বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৩২ / ৭৭ · ৩,১০১৩,২০০ / ৭,৬৪৬

৩,১০১.
গ্রিস ট্রাজেডি 'ইডিপাস' বাংলায় কে অনুবাদ করেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কবির চৌধুরী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. লিলি চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'ইডিপাস' বাংলা অনুবাদ:
- বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার সফোক্লিস গ্রিক ভাষায় রচনা করেন 'ইডিপাস' নাটক। গ্রিক ট্র্যাজেডি নাটক ইডিপাস বাংলায় অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- তিনি ই এফ ওয়াল্টিং এর ইংরেজি অনুবাদ অনুসরণ করে ইডিপাস নাটকটি বাংলায় ভাষান্তর করেন, যা বাঙালি পাঠকের কাছে গ্রিক ট্র্যাজেডির রূপ তুলে ধরে।  

--------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ, 
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১০২.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'অনল প্রবাহ' একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা,  আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১০৩.
'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আসাদ চৌধুরী
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শহীদ কাদরী।

শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১০৪.
'ওয়ারিশ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

ওয়ারিশ:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,১০৫.
নিচের কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের গ্রন্থ নয়?
  1. পূর্বাভাস
  2. ঘুম নেই
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. জননী
ব্যাখ্যা

জননী সুকান্ত ভট্টাচার্যের গ্রন্থ নয়। এটি শওকত ওসমানের একটি উপন্যাস। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর কাব্যে বিশ্বের মানুষ এবং শোষিত মানুষের জীবনযাত্রা, যন্ত্রণা, বিক্ষোভ এবং বিদ্রোহের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
- তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে, ১৩ মে ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,১০৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  2. খ) জলাঙ্গী
  3. গ) কাঞ্চনগ্রাম
  4. ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
জাহান্নাম হইতে বিদায় ও জলাঙ্গী শওকত ওসমান রচিত এবং কাঞ্চনগ্রাম শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উৎসঃ LiveMCQ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা
৩,১০৭.
'দিলরুবা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির বাঙালি কবি, সাহিত্য-সমালোচক ও ছান্দসিক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সূচিত হয়, কবি আবদুল কাদির তাঁর নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন সাহিত্য সমাজের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক। প্রকাশিত কাব্য দিলরুবা (১৯৩৩) ও উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ছন্দ সমীক্ষণ (১৯৭৯)। যাতে তিনি বাংলা ছন্দ সম্পর্কে মৌলিক বক্তব্য রেখেছেন। উৎসঃ বাংলাপিডায়া।
৩,১০৮.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. শহীদুল্লা কায়সার 
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: 
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

- কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-  
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়। 

----------------
শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১০৯.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) বহিপীর
  2. খ) তরঙ্গভঙ্গ
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

• চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ: 
- উপন্যাসে কোপন নদীর তীরবর্তী চাঁদপাড়া গ্রামের জনৈক যুবক শিক্ষিত আরেফ আলী শীতের এক উজ্জ্বল জ্যোৎস্না রাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল প্রকৃতির প্রয়ােজনে। প্রয়ােজন মিটিয়ে ঘরে ফিরে না গিয়ে সে। চন্দ্রলােকিত রজনীর রূপরাশিতে মােহাবিষ্ট হয়। হঠাৎ ছায়া শরীরের আকর্ষণে সে গ্রামের পথে বেরিয়ে পড়ে।
- বাঁশঝাড়ে নিহত এক রমণীর লাশ দেখে সে ঘটনাটি আরেফ আলীর মনােলােকে আলােড়ন তােলে।
- প্রকৃত ব্যাপরটি ছিল আরেফ আলী গ্রামের যে বড়বাড়িতে আশ্রিত গৃহশিক্ষক সেই বড়বাড়িরই অন্যতম কর্তাপুরুষ কাদের আলী নিম্ন শ্রেণির এক রমণীকে সম্ভোগের উদ্দেশ্যে বাঁশঝাড়ে যায়; আরেফ সেই কাদেরকেই অনুসরণ করেছিল। আরফের পদশব্দে ভয় পেয়ে কাদের রমণীটিকে গলাটিপে হত্যা করে।
- উপন্যাসের সিংহভাগ ব্যয়িত হয়েছে আরেফ আলীর মনে উক্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়া বর্ণনায়। শেষ পর্যন্তই ঘটনাটি সে প্রথমে দাদাসাহেবকে এবং পরে পুলিশকে জানায়।
-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১১০.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. প্রবাসী
  2. হিতকর
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১১.
“একটি কালো মেয়ের কথা” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. মাহমুদুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' :
-'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে : '... এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ’একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাস ।
৩,১১২.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মাটির দেয়াল
  2. খ) কবিতাবলী
  3. গ) খসড়া
  4. ঘ) উপহার
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার 
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত
- পারাপার 
- পালাবদল 
- ঘরে ফেরার দিন 
- হারানো অর্কিড 
- পুষ্পিত ইমেজ
- অমরাবতী 
- অনিঃশেষ
- নতুন কবিতা  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বংলাপিডিয়া।
৩,১১৩.
নিম্নের কোনটি নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ীকাব্যের অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. ক) রৈবতক
  2. খ) অবকাশরঞ্জনী
  3. গ) প্রভাস
  4. ঘ) কুরুক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেনের(১৮৪৭-১৯০৯) ত্রয়ীকাব্য - 
- রৈবতক (১৮৮৭)
- কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩)
- প্রভাস (১৮৯৬)

- এই তিনটি কাব্যের কাহিনি একই সুতোয় বাঁধা। 
- এই তিন কাব্যের নায়ক ই শ্রীকৃষ্ণ।
- রৈবতক- এ কৃষ্ণের আদি, কুরুক্ষেত্র-এ তাঁর মধ্য, প্রভাস-এ কৃষ্ণের আন্তর্লীলা বর্ণিত হয়েছে। 
- এই কাব্য ত্রয় মহাকাব্যের বৈশিষ্ট্যযুক্ত। 

উল্লেখ, অবকাশরঞ্জনী নবীনচন্দ্র সেনের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১৪.
দীনেশচন্দ্র সেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. হবিগঞ্জ  
  2. কিশোরগঞ্জ  
  3. রংপুর 
  4. মানিকগঞ্জ 
ব্যাখ্যা

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩,১১৫.
"প্রভাতচিন্তা" কার রচিত গ্রন্থ?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. শিবনাথ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

'প্রভাত চিন্তা' নামক গ্রন্থটি লিখেছেন কালীপ্রসন্ন ঘোষ। এটি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ গদ্য রচনা, যা ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।  

---------------------
• কালীপ্রসন্ন দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।
- এ ছাড়া সঙ্গীতমঞ্জরী (১৮৭২) নামে একখানা আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং কোমল কবিতা (১৮৮৮) নামে একখানা শিশুপাঠ্য গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।

তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা (১৮৭৭),
- নিভূত-চিন্তা (১৮৮৩),
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৯৬) ও
- নিশীথ-চিন্তা (১৮৯৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ভ্রাস্তিবিনোদ (১৮৮১),
- প্রমোদলহরী (১৮৯৫),
- ভক্তির জয় (১৮৯৫),
- মা না মহাশক্তি (১৯০৫),
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা (১৯০৫),
- ছায়াদর্শন (১৯০৫) প্রভৃতি

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৩,১১৬.
‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২৩ সালে 
  2. ১৮৩৩ সালে
  3. ১৮৪২ সালে
  4. ১৮৪৩ সালে
ব্যাখ্যা

গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,১১৭.
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) মৌলিক মুখোশ
  2. খ) মানুষের মানচিত্র
  3. গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. ঘ) দূরে আছো দূরে
ব্যাখ্যা
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বাতাসে লাশের গন্ধ
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন। (সংক্ষিপ্ত) 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১১৮.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য।

-----------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১৯.
'কবর' নাটকটি প্রথম মঞ্চায়ন হয় কোথায়?
  1. ঢাকা থিয়েটারে
  2. বাংলা একাডেমীতে
  3. শহীদ মিনারে
  4. ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
ব্যাখ্যা

• কবর নাটক:
- বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকটি স্মরণীয় নাম।
- কারাগারের ভেতরে বসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই নাটকটি যেভাবে লেখা এবং মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।
- 'কবর' নাটকটি লেখা হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
- রাতে কারাগারের বাতি নিভিয়ে দেয়া হলে লণ্ঠনের আলোয় সেই নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ঢাকা কারাগারে।
- তখন কারাগারে থাকা কমিউনিস্ট নেতা রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধে ভাষা আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি ‘কবর’ নাটক লেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কারাবন্দী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মুনীর চৌধুরী লেখা শেষ করেছিলেন ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি আর জেলখানায় অভিনীত হয়েছিল ২১ ফেব্রুয়ারি।
- পরবর্তীতে এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশে মঞ্চায়িত হওয়া অন্যতম জনপ্রিয় নাটকে পরিণত হয়েছে।

তাঁর রচিত আরও কয়েকটি নাটক- 
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি
- দণ্ডকারণ্য
- রূপার কৌটা
- মুখরা রমণী বশীকরণ
- কেউ কিছু বলতে পারে না।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১২০.
বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত-
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌
• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্যঃ
- তীর্থ সলীল,
- তীর্থ রেণু,
- ফুলের ফসল,
- মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,১২১.
‘ভ্রমণকারী বন্ধু’ কোন লেখকের ছদ্ম নাম?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) অমীয় চক্রবর্তী
  3. গ) বন্ধুদেব বসু
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়  ‘লীলাময় রায় ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,১২২.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) লালসালু
  3. গ) কাঁদো নদী কাঁদো
  4. ঘ) নয়নচারা
ব্যাখ্যা
লালসালু, কাঁদো নদী কাঁদো ও চাঁদের অমাবস্যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস এবং নয়নচারা, দুই তীর, গল্পসমগ্র তাঁর রচিত ছোটগল্প।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,১২৩.
জীবনভিত্তিক কাব্য 'চিত্তনামা' কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্মরণে রচিত?
  1. ক) ক্ষুদিরাম বসু
  2. খ) সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. ঘ) মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য, 
চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
মরুভাস্কর - হযরত মুহম্মদ (সঃ) 

চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে (১৩৩২ বঙ্গাব্দে)
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালিন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থ বের করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১২৪.
'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি-
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- তুলনাহীনা,
- শহর-ইয়ার।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১২৫.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ুন কবির
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা - আহমদ ছফা
 
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১২৬.
আবুল হাসান রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. এখানে এখন
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. ওরা কয়েকজন
  4. গণনায়ক
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের  মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য-  ওরা কয়েকজন। 

অন্যদিকে, 
সৈয়দ শামসুল হকের  কাব্যনাট্যসমূহ হচ্ছে-  পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬), গণনায়ক (১৯৭৬), এখানে এখন (১৯৮৮)। 

-------------------
• আবুল হাসান:

- আবুল হাসান ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া, আর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।

- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণীতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা শেষ না করেই ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তাবিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি গণবাংলা (১৯৭২-৭৩) এবং দৈনিক জনপদ-এ (১৯৭৩-৭৪) সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯৭০ সালে এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম হন।

---------------------
তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- যে তুমি হরণ করো (১৯৭৪) ও
- পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।

মৃত্যুর পর কাব্যনাট্য-
- ওরা কয়েকজন ও
- আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ (১৯৯০) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,১২৭.
বুদ্ধদেব বসু রচিত ‘কঙ্কাবতি’ কাব্যগ্রন্থের পটভুমি ছিলো-
  1. ক) প্রেম
  2. খ) যুদ্ধ
  3. গ) সামাজিক কুসংস্কার
  4. ঘ) দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
• ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম। সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১২৮.
নিচের কোনটি মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য?
  1. উদ্বোধন
  2. স্পেন বিজয় কাব্য
  3. অনল প্রবাহ
  4. উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস: রায়নন্দিনী, তারাবাঈ, ফিরোজা বেগম।
• প্রবন্ধ: স্বজাতি প্রেম, তুর্কি নারী জীবন, স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।
• কাব্যগ্রন্থ: অনল প্রবাহ, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।
• ভ্রমণকাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১২৯.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।  

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' - গানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাত আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৩০.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি? 
  1. সাম্য
  2. দৃষ্টিকোণ
  3. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  4. কালান্তর
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রবন্ধ সংকলন: 'দৃষ্টিকোণ'। 

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯১৯ সালে  ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- কিন্তু ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও  অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বিএ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন।
 
আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি। 

অন্য অপশনে,
• 'সাম্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক প্রবন্ধের গ্রন্থ কালান্তর।
• ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৩১.
'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. লালসালু 
  3. পদ্মানদীর মাঝি
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। 
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?' উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।
এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষি পাঠ,
- গীতাঙ্কু,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
-ডেভিড হেয়ারের জীবন চরিত,
- এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্ব্বাবস্থা,
- বামাতোষিণী।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৩২.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম-
  1. রাকিবুল হাসান
  2. ইকবাল মজুমদার
  3. রায়হান ইকবাল
  4. জাহেদুল করিম
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন :
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিম।

• মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস :
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- জীবন আমার বোন,
- কালো বরফ,
- খেলাঘর 
- চিক্কোর কাবুক,
- মাঠির জাহাজ,
- অশরীরী,

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৩৩.
'সুড়ঙ্গ' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
- 'সুড়ঙ্গ' হচ্ছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক।

• সুড়ঙ্গ (নাটক):
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এই নাটকে মানুষের চেতনার লোভ, লালসা, ঘৃণা ও ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন।
- নাটকে ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে।
- রাবেয়ার এমন মনোবৃত্তি বিয়ের জন্যে নয়। 
- রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তাঁর চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। এভাবে কাহিনি বিস্তার করে নাটকটিতে।
- মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ - রূপকটি এখানেই।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৩৪.
'পাগলা দাশু' সুকুমার রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক
  2. গল্প সংকলন
  3. ছড়া
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'পাগলা দাশু' গল্প সংকলন:
- 'পাগলা দাশু' সুকুমার রায় রচিত একটি গল্পের সংকলন। 
- পাগলা দাশু হল সুকুমার রায় সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র। পাগলা দাশু (১৯৪০) বইতেই প্রধানত পাগলা দাশুর ছোটো ছোটো গল্পগুলি পাওয়া যায়।
- ২০১২ সালে পাগলা দাশু গল্পের একটি সংকলন পাগলা দাশু অ্যান্ড কো-এর ক্রেজি টেলস নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
-  সে স্কুলপড়ুয়া এবং তার পাগলামি ও খুব সূক্ষ্ম হাস্যকর ব্যঙ্গাত্মক কীর্তিগুলির জন্য বিখ্যাত। গল্পগুলি মূলত শিশুপাঠ্য গল্প। বাংলা সাহিত্যে এই চরিত্রটি বিশেষ জনপ্রিয়।

 'পাগলা দাশু' গল্প সংকলনের গল্পগুলো হলো- 
- পাগলা দাশু,
- দাশুর খ্যাপামি,
- চীনে পল্কা,
- দাশুর কীর্তি,
- চালিয়াত,
- সবজান্তা,
- ভোলানাথের সর্দারি,
- আশ্চর্য কবিতা,
- নন্দলালের মন্দকপাল,
- নতুন প-িত,
- সবজাত্মা দাদা,
- যতীনের জুতো,
- ডিটেক্টিভ্,
- ব্যোমকেশের মান্জা,
- জগ্যিদাসের মামা,
- আজব সাজা,
- কালাচাঁদের ছবি,
- গোপালের পড়া,
- পেটুক,
- ভুল গল্প। 

------------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'পাগলা দাশু' গল্প সংকলন।

৩,১৩৫.
'সৌরভের কাছে পরাজিত' কবি আল মাহমুদের কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ সংকলন 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. উপন্যাস 
  4. গল্পগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

• 'সৌরভের কাছে পরাজিত' কবি আল মাহমুদের একটি গল্পগ্রন্থ। 'সৌরভের কাছে পরাজিত' বইতে জীবনযুদ্ধ এবং আত্মপরিচয়ের গল্প রয়েছে।

-------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সৌরভের কাছে পরাজিত' গল্পগ্রন্থ।

৩,১৩৬.
'এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - 
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়গত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধরার চেষ্টা করেছেন।

অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৩৭.
একুশের প্রথম গানের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আ ন ম গাজীউল হক
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'।
- এক জনপ্রিয় হিন্দি গান থেকে নেয়া হয়েছে এর সুর।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- এটি ছিল তখনকার দিনের রাজপথের গান।

একুশের প্রথম
- নাটক: কবর
- উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন
- কবিতা: কাঁদতে আসিনি ফাসির দাবি নিয়ে এসেছি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর
৩,১৩৮.
'নামহীন গোত্রহীন' গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. রশীদ হায়দার
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৭৫ সালে।
- সাতটি গল্পে সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থটির গল্পগুলিতে মানুষের বিপর্যয়ের চরম দুর্দশার চিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণকে।

হাসান আজিজুল হক:

- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; আগুনপাখি, হাসান আজিজুল হক।
৩,১৩৯.
‘ভাষাচার্য’ কার উপাধি?
  1. সরদার জয়েন উদ্দিন
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

 তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪০.
কার ছদ্মনাম 'পরশুরাম'?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রাজশেখর বসু
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম। 

রাজশেখর বসু: 
- ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা দার্শনিক পন্ডিত চন্দ্রশেখর বসু ছিলেন দ্বারভাঙ্গা রাজ এস্টেটের ম্যানেজার।
 - ১৯০৬ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা পরিষদে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
- তিনি ১৯৩৫ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত বাংলা বানান সংস্কার সমিতির সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৪৮ সালে সরকার গঠিত পরিভাষা সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- লেখক হিসেবে তিনি ‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- ১৯২২ সালে এ ছদ্মনামে তাঁর ‘শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’ ব্যঙ্গ রচনাটি প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর চলন্তিকা (১৯৩৭) বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একখানি জনপ্রিয় অভিধান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রম্য-রচনা গড্ডলিকা,
- কজ্জলী,
- হনুমানের স্বপ্ন,
- গল্পকল্প;
- গল্প কৃষ্ণকলি,
- আনন্দীবাঈ;
- প্রবন্ধ লঘুগুরু,
- ভারতের খনিজ,
- কুটিরশিল্প,
- বিচিন্তা;

অনুবাদ:
- মেঘদূত,
- বাল্মীকি রামায়ণ,
- মহাভারত,
- হিতোপদেশের গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪১.
'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
• আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চবিবশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তাঁর কবিতায় কখনো মৃত্যুচেতনা, কখনো রোমান্টিকতা, কখনো সুররিয়ালিজম, প্রতীকধর্মী আবার কখনো এ্যাবসার্ডধর্মী ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তাছাড়া আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক।

• সাহিত্য রচনার প্রথম দিকে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। 

----------------
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ; নির্বাচিত কবিতা; কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড; পরাবাস্তব কবিতা; পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি; মাছ সিরিজ। 

• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ; চলো যাই পরোক্ষে; মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা। 

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী; অ-তে অজগর; গভীর গভীরতর অসুখ; ক্ষুধা প্রেম আগুন; শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি।

• নাটক/কাব্যনাটক:
চাকা (১৯৮৫), নাট্যগুচ্ছ (১৯৯১), কবি ও অন্যেরা (১৯৯৬)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৪২.
আবুল ফজল কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  3. বাংলা একাডেমি
  4. এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল:
- আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

আবুল ফজল রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

আবুল ফজল রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪৩.
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বৃহৎ উপন্যাস ‘ সত্যাসত্য’ -কয়টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ৪ টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বৃহৎ উপন্যাস ‘সত্যাসত্য’ ৬টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। ১ম খণ্ড-যার যেথা দেশ। ২য় খন্ড- অজ্ঞাত বাস। ৩য় খণ্ড- কলঙ্কবতী। ৪ র্থ খণ্ড- দঃখমোচন। ৫ম খন্ড- মর্ত্যের স্বর্গ। ৬ষ্ঠ খণ্ড- অপসারণ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৩,১৪৪.
নিচের কোনটি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। অপরদিকে ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা ও সংকর সংকীর্তন আবু জাফর শামসুদ্দীন ত্রয়ী উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৪৫.
'অন্য ঘরে অন্য স্বর' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ গল্পগ্রন্থ:
- এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ সালে রচিত নিরুদ্দেশ যাত্রা, উৎসব, প্রতিশোধ, যোগাযোগ, ফেরারী, অন্য ঘরে অন্য স্বর ইত্যাদি গল্প নিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ শিরোনামে গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। ব্যক্তিমানুষই এই গ্রন্থের উপজীব্য বিষয়।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দ ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪৬.
'সব্যসাচী' শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. ক) পণ্ডিতমশাই
  2. খ) বড়দিদি
  3. গ) পথের দাবী
  4. ঘ) চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। এর কাহিনীর পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনীতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবের আন্তরিক সমর্থন আছে।
- গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,১৪৭.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস?
  1. ক) স্মৃতির শহর
  2. খ) এলাটিং বেলাটিং
  3. গ) অক্টোপাস
  4. ঘ) নিজ বাসভূমে
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি ছিলেন শামসুর রহমান (১৯২৯-২০০৬)।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ অক্টোপাস, অদ্ভূত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' ও 'স্মৃতির শহর' তাঁর রচিত আত্মকাহিনী।
- 'নিজ বাসভূমে' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে, আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,১৪৮.
বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ‘পালামৌ’ কার রচনা?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- ‘পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা। 

‘পালামৌ’:
- 'পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনী।
- ‘পালামৌ’ ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পালামৌ বিহারের একটি স্থান।
- বিহারে অবস্থানকালে নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা অবলম্বনে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন।
- এই রচনাতেই তিনি অমর বাক্য সৃষ্টি করেন - “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”
-------------------------------
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
-  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৪–১৮৮৯) ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও পণ্ডিত।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি একজন স্বশিক্ষিত মানুষ ছিলেন।
- নিজের উদ্যোগে অধ্যয়নের মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইন বিষয়ে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
• যাত্রা সমালোচনা,
• কণ্ঠমালা,
• রামেশ্বরের অদৃষ্ট,
• মাধবীলতা,
• দামিনী, প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,১৪৯.
“যে সব বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গবাণী, সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি” - বাঙলা ভাষা বিদ্বেষীদের উদ্দ্যশে করে কবি আবদুল হাকিম পঙক্তি কোন কাব্যে লিখেছেন?
  1. দূররে মজলিশ
  2. হানিফার লড়াই
  3. লালমোতি সয়ফুলমুলুক
  4. নূরনামা
ব্যাখ্যা

বাঙলা ভাষাকে যারা অবজ্ঞা করতো আবদুল হাকিম তাদের উপর ক্ষেপেছিলেন।
এসব পরগাছাদের নিন্দা করে তিনি লিখেছেন অমর পঙক্তি।
সে পঙক্তিগুলো আছে তার নূরনামা কাব্যগ্রন্থে।

''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।
ন দেশি ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়,
নিজ দেশ ত্যাগী কেন বিদেশে ন যায়?
মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি,
দেশি ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৩,১৫০.
'গ্রানাডার শেষ বীর' - কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

----------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৫১.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের প্রকাশিত গল্পের নাম কি?
  1. ক) হারেম
  2. খ) মহাপতঙ্গ
  3. গ) অভিশাপ
  4. ঘ) পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক একজন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
তিনি শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ, মাতা আতহারুন্নিসা।

- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
 - কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

 তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি
 - হারেম (১৯৬২) ও
 - মহাপতঙ্গ  (১৯৬৩)।

তিনি ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) লাভ করেন।  

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
৩,১৫২.
''পঞ্চতন্ত্র'' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সমরেশ বসু
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'পঞ্চতন্ত্র' সৈয়দ মুজতবা আলীর ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- এটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত এবং দুই পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে ৩৪টি ও দ্বিতীয় পর্বে ৩১টি; সর্বমোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- রচনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে ইত্যাদি।
- গ্রন্থটি রম্য ধরণের প্রবন্ধের সংকলন।

- সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য ধরণের আরেকটি গ্রন্থ - ময়ূরকণ্ঠী।

তার দুটি উপন্যাসঃ
- অবিশ্বাস্য
- শবনম

তার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী - দেশে বিদেশ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৫৩.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কবিতার কথা
  2. খ) সাতনরী হার
  3. গ) অভিজ্ঞান বসন্ত
  4. ঘ) মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো 'সাতনরী হার'।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০), কমলের চোখ (১৯৭৪), আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১), সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩), আমার সময় (১৯৮৭), নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১), আমার সকল কথা (১৯৯৩)।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,১৫৪.
'ঠকচাচা' চরিত্রটি কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. লালসালু
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. সধবার একাদশী
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
• 'ঠকচাচা' চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র।

• আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস : 
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
--------------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- আধ্যাত্মিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৫.
’পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কোন উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ?
  1. রজনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. মৃণালিনী
  4. কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা

• কপালকুণ্ডলা :
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস ।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য "রোমান্স বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন মৃন্ময়ী (১৮৭৪) ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত অন্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

৩,১৫৬.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন-
  1. ক) সুভাষ মজুমদার
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু। 
- তার কাব্যবৈশিষ্টকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  তাছাড়া তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, রূপসী বাংলার কবি নামেও বিশেষায়িত করা হয়।
 
জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৭.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  2. খ) সাহিত্য ও ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. গ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব 

ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব 
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত 
তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে  আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। 
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে  দেয়।

মুহম্মদ আবদুল হাই
মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

 • মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা
- ভাষা ও সাহিত্য 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৮.
'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ড. আনিসুজ্জামান
  3. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  4. বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা
• 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন: 'ড. আনিসুজ্জামান'। 
- আনিসুজ্জামান স্মৃতিকথা লিখেছেন তিনটি: ১. আমার একাত্তর (১৯৯৭) ; ২. কাল নিরবধি (২০০৩) ; ৩. বিপুলা পৃথিবী (২০১৫)।
'কাল নিরবধি'- তাঁর এক ধরনের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ। 

------------------------ 
• আনিসুজ্জামান: 
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীন এর সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. ক) হাসুলী বাঁকের উপকথা
  2. খ) দেয়াল
  3. গ) ঠাকুর বাড়ির আঙিনা
  4. ঘ) কমলের চোখ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ছিলেন।
‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫)।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬০.
'জীবনজমিন' গল্পগ্রন্থটির গল্পকার কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. দিলারা হাশেম
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'জীবনজমিন' গল্পগ্রন্থটির গল্পকার - আলাউদ্দিন আল আজাদ
- এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। 
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। 
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। এটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬১.
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. আল মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
• 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালে 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর।
- কালের কলস।
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না।
- পাখির কাছে ফুলের কাছে।
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,১৬২.
'অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ইংরেজি অনুবাদক কে?
  1. ফকরুল আলম
  2. শমসের মবিন চৌধুরী
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. শেখ হাসিনা
ব্যাখ্যা
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও এই বইয়ের অনুবাদ হয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।
 
উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৩,১৬৩.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
•  'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির লেখক - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

• 'সংস্কৃতি' নামে আরও কিছু গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা - ড. আহমদ শরীফ। 
- সংস্কৃতি কথা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই - শওকত ওসমান। 
- সংস্কৃতির রুপান্তর - গোপাল হালদার। 
- 'সংস্কৃতির সংকট' - 'বদরুদ্দীন উমর'।
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- সভ্যতার সংকট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৬৪.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) স্মৃতিকথা
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)।
প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪),
- Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩),
- সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭),
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৩,১৬৫.
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' গ্রন্থটি  রচনা করেছেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:

- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৬৬.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিজলী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. কল্লোল
  4. মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ‘নবশক্তি’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৬৭.
শাহনামা কোথাকার মহাকাব্য?
  1. ক) গ্রিস
  2. খ) রোম
  3. গ) পারস্য
  4. ঘ) রাজস্থান
ব্যাখ্যা

‘শাহনামা’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি ফেরদৌসী। অর্থাৎ এই মহাকাব্যটি পারস্যে রচিত একটি সাহিত্য।
উৎসঃ ব্রিটানিকা।

৩,১৬৮.
'আমাদের সংস্কৃতি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে? 
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন 
  2. আনিসুজ্জামান 
  3. আবুল হাসান 
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক 
ব্যাখ্যা

• 'আমাদের সংস্কৃতি':
- আনিসুজ্জামান রচিত  'আমাদের সংস্কৃতি'  বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের উৎসব (২০০৮) গ্রন্থ থেকে সংকলিত। 
​ ​- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। 
​ ​- আদিকাল হতে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলার সংস্কৃতিতে যোগ হয়েছে বিশ্বের নানা জাতির সংস্কৃতি। 
​ ​- এতে আমাদের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে, বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। 
 ​- ​তা সত্ত্বেও বাংলার প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের সংস্কৃতিকে দান করেছে স্বাতন্ত্র্য। 
 ​- ​আর তা হলো আমাদের লোকসংস্কৃতি। 
​ ​- আমাদের সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা, মাটির ভাস্কর্য, কারুশিল্প, বয়ন শিল্পের রয়েছে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। 
​ ​- মূলত 'আমাদের সংস্কৃতি' প্রবন্ধে উপস্থাপিত হয়েছে বাঙালি ও বাংলা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। 
​ ​- এ প্রবন্ধ আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, মানবিকতাবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বিদ্রোহী ভাবনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

​​• আনিসুজ্জামান: 
- ​আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ​তাঁর ঢাকার প্রিয়নাথ হাইস্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। 
- ​জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ. এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
-​ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 
-​অধ্যাপক আনিসুজ্জামান গবেষক ও প্রাবন্ধিক।
​- ​সাহিত্য ও গবেষণায় কৃতিত্বের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ প্রচুর সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০২০ সালের ১৪ই মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন

-​ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো: 
- ​মুসলিম বাংলার সাময়িক পত্র, 
​- স্বরূপের সন্ধানে, 
​- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
​- পুরোনো বাংলা গদ্য ইত্যাদি। 

​উৎস: সাহিত্যপাঠ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২৫ সংস্করণ।

৩,১৬৯.
'কাঁদো নদী কাঁদো' কার রচিত উপন্যাস?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। - তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়। 
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৭০.
রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. উর্বশী ও আর্টেমিস
  3. অপর অরণ্যে
  4. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় - উর্বশী ও আর্টেমিস।
- এটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৭১.
'ছায়াময়ী' কার রচিত কাব্য?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) জসীম উদদীন
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মহাকবি। তাঁর রচিত কাব্য- চিন্তা তরঙ্গিনী, ছায়াময়ী, আশাকানন, বীরবাহু, চিত্তবিকাশ, দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৭২.
'আলমগড়ের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
'আলমগড়ের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- দুই মহল, কাঞ্চনমালা, কাশবনের কন্যা, জয়মঙ্গল, সমুদ্রবাসর, নবান্ন ও কাঞ্চনগ্রাম ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,১৭৩.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির রচয়িতা - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭৪.
কবি ও সমাজসেবক নবাব ফয়জুন্নেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. যশোর
  3. ঢাকা
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন। মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে। 
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়। উল্লেখ্য যে, নবাব ফয়জুন্নেসা এমন এক সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করেন যখন অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে এই ভাষা সাধারণত ব্যবহৃত হতো না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭৫.
বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধির সময়কাল কোনটি?
  1. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
  2. ১৭৬০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  3. ১৭৩০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,১৭৬.
নিচের কোন লেখকের জন্ম সাল একই নয়?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন, বন্দে আলী মিয়া, বিজন ভট্টাচার্য তিন জনই ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বিষ্ণু দে ১৯০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
৩,১৭৭.
"হরতাল" সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. গদ্যগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গীতিনাটিকা
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘হরতাল’ গদ্যগ্রন্থ:
‘হরতাল’ কবি সুকান্তের একটি গদ্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। কবি সুকান্ত ব্যক্তি জীবনে যেমন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন তেমন চিন্তার ছাপ রয়েছে তার রচনায়। তার প্রায় সব লেখাতেই সাধারণ মানুষের কথা, দুঃখ-কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে। আলোচিত হয়েছে নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ, বিপ্লবের ভাষা ও বিপ্লবীর কণ্ঠস্বর। ‘হরতাল’ গ্রন্থটি তেমনই একটি চিন্তার ফসল। গ্রন্থটিতে তার লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত- অপ্রকাশিত গদ্য সংকলিত হয়েছে।

যেখানে,
- দেবতাদের ভয়,
- রাখাল ছেলে,
- লেজের কাহিনী, 
- ষাঁড়-গাধা-ছাগলের কথা, 
- হরতাল শিরোনামের গদ্য স্থান পেয়েছে।

উৎস: ‘হরতাল’ গদ্যগ্রন্থ সুকান্ত ভট্টাচার্য।
৩,১৭৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী অবলম্বনে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত নাটক-
  1. ক) বিদ্যাসাগর
  2. খ) স্মরণে ঈশ্বরচন্দ্র
  3. গ) শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র
  4. ঘ) বিদ্যাসাগচরিত
ব্যাখ্যা
•  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম হচ্ছে - বিদ্যাসাগর।

 বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

• উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
• বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প,
- বিন্দুবিসর্গ ,
- অদৃশ্যলোকে ,
- তন্বী,
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী,
- বহুবর্ণ ,
- বনফুলের নতুন গল্প প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭৯.
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধটি লিখেছেন-
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• জীবন ও বৃক্ষ:
- ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘সংস্কৃতি - কথা’ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে তিনি জীবনের সার্থকতা বৃক্ষের মাঝে খুজেছেন।

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৮০.
‘আগুনের মেয়ে’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) আলাউদ্দিন আলা আজাদ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ।
[সূত্রঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা]
৩,১৮১.
'কোন এক মাকে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) আ-ন-ম গাজীউল হক
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) মাহবুব-উল-আলম
ব্যাখ্যা
‘কোন এক মাকে'- কবিতাটির রচয়িতা - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কুমড়ো ফুলে-ফুলে,
নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা, 
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
কবে ছুটি? (সংক্ষিপ্ত) 

তাঁর উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে :
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে (কুমড়াে ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা)।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কখনাে রং কখনাে সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৯৩) ইত্যাদি৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮২.
'দুঃখবাদের কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) যতীন্দ্রনাথ বাগচী
  2. খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

যতীন্দ্রনাথ বাগচী দুঃখবাদের কবি হিসেবে পরিচিত।
মোজাম্মেল হক শান্তিপুরের কবি, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী স্বপ্নাতুর কবি এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায় পদাতিকের কবি হিসেবে পরিচিত।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)

৩,১৮৩.
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আগুনপাখি
  2. জীবন ঘষে আগুন
  3. সাবিত্রী উপাখ্যান
  4. শিউলি
ব্যাখ্যা

হাসান আজিজুল হক রচিত 'জীবন ঘষে আগুন' একটি গল্পগ্রন্থ। গল্পগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৮৪.
'গুপী গাইন বাঘা বাইন' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. সুকুমার রায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত 'গুপি-গাইন, বাঘা-বাইন' চরিত্রের স্রষ্টা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।

• 'গুপী গাইন বাঘা বাইন':

'গুপী গাইন বাঘা বাইন' বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প, যা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচনা করেন। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত শিশু-সাহিত্য পত্রিকা 'সন্দেশ'-এ ১৯১৫ সালে। এই গল্পটি পরবর্তীতে সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র 'গুপী গাইন বাঘা বাইন' (১৯৬৯) এর মাধ্যমে আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে।

------------------------
• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫) প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

তাঁর উলেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,১৮৫.
‘চাচা কাহিনী’র লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮৬.
'অতীত দিনের স্মৃতি' কার রচিত আত্মজীবনী?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

আবুল কালাম শামসুদ্দীন (১৮৯৭-১৯৭৮) : সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তার রচিত ও অনূদিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি (১৯৩৮),
- ত্রিস্রোতা (১৯৩৯),
- খরতরঙ্গ (১৯৫৩),
- দৃষ্টিকোণ (১৯৬১),
- নতুন চীন নতুন দেশ (১৯৬৫),
- দিগ্বিজয়ী তাইমুর (১৯৬৫),
- ইলিয়ড (১৯৬৭),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (১৯৬৮),
- অতীত দিনের স্মৃতি (১৯৬৮)ইত্যাদি
এগুলোর মধ্যে "অতীত দিনের স্মৃতি" গ্রন্থটি তার আত্মজীবনীমূলক।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৩,১৮৭.
''ডাক এল- সভ্যতার ডাক নিষ্ঠুর ক্ষুদার্ত পরোয়ানা আমাকে চিহ্নিত ক'রে গেল। আমার একক পৃথিবী ভেসে গেল জনতার প্রবল জোয়ারে।'' -- কার লেখা কবিতা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  5. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কবিতাংশটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের “ঘুম নেই” কাব্যগ্রন্থের অংশ।
কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল -  ১৯৪১ সাল।
৩,১৮৮.
কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. ক) মেঘনাদবধ কাব্য
  2. খ) মহাশ্মশান
  3. গ) অশ্রুমালা
  4. ঘ) শিবমন্দির
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা;
যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩,১৮৯.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. আহমদ শরীফ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৯০.
রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. উর্বশী ও আর্টেমিস
  2. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
  3. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  4. কোনো খেদ নেই
ব্যাখ্যা

• রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- উর্বশী ও আর্টেমিস।
- এটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ।

---------------------
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
-তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,১৯১.
'শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৯২.
'কাঞ্চনমালা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
'কাঞ্চনমালা' ও 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা, প্রাচীন বাংলার গৌরব, মেঘদূত ব্যাখ্যা, ভারত মহিলা, বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,১৯৩.
‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে কোন নাটকটি প্রকাশিত হয়?
  1. ক) দুর্গাদাশ
  2. খ) বীরঙ্গনা
  3. গ) নীলদর্পণ
  4. ঘ) কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র, (১৮৩০-১৮৭৩)  নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্ত্ত। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৯৪.
‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত আলী
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
⇒ সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৯৫.
“হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” কত সালে প্রকাশ পায়?
  1. ক) ১৯১৬
  2. খ) ১৯২০
  3. গ) ১৯০৮
  4. ঘ) ১৯০৭
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১):
- প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি পান।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথম গ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি এটি “হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে সম্পাদনা করেন।
- যা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) সালে প্রকাশিত হয়।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,১৯৬.
কোনটি হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) সাবিত্রী উপাখ্যান
  2. খ) করতলে ছিন্নমাথা
  3. গ) নামহীন গোত্রহীন
  4. ঘ) যখন উদ্যত সঙ্গীন
ব্যাখ্যা
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ- আত্মজা ও একটি করবী গাছ, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শামুক, শিউলি, বৃত্তায়ন তাঁর রচিত উপন্যাস।
যখন উদ্যত সঙ্গীন হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,১৯৭.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ঘুম নেই
  2. রানার
  3. পূর্বাভাস
  4. ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'রানার' একটি কবিতা।
- তিনি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন।

------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১৯৮.
‘মগের মুলুক’ - কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

• ‘মগের মুলুক’ ব্যঙ্গকাব্যটির রচয়িতা - গােবিন্দচন্দ্র দাস

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,১৯৯.
'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. সেলিম আল দীন
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' গ্রন্থ:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

- সঞ্জীবচন্দ্র “Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities” (১৮৬৪) গ্রন্থে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক ধারাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কীভাবে কৃষক-অধিকার পর্যুদস্ত করেছিল তা তিনি এ গ্রন্থে তুলে ধরেন। Bengal Ryots-এর দৃষ্টান্তেই ১৮৮২ সালে রেন্ট কমিশন এর রিপোর্ট বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন (১৮৮৫) হিসেবে কার্যকর হয়।

---------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২০০.
‘চতুষ্কোণ’ - উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হুমায়ুন কবির
  3. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আসল নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি তার উপন্যাসে বিভিন্ন রকম তত্ত্ব অবলম্বন করেছেন। তাই তার উপন্যাসের কাহিনী কিছুটা জটিল। মনের গোপন কামনা বাসনা থেকে শ্রেণীসংগ্রাম রূপ পেয়েছে তার উপন্যাসে।

তার বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস হচ্ছে -
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫)
- পুতুল নাচের ইতিকথা (১৯৩৬)
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬)
- শহরতলী (১৯৪০)
- চতুষ্কোণ (১৯৪৮)

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

এছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চতুরঙ্গ' নামের একটি উপন্যাস রয়েছে।