বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ১৪ / ৭৭ · ১,৩০১১,৪০০ / ৭,৬৪৬

১,৩০১.
‘আশায় বসতি’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আহসান হাবীব
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০২.
‘নদী নিঃশেষিত হলে’ আনোয়ার পাশা রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।
- আনোয়ার পাশাকে ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করে।

• আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নি:শেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৩০৩.
‘সাত ভাই চম্পা’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
কল্লোল যুগের অন্যতম লেখক বিষ্ণু দে (১৯০৯-১৯৮২) রচিত কাব্যের নাম হল সাত ভাই চম্পা। তার অন্যান্য কাব্যঃ চোরাবালি, দিবানিশি, সন্দ্বীপের চর, উর্বশী ও আর্টেমিস ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১,৩০৪.
'গিনিপিগ' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৩০৫.
‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি‘ জাহানারা ইমাম রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. শিশু সাহিত্য
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ জাহানারা ইমাম:
• জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
• অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য:
- গজকচ্ছপ, 
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

•অনুবাদ গ্রন্থ:
- জাগ্রত ধরিত্রী, 
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর, 
- নদীর তীরে ফুলের মেলা।

• মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ:
- বীরশ্রেষ্ঠ, 
- একাত্তরের দিনগুলি।

• অন্যান্য:
- জীবন মৃত্যু, 
- নিঃসঙ্গ পাইন, 
- বুকের ভিতরে আগুনম, 
- নাটকের অবসান, 
- দুই মেরু, 
- প্রবাসের দিনগুলি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩০৬.
"সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে।" - কবিতাংশের লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• "সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।" - কবিতাংশটুকু মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্গত।

---------------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ।
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬)।

------------------------
আমার পণ-কবিতা,
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
ভাইবোন সকলেরে যেন ভালবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভাল ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।
সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দেই ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩০৭.
'মজিদ' চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) মৃত্যুক্ষুধা
  2. খ) লালসালু
  3. গ) জননী
  4. ঘ) পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-  মজিদ।
• 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মজিদ নামের এক কূটচরিত্র গারোপাহারি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে শোষণ করে। সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৮.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থের নাম:
- নয়াবসত
- রামধনু
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৯.
রুশ সাহিত্যের দক্ষ অনুবাদক কবি ছিলেন-
  1. সমর সেন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩১০.
নীল দর্পণ নাটকটি কোন ইংরেজি উপন্যাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
  1. Apple of Discord
  2. The Taming of the Shrew
  3. The Comedy of Errors
  4. Uncle Tom's Cabin
ব্যাখ্যা

নীল দর্পণ হল দীনবন্ধু মিত্র কতৃক ১৮৬০ খ্রি. রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক। এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- নীল দর্পণ নাটকটির ঘটনা, বিষয়চিন্তা, রচনাস্থান, প্রকাশ স্থান, মুদ্রনকাল, প্রথম মঞ্চায়ন সবই বাংলাদেশে।
- প্রথম প্রকাশে দীনবন্ধুর নাম ছিল না, গ্রন্থাকারে তা গুপ্ত রাখা হয়।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
- গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং তা প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস্‌ লঙ।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্রগুলির স্বাভাবিকতার গুণের জন্য অনেকে একে Uncle Tom's Cabin এর সঙ্গে তুলনা করেন।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক ও প্রহসন হলো:
- নবীন তপস্বিনী (১৮৬৩),
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
- সধবার একাদশী (১৮৬৬),
- লীলাবতী (১৮৬৭),
- জামাই বারিক (১৮৭২),
- কমলে কামিনী (১৮৭৩) প্রভৃতি।

সধবার একাদশী ও লীলাবতী উচ্চাঙ্গের সামাজিক নাটক। বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

১,৩১১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তন্বী
  2. খ) অর্কেস্ট্রা
  3. গ) প্রতিধ্বনি
  4. ঘ) প্রতিদিন
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ - প্রতিধ্বনি

- অন্যগুলো তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ।

সুধীন্দ্রনাথ রচিত গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী
- অর্কেস্ট্রা
- ক্রন্দসী
- উত্তর ফাল্গুনী
- সংবর্ত
- প্রতিদিন
- দশমী
প্রবন্ধগ্রন্থ:

- স্বগত
- কুলায় ও কালপুরুষ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১২.
'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) রজনীকান্ত সেন
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ফরাসি কবি শেখ সাদী ও হাফিজের কবিতার ভাবানুবাদ 'সদ্ভাবশতক' কাব্য কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের প্রথম ও শেষ্ঠ গ্রন্থ। 
- নীতিমূলক এই কবিতাগুলো তাঁর কবি-খ্যাতির প্রধান কারণ। 
- কিছু গদ্য রচনাও ছিল তাঁর। 
- তাঁর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যটি নীতিকবিতার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। 
- ফরাসি থেকে ভাব গ্রহণ করা হলেও কবির অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টি এতে যথাযথ প্রতিফলিত হয়েছে।
- এতে বহু পঙক্তি প্রবাদ বাক্যের মতো যুগ যুগ ধরে সমাদৃত হয়ে আসছে। 

- এ কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত পঙক্তি- 
"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কোমল তুলিতে, 
দূঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে।" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৩১৩.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৭৩৪
  2. খ) ১৭৩৫
  3. গ) ১৭৪৩
  4. ঘ) ১৭৫৩
ব্যাখ্যা
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ রচিত গ্রন্থ।
- এটি রচিত হয় ১৭৩৫ সালে।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে এটি প্রকাশিত হয়।
- মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ ছিলেন একজন পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি। 
- গুরু শিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন ছিলো এই গ্রন্থের লক্ষ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১৪.
‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসের মূল পটভূমি কী?
  1. স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা
  2. আইয়ুব খানের সামরিক শাসনকাল
  3. পদ্মা-ইছামতি নদীর পারের জীবন
  4. তুর্কি আক্রমণের পূর্ববর্তী ভারতবর্ষ
ব্যাখ্যা
• 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাস:
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪) শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত।
- অত্যাচারী সামস্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু এবং বৌদ্ধের দল।
- এই উপন্যাসের সময় ধরা হয়েছে রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল।
- সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ করে আর্য ও অনার্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অসাম্য এ উপন্যাসের বিষয়।
- উপন্যাসে কোনো একক ব্যক্তিকে নায়ক করা হয় নি। প্রাকৃতজন অর্থাৎ বাংলার গণমানুষ সমষ্টিগতভাবে এই উপন্যাসে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- সঙ্গতি বিধানের লক্ষ্যে একাদশ শতাব্দীর অন্তিম কালের ভাষারূপ উপন্যাসে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে পাঠক উপন্যাসটি পাঠকালে সত্যি যেন লক্ষ্মণ সেনের ওই সময়ে ফিরে যান।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১৫.
কোনটি আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস?
  1. পাগলা দাশু 
  2. অবাক জলপান 
  3. রানিখালের সাঁকো
  4. কাকতাড়ুয়া
ব্যাখ্যা

• 'রানিখালের সাঁকো' উপন্যাস:
- ছোটদের জন্য আহসান হাবীবের লেখা উপন্যাস 'রানিখালের সাঁকো'। উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

- বরিশালে একটি গ্রাম। বরিশালের গ্রামগুলো যেরকম হয় আর কি, শান্ত, সবুজ গাছগাছালি, পাখির কলরব মুখর আর সব কিছুর সংযোগ করে অসংখ্য খাল। সেই খালগুলোর এপাড় ওপাড় যাতায়াত করতে লাগে সাঁকো। বাঁশ দিয়ে বানানো এমন একটি সাঁকোর নামেই উপন্যাসটির নাম, “রানিখালের সাঁকো”। 

- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'আজীজ’।

- রানিখালের সাঁকো সবার সাঁকো। সে সাঁকো পার হয়ে পারাপারের অধিকার সবারই সমান। তবু স্কুল ছুটির পরে জয়নালের জন্য অপেক্ষা করে এপারেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সব ছেলের। কিন্তু কেন, কেন এমন হবে? এই প্রশ্ন আজীজের মনে একদিন আগুন ছড়িয়ে দিলো। এই প্রশ্নই এতিম ছেলে আজীজকে গ্রাম ছাড়িয়ে টেনে নিয়ে এলো বিচিত্র মানুষের মেলা রাজধানী শহরে। একটি মাত্র প্রতিজ্ঞায় অটল তার অন্তরকে কোন বাধাই বুঝি টলাতে পারবে না।

---------------------------
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

অন্যদিকে, 
-------------------
• পাগলা দাশু ও অবাক জলপান সুকুমার রায় রচিত গ্রন্থ। 
• সেলিনা হোসেন রচিত 'কাকতাড়ুয়া' বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ উপন্যাস, যা ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'রানিখালের সাঁকো' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩১৬.
সৈয়দ মুজতবা আলী'র ‘দেশে বিদেশে’ বইটিতে কোন শহরের কাহিনি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. কাবুল
  2. তেহরান
  3. লাহোর
  4. তুরস্ক
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে':
- ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণকাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১৭.
কোনটি শওকত ওসমানের রচনা নয়?
  1. চৌরসন্ধি
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. ভেজাল
  4. বনি আদম
ব্যাখ্যা
[মূল প্রশ্নের অপশনে টাইপিং মিস্টেক ছিল। শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- বণী আদম।। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ গ্রহণ করা হয়েছে।]

• শওকত ওসমানের রচনা নয়- ভেজাল।
• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘ভেজাল’ একটি কবিতা।

----------------------------
• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- বণী আদম,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল,
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক,
- উভশৃঙ্গ,
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৮.
মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. ক) রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. খ) কবর
  3. গ) মুখরা রমণী বশীকরণ
  4. ঘ) দন্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি উইলিয়াম শেকসপিয়ারের 'The Taming of the Shrew' গ্রন্থের অনুবাদ৷ এটি মূলত কমেডি নাটক।
'রক্তাক্ত প্রান্তর' (১৯৬২) মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট এই নাটকটি রচিত৷ এটি একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক৷ এটি এক অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য নাট্যকলার সংমিশ্রণে তার রচিত নাটক হলো 'দন্ডকারণ্য'৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,৩১৯.
মুনীর চৌধুরী রচিত "কেউ কিছু বলতে পারে না" নাটকটি কোন ইংরেজ নাট্যকারের নাটক অবলম্বনে রচিত?
  1. ক) উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
  2. খ) জর্জ বার্নার্ড শ
  3. গ) ডব্লিউ. বি. ইয়েটস্‌
  4. ঘ) জন গলজ্‌ওয়র্দি
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী (২৭ নভেম্বর ১৯২৫ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১):
শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯):
- মানুষ (১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে (১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন (১৯৪৬)
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)

> তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম একজন শিকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)
১,৩২০.
কোনটি শহীদুল্লা কায়সার রচিত স্মৃতিকথা?
  1. কারাগারের রোজনামচা
  2. রাজবন্দীর চিঠি
  3. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  4. রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা
• রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারে আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই । এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

-----------------------
শহীদুল্লা কায়সার:
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

অন্যদিকে,
• শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি - কারাগারের রোজনামচা।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প - রাজবন্দীর চিঠি।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ - রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩২১.
ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে-
  1. ক) প্রেসিডেন্সি কলেজ
  2. খ) সংস্কৃত কলেজ
  3. গ) হিন্দু কলেজ
  4. ঘ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি। 
- বেতালপঞ্চবিংশতি একখানা গল্পগ্রন্থ। মূল গ্রন্থটি  সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- ১৮০৫ সালে বৈতাল পচ্চিসী নামে এর একটি হিন্দি অনুবাদ  ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে প্রকাশিত হয়, যা ওই কলেজের পাঠ্য ছিল। পরে কলেজের অধ্যক্ষ জি.টি মার্শালের অনুরোধে  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ সালে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। 

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :-
- শকুন্তলা
- সীতার বনবাসের
- ভ্রান্তিবিলাস 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১,৩২২.
অন্নদাশঙ্কর রায় কত সালে জগত্তারিণী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৬২ সালে
  2. খ) ১৯৭৯ সালে
  3. গ) ১৯৯৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় সাহিত্য আকাদেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ফেলো ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমির জন্মকাল ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি ছিলেন এর আজীবন সভাপতি ও পথিকৃৎ। 
- কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জগত্তারিণী পুরস্কারে ভূষিত করে ১৯৭৯ সালে
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে প্রদান করে দেশিকোত্তম সম্মান।
- বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে।

অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে
- সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬২),
- আনন্দ পুরস্কার (দুইবার-১৯৮৩, ১৯৯৪),
- বিদ্যাসাগর পুরস্কার, শিরোমণি পুরস্কার (১৯৯৫),
- রবীন্দ্র পুরস্কার, নজরুল পুরস্কার, বাংলাদেশের জেবুন্নিসা পুরস্কার।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১,৩২৩.
বাংলা উপন্যাস ধারার পথিকৃৎ গ্রন্থ কোনটি?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. বিষবৃক্ষ
  4. যোগাযোগ 
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি “টেকচাঁদ ঠাকুর” ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম উপন্যাস।
- কারো মতে এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয়।
- সাংবাদিকতা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যই প্যারীচাঁদ বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড,  হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং  বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ গ্রন্থ বলা হয়।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় ,
- রামারঞ্জিকা ,
- কৃষিপাঠ;
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত;
- বামাতোষিণী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৪.
কোন নাটকে কোন নারী চরিত্র নেই?
  1. ক) কবর
  2. খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. গ) বহিপীর
  4. ঘ) নুরুলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা
'কবর' (১৯৫৩) মুনীর চৌধুরী রচিত একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধুরীকে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকার আটক ও জেলে প্রেরণ করে। 
- জেলে থাকা অবস্থায় তিনি লেখেন এই নাটক ও ১৯৫৩ সালে কারান্তরালে রাজবন্দিরা তাতে অভিনয় করেন ।
- এ নাটকে মুনীর চৌধুরী কোন নারী চরিত্র রাখেন নি। 
-------------

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)

- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক-
- কবর (১৯৬৬),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- দন্ডকারণ্য (১৯৬৬)
- পলাশী ব্যারাক  ও অন্যান্য  (১৯৬৯)
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৭),
- রূপার কৌটা (১৯৬৯),
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩২৫.
'ওয়ারিশ' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) ফয়েজ আহমদ
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ 
- যাত্রা 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
- দক্ষিণায়নের দিন
- কুলায় কালস্রোত 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন 
- যেতে চাই 
- ওয়ারিশ 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা 
- উত্তরের খেপ 
- দলিল
- উপরে ছাপ
- হিসাবনিকাশ

তাঁর রচিত গল্প:
- উন্মুল বাসনা 
- লেলিহান সাধ 
- শুন হে লখিন্দর 
- বাবা আপনে যান

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১,৩২৬.
কোনটি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
  2. চোরাবালি
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. সঙ্গীতদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'প্রেম প্রবাহিণী' বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে।

​---------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

​অন্যদিকে, 
​---------------
বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: চোরাবালি, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৭.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. চট্টগ্রাম
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
১,৩২৮.
‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. সুকুমার সেন
  4. আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩২৯.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী কোনটি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. রাশিয়ার চিঠি
  3. ইউরোপের চিঠি
  4. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
ব্যাখ্যা
• ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

অন্যদিকে,
- দেশে বিদেশে- সৈয়দ মুজতবা আলী।
- রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন- মুহম্মদ আবদুল হাই।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩০.
সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন কোনটি?
  1. আবোল তাবোল
  2. হযবরল
  3. পাগলা দাশু
  4. চলচ্চিত্তচঞ্চরী
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন:
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মোট ছড়ার সংখ্যা ৫০টি, যার মধ্যে ৭টি বেনামে লেখা হয়েছে। এবং তিনি এটি বাবু সমাজ কে সমালোচনা করার জন্য লিখেছিলেন।
- এটির দ্বারা তিনি গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন। ছোটদের উদ্দেশ্যে লেখা সুকুমার রায় কবিতাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আবহের প্রচ্ছন্ন রূপ। 

'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছড়া হলো-
- অবাক কাণ্ড
- আবোল তাবোল
- আহ্লাদী
- একুশে আইন
- কাঠবুড়ো
- কাতুকুতু বুড়ো
- কাঁদুনে
- কিম্ভূত
- কৈফিয়ত
- খিচুড়ি
- খুড়োর কল ইত্যাদি। 

----------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন।

১,৩৩১.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) আবুল হাসান
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আহসান হাবীব

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- সারা দুপুর (মতান্তরে তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ)
- ছায়া হরিণ

তার উপন্যাস -
- অরণ্যে নীলিমা
- রানী খালের সাঁকো

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩২.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ?
  1. ইছামতি
  2. মেঘমল্লার
  3. অপরাজিতা
  4. দৃষ্টিপ্রদীপ
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ইছামতি, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

১,৩৩৩.
স্বামী পরিত্যক্ত নারী ‘জয়গুণ’-এর জীবন সংগ্রাম ফুটে উঠেছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. লালসালু 
  2. সূর্য দীঘল বাড়ি
  3. হাজার বছর ধরে
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা

• আবু ইসহাক রচিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ বাংলার দারিদ্র্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, এবং মোড়ল শ্রেণির শোষণের বিরুদ্ধে স্বামী পরিত্যক্ত নারী ‘জয়গুণ’-এর জীবন সংগ্রাম। 

-----------------------
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী':
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি ৰড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'। - জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 

• উপন্যাসটির কাহিনি সংক্ষেপ:
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাস:
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
- 'টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে। উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র। আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ। 
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• 'লালসালু':
- 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ৷ ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি

• 'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে নবুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখপক মনে উদয় হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩৪.
'সূর্যদীঘল বাড়ি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): ঔপন্যাসিক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-
উপন্যাসঃ
- সূর্য দীঘল বাড়ি’(একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এবং এটি তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।),
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’(আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- ‘জাল’(তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।
গল্পগ্রন্থঃ হারেম, মহাপতঙ্গ ইত্যাদি।
ছোটগল্পঃ জোঁক।
তাঁর রচিত একমাত্র নাটক - ‘জয়ধ্বনি’।
তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা ‘স্মৃতিবিচিত্রা’ প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩৫.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত শিশুসাহিত্য কোনটি?
  1. ক) কুঁচবরণ কন্যা
  2. খ) ডানপিঠে শওকত
  3. গ) নওল কিশোরের দরবারে
  4. ঘ) গালিভারের সফরনামা
ব্যাখ্যা
'গালিভারের সফরনামা' আবুল মনসুর আহমদ রচিত শিশুসাহিত্য।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- তাঁর রচিত অপর একটি শিশুসাহিত্য - ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া (১৯৪৯)। 

আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
তিনি  ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের আয়না হাস্যরসাত্মক গল্পের ভূমিকা লিখেছিলেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

'কুঁচবরণ কন্যা' বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুসাহিত্য।
'নওল কিশোরের দরবারে' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুসাহিত্য।
'ডানপিঠে শওকত' আব্দুল গাফফার চৌধুরীরচিত শিশুসাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৬.
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা- বিজন ভট্টাচার্য। 
- পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 

বিজন ভট্টাচার্য
- ১৯০৬ সালে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের পুরোহিত ছিলেন।
- 'নবান্ন' নাটক রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৭.
'জোহরা ও হিরণবালা' - চরিত্রগুলো মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. কবর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা
ইত্যাদি।

---------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।
 
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৮.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ'- প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. আহমদ শরীফ 
  2. আহমদ ছফা 
  3. বিষ্ণু দে
  4. আনিসুজ্জামান 
ব্যাখ্যা

• 'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি ১৯৫২ সালর প্রকাশিত হয়। 

------------------
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
-সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩৯.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প কোনটি?
  1. ডাকহরকরা
  2. বেদেনী
  3. রসকলি
  4. ধাত্রীদেবতা
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪০.
'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' এর লেখক কে?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।

 • তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে:
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪১.
'চাষাভুষার কাব্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্দিন
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিক নির্মলেন্দু গুণের জন্ম ২১ জুন ১৯৪৫ সালে।
- তাঁর ডাকনাম রতন।
- তিনি গত শতাব্দীর ষাটের দশকেই কবিতা রচন আরম্ভ করেন। পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতটা প্রভাববিস্তারী হয়ে উঠে যে,তরুণেরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হন, আজও তাঁর প্রভাব তরুন কবিসমাজকে প্রভাবিত করে , তাই তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়ে থাকে।

- ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই প্রকাশিত হবার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ-গ্রন্থের অন্তর্ভূত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হুলিয়া কবিতাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়াও তার স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো কবিতাটি বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা-
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০)
- না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২)
- কবিতা, অমিমাংসিত রমণী (১৯৭৩)
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪)
- চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫)
- ও বন্ধু আমার (১৯৭৫)
- আনন্দ কুসুম (১৯৭৬)
- বাংলার মাটি বাংলার জল (১৯৭৮)
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র (১৯৭৯)
- চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১)
- অচল পদাবলী (১৯৮২)
- পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২)
- দূর হ দুঃশাসন (১৯৮৩)
- নির্বাচিতা (১৯৮৩)
- শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪)
- ইসক্রা (১৯৮৪)
- প্রথম দিনের সূর্য প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

১,৩৪২.
'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন -
  1. আবুল ফজল
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. আবুল হুসেন
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ‘দৈনিক গণকন্ঠ’ পত্রিকা:
- দৈনিক গণকন্ঠ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকা। ১৯৭২ সালে ১০ই জানুয়ারী ঢাকা থেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা শুরু হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আল মাহমুদ। 
- পত্রিকাটির তৎকালীন সরকার-বিরোধী সাহসী অবস্থান সকলের দৃষ্টি কাড়ে।

---------------------
• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৩.
'গোরক্ষ বিজয়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শুকর মুহম্মদ
  2. ভীমসেন রায়
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• শেখ ফয়জুল্লাহ:
​- তিনি নাথ সাহিত্যের আদি কবি।
- ​তার নাথ ধর্ম বিষয়ক আখ্যানকাব্যের নাম গোরক্ষ বিজয়।
- ​এই কাব্যটি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ আবিষ্কার করেন।

• ​নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া। 

১,৩৪৪.
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালি কবিদের প্রথম সংকলন কোনটি?
  1. ক) নতুন কবিতা
  2. খ) নবজীবন
  3. গ) নয়া সড়ক
  4. ঘ) সওগাত
ব্যাখ্যা
• আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন। 
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে। 

অন্যদিকে, 
- ভারত ভাগের পর স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল 'নয়া সড়ক'।
- অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত পত্রিকা 'নবজীবন' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। 
- ‘সওগাত’ (মাসিক, ১৯১৮) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪৫.
'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকের রচয়িতা সেলিম আল দীন।

সেলিম আল দীন:

- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৪৬.
'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটির মূল প্রেক্ষাপট কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
  2. খ) ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক
  3. গ) দুর্ভিক্ষ বিষয়ক
  4. ঘ) দেশভাগ পরবর্তী মানবিক বিপর্যয় বিষয়ক
ব্যাখ্যা
'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটির মূল প্রেক্ষাপট- 'দেশভাগ পরবর্তী মানবিক বিপর্যয় বিষয়ক'।

'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্প
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
- 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটি “দুই তীর ও অন্যান্য গল্প “ গ্রন্থ থেকে নেয়া । 
- এই গ্রন্থের জন্য সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯৬৫ সালে আদমজী পুরস্কার পান ।
- দেশভাগের সময়ে কলকাতা থেকে উদ্বাস্তুর মত একদল চাকরিজীবী পূর্ব বঙ্গে (বর্তমান : বাংলাদেশ) আসে।
এসে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করে। তারা ভাগ্যবান বলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করা এবং সেখানকার
এক তুলসি গাছের কাহিনী নিয়ে রচিত হয় এই গল্পটি। 
 
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালে চট্টগ্রামের ষোলশহরে।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর দুটি গল্পগ্রন্থ: 
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

তাঁর নাটক
- বহিপীর 
- উজানে মৃত্যু 
 -সুড়ঙ্গ 
- তরঙ্গভঙ্গ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪৭.
আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মহাপতঙ্গ
  2. খ) জাল
  3. গ) হারেম
  4. ঘ) জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থঃ
- 'হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)'।

তাঁর রচিত একমাত্র নাটকঃ
- জয়ধ্বনি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৪৮.
কোনটি মোহিতলাল মজুমদারের প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. স্বপন
  2. বিস্ময়
  3. হেমন্ত গোধূলী
  4. বিচিত্র কথা
ব্যাখ্যা

বিচিত্র কথা মোহিতলাল মজুমদারের প্রবন্ধগ্রন্থ। 

মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক।
- জন্ম: ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর, নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- পৈতৃক নিবাস: হুগলির বলাগড়ে।
- পেশা: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
- সমালোচনামূলক প্রবন্ধে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, যেমন কৃত্তিবাস ওঝা, সর্বসাচী, শ্রী সত্যসুন্দর দাস।
- মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৫২।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৪৯.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ-
  1. ক) সুতীর্থ
  2. খ) কবিতার কথা
  3. গ) মাল্যবান
  4. ঘ) বাসমতীর উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
• তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এছাড়াও তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থঃ
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'কবিতার কথা'।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩৫০.
আহমদ ছফা রচিত ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসে কোন সামরিক শাসকের কথা বলা হয়েছে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা: মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বােবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে। এটি মূলত '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে এই উপন্যাসে।


তার অন্যান্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- মরণ বিলাস (১৯৯০),
- গাভি বিত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৮৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩৫১.
কোনটি মুহম্মদ এনামুল হকের রচনা?
  1. ক) ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. খ) আধুনিক ভাষাতত্ত্ব
  3. গ) মনীষা মঞ্জুষা
  4. ঘ) বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।

ভ্রমণ কাহিনী- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৩৫২.
আহমদ ছফা রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ-
  1. ক) যদ্যপি আমার গুরু
  2. খ) নন্দিত নরকে
  3. গ) হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. ঘ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
'যদ্যপি আমার গুরু' বাংলাদেশের অগ্রণী চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি বিখ্যাত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মূলক রচনাটি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশের আগে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রায় চার মাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। 
- লেখক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

অন্যদিকে,
- নন্দিত নরকে রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ ।
- সংশপ্তক উপন্যাসটি রচনা করেন শহীদুল্লাহ কায়সার ।
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড রচয়িতা সেলিনা হোসেন

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৩.
কাঙাল হরিনাথ কোন বাংলা সাহিত্যিকের সাহিত্যগুরু ছিলেন?
  1. ক) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৪.
'ভ্রমি দেশে দেশে' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'ভ্রমি দেশে দেশে' নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
-----------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:
-  নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প- 
-  অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।
---------------------------------
‘ভ্রমি দেশে দেশে’ ভ্রমণকাহিনি সম্পর্কিত তথ্য:
- নির্মলেন্দু গুণের ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ একটি তথ্যসমৃদ্ধ ভ্রমণকাহিনি, যেখানে তিনি নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে টোকিও, সিডনি ও দিল্লি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন তুলে ধরেছেন। এটি শুধু পর্যটনকেন্দ্রের বর্ণনা নয়, বরং প্রতিটি শহরের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সমাজের গভীর বিশ্লেষণও রয়েছে। বইটিতে লেখকের ব্যক্তিগত ভ্রমণস্মৃতি এবং ভ্রমণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সংকলিত হয়েছে,

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৩৫৫.
’মুসলিম কালচার’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবুল ফজল
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
• ’মুসলিম কালচার’ গ্রন্থটি আবুল হুসেন রচনা করেন।

• আবুল হুসেন:
- তিনি ছিলেন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ।
-  ১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি  যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস যশোরের কাউরিয়া গ্রামে।
- তিনি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
-  রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন। 
- ঢাকায় যে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়' তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র 'শিখা' (১৯২৭-১৯৩১) সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- তিনি ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৬.
'তিতাস একটি নদীর নাম' কোন সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে লেখা উপন্যাস?
  1. ক) ডোম
  2. খ) জেলে
  3. গ) ধীবর
  4. ঘ) উপজাতি
ব্যাখ্যা
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে উপন্যাসটি।
- উপন্যাসের চরিত্র - কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৫৭.
’সংস্কৃতির সংকট’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ - সাহিত্য ও সংস্কৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৫৮.
শিশুতোষ সাহিত্য 'আবোল-তাবোল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সুকুমার রায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল
- হ-য-ব-র-ল, 
- পাগলা দাশু, 
- বহুরূপী, 
- খাইখাই, 
- অবাক জলপান, 
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৯.
ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. স্পেন বিজয়
  2. অনল প্রবাহ
  3. মহাশিক্ষা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ - মহাশিক্ষা, অনল প্রবাহ, স্পেন বিজয়

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬০.
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাত্রিশেষ
  2. খ) পাখির বাসা
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) অরণ্যে নীলিমা
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে৷ এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে৷
Source: LiveMCQ Lecture
১,৩৬১.
‘উত্তরাধিকার’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শহীদ কাদরী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সিরাজুর ইসলাম
ব্যাখ্যা
⇒ উত্তরাধিকার: 
- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'- এ (১৯৬৭)।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

⇒ শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, 
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, 
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬২.
শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উত্তরাধিকার
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. দশমী
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা

• 'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় হীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'- এ (১৯৬৭)।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙ্‌ক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

----------------------------
• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি। ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

অন্যদিকে, 
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),  দশমী (১৯৫৬);
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত গদ্যগ্রন্থ- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থ।

১,৩৬৩.
`শাহজাহান‘ নাটকের রচিয়তা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) শাহাদাত হোসেন
  4. ঘ) ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• মোগল সম্রাট শাহজাহানের জীবনচরিত নিয়ে রচিত প্রথম নাটক ''সাজাহান'' - এর রচয়িতা - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
এই নাটকে বিখ্যাত ''ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা.......।'' গানটি রয়েছে।

তার অন্যান্য নাটক -
- তারাবাঈ
- রানাপ্রতাপসিংহ
- নূরজাহান
- মেবার পতন
- সোহরাব - রুস্তম
- চন্দ্রগুপ্ত
- সিংহল বিজয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৪.
"সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়ঃ
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।"
- উদৃতাংশটুকু কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) সাবাস বাংলাদেশ
  2. খ) হরতাল
  3. গ) দুর্মর
  4. ঘ) আঠারো বছর বয়স
ব্যাখ্যা
দুর্মর (পূর্বাভাস)
সুকান্ত ভট্টাচার্য

হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ
কেঁপে কেঁপে উঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে,
সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
জলে ও মাটিতে ভাঙ্গনের বেগ আসে।

হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন,
জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান,
গত আকালের মৃত্যুকে মুছে
আবার এসেছে বাংলাদেশের প্রাণ

“হয় ধান নয় প্রাণ” এ শব্দে
সারা দেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ
মৃত্যুর ভয় তারা।
সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়:
জ্বলে পুড়ে-মার ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।

এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥
১,৩৬৫.
বাংলাদেশের সাহিত্য-শিল্পকলার, সমাজ-রাষ্ট্রের বিশজন স্বনামখ্যাত মানুষ সম্পর্কে স্মৃতিচারণামূলক রচনার সংকলন 'স্মৃতির মানুষ' এর রচয়িতা-
  1. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  2. আনিসুজ্জামান
  3. ইবরাহীম খাঁ
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• স্মৃতির মানুষ:
- স্মৃতির মানুষ বাংলাদেশের সাহিত্য-শিল্পকলার, সমাজ-রাষ্ট্রের বিশজন স্বনামখ্যাত মানুষ সম্পর্কে স্মৃতিচারণামূলক রচনার সংকলন। 
- রচয়িতা: আনিসুজ্জামান। 

যাঁদের স্মৃতি চারণ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মহিউদ্দীন আহমদ, মুনীর চৌধুরী, শামসুর রাহমান, আলতাফ মাহমুদ, মণি সিংহ, কামাল হোসেন, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, নিতুন কুণ্ডু, হুমায়ূন আহমেদ, নূরুল কাদের খান, খান সারওয়ার মুরশিদ, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, সরদার ফজলুল করিম, কাইয়ুম চৌধুরী, তপন রায়চৌধুরী, জাহাঙ্গীর তারেক ও কামালউদ্দীন খান।

-------------------
আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। - এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
১,৩৬৬.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ছিলেন আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায়। তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর পূর্বে বাংলা গীতিকবিতার ধারা প্রচলিত থাকলেও এর যথার্থ রূপায়ণ ঘটে তাঁর হাতেই। তিনি বাংলা কাব্যের প্রচলিত ধারার রদবদল ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার প্রবর্তন করেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর রচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কবিদের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব রীতিই ফুটে উঠেছে।

- নিসর্গসন্দর্শন কাব্যে বিহারীলাল বঙ্গপ্রকৃতির শোভা অপূর্ব ভাব-ভাষা ও ছন্দ-অলঙ্কার প্রয়োগের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

- বঙ্গসুন্দরী কাব্যে কয়েকটি নারী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি গৃহচারিণী বঙ্গনারীকে সুন্দরের প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছেন।

- সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে-
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি,
- সাধের আসন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৭.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন
  2. ১৯৪০-এর দশকের রাজনৈতিকভাবে অস্থির পাকিস্তান
  3. ব্রিটিশ ভারতের শহুরে জীবন
  4. ১৯২০-এর দশকের রাজনৈতিকভাবে অস্থির আফগানিস্তান 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ছিল- ১৯২০-এর দশকের রাজনৈতিকভাবে অস্থির আফগানিস্তানের চিত্র।
---------------------------
• ‘শবনম’:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’ উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে কাজ করছে- ১৯২০-এর দশকে যখন আফগানিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবর্তন ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলো। 
- গল্পে একজন বাঙালি শিক্ষক মজনুন আফগানিস্তানে শিক্ষকতা করতে যান।
- সেখানে তার পরিচয় হয় আফগান রাজ পরিবারের বুদ্ধিমতী তরুণী শবনম-এর সঙ্গে।
- উপন্যাসে মজনুন এবং শবনমের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বাধা পেরিয়ে গড়ে ওঠে।
- তবে এই প্রেম অসমাপ্ত থেকে যায়।
- গল্পের পটভূমি মূলত সামনে এগিয়ে গিয়েছিলো: 
• আফগান সমাজের পরিবর্তন;
- এবং রাজা আমানুল্লাহ খানের ক্ষমতাচ্যুতির মতো ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- উপন্যাসটি প্রেম, বিচ্ছেদ এবং সেই সময়কার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির এক করুণ আখ্যান হিসেবে আবর্তিত হয়েছে।
--------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৩৬৮.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে? 
  1. আহমদ শরীফ
  2. জামিল চৌধুরী
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ: 
- আহমদ শরীফ একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক হচ্ছেন আহমদ শরীফ। 

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বিশ শতকের বাঙালি, 
- বিচিত্র চিন্তা, 
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা, 
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধানের সম্পাদক হলেন জামিল চৌধুরী। 
- বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষের সম্পাদক সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম। 
- বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের সম্পাদক হলে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬৯.
'এখনও ক্রীতদাস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনিস চৌধুরী
  2. খ) সেলিম আদ দীন
  3. গ) আসকার ইবনে শাইখ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'এখনও ক্রীতদাস': 
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে
প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 
----------------------
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭০.
‘জোহরা বেগম’ কায়কোবাদ রচিত কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. শ্মশান ভস্ম
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাশ্মশান
  4. মহররম শরীফ
ব্যাখ্যা
⇒ 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ(১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

============
⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭১.
সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম প্রকাশিত গল্প -
  1. ক) উদয়াস্ত
  2. খ) রক্ত গোলাপ
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) শীত বিকেল
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম প্রকাশিত গল্প - উদয়াস্ত। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য ছোটগল্প- তাস, শীত বিকেল, আনন্দের মৃত্যু, রক্ত গোলাপ ইত্যাদি। তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'দেয়ালের দেশ'। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৩৭২.
বাংলা ভাষায় প্রথম ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন-
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• "পালামৌ" ভ্রমণকাহিনি:
'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভ্রমণকাহিনি। এ রচনায় লেখক বিহারের (বর্তমান ঝাড়খণ্ডের) পালামৌ অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি স্থান-কাল-পাত্রভেদে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির তারতম্য, দেশভ্রমণের আনন্দ, অভিজ্ঞতা এবং পালামৌ-এর আদিবাসী কোলদের জীবনাচরণ, খাদ্য ও আনন্দ-বিনোদন প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।

লেখক যৌবনে পালামৌ প্রদেশে গিয়েছিলেন। পালামৌ পাহাড়-অরণ্যে ঘেরা সুন্দর জায়গা। সমতলবাসী বাঙালি জনগোষ্ঠীর কাছে সে পরিবেশ খুব একটা পরিচিত নয়। পথে যেতে যেতে যে পাহাড়কে খুব কাছে মনে হয়, সে পাহাড় আসলে অনেক দূরে অবস্থিত -এ অভিজ্ঞতাও লেখকের জন্য নতুন। যে বাঙালির বাড়িতে তিনি সেখানে অতিথি হয়েছিলেন, সে গৃহকর্তার প্রসন্ন মুখ আর তার পরিবার-ব্যবস্থাপনা লেখককে মুগ্ধ করেছিল।

সঞ্জীবচন্দ্রের মৃত্যুর পর (১৮৮৯) বঙ্কিমচন্দ্র 'সঞ্জীবনী সুধা' নাম দিয়ে সঞ্জীবচন্দ্রের রচনাবলি প্রকাশ করেন। সেখানেই 'পালামৌ' প্রথম গ্রন্থস্থ হয়। এর বহু পরে ১৩৫১ বঙ্গাব্দে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ প্রথম স্বতন্ত্র পুস্তাকারে 'পালামৌ' প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
-----------------
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি:
-পথে প্রবাসে (১৯৩১) ও
- ইউরোপের চিঠি (১৯৪২)।

- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৩.
'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।- উক্তিটি মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. কবর
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।-  রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।

⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৪.
'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন - গোলাম মোস্তফা।

গোলাম মোস্তফা:

- তিনি একজন কবি ও লেখক ছিলেন।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৫.
'অ - তে অজগর' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত একটি-
  1. ক) কবিতা
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- কবিতা জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ,
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা,
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ,
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা,
- মাছ সিরিজ,
- সকল প্রশংসা তাঁর, 
- নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা ইত্যাদি।

স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৬.
গবেষণামূলক প্রবন্ধ 'বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা' রচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  2. সৈয়দ মুর্তাজা আলী
  3. আবদুল কাদির
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখে বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদানের মূল্যায়ন করেছেন।
- এই প্রসঙ্গে 'বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা' তিন খণ্ড গ্রন্থে মুসলমান লেখকদের সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন: 
- তিনি শিক্ষাবিদ, লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯২৮ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন।

মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন রচিত গ্রন্থ:ত
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা,
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৭.
কোন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন?
  1. সব কিছু ভেঙে পড়ে
  2. একটি খুনের স্বপ্ন
  3. ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল
  4. নারী
ব্যাখ্যা

'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধেদিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন
- বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- একটি খুনের স্বপ্ন। 

হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- নারী,
- বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র,
- বাক্যতত্ত্ব,
- লাল নীল দীপাবলি,
- কতো নদী সরোবর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস।

১,৩৭৮.
নিচের কোন গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত করে লেখকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল?
  1. ঘরে বাইরে
  2. অনল প্রবাহ
  3. অগ্নিবীণা 
  4. গোরা
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস: রায়নন্দিনী, তারাবাঈ, ফিরোজা বেগম।
• প্রবন্ধ: স্বজাতি প্রেম, তুর্কি নারী জীবন, স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।
• কাব্যগ্রন্থ: অনল প্রবাহ, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।
• ভ্রমণকাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'ঘরে বাইরে' উপন্যাস:
- ঘরে বাইরে (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৫ সালে সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসের একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বদেশিকতার সমালোচনা ও অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা নিয়ন্ত্রিত নারী পুরুষের সম্পর্ক।
- তবে উপন্যাসটি কখনো বাজেয়াপ্ত হয়নি। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি কখনো বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।

• 'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।
- উপন্যাসটি কখনো বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭৯.
'সুড়ঙ্গ' - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি -
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

• তাঁর রচনা সমূহ:
উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের আমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১,৩৮০.
"পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. আবুল হোসেন
  3. আবুল হাসান
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রেমের কবিতা, 
- অপর অরণ্যে, 
- করো অশ্রুপাত,
- প্রেম ও বিরহের কবিতা,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৮১.
'যদু মুখুজ্জে' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'যদু মুখুজ্জে' চরিত্রের স্রষ্টা- 'বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়'। 

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
------------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ও 'অনুবর্তন' উপন্যাস:

- প্রকৃতি ও মানব জীবন সত্তার ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত 'অনুবর্তন' উপন্যাসে ব্যক্তি অভিজ্ঞতার রূপায়ন ঘটেছে।
- এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হচ্ছে - যদু মুখুজ্জে
- এখানে গ্রামীণ মানুষের দলাদলি ও স্বার্থপ্রিয়তা উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গুলো হচ্ছে - ক্ষেত্র বাবু, নারান বাবু, ছাত্র চুনি।
- বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত আরও কিছু বিখ্যাত উপন্যাসের মাঝে রয়েছে - পথের পাঁচালী, দেবযান, আরণ্যক, অপরাজিত ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অনুবর্তন' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮২.
'দশমহাবিদ্যা' কার রচিত কাব্য?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মহাকবি। তাঁর রচিত কাব্য- চিন্তা তরঙ্গিনী, ছায়াময়ী, আশাকানন, বীরবাহু, চিত্তবিকাশ, দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৩.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয় কোনটি?
  1. ক) ঠানদিদির থলে
  2. খ) ঠাকুরমার থলে
  3. গ) ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ঘ) ঠাকুরদাদার ঝুলি
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
• তাঁর শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা।

• তাঁর সংগৃহীত রূপকথার সংকলনটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা:
১. ঠাকুরমার ঝুলি,
২. ঠাকুরদাদার ঝুলি,
৩. ঠানদিদির থলে ও
৪. দাদামাশয়ের থলে।

• রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্য আছে, কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
- এই গল্পগুলি বলার গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ  রেখে দক্ষিণারঞ্জন বইটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করে চির স্মরণীয় হয়েছেন। 
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' এর পরবর্তী খণ্ড 'ঠাকুরদাদার ঝুলি'(১৯০৯)। 
- ময়মনসিংহে অবস্থানকালে লোকসাহিত্যের প্রতি দক্ষিণারঞ্জনের অনুরাগ জন্মে। তিনি নানা ধরনের  রূপকথা, ব্রতকথা, গীতিকথা, রসকথা ইত্যাদি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। এ কাজে  দীনেশচন্দ্র সেন তাঁকে অনুপ্রেরণা দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৪.
সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. ক) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. খ) একেই কি বলে সভ্যতা?
  3. গ) জামাই বরিক
  4. ঘ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে রচিত দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন 'বিয়ে পাগলা বুড়ো'।
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬) নাটকটি ১৮৭২ সালে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- এ প্রহসনে বিবাহবাতিকগ্রস্ত এক বৃদ্ধের নকল বিয়ের আয়োজন করে স্কুলের অপরিপক্ব ছেলেরা কিভাবে তাকে নাস্তানাবুদ করে, সে কাহিনিই এ প্রহসনের বিষয়।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত অন্যান্য প্রহসনগুলি হচ্ছে:
- সধবার একাদশী
- জামাই বরিক

• ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন হচ্ছে= একেই কি বলে সভ্যতা?
১,৩৮৫.
কোনটি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস?
  1. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. মৃগনাভি
  3. কর্ণফুলী
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা

তেইশ নম্বর তৈলচিত্র আলাউদ্দিন আল আজাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস ।
- মৃগনাভি একটি গল্প গ্রন্থ ।
- কর্ণফুলী উপজাতিদের নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস ।
- নরকে লাল গোলাপ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নাটক ।

আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৩২ সালে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার অন্তর্গত রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন ।
- শহীদ মিনার সম্পর্কে লেখা বিখ্যাত কবিতা স্মৃতিস্তম্ভ ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

১,৩৮৬.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. চিত্রদর্শন
  3. আর্যদর্শন
  4. পরিদর্শক
ব্যাখ্যা
⇒ সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘আর্যদর্শন’ পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, “সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।”  
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস : সারদামঙ্গলকাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৭.
‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ কার সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ-কে। চাষাভুষার কাব্য, না প্রেমিক না বিপ্লবী, কবিতা অমীমাংসিত রমণী, বাংলার মাটি বাংলার জল, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, দূর হ দুঃশাসন, শিয়রে বাংলাদেশ, মুঠোফোনের কাব্য, নিশিকাব্য ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা
১,৩৮৮.
কোনটি শামসুর রাহমানের রচনা?
  1. ক) নির্জন স্বাক্ষর
  2. খ) নির্বাণ
  3. গ) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  4. ঘ) কালের ধুলোয় লেখা
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতিমূলক গ্রন্থ - কালের ধুলোয় লেখা।
তাঁর আরও একটি  আত্মস্মৃতিমূলক গ্রন্থ - স্মৃতির শহর

• শামসুর রাহমান 
- ১৯২৯ সালের  ২৪শে অক্টোবর মাতুতালয় ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।

• তাঁর রচিত  উপন্যাস -
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়

• তাঁর রচিত  কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নীলিমা
- বন্দী শিবির থেকে
- অন্ধকার থেকে আলোয়
- হরিণের হাড়
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৯.
কোনটি আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস?
  1. কমলাকান্তের দপ্তর
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন
  4. গো জীবন 
ব্যাখ্যা

• 'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' উপন্যাস:
- 'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' (১৯৮৮) আহমদ ছফা রচিত একটি উপন্যাস।
- আহমদ ছফা বাংলাদেশের মাজার সংস্কৃতির পরিপ্রেক্ষিতে আলী কেনান নামের মূল চরিত্রের সামগ্রিক উত্থান ও পতন এই উপন্যাসে উপস্থাপন করেছেন। পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান থেকে শুরু করে শেখ মুজিবের শাসনামল পর্যন্ত ঘটনা দিয়ে বিস্তৃত করেছেন উপন্যাসটি।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
ঘটনার ব্যাপ্তি ছিল ১৯৬৯-৭৫ সাল পর্যন্ত। আলী কেনানের মতো একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে ক্ষমতাবানের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তা উপন্যাসের একটি অংশে দেখানো হয়েছে। আর মূল অংশে দেখতে পাই, গ্রামের এক দখলদার কীভাবে শহরে এসে জয় বাংলার দরবেশ হয়ে যায়।
ধুরন্ধর এই আলী কেনানকে একদিন ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল গভর্নর সাহেব, যে একদিন তাকে বুকেও টেনে নিয়েছিল। এই কারণে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হয় তাকে। চতুর আলী কেনান আস্তে আস্তে ভান ধরে একজন বুজুর্গের। লালসালুর মতো খুলে বসে মাজার ব্যবসা। আলী কেনানের প্রভাব-প্রতিপত্তি এতটাই বেড়ে যায় যে, ব্রিটিশ টেলিভিশনের কোনো এক চ্যানেল তাকে নিয়ে তথ্যচিত্রও তৈরি করে। আলী কেনান আবারো ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে।

----------------
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত প্রবন্ধ- 'কমলাকান্তের দপ্তর'। 

• "উদাসীন পথিকের মনের কথা" মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, যা মূলত তাঁর স্মৃতিনির্ভর বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত এবং এটিকে আত্মজীবনীমূলক রচনা হিসাবে গণ্য করা হয়। 

• 'গো-জীবন' লিখেছেন মীর মশাররফ হোসেন। এটি একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা, যেখানে লেখক কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে গো-হত্যা অনুচিত বলে যুক্তি তুলে ধরেছেন।  
 
উৎস:  'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৯০.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কবিতা
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত- 'কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা'। 
 
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি। 

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।
----------------------------
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯১.
কার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকে ১৯২৬ সালে ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়
- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। এরাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৩৯২.
শিশুতোষ সাহিত্য 'হ-য-ব-র-ল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ সাহিত্য 'হ-য-ব-র-ল' গ্রন্থের রচয়িতা - সুকুমার রায়। 

সুকুমার রায়:

- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল;
- হ-য-ব-র-ল;
- পাগলা দাশু;
- শব্দকল্পদ্রুম;
- বহুরূপী;
- খাই খাই;
- অবাক জলপান;
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৩.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. কালো বরফ
  3. কালো মেলা
  4. কালো হাওয়া
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস - কালো মেলা
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ২১ জুন, ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণকে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - একটি কালো মেয়ের কথা।
• মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস - কালো বরফ।
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস - কালো হাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯৪.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. শাশ্বতবঙ্গ
  2. আরণ্যক
  3. নদীবক্ষে
  4. আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
• 'নদীবক্ষে' উপন্যাস:
- কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র। 
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ। 
--------------------------- 
কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন। 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন ‘শাশ্বতবঙ্গ’।
- এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়।
- 'শাশ্বতবঙ্গ’ এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

অন্যদিকে,
• শাশ্বতবঙ্গ - কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধ।
• আরণ্যক - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• 'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা হচ্ছে মোহাম্মদ নজিবর রহমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৫.
'পূরবী' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ পূরবী, মাটি আর অশ্রু, জয়ের পথে, নবী কাহিনী, নতুন সকাল ইত্যাদি‌।
- সিরাজউদ্দৌলা, শকুন্ত উপাখ্যান, মহাকবি আলাওল, মাকড়সা তাঁর রচিত নাটক।
- প্রসন্ন প্রহর, বৈরীবৃষ্টিতে, তিমিরান্তক, বৃশ্চিকলগ্ন, কবিতা ইত্যাদি তাঁর রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

উল্লেখ্য, 'পূরবী" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
১,৩৯৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা- 'আনোয়ার পাশা' 

• রাইফেল রােটি আওরাত
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৩৯৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কাকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' বলে আখ্যায়িত করেন?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' দীর্ঘ ভূমিকাসহ প্রকাশ করেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'গুরু' বলেও আখ্যায়িত করে। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন;
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত;
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ;
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ;
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৮.
‘সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. আবদুল কাদির
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ‘সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’:
- অভিধান প্রণেতা হিসেবেও আবু ইসহাকের একটি বিশিষ্ট পরিচয় আছে। তিনি ‘সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’ (২ খণ্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- তাঁর প্রণীত অভিধানের বিশেষত্ব হলো শব্দের শুধু অর্থ নয়, সব ধরনের প্রতিশব্দ বা সমর্থক প্রদান।
- তাঁর অভিধানে ‘অন্ধকার’ শব্দের ১২৭টি সমর্থক শব্দ আছে।

------------------------
• আবু ইসহাক:

- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৯.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় - এর রচিত শেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. আরণ্যক
  2. পথের পাঁচালী
  3. ইছামতি
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
- ইছামতি, ১৯৫০ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখকের শেষ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
- ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪০০.
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সাঈদ আহমদ
  2. সমর সেন
  3. সানাউল হক
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস:
- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত।
- একই সঙ্গে তিনি মার্কসবাদ থেকে ঝুঁকলেন অধ্যাত্মবাদের দিকে।
- প্রতি বছর প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে যে কুম্ভমেলা হয় এবং সেখানে ভারতবর্ষের সকল স্তরের মানুষের যে সমাবেশ ঘটে, সেই মিলনমেলাই উপন্যাসটির বিষয়বস্তু।
- আর তাতে অভিব্যক্ত হয়েছে মানুষের বিশ্বাসের সংকট থেকে উত্তরণের আকুতি।

সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।