বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৩৪ / ৭৭ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ৭,৬৪৬

৩,৩০১.
বিটিভিতে প্রচারিত শিশু–কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠানের নাম ‘নতুন কুঁড়ি’ রাখা হয়েছিল কোন কবিতা থেকে?
  1. ডালিম কুমার
  2. কিশোর
  3. হাসু 
  4. এক পয়সার বাঁশী
ব্যাখ্যা

• ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রথম প্রচারিত হয় ‘নতুন কুঁড়ি’। অনুষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছিল কবি গোলাম মোস্তফার ‘কিশোর’ কবিতা থেকে। যার প্রথম ১৫ লাইন অনুষ্ঠানের সূচনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

• স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে মোস্তফা মনোয়ারের প্রযোজনায় আবার শুরু হয় ‘নতুন কুঁড়ি’। সে সময় বিটিভির অন্যতম আলোচিত এই অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে শিশু-কিশোরদের স্বপ্নের মঞ্চ।

কিশোর- কবিতা,
– গোলাম মোস্তফা।
আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে ।

অন্যদিকে,
• জসীম উদ্‌দীনের শিশুতোষ রচনা:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট;লিংক।

৩,৩০২.
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
• উত্তম পুরুষ:
- রশীদ করীম রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের চরিত্রে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব করেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।

-------------------
• রশীদ করীম:
- তিনি ১৪ই আগস্ট, ১৯২৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭২), একুশে পদক (১৯৮৪), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯১), জনকণ্ঠ পুরস্কার (২০০১) লাভ করেন।
- তিনি ২০১১ সালের ২৬শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

• প্ৰবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৩.
'স্পেনবিজয় কাব্য' এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• 'স্পেনবিজয় কাব্য':
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী মহাকাব্য লিখতে চেয়েছিলেন। এই প্রচেষ্টার ফসল 'স্পেনবিজয় কাব্যে'। তবে বৈশিষ্ট্যের বিচারে এটি পরিপূর্ণ মহাকাব্য হয়নি।
- 'স্পেনবিজয় কাব্যে' (১৯১৪) মুসলিম বীর তারেক ও স্পেনের সম্রাট রডারিকের সংগ্রামের কাহিনি বর্ণনায় মুসলিমদের অতীত বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে।

----------------
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- স্পেনবিজয় কাব্য। 

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ, 
- রায়নন্দিনী, 
- ফিরোজা বেগম। 

• প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কিনারি জীবন,
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা। 

• ভ্রমন কাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩০৪.
'তোতা ইতিহাস' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. কামিনী রায়
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. জসীমউদ্দীন
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা

- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'।
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৩০৫.
“কেরী সাহেবের মুন্সী” কার লেখা?
  1. ক) মন্মথ রায়
  2. খ) মনীশ ঘটক
  3. গ) প্রমথনাথ বিশী
  4. ঘ) শিব্রাম
ব্যাখ্যা
প্রমথনাথ বিশী রচিত উপন্যাস ও গল্পের মধ্যে প্রধান গ্রন্থ হলো: জোড়াদিঘির চৌধুরী পরিবার (১৯৩৮), কেশবতী (১৯৪১), গল্পের মতো গল্প (১৯৪৫), ডাকিনী (১৯৪৫), ব্রহ্মার হাসি (১৯৪৮), সিন্ধুদেশের প্রহরী (১৯৫৫), চলন বিল (১৯৫৭), অলৌকিক (১৯৫৭), কেরী সাহেবের মুন্সী (১৯৫৮)।
রামরাম বসু উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান। রামরাম বসু ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৩০৬.
‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ হলো: 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর'। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
⇒ তাঁর রচিত আরেকটি রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।

⇒ আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না ও
- ফুড কনফারেন্স।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা, 
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াৎ।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০৭.
বদরুদ্দীন উমর কোন সাময়িকী সম্পাদন করেন ?
  1. ক) সংস্কৃতি
  2. খ) সবুজপত্র
  3. গ) নিরুক্ত
  4. ঘ) নারীশক্তি
ব্যাখ্যা

বদরুদ্দীন উমর একজন বাংলাদেশি মার্কসবাদী–লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) (উমর)-এর নেতা।
- তিনি সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের।
- তিনি 'সংস্কৃতি' নামে একটি রাজনৈতিক সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।
উল্লেখযোগ্য রচনা:
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৬) ইত্যাদি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]

৩,৩০৮.
হুমায়ুন কবির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. অষ্টাদশী
  2. সাথী
  3. স্বপ্নসাধ
  4. বাংলার কাব্য
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলার কাব্য
- মার্কসবাদ, 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী,

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ, 
- সাথী, 
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩০৯.
রামমোহন রায় রচিত ব্যকরণ গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) ব্যকরণ কৌমুদী
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) গোড়ীয় ব্যকরণ
  4. ঘ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় একজন সমাজসংস্কারক এবং বাংলা গদ্যের প্রস্তুতীকালীন লেখকদের একজন৷
তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যকরণ 'গৌড়ীয় ব্যকরণ' (১৮৩৩) রচনা করেন৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৩১০.
স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিক অস্থিরতাকে আশ্রয় করে রশীদ করিম রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. আমার যত গ্লানি
  3. প্রসন্ন পাষান
  4. সোনার পাথ বাটি
ব্যাখ্যা
রশীদ করিমের জন্ম কলকাতায়।
তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস -
- উত্তমপুরুষ
- প্রষন্ন পাষাণ
- আমার যত গ্লানি
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি।

প্রবন্ধ -
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিক অস্থিরতাকে আশ্রয় করে রশীদ করিম রচনা করেন 'আমার যত গ্লানি' উপন্যাসটি।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- নায়ক এরফান অন্তর্গতভাবে দহন হবার ফলে সামাজিক কঠিন বাস্তবতার কাছে বারংবার পরাজিত হয়।
- কিন্তু অন্তরাত্মাকে সজাগ রাখে বলে শেষ অবধি সে অপরাজিত থাকে।
- এই অপরাজেয় মানসিকতাই উপন্যাসের মূলসুর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩১১.
'নেমেসিস' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. নুরুল মোমেন
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১২.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. টুনি মেম
  2. শবনম
  3. চাচা-কাহিনী
  4. সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা

•'শবনম' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:

- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে,
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩১৩.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এর ঐতিহাসিক নাটক?
  1. সাজাহান
  2. পরপারে
  3. সোহরাব - রুস্তম
  4. সীতা
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এর ঐতিহাসিক নাটক সাজাহান.

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৯ জুলাই, ১৮৬৩ সালে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সমবেত কণ্ঠসঙ্গীতের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা নাটকে প্রথম দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন।
• নাটক:
• ঐতিহাসিক নাটক:
সাজাহান,
মেবার পতন , 
নূরজাহান, 
প্রতাপসিংহ, 
তারাবাঈ, 
সিংহল বিজয়, 
তাপসী।

রোমান্টিক নাটক:
সীতা, ভীষ্ম, সোহরাব- রুস্তম।

সামাজিক নাটক:
পরপারে, বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩,৩১৪.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নদীবক্ষে
  2. খ) নদী ও নারী
  3. গ) নারী
  4. ঘ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪- ১৯৭০) রচিত উপন্যাস হলো 'নদীবক্ষে'৷
তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন। তার জন্ম ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।
'আজাদ' (১৯৪৮) তাঁর আরেকটি উপন্যাস।
নাটকও রচনা করেন দু’টি, পথ ও বিপথ (১৯৩৯) এবং মানব-বন্ধু (১৯৪১)। মানব-বন্ধু পরবর্তীকালে তরুণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন-
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) জোশুয়া মার্শম্যান
  3. গ) লর্ড ওয়েলেসলি
  4. ঘ) ফোর্ট উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
লর্ড ওয়েলেসলি ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের ৪ মে কলকাতার লালবাজারে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৪ শে নভেম্বর থেকে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ ছিলেন উয়িলিয়াম কেরি।
শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৩১৬.
কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা ও মুক্তির পথ নির্দেশ করে আবুল হুসেন রচিত গ্রন্থ -
  1. বাংলার বলশী
  2. পল্লীসমাজ
  3. বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম
  4. রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল হুসেন:
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম: - বাংলার বলশী, মুসলিম কালচার ও বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
• “বাংলার বলশী” গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
• রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন ।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

অন্যদিকে,
- ‘পল্লীসমাজ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- ‘বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম’ ও ‘রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ’ সত্যের সেন রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩১৭.
'এখন দুঃসময়' নাটক কে রচনা করেছেন?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. মাহমুদুল হক
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'এখন দুঃসময়' নাটক আবদুল্লাহ আল মামুন রচনা করেছেন।

• আব্দুল্লাহ আল মামুন:

- তিনি একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মৃত্যু ২১ আগস্ট ২০০৮।

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- সেনাপতি,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা,

• তাঁর লিখিত উপন্যাস:
- মানব তোমার সারা জীবন,
- হায় পার্বতী,
- খলনায়ক,
- আহ্ দেবদাস,
- তাহাদের যৌবনকাল,
- এই চুনীলাল,
- গুন্ডাপান্ডার বাবা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩১৮.
'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন-
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. জোশুয়া মার্শম্যান
  3. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।

- তরুণ হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৬ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৮ সালে 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন' নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

- 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।

---------------
ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
• 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী। 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
• ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: 'একেই কি বলে সভ্যতা'।
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী।
• 'ইয়ং বেঙ্গলে' ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৩১৯.
'বনস্পতি' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শহীদ কাদরী
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ্র রচিত গল্প- বনস্পতি, ইঁদুর, দাঙ্গা, সংকেত, স্বপ্ন ইত্যাদি। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৩২০.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ফেরারী ফৌজ
  2. হরিণ চিতা চিল
  3. প্রথমা
  4. প্রতিশোধ
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত উপন্যাস: প্রতিশোধ।

অন্যদিকে, 
ফেরারী ফৌজ, হরিণ চিতা চিল, প্রথমা - প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩২১.
বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ - 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৩২২.
বাংলা সাহিত্যের কিশোরকবির জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ছাড়পত্র
  2. খ) ঘুম নেই
  3. গ) পূর্বাভাস
  4. ঘ) আকাল
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য কিশোরকবি হিসেবে পরিচিত৷
তার রচিত গ্রন্থের নামঃ ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, হরতাল, গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি।
সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ হচ্ছে ‘আকাল’।
মাত্র বিশ বছর বয়সে এ কবির অকাল প্রয়াণ ঘটে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩২৩.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. জবানবন্দী
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
• 'রাজবন্দীর রোজনামচা' :
- "রাজবন্দীর রোজনামচা" শহীদুল্লা কায়সার রচিত একটি বিখ্যাত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ, যেখানে তিনি তাঁর রাজনৈতিক বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিগুলো তুলে ধরেছেন।
- শহীদুল্লা কায়সারে আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনা নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ 'রাজবন্দীর রোজনামচা'। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন- আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

প্রথম সংস্করণের ভূমিকা তিনি লেখেন:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি। কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই। এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী। আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

উৎস 'রাজবন্দীর রোজনামচা' শহীদুল্লা কায়সার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৩২৪.
জেলে জীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস- 
  1. গঙ্গা
  2. পুতুলনাচের ইতিকথা
  3. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

• গঙ্গা:
- সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা ‘গঙ্গা’ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট অবিভক্ত ২৪ পরগনার গঙ্গাতীরবর্তী মৎস্যজীবী সমাজের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এখানে জেলে-জীবনের অনিশ্চয়তা, প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই, ক্ষুদ্র আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের বিশ্বাস–সংস্কারের বাস্তব চিত্র জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
- লেখক চরিত্রকে আলাদা করে নয়, বরং পুরো জেলে-সমাজের সামষ্টিক টানাপোড়েনকে প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
- গল্পে নিবারণ, তার ভাই পাঁচু, ছেলে বিলাস, হিমি, পাচী (ছায়া), বশীর, রসিক, দুলাল, অমর্তের বউ, দামিনী, আতর, ব্রজেন ঠাকুর—এমন বহু চরিত্র রয়েছে।
- কিন্তু মূল কেন্দ্রে রয়েছে নিবারণ;
-তাকে ঘিরেই উপন্যাসে নির্মিত।
- সমগ্র উপন্যাসে গঙ্গা নদী যেন নিজেই এক শক্তিশালী চরিত্র, যার বুকে জেলেদের টিকে থাকার লড়াই উপন্যাসের প্রধান সুর।

অন্যদিকে,
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা এমন এক উপন্যাস, যেখানে গ্রামের মানুষদের জীবনকে নিয়তির বাঁধনে আটকে থাকা পুতুলের মতো দেখানো হয়েছে।
- গল্পে দেখা যায় যে, ডাক্তার শশী শহর থেকে গ্রামে ফিরে আসার পর কুসুমের প্রতি তার পুরনো অনুভূতি আবার জেগে ওঠে।
- কিন্তু গ্রাম্য পরিবেশ, মানুষজনের কথা, আর নিজের দ্বিধা–দ্বন্দ্ব তাকে এগোতে দেয় না।
- শশী, কুসুম, পরাণ ও অন্যদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে মানুষের ভালোবাসা, হতাশা, ভীতি এবং নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতার যন্ত্রণা ধরা পড়ে।
- পুরো উপন্যাসে ‘পুতুলনাচ’ মূলত এই কথাই বুঝিয়েছে যে, মানুষ যেন সমাজের সুতোয় বাঁধা, নিজের চাওয়া-পাওয়া থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির দোলনায় নড়ে।
- শশী–কুসুমের অসম্পূর্ণ সম্পর্ক সেই সীমাবদ্ধ জীবনেরই প্রতীক।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাঁসুলী বাঁকের উপকথা মূলত একটি গ্রামীণ সমাজের পরিবর্তনের গল্প।
- বীরভূমের হাঁসুলী বাঁক এলাকার কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের পুরোনো বিশ্বাস ও আচার;
- এবং নতুন যুগের প্রভাবের সঙ্গে তাদের টানাপোড়েন - সব মিলিয়ে এই উপন্যাসে গ্রামবাংলার বাস্তবতা ও সামাজিক রূপান্তরের শক্তিশালী চিত্র ফুটে উঠেছে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গৃহদাহ
প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালে ভারতবর্ষ পত্রিকায়।
- উপন্যাসের কেন্দ্র গড়ে উঠেছে অচলা, সুরেশ ও মহিম এই তিনজনের ত্রিভুজ প্রেমের গল্প নিয়ে।
- যেখানে প্রেমের সাথে যুক্ত হয় সন্দেহ, সংঘাত ও মানসিক টানাপোড়েন।
- অচলাকে ঘিরে মহিম ও সুরেশের দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে গভীর সংকটে পরিণত হয়।
- এখানে ‘গৃহদাহ’ মানে শুধু ঘরের আগুন নয় বরং মানুষের ভেতরের ভালোবাসার ঘর পুড়ে যাওয়াও বোঝায়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৩২৫.
'সুরধুনী কাব্য' এর রচয়িতা-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
'সুরধুনী কাব্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- দীনবন্ধু মিত্র।
- সুরধুনী কাব্য হিমালয় থেকে গঙ্গাদেবীর সাগরসঙ্গমে যাত্রার ছন্দোবদ্ধ বর্ণনা।
- এতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জনপদ এবং বঙ্গদেশ ও সমকালীন কলকাতার বিশিষ্ট স্থান ও স্মরণীয় ব্যক্তিদের চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক 

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৬.
'এখনও ক্রীতদাস' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'এখনও ক্রীতদাস'- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একটি নাটক।

'এখনও ক্রীতদাস'
নাটক 
-
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে
প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 

আবদুল্লাহ আল মামুন
- - আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৭.
পাঞ্জেরী কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) সিরাজুম মুনিরা
  2. খ) মুহূর্তের কবিতা
  3. গ) নৌফেল ও হাতেম
  4. ঘ) সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

- পাঞ্জেরী কবিতাটি ফররুখ আহমদ রচিত সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি কবির প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- পাঞ্জেরী কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যগ্রন্থের ১৯টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-সাত সাগরের মাঝি, পাঞ্জেরী,সিন্দাবাদ, আকাশ-নাবিক প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৩,৩২৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯০৭ সালে
  4. ১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 

------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
-  ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে  বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩২৯.
অমর একুশের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ক) বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
  2. খ) স্মৃতিস্তম্ভ
  3. গ) কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি।
  4. ঘ) একুশে ফেব্রুয়ারি।
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
- কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় ছাপা হয় কবিতাটি। 

- প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার ধ্বংসের প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আজাদ লিখেন 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি। 
- একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- 'বর্ণমালা, আমার দুঃখীনি বর্ণমালা' কবিতাটি শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থের অন্তুর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩০.
'চোরাবালি' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩১.
বুলবুল চৌধুরী খ্যাত-
  1. ক) অভিনয়ের জন্য
  2. খ) নৃত্যের জন্য
  3. গ) ছবি আঁকার জন্য
  4. ঘ) লেখক হিসাবে
ব্যাখ্যা

বুলবুল চৌধুরী (১৯১৯-১৯৫৪): নৃত্যশিল্পী, লেখক।
- প্রকৃত নাম রশীদ আহমদ চৌধুরী, ‘বুলবুল চৌধুরী’ তাঁর ছদ্মনাম।
- ১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার চুনতি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩৭ সালে ওরিয়েন্টাল ফাইন আর্টস অ্যাসোসিয়েশন (OFA) প্রতিষ্ঠায় বুলবুল চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৩২.
’অনলপ্রবাহ’-গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

'অনল প্রবাহ'
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ:
- এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।
-------------------- 
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: 
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ, 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস, 
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য, 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম, 
- নূরুদ্দীন। 

• তাঁর রচিত  প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন, 
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা। 

• ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৩৩.
গদ্যে প্রথম সংস্কৃত ব্যাকরণ রচনা করেন -
  1. ক) অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. খ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- গদ্যে প্রথম সংস্কৃত ব্যাকরণ রচনা করেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ের একজন বিশিষ্ট লেখক হসেবেও উল্লেখযোগ্য।
- ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ ও ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি সুপরিচিত।
- তিনি ‘ঋগ্বেদে’র প্রথম বঙ্গানুবাদের সূত্রপাত করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
৩,৩৩৪.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটির লেখক কে?
  1. নীহাররঞ্জন রায়
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. আব্দুল করিম
ব্যাখ্যা
• 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটির লেখক - নীহাররঞ্জন রায়। 

নীহাররঞ্জন রায়:

- তিনি ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন। 
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art,
- বাঙ্গালীর ইতিহাস,
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting,
- The Sikh Gurus and the Sikh Society,
- Dutch Activities in the East,
- An Approach to Indian Art।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩৫.
নিচের কোনটি স্মৃতিকথা নয়?
  1. ক) আমার বিশ্বাস
  2. খ) স্মৃতির নোটবুক
  3. গ) শ্রাবন্তীর দিনরাত্রি
  4. ঘ) ভেসেছিলাম ভাঙ্গা ভেলায়
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ এর রচিত স্মৃতিকথা হলোঃ আমার বিশ্বাস (১৯৮৮), স্মৃতির নোটবুক (২০০১), ভেসেছিলাম ভাঙ্গা ভেলায় (২০০৯), মিটিলনা সাধ ভালবাসিয়া তোমায়(২০১২)। শ্রাবন্তীর দিনরাত্রি হলো তার রচিত উপন্যাস। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,৩৩৬.
'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. খোয়ারি
  2. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  3. দুধেভাতে উৎপাত
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা

• 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
মিলির হাতে স্টেনগান গল্পটির প্রেক্ষাপট বাহাত্তর বা তিয়াত্তর সালের ঢাকা শহর। মা, বাবা, দুই ভাই ও এক বোন নিয়ে মিলিদের পরিবার। বড় ছেলে রানা একজন মুক্তিযোদ্ধা। অস্ত্র জমা দেয়নি সে, নিজের কাছেই লুকিয়ে রেখেছে তার স্টেনগানটি।

না, দীর্ঘ নয় মাসের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দোদুল্যমান প্রতিটি মুহূর্তের বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে অস্ত্রটির প্রতি একান্ত ভালবাসা থেকে স্টেনগানটি রেখে দেয়নি রানা, বরং এই অস্ত্রটিকেই বর্তমানে টিকে থাকার অবলম্বন হিসেবে এখনো সযত্নে আগলে রেখেছে সে।

অবশ্য শুধু টিকে থাকার ব্যাপারে সাহায্য করাই যে স্টেনগানটির মূল লক্ষ্য, তা কিন্তু নয়। বরং মাঝেমধ্যে আনকোরা নতুন টিভি সেট বা অন্য কোনো গৃহসজ্জার উপকরণ হস্তগত করার কাজেও যে অস্ত্রটি এখনো সফল পার্শ্বচর হিসেবে রানার সাথে সাথে অবস্থান করে, গল্পটি পড়ে তা বুঝতে বেগ পেতে হয় না।

কিন্তু যত সমস্যা বাঁধাচ্ছে আব্বাস পাগলা। এই ‘থরোব্রেড বাস্টার্ড’টা নির্লজ্জের মতো রানার কাছে তার সাধের স্টেনগানটা চেয়ে বসে। আব্বাস পাগলার ভাষ্যমতে, চাঁদের মধ্যে নাকি দখলদার বাহিনী ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। সেই হানাদারদের গুষ্টির পিণ্ডি চটকানোর জন্য রানার স্টেনগানটাই যথেষ্ট আব্বাস পাগলার জন্য।

--------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্প; 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,৩৩৭.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) জাপান যাত্রী
  2. খ) ইউরোপের যাত্রী
  3. গ) ইউরোপের চিঠি
  4. ঘ) পশ্চিমের যাত্রী
ব্যাখ্যা
‘ইউরোপের চিঠি’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
তার রচিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ কাহিনী ‘পথে প্রবাসে’।

অন্যদিকে, 
'জাপান-যাত্রী' (১৯১৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
'পশ্চিমের যাত্রী' (১৯৩৮) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৩৮.
‘উত্তরাধিকার’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সিকদার আমিনুল হক
  2. শহীদ কাদরী
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্য ‘উত্তরাধিকার’। এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো :
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৩৩৯.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকার নাম কি?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) সমকাল
  3. গ) সমাচার দর্পণ
  4. ঘ) যুগবাণী
ব্যাখ্যা
- সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল।
- সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

• সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- নবী কাহিনী।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪০.
ইতিহাসগ্রন্থ 'মহাবিদ্রোহের কাহিনী' রচনা করেন কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সুকুমার রায়
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
ইতিহাসগ্রন্থ 'মহাবিদ্রোহের কাহিনী' রচনা করেন - সত্যেন সেন

সত্যেন সেন:

- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪১.
‘বাঙলা’ চলচ্চিত্রটি কোন উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত?
  1. যাত্রা
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. ওঙ্কার
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

অন্যদিকে,
• ‘যাত্রা’ শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
• সেলিনা হােসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস  ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (১৯৭৬)।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'নেকড়ে অরণ্য'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪২.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. নয়া খান্দান
  2. আলোছায়া
  3. নেমেসিস
  4. রূপলেখা
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

------------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

• তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বহুরূপা,
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৪৩.
'পথে প্রবাসে' একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কবিতা
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনীগুলো হলোঃ পথে প্রবাসে (১৯৩১), ইউরোপের চিঠি (১৯৪২) ইত্যাদি।
- গদ্যভাষায় বীরবলী (প্রমথ চৌধুরীর মত) চমক ও গভীর মননশীলতা তার রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- তিনি মূলত দক্ষ কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার হিসেবে পরিচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪৪.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

------------------------
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৩৪৫.
“ঠাকুরমার ঝুলি”- গ্রন্থটির সংকলক কে?
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

• ঠাকুরমার ঝুলি:
- বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে। কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। 
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র রচিত গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি
- ঠাকুরদাদার ঝুলি
- দাদা মশায়ের থলে
- ঠানদিদির থলে
- খোকা বাবুর খেলা
- আমাল বই 
- কিশোরদের মন
আরো কিছু তথ্য:
            - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার ‘দৃষ্টিহীন’ ছদ্মনামে লিখতেন।
            - তিনি বাংলায় বিজ্ঞানের পরিভাষা রচনা করতেন।
            - তিনি রূপকথার লেখক হিসেবে রবীন্দ্রানাথ ঠাকুরের প্রশংসা লাভ করেন।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪৬.
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত 'নেকড়ে হায়েনা' একটি-
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত 'নেকড়ে হায়েনা' একটি ছোট গল্প।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ:

- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:

- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- কবিতা জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ,
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা,
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ,
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা,
- মাছ সিরিজ,
- সকল প্রশংসা তাঁর,
- নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৪৭.
বাইবেলের কাহিনী অবলম্বন করে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনার কৃতিত্ব কার?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মধুসূদন মজুমদার
  3. সত্যেন সেন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে সত্যেন সেনই প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি বাইবেলের কোনো কাহিনীকে আশ্রয় করে উপন্যাস রচনা করেছেন।
- বাইবেলের 'বুক অব দ্যা প্রফেট: যেরেমিয়া খন্ড' অবলম্বনে 'অভিশপ্ত নগরী' (১৯৬৭) উপন্যাস রচনা করেন।
- অভিশপ্ত নগরীর দ্বিতীয় খণ্ড হিসাবে পরিকল্পিত 'পাপের সন্তান' (১৯৬৯) শুধু সত্যেন সেনের নয়, বাংলা সাহিত্যেরও অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- পাপের সন্তান - উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজি পুরস্কার লাভ করেন। 
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৩৪৮.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- উক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী- পালামৌ। এটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রমথনাথ বসু ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়। বিহারের পালামৌ এলাকার পাহাড়ী অঞ্চলের কোল উপজাতির জীবনাচার এবং তাদের সাথে লেখকের যাপিত জীবনের দিনলিপির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিয়ে লেখা এই ভ্রমণ সাহিত্যটি। এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তি- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।'
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৩৪৯.
মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দ:
- সোমেন চন্দ ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক। পূর্ণ নাম সোমেন্দ্রকুমার চন্দ। ১৯২০ সালের ২৪ মে নরসিংদিতে তাঁর জন্ম।

- তিনি ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৯৩৬) পাস করে ঢাকা মিটফোর্ড মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হন, কিন্তু অসুস্থতার কারণে লেখাপড়া ছেড়ে দেন। তারপর তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘ-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।

- ১৯৩৯ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত সোমেন চন্দের সাহিত্যজীবনের পরিধি। তাঁর জীবদ্দশায় গ্রন্থাকারে কোনো রচনা প্রকাশিত হয়নি; অধিকাংশ রচনাই প্রগতি লেখক সংঘের সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক বৈঠকে পঠিত হতো।

- সংঘের ক্রান্তি (১৯৪০) নামক সংকলনে তাঁর ‘বনস্পতি’ গল্পটি প্রকাশিত হয়। মৃত্যুর পর ঢাকা থেকে সংকেত ও অন্যান্য গল্প (১৯৪৩) এবং কলকাতা থেকে বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প (১৯৪৪) প্রকাশিত হয়।

- রণেশ দাশগুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তাঁর সমগ্র রচনা সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ (১৯৭৩)।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৫০.
‘ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ’ কে বলেছেন?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ড. রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- প্রখ্যাত ভাষা বিজ্ঞানী মুনীর চৌধুরীকে সম্ভবত কেউ জিজ্ঞাসা করেছিলেন তাঁর মাতৃভাষা কী? তিনি তখন একটি অত্যাশ্চর্য উত্তর দিয়েছিলেনঃ
‘‘আমার মাতৃভাষা কী? বাংলাভাষা। সমগ্র বাংলাভাষা। বিচিত্র রূপিনী বাংলাভাষা। অভিধানে আছে ষোড়শ রমণী মাতৃ সম্বোধনীযোগ্যা। শ্মশ্রু থেকে তনয়া, গর্ভধারিণী থেকে পিতৃরমণী। ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ। তারা সব পদ্মিনীর সহচরী। আমার মাতৃভাষা তিব্বতের গুহাচারী, মনসার দর্পচূর্ণকারী, আরাকানের রাজসভার মণিময় অলঙ্কার, বরেন্দ্রভূমির বাউলের উদাস আহ্বান, মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা। আমার মাতৃভাষা বাংলাভাষা’’।

৩,৩৫১.
'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' ভ্রমণ কাহিনির রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন': 
- এই ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

----------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।

অন্যদিকে,
• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ভ্রমণকাহিনি - তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,৩৫২.
মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করা হয়েছে কোন প্রবন্ধে?
  1. ক) শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  2. খ) সভ্যতার সংকট
  3. গ) শিক্ষার মিলন
  4. ঘ) মানুষের ধর্ম
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর (১৯০৩-১৯৫৬) জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের।
- তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ ‘মানুষের ধর্ম’।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ ‘শিক্ষার মিলন’ ও ‘সভ্যতার সংকট’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৫৩.
"হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো"- পঙক্তিদ্ব কার রচনা?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. রফিক আজাদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত পঙক্তিটি রফিক আজাদ রচিত ‘নত হও, কুর্নিশ করো’ কবিতার অন্তর্গত।

নত হও, কুর্নিশ করো
রফিক আজাদ--সংকলিত (রফিক আজাদ)   

হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,
তোমার উদ্ধত আচরনে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খ
পেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ,

অতএব, নত হও, বিনীত ভঙিতে করজোড়ে
ক্ষমা চাও, পায়ে পড়ো, বলো: কদ্যপি এমনটি হবে না, স্যার,
বলো: মধ্যবিত্ত হে বাঙালী ভদ্রমহোদয়গণ,
এবারকার মতো ক্ষমা করে দিন…

========
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে
- সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৪.
‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) কাজী মোতাহার হোসেন
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর রচিত ‘সংস্কৃতি-কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থটি ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৩৫৫.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. স্বদেশী আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

------------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৬.
কাব্যধর্মী নাটক কোনটি?
  1. ক) স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা
  2. খ) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  3. গ) চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারী
  4. ঘ) নূরুলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা
'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। 

নুরুলদীনের সারাজীবন
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

 সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৭.
মৈমনসিংহ গীতকা নয়?
  1. রূপবতী
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. কাজলরেখা
  4. ভেলুয়া
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতকা নয় হচ্ছে - ভেলুয়া।

মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
কাজলরেখা
১০. দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৫৮.
লেখক আনিসুজ্জামান কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন?
  1. ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
• ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
• তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন। এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে (১৯৭৬)
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (১৯৮৩)
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে (২০০০)
- কাল নিরবধি (২০০৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৯.
কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. জাগরী
  2. আরণ্যক
  3. মালঞ্চ
  4. যমপুরান
ব্যাখ্যা
• 'জাগরী' উপন্যাস:
- এটি সতীনাথ ভাদুড়ী রচিত উপন্যাস। 
-  ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত জাগরী  উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- এটি রাজনৈতিক  উপন্যাস হিসেবে বাংলা সাহিত্যে এর একটি বিশেষ স্থান আছে। 

• সতীনাথ ভাদুড়ী:
- তিনি কথাশিল্পী, রাজনীতিক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘চিত্রগুপ্ত’।
- ১৯০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিহারে পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায় তাঁর জন্ম।

অন্যদিকে,
⇒ ‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’। 
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

⇒ ‘মালঞ্চ’ উপন্যাস:
- মালঞ্চ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস।
- ১৯৭৯ সালে পরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রী 'মালঞ্চ' চলচ্চিত্রায়িত করেন।
- নীরজা, আদিত্য, সরলা এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬০.
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) রচিত বিখ্যাত কবিতা হলো ‘কোন এক মাকে’। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। তার রচিত কালজয়ী কবিতা ‘ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' এবং ‘মাগো, ওরা বলে'(ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে)।তিনি ‘পদাবলি’ নামে কবিদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,৩৬১.
"মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. যাত্রা
  2. পালামৌ
  3. রামেশ্বরের অদৃষ্ট
  4. জলপ্রতাপ চাঁদ
ব্যাখ্যা
⇒ পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য- 
- “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

⇒ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬২.
ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. জাহানারা ইমাম
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা।
- শিখা স্ত্রিকার মুখবাণী ছিল -"জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব"।

তাঁর উলেখযোগ্য অন্যান্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
-নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬৩.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. শিখা
  2. প্রগতি
  3. সাহিত্য
  4. নবশক্তি
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:
- তিনি ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি। 
- তার সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬৪.
কোন ঔপন্যাসিকের চারটি উপন্যাস একত্রে 'শতবর্ষ' নামে সংকলিত হয়েছে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রমেশচন্দ্র দত্ত
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'শতবর্ষ' সংকলন গ্রন্থ:
• রমেশচন্দ্র দত্ত চারটি ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা করেন: বঙ্গ বিজেতা, মাধবী কঙ্কণ, রাজপুত জীবন সন্ধ্যা ও মহারাষ্ট্র জীবন প্রভাত।
• প্রথম দুটি উপন্যাসে তিনি সম্রাট আকবর কর্তৃক বাংলা বিজয়, তৃতীয়টিতে আকবরের বিরুদ্ধে রানা প্রতাপ সিংহের সংগ্রাম এবং চতুর্থটিতে শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির অভ্যুদয়ের কাহিনি বর্ণনা করেন। 
• সব কটি উপন্যাসই ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুঘল সাম্রাজ্যের শতবর্ষের ইতিহাসের ঘটনা নিয়ে এই উপন্যাসগুলি রচিত হয়েছিল বলে এগুলি একসাথে “শতবর্ষ” (১৮৭৯) নামে সঙ্কলিত হয়েছিল।

• রমেশচন্দ্র দত্ত:
- রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চিন্তাবিদ এবং সুপণ্ডিত ব্যক্তি।
- তিনি লেখার কাজকে তাঁর ’প্রথম প্রেম’ হিসেবে অভিহিত করেন।
- তাঁর প্রথম লেখা Three Years in Europe ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর দ্বিতীয় লেখা Bengal Peasantry গ্রন্থ ১৮৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- দুবছর পর প্রকাশিত হয় Bengali Literature শীর্ষক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

• তিনি দুটি সামাজিক উপন্যাস সমাজ ও সংসার রচনা করেন। প্রথমটিতে হিন্দুসমাজে বিধবা বিবাহ এবং দ্বিতীয়টিতে বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
• বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপর একটি অবদান হচ্ছে বাংলায় ঋগ্বেদ-এর অনুবাদ (১৮৮৫)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।
৩,৩৬৫.
’জননী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত ওসমান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
•  জননী:
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত শওকত ওসমানের প্রথম উপন্যাস।
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা গোপনে যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারেন, শওকত ওসমান সে কথাই এ উপন্যাসে ব্যক্ত করেছেন।
- মহেশডাঙ্গার দরিয়াবিবি সন্তান মোনাদি'কে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়।
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলেও সামাজিক সকল বিপত্তি এড়িয়ে অসীম মমতায় তাকে লালন-পালন করে।
- এ উপন্যাসে ফুটে উঠেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানদের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষদের পারস্পরিক বিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
- ওসমান জামাল এটি ইংরেজিতে 'জননী' (১৯৯৩) নামেই অনুবাদ করে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- উপন্যাসের চরিত্র: দরিয়া বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্ৰকোটাল।
------------------------------
শওকত ওসমান:
- বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান।
- শওকত ওসমান ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে হুগলীর সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

তাঁর রচিত একটি নাটক:
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬৬.
‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত একটি-
  1. কবিতা
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।
----------------------
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৬৭.
আত্মজা ও একটি করবী গাছ - গল্পের রচয়িতা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পটি রচনা করেন হাসান আজিজুল হক
এটি দেশভাগের পর সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে রচিত।
তার অন্যান্য গল্পের মধ্যে রয়েছে -
নামহীন গোত্রহীন,
রোদে যাবো,
পাতালে হাসপাতালে,
জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

৩,৩৬৮.
কোনটি নাটক?
  1. কর্তার ইচ্ছায় কর্ম
  2. গড্ডলিকা
  3. পল্লীসমাজ
  4. সাজাহান
ব্যাখ্যা
• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 

অন্যদিকে, 
• 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ।
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'।
• 'কর্তার ইচ্ছায় কর্ম' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ। 

---------------
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
-  ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে  বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬৯.
অভিধান-প্রণেতা ছিলেন নিচের কোন লেখক?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. আবু ইসহাক
  3. আহসান হাবীব
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও অভিধান-প্রণেতা।

• অভিধান প্রণেতা হিসেবেও আবু ইসহাকের একটি বিশিষ্ট পরিচয় আছে। তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন। তাঁর প্রণীত অভিধানের বিশেষত্ব হলো শব্দের শুধু অর্থ নয়, সব ধরনের প্রতিশব্দ বা সমর্থক প্রদান। তাঁর অভিধানে ‘অন্ধকার’ শব্দের ১২৭টি সমর্থক শব্দ আছে।

-------------
অন্যদিকে, 
• আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক ও অভিনেতা।
• আহসান হাবীব ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। 
• কাজী ইমদাদুল হক ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা শিক্ষক। 

---------------------
আবু ইসহাক রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়। পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।

• বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী '(১৯৫৫)। উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে। সূর্য দীঘল বাড়ীর চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ' (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এ উপন্যাস রচিত হলেও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি অপরিবর্তিত রয়েছে। আবু ইসহাকের উপন্যাসেরই মূল উপজীব্য অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম। ফলে তাঁর উপন্যাসে এক ধরনের ব্যর্থ দ্রোহ-চেতনাও সক্রিয় হতে দেখা যায়।

• তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটিতহারেম (১৯৬২) ও মহাপাত্র (১৯৬৩)। উপন্যাসের অনুরূপ গল্পগুলিতে ভূমিহীন মানুষ, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ্য-পীড়িত মানুষের জীবন এবং বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের জীবনের নানা সমস্যা স্থান পেয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৭০.
কার হাত ধরে বাংলা গীতিকবিতার সূচনা হয়? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৭১.
সুন্দরবনের জনবিরল পরিবেশে রচিত শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর উপন্যাস কোনটি?
  1. কাঞ্চনমালা
  2. সমুদ্র বাসর
  3. জায়জঙ্গল
  4. কাঞ্চনগ্রাম
ব্যাখ্যা
• জায়জঙ্গল:
- সুন্দরবনের জনবিরল বনজঙ্গলঘেরা পরিবেশে  'জায়জঙ্গল' (১৯৭৩) উপন্যাস রচিত। সে দিক থেকে এটিকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা চলে।
- উপন্যাসের একটি চরিত্রও সুন্দরবন অঞ্চলের নয়, উপন্যাসের পটভূমিই কেবল সুন্দরবন। তবে এ অঞ্চলের বর্ণনা দিতে ঔপন্যাসিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। 
- যে মানুষগুলোর চিত্র এ উপন্যাসে আছে তারা সেটেলার; জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের চাপে তারা পিতৃপুরুষের নিবাসভূমি পরিত্যাগ করে সমুদ্রতীরবর্তী শ্বাপদসংকুল সুন্দরবন অঞ্চলে বাস করতে বাধ্য হয়েছে। 
- ফেরারি খুনি, জেলপলাতক আসামি, গোপন বিপ্লবী, পলাতক প্রেমিক-প্রেমিকারা একত্র হয়ে গড়ে তোলে 'জায়জঙ্গলে'র জগৎ। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়নাল শেখ, মিন্নত আলি, যুবতী সাজু, মহাজন জলিল মিয়া। 
- উপন্যাসের ঘটনা উপস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে লেখক মৎস্যশিকার, নানা বিশ্বাস-অবিশ্বাস, জাদু-টোনা ইত্যাদির মাধ্যমে আঞ্চলিকতা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন।

• শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা, 
- কাশবনের কন্যা, 
- কাঞ্চনমালা, 
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৭২.
'চির সুখীজন ভ্রমে কি কখন, ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে; কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।'- এই পঙ্কতির রচয়িতা কে?
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) মদনমোহন তর্কালংকার
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭): সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ - ‘সদ্ভাবশতক’ প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
বাল্যকালে তাঁর ছদ্মনাম ছিল - রামচন্দ্র দাস, সংক্ষেপে রাম। তাই পরিণত বয়সে তিনি ‘রামের ইতিবৃত্ত’ (১৮৬৮) নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন।
মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে রচিত তাঁর অপর গ্রন্থ হলো - ‘মোহভোগ’ (১৮৭১)। ‘কৈবল্যতত্ত্ব’ (১৮৮৩) তাঁর একটি দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক ‘রাবণবধ’।
তাঁর কবিতার অনেক পঙ্ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ, যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে; কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।’ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
৩,৩৭৩.
কোনটি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক দিনলিপি গ্রন্থ?
  1. ফেরারী ডায়েরী
  2. একাত্তরের দিনগুলি
  3. ফেরারী সূর্য
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
• মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিদিনের ঘটনাবলী নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত দিনলিপি হচ্ছে ‘ফেরারী ডায়েরী’।

------------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

অন্যদিকে,
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
• রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - ফেরারী সূর্য।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘নরকে লাল গোলাপ’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৭৪.
'আনোয়ার পাশা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) ইবরাহীম খাঁ
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ইব্রাহীম খাঁ পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- এছাড়াও তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ- 
- কামাল পাশা (১৯২৭),
- আনোয়ার পাশা (১৯৩৯),
- ঋণ পরিশোধ (১৯৫৫),
- আলু বোখরা (১৯৬০),
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র (১৯৫৪),
- বাতায়ন (১৯৬৭),
- ব্যাঘ্র মামা (১৯৫১) এবং
- বেদুঈনদের দেশে (১৯৫৬) প্রধান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৭৫.
'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. আহমেদ শরীফ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধের লেখক - মোতাহের হোসেন চৌধুরী

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:

- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ, 
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৭৬.
সেলিম আল দীন রচিত কোন নাটকটি নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় রচিত?  
  1. হাতহদাই 
  2. নিমজ্জন
  3. চাকা 
  4. হরগজ
ব্যাখ্যা

• ​হাতহদাই:
​- সেলিম আল দীন রচিত হাতহদাই নাটকটি নোয়খালির আঞ্চলিক ভাষায় রচিত।

- ​হাত হদাই সবদ্যার মানে সাত সদাই সাত রকমের সওদা।
​- এক নাটকে নোয়াখালী অঞ্চলের এক গ্রামের মৌলবির মুখের আঞ্চলিক ভাষাও যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সে কথা প্রতিষ্ঠিত।

​অন্যদিকে,
​- হরগজ,চাকা ও নিমজ্জন আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নয়।

​সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- তাঁর রচিত হরগজ নাটকটি সুইডিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল কর্তৃক হিন্দি ভাষায় মঞ্চস্থ হয়েছে।

​ উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা,
- হরগজ,
- একটি মারমা রূপকথা,
- বনপাংশুল,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩,৩৭৭.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত - 
  1. কাঙাল হরিনাথ
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৩৭৮.
'দোজখের ওম' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প সংকলন
  3. কাব্যনাট্য
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'দোজখের ওম' গল্প সংকলন:
- 'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ছোটগল্প সংকলন।
- এটি ১৯৮৯ সালে ঢাকার প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়।
- 'দোজখের ওম' নামে এই গল্পগ্রন্থে একটি নামগল্প রয়েছে।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প।

এগুলো হচ্ছে-
- কীটনাশকের কীর্তি,
- যুগলবন্দি,
- অপঘাত ও
- দোজখের ওম।

উৎস: 'দোজখের ওম' গল্প সংকলন।
৩,৩৭৯.
‘নুরুল হুদা, নবকুমার ও অমল’ কোন গ্রন্থগুচ্ছের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে, কপালকুণ্ডলা ও দেনাপাওনা
  2. মালঞ্চ, দুর্গেশনন্দিনী ও পোস্টমাস্টার
  3. বাঁধন-হারা, কপালকুণ্ডলা ও ডাকঘর
  4. কুহেলিকা, রাজসিংহ ও প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘নুরুল হুদা, নবকুমার ও অমল’ বাঁধন-হারা, কপালকুণ্ডলা ও ডাকঘর গ্রন্থেসমূহের চরিত্র।

• ‘বাঁধন হারা' উপন্যাস:

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।

অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে-
- রবিউল,
- রাবেয়া,
- সােফিয়া,
- মাহবুবা প্রমুখ।

----------------------------
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য এটাকে 'রোমান্স' ধর্মী উপন্যাস বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

-----------------------
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। 
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক। 
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৮০.
কাজী নজরুল ইসলামের 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থে কয়টি গল্প আছে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
শিউলিমালা (১৯৩১) গল্পগ্রন্থে মোট চারটি গল্প আছে- পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি ও শিউলিমালা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৩৮১.
"আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে, বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মত ডাকতে।" - কোন কবির শিশু সাহিত্য?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. সুকুমার রায়
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• "আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে, বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মত ডাকতে।" - কবিতাংশটুকু কবি আল মাহমুদের 'পাখির মতো' কবিতার অংশবিশেষ। 

পাখির মতো - কবিতা,
- আল মাহমুদ।
 
আম্মা বলেন, পড়রে সোনা
আব্বা বলেন, মন দে;
পাঠে আমার মন বসে না
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।
আমার কেবল ইচ্ছে জাগে
নদীর কাছে থাকতে,
বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে
পাখির মতো ডাকতে।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
কর্ণফুলীর কূলটায়,
দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি
ফেরেস্তারা উল্টায়।
------------------
• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদের প্রকৃত নাম: মির আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'। 
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
 
কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম।
৩,৩৮২.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. প্ৰথমা
  3. বিমুখ প্রান্তর
  4. রাজা যায় রাজা আসে
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরবর্তীতে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন।
-  অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন ' একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পাদনা করেন তিনি।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - বিমুখ প্রান্তর।

•  তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত রচিত গল্প: 
- আরো দুটি মৃত্যু।

অন্যদিকে,
’প্রেমেন্দ্র মিত্র’ রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘প্ৰথমা’।
’আবুল হাসান’ রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘‘রাজা যায় রাজা আসে'’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৮৩.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থের নাম কী?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. শবনম
  3. দেশে বিদেশে
  4. অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা

- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য, 
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৮৪.
'টুনি মেম' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত - 
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক 
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,

ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

গল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,৩৮৫.
‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ লিখেছেন কে?
  1. ক) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. খ) শেখ ওয়াজেদ আলি
  3. গ) বদরুদ্দীন ওমর
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• শেখ ওয়াজেদ আলি:
- শেখ ওয়াজেদ আলি প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
-  ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি এস ওয়াজেদ আলি নামে সমধিক পরিচিত।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এস ওয়াজেদ আলী ১৯১৯ সালে Bulletin of the Indian Rationalistic Society নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়।

- তিনি পরপর দুবার (১৯২৫ ও ১৯২৬) বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি উক্ত সমিতির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- এবং একই বছর তাঁর ছোটোগল্পগ্রন্থ গুলদস্তা প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি কলকাতা এলবার্ট হলে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে গঠিত সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অভিনন্দন পত্র পাঠ করেন।
- একই বছর তিনি ‘আসাম মুসলিম ছাত্র সমিতি’-র বার্ষিক সম্মেলনেও সভাপতিত্ব করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- প্রবন্ধ জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

• গল্প:
- গুলদাস্তা,
- মাশুকের দরবার,
- বাদশাহী গল্প,
- গল্পের মজলিশ;

 • উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর;

 • ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

⇒ বিঃদ্রঃ নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৮৬.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) রাইফেল রোটি আওরাত
  3. গ) আগুনের পরশমনি
  4. ঘ) জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৮৭.
‘দোজখের ওম’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইরিয়াস রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।

⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৮৮.
"আদিবাসি রাঙামিলা, দেওয়ানপুত্র" কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. পথের পাঁচালী 
  2. অপরাজিত 
  3. কর্ণফুলী
  4. অনুবর্তন 
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

⇒ ‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসি (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৮৯.
'নবান্ন' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৯০.
প্রসিদ্ধ মহাকাব্য "শাহ্‌নামা" গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) মুহম্মদ কবীর
  2. খ) মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  3. গ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
প্রসিদ্ধ মহাকাব্য শাহ্‌নামা গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯),  মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
কাব্য
- কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১),
- অপূর্বদর্শন (১৮৮৫),
- প্রেমহার (১৮৯৮),
- হজরত মহাম্মদ (১৯০৩),
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২),
- ইসলাম সঙ্গীত (১৯২৩);
গদ্য রচনা
- মহর্ষি-মনসুর (১৮৯৬),
- ফেরদৌসী-চরিত (১৮৯৮),
- শাহনামা (১৯০৯),
- তাপসকাহিনী (১৯১৪, ২য় সং),
- খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী (১৯১৮),
- হাতেমতাই (১৯১৯),
- টিপু সুলতান (১৯৩১);
উপন্যাস
- জোহরা (১৯১৭),
- দরাফ খান গাজী (১৯১৯) ইত্যাদি।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৯১.
"রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস" কাব্যত্রয়ী কার রচনা?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন 'অবকাশরঞ্জিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

- তাঁর আত্মজীবনী 'আমার জীবন' গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া
৩,৩৯২.
সাহিত্যপত্র 'সমকাল' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. ক) দৈনিক
  2. খ) সাপ্তাহিক
  3. গ) মাসিক
  4. ঘ) ষান্মাসিক
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।

• তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৩.
'কবিতা মুকুল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) কুসুমকুমারী দাশ
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) উপরের কেউ নন
ব্যাখ্যা
কবিতা মুকুল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ। কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।
যার প্রথম দুই চরণ
''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?''।
'কবিতার কথা' নামে জীবনানন্দ দাশের একটি প্রবন্ধ রয়েছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৩৯৪.
'উত্তর বসন্ত' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আব্দুল কাদের ছিলেন মূলত কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ - কবিতা: দিলরুবা, উত্তর বসন্ত;
প্রবন্ধ: বাংলা কাব্যের ইতিহাস, কবি নজরুল, কাজী আবদুল ওদুদ, লোকায়ত সাহিত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৫.
কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ হলো-
  1. ক) আলো ও ছায়া
  2. খ) নির্মাল্য
  3. গ) পৌরাণিকী
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো -
আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন, মাল্য ও নির্মাল্য, অশোক সংগীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবনপথে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৩৯৬.
‘মগের মুলুক’ ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. বিজয় ভট্টাচার্য
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
⇒ গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত ব্যঙ্গকাব্য হচ্ছে ‘মগের মুলুক’।

⇒ গােবিন্দচন্দ্র দাস:

- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।
এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৯৭.
কোনটি চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত সাহিত্যকর্ম?
  1. তোতা কাহিনী
  2. তোতা ইতিহাস
  3. বোবা ইতিহাস
  4. ইতিহাস মালা
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'।
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

অন্যদিকে, 
- ‘তোতা কাহিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'লিপিকা' নামের সংকলনের একটা লেখা।
- 'ইতিহাস মালা' গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম কেরি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩৯৮.
'ময়ূরকণ্ঠী' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) রম্যরচনা
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য ধরণের গ্রন্থ - 'ময়ূরকণ্ঠী'। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল 'দেশে-বিদেশে' ভ্রমণকাহিনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা: 
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৩,৩৯৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস?
  1. পরিশেষ
  2. শেষলেখা
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা
• "শেষের কবিতা" উপন্যাস:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• “শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।

• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে এই উপন্যাসে।

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

অন্যদিকে,
- পরিশেষ ও শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- ‘শেষের পরিচয়’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪০০.
‘গোটা অঙ্গ কবরে কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাই বাঞ্ছনীয়।’- উক্তিটি কার?
  1. আবুল ফজল
  2. আল মাহমুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
⇒ আহমদ শরীফ:
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তারঁ মৃত্যুদেহ কবর দেয়া হয়নি। মৃত্যুর আগে তিনি এক উইল করে নিজের মৃত্যু-উত্তর দেহ ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে’কে দান করে যান। তিনি লিখেছিলেন: ‘গোটা অঙ্গ কবরে কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাই বাঞ্ছনীয়।’

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ গবেষণা:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।