বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ২৯ / ৭৭ · ২,৮০১২,৯০০ / ৭,৬৪৬

২,৮০১.
‘এই গৃহ এই সন্ন্যাস’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• কবি মহাদেব সাহা রচিত প্রথম কাব্য এই গৃহ এই সন্ন্যাস।
- এটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৪২টি কবিতা রয়েছে। 

• তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো :
- মানব এসেছি কাছে
- কী সুন্দর অন্ধ
- তোমার পায়ের শব্দ
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস
- আমি ছিন্নভিন্ন
- তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮০২.
'শব্দ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল হাই
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ- আখ্যান মঞ্জুরী, বোধোদয়, ব্যাকরণ কৌমুদী, বর্ণপরিচয়, কথামালা, শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৮০৩.
এস. ওয়াজেদ আলি রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ভবিষ্যতের বাঙালি
  2. সভ্যতার সংঘর্ষ 
  3. উন্নত জীবন
  4. সমাজ ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

• ভবিষ্যতের বাঙালি: 
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- ভবিষ্যতের বাঙালী তার বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এই গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু- মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে। 

• এস ওয়াজেদ আলি: 
- তিনি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম- গল্পগ্রন্থ 'গুলদাস্তা' 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী, 
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

তাঁর রচিত গল্প: 
- গুলদাস্তা, 
- মাশুকের দরবার, 
- বাদশাহী গল্প, 
- গল্পের মজলিশ। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- গ্রানাডার শেষ বীর। 

ভ্রমণকাহিনী: 
- পশ্চিম ভারত, 
- মোটর যোগে রাঁচী সফর। 


তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮০৪.
‘আয়না’ হাস্যরসাত্মক গল্পগ্রন্থের লেখক-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা (১৯৫৩-৫৮ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি) এবং যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের ২১ দফার অন্যতম প্রণেতা।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
গল্পগ্রন্থ : আয়না (কাজী নজরুল ইসলাম এই হাস্যরসাত্মক গল্পের ভূমিকা লিখেছিলেন, ১৯৩৫), ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪), আসমানী পর্দা (১৯৬৪)।
উপন্যাস: সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (দেশভাগের পটভূমিতে রচিত, ১৯৫৫), আবে হায়াত (১৯৬৪)।
স্মৃতিকথা: আত্মকথা (আত্মজীবনী, ১৯৭৮)।
রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
২,৮০৫.
কাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৮০৬.
‘ল্য অরবরে সামস মায়েমে’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন গ্রন্থের ফরাসি অনুবাদ?
  1. বহিপীর
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. লালসালু
  4. চাঁদের অমবস্যা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
 
================
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮০৭.
কোন নাটকটি সেলিম আল দীনের?
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসী
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. কবর
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

অন্যদিকে,
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য।
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা- অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।

------------------------
• সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮০৮.
বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম প্রচুর পরিমাণ আরবি ও ফারসি শব্দের ব্যবহার করেন -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়। 
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।
- বাংলা কাব্যে বিদেশী শব্দ, বিশেষ করে আরবি-ফারসি শব্দ প্রয়োগে মোহিতলালের বিশেষ কৃতিত্ব ছিল।
- তিনি ইংরেজি সাহিত্যেও সুপন্ডিত ছিলেন।

 উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

কাব্যগ্রন্থ হলো:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি (গ্রন্থটি বাংলা ১৩৪৮ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৮০৯.
'যার যথা দেশ' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
•  'যার যথা দেশ' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়। 

------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮১০.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার/ভয় কি বন্ধু-" কোন কাব্যের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) স্মৃতিস্তম্ভ
  2. খ) স্মৃতিসৌধ
  3. গ) মানচিত্র
  4. ঘ) স্মৃতির মিনার
ব্যাখ্যা
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার/ভয় কি বন্ধু-" পঙক্তিটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতার অন্তর্ভূক্ত। 
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।


লেখকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১)
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২)

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮১১.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় কোন বাঙ্গালি কবি উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. কাজেম আল কোরেশী
  4. কেউই নন
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা
- কবি গোলাম মোস্তফা ১৮৯৭ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- রক্তরাগ,
- কাব্য-কাহিনী,
-তারানা-ই-পাকিস্তান,
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনার -
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

উৎস: ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৮১২.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. জামিল চৌধুরী
  4. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৮১৩.
সেলিম আল দীনের নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. কেরামতমঙ্গল
  2. চাকা
  3. বাসন
  4. হাতহদাই
ব্যাখ্যা
হাতহদাই:
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে যে বিরাট সম্ভাবনা আছে ‘হাতহদাই' এর উদাহরণ।
- নাটকটি নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় রচিত
- ‘হাতহদাই' মানে বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় ‘সাত সদাই' বা সাত রকমের সওদা বা বহু কিছু ।
- এই নাটকে নোয়াখালী অঞ্চলের এক গ্রামের মৌলবির মুখের আঞ্চলিক ভাষাও যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সে কথা প্রতিষ্ঠিত।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপঙ্‌ক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮১৪.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত কৌতুক নাটক কোনটি?
  1. মুকুলমুঞ্জরা
  2. পাণ্ডব গৌরব
  3. সীতার বিদ্রোহ
  4. হীরার ফুল
ব্যাখ্যা

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।

- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু। মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন। তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় 'গৈরিশ ছন্দ'।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ, 
- সীতার বিদ্রোহ, 
- লক্ষ্মণ বর্জন, 
- রামের বনবাস, 
- সীতাহরণ, 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, 
- পাণ্ডব গৌরব। 

• রোমান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, 
- আবু হোসেন। 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, 
- মীরকাশিম, 
- ছত্রপতি শিবাজী, 
- অশোক। 

• কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল
- সপ্তমীতে বিসর্জন, 
- বড়দিনের বখশিশ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৮১৫.
“পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি- প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায় 
তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।’’
- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত পঙক্তিগুলো কবি শামসুর রাহমানের 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
 
• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতা- শামসুর রাহমান।
২,৮১৬.
'নীলদর্পণ' নাটকটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৮৫৮ সালে
  2. খ) ১৮৫৯ সালে
  3. গ) ১৮৬০ সালে
  4. ঘ) ১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ পরিচিত নাটক। ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৮১৭.
‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো'- কি জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্য্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) সম্পাদনা
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো'- আহসান হাবীব রচিত একটি 'কাব্যগ্রন্থ'  

আহসান হাবিব 
আহসান হাবিব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

- অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮১৮.
‘নীললোহিত’ গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) অনন্ত বড়ু
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
চার ইয়ারী কথা, নীললোহিত ও আহুতি প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ। নানা কথা, আমাদের শিক্ষা, রায়তের কথা, প্রবন্ধ সংগ্রহ, বীরবলের হালখাতা, তেল নুন লাকড়ি ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৮১৯.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  3. নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
  4. হেনরি ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

- বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ - গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থঃ
• বেদান্তগ্রন্থ,
• বেদান্তসার,
• ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
• গোস্বামীর সহিত বিচার। 

অপরদিকে,
- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড৷ তার রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত। তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এর কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়।

- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন নি। 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থে তিনি একটি অধ্যায়ে অতি সংক্ষেপে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। 

মনে রাখতে হবে, 
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন (পর্তুগিজ ভাষায়) - মনোএল দা আসুসাম্পসাঁউ (ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ) ।
প্রথম বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন (মূলত ইংরেজী ভাষায়) - নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড (এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ)।
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ (বাংলায়) - গৌড়ীয় ব্যাকরণ (রামমোহন রায়)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৮২০.
কোনটি ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. পাখির বাসা
  4. হাতেম তায়ী
ব্যাখ্যা

পাখির বাসা (১৯৬৫) ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্য নাটক ।
- হাতেম তায়ী একটি কাহিনী কাব্য ।
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩) ফররুখ আহমেদের সনেট সংকলনের নাম ।
- তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

২,৮২১.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থের জন্য তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত শতক
  3. সারদামঙ্গল
  4. বন্ধু-বিয়োগ
ব্যাখ্যা

• 'সারদামঙ্গল' কাব্য:
- 'সারদামঙ্গল' কাব্য বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন।
- রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন 'ভোরের পাখি' বলে।

----------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল চক্রবর্তী ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮২২.
'বনি আদম' কোন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) বেগম রোকেয়া
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
১৮৯৭ সালে ঝিনাইদহে গোলাম মোস্তফা জন্মগ্রহন করেন।
'বনি আদম' ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত আরও কাব্যগ্রন্থ,
- রক্তরাগ,
-খোশরোজ,
-কাব্যকাহিনী,
-সাহারা,
- হাসনাহেনা,
-বুলবুলিস্তান,
-তারানা ই পাকিস্তান,
- গীত সঞ্চয়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮২৩.
'বেশি দামে কেনা, কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
পাক-বাংলার কালচার, বেশি দামে কেনা, কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,৮২৪.
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি বলা হয় কাকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের ‘শেষ বড় কবি’ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৮২৫.
"প্রেম ও ফুল" কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮২৬.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটকের উপজীব্য কী?
  1. মানবিকতা ও স্বদেশ প্রেম
  2. সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।
  3. রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক
  4. ধর্মীয় কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- তিনি ছিলেন নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৎ।
 - তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে  পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন।
- তাঁর প্রথম নাটক আগুন (১৯৪৩) নাট্যভারতীতে অভিনীত হয়।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য: সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।
- তিনি নাট্য রচনায় মার্কসবাদকে প্রাধান্য দেন।

তাঁর রচিত অন্য নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮২৭.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

• রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা: 
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮২৮.
প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ - কার রচনা?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
ইতিহাস সংবলিত সত্যেন সেনের রচনা - মহাবিদ্রোহের কাহিনী, প্রতিরোধ সংগ্রামের কাহিনী, বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি। তার বিখ্যাত উপন্যাস - ভোরের বিহঙ্গী, অভিশপ্ত নগরী, পাপের সন্তান, পদচিহ্ন, আল বেরুনী ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮২৯.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. আর কতদিন
  2. সোনালি কাবিন
  3. কালের কলস
  4. দ্বিতীয় ভাঙ্গন
ব্যাখ্যা
• 'আর কতদিন' আল মাহমুদ রচিত  কাব্যগ্রন্থ  নয়।

• আল মাহমুদ:
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,৮৩০.
বাংলা টাইপরাইটারের জন্য মুনীর চৌধুরী উদ্ভাবিত কী-বোর্ডের নাম কী?
  1. মুনীর টাইপো
  2. মুনীর অপ্‌টিমা
  3. মুনীর কি-বোর্ড
  4. মুনীর লেখনী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 
মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:

"কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
"রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
"মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
"নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
"পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
"দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
"রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:

"কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
২,৮৩১.
'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলেও আহসান হাবীবের- 
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. কল্পকাহিনি
ব্যাখ্যা

- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলেও আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব (১৯১৭–১৯৮৫) ছিলেন আধুনিক বাংলা কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় আসেন এবং আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক ও ইত্তেহাদসহ নানা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনসে প্রডাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
- পরে দৈনিক পাকিস্তানে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি অরণ্য নীলিমা  ও রাণীখালের সাঁকো নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ছায়াহরিণ;
- সারা দুপুর;
- আশায় বসতি;
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো;
- দুহাতে দু আদিম পাথর;
- প্রেমের কবিতা; ও
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

∗ শিশুদের জন্য তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে আছে:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প;
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর ও
- ছুটির দিন দুপুরে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

২,৮৩২.
'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ' কিসের সংকলন?
  1. ক) ছোটগল্পের সংকলন
  2. খ) কাব্যগ্রন্থের সংকলন
  3. গ) গল্পগ্রন্থের সংকলন
  4. ঘ) গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৩৩.
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের ‘পদ্মরাগ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

-------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৩৪.
"আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - কে লিখেছেন?
  1. রফিক আজাদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. আল মাহমুদ
  4. হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - চরণটির রচয়িতা — আল মাহমুদ।

• সোনালী কাবিন- কাব্য;
- আল মাহমুদ।

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

উৎস: সোনালী কাবিন- আল মাহমুদ।
২,৮৩৫.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি বলা হয় কাকে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

-  রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত,
- শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন, 
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৩৬.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৫ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- আঠারো বছর বয়স কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- ছাড়পত্র,
- আঠারো বছর বয়স,
- রানার,
- হে মহাজীবন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,৮৩৭.
'কাল নিরবধি' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
- 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন: 'ড. আনিসুজ্জামান'।
- আনিসুজ্জামান স্মৃতিকথা লিখেছেন তিনটি: ১. আমার একাত্তর (১৯৯৭) ; ২. কাল নিরবধি (২০০৩) ; ৩. বিপুলা পৃথিবী (২০১৫)।
- 'কাল নিরবধি'- তাঁর এক ধরনের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৩৮.
বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা বিষয়ক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) কবিতা
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) যুগবাণী
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- কবিতাবিষয়ক ‘কবিতা’ পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

- পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• কবিতা বন্দীর বন্দনা,
• কঙ্কাবতী,
• দ্রৌপদীর শাড়ী,

উপন্যাস
• লাল মেঘ,
• রাতভর বৃষ্টি,
• পাতাল থেকে আলাপ ,
• গোলাপ কেন কালো;

গল্পগ্রন্থ
• অভিনয়, অভিনয় নয়,
• রেখাচিত্র,
• ভাসো আমার ভেলা।

নাটক
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী,
- কলকাতার ইলেকট্রা, সত্যসন্ধ ;
• প্রবন্ধ: কালের পুতুল , সাহিত্যচর্চা  ইত্যাদি।

• তপস্বী ও তরঙ্গিণী নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া স্বাগত বিদায় কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৩৯.
শওকত ওসমানের রচনা নয় কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প
  3. জাহান্নাম হইতে বিদায়
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমানের রচনা নয় - জাহান্নাম হইতে বিদায়। কারণ, এখানে বইটির নামের বানানে ভুল রয়েছে।
- বইটির শুদ্ধ নাম হবে- জাহান্নম হইতে বিদায়।


--------------------
• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ, 
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

২,৮৪০.
বত্রিশ সিংহাসনের রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলকনাথ শর্মা
  2. খ) রাম রাম বসু
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঘ) মদন মোহন তর্লালঙ্কার
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা
২,৮৪১.
'সমস্যা ও সমাধান' গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. মাওলানা আকরম খাঁ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
মাওলানা আকরম খাঁ:
- মাওলানা আকরম খাঁ ১৮৬৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হাকিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯০৩ সালে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮ই অগস্ট, ১৯৬৮ মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো:
- হজরত মোহাম্মদ-এর (স.) জীবনী 'মোস্তফা চরিত,
- মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস, 
- আমপারার বঙ্গানুবাদ,
- সমস্যা ও সমাধান,
- মুক্তি ও ইসলাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪২.
'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• "পূর্বাভাস" একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন। এটি মূলত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যেখানে সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্টের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।  

-------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৪৩.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আহমদ ছফা
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• 'বেনের মেয়ে' উপন্যাস: 
- 'বেনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 
-------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উল্লেখ্য,
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,৮৪৪.
"দারোগার দপ্তর" এর লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়:
- তাঁর জন্ম ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুন নদিয়ার জয়রামপুরের চুয়াডাঙায়। 
- তাঁকে বলা হয়েছে বাংলা গোয়েন্দা গল্পের পথিকৃৎ। পেশায় ছিলেন পুলিশ কর্মচারী। 
- তিনি ‘দারোগার দপ্তর’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা ১২৯৭ বঙ্গাব্দ থেকে ১২ বছর চালিয়েছিলেন। 
- এ পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পগুলি পরে ‘ডিটেকটিভ গল্প’ নামে পুস্তকাকারে ছাপা হয়।

• "দারোগার দপ্তর (১৮৯২)" : 
- রচয়িতা: প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়।

- প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ডিটেকটিভ গল্পের ধারা শুরু করেন। অনেকগুলি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রিয়নাথ নিজে ছিলেন পুলিশ দপ্তরের কর্মচারী। প্রধানত নিজের অভিজ্ঞতা অবলম্বনে এই গল্পগুলি লিখিত হয়।
- তবে কোনো কোনো খণ্ডে বিদেশি ডিটেকটিভ গল্পের অনুবাদও সংকলিত হয়।
- এই গ্রন্থধারাকে বাংলা ডিটেকটিভ গল্পের আদি বলা চলে।

উৎস: সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান; "দারোগার দপ্তর" গ্রন্থ।

২,৮৪৫.
নিচের কোনটি 'কাহার সম্প্রদায়' এর জীবনীভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) জলসাগর
  2. খ) অরণ্যবহ্নি
  3. গ) সুতপার তপস্যা
  4. ঘ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
- “হাঁসুলী বাঁকের উপকথা” উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের কোপাই নদীর তীরবর্তী কাহার সম্প্রদায়ের জীবনীভিত্তিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তাঁদের সংস্কৃতি, ধর্ম বিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা তুলে ধরা হয়েছে।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- কালিন্দী
- কবি
- আরোগ্য নিকেতন
- পঞ্চপুন্ডলী
- রাধা
- অরণ্যবহ্নি
- একটি কালো মেয়ের কথা 
- সুতপার তপস্যা।

• অন্যান্য অপশনগুলো:
- অরণ্যবহ্নি: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাঁওতাল বিদ্র্যোহ নিয়ে লেখা উপন্যাস।
- সুতপার তপস্যা: ১৯৬৫ সালের পর থেকে সমগ্র পশ্চিম বাংলায় বিস্তৃত গোপন রাজনৈতিক তৎপরতাকে উপজীব্য করে রচিত একটি ক্ষুদ্র উপন্যাস।
- একটি কালো মেয়ের কথা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত উপন্যাস। কেন্দীয় চরিত্র: নাজমা নামের এক কালো মেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪৬.
হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি- বইটির লেখক কে?
  1. ক) কাজী মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) গোলাম মুরশিদ
ব্যাখ্যা
গোলাম মুরশিদ:
- জীবিকা উপার্জনের জন্যে অধ্যাপনা এবং বেতার সাংবাদিকতা করলেও গোলাম মুরশিদের নেশা আগাগোড়াই গবেষণা করা।
- বৈষ্ণব পদাবলী থেকে রবীন্দ্রনাথ, বাংলা গদ্য এবং নাটকের ইতিহাস থেকে নারী জাগরণের ইতিহাস ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন।
- সমাজমনস্ক ব্যক্তি হিশেবে লিখেছেন বাংলার সমাজ, সমাজ-সংস্কার, স্বাধীনতা আন্দোলন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত তাঁর বিদ্যাসাগর বক্তৃতামালার ওপর ভিত্তি করে রচিত রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ (১৯৮১) রবীন্দ্রমানস এবং বাঙালি মুসলিম-মানস সম্পর্কে একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনা।
- Reluctant Debutante : Response of Bengali Women to Modernization (১৯৮৩) বাঙালি মহিলাদের আধুনিকতা সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী গ্রন্থ।
- কালান্তরে বাংলা গদ্য (১৯৯২) পুরোনো বাংলা গদ্য এবং তার বিবর্তন সম্পর্কে মৌলিক আলোচনা।
- আর, তাঁর আশার ছলনে ভুলি (১৯৯৫) সমালোচকদের মতে জীবনীসাহিত্যে এক নতুন মাইলফলক।
- কিংবদন্তীর আঁধি থেকে মুক্ত করে এ গ্রন্থে মাইকেল মধুসূদনকে তাঁর সত্যিকার স্বরূপে তুলে ধরেছেন গোলাম মুরশিদ। 
- হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি গ্রন্থটি গোলাম মুরশিদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। 

সূত্র: হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও প্রথম আলো। 
২,৮৪৭.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহীম
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
'ভবিষ্যতের বাঙালি' (১৯৪৩) এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ৷
এই বইতে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে।
তাছাড়া প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, জীবনের শিল্প ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস গ্রানাডার শেষ বীর।
তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী- মোটরযোগে রাঁচি সফর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮৪৮.
সুকুমার রায় গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন কোন রচনার মাধ্যমে?
  1. আবোল তাবোল
  2. খাই খাই
  3. হযবরল
  4. পাগলা দাশু
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন:
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মোট ছড়ার সংখ্যা ৫০টি, যার মধ্যে ৭টি বেনামে লেখা হয়েছে। এবং তিনি এটি বাবু সমাজ কে সমালোচনা করার জন্য লিখেছিলেন।
- এটির দ্বারা তিনি গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন। ছোটদের উদ্দেশ্যে লেখা সুকুমার রায় কবিতাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আবহের প্রচ্ছন্ন রূপ। 

'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছড়া হলো-
- অবাক কাণ্ড
- আবোল তাবোল
- আহ্লাদী
- একুশে আইন
- কাঠবুড়ো
- কাতুকুতু বুড়ো
- কাঁদুনে
- কিম্ভূত
- কৈফিয়ত
- খিচুড়ি
- খুড়োর কল ইত্যাদি। 

----------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন।

২,৮৪৯.
কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  2. খ) হেরাসিম লেবেডফ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৮৫০.
কোন গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী?
  1. বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
  2. জীবনের শিল্প
  3. স্বরূপের সন্ধানে
  4. স্বদেশ চিন্তা
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচিয়তা অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান
'স্বদেশ চিন্তা' গ্রন্থটির রচিয়তা আহমদ শরীফ
'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' গ্রন্থটির রচিয়তা  আহমদ ছফা

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
২,৮৫১.
'কাঞ্চন মালা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) সোমেন চন্দ
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'কাঞ্চন মালা' উপন্যাসটির রচয়িতা - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৩২৩ বঙ্গাব্দে 'হাজার বছর পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয় 
- মেঘদূত
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস)
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস)
- প্রাচীন বাংলার গৌরব 
- বৌদ্ধধর্ম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮৫২.
পাকিস্তান আমলে সামরিক শাসনের প্রতিক্রিয়ায় বাঙ্গালি লেখকরা বক্তব্য প্রকাশের জন্য আশ্রয় নেন -
  1. ক) মিথ রূপকের অবয়ব
  2. খ) বিশিষ্ট ভাষারীতি
  3. গ) বিশিষ্ট কাঠামো
  4. ঘ) অতিপ্রাকৃত আবহ
ব্যাখ্যা

পাকিস্থান আমলে সামরিক শাসনের প্রতিক্রিয়ায় বাঙ্গালি লেখকরা বক্তব্য প্রকাশের জন্য আশ্রয় নেন মিথ রূপকের অবয়ব।
শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে রচিত এবং
এতে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক - প্রতিকের আশ্রয়ে।
সুত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

২,৮৫৩.
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' কোন দ্বীপের মানুষের জীবন কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) মনপুরাদ্বীপ
  2. খ) শাহপরিদ্বীপ
  3. গ) ভোলাদ্বীপ
  4. ঘ) মহেশখালী দ্বীপ
ব্যাখ্যা
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীর মধ্যে শাহপরিদ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবন বাস্তব রূপ লাভ করেছে এই উপন্যাসে। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৫৪.
'সূর্য-দীঘল বাড়ী' — উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৯৪৫ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাস: 
- 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' — আবু ইসহাক রচিত একটি উপন্যাস। 
- ১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থটি।  

- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
→ জয়গুন,
→ হাসু, 
→ মায়মুন,
→ শাফি,
→ ডা. রামেশ,
→ মোড়ল গদু প্রমুখ।
------------------
• আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।

• তার অন্যান্য সাহ্যিতকর্ম:
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাস।

২,৮৫৫.
'সংশপ্তক' মহাকাব্যিক উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• "সংশপ্তক" উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- সংশপ্তক কথাটির অর্থ যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- লেখক এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নত ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন। তাই একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়। বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- রাবেয়া খাতুন (রাবু),
- জাহেদ,
- সেকেন্দার,
- মালু,
- হুরমতি,
- লেকু,
- রমজান,
- রামদয়াল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৫৬.
বাংলাদেশের নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত বলা হয় কাকে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্যকে- নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত বলা হয়। 
------------------------
• 'নবনাট্য আন্দোলন':
- গণনাট্যের পরবর্তী  পর্যায় হলো নবনাট্য আন্দোলন।
- নবনাট্যের অন্যতম পথিকৃৎ গঙ্গাপদ বসুর মতের,
সৎ মানুষের নতুন জীবনবোধের এবং নতুন সমাজ ও বলিষ্ট জীবনগঠনের মহৎ প্র্যাস যে সুলিখিত নাটকে শিল্প সুষমায় প্রতিফলিত হয় তাকেই বলে নবনাট্যের নাটক।  
-----------------
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তাঁর শেষজীবনে রচিত নাটকে মার্কসীয় দর্শন, হিন্দু ধর্ম ও দর্শন সংমিশ্রিত হয়েছে।
 
• বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটকগুলো হলো: 
- জনপদ,
- নবান্ন, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৫৭.
বাংলা ভাষায় প্রথম কোরআন অনুবাদ কে করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. স্যার জগদীশচন্দ্র বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
•  বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন — গিরিশচন্দ্র সেন।

• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
⇒ তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

⇒ তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৫৮.
গোলাম মোস্তফাকে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধিতে ভূষিত করে কোন সরকার?
  1. ব্রিটিশ সরকার
  2. বাংলাদেশ সরকার
  3. ভারত সরকার
  4. পাকিস্তান সরকার
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৫৯.
কোন গ্রন্থটি এয়াকুব আলী চৌধুরী প্রণীত?
  1. মোস্তফা চরিত
  2. নয়াজাতির স্রষ্টা হযরত মোহাম্মদ
  3. বিশ্বনবী
  4. মানব-মুকুট
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী:
- মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী ছিলেন একজন লেখক ও সাংবাদিক।
- ১৩৯৫ বঙ্গাব্দের ১৮ কার্তিক (নভেম্বর, ১৮৮৮) ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার অন্তর্গত মাগুরাডাঙ্গা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- এয়াকুব আলী চৌধুরী কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯২০-২১ সালে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তিনি কারাবরণ করেন। এর ফলে তাঁর শিক্ষকজীবনেরও অবসান ঘটে।
- অতঃপর তিনি কলকাতা গিয়ে অনুজ আওলাদ আলী চৌধুরীর সঙ্গে সাংবাদিকতার কাজে যোগ দেন এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। তিনি কিছুকাল এ সমিতির সম্পাদকও ছিলেন।
- তাঁর ও কবি গোলাম মোস্তফার যুগ্ম সম্পাদনায় ১৯২৭ সালের জানুয়ারি মাসে সমিতির মুখপত্র মাসিক সাহিত্যিক প্রকাশিত হয়।
- জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক কোহিনূরে প্রবন্ধ লিখে তিনি সাহিত্যসাধনা শুরু করেন।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলা না উর্দু হবে এ বিতর্কে তিনি বাংলা ভাষাকেই সমর্থন করেন।

তাঁর প্রধান রচনাগুলো হলো:
- ধর্মের কাহিনী (১৯১৪),
- নূরনবী (১৯১৮),
- শান্তিধারা (১৯১৮) ও
- মানব মুকুট (১৯২৬)।

অন্যদিকে,
• মাওলানা আকরম খাঁ রচিত হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর জীবনী 'মোস্তফা চরিত'।
• ‘বিশ্বনবী’ গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
• ‘নয়াজাতি স্রষ্টা: হযরত মুহাম্মদ’ মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬০.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. জিয়া হায়দার
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক |
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

সৈয়দ শামসুল হক রচিত নুরুলদীনের সারাজীবন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য |
- এছাড়াও তিনি গণনায়ক ও ঈর্ষা নামে নাটক রচনা করেন |

- তার বিখ্যাত উপন্যাস নিষিদ্ধ লোবান অবলম্বনে গেরিলা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে |
- নীল দংশন একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস |

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) |

২,৮৬১.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. আনোয়ার পাশা
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬২.
'Bury The Dead' নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে রচিত নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. চিঠি
ব্যাখ্যা

• ‘কবর’ নাটক:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক।

কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না।লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  বাংলাপিডিয়া।

২,৮৬৩.
বাংলার মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) দাউদ হায়দার
  3. গ) কাজেম আল কোরেশী
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরাশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট রচনা করেন। 

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)। মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,- 
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,৮৬৪.
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) পালামৌ
  2. খ) Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) রামেশ্বরের অদৃষ্ট
ব্যাখ্যা
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় খ্যাতি অর্জন করেন “Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities” লিখে এবং তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থ “পালামৌ”।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮৬৫.
'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- অংশটি জহির রায়হান রচিত কোন গল্পের অন্তর্গত?
  1. হারানো বলয়
  2. নয়া পত্তন
  3. অতি পরিচিত
  4. একুশের গল্প
ব্যাখ্যা
⇒ একুশের গল্প: 
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে একুশের গল্প অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

গল্পটিতে ব্যবহৃত কিছু সংলাপ হলো:
• 'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- অংশটি একুশের গল্পের অন্তর্গত।
• ‘ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে। - সংলাপটি জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প থেকে নেয়া হয়েছে।
• “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” 

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর;

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও ‘গল্প সমগ্র’ জহির রায়হান।
২,৮৬৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. সাধের আসন
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা
• বঙ্গসুন্দরী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ বঙ্গসুন্দরী।
- এটি দশ সর্গের একটি কাব্য।
- এ কাব্যের সর্গগুলো হলো।

→ প্রথম সর্গ: উপহার।
→ দ্বিতীয় সর্গ: নারীবন্দনা।
→ তৃতীয় সর্গ: সুরবালা।
→ চতুর্থ সর্গ: চিরপরাধীনা।
→ পঞ্চম সর্গ: করুণাসুন্দরী।
→ ষষ্ঠ সর্গ: সর্গ বিষাদিনী।
→ সপ্তম সর্গ: প্রিয়সখী।
→ অষ্টম সর্গ: বিরহিণী।
→ নমব সর্গ: প্রিয়তমা।
→ দশম সর্গ: অভাগিনী।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬৭.
মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  2. খ) আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. গ) ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

 মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০),
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬৮.
'পথ জানা নেই' গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম একজন কথাসাহিত্যিক।
১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা 
- ঢেউ 
- পথ জানা নেই 
- দুই হৃদয়ের তীর 
- শাহের বানু 
- পুঁই ডালিমের কাব্য 

তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮৬৯.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
- 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে।

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৭০.
বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) এডওয়ার্ড ডিমোস্ক
  3. গ) শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন 
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলো প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৭১.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস?
  1. দলিল
  2. অদ্ভুত আঁধার এক
  3. পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. কালের ধুলোয় লেখা
ব্যাখ্যা
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’
 
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- শওকত আলী রচিত উপন্যাস 'দলিল'।
- শামসুর রাহমানের রচিত আত্মস্মৃতি 'কালের ধুলোয় লেখা’।
- শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস 'পতঙ্গ পিঞ্জর'।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২. বাংলাপিডিয়া।
২,৮৭২.
'অনেক আকাশ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) সাঈদ আহমদ
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
'অনেক আকাশ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সৈয়দ আলী আহসান।

• ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ যশোরের কাদিয়া নামাক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কবিতার ভাববস্তুতে আছে ঐতিহ্য, সচেতনতা, সৌন্দর্যবোধ ও দেশপ্রীতি।

- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অনেক আকাশ
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত
- সহসা সচকিত
- উচ্চারণ
- আমার প্রতিদিনের শব্দসমুদ্রেই যাবো

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮৭৩.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. অন্ধকার যুগ
  2. যুগসন্ধিকাল
  3. আধুনিক যুগ
  4. মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৭৪.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ 
  2. কবিতা 
  3. উপন্যাস 
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ':
- এটি দাউদ হায়দার রচিত কবিতা।
- এটি তাঁর 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।

জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
--- দাউদ হায়দার

জন্মই আমার আজন্ম পাপ, মাতৃজরায়ু থেকে নেমেই জেনেছি আমি
সন্ত্রাসের ঝাঁঝালো দিনে বিবর্ণ পত্রের মত হঠাৎ ফুৎকারে উড়ে যাই
পালাই পালাই সুদূরে
চৌদিকে রৌদ্রের ঝলক
বাসের দোতলায় ফুটপাতে রুটির দোকানে দ্রুতগামী
নতুন মডেলের
চকচকে বনেটে রাত্রির জমকালো আলো
ভাংগাচোরা চেহারার হদিস
ক্লান্ত নিঃশব্দে আমি হেঁটে যাই
পিছনে ঝাঁকড়া চুলওয়ালা যুবক।

• দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ', দাউদ হায়দার।

২,৮৭৫.
নিচের কোনটি আবুল ফজলের প্রবন্ধ নয়?
  1. ক) শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি
  2. খ) মাটির পৃথিবী
  3. গ) সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন
  4. ঘ) সমকালীন চিন্তা
ব্যাখ্যা
'শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি' প্রবন্ধের রচয়িতা- আবুল ফজল। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- বিচিত্র কথা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি। মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৮৭৬.
' অসম্ভবের পায়ে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- 'অসম্ভবের পায়ে' গ্রন্থটির রচয়িতা- রফিক আজাদ। 

রফিক আজাদ
- কবি রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে কবি, সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- সীমাবদ্ধ জলে
- সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,৮৭৭.
‘মহাপতঙ্গ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. আবু ইসহাক
  2. আল মাহমুদ
  3. শওকত ওসমান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৭৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প নয় কোনটি?
  1. রাইকমল
  2. কালিন্দী
  3. ডাক-হরকরা
  4. রসকলি
ব্যাখ্যা
'কালিন্দী' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

-------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পসসমূহ:
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত গল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। ঐ বছর বৈশাখে তাঁর 'ছলনাময়ী' গল্পগ্রন্থ বেরোয়।

- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। এর আগেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় (যেমন, পূর্ণিমা, কল্লোল, উপাসনা, কালি-কলম, উত্তরা নবশক্তি, ভারতবর্ষ, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি দেশ, প্রবাসী প্রভৃতি) তাঁর ৫৩টি গল্প বেরিয়েছে।

- এদের মধ্যে 'রসকলি', 'রাইকমল', 'ডাইনীর বাঁশী', 'মেলা', 'আখড়াইয়ের দীঘি', 'নারী ও নাগিনী', 'তারিণী মাঝি'-র মতো বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গল্পও আছে। 'ডাক হরকরা' গল্পটি প্রকাশের আগেই গল্পকার হিসেবে তারাশঙ্কর খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ছোটগল্পের আর্ট তাঁর আয়ত্তে এসেছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৭৯.
'কিত্তনখোলা' নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যশিল্পে কোন রীতির প্রবর্তন ঘটে?
  1. পাশ্চাত্য রীতি
  2. পৌরাণিক রীতি
  3. প্রাচ্যীয় রীতি
  4. ক্লাসিক্যাল রীতি
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন।
- মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
২,৮৮০.
'জনৈক বঙ্গমহিলা' কার সাহিত্যিক নাম ছিলো-
  1. ক) কুসুমকুমারী দাস
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

কামিনী রায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - 'জনৈক বঙ্গমহিলা'।
তার রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত,
- অম্বা,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৮৮১.
বাংলা গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য/ প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক 'সবুজপত্র' (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮২.
ড. সুকুমার সেন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ইসলামি বাংলা সাহিত্য
  2. খ) বাংলা ভাষার পুরাবৃত্ত
  3. গ) ভারতীয় অনার্য সাহিত্য
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যে পদ্য
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন 'ইসলামি বাংলা সাহিত্য' (১৩৫৮) বইটি রচনা করেন।
- বইটিতে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
- ড. সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা' (১৯৩৯) এবং চার খন্ডে 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' (১৯৪০) রচনা করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য রচনা: 
- ভাষার ইতিবৃত্ত
- বাংলা স্থান নাম
- বাংলায় নারীর ভাষা
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য 
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের 
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন
- রামকথার প্রাক ইতিহাস
- বটতলার ছাপা ও ছবি
- বনফুলের ফুলবন 
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,৮৮৩.
'তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ - তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা। 

---------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:

- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮৪.
বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ কাকে বলা হয়?
  1. মানিক বন্দোপাধ্যয়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাকে বলা হয় বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে: 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

• The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

• ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

• তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮৮৫.
কাজী মোতাহার হোসেন শিখা পত্রিকার কত তম সংখ্যার সম্পাদক?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
• শিখা পত্রিকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এটি বার্ষিক পত্রিকা ছিল।
- এর সর্বমোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- প্রথম সংখ্যার (১৯২৭) সম্পাদক আবুল হোসেন,
- দ্বিতীয় (১৯২৮) ও তৃতীয় সংখ্যার (১৯২৯) সম্পাদক কাজী মোতাহার হোসেন।
- চতুর্থ সংখ্যার (১৯৩০) সম্পাদক ছিলেন আবদুর রশিদ।
- পঞ্চম সংখ্যার (১৯৩১) সম্পাদক ছিলেন আবুল ফজল।

- 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- উক্তিটি পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮৬.
'হে মহাজীবন' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. অভিযান
ব্যাখ্যা
• 'হে মহাজীবন' কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতার।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

কবিতাটি সংক্ষেপে নিম্নরূপ-

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

----------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮৭.
শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক' কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

• ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক'। 
​- পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল।

​-----------------------
• কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। তিনি ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি। আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবন্মগ বাংলাপিডিয়া।

২,৮৮৮.
"তুরস্ক ভ্রমণ" গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
"তুরস্ক ভ্রমণ" এই ভ্রমণ বিষয়ক বইটি লিখেছেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। তিনি ১৯১০ সালে ইসমাইল হোসেন সিরাজী মিশনের বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ভ্রমণ করেন এবং এই সফরের বিস্তারিত বিবরণ তিনি "তুরস্ক ভ্রমণ" গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন।

------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
-নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; "তুরস্ক ভ্রমণ" ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮৯.
'আমলার মামলা' নাটকটি লিখেছেন-
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. শওকত ওসমান
  3. জহির রায়হান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা - শওকত ওসমান।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত নাটক:
- কাঁকর মণি, 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- বনি আদম, 
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- আর্তনাদ,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯০.
‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হেনরি ডিরোজিও
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. দোম অ্যান্তোনিও
  4. হেনরী লুই
  5. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক সংবাদ:
- বাঙালি খ্রিষ্টান দোম অ্যান্তোনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' (১৭৩৫) একটি ধর্মীয় বিতর্কমূলক গ্রন্থ।
- এক ব্রাহ্মণ ও রোমান ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মালোচনা ও হিন্দু ধর্মের অসারত্ব প্রমাণ এই গ্রন্থটির ধরন এই কথোপকথন জাতীয় রচনার মূল
বিষয়। এই পাণ্ডুলিপি বর্তমানে পর্তুগালে এভোরা শহরের জাতীয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত।
- এই ও গ্রন্থটি মনোএল দ্য আসুম্পসাঁও নামক এক পর্তুগিজ পাদ্রি কর্তৃক পর্তুগিজ ভাষায় অনূদিত হয়।

দোম আন্তোনিও:
- বাংলা গদ্যরীতির প্রথম লেখক ও বাংলায় খ্রিস্টধর্মের প্রচারক।
- আনুমানিক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন যশোর-ফরিদপুর অঞ্চলের ভূষণা রাজ্যের রাজ পরিবারের সদস্য।
- আন্তোনিও 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক' সম্বাদ নামে ১২০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা সাধু গদ্যরীতির আদি নিদর্শন হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি সুরেন্দ্রনাথ সেনের সম্পাদনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯১.
আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম -
  1. বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা
  2. এ যুগের বিজ্ঞান
  3. এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে
  4. বিজ্ঞান ও মানুষ
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতীর সম্পূর্ণ নাম: আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন।
- তিনি ছিলেন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। 
- আবদুলাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি  সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- 'মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

​তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি,

​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮৯২.
‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  3. গ) আবদুল হাই
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন (১৯০৩-১৯৯৮) রচিত গ্রন্থ হলো এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, সাগরের রহস্যপুরী, তারার দেশের হাতছানি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
২,৮৯৩.
‘এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।’- সংলাপের স্রষ্টা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
‘এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।’- সংলাপটি মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’ নাটকের অন্তর্ভুক্ত।

• ‘কবর’ নাটক:

- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।
বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯৪.
"সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।" - এই পঙ্‌ক্তি দুটির রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হরিনাথ মজুমদার
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কর
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• "সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।" - পঙ্‌ক্তি দুটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্গত।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ।
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬)।

আমার পণ-
মদনমোহন তর্কালঙ্কার

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
ভাইবোন সকলেরে যেন ভালবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভাল ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।
সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দেই ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮৯৫.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৯৬.
নিচের কোন রচনাটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. রায়নন্দিনী
  2. তারাবাঈ
  3. অনল প্রবাহ
  4. স্বজাতি প্রেম
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ'- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত প্রথম 'কাব্যগ্রন্থ'।  

----------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি একই সাথে বেশ কিছু সংগঠন ও দলের সদস্য ছিলেন, যেমন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, আঞ্জুমান-ই-উলামা-ই-বাঙ্গালা, জামিয়াত-ই-উলামা-ই-হিন্দ, স্বরাজ পার্টি ও কৃষক সমিতি।

'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কিত আলোচনা:
- এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।  

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ;
- আকাঙ্ক্ষা;
- উচ্ছ্বাস;
- উদ্বোধন;
- নব উদ্দীপনা;
- স্পেন বিজয় কাব্য;
- সঙ্গীত সঞ্জীবন।

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী;
- তারাবাঈ;
- ফিরোজা বেগম;
- নূরুদ্দীন।

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম;
- তুর্কি নারী জীবন;
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ।

অন্যদিকে,
তারা- বাঈ, রায়নন্দিনী- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস।
স্বজাতি প্রেম-  সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া; 'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ।

২,৮৯৭.
'চিন্তাতরঙ্গিণী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. কায়কোবাদ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে  খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯৮.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ কী হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন?
  1. প্রতিবাদী কবি
  2. মার্কসবাদী কবি
  3. অনুবাদক কবি
  4. নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯৯.
মুনীর চৌধুরীর ‘মীর মানস’ কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- মুনীর চৌধুরীর একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক 'কবর'।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯০০.
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
রশীদ করীমের উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
প্রধান চরিত্র :
- শাকের
- সেলিনা
- অণিমা
- শেখর
অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি
- প্রসন্ন পাষাণ
- মায়ের কাছে যাচ্ছি
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।