বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৩৩ / ৭৭ · ৩,২০১৩,৩০০ / ৭,৬৪৬

৩,২০১.
‘বনি আদম’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সৈয়দ আহমদ
ব্যাখ্যা

কবি ও লেখক গোলাম মোস্তফার জন্ম যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি। 
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- তিনি ১৯৬০ সালে পাকিস্তানি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধিতে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত কবিতা
- রক্তরাগ
- হাসনাহেনা
- খোশরোজ
- সাহারা
- গুলিস্তান
- বনী আদম(মহাকাব্য)
- কাব্য কাহিনী
- সাহারা
- তারানা ই পাকিস্তান
- বুলবুলিস্তান
- কিশোর
- কবর

তাঁর রচিত জীবনী
- বিশ্বনবী
- মরুদুলাল

তাঁর রচিত উপন্যাস
- রূপের নেশা
- ভাঙাবুক
- এক মন এক প্রান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩,২০২.
"এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা

• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- “নূরলদীনের সারা জীবন” সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীন যার আসল নাম নূরুলউদ্দিন, তাঁর সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচনা করা হয়েছে।
- নূরলদীনের বিখ্যাত আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- কাব্যনাট্যটির বিখ্যাত লাইন - "এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।"
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২০৩.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি অনুবাদ করেন কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরীর'র অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,২০৪.
ডিরোজিওর পূর্ণ নাম-
  1. ক) হেনরি লুই ভিক্টোরিয়ান ডিরোজিও
  2. খ) লুই আই খান ডিরোজিও
  3. গ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. ঘ) হেনরি লুই আই খান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২০৫.
'এলাটিং বেলাটিং', 'ধান ভানলে কুঁড়ো দেব' ইত্যাদি শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্যঃ
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেব,
- গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে,
- আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২০৬.
'সহসা সচকিত' কাব্যগ্রন্থটির কবি হলেন-
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহাসান
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

অনুবাদগ্রন্থঃ
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,২০৭.
"মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।" সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উক্তি।  

------------------------
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ'।
- বর্তমানে পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা। 
- 'পালামৌ' বিহারের একটি স্থানের নাম লেখক চাকরিসূত্রে যখন বিহারে ছিলেন, সেই সময়ের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর এই রচনায় লিখেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

'পালামৌ' রচনার ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২০৮.
রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) সম্বাদ কোমুদী
  2. খ) ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. ঘ) বেদান্তসার
ব্যাখ্যা

কয়েকটি বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম ও লেখকঃ
Manuel da Assumpção--- 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
ব্রাসি হ্যালহেড --- ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
উইলিয়াম কেরি --- 'A Grammar of the Bengalla Language' (১৮০১) [১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন]।
রাজা রামমোহন রায় --- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩)
সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় --- 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৯৩৯)।
ড. সুকুমার সেন --- 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ - 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' ( ১৯৫৯)

৩,২০৯.
'আনোয়ার পাশা' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. আহমদ ছফা
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  4. ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ার পাশা' নাটকটির রচয়িতা - ইব্রাহীম খাঁ। 

ইব্রাহীম খাঁ:

- তিনি ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২১০.
'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি-
  1. রূপক নাটক
  2. ঐতিহাসিক নাটক
  3. সামাজিক নাটক
  4. মনস্তাত্ত্বিক নাটক
ব্যাখ্যা

• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সামাজিক নাটক।
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত এবং নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,২১১.
'নেমেসিস' নাটকের পটভূমি-
  1. ক) মন্বন্তর
  2. খ) দেশভাগ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) গণ- অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
- এক চরিত্র বিশিষ্ট নাকট নেমেসিস।
- নাটকটির রচয়িতা - নুরুল মোমেন।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
- এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী।
- এ নাটকে নুরুল মোমেন দেখিয়েছেন যে, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সুরজিত নন্দী সাধারণ মানুষের জীবনে যে দুঃখ-দুর্দশার বয়ে এনেছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দেবী নেমেসিস (প্রতিহিংসার দেবী) তাঁর জীবন কেড়ে নিয়েছে।

নুরুল মোমেনের অন্যান্য নাটক হলো :
- রূপান্তর
- যদি এমন হতো
- নয়া খান্দান
- আলোছায়া
- শতকরা আশি
- আইনের অন্তরালে
- যেমন ইচ্ছা তেমন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২১২.
বাংলা সঙ্গীতে প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা সঙ্গীতে ঠুংরি:
- বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন এ ছাড়া রাগপ্রধান ঢঙে বাংলা গান রচনা তাঁর থেকেই শুরু হয়।
- উল্লেখ্য যে, বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। অতুলপ্রসাদের বিশেষত্ব এ যে, তিনি বাংলা গানের সুর-তালের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই হিন্দুস্থানি রীতির প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন।
- জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় তিনি উত্তর ভারতে কাটান। সেজন্য ওখানকার সাঙ্গীতিক পরিমন্ডলের সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি হিন্দুস্থানি গীতিপদ্ধতিকে রপ্ত করতে সমর্থ হন। তাই বাংলা গানে হিন্দুস্থানি ঢঙের মিশ্রণ ঘটানো তাঁর পক্ষে সহজ হয়েছিল। অতুলপ্রসাদের এ প্রয়াস বাংলা গানে একদিকে যেমন নতুনত্ব এনেছে, অন্যদিকে তেমনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ উন্মুক্ত করে বাংলা গানের জগতে এক বন্ধনমুক্ত শৈল্পিক আবহ নির্মাণে সক্ষম হয়েছে।।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২১৩.
‘কোকিলারা’ নাটকটির রচয়িতা -
  1. আবুল ফজল
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশি নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।

তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলো:
- শপথ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২১৪.
কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক নয়?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. পলাশী ব্যারাক
  3. চিরকুমার সভা
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

'চিরকুমার সভা' হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি নাটক। 

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং বাগ্মী।
- শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর, তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

নাটকসমূহ:
- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, কবর, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক, ইত্যাদি।

অনুবাদ নাটকসমূহ:
- কেউ কিছু বলতে পারে না, রূপার কৌটা, মুখরা রমণী বশীকরণ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস, তুলনামূলক সমালোচনা, বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,২১৫.
‘চাচা - কাহিনী’র লেখক কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ আলী আশরাফ
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী,(১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।
- বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণকাহিনী
দেশে-বিদেশে (১৯৪৯),
জলে-ডাঙায় (১৯৬০);

উপন্যাস
অবিশ্বাস্য (১৯৫৪),
শবনম (১৯৬০),
শহ্র-ইয়ার (১৯৬৯);

রম্যরচনা
পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২),
ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫২) 

ছোটগল্প
চাচা-কাহিনী (১৯৫২),
টুনি মেম (১৯৬৪)।
- মুজতবা আলীর ডি.ফিল অভিসন্দর্ভ The Origin of Khojahs and Their Religious Life Today (১৯৩৬) বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর আরেকটি অনবদ্য গ্রন্থ পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। 

- সৈয়দ মুজতবা আলী দেশে-বিদেশে গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। গ্রন্থখানি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পাঠকচিত্ত জয় করতে সক্ষম হন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি। সামগ্রিকভাবে তিনি উভয় বঙ্গে সমান জনপ্রিয় ও সমাদৃত লেখক ছিলেন। আন্তর্জাতিক চেতনায় সমৃদ্ধ এই লেখকের বিশ্বমানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অননুকরণীয় রচনাশৈলী তাঁকে এই সম্মানের অধিকারী করেছে। তদুপরি তিনি যে নৈপুণ্যের সঙ্গে বিদেশি চরিত্র ও আবহ বাংলা সাহিত্যে এনেছেন তাও তুলনাহীন। হালকা মেজাজে আড্ডার ঢঙে বলে গেলেও তাঁর অধিকাংশ রচনা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শাস্ত্রচর্চা ও বিচার-সমালোচনায় পরিপূর্ণ।
উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

৩,২১৬.
'হুতোমী বাংলা' ভাষার প্রবক্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ অনুসৃত রীতির ভাষাকে বলা হয় 'হুতোমী বাংলা' ভাষা। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ (১৮৪০-১৮৭০)  
সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী কালীপ্রসন্ন সিংহ কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
-  মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। 
- দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।
- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- নাটক,  প্রহসন,  উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নয়।
- ইংরেজিতে দি ক্যালকাটা পুলিশ অ্যাক্ট-ও (১৮৬৬) তাঁর রচনা।
- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২১৭.
'নীল দর্পণ' নাটকটির বিষবস্তু কি?
  1. ক) নীলকরদের অত্যাচার
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) অসহযোগ আন্দোলন
  4. ঘ) তে-ভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
নীল দর্পণ(১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের নীলকর সাহেবদের নীল চাষিদের উপর বীভৎস অত্যচার অবলম্বনে রচিত নাটক।
উৎসঃবাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৩,২১৮.
জর্জ বার্নার্ড শ-এর "You never can tell" নাটক 'কেউ কিছু বলতে পারে না' নামে বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক:
- "কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
- "রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
- "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক।
- তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়।
- তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।
- ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।
- ১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্টিমা"।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২১৯.
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
- ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক।
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২০.
‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহের কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা। 
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী প্রতিবাদের প্রতীক।
- লালসালু একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো: মজিদ, খালেক, ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরে বাপ, হাসুনির মা।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) সালে খ্যাতি অর্জন করে।
================================
 সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
-  আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ডিস্টিংকশনসহ বি.এ (১৯৪৩) পাস করেন।
-  তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো  সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর।

নাটক: 
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ, 
- সুড়ঙ্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া। 
৩,২২১.
আমি কবি যত কামারের, কাঁসারির আর ছুতারের মুটে মজুরের, আমি কবি যত ইতরের চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) মহাদেব সাহা
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
আলোচ্য চরণগুলো কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ''প্রথমা'' (১৯৩২) এর ‘আমি কবি যত কামারের’ শীর্ষক কবিতার অংশবিশেষ। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৩,২২২.
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান মারা যান-
  1. ক) ১৪ মে ২০২০
  2. খ) ১৪ আগস্ট ২০২০
  3. গ) ১৪ আগস্ট ২০২১
  4. ঘ) ১৪ মে ২০২১
ব্যাখ্যা
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- গত ১৪ মে ২০২০ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন (বাংলা বিভাগ)। 
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। 
- তাঁর এই গবেষণা পত্রকে তিনি 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন। 
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযোগ দেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২৩.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিসর্গ সঙ্গীত
  2. সাধের আসন
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. প্রেম প্রবাহিণী
ব্যাখ্যা
• 'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন' (১৮৮৯)।
- 'সাধের আসন'কে 'সারদামঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির 'সারদামঙ্গল' কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন, "তুমি কাকে ধ্যান কর?"। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল 'বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ' লিখেছিলেন।

------------
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২২৪.
কার ‍উদ্যোগে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ” বিষয়ক দলিল সংগ্রহের প্রকল্প গৃহীত হয়েছিল?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) আতাউল গণি ওসমানী
  3. গ) জিয়াউর রহমান
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খন্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা। এ দলিলপত্রাদি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে একটি প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক প্রণীত। প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠা ব্যাপী বিপুলায়তন ও সংগৃহীত উপাত্ত থেকে নির্বাচন করে প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কালপঞ্জি অনুসারে বিভিন্ন খন্ডে প্রকাশ করা হয়।

“বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিষয়ক দলিল" সংগ্রহের প্রকল্পটি গৃহীত হয়েছিলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি আতাউল গণি ওসমানীর উদ্যোগে।
তবে সরকারিভাবে,
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাধীনতার ইতিহাস সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে। তবে প্রকল্পটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে ১৮ জুলাই ১৯৭৮-এ বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (নং ৫১/২/৭৮/ডেব/২৬১)। এই প্রকল্পের সদস্য সচিব হাসান হাফিজুর রহমান বাংলা একাডেমী কর্তৃক ইতোপূর্বে সংগৃহীত দলিলপত্রসমূহ স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের শাসনামলে ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে খন্ডগুলির প্রকাশ শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ওসমানী ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের মন্ত্রীসভায়  ডাক, তার ও টেলিফোন, যোগাযোগ, জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রী ছিলেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,২২৫.
"আঠারো শতকের বাংলা চিঠি" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবুল ফজল
  4. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
আনিসুজ্জামান:
- তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক, বাংলাদেশের বাতিঘর হিসেবে খ্যাত, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প-িত অধ্যাপক।
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২৬.
‘গড্ডলিকা’ গল্পের বইটি কে রচনা করেছেন?
  1. অচিত্যকুমার সেন
  2. রাজশেখর বসু
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘গড্ডলিকা’:
- ‘গড্ডলিকা’ রাজশেখর বসুর (পরশুরাম) প্রথম গল্পের বই। প্রকাশকাল ১৯২৪ সাল।
- প্রকাশক ছিলেন ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। বইয়ে ছবি এঁকেছিলেন যতীন্দ্রমোহন সেন।
- এ বইয়ের মোট পাঁচটি গল্প রয়েছে। এই গ্রন্থের প্রথম গল্প ‘শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’।

এ ছাড়াও এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- চিকিৎসা-সঙ্কট,
- মহাবিদ্যা,
- লম্বকর্ণ ও
- ভূষণ্ডীর মাঠে।

------------------------
• রাজশেখর বসু: 
- রাজশেখর বসু ছিলেন একাধারে একজন লেখক ও বিজ্ঞানী অভিধান প্রণেতা।
- ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম
- রাজশেখর চাকরি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি বাংলা  অভিধান ও  পরিভাষা রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- ১৯০৬ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা পরিষদে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
- তিনি ১৯৩৫ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত বাংলা বানান সংস্কার সমিতি এবং ১৯৪৮ সালে সরকার গঠিত পরিভাষা সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- লেখক হিসেবে তিনি ‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট একুশ।
- তাঁর চলন্তিকা (১৯৩৭) বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একখানি জনপ্রিয় অভিধান।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গড্ডলিকা,
- কজ্জলী,
- হনুমানের স্বপ্ন,
- গল্পকল্প;
- আনন্দীবাঈ;
- ভারতের খনিজ,
- কুটিরশিল্প,
- বিচিন্তা;
- বাল্মীকি রামায়ণ,
- মহাভারত,
- হিতোপদেশের গল্প ইত্যাদি।

উৎস: ‘গড্ডলিকা’ গল্পগ্রন্থ;  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২২৭.
'কুঁচবরণ কন্যা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) বদর উদ্দিন ওমর
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর ছিলেন। তিনি কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো- কাব্য: ময়নামতীর চর, অনুরাগ, পদ্মানদীর চর, মধুমতীর চর, ধরিত্রী, উপন্যাস: বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, শেষ লগ্ন, অরণ্য গোধূলি, নীড়ভ্রষ্ট। তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ তাসের ঘর, নাটক মসনদ এবং শিশুসাহিত্য- চোর জামাই, মেঘকুমারী, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, সোনার হরিণ, শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, কুঁচবরণ কন্যা, সাত রাজ্যের গল্প। তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২২৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রতিশোধ
  2. পুতুল ও প্রতিমা
  3. উপনয়ন
  4. কুয়াশা
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কুয়াশা,
- উপনয়ন,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২৯.
বাংলা গদ্যের প্রথম কথ্যরীতিতে রচিত গ্রন্থ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর রচয়িতা কে?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যে প্রথমবারের মত ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থের মাধ্যমে প্যারীচাঁদ মিত্র কথ্য বা চলিত ভাষারীতির প্রয়োগ ঘটান।
- তিনি উপলব্ধি করেছিলেন , বাংলা গদ্যের সাধুরীতি কেবল লিখিত রূপেই প্রচলিত এবং বিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সুযোগ বঞ্চিত লোকেরা , বিশেষত অন্তঃপুরচারিণীরা এই ভাষারীতি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না।
- এই অসুবিধা দূরীকরণে প্রথমত ‘মাসিক পত্রিকার” মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালায় এবং তারই ফলস্বরুপ ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এই গ্রন্থটি রচিত।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা গদ্যরীতিতে এক অভিনব লঘুভঙ্গি প্রবর্তিত হয় এবং তা  কথ্যরীতির বহুল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করে।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,২৩০.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জননী
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. বনি আদম
ব্যাখ্যা
• 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস :
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩১.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প নিচের কোনটি?
  1. ক) রেইনকোট
  2. খ) আগুণের পরশমণি
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোর্ট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ।
৩,২৩২.
এম. আর. আখতার মুকুল রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের বর্ণমালা
  2. একাত্তরের নিশান
  3. একাত্তরের কথামালা
  4. একাত্তরের রণাঙ্গন
ব্যাখ্যা

• 'একাত্তরের বর্ণমালা':
- 'একাত্তরের বর্ণমালা' মূলত এম. আর. আখতার মুকুল রচিত ও মাহমুদা খানম রেবা সহযোগিতায় প্রকাশিত একটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি গ্রন্থ । 
- গ্রন্থটি 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র'-এর অংশবিশেষ নিয়ে লেখা, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নানা ঘটনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বর্ণমালার অক্ষরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।  যা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের দলিল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। 

----------------------
• এম আর আখতার মুকুল:
- এম আর আখতার মুকুল ছিলেন একজন সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।

- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে। পুরো নাম মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল। পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন। 

- মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নিয়োগ করা হয়। 

- ১৯৭২ সালে তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ চাকরি হারিয়ে অনেক বছর তিনি লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।

অন্যান্য অনশনগুলোর বিশ্লেষণ, 
• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের লেখন- রাবেয়া খাতুন।
• 'একাত্তরের কথামালা' গ্রন্থের লেখন- বেগম নূরজাহান। 
• 'একাত্তরের রণাঙ্গন' গ্রন্থের লেখন- শামসুল হুদা চৌধুরী। 

উৎস: একাত্তরের বর্ণমালা' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া 

৩,২৩৩.
বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণের সময়কাল কোনটি?
  1. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৫৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৬০ থেকে ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৬৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
যুগসন্ধিকাল:
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়। উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।
- এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।
- তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩৪.
'লালসালু' চলচ্চিত্রের পরিচালক-
  1. ক) আলমগীর কবির
  2. খ) সত্যজিৎ রায়
  3. গ) তানভীর মোকাম্মেল
  4. ঘ) খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
২০০১ সালে তানভীর মোকাম্মেলের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্ররূপ লাভ করে। ২০০১ সালে চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। পাশাপাশি দর্শকদের বিচারে এটি শ্রেষ্ঠ দশটি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের তালিকায় স্থান পেয়েছে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৩৫.
‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।

⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,২৩৬.
বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম গদ্য গ্রন্থের নাম-
  1. ক) প্রতাপাদিত্যচরিত্র
  2. খ) কথোপকথন
  3. গ) লিপিমালা
  4. ঘ) ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা

বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - প্রতাপাদিত্যচরিত্র
লেখক ছিলেন - রামরাম বসু। এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
এটি বাঙ্গালির লেখা প্রথম গদ্যগ্রন্থও।
রামরাম বসুর আরো একটি গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৩,২৩৭.
'পূরবী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
পূরবী, মাটি আর অশ্রু, জয়ের পথে, নবী কাহিনী, নতুন সকাল ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা সিকান্দার আবু জাফর।
সিরাজউদ্দৌলা, শকুন্ত উপাখ্যান, মহাকবি আলাওল, মাকড়সা - তাঁর রচিত নাটক।
প্রসন্ন প্রহর, বৈরীবৃষ্টিতে, তিমিরান্তক, বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি তাঁর রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৩৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থ অনুসারে, ব্যাকরণের বিষয়সমূহকে প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থ অনুসারে, বাঙ্গালা ব্যাকরণের বিষয়সমূহকে প্রধানত পাঁচ ভাগে বা প্রকরণে বিভক্ত করা যেতে পারে। 
যথা-
১. ধ্বনি প্রকরণ (Phonology),
২. শব্দ প্রকরণ (Accidence),
৩. বাক্য প্রকরণ (Syntax),
৪. ছন্দ প্রকরণ (Prosody),
৫. অলঙ্কার প্রকরণ (Rhetoric)।

উৎস: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
৩,২৩৯.
'সারেং বউ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ। এ উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তার স্ত্রী নবিতুন। এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪০.
‘A search for identity’- বইটি কার লেখা?
  1. ক) কবির চৌধুরী
  2. খ) মেজর আব্দুল জলিল
  3. গ) মেজর রফিকুল ইসলাম
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

'A Search for identity' বইটির লেখক মেজর আব্দুল জলিল।
'প্রতিরোধের প্রথম প্রহর', 'লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে', ‘শেখ মুজিব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম’ মেজর রফিকুল ইসলাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
উৎসঃ পত্রিকা, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২৪১.
কৃষেকদের দুঃখ দুর্দশা ও মুক্তির পথ নির্দেশ করে আবুল হুসেন রচিত গ্রন্থ-
  1. ক) অনুমান
  2. খ) মুসলীম কালচার
  3. গ) বাংলার বলশী
  4. ঘ) নব বসন্ত
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল হুসেন:
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
• রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন ।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪২.
'জায়জঙ্গল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
'জায়জঙ্গল' উপন্যাসের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- দুই মহল, আলমনগরের উপকথা, কাঞ্চনমালা, কাশবনের কন্যা, জায়জঙ্গল, সমুদ্রবাসর, নবান্ন ও কাঞ্চনগ্রাম ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৪৩.
‘ওরা কয়েকজন’ আবুল হাসানের রচিত -
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) ছোট গল্প
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - ‘রাজা যায় রাজা আসে’, ‘যে তুমি হরণ করো’, ‘পৃথক পালঙ্ক’।
তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য - ‘ওরা কয়েকজন’।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪৪.
মহাকবি কায়কোবাদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কুসুমকানন
  2. খ) অশ্রুমালা
  3. গ) বিরহ-বিলাপ
  4. ঘ) মহাশশ্মান
ব্যাখ্যা
• মহাকবি কায়কোবাদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - বিরহ-বিলাপ।
- মাত্র তের বছর বয়সে,১৮৭০ সালে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- এই কাব্য রচনার মাধ্যমেই কায়কোবাদের কবিত্ব শক্তির বিকাশ ঘটে।
- এই কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য। 

কবির রচিত আর কিছু কাব্যগ্রন্থ - 
- অশ্রুমালা (বিখ্যাত খন্ড কবিতা গ্রন্থ)
- মহাশশ্মান (শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ) 
- কুসুমকানন
- অমিয়ধারা
- শিবমন্দির 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪৫.
'রক্তরাগ' কাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কায়কোবাদ
  4. আসকার ইবনে শাইখ
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,২৪৬.
আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মানচিত্র
  2. শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
  3. কর্ণফুলী
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪৭.
'মানচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, লেলিহান পান্ডুলিপি, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, সূর্য জ্বালার স্বপন, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, সাজঘর ইত্যাদি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,২৪৮.
"ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) সমরেশ বসু
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক 'সাজাহান' নাটকে এই গানটি পাওয়া যায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- বাংলা সাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার ও গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।  
- তিনি কিশোর কাল থেকে কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯০৫ সালে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অসামান্য অবদান ছিল। 

• দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান:
- ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’।
- ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।

নকশা-প্রহসন:
- একঘরে।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।

• তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি। 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার-পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৯.
'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- 'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন- সিকান্‌দার আবু জাফর।  


সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯শে মার্চ তৎকালীন তেঁতুলিয়া গ্রাম, খুলনায় বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। 
- তিনি দৈনিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক 'মিল্লাত' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' এই বিখ্যাত গানটি তিনি রচনা করেন। 
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কবিতা
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক 
- কবিতা 
- বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি।
নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান 
- সিরাজ-উ-দ্দৌলা
- মহাকবি আলাওল ইত্যাদি। 
উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে 
- পূরবী 
- নবী কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৫০.
কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে আবুল কালাম শামসুদ্দীন সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-খিদমত' ও 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি বর্জন করেন?
  1. ক) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়
  2. খ) ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময়
  3. গ) ১৭৯১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনের সময়।
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন, একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-খিদমত (১৯৬১) এবং সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৭) উপাধিতে ভূষিত হন। 
- ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে উভয় খেতাব বর্জন করেন।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।


আবুল কালাম রচিত ও অনূদিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি (১৯৩৮),
- ত্রিস্রোতা (১৯৩৯),
- খরতরঙ্গ (১৯৫৩),
- দৃষ্টিকোণ (১৯৬১),
- নতুন চীন নতুন দেশ (১৯৬৫),
- দিগ্বিজয়ী তাইমুর (১৯৬৫),
- ইলিয়ড (১৯৬৭),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (১৯৬৮),
- অতীত দিনের স্মৃতি (১৯৬৮) ইত্যাদি। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
 
৩,২৫১.
‘দি আগলি এশিয়ান’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  3. ইমদাদুক হক মিলন
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• ‘দি আগলি এশিয়ান’ উপন্যাস:
-  ‘দি আগলি এশিয়ান’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহরকে (নাম নেয়া হয়নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।
- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
- এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।
- আসলে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর পূর্বপর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামসমূহ এই উপন্যাসে ধারণ করেছেন শুধু তাঁর অন্ত গুণে।

• উইলিয়াম জে লেডেরার ও ইউজিন বারডিক যৌথভাবে রচিত মার্কিন উপন্যাস 'দি আগলি আমেরিকান' (১৯৫৮) এর প্রভাব এ উপন্যাস রচনার সময় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপর পড়েছিল।

----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫২.
‘ইউরোপের চিঠি’ ভ্রমণ কাহিনীর লেখক কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) সোইয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
‘ইউরোপের চিঠি’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনী। তার রচিত আরেকটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ কাহিনী ‘পথে প্রবাসে’।
[সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৩,২৫৩.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)' রচনা করেন -
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. আবু ইসহাক ও সৈয়দ আলী আহসান
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫৪.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কি লিখতেন?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২৫৫.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. যাত্রা
  2. কালো ঘোড়া
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা

‘নেকড়ে অরণ্য’
- শওকত ওসমানের রচিত একটি  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস :
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
-  দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
 - জলাংগী;

অন্যদিকে.
- ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: কালো ঘোড়া।
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: ’যাত্রা’।
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: রাইফেল রোটি আওরাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৫৬.
কোন গ্রন্থের জন্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন?
  1. রায়নন্দিনী
  2. অনল প্রবাহ
  3. নূরউদ্দিন
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, বাগ্মী এবং কৃষকনেতা।
• তিনি বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- স্পেনবিজয় কাব্য,
- অনল প্রবাহ (কাব্যগ্রন্থটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।)
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
মহাশিক্ষা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- জাহানারা,
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- নূরউদ্দিন,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,২৫৭.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নন্দিত নরকে
  2. পথের পাঁচালী
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. চৈতালি ঘূর্ণি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) চৈতালি ঘূর্ণি
'চৈতালি ঘূর্ণি' হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৩২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল হাবু শর্মা।
- প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

ত্রয়ী উপন্যাস:
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম। 

তারাশঙ্করের রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- নন্দিত নরকে এই উপন্যাসটি হুমায়ূন আহমেদের লেখা।
- পথের পাঁচালী উপন্যাসটির লেখক হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- পুতুলনাচের ইতিকথা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,২৫৮.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ‘নুরুল হুদা’ চরিত্রটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. দোজখের ওম
  4. রেইনকোট
ব্যাখ্যা
♦ ‘রেইনকোট’ ছোটগল্প:
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ গুলো হলো: 
- অন্য ঘরে অন্য স্বর , 
- খোঁয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫৯.
“কামাল পাশা” নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা

ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক -
- কাফেলা
- কামাল পাশা
- আনোয়ার পাশা
- ঋণ পরিশোধ
- ভিস্তি বাদশা
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৩,২৬০.
'মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!'- গানটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!'- গানটির রচয়িতা- 'অতুলপ্রসাদ সেন'।  
- গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। 

অতুলপ্রসাদ সেন: 
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার, গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৬১.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. শওকত আলী
  3. আল মাহমুদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'আবদুল্লাহ' - উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস: 
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 
==============
কাজী ইমদাদুল হক: 
 - ১৮৮২ সালে  খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
-  আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ,
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৩,২৬২.
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) মােতাহের হােসেন চৌধুরী
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

মােতাহের হােসেন চৌধুরী:
তিনি মূলত বিশিষ্ট গদ্যশিল্পী ছিলেন।
তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলাের নাম :
- সংস্কৃতি-কথা (১৯৫৮)
- সভ্যতা (১৯৬৫)
- সুখ (১৯৬৮)

তিনি সংস্কৃতি সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানববাদী সংজ্ঞার্থ দেন 'সংস্কৃতি-কথা' প্রবন্ধে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,২৬৩.
'নদী ও নারী' উপন্যাসের পটভূমি কোন নদীকে কেন্দ্র করে?
  1. তিতাস
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. পদ্মা
  4. মেঘনা
ব্যাখ্যা
• "নদী ও নারী" উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
রচয়িতা: হুমায়ুন কবির।
- ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।

- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

• হুমায়ুন কবির:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬৪.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ। এটি ১৮৯৬ সালে রচনা করেন দীনেশচন্দ্র সেন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৬৫.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের পটভূমি কোন এলাকার জীবন ও প্রকৃতি নিয়ে লেখা হয়েছে?
  1. কুমিল্লা
  2. রাজশাহী
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল ইত্যাদি।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬৬.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে বিশেষভাবে কোন অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. সিলেট
  2. ময়মনসিংহ
  3. বরিশাল
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস 'কাশবনের কন্যা'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।

উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- সিকদার,
- হোসেন,
- জোবেদা,
- মেহেরজান ইত্যাদি।

--------------------
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৬৭.
'অ-তে অজগর' উপনাসের রচয়িতা -
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'অ-তে অজগর' উপনাসের রচয়িতা - আবদুল মান্নান সৈয়দ। 

আবদুল মান্নান সৈয়দ:

- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬৮.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) নবশক্তি
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি। 
- তার সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৬৯.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির স্রষ্টা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আনিসুজ্জামান
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
'পদ্মার পলিদ্বীপ' আবু ইসহাক রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি তার দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস।
১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইসহাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমীর 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,২৭০.
নিচের কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. সংকর সংকীর্তন
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. দক্ষিণায়নের দিন
ব্যাখ্যা
•  দক্ষিণায়নের দিন- শওকত আলী রচিত উপন্যাস।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭১.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা?
  1. কংসবধ
  2. সীতার বনবাস
  3. কমলে কামিনী
  4. টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা
কমলে কামিনী:
- দীনবন্ধু মিত্রের 'কমলে কামিনী' তাঁর শেষ রচনা এবং সর্বশেষ নাটক। 
- এ নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাজা,সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

অন্যদিকে:
- 'টালা অভিনয়' নাটক রচনা করেন মীর মশাররফ হোসেন।
- 'কংসবধ' নাটক রচনা করেন রামনারায়ণ তর্করত্ন।
- 'সীতার বনবাস' রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।  

দীনবন্ধু মিত্র:
- তিনি ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 -  নীল দর্পন,
 - নবীন তপস্বিন,
 - লীলাবত,
 - কমলে কামিনী। 

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৭২.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. আহমদ শরীফ
  2. সুকুমার সেন
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

- মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা ভাষার প্রধানতম ধ্বনিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে সর্বোচ্চ সহজ সরলভাবে উদ্ভাসিত করেন।
- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহঃ
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- এ ফোনেটিক এন্ড ফোনোলোজিক্যাল স্টাডি অব নেইজালস অ্যান্ড নেইজালাইজেশন ইন বেঙ্গলি,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (সৈয়দ আলী আহসান সহযোগে)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২৭৩.
'অন্বেষা' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ-গবেষণা
ব্যাখ্যা
'অন্বেষা' সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ-গবেষণা।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন। বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- দ্বিতীয় ভুবন 
- নিরাশ্রয় গৃহী 
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী 
- অনতিক্রান্ত বৃত্ত 
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ 
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি
- অন্বেষা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ
- বাঙালি কাকে বলি 
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে 
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া
- নেতা, জনতা ও রাজনীতি 
- গণতন্ত্রের সন্ধানে 

তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- দরজাটা খোলো 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,২৭৪.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কামিনী রায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতার কালিঘাটিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়। 
- তিনি 'কিশোরকবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। 
- তার কবিতায় শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের হুঙ্কার দিকটি বলিষ্ঠভাবে প্রকাশ পায়। 
- তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে মৃত্যুবরণ করেন। 
- ১৯৮৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয় ।
- সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। 

• 'আঠারো বছর বয়স':
- 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় 'আঠারো' শব্দটি নয়বার ব্যবহার করা হয়েছে। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় প্রতি চরণে মাত্রা সংখ্যা ১৪। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র, 
- ঘুম নেই, 
- পূর্বাভাস, 
- অভিযান, 
- হরতাল, 
- গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি। 

'আঠারো বছর বয়স'- কবিতা, 
------------ সুকান্ত ভট্টাচার্য।
 
আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়–
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।

 
আঠরো বছর বয়স ভয়ঙ্কর
তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,
এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর
এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা।

আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার
পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,
দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার
ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ।

আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে
অবিশ্র্রান্ত; একে একে হয় জড়ো,
এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে
এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।

তব আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি,
এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,
বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী
এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।

এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,
এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়–
এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, 'আঠারো বছর বয়স'- কবিতা।  
৩,২৭৫.
কে সর্বপ্রথম বাংলা টাইপ সহযোগে বাংলা ব্যাকরণ মুদ্রণ করেন?
  1. ক) স্যার উইলিয়াম জোনস্
  2. খ) স্যার উইলিয়াম ক্যারী
  3. গ) রাজীব লোচন মুখোপধ্যায়
  4. ঘ) ব্রাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৮ সালে নাথানিয়াল ব্রাসি হ্যালহেড বাংলা ভাষার ব্যাকরণ A Grammer of the Bengal Language বাংলা টাইপ সহযোগে মুদ্রণ করেন। 
- এ গ্রন্থেই প্রথম বাংলা হরফ মুদ্রিত হয়।
- গ্রন্থটি ইংরেজীতে রচিত হলেও এর কিছু উদাহরণে বাংলা হরফ ব্যবহার করা হয়। 
- নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা।
৩,২৭৬.
'কালপুরুষ' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. সুবোধ ঘোষ
  2. রাজশেখর বসু
  3. সমরেশ বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘সুবোধ ঘোষ’ এর ছদ্মনাম - কালপুরুষ।

অন্যদিকে,
• রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
• সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম - কালকূট।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি ও ছদ্মনাম সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৭৭.
মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
  1. সংস্কৃতি কথা
  2. রায়তের কথা
  3. সভ্যতা
  4. সুখ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ, 
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

অন্যদিকে,
- 'রায়তের কথা' প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭৮.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
ব্যাখ্যা
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী। ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)'। এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে 'ভাষাচার্য' উপাধিতে ভূষিত করেন।

- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' রচনা করেন ১৯৩৯ সালে।
- ভাষাতত্ত্ব এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তাঁকে এলাহাবাদ হিন্দু সাহিত্য সম্মেলন 'সাহিত্য বাচস্পতি' (১৯৪৮) এবং ভারত সরকার 'পদ্মবিভূষণ' (১৯৬৩) উপাধিতে ভূষিত করে।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৫৯), বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (১৯৫৭)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭৯.
'হঠাৎ আলোর ঝলকানি' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'হঠাৎ আলোর ঝলকানি'- বুদ্ধদেব বসু রচিত 'প্রবন্ধগ্রন্থ' ।  

বুদ্ধদেব বসু রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি 
- কালের পুতুল 
- সাহিত্যচর্চা 
- রবীন্দ্রনাথ: কথা সাহিত্য 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৮০.
বাংলা নাটকে সার্থক দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টিতে প্রথম কৃতিত্ব দেখিয়েছেন-
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) ডি. এল রায়
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩): কবি, নাট্যকার, গীতিকার। বাংলা নাটকে সার্থক দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টিতে প্রথম কৃতিত্ব দেখিয়েছেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায় যিনি ডি. এল রায় নামে সমধিক পরিচিত।
দ্বিজেন্দ্রলালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থঃ কাব্য- আর্যগাথা (২য় ভাগ, ১৮৯৩), মন্দ্র (১৯০২), আলেখ্য (১৯০৭), ত্রিবেণী (১৯১২) ইত্যাদি। প্রবন্ধগ্রন্থ- কালিদাস ও ভবভূতি (১৯১০-১১) প্রভৃতি।

তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকঃ
পৌরাণিক নাটক- পাষাণী (১৯০০), সীতা (১৯০৮), ভীষ্ম (১৯১৪);
সামাজিক নাটক- পরপারে (১৯১২), বঙ্গনারী (১৯১৬), নকশা-প্রহসন: একঘরে (১৮৮৯), কল্কি অবতার (১৮৯৫), ত্র্যহস্পর্শ (১৯০০), প্রায়শ্চিত্ত (১৯০২), পুনর্জন্ম (১৯১১);
ঐতিহাসিক নাটক- তারাবাই (১৯০৩), রানা প্রতাপসিংহ (১৯০৫), মেবার-পতন (১৯০৮), নূরজাহান (১৯০৮), সাজাহান (১৯০৯), চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,২৮১.
বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ কোনটি ?
  1. সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা
  2. সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা
  3. সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা
  4. সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ - সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা।
• আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধ - সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৮২.
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস -
  1. ক) একাত্তরের ঢাকা
  2. খ) স্বদেশ পরবাসী
  3. গ) নির্ভয় করো হে
  4. ঘ) নীল ময়ূরের যৌবন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৮৩.
নিচের কোনটি জাত মহাকাব্য নয়?
  1. ওডিসি
  2. ইনিড
  3. ইলিয়াড
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
• পাশ্চাত্য মহাকাব্য দু ভাগে বিভক্ত -

যথা: 
- জাত মহাকাব্য (Epic of Growth বা Authentic Epic) এবং
- সাহিত্যিক বা অনুকৃত মহাকাব্য (Literary Epic বা Imitative Epic)।

- জাত মহাকাব্য কোন বিশেষ কবির রচনা নয়, তাতে বহু অজানা কবির অসংখ্য রচনা পরবর্তীকালে কেউ একত্রিত করে অখণ্ড কাব্যে রূপ দেন।
- বাল্মীকির 'রামায়ণ', ব্যাসের 'মহাভারত' এবং গ্রীক কবি হোমারের ইলিয়াড' ও 'ওডিসি' এই জাতীয় মহাকাব্য।

- সাহিত্যিক বা অনুকৃত মহাকাব্য অলঙ্কারশাস্ত্রবিধি সম্মত রচনা।
- একজন বিশেষ কবির প্রতিভায় তা রচিত হয়।
- জাত মহাকাব্য পুরাণ ইতিহাস থেকে কাহিনি নিয়ে রচিত নতুন সৃষ্টির মর্যাদা পায়।
- ভার্জিলের 'ইনিড', মিলটনের 'প্যারাডাইস লস্ট', মধুসূদনের 'মেঘনাদবধ কাব্য' এই শ্রেণির মহাকাব্য।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম।
৩,২৮৪.
'সত্যের মতো বদমাশ' ছোটগল্পের রচয়িতা নিচের কোন লেখক?
  1. ক) আজিজুল হক
  2. খ) আজিজুল জলিল পাশা
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চবিবশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে অশোক সৈয়দ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। 
- কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প-
- সত্যের মতো বদমাশ (১৯৬৮),
- চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩),
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা (১৯৭৭);

গ্রন্থ:
- কবিতা জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৭৫),
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৮২),
- পরাবাস্তব কবিতা (১৯৮২),
- পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি (১৯৮৩),
- মাছ সিরিজ (১৯৮৪),
- নির্বাচিত কবিতা (২০০২);


উপন্যাস
- পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী (১৯৭৪),
- অ-তে অজগর (১৯৮২),
- গভীর গভীরতর অসুখ (১৯৮৩),
- ক্ষুধা প্রেম আগুন (১৯৪৪),
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি (১৯৯৮);

প্রবন্ধমূলক গবেষণা
- জীবনানন্দ দাশের কবিতা (১৯৭৪).
- নজরুর ইসলাম: কবি ও কবিতা,
- করতলে মহাদেশ (১৯৭৯),
- ছন্দ (১৯৮৫), রবীন্দ্রনাথ (২০০১),
- আবদুল গনি হাজারী (১৯৮৯),
- সৈয়দ মুর্তজা আলী (১৯৯০),
- প্রবোধচন্দ্র সেন ((১৯৯৪);

নাটক/কাব্যনাটক 
- চাকা (১৯৮৫),
- নাট্যগুচ্ছ (১৯৯১),
- কবি ও অন্যেরা (১৯৯৬); 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,২৮৫.
' ......... মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা'। উক্তিটি-
  1. ক) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহাম্মদ আবদুল হাই-এর
  3. গ) মুনীর চৌধুরীর
  4. ঘ) মুহম্মদ এনামুল হকের
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী (২৭ নভেম্বর ১৯২৫ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী, বাগ্মী এবং বুদ্ধিজীবী।
".... মাইকেল -রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা।" উক্তিটি মুনীর চৌধুরীর ।
- মুনীর চৌধুরী বাংলা ভাষার অর্জন সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছেন- ''আমার মাতৃভাষা তিব্বতের গুহাচারী, মনসার দর্পচূর্ণকারী, আরাকানের রাজসভার মণিময় অলঙ্কার, বরেন্দ্রভূমির উদাস আহ্বান, মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা। আমার মাতৃভাষা বাংলা ভাষা।''

• কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ মাতৃভাষার গুরুত্ব তার সাহিত্য কর্মের মধ্যে যৌক্তিক ভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন- 
''আমাদের মধ্যে যাহা কিছু অমর এবং আমাদিগকে যাহা কিছু অমর করিবে,
সেই সকল মহা শক্তিকে ধারণ করিবার,
পোষণ করিবার--প্রকাশ করিবার এবং সর্বত্র প্রচার করিবার একমাত্র উপায় যে মাতৃভাষা।''

• বিশিষ্ট ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি -
''মা, মাতৃভাষা, মাতৃভূমি এ তিনটি পরম শ্রদ্ধার বিষয়।''

 উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,২৮৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ভ্রান্তিবিলাস
  2. খ) কথামালা
  3. গ) সীতার বনবাস
  4. ঘ) শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :
- শকুন্তলা
- সীতার বনবাসের
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৮৭.
বাংলা ভাষায় গজল রচনার পথিকৃৎ কে?
  1. মনিরউদ্দিন ইউসুফ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন
- ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর জন্ম। 
- বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন।
- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- লক্ষ্ণৌতে বসবাসকালে তিনি ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট  মৃত্যুবরণ করেন।

- বাংলা ভাষায় গজল রচনার পথিকৃৎ  অতুলপ্রসাদ সেন।
- তিনিই প্রথম বাংলায় গজল রচনা করেন। 
- উত্তর ভারতের লক্ষ্ণৌ শহরে থাকার কারণে তিনি এ ধারার সঙ্গে পরিচিত হন এবং বাংলা গজলের বুনিয়াদ রচনা করেন।
- তাঁর পরে কাজী নজরুল ইসলামের হাতে বাংলা গজল বিশিষ্ট রূপ লাভ করে।

উৎস - বাংলাপিডিয়া।
৩,২৮৮.
আবু জাফর শামসুদ্দীন কোন ছদ্মনামে সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন?
  1. বহুদর্শী
  2. দৃষ্টিহীন
  3. মৈনাক
  4. অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
-সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৮৯.
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলা একাডেমি উপভাষা অভিধান
  2. আঞ্চলিক অভিধান
  3. আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
  4. বাঙ্গালা উপভাষা অভিধান
ব্যাখ্যা
• 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- "আঞ্চলিক ভাষার অভিধান" বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের একটি সংকলন প্রকাশ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে তিন খণ্ডে সমাপ্য একটি অভিধান প্রণয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

- ১৯৫৮ সালের প্রথম দিকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, সাময়িক পত্রিকা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিকট আবেদনপত্র প্রেরণের মাধ্যমে শব্দ সংগ্রহ করা হয়।

- ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, খুলনা, পাবনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, রংপুর, যশোর, বাখেরগঞ্জ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, নোয়াখালী, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও করাচি অঞ্চল থেকে ৪৫৩ জন সংগ্রাহকের মাধ্যমে মোট ১,৬৬,২৪৬টি আঞ্চলিক শব্দ সংগৃহীত হয়। সংশোধন ও বিচার-বিবেচনার পর এ থেকে প্রায় পঁচাত্তর হাজারের মতো শব্দ সংকলনের জন্য গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯০.
নিচের কোনটি ছোটগল্প?
  1. দেবযান
  2. দৃষ্টি প্রদীপ
  3. যাত্রাবদল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তিনি চিত্রলেখা (১৯৩০) নামে একটি সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়া হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৯১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেন ___ গ্রামে।
  1. ক) বীরসিংহ
  2. খ) বীরভূম
  3. গ) জলপাইগুড়ি
  4. ঘ) তাজপুর
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ১৮২০ সালে বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৯২.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) পূজা পাঠ
  2. খ) দেবীয় মাহাত্ম বর্ণ্না
  3. গ) সৌন্দর্যধ্যান
  4. ঘ) কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
• কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘আর্যদর্শন’ পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, “সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।”  
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস : সারদামঙ্গলকাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৯৩.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ।
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।

--------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না ও
- ফুড কনফারেন্স।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯৪.
'রূপজালাল' নামে আত্মজীবনী কে লিখেছেন?
  1. ক) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. খ) আলাওল
  3. গ) আবদুল হাকিম
  4. ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
'রূপজালাল' নামে আত্মজীবনী লিখেছেন- 'নওয়াব ফয়জুন্নেসা' 

নবাব ফয়জুন্নেসা
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব,  ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু,  সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯৫.
বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি করেছিলেন কোন কবি?
  1. সুকুমার রায় 
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও ' ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৯৬.
'বনি আদম' কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) গোলাম সারোয়ার
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪):
বাঙালি কবি ও লেখক। গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
তার রচিত কাব্যগ্রন্থঃ রক্তরাগ (১৯২৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য-কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৯৩৬), হাস্নাহেনা (১৯৩৮), বুলবুলিস্তান (১৯৪৯), তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬), বনি আদম (১৯৫৮), গীতিসঞ্চালন (১৯৬৮) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৯৭.
সত্তেন্দ্রনাথ দত্তের একটি মৌলিক কাব্য -
  1. ক) অভ্র আবীর
  2. খ) তীর্থ সলিল
  3. গ) তীর্থরেণু
  4. ঘ) বেণু-বীণা
ব্যাখ্যা

ছন্দের জাদুকর বা ছন্দের রাজা হিসাবে খ্যাত - সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কয়েকটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থঃ
সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, কুহ ও কেকা, অভ্র আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি, কাব্য সঞ্চয়ন ইত্যাদি।
অনুবাদ কাব্যঃ
তীর্থরেণু, মণি মঞ্জূষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২৯৮.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. গভর্নমেন্ট গেজেট
  3. দিগদর্শন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৯৯.
সোমেন চন্দের পূর্ণ নাম কী?
  1. ইন্দ্রকুমার সোম
  2. সোমেন্দ্র কুমার
  3. সোমেন চন্দ্র সরকার
  4. সোমেন্দ্র কুমার চন্দ
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক। তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ। এবং সোমেন চন্দের ছদ্মনাম- ইন্দ্রকুমার সোম।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:

- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- কলকাতা থেকে বনস্পতি,
- অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৩০০.
'কালো বরফ' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মাহমুদুল হক
  2. আল মাহমুদ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'কালো বরফ' উপন্যাসটির লেখক - মাহমুদুল হক।
- এই উপন্যাসে সাতচল্লিশের দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।

• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।