বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৬০১৭০০ / ৩,৮৭৯

৬০১.
এইচআইভি কী?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) সায়ানো ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
• এইচআইভি একটি ভাইরাস।

• HIV এর পূর্ণ রূপ: 
H = Human (মানুষ)
I = Immuno-deficiency (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস)
V = Virus (জীবাণু)
HIV কে সম্প্রসারণ করলে দাঁড়ায় Human Immunodeficiency Virus যার বাংলা অর্থ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী জীবাণু। 
এই ভাইরাস কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে পরিণামে তার এইডস হয়।

• আমাদের প্রত্যেকের শরীরে নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। এই প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকার কারণে কোনো রোগের জীবাণু প্রবেশ করলে সহজে শরীরের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এমন কিছু ভাইরাস আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আস্তে আস্তে দুর্বল করে। এক সময় তা সম্পূর্ণভাবেই নিঃশেষ করে ফেলতে পারে। এইচআইভি এমনই একটি ভাইরাস।
- এইচআইভি মানুষের শরীরে উৎপন্ন তরল পদার্থ যেমন- রক্ত, বীর্য ও বুকের দুধ ইত্যাদিতে থাকে।
- এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির এই তরল পদার্থগুলো (রক্ত, বীর্য, যোনিরস) বিভিন্নভাবে সুস্থ লোকের শরীরে প্রবেশ করলে এবং সংক্রমিত মায়ের দুধ সুস্থ শিশু পান করলে তার শরীরেও এইচআইভির সংক্রমণ ঘটবে।


উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০২.
Biotechnology শব্দটি প্রথম কে, কোন বছর প্রবর্তন করেন?
  1. গ্রেগর মেন্ডেল, 1863 সালে 
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক, 1953 সালে
  3. স্ট্রাসবুর্গার, 1953 সালে
  4. কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
ব্যাখ্যা

- হাঙ্গেরীয় কৃষি প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) সর্বপ্রথম ১৯১৯ সালে "Biotechnology" বা "জৈবপ্রযুক্তি" শব্দটি প্রবর্তন করেন।

জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): 

- জীবপ্রযুক্তি দুটি শব্দ Biology এবং Technology-এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। 
অর্থাৎ, Biology এবং Technology-এর আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ই হলো জীবপ্রযুক্তি। 
- 1919 সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। 
- এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী বা অণুজীব) উদ্ভাবন বা সেই জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। 

- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তি কোনো নতুন সংযোজন নয়, মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। গাঁজন এবং চোলাইকরণের (Fermentation and brewing) মতো প্রযুক্তিজ্ঞান মানুষ প্রায় ৪০০০ বছর আগেই রপ্ত করেছে। 
- 1863 সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কৌলিতত্ত্ব বা জেনেটিক্স-এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের পর থেকে জীবপ্রযুক্তি নতুনরূপে অগ্রযাত্রা শুরু করে। 
- 1953 সালে Watson এবং Crick কর্তৃক ডিএনএ ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আজকের আধুনিক জীবপ্রযুক্তির শুরু। 
- জীবপ্রযুক্তির অনেক পদ্ধতির মধ্যে বর্তমানে টিস্যু কালচার (Tissue culture) ও জিন প্রকৌশল (Genetic engineering) পদ্ধতি কৃষি উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০৩.
মহাকাশের শুরু কোথা থেকে?
  1. ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  2. ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  3. ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  4. ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৪০ কিলোমিটার উচ্চতায়
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর মত এর বায়ুমন্ডলও মহাকাশে ঘুরছে। এজন্য বায়ুমন্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। একে পৃথিবীর অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে তগাকে বায়ুমন্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমন্ডল থাকে না বললেই চলে। অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমন্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৬০৪.
মানুষের শরীরে কত ধরনের রক্ত কণিকা আছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে৷ যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা, 
৩. অনুচক্রিকা।

• লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
• শ্বেত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ৷
• অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের। এতে নউক্লিয়াস থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৫.
পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কোন দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ভূমিকম্প
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
• পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়- ভূমিকম্প। 
----------------- 
• ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- কোন ধরনের আগাম সতর্ক সংকেত ব্যতীত অর্থাৎ কার্যকর পূর্বাভাস ছাড়া সংঘটিত দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প।
- ভূমিকম্প সংঘটনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও ভূমিকম্প সংঘটনের পূর্বে সতর্কতা প্রাপ্তি এখনো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে,
- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস পাওয়া যায়।
---------------------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ (উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল), মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ (মধ্য অঞ্চল) এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল)।
- ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় নদীর গতিপথ পাল্টে যায়।
যেমন, ১৭৮৭ সালে আসামে (ডাউকি ফন্ট) যে ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উচু হয় ফলে তার গতিপথ পাল্টে গিয়ে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৬.
গ্রিনিচের মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের কী বলা হয়?
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. দ্রাঘিমা
  3. অক্ষাংশ
  4. নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian): 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রিনিচ (Greenwich) মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- এই রেখার মান ০ ডিগ্রি ধরা হয়েছে।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের সাহায্যে অপরাপর দ্রাঘিমারেখাগুলো অঙ্কন করা যায়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে ৪৫ ডিগ্রি পূর্বে যে মধ্যরেখা বা দ্রাঘিমারেখা তার উপর সকল স্থানের দ্রাঘিমা ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৬০৭.
জাংশন ডায়োড সাধারণত কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) সুইচ হিসেবে
  2. খ) বিবর্ধক হিসেবে
  3. গ) রেকটিফায়ার হিসেবে
  4. ঘ) স্পন্দক হিসেবে
ব্যাখ্যা
রেকটিফিকেশন:
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেফটিফায়ার বলে।
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না।
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৬০৮.
মানবদেহের কোথায় লোহিত রক্ত কণিকা সঞ্চিত থাকে? 
  1. ফুসফুসে
  2. প্লীহায়
  3. বৃক্কে
  4. হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্ত কণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্ত কণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১-৯২% পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- রক্ত কণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
১। লোহিত রক্ত কণিকা, 
২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং 
৩। অণুচক্রিকা। 

লোহিত রক্ত কণিকা: 

- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৯.
নিকোলাস কোপার্নিকাস ছিলেন মূলত একজন - 
  1. রসায়নবিদ
  2. জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
  3. গণিতবিদ
  4. দার্শনিক
ব্যাখ্যা
নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭৩ সালে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- তিনি ২৪ মে, ১৫৪৩ সালে ইতালির রোমে মৃত্যুবরণ করেন। 

অন্যদিকে, 
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৬১০.
দুটি স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য ১° হলে সময়ের পার্থক্য হবে-
  1. ৪ মিনিট
  2. ৬ মিনিট
  3. ৮ মিনিট
  4. ১০ মিনিট
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মানমন্দির: 
- পৃথিবীর দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১° হলে ঐ দুটি স্থানের সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। 
- তাহলে ১ ঘন্টা বা ৬০ মিনিটের জন্য দ্রাঘিমা পার্থক্য হবে (৬০/৪)= ১৫ ডিগ্রি। 
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত হওয়ায়, 
বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য (৯০ × ৪) = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 

- গ্রীনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। 
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গেছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়। 
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়। 
- গ্রীনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি এবং গ্রীনিচ মানমন্দির ওয়েবসাইট।
৬১১.
একটি টেলিফোনে কতটি উপাংশ থাকে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
- ১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন, যা নানা ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান আধুনিক টেলিফোনে রূপ নিয়েছে। 
- টেলিফোনের পাঁচটি উপাংশ থাকে। 
যথা - 
১। সুইচ: যেটি মূল টেলিফোন নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত অথবা বিচ্ছিন্ন করে। 
২। রিংগার: যেটি শব্দ করে জানিয়ে দেয় যে কেউ একজন যোগাযোগ করছে। 
৩। কি-প্যাড: যেটি ব্যবহার করে একজন অন্য একজনকে ডায়াল করতে পারে। 
৪। মাইক্রোফোন: যেটি আমাদের কণ্ঠস্বরকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে পরিবর্তন করে। 
৫। স্পিকার: যেটি বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে শব্দে রূপান্তর করে শোনার ব্যবস্থা করে দেয়। 

- প্রতিটি টেলিফোনেই তামার তার দিয়ে আঞ্চলিক অফিসের সাথে যুক্ত থাকে। আমরা যখন কথা বলার জন্য কোন নম্বরে ডায়াল করি, তখন আঞ্চলিক অফিসে সেই তথ্যটি পৌঁছে যায়। সেখানে একটি সুইচ বোর্ড থাকে যেটি নির্দিষ্ট গ্রাহকের টেলিফোনের সাথে যুক্ত করে দেয়। 
- বর্তমানে একটি অপটিক্যাল ফাইবারে একই সাথে আক্ষরিক অর্থে লক্ষ লক্ষ মানুষের কতাবার্তা পাঠানো সম্ভব তাই টেলিফোনে কথাবার্তা বলার বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে যা আগে অনেক খরচ সাপেক্ষ ছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১২.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' কোন উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়?
  1. সামাজিক বনায়ন জোরদার করা
  2. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
  3. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা
  4. রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

• সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৬১৩.
সেরিকালচার কী?
  1. রেশম পোকার চাষ বিদ্যা
  2. মাছ চাষ বিদ্যা
  3. পাখি পালন বিদ্যা
  4. চিংড়ি চাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা

• সেরিকালচার:
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- রেশম পকার ইংরেজি নাম Silk Worm.
- বৈজ্ঞানিক নাম: Bombyx Mori.
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- মৎস্য চাষ বিদ্যা - পিসিকালচার.।
- পাখিপালন বিদ্যা- এভিকালচার।
- চিংড়ি পালনবিদ্যা- প্রনকালচার।

উৎস: ব্রিটানিকা

৬১৪.
ভাইরাস সৃষ্টির সর্বশেষ ধাপ কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) নিউক্লিক এসিড
  3. গ) নিউক্লিওপ্রোটিন
  4. ঘ) প্রোটোভাইরাস
ব্যাখ্যা
প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড সমন্বয়ে নিউক্লিওপ্রোটিন তৈরি হয়।
নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রোটোভাইরাস তৈরি হয় এবং
সবশেষে প্রোটোভাইরাস থেকে ভাইরাস সৃষ্টি হয়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৬১৫.
কোন বিজ্ঞান শাখা মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করে?
  1. কসমোলজি 
  2. জিওলজি 
  3. অ্যাস্ট্রোফিজিক্স 
  4. অ্যাস্ট্রোনমি 
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়। 
- রাতের আকাশে আমরা অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখা যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011  । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুর হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এ সব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে।
- পরীক্ষা দুটি হলো- ১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৬.
আহ্নিক গতি বলতে কী বোঝায়?
  1. পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন
  2. সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
  3. পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন
  4. চাঁদের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলতে পৃথিবীর নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনকে বোঝানো হয়।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা সময়ে অনবরত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। 
- এই সময়কে সৌরদিন এবং আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়। 
- আহ্নিক গতির মূল কারণ হলো-পৃথিবীর আবর্তন এবং পৃথিবীর আকৃতি। 

আহ্নিক গতির ফলাফল:
১. দিবা-রাত্রির সংঘটন: পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তনের দরুন আহ্নিক গতি বা দিবা-রাত্রি সংঘটিত হয়। আবর্তনরত পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে সেই অংশ আলোকিত হয় অর্থাৎ সেই অংশে দিন এবং অপর অংশে অন্ধকারাচ্ছন্ন বা রাত থাকে।

২. জোয়ার-ভাটা: নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আহ্নিক গতির জন্য সমুদ্রে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।

৩. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি: ফেরেলের কোরিওলিস সূত্রানুসারে, আহ্নিক গতির কারণে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৭.
নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার কোনটি?
  1. হাড়ের গুড়া
  2. সরিষার খৈল
  3. গৃহস্থালির ছাই
  4. মাছের কাঁটা
ব্যাখ্যা
সরিষার খৈল: 
- সরিষার খৈল একটি চমৎকার নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার। 
- এটি সরিষার বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের পর যে খোসা ও অন্যান্য উপাদান বাকি থাকে, তা থেকেই তৈরি হয়। 
- সরিষার খৈল ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও জীবাণু কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। 
- এটি উদ্ভিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহকারী সার হিসেবে কাজ করে। 
- সরিষার খৈলে প্রচুর নাইট্রোজেন থাকে, যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক। নাইট্রোজেন গাছের পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং সবুজ রং বজায় রাখে। 
- সরিষার খৈল মাটির গঠনকে উন্নত করে, যা পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির বায়ু চলাচল সহজ করে। 
- সরিষার খৈল গাছের শিকড়ের ক্ষতিকারক জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- হাড়ের গুড়াতে মূলত ফসফরাস থাকে, যা শিকড়ের বৃদ্ধির জন্য ভালো, তবে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ নয়। 
- গৃহস্থালির ছাইতে সাধারণত পটাশিয়াম থাকে, যা গাছের ফুল ও ফল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তবে নাইট্রোজেনের উপস্থিতি কম। 
- মাছের কাঁটাতে কিছু পরিমাণ নাইট্রোজেন থাকতে পারে, তবে এটি সরিষার খৈলের মতো সমৃদ্ধ নয়। 
৬১৮.
কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড মানুষের মধ্যে তফাৎ লক্ষ্য করা যায়?
  1. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  4. জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড মানুষের মধ্যে তফাৎ প্রধানত জিনগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য করা যায়। এটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও বংশগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
 
জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 

১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৯.
ডায়োড এর দুইটি প্রান্ত হলো-
  1. গেট এবং ড্রেন
  2. পেনট্রোড এবং ট্রায়োড
  3. ড্রেন এবং উৎস
  4. অ্যানোড এবং ক্যাথোড
ব্যাখ্যা

- ডায়োড শব্দটি দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত, ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’। তাই সাধারণ ভাবে বলা যায় যে, দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড।
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড যার এক দিকে নেগেটিভ অপর দিকে পজেটিভ টার্মিনাল থাকে।
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।
- ডায়োড একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ যা বর্তনীতে একমুখী তড়িৎ প্রবাহ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।



সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬২০.
নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. শীতল ও ভারী
  2. উষ্ণ ও ভারী
  3. উষ্ণ ও হালকা
  4. শীতল ও হালকা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় অঞ্চল: 
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি উষ্ণ ও হাল্কা হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানি আয়তনে বৃদ্ধি পায় ও হালকা বলে সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। 
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬২১.
দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?
  1. ক) হাইপো-থাইরয়ডিজম
  2. খ) রাতকানা
  3. গ) এনিমিয়া
  4. ঘ) কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা
- আয়োডিনের অভাবে হাইপো-থাইরয়ডিজম হয়। সামুদ্রিক মাছ/শৈবাল আয়োডিনের ভাল উৎস।
- ''Severe and prolonged iodine deficiency, may lead to a deficient supply of thyroid hormones. This condition is referred to as hypothyroidism.''
Source: WHO and US National Library of Medicine National Institutes of Health
৬২২.
গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে নিচের কোনটি সংঘটিত হবে না? 
  1. আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়া  
  2. ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া 
  3. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া 
  4. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া 
ব্যাখ্যা

- গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে না, বরং বেড়ে যায়। 

গ্রিন হাউস এফেক্ট: 

- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রিন হাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 
- গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে- 
• সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
• আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে, 
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে।
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রিনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২৩.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. সুপারনোভা
  2. হোয়াইট ডোয়ার্ক
  3. নিউট্রন তারা 
  4. কোয়াসার 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি, অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি এই সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। সুতরাং, কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- 
• কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, 
• কোয়াসারের রং নীলাভ, 
• কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস এবং 
• কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৪.
মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক)
-  সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ কর
- মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়।
- ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। 

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোলাগা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে

মেসেনসেফানল (মধ্যমস্তিষ্ক)
- অগ্র ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের যোগসূত্র রচনা করে।
- দর্শন ও শ্রবণ তথ্যের সমন্বয় ঘটায় এবং প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক)
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ণ করে।
- ঐচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
৬২৫.
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের বিচারকদের পদের মেয়াদ কত বছর করে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত বা International Court of Justice (ICJ) জাতিসংঘের ছয়টি মূলসংস্থার একটি।
- এটি ১৯৪৫ সালের জুন মাসে জাতিসংঘ সনদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কার্যক্রম শুরু করে ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে।
- মোট ১৫ জন বিচারক নিয়ে ICJ গঠিত।
- বিচারকদের পদের মেয়াদ ৯ বছর করে।
- এদের মধ্য থেকে ৩ বছরের জন্যে একজন করে সভাপতি নির্বাচিত হয়।
- বর্তমান সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের জোয়ান ই. ডনোহু।
(তথ্যসূত্র: ICJ ওয়েবসাইট)
৬২৬.
গর্ভকালীন সময়ে বিপদসংকেত কোনটি নয়?
  1. ক) পাফুলা
  2. খ) রক্তপাত
  3. গ) জ্বর
  4. ঘ) ওজন বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
পাফুলা, রক্তপাত, জ্বর, হাঁপানি ইত্যাদি গর্ভকালীন সময়ে বিপদসংকেত। কিন্তু ওজন বৃদ্ধি সাধারণত প্রত্যেক মহিলারই হয়।
৬২৭.
The South Pole is located in the-
  1. ক) Arctic
  2. খ) Antarctic
  3. গ) Antipodes
  4. ঘ) Occident
ব্যাখ্যা
South Pole, southern end of the Earth’s axis, lying in Antarctica.
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড. গীলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে পৃথিবী একটি চুম্বক।
- এই ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে এবং উত্তর মেরু এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মেরু থেকে প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৬২৮.
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে কী বলে?
  1. স্বাধীন সঞ্চারণ
  2. ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র
  3. পৃথকীকরণ সূত্র
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• মেন্ডেলের সূত্র:
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

• মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র:
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়।
- ‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'।

• মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র:
- ‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়'।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৯.
কিডনি রোগের চিকিৎসা যে ডাক্তার করেন তাকে কী বলা হয়?
  1. Cardiologist
  2. Nephrologist
  3. Neurologist
  4. Pathologist
ব্যাখ্যা
নেফ্রোলজিস্ট:
- নেফ্রোলজিস্টরা হলেন মেডিক্যাল ডাক্তার যারা কিডনি-সম্পর্কিত রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ।
- তারা কিডনি রোগ, কিডনিতে পাথর এবং উচ্চ রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এর মতো অবস্থা পর্যালোচনা করে যা কিডনিকে প্রভাবিত করতে পারে।

নিউরোলজিস্ট:
- নিউরোলজিস্টরা হলেন ডাক্তার যারা স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাধিগুলির নির্ণয় এবং চিকিত্সার উপর পর্যবেক্ষণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড এবং স্নায়ু।
- তারা মৃগীরোগ, স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং পারকিনসন রোগের মতো অবস্থার সাথে মোকাবিলা করে।

প্যাথলজিস্ট:
- প্যাথলজিস্ট হলেন চিকিৎসা পেশাদার যারা টিস্যু, কোষ এবং শারীরিক তরল পরীক্ষা করে রোগগুলি অধ্যয়ন করে এবং নির্ণয় করে।
- প্রায়শই ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে রোগের কারণ শনাক্ত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

কার্ডিওলজিস্ট:
একজন কার্ডিওলজিস্ট হলেন একজন চিকিত্সক যিনি হৃদরোগ এবং রক্তনালী সম্পর্কিত অবস্থার রোগ নির্ণয়, চিকিত্সা এবং প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ। তারা প্রায়ই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং অ্যারিথমিয়াসের মতো অবস্থার সাথে মোকাবিলা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৬৩০.
কয়লার দহনের সময় কোন গ্যাস বায়ুতে মিশে এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে? 
  1. মিথেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
জ্বালানি বিশুদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব: 
- জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস, পানি ও তাপের সৃষ্টি হয়। 
- স্বল্প বায়ুতে জ্বালানি দহন করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের সাথে কিছু পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসও উৎপন্ন হয়। 
- কার্বন মনোক্সাইড (CO) খুব বিষাক্ত গ্যাস, এটি নীরব ঘাতক গ্যাস নামে পরিচিত এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ বর্জ্য সালফার ও নাইট্রোজেন থাকে। 
- কয়লার দহনের সময় বর্জ্য সালফার পরিবর্তিত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) এবং নাইট্রোজেন তার বিভিন্ন অক্সাইড যৌগ হিসেবে বায়ুতে মিশে থাকে। সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস বায়ুতে মিশে বায়ুর ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে। সালফিউরিক এসিড, এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে। 
- নাইট্রোজেন অক্সাইডও একইভাবে জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক এসিড, নাইট্রাস এসিড উৎপন্ন করে যা এসিড বৃষ্টি সৃষ্টিকারী উপাদান। 

- ইঞ্জিনের নকিং ক্ষমতা কমানোর জন্য জ্বালানি তেলের সাথে টেট্রাইথাইল লেড (TEL) মিশ্রিত করে দেয়া হয়। 
- এ ধরনের জ্বালানির দহনের ফলে লেড অক্সাইড (PbO) ও লেড ডাই অক্সাইড (PbO2) যৌগের সৃষ্টি হয় যা মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান। এটি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাতে বাঁধা সৃষ্টি করে। 
- এছাড়া যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), অদগ্ধ গ্যাসীয় জ্বালানি বিশেষত মিথেন বায়ুতে মিশে থাকে। 
- এসব বর্জ্য উপাদান বায়ুতে এসে সূর্য্যের আলোর উপস্থিতিতে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি করে যা 'ফটোকেমিক্যাল ধোঁয়া' হিসেবে পরিচিত। এ ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ক্ষয় করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভূমিকা রাখে। এই সবকিছু বিবেচনা করে আমাদেরকে পরিবেশ বান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত বিশুদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩১.
জোয়ার-ভাটার ওপর কোন মহাজাগতিক বস্তুর আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে? 
  1. সূর্য 
  2. চন্দ্র 
  3. পৃথিবী 
  4. নক্ষত্র 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি। 
- ফলে জোয়ার-ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বা চাঁদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। 
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩২.
কোন সময়ে চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সমকোণে অবস্থান করে?
  1. সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে
  2. অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে
  3. সপ্তমী ও অমাবস্যা তিথিতে
  4. অষ্টমী ও অমাবস্যা তিথিতে
ব্যাখ্যা
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র  ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না।
- এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৩.
এক মুখ্য জোয়ারের প্রায় কত সময় পর গৌণ জোয়ার ঘটে? 
  1. ২৪ ঘন্টা
  2. ১৮ ঘন্টা ২৬ মিনিট
  3. ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  4. ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট
ব্যাখ্যা
জোয়ার ভাঁটার সময়: 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন দু'বার করে জোয়ার ও দু'বার করে ভাঁটা হয়ে থাকে। 
- পশ্চিম থেকে পূর্বে পৃথিবী ২৪ ঘন্টায় একবার নিজ অক্ষের ওপর ঘোরে। চন্দ্রও নিজ কক্ষপথে অবস্থান করে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে এবং পৃথিবীর চারদিকে পরিক্রমণ করে। 
- চন্দ্র যদি স্থির থাকত তবে পৃথিবীর প্রত্যেক স্থান ২৪ ঘন্টা অন্তর একবার চাঁদের সামনে আসত এবং ঐ স্থানে মুখ্য জোয়ার হতো। 
- চন্দ্র যেহেতু নিজ কক্ষপথে সাড়ে ঊনত্রিশ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে, সেহেতু এটি একদিনে তার কক্ষের সাড়ে উনত্রিশ ভাগের একভাগ অগ্রসর হয়। কাজেই পৃথিবীর একবার আর্বতন সময়ে অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় চন্দ্র নিজ কক্ষের প্রায় ১৩° পথ অগ্রসর হয়। 
- সম্পূর্ণ একবার ঘুরে আসার পর ভূ-পৃষ্ঠের কোণ মধ্যরেখায় পুনরায় চাঁদের ঠিক নিচে আসতে ঐ ১৩° পথ বেশি অগ্রসর হতে হয়। এই ১৩° পথ অগ্রসর হতে পৃথিবীর আরো ১৩ × ৪=৫২ মিনিট সময় লাগে। তাই আজ যে জায়গায় মুখ্য জোয়ার হলো, আগামীকাল সেই জায়গায় মুখ্য জোয়ার ঠিক ২৪ ঘন্টা পর না এসে ২৪ ঘন্টা ৫২ মিনিট অর্থাৎ প্রায় ২৫ ঘন্টা পরে আসে। 
- এক মুখ্য জোয়ার চলে যাবার ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সাড়ে বার ঘন্টা পরে সেই জায়গায় গৌণ জোয়ার এবং ঐ স্থানের প্রত্যেক জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সোয়া ছয় ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়। 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৪.
ডাউকি ফল্ট বরাবর একটি প্রচন্ড ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের কোন নদী এর গতিপথ পরিবর্তন করে?
  1. ব্রহ্মপুত্র নদ
  2. পদ্মা নদী
  3. কর্ণফুলী নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প ভূ-পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও অস্থায়ী কম্পন। 
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়। 
- ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় নদীর গতিপথ পাল্টে যায়। 
যেমন- ১৭৮৭ সালে আসামে (ডাউকি ফন্ট) যে ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উঁচু হয় ফলে তার গতিপথ পাল্টে গিয়ে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৫.
ধূমকেতু কী দিয়ে তৈরী?
  1. গ্যাস, ধূলিকণা ও শিলা
  2. গ্যাস, পাথর ও পানি
  3. পাথর, আগুন ও ধূলিকণা
  4. পাথর, বরফ ও ধূলিকণা
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু:

- ধূমকেতু হলো পাথর, বরফ ও ধূলিকণা তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু।
- ২০৬১ সালের ২৮  জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ,১৫ জানুয়ারী ২০২২।
৬৩৬.
পৃথিবী যেই গ্যালাক্সির মধ্যে অবস্থিত, তার নাম কী?
  1. Sombrero
  2. Milkyway
  3. Andromeda
  4. Whirlpool
ব্যাখ্যা
• মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- সুদূর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বল্পালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয়।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।

- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সির নাম ‘আন্ড্রোমিডা’ (Andromeda).

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৬৩৭.
দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে মূলত কোন দুর্যোগের ঘটনা বেশি ঘটে?
  1. সুনামি
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. ভূমিকম্প 
ব্যাখ্যা

- ভূমিকম্প হলো দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে সবচেয়ে বেশি ঘটা একটি দুর্যোগ। যখন এই প্লেটগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খায়, একে অপরের নিচ দিয়ে চলে যায় বা পাশ কাটিয়ে যায়, তখন তাদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়। যখন এই সঞ্চিত চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়, তখন কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়। 

প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের মূল ধারণা হলো ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত যাদেরকে প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- টেকটোনিক প্লেটগুলো প্রতি বছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়, আবার কখনো কখনো একে অন্যের দিকে আসে। প্লেটগুলো কখনো কখনো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে আবার নিচে নামে। 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

- দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে। ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়। তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়, এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে, একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে। 
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। 
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬৩৮.
দৈর্ঘ্য পরিমাপের সবচেয়ে বড় একক কোনটি?
  1. নটিক্যাল মাইল
  2. আলোকবর্ষ
  3. পারসেক
  4. অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট
ব্যাখ্যা
পারসেক:
- মহাকাশের বিশাল পরিসরে দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য আমরা বিভিন্ন একক ব্যবহার করি। এর মধ্যে পারসেক (Parsec) হলো সবচেয়ে বড় একক।
- মহাকাশে দূরত্ব পরিমাপের জন্য পারসেক (Parsec) ব্যবহৃত হয়।
- ১ পারসেক (Parsec) = ৩.২৬ আলোকবর্ষ। 

অন্যদিকে, 
• নটিক্যাল মাইল:
- সাধারণত সমুদ্র বা আকাশপথে নটিক্যাল মাইল ব্যবহৃত হয়।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

• আলোকবর্ষ (Light Year):
- আলোকবর্ষ দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক। আলো ১ বছরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাই আলোকবর্ষ।
- এক আলোকবর্ষ (Light Year) = প্রায় ৯.৪ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার (9.46073 × 1012 কিমি)। 

• অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU):
- সূর্য এবং পৃথিবীর গড় দূরত্ব হলো অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU)।
- ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (Astronomical Unit - AU) = ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার।

উৎস: Britannica.
৬৩৯.
'হিগস বোসন কণা' নামটির সাথে জড়িত বাঙালী কে?
  1. ক) জগদীশচন্দ্র বসু
  2. খ) সত্যজিৎ বসু
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  4. ঘ) সুরেঞ্জিত বসু
ব্যাখ্যা
• মহাবিশ্বের সকল কণাকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা:
(১) ফার্মিওন ও
(২) বোসন।
তন্মধ্যে, "বোসন" নামটি এসেছে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম অনুসারে।

• স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। যথা: গেজ বোসন ও হিগস বোসন।

• হিগস বোসন (Higgs Boson):

- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪০.
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
- রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (Institute of Epidemiology, Disease Control and Research-IEDCR) ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ সরকারের একটি গবেষণা ইনস্টিটিউট যা বাংলাদেশে মহামারী ও সংক্রামক ব্যাধি গবেষণা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয় নিয়ে কাজ করে।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত।
- বর্তমান পরিচালক প্রফেসর ডা. তাহমিনা শিরিন।
(তথ্যসূত্র: IEDCR ওয়েবসাইট)
৬৪১.
মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা কত? 
  1. ১-১০০ ডেসিবল
  2. ১-৯০ ডেসিবল
  3. ১-১২০ ডেসিবল
  4. ১-৭৫ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আওয়াজই শব্দ দূষণ। 
- মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল। 
- কিন্তু ৮৫ ডেসিবল অথবা তার অধিক হলে একজন মানুষ শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। 
- শব্দ দূষণ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে। 
- তবে মানবসৃষ্ট কারণই মুখ্য। 
- শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। 
- সাধারণত শহরাঞ্চলে পরিবেশগত এই সমস্যা অধিক হয়ে থাকে। 


উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪২.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. ইউরিয়া
  2. টিএসপি
  3. পটাশ
  4. জিংক
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।
- নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় রুপান্তরিত করা হয়।
- অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন হয় ।
- এতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৪৬%।
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওইয়েবসাইট।

৬৪৩.
গ্লুকোজ কীসের উদাহরণ?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) স্নেহ
ব্যাখ্যা
- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ হলো এক শর্করা পুষ্টি উপাদান। মধু ও ফলের রসে পাওয়া যায়।
- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ হলো দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান। চিনি ও দুধে পাওয়া যায়।
- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন হলো বহু শর্করা পুষ্টি উপাদান। চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি প্রভৃতিতে পাওয়া যায়।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৬৪৪.
সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর নিকটতম ব্ল্যাকহোল খুজে পেয়েছে কোনটি?
  1. ক) ইউনিকর্ণ
  2. খ) টন ৬১৮
  3. গ) হোল্মবার্গ ১৫এ
  4. ঘ) এনজিসি ১২৭০
ব্যাখ্যা
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পৃথিবীর নিকটতম যে ব্ল্যাকহোল খুঁজে পেয়েছেন, তার নাম ইউনিকর্ণ। এটি পৃথিবী থেকে মাত্র 1,500 আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং সূর্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি বিশাল।
উৎস: www.space.com
৬৪৫.
বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কোন দিক থেকে কোন দিকে যায়? 
  1. দক্ষিণ থেকে উত্তর 
  2. পূর্ব থেকে পশ্চিম 
  3. নিম্নচাপ থেকে উচ্চচাপ 
  4. উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ 
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়।
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৬.
পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর দাড়িয়ে কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তন করছে?
  1. পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে
  2. উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে
  3. পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে
  4. দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে অবিরাম আবর্তন করছে। একবার আবর্তন করতে পৃথিবী সময় নেয় ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড যা এক সৌরদিন নামে অভিহিত।
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তনের এই গতিকে আহ্নিক গতি বলা হয়।
পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে সংঘটিত পরিবর্তন সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- দিবা-রাত্রি সংঘটন
- জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি
- সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি
- বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি
- তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি
- সময় নির্ধারণ
- উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সৃষ্টি প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৪৭.
মানবদেহে এ পর্যন্ত কতটি মৌল পাওয়া গেছে?
  1. ক) ১১৮ টি
  2. খ) ২৬ টি
  3. গ) ৯৮ টি
  4. ঘ) ৪২ টি
ব্যাখ্যা
এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ১১৮ টি। মানবদেহে প্রাপ্ত মৌলের সংখ্যা ২৬ টি।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৬৪৮.
Nife (নাইফ) নামে পরিচিত নিচের কোন স্তর? 
  1. ম্যান্টল
  2. লিথোস্ফিয়ার
  3. সেন্ট্রোস্ফিয়ার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রমন্ডল (Centrosphere/Core):

• পৃথিবীর কেন্দ্রের চারিদিকে প্রায় ৩,৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের যে গোলক অবস্থিত এর নাম কেন্দ্রমন্ডল বা সেন্ট্রোস্ফিয়ার।
• অন্তঃকেন্দ্র ও বহিঃকেন্দ্রকে একত্রে কেন্দ্রমন্ডল বলে। 
• এই স্তরের ঘনত্ব প্রায় ১০.৭৮ গ্রাম/সে.মি., যা গুরুমন্ডলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন।
• কেন্দ্রমন্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা - গঠিত। 
• এই স্তরে নিকেল (Ni) ও লৌহের (Fe) পরিমাণ বেশি থাকায় একে নাইফ (Nife) বলা হয়।
• এটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন। 
• এর বহিঃকেন্দ্রের পুরুত্ব আনুমানিক ২,২৭০ কি.মি. এবং অন্তঃকেন্দ্রের পুরুত্ব ১,২১৬ কি.মি.। 
• কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশ তরল এবং ভেতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে । 

উৎস: ভুমিরূপবিদ্যা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৪৯.
থিওরি অব রিলেটিভিটি কয়টি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
প্রথম স্বীকার্যঃ- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
দ্বিতীয় স্বীকার্যঃ- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)
৬৫০.
কার্ডিয়াক চক্র কয় ধাপে সম্পন্ন হয় ?
  1. ২ ধাপে
  2. ৩ ধাপে
  3. ৪ ধাপে
  4. ৫ ধাপে
ব্যাখ্যা
কার্ডিয়াক চক্র ৪ ধাপে সম্পন্ন হয় :

(ক) অলিন্দের ডায়াস্টোল:
এ সময় অলিন্দ দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে। ফলে সারা শরীরের যুক্ত রক্ত ঊর্ধ্ব এবং নিম্ন মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে এবং ফুসফুস থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারি  শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে প্রবেশ করে।

(খ) অলিন্দের সিস্টোল:
অলিন্দ দুটি রক্তপূর্ণ হলে এ দুটি সংকুচিত হয়। ডান অলিন্দ থেকে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয় এবং বাম অলিন্দ থেকে O2 সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে আসে।

(গ) নিলয়ের সিস্টোল:
নিলয় দুটি রক্তপূর্ণ অবস্থায় সংকুচিত হয়। এ সময় ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা বন্ধ থাকে এবং সেমিলুনার কপাটিকা খোলা থাকে। নিলয়ের সিস্টোলের সময় কপাটিকাগুলো বন্ধের সময় হৃৎস্পন্দনের প্রথম যে শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকে ‘লাব’ বলে। 

(ঘ) নিলয়ের ডায়াস্টোল:
নিলয়ে সিস্টোলের পর পরই নিলয়ের ডায়াস্টোল শুরু হয়। এই সময় আবার অলিন্দ থেকে রক্ত এসে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিলয় পূর্ণ হতে থাকে। এই সময় এখানকার সেমিলুনার ভালভ বন্ধের সময় যে দ্বিতীয় শব্দের সৃষ্টি হয় তাকে ‘ডাব’ বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫১.
গাছপালা বায়ুমণ্ডলে কি ত্যাগ করে?
  1. অক্সিজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশের জন্য বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
কেননা - 
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোনো দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়। 
- বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ। 
- গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়। 
- গাছপালা বিভিন্ন ছোট জীবজন্তু ও পাখির আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- গাছপালা বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫২.
অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করা হয় কোন যন্ত্রে?
  1. ক) ইসিজি
  2. খ) সিটি স্ক্যান
  3. গ) এন্ডোস্কোপি
  4. ঘ) এনজিওগ্রাফি
ব্যাখ্যা
চিকিৎসার কারণে দেহের ভেতরের কোনো অঙ্গকে বাইরে থেকে সরাসরি দেখার প্রক্রিয়ার নাম এন্ডোস্কোপি৷ এন্ডোস্কোপি যন্ত্রে অপটিকাল ফাইবার ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬৫৩.
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. নিয়ন
  2. আর্গন
  3. রেডন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা
আর্গন গ্যাস: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৪.
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক কত কিলোক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন?
  1. ক) ১৫০০ কিলোক্যালরি
  2. খ) ২০০০ কিলোক্যালরি
  3. গ) ২৫০০ কিলোক্যালরি
  4. ঘ) ৩৫০০ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
- একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত ৪ : ১ : ১
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ২৫০০ কিলোক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
- একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর দৈনিক ২০০০ কিলোক্যালরির সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস- নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৬৫৫.
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. ফটোইলেকট্রিক ইফেক্ট
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. নিউক্লিয় ফিউশন
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন (নবম-দশম শ্রেণি)।
৬৫৬.
মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক) কসমস
  2. খ) এস্ট্রোলার
  3. গ) স্কোর
  4. ঘ) আর্লিবার্ড
ব্যাখ্যা
মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ স্কোর। বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ আর্লি বার্ড। পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় INTEL SAT-1।
৬৫৭.
বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচ মান মন্দিরের সময়ের পার্থক্য কত? 
  1. - ৬ ঘণ্টা
  2. + ৬ ঘণ্টা
  3. + ৪ ঘণ্টা
  4. - ৪ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
গ্রিনিচ মান: 
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। 
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷ 
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়। 
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মান মন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘণ্টা অর্থাৎ, ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘণ্টা। 
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৮.
কোনটি পেটের আলসার নির্ণয়ের অন্যতম একটি উপায়?
  1. ক) কোমোথেরাপি
  2. খ) এক্সরে
  3. গ) এন্ডোসকপি
  4. ঘ) রেডিও থেরাপি
ব্যাখ্যা
এন্ডোসকপি যন্ত্র সাধারণত একটি বাঁকানো টেলিস্কোপ। এই যন্ত্রের দুটি নল থাকে, এদের একটির মধ্যদিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়।
আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহব্বরে প্রবেশ করে।
এই আলো ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে। দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত
আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষণীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে-তা দেখতে পারেন।

এন্ডোসকপির মাধ্যমে চিকিৎসকগন শরীরের অভ্যন্তরে বিশেষ করে পাকস্থলীতে যে কোনো ধরনের অস্বস্থিবোধ, ক্ষত, প্রদাহ এবং অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি পরীক্ষা করে থাকেন।  পেটে ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পরিপাকতন্ত্র, মূত্রনালী, স্ত্রী প্রজননতন্ত্র প্রভৃতির সমস্যার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এন্ডোসকপি ব্যবহার নির্ধারণ করেন। এছাড়া পেটের আলসার নির্ণয়ে এন্ডোসকপি করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬৫৯.
“সুনামি” সৃষ্টি হয় কেন?
  1. ক) সমুদ্রের তলদেশে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে
  2. খ) ঝড়ের কারণে
  3. গ) উষ্ণায়ণের কারণে
  4. ঘ) বৃষ্টিহীনতার কারণে
ব্যাখ্যা
সুনামি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি মূলত জাপানি শব্দ, এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
সমুদ্র তলদেশে প্রচণ্ড মাত্রার ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কিংবা অন্য কোনো কারণে ভূ-আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ভূকম্পনে সৃষ্ট এ সমুদ্র ঢেউ সুনামি নামে পরিচিত।
এই সামুদ্রিক ঢেউয়ের গতিবেগ ঘন্টায় ৮০০ থেকে ১৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৬৬০.
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন-
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) মেন্ডেলিফ
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণার নাম এটম দিয়েছিলেন গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬৬১.
টেকসই কৃষির মূলনীতি কোনটি?
  1. পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি
  2. উচ্চ ফলনশীল বীজ
  3. রাসায়নিক সারের ব্যবহার
  4. একফসলী চাষ
ব্যাখ্যা
• টেকসই কৃষির অন্যতম মূলনীতি হলো পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি। 

• টেকসই কৃষি:

- টেকসই কৃষি (Sustainable agriculture) হল এমন একটি কৃষি পদ্ধতি যা বর্তমান খাদ্য ও বস্ত্রের চাহিদা পূরণ করে, কিন্তু একই সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
- এটি পরিবেশের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব কমিয়ে, প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করে এবং টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করে। 

• টেকসই কৃষির মূলনীতি :- 
→ পরিবেশবান্ধব চাষপদ্ধতি যেমন:
- জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহার। 
- কীটনাশকের ব্যবহার  কমানো বা বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল। 
- জলসঞ্চয় ও মাটির উর্বরতা রক্ষা। 

→ বৈচিত্র্যময় চাষ (Crop diversification)। 

→ স্থানীয় সম্পদ ও জ্ঞানকে কাজে লাগানো। 

→ নবায়নযোগ্য সম্পদের ব্যবহার।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৬৬২.
সৌরজগতের গ্রহ কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
- সৌরজগতে মোট গ্রহের সংখ্যা ৮টি
যেমন:
- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি। 
- সবচেয়ে ছোট ও সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ। 
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই। 
- শুক্র গ্রহের বায়ুমন্ডল নেই।
- প্লুটো বর্তমানে সৌরজগতের গ্রহ নয়। এটি বামন গ্রহের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৬৩.
স্পাইনাল নার্ভ কয় জোড়া?
  1. ৩০ জোড়া
  2. ৩১ জোড়া
  3. ৩২ জোড়া
  4. ৩৫ জোড়া
ব্যাখ্যা
- সুষুম্না কান্ড বা Spinal Cord কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ।
- Spinal Cord বা স্নায়ু রজ্জু মস্তিষ্ক থেকে মেরুদন্ডের ভেতরে অবস্থিত।
- Spinal Cord প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা।
- এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু (Spinal Nerve) উৎপন্ন হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৪.
বারিমন্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Biosphere
  2. Hydrosphere
  3. Aerosphere
  4. Atmosphere
ব্যাখ্যা

বারিমন্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere.
‘Hydro’ শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere’ শব্দের অর্থ মন্ডল।
পৃথিবীর সকল স্থানেই বারিমন্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। যেমন-বায়ুমন্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসাবে, ভূ-পৃষ্ঠে পানি রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূ-গর্ভে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ তরল পানি হিসাবে। পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে। মাত্র ৩ ভাগ রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভ‚-গর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা জীবমন্ডল ও বায়ুমন্ডলে। মহাসাগর, সাগর ওউপসাগরের জলরাশি লবনাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভ‚-গর্ভের পানি, বৃষ্টির পানি ও ঝর্ণার পানি মিঠা। আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমন্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা :
১। মহাসাগর (Ocean),
২। সাগর (Sea),
৩। উপসাগর (Bay),
৪। হ্রদ (Lake)।

৬৬৫.
প্রাণীদেহে শুষ্ক ওজনের শতকরা কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. প্রায় ২০%
  2. প্রায় ২৫%
  3. প্রায় ৪০%
  4. প্রায় ৫০%
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 

প্রাণিজ উৎস: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।

উদ্ভিজ উৎস: 

- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। 
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৬.
কোন প্রকার কণার পারস্পারিক বিনিময়ের দ্বারা সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়াশীল হয়?
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. বোসন
  4. মেসন
ব্যাখ্যা
- 'মেসন' কণার পারস্পারিক বিনিময়ের দ্বারা সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়াশীল হয়। 

মৌলিক বল: 

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
মৌলিক বলগুলো হলো - 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force) । 

সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৭.
ডেঙ্গু জ্বরে শরীরে -
  1. হিমোগ্লোবিন কমে যায়
  2. Pletalet বেড়ে যায়
  3. Platelet কমে যায়
  4. হিমোগ্লোবিন বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি।
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকা(Platelet) এর মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনোবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।
৬৬৮.
মহাবিশ্বের বয়স কত?
  1. প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর
  2. প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর
  3. প্রায় ৮ বিলিয়ন বছর
  4. প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
- মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ ৪.৬ বিলিয়ন বছর, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে, এবং মানুষ মাত্র কয়েক লক্ষ বছর ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।
- অন্য কথায়, মহাবিশ্ব আমাদের প্রজাতির চেয়ে প্রায় ৫৬,০০০ গুণ বেশি সময় ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
৬৬৯.
যক্ষ্মা রোগের টিকা কোনটি?
  1. এম এম আর
  2. টিটি
  3. ডিপিটি
  4. বিসিজি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা রোগের টিকা:
- Bacillus Calmatte Guerin-BCG হলো যক্ষ্মা রোগের টিকা।
- যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).

অপরদিকে,
- হাম রোগের টিকা এমএমআর।
- ডি.পি.টি. ভ্যাকসিনের লক্ষ্য হলো-হঠাৎ শিশু মৃত্যু(ডিপথেরিয়া, পারটুসিস ও টিটেনাসের কারণে), মস্তিষ্কের গোলযোগ, অটিজম, অন্ধত্ব, মৃগি জনিত মৃত্যু প্রতিহত করা।
-  টিটি (টিটেনাস টক্সয়েড)  শিশুকে ধনুষ্টঙ্কার থেকে বাঁচতে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের এ টিটি টিকা নিতে হয়। 

উৎস: Britannica.
৬৭০.
প্রথম গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন কে? 
  1. ড. এডওয়ার্ড সক 
  2. লুই পাস্তুর
  3. রবার্ট কচ 
  4. ড. এডওয়ার্ড জেনার 
ব্যাখ্যা

- ব্রিটিশ চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানী ড. এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে গুটিবসন্ত রোগের প্রথম সফল টিকা আবিষ্কার করেন।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টিকার ভূমিকা: 

- ভ্যাকসিন শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ভ্যাকসিনাস (vaccinus) থেকে এসেছে যার আক্ষরিক অর্থ হলো from cow বা 'গরু থেকে প্রাপ্ত'। 
- ড. এডওয়ার্ড জেনার (Dr. Edward Janner) ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন। 
- গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কারের অনেক বছর পর লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। 
- অ্যান্টিবডি রোগের জীবাণুর বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং স্থায়ী কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। 
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকা ভাইরাস থেকে তৈরি করা হয়। সাধারণত কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দিয়েই ওই রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
- টিকা প্রবেশ করালে প্রাণিদেহে ওই একই জীবাণু বা নিকট সম্পর্কিত রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে। 
- দেহে টিকা দেওয়া মানে হলো ওই রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশে করানো। কিন্তু যেহেতু এ জীবাণুগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় থাকে সেহেতু এরা জীবদেহে কোনো রোগ সৃষ্টি না করে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি প্রয়োগ করে বর্তমানে পোলিও, টিটেনাস, হাম্পস, ডিপথেরিয়া, যক্ষ্মা, হুপিংকাশি, টাইফয়েড, হেপাাইটিস ইত্যাদি রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- কিন্তু মরণব্যাধি এইডস (AIDS) এর ভাইরাস HIV কিংবা হেপাইটিস-সি ভাইরাসের প্রতিষেধক কোনো টিকা আজও আবিষ্কার হয়নি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭১.
কিসের অভাব থাকলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়?
  1. ক) অক্সিহিমোগ্লোবিন
  2. খ) হিমোগ্লোবিন
  3. গ) গ্লোবিউলিন
  4. ঘ) অ্যালবুমিন
ব্যাখ্যা

লােহিত কণিকার কাজঃ

১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
৩. হিমােগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা।

- লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করে।

- রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 

উৎসঃ জীববিজ্ঞান ও বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৬৭২.
নিচের কোন শর্করাটি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া যায় না?
  1. সেলুলোজ
  2. গ্লাইকোজেন
  3. গ্লুকোজ
  4. শ্বেতসার
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন: 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 

শ্বেতসার বা স্টার্চ: 
- ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। 
- এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 

সেলুলোজ: 
- বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 

সুক্রোজ: 
- আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 

ফ্রোক্টোজ: 
- আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে।

গ্লুকোজ: 
- এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। 
- এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 

ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: 
- গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 

গ্লাইকোজেন: 
- পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৩.
RT - PCR stands for -
  1. Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction
  2. Reverse Time Palhogene Chain Reaction
  3. Real Time Chain Reaction
  4. Real Time Critical Reaction
ব্যাখ্যা
RT - PCR:
- RT - PCR এর পূর্ণরূপ: Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction.
- আরটি-পিসিআর করোনাকালের বহুল পরিচিত একটি পরিভাষা।
- মূলত কোভিড-১৯ ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা এটি।
- সবেচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাপদ্ধতি হিসেবে বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়।
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে দেহের ভেতরে ডিএনএ থেকে আরএনএ তৈরি করা যায়।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সক্রিপশন।
- আবার এর বিপরীত ঘটনাও ঘটানো সম্ভব।
- অর্থাৎ আরএনএ থেকে ডিএনএ তৈরি করা যাকে বলা হয় রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন।
- আরটি-পিসিআরের প্রথম অংশ আরটি রিভার্স ট্রান্সক্রিপশনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- পিসিআর মেশিনের সাহায্যে একটি ডিএনএ থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি, চারটি থেকে আটটি।
- এভাবে আনুপাতিক হারে অণুর সংখ্যা লাখো কোটি গুণ বাড়ানো যায়।
- সংখ্যা বাড়ানোর এই প্রক্রিয়াকেই বলে পলিমারেজ চেইন রি-অ্যাকশন বা পিসিআর।

উৎস: ৩১ জানুয়ারি ২০২২, প্রথম আলো।
৬৭৪.
‘চিকনগুনিয়া’ কিসের মাধ্যমে ছড়ায়?
  1. ক) এডিস মশার মাধ্যমে
  2. খ) পানির মাধ্যমে
  3. গ) বানরের মাধ্যমে
  4. ঘ) বাতাসের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
এডিস মশা (Aedes aegypti) দ্বারা ডেঙ্গু জ্বর, চিকনগুনিয়া (Chikungunya virus) রোগ ছড়ায়।
Source: cdc.gov, who.int
৬৭৫.
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে -
  1. ক্যাপাসিটর
  2. বায়ুশূন্য টিউব
  3. ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  4. পাঞ্চ কার্ড
ব্যাখ্যা

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি): 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি)।
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- যার ফলে সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৬.
সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থান করছে-
  1. গ্রহ
  2. ধূমকেতু
  3. সূর্য
  4. উল্কা
ব্যাখ্যা
• সৌরজগৎ (Solar System):
- সূর্য এবং তার গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, অসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে সৌরজগৎ গঠিত।
- সূর্য সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

- গ্রহগুলো মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে।
- সৌরজগতের যাবতীয় গ্রহ-উপগ্রহের নিয়ন্ত্রক হলো সূর্য।
- সূর্যকে ভিত্তি করে সৌরজগতের যাবতীয় কাজ-কর্ম চলে।
- এই মহাবিশ্বের বিশালতার মধ্যে সৌরজগৎ নিতান্তই ছোট।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬৭৭.
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন?
  1. ক) ৪ ঘণ্টা
  2. খ) ৬ ঘণ্টা
  3. গ) ১০ ঘণ্টা
  4. ঘ) ১২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
একজন মানুষের দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন। 

বিশ্রামের গুরুত্ব : শরীর চর্চার পাশাপাশি শারীরিক বিশ্রামও অত্যন্তপ্রয়োজন। এছাড়া মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের পরই বিশ্রাম প্রয়োজন। ঘুমানো, শুয়ে থাকা ইত্যাদি বিশ্রামের অংশ। বিশ্রামের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পুনঃশক্তি সঞ্চয় হয় এবং স্নায়ুবিক শক্তি উজ্জীবিত হয়। কর্মে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে এনে কর্মক্ষম করে তোলে । একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার জন্য দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা বিশ্রাম বা ঘুমানো আবশ্যক।

সূত্র: ৬৬ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৮.
লোহিত রক্তকণিকা কোথায় থেকে তৈরি হয়?
  1. বৃক্কে
  2. হৃৎপিণ্ডে
  3. প্লীহায়
  4. অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৯.
নিচের কোনটির কারণে আমের এন্থ্র্যাকনোজ রোগ হয়ে থাকে?
  1. নেমাটোড
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ভাইরাস
ব্যাখ্যা
এন্থ্র্যাকনোজ রোগ:
- আমের এন্থ্র্যাকনোজ রোগের কারণ Colletotrichum gloeosporioides নামক এক ধরনের ছত্রাক।

⇒ লক্ষণ -
- আমের এনথ্রাকনোজ হলে কচি পাতায় অনিয়মিত দাগ দেখা যায় ।
- আমের মুকুল কালো হয়ে যায়, আমের গুটি ঝড়ে যায় ।
- বড় আম আক্রান্ত হলে আক্রান্ত স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়।

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
৬৮০.
এক্স-রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কোন মানটির কাছাকাছি হয়?
  1. ক) 10-7 m
  2. খ) 10-8 m
  3. গ) 10-9 m
  4. ঘ) 10-10 m
ব্যাখ্যা
এক্সরে রশ্মি
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। 
- এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়। 
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৬৮১.
ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি -
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. একই থাকে
  3. হ্রাস পায়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮২.
পৃথিবীর একপাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে কখন?
  1. ক) অমাবস্যা তিথি
  2. খ) পূর্নিমা তিথি
  3. গ) সপ্তমী তিথি
  4. ঘ) অষ্টমী তিথি
ব্যাখ্যা
অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
৬৮৩.
চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
  1. বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
  2. আলোর বিচ্ছুরণে
  3. অপাবর্তনে
  4. দৃষ্টিভ্রমে
ব্যাখ্যা
- চাঁদ থেকে আলোক রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে অর্থাৎ আলোক রশ্মি বেঁকে যায়। 
- চাঁদ যখন দিগন্তের কাছে থাকে তখন আলোক রশ্মি তুলনামূলকভাবে অধিক পরিমাণে বেঁকে যায়।
- বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের কারণে দিগন্তের নিকটে চাঁদ ও সূর্যকে ডিম্বাকৃতি এবং তুলনামূলকভাবে বড় দেখা যায়। 

উৎস: scientificamerican.com
৬৮৪.
হৃদপিণ্ডের কোন স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে?
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৮৫.
E = mc2 সূত্রে m দ্বারা কি বুঝায়?
  1. ক) শক্তি
  2. খ) আলোর দ্রুতি
  3. গ) বস্তুর ভর
  4. ঘ) বস্তুর ওজন
ব্যাখ্যা

E = mc2
এখানে,
E (energy) = শক্তি
M (mass) = ভর
C (Light-velocity) = আলোর বেগ = 3×108 (মি./সে.)
আইনস্টাইনের বিখ্যাত E = mc2 সূত্র দ্বারা, শক্তি ও ভর যে অভিন্নতা নির্দেশ করে।
এই সূত্র অনুসারে m ভরের কোন বস্তুতে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ ঐ ভরের সাথে আলোর বেগ (c) এর বর্গের গুনফল এর সমান।

৬৮৬.
উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন কোনটি?
  1. ২৩ জুন
  2. ২১ জুন
  3. ২৪ জুলাই
  4. ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা

• উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল:
​ - ২১ এ মার্চের পর থেকে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে থাকে।
-​ এর সঙ্গে সঙ্গে যত দিন যায় তত উত্তর মেরুতে আলোকিত অংশ বাড়তে থাকে।
​- এভাবে ২১ এ জুনে গিয়ে সূর্যকর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
-​ ফলে ২১ এ জুন উত্তর গোলার্ধে বড় দিন এবং ছোট রাত হয়। 

- ​ঐ দিনই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য দক্ষিণ দিকে আসতে থাকে।
​ - দিন বড় হওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধে ২১ এ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকেই গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল স্থায়ী হয়।

​- এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা যায় অর্থাৎ শীতকাল অনুভূত হয়।
-​ এ সময় সূর্য হেলে থাকার কারণে এ গোলার্ধে সূর্য কম সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে দিন ছোট এবংরাত বড় হয়। 
​- দিনে ভূপৃষ্ঠ যতটুকু উত্তপ্ত হয়, রাতে তাপ বিকিরণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে যায়।
​-  এখানে তখন শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এ সময়কে শীতকাল বলে।

​উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬৮৭.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি? 
  1. চাঁদ
  2. শুক্র
  3. প্লুটো
  4. ইউরেনাস
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্রহ ও উপগ্রহ: 
- যে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথে বাস করা হয় তার নাম আকাশ গঙ্গাঁ (Milky Way), এই ছায়াপথে রয়েছে সূর্য ও এর পরিবার, যাকে সৌরজগৎ বলা হয়। 
- সৌরজগতে রয়েছে সূর্য ও একে ঘিরে আবর্তনশীল ৮টি গ্রহ। 
- যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদের বলা হয় গ্রহ। 
- সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন। 
- কোনো কোনো গ্রহের রয়েছে একাধিক উপগ্রহ, যারা গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে এদের বলা হয় উপগ্রহ। 
যেমন- পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে চাঁদ, তাই চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। সুতরাং, পৃথিবী সূর্যের একটি গ্রহ এবং চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। 

- জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রহের জন্মের সময় কোনো নক্ষত্রকে ঘিরে কয়েকটি মহাজাগতিক মেঘ আবর্তিত হতো। এরা মহাকর্ষ বলের কারণে ঘনীভূত হয়ে অবশেষে জমাট বেঁধে গ্রহে রূপান্তরিত হয়। এভাবেই আবার গ্রহের চারপাশে জমা হয়ে উপগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, এসব উপগ্রহ হলো প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 
- গ্রহ ও উপগ্রহের কোনো আলো ও উত্তাপ নেই, এদের উপর সূর্যের যে আলো পড়ে তা প্রতিফলিত হয়। 
- উপগ্রহগুলো এদের গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে গ্রহের চারদিকে ঘুরে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৬৮৮.
নিম্নের কোন রোগটি Vertical Transmission এর মাধ্যমে ছড়ায়?
  1. Hepatitis B
  2. Diphtheria
  3. Typhoid
  4. Malaria
ব্যাখ্যা
Vertical Transmission বলতে পিতামাতা থেকে তাদের সন্তানদের মধ্যে ভাইরাসের প্রজন্মগত সংক্রমণকে বোঝায়।
hepatitis B মূলত Vertical Transmission এর মাধ্যমে ছড়ায়। 
 
গর্ভবতী মা যদি হেপাটাইটিস বি পজিটিভ হয়, সেক্ষেত্রে জন্মের পর পরই নবজাতককে হেপাটাইটিস বি ইমিউন গ্লোবুলিন ও হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন উভয়ই দেওয়া হয়।

উৎস:  www.urmc.rochester.edu, sciencedirect.com
৬৮৯.
মেরু রেখা বা অক্ষের উত্তর প্রান্ত বিন্দুকে বলা হয়-
  1. কুমেরু
  2. বিষুব রেখা
  3. সুমেরু
  4. দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- ৬৬.৫° দক্ষিণ  অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯০.
চারটি মৌলিক বল তার বর্তমান রূপ লাভ করে কখন?
  1. ক) ল্যাপটন কাল
  2. খ) হ্যাড্রন কাল
  3. গ) কোয়ার্ক কালে
  4. ঘ) প্ল্যাঙ্ক কালে
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং এর পরে

10-12s থেকে 10-6s

সময়কালকে কোয়ার্ক কাল বলে, এই সময়েই চারটি মৌলিক বল তাদের বর্তমান রুপ লাভ করে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬৯১.
গ্রিন হাউজ কী?
  1. ক) সবুজ আলোর আলোকিত ঘর
  2. খ) সবুজ গাছপালা
  3. গ) কাঁচের তৈরি ঘর
  4. ঘ) সবুজ ভবনের নাম
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউজ হলো কাঁচের তৈরি ঘর। 

গ্রিন হাউজ:
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট বলে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯২.
তুলার উন্নত জাত কোনটি?
  1. ম্যানিলা
  2. কার্ডিনাল
  3. ডেলফোজ
  4. পেট্রোনিস
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফসল:
- গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ও আকবর।
- ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি। 
- তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
- ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
- আম: মহানন্দা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, ক্ষীরসাপাতি ও মােহনভােগ।
- টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
- মরিচ: যমুনা।
- বেগুন: শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো।
- আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
- তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৬৯৩.
মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. সবুজ গ্রহ নামে অভিহিত
  2. উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি
  3. এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মঙ্গল গ্রহ:
- মঙ্গল হলো সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ।
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
- এই গ্রহটিকে ‘লাল গ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২৮ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় নেয়।
- এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৩৯০ কিলোমিটার (২১০৬ মাইল)। 
- এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১৩ মিনিট।
- নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা।

⇒ মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি: ফোবোস ও ডিমোস।

অন্যদিকে,
- ইউরেনাসকে সবুজ গ্রহ বলা হয়।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯৪.
'Spring Tide' কোন সময় সংঘটিত হয়?
  1. পূর্ণিমা তিথিতে
  2. সপ্তমী তিথিতে
  3. অষ্টমী তিথিতে
  4. নবমী তিথিতে
ব্যাখ্যা
তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide): 
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। 
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে। 
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে। এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল। 
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়। 
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়। 
- সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে মরা কটাল সংগঠিত হয়। 
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  2. খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. গ) হাইগেন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

কোন কোন ধাতুর উপর আলাে পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয়, একে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া বলে।
আলাের তরঙ্গ ধর্মের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না।
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।
সেজন্য তাঁকে ১৯২১ সালে নােবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৬.
মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাস হলো- হাইড্রোজেন। 
- হাইড্রোজেন গ্যাস মহাবিশ্বের মৌলিক গঠনের প্রায় 75% (ভর) তৈরি করে। 
- এটি আমাদের সূর্য সহ নক্ষত্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি পারমাণবিক ফিউশন প্রতিক্রিয়াগুলির জন্য প্রাথমিক জ্বালানী উৎস। 
- হাইড্রোজেন আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশেও প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে এবং এটি আণবিক মেঘের একটি মূল উপাদান যেখানে নতুন তারকা গঠিত হয়। 
- মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হচ্ছে হিলিয়াম। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিমায় যৌথভাবে মহাবিশ্বের ৯৯.৯% উপাদান গঠন করেছে। 
- এই সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অক্সিজেন। 

উৎস: The University of Texas; LiveScience and Nature Journal.

অন্যদিকে, 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে নাইট্রোজেন গ্যাস। 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের শতকরা হার: 
• নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%, 
• অক্সিজেন - ২০.৭১%, 
• আরগন - ০.৮০%, 
• কার্বন ডাই অক্সাইড - ০.০৩%, 
• জলীয় বাষ্প - ০.৪১%, 
• অন্যান্য গ্যাসসমূহ - ০.০২%, 
• ধূলিকণা ও কণিকা - ০.০১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯৭.
ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ফসফেট
  2. আয়োডিন
  3. টেকনেশিয়াম
  4. ইরিডিয়াম
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ:
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনেশিয়াম-99 আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৮.
নিচের কোন সমুদ্রের পানি সবচেয়ে বেশি লবনাক্ত?
  1. কৃষ্ণ সাগর
  2. মৃত সাগর
  3. বাল্টিক সাগর
  4. লোহিত সাগর
ব্যাখ্যা
স্থলবেষ্টিত মৃত সাগর হলো পৃথিবীর অন্যতম লবনাক্ত সাগর যেখানে লবনাক্তের পরিমাণ ৩৩.৭%।
৬৯৯.
এক্স-রে হচ্ছে মূলত - 
  1. উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন প্রবাহ
  2. উচ্চ শক্তির প্রোটন প্রবাহ
  3. উচ্চ শক্তির নিউট্রন প্রবাহ
  4. উচ্চ শক্তির পজিট্রন প্রবাহ
ব্যাখ্যা
এক্স-রে: 
- দ্রুতগতি সম্পন্ন  ইলেকট্রন কোন ধাতুতে আঘাত করলে তা থেকে উচ্চভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন যে বিকিরণ উৎপন্ন হয়, তাকে X-Ray বলে। 
- সুতরাং এক্স-রে হচ্ছে মুলত উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন প্রবাহ। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• এক্স-রশ্মির সাহায্যে ফটোগ্রাফিক প্লেটে হাত, পা বা দেহের হাড়ের ছবি পাওয়া যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় এক্স-রশ্মি অপরিহার্য। 
• এক্স-রশ্মির জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার, টিউমার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় এই রশ্মি ব্যবহৃত হয়। একে এক্স-রে থেরাপি বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০০.
করোনা ভাইরাসের পিল 'প্যাক্সলোভিড' উদ্ভাবন করে নিচের কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ফাইজার
  2. মডার্না
  3. অ্যাস্ট্রাজেনেকা
  4. মার্ক অ্যান্ড কো.
ব্যাখ্যা
- করোনা ভাইরাসের পিল 'প্যাক্সলোভিড' উদ্ভাবন করে ফাইজার। 
- করোনা চিকিৎসায় ফাইজারের পিল ৮৯ শতাংশ কার্যকর। 
উৎস : পত্রিকা রিপোর্ট