বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ২৫ / ৭৭ · ২,৪০১২,৫০০ / ৭,৬৪৬

২,৪০১.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' নামে অভিহিত করা হয়- 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজশেখর বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' বলা হয়- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে।

• 
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে। তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। 

• বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সারদামঙ্গল।
• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২,৪০২.
রাজনৈতিক উপন্যাস জোড় কোনটি?
  1. গোরা ও পথের পাঁচালী
  2. চার অধ্যায় ও পথের দাবী
  3. আরেক ফাল্গুন ও রাজসিংহ
  4. দেয়াল ও বাাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
♦ চার অধ্যায়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত সর্বশেষ উপন্যাস চার অধ্যায় (১৯৩৪)।
- এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 

♦ পথের দাবী:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।
• গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।
• ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী’ ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।


অন্যদিকে,
• গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। কিন্তু ‘পথের পাঁচালী’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।

• ‘দেয়াল’ হুমায়ূন আহমেদ রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। তবে ‘বাাঁধনহারা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত পত্র উপন্যাস।
 
• বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন। অন্যদিকে ‘রাজসিংহ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪০৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অতি অল্প হইল
  2. খ) আখ্যানমঞ্জুরী
  3. গ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  4. ঘ) বোধোদয়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিকগ্রন্থ ও শোকগাঁথা - প্রভাবতী সম্ভাষণ। এর রচয়িতা - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, ব্যাকরণ কৌমুদী, শব্দ মঞ্জুরী, রত্ন পরীক্ষা, জীবনচরিত, নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস ইত্যাদি তাঁর মৌলিক রচনা।
বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতাল পঞ্চবিংশতি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪০৪.
একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’ - পঙক্তিগুলো কোন কবিতার অন্তর্গত? 
  1. ক) আমি যখন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি
  2. খ) স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
  3. গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. ঘ) চাষাভুষার কাব্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিগুলো বাংলাদেশের কবি নির্মলেন্দু গুণ রচিত  'চাষাভুষার কাব্য' (১৯৮১) নামক কাব্যগ্রন্থের 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

কবিতাটি শেষ হয়েছে এভাবে- 

"শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷" 

উৎস: স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো, নির্মলেন্দু গুণ।
২,৪০৫.
কবি গান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত-
  1. রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
  2. এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায়
  3. সাবিরিদ খান এবং দশরথী রায়
  4. আলাওল এবং ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• কবি গান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে পরিচিত- রাম বসু এবং ভোলা ময়রা।

অন্যদিকে,
- অপশন - খ) তে প্রদত্ত 'এন্টনি ফিরিঙ্গি' কবিওয়ালা হলেও 'রামপ্রসাদ রায়' নামে কোনো কবিওয়ালার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
- অপশন গ) তে প্রদত্ত 'সাবিরিদ খান' মধ্যযুগের আখ্যানকবি ও 'দাশরথি রায়' (১৮০৬-১৮৫৭) স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- অপশন ঘ) তে প্রদত্ত 'আলাওল' (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' (১৭১২-১৭৬০) মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।


-------------------------
• আঠারো শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যে কবিগান রচয়িতাদের আবির্ভাব ঘটে।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান। দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা:
- গোঁজলা গুই (প্রাচীনতম কবি)
- রাম বসু,
- রাসু,
- নৃসিংহ
- অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি
- হরু ঠাকুর
- রামনিধি গুপ্ত
- কেষ্টা মুচী
- ভবানী
- রামানন্দ নন্দী
- ভোলা ময়রা (ভোলানাথ মোদক),
- নিতাই বৈরাগী

- বিশ শতকের শুরুতে কলকাতায় কবিগানের গুরুত্ব হারাতে থাকলেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
- বিশ শতকে সর্বাধিক জনপ্রিয় কয়েকজন কবিয়াল হরিচরণ আচার্য (১৮৬১-১৯৪১), রমেশ শীল (১৮৭৭-১৯৬৭), রাজেন্দ্রনাথ সরকার (১৮৯২-১৯৭৪), মানিকগঞ্জের রাধাবল্লভ সরকার, উপেন্দ্র সরকার, ভাসান সরকার, কুমুদ সরকার, অভয়চরণ সরকার, বিজয়কৃষ্ণ অধিকারী (১৯০৩-১৯৮৫), গুমানী দেওয়ান প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪০৬.
’খোয়াবনামা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• খোয়াবনামা’
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা একটা উপন্যাসের নাম ‘খোয়াবনামা’।
- এই উপন্যাসটিতে বগুড়া জেলার বাঙালি নদীর আশেপাশের কিছু গ্রামের মানুষের কাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা অংশকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। 

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস :
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- অন্যঘরে অন্যস্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত ,
- চিলেকোঠার সেপাই,
- দোজখের ওম ,
- খোয়াবনামা,
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪০৭.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বঙ্গবিজেতা
  2. আনোয়ারা
  3. মাধবী কঙ্কণ
  4. সংসার
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রমেশচন্দ্র দত্ত রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস: বঙ্গবিজেতা, মাধবী কঙ্কণ, এবং সংসার (সামাজিক উপন্যাস),

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪০৮.
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. আমার চিন্তাধারা
  2. ইসলাম ও জেহাদ
  3. বিশ্বনবী
  4. হাসনাহেনা
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪০৯.
রাজা রামমোহন রায়ের সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে রচিত গ্রন্থ-
  1. বেদান্ত চন্দ্রিকা
  2. ভট্টাচার্যের সহিত বিচার
  3. বেদান্তসার
  4. গোস্বামীর সহিত বিচার
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
• বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
• ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
• রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
• রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
• তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

⇒ সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে রচিত গ্রন্থ:
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ (১৮১৮-১৯),
২. গোস্বামীর সহিত বিচার (১৮১৮)।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘বেদান্ত চন্দ্রিকা’ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্করা রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪১০.
ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পাদনা করেন-
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন
  2. খ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
• চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

২,৪১১.
'বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে'- পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. সুকুমার রায়
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুকুমার রায়।
- এটি তাঁর 'জীবনের হিসাব' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

• সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'জীবনের হিসাব' কবিতা, সুকুমার রায়।
২,৪১২.
নিচের কোনটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত “চাঁদের অমাবস্যা” একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

-----------------------
• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- "পদ্মা নদীর মাঝি' হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে । এবং বাংলা সাহিত্যের একটি ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামাঞ্চল।
- এতে দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইকে খুব গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুবের নামে একজন মাঝি, কপিলা,মালা ও হোসেন মিয়া এবং তাদের জীবন সংগ্রাম
- ১৯৯৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন।

• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ । 
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪১৩.
‘স্বর্গ ও নরক’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. শেখ ফজলল করিম
  3. আহমদ শরীফ
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় 'বাসনা' পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল শেখ ফজলল করিম।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য।
- হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন ‘স্বর্গ ও নরক’ নামক কবিতটি।

কবিতার কিছু অংশ হলো-

স্বর্গ ও নরক
শেখ ফজলল করিম
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? 
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর! 
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়, 
আত্মগ্লানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়। 
প্রীতি ও প্রেমের পূণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরষ্পরে, 
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে।

--------------------------------
• শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।
- তাঁর মৃত্যু ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৬।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লায়লী মজনু,
- হারুন-অর-রশিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।
২,৪১৪.
"আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি"- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত পঙ্‌ক্তিদ্বয় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্ভুক্ত।


বাতাসে লাশের গন্ধ
– রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা – একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?

----------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য- উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪১৫.
বাঙালি রচিত বাংলা অক্ষরে মুুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  3. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. বেহুলার পাঁচালী
ব্যাখ্যা

⇒ রামরাম বসু: 
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'। 
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'। 
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)। 
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন। 

অন্যদিকে,
- 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২) গ্রন্থটির রচয়িতা কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৪১৬.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রবন্ধসাহিত্য নয়?
  1. আধুনিকতা
  2. ইশারা
  3. পথে প্রবাসে
  4. জীয়ন কাঠি
ব্যাখ্যা
⇒ অন্নদাশঙ্কর রায়:  
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 

⇒ তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।  

⇒ তাঁর উলে­খযোগ্য প্রবন্ধ:  
• তারুণ্য, 
• আমরা,
• জীবনশিল্পী,
• ইশারা,
• আধুনিকতা, 
• বিনুর বই,
• জীয়ন কাঠি ইত্যাদি।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪১৭.
বাংলা গজল সাহিত্যের আদি কবি -
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. গিরিশচন্দ্র সেন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন
- ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর জন্ম।
- বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন।
- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- লক্ষ্ণৌতে বসবাসকালে তিনি ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

- বাংলা ভাষায় গজল রচনার পথিকৃৎ অতুলপ্রসাদ সেন।
- তিনিই প্রথম বাংলায় গজল রচনা করেন।
- উত্তর ভারতের লক্ষ্ণৌ শহরে থাকার কারণে তিনি এ ধারার সঙ্গে পরিচিত হন এবং বাংলা গজলের বুনিয়াদ রচনা করেন।
- তাঁর পরে কাজী নজরুল ইসলামের হাতে বাংলা গজল বিশিষ্ট রূপ লাভ করে।

উৎস - বাংলাপিডিয়া।
২,৪১৮.
কোনটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত নাগরিক উপন্যাস?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) সাদা হাওয়া
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) জীবন-তৃষা
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-১৯৫১): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (এটি ৪ খন্ডের উপন্যাস, যা প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দে। ১৯৫৬ সালে উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে তিতাস নদী ও নদী তীরবর্তী ধীবর (জেলে ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মান করেন।),
- ‘সাদা হাওয়া’(১৯৯৬, নাগরিক ও রাজনৈতিক ধরনের উপন্যাস),
- ‘রাঙ্গামাটি’ (১৯৯৭)।
তাঁর রচিত অনুবাদ উপন্যাস - ‘জীবন-তৃষা’ আর্ভিং স্টোন এর উপন্যাস ‘Lust for Life’ এর অনুবাদ।
[সূত্রঃ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচনাবলী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
২,৪১৯.
'ক্রীতদাসের হাসি' শওকত উসমান রচিত একটি -
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান একজন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- সাহিত্য ও সংস্কুতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২),  একুশে পদক (১৯৮৩), -এ ভূষিত হন।
- ১৯৯৮ সালের ১৪ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি
-সমাগম 
- চৌর সন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান 
- জাহান্নাম হতে বিদায় 
- দুই সৈনিক 

গল্প: 
- পিঁজরাপোল 
- জুনু আপা ও অন্যান্য 
- প্রস্তর  ফলক 
- উভশৃঙ্গ 
জন্ম যদি তব বঙ্গে 


 শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর ও লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২,৪২০.
'রাজা যায় রাজা আসে' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
- 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• আবুল হাসান রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক,
• তাঁর রচিত গল্প সংকলন: 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর
২,৪২১.
"ক্রীতদাসের হাসি" উপন্যাসে 'তাতারি' কীসের প্রতীক?
  1. বাঙালি জনতার
  2. আইয়ুব খানের
  3. রাজাকারদের
  4. আমলাদের
ব্যাখ্যা

"ক্রীতদাসের হাসি":
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে ।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক।
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

শওকত ওসমান:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান
- জাহান্নাম হইতে বিদায় 
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ
- গল্পগ্রন্থ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪২২.
'রায়নন্দিনী' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' এর প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী 'রায়নন্দিনী' লেখেন।

-  ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১) লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি লেখালেখি করে এবং সভা সমিতিতে বক্তৃতা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
- তাঁর লেখা ও বক্তৃতার প্রধান বিষয়বস্ত্ত ছিল বাংলার অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলা। বাগ্মী হিসেবে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। মুসলমানদের স্বার্থের পক্ষে কথা বললেও তিনি সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। তিনি মনে করতেন, সম্পদের সুষম বন্টনের মধ্যেই হিন্দু-মুসলমানের সৌহার্দ্য নির্ভর করছে।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ (১৯০০),
- আকাঙ্ক্ষা (১৯০৬),
- উচ্ছ্বাস (১৯০৭),
- উদ্বোধন (১৯০৭),
- নব উদ্দীপনা (১৯০৭),
- স্পেন বিজয় কাব্য (১৯১৪),
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী (১৯১৬),
- প্রেমাঞ্জলি (১৯১৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী (১৯১৮),
- তারাবাঈ (১৯০৮),
- ফিরোজা বেগম (১৯২৩) ও
- নূরুদ্দীন (১৯১৯)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২,৪২৩.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. রাত্রিশেষ
  3. ঘুম নেই
  4. ছায়া হরিণ
ব্যাখ্যা
• 'ঘুম নেই' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- সুকান্ত ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে, 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: সাত সাগরের মাঝি। 
• আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়া হরিণ।

-----------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর.
২,৪২৪.
"কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা- 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে- কবিতা, 
রচয়িতা- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
------------------

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো :
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,৪২৫.
পুঁই ডালিমের কাব্য - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত গল্পগ্রন্থঃ অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নাই, দুই হৃদয়ের তীর, পুঁই ডালিমের কাব্য প্রভৃতি। তার উপন্যাসঃ আলমগড়ের উপকথা, কাশবনের কন্যা (গ্রামীণ পটভূমি), জায়মঙ্গল (আঞ্চলিক উপন্যাস; পটভূমি - সুন্দরবন), সমুদ্র বাসর, কাঞ্চনগ্রাম ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪২৬.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর 
  2. নীহাররঞ্জন রায়
  3. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. দীনেশচন্দ্র সেন 
ব্যাখ্যা

• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৪২৭.
'ডাক-হরকরা' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. বন্দে আলী মিয়া 
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'ডাক-হরকরা' গল্প:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমটি স্মরণীয় গল্প ‘ডাক-হরকরা’।  
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত গল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। 
- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প।
- এই গল্পে  দীনু ডাক-হরকরার মাথার মাথালী দড়ি দিয়ে চিবুকের সঙ্গে বাঁধা, শক্ত হাতে ধরা বল্লম, অন্য হাতে হারিকেনের কম্পমান শিখার ধোঁয়ার চিমনি কালো রঙ ধরেছে, ডাক-হরকরা তার অভ্যস্ত নির্দিষ্ট গতিতে ছুটে চলছে।

---------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চগ্রাম,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪২৮.
ওঙ্কার উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে লেখা হয়েছে?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) দেশভাগ
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
-------------------

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।
- ছফার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও বাঙালি মুসলমানের মন-এ।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪২৯.
'ওরা কদম আলী' নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. দিনবন্ধু মিত্র
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত। তার প্রকাশিত নাটকের নাম:
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮),
- ওরা আছে বলেই (১৯৮০),
- মে দিবস (১৯৮১),
- ইবলিশ (১৯৮২),
- এখানে নোঙর(১৯৮৬),
- গিনিপিগ (১৯৮৫),
- সমতট (১৯৯০),
- পাথর (১৯৯৩),
- লেবেদেফ (১৯৯৭)
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,৪৩০.
'বত্রিশ সিংহাসন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ৫ টি। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,৪৩১.
আহসান হাবীব শেষ বয়সে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কোন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন?
  1. দৈনিক বাংলা
  2. আজাদ
  3. মাসিক মোহাম্মদী
  4. বিচিত্রা
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫):
- কবি ও সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি পিরোজপুর থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৫) পাস করে কিছুদিন বিএম কলেজে আইএ ক্লাসে অধ্যয়ন করেন, কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে  কলকাতা গিয়ে সাংবাদিকতার পেশা গ্রহণ করেন এবং আজীবন ওই পেশাতেই নিয়োজিত ছিলেন।
- কলকাতায় তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও  সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন।
- কয়েক বছর (১৯৪৩-৪৮) তিনি আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি বিভিন্ন সময়ে  আজাদ,  মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭-৬৪ পর্যন্ত তিনি ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনস-এর প্রডাকশন অ্যাডভাইজার ছিলেন।
- পরে তিনি কিছুদিন দৈনিক পাকিস্তানে কাজ করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৪৩২.
রুশ সাহিত্যের দক্ষ অনুবাদক ছিলেন-
  1. সত্যেন সেন
  2. শহীদ কাদরী
  3. সমর সেন
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- সমর সেন মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।

- 'Frontier' (ফ্রন্টিয়ার) ও 'নাও' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- 'আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট' এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৩৩.
"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।" - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. শেখ ফজলল করিম
  3. আবদুল হাকিম
  4. ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।" - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা শেখ ফজলল করিম

শেখ ফজলল করিম (১৮৮২-১৯৩৬): 
- কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক শেখ ফজলল করিমের জন্ম রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে, ৯ এপ্রিল ১৮৮২ সালে। 
- শেখ ফজলল করিমের অল্প বয়সের রচনা সরল পদ্য বিকাশ (১৮৯৪)।
- তিনি উর্দু গজলের ভাবাবলম্বনে রচনা করেন তৃষ্ণা (১৯০০)।
- তাঁর পরিত্রাণ (১৯০৩) কাব্য হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন নিয়ে রচিত।
- পরে তিনি রচনা করেন:
- ভগ্নবীণা (১৯০৪),
- প্রেমের স্মৃতি (১৯০৫),
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি (১৯১১),
- পথ ও পাথেয় (১৯১৩),
- গাথা (১৯২০),
- উচ্ছ্বাস প্রভৃতি খন্ড কবিতা ও আখ্যানমূলক কাব্য।

তাঁর আখ্যানধর্মী উপন্যাস- 
- লায়লী-মজনু ও
- হারুন-অর-রশিদ (১৯১৩) 

- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় বাসনা পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য। হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন:
কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৩৪.
‘পিঙ্গল আকাশ' শওকত আলীর কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

 • ‘পিঙ্গল আকাশ’ উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ কথা সাহিত্যিক শওকত আলী লিখিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৬৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
- পিঙ্গল আকাশ গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৬১ সালে মাসিক পূবালী'র ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরে কলকাতার হরফ প্রকাশনী থেকেও ১৯৬৬ সালে উপন্যাসটির একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। 
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন স্ত্রী শওকত আরা বেগমকে।
- উপন্যাসের নায়ক মঞ্জু। মঞ্জুর নিজস্ব বয়ানে কাহিনি বেড়ে উঠেছে। তার জীবন সংগ্রামই এই কাহিনির মূল বিষয়বস্তু। এক দ্বান্দ্বিক কাহিনি রয়েছে উপন্যাসটিতে।

• শওকত আলী:
- শওকত আলীর জন্ম ১৯৩৬ সালে দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

• শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন ,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উওরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং "পিঙ্গল আকাশ" শওকত আলী।

২,৪৩৫.
বার্ট্রান্ড রাসেলের 'Conquest of Happiness গ্রন্থের অনুবাদক-
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) মোতাহের হোসেন
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ সমূহ- সুখ (বার্ট্রান্ড রাসেলের 'Conquest of Happiness গ্রন্থের অনুবাদ)। সংস্কৃতি কথা, সভ্যতা (ক্লাইভ বেলের 'Civilization' গ্রন্থের অনুবাদ)। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৪৩৬.
'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল:
- 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।

- এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই গল্পগ্রন্থে ৫টি গল্প সংকলিত হয়েছে।
• এগুলো হলো:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

• তাঁর রচিত গল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
২,৪৩৭.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার কোন সাহিত্য শাখায় বিশেষ পরিচিত?
  1. শিশু সাহিত্য
  2. মহাকাব্য
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক ‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

উল্লেখ্য, 
বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৩৮.
কাজী নজরুল ইসলাম 'অগ্নি-বীণা' কাব্যটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
  3. গ) চিত্তরঞ্জন দাস
  4. ঘ) নলিনীকান্ত সরকার
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা। কাব্যটিতে ১২টি কবিতা রয়েছে। গ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,৪৩৯.
শওকত ওসমানের নাটক কোনটি?
  1. ক) পিঁজরাপোল
  2. খ) ক্রীতদাসের হাসি
  3. গ) তস্কর লস্কর
  4. ঘ) ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী
ব্যাখ্যা
তস্কর নস্কর, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, আমলার মামলা শওকত ওসমান রচিত নাটক।
চৌরসন্ধি, ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী ইত্যাদি শওকত ওসমানের উপন্যাস।
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, পিঁজরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৪০.
"একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা"
- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. পাছে লোকে কিছু বলে
  2. হরতাল
  3. কবিতা মুকুল
  4. অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা
 'একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা' - পঙক্তিদ্বয়  কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩)
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য (১৮৯১),
- পৌরাণিকী (১৮৯৭),
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭),
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩),
- অশোকসঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪),
- অম্বা (নাটক, ১৯১৫),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮),
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪),
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯),
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪১.
‘কামাল পাশা’ ও ‘কাফেলা’ নাটকদ্বয় কার লেখা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কবি জসীম উদ্দীন
  3. প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ ইব্রাহীম খাঁ
  4. সুফী মোতাহের হোসেন
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা ও কাফেলা নাটকগুলো ইব্রাহিম খাঁ রচিত।

-----------------
• ইব্রাহীম খাঁ: 
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪২.
‘বাঙালির ইতিহাস’ বইটির লেখক কে?
  1. ক) অধ্যাপক আব্দুল করিম
  2. খ) আর সি মজুমদার
  3. গ) নীহার রঞ্জন রায়
  4. ঘ) অধ্যাপক সুনীতিকুমার
ব্যাখ্যা
⇒ নীহাররঞ্জন রায়:
• নীহাররঞ্জন রায় ১৯০৩ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন স্থানীয় ন্যাশনাল স্কুলে, যেখানে তাঁর পিতা শিক্ষকতা করতেন।
•  নীহাররঞ্জন রায় (১৯০৩-১৯৮১) ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন। জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন- শিল্পকলা, প্রাচীন ও আধুনিক সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতি এবং জীবনকাহিনীসহ নানা বিষয়ে তিনি বিচরণ করেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
• শিল্প-ইতিহাস চর্চায় তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন এবং এ বিষয়টিই ইতিহাসের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণার ভিত্তি হয়ে উঠেছিল। মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে।

 • তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ। এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে। গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

 • ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।

 • বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

উল্লেখ্য, বইটির সঠিক নাম বাঙ্গালীর ইতিহাস। সে অনুসারে সম্ভাব্য সঠিক উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ গ্রহণ করা হয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪৩.
’কখনো মেঘ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. ফররুখ আহমদ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
- ’কখনো মেঘ’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- প্রেমেন্দ্র মিত্র।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- ১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয় এবং গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে।
- ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা মাসিক 'কালিকলম' সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪৪.
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. আহসান হাবীব
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ: 
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪৫.
নিচের কোনটি অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. শাদা হাওয়া
  3. অনুবর্তন
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা

• 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস:
- 'শাদা হাওয়া' অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস। এ উপন্যাস লেখা সম্পন্ন হয় ১৯৪২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, সোনার তরী পত্রিকায়।
- কলকাতায় বিলিতি সেনা, যাদের টমি নামে অভিহিত করা হত, তাদের আগমনকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখিত।
- উপন্যাসের চরিত্র গোয়েন্দা গোবিন্দ শর্মার চিন্তাবাক্যের সূত্রে বহু রাজনৈতিক সন্দর্ভ লিখেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। তাতে পুরনো ভারতচিন্তা যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে যুদ্ধবিরোধী ভাবনাও।

অন্যদিক,
• অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রভৃতি আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
• 'অনুবর্তন' ও 'অশনি সংকেত' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

উৎস: 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৪৬.
‘সুড়ঙ্গ’ নাটকটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'সুড়ঙ্গ' নাটক:
• 'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি নাটক।
• এই নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন। তাই অনেক সময়ই সংলাপে সামঞ্জস্যহীনতা, অস্পষ্টতা ও নাটকে রহস্যময়তা পরিদৃষ্ট হয়।
• ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে। সবাই ভাবে বিয়েতে অমত তার। কিন্তু রাবেয়া জানায় বরে তার আপত্তি নেই। তাহলে কেন রাবেয়ার এ অবস্থা? শুরু হয় রহস্যময়তা! রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তার চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ- রূপকটি এখানেই ।

⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪৭.
'ধর্ম ও সত্যের জয়' প্রকাশ পায় মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত কোন সামাজিক উপন্যাসে?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) আনোয়ারা
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) একটি তুলসি গাছের
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

লেখকের অন্যান্য রচনা: 
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭) 
- পরিণাম (১৯১৮)
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩)
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪) ইত্যাদি।

অপরদিকে, '
 - দেশভাগের প্রেক্ষাপটে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস  লালসালু। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পটভূমিতে শহীদুল্লা কায়সারের এক কালজয়ী উপন্যাস ‘সংশপ্তক' (১৯৬৫)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪৮.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) কীর্তনখোলা
  2. খ) পুঁই ডালিমের কাব্য
  3. গ) মায়া কাজল
  4. ঘ) কাঁটাতারের প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড, কাঁটাতারের প্রজাপতি, জলোচ্ছ্বাস, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, আগষ্টের একরাত, খুন ও ভালোবাসা, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৪৪৯.
The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. টেকচাঁদ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন। 

প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)  
লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায়।
- বাঙালি সমাজের হিতার্থে তিনি বহু সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।
- জ্ঞানোপার্জিকা সভা (১৮৩০),  বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি (১৮৪৩), ডেভিড হেয়ার মেমোরিয়াল সোসাইটি (১৮৪৪), রেস ক্লাব (১৮৪৭), এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড হর্টিকালচারাল সোসাইটি (১৮৪৭),  বেথুন সোসাইটি (১৮৫১) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড,  হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং  বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে  
- আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭),
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০), কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫০.
’সাম্প্রদায়িকতা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

- ’সাম্প্রদায়িকতা’ - গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর।
-  এটি একটি দর্শন ও দার্শনিক বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪৫১.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. আহমদ ছফা
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন- 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।  

 আবদুল মান্নান সৈয়দ: 
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস: 
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

• তাঁর রচিত ছোটগল্প: 
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫২.
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সুচয়নী
  2. মাটির কান্না
  3. ধানক্ষেত
  4. মায়াকাজল
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মায়া কাজল’ সুফিয়া কামাল রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

 • জসীমউদ্দীন: 

- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

 • 'সুচয়নী' কবি জসিমউদ্দিনের কবিতা সংকলন।

 • জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়, 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, 
- জারিগান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫৩.
'প্রবাস বন্ধু' কার রচনা?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'প্রবাস বন্ধু':
- সৈয়দ মুজতবা আলীর 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের পঞ্চদশ অংশ।
- প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ; সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি হাস্যরসাত্মকভাবে এই রচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক অভিজ্ঞতার পরিচয় আছে এখানে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সন্নিকটে খাজামমাল্লা নামক গ্রামে বাসের সময় আবদুর রহমান নামের একজন তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। আফগান আবদুর রহমান চরিত্রের মধ্যে সরলতা, স্বদেশপ্রেম, অতিথিপরায়ণতা ফুটে উঠেছে। আবদুর রহমানের রান্না ও পরিবেশন করা খাবারের মধ্যে আফগানিস্তানের বিচিত্র ও সুস্বাদু খাদ্যবস্তুর পরিচয় পাওয়া যায়।

আফগানিস্তানের প্রস্তরভূমি এবং একই সঙ্গে নিকট-প্রতিবেশী এই জনপদের বরফ শীতল জলবায়ু আকর্ষণীয়। আবদুর রহমানের সরল আতিথেয়তায় কখনো লেখকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলেও শেষ অবধি সৈয়দ মুজতবা আলী একে গ্রহণ করেছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে।

-----------------
সৈয়দ মুজতবা আলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য  সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শত্রু-ইয়ার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৫৪.
‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থ: 
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। 

• আবদুল্লাহ আল-মুতী:  
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর আবদুল্লাহ আল-মুতী মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য বইসমূহ: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি, 
- বিজ্ঞানে বিস্ময়,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- মহাকাশে কী ঘটছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫৫.
'আগুন' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য। তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন। তাঁর প্রথম নাটক আগুন। পরে তিনি রচনা করেন জবানবন্দী, এটি কৃষকজীবনের আলেখ্য। তাঁর প্রতিভার সার্থকতম নিদর্শন হলো নবান্ন নাটক। বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর রচিত নাটক হলো- মরাচাঁদ, কলঙ্ক, জীয়নকন্যা, গোত্রান্তর, অবরোধ। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি গল্প হচ্ছে ‘জনপদ’ এবং ‘রাণী পালঙ্ক’। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫৬.
সুকুমার রায় রচিত ছড়ার সংকলন কোনটি?
  1. পাগলা দাশু
  2.  হ-য-ব-র-ল
  3. চলচ্চিত্তচঞ্চরী
  4. আবোল তাবোল
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন:
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মোট ছড়ার সংখ্যা ৫০টি, যার মধ্যে ৭টি বেনামে লেখা হয়েছে। এবং তিনি এটি বাবু সমাজ কে সমালোচনা করার জন্য লিখেছিলেন।
- এটির দ্বারা তিনি গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন। ছোটদের উদ্দেশ্যে লেখা সুকুমার রায় কবিতাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আবহের প্রচ্ছন্ন রূপ। 

'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছড়া হলো-
- অবাক কাণ্ড
- আবোল তাবোল
- আহ্লাদী
- একুশে আইন
- কাঠবুড়ো
- কাতুকুতু বুড়ো
- কাঁদুনে
- কিম্ভূত
- কৈফিয়ত
- খিচুড়ি
- খুড়োর কল ইত্যাদি। 

----------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন।

২,৪৫৭.
'এখনো ক্রীতদাস' কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'এখনো ক্রীতদাস' নাটক:
• 'এখনো ক্রীতদাস' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক। 
• সব সময় আলোয় ঝলমল করে নগর। চারদিকে যেন শুধু সুখ আর সুখ। কিন্তু আলোর নিচে তো অন্ধকার! নগরের সেই অন্ধকার বস্তি। এখানে মানবেতর জীবনযাপন করে অসংখ্য মানুষ। কীভাবে কাটে মানুষগুলোর দিন? তাঁদের কাহিনি নিয়েই নাটক 'এখনো ক্রীতদাস'।

• প্রথম মঞ্চায়ন-বর্ষ: ১৯৮৩। এবং কলকাতার ‘প্রতিক্ষণ’ পত্রিকায় ১৯৮৬ সালে এটি ছাপা হয়।

• নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা ট্রাকচালক বাক্কা মিয়ার একসময় ঘর-বাড়ি, জমি, কোদাল সবই ছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধও করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সব হারিয়ে তিনি আজ পঙ্গু। এ পঙ্গু ট্রাকচালক বাক্কা মিয়াকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি। স্ত্রী কান্দুনীর রোজগারের ওপর নির্ভর করে জীবন চলে তাঁর। বাক্কা মিয়া এখন বস্তি ঘরে দিন-রাত শুয়ে শুয়ে দেখেন চারপাশের ঘটনাবলি। এর মাধ্যমেই উন্মোচিত হয় সমাজের অবক্ষয়ের চিত্র। চোখের সামনে নিজের মেয়েকে দেহব্যবসায় নেমে পড়তে দেখেও কিছুই করার থাকে না বাক্কার। এই পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের ইচ্ছা জাগে মনে।

-----------------
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। এবং তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: 'এখনো ক্রীতদাস' নাটক; প্রথম আলো রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৫৮.
'আয়না' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
⇒ 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।’..... 

এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগ্রন্থসমূহ:
- হুযুর কেবলা,
- গো - দেওতা - কা দেশ,
- নায়েবে নবী,
- লীডরে কওম,
- মুজাহেদীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্মরাজ্য।
-------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫৯.
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) লালন শাহ
  2. খ) হাসন রাজা
  3. গ) সুরেন্দ্রনাথ রায়
  4. ঘ) শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক শাহ আবদুল করিম। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। 

লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে। 
শাহ আবদুল করিম রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- 
- কালনীর ঢেউ,
- ভাটির চিঠি,
- ধলমেলা,
- কালনীর কূল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৬০.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাখী
  2. কঙ্কাবতী
  3. কামনা পঞ্চবিংশতি
  4. কামিনী কাঞ্চন
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - কঙ্কাবতী

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা - রাখী, কামনা পঞ্চবিংশতি।
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প - কামিনী কাঞ্চন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৬১.
পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক উপন্যাস-
  1. ইছামতী
  2. অপরাজিত
  3. আরণ্যক
  4. অনুবর্তন
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক উপন্যাস - অপরাজিত।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
-  ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
-  শরৎচন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের তিনি জনপ্রিয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - পথের পাঁচালী।
- পথের পাঁচালী  উপন্যাসের চরিত্র সমূহ - অপু, সর্বজয়া, হরহরি, অপর্ণা।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস - অপরাজিত।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল - অলোক সারথী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরিপূরক হিসেবে অপরাজিত উপন্যাসটি রচনা করেন।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে মাসিক প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:  
- পথের পাঁচালী (১৯২৯)
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- অনুবর্তন,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর ।
২,৪৬২.
'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
খোঁয়ারি:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'খোঁয়ারি' ।
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন - নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু।
- তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর, 
- খোঁয়ারি
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; খোঁয়ারি, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
২,৪৬৩.
সৈয়দ আলী আহসানের আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম কী?
  1. অনেক আকাশ
  2. আমার সাক্ষ্য
  3. কবিতার কথা
  4. আমার প্রতিদিনের শব্দ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান এর আত্মজীবনী - 'আমার সাক্ষ্য'।

• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৬৪.
'আদিগন্ত' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সরদার জয়েনউদ্দীন
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• 'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৬৫.
‘ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন ?
  1. ক) গ্রাম্য গীতিকা
  2. খ) রূপকথা
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) উপকথা
ব্যাখ্যা
- ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ হলো বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন । 

ঠাকুরমার ঝুলি

- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে।
- এই গল্পগুলি বলার ক্ষেত্রে গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে লেখক গ্রন্থটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি সংকলন করেন- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৬৬.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি কামিনী রায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৬৭.
'চাষাভুষার কাব্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. জসীম উদ্‌দীন  
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা

• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চাষাভুষার কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের কবিতাগুলোয় রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও অর্থনীতির নানা বিভক্তি, সংঘাত এবং মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও বিপন্নতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন।

-----------------------
নির্মলেন্দু গুণ রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো-
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৬৮.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দোলো আমার কনকচাঁপা
  2. গো হাকিম
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. বাঙালি মুসলমানের মন
ব্যাখ্যা

• 'গাভী বিত্তান্ত':
- আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।

-------------------
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪৬৯.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. মিঠে কড়া
  2. হরতাল
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৭০.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. কথামালা
  2. হিতোপদেশ
  3. কথোপকথন
  4. লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• 'হিতোপদেশ'  মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
- 'কথোপকথন' ও 'লিপিমালা' উইলিয়াম কেরির মৌলিক গ্রন্থ।
- 'কথামালা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৭১.
মমতাজউদদীন আহমদের ‘বিবাহ’ নাটকটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে ১৯৬০ সালে মমতাজউদদীন আহমেদ এর লেখা প্রথম নাটক ‘বিবাহ’।

• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত বিখ্যাত নাটকগুলো হলো:
- বর্ণচোরা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল।
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং যুগান্তর পত্রিকা,রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
২,৪৭২.
'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  3. আহমদ শরীফ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক।

ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ছিলেন গবেষক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় তিনি অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- ১৯০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বখৎপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এনামুল হক জন্মগ্রহণ করেন।
- এনামুল হকের সাহিত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য হলো সত্যানুসন্ধান ও গবেষণা।
- তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় পাণ্ডুলিপির সন্ধান দেন।
- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চেতনা জাগরণই তাঁর সাহিত্যসাধনার মূল প্রেরণা। সাহিত্যের ইতিহাস সন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য (গবেষণামূলক, আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের সঙ্গে যৌথভাবে রচিত),
- বঙ্গে সূফীপ্রভাব (গবেষণামূলক),
- বাঙলা ভাষার সংস্কার (ভাষাতত্ত্বমূলক),
- মুসলিম বাঙলা সাহিত্য (গবেষণামূলক) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৪৭৩.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ময়নামতির চর
  2. মৃগপরী
  3. রূপকথা
  4. কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
-কুঁচবরণ কন্যা, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪৭৪.
'কবিতার কথা'- কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
-‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২,৪৭৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. আরোগ্য নিকেতন
  3. চৈতালি ঘূর্ণি
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- উপন্যাসটি ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
• উপন্যাসে পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে ‘স্পাই’ হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে:
‘এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভোলো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।’

• সংগীত শিল্পী ও ট্রানজিস্টার-মেকানিক ডেভিড ভিক্ষাজীবী পিতার কন্যা নাজমার সঙ্গে সঙ্গীত-প্রতিভায় বিমুগ্ধ ছিল। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। তবে, উপন্যাসটিতে ব্যক্তিগত কথকতা ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার সমাজ-রাজনীতি, গণহত্যা ও বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধ।

------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী।

উৎস: 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৭৬.
বাংলা একাডেমি ’আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’- এর সম্পাদক কে?
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
- তিনি বাংলা একডেমি ’আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ'
- মহানবী’ (১৯৪০),
- ‘অমিয়শতক' (১৯৪০),
- ‘বাণী শিকওয়াহ’,
- ‘জওয়াব-ই-শিকওয়াহ'
- ‘রুবাইয়াত-ই-ওমর খ্যায়াম;

তাঁর সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মবতী;
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।
- গল্প সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৭৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) খোয়াবনামা
  2. খ) চিলেকোঠার সেপাই
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) : কথাসাহিত্যিক। পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭),
- খােয়াবনামা (১৯৯৬)
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস৷)
ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬),
- খোয়ারি (১৯৮২),
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫),
- দোজখের ওম (১৯৮৯)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৪৭৮.
মামুনুর রশিদ কোন নাট্য দলটি প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) গ্রাম্য থিয়েটার
  2. খ) বেঙ্গল থিয়েটার
  3. গ) উদীচী
  4. ঘ) আরণ্যক
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে মামুনুর রশিদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং জড়িত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে। ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে তিনি তৈরি করেন তার আরণ্যক নাট্যদল। [বিবিসি]
২,৪৭৯.
নিচের কোন লেখক 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়,(১৯০৪-২০০২)  ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
• দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রায় সত্তর বছর ধরে তিনি প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, ছড়া, কবিতা, নাটক, পত্রসাহিত্য, আত্মজীবনীমূলক রচনা প্রভৃতি লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। 
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২২টি। এর মধ্যে প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস আগুন নিয়ে খেলা (১৯৩০)। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস তাঁর ছয় খন্ডে প্রকাশিত ‘সত্যাসত্য’ ছয়টি নামে প্রকাশিত হয় যথাক্রমে- যার যেথা দেশ, অজ্ঞাতবাস, কলঙ্কবতী, দুঃখমোচন, মর্ত্যের স্বর্গ, অপসরণ।
• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
-  ইত্যাদি।

 • তাঁর বিখ্যাত ছড়ার বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- উড়কি ধানের মুড়কি,
- রাঙা ধানের খৈ,
- ডালিম গাছে মৌ,
- শালি ধানের চিঁড়ে,
- আতা গাছে তোতা,
- হৈ রে বাবুই হৈ,
- ক্ষীর নদীর কূলে,
- হট্টমালার দেশে,
- ছড়াসমগ্র,
- রাঙা মাথায় চিরুনি,
- বিন্নি ধানের খই,
- কলকাতা পাঁচালী,
- ছড়াসমগ্র,
- সাত ভাই চম্পা,
- যাদু এ তো বড় রঙ্গ,
- খেয়াল খুশির ছড়া,
- দোল দোল দুলুনি  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৮০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ উপন্যাসের রচয়িতা হলেন-
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘কল্পতরু’ উপন্যাস ও ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
• ‘কল্পতরু’ ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ-উপন্যাস, যা ১৮৭৪ সালে রচিত হয়। উপন্যাসটি সামাজিক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে সমসাময়িক বাবু সংস্কৃতির নানা দিককে উদঘাটন করে। তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুরোধে ইন্দ্রনাথ এই রচনাটি লেখেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় এই উপন্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি কল্পতরুকে “বঙ্গভাষার একটি উৎকৃষ্ট উপন্যাস” বলে উল্লেখ করেন এবং মন্তব্য করেন যে,
“বাবু ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একখানি মাত্র গ্রন্থ প্রচার করিয়া বাঙ্গালায় প্রধান লেখকদিগের মধ্যে স্থান পাইবার যোগ্য বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন।”
তবে বঙ্কিমচন্দ্র এই উপন্যাসকে আলালের ঘরের দুলাল বা হুতোম প্যাঁচার নকশা-র ওপরে স্থান দিলেও, সেই মতের সঙ্গে সকলেই একমত হননি।

ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
জন্ম: বর্ধমান জেলায়।
পেশা: কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি।
সাহিত্যযাত্রা: প্রথম রচনা “উৎকৃষ্ট কাব্যম” (১৮৭০) একটি ব্যঙ্গাত্মক কাব্য।
অবদান: বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত।

প্রাসঙ্গিক উল্লেখযোগ্য তথ্য: 
• আলালের ঘরের দুলাল – বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস (প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত, ১৮৫৭)।
• হুতোম প্যাঁচার নকশা – কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত সামাজিক ব্যঙ্গচিত্রমূলক গদ্য।

তথ্যসূত্র:
– ‘কল্পতরু’ উপন্যাস (ভূমিকা), ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়;
– বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৮১.
'আরো দুটি মৃত্যু' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. উপন্যাস 
  3. গল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• 'আরো দুটি মৃত্যু' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত দাঙ্গাবিরোধী গল্প। গল্পটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো সমানভাবে বিদ্যমান।

-----------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ "একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪৮২.
গোবিন্দচন্দ্র দাস কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. নাগরিক কবি 
  2. রোমান্টিক গীতিকবি
  3. বৈষ্ণব পদের কবি
  4. স্বভাব কবি
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪৮৩.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন-
  1. শিশুসাহিত্যেক 
  2. গীতিকার
  3. ঔপন্যাসিক
  4. প্রাবন্ধিক 
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে 'বঙ্গ আমার জননী আমার', 'ধনধান্য পুষ্প ভরা' ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৮৪.
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্পটি কোন লেখকের উপন্যাস থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্প:
- ‘আম আঁটির ভেঁপু' শীর্ষক গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান নিয়ে গল্পটি রচিত হয়েছে।
- গল্পের চরিত্রগুলো হলো: অপু, দুর্গা, সর্বজয়া ।

• গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অপু ও দুর্গা হতদরিদ্র পরিবারের শিশু। কিন্তু তাদের শৈশবে দারিদ্র্যের সেই কষ্ট প্রধান হয়ে ওঠেনি। গ্রামীণ ফলফলাদি খাওয়ার আনন্দ এবং বিচিত্র বিষয় নিয়ে তাদের বিস্ময় ও কৌতূহল গল্পটিকে মানুষের চিরায়ত শৈশবকেই যেন স্মরণ করিয়ে দেয়। এই গল্পের সর্বজয়া পল্লি-মায়ের শাশ্বত চরিত্র হয়ে উঠেছে। গল্পটিতে শিশুর আনন্দপূর্ণ শৈশব এবং প্রকৃতির সম্পর্ক দেখিয়েছেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়। এ গল্প শিশু-কিশোরকে প্রকৃতিমুখী হওয়ার প্রেরণা জোগায়।

⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৮৫.
মুসলিম সাহিত্য সমাজের নেতৃত্বে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তাদের একজন হিসাবে ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. আবদুল কাদির
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির: কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন
- মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা (১৯৪৪),
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- লোকায়ত সাহিত্য (১৮৮৫)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

২,৪৮৬.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আনিসুজ্জামান 
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আল মাহমুদ 
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা আনোয়ার পাশা।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ।
- এই উপন্যাস রচনার সময়কাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন।
- ১৯৭৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়। 

আনোয়ার পাশা রচিত অন্যান্য উপ্যনাস গুলো –
- নির সন্ধানী 
- নিষুতি রাতের গাথা

- ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরনোত্তর) লাভ করেন। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৮৭.
বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন একজন-
  1. ঔপন্যাসিক
  2. নাট্যকার
  3. কবি
  4. চিত্রশিল্পী
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা। ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৮৮.
‘একাত্তরের যীশু’ গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. শাহরিয়ার কবির
  2. সেলিম আল দীন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘একাত্তরের যীশু’ গল্পটির রচয়িতা - শাহরিয়ার কবির

একাত্তরের যীশু:
- 'একাত্তরের যীশু' গল্পগ্রন্থের নামগল্প 'একাত্তরের যীশু'।
- 'একাত্তরের যীশু' নামের গল্পটি প্রথম ছাপা হয়  ১৯৭৩ সালে দৈনিক বাংলা পত্রিকায়।
- তারপর বাংলা একাডেমির একটা সংকলনে এবং সবশেষে বইয়ে ছাপা হয়েছে ১৯৮৫ সালে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি শান্ত-সুনিবিড় জনপদকে ঘিরে রচিত হয়েছে 'একাত্তরের যিশু'।
- উপার্জন আর গির্জায় প্রার্থনায় সময় কাটানো মানুষগুলোর জীবনে যুদ্ধ, বিহ্বলতা ও নৃশংসতা নিয়ে হাজির হয়।
- দ্রুত বদলে যায় তাদের অভ্যস্ত দৃশ্যপট।
- হানাদারদের রোষানলে পড়ার ভয় থাকলেও দূর দূরান্ত থেকে আসা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেয় তারা।
- আহার-চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে।
- এসবে অধীর আগ্রহে সর্বাগ্রে থাকেন ডেসমন্ড ডি রোজারিও; যার পুরো জীবনই গির্জার রক্ষণাবেক্ষণে কেটেছে।

শাহরিয়ার কবির:
- তিনি পুরোনো ঢাকার ইসলামপুরে ১৯৫০ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলায় স্নাতক অধ্যয়নকালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং যুদ্ধের পর দেশে ফিরে সাংবাদিকতা শুরু করেন 'দৈনিক বাংলা' ও 'সাপ্তাহিক বিচিত্রায়'।
- '৭৬-এ শাহরিয়ার কবির 'বাংলাদেশ লেখক শিবির'এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিন বছরের ভেতর এটি বাংলাদেশের লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের বৃহত্তম সংগঠনে পরিণত হয়।
- বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনামলে 'মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ ও আইন সাহায্য কমিটি'র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
- গত দুই যুগ ধরে বিভিন্ন প্রগতিশীল সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত থেকেছেন এবং বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে আন্দোলনে ও রচনাকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন।
- জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর থেকে 'একাত্তরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'র হাল ধরেছেন।
- লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন।
- '৯৮-এ তিনি আত্মপ্রকাশ করেছেন প্রামাণ্য চলচ্চিত্রনির্মাতা হিসেবে।
- তাঁর প্রামাণ্যচিত্র 'মুক্তিযুদ্ধের গান' ও 'ক্রাইফর জাস্টিস' দেশে ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
- তাঁর রচনাবলী বাংলা একাডেমি ও শিশু একাডেমি সহ বহু প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পুরস্কৃত।

উৎস: 'একাত্তরের যীশু' গল্পগ্রন্থ, শাহরিয়ার কবির।
২,৪৮৯.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. রত্নাবলী
  3. সমাচার দর্পণ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবনী:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া চড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিল মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। ব্যঙ্গের মাধ্যমে অনেক গুরু বিষয়ও তিনি সহজভাবে প্রকাশ করতেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনা গ্রন্থ:
• কালীকীর্তন ও
• প্রবোধ প্রভাকর।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত নাটক:
• হিতপ্রভাকর ও
• বোধেন্দুবিকাশ।

অন্যদিকে, 
• সমাচার দর্পণ (১৮১৮ - ১৮৫২) শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৪৯০.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা ও
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দেয়াল,
- প্রপঞ্চ
- পরিত্যক্ত স্বামী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৪৯১.
আবুল হোসেনের প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. 'নববসন্ত’
  2. 'বিরস সংলাপ'
  3. 'হাওয়া, তোমার কী দুঃসাহস'
  4. 'দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে
ব্যাখ্যা
• আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- মুসলিম কবিদের মধ্যে তিনিই প্রথম আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য কাব্যে রূপায়িত করে তুলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্য- ’নব বসন্ত’।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো:
- বিরস সংলাপ।
- হাওয়া,
- তোমার কি দু:সাহস।
- দু:স্বপ্ন থেকে দু:স্বপ্ন।
- এখন ও সময় আছে।
- নির্বাচিত কবিতা।
- রাজারাজড়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৪৯২.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রশীদ করীম
  2. শওকত ওসমান
  3. রশীদ হায়দার
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• উত্তম পুরুষ:
- রশীদ করীম রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।
- এদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।

-------------------
• রশীদ করীম:
- তিনি ১৪ই আগস্ট, ১৯২৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭২), একুশে পদক (১৯৮৪), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯১), জনকণ্ঠ পুরস্কার (২০০১) লাভ করেন।
- তিনি ২০১১ সালের ২৬শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

• প্ৰবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৯৩.
‘সংস্কৃতির কথা’ প্রবন্ধটির রচয়িতা -
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• ‘সংস্কৃতির কথা’ প্রবন্ধটির রচয়িতা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৯৪.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্প
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস নিষিদ্ধ লোবান। 
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৯৫.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. জামাই বারিক
  3. গোড়ায় গলদ
  4. চিরকুমার সভা
ব্যাখ্যা
⇒ 'জামাই বারিক':
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘জামাই বারিক’ প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত।
- ১৮৭২ সালে প্রহসনটি প্রকাশিত হয়।
- জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
- ‘গোড়ায় গলদ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক নাটক - চিরকুমার সভা।

-------------------
⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
⇒ ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
⇒ 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
⇒ 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
⇒ দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
⇒ 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৯৬.
নিচের কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) পদচিহ্ন
  2. খ) বহুরূপী
  3. গ) ছাড়পত্র
  4. ঘ) পূরবী
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- পূর্বাভাস 
- মিঠেকড়া 
- অভিযান
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই 
- হরতাল 
- গীতিগুচ্ছ 

- 'পদচিহ্ন' সত্যেন সেন রচিত উপন্যাস।
- সুকুমার রায়ের লেখা রচনা 'বহুরূপী'
- সিকানদার আবু জাফরের রচিত উপন্যাস 'পূরবী'

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
২,৪৯৭.
'সাত নরী হার' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাত নরী হার (১৯৫৫) এবং পরবর্তীকালের কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০) ও কমলের চোখ (১৯৭৪) এ ধরনের গীতিমুখ্য সুললিত কবিতার সংকলন৷

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১),
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

উৎসঃ
বাংলাপিডিয়া।

২,৪৯৮.
আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নীড় সন্ধানী
  2. নিশুতি রাতের গাথা
  3. নদী নিঃশেষিত হলে
  4. নিরুপায় হরিণী
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ - নদী নিঃশেষিত হলে

আনোয়ার পাশা:

- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।

আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৯৯.
বাংলা ভাষার বিখ্যাত কোন সাহিত্যিক ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শামসুর রাহমান
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

• "শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ" - সবাই ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। 
--------------------
নিচে সাহত্যিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো -

• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- শামসুর রাহমান ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আই.এ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন। 
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক যিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।
-----------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫),  বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- জীবনানন্দ কলকাতা সিটি কলেজে ১৯২২ সালে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা শুরু করেন।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ধূসর পান্ডুলিপি' পাঠ করে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা - ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৫০০.
হুইটম্যানের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান ইংরেজি সাহিত্যের কবি হুইটম্যানের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেন। এছাড়া ঈডিপাস নাটকটিও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন। মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ নাটক সমূহ হলো মুখরা রমণী বশীকরণ, রূপার কৌটা এবং কেউ কিছু বলতে পারে না। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য : ড. সৌমিত্র শেখর)