বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য [সংজ্ঞা গুণ ইত্যাদি সম্পর্কিত]

মোট প্রশ্ন২৩২এই পাতা৩১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য [সংজ্ঞা গুণ ইত্যাদি সম্পর্কিত]

PrepBank · পাতা / · ২০১২৩১ / ২৩২

২০১.
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) আসক্তি
  4. ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ - এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিচ্ছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় : চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

২০২.
বাক্যে যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে-
  1. কর্ম
  2. ক্রিয়া
  3. কর্তা
  4. পদ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া।
- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলো কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনো কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

 যেমন "সজল ও লতা বই পড়ে।" এটি একটি বাক্য।
- বাক্যে 'সজল ও লতা' হলো কর্তা, 'বই' হলো কর্ম এবং 'পড়ে' হলো ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২০৩.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ?
  1. শুদ্ধ বানান 
  2. যোগ্যতা
  3. আবেগ 
  4. ক্রিয়ার ব্যবহার 
ব্যাখ্যা

• সার্থক বাক্যের গুণ - যোগ্যতা।

-----------------------
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০৪.
অন্ধকার হয়ে এসেছে-বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।- বাক্যটি একটি-
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য

যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (i), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে । যেমন-
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৫.
বাংলা বাক্যেের শুরুতে বসে-
  1. বিধেয়ের পূরক
  2. বিধেয়ের ক্রিয়া
  3. বিধেয়ের প্রসারক
  4. বাক্যের  উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা বাক্যে, উদ্দেশ্য বাক্যের শুরুতে বসে বাক্য গঠন করে।

-------------------
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]

• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০৬.
সময় বোঝাতে জটিল বাক্যের যোজকের কোন জোড় ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) যে-সে
  2. খ) যত-তত
  3. গ) যেটুকু-সেটুকু
  4. ঘ) যখন-তখন
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন,
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৭.
বাক্যের তিনটি গুণ কী কী?
  1. আকাঙ্ক্ষা, আসক্তি ও বিধেয়
  2. আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা
  3. যোগ্যতা, উদ্দেশ্য ও বিধেয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

• আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ: কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

• আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

• যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২০৮.
টাকায় কি সব হয়? - এ বাক্যের নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) টাকায় সব হয় না।
  2. খ) টাকায় কি না হয়।
  3. গ) টাকায় সব হয়।
  4. ঘ) টাকায় সবই হয়।
ব্যাখ্যা
প্রশ্নবোধক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে -
বাক্যের মূল অর্থ ঠিক রেখে প্রশ্নবাচক বাক্যে কি তুলে দিতে হবে। 
না, নাই, নি, জানি না, বুঝি না ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্ববোধক যতিচিহ্ন বাদ দিয়ে দাঁড়ি দিতে হবে।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
২০৯.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে অর্থানুসারে বাক্য কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৫
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
সাত ভাগে ভাগ করা যায়। 
১. বিবৃতিমূলক বা বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য 
২. প্রশ্নবোধক বা প্রশ্নাত্মক বাক্য
৩. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
৪. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
৫. কার্যকারণাত্মক বাক্য
৬. সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য
৭. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
২১০.
‘তারা তোমাদের ভোলেনি’ - এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. আবেগবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

অন্যদিকে,
প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন,
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২১১.
নিচের কোন বাক্যে যৌগিক ক্রিয়া রয়েছে?
  1. ক) এখন যেতে পার
  2. খ) তাজমহল দর্শন করলাম
  3. গ) তুলি ফুল তোলে
  4. ঘ) মাথাটা ঝিমঝিম করছে।
ব্যাখ্যা
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও আরেকটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলে যদি একটি ক্রিয়া গঠিত হয় তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন : সাইরেন বেজে উঠল।
এখানে বেজে অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে উঠল সমাপিকা ক্রিয়া মিলে একটি ক্রিয়া গঠিত হয়েছে।


উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০১৯)
২১২.
'কাল বিতরনী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত'- বাক্যটিতে কিসের অভাব?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) সম্প্রসারন
ব্যাখ্যা

বাক্যের অর্থসংগতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ বিন্যাসই হল আসত্তি।

'কাল বিতরনী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত'- বাক্যটিতে পদ সন্নিবেস ঠিকভাবে না হওয়াতে ভাবটি প্রকাশ পায়নি। তাই এটি বাক্য হয়নি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

২১৩.
শাপলা পড়ছে, শালুক ঘুমিয়ে পড়েছে। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
দুটি সরল বাক্যের মাঝে কমা হলেও যৌগিক বাক্য হতে পারে, এক্ষেত্রে কমাই যোজকের কাজ করে, অর্থাৎ যোজক উহ্য থাকে। যেমন : 
- শাপলা পড়ছে, শালুক ঘুমিয়ে পড়েছে। (‘আর’ লোপ)
- তুমি যাবে, বেশিক্ষণ বসবে না। (‘তবে’ লোপ)
- এখন আর ভাত খাব না, এক কাপ চা দাও। (‘বরং’ লোপ)

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
২১৪.
'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটিতে কোন গুণটির অভাব?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসক্তি
  3. আসত্তি
  4. যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
সার্থক বাক্যের গুণ ৩ টি - 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি 
- যোগ্যতা 

'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব ঘটেছে। 
- বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যোগ্যতা। 
- যেমন- 'বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে' এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারন বাক্যটির পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন আছে। 
- কিন্তু 'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারাবে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
একটি সার্থক বাক্যের গুণ কয়টি? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি 
ব্যাখ্যা
• বাক্য:
- যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।
- কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়।
বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক।
- এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি অখন্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে।
- ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই। যেমন-
(১) আকাঙক্ষা
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা

১. আকাঙক্ষা:
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙক্ষা। যেমন 'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

২. আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে। যেমন- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২১৬.
বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে কী বলা হয়?
  1. ধ্বনি
  2. পদ
  3. বর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন - "সজল ও লতা বই পড়ে।" এটি একটি বাক্য।
পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- রূপতত্ত্ব অংশে শব্দশ্রেণি নামে বাক্যের এই পদ বিভাজনকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উপরের বাক্যের 'সজল', 'লতা' ও 'বই' হলো বিশেষ্য, 'ও' হলো যোজক এবং 'পড়ে' হলো ক্রিয়া।
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছ অনেক সময়ে পদের মতো কাজ করে। তখন সেই একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বর্গ বলা হয়।
উপরের বাক্যে 'সজল ও লতা' একটি বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৭.
‘সবকটি জানালা খুলে দাও না’ বাক্যে ‘না” এর ব্যবহার-
  1. ক) নঞর্থক
  2. খ) অন্তার্থক
  3. গ) নিরর্থক
  4. ঘ) অলংকার সূচক
ব্যাখ্যা
• অলংকার:
অলংকার শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- যার দ্বারা ভূষিত করা হয় বা সজ্জিত করা হয়। নারীদেহকে সুন্দর ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করবার জন্যে যেমন কানে দুল, গলায় হার, নাকে নোলক, হাতে চুড়ি, পায়ে মল ইত্যাদি অলংকার দ্বারা সজ্জিত করা হয়, তেমনি সাহিত্যের অঙ্গসৌষ্ঠবকে বৃদ্ধি করবার জন্যও বিভিন্ন অলংকার ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, কাব্যের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করবার জন্যে যা দ্বারা কাব্যকে সজ্জিত করা হয় তাই অলংকার।
অলংকারের কাজ সৌন্দর্যবর্ধন, আকর্ষণ সৃষ্টি করা এবং আবেগের প্রশান্তির দ্যেতনা আনয়ন।

• ‘সবকটি জানালা খুলে দাও না’ - প্রদত্ত বাক্যে ‘না’ শব্দটি বাক্যের সৌন্দর্যবর্ধন, আকর্ষণ সৃষ্টি এবং আবেগের প্রশান্তির দ্যেতনা আনয়ন করেছে।
[অতএব প্রদত্ত বাক্যে ‘না’ অলংকার সূচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২১৮.
গুরুচণ্ডালী দোষ কখন ঘটে?
  1. ক) দেশীয় শব্দের সঙ্গে বিদেশী শব্দের মিলনে
  2. খ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তদ্ভব শব্দের মিলনে
  3. গ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে অর্ধতৎসম শব্দের মিলনে
  4. ঘ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলনে
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৯.
'তুমি এত নিচ' এই বাক্যে কী প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) ঘৃণা
  2. খ) লজ্জা
  3. গ) ধিক্কার
  4. ঘ) ক্রোধ
ব্যাখ্যা

ঘৃণা - তুমি এত নিচ।
লজ্জা - ছিঃ ছিঃ তার সঙ্গে পারলেনা।
ধিক্কার - ছিঃ তোমার এই কাজ।
ক্রোধ - তোমাকে দেখে নেবো।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

২২০.
'তুমি ধনী কিন্তু উদার নও' - বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) ধনী হলেও তুমি উদার নও।
  2. খ) যদিও তুমি ধনী তবুও উদার নও।
  3. গ) ধনী হলেও সকলে উদার হতে পারে না।
  4. ঘ) তুমি ধনী এবং তুমি উদার নও।
ব্যাখ্যা
'তুমি ধনী কিন্তু উদার নও।'- যৌগিক বাক্যের জটিল রূপ 
- 'যদিও তুমি ধনী তবুও উদার নও।'

যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করতে হবে।
২. সংযােজক, বিয়ােজক ও ব্যতিরেকাত্মক অব্যয় পদের বিলুপ্তি ঘটাতে হবে।
৩. নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যগুলাের মধ্যে একটিকে প্রধান রেখে অন্যান্য খণ্ডবাক্যগুলােকে অপ্রধান বা আশ্রিত বাক্যে পরিণত করতে হবে।
৪. নিরপেক্ষ বাক্য দুটির পূর্বে সম্বন্ধসূচক অব্যয় পদ ব্যবহার করতে হয়।

যেমন:
যৌগিক : মনােযােগ দিয়ে পড়াশােনা কর, তবে পাস করতে পারবে।
জটিল : যদি মনােযােগ দিয়ে পড়াশােনা কর, তবে পাস করতে পারবে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) কর্তা
  2. খ) কর্ম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া।
- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।
- যেমন- “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য।
- বাক্যে ‘সজল ও লতা’ হলাে কর্তা, ‘বই’ হলাে কর্ম এবং ‘পড়ে’ হলাে ক্রিয়া। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২২২.
“গরু মাংস খায়” বাক্যটি অশুদ্ধ কেন?
  1. ক) আসত্তির অভাব
  2. খ) যোগ্যতার অভাব
  3. গ) অর্থ অস্পষ্ট বলে
  4. ঘ) পদবিন্যাসে ত্রুটি থাকা
ব্যাখ্যা

বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।

- “গরু মাংস খায়” বাক্যটি তার ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ গরু মাংস খায় না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

২২৩.
'পৃথিবী সূর্যের চারদিকে' — এখানে কোন গুণের অভাব আছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
ব্যাখ্যা

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

যেমন:
- ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২৪.
বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলে-
  1. বিকল্প
  2. প্রসারক
  3. উদ্দেশ্য
  4. পূরক
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।
- বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
- বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
----------------------------------------------------
• বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে।
- উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক।
- এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন
- রেজাউল সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।
এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'রেজাউল সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২২৫.
বাংলা প্রবাদ প্রবচনের ক্ষেত্রে শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ক) এক ঢিলে একাধিক পাখি মারা।
  2. খ) অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট
  3. গ) আদার ব্যাপারির উড়োজাহাজের খবর।
  4. ঘ) কারো মাঘ মাস কারো সর্বনাশ।
ব্যাখ্যা
বাংলা প্রবাদ প্রবচনের ক্ষেত্রে শুদ্ধ বাক্য = অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট 

অন্যান্য প্রবাদ প্রবচনের শুদ্ধ রূপ- 
- এক ঢিলে দুই পাখি মারা।
- আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর।
- কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৬.
'উটপাখি আকাশে ওড়ে।' বাক্যে কোন গুনের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. বাহুল্য
ব্যাখ্যা
• যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম 'যোগ্যতা'। ব্যাকরণে বাকা গঠনের যোগ্যতা বলতে বাক্যের ভাবসত্য প্রকাশ ক্ষমতাকে বোঝায়। যেমন:
- সূর্য পূর্ব দিকে উঠছে।
- পাখিরা আকাশে ওড়ে।

কিন্তু যদি বলা হতো- উটপাখি আকাশে ওড়ে।
তাহলে আকাঙ্ক্ষা ও আসত্তি অনুযায়ী পদগুলো ব্যবহৃত হলেও ভাবসত্য বা যুক্তিসঙ্গত অর্থের ওভাবে বক্তার কথা বাস্তবসম্মত ভাব প্রকাশ করে না। কারণ 'উটপাখি' আকাশে উড়তে পারে না। তাই বাক্যের অর্থগত ও ভাবগত মিলনের জন্যে ব্যবহৃত পদের সুষম সমন্বয় তথা যোগ্যতা থাকতে হবে। 

--------------------
প্রথাগত ব্যাকরণে একটি সার্থক বা আদর্শ বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি গুণের কথা বলেছেন:
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি এবং
৩. যোগ্যতা।

• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ ভালোভাবে বোঝার জন্যে যতগুলো পদের প্রয়োজন তার সব কটি যদি বাক্যে না থাকে এবং কোনো এক বা একাধিক পদ অবশিষ্ট থাকে, তবে ওই অবশিষ্ট পদ শোনার ইচ্ছাকে বাক্যের 'আকাঙ্ক্ষা' বলে।
যেমন-
- ঢাকা বাংলাদেশের।
- অর্থই অনর্থের। 

[বলা হলে, তাতে বাক্যের অর্থোপলব্ধি হয় না। মানে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন থেকে যায়- 'ঢাকা বাংলাদেশের কী?' অথবা 'অর্থ অনর্থের কী?' অর্থাৎ আরো কিছু শোনার বাসনা বা আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলে বাক্যটি সম্পূর্ণ হতো। যেমন প্রথম বাক্যের সঙ্গে 'রাজধানী' (ঢাকা বাংলাদেশে রাজধানী) এবং দ্বিতীয় বাক্যের সঙ্গে 'মূল' (অর্থই অনর্থের মূল) শব্দ যোগ করা হলো, অমনি শোনার আকাঙ্ক্ষা মেটার সঙ্গে সঙ্গে বাক্যের অর্থোপলব্ধির মধ্য দিয়ে বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ হলো]  

• আসত্তি:
বাক্যে ব্যবহৃত পদসমষ্টি পরস্পর অন্বয়যুক্ত বা সম্পর্ক অনুযায়ী যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট বা সংস্থাপিত হলে তাকে 'আসত্তি' বলে। এককথায়- 'আসত্তি' হলো বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর ব্যাকরণসম্মত অবস্থান বা বিন্যাস।
অন্যভাবেও বলা যায়, বাক্যের সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশের জন্যে বাক্যস্থিত পদগুলোকে সঠিকভাবে সাজিয়ে লেখা বা বলার নামই আসত্তি।
যেমন:
- শেরেবাংলা মহান নেতা ছিলেন।

[এখানে যদি বলা হতো- 'শেরেবাংলা মহান ছিলেন নেতা' তাহলে বক্তার মনোভাব সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে প্রকাশ পেত না, যদিও দুটি উদাহরণেই বাক্য গঠনের প্রয়োজনীয় সবকটি পদ রয়েছে। তাই বাক্যে ব্যবহৃত পদ বা পদসমষ্টিকে পরস্পর সম্পর্ক অনুযায়ী যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট হতে হবে। কেননা যথাস্থানে পদগুলো সাজালে তবেই অর্থ স্পষ্ট হয় আর এই পরস্পর মিলযুক্ত পদসমূহের সন্নিহিত অবস্থানই 'আসত্তি'। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৭.
কোন বাক্যে বাহুল্য দোষ প্রত্যক্ষ করা যায়?
  1. ক) পরিবারের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
  2. খ) শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।
  3. গ) দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
  4. ঘ) দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।
ব্যাখ্যা
• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৮.
"সে কি যাবে" এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) আদেশসূচক
  2. খ) বিষ্ময়সূচক
  3. গ) প্রশ্নসূচক
  4. ঘ) বিবৃতিসূচক
ব্যাখ্যা

প্রশ্নসূচক- এ ধরনের বাক্যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়।
যথাঃ যাবে নাকি? কেন এসেছ? 'সে কি যাবে?' - এ বাক্যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।

বিষ্ময়সূচক- এ ধরনের বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায়।
যেমনঃ তাজ্জব ব্যপার!

আদেশসূচক- 
এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যেমনঃ চুপটি করে বস।

বিবৃতিসূচক-
সাধারণভাবে হ্যাঁ বা না বোধক বাক্য।
যেমনঃ সে ঢাকা যাবে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

২২৯.
তুমি দীর্ঘজীবী হও। - বাক্যটিকে নির্দেশাত্মক রূপ কী?
  1. ক) তোমার দীর্ঘজীবন হোক।
  2. খ) তোমার দীর্ঘজীবন প্রত্যাশা করছি।
  3. গ) তোমার দীর্ঘজীবন কামনা করছি।
  4. ঘ) তুমি অনেক দিন বেঁচে থাকো।
ব্যাখ্যা
ইচ্ছামূলক বর্তমান কালের ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালের নির্দেশক ক্রিয়ায় রূপান্তর করতে হবে।
নির্দেশক বাক্যে প্রয়োজনমতো ‘প্রার্থনা করছি’, ‘কামনা করছি’ ইত্যাদি যুক্ত করতে হবে।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
২৩০.
জটিল বাক্যে রুপান্তরিত করুন: বৃষ্টি হলে বের হব না'-
  1. ক) যদি বৃষ্টি না হয়, তবে আমরা বের হব না।
  2. খ) যদি বৃষ্টি না হয়, তবে আমরা বের হব না।
  3. গ) বৃষ্টি হলো এবং আমরা বের হলাম।
  4. ঘ) যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টি হলে বের হব না'-এর জটিল রূপ = যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
২৩১.
'সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।' বাক্যে 'পড়ছে' কী?
  1. উদ্দেশ্য
  2. বিধেয়ের প্রসারক
  3. বিধেয়ের ক্রিয়া
  4. উদ্দেশ্যের প্রসারক
ব্যাখ্যা

• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন:
- সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।

[এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।