বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৫০১৬০০ / ৩,৮৭৯

৫০১.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা

• যকৃতের রোগ হচ্ছে - জন্ডিস। 

জন্ডিস: 

- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০২.
বাণিজ্যিকভাবে অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন উৎপাদনের জন্য কোন ছত্রাক ব্যবহৃত হয়?
  1. Penicillium notatum
  2. Penicillium griseofulvum
  3. Penicillium chrysogenum
  4. Rhizopus stolonifer
ব্যাখ্যা

• বাণিজ্যিকভাবে অধিক ও উন্নত মানের পেনিসিলিন Penicillium chrysogenum থেকে উৎপাদিত হয়।

• অ্যান্টিবায়োটিক ও ঔষধ শিল্পে ছত্রাকের ব্যবহার:

- গ্রাইসিওফুলভিন প্রস্তুতকরণ:
- Penicillium griseofulvum নামক ছত্রাক প্রজাতি থেকে গ্রাইসিওফুলভিন নামক ঔষধ প্রস্তুত করা হয়।
- এই ঔষধ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দাদ ও ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

- পেনিসিলিনের আবিষ্কার ও উৎপাদন:
- ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি প্রথমে Penicillium notatum ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন প্রস্তুত করেন।

- বাণিজ্যিক উৎপাদন:
- পরবর্তীতে Penicillium notatum থেকে উৎপাদন কম হওয়ায়,
- Penicillium chrysogenum থেকে উচ্চ মানের ও অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৩.
টিকা সাধারণত কী দিয়ে তৈরি করা হয়?
  1. সম্পূর্ণ সক্রিয় জীবাণু
  2. নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত জীবাণু
  3. অ্যান্টিবডি
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা

• টিকা তৈরিতে মৃত বা দুর্বলকৃত অণুজীব ব্যবহৃত হয়।

• প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টিকার ভূমিকা:

• টিকার উৎপত্তি ও অর্থ:
- ভ্যাকসিন শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ভ্যাকসিনা (vaccinus) থেকে এসেছে, যার আক্ষরিক অর্থ হলো গরু থেকে প্রাপ্ত।

• টিকার আবিষ্কার:
- ড. এডওয়ার্ড জেনার (Dr. Edward Jenner) ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম বসন্ত রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
- পরবর্তীকালে বহু বছর গবেষণার মাধ্যমে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়।

• টিকার সংজ্ঞা:
- টিকা হলো দেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত রূপ, যা দেহে প্রবেশ করিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা হয়।

• টিকার গঠন ও প্রকার:
- টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত অণুজীব (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) হতে পারে—
- জীবিত কিন্তু দুর্বলকৃত, অথবা
- সম্পূর্ণ মৃত।

• টিকার কার্যপ্রণালি:
- টিকা দেহে প্রবেশ করলে এটি অ্যান্টিজেনের মতো আচরণ করে, ফলে দেহে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- এর মাধ্যমে দেহ ভবিষ্যতে একই রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে।

• টিকার উৎস:
 - অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকা ভাইরাস থেকে প্রস্তুত করা হয়।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৪.
নিচের কোন গ্রহটিকে 'Red Planet' বলা হয়?
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মঙ্গল গ্রহকে 'Red Planet' বলা হয়।

মঙ্গল গ্রহ:
- সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ মঙ্গল।
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২৮ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় নেয়।
- এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৩৯০ কিলোমিটার (২১০৬ মাইল)।
- এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১৩ মিনিট।
- নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা।
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি: ফোবোস ও ডিমোস।

উল্লেখ্য,
- এই গ্রহটিকে ‘লাল গ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়।
- মঙ্গলের লালাভ হওয়ার পেছনে মূল কারণ এর পৃষ্ঠে প্রচুর আয়রন অক্সাইড আছে।
- নাসার বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলের কেন্দ্রেও লোহা আছে, তবে পরিমাণে অঢেল হওয়ায় গ্রহটির পৃষ্ঠেও লোহার একটি আবরণ তৈরি হয়েছে। সে কারণেই লাল দেখায়।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৫.
বায়ুমণ্ডলের উৎপত্তি হয়েছে প্রধানত- 
  1. মহাকাশীয় ধূলিকণা থেকে
  2. সৌর বিকিরণ থেকে
  3. সমুদ্রের জলীয় বাষ্প থেকে 
  4. ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উৎপত্তি মূলত ভূ-অভ্যন্তর থেকে নির্গত গ্যাসের (outgassing) কারণে হয়েছে, যা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং অন্যান্য ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটেছে। 

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত।
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর মধ্যে নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২ এবং অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১ এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৬.
নিচের কোন মৌমাছিটি প্রজননে সক্ষম?
  1. ক) স্ত্রী মৌমাছি
  2. খ) কর্মী মৌমাছি
  3. গ) রাণী মৌমাছি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
একটি মৌচাকে বা পরিবারে তিন শ্রেণীর মৌমাছি থাকে। যথা: (১) রাণী, (২) পুরুষ ও (৩) শ্রমিক মৌমাছি। রাণী মৌমাছি সবচেয়ে বড় প্রকৃতির। একটি চাকে একটি মাত্র রাণী মৌমাছি থাকে। এর একমাত্র কাজ ডিম পাড়া। এটি প্রজননে সক্ষম। একটি রাণী মৌমাছির আয়ুষ্কাল প্রায় ২/৩ বছর।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৫০৭.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. Sirius
  2. Crab Nebula
  3. J0529-4351
  4. Sun
ব্যাখ্যা
• J0529-4351 একটি কোয়াসার, অথবা একটি গ্যালাক্সির উজ্জ্বল কেন্দ্র, যা এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু।

• কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 

- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৮.
মহাজাগতিক রশ্মিতে সবচেয়ে বেশি থাকে-
  1. নিউট্রন
  2. প্রোটন
  3. কার্বন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মিতে সবচেয়ে বেশি থাকে প্রোটন (৮৯ ভাগ)।

• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মিকে বলে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে।
- বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা। 
৫০৯.
জাপানের টোকিও শহর ও ঢাকা শহরের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫° হলে এই দুই শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ১.৫ ঘণ্টা
  2. ২.৫ ঘণ্টা
  3. ৩ ঘণ্টা
  4. ৩.৫ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
-একই ভাবে দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্যের সাথে ৪ গুণ করে দুই স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, পৃথিবীতে প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
∴৪৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (৪৫ × ৪)=১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।

অর্থাৎ জাপানের টোকিও শহর ও ঢাকা শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।

উত্তর: এই দুই শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ৩ ঘণ্টা।
৫১০.
নিচের কোন টেলিস্কোপটি সম্প্রতি ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সমর্থ হয়েছে?
  1. ক) ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ
  2. খ) হাবল টেলিস্কোপ
  3. গ) জেমস-ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ
  4. ঘ) স্পিটজার টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
A black hole and its shadow have been captured in an image for the first time, a historic feat by an international network of radio telescopes called the Event Horizon Telescope (EHT).
Source: NASA
৫১১.
এয়ার কন্ডিশনারে শীতক হিসেবে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ক্লোরফ্লোর কার্বন
  2. খ) ফ্রেয়ন
  3. গ) নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

এসিতে ব্যবহার হওয়া গ্যাস রেফ্রিজারেন্ট নামে পরিচিত।
রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ফ্রেয়ন ব্যবহৃত হয়।

ফ্রেয়ন হচ্ছে - ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন।

এসি ছাড়াও রেফ্রিজারেটরেও শীতক হিসেবে ফ্রেয়ন ব্যবহৃত হয়।
রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী। একে বাষ্পীভবন কুন্ডলী বলে। এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১২.
তিনদিকে মাটিতে ঘেরা এবং একদিকে সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত জলভাগকে কী বলা হয়?
  1. সাগর
  2. হ্রদ
  3. নদী
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) উপসাগর। 

উপসাগর হলো এমন জলভাগ যা তিন দিকে মাটিতে ঘেরা এবং একদিকে সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

মহাসাগর:  
- বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। 
- এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম ও গভীরতম। 
- আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্ট এবং এটি অনেক আবদ্ধ সাগরের (Enclosed sea) সৃষ্টি করেছে। 
- ভারত মহাসাগর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে এন্টার্কটিকার হিমভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান। দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ বছরের সকল সময় বরফে আচ্ছন্ন থাকে। 
- উত্তর গোলার্ধের উত্তর প্রান্তে উত্তর মহাসাগর অবস্থিত এবং এর চারদিক স্থলবেষ্টিত। 

সাগর: 
- মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যরিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি। 

উপসাগর: 
- তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর ও মেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি। 

হ্রদ: 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৩.
পৃথিবীতে ব্যবহার উপযোগী কত শতাংশ পানি রয়েছে? 
  1. ১% 
  2. ৫%
  3. ১০%
  4. ২০%
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই হচ্ছে পানি। 
- মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য, তাই পানির অপর নাম হচ্ছে জীবন। 
- পানির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে সাগর, মহাসাগর বা সমুদ্র। 
- পৃথিবীতে যত পানি আছে, তার প্রায় শতকরা ৯০ ভাগেরই উৎস হচ্ছে সমুদ্র। 
- সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে এজন্য সমুদ্রের পানিকে লোনা পানিও (Marine water) বলে। 
- লবণের কারণে সমুদ্রের পানি পানের অনুপযোগী, এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অন্য কাজেও সমুদ্রের পানি ব্যবহার করা যায় না। 
- পানির আরেকটি বড় উৎস হলো হিমবাহ তুষার স্রোত, যেখানে পানি মূলত বরফ আকারে থাকে, এই উৎসে প্রায় শতকরা ২ ভাগের মতো পানি আছে। 
- পৃথিবীতে ব্যবহারের উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ। 
- ব্যবহার উপযোগী মিঠা পানির উৎস হলো নদ-নদী, খাল-বিল, হ্রদ, পুকুর কিংবা ভূগর্ভস্থ পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৪.
দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে-
  1. ক) অনুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) রক্তরস
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা।
- এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
৫১৫.
‘গ্রীন হাউজ ইফেক্ট’ বলতে বুঝায়-
  1. তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  2. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূ-মণ্ডলের অবলোকন।
  3. সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণে ঘাটতি।
  4. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা।
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস ইফেক্ট: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্রীন হাউস ইফেক্ট বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় CO2, CFC, N2O2, CO, O3 ইত্যাদি পদার্থের আবরণ পৃথিবীকে আচ্ছাদন রূপে ঢেকে রেখে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাঁধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- পরিবেশ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- গ্রীন-হাউজ ইফেক্ট এর ফলে তাপ আটকে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৬.
কোন ধরনের ভূখণ্ডে মেঘ বিস্ফোরণের ফলে আকস্মিক বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?
  1. সমতল, নিচু এলাকা
  2. শহুরে এলাকা
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. পাহাড়ি এলাকা
ব্যাখ্যা
• মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):
- মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst) হলো একটি তীব্র এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভারী বৃষ্টিপাত, যা সাধারণত একটি ছোট অঞ্চলজুড়ে ঘটে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই ধরনের ঘটনা বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে ঘটে থাকে এবং এটি বিপজ্জনক বন্যার কারণ হতে পারে।
- মেঘ বিস্ফোরণের সময় বৃষ্টির পরিমাণ সাধারণত প্রতি ঘন্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে।

মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- হঠাৎ ঘটে: মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- সংকীর্ণ এলাকা: এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে। মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- ভারী বৃষ্টিপাত: মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।
- বিপজ্জনক প্রভাব: মেঘ বিস্ফোরণ কারণে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, এবং সম্পত্তি ও জীবনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে, কারণ সেখানে পানির প্রবাহ দ্রুত হয়ে থাকে।

মেঘ বিস্ফোরণের কারণ:
মেঘ বিস্ফোরণের মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থা। গরম ও আর্দ্র বায়ু যখন দ্রুত উপরে উঠতে থাকে এবং ঠান্ডা বাতাসের সাথে মিশ্রিত হয়, তখন বৃহৎ মেঘ গঠন হতে শুরু করে। এই মেঘগুলি পানির বিশাল পরিমাণ ধারণ করে। যখন মেঘের অভ্যন্তরে এই জলীয় বাষ্প হঠাৎ ঘনীভূত হয়ে পড়ে, তখন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা মেঘ বিস্ফোরণের রূপ নেয়।

মেঘ বিস্ফোরণ প্রতিরোধ এবং সতর্কতা:
- মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা পূর্বাভাস দেয়া বেশ কঠিন, তবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কিছুটা পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব। - পার্বত্য অঞ্চলে মেঘ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে এইসব স্থানে অবকাঠামো তৈরি এবং বাসস্থানের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। 
- তাছাড়া, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং জরুরি সেবা ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- সম্প্রতি আগস্ট, ২০২৪-এ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণের জন্য ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১ টি জেলাইয় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

সূত্র:
১) Britannica [লিংক]
২) The Business Standard [লিংক]
৩) prothomalo [লিঙ্ক]
৫১৭.
মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে অবস্থান করে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল 
  2. খ) তাপমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমন্ডল
- তাপমন্ডল বায়ুমন্ডলের চতুর্থ স্তর যার বিস্তৃতি ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. এর মধ্যে।
- মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটসমূহ তাপমন্ডলে অবস্থান করে।
- রকেটও এ স্তর দিয়ে চলাচল করে। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা উল্কাপিণ্ড এই স্তরে এসে পুড়ে যায়।
- তাপমন্ডলের নিচের অংশ আয়নমন্ডল নামে পরিচিত যেখানে পৃথিবী থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৮.
মস্তিষ্কের ডোপামিন তৈরির কোষগুলো নষ্ট হয়ে গেলে কী রোগ হয়?
  1. এপিলেপসি
  2. কোয়াশিয়রকর
  3. প্যারালাইসিস
  4. পারকিনসন
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগ:
- মস্তিস্কে স্নায়ু কোষ বা নিউরন শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার (এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ) নষ্ট হয়ে যায় অথবা এর ঘাটতি দেখা দেয়।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মস্তিস্কে ব্যাজাল গ্যাংলিয়া নামের একটি অংশ মানুষের চলাফেরা এবং গতির সমন্বয় করে থাকে।
- ডোপামিনের অভাবে সেই সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
- তখন মানুষ পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হয়।

এই রোগের উপসর্গ:
- হাত এবং পায়ে কাঁপুনি হয়।
- শরীরের একপাশের হাত এবং পা স্বাভাবিকের তুলনায় শক্ত হয়ে যায়।
- চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যায়।

অন্যদিকে -
- এপিলেপসি বা মৃগীরোগ হলো এক ধরণের স্নায়বিক ব্যাধি যা একজন ব্যক্তির বারবার খিঁচুনি ঘটায়। 
- কোয়াশিয়রকর হলো প্রোটিনের তীব্র অপুষ্টিজনিত রোগ যাতে শোথ এবং ফ্যাটি লিভার হয়।
- প্যারালাইসিস হলো একটা অবস্থা যেখানে শরীরের কিছু বা সমস্ত অঙ্গের সাময়িক বা সম্পূর্ণ সঞ্চালণ বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: ১৩ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
৫১৯.
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নিচের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ে?
  1. খরা ও তুষারপাত
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ভূমিকম্প 
  4. আগ্নেয়ুৎপাত
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে মূলত জলোচ্ছ্বাস-এর মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাবন, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধি করে এবং শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাব বাড়ায়। এটি সরাসরি খরা বা তুষারপাত (যা বিপরীত) এবং ভূমিকম্প বা আগ্নেয়ুৎপাতের (যা ভিন্ন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া) কারণ নয়, বরং উপকূলীয় দুর্যোগের কারণ। 

সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ফসল উৎপাদনে প্রভাব: 
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। 
- প্রায়শই বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়। 
- অধিকন্তু ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে। 
- বিশ্বব্যাংক বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে টার্ন ডাউন দ্য হিট: ক্লাইমেট রিজিওনাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড কেস ফর রেজিলিয়ান্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে উল্লেখ করেছে- প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় ডুবে যাবে। 
- তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ ২৯ শতাংশ বাড়বে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সেন্টিমিটার বাড়লে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২০.
Which of the following ecosystems covers the largest area of the earth's surface?
  1. Desert Ecosystem
  2. Mountain Ecosystem
  3. Freshwater Ecosystem
  4. Marine Ecosystem
ব্যাখ্যা
- The Marine Ecosystem is the largest existing ecosystem on our planet
- Covering over 71% of the Earth’s surface, it’s a source of livelihood for over 3 billion people. 
- The ocean also works as the main “lung” of our planet, releasing more oxygen into the atmosphere, notably through marine plants, than all the forests in the world, and absorbing 30% of the carbon dioxide produced by humans. 

উৎস: un.org
৫২১.
শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয় -
  1. বছরে একবার
  2. বছরে দুইবার
  3. বছরে তিনবার
  4. এর কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিতে হয় বছরে দুইবার। 
- ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। 
- ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। 
- ভিটামিন-এ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। 
- বর্তমানে বাংলাদেশে ভিটামিন-এ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশে নেমে এসেছে। 

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
৫২২.
ধ্রুবতারা ঠিক মাথার উপর অবস্থান করে-
  1. কুমেরু বিন্দুতে
  2. সুমেরু বিন্দুতে
  3. অক্ষরেখায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধ্রুবতারার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয়:
- ধ্রুবতারার উন্নতি জেনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- তবে এটি শুধুমাত্র উত্তর গোলার্ধে সম্ভব।
- নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারার উন্নতি শুন্য ডিগ্রি এবং উত্তর মেরুতে ঠিক মাথার উপর ধ্রুবতারার উন্নতি ৯০ ডিগ্রি।
- উত্তর মেরুকে সুমেরু ও বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেনী, NCTB।
৫২৩.
সুষম খাদ্যে কয়টি খাদ্য উপাদান থাকা অপরিহার্য?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান:
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- সুষম খাদ্যে ৬টি খাদ্য উপাদান থাকা অপরিহার্য।
- খাদ্য উপাদান ৬টি। যথা:
• আমিষ বা প্রোটিন।
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট।
• স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট।
• ভিটামিন বা খাদ্যপ্ৰাণ।
• খনিজ লবণ বা মিনারেল।
• পানি।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৪.
ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. জার্মেনিয়াম
  2. আর্সেনিক
  3. মাঙ্গানিজ
  4. টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টার হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া -টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে।
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p নিঃসারক ভূমি সংগ্রাহক ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়
- ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় সিলিকন ও জার্মেনিয়াম।

- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
- যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৫.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ক) নদীপ্রবাহ
  2. খ) হিমবাহ
  3. গ) সুনামি
  4. ঘ) সূর্যতাপ
ব্যাখ্যা
- যে সমস্ত কার্যাবলীর দ্বরা প্রাকৃতিকভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূপ্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন আকস্মিক ও ধীর দুভাবে সংঘটিত হয়।
আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- ভূমিকম্প
- আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যূৎপাত
- সুনামি প্রভৃতি।
ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- হিমবাহ
- বৃষ্টিপাত
- বায়ুপ্রবাহ
- সূর্যতাপ
- নদী প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
৫২৬.
পটুয়াখালীর জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. নিয়তভাবাপন্ন
  2. মৃদুভাবাপন্ন
  3. চরমভাবাপন্ন
  4. সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

অন্যদিকে,
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্রের দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৭.
চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে যে রোগ হয় তার নাম কী?
  1. ক) দীর্ঘদৃষ্টি
  2. খ) হ্রসদৃষ্টি
  3. গ) গ্লোকোমা
  4. ঘ) পুঞ্জাক্ষি
ব্যাখ্যা
হ্রস্বদৃষ্টি বা ক্ষীণদৃষ্টি (Myopia)
- যখন  চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা গেলেও দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখা পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে হ্রস্বদৃষ্টি বলে।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী দূরত্ব বেড়ে গেলে বা ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে।
- কোন কারনে চোখের অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পেলে।
প্রতিকার: অবতল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hypermetropia)
- যখন কোন চোখ দূরের বস্তু দেখে কিন্তু কাছের বস্তু দেখতে পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বলে।
- সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ত্রুটি দেখা যায়।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা হ্রাস পেলে অথবা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে।
- কোন কারণে অক্ষি-গোলকের ব্যাসার্ধের কমে গেলে। 
প্রতিকার: উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫২৮.
নিচের কোনটি আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. ক) বায়ুর আর্দ্রতা
  2. খ) অক্ষরেখা
  3. গ) বারিপাত
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ:
- বায়ুর তাপ
- বায়ুর চাপ
- বায়ু প্রবাহ
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত বা বৃষ্টিপাত।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো:
- অক্ষাংশ
- উচ্চতা
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব
- বায়ুপ্রবাহ
- সমুদ্রস্রোত
- পর্বতের অবস্থান
- ভূমির ঢাল
- ‍মৃত্তিকার গঠন
- বনভূমির অবস্থান প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫২৯.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. ওজোনস্ফিয়ার
  3. থার্মোস্ফিয়ার
  4. মেসোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere): 
বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। 
যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।

স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 
স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
 
স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (Ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
 
ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৩০.
একটি আদর্শ ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ রােধ কত?
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. অতিক্ষুদ্র
  4. যে কোনাে মান
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের (Ideal Current Source) প্রতিরোধ অসীম (infinite) হয়।

একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্স সবসময় নির্দিষ্ট পরিমাণ কারেন্ট সরবরাহ করে, যেটি লোড বা ভোল্টেজের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হতে হবে, যাতে কোনো ভোল্টেজ পরিবর্তন হলেও কারেন্ট অপরিবর্তিত থাকে।
যদি রোধ শূন্য (zero) হতো, তাহলে ওহমের সূত্র (V = IR) অনুযায়ী, সামান্য ভোল্টেজ পরিবর্তনেও বিশাল কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারত, যা বাস্তবে সম্ভব নয়।
তাই, একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের রোধ অসীম হতে হয়, যাতে এটি যেকোনো লোডের জন্য নির্দিষ্ট কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে।

Source:
"Fundamentals of Electric Circuits" – Charles K. Alexander & Matthew N. O. Sadiku.
2. "Basic Engineering Circuit Analysis" – J. David Irwin & R. Mark Nelms.
৫৩১.
পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain) হয় কোন অঞ্চলে?
  1. আর্কটিক অঞ্চল
  2. নাতিশীতষ্ণ অঞ্চল
  3. মেরিটাইম অঞ্চল
  4. ট্রপিকাল অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain) হয় ট্রপিকাল বা নিরক্ষীয় অঞ্চলে।

• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):

- পরিচলন বৃষ্টি তখন ঘটে যখন পৃথিবীর একটি অঞ্চলে তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে এবং মাটি গরম হয়ে ওঠে।
- এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বাতাসের মধ্যে তাপ স্থানান্তর ঘটায়, যা বাতাসকে উপরে উঠতে বাধ্য করে।
- উপরের দিকে উঠতে গিয়ে এই গরম বাতাসে জলীয় বাষ্প কনডেন্স (ঘনীকৃত) হয়ে বৃষ্টি সৃষ্টি করে।
- সাধারণত ট্রপিকাল(নিরক্ষীয়) অঞ্চলে (বিশেষত ইকুয়েটর অঞ্চল) এই ধরনের বৃষ্টি বেশি ঘটে, কারণ এখানে সূর্যের তাপ সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং দিনের বেলা তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে।
- এই ধরনের বৃষ্টির জন্য অপেক্ষাকৃত তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসের ওঠানামার প্রয়োজন, যা ট্রপিকাল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৫৩২.
রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাবে মানবদেহে কোন জটিলতা সৃষ্টি হয়?
  1. রাতকানা রোগ হয়
  2. রক্তাল্পতা দেখা দেয়
  3. জয়েন্টে ব্যথা হয়
  4. ডায়রিয়া হয়
ব্যাখ্যা
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।

রক্তশূন্যতা (Anemia)
- রক্তশূন্যতা হচ্ছে দেহের এমন একটি অবস্থা, যখন বয়স এবং লিঙ্গভেদে রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
- খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-12 ইত্যাদির অভাব ঘটলে এ রোগ দেখা যায়।
- লৌহের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫৩৩.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. লুই পাস্তুর
  3. এহরেনবার্গ
  4. রবার্ট কচ
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৪.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও
  2. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং
  3. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  4. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- 1947 সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৫.
হোল কোন ধরনের আধান হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) ধনাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) নিরপেক্ষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হোল:
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে। - ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়.
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C ।
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়।
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে।
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়।
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৬.
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ কোন উপাদান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. গ্রাভিটি
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. পৃথিবীর চাপ বলয়
  4. পাহাড়ের উচ্চতা
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই নিয়ত বায়ু বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

অয়ন বায়ু (The Trade Wind): 
- বিষুবীয় অঞ্চলে সূর্যকিরণ লম্বভাবে পতিত হয় বলে বায়ুর চাপ কম থাকে তাতে বায়ু উপরে উঠে ছড়িয়ে যায়। 
- এই বায়ু ক্রমাগত শীতল হয়ে নিচে নামতে না পেরে উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যায়। 
- প্রায় ৩০° অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু নিচে নেমে তা আবার বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ুকেই বলা হয় অয়ন বায়ু। 
- উত্তর গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ও দক্ষিণ গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু বলা হয়। 
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজগুলো এই বায়ুপ্রবাহ অনুসরণ করতো বলে একে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় কোন রোগের বিরুদ্ধে?
  1. যক্ষ্মা
  2. হুপিং কাশি
  3. রুবেলা
  4. নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
- বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।
- পিসিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে।

সূত্র: www.dghs.gov.bd ওয়েবসাইট
৫৩৮.
৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে বলা হয় -
  1. বিষুব রেখা
  2. কুমেরু
  3. দ্রাঘিমা রেখা
  4. সুমেরু
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- ৬৬.৫° দক্ষিণ  অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৯.
প্রোটিনের অভাবে মানুষের কী রোগ হয়?
  1. কোয়াশিয়রকর
  2. মেরাসমাস
  3. বেরিবেরি
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা

প্রোটিনের অভাবজনিত রোগঃ
খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে 'মেরাসমাস' ও 'কোয়াশিয়রকর' নামক দুটি রোগ হয়।
 - মেরাসমাস রোগে পেশী ও মেদ ক্ষয় হয় ও চামড়া কুচকে যায়, দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৬০ ভাগ কমে যায়, কম বয়সে এ রোগ হলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
- সাধারণত ২ - ৪ বছর বয়সে শিশুদের খাদ্যে আমিষের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এ রোগে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, পেশী ক্ষয় হতে থাকে, পানি জমে শরীর ফুলে যায়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)

৫৪০.
কেমোথেরাপি কী ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাঁপানি
  2. ক্যান্সার
  3. হৃদরোগ
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
কেমোথেরাপি: 
- ক্যান্সারে শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। 
- কেমোথেরাপি হলো এমন এক চিকিৎসা, যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। 
- কেমোথেরাপি হলো ক্যান্সারের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। 
- প্রতিটি জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত যে কোষ বৃদ্ধি পায় বা বিভাজিত হয়। 

- জীবদেহের এই কোষ বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত হয়েছে। 
- কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। 
- কোষ বিভাজনের কোন ধাপে কী প্রয়োগ করা হবে তার ওপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধগুলো ঠিক করা হয়। 
- এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে। যেমন: প্রতিদিনে ১ বার, সপ্তাহে ১ বার বা মাসে ১ বার ইত্যাদি। সাধারণত এভাবে প্রায় ৬ বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। 
- কেমোথেরাপির বিশেষ ঔষধ ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অন্য কোষও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪১.
তিনদিকে স্থলবেষ্টিত এবং একদিকে জলপথ খোলা জলভাগকে কী বলে? 
  1. সাগর
  2. উপসাগর
  3. হ্রদ
  4. নদী
ব্যাখ্যা

মহাসাগর:  
- বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। 
- এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম ও গভীরতম। 
- আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্ট এবং এটি অনেক আবদ্ধ সাগরের (Enclosed sea) সৃষ্টি করেছে। 
- ভারত মহাসাগর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে এন্টার্কটিকার হিমভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান। দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ বছরের সকল সময় বরফে আচ্ছন্ন থাকে। 
- উত্তর গোলার্ধের উত্তর প্রান্তে উত্তর মহাসাগর অবস্থিত এবং এর চারদিক স্থলবেষ্টিত। 

সাগর: 
- মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যরিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি। 

উপসাগর: 
- তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর ও মেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি। 

হ্রদ: 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪২.
কোনটির সংক্রমণে যক্ষ্মা রোগ হয়?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) প্রোটেজোয়া
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা সাধারণত Mycobacterium Tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয়।
এটি জীবাণুঘটিত দীর্ঘস্থায়ী এক সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগ TB নামেও পরিচিত।

যক্ষ্মা একটি প্রাচীন রোগ। সম্ভবত পঞ্চম শতকের প্রথম দিক থেকেই এটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যক্ষ্মা জীবাণুর বিভিন্ন জাত গৃহপালিত পশু ও বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়।

এ রোগ সচরাচর ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু শ্বাসতন্ত্র, অস্থি ও অস্থিসন্ধি, ত্বক, লসিকাগ্রন্থি, অন্ত্র, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রও আক্রমণ করে।
শ্বাসগ্রহণের সময় জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই সাধারণত সংক্রমণ ঘটে। দূষিত খাদ্যগ্রহণেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। যক্ষ্মাগ্রস্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে নির্গত কফ বা থুথুর কণাগুলি অন্যের শরীরে ও বাতাসে জীবাণু ছড়ায়। এসব জীবাণু বাতাসে, শুষ্ক কফ ও থুথুতে এবং ধূলাবালিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থাকে। রোগটি অন্যদের তুলনায় একই পরিবারের লোকদের মধ্যে অধিক পরিমাণে সংক্রমিত হয়ে থাকে, কেননা এক পরিবারের সদস্যরা একই বাড়িতে বসবাস করে, একই টেবিলে খাবার খায় ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে, তবে যক্ষ্মা বংশানুক্রমিক নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৫৪৩.
সর্বপ্রথম বিগ ব্যাঙ মতবাদ কে প্রদান করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জি.লেমেটার
  3. গ) টলেমী
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
বেলজিয়ামের নাগরিক জি.লেমেটার, যিনি একজন ধর্মযাজক ছিলেন সর্বপ্রথম বিগ ব্যাঙ মতবাদ প্রদান করেন ১৯২০ সালে। 

বর্তমান থেকে প্রায় ১৩৭০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব এক অতি ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দুর মতো অবস্থা থেকে প্রচন্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এক অকল্পনীয় ক্ষুদ্র বিন্দুর প্রকান্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় বলে এই মতবাদ বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব নামে পরিচিত।

স্টিফেন হকিং-এর মতে, মহাবিস্ফোরণের সেই মুহূর্তকে ‘সময়ের সূচনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শুরুর মুহূর্তে মহাবিশ্বের যাবতীয় পদার্থ এক অতি ক্ষুদ্র বিন্দুর মধ্যে কেন্দ্রীভূত ছিল যার উষ্ণতা ও ঘনত্ব ছিল অসীম। সেই প্রচন্ড উষ্ণতায় ছিল শুধু বিশুদ্ধ শক্তি ও ধূলির মতো কিছু কণা। তারপর মহাবিস্ফোরণের বহির্মুখী চাপে মহাবিশ্ব যতই সম্প্রসারিত হয়েছে তার ফলে ক্রমশ শীতল হয়েছে। 

সূত্র: National Geographic Website 
৫৪৪.
নিচের কোনটি গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়?
  1. জলীয় বাষ্প (H2O)
  2. কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
  3. মিথেন (CH4)
  4. নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
ব্যাখ্যা
- গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়- নাইট্রিক অক্সাইড (NO), এটি মূলত এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী একটি গ্যাস।

গ্রীন হাউজ গ্যাস ও গ্রীন হাউজ প্রভাব:
- শীতপ্রধান দেশে তাপমাত্রা প্রায় 0°C এর কাছাকাছি থাকে, এত কম তাপমাত্রায় শাকসব্জি চাষ চলে না। ফলে কাঁচের ছাউনিযুক্ত ঘর তৈরি করে এর মধ্যে সবুজ (green) শাকসজির চাষ করা হয়।
- সবুজ উদ্ভিদের ঐ কাঁচের ঘরকে গ্রীন হাউজ বলা হয়।
- গ্রীন হাউজের মধ্যে তাপমাত্রা 38°C থেকে 39°C এর মধ্যে থাকে।
- এটি সম্ভব হয় দৃশ্যমান আলোর সব তরঙ্গ গ্রীন হাউজের কাঁচকে ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে।
- ভূপৃষ্ঠ দৃশ্যমান আলো তরঙ্গ (VIBGYOR) দ্বারা উত্তপ্ত হয়, কিন্তু উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি বিকিরণ করে, IR রশ্মি কাঁচ ভেদ করতে পারে না।

গ্রীন হাউজ গ্যাস:
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়।
- এছাড়াও জলীয় বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে।
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
• গ্রিন হাউজ গ্যাস ⇔ বায়ুতে % পরিমাণ
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস ⇔ 49%,
২। মিথেন (CH4) গ্যাস ⇔ 18%,
৩। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) গ্যাস ⇔ 6%,
৪। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) গ্যাস ⇔ 14%,
৫। ওজোন )=(O3) গ্যাস ⇔ 8% এবং
৬। জলীয় বাষ্প।

অন্যদিকে,
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO) এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস।
- এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NO, NO2) ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫৪৫.
এই শতাব্দীর সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু কোনটি?
  1. হেলির ধূমকেতু
  2. হেলবপ ধূমকেতু
  3. শুমেকার-লেভী ধূমকেতু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
এই শতাব্দীর সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু হল NEOWISE (C/2020 F3)। NEOWISE ২০২০ সালের জুলাই মাসে দৃশ্যমান হয়েছিল এবং এটি ছিল গত ২৫ বছরের মধ্যে উত্তর গোলার্ধে দেখা সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু।

- ধূমকেতু হলো ধুলো, বরফ ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু।
- ২০৬১ সালের ২৮  জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. [skyandtelescope.org]
৫৪৬.
উচ্চ ক্ষমতার এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা হয় কোন পদ্ধতির মাধ্যমে-
  1. ক) রেডিওথেরাপি
  2. খ) কেমোথেরাপি
  3. গ) এনজিওগ্রাম
  4. ঘ) এন্ডোসকপি
ব্যাখ্যা

রেডিও থেরাপি (Radio Therapy)
রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজি জধফরধঃরড়হ ঞযবৎধঢ়ু এর সংক্ষিপ্ত রূপ। রেডিওথেরাপি হলো ক্যানসার আরোগ্য বা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল। এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে। দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।
DNA একটি কোষের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং এটি সকল কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে DNA ধ্বংস করলে কোষটি সাথে সাথেই ধ্বংস হয়। এক্ষেত্রে তেমন সময়ের প্রয়োজন হয় না। এজন্য যে সকল রোগীর ক্যান্সার নিরাময়ে বা সামান্য সময় পাওয়া যায় তাদের ক্ষেত্রে রেডিও থেরাপিই একমাত্র ভরসা। অন্যথায় রোগীর মৃত্যু অনিবার্য।
রেডিও থেরাপিকালে রোগীর কিছু ঝুঁকি দেখা দেয়। যেমন রোগীর চুল পড়ে যায়, চামড়া ঝুলে যায়, মুখের ভিতরের অংশ ও গলা শুকিয়ে যায়, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা বদ হজমে দেখা দেয়। রোগী ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগে। তাই রেডিও থেরাপি দেয়ার সময় রোগীকে প্রতিবার একই জায়গায় একই অবস্থানে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। থেরাপি চলাকালে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলা উচিৎ।
সুত্রঃ এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৭.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়?
  1. মিথেন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রাস
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• অক্সিজেন গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।

• গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড, 
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।

- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি - বোর্ড বই, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.

৫৪৮.
বিভিন্ন রঙয়ের আলোকরশ্মি পাওয়ার জন্য LED তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) পরিবাহী পদার্থ
  2. খ) অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  3. গ) অপরিবাহী পদার্থ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন রঙয়ের আলোকরশ্মি পাওয়ার জন্য LED তৈরিতে অর্ধপরিবাহী পদার্থ  ব্যবহৃত হয়। 

- LED এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Light Emitting Diode।
- এলইডি হচ্ছে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রাংশ যার ভেতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বা তরঙ্গ প্রবাহের মাধ্যমে আলোক নিঃসরণ হয়।
- এটি এমন এক প্রকার পিএন(P-N) জাংশন ডায়োড যা  সম্মুখ ঝোঁকে কাজ করে এবং আলোক নিঃসরণ করে।
- এলইডি হচ্ছে  একটি সম্মুখ ঝোঁক বিশিষ্ট P-N জাংশন ডায়োড। 
- এটি GaAs(গ্যালিয়াম-আর্সেনাইড) GaP(গ্যালিয়াম ফসফাইড) ধরনের অর্ধপরিবাহী যৌগ দ্বারা প্রস্তুত করা হয় যাতে তাদের বেশিরভাগ শক্তি আলো হিসেবে নির্গত হয়।

LED লাইটের ব্যবহারের দিকসমূহ-
১. ইলেকট্রনিক্স মিটারে এলইডি ব্যবহার করা হয়। 
২.  অডিও সিস্টেম বা অডিও  এনালাইজার হিসেবে। 
৩. মনিটরের ব্যাকলাইট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪. বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ইন্ডিকেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৫. রিমোট কন্ট্রোল ট্রান্সমিটার এন্ড রিসিভার ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ৩৫২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৪৯.
220V-60W এর বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) ২২০ বিভব পার্থক্যে বাল্বটিতে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে
  2. খ) প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে
  3. গ) প্রতি মিনিটে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
220V -60W-এর অর্থ: তড়িৎ আলাে পাওয়ার জন্য আমরা যে বাল্ব ব্যবহার করি তার গায়ে দুটি সংখ্যার পাশে V এবং W লেখা থাকে। কোনাে বাল্বের গায়ে 220 এবং 60W লেখা থাকলে বােঝা যায় ২২০ বিভব পার্থক্য বালবটিতে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং তখন প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৫৫০.
মানুষের হৃদপিণ্ডে কয়টি অলিন্দ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। এর মাঝে রয়েছে দুইটি অলিন্দ এবং দুইটি নিলয়।
৫৫১.
বিপর্যয় উপদ্রুত এলাকার জনসাধারণ যখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে কী বলা হয়?
  1. বিপদাপন্নতা
  2. প্রতিকূলতা
  3. দুর্যোগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ:
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫২.
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে বলা হয়-
  1. আয়ন বায়ু
  2. প্রত্যয়ন বায়ু
  3. মৌসুমী বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৩.
ডেঙ্গু ভ্যাকসিন 'কিউডেঙ্গা' কোন দেশের তৈরি?
  1. ফ্রান্স
  2. জাপান
  3. চীন
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
কিউডেঙ্গা:
- প্রাণঘাতী ডেঙ্গু রোগের একমাত্র বাহক এডিস মশা।
- জরুরি প্রয়োজনে জাপানের তৈরি ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
- জাপানের ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।
- এর আগে জরুরি প্রয়োজনে ওই কোম্পানির টিকাকে ছাড়পত্র দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল।
- জাপানের ওষুধ ও টিকা প্রস্তুতকারী কোম্পানি তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালস ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ তৈরি করেছে।
- ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন অঞ্চলগুলোয় ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে জাপানের তৈরি টিকা ব্যবহার করা যাবে। 

উল্লেখ্য,
- প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউভিএম) লার্নার কলেজ অব মেডিসিনের গবেষকরা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনের বিরুদ্ধে উপযোগী টিকা নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
- আইসিডিডিআর,বি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এক ডোজের ডেঙ্গু টিকা টিভি-০০৫ মূল্যায়ন করে দেখা যায়, এটি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োগে নিরাপদ।

উৎস: ৪ অক্টোবর, ২০২০, যুগান্তর। [link]
৫৫৪.
মৃত জীবাণু ভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা কোনটি?
  1. পোলিও
  2. কলেরা
  3. BCG
  4. হাম
ব্যাখ্যা
• মৃত জীবাণু ভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা হলো কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা। 

• নিষ্প্রাণ টিকা তৈরি করা হয় মৃত বা নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু দিয়ে, যা রোগ সৃষ্টি করতে পারে না কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে।

• মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন।
 এগুলো হলো-
- নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine)- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।
- মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine)- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন।
- নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine)- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।
- দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু (Surface chemical molecule)- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি।
- ডিএনএ টিকা (DNA vaccine)- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

তথ্যসূত্র:
- প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৫.
সাইক্লোন শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) হাতির শুঁড়ের ন্যায়
  2. খ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
  3. গ) প্যাঁচানো সাপ
  4. ঘ) এক চোখা প্রাণী
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘সাইক্লোন’ গ্রিক শব্দ ‘কাইক্লোস’ (Kyklos) থেকে এসেছে। কাইক্লোস শব্দের অর্থ কুন্ডলী পাকানো সাপ। ঘূর্ণিঝড়ের উপগ্রহ চিত্র থেকে এমনতর নামকরণের যথার্থতা বোঝা যায়। ব্রিটিশ-ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ  হেনরী পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত সামুদ্রিক দুর্যোগ বিষয়ক পুস্তক The Sailor’s Horn-book for the Law of Storms -এ প্রথমবারের মতো সাইক্লোন শব্দটি ব্যবহার করেন। 

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)  ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণ  প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের একটি। ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় (Tropical cyclone) বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। পৃথিবীর ৩০º উত্তর এবং ৩০º দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষিণ আটলান্টিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ব্যতীত পৃথিবীর বাদবাকি গ্রীষ্মমন্ডলীয় সাগরাঞ্চল যে মারাত্মক বায়ুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ জন্ম দিচ্ছে তা সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে গড়ে ৮০টি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৫৫৬.
মানবদেহে কোষের Chromosome এর সংখ্যা-
  1. ক) ২২ জোড়া
  2. খ) ২৩ জোড়া
  3. গ) ২৪ জোড়া
  4. ঘ) ১৩ জোড়া
ব্যাখ্যা

মানবদেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া।এর মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোসোম এবং ২২ জোরা অটোসোম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান।

৫৫৭.
MRI যন্ত্রে প্রধানত কোন দুটি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গামা রশ্মি ও এক্স-রে
  2. রেডিও তরঙ্গ ও আলোক তরঙ্গ
  3. এক্স-রে ও আল্ট্রাসাউন্ড
  4. শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

- এমআরআই (Magnetic Resonance Imaging) স্ক্যানার মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির বিস্তারিত চিত্র তৈরি করতে দুটি প্রধান শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র শরীরের হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটনগুলোকে একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে সারিবদ্ধ করতে বাধ্য করে। আবার রেডিও তরঙ্গ যখন সারিবদ্ধ প্রোটনগুলোতে প্রয়োগ করা হয়, তখন তারা শক্তি শোষণ করে এবং পরবর্তীতে সেই শক্তি সংকেত হিসাবে নির্গত করে, এই সংকেতগুলো একটি কম্পিউটার দ্বারা প্রক্রিয়া করে বিস্তারিত ছবি তৈরি করা হয়। 

এমআরআই(MRI): 

- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৫৫৮.
'কসমিক ইয়ার' বলতে বুঝায়-
  1. ক) পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  2. খ) নক্ষত্রের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  3. গ) সূর্যের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  4. ঘ) ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে, এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
অর্থাৎ, ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

সোর্সঃ ব্রিটানিকা
৫৫৯.
কোন যুগে মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে?
  1. ক) ক্রিটেসাস যুগে
  2. খ) ট্রায়াসিক যুগে
  3. গ) প্রোটেরোজোয়িক যুগে
  4. ঘ) সিনোজোয়িক যুগে
ব্যাখ্যা

মেসোজোয়িক যুগ শেষ হয় ৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে, এ যুগের দুটো ভাগ হচ্ছে ট্রায়াসিক এবং ক্রিটেসাস।
মেসোজোয়িক যুগের শেষভাগ "ক্রিটেসাস যুগে"ই আদি মানুষদের আবির্ভাব ঘটে।
এই সময়ের কিছু বৈশিষ্ঠ্যঃ
ক্রেটাসিয়াস অধিযুগের প্রথমার্ধের তাপমাত্রা যথেষ্ঠ উষ্ণ ছিল। ফলে এই সময়ে মেরু অঞ্চলে কোন বরফ ছিল না। এই কারণেই সাধারণ সমতল ভূভাগের বিচারে সমুদ্রের উপরিভাগ বেশ উচ্চ ছিল। অধিকাংশ ভূভাগের উপরিভাগে তখনও সমুদ্রের পানি ছিল। এই জলাভূমিতে সৃষ্টি হয়েছিল বিশাল বনভূমি। মূলত এই অধিযুগে সপুষ্পক উদ্ভিদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

জিওলজিকাল যুগ বিভাজনের সর্বশেষ পর্যায় হচ্ছে সিনোজোয়িক যুগ। যা ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে শুরু হয়ে বর্তমান কাল পর্যন্ত বিস্তৃত। আধুনিক মানুষের শ্রেণিটি (Homo Sapiens) - এই সময়ে বিস্তার লাভ করে।


৫৬০.
আমাদের সৌরজগৎ কোন গ্যালাক্সিতে অবস্থিত?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা
  2. প্রক্সিমা সেন্টোরি
  3. সোমব্রেরো গ্যালাক্সি
  4. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
ব্যাখ্যা

• আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে অবস্থিত। মিল্কিওয়ে একটি বিশাল স্পাইরাল আকারের গ্যালাক্সি, যার ব্যাস প্রায় ১,০০,০০০ আলোকবর্ষ এবং এতে কয়েকশ কোটি তারা রয়েছে। আমাদের সৌরজগৎ এই গ্যালাক্সির এক বাহ্যিক কক্ষপথে অবস্থান করছে, যা কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থেকে প্রায় ২৭,০০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে। মিল্কিওয়ে ছায়াপথ হিসেবে পরিচিত, কারণ প্রাচীন মানুষ আকাশে এর আলোকিত রেখার মতো চিহ্ন দেখতে পেত। গ্যালাক্সিটি বিভিন্ন ধরনের তারা, গ্যাস ও ধূলিকণার সমন্বয়ে গঠিত। তাই সৌরজগৎ কোন অনন্য বা ছোট গ্যালাক্সির অংশ নয়, বরং এই বিশাল মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অন্তর্গত। উত্তর: ঘ) মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
 
• মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

• অন্যান্য অপশন:
- সোমব্রেরো গ্যালাক্সি: এটি একটি বিখ্যাত সর্পিলাকার গ্যালাক্সি, যা আমাদের মিল্কিওয়ে থেকে প্রায় ২৮ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অ্যান্ড্রোমিডা: এটি আমাদের নিকটতম বৃহৎ প্রতিবেশী গ্যালাক্সি।
- প্রক্সিমা সেন্টোরি: এটি কোনো গ্যালাক্সি নয়, বরং আমাদের নিকটতম নক্ষত্র (সূর্য ছাড়া)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৫৬১.
ডিপথেরিয়ায় মানবদেহের প্রধানত কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) কান
  2. খ) নাক
  3. গ) গলা
  4. ঘ) পাকস্থলী
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়ায় মানবদেহের প্রধানত গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মারাত্মক রোগ যা গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- Corynebacterium diphtheriae নামক ব্যাকটেরিয়া ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী।
- এই রোগে গলার নিম্নাংশে পুরু পর্দার আচ্ছাদন (ডিপথেরিক মেমব্রেন) পড়ে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
- এই রোগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, প্যারালাইসিস, কিডনি নষ্ট হতে পারে এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণসমূহ-
১) ঠান্ডা লাগা। 
২) জ্বর। 
৩) গলায় প্রচন্ড ব্যাথা ও কাশি। 
৪) মুখ দিয়ে লালা বের হওয়া। 
৫) শ্বাস নিতে অসুবিধা। 
৬) খাবার গিলতে সমস্যা। 
৭) কথা বলার মধ্যে জড়তা। 
৮) নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। 
৯) দুর্বলতা। 
১০) প্রচন্ড মাথা ব্যথা। 

সূত্র- Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]
৫৬২.
নিচের কোনটি কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত সংবহনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হেপাটিক ধমনি
  2. খ) ফুসফুসীয় ধমনি
  3. গ) পালমােনারি শিরা
  4. ঘ) ফিমোরাল ধমনি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
সাধারণত ধমনি সংবহনে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকে।
যেমন মহাধমনি, হেপাটিক বা যকৃত ধমনি, ফিমোরাল ধমনি ইত্যাদি প্রায় সকল ধমনি সংবহনেই অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকের

কেবল ফুসফুসীয় ধমনির সংবহনে কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকে।
- ফুসফুসীয় ধমনির উদ্ভব হয় ডান নিলয় থেকে।
- হৃদপিণ্ডের ডান নিলয়ের সংকোচনের ফলে কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত তথা অক্সিজেনরিক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

করােনারি ধমনি: অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করােনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।

ইনমিনেট ধমনি: এটি একটি খাটো ও মােটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারােটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।

পালমােনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।

পালমােনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৩.
মঙ্গলগ্রহ কত দিনে সূর্যকে আবর্তন করে?
  1. ৩৬৫
  2. ৪২৭
  3. ৬৬৭
  4. ৬৮৭
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):

- সূর্য থেকে মঙ্গলের গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার।
- মঙ্গলগ্রহ ৬৮৭ দিনে সূর্যকে আবর্তন করে।
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- বৃত্তাকার কক্ষপথে ডিমোস প্রতি ৩০ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এবং ফোবস ৭ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে মঙ্গলকে একবার আবর্তন করে।
- মঙ্গলে রয়েছে সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি নিকস অলিম্পিকা।
- মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্গন প্রভৃতি গ্যাস রয়েছে।
- মঙ্গলের আকাশ নীল, মাটি লাল ও শুষ্ক।
- মঙ্গলের তাপমাত্রা ২০° সেলসিয়াস এর অধিক হয় না। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৪.
ডেঙ্গু যে ধরণের ভাইরাস -
  1. ক) DNA
  2. খ) DNA + RNA
  3. গ) RNA
  4. ঘ) mRNA
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- এর ভাইরাসের নাম Dengue virus(DENV)
- ইহা একটি RNA ভাইরাস।
- এর বাহক Aedes aegypti.

তথ্যসূত্র: জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট।
৫৬৫.
সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ -
  1. ক) জুপিটার
  2. খ) ভেনাস
  3. গ) মার্কারী
  4. ঘ) নেপচুন
ব্যাখ্যা
বুধ বা মার্কারি হলো সূর্যের নিকটতম এবং ক্ষুদ্রতম গ্রহ। সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ হলো জুপিটার। পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ হলো ভেনাস। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৫৬৬.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে বছর জুড়ে কোন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি হয়?
  1. ক) পরিচলন বৃষ্টি
  2. খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. গ) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  4. ঘ) ঘূর্ণি বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে পরিচলন বৃষ্টি বলে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে। ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ু সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকেল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি ঘটায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৫৬৭.
হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরের স্তর কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট - 

- এপিকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।
- মায়োকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- এন্ডোকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায় ।

অন্যদিকে -
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরে দুই পাশে দুইটি অলিন্দ এবং নিচে দুই পাশে দুইটি নিলয়।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৮.
'গ্রে-হাইড্রোজেন'-এর তুলনায় 'গ্রীন-হাইড্রোজেনের' সুবিধা হল -
  1. এটি উৎপাদন করা সস্তা
  2. এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
  3. এটি সংরক্ষণ এবং পরিবহন করা সহজ
  4. প্রতি একক আয়তনে এর শক্তি ঘনত্ব বেশি
ব্যাখ্যা

- গ্রে-হাইড্রোজেনের তুলনায় গ্রীন-হাইড্রোজেনের প্রধান সুবিধা হলো এর উৎপাদন ও ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়, যা পরিবেশবান্ধব, যদিও বর্তমানে এটি উৎপাদন করা ব্যয়বহুল। 

হাইড্রোজেনের রঙভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ: 
- ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী সমর্থন, ব্যবহারের বহুমুখীতা এবং উচ্চ শক্তির ঘনত্ব হাইড্রোজেনকে জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের জন্য একটি সম্ভাব্য বিঘ্নকারী প্রযুক্তিতে পরিণত করে। এই ভূমিকা পালনকারী হাইড্রোজেন শক্তিকে সহজতর করার জন্য এমন একটি শ্রেণীবিন্যাস প্রবর্তন করা প্রয়োজন যা ব্যবহৃত হাইড্রোজেনের কার্বন পদচিহ্নকে আলাদা করে। 

হাইড্রোজেনের প্রকারভেদ:
- ন্যাশনাল গ্রিড গ্রুপ বাদামী হাইড্রোজেন এবং গোলাপী হাইড্রোজেন সহ নয় ধরণের হাইড্রোজেনের নামকরণ করেছে।
- তবে সবচেয়ে সাধারণ তিনটি হলো- ধূসর হাইড্রোজেন (Grey Hydrogen), নীল হাইড্রোজেন (Blue Hydrogen) এবং সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen)। 
- হাইড্রোজেনকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করার একটি প্রধান কারণ হলো সবুজ ধোয়ার সুযোগ সীমিত করা। কারণ বর্তমানে উৎপাদিত বেশিরভাগ হাইড্রোজেন দূষণকারী এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভর করে।
- সাধারণ তিনটি হাইড্রোজেন সম্পর্কে নিম্নে বর্ণনা দেওয়া হলো- 
১. ধূসর হাইড্রোজেন (Grey Hydrogen):
- ধূসর হাইড্রোজেন হলো হাইড্রোজেনের সবচেয়ে সাধারণ ধরণ। এটি মূলত বাষ্প মিথেন সংস্কার (SMR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বভাবতই, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এটিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং গ্রিনহাউস গ্যাস-ভারী করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, হাইড্রোজেন উৎপাদনের সরাসরি ফলাফল হিসেবে বার্ষিক ৮৩০ মিলিয়ন টনেরও বেশি CO2 উৎপন্ন হয়।

২. নীল হাইড্রোজেন (Blue Hydrogen): 
- নীল হাইড্রোজেন হলো ধূসর হাইড্রোজেন উৎপাদনকে কার্বনমুক্ত করার প্রচেষ্টার ফলাফল। CCS (কার্বন ক্যাপচার এবং স্টোরেজ) প্রযুক্তি এবং CCU (কার্বন ক্যাপচার এবং ব্যবহার) উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে একত্রিত হয়ে মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমায়। তবে, নীল কার্বন প্রকল্পের কার্বন ক্যাপচারের হার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। 

৩. সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen): 
- সবুজ হাইড্রোজেন হলো কম কার্বন হাইড্রোজেন উৎপাদনের একমাত্র রূপ। এটি সৌর, বায়ু এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে শক্তির উপর নির্ভর করে, যা তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হাইড্রোজেন উৎপাদন করে। প্রক্রিয়াটি সহজ এবং কোনও CO2 নির্গত করে না, যার ফলে সবুজ হাইড্রোজেন সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত প্রকার।

বিশ্বব্যাপী, সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন মোট উৎপাদিত হাইড্রোজেনের ১% এরও কম। সবুজ হাইড্রোজেনকে পিছনে রাখার প্রধান বাধা হল দাম। ২০২১ সালের হিসাবে, সবুজ হাইড্রোজেনের দাম ধূসর হাইড্রোজেনের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি এবং নীল হাইড্রোজেনের দামের দ্বিগুণ। এই দাম সম্ভবত এটিকে শক্তির জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং ধূসর হাইড্রোজেনের সাথে খরচ-প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে, যার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: International Energy Week Report [লিঙ্ক]।

৫৬৯.
Species Plantarum বইটি রচনা করেন কে?
  1. ক) অ্যারিস্টটল
  2. খ) থিয়োফ্রাস্টাস
  3. গ) রবার্ট হুক
  4. ঘ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species Plantarum বইটি রচনা করেন। এই বইটির প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৭০.
লিসমেনিয়া ((Leishmania) নামক পরজীবীর আক্রমণে মানবদেহে কোন রোগের সংক্রমণ দেখা দেয়?
  1. ডেঙ্গু জ্বর
  2. কালাজ্বর
  3. ফাইলেরিয়া জ্বর
  4. কুষ্ঠ
ব্যাখ্যা

লিসমেনিয়া (Leishmania) নামক পরজীবীর আক্রমণে মানবদেহে কালাজ্বর (Leishmaniasis বা Kala-azar) নামক সংক্রামক রোগ দেখা দেয়।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া এলাকা হলো সর্বাধিক কালাজ্বর প্রবণ এলাকা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়া সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়।
- আর ঠাকুরগাঁও সহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলাগুলো হলো ফাইলেরিয়া প্রবণ এলাকা।
সূত্র: Encyclopedia Britannica থেকে বঙ্গানুবাদ ও সহজীকৃত.

৫৭১.
বুধ গ্রহের ক্ষেত্রে সত্য নয় কোনটি?
  1. ক) বুধ গ্রহের উপগ্রহ আছে।
  2. খ) সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
  3. গ) সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
  4. ঘ) সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহ।
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি।
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধ।
- সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহ বুধ।
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- সৌরজগতের বুধ ও শুক্র গ্রহের উপগ্রহ নেই।
- সৌরজগতের শনি গ্রহের উপগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
- বুধ ৮৮ দিনে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮।
৫৭২.
কসমিক-রে এর আবিষ্কারক -
  1. উইলিয়াম রাদারফোর্ড
  2. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
  3. রন্টজেন
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):

• বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
• ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
কসমিক-রে  বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক-  ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
• মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
• ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
• বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৫৭৩.
নিচের কোনটি ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ নয়?
  1. ক) জ্বর হওয়া
  2. খ) পেশীতে ব্যথা অনুভব করা
  3. গ) মাথাব্যথা
  4. ঘ) উচ্চ রক্তচাপ
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্তচাপ ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ নয়। 

লক্ষণ- 
- ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ২-২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে, গড়ে ৭-১০ দিন।
- প্রাথমিকভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো জ্বর, ক্ষুধামন্দা, গা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কাশি ইত্যাদি দেখা দেয়।
- এর পরে বমি, পাতলা পায়খানা এবং ত্বকে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- নাক, মাড়ি, চোখ, বমিতে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- ত্বকে রক্তক্ষরণের কারণে এক ধরনের ছোপ ছোপ লালচে ক্ষত দেখা দেয়, কাশি এবং মলেও রক্তক্ষরণ হয়।
- শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণ হতে থাকে, লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে।
- এ রোগের কিছু লক্ষণ ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুজ্বরের মতো মনে হতে পারে। ৮-১২ দিনের মধ্যে মৃত্যু হয়ে থাকে।
-দুর্বলতা এবং অস্থি জোড়ার ব্যথা রোগ প্রশমনের দীর্ঘকাল পরও পরিলক্ষিত হয়। 

সূত্র: WHO Website [লিঙ্ক]
৫৭৪.
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ‍ধূমকেতুর নাম কি?
  1. হ্যালি
  2. লারা
  3. উল্কা
  4. লাইনিয়ার
ব্যাখ্যা
- একুশ শতকের প্রথম ধূমকেতুটির নাম ছিল C/1999 S4 (LINEAR)। 
- এটি 27 সেপ্টেম্বর, 1999 -এ লিঙ্কন নিয়ার-আর্থ অ্যাস্টেরয়েড রিসার্চ (LINEAR) প্রকল্প দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা নিউ মেক্সিকোতে স্বয়ংক্রিয় টেলিস্কোপের একটি সিস্টেম ছিল যার লক্ষ্য ছিল ধূমকেতু এবং গ্রহাণু সহ পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তুগুলি সনাক্ত করা। 
- এই ধূমকেতুটি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল কারণ এটি সূর্যের কাছে আসার সাথে সাথে দিনের বেলাও খালি চোখে দৃশ্যমান হয়েছিল। 
- এটি 2000 সালের জুলাই মাসে সূর্যের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

উৎস: [লিঙ্ক]।
৫৭৫.
সবুজ আলোতে গোলাপ ফুলকে কেমন দেখাবে?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) গোলাপী
  4. ঘ) কালো
ব্যাখ্যা
সবুজ আলোতে গোলাপ ফুল থেকে কোনো রঙই প্রতিফলিত হয় না বলে গোলাপ ফুলকে কালো দেখায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫৭৬.
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী স্থান, ভর ও সময় সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? 
  1. সবগুলো ধ্রুব রাশি
  2. স্থান, ভর ও সময় আপেক্ষিক
  3. কেবল ভর পরিবর্তন হয়, স্থান ও সময় অপরিবর্তিত থাকে
  4. এগুলো কেবল কম গতিসম্পন্ন বস্তুর জন্য পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিকতার নীতি (Principle of Relativity): 
- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 
- ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রতিকে বেগ বলা হয়। কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়। 
- সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়। তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়। 
অর্থাৎ, সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করা হয়। 

- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি।
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান। তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। 
- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়, আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। 
- পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরত্ব অপরিসীম। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন, এটাই আপেক্ষিকতার নীতি। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৭.
অতিবেগুনি রশ্মি কোথা থেকে আসে?
  1. চন্দ্র
  2. তারকা
  3. সূর্য
  4. ব্লাক হোল
ব্যাখ্যা
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি। 
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অন্যান্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি। 
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে। 
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
৫৭৮.
সর্বপ্রথম পোলিওমাইলিটিস কে আবিষ্কার করেন?
  1. সার্জন জ্যাকব হেইন
  2. সার্জন রজার পাওয়েল
  3. সার্জন হেইরী কেইন
  4. সার্জন জ্যাকলিন হ্যারিস
ব্যাখ্যা
পোলিও:

- পোলিও এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের পুরো নাম পোলিওমাইলাইটিস।
- ১৮৪০ সালে জার্মান অর্থোপেডিক সার্জন জ্যাকব হেইন সর্বপ্রথম পোলিওমাইলিটিস আবিষ্কার করেন।
- মানুষ হচ্ছে পোলিও ভাইরাসের একমাত্র প্রাকৃতিক পোষক।
- পোলিও ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে অন্য সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে।
- ভাইরাসটি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করে এবং মাংসপেশিকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকোষকে আক্রান্ত করে। এর ফলে ব্যক্তির শরীর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়।
- আক্রান্ত স্থানটি সাধারণত পায়ে হয়ে থাকে।
- পোলিও শিশুদেরই অধিক আক্রান্ত করে, তাই এটি অপরিপক্ব পক্ষাঘাত নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৯ জুন, ২০২২।
৫৭৯.
শরীর হতে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়-
  1. ক) ফুসফুস
  2. খ) কিডনী
  3. গ) হৃৎপিণ্ড
  4. ঘ) যকৃত
ব্যাখ্যা

আমাদের দেহের বিপাকক্রিয়ায় তৈরি সব বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে কিডনি বা বৃক্কের মাধ্যমেই বের হয়ে যায়।

একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৫০০ মিলিলিটার মূত্র ত্যাগ করে।
মূত্রে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত পদার্থ থাকে। এগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
এসব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃক্ক মানবদেহের সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
তা ছাড়া মানবদেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮০.
অটিজম কী?
  1. ক) চোখের সমস্যা
  2. খ) বিকাশের সমস্যা
  3. গ) দাঁতের সমস্যা
  4. ঘ) কথায় জড়তা
ব্যাখ্যা
• অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শিশুদের স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা,
যেখানে
- শিশুর সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অসুবিধা,
- আশেপাশের পরিবেশ ও ব্যক্তির সাথে মৌলিক ও ইশারা ইংগিতের মাধ্যমে যোগাযোগের সমস্যা
- এবং আচরণের পরিবর্তন দেখা যায়।

সূত্র: নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, বাংলাদেশ সরকার।
৫৮১.
যক্ষ্মার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. ছত্রাক
  4. কৃমি
ব্যাখ্যা

মানুষের যক্ষ্মার জন্য দায়ী হলো Mycobacterium tuberculosis নামক এক বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া।
গরু-ছাগলের যক্ষ্মার জন্য দায়ী Mycobacterium bovis নামক এক বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫৮২.
শরীরের কোন অঙ্গে যক্ষ্মার জীবাণু সাধারণত আক্রমণ করে না?
  1. অস্থি
  2. মস্তিষ্ক
  3. ক্ষুদ্রান্ত্র
  4. হৃদপেশি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
যক্ষ্মা হলো Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত একটি রোগ। সাধারণত মানব শরীরে এমন কোনো অঙ্গ নেই - যেখানে যক্ষ্মা হতে দেখা যায় না। ফুসফুস, ক্ষুদ্রান্ত্র, ত্বক, লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হলো সাধারণ কিছু অঙ্গ যেখানে যক্ষ্মা বেশি আক্রমণ করে।
তবে অস্থি, মস্তিষ্ক, ফুসফুসের আবরণী, হৃদপিণ্ডের আবরণী, বৃক্ক, যকৃত ইত্যাদি অঙ্গেও যক্ষ্মা হতে দেখা যায়।
থাইরয়েড গ্রন্থি এবং হৃদপেশিতে সাধারণত যক্ষ্মার জীবাণু আক্রমণ করে না৷

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৮৩.
বাংলাদেশে তৈরি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ওষুধের নাম-
  1. ক) সিভ্যাক
  2. খ) ন্যাসভ্যাক
  3. গ) জেসিভ্যাক
  4. ঘ) হ্যাসভ্যাগ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে তৈরি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ওষুধের নাম - ন্যাসভ্যাক
- হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের ওষুধ ‘ন্যাসভ্যাক’ উদ্ভাবক দেশের দুই বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর ও অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।
- হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস লিভার প্রদাহের মুখ্য কারণ। 
- পরীক্ষায় দেখা গেছে ‘নাসভ্যাক’ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। 

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো।
৫৮৪.
পরপর অবস্থিত দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল কোনটি?
  1. কোষদেহ
  2. ডেনড্রাইট
  3. অ্যাক্সন
  4. সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
নিউরন:
- নিউরনই প্রকৃতপক্ষে স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক।
- একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে। 
যথা: 
(ক) কোষ দেহ, 
(খ) প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ:
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষ দেহ নামে পরিচিত।

প্রলম্বিত অংশ: 
- কোষ দেহ হতে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে।
- প্রলম্বিত অংশ দু'ধরনের। 
যথা: 

১. ডেনড্রাইট: কোষ দেহের চারদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রাইট এর সংখ্যা শূন্য থেকে কয়েকটি হতে পারে।

২. অ্যাক্সন:
- কোষ দেহ হতে সৃষ্ট বেশ লম্বা শাখাহীন তন্তুটির নাম অ্যাক্সন।
- এর চারদিকে পাতলা আবরণকে নিউরিলেমা বলে।
- নিউরিলেমা পরিবেষ্টিত অ্যাক্সনকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
- নিউরিলেমা ও অ্যাক্সন এর মধ্যবর্তী অংশে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়োলিন সিথ বলে।

- একটি নিউরনের অ্যাক্সনের সাথে দ্বিতীয় একটি নিউরনের ডেনড্রাইট যুক্ত থাকে।
- এ সংযুক্ত বিন্যাসকে সিন্যাপস (Synapse) বলে।
- পরপর অবস্থিত দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল হলো সিন্যাপস।
- সিন্যাপস এর মধ্যদিয়ে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে স্নায়ু তাড়না প্রবাহিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৫.
শিশুর বয়স কত হলে পেন্টাভ্যালেন্ট ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হয়?
  1. ক) ৪৯ দিন
  2. খ) ৬০ দিন
  3. গ) ৪২ দিন
  4. ঘ) ৫৬ দিন
ব্যাখ্যা
- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হবে জন্মের প্রথম বছরেই। 
- সবগুলাে টিকা দেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ।
- শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হামের টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। 
- ১৫ বছর বয়স হলেই সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টিকা দেয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডােজ টিটি টিকা নেয়া শেষ করতে হবে। 
- ১-৫ বছর বয়সী শিশুকে ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 
৫৮৬.
মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন-
  1. ক) তেজস্ক্রিয়তা
  2. খ) ডিনামাইট
  3. গ) ডায়নামো
  4. ঘ) পারমাণবিক বোমা
ব্যাখ্যা
যুক্তরাজ্যের বৈজ্ঞানিক মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন। আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেন ডিনামাইট; ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; এবং তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করে হেনরি বেকেরেল। সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৫৮৭.
শিশুদের বাচ্চার কত বছর থেকে মায়ের বুকের দুধের সাথে অন্যান্য খাবার খেতে দিতে হয়?
  1. ক) ১২ মাস 
  2. খ) ৬ মাস
  3. গ) ১৮ মাস
  4. ঘ) ২৪ মাস
ব্যাখ্যা
শিশুদের বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের বুকের দুধের সাথে অন্যান্য খাবার দিতে হয়। 

পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে সিরিয়াল এবং শাকসবজি ও ডিমের মতো পারিবারিক খাবার চটকে খাওয়াতে হবে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে।

একেই বলে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো। এর মধ্য দিয়ে শিশু শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়া থেকে পারিবারিক খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। শিশুর ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্বে ছয় মাস থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং এমন একটি সময়ে এটা হয় যখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

সূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ। 
৫৮৮.
আপেক্ষিকতার তত্ত্বের ভিত্তিতে নিম্নের কোনটির ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়?
  1. ক) মহাকর্ষ
  2. খ) নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. গ) সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিকতার তত্ত্ব
- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রুতিকে বেগ বলা হয়।
- কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়। সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়।
- তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়। অর্থাৎ সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করা হয়।
- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি।
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান । তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধ মানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়।
- পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন। এটাই আপেক্ষিকতার নীতি।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৯.
তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা প্রদান করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্সপ্লাঙ্ক
  2. খ) কুলম্ব
  3. গ) আরহেনিয়াস
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত বিজ্ঞানী আরহেনিয়াস ১৮৮১ সালে প্রথম তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যাখ্যা দেন।
তিনি দেখিয়েছিলেন এসিড, ক্ষার বা লবণজাতীয় যৌগিক পদার্থকে তরলে দ্রবীভূত করলে সেগুলো আয়নায়িত হয়ে সম-পরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধানে ভাগ হয়ে যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯০.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত?
  1. ক) ২৩০০ মিমি
  2. খ) ১৭০০ মিমি
  3. গ) ২৪০০ মিমি
  4. ঘ) ২১০০ মিমি
ব্যাখ্যা

নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই (পৃষ্ঠা নং ২০৯, ২০২০ বর্ষ) অনুসারে, বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৩০০ মিমি।
কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস), গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (ais.gov.bd) অনুসারে, বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৩০০ মিমি।
---------
নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই (পৃষ্ঠা নং ১৫৬, ২০২০ বর্ষ) অনুসারে, বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় সিলেট অঞ্চলে।

৫৯১.
'টিবি' রোগের জন্য দায়ী
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে যক্ষা বা টিবি হয়।
তবে Mycobacterium গণভুক্ত আরও কিছু ব্যাকটেরিয়া যক্ষা সৃষ্টি করতে পারে। 

- যক্ষা রোগের ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে প্রবেশ করে শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে।
- যক্ষা রোগের জীবাণুর প্রথম আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কচ।
- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, অপুষ্টিকর ও অপর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণ এবং অধিক পরিশ্রমে এই রোগ হয়।
- যক্ষা রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রত্যেক শিশুকে দেওয়া হয় বিসিজি টিকা।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান
৫৯২.
প্রথম মহাকাশচারী ব্যক্তি কে?
  1. নীল আর্মস্ট্রং
  2. ইউরি গ্যাগারিন
  3. ভেলেন্টিনা তেরেসকোভা
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
ইউরি গ্যাগারিন:
- মহাকাশে প্রথম ভ্রমণকারী ইউরি গ্যাগারিন
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ অভিযাত্রী ইউরি গ্যাগারিন। 
- মহাকাশে তিনিই হলেন প্রথম মানব অভিযাত্রী।
- ১৯৬১ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণ করেন। 
- ভস্টক–১ নভোযানে তিনি মহাকাশে যান।
- গ্যাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১০৮ মিনিট।
- মাত্র দেড় ঘণ্টার মতো সময়ে তিনি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: Britannica.
৫৯৩.
মুক্তা হলো ঝিনুকের-
  1. ক) খোলসের টুকরা
  2. খ) চোখের মণি
  3. গ) জমাট হরমোন
  4. ঘ) প্রদাহের ফল
ব্যাখ্যা
মুক্তা হলো ঝিনুকের প্রদাহের ফল। ঝিনুক হলো এক ধরনের দুই খোলক বিশিষ্ট জলজ প্রাণী।
৫৯৪.
The largest planet in the solar system is-
  1. ক) Mars
  2. খ) Jupiter
  3. গ) Venus
  4. ঘ) Saturn
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি।
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধ।
- সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহ বুধ।
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- সৌরজগতের বুধ ও শুক্র গ্রহের উপগ্রহ নেই।
- সৌরজগতের শনি গ্রহের উপগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
- বুধ ৮৮ দিনে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮।
৫৯৫.
পোলিওর জন্য ব্যবহৃত টিকার নাম কী?
  1. পিভিসি
  2. ডিপিটি
  3. ওপিভি
  4. বিসিজি
ব্যাখ্যা

• পোলিও রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত টিকার সঠিক নাম হলো ওপিভি (OPV – Oral Polio Vaccine), অর্থাৎ  অপশন গ)। এই টিকা মুখের মাধ্যমে খাওয়ানো হয় এবং শিশুদের শরীরে পোলিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। ওপিভি সহজে প্রয়োগযোগ্য, কম খরচের এবং গণটিকাদান কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল অভিযানে এই টিকার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে পিভিসি কোনো টিকা নয়, ডিপিটি ডিপথেরিয়া, পারটুসিস ও টিটেনাসের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বিসিজি যক্ষ্মা প্রতিরোধে দেওয়া হয়।

• ওপিভি (Oral Polio Vaccine):
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন।
- ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- এটি দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা দেহে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

• পোলিও রোগের লক্ষণসমূহ:
- মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
- জ্বর থাকে।
- শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়।
- শিশু দাঁড়াতে চায় না।
- উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে।
- দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না।
- শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- যক্ষা রোগের টিকার নাম বিসিজি।
- ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকার নাম ডিপিটি।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বাংলাপিডিয়া।

৫৯৬.
কোষের তড়িচ্চালক বল পরিমাপ করার যন্ত্রের নাম-
  1. ক) গ্যালভানােমিটার
  2. খ) মিটার ব্রীজ
  3. গ) অ্যামিটার
  4. ঘ) পােটেনশিওমিটার
ব্যাখ্যা
বিভব পতন পদ্ধতিতে যে যন্ত্রের সাহায্যে ছোট মানের বিভব বৈষম্য ও বিদ্যুচ্চালক শক্তি সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায় তাকে পােটেনশিওমিটার বলে। এর সাহায্যে বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা এবং রােধও নির্ণয় করা যায়। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৫৯৭.
পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. কানাডা
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রিফ:

- এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।
- এটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে অবস্থিত।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪৪,৪০০০ কিলোমিটার। 
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটি এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐহিত্য।

তথ্যসূত্র - গ্রেট বেরিয়ার রিফ অর্গানাইজেশন ওয়েবসাইট।
৫৯৮.
কোন ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করে 'ন্যাসভ্যাক'?
  1. ক) করোনা
  2. খ) হেপাটাইটিস-বি
  3. গ) এম এম আর
  4. ঘ) নিপাহ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে তৈরি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ওষুধের নাম - ন্যাসভ্যাক
- হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের ওষুধ ‘ন্যাসভ্যাক’ উদ্ভাবক দেশের দুই বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর ও অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।
- হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস লিভার প্রদাহের মুখ্য কারণ। 
- পরীক্ষায় দেখা গেছে ‘নাসভ্যাক’ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট। 
৫৯৯.
মানবদেহের রাসায়নিক গবেষণাগার কোনটি?
  1. ক) অগ্ন্যাশয়
  2. খ) গ্যাস্টিক গ্রন্থি
  3. গ) লালাগ্রন্থি
  4. ঘ) যকৃৎ
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিক গ্রন্থি (Digestive glands): যেসব গ্রন্থির রস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয় তাদেরকে পরিপাকগ্রন্থি বা পৌষ্টিকগ্রন্থি বলে। মানবদেহে পৌষ্টিকগ্রন্থিগুলো হলো:
• লালাগ্রন্থি
• যকৃৎ
• অগ্ন্যাশয়
• গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
• আন্ত্রিক গ্রন্থি

যকৃৎ (Liver):
• মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
• এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
• যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
• যকৃতে পিত্তরস (bile) তৈরি করে।
• পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন।
• যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় ৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬০০.
কোন এলাকাগুলো গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে? 
  1. পাহাড়ি এলাকা 
  2. অরণ্য
  3. সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল 
  4. মরুভূমি 
ব্যাখ্যা

পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব: 
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে আবদ্ধ। 
- লক্ষ লক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছে জীববৈচিত্র্য। 
- অরণ্য, পাহাড়, জলাভূমি, সমুদ্র জীববৈচিত্র্যের অতীব প্রয়োজনীয় আঁধার। তাই পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি প্রয়োজনীয় উপকরণ নিরবিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে।
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যাবে, ফলে চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হবে।
- গ্রীন হাউজ অর্থ সবুজ ঘর, এটি কাচ দিয়ে তৈরি ঘর। প্রয়োজনমত তাপমাত্রা সৃষ্টি করে সবুজ গাছ পালা জন্মানো হয়। 
- সাধারণত শীত প্রধানদেশে এ ধরনের কাচের ঘর তৈরি করে শসা, টমেটো, কপি, লেটুস, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের শাকসব্জি চাষ করা হয়। সূর্য্যের দৃশ্যমান আলো গ্রীন হাউজের কাচের প্রাচীর ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে কিন্তু বিকিরিত আলোকরশ্মি কাচ ভেদ করে বাইরে আসতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে তাপ ভেতরে থেকে যায়, কাচের ঘর গরম হয় এবং গাছ জন্মানোর জন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। 

- গ্রীন হাউজ প্রভাব বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার সাথে সংযুক্ত। 
- সূর্য থেকে আগত দৃশ্যমান আলোক রশ্মি ভূপৃষ্ঠ থেকে ইনফ্রারেড রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে বাইরে চলে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) ইনফ্রারেড রশ্মিকে শোষণ করে। ফলে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে ইনফ্রারেড রশ্মি যেতে পারে না। বায়ুমণ্ডলের গ্যাসসমূহ গ্রীন হাউজের কাচের দেয়ালের ন্যায় কাজ করে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলা হয়। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। 
- কিন্তু পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীন হাউজের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। 
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বেশি বেশি গাছপালা ধ্বংস করা এবং শিল্পায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।