বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ২৪ / ৭৭ · ২,৩০১২,৪০০ / ৭,৬৪৬

২,৩০১.
‘নেমেসিস’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধ
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. ঐতিহাসিক বিদ্রোহ
  4. সামাজিক কুসংস্কার 
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

নুরুল মোমেন বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া ,
- আইনের অন্তরালে ,
- শতকরা আশি ,
- রূপলেখা ,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

২,৩০২.
কখনো উপন্যাস লেখেননি কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
•  কখনো উপন্যাস লেখেননি- বিহারীলাল চক্রবর্তী। 

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা। তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

অন্যদিকে,
--------------------------------
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাসসমূহ:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• নির্মলেন্দু গুণ তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
২,৩০৩.
কাজী মোতাহার হোসেনের বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি?
  1. ক) ভবিষ্যতের বাঙালি
  2. খ) সঞ্চয়ন
  3. গ) কবিতার কথা
  4. ঘ) তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর: ‘সঞ্চয়ন’

অন্য অপশনগুলো:
- ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধটি লিখেছেন এস ওয়াজেদ আলি।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
- ‘তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা’ প্রবন্ধটি লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। 

কাজী মোতাহের হোসেন 
- ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন। 
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য- সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৮৫ সালে। 

প্রবন্ধ: 
- কোন বিষয়বস্তু অবলম্বনে লেখকের বুদ্ধিভিত্তিক গদ্যরীতির সাহিত্যই প্রবন্ধ।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গদ্যে লিখিত প্রথম জীবনচরিত। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৩০৪.
'পঞ্চতন্ত্র' রম্যরচনার রচয়িতা-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
পঞ্চতন্ত্র ও ময়ূরকণ্ঠী সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত রম্যরচনা। চাচা কাহিনী ও টুনি মেম তাঁর রচিত ছোটগল্প। অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার তাঁর রচিত উপন্যাস। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৩০৫.
নিচের কোন গ্রন্থটি আবদুল্লাহ আল-মুতী লিখেছেন?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. জাল
  3. চতুষ্কোণ
  4. মেঘ বৃষ্টি রোদ
ব্যাখ্যা
•’মেঘ বৃষ্টি রোদ’ গ্রন্থটি আবদুল্লাহ আল-মুতী রচনা করেন।

• আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতীর সম্পূর্ণ নাম: আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন।
- তিনি ছিলেন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। 
- আবদুলাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি  সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- 'মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি,

অন্যদিকে, 
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস- পদ্মার পলিদ্বীপ,জাল।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -চতুষ্কোণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৬.
'অনল প্রবাহ' রচনা করেন-
  1. ক) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) মোজাম্মেল হক
  3. গ) এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. ঘ) মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
ব্যাখ্যা
ইসমাইল হোসেন সিরাজী একজন লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)। 
- তিনি লেখালেখি করে এবং সভা সমিতিতে বক্তৃতা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর লেখা ও বক্তৃতার প্রধান বিষয়বস্ত্ত ছিল বাংলার অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলা। বাগ্মী হিসেবে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। মুসলমানদের স্বার্থের পক্ষে কথা বললেও তিনি সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। তিনি মনে করতেন, সম্পদের সুষম বন্টনের মধ্যেই হিন্দু-মুসলমানের সৌহার্দ্য নির্ভর করছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থ
অনল প্রবাহ (১৯০০),
আকাঙ্ক্ষা (১৯০৬),
উচ্ছ্বাস (১৯০৭),
উদ্বোধন (১৯০৭),
নব উদ্দীপনা (১৯০৭),
স্পেন বিজয় কাব্য (১৯১৪),
সঙ্গীত সঞ্জীবনী (১৯১৬),
প্রেমাঞ্জলি (১৯১৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
রায়নন্দিনী (১৯১৫),
তারাবাঈ (১৯১৬),
ফিরোজা বেগম (১৯১৮) ও
নূরুদ্দীন (১৯১৯)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৭.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত - নাটক

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩০৮.
'চৌচির' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল রচিত উপন্যাস - চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত, জীবন পথের যাত্রী ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ - 'মাটির পৃথিবী', 'মৃতের আত্মহত্যা' ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩০৯.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. ক) লীলাময় রায়
  2. খ) নীহারিকা দেবী
  3. গ) অনিলা দেবী
  4. ঘ) অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা
- অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর ‘লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন ।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন ‘লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক। বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্যদিকে,
• নীহারিকা দেবী = অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম।
• অনিলা দেবী = শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩১০.
জাদুবাস্তবতার প্রয়োগে সমগ্র বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন কোন ঔপন্যাসিক? 
  1. দিলারা হাশেম 
  2. শহীদুল জহির
  3. রিজিয়া রহমান
  4. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
ব্যাখ্যা

• শহীদুল জহির: 
- শহীদুল জহির  (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ – ২৩ মার্চ ২০০৮) ছিলেন বাংলাদেশী গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও সরকারি কর্মকর্তা। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যে জাদুবাস্তবতার (Magical Realism) ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচয় স্থাপন করেছেন
- জন্মেছিলেন পুরান ঢাকার নারিন্দার ৩৬ ভূতের গলিতে।
- তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ শহীদুল হক। 
- ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।। 
- তাঁর রচনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে কাল্পনিক উপাদানের মিলন ঘটে, যা “শহীদুল জহিরীয়” ধারার জন্ম দেয়। 
- জীবদ্দশায় তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, আজকের কাগজ সাহিত্য পুরস্কার ও প্রথম আলো বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেছেন।

- শহীদুল জহির বাংলা সাহিত্যের ব্যতিক্রমী কথাশিল্পী।
- তিনি ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতার প্রয়োগে সমগ্র বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
- তাঁর গল্পে বাস্তব ও পরাবাস্তবের মাঝখানে অনিশ্চিত একটি জায়গায় চরিত্রগুলো ঘুরে বেড়ায়, যেখানে বিমূর্ত ভাষা ব্যবহার করেও জীবনের অন্তর্নিহিত সত্য ও মানুষের দৈনন্দিন অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হয়।
- তিনি নিম্নবর্গের মানুষের অকৃত্রিম ভাষাকে সাহিত্যিক পুঁজি হিসেবে নিয়েছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-

• গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার,
- ডুমুরখেকো,
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প। 

• উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি। 

উৎস:
শহীদুল জহির ‘গল্পসমগ্র’;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালি কলম।

২,৩১১.
কোনটি আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. নিশুতি রাতের গাথা
  2. নীড় সন্ধানী
  3. নিরুপায় হরিণী
  4. নদী নিঃশেষিত হলে
ব্যাখ্যা
• 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থ:
- 'নিরুপায় হরিণী' আনোয়ার পাশা রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। 
- আনোয়ার পাশা গল্প বলতে ভালোবাসেন; এবং তিনি গল্প বলতে জানেন নিরুপায় হরিণী গল্পগ্রন্থে সেই কথাই বলছে। এ বইতে তাঁর ভাষা স্বচ্ছন্দ, তাঁর লেখার রীতির মধ্যে দেখা যায় একটা বুর্জোয়া পরিছন্নতা। পরিহার করে চলেছেন অলঙ্কার প্রিয়তা ও অতিরিক্ত ভাবাবেগ।

গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো-
- নিরুপায় হরিণী,
- বেনো দিঘির উপকথা,
- বাঘে-ছারপোকায়,
- প্রতিনায়িকা,
- নিমসিতানের পথে,
- দুটি মেয়ে একটি ছেলে,
- শিকার,
- মর্কটবৃত্ত,
- ঝরিয়া যায়,
- বাঘা ভূতের পাঁচালি। 

---------------------
• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• গল্পগ্রন্থ: নিরুপায় হরিণী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩১২.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন কোনটি?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. কিঞ্চিত জলযোগ
  4. কল্কি অবতার
ব্যাখ্যা
• বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
• ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ প্রহসনটির রচয়িতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• ‘কল্কি অবতার’ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিক একটি প্রহসন।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩১৩.
‘পৃথক পালঙ্ক’ আবুল হাসান রচিত একটি -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথক পালঙ্ক’ আবুল হাসান রচিত - কাব্যগ্রন্থ
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম ⎯ আবুল হোসেন মিয়া। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩১৪.
'ইঁদুর' ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সোমেন চন্দ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
• 'ইঁদুর' ছোটগল্প:
⇒ জীবনের পরতে পরতে যে বাস্তবের অনুশীলন প্রতিনিয়ত আমরা চর্চা করে চলেছি, আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌরে সমাজব্যবস্থার কাছে আনত সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম সেই মানুষের বিরুদ্ধে। এরকম পটভূমিকায় সোমেন চন্দের এক অসাধারণ গল্প ইঁদুর।
⇒ বাংলা ছোটগল্পের ধারায় 'ইঁদুর' খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ : জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

⇒ সোমেন চন্দ:

- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- কলকাতা থেকে বনস্পতি,
- অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩১৫.
'শাশ্বতবঙ্গ' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) রম্যরচনা
ব্যাখ্যা

কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৯৪- ১৯৭০) :
শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ।
উপন্যাস :
- নদীবক্ষে (১৯১৮)।
সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,৩১৬.
‘ইউরোপের চিঠি’ অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
• লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী

• এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩১৭.
'তালাশ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) শাহীন আখতার
  4. ঘ) রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
'তালাশ' উপন্যাসের রচয়িতা শাহীন আখতার।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
২,৩১৮.
'আরণ্যক' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।

 প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ভানুমতী,
- বনোয়ারী,
- দোবরু,
- বুদ্ধু সিংহ।

--------------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৩১৯.
'মনীষা মঞ্জুষা' প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'মনীষা মঞ্জুষা' প্রবন্ধ:
- 'মনীষা মঞ্জুষা' মুহম্মদ এনামুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থটিতে মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য, মধ্যযুগীয় সাহিত্য, ভাষার বিবর্তন, এবং সমসাময়িক সাহিত্যিক প্রবণতার উপর আলোকপাত করেছেন। এছাড়াও, বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে।

মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- বাংলা একাডেমি তাঁর নামে 'মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক' প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৩২০.
আল মাহমুদ রচিত কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭৩
  2. খ) ১৯৮৩
  3. গ) ১৯৮৫
  4. ঘ) ১৯৮৮
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর
- কালের কলস 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো 
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না
- দিনযাপন
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন
- একটি পাখি লেজ ঝোলা
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩২১.
'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি সৈয়দ শামসুল হকের কোন উপন্যাস অবলম্বনে রচিত?
  1. সীমানা ছাড়িয়ে
  2. নীল দংশন
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

• 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস:
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'গেরিলা'।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

----------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

উৎস: 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩২২.
'তপসে মাছ ও নীলকর' বিখ্যাত কবিতা দুটি কোন কবির রচনা?
  1. দীনবন্ধু মিত্র 
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'তপসে মাছ' ও 'নীলকর' কবিতা দুটি কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের রচনা। 

'তপসে মাছ' কবিতা:
- এই কবিতায় তিনি বাঙালির মাছপ্রীতিকে তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি তপসে মাছের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন। 
কবিতার কিছু অংশ হলো-

তপসে মাছ
-ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
কষিত-কনককান্তি কমনীয় কায়।
গালভরা গোঁফ-দাড়ি তপস্বীর প্রায়।
মানুষের দৃশ্য নও বাস কর নীরে।
মোহন মণির প্রভা ননীর শরীরে।
পাখি নও কিন্তু ধর মনোহর পাখা।
সমধুর মিষ্ট রস সব-অঙ্গে মাখা।
একবার রসনায় যে পেয়েছে তার।

'নীলকর' কবিতা:
এই কবিতাটির মাধ্যমে তিনি সে সময়কার নীলকরদের শোষণ ও অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরেছেন, যা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী একটি প্রকাশ। 
কবিতার কিছু অংশ হলো-

নীলকর
- ঈশ্বর গুপ্ত
তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাকানো ,
কেবল খাব খোল বিচালী ঘাস।
যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,
গামলা ভাঙ্গে না;
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব,
ঘুসি খেলে বাঁচব না।।

---------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা
প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া;বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'তপসে মাছ' ও  'নীলকর' কবিতা।

২,৩২৩.
'কুঁচবরণ কন্যা' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) শিশু সাহিত্য
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)-এর জন্ম পাবনা জেলার রাধানগর গ্রাম। 
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:

শিশুসাহিত্য

- চোর জামাই (১৯২৭),
- মেঘকুমারী (১৯৩২),
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২),
- সোনার হরিণ (১৯৩৯),
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬),
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬১),
- সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭)

কাব্য

- ময়নামতীর চর (১৯৩০),
- অনুরাগ (১৯৩২),
- পদ্মানদীর চর (১৯৫৩),
- মধুমতীর চর (১৯৫৩),
- ধরিত্রী (১৯৭৫);

উপন্যাস

- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে (১৯৩১),
- শেষ লগ্ন (১৯৪১),
- অরণ্য গোধূলি (১৯৪৯),
- নীড়ভ্রষ্ট (১৯৫৮);

গল্পগ্রন্থ

- তাসের ঘর (১৯৫৪);

নাটক

- মসনদ (১৯৩১);
 এবং

জীবনী

- কামাল আতাতুর্ক (১৯৩৭),
- শরৎচন্দ্র, ছোটদের নজরুল (১৯৫৮) ইত্যাদি।


উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩২৪.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস 
  2. গল্পগ্রন্থ 
  3. নাটক 
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩২৫.
'আমি ভাল আছি তুমি' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
দাউদ হায়দার একজন বাংলাদেশী বাঙালী কবি, লেখক ও সাংবাদিক। তাঁর বিখ্যাত একটি কাব্যের নাম 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ'। এছাড়াও তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থ- আমি ভাল আছি তুমি, এই শাওনে এই পরবাসে, বানিশম্যান্ট, পাথরের পুঁথি, আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে, অবসিডিয়ান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩২৬.
"বেণু ও বীণা" কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩২৭.
বুদ্ধদে বসু রচিত ‘কঙ্কাবতী’ কাব্যগ্রন্থের প্রধান বিষয় কী?
  1. ক) সামাজিক কুসংস্কার
  2. খ) বিরহ
  3. গ) নারী জাগরণ
  4. ঘ) প্রেম
ব্যাখ্যা
‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

------------
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩২৮.
'এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. মো. আবদুল হামিদ
  2. শেখ হাসিনা
  3. মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
  4. সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন
ব্যাখ্যা
• 'এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ' গ্রন্থটির রচয়িতা - মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু:
- তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের শিবরামপুরের জুবিলী ট্যাংক পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম চুপ্পু।
- পিতা শরফুদ্দিন আনছারী, মাতা খায়রুন্নেসা।
- তিনি ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
- পরে এলএলবি ও বিসিএস (বিচার) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
- এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পাবনা জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি, জেলা বাকশালের যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ছেষট্টির ৬-দফা আন্দোলন, সাতষট্টির ভুট্টা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- মো. সাহাবুদ্দিন 'দৈনিক বাংলার বাণীর' সাংবাদিক ছিলেন। 
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৩।
২,৩২৯.
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ আর ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান দেশভাগের সময়ের প্রেক্ষাপট রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. হাজার বছর ধরে
  2. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. কখনো আসে নি
ব্যাখ্যা
• "সূর্য-দীঘল বাড়ী" উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত।

- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হওয়া ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ছিল বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আর ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তানের দেশভাগের সময় প্রভৃতি চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনা।

- তখনকার দিনে নারীকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হতো না। এক কঠোরতার লোকচক্ষুর আড়ালে তাদের যেন লুকিয়ে রাখা হত। কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, পুরুষতন্ত্রের নির্যাতন ও ধনবান শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট গ্রামীণ সমাজকে উপেক্ষা করা এক নারী চরিত্র জয়গুনের জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ উপন্যাসে।

- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

-  বইটি বিভিন্ন বিদেশী ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। সূর্য-দীঘল বাড়ী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ছয়টি আন্তর্জাতিক এবং বিভিন্ন বিভাগে নটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র হলো:
- জয়গুন,
- তার ছেলে হাসু,
- মেয়ে মায়মুন,
- শফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোড়ল গদু প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• বাঙালির হাজার বছরের জীবনধারা "হাজার বছর ধরে" উপন‍্যাসে জহির রায়হান তুলে ধরেছেন যুগ-যুগান্তরের বিবর্তনহীন গ্রামীণ জীবনের ছায়াচিত্র।ক্ষুদ্র একটি গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারের সংঘাতময় জীবনের কাহিনী তিনি বর্ণনা করেছেন এতে।

• "জীবন থেকে নেয়া" (১৯৭০) একটি বাংলা চলচ্চিত্র। জহির রায়হান নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়। সামাজিক এই চলচ্চিত্রে তৎকালীন বাঙালি স্বাধীনতা আন্দোলনকে রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

• "কখনো আসে নি" ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সামাজিক বাংলা চলচ্চিত্র। পরিচালক হিসেবে এটিই জহির রায়হানের প্রথম চলচ্চিত্র।

উৎস: "সূর্য-দীঘল বাড়ী" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩০.
বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রচলন করেন কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সাঈদ আহমদ
  3. মামুনুর রশীদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

• বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক : সাঈদ আহমদ। 

• সাঈদ আহমদ: 
- সাঈদ আহমদ (১৯৩১-২০১০) নাট্যকার, চিত্রসমালোচক, শিক্ষাবিদ। তাঁর জন্ম পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।

উল্লেখ্য, 
• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে সাঈদ আহমদ রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৩১.
অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে কার নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩২.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' বইটি কোন হরফে প্রকাশিত হয়?
  1. ইংরেজি
  2. বাংলা
  3. পর্তুগিজ
  4. রোমান
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৩.
সৈয়দ মুজতবা আলী কোন প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন?
  1. সরকারি আজিজুল হক কলেজ
  2. ঢাকা কলেজ 
  3. রাজেন্দ্র কলেজ 
  4. কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
মুজতবা আলীর চাকরিজীবন শুরু হয় কাবুলের কৃষিবিজ্ঞান কলেজে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষার প্রভাষকরূপে (১৯২৭-১৯২৯)। বরোদার মহারাজ সয়াজী রাও-এর আমন্ত্রণে ১৯৩৫ সালে তিনি বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হন। তিনি বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে খন্ডকালীন প্রভাষক হিসেবেও কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৪.
'বাংলার মিল্টন' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন কবিকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে। হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর 'ভারতসঙ্গীত' কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- তাঁকে 'বাংলার মিল্টন' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৩৫.
‘চাকা’ নাটকটি কোন নাট্যকারের রচনা?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিম আল দীন
  3. বিজন ভট্টাচার্য 
  4. নুরুল মোমেন 
ব্যাখ্যা

• ‘চাকা’ নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘চাকা’।

- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।

- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।

--------------------
• সেলিম আল দীন রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো-
- ঘুম নেই,
- সর্প বিষয়ক গল্প,
- মুনতাসির’ 
- কীত্তনখোলা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- ধাবমান‘সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- পুত্র,
- জুলান,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- যৈবতী কন্যার মন,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘চাকা’ নাটক । 

২,৩৩৬.
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে শহিদ হয়েছিলেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে শহিদ সাহিত্যিক — মুনীর চৌধুরী।

অন্যান্য অপশন:
ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি ১৯৫৬ সালে মারা যান, তাই ১৯৭১ সালের হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পর্ক নেই।
খ) জহির রায়হান: তিনি ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিহত হন, ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ডে নয়।
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী: তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবিত ছিলেন এবং ২০১৯ সালে মারা যান, তাই তিনি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে শহিদ হননি।
------------------------

মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 
মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

• জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
• ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:
• "কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
• "রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
• "মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
• "নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
• "পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
• "দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
• "রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:
• "কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
• "রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
• "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।

২,৩৩৭.
‘অবাক পৃথিবী’ গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মোহাম্মদ কায়কোবাদ
  2. খ) মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  3. গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন (১৯৩০-১৯৯৮): জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র যিনি ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন।
তাঁর প্রকাশিত শিশু ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদনা-
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে,
- অবাক পৃথিবী,
- আবিষ্কারের নেশায়,
- রহস্যের শেষ নেই,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- জানা-অজানার দেশে,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিচিত্র বিজ্ঞান,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- কীটপতঙ্গের বিচিত্র জগৎ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- আজকের বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।]

২,৩৩৮.
‘অমৃতস্য পুত্রাঃ’ উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অমৃতস্য পুত্রাঃ’ উপন্যাস:
১৯৩৮ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক ও দাম্পত্য সমস্যামূলক এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
• বিত্তবান বীরেশ্বরের দ্বিতীয়বার পাণিগ্রহণ, প্রথম বধূর স্বামীগৃহ ত্যাগ, তাদের সন্তান শ্যামলালের বিবাহ, অতঃপর শ্যামলালের পুত্র অনুপমের সঙ্গে  বীরেশ্বরের সাক্ষাৎ এবং তার টাকাতে অপুপমের বিলেতে যাওয়া ইত্যাদি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।
• যার তাৎপর্য হলো আদর্শবান পিতার সন্তানের আদর্শচ্যুতি। উল্লেখ্য যে অনুপম চরিত্রটি দিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আধুনিক জীবনবোধের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

------------
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
 -আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৩৯.
“সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।”- উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জলপাইহাটি
  2. সতীর্থ
  3. মাল্যবান
  4. কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর এডগার অ্যালান পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪০.
'ও কি ক্ষুধাতুর পাঁজরায় বাজে.......... ।' চরণটির শূন্যস্থানে কী হবে?
  1. ক) বেদনা মজলুমের
  2. খ) জীবনের আহাজারি
  3. গ) মৃত্যুর জয়ভেরী
  4. ঘ) মরণের রোনাজারী
ব্যাখ্যা
ও কি দরিয়ার গর্জন,- ও কি বেদনা মজলুমের!
ও কি ধাতুর পাঁজরায় বাজে মৃত্যুর জয়ভেরী।
পাঞ্জেরি!
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি,
জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি!
দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি!!

চরণটি ফররুখ আহমেদ এর রচিত পাঞ্জেরি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
- ‘পাঞ্জেরী’ কবিতাটি ফররুখ আহমদ রচিত সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি কবির প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- পাঞ্জেরী কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যগ্রন্থের ১৯টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-সাত সাগরের মাঝি, পাঞ্জেরী,সিন্দাবাদ, আকাশ-নাবিক প্রভৃতি।

ফররুখ আহমদ
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য। 
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি 
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম 
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী 
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।ত।
২,৩৪১.
বাংলা চলতি ভাষার প্রয়োগে লিখিত প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ 'আলালের ঘরে দুলাল' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলা চলতি ভাষার প্রয়োগে লিখিত প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ 'আলালের ঘরে দুলাল' এর রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- টেকচাঁদ ঠাকুর প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম এবং এই নামেই তিনি উপন্যাসটি লিখেন। 
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ। 
- উপন্যাসটি 'মাসিক পত্রিকায়'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এ গ্রন্থের গদ্যে লেখক সচেতনভাবে চলতি ভাষা প্রয়োগ করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৪২.
'কি চাহ শঙ্খচিল' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

-----------------------------
• মমতাজ উদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কি চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

মমতাজ উদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কি চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪৩.
'ঋণ পরিশোধ' নাটকটির রচয়িতা-
  1. ওয়াজেদ আলী
  2. ইব্রাহিম খাঁ
  3. সেলিম আল দীন
  4. ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

• প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
• নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- কাফেলা,
- ভিস্তি বাদশা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

২,৩৪৪.
'ওসমান গণি' কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. খােয়াবনামা
  2. দোজখের ওম
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি।
• একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
• ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার,
- আলাউদ্দিন,
- আলতাফ,
- হাড্ডি খিজির,
- রানু প্রমুখ।

-------------------------------- 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: 
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। 
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪৫.
‘ আবদুল্লাহ’- উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত উপন্যাস হলো ‘আবদুল্লাহ’। উপন্যাসটি প্রথমে ‘মুসলিম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হতে থাকে। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
২,৩৪৬.
"চাচা-কাহিনী" ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. সেলিনা হোসেন
  3. বীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• "চাচা-কাহিনী" ছোটগল্পের রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।

সৈয়দ মুজতবা আলী:

- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৪৭.
আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের পটভূমি কোনটি?
  1. ক) দেশবিভাগ
  2. খ) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  3. গ) বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' .
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। 
 - সূর্য দীঘল বাড়ি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।

- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
 - কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
 - তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি
  হারেম (১৯৬২) ও
  মহাপতঙ্গ  (১৯৬৩)।


তিনি ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) লাভ করেন।  

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
২,৩৪৮.
'বিশ শতকের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) এমদাদুল হক
  4. ঘ) মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের মেয়ে, স্বদেশ অন্বেষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ চিন্তা, বিচিত্র চিন্তা ইত্যাদি আহমদ শরীফ রচিত গ্রন্থাবলী। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,৩৪৯.
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসনের রচয়িতা -
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
-  পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে। 

• বিয়ে পাগলা বুড়ো: 
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।  
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো 'জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
→ নসিরাম,
→ রতা,
→ রাজীব,
→  রাজমণি,
→ কেশব,
→ বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।
------------------------------
• অন্যদিকে: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা। 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন- এর উপায় কি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২,৩৫০.
"আমার প্রতিদিনের শব্দ" সৈয়দ আলী আহসান রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ সংকলন  
  2. সম্পাদিত অভিধান 
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• "আমার প্রতিদিনের শব্দ":
- "আমার প্রতিদিনের শব্দ" সৈয়দ আলী আহসান রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- "আমার প্রতিদিনের শব্দ" কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি কবিতা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন লেখা হয়েছিলো আর কয়েকটি কবিতা স্বাধীনতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফেরার পর। এগুলোর নাম-"আমার প্রতি-দিনের শব্দ", "তা হলেইতো আমি জয়ী", "প্রতিজ্ঞা", "ঘরে ফেবার পর" এবং "অবশেষে ফিরে এলাম"।

- "আমার প্রতিদিনের শব্দ" কবিতাটির ইংরেজীতে অনুবাদ করেছেন লীলা রায় যা Quest পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো। আর একটি ইংরেজী অনুবাদ করেছেন মেরিয়ান ম্যাডার্ন। মেরিয়ানের অনুবাদটি প্রকাশিত হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ার Quadrant পত্রিকায়।

- কবিতাটির একটি ফরাসী অনুকন্দ বিখ্যাত ফরাসী দৈনিক La Monde পত্রিকায় ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।অনুবাদটি করেছিলেন পৃথীন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
- "আমার প্রতিদিনের শব্দ", "তা হলেইতো আমি জয়ী" এবং "ঘরে ফেরার পর" এই তিনটি কবিতার ইংরেজী অনুবাদ শিব-নারায়ণ রায় এবং মেরিয়ান ম্যাডার্ন কর্তৃক সম্পাদিত I Have Seen Ben-gal's Face নামক সংকলন গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।

----------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯২০ সালের ২৬ মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়। পরে   আজাদ, মাসিক  মোহাম্মদী,  সওগাত পত্রিকায় বাংলা ভাষায় তাঁর গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
-রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
-একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "আমার প্রতিদিনের শব্দ" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৫১.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন বুদ্ধদেব বসু। 

• বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক,  সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ।
- পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫২.
'কঙ্কাবতী' কার রচিত কাব্য?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
কঙ্কাবতী:
- (১৯৩৭) বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
-  সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

বুদ্ধদেব বসু:
-  তিনি ছিলেন কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সম্পাদক।
- তিনি ৩০ নবেম্বর ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ সমূহ:

- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধি,
- একদিন চিরদি,
- স্বাগত বিদা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৫৩.
আনোয়ার পাশা কোন গ্রন্থটি লিখেছেন?
  1. নীড় সন্ধানী
  2. মনপবন
  3. হাসনসখী
  4. এক মুঠো
ব্যাখ্যা
- আনোয়ার পাশার রচিত গ্রন্থ -’নীড় সন্ধানী’।

• আনোয়ারপাশা:

- তিনি একজন বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তাঁর রাইফেল-রোটি-আওরাত উপন্যাসটি রচিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নীড় সন্ধানী.
- নিশুতি রাতের গাথা,
- রাইফেল-রোটি-আওরাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী,

• কাব্যগ্রন্থ:
- সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও
- ’নদী নিঃশেষিত হলে’ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত গল্পগ্রন্থ : মনপবন, হাসনসখী।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ: এক মুঠো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫৪.
‘অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশ ভূমি'।-পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

‘অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি,জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশ ভূমি'।-পঙক্তিটির রচয়িতা: সুকান্ত ভট্টাচার্য।

অনুভব

- সুকান্ত ভট্টাচার্য
------------------------------
অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি
জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি।
অবাক পৃথিবী! আমরা যে পরাধীন।
অবাক, কী দ্রুত জমে ক্রোধ দিন দিন;
অবাক পৃথিবী! অবাক করলে আরো-
দেখি এই দেশে অন্ন নেইকো কারো।
অবাক পৃথিবী! অবাক যে বারবার
(সংক্ষিপ্ত)

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, অনুভব কবিতা।

২,৩৫৫.
'নেমেসিস' নাটকের রচয়িতা --
  1. ক) বন্দে আলী মিয়া
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক 'নেমেসিস' । 
- ১৯৩৯-৪৩ সালের ২য় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন নাটকটি লেখেন ১৯৪৪ সালে। 
- শনিবারের চিঠি পত্রিকায় নাটকটি প্রকাশিত হয়। 
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাষ পায় ১৯৪৮ সালে। 
নাটকের চরিত্র - সুরজিত নন্দী। 
- একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনী বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন। 

নুরুল মোমেন(১৯০৬-১৯৮৯) রচিত অন্যান্য বিখ্যাত নাটক- 
- যদি এমন হতো (১৯৬০),
- নয়া খান্দান (১৯৬২),
- আলোছায়া (১৯৬২),
- আইনের অন্তরালে (১৯৬৬),
- শতকরা আশি (১৯৬৭),
- রূপলেখা (১৯৬৯) ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫৬.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমাচার চন্দ্রিকা
  2. বাঙ্গাল গেজেট
  3. ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  4. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা 'ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া'।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:

- ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন
- সমাচার দর্পণ
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদ্গুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India.

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হেনরি ডিরোজিও সম্পাদিত পত্রিকা - ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান।
- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা - সমাচার চন্দ্রিকা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫৭.
"এক পথ দুই বাক" উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহীম:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ১১ জানুয়ারি ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।

নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাক,
- কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৫৮.
বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ইছামতি
  2. খ) অপরাজিতা
  3. গ) পথের পাঁচালী
  4. ঘ) উর্বশী ও আর্টেমিস
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে,  (১৯০৯-১৯৮২)  কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
• ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। কিন্তু ১৯৩০ সালে কল্লোল পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।
• সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রধান কাব্যগ্রন্থ ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’। বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ,
- উত্তরে থাকো মৌন,
- সেকাল থেকে একাল,
- আমার হূদয়ে বাঁচো ইত্যাদি।

• ছড়ানো এই জীবন নামে তাঁর একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ আছে। এছাড়াও রয়েছে ১০টি কাব্য সংকলন, ৭টি অনুবাদগ্রন্থ এবং ২টি সম্পাদিত গ্রন্থ। তাঁর একটি সম্পাদিত গ্রন্থ হচ্ছে এ কালের কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সৌমিত্র শেখর।
২,৩৫৯.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন?
  1. কোহিনূর
  2. শিখা
  3. মিহির
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা।
- শিখা পত্রিকার মুখবাণী ছিল "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব"।
- কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ ও পুস্তক রচনা করেছেন।

• তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি ;
- সে পথ লক্ষ্য করে;
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস; 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৬০.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জাহান্নাম হইতে বিদায়
  2. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  3. পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। নাটকটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকটি মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এতে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।  
 
-------------------
• শওকত ওসমান:
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাঙ্গী। 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়। 

• নাটক:
- তস্কর লস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা, 
- কাঁকর মণি, 
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটক।

২,৩৬১.
'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটির রচয়িতা?
  1. ক) ড. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটির রচয়িতা- আহসান হাবীব। 

'অরণ্য নীলিমা'- উপন্যাস
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটকে উপজীব্য করে রচিত।


 আহসান হাবীব 
- আহসান হাবীব  ১৯১৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ' রাত্রিশেষ।' 

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষে
- আশায় বসতি
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর
- প্রেমের কবিতা
- বিদীর্ণ দর্পণ মুখ 
- ছায়াহরিণ 
- সারা দুপুর

তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ হচ্ছে: 
- ছোটদের পাকিস্তান
- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর
- ছুটির দিন দুপুরে 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৬২.
'অনেক দিনের আশা' গল্পটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সরদার জয়েন উদ্দিন
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

 • 'অনেক দিনের আশা' গল্পের রচয়িতা শামসুদ্দীন আবুল কালাম।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

২,৩৬৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চাঁদের আমবস্যা
  2. বহিপীর
  3. একটি তুলসী গাছের কাহিনী
  4. সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

•  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু।
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৬৪.
'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ - খসড়া, এক মুঠো, কবিতাবলী, উপহার, পারাপার, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, অনিঃশেষ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৩৬৫.
'ইদুঁর' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সোমেন চন্দ
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ রচিত গল্প- ইঁদুর, দাঙ্গা, সংকেত, স্বপ্ন, বনস্পতি ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,৩৬৬.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন?
  1. প্রগতি
  2. পরিচয়
  3. কবিতা
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বুদ্ধদেব বসু।
'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক বুদ্ধদেব বসু ও অজিত দত্ত।
'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৬৭.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. তারাবাঈ
  2. রায়নন্দিনী
  3. অনল প্রবাহ
  4. ফিরোজা বেগম
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্যগ্রন্থ 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা,  আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬৮.
কোনটি গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক -
  1. লীলাবতী
  2. জামাই বারিক
  3. সধবার একাদশী
  4. সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্ত্ত।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন 'সধবার একাদশী' ‘জামাই বারিক’।
• দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক- ‘লীলাবতী’।

উল্লেখ্য,
• ‘সীতার বনবাস’ নামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত একটি অনুবাদ নাটক রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬৯.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ গ্রন্থটি প্রধানত কোন দেশের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. তাজিকিস্তান 
  2. উজবেকিস্তান 
  3. আফগানিস্তান
  4. কাজাকিস্তান 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি- দেশে বিদেশে আফগানিস্তান ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে রচিত।
------------------------------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।
----------------------------------------------------- 
• ‘দেশে বিদেশে’ নিয়ে কিছু তথ্য:
- ‘দেশে বিদেশে’ সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ এবং বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের এক অসাধারণ উদাহরণ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনিটি মূলত ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে তার আফগানিস্তানের কাবুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ওপর লেখা।
- এই গ্রন্থে তিনি আফগান সমাজের দৈনন্দিন জীবন, মানুষের চলাফেরা, ভাষা, পোশাক, খাদ্য ও সংস্কৃতির নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেছেন।
- লেখক তার সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে কাবুলের জীবন এবং মানুষের চিন্তাভাবনা বর্ণনা করেছেন।
- গ্রন্থটিতে রাজা আমানুল্লাহ খানের আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা যেমন—নারী শিক্ষা, বোরকা প্রথা বাতিল ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।।
- এবং এর কারণে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াও স্থান পেয়েছে; যা পরবর্তীতে তার ক্ষমতাচ্যুতির কারণ হয়।
- লেখক কেবল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেননি;
- বরং তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, রসবোধ এবং ভাষার জাদুর মাধ্যমে গ্রন্থটিকে সাহিত্যিক মানও দিয়েছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,৩৭০.
'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?'- পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসে উক্তিটি কার?
  1. ডাক্তার পরশের
  2. গোপালের
  3. যাদব পণ্ডিতের
  4. ডাক্তার শশীর
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত তৃতীয় উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। 

- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন-"সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।

- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- শশী,
- কুসুম,
- গোপাল,
- সেনদিদি,
- যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৭১.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯২৯
  2. খ) ১৯৩১
  3. গ) ১৯৩৫
  4. ঘ) ১৯৪১
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- ‘পথের পাঁচালী ‘ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খন্ড।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর, সর্বজয়া প্রমুখ। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)
- অনুবর্তন (১৯৪২) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭২.
‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তুর নয় কোনটি?
  1. ক) ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  2. খ) আসামের ভূমিকম্প
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) সিলেটের ভয়াবহ বন্যা
ব্যাখ্যা
• ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাস:
‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উপন্যাসটিতে ঐতিহাসিক নানা উপাদান নিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয় ।

•  আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক। পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৩.
'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা-
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য- 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ'। রম্যরচনা- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প। প্রবন্ধগ্রন্থ- নানা প্রসঙ্গ, গণসঙ্গতি, মাটি থেকে মহীরুহ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা, ফোকলোরচর্চা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৭৪.
'বাংলাদেশ' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' কবিতাটির রচয়িতা- অমিয় চক্রবর্তী। 
- কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।   

অমিয় চক্রবর্তী
- ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম। 
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন অমিয় চক্রবর্তী।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাথে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। 

• অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’। 
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার 
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত 
- পারাপার 
- পালাবদল 
- ঘরে ফেরার দিন 
- হারানো অর্কিড 
- পুষ্পিত ইমেজ 
- অমরাবতী
- অনিঃশেষ
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৫.
কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. পথে প্রবাসে
  2. দেশে বিদেশে
  3. ইউরোপের চিঠি
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি - ইউরোপের চিঠি এবং পথে প্রবাসে

অন্যদিকে,
- দেশে বিদেশে ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে সময় অন্নদাশঙ্কর ‘লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন ‘লীলা রায়'। অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক।
- বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৬.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসে চরিত্র কোনটি?
  1. খোকা, রঞ্জু
  2. আব্দুল, শিশির
  3. রতন, অপু
  4. নীলা, হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির 'খোকা' নামের এক নির্লিপ্ত এবং জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- মুরাদ,
- রহমান,
- রঞজু,
- ইয়াসিন,
- জাহিদুল করিম,

• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
২,৩৭৭.
কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. মেঘমল্লার
  2. দেবযান
  3. ইছামতী
  4. অপরাজিত
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• তাঁর রচিত গল্পসমূহ হলো:
- মেঘমল্লার
,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস

- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৮.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
- 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
-  প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত ছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ সালে 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়।
- মেঘদূত।
- কাঞ্চন বাংলা।
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।
- বৌদ্ধধর্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৯.
সৈয়দ আলী আহসান নিচের কোন বিশ্ববদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  2. খ) করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. গ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. ঘ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ আলী আহসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। 

সৈয়দ আলী আহসান
- তিনি ১৯২০ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭২ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন।
- পরে ১৯৭৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও যোগদান করেন। 
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।


তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- Our Heritage 
- ইকবালের কবিতা
- কবিতার কথা
- সাহিত্যের কথা 
- নজরুল ইসলাম
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত আধুনিক কাল
- প্রেমের কবিতা 
- পদ্মাবতী
- কাব্যসমগ্র
- রবীন্দ্রনাথ : কাব্যবিচারের ভূমিকা 
- জার্মান সাহিত্য : একটি নিদর্শন 
- সতত স্বাগত 
- আধুনিক বাংলা কবিতা : শব্দের অনুষঙ্গে 
- কথাবিচিত : বিশ্বসাহিত্য
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - প্রাচীনযুগ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মধ্যযুগ 
- বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ : আমাদের আত্মপরিচয়
- আমেরিকা : আমার কিছু কথা
কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ 
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত 
- সহসা সচকিত
- আমার প্রতিদিনের শব্দ 
- রজনীগন্ধা 
- সমুদ্রেই যাব 
অনুবাদগ্রন্থ
- ইডিপাস
- ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা।
আত্নজীবনী:
আমার সাক্ষ্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,৩৮০.
দান্তের ডিভাইন কমেডি অনুসারে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ছায়াময়ী
  2. বৃৎসংহার
  3. জীবন সঙ্গীত
  4. আকাশকানন
ব্যাখ্যা
দান্তের ডিভাইন কমেডি অনুসারে, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্য 'ছায়াময়ী'। 

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৩৮-১৯০৩):
-  ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়। 

- তাঁর ‘ভারতবিলাপ’, ‘কালচক্র’, ‘রিপন উৎসব’, ‘ভারতের নিদ্রাভঙ্গ’ প্রভৃতি রচনায়ও স্বদেশপ্রেমের কথা ব্যক্ত হয়েছে।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ চিন্তাতরঙ্গিণী ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে বৃত্রসংহার (২ খন্ড, ১৮৭৫-৭) মহাকাব্য।
- মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।

- হেমচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কবিতাবলী (২ খন্ড, ১৮৭০-৮০)। এটি তাঁর খন্ডকবিতার সংকলন।
- ‘জীবনসঙ্গীত’, ‘গঙ্গার উৎপত্তি’, ‘পদ্মের মৃণাল’, ‘ভারতকাহিনী’, ‘অশোকতরু’ প্রভৃতি খন্ডকবিতা তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৮১.
সেলিম আল দ্বীন নিচের কোন আন্দোলনটি গড়ে তোলেন?
  1. ক) থার্ড থিয়েটার
  2. খ) পল্লী থিয়েটার
  3. গ) গ্রাম থিয়েটার
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার। তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
২,৩৮২.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. মাল্যবান
  2. সতীর্থ
  3. কল্যাণী
  4. নীড় সন্ধানী
ব্যাখ্যা
⇒ জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

অন্যদিকে,
-আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস ‘নীড় সন্ধানী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
২,৩৮৩.
শওকত ওসমানের আদমজি পুরস্কার প্রাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. সমাগম
  2. চৌরসন্ধি
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. জননী
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোতীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস।
- ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। প্রাচীন কাহিনী, ঘটনা ও চরিত্রের রূপকে লেখক সমকালীন রাজনীতিতে স্বৈরাচারী চরিত্র ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে। 
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত । এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে

অন্যদিকে, 
---------------
• 'সমাগম' উপন্যাস:
 সমাগম' হলো বিখ্যাত বাংলাদেশী লেখক শওকত ওসমান রচিত একটি রূপকধর্মী ও ফ্যান্টাসি উপন্যাস, যা ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়। এবং এটি সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়, যেখানে কালজয়ী মনীষীদের চিন্তাভাবনার মাধ্যমে এক কাল্পনিক জগতের সৃষ্টি করা হয়। 

• 'জননী' উপন্যাস: 
জননীতে সামাজিক জীবনচিত্র উন্মোচিত হয়েছে। জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে

• 'চৌরসন্ধি' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস "চৌরসন্ধি"। উপন্যাসের মূল চরিত্র কালু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৮৪.
‘জমিদার ও রায়ত’ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার সমালোচনামূলক প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
⇒ ‘The Zamindar and Royats’/‘জমিদার ও রায়ত’ প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কারণ, এটি রচিত হয়েছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

⇒ প্যারীচাঁদ মিত্র:

• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। গ্রন্থটি ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:  
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত,
- বামাতোষিণী,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- গীতাঙ্কুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৮৫.
একাত্তরের বিজয়গাথা কার রচনা?
  1. ক) এম আর আখতার মুকুল
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) মুনতাসীর মামুন
  5. ঙ) কবির শাহরিয়ার
ব্যাখ্যা
একাত্তরের বিজয়গাথা গ্রন্থটির রচয়িতা মুনতাসীর মামুন। একাত্তরের ডাইরি, একাত্তরের দিনগুলি, একাত্তরের বর্ণমালা এবং একাত্তরের যীশু গ্রন্থসমূহ যথাক্রমে সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম, এম আর আখতার মুকুল এবং কবির শাহরিয়ার রচিত।(সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা)
২,৩৮৬.
'ইয়ংবেঙ্গল' কী?
  1. ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র
  2. সাহিত্য গোষ্ঠীর নাম
  3. ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট তরুন ছাত্রগোষ্ঠী
  4. ইংরেজদের একটি সমাজকল্যানমূলক সংগঠন।
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও, হেনরি লুই ভিভিয়ান(১৮০৯-১৯৩১) হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুন ছাত্রগোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে  প্রধান ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, প্যারীচাঁদ মিত্র ও তারা চাঁদ চক্রবর্তী।
- ছাত্র হিসেবে সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহী।
- প্রথম জীবনে হিন্দুধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধাপরায়ণ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অত্যন্ত সমালোচনা-মুখর। 
- প্রচলিত হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তাদের ঐক্যসূত্র। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর সাহিত্য, ধর্ম, নীতি গঠনে তাদের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৮৭.
'অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' কে রচনা করেন?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়  'বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা' রচনা করেন ১৯২৯ সালে।
বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

তার বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে আছে,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স 
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অব মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৮৮.
‘মোস্তফা চরিত’ গ্রন্থের লেখক কে ছিলেন?
  1. কায়কোবাদ
  2. মাওলানা আকরম খাঁ
  3. মুহাম্মদ বরকত ‍উল্লাহ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মাওলানা আকরম খাঁ:
জন্ম ও মৃত্যু: ৭ই জুন, ১৮৬৮, পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হাকিমপুর গ্রামে। ১৮ই আগস্ট, ১৯৬৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
১৯০৩ সালে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। তিনি উর্দু দৈনিক 'জামানা' (১৯২০) ও বাংলা দৈনিক 'সেবক' (১৯২১) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৩৬ সালের ৩১শে অক্টোবর থেকে 'আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা করেন, যা তাঁর সাংবাদিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো:
• 'মোস্তফা চরিত'  – হজরত মোহাম্মদ (স.) এর জীবনী। বইটিতে মোস্তফা চরিতের বিভিন্ন উপায় বা সূত্র, বিভিন্ন হাদিছের বর্ননা, অন্যান্য ধর্মসমূহের তূলনা করা হয়েছে।

• 'মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস' – মুসলিম বাংলার ইতিহাস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

উৎস:
- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
- বাংলাপিডিয়া।
২,৩৮৯.
'আমার পূর্ব বাংলা' কবিতাটির রচয়িতা কে? 
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শাহাদাৎ হোসেন 
  3. সৈয়দ শামসুল হক 
  4. সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• ‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

• অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

• প্রবন্ধ:
- সতত স্বাগত।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা;
সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)
ঘর আর বিদেশ আঙিনা
তিনটি ফুল আর একটি পাতা নিয়ে/ কদম্ব তরুর একটি শাখা মাটি/ ছুঁয়েছে
আরও অনেক গাছ পাতা লতা/ নীল হলুদ বেগুনি অথবা সাদা
কাকের চোখের মতো কালোচুল/ এলিয়ে
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ নীলাম্বরীতে দেহ ঘিরে (বৃষ্টিভেজা পূর্ব বাংলা যেনো নীল শাড়ি পরা কোনো নারী)
তুমি আমার পূর্ব-বাংলা-/ পুলকিত সচ্ছলতায়, প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।।

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯০.
‘রেইনকোট’ গল্পটি রচিত হয়েছে কোন প্রেক্ষাপটে?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলেন কথাসাহিত্যিক।
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
→ চিলেকোঠার সেপাই,
→ খোয়াবনামা। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য: 
→ অন্যঘরে অন্যস্বর, 
→ খোঁয়ারি, 
→ দুধভাতে উৎপাত, 
→ দোজখের ওম, 

- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ (১৯৮২), খোয়াবনামা  উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তাঁর রচনা কয়েকটি ভারতীয় ভাষাসহ অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তাঁর চিলেকোঠার সেপাই  নাটকে রূপায়িত হয়েছে।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯১.
ছিঁড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল-অবসাদ,
নতুল পানিতে হাল খুলে দাও, হে মাঝি সিন্দবাদ!- পঙক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
ছিঁড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল-অবসাদ,
নতুল পানিতে হাল খুলে দাও, হে মাঝি সিন্দবাদ!- উল্লিখিত পঙক্তিদ্বয় ফররুখ আহমদ রচিত ‘সিন্দবাদ’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯২.
'বাংলাদেশ কথা কয়' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস 
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ 
  4. সম্পাদনা গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ কথা কয়':
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।

​-----------------
 • আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
-  আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'বাংলাদেশ কথা কয়' সম্পাদনা।

২,৩৯৩.
'নেমেসিস' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) ইমদাদুল হল
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটকের নাট্যকার- 'নুরুল মোমেন' 

'নেমেসিস' নাটক 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৯৪.
'অনেক সূর্যের আশা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) সিরাজুল ইসলাম
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• সরদার জয়েনউদ্দিন পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ
- অনেক সূর্যের আশা,
- আদিগন্ত,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- নয়ন ঢুলি,
- খরস্রোত,
- অষ্টপ্রহর,
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৩৯৫.
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) মুহম্মদ এনামুল হক
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫ - ১৯৬৯)। 
তার অন্যান্য সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী,
- গল্প সংকলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৯৬.
'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. ​যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ': 
- ​জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' বাংলা ভাষার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ বলে সমাদৃত।

​- ১৯৩৬ সালে প্রথম সংস্করণের পর ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত গ্রন্থটির ত্রয়োদশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রন্থকার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৩ জুলাই ১৯৬৯ তারিখে (২৭ আষাঢ় ১৩৭৬) ইন্তেকাল করেন। বইটির আর কোনো সংস্করণ প্রকাশিত হয়নি।

- উল্লেখ্য যে আচার্য সুনীতি কুমারের 'ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ' গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার তিন বৎসরাধিকাল পূর্বে শহীদুল্লাহ্ রচিত 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' বাংলা ভাষার ব্যাকরণের অভাব মিটিয়েছিল। এ গ্রন্থ প্রণয়নে গ্রন্থকারকে উৎসাহিত এবং সাহায্য করেছিলেন ড. সুশীল কুমার দে, আচার্য সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, কবিবর মোহিত লাল মজুমদার, কালিদাস রায়, কবি শেখর, অধ্যাপক গুরুপ্রসাদ ভট্টাচার্য, চিন্তাহরণ চক্রবর্তী এবং চারুচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

- ​ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থ অনুসারে, বাঙ্গালা ব্যাকরণের বিষয়সমূহকে প্রধানত পাঁচ ভাগে বা প্রকরণে বিভক্ত করা যাইতে পারে,
যথা-
১. ধ্বনি প্রকরণ (Phonology),
২. শব্দ প্রকরণ (Accidence),
৩. বাক্য প্রকরণ (Syntax),
৪. ছন্দ প্রকরণ (Prosody),
৫. অলঙ্কার প্রকরণ (Rhetoric)।

​অন্যদিকে, 
• ​যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির গ্রন্থ- 'বাঙ্গালা ভাষা' (১৯১২)।

উৎস: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।

২,৩৯৭.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কোন কাব্যটি ইংরেজ সরকার বাজেয়াপ্ত করে?
  1. অনল প্রবাহ
  2. স্পেনবিজয়
  3. রায়নন্দিনী
  4. স্বজাতির প্রেম
ব্যাখ্যা
১৮৯৯ সালে প্ৰকাশিত তাঁর প্রথম কবিতা-সঙ্কলন ‘অনল-প্রবাহ’।
- গ্রন্থটির ইংরেজ সরকার বাজেয়াপ্ত করে এবং কবির দুই বছর কারাদণ্ড হয়। 

ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০–১৯৩১):
- লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী একই সাথে বেশ কিছু সংগঠন ও দলের সদস্য ছিলেন, যেমন  ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস,  মুসলিম লীগ,  আঞ্জুমান-ই-উলামা-ই-বাঙ্গালা, জামিয়াত-ই-উলামা-ই-হিন্দ, স্বরাজ পার্টি ও কৃষক সমিতি।
- সমসাময়িক পত্রিকা আল-এসলাম, ইসলাম প্রচারক,  প্রবাসী, প্রচারক, কোহিনূর, সোলতান, মোহাম্মদী,  সওগাত,  নবযুগ ও নবনূর প্রভৃতিতে সিরাজীর লেখা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর অধিকাংশ লেখাতেই ইসলামী ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকারকে উদ্দীপ্ত করে তোলার প্রয়াস ছিল।

তাঁর কাব্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে
- অনল প্রবাহ (১৯০০),
- আকাঙ্ক্ষা (১৯০৬),
- উচ্ছ্বাস (১৯০৭), 
- উদ্বোধন (১৯০৭),
- নব উদ্দীপনা (১৯০৭),
- স্পেন বিজয় কাব্য (১৯১৪),
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী (১৯১৬),
- প্রেমাঞ্জলি (১৯১৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে
- রায়নন্দিনী (১৯১৫),
- তারাবাঈ (১৯১৬),
- ফিরোজা বেগম (১৯১৮) ও
- নূরুদ্দীন (১৯১৯)।
- স্বজাতির প্রেম তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক ও কবিতার ব্লগ
২,৩৯৮.
'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) অতুলপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন। 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান। 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৯৯.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি -
  1. পথে প্রবাসে
  2. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. দেশে বিদেশে
  4. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি - পথে প্রবাসে

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি - দেশে বিদেশে।
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত - পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
​- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থ।

​​অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত। 
- ওড়িশার দেশীয় রাজ্য ঢেঙ্কানালের এক শাক্ত পরিবারে ১৯০৪ সালে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম কবিতা ওড়িয়া ভাষায় রচিত। কম বয়সে প্রভা নামে ওড়িয়া ভাষায় হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করেন। 
- ১৬ বছর বয়সে টলস্টয়ের গল্প ‘তিনটি প্রশ্ন’ তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন।
- বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক রচনার বিষয় ছিল ’নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা।

​তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি: 
- ইউরোপের চিঠি,
- পথে প্রবাসে।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪০০.
'উত্তম পুরুষ' রশীদ করীম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. প্রবন্ধ 
  3. উপন্যাস
  4. নাটক 
ব্যাখ্যা

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস:
- রশীদ করীম রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের চরিত্রে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব করেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।

--------------------
• রশীদ করীম রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।