্রের মাধ্যমে বিভূতিভূষণ মানবজীবনের গভীর দার্শনিক প্রশ্ন এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির বিষয়টি অন্বেষণ করেছেন।

---------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল।

অন্যান্য উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য:

ক) পথের পাঁচালী:
- মূলত গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র।
- শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিকাতরতা।
- পারিবারিক জীবনের সুখ-দুঃখ।

গ) ইছামতী:
- প্রেম ও বিরহের কাহিনী।
- নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা।
- প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক।

ঘ) আরণ্যক:
- বনজীবনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
- প্রকৃতিপ্রেম ও অরণ্যচারী জীবন।
- দুর্গম অঞ্চলের জীবনযাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং 'দৃষ্টিপ্রদী' উপন্যাস, বিভতিভষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩,৫৩৫.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. জীবনে সমাজে সাহিত্যে
  2. যুগ যন্ত্রণা
  3. স্বদেশ অন্বেষা
  4. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয় - সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- এটি মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ।

আহমদ শরীফ: 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
-  ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৩৬.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটির লেখক কে?
  1. ক) নীহাররঞ্জন রায়
  2. খ) আর সি মজুমদার
  3. গ) অধ্যাপক আব্দুল করিম
  4. ঘ) অধ্যাপক সুনীতিকুমার সেন
ব্যাখ্যা
নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art (১৯৪৭) 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস (১৯৪৯) 
- Nationalism in India 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting (১৯৭৪),
- The Sikh Gurus and the Sikh Society (১৯৭০),
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art (১৯৭৪)।


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩,৫৩৭.
শহীদ কাদেরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো-
  1. ক) কোথাও কোন ক্রন্দন নেই
  2. খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  3. গ) উত্তরাধিকার
  4. ঘ) আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি শহীদ কাদরী। তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

শহীদ কাদেরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'। 
এটি ১৯৬৭  সালে প্রকাশিত হয়।  
এতে ৪০টি কবিতা রয়েছে।  

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
- উত্তরাধিকার,
 -তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৩৮.
'হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে'- বিখ্যাত সংলাপটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কালিন্দী
  2. কবি
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. আরগ্য নিকেতন
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস সম্পর্কে কিছু তথ্য:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে 'নিতাইচরণ'।

উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ:
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৩৯.
কোনটি নাটক?
  1. ক) কর্তার ইচ্ছায় কর্ম
  2. খ) গড্ডলিকা
  3. গ) পল্লীসমাজ
  4. ঘ) সাজাহান
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ইতিহাসাশ্রয়ী নাটক সাজাহান।
- মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত।
এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক:
- 'প্রতাপসিংহ',
- 'দুর্গাদাস',
- 'মেবার পতন',
- 'সিংহল বিজয়',
- 'নুরজাহান' ইত্যাদি
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৪০.
কোনটি সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত উপন্যাস?
  1. অষ্টপ্রহর
  2. খরস্রোত
  3. আদিগন্ত
  4. নয়ান ঢুলি
ব্যাখ্যা

'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস।  প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে। 
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে। 

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা, 
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি,
- খরস্রোত, 
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম, 
- অষ্টপ্রহর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫৪১.
'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়।'- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জোহরা 
  2. আবদুল্লাহ
  3. আনোয়ারা
  4. গরীবের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• 'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়।'- মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের 'আনোয়ারা' উপন্যাসের মূল বক্তব্য। 

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

----------------------
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক। ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৪২.
'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
- ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক।
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৪৩.
কোনটি আহসান হাবীবের প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. রাত্রিশেষ
  2. ছায়া হরিণ
  3. সারাদুপুর
  4. আশায় বসতি
ব্যাখ্যা
⇒ 'রাত্রিশেষ' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষ'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।  
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

⇒ আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৪৪.
“নিষিদ্ধ লোবান" উপন্যাসটি কার লিখা?
  1. অরুণ বসু
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. অসীম সাহা
ব্যাখ্যা

• “নিষিদ্ধ লোবান"- উপন্যাসটি সৈয়দ শামসুল হক এর লিখা।
-----------------------------------
 সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সৈয়দ শামসুল হকের প্রধান রচনা: 
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলদে দে।

কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
-------------------------------------------- 
“নিষিদ্ধ লোবান” নিয়ে কিছু কথা: 
- সৈয়দ শামসুল হকের “নিষিদ্ধ লোবান” উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
- উপন্যাসে লেখক “নিষিদ্ধ লোবান” নামের মাধ্যমে মৃত্যুর বাস্তবতা ও যুদ্ধের বিভীষিকাকে প্রকাশ করেছেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বিলকিস একজন বীরাঙ্গনা।

- যুদ্ধকালে বিলকিস তার পরিবার ও স্বামীকে হারিয়ে ফেলে।
- যুদ্ধের ভয়াবহতা ও পরিবার-স্বজনকে হারানোর পরেও বিলকিস সাহস হারাননি।
- বরং, যুদ্ধকালে বিলকিস তার পরিবার ও স্বামীকে হারিয়ে নবগ্রামে ফিরে আসে।
- নবগ্রামে ফেরার কারণ হলো- বিলকিস তার যুদ্ধে শহীদ হওয়া ভাইয়ের লাশ খুজে পেতে বদ্ধপরিকর ছিল।

- নবগ্রামে বিলকিস কিশোর সিরাজ-এর সঙ্গে পরিচিত হয়।
- একসাথে তাঁরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
- শেষ পর্যন্ত বিলকিস তার ভাইয়ের লাশ খুঁজে বের করে সৎকার করেন;
- যা তার দৃঢ় চেতনা ও স্বাধীনতার প্রয়াসকে প্রতিফলিত করে। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৪৫.
চলিত রীতির প্রবর্তন করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী: 
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৪৬.
'সমুদ্রেই যাবো' ও 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থদ্বয় কার রচনা?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• 'সমুদ্রেই যাবো 'ও 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-------------
• সৈয়দ আলী আহসান:

- সৈয়দ আলী আহসান মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৪৭.
‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শামসুর রাহমান
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান: 
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা শামসুর রাহমান।
- পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পরিবারসহ শেখ মুজিবের নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং রচনা করেন তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে’।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে(১৯৬০)
- রৌদ্র করোটিতে(১৯৬৩)
- বিধ্বস্ত নিলীমা(১৯৬৭)
- নিরালোকে দিব্যরথ(১৯৬৮)
- নিজ বাসভূমে (১৯৭০)
- বন্দী শিবির থেকে(১৯৭২)
- 'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি(১৯৭৪)
- এক ধরনের অহংকার(১৯৭৫
- আমি অনাহারী(১৯৭৬)
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে(১৯৭৭) 
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে(১৯৭৮)
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১)
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে(১৯৮৩) 
- অস্ত্রে আমার বিশ্বাস নেই(১৯৮৫)
- হোমারের স্বপ্নময় হাত (১৯৮৫) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৪৮.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) ইমদাদুল হক
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা

• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটকঃ
- কাফেলা,
- আনোয়ার পাশা,
- কামাল পাশা,
- ভিস্তি বাদশা,
- ঋণ পরিশোধ।
• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনীঃ
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- পাকিস্তানের পথে ঘাটে,
- নয়া চীনে এক চক্কর।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- সোনার শিকল,
- আলু বোখরা,
- দাদুর আসর।
• তাঁর রচিত উপন্যাস- বৌ বেগম।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৫৪৯.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. পৃথক পালঙ্ক
  2. ওরা কয়েকজন
  3. যে তুমি হরণ করো
  4. রাজা যায় রাজা আসে
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য - ওরা কয়েকজন।

• আবুল হাসান: 

- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

• গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৫০.
‘জননী’ উপন্যাস কার লেখা?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত জননী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনাদি প্রমুখ। অন্যদিকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) জননী নামে একটি উপন্যাস লিখেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৫৫১.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) গীতিনাট্য
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) কাহিনী কাব্য
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৫২.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দের রচনা?
  1. ক) ময়নামতির চর
  2. খ) মধুমতীর চর
  3. গ) পদ্মা নদীর চর
  4. ঘ) সন্দ্বীপের চর
ব্যাখ্যা
সন্দ্বীপের চর বিষ্ণু দের একটি কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, দিবানিশি চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী, উত্তরে থাকে মৌন, আমার হৃদয়ের বাঁচো ইত্যাদি। ময়নামতির চর, মধুমতীর চর, পদ্মা নদীর চর কাব্যের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৫৫৩.
'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- পানকৌড়ির রক্ত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৫৫৪.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) ইবরাহীম খাঁ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
- 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা।

 তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,৫৫৫.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' এটি শওকত ওসমান রচিত কোন প্রকার সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৫৬.
‘উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রশীদ করিম
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস: 
- উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়। 

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :
- শাকের,
- সেলিনা,
- অণিমা,
- শেখর।

রশীদ করীমের  অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৫৭.
‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ মজুমদার
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

পুতুল নাচের ইতিকথা বাঙালি সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৫৫৮.
আহসান হাবীবের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লতিকা
  2. খ) নবীকাহিনী
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) বসন্ত
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে। 
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৫৯.
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি বলা হয় কাকে? 
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যসাগর 
  4. আলাওল 
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।

- ​ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন- 
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৬০.
'আগুনপাখি' উপন্যাসের পটভূমি কোন অঞ্চল?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. বর্ধমান
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বর্ধমান।

ব্যাখ্যা:
'আগুনপাখি' উপন্যাসের পটভূমি হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল।

উপন্যাসের বিষয়বস্তু:
- ওই এলাকার মানুষের জীবনসংগ্রাম;
- বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা;
- স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সমস্যা।

বিশেষত্ব:
- লেখক তাঁর পৈতৃক ভূমির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে এই উপন্যাস রচনা করেছেন।
- বর্ধমানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র উপস্থাপিত

--------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।

৩,৫৬১.
বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পঞ্চগড় 
  2. নেত্রকোনা
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ মূলত একজন কবি ছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিলো রতন। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবন, সমাজ-বাস্তবতা ও রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
- নির্মলেন্দু গুণকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সেই বছরই তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কারও পান।
- ২০০১ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া।

অনুবাদ কবিতা:
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৬২.
‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা গ্রন্থটির সম্পাদক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. ইব্রাহীম খাঁ
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কথা কয়:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
- এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা।
৩,৫৬৩.
'আবোল তাবোল' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা? 
  1. নাটক 
  2. গল্প সংকলন  
  3. কবিতার বই
  4. ছোটগল্প 
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল':
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায় রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ/কবিতার বই। 
- যা আজগুবি, যা উদ্ভট, যা অসম্ভব, তা নিয়েই এই বইয়ের কারবার।

- বইয়ের অধিকাংশ ছবি ও কবিতা নানা সময়ের “সন্দেশ” পত্রিকা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। এখানে আবশ্যক সংশোধন ও পরিবর্তন করে এবং নানা স্থানে নতুন মালমশলা যোগ করে সেগুলোকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কিছু কবিতা হলো- 
 খিচুড়ি,  কাঠ-বুড়ো, গোঁফ চুরি, সৎ পাত্র, প্যাঁচা আর প্যাঁচানি, কাতুকুতু বুড়ো, গানের গুঁতো, খুড়োর কল, লড়াই-ক্ষ্যাপা, ছায়াবাজি ইত্যাদি। 

------------------
• সুকুমার রায়:

- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' কবিতা গ্রন্থের ভূমিকা।

৩,৫৬৪.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. কালঘোড়া
  2. জীবন আমার বোন
  3. নূরলদীনের সারাজীবন
  4. কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত তৃতীয় উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’।  প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে, সাহিত্য প্রকাশ থেকে।

- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণের ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই উপন্যাসে। পটভূমি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের ঢাকা শহর।

- উপন্যাস এগিয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল কবির খোকার বয়ানে। ‘জীবন আমার বোন’ মুক্তিযুদ্ধকালীন উপন্যাস হয়েও শুধুমাত্র একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়। বরং দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে এটি হয়ে যায় মানবজাতির চিরন্তন স্বাধীনতার এক আখ্যান।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
১ মার্চ প্রেসিডেন্টের ভাষণে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। যতদিন যেতে থাকে, বাড়তে থাকে উত্তেজনা। সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠে খোকার বয়সী তরুণেরা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের জল্পনা-কল্পনা, কাঠের ডামি রাইফেল হাতে কুচকাওয়াজ। সমান্তরালে চলতে থাকে রঞ্জু-খোকার পারিবারিক জীবন। এর মধ্যেই ঘটে যায় আসন্ন যুদ্ধ পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক সব ঘটনাবলী- অসহযোগ আন্দোলন, জাহাজে করে চট্টগ্রামে পাকিস্তানী সৈন্যের আগমন, নতুন গভর্নর টিক্কা খান, ৭ই মার্চের ভাষণ, জয়দেবপুরে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি, ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় চলতে থাকা মিছিল-মিটিং-জনসভা। সমগ্র দেশ যেন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিকে।

খোকার দৃষ্টি দিয়ে আমরা দেখি বারুদের স্তুপে পরিণত হওয়া ঢাকা শহরকে, যার সলতেয় স্ফুলিঙ্গ লাগে ২৫ মার্চ কালরাতে। গণহত্যা শেষে ২৭ মার্চ ঠিক মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মুহূর্তেই শেষ হয় উপন্যাস। যদিও শেষ দু’পাতায় বর্ণিত হয়েছে যুদ্ধ শেষে চরিত্রগুলোর পরিণতি।
 
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য চরিত্র:
- খোকার ছোট বোন রঞ্জু,
- বন্ধু মুরাদ-ইয়াসিন-রহমান,
- মুরাদের বড় বোন লুলু চৌধুরী,
- খোকার পরিচিত রাজীব ভাই এবং তার দুই স্ত্রী।

অন্যদিকে, 
• 'কালঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি উপন্যাস। 
• 'কাবিলের বোন' কবি আল মাহমুদ রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাটক 'নূরলদীনের সারাজীবন'। 

উৎস: ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৬৫.
কোনটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ?
  1. বাংলাদেশ কথা কয়
  2. নাম না জানা ভোর
  3. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  4. শেষ রাত্রির চাঁদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন। 
-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
৩,৫৬৬.
'স্বদেশ' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মানুষ কে, বাঙালি মেয়ে, আনারস, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি, স্বদেশ, তপসে মাছ - ইত্যাদি কবিতার রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
'ভ্রমণকারী বন্ধু' তাঁর ছদ্মনাম।
তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৫৬৭.
"আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" কাব্যগ্রন্থটির কবি কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• "আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" কাব্যগ্রন্থ:
- "আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' নামে একটি নাম কবিতাও আছে। 
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।

- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে:
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- কখনো রং কখনো সুর, 
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৬৮.
“অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে সেখানে ছিলাম আমি, আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে।” - কোন কবির রচনা?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত কবিতাংশটি জীবনানন্দ দাশ রচিত বনলতা সেন কবিতার অংশ।
- কবিতাটি কবির তৃতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ বনলতা সেন কাব্যের অন্তর্গত।
- ১৯৩৫ সালে কবিতা পত্রিকায় সর্বপ্রথম প্রকশিত হয়।
- ১৯৪২ সালে বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
কবিতাটি কবির অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং জনপ্রিয় কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা -ড.সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৬৯.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. নূরলদীনের সারা জীবন
  3. নীল দংশন
  4. হৃৎকলমের টানে
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- "নূরলদীনের সারা জীবন" সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীন যার আসল নাম নূরুলউদ্দিন, তাঁর সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচনা করা হয়েছে।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।
- নূরলদীনের বিখ্যাত আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- কাব্যনাট্যটির বিখ্যাত লাইন- "এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।"

-----------------
সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- নিষিদ্ধ লোবান (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

• প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৭০.
'টেনিদা' যে সাহিত্যিকের কিশোরপাঠ্য লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গ) শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
• 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গ্রন্থসংখ্যা ৯৪ টি। 
- টেনিদা মূলত উত্তর কলকাতার পটলডাঙায় বসবাসরত একটি স্থানীয় চরিত্র।

• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, (১৯১৮-১৯৭০) একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক।
- প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে।
- কালক্রমে তিনি গল্প,  উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। 

• তাঁর রচিত কিশোরগ্রন্থ
- সপ্তকান্ড,
- অন্ধকারের আগন্তুক,
- ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫২),
- ছুটির আকাশ,
- খুশির হাওয়া,
- ঝাউ বাংলোর রহস্য,
- পঞ্চাননের হাতি,
- পটলডাঙ্গার টেনিদা,
- গল্প বলি গল্প শোন,
- অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ,
- টেনিদার অভিযান (১৯৪১) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৭১.
‘রক্তে ভেজা একুশ’ গদ্যটি কার রচনা?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. জহির রায়হান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্য:
• বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসের অংশবিশেষ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্যটি।
• আমাদের মহান ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কাহিনি রচিত।
• ভাষা-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও পথশিশুর অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে এ গল্পে।
• আন্দোলনে শামিল হয়ে পথশিশু অহি শহিদ হয়েছে এবং সকল মায়ের সন্তান হিসেবে নন্দিত হয়েছে।

⇒ সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৭২.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩ খণ্ডে রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, বিপিনের সংসার, দেবযান, ইছামতি, অশনি সংকেত ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৫৭৩.
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  3. আল মাহমুদ
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি” গ্রন্থটির রচয়িতা হচ্ছে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৭৪.
'বাসন' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হাফিজুর রহমান
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'বাসন' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কেরামতমঙ্গল, মোনতাসির, শকুন্তলা, কীর্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৫৭৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৮৫-১৯৬৯
  2. ১৮৮৮-১৯৬৯
  3. ১৮৮৫-১৯৭০
  4. ১৮৭৫- ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর জীবনকাল (১০ জুলাই ১৮৮৫ - ১৩ জুলাই ১৯৬৯)। 
------------------------- 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৭৬.
"প্রাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে।" - গানটির গীতিকার কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. রাধারমন
  3. শেখ ওয়াহিদ
  4. কুদ্দুস বয়াতি
ব্যাখ্যা
•'পরানের বান্ধবরে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে'- সুফিয়া কাঙালিনির কণ্ঠে গাওয়া এ গানের গীতিকার শেখ ওয়াহিদুর রহমান।

• শেখ ওয়াহিদুর রহমান:

• লোককবি শেখ ওয়াহিদুর রহমানের জন্ম ১৯৩৯ সালে।

• গানের জগতে জনশ্রুত একটি নাম, এ-কথা বলা যায় না। এর কারণ হলো, তাঁর অনেক গান আমরা শুনি কিন্তু গীতিকারের নাম অনুল্লেখ থাকায়, তা জানার আমাদের কোনো সুযোগ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে না-বুঝেই বলা হয় গীতিকার অজ্ঞাত। কবি শেখ ওয়াহিদ ব্যাপকার্থে পরিচিত না হলেও অজ্ঞাত নন।

• সহজ-সরল কথায় গান রচনা করে ইতোমধ্যে তিনি 'বাউল' খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি রচনা করেছেন বিচিত্র ঘরানার গান; এ-অর্থে বলা যায় তাঁর গানের বৈচিত্র্যক তুলনারহিত।

• বঙ্গবন্ধুর দেওয়া নাম তাঁর ডাক নাম দুষ্ট ছেলে।

• তাঁর জন্ম ও বাল্য-কৈশোর কেটেছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নির্জন গ্রামে। ফলে তাঁর রচিত আঞ্চলিক গানে পাওয়া যায় সে-মাটির রূপ-রস-গন্ধ গন্ধ এবং এবং সংস্কৃতির প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের নির্যাস।

• তাছাড়াও তিনি লিখেছেন পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, গণসঙ্গীত, মরমি, আধ্যাত্মিক ও শাক্ত পদাবলি। শেখ ওয়াহিদের গান শুনে ও পাঠ করে সহজেই বোঝা যায়, তিনি এ লোক-বাংলার সাধারণ মানুষেরই প্রতিনিধি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলো:
- আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে,
- অপূর্ব তটিনী ওগো,
- অমৃত কূপের সুধা খেলে,
- অলি দরবেশ কারে বলে,
- আল-আরাবি নাবীজি আমার,
- আদমকে বানাইয়া খোদা।

তাঁর রচিত কিছু বিয়ার গান:
- মেনদি বাটো তোমরা সখি,
- মিতু আসবে নওশা সেজে,
- আজ ঝিলমিল ঝিলমিল,
- পালকি চড়ে যাইগো ভাবি,
- বিয়াই মজলিসে দেখবে,
- সখীরা সব সাজাও কন্যা। 

উৎস: ‘শেখ ওয়াহিদ গীতি সমগ্র’ শেখ ওয়াহিদুর রহমান।
৩,৫৭৭.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ডানপিটে শওকত
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
  4. ঘ) কৃষ্ণপক্ষ
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম উপন্যাস চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান।
-  এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। 

- 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- 'শেষ রাত্রির চাঁদ' (১৯৭৬) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস
- 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৭৮.
'বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবদুল কাদির
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দ বিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

আবদুল কাদির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৫৭৯.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. খ) ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রাম
  3. গ) সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার
  4. ঘ) তৎকালীন জমিদারদের অত্যাচার
ব্যাখ্যা

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
তৎকালীন কুমিল্লা জেলার অধীনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মহকুমার গােকর্ণঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিতাস একটি নদীর নামঃ এই একটিমাত্র উপন্যাস লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যের চিরস্মরণীয় ও অমর প্রতিভা হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন।
- এক দরিদ্র ধীবর (জেলে/মৎস্যজীবী) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলেই হয়তাে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তদৃষ্টির কারণে এই উপন্যাসটিতে প্রতিকূল সংঘাতে ক্রমশ মুছে আসা মৎস্যজীবী মানুষদের কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে করেছেন অবিনশ্বর ও অসাধারণ।
- উপন্যাসটি-৪ খন্ডে বিভক্ত।
- পরবর্তীকালে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৫৮০.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মানব তোমার সারাজীবন
  2. খ) সত্যমিথ্যা
  3. গ) পোড়ামাটির কাজ
  4. ঘ) প্রদীপ ও পতঙ্গ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
তিনি  ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের আয়না হাস্যরসাত্মক গল্পের ভূমিকা লিখেছিলেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫)ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

'মানব তোমার সারাজীবন' উপন্যাসটির রচিয়তা - আব্দুল্লাহ আল মামুন
'পোড়ামাটির কাজ' উপন্যাসটির রচিয়তা -আবদুল মান্নান সৈয়দ
'প্রদীপ ও পতঙ্গ' উপন্যাসটির রচিয়তা -আবুল ফজল 


 [উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৩,৫৮১.
রূপকথার সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র রচয়িতা কে?
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. সুকুমার রায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• রূপকথার সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র রচয়িতা — দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
--------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক ‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৮২.
বাংলাদেশে 'গ্রাম থিয়েটারে'র প্রবর্তক কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিম আল দীন
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. মমতাজ উদদীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার। 
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- বাসন, 
- তিনটি মঞ্চ নাটক: মুনতাসির, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৮৩.
'জলাঙ্গী' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. শওকত ওসমান
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'জলাঙ্গী' উপন্যাস:
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৮৪.
সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অনেক সূর্যের আশা
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) খরস্রোত
  4. ঘ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

সরদার জয়েনউদ্দীনঃ কথাসাহিত্যিক।

তার রচিত উপন্যাসঃ
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- নয়ন ঢুলি,
- খরস্রোত,
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম,
- অষ্টপ্রহর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর

 
৩,৫৮৫.
নিচের কোনটি অমিয় চক্রবর্তীর গদ্য?
  1. ক) অভিজ্ঞান বসন্ত
  2. খ) পথ অন্তহীন
  3. গ) অনিঃশেষ
  4. ঘ) খসড়া
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি ছিলেন।
- তার 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
তার উল্লেখযোগ্য অন্যন্য কাব্যগ্রন্থ -
- খসড়া,
- মাটির দেয়াল,
- অনিঃশেষ,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
তার উল্লেখযোগ্য গদ্য রচনাঃ
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৫৮৬.
'ফেরারী ডায়েরী' কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধের
  2. খ) দেশ বিভাগের
  3. গ) ভাষা অন্দোলনের
  4. ঘ) গণঅভ্যুত্থানের
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক নরকে লাল গোলাপ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত। উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৩,৫৮৭.
নির্মলেন্দু গুণ কত সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৮২
  2. খ) ২০০১
  3. গ) ২০১২
  4. ঘ) ২০১৬
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমী পদক, ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৩,৫৮৮.
‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে কোন নাটকটি প্রকাশিত হয়?
  1. নীলদর্পণ
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
 • নীলদর্পণ:
- দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা 'নীলদর্পণ'।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত  নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দণ্ডিত হন।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  নীলদর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন' এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৮৯.
"পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।” পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) রজনীকান্ত সেন
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) যতীন্দ্রনাথ বাগচী
ব্যাখ্যা
"পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”
- পঙক্তিদ্বয় রজনীকান্ত সেন রচিত 'স্বাধীনতার সুখ' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯১০) কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী।
রজনীকান্ত পিতার নিকট সঙ্গীত শেখেন এবং মাত্র পনেরো বছর বয়সে কালীসঙ্গীত রচনা করে কবিত্বশক্তির পরিচয় দেন। 
- তিনি কবিতাও রচনা করতেন এবং ‘কান্তকবি’ নামে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর কবিতা ও গানের বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত ভক্তি ও দেশপ্রেম।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি:
- বাণী (১৯০২),
- কল্যাণী (১৯০৫),
- অমৃত (১৯১০),
- অভয়া (১৯১০),
- আনন্দময়ী (১৯১০),
- বিশ্রাম (১৯১০),
- সদ্ভাবকুসুম (১৯১৩),
- শেষদান (১৯১৬),- 
- পথচিন্তামণি এবং
- অভয় বিহার। 

উৎস: স্বাধীনতার সুখ, রজনীকান্ত সেন এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৯০.
'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা- আহমদ ছফা 

• ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
• উপন্যাসের নায়ক- আবু নসর বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।

আহমদ ছফা:
- ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।


• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

• আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ
- যদ্যপি আমার গুরু প্রফেসর রাজ্জাক
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
- বাঙালি মুসলমানের মন
- সিপাহীযুদ্ধের ইতিহাস ইত্যাদি। 


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৯১.
‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি’- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) মুনির চৌধুরী
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- ‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি’- চরণটি সৈয়দ শামসুর হকের রচিত আমার পরিচয় কবিতার ।
- ‘আমার পরিচয়’ কবিতাটি  সৈদয় শামসুল হকের ‘কিশোর কবিতা সমগ্র; থেকে সম্পাদিত আকারে চয়ন করা হয়েছে।
- কবিতাটির মাধ্যমে লেখক বাঙালি জাতির বর্তমান অবস্থার পেছনের বর্ণিল ইতিহাসের কথা তুলে ধরেছেন।
- সৈয়দ শামসুল হক ২৯ বছর বয়সে ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার পান ১৯৬৯ সালে।
- এছাড়াও তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৩ ও একুশে পদক ১৯৮৪ সালে লাভ করেন।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য পাঠ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৯২.
বিভূতিভূষণের রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) দৃষ্টি প্রদীপ
  2. খ) দেবযান
  3. গ) অশনি সংকেত
  4. ঘ) ঝরাপালক
ব্যাখ্যা
দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),দেবযান (১৯৪৪), অশনি সংকেত (১৯৫৯) হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস৷ তার প্রথম রচিত উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
ঝরাপালক (১৯২৮) হলো জীবনানন্দ দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৫৯৩.
‘১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চের কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যা’র বর্ণনা রয়েছে আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  2. দেয়াল
  3. জীবন
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• দেয়াল (উপন্যাস):
- আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘দেয়াল’।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। 
- আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে।
- সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

অন্যদিকে,
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।

================
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৩,৫৯৪.
প্রবোধচন্দ্রিকা” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
  3. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  4. উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিশিষ্ট সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ ও লেখক।
- তিনি তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- নাটোর রাজবাড়ির দরবারে লেখাপড়া করে তিনি একজন উচ্চমানের সংস্কৃত পণ্ডিতে পরিণত হন।
- বাংলা গদ্যের প্রাথমিক যুগে তিনি অন্যতম প্রধান লেখক হিসেবে বিবেচিত হন এবং উনিশ শতকের প্রথম শ্রেষ্ঠ বাংলা গদ্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। 
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে ১৮০১ সালের ৪ মে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির 'জজ-পণ্ডিত' - হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সর্বাধিক গ্রন্থের রচয়িতাহিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
-  প্রবোধচন্দ্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৯৫.
কত সালে জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে আসেন?
  1. ক) ১৭৬০
  2. খ) ১৭৯১
  3. গ) ১৭৯৯
  4. ঘ) ১৮৩৭
ব্যাখ্যা

১৭৬০ সালের ২০ এপ্রিল জোশুয়া মার্শম্যান জন্মগ্রহণ করেন ওয়েস্টবেরিলি উইলট শায়ার লন্ডনে।
১৭৯১ সালে তিনি ধর্ম যাজকতায় দীক্ষা নেন।
১৭৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর মার্শম্যান মিশনারির কাজে  ভারতের শ্রীরামপুরে আসেন। যোগদান করেন উইলিয়াম কেরির সাথে।
১৮৩৭ সালের ৫ ডিসেম্বরে জোশুয়া মার্শম্যান মৃত্যবরণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৫৯৬.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসে কোন জনগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) কৃষক
  2. খ) কামার
  3. গ) কুমোর
  4. ঘ) ধীবর
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' (১৯৫৬)। 
- এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎস্যজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম সংস্কার ও জীবন যাপনের অনবদ্য কাহিনী তুলে দেয়া হয়েছে।
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫৯৭.
'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'- উক্তিটি কোন গ্রন্থে কোন চরিত্রের কণ্ঠে উধৃত হয়েছে?
  1. কুহেলিকা- জাহাঙ্গীর 
  2. রক্তকরবী- রঞ্জন
  3. নূরলদীনের সারাজীবন- নুরলদীন
  4. কবর- মুর্দা ফকির
ব্যাখ্যা

• 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

------------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- এখানে এখন।
- নূরলদীনের সারাজীবন (কৃষক-বিদ্রোহ),

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৯৮.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৮ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২১ বছর
  4. ২৪ বছর
ব্যাখ্যা

•  সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
---------------------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার মামার বাড়িতে, যা কলকাতার কালীঘাট এলাকায় অবস্থিত।
- তাঁর আদি নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়।
- তাঁর পিতার নাম নিবারণ ভট্টাচার্য এবং মাতার নাম সুনীতি দেবী।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- কারণ তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ সমাজের নানা অনিয়ম ও দাঙ্গার বিরুদ্ধে সব সময় কলমের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন।
- নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য তার লেখনীগুলো বাঙালি পাঠক সমাজকে চিরকাল স্মরণ করাবে।
- ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- ‘কলম’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৫৯৯.
‘ঘুম থেকে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম’- এই লাইনটির লেখক বা কবি কে?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. সুফিয়া আহম্মদ
  3. আহসান হাবীব
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
- 'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুফিয়া কামাল।
- লাইনটি কবি সুফিয়া কামালের 'পল্লী স্মৃতি' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

সুফিয়া কামাল: 
- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,  
- একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) পল্লী স্মৃতি কবিতা – বেগম সুফিয়া কামাল। 
৩,৬০০.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) জামিল চৌধুরী
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
 • আহমদ শরীফ:
- আহমদ শরীফ একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,(১৯৯৮)
- বিচিত্র চিন্তা,(১৯৮৬)
- ষ্বদেশ অন্বেষা,(১৯৭০)
- স্বদেশ চিন্তা,(১৯৯৭)
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা(১৯৬৯) ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধানের সম্পাদক হলেন জামিল চৌধুরী।
- বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষের সম্পাদক সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের সম্পাদক হলে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও অন্যান্য।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।