বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ১০ / ৭৭ · ৯০১১,০০০ / ৭,৬৪৬

৯০১.
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. রশীদ করিম
  3. শওকত আলী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো নদী কাঁদো'- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
-------------------------- 
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌: 
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। - তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়। 
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০২.
মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা’ পত্রিকার লেখক ও প্রকাশক কে ছিলেন?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭)।
• তিনি মূলত কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছন্দসিক ও সম্পাদক ছিলেন।
• তিনি প্রথমে কলকাতায় সওগাত পত্রিকায় সম্পাদনা বিভাগে চাকুরি করেন
• আবদুল কাদির কাজী নজরুল ইসলামের দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক হিসেবেও নিযুক্ত ছিলেন। এবং তিনি মোহাম্মদী ও অর্ধসপ্তাহিক পয়গাম পত্রিকায়ও চাকুরি করেন।
• তাঁর রচিত কবিতা- দিলরুবা, উত্তর বসন্ত । প্রবন্ধ- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা, কবি নজরুল, কাজী আবদুল ওদুদ, লোকায়ত সাহিত্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০৩.
অমিয় চক্রবর্তী ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার লাভ করেন কত সালে?
  1. ১৯৬৫
  2. ১৯৬০
  3. ১৯৮৬
  4. ১৯৭০
ব্যাখ্যা

 অমিয় চক্রবর্তী পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭০ সালে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
-উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫;
তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই: কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১),
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬),
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০),
- চলো যাই (১৯৬২),
- সাম্প্রতিক (১৯৬৩)।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

৯০৪.
ত্রয়ী উপন্যাস রচনা করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
•  আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো "ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন"।

• ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান এবং পদ্মা মেঘনা যমুনা সিরিজের শেষ উপন্যাস সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার। কিন্তু প্রতিটি বই যার যার স্বকীয়তা নিয়ে আলাদা এবং আলাদাভাবে উপভোগ্য। তিনটির মিলিত কাহিনির মধ্যে বিধৃত আছে বাংলাদেশের মানুষের প্রায় এক শতাব্দীকালের জীবন।

---------------------
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ত্রয়ী উপন্যাস আবু জাফর শামসুদ্দীন এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০৫.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত।
- বিশেষত গ্রামীণ মুসলমান জীবনের বিশ্বস্ত এবং আন্তরিক পরিচয় সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বিরল।
- প্রকাশের অব্যবহিত পর থেকে বাস্তব চিত্রণ, চরিত্রায়ণের স্বাভাবিকতা ও প্রকাশভঙ্গির ঋজুতার জন্য উপন্যাসটি সমালোচক ও পাঠকসমাজে নন্দিত হয়েছে।
- জয়গুনদের বাড়িটিতে রাতে কথিত ভূতের ঢিল পড়ে, সে বাড়িতে নির্ভয়ে থাকা যায় না। তাই সূর্য-দীঘল বাড়ি অমঙ্গলের প্রতীকে পরিণত হয়।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: জয়গুন, তার ছেলে হাসু, মেয়ে মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু প্রধান।

আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯০৬.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিচের কোন লেখককে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

১৯৬০- এ পাকিস্তান সরকার সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

 

৯০৭.
আবুল ফজল কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. ফরিদপুর জেলা যুবসঙ্গ
  4. ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

আবুল ফজল:

- ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

তাঁর রচিত দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০৮.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  2. মোটর যোগে রাঁচী সফর
  3. পশ্চিমের যাত্রী
  4. জাপান যাত্রী
ব্যাখ্যা

"মোটর যোগে রাঁচী সফর" হলো শেখ ওয়াজেদ আলির লেখা একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে তিনি মোটরগাড়িতে করে রাঁচী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পথের বিবরণ দিয়েছেন। 

--------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
 • প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

 • উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

 • ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
 • 'জাপান যাত্রী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
 • 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি। 
• 'পশ্চিমের যাত্রী' সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯০৯.
'আসমানী পর্দা' গল্পগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯১০.
'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) নয়নচারা
  2. খ) দুই তীর ও অন্যান্য গল্প
  3. গ) তরঙ্গভঙ্গ
  4. ঘ) উজানে মৃত্যু
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন  কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন। 
বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন। 
“একটি তুলসী গাছের কাহিনী” গল্পটি “দুই তীর ও অন্যান্য গল্প “ গ্রন্থ থেকে নেয়া ।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১১.
যুগসন্ধিক্ষণের প্রধান পুরোহিত ছিলেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. বিষ্ণু দে
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যুগসন্ধিকাল।
- এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ (১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি.) ও বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যাওয়ার পরে বাংলা সাহিত্যের কবিওয়ালা ও শায়েরদের আগমন ঘটে।

----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়।
- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১২.
কোনটি উপন্যাস? 
  1. নতুন চাঁদ
  2. কন্যাকুমারী
  3. গড্ডলিকা
  4. নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'কন্যাকুমারী' রাশিদা আখতার রচিত একটি উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ- 'নতুন চাঁদ'।
- 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ।
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কন্যাকুমারী' উপন্যাস রাশিদা আখতার।
৯১৩.
'অঙ্গীকারের কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. রফিক আজাদ
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'অঙ্গীকারের কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - রফিক আজাদ। 

রফিক আজাদ:

- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে।
- অসম্ভবের পায়ে।
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া।
- প্রেমের কবিতা।
- হাতুড়ির নিচে জীবন।
- অপর অরণ্যে।
- করো অশ্রুপাত।
- প্রেম ও বিরহের কবিতা।
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি।
- সশস্ত্র সুন্দর।
- অঙ্গীকারের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৪.
'ইউরোপের চিঠি' - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'ইউরোপের চিঠি' - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।

 অন্নদাশঙ্কর রায়:

- একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা।

তাঁর ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৫.
কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. রাশিয়ার চিঠি
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. চলে মুসাফির
  4. জাভা যাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা
• 'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা- অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমনকাহিনী- রাশিয়ার চিঠি।
জসীমউদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি- চলে মুসাফির।
'জাভাযাত্রীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- পত্র সংকলন ও ভ্রমণকাহিনি। 
----------------------------

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- ‘তিনটি প্রশ্ন’ ১৯২০ সালে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত অন্নদাশঙ্করের প্রথম লেখা।

• উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- বিনুর বই,
- দেশকাল পাত্র,
- জীয়ন কাটি,
- ইশারা,
- নতুন করে বাঁচা ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- কামিনী কাঞ্চন,
- যৌবন জ্বালা,
- মন পবন,
- প্রকৃতির পরিহাস।

• ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৬.
অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনী-
  1. ক) কালের শাসন
  2. খ) জলে স্থলে
  3. গ) দেশে বিদেশে
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ
- পথে প্রবাসে ও
- ইউরোপের চিঠি।
• দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচনা ভ্রমণকাহিনী।
• কালের শাসন অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯১৭.
জীবনানন্দ দাশ এর প্রকাশিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ক) বর্ষা আবাহন
  2. খ) ঝরাপালক
  3. গ) দেশবন্ধুর প্রয়াণে
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
• ‘বর্ষ-আবাহন’ জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কবিতা। 

• জীবনানন্দ দাশ: 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পান্ডুলিপিতে।
- উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে মাল্যবান, সুতীর্থ, জলপাইহাটি, জীবনপ্রণালী, বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।
- তাঁর রচিত গল্পের সংখ্যা প্রায় দুশতাধিক।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খন্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।

‘বর্ষ-আবাহন’ কবিতা,
-----------জীবনানন্দ দাশ। 

ওই যে পূর্ব তোরণ-আগে
দীপ্ত নীলে, শুভ্র রাগে
প্রভাত রবি উঠলো জেগে
দিব্য পরশ পেয়ে,
নাই গগণে মেঘের ছায়া
যেন স্বচ্ছ স্বর্গকায়া
ভুবন ভরা মুক্ত মায়া
মুগ্ধ-হৃদয় চেয়ে।

অতীত নিশি গেছে চ’লে
চিরবিদায় বার্তা ব’লে
কোন আঁধারের গভীর তলে
রেখে স্মৃতিলেখা,
এসো-এসো ওগো নবীন
চ’লে গেছে জীর্ণ মলিন-
আজকে তুমি মৃত্যুবিহীন
মুক্ত সীমারেখা।

অন্যদিকে,
• 'ঝরাপালক', 'মহাপৃথিবী' - জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৫–এর জুনে মৃত্যুবরণ করলে জীবনানন্দ তাঁর স্মরণে ‘দেশবন্ধুর প্রয়াণে’ কবিতাটি লিখেন। ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় কবিতাটি। যা পরে ১৯২৭ সালে তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন ‘ঝরা পালক’–এ স্থান করে নেয়। 

• রিয়েল চাকরী পরীক্ষায় 'বর্ষা- আবাহন' লিখা ছিল কিন্তু মূলত কবিতার নাম 'বর্ষ- আবাহন'।   

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ‘বর্ষ-আবাহন’ কবিতা- জীবনানন্দ দাশ, প্রথম আলো রিপোর্ট- ২৩ অক্টোবর, ২০১৯। 
৯১৮.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ (১৯৪৭) কবির মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের অনেক কবিত বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'- এই পঙ্‌ক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৯.
‘ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘সংকর সংকীর্তন’ ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
 
আবু জাফর শামসুদ্দীনের একই কাহিনির ধারাবাহিকতায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো- 
- ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা, 
- সংকর সংকীর্তন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া।
৯২০.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে?
  1. দেশভাগ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ
  4. কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটি ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষের পটভূমিকায় রচিত।

• অশনি সংকেত: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।
------------------- 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯২১.
'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. সানাউল হক
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।
------------------------
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২২.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. মানচিত্র
  2. ধানকন্যা
  3. কর্ণফুলী
  4. ক্ষুধা ও আশা
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক।
- ৬ মে ১৯৩২ সালে তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ জেগে আছি (১৯৫০)। যা একটি গল্পগ্রন্থ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• কাব্যগ্রন্থ্য:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন। 

• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯২৩.
আদিবাসি সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্করের উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অরণ্যবহ্নি
  2. খ) একটি কালো মেয়ের কথা
  3. গ) কালিন্দী
  4. ঘ) চৈতালি ঘূর্ণি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসের নাম - একটি কালো মেয়ের কথা।
তার অন্যান্য উপন্যাস-- অরণ্যবহ্নি (সাওতাল বিদ্রোহ নিয়ে),
- কবি,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাগর,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯২৪.
'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) প্রতিশোধ
  2. খ) জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
  3. গ) দুধভাতে উৎপাত
  4. ঘ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'দুধভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের মিলির হাতে স্টেনগান গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত।
source: bhorerkagoj.com।

তার অন্যান্য বিখ্যাত গল্পঃ
- প্রতিশোধ,
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- অপঘাত,
- জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল,
- রেইনকোট,
- মিলির হাতে স্টেনগান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯২৫.
'উত্তরাধিকার' কার সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) শহীদ কাদরী
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো -
উত্তরাধিকার (প্রথম প্রকাশিত), তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তার ‘উত্তরাধিকার’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯২৬.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) আলী জাকের
  2. খ) ইব্রাহিম খাঁ
  3. গ) সেলিম আল দীন
  4. ঘ) ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।  
• নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- কাফেলা,
- ভিস্তি বাদশা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯২৭.
কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক নয়?
  1. ক) শকুন্তলা
  2. খ) স্বর্ণবোয়াল
  3. গ) হরগজ
  4. ঘ) হাতি ও তিমি
ব্যাখ্যা
'হাতি ও তিমি' সেলিম আল দীনের কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত নাটক- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, হাতহদাই, কেরামতমঙ্গল, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯২৮.
প্যারীচাঁদ মিত্রের কোন গ্রন্থটি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লেখা?
  1. বামাতোষিণী
  2. যৎকিঞ্চিৎ
  3. The Zamindar and Royats
  4. ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত
ব্যাখ্যা
• ‘The Zamindar and Royats’/‘জমিদার ও রায়ত’ প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
- কারণ, এটি রচিত হয়েছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
------------------ 
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। গ্রন্থটি ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত,
- বামাতোষিণী,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- গীতাঙ্কুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯২৯.
নিচের কোনটি আখতারুজ্জামান রচিত গ্রন্থ?
  1. সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই
  2. সংস্কৃতি কথা
  3. সংস্কৃতির সংকট
  4. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
ব্যাখ্যা

•  'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির লেখক - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 

• 'সংস্কৃতি' নামে আরও কিছু গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা - ড. আহমদ শরীফ। 
- সংস্কৃতি কথা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই - শওকত ওসমান। 
- সংস্কৃতির রুপান্তর - গোপাল হালদার। 
- 'সংস্কৃতির সংকট' - 'বদরুদ্দীন উমর'।
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- সভ্যতার সংকট - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩০.
‘সাবিত্রী উপখ্যান’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রহসন
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘সাবিত্রী উপখ্যান’ উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'সাবিত্রী উপাখ্যান' প্রকাশ পায় তাঁর উপন্যাস 'আগুন পাখি'র (২০০৬) সাত বছর পর ২০১৩ সালে।
- বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাজমনস্ক উপন্যাস এটি।
- উপন্যাসটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন করে লেখা।

-----------------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩১.
‘সুবচন নির্বাসনে’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) সেলিম আল দীন
  4. ঘ) কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা
• আব্দুল্লাহ আল মামুন: 
• তিনি একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক।
• ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যু ২১ আগস্ট ২০০৮।  

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে: 
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- সেনাপতি,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা,

• তাঁর লিখিত উপন্যাস গুলো হচ্ছে: 
- মানব তোমার সারা জীবন, 
- হায় পার্বতী, 
- খলনায়ক, 
- আহ্ দেবদাস, 
- তাহাদের যৌবনকাল, 
- এই চুনীলাল, 
- গুন্ডাপান্ডার বাবা। 

উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩২.
‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি -
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
• ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি - ভ্রমণকাহিনি।  

শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা। 

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৯৩৩.
“বখতিয়ারের ঘোড়া” কোন শ্রেণীর রচনা?
  1. ক) ইতিহাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) রূপকথা
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি। উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা
৯৩৪.
মোতাহের হোসেন চৌধুরী কী হিসেবে অধিক পরিচিত?
  1. কবি হিসেবে
  2. মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা হিসেবে
  3. নাট্যকার হিসেবে
  4. গীতিকার হিসেবে
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
মোতাহের হোসেন চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ এবং লেখক, যিনি নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরী এবং মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব স্পষ্ট। তিনি সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ, এবং মানুষের জীবনাচরণ নিয়ে মৌলিক বিষয়গুলোকে উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মাধ্যমে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

• প্রধান গ্রন্থসমূহ: 

সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮): এটি তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
সুখ (১৯৬৫): বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
সভ্যতা (১৯৬৫): ক্লাইভ বেল-এর Civilisation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

বিশেষ খ্যাতি: 
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী, এবং মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন।

উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ:
• আমাদের দৈন্য, 
• আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী, 
• মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
• বাংলাপিডিয়া।
৯৩৫.
রংপুর সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘কবিশেখর’ উপাধি লাখ করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. কালিদাস রায়
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• কালিদাস রায়:
- কালিদাস রায় ছিলেন রবীন্দ্রানুসারী কবি ও সমালোচক।
- ১৮৮৯ সালের ২২ জুন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কড়ুই গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা যোগেন্দ্রনাথ রায় ছিলেন কাশিমবাজার রাজ এস্টেটের কর্মচারী। বৈষ্ণব কবি লোচনদাস ঠাকুর ছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষ।

- কালিদাস ‘রসচক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবীন্দ্র-ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন। - রোমান্টিকতা, প্রেম, পল্লিজীবন, সমাজ, ঐতিহ্যপ্রীতি এবং বৈষ্ণবভাব তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়।
- তাঁর মোট কাব্যগ্রন্থ ১৯টি; তন্মধ্যে কুন্দ (১৯০৭) তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রম্যরচনাগুলি পাঠকসমাজে খুবই সমাদৃত হয়েছে।

তারঁ সাহিত্যকর্মসমূহ (কাব্যগ্রন্থ):
- পর্ণপুট,
- ঋতুমঙ্গল,
- রসকদম,
- হৈমন্তী,
- লাজাঞ্জলি,
- ব্রজবেণু,
- চিত্তচিতা,
- পূর্ণাহুতি ইত্যাদি।

• তিনি কালিদাসের শকুন্তলা, কুমারসম্ভব এবং মেঘদূতের অনুবাদ করেন। প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্য পরিচয়, প্রাচীন বঙ্গ সাহিত্য, পদাবলী সাহিত্য, শরৎ-সাহিত্য ও সাহিত্য প্রসঙ্গ তাঁর সমালোচনা গ্রন্থ।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ কালিদাস বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন-
- তিনি রংপুর সাহিত্য পরিষদের ‘কবিশেখর’ উপাধি (১৯২০),
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ (১৯৫৩) ও ‘সরোজিনী স্বর্ণপদক’,
- বিশ্বভারতীর ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি,
- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৬৩) এবং
- রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি (১৯৭১) লাভ করেন। 

অন্যদিকে,
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 

• সুকুমার সেন রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র থেকে পান 'রবীন্দ্র তত্ত্বাচার্য' উপাধি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৩৬.
নিচের কোনটি শিশুতোষ সাহিত্য?
  1. ক) বহুরূপী
  2. খ) আবোল তাবোল
  3. গ) খাই খাই
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত সবগুলোই সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।

• সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০শে অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলার মাসুয়া গ্রামে জন্মহগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মূলত  শিশুসাহিত্যিক। অনুপম ভাষায় গল্প, নাটক, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে তিনি শিশুদের মন জয় করতেন। তাঁর লেখা বাঙলা শিশুতোষ বইগুলো বাংলা শিশুতোষ সাহিত্যের অমর সৃষ্টি।

তাঁর রচিত শিশু সাহিত্যগুলো:
- হ-য-ব-র-ল
- আবোল তাবোল
- পাগলা দাশু
- খাই খাই
- বহুরূপী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৭.
'অচিনপাখি' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শঙ্খ ঘোষ
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

 'আমরা অপেক্ষা করছি' প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে
 'আমরা অপেক্ষা করছি' গল্পগ্রন্থের কয়েকটি গল্প হলো:
- মিনি মাগনার,
- চুমকুড়ি হাওয়া নেই,
- মাটির তলা মাটি,
- সমুখে শান্তি পারাবার,
- পাব্লিক সার্ভেন্ট,
- অচিনপাখি।

তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- পাতালে হাসপাতালে
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন 
- শিউলি 
- আগুনপাখি 
- সাবিত্রী উপাখ্যান 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- কথাসাহিত্যের কথকতা 
- অপ্রকাশের ভার 
- কথা লেখা কথা 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক: একাত্তর-করতলে ছিন্নমাথা 
সম্পাদনা: অসীমন্তিক 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৯৩৮.
‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকার সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন কোন লেখক?
  1. রফিক আজাদ
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. হুমায়ুন কবির
  4. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন কবির:
• হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন। সাহিত্যক্ষেত্রে প্রথমত কবি হিসেবেই হুমায়ুন কবিরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
• তিনি ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকার সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
• তিনটি কাব্যগ্রন্থ স্বপ্নসাধ, সাথী ও অষ্টাদশী প্রকৃতি ও প্রেমবিষয়ক তাঁর স্বচ্ছ রোম্যান্টিক মানসের পরিচয় বহন করে।
• ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর Men and Rivers নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসে কবির পদ্মানদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।
• ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় তিনি দর্শন, সাহিত্য, শিক্ষানীতি ও সমাজতত্ত্ব বিষয়ে মৌলিক প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- ইমানুয়েল কান্ট,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব,
- বাংলার কাব্য,
- মার্কসবাদ,
- নয়া ভারতের শিক্ষা,
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী,
- মিরজা আবু তালিব খান,
- দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো।

অন্যদিকে,
- ‘স্বাক্ষর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এই পত্রিকার জন্য তিনি স্মরনীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৯.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. স্মৃতিকথা
  3. ভ্রমণবৃত্তান্ত
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- সারেং বউ (১৯৬২)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২)।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪০.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৭৮ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি: 
- এটি বাঙালি মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের (১৮৯৩) অনুপ্রেরণায় কয়েকজন উদীয়মান মুসলিম লেখক ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁরা হলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমিতির সম্পাদক মনোনীত হন।
- একটি পরিচালক পরিষদ দ্বারা সমিতি পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৪১.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত ‘জীবন ক্ষুধা’ কোন ধরণের গ্রন্থ?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) স্মৃতিকথা
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না ও
- ফুড কনফারেন্স।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা
- আবে-হায়াত।

স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪২.
'লায়লী-মজনু' প্রণয়োপাখ্যান সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) এনামুল হক
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ মধ্যযুগের সাহিত্যবিষয়ক ৪৫ টি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। তাঁর সম্পাদিত 'লাইলী-মজনু' বাংলা একাডেমির প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসিনা নাজিলা।
৯৪৩.
'দেশে বিদেশে' গ্রন্থে কোন শহরের বর্ণনা সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠেছে? 
  1. প্যারিস 
  2. কাবুল 
  3. অসলো 
  4. রোম 
ব্যাখ্যা
 • দেশে বিদেশে:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- নিজে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কাবুলে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, তার পরিচয় আছে এই গ্রন্থে।
- এর ভাষা সহজ, উপস্থাপনায় সাবলীলতা ও আড্ডার মেজাজ আছে।
- রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া, সাধারণ মানুষের জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের নানা পরিচয়, অপরিচিত দেশের নানা বৈশিষ্ট্য সব ফুটে  উঠেছে এক অপূর্ব আন্তরিক ভঙ্গিতে।
- গ্রন্থটির রচনাশৈলী অসাধারণ বলে প্রথম গ্রন্থেই মুজতবা আলী পাঠকহৃদয় জয় করেন।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯৪৪.
গ্রীক ট্রাজেডি ‘ইডিপাস’ বাংলায় অনুবাদ করেন -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. কবীর চৌধুরী
  3. হেলাল হাফিজ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ইডিপাস:
- ইডিপাস বাংলা সাহিত্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ নাটক। বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার সফোক্লিস গ্রিক ভাষায় এ নাটকটা রচনা করেন।
- আর এটা বাংলায় অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- এটি একটি ট্র্যাজেডি নাটক।

সৈয়দ আলী আহসান:
- ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৪৫.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জন্মস্থান কোথায়?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  4. ঘ) যশোর
ব্যাখ্যা
- নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী, (১৮৩৪-১৯০৩) জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।

 [উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৯৪৬.
'জীবন এত ছোট ক্যানে' এই উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) হাসুলি বাঁকের উপকথা
  2. খ) কবি
  3. গ) গনদেবতা
  4. ঘ) আরোগ্য নিকেতন
ব্যাখ্যা

কবি উপন্যাসটিতে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করার কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে। এটি তারাশঙ্করের একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
এই উপন্যাসের 'জীবন এত ছোট ক্যানে' সংলাপটি ক্লাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

 

 

৯৪৭.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মূলত কী হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক
  2. কবি ও রাজনীতিবীদ
  3. রাজনীতিবীদ ও সাংবাদিক
  4. সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক হিসেবে সর্বসকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ,
- বাঙালি কাকে বলি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি,
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্রের সন্ধানে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

• তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

• তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৯৪৮.
বাংলাদেশের 'ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা করেন-
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান হলেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক, লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্য গবেষক এবং বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কর্ম হল 'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহসালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের 'ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
৯৪৯.
একুশের প্রথম কবিতার লেখক ছিলেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
- কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় ছাপা হয় কবিতাটি। 

- প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার ধ্বংসের প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আজাদ লিখেন 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি। 
- একুশের প্রথম গানের রচয়িতা ভাষাসৈনিক গাজীউল হক। 
- একুশের প্রথম নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. রেখাচিত্র
  2. খোঁয়ারি
  3. মহাপতঙ্গ
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা
• 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ খোঁয়ারি।
- ১৯৮২ সালে এই গ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করেন।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন- নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু। তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

অন্যদিকে, 
• 'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।
• 'মহাপতঙ্গ' আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ- জন্ম যদি তব বঙ্গে।

---------------
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫১.
‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ-এই তো জগতের নিয়ম।’ উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্গত?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. কবর
  3. রূপার কৌটা
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

নাটকে ব্যবহৃত কিছু উক্তি হলো:
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- ‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ-এই তো জগতের নিয়ম।’- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করেছেন নজীবদ্দৌলা। 
- ‘আমরা হচ্ছি পাহারাদার। টুলি-পরা কলুর বলদ।’- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করেছেন বশির।

-------------------
⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫২.
‘রূপসী বাংলার কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৩.
‘সাতকাহন’ অন্নদাশঙ্কর রায় এর একটি-
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- সাতকাহন।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত। 
- ওড়িশার দেশীয় রাজ্য ঢেঙ্কানালের এক শাক্ত পরিবারে ১৯০৪ সালে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম কবিতা ওড়িয়া ভাষায় রচিত। কম বয়সে প্রভা নামে ওড়িয়া ভাষায় হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করেন। 
- ১৬ বছর বয়সে টলস্টয়ের গল্প ‘তিনটি প্রশ্ন’ তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন।
- বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক রচনার বিষয় ছিল ’নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা।
- তাঁর মৃত্যু ২৮ অক্টোবর ২০০২।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
-  যার যেথা দেশ ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কলঙ্কবতী ,
- দুঃখমোচন ,
- মর্ত্যের স্বর্গ ,
- অপসরণ;
- অসমাপিকা ,
- পুতুল নিয়ে খেলা ,
- সুখ .
- বিশল্যকরণী;
- তৃষ্ণার জল;
- রাজঅতিথি ;
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলো:
- প্রকৃতির পরিহাস;
- দুকান কাটা;
- হাসনসখী;
- মনপবন; 
- যৌবনজ্বালা;
- কামিনীকাঞ্চন;
- রূপের দায়; 
- গল্প; 
- কথা ;
- কাহিনী ;
- শ্রেষ্ঠগল্প ;
- গল্পসমগ্র;

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
-  তারুণ্য,
-  রবীন্দ্রনাথ,
- বাংলার রেনেসাঁস,
-  শিক্ষার সংকট,
- সাতকাহন,
- সাহিত্যে সংকট ও অন্যান্য, 
- সংস্কৃতির বিবর্তন, 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি: 
- ইউরোপের চিঠি,
- পথে প্রবাসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৪.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরোনা নামক স্থানের যুবক পেট্রশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন: কাহিনিটি স্কুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভোগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৫৫.
‘রাঙ্গাপ্রভাত’ -উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল রচিত উপন্যাস- চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ইত্যাদি। তাঁর রচিত প্রবন্ধ- শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি, বিচিত্র কথা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি। মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯৫৬.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. নবিতুন
  2. আসমা
  3. নূরজাহান
  4. রাবেয়া খাতুন 
ব্যাখ্যা

• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: 
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

- কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-  
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৫৭.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. প্রেমের কবিতা
  3. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
  4. সশস্ত্র সুন্দর
ব্যাখ্যা
• 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি' সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো' এই পঙক্তিটি' ভাত দে হারামজাদা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ ১৯৪২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি  টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- অসম্ভবের পায়ে,
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রেমের কবিতা,
- হাতুড়ির নিচে জীবন,
- অপর অরণ্যে,
- করো অশ্রুপাত,
- প্রেম ও বিরহের কবিতা,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি,
- সশস্ত্র সুন্দর,
- অঙ্গীকারের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৮.
বরিশাল অঞ্চলের লোকজীবন বর্ণিত হয়েছে কোন রচনায়?
  1. কাশবনের কন্যা
  2. ধানকন্যা
  3. সারেং বউ
  4. পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে শামসুদ্দিন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। 

শামসুদ্দীন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭):
 - কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- তিনি অনেক গল্প ও  উপন্যাস রচনা করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
গল্পগ্রন্থ
- অনেক দিনের আশা (১৯৫২),
- ঢেউ (১৯৫৩),
- পথ জানা নাই (১৯৫৩),
- দুই হূদয়ের তীর (১৯৫৫),
- শাহের বানু (১৯৫৭),
- পুঁই ডালিমের কাব্য (১৯৮৭);
উপন্যাস
- আলমনগরের উপকথা (১৯৫৪),
- কাশবনের কন্যা (১৯৫৪),
- কাঞ্চনমালা (১৯৬১),
- জায়মঙ্গল (১৯৭৮) ও
- কাঞ্চনগ্রাম (১৯৯৮)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৯.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ফরিদপুর
  2. গোপালগঞ্জ
  3. কলকাতায়
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- এ সময় ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হওয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬০.
'দি আগলি এশিয়ান' - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
'দি আগলি এশিয়ান' - উপন্যাস টির রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌।

• এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহর (নাম নেয়া হয় নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।

সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল। এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।
আসলে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর পূর্বপর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামসমূহ এই উপন্যাসে ধারণ করেছেন শুধু তাঁর অন্ত গুণে। উপন্যাসটি চরমভাবে দৃষ্টির গুণে উপন্যাসটি মার্কিনবিরোধী।

• উইলিয়াম জে লেডেরার ও ইউজিন বারডিক যৌথভাবে রচিত মার্কিন উপন্যাস 'দি আগলি আমেরিকান' (১৯৫৮) এর প্রভাব এ উপন্যাস রনার সময় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপর পড়েছিল ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৬১.
‘সাত ভাই চম্পা’ - কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬২.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. ক) রূপকথা
  2. খ) ছোট গল্প
  3. গ) গ্রাম্য গীতিকা
  4. ঘ) উপকথা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। 
- গ্রন্থটি সংকলন করেন- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী - পালামৌ, যার রচয়িতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। টি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি। পরে ১৩৫১ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তিঃ বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৯৬৪.
'আনোয়ারা' —এ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ফররুখ আহমেদ
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ নজিবর রহমান: তিনি ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।

তার রচিত উপন্যাস -
- আনোয়ারা
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭),
- পরিণাম (১৯১৮),
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩),
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪)৷


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯৬৫.
রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. জননী
  2. সমাগম
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোতীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস।
- ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। প্রাচীন কাহিনী, ঘটনা ও চরিত্রের রূপকে লেখক সমকালীন রাজনীতিতে স্বৈরাচারী চরিত্র ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে। 
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত । এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'সমাগম' উপন্যাস:
 সমাগম' হলো বিখ্যাত বাংলাদেশী লেখক শওকত ওসমান রচিত একটি রূপকধর্মী ও ফ্যান্টাসি উপন্যাস, যা ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়। এবং এটি সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়, যেখানে কালজয়ী মনীষীদের চিন্তাভাবনার মাধ্যমে এক কাল্পনিক জগতের সৃষ্টি করা হয়। 

• 'জননী' উপন্যাস: 
জননীতে সামাজিক জীবনচিত্র উন্মোচিত হয়েছে। জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে

"ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী" বলতে সাধারণত বিখ্যাত সাহিত্যিক শওকত ওসমানের একটি বিখ্যাত ছোটগল্পের সংকলন।  

---------------------
শওকত ওসমানের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
• নাটক:
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ:
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাংগী
- জাহান্নম হইতে বিদায়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী (এর জন্য তিনি ১৯৯১ সালে ফিলিপস পুরস্কার পান)।
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে (এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৬৬.
কারাগারের রোজনামচা-
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) দিনলিপি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
উৎসঃলাইভ এমসিকিউ লেকচার
৯৬৭.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বিষ্ণু দে
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৬৮.
নিচের কোনটি আবুল মনসুর আহমেদ এর স্মৃতিকথা?
  1. ক) আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
  2. খ) ফুড কনফারেন্স
  3. গ) সত্যমিথ্যা
  4. ঘ) বাংলাদেশের কালচার
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমেদ (৩ সেপ্টেম্বর ১৮৯৮ – ১৮ মার্চ ১৯৭৯) একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
• তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা। 
• ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যু হয়। 

• ব্যঙ্গরচনা
- আয়না 
- ফুড কনফারেন্স 
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর 
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু 

• তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,
- সত্যমিথ্যা 
- জীবন ক্ষুধা 
- আবে-হায়াৎ 

• অন্যান্য রচনা 
- বাংলাদেশের কালচার 
- আসমানী পর্দা 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৯৬৯.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) আতাউর রহমান খান
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি আত্মজীবনী মূলক বই।
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।
- আত্মজীবনী – আত্মকথা।
- শিশু সাহিত্যে: মুসলমানী কথা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া, গালিভারের সফরনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।

৯৭০.
'ফোকলোরচর্চা' প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ হচ্ছে 'ফোকলোরচর্চা'

• শামসুজ্জামান খান: 
- মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বাবার নাম আব্দুর রহমান খান এবং মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম।
- তিনি জাতীয় যাদুঘর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ।
- মাটি থেকে মহীরূহ।
- ফোকলোরচর্চা।
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা।
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।
তিনি 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' নামে একটি শিশু সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭১.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. নির্দিষ্ট কেউ বলে
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য
বিষয়।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭২.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' -বইটির লেখক কে?
  1. ক) নীহার রঞ্জন রায়
  2. খ) সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আর সি মজুমদার
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art (১৯৪৭),
- বাঙ্গালীর ইতিহাস (১৯৪৯),
- Nationalism in India,
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting (১৯৭৪),
- The Sikh Gurus and the Sikh Society (১৯৭০),
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art (১৯৭৪)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৭৩.
'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' এই চরণদ্বয়ের লেখক _____।
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কুসুমকুমারী দাস
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' পঙ্‌ক্তিটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্গত।
 
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
-  তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ।
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।
 
মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী ও
- বাসবদত্তা। 

--------------------------
আমার পণ- কবিতা, 
মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 
 
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৪.
'ইবলিশ' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার ছিলেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক- ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, এখানে নোঙর, গিনিপিগি, সমতট, পাথর, লেবেদেফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৫.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  2. খ) জসীম উদদীন
  3. গ) আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্য বিশারদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। তিনি ১৮৯৬ সালে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' শিরোনামে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ। তিনি ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯৭৬.
'স্বভাবকবি' হিসেবে পরিচিত ছিলেন কোন পাঁচালিকার?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. দাশরথি রায়
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

দাশরথি রায়:
- দাশরথি রায় ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। 'দাশু রায়' নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা 'দাশুরায়ের পাঁচালি' নামে খ্যাত। 

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৭৭.
"ওরা অন্ধকার বেচে।
বিক্রি হয় অন্ধকার
প্রকাশ্য ও গোপন বাজারে
নানান মোড়কে মোড়া রঙীন লোভন,
কত না লেবেল-এ। - কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সমর সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৪-৮৮) আধুনিক জীবন কাব্যে রূপায়িত করেছেন।
- প্রথমা', সম্রাট’, ‘ফেরারি ফৌজ’, সাগর থেকে ফেরা’, হরিণ চিতা চিল’, কখন মেঘ’ ইত্যাদি কাব্য গ্রন্থে তাঁর বলিষ্ঠ প্রতিভার পরিচয় বিদ্যমান।
- কল্লোল গােষ্ঠীর লেখক হিসেবে প্রেমেন্দ্র মিত্র কবিতা ও কথাসাহিত্যে সব্যসাচী ছিলেন।
- তিনি আধুনিক কবিতার অন্যতম পথনির্মাতা ছিলেন, কিন্তু পরে গােত্র-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
- তাকে আবেগধর্মী কবি বলে বিবেচনা করা হয়। অথচ আবেগকে সংযত নিয়ন্ত্রিত প্রচ্ছন্ন করে রাখতে পারার সামর্থ্যেই তাঁর শিল্পধর্মের সফলতা প্রকাশ পেয়েছে।

- প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতা ব্যক্তিগত জীবনাচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি, তাঁর কবিতায় আপন পরিবেশ-পরিপার্শ্বজ ব্যাপক জীবনের পরিমণ্ডলে স্পন্দিত হয়েছে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র জীবনের রহস্যসন্ধানী—তাঁর এই প্রচেষ্টার স্বাতন্ত্রেই তিনি নতুন যুগের এক প্রতিনিধি কণ্ঠ, কেবল ভাবানুভবের নিবিষ্টতায় নয়, রূপনির্মিতির স্বতঃস্ফূর্তির বশেও। তাঁর কবিতার নমুনা :

"ওরা অন্ধকার বেচে।
বিক্রী হয় অন্ধকার
প্রকাশ্য ও গােপন বাজারে
নানান মােড়কে মােড়া রঙীন লােভন,
কত না লেবেল-এ।"

তথ্যসূত্র:- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস , মাহবুবুল আলম।
৯৭৮.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার: 
- তিনি আনুমানিক ১৭৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। 
- উইলিয়াম কেরির সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন। 
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা। 
- তিনি ১৮১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

তার রচিত গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন, 
- রাজাবলী, 
- হিতোপদেশ, 
- বেদান্তচন্দ্রিকা, 
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৯.
'তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ'- কে জানিয়েছেন এই অভিবাদন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) আসাদ চোধুরী
  3. গ) কামাল চৌধুরী
  4. ঘ) অসীম সাহা
ব্যাখ্যা
সেনাশাসিত বাংলাদেশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী রাজত্বের অবসান চেয়েছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। দেশে তখন স্বৈরাচার উৎখাতের আন্দোলন তুঙ্গে। ছাত্র-শিক্ষক-জনতা সবাই তখন রাজপথে। তুমুল আন্দোলনের মুখে যখন স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তখন দেশে গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত হয়। সৈয়দ শামসুল হক তখন লিখেছেন_ 'তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ' কবিতাটি।
উৎসঃ দৈনিক সমকাল
৯৮০.
বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক-
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক অতুলপ্রসাদ সেন। বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। 'কয়েকটি গান' ও 'গীতিগুঞ্জ' অতুলপ্রসাদ সেনের গানের সংকলন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯৮১.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুন্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি ?
  1. ক) কাপালিক
  2. খ) গোবিন্দলাল
  3. গ) নিখিলেশ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

কপালকুণ্ডলা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে
- ১৮৭৩ সালে গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন।
-  এই উপন্যাসের চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি

- গোবিন্দলাল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের চরিত্র।
- নিখিলেশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ;ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের চরিত্র।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৯৮২.
শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পৈত্রিক নিবাস কোন জেলায়?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. বিক্রমপুর
  3. মানিকগঞ্জ
  4. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পৈত্রিক নিবাস কিশোরগঞ্জ জেলার মসূয়া গ্রামে।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল;
- হ-য-ব-র-ল;
- পাগলা দাশু;
- শব্দকল্পদ্রুম;
- বহুরূপী;
- খাই খাই;
- অবাক জলপান;
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮৩.
আহমদ ছফা রচিত কবিতা গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) জল্লাদ সময়
  2. খ) গো হাকিম
  3. গ) গাভী বিত্তান্ত
  4. ঘ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা
-  প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত
- ওঙ্কার
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস 

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯৮৪.
মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আবুল হাসান
  3. আবুল হোসেন
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল:
- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

তাঁর রচিত আত্মকাহিনি ও দিনলিপি:
- রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৫.
'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থটির কবি হলেন-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
- 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• সৈয়দ আলী আহসান:
- ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮৬.
'জীবন ঘষে আগুন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক রচিত 'জীবন ঘষে আগুন' গল্পগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৭.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা ও কাঁদো নদী কাঁদো - এই তিনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপন্যাস।
পক্ষান্তরে খোয়াবনাম আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯৮৮.
সেলিম আল দীন এর অসম্পূর্ন নাটক কোনটি?
  1. নীল শয়তান
  2. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  3. কিত্তনখোলা
  4. হাড় হাড্ডি
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন এর অসম্পূর্ন নাটক- হাড়-হাড্ডি।
- এই নাটকের পরিকল্পনার মাত্র এক তৃতীয়াংশ তিনি লিখেছিলেন। সেটাই সমাপ্ত করার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান, তাহিতি’ ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯৮৯.
মুনীর চৌধুরীর 'মানুষ' নাটকের মূল উপজীব্য কী?
  1. সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  4. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'মানুষ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত এক দৃশ্য বিশিষ্ট নাটক 'মানুষ'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত। 
- নাটকের চরিত্র: ফরিদ,জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি (১৯৬৬),
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক, নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। 
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): রূপকাশ্রয়ী নাটক।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)।
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, 'মানুষ' নাটক ও বাংলাপিডিয়া।

৯৯০.
'ওয়ারিশ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯১.
'ওরা কদম আলী' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
- 'ওরা কদম আলী' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯২.
"কালের ধুলোয় লেখা" কার স্মৃতিকথা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

• শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৯৩.
'সত্য মিথ্যা' ভাবানুবাদ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবু রুশদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহম্মেদ
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ:
আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৪.
'কেরি সাহেবের মুন্সী' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. রাজশেখর বসু
  2. খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস
  3. প্রমথনাথ বিশী
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• 'কেরী সাহেবের মুন্সী'- উপন্যাসটির রচয়িতা 'প্রমথনাথ বিশী'।

প্রমথনাথ বিশী: 
- ১৯০১ সালের ১১ জুন নাটোরের জোয়াড়ি গ্রামে জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রমথনাথ ১৯১০ সালে শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মবিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।
- ১৯৫০ সালে প্রমথনাথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে যোগদান করেন।
- কেরী সাহেবের মুন্সী ও লালকেল্লা তাঁর দুটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালের ১০ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস ও গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- জোড়াদিঘির চৌধুরী পরিবার, 
- কেশবতী,
- গল্পের মতো গল্প,
- ডাকিনী,
- ব্রহ্মার হাসি,
- সিন্ধুদেশের প্রহরী,
- চলন বিল,
- অলৌকিক,
- কেরী সাহেবের মুন্সী।

উল্লেখ্য, 
রামরাম বসু উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান। রামরাম বসু ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৯৯৫.
নিচের কে নাগরিক কবি হিসাবে বিবেচিত নয়?
  1. সমর সেন
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

- সমর সেন, বুদ্ধদেব বসু ও শামসুর রাহমানের কবিতায় নাগরিক জীবনের ক্লেদজ জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়। তাই তাদেরকে নাগরিক কবি বলা হয়।
- অন্যদিক সুকান্ত ভট্টাচার্য কিশোর কবি, তাঁর কাব্যে মার্কসবাদী রাজনীতি প্রবলভাবে দেখা যায়।
- মনে রাখা দরকার সমর সেনের কবিতাও মার্কসবাদী চেতনায় ভাস্বর।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯৯৬.
'পথে প্রবাসে' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
পথে প্রবাসে' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়‌। অসমাপিকা, আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য এগুলো তার উপন্যাস।
Source: Live MCQ Lecture
৯৯৭.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুবরণ করেন -
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯৪১ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯৮.
সৈয়দ মুজতবা আলীর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেশে বিদেশে
  2. খ) পঞ্চতন্ত্র
  3. গ) অবিশ্বাস্য
  4. ঘ) জলে ডাঙ্গায়
ব্যাখ্যা
বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ ছাত্রদের নিয়ে রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ 'চাচা কাহিনী' রচনা করেন সৈয়দ মুজতবা আলী।
তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে
ভ্রমণকাহিনীঃ দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে-ডাঙায় (১৯৬০);
উপন্যাসঃ অবিশ্বাস্য, শবনম;
রম্যরচনাঃ পঞ্চতন্ত্র উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৯৯৯.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প-
  1. গণদেবতা
  2. পঞ্চগ্রাম
  3. রসকলি
  4. চৈতালী
ব্যাখ্যা

• 'রসকলি' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়,
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। 
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।

- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 

- প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি।
- বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু


• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস -
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
- পঞ্চগ্রাম
- গণদেবতা 
- নাগিনী কন্যার কাহিনী 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস

- চৈতালি ঘূর্ণি
- ধাত্রী দেবতা
- কালিন্দী
- কবি
- গণদেবতা
- আরগ্য
- নিকেতন
- পঞ্চপুণ্ডলী
- রাধা ইত্যাদি

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প- 
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০০০.
'আলোকিত গহ্বর' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কবিতাগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'আলোকিত গহ্বর' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত - প্রবন্ধগ্রন্থ
- গ্রন্থটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

হাসান হাফিজুর রহমান: 
- তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।