বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ১৩ / ৭৭ · ১,২০১১,৩০০ / ৭,৬৪৬

১,২০১.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে প্রকাশ করেন। অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,২০২.
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) তত্ববোধিনী
  2. খ) সাধনা
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) ভারতী
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীটি প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়- বঙ্গদর্শন। 

'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনী
 সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পালামৌ’ বাংলা সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ্য ভ্রমণকাহিনি।
- এটি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তি: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। 

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পালামৌ' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- বঙ্গিমচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। 
-  এছাড়া তিনি 'ভ্রমর' নামের একটি মাসিক পত্রিকা (১২৮১-১২৮২) বঙ্গাব্দ সম্পাদনা করেন। 
- সঞ্জীবচন্দ্র Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities গ্রন্থে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে
বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক ধারাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। 

তাঁর রচিত গল্প: 
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট,

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- যাত্রা,

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৩.
'আমার প্রতিদিনের শব্দ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. আবু ইসহাক 
ব্যাখ্যা

• 'আমার প্রতিদিনের শব্দ' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২০৪.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ কোন ধরনের কবি হিসেবে খ্যাত?
  1. প্রতিবাদী কবি
  2. রোমান্টিক কবি
  3. প্রাকৃতিক কবি
  4. ধর্মীয় কবি
ব্যাখ্যা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ 
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রামে।
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত।
- প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- মানুষের মানচিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,২০৫.
”সোনালী কাবিন”- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. আল মাহমুদ
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'।
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৬.
‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি আশরাফ সিদ্দিকীর কোন সাহিত্যকর্ম অবলম্বনে নির্মিত?
  1. ক) গুনীন
  2. খ) বিষকন্যা
  3. গ) আরশিনগর
  4. ঘ) গলির ধারের ছেলেটি
ব্যাখ্যা
আশরাফ সিদ্দিকী (১৯২৭-২০২০): বাঙালি সাহিত্যিক যিনি একাধারে প্রবন্ধকার, ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্যিক, এবং শিশু সাহিত্যিক।
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম- কাব্যগ্রন্থ: তালেব মাষ্টার ও অন্যান্য কবিতা (১৯৫০), সাত ভাই চম্পা (১৯৫৩), বিষকন্যা (১৯৫৫), উত্তরের তারা, বৃক্ষ দাও, ছায়া দাও (১৯৮৪), দাঁড়াও পথিক বর (১৯৯০), সহস্র মুখের ভিড়ে (১৯৯৭) প্রভৃতি।
গল্পগ্রন্থ: রাবেয়া আপা (১৯৬৫), গলির ধারের ছেলেটি (১৯৮১), শেষ নালিশ (১৯৯২) প্রভৃতি।
লোকসাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ: লোকসাহিত্য (১৯৬৪), কিংবদন্তীর বাংলা (১৯৭৫), শুভ নববর্ষ (১৯৭৭), লোকায়ত বাংলা (১৯৭৮), আবহমান বাংলা (১৯৮৭) প্রভৃতি।
উপন্যাস: শেষ কথা কে বলবে (১৯৮০), আরশিনগর (১৯৮৮), গুনীন (১৯৮৯)।
‘গলির ধারের ছেলেটি’ গল্পের অবলম্বনে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত ‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা]
১,২০৭.
'নয়ন ঢুলি' ছোটগল্পের রচয়িতা হলেন-
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
ব্যাখ্যা
সরদার জয়েনউদ্দীন কথাসাহিত্যিক।
পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত
- অনেক সূর্যের আশা
- বেগম শেফালী মীর্জা
- রোদের ঢেউ 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ন ঢুলি 
- খরস্রোত 
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম
- অষ্ঠপ্রহর 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,২০৮.
'সারা দুপুর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
অরণ্য নীলিমা, জাফরানী রং পায়রা ও রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৯.
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী মানুষের অসহায় জীবনের চিত্র পাওয়া যায় কোন নাটকে?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) মেরাজ ফকিরের মা
  3. গ) এখনো ক্রীতদাস
  4. ঘ) সুবচন নির্বাসনে
ব্যাখ্যা
• আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১০.
কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশু সাহিত্যের নাম কী?
  1. ক) ফণি-মনসা
  2. খ) কবিতা-মুকুল
  3. গ) পাখির বাসা
  4. ঘ) ইতল বিতল
ব্যাখ্যা

'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' - এই বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল।'

- 'ফণি-মনসা' কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
- 'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- 'ইতল বিতল' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 

১,২১১.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাসিকা কোনটি?
  1. 'নয়নচারা'
  2. 'তরঙ্গভঙ্গ'
  3. 'সুড়ঙ্গ’
  4. 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়'
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক - 'সুড়ঙ্গ’; তরঙ্গভঙ্গ।
- 'নয়নচারা' - তাঁর গল্পগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়':
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) একটি উপন্যাস যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লিখেছেন।

- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১২.
'লালসালু' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯৪১ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিল, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কা, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১,২১৩.
'অরণ্য নীলিমা' আহসান হাবীব রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
অরণ্য নীলিমা ও রানী খালের সাঁকো আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,২১৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনী সাহিত্য কোনটি?
  1. চৈতন্য-ভাগবত
  2. চৈতন্য-চরিতামৃত
  3. চৈতন্য-মঙ্গল
  4. চৈতন্য-সম্ভার
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করটিন
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান। 
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২১৫.
'প্রাচ্য ও প্রতীচ্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আশরাফ সিদ্দিকী
  2. আহমদ শরীফ
  3. আহমদ ছফা
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• 'প্রাচ্য ও প্রতীচ্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা - এস ওয়াজেদ আলি।

এস ওয়াজেদ আলি:  
- প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনি রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯১৯ সালে 'Bulletin of the Indian Rationalistic Society' নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'গুলদাস্তা' (১৯২৭)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনি রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালি (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২১৬.
'অপু', 'অপর্ণা' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) অশনি সংকেত
  2. খ) পথের পাঁচালী
  3. গ) আরণ্যক
  4. ঘ) অপরাজিত
ব্যাখ্যা
 'অপরাজিত' (১৯৩১) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' এর পরিপূরক কথাশিল্প।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় মাসিক 'প্রবাসি' তে।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোর সারথি'।
চরিত্র: অপু, অপর্ণা, লীলা, কাজল প্রমুখ। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)
- অশনি সংকেত (১৯৫৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১৭.
'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা কে?  
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. শওকত ওসমান
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

• ‘আমলার মামলা’ — শওকত ওসমান রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক এবং নাট্যকার।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে সমাজের নানা অসঙ্গতি এবং জীবনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২১৮.
ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. জোশুয়া মার্শম্যান
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা।

হেনরি লুই ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। 
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’
- হেনরি ডিরোজিওর অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী
- হেনরি ডিরোজিও ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,২১৯.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সিরাজ-উদ-দৌলা
  2. তিমিরান্তিক
  3. নবী কাহিনী
  4. প্রসন্ন শহর
ব্যাখ্যা

সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস হচ্ছে নবী কাহিনী। 

সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফরের পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখত সিকান্দার। 
- জন্ম: ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ, সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে। 
- মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০)
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। 
- ৫ই আগস্ট, ১৯৭৫ সালে তিত্নি মৃত্যু বরণ করেন। 

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন। 

নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাউল,
- শকুন্ত উপাখ্যান। 

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী, 
- পূরবী। 

অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১,২২০.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বনি আদম(নাটক)
  2. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা(নাটক)
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে(কবিতা)
  4. আমলার মামলা(উপন্যাস)
ব্যাখ্যা

• পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা(নাটক) এই অপশনটি সঠিক।

• শওকত ওসমান:
 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২১.
নিচের কোন সাহিত্যিক আততায়ীর হাতে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের স্থপতি হিসাবে বিবেচনা করা হয় - সোমেন চন্দকে।
- ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' -এর প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দ।
- তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর। হুমায়ুন আহমেদ জানিয়েছিলেন - এই ছোট গল্পটি পড়েই তার কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরনা পেয়েছিলেন।
- তার রচিত অন্যান্য ছোটগল্প - দাঙ্গা, সংকেত, বনস্পতি, স্বপ্ন ইত্যাদি।
- ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।

উৎস: সাহিত্য ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২২২.
'শব্দকল্পদ্রুম' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকুমার সেন
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'শব্দকল্পদ্রুম' এর রচয়িতা সুকুমার রায়।

• সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল (১৯২৩),
- হ-য-ব-র-ল (১৯২৪),
- পাগলা দাশু (১৯৪০),
- বহুরূপী (১৯৪৪),
- খাইখাই (১৯৫০),
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২২৩.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. মোহাম্মদ নজীবর রহমান
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

কাজী ইমদাদুল হক:
 - ১৮৮২ সালে  খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
-  আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল,
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী,
- নবীকাহিনী, 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২২৪.
কোন নাট্যকার বাংলা নাটকে ‘অ্যাবসার্ডধারা’র প্রবর্তন করেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. নূরুল মোমেন
  3. সাঈদ আহমদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
​- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন। 
​• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।

​তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
১,২২৫.
‘বাদশা হারুন’ শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাজা উপাখ্যান
  2. বনি আদম
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. রাজসাক্ষী
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------------
• শওকত ওসমান:  
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২২৬.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. ড. এনামুল হক
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২২৭.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শামসুর রাহমান
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
'বেণের মেয়ে' উপন্যাস:
- 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৮.
আবুল মনসুর আহমেদ-এর 'আয়না' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

আবুল মনসুর আহমেদ: সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।
উপন্যাসঃ
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবনক্ষুধা (১৯৫৫),
- আবে হায়াত (১৯৬৮)।
গল্পগ্রন্থ :
- আয়না (১৯৩৫),
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪),
- আসমানী পর্দা (১৯৬৪)।
রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ :
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।
স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮)।
শিশুসাহিত্য:
- ছােটদের কসাসুল আম্বিয়া (১৯৪৯),
- গালিভারের সফরনামা (১৯৫৯)।

কাজী নজরুল ইসলাম তার 'আয়না' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,২২৯.
প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত কে?
  1. ক) শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

• তাঁর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন। সমকালের সমাজ ও রাজনীতির অস্থিরতায় সৃষ্ট হতাশা, সঙ্কীর্ণতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর কবিতায় লক্ষণীয়। তিনি প্রধানত কবি হলেও কাব্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান উৎসাহী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- ছোবল
- গল্প
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
- মৌলিক মুখোশ
- একগ্লাস অন্ধকার

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,২৩০.
'উত্তর বসন্ত' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির বাঙালি কবি, সাহিত্য-সমালোচক ও ছান্দসিক হিসেবে খ্যাত। তার কাব্যপ্রয়াসে মোহিতলাল মজুমদারের ধ্রুপদী সংগঠন এবং নজরুলের উদাত্ত আবেগের চমৎকার সমন্বয় প্রত্যক্ষ হয়। মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬)-এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সূচিত হয়, কবি আবদুল কাদির তার নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন সাহিত্য সমাজের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক। প্রকাশিত কাব্য দিলরুবা (১৯৩৩) ও উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ছন্দ সমীক্ষণ (১৯৭৯)। যাতে তিনি বাংলা ছন্দ সম্পর্কে মৌলিক বক্তব্য রেখেছেন।
১,২৩১.
পাকিস্তানী শাসকদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. জলাঙ্গী
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- তাঁর ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। 
-  এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের জন্য তাকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয়।
------------
 শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮):
কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়। তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। বিদেশি ভাষার অনেক উপন্যাস, ছোটগল্প ও নাটক তিনি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থ সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- জননী (১৯৫৮) (প্রথম উপন্যাস)
- ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২)
- সমাগম (১৯৬৭)
- চৌরসন্ধি (১৯৬৮)
- রাজা উপাখ্যান (১৯৭১)
- জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭১)
- দুই সৈনিক (১৯৭৩)
- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩)
- পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩)
- আর্তনাদ (১৯৮৫)
- রাজপুরুষ (১৯৯২)
- জলাঙ্গী (১৯৭৬)
- তোলপাড়

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- জাহান্নম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী

তাঁর রচিত নাটক
- আমলার মামলা (১৯৪৯)
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা (১৯৯০)
- তস্কর ও লস্কর
- কাঁকর মনি
- বাগদাদের কবি(১৩৫৯)

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ
- ওটেন সাহেবের বাংলো (১৯৪৪)
- মস্কুইটো ফোন (১৯৫৭)
- ক্ষুদে সোশালিস্ট (১৯৭৩)
- পঞ্চসঙ্গী (১৯৮৭)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।

অন্যদিকে,
চিলেকোঠার সেপাই - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি উপন্যাস। এটি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত।
জলাঙ্গী জাহান্নম হইতে বিদায় - শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
১,২৩২.
আবুল ফজল রচিত 'রেখাচিত্র' গ্রন্থটি কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. দিনিলিপি
  4. রম্যরচনা
ব্যাখ্যা
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি - দিনলিপি।  
- ‘রেখাচিত্র’ দিনলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

আবুল ফজল:

- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

তাঁর রচিত আত্মকাহিনি ও দিনলিপি:
- রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৩.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) জলাঙ্গী
  2. খ) চৌরসন্ধি
  3. গ) জননী
  4. ঘ) তস্কর নস্কর
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
 -ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাঙ্গী, 
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম, 
- জননী, 
- চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, 
- আমলার মামলা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
 -ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, 
- পিঁজরাপোল, 
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৪.
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অতুল্প্রাসাদ সেন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'। 

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।
মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি,
চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশ ঝাড় যেন,
মিলে মিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।
সকালে সোনার রবি পুব দিকে উঠে,
পাখি ডাকে, বায়ু বয়, নানা ফুল ফুটে।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া।
১,২৩৫.
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস-
  1. ক) সৌরভের কাছে পরাজিত
  2. খ) ময়ূরীর মুখ
  3. গ) কাবিলের বোন
  4. ঘ) সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
 
১,২৩৬.
কোনটি বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নীলদর্পণ
  3. শেষ নবাব
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
⇒ নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৭.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন -
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
-‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা,

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১,২৩৮.
বেগম রোকেয়ার নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ অবরোধবাসিনীতে কয়টি ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন?
  1. ক) ৪১ টি
  2. খ) ৪৩ টি
  3. গ) ৪৫ টি
  4. ঘ) ৪৭ টি
ব্যাখ্যা
মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। অবরোধবাসিনী বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থে তিনি ৪৭টি অমানবিক ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের নাম- পদ্মরাগ (উপন্যাস), মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৯.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. কীর্তন খোলা
  2. অমৃত উপাখ্যান
  3. যৈবতী কন্যার মন
  4. হাতহদাই
ব্যাখ্যা

• ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস: 
- সেলিম আল দীন তাঁর ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসে ব্যক্তিগত জীবনের এক ঘটনাচিত্র উপস্থাপন করেছেন।

- তিনি বলেন, ‘কখনও আত্মজীবনীতে আমার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের লুপ্ত অংশগুলো যদি প্রকাশিত হয় তবে এ গল্পের উৎসাভাস পাঠকরা পাবেন নিশ্চয়ই’। আবার লেখক এই উপন্যাসকে ‘উপাখ্যানের লক্ষণযুক্ত’ বলে মনে করেছেন। এজন্যই তিনি তাঁর এই উপন্যাসের শুরুতেই বলেছেন, ‘উপাখ্যান হচ্ছে বিকেলের আলোয় মর্ত-পৃথিবীর উল্টা ছায়া। আঁধারের পাঁচ আঙ্গুল’। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ‘উপাখ্যান হলো-বলতে বলতে মধ্যরাতে-কালীগঙ্গার ঢালুতীর-নেশাকর ধোঁয়া বাস্তবে মিশে গুপীযন্ত্রের সাথে হাত ধরাধরি করে নাচে’।

- মনজুরুল হাসান হাসু এবং এলিজার প্রেম কাহিনি ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হাসান একজন টেলিভিশন প্রডিউসার বা প্রযোজক। নবীন প্রযোজক হিসেবে বিতর্ক অনুষ্ঠান, আলোচনা অনুষ্ঠান প্রযোজনা করাই তার কাজ। একদিন টেলিভিশন স্টুডিওতে এক বিতর্ক অনুষ্ঠান ক্যামেরায় ধারণ করার সময় এলিজা চুপচাপ বসেছিল দর্শকসারিতে। ক্যামেরাম্যান কৌতূহলবশত এলিজাকে একাধিকবার ক্লোজশটে ধারণ করে। প্যানেলে বসে এলিজার সেই দৃশ্য হাসান অবলোকন করে আনন্দ মনে। শুধু তাই নয়, ক্যামেরার ক্লোজশটে মেয়েটির ছবি দেখার পর হাসানের মনে ‘এক অনামা নীলবর্ণ নদী রেখা’ তৈরি হয়।

অতঃপর শহরের একটি গানের দোকানে ক্যাসেটে গান রেকর্ডিং করতে গিয়ে হাসান ও এলিজার মধ্যে পরিচয় হয়। এই পরিচয় থেকেই ক্রমে তাদের মধ্যে রোমান্টিক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শেষ পর্যন্ত এলিজার আত্মহত্যার মধ্যদিয়ে এর কাহিনি সমাপ্ত হয়।

প্রেমের এই দৃশ্যপটের সঙ্গে হাসানের কল্পনা ও জীবন বাস্তবতার বিচিত্র ঘটনা এবং নানা চরিত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সুখ ও দুঃখ চিত্রিত হয়েছে অমৃত উপাখ্যান উপন্যাসটিতে। 

------------------------
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘অমৃত উপাখ্যান’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৪০.
’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• ’মস্কোতে কয়েকদিন‘ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা ⎯ তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য,
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র, জাপান যাত্রী, জাভা যাত্রার পত্র, পারসো।
- সুফিয়া কামাল রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি ⎯ সোভিয়েতের দিনগুলি।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৪১.
'বিরতিহীন উৎসব' সৈয়দ শামসুল হকের একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
একদা এক রাজ্যে, পরানের গহীন ভিতর, বিরতিহীন উৎসব, বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, প্রতিধ্বনিগণ, ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যগ্রন্থ।
তাঁর রচিত কাব্যনাট্যগুলো হলো- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।
নিষিদ্ধ লোবান, এক মহিলার ছবি, অনুমপ দিন, সীমানা ছাড়িয়ে, নীল দংশন, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী, আয়না বিবির পালা, স্তব্ধতার অনুবাদ, ত্রাহী, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ, 'দেয়ালের দেশ', 'খেলারাম খেলে যা', তুমি সেই তরবারী, মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,২৪২.
'নদী নিঃশেষিত হলে' আনোয়ার পাশা রচিত-
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'নদী নিঃশেষিত হলে' আনোয়ার পাশা রচিত- কাব্য।

• আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
রাজশাহী কলেজে বিএ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে তিনি রচনা করেন ‘হাস্নাহেনা’ শিরোনামে একটি রম্যরচনা।
শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ার পাশা (১৫ এপ্রিল ১৯২৮-১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের একমাত্র উপন্যাস।

• উপন্যাস:
নীড় সন্ধানী
নিষুতিরাতের গাথা
রাইফেল রোটি আওরাত

• গল্পগ্রন্থ:
নিরুপায় হরিণী

• কাব্য:
নদী নিঃশেষিত হলে
সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৩.
‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

-------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৪.
দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  2. খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  3. গ) এই শাওনে এই পরবাসে
  4. ঘ) আমি ভাল আছি তুমি
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ, 
- এই শাওনে এই পরবাসে, 
- আমি ভাল আছি তুমি, 
- পাথরের পুঁথি। 

• ব্রি:দ্র: 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' শহীদ কাদেরীর কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস নয়-
  1. ক) ধাত্রীদেবতা
  2. খ) রসকলি
  3. গ) গণদেবতা
  4. ঘ) পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়ী উপন্যাস:
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা ও
- পঞ্চগ্রাম।
• তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি,
- ডাকহরকরা,
- বেদেনী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটক:
- পথের ডাক,
- দ্বীপান্তর ও
- দুই পুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,২৪৬.
কোনটি আবু ইসহাকের উপন্যাস নয়?
  1. ক) সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. খ) জাল
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) জোঁক
ব্যাখ্যা

- হারেম আবু ইসহাক রচিত একটি গল্প।
- তাঁর রচিত উপন্যাস:
• পদ্মার পলিদ্বীপ,
• সূর্য দীঘল বাড়ি,
• জাল।
- তাঁর রচিত গল্প: মহাপতঙ্গ।
- জোঁক তাঁর রচিত একটি ছোটগল্প।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,২৪৭.
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. সেলিম আল দীন
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. বিষ্ণু দে
  4. সেলিনা হোসেন
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৮.
'বাঙলার লোকায়ত সাহিত্য' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. আহমদ ছফা
  3. আবুল হাসান
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
• 'বাঙলার লোকায়ত সাহিত্য' আবদুল কাদির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

• আবদুল কাদির:

- কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দোবিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭), ও

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবি নজরুল, 
- বাঙলার লোকায়ত সাহিত্য, 
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৯.
কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনি হিসাবে বিবেচিত?
  1. পালামৌ
  2. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  3. দেশে বিদেশে
  4. দেশান্তর
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি।
- ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- যাত্রা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২৫০.
নিচের কোনটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. ক) সপ্তমী
  2. খ) ঊর্মিমালা
  3. গ) দুরবীণ
  4. ঘ) অগ্নি
ব্যাখ্যা
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - অগ্নি।

• কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে। বলাইচাঁদের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল হুগলি জেলার শিয়ালখালায়। পিতা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড হাসপাতালের ডাক্তার। মাতা মৃণালিনী দেবী। তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- তৃণখন্ড
- জঙ্গম
- অগ্নি
- ডানা (তিনখন্ড)
- স্থাবর
 অগ্নীশ্বর
- হাটেবাজারে
- ত্রিবর্ণ
- ভুবনসোম
- প্রচ্ছন্ন মহিমা
- উদয় অস্ত (দুই খন্ড)
তাঁর প্রত্যেকটি উপন্যাসের গঠনভঙ্গি স্বতন্ত্র এবং অভিনব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,২৫১.
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক-
  1. নবান্ন
  2. মানুষ
  3. নেমেসিস
  4. কিত্তনখোলা
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপে:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ফরিদ,
- জুলেখা,
- বাবা,
- মা,
- ডাক্তার।

অন্যদিকে,
• 'নবান্ন' বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক। নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।

• 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক। ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।

• সেলিম আল দীন রচিত নাটক - কিত্তনখোলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫২.
'পদ্মাবতী' একটি-
  1. ক) মৌলিক রচনা
  2. খ) অনুবাদ গ্রন্থ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'পদ্মাবতী' মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী)  কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবত অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন।

আবার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে 'পদ্মাবতী' নাটক রচনা করেন।
- এটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

তাই বলা যায়, 'পদ্মাবতী' একটি অনুবাদ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৩.
‘প্রভাত-চিন্তা, নিভৃত-চিন্তা, নিশীথ-চিন্তা’ প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) কালি প্রসন্ন সিংহ
  3. গ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।
প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য: প্রভাত-চিন্তা (১৮৭৭), নিভৃত-চিন্তা (১৮৮৩), নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৯৬) ও নিশীথ-চিন্তা (১৮৯৬)।
Source: বাংলাপিডিয়া
১,২৫৪.
সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
  2. বন্দর থেকে বন্দরে
  3. সমুদ্র ও তৃষ্ণা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ 'উত্তীর্ণ পঞ্চাশে'।

• সানাউল হক:

- তিনি ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯২৪ সালের ২৩ মে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক ।
- সানাউল হকের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় পারিবারিক আবহে।
- তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর চিন্তাভাবনা সানাউল হকের সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায় সানাউল হকের কবিতায়, ভ্রমণবৃত্তান্তে, অনুবাদে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে।
- তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশে।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
-  শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস 'সমুদ্র ও তৃষ্ণা'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৫.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদের কাব্য?
  1. শান্তিধারা
  2. সিরাজাম মুনিরা
  3. অনল প্রবাহ
  4. প্রেমের সমাধি
ব্যাখ্যা
সিরাজাম মুনিরা:
- সিরাজাম মুনিরা ফররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে।
- এই কাব্যে মোট কবিতা হচ্ছে ১৯ টি।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে সিরাজাম মুনিরা।

অন্যদিকে:
- ইসমাঈল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো 'অনল প্রবাহ'।
-  নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস - প্রেমের সমাধি।
- 'শান্তিধারা' হচ্ছে মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী লিখিত গ্রন্থ।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) সিরাজাম মুনিরা কাব্যগ্রন্থ।
১,২৫৬.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'ফুড কনফারেন্স' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

- এ বইয়ের গল্পগুলোতে বিশ শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সংঘটিত ঘটনার চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে রঙ্গব্যঙ্গের সরসতায়। হাস্যরসের অন্তরালে নিহিত কঠোর সমাজবাস্তবতা আজও পাঠককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। লেখক প্রায় আশি বছর আগের নানা অসংগতিকে কেন্দ্র করে রসের চাবুকে যে আঘাত হেনেছিলেন, বর্তমানে পাঠক সেই আঘাতের প্রয়োজনীতা আরও বেশি করে অনুভব করবেন।

--------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ।
১,২৫৭.
মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. কেউ কিছু বলতে পারে না
  2. চিঠি
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক - কেউ কিছু বলতে পারে না

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। 
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৮.
'ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1.  মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• 'ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ' গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর।

• বদরুদ্দীন উমর:

- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৫৯.
নিচের কোন সাহিত্যিক রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

সোমেন চন্দঃ ২৪ মে ১৯২০ সালে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
সোমেন চন্দের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সাহিত্যিক জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে গল্পগুলিতে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন। তাঁর গল্পের মৌলিক আবেদন ছিল গণসচেতনতা।

• তাঁর রচিত গল্পঃ
- ইঁদুর,
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৬০.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন একজন-
  1. নাট্যকার
  2. ভাষাবিদ
  3. ঔপন্যাসিক 
  4. ছড়াকার
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২৬১.
'খোঁয়ারি' ছোট গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প- খোঁয়ারি, অন্য ঘরে অন্য স্বর, দুধেভাতে উৎপাত, দোজখের ওম এবং তাঁর রচিত উপন্যাস- চিলেকোঠার সেপাই ও খোয়াবনামা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬২.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. জহির রায়হান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খণ্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১৫ খণ্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রকাশনা।
- হাসান হাফিজুর রহমান এর সম্পাদনায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র” প্রকাশিত হয়।
- “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র” মোট ১৫টি খণ্ডে ১৯৮২-৮৩ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।
- এ খণ্ডগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও তথ্য-উপাত্ত, স্মৃতিচারণা যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি রয়েছে ১৯০৫-৭১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিশাল পটভূমিও।

----------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৩.
‘পাগলা দাশু’ গল্পসংকলনের রচয়িতা কে?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. সুকুমার সেন
  3. সুকুমার রায়
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
‘পাগলা দাশু’ গল্পসংকলন:
- ‘পাগলা দাশু’ সুকুমার রায় রচিত একটি গল্পসংকলন।
- 'পাগলা দাশু'র গল্পগুলো হাস্যরসে ভরা হলেও তা নিছক হাস্যরসের খোরাক নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে তীক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাবলীল ভাষায় রচিত মজার মজার কাহিনি। এ কাহিনিগুলোতে অনেক কঠিন প্রসঙ্গ খুব সহজ ভাবেই উঠে এসেছে যা একেবারেই উপেক্ষনীয় নয়। সেগুলো যেমনি রসের তেমনি অসম্ভব বুদ্ধিমত্তার।
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুকুমার রায়ের 'পাগলা দাশু'র প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছিলেন।

সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘পাগলা দাশু’ গল্পগ্রন্থের ভূমিকা।
১,২৬৪.
রোহিণী-বিনোদিনী-কিরণময়ী কোন গ্রন্থগুচ্ছের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ-চতুরঙ্গ-চরিত্রহীন
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল-যোগাযোগ-পথের দাবি
  3. দুর্গেশনন্দিনী-চোখের বালি-গৃহদাহ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল-চোখের বালি-চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনটি চরিত্রে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি বর্নিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রোহিনী,
- ভ্রমর এবং
- গোবিন্দলাল।

---------------------------------
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

--------------------------
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত।
- উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

 তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র:
- সাবিত্রী ও
- কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাস এবং 'চরিত্রহীন' উপন্যাস।
১,২৬৫.
বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. হাওয়া বদল
  2. অভিনয়, অভিনয় নয়
  3. রেখাচিত্র
  4. একদা তুমি প্রিয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ উপন্যাস:
- ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।
- পলাশ ও রেবার মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারই স্মৃতি ধরে উভয়ের মনে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। রেবা নতুনভাবে প্রেমের অভিষেক করতে চায় কিন্তু পলাশ বুঝতে পারে তা সম্ভবপর নয়। এরকম একটি কাহিনি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু রচিত এই উপন্যাসটি।

⇒ বুদ্ধদেব বসু:

- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৬.
'আবোল-তাবোল' কার লেখা?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়: 
- সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা:
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- আবোল-তাবোল।
- খাইখাই ।
- অবাক জলপান ।
- শব্দকল্পদ্রুম । 
- ঝালাপালা । 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১,২৬৭.
রূপকথার লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৭) ছিলেন রূপকথার লেখক ও শিশুসাহিত্যিক।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক ‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৮.
রফিক আজাদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সাহিত্য পত্রিকা
  2. উত্তরাধিকার
  3. দৈনিক সমকাল
  4. মুক্তধারা
ব্যাখ্যা
রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৯.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।

এই কাব্যগ্রন্থে আছে:
"আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি 
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি 
তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল"

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,২৭০.
বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  2. খ) সংস্কৃতির কথা
  3. গ) সভ্যতার সংকট
  4. ঘ) সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা
'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 

অধ্যাপক ও রাজনীতিবীদ বদরুদ্দীন উমর এর জন্ম ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে। 
- তিনি 'সংস্কৃতি' নামে একটি সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।

- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
- পূর্ববাঙালার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (১৯৭০)
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ (১৯৭৪)
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৬)
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮০)
- বাঙলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি (১৯৮৯)
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ (২০০৬) ইত্যাদি। 

উল্লেখ,
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা। 
- 'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই' (১৯৮৫) শওকত ওসমান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭১.
বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. জ্ঞানান্বেষণ
  2. মিহির
  3. সওগাত
  4. জ্ঞানের আলো
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
• ‘মিহির’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম।
• ‘সওগাত’ একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭২.
শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' কী ধরণের রচনা?
  1. ক) ভ্রমণ কাহিনী
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধের পরপরই রচিত হলেও প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।
১৯৭১ সালের শুরুর দিককার ঘটনাকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসে তিনি ২৫শে মার্চের বর্বরোচিত হামলার ফলে ঢাকায়-সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়কে চমৎকারভাবে চিত্রিত করেছেন। পাকিস্তানি নৃশংসতা ও নির্মমতার ভাষ্যচিত্র বলা যায় শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসকে।

সূত্র: বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট
১,২৭৩.
‘মানবজীবন', 'মহৎজীবন', 'উন্নতজীবন' -প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  3. মোঃ লুৎফর রহমান
  4. মোঃ ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
•  ‘মানবজীবন', 'মহৎজীবন', 'উন্নতজীবন' -মোহাম্মদ লুৎফর রহমান রচিত গ্রন্থ।

----------------------
• মোহাম্মদ লুৎফর রহমান:
- ১৮৮৯ সালে মাগুরা জেলার অন্তর্গত পারনান্দুয়ালি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘ডাক্তার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান’ হিসেবে পরিচিত।
- কলকাতায় মোহাম্মদ লুৎফর রহমান পতিতা নারীদের সামাজিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘নারীতীর্থ’ (১৯২২) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- এ সংগঠনের কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি ছিলেন বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩৬)। লুৎফর রহমান ছিলেন এর সম্পাদক।
- ‘নারীতীর্থ’-এর মুখপত্র নারীশক্তি তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩২৯ সনে। এ মাসিক পত্রিকাটির মোট ছয়টি সংখ্যা বেরিয়েছিল।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- মহৎ জীবন,
- মানবজীবন,
- সত্য জীবন,
- উচ্চ জীবন,
- ধর্ম জীবন,
- মহাজীবন,
- যুবকজীবন,
- সরলা,
- পথহারা,
- রায়হান,
- প্রীতি-উপহার,
- বাসর-উপহার ।

শিশুকিশোর গ্রন্থ:
- ছেলেদের মহত্ত্বকথা,
- ছেলেদের কারবালা,
- রানী হেলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৪.
উইলিয়ম কেরী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. Bengali Grammar in the English Language
  2. A Grammar of the Bengali Language
  3. A Grammar of the Bengali Language, Adapted to the Young in Easy Questions and Answers
  4. A Grammar of the Bengal Language
ব্যাখ্যা
• উনিশ শতকের প্রথমেই রচিত হয় উইলিয়ম কেরীর বাংলা ব্যাকরণ "A Grammar of the Bengali Language" (১৮০১)। হ্যালহেডের ব্যাকরণের অনুকরণে কেরীর গ্রন্থটি প্রণীত, তবে হ্যালহেড যেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেননি, যেমন বিশেষ্য, ক্রিয়াপদ বা পার্টিকেল ব্যবহারের ক্ষেত্র, কেরী তাঁর রচনায় ওই সব ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

অন্যদিক, 
• রেভারেন্ড জেমস কীথ (১৭৮৪-১৮২৩) বাংলা ভাষায় প্রণীত ও মুদ্রিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা। জেমস কীথের বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৮২০ সালে।
গ্রন্থটির পুরো নাম "A Grammar of the Bengali Language, Adapted to the Young in Easy Questions and Answers" 

• বাংলা ভাষার দ্বিতীয় ব্যাকরণ রচয়িতা (Nathaniel Brassey Halhed:১৭৫১-১৮৩০)। তাঁর A Grammar of the Bengal Language প্রকাশিত হয় ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে। হ্যালহেড ভাল সংস্কৃত জানতেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলা ভাষার উদ্ভব সংস্কৃত থেকে। তাই তাঁর ব্যাকরণে সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাব লক্ষণীয়।

• গৌড়ীয় ব্যাকরণ  বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ। রচয়িতা রাজা  রামমোহন রায়, প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ। এর আগে তিনি ইংরেজিতে 'Bengali Grammar in the English Language' নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৫.
‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. অরুন্ধতী রায়
  2. কামিনী রায়
  3. প্রথম চৌধুরী
  4. অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত:
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (১৯০৩-১৯৭৬)  কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক। ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল  নোয়াখালী শহরে তাঁর জন্ম। আদি নিবাস বর্তমান  মাদারীপুর জেলায়। 

• ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।  রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

• তিনি  উপন্যাস ও  ছোটগল্প রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব দেখান। উপন্যাসের আঙ্গিকে আবেগমথিত ভাষায় ধর্মগুরুদের জীবনী লিখেও তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস বেদে (১৯২৮)। এটি আঙ্গিক, রচনাভঙ্গি ও বিষয়বিন্যাসে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট উপন্যাস হিসেবে পরিগণিত।

অচিন্ত্যকুমারের গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় সত্তর। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-
• উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না,
- বিবাহের চেয়ে বড়,
- প্রাচীর ও প্রান্তর,
- প্রথম কদমফুল;

 • কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা,
- আমরা,
- প্রিয়া ও পৃথিবী,
- নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম,
- উত্তরায়ণ ।

অন্যান্য অপশন:
- কামিনী রায় এর ছদ্মনাম হচ্ছে জনৈক বঙ্গমহিলা।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৬.
নিচের কোনটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা গান? 
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ 
  2. সব ক’টা জানালা খুলে দাও না
  3. ভালো আছি, ভালো থেকো
  4. মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
ব্যাখ্যা

“ভালো আছি, ভালো থেকো” গানের রচয়িতা- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।
-------------------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার সাবেড়হাট গ্রামে।
- তিনি তার প্রতিবাদী চেতনা ও প্রেমিকাভঙ্গির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ রূপে গ্রহণ করেন।
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কাব্য হলো:
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।
-------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• “সব ক’টা জানালা খুলে দাও না” হলো বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান।
- গানটি সাবিনা ইয়াসমিন গেয়েছেন। 
- গানটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং শহীদদের স্মরণ করার জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

• “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি” গানটির রচয়িতা গোবিন্দ হালদার।
- গানটি বাঙালির দৃঢ় সংকল্প ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৭.
'‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!'- পঙ্ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কামিনী রায়
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচনাবলির অন্তর্গত ‘অমিয়ধারা' কাব্যগ্রন্থ থেকে “সুখ” কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে।
১৯২৩ সালে ‘অমিয়ধারা প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

সুখ
– কায়কোবাদ

“সুখ সুখ” বলে তুমি, কেন কর হা-হুতাশ,
সুখ ত পাবে না কোথা, বৃথা সে সুখের আশ!
পথিক মরুভূ মাঝে খুঁজিয়া বেড়ায় জল,
জল ত মিলে না সেথা, মরীচিকা করে ছল!
তেমতি এ বিশ্ব মাঝে, সুখ ত পাবে না তুমি,
মরীচিকা প্রায় সুখ, – এ বিশ্ব যে মরুভূমি!
ধন রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই,
সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই!
‘আমিত্ব’কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!
নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,
মুছালে পরের অশ্রু – ঘুচালে পরের ব্যথা!
আপনাকে বিলাইয়া দীনদুঃখীদের মাঝে,
বিদূরিলে পর দূঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে!
তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি,
যা রুপিবে – তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!
 
১,২৭৮.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. সাজাহান
  2. রানা প্রতাপসিংহ
  3. তারাবাঈ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি কবি, নাট্যকার, গীতিকার ছিলেন। 
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর দুই অগ্রজ রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলাল এবং এক ভ্রাতৃজায়াও সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাঈ,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭৯.
‘নষ্ট ছেলে’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মামুনুর রশীদ
  3. নুরুল মোমেন
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘নষ্ট ছেলে’ মুনির চৌধুরী রচিত রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ একটি নাটক।
- নাটকটি প্রথম ঢাকায় মঞ্চস্থ হয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ হলো:
- এরতাজুল করিম,
- জাহাংগীর,
- এম্রাণ,
- খোকা,
- আমিন।

--------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

• তাঁর রচিত মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি।
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- ‘মানুষ’ ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- ‘নষ্ট ছেলে’ রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- ‘দণ্ডকারণ্য’ তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); ‘নষ্ট ছেলে’ নাটক।
১,২৮০.
শওকত ওসমানের 'মস্কুইটো ফোন’ একটি -
  1. শিশুতোষ গ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান
- কিংবদন্তী সাহিত্যিক শওকত ওসমানের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায়।
- তার পারিবারিক নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- ‘জাতির কথাশিল্পী’ বলা হয় তাকে।
- ১৯৪৯ সালে তিনি রচনা করেন তার প্রথম নাটক ‘আমলার মামলা’। 
- শওকত ওসমানের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। 
- তার শিশুতোষ গ্রন্থ ‘মস্কুইটো ফোন’। 
- ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয় শওকত ওসমানের প্রথম উপন্যাস ‘জননী’। 
- শওকত ওসমানের মোট উপন্যাসের সংখ্যা ১৫টি।

- তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস ‘ক্রীতদাসের হাসি’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৩ সালে। 
- মূলত স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে এ উপন্যাস লেখা হয়। যে উপন্যাসের মূল চরিত্র তাতারী

♦ শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক  উপন্যাস
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শওকত ওসমান চারটি উপন্যাস রচনা করেন। 
- জাহান্নাম হইতে বিদায় (প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস), 
- দুই সৈনিক,
- জলাঙ্গী,
- নেকড়ে অরণ্য।

তথ্যসূত্র -
১. ডেইলি স্টার বাংলা,
২. দৈনিক জনকন্ঠ, 
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
৪) বাংলাপিডিয়া।
১,২৮১.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' বিখ্যাত এই নাটকটির নাট্যকার হলেন-
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) বিষ্ণু দে
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী : তিনি ছিলেন মূলত শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সমালোচক ও বাগ্মী৷

ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত তার নাটক 'কবর' (১৯৬৬)।

তার রচিত অন্যান্য নাটক-
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি
- দণ্ডকারণ্য
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
- মুখরা রমনী বশীকরণ
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,২৮২.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আব্দুল কাদির
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা - আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

আবুল কালাম শামসুদ্দীন:

- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম। তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন। তিনি দৈনিক 'আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৯৭৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশু সাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (তুর্গেনিঙের তিনটি গল্পের অনুবাদ),
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস),
- অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৩.
নিচের কোনটি একটি শোকগাথা?
  1. ক) অতি অল্প হইল
  2. খ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. গ) ভ্রান্তিবিলাস
  4. ঘ) জীবন-চরিত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রভাবতী সম্ভাষণ- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গ্রন্থ। এটি একটি শোকগাথা। অতি অল্প হইল এটি রম্য রচনা। ভ্রান্তিবিলাস অনুবাদ গ্রন্থ এবং জীবন-চরিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,২৮৪.
কোন কবিকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিক্ষণ:
- উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।
- এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্য ও আধুনিক যুগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সব্যসাচীর মত দু হাতে দু দিকের নির্দেশ দিয়েছেন।
- মধ্যযুগের অবসানের পর এবং আধুনিক যুগের যথার্থ সূত্রপাতের পূর্বে কবি ঈশ্বর গুপ্ত কাব্য সাধনায় খ্যাতিলাভ করেন।
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।
- এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয়
না।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:

- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।
১,২৮৫.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য কোনটি?
  1. অবাক জলপান
  2. ইতল বিতল
  3. পাখির বাসা
  4. নওল কিশোরের দরবারে
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল;
- হ-য-ব-র-ল;
- পাগলা দাশু;
- শব্দকল্পদ্রুম;
- বহুরূপী;
- খাই খাই;
- অবাক জলপান;
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ইতল বিতল, নওল কিশোরের দরবারে সুফিয়া কামালের শিশুতোষ গ্রন্থ।
• 'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৬.
'নবান্ন' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৭.
'হরগজ' নাটকটি কার রচনা?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. সেলিম আল দীন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'হরগজ' নাটক:
- সেলিম আল দীনের বর্ণনাত্মক নাট্যধারার মধ্যে একটি ব্যতিক্রমধর্মী নাটক 'হরগজ' । ১৯৮৯ সালে টর্নেডো মানিকগঞ্জের হরগজ নামক জনপদটিকে বিরানভূমিতে পরিণত করে। ঝড়ের প্রচণ্ডতা ও ভয়ংকর সব ঘটনা নাট্যকারকে বিচলিত ও স্তম্ভিত করে। ঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞ জগৎকে কীভাবে নিরাকৃতির ভুবনে পরিণত করে, তার-ই কাহিনি নিয়ে নাটকটি রচিত।

- হরগজ নাটকে দেখা যায়, একদল ত্রাণকর্মী নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে টর্নেডোবিধ্বস্ত গন্তব্যে পৌঁছে নানা অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক ঘটনা দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়ে। সেখানে যেন এক মহাপ্রলয় ঘটে গেছে। একসময় ত্রাণকর্মীদের প্রধান আবিদ ওই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে খণ্ডিত মানবদেহের অঙ্গ-উপাঙ্গ দেখে মর্মাহত ও হতবিহ্বল হয়ে ওঠে।

- হরগজ নাটকে বর্ণিত প্রতিটি ঘটনা অতিপ্রাকৃত কিংবা অলৌকিক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বাস্তব ও তথ্যনির্ভর।

--------------
সেলিম আল দীন রচিত নাটকসমূহ-
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- বাসন, 
- তিনটি মঞ্চ নাটক: মুনতাসির, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- প্রাচ্য, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা, 
- হরগজ, 
- একটি মারমা রূপকথা, 
- বনপাংশুল, 
- স্বর্ণবোয়াল, 
- পুত্র ইত্যাদি।

উৎস: 'হরগজ' নাটক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৮.
‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. তালিম হোসেন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সৈয়দ আলী আহ্সান
ব্যাখ্যা
 • ‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

• অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

• প্রবন্ধ:
- সতত স্বাগত।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা;
সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)
ঘর আর বিদেশ আঙিনা
তিনটি ফুল আর একটি পাতা নিয়ে/ কদম্ব তরুর একটি শাখা মাটি/ ছুঁয়েছে
আরও অনেক গাছ পাতা লতা/ নীল হলুদ বেগুনি অথবা সাদা
কাকের চোখের মতো কালোচুল/ এলিয়ে
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ নীলাম্বরীতে দেহ ঘিরে (বৃষ্টিভেজা পূর্ব বাংলা যেনো নীল শাড়ি পরা কোনো নারী)
তুমি আমার পূর্ব-বাংলা-/ পুলকিত সচ্ছলতায়, প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।।

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া। 
১,২৮৯.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’- বিখ্যাত উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন গ্রন্থের?
  1. ক) সাতটি তারার তিমির
  2. খ) মাল্যবান
  3. গ) কবিতার কথা
  4. ঘ) ঝরাপালক
ব্যাখ্যা
•কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯০.
ইব্রাহীম খাঁ'র রচনা কোনটি?
  1. ক) ঋণ পরিশোধ
  2. খ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  3. গ) বেদুঈনদের দেশে
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম খাঁ:
একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবে ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি বিভিন্ন লেখায় মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের কথা বলেছেন। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
সেগুলির মধ্যে কামাল পাশা (১৯২৭), আনোয়ার পাশা (১৯৩৯), ঋণ পরিশোধ (১৯৫৫), ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র (১৯৫৪), বাতায়ন (১৯৬৭), ব্যাঘ্র মামা (১৯৫১) এবং বেদুঈনদের দেশে (১৯৫৬) প্রধান।
তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশ্বস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১,২৯১.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্প কোনটি?
  1. ডাকহরকরা
  2. রসকলি
  3. বেদেনী
  4. রাধা
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী, 
- জলসাঘর, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৯২.
'কর্ণফুলি' উপন্যাসে কোন উপজাতির কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) সাঁওতাল
  4. ঘ) মণিপুরি
ব্যাখ্যা
সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

 আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৩.
চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ইতিহাসমালা
  2. খ) তোতা ইতিহাস
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রচিত 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
১,২৯৪.
মুনীর চৌধুরী অনূদিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) চিঠি
  4. ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'The Taming of The Shrew' নাটকের অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে।
- তাঁর আরাে দুটি অনুবাদ নাটক- 'কেউ কিছু বলতে পারে না ও রূপার কৌটা'।

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)
- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক-
- কবর (১৯৬৬),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- দন্ডকারণ্য (১৯৬৬)
- পলাশী ব্যারাক  ও অন্যান্য  (১৯৬৯)
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৭),
- রূপার কৌটা (১৯৬৯),
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৫.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  2. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  3. চাকা
  4. চিঠি
ব্যাখ্যা
• 'চিঠি' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।

• সেলিম আল দীন:

- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

• সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৬.
’সংবাদ সাধুরঞ্জন’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সজনীকান্ত দাস
  3. প্রমথ চৌধুরি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক।
- ঈশ্বরচন্দ্র বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। 
- তিনি রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (১৮৩৩) ও প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) সম্পাদনা করেন। 
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত হিতপ্রভাকর (১৮৬১) ও বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকার নাম পরিচয়।
-  সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকা শনিবারের চিঠি ।
- প্রমথ চৌধুরী  সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৭.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল ইত্যাদি।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৮.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. রূপকথা
  2. ছোটগল্প
  3. গ্রাম্যগীতিকা
  4. রূপকথা-উপকথা
ব্যাখ্যা
• ঠাকুরমার ঝুলি:
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন।
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' গ্রন্থের সংকলক - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। 
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে।
- কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই গ্রন্থে।
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

-----------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সুধা নামক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৯.
নিচের কোনটি 'খনার বচন' এর বিষয়বস্তু নয়?
  1. ধাঁধাঁ
  2. ঋতু
  3. কৃষি
  4. জ্যোতিশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
খনার বচন: 
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত
- এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৩০০.
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে নিম্নের কোন রচনায়?
  1. ক) জননী
  2. খ) ক্রীতদাসের হাসি
  3. গ) নেকড়ে অরণ্য
  4. ঘ) রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।

• শওকত ওসমান
- শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
 - তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস ।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- প্রাচীন কাহিনী, ঘটনা ও চরিত্রের রূপকে লেখক সমকালীন রাজনীতিতে স্বৈরাচারী চরিত্র ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস :
- জননী (১৯৫৮)
- ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২)
- সমাগম (১৯৬৭)
- চৌরসন্ধি (১৯৬৮)
- রাজা উপাখ্যান (১৯৭১)
- জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭১)
- দুই সৈনিক (১৯৭৩)
- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩)
- পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩)
- আর্তনাদ (১৯৮৫)
- রাজপুরুষ (১৯৯২)

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা পিডিয়া।