বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৪০১৫০০ / ৩,৮৭৯

৪০১.
পৃথিবীর evil twin বলা হয় কোন গ্রহকে?
  1. শনি
  2. শুক্র
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

• শুক্র গ্রহ:
- শুক্র সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী গ্রহ।
- এটি সূর্য ও চাঁদের পর আকাশের তৃতীয় উজ্জ্বল বস্তু।
- শুক্র ধীরে এবং অধিকাংশ গ্রহের বিপরীত দিকে ঘূর্ণন করে।
- এর গঠন ও আকার পৃথিবীর অনুরূপ, তাই একে কখনও পৃথিবীর দুষ্ট যমজ (evil twin) বলা হয়।
- শুক্রের ঘন বায়ুমণ্ডল তাপ ধরে রাখে, যা গ্রীনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রহ, যেখানে তাপমাত্রা সীসা গলানোর মতো বেশি।
- ঘন মেঘের নিচে এর পৃষ্ঠে আগ্নেয়গিরি এবং বিকৃত পর্বত রয়েছে।

উল্লেখ্য,
• শুক্রকে পৃথিবীর দুষ্ট যমজ বলার কারণ:

⇒ শুক্র এবং পৃথিবীকে মাঝে মাঝে যমজ বলা হয় কারণ তারা প্রায় একই আকারের। শুক্র গ্রহ প্রায় পৃথিবীর মতোই বড়। তারা সৌরজগতের একই অভ্যন্তরীণ অংশে গঠিত হয়েছিল। শুক্র আসলে পৃথিবীর আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। তাই তারা সৌরজগতের একই অংশে গঠিত হয়েছিল, একই উপকরণ দিয়ে তৈরি। তারা প্রায় একই আকারের।

উৎস: NASA. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৪০২.
'বাংলামতি' কৃষিতে কিসের জাত?
  1. ধান
  2. গম
  3. পাট
  4. ইক্ষু
ব্যাখ্যা

বাংলামতি:
- 'বাংলামতি' কৃষিতে এক প্রকার ধান।
- এটি ধানের উন্নত জাত।
- ব্রি ধান-৫০ যার জনপ্রিয় নাম বাংলামতি (বাসমতীর ন্যায়) ধানের জাত অনুকূল বোরো মওসুমের জন্য উপযোগী।
- অবমূক্তকারী প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 
- জীবনকাল: ১৫৫ দিন দিন
- উৎপাদন ( সেচ সহ ) / প্রতি হেক্টর: ৬.০ টন কেজি

• এই জাতের বৈশিষ্ট্য:
১। গাছের উচ্চতা ৮২ সেন্টিমিটার।
২। গাছ হেলে পড়ে না।
৩। চাল লম্বা, চিকন, সুগন্ধি ও সাদা।
৪। ভাত ঝরঝরে।
৫। চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৮.২%।

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ধান: 
- ইরাটম, 
- ব্রি হাইব্রিড - ১, 
- চান্দিনা, 
- হীরা,
- মালা, 
- বিপ্লব, 
- দুলাভোগ, 
- মোহিনী, 
- সুফলা, 
- আশা, 
- প্রগতি।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

৪০৩.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কি বলে?
  1. সৌর বছর
  2. কসমিক ইয়ার
  3. আলোক বর্ষ
  4. পলিসার
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ: 
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। 
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে। 
- এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে। 
- ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে। 

উৎস: Britannica.com
৪০৪.
পৃথিবীতে চাপ বলয়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে মোট চাপ বলয়ের সংখ্যা ৭টি। এর মধ্যে উচ্চচাপ বলয় চারটি এবং নিম্নচাপ বলয় তিনটি।

এগুলো হলো:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয়
- উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
- দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল)
৪০৫.
পৃথিবীর গভীরতম খাত -
  1. ক) মারিয়ানা ট্রেঞ্চ
  2. খ) পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ
  3. গ) সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মারিয়ানা খাত (ইংরেজি: Mariana Trench) প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের একটি খাত বা পরিখা। এটি বিশ্বের গভীরতম সমুদ্র খাত। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্বে অবস্থিত। মারিয়ানা খাত একটি বৃত্তচাপের আকারে উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৫৫০ কিমি ধরে বিস্তৃত।
৪০৬.
মস্তিষ্কের ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে কোন রোগ হয়?
  1. পক্ষাঘাত
  2. এপিলেপ্‌সি
  3. কোয়াশিওরকর
  4. পারকিন্‌সন
ব্যাখ্যা

• যে রোগে মস্তিষ্কের ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তা হলো পারকিনসন রোগ। এই রোগে প্রধানত মধ্যমস্তিষ্কের substantia nigra অংশের ডোপামিন সৃষ্টিকারী সেলগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়। ডোপামিন একটি গুরুত্বপূর্ণ न्यরোট্রান্সমিটার, যা শরীরের স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ডোপামিনের অভাবে রোগীর হাতে ও পায়ে কাঁপুনি, চলাফেরায় ধীরগতি, পেশীর জড়তা, ভারসাম্যহীনতা এবং মুখের অভিব্যক্তি কমে যাওয়া লক্ষ্য করা যায়। পারকিনসন সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি, তবে জিনগত ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।

- উত্তর: ঘ) পারকিন্‌সন। 
 
• পারকিন্‌সন রোগ:
- এ রোগ মস্তিষ্কে এমন এক অবস্থা যাতে হাতে ও পায়ের কাঁপুনী হয় এবং আক্রান্ত রোগী নড়াচড়া, হাঁটাহাটি করতে অপারগ হয়।
- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- এছাড়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক বলা হয়। এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• পক্ষাঘাত:
- শরীরের কোনো অংশের মাংস পেশির কার্য ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে পক্ষাঘাত বলে।
- সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
- আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইসিস হতে পারে, যাতে শরীরের এক পাশের কোনো অঙ্গ বা উভয় পাশের অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
যেমন- দু'হাত ও পায়ের পক্ষাঘাত।

• এপিলেপ্‌সি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ। এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে। অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়। অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোনো কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে ৫ থেকে ২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।

• কোয়াশিওরকর:
- প্রোটিন বা আমিষের অভাবে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
- কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত এক রোগ। বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৭.
কোন রোগের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই?
  1. ক) নিউমোনিয়া
  2. খ) যক্ষ্মা 
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) ক্যান্সার 
ব্যাখ্যা
এইডস রোগের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই। 

এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানবদেহকে প্রতিরোধহীন করে নিরাময়হীন অবস্থায় নিয়ে যায়, যা এইডস নামে পরিচিত।

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome/AIDS) এইচআইভি (Human Immuno-deficiency Virus/HIV) নামক ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, লোপ বা ধ্বংস অবস্থা। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লসএঞ্জেলস-এ সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত করা হয়। এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে ১৯৮৪ সালে প্রথম এইডস লক্ষ্য করা যায় এবং মায়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯৮৬ সালের মধ্যেই এর প্রাদুর্ভাব ঘটে।

২০০৭ সালে পৃথিবীতে এইডস রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৩.২ মিলিয়ন, আর মারা যায় ২.১ মিলিয়ন যাদের মধ্যে ৩,৩০,০০০ জন ছিল নিরপরাধ শিশু। বাংলাদেশী জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এইডস বিস্তার রোধের সহায়ক।

সূত্র: World Health Organization & বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৪০৮.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন কে? 
  1. ম্যাক্স প্লাঙ্ক 
  2. নিউটন 
  3. আইনস্টাইন
  4. গ্যালিলিও 
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৯.
মানুষের চোখের রং নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ডিএনএ
  2. আরএনএ
  3. সেন্ট্রোমিয়ার
  4. নিউক্লিওলাস
ব্যাখ্যা
নিউক্লিক এসিড: 
- নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) এবং RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)। 
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। 
- বংশগতি ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA ও RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- সাধারণত ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলোই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো বহুন করে। 
- তাই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এর অংশকে জিন নামে অভিহিত করা হয়। 
সুতরাং, DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ। 
- যেসব জীবে DNA থাকে না কেবল RNA থাকে সে ক্ষেত্রে RNA জিন হিসেবে কাজ করে। 
যেমন- তামাক গাছের মোজাইক ভাইরাস (TMV)। 

- জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটিমাত্র জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই DNA বা জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলোও তাদের ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- ক্রোমোজোম জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসাবে কাজ করে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। 
- মিয়োসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা বংশগতির এ ধারা অব্যাহত থাকে। 
- ক্রোমোজোম বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মাতাপিতা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪১০.
"Cosmic ray"- এর আবিষ্কারক কে?
  1. Albert Einstein
  2. Marie Curie
  3. Enrico Fermi
  4. Victor Hess
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস (Victor Hess)।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৪১১.
জোয়ার-ভাঁটার তেজকটাল কখন হয়?
  1. অমাবস্যায়
  2. একাদশীতে
  3. অষ্টমীতে
  4. পঞ্চমীতে
ব্যাখ্যা
• অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে জোয়ার-ভাঁটার তেজকটাল সংঘটিত হয়।

• জোয়ার-ভাঁটা:
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার ভাঁটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা -
১. মুখ্য জোয়ার:
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে।

২. গৌণ জোয়ার:
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল:
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল:
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট মূলত কোন গাছের পাতায় পালন করা হয়?
  1. আম
  2. তুঁত
  3. রাবার
  4. নিম
ব্যাখ্যা

◉ রেশমকীট (Silkworm) মূলত তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে এবং কোকুন তৈরি করে, যা থেকে রেশম সুতা সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়।

সেরিকালচার (Sericulture):
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়। 
- এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়।
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো Sericulture। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম।
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়।
- তুঁত গাছ চাষ ও রেশম পোকার লার্ভা পালন ছাড়াও এ পোকার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল রেশম পোকা উদ্ভাবন করা আধুনিক রেশম চাষের অন্তর্ভুক্ত।
- এ দেশের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৩.
সমুদ্রস্রোতের কারণ নয় কোনটি?
  1. সমুদ্রের গভীরতা
  2. লবণাক্ততার তারতম্য
  3. পৃথিবীর আবর্তন
  4. বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

- ঠিক বায়ুর মতো সমুদ্রের পানিও স্থির নয়। বায়ু যেমন এক স্থান হতে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়, তেমনি সমুদ্রের পানিও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়।
- সমুদ্রের পানির এরকম নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
- বায়ুপ্রবাহ, উষ্ণতা, পৃথিবীর আবর্তন, লবণাক্ততার তারতম্য, স্থলভাগের অবস্থান, সমুদ্রের গভীরতা প্রভৃতি কারণে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- বৃষ্টিপাত সমুদ্র স্রোতের কারণ নয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪১৪.
বিজ্ঞানীরা Black Hole এর ছবি প্রথম কত সালে তুলতে সক্ষম হয়?
  1. ২০২০
  2. ২০১৯
  3. ২০১৫
  4. ১৯১৫
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহব্বর (Black Hole): 
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল। 
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম। ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম। 
- একটি মিল্কীওয়েতে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে। 
- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। 
- ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন। 
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন, তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক। 
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয়  Event Horizon Telescope (EHT).

উৎস: নাসা ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৪১৫.
স্নায়ুবিক বৈকল্যজনিত রোগ কোনটি?
  1. ক) পারকিনসন রোগ
  2. খ) কোভিড-১৯
  3. গ) পোলিও
  4. ঘ) কোয়াশিওরকর
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগ হচ্ছে স্নায়ুবিক বৈকল্যজনিত রোগ।

- পারকিনসন মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাত ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়। 
- পারকিনসন রোগ সাধারণত ৫০ বছরের অধিক বয়সীদের মাঝে দেখা যায়। 
- পারকিনসন রোগ এক প্রকার নিউরো ডিজেনারেটিভ বা স্নায়ুর অধঃপতনজনিত রোগ।
- লক্ষণসমূহ-
১) হাত,পা,মাথা এবং মুখের থুতনি ও চোয়াল কেঁপে ওঠা। 
২) ধীরে ধীরে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া।
৩) হাত পা ও শরীরের মাংস পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। ফলে, শরীরের যেকোনও অংশ নড়াচড়া করতে কষ্ট হয়, যেমন- হাত ঘোরাতে বেশ কষ্ট অনুভূত হয়।
৪) হাঁটাচলা ক্রমশ ধীরগতি হয় এবং জড়তা দেখা দেয়।

সূত্র- WHO Website [লিঙ্ক]
 
৪১৬.
মানব মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা কত?
  1. ১০ মিলিয়ন
  2. ১০ বিলিয়ন
  3. ১০ ট্রিলিয়ন
  4. ১০ কোয়াড্রিলিয়ন
ব্যাখ্যা

- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একক হলো নিউরন। মানব মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি নিউরন থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪১৭.
সুপরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড -
  1. ক) আলাদা থাকে
  2. খ) উপরিলেপন থাকে
  3. গ) অনেক দূরে থাকে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পরিবাহী: যে সব পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং যেগুলোর মধ্য দিয়ে খুব সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলাচল করতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। যেমন: তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রূপা, লোহা ইত্যাদি পরিবাহী।

• পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মাঝে কোন শক্তি ব্যবধান থাকে না। অর্থাৎ Ep এর মান শূন্য হয়। 
এক্ষেত্রে পরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড এর মধ্যে আংশিক উপরিলেপন ঘটে, কাজেই যোজন ইলেকট্রন খুব সহজেই পরিবহন ইলেকট্রনে পরিণত হতে পারে। এই উপরিলেপনের জন্য, পরিবাহীর দুই প্রান্ডে খুব সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকার ফলে এদের রোধ খুব কম হয় অর্থাৎ তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি হয়।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪১৮.
মঙ্গলগ্রহে প্রেরিত নভোযান কোনটি?
  1. সযুজ
  2. এপোলো
  3. ভয়েজার
  4. ভাইকিং
ব্যাখ্যা
- মার্কিন মহাকাশযান সফলভাবে মঙ্গল গ্রহে উড়েছে (মেরিনার্স 4, 6 এবং 7), 
- গ্রহকে প্রদক্ষিণ করেছে (মেরিনার 9 এবং ভাইকিংস 1 এবং 2), এবং 
- এর পৃষ্ঠে ল্যান্ডে মডিউল স্থাপন করেছে (ভাইকিংস 1 এবং 2)। 

U.S. spacecraft successfully flew by Mars (Mariners 4, 6, and 7), orbited the planet (Mariner 9 and Vikings 1 and 2), and placed lander modules on its surface (Vikings 1 and 2).

উৎস: Britannica Encyclopedia. 
৪১৯.
ভিটামিন ‘ই’ -এর কাজ কি?
  1. দেহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা
  2. প্রজননে সহায়তা করা
  3. হার্ট এটাক প্রতিরোধ করা
  4. রক্তজমাট বাঁধাকে দ্রুত দূরীভূত করা
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ই (Vitamin E):
- ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
- এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

ভিটামিন ই এর উৎস:
- সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস।
- শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
- ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই এর কাজ:
১। ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
২। জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে ।
৩। নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
৪। নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
৫। অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
৬। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ই এর অভাবজনিত অবস্থা:
১। নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
২। ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩। গর্ভপাত হতে পারে।
৪। অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

তথ্যসূত্র - গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২০.
বাংলাদেশের পানি সম্পদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি কোন খাতে?
  1. আবাসিক
  2. কৃষি
  3. পরিবহন
  4. শিল্প
ব্যাখ্যা
• কৃষিখাত: 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়।
- জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত: সেবাখাত (১৩টি খাত নিয়ে গঠিত) এবং ছোট খাত: কৃষিখাত।
- আবার, কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত: কৃষিখাত।
- কৃষি বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত এবং পানি সম্পদের প্রধান ব্যবহারকারী।
- কৃষিখাত ছাড়া পানির আবাসিক ও বাণিজ্যিক ব্যবহারও ব্যাপক।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪, বাংলাপিডিয়া।
৪২১.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে 'ওজন স্তর' অবস্থিত?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. মেসোস্ফিয়ার
  3. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে 'ওজন স্তর' অবস্থিত।

• ওজন স্তর:
- বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার নামক স্তরে ওজোন নামক গ্যাসের একটি পাতলা স্তর রয়েছে, একে ওজোন স্তর বলে।
- ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে সূর্যরশ্নির অতিবেগুনি রশ্নি থেকে রক্ষা করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরের ক্ষতি করে, তবে সিএফসি গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ, মিথেন গ্যাস, বিমান চলাচল ইত্যাদি কারণে ওজোন স্তরের ক্ষতি হচ্ছে।
- ওজোন স্তরের ক্ষতির কারণে অতিবেগুনি রশ্নির প্রভাবে ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।
- ওজোন স্তরের ক্ষয়রোধে গ্রিন হাউস গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হবে, নাইট্রোজেন সমৃদ্ব রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে হবে এবং বনভূমি সংরক্ষণ ও বৃদ্বি করতে হবে।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে থাকে -
  1. ক) সাইটোপ্লাজম
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) প্লাজমিড
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষের গঠন:
ব্যাকটেরিয়ার গঠন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলাে থাকে তা হলাে -
(ক) ফ্ল্যাজেলা
(খ) ক্যাপসিউল
(গ) কোষ প্রাচীর
(ঘ) প্লাজমামেমব্রেন
(ঙ) মেসােসােম
(চ) সাইটোপ্লাজম
(ছ) ক্রোমােসােম এবং
(জ) প্লাজমিড

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪২৩.
কোনটি পানিবাহিত রোগ?
  1. ক) বসন্ত
  2. খ) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  3. গ) সর্দি-কাশি
  4. ঘ) জন্ডিস
ব্যাখ্যা

- যে সব রোগ দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়ায় তাদেরকে পানিবাহিত রোগ বলে।
পানিবাহিত অনুজীবসমূহ মূলত দেহের পাকস্থলিতে আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে অভীষ্ট অঙ্গে বা অন্ত্রে স্থানান্তরিত হয়।
পানিবাহিত রোগসমূহের মধ্যে - ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, পোলিও, হেপাটাইটিস (জন্ডিস) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

- যে সকল রোগ হাঁচি-কাশি বা কথাবার্তা বলার সময় বায়ুতে জীবাণু ছড়ানোর মাধ্যমে হয় সেগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে।
যেমনঃ সোয়াইন ফ্লু, হাম, গুটিবসন্ত, যক্ষা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা।

উৎসঃ বিজ্ঞান, ৫ম শ্রেণি ,বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া

৪২৪.
'Newmania nobiprobia' বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. মো. বেলাল হোসেন কর্তৃক অতি সম্প্রতি আবিষ্কৃত-
  1. একটি পানিবাহিত রোগ
  2. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম জীবাশ্ম
  3. অতি ক্ষুদ্র সপূষ্পক উদ্ভিদ
  4. একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী
ব্যাখ্যা
'Newmania nobiprobia' বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. মো. বেলাল হোসেন কর্তৃক আবিষ্কৃত একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী।

• ড. বেলাল হোসেন বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী এবং গবেষক।
- তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
- তিনি একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি পলিকীটের সম্পূর্ণ নতুন প্রাণির সন্ধান দিতে পেরেছেন।
- তার আবিষ্কারের মধ্যে Neumania nobiprobia (নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া) একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
- Neumania nobiprobia (নিউমেনিয়া নোবিপ্রবিয়া)- এর নামকরণ করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ নোবিপ্রবি-এর সঙ্গে মিল রেখে।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট।
৪২৫.
মহাশূন্যে সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ -
  1. ক) হাবল টেলিস্কোপ
  2. খ) জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ
  3. গ) স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ
  4. ঘ) গ্যালাক্সি ইভোলিউশন এক্সপ্লোরার
ব্যাখ্যা
-মহাশূন্যে সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপের নাম হচ্ছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। 

-জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ। এতে ৬.৫ মিটার চওড়া সোনার প্রলেপ লাগানো প্রতিফলক আয়না আছে এবং আছে অতি সংবেদনশীল ইনফ্রারেড তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের যন্ত্রপাতি।
-মহাবিশ্বকে আরো স্পষ্টভাবে দেখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। এটি নেক্সট জেনারেশন স্পেস টেলিস্কোপ (Next Generation Space Telescope বা NGST)। 

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট।
৪২৬.
কোন হরমোনের অভাবে গলগন্ড রোগের সৃষ্টি হয়?
  1. থাইরক্সিন
  2. ইনিসুলিন
  3. গ্লুকাগন
  4. করটিসোল
ব্যাখ্যা
- থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে গলগণ্ড হতে পারে। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি থাইরক্সিন (thyroxine - T4) এবং ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন(triiodothyronine -T3) নামক হরমোন তৈরি করে, যা বিপাক এবং শক্তি উৎপাদন সহ - অনেক শারীরিক ক্রিয়াকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গলগন্ড প্রায়শই থাইরয়েড হরমোনের অত্যধিক বা কম উৎপাদনের কারণে থাকে ।

উৎস : www.moh.gov.sa
৪২৭.
কোন গ্যাস গ্রিন হাউস ইফেক্ট ঘটায়? 
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- অপশনে উল্লিখিত গ্যাসসমূহের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস গ্রিন হাউস ইফেক্ট ঘটায়। 

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 

- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- 
• গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ (Green House Gases): 
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2): 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়। বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে। 

২। মিথেন (CH4): 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়। তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে। 

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC): 
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়। 

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O): 
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে। এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত। এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা। 

অন্যদিকে,
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়, এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। 
- হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় একটি রংহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন গ্যাস।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৮.
থার্মোনিউক্লিয়ার বোমায় ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ইউরেনিয়ামের আইসোটোপ
  2. খ) প্লুটোনিয়ামের আইসোটোপ
  3. গ) হাইড্রোজেনের আইসোটোপ
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন বোমার আরেক নাম থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা। এটি এমন এক অস্ত্র যার প্রচুর বিস্ফোরক শক্তির একটি অনিয়ন্ত্রিত স্ব-টেকসই চেইন প্রতিক্রিয়া হয়। যার ফলে হাইড্রোজেনের আইসোটোপগুলি অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার অধীনে পারমাণবিক ফিউশন নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়াতে হিলিয়াম গঠন করে। প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ তাপমাত্রা একটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ দ্বারা উত্পাদিত হয়।
[সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা]
৪২৯.
সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সংঘটিত হয়-
  1. নদীতে
  2. সাগরে
  3. পুকুরে
  4. খালে-বিলে
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ।
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ।
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ।
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে।
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প।
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩০.
সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কত?
  1. প্রায় ১৫,০০০,০০০ K
  2. প্রায় ১,৫০০,০০০ K
  3. প্রায় ৬,০০০০ K
  4. প্রায় ৬,০০০ K
ব্যাখ্যা
সূর্য: সৌরজগতের কেন্দ্রীয় নক্ষত্র
- সূর্যের বয়স প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর।
- এটি সৌরজগতের প্রধান ও বৃহত্তম জ্যোতিষ্ক, যার ভর সমগ্র সৌরজগতের ৯৯% এরও বেশি।
- সূর্য প্রতি সেকেন্ডে ৪.৫ মিলিয়ন টন পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তর করে।
- নিউক্লিয়ার সংযোজন (Nuclear Fusion) প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম গঠনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- ব্যাস: ১,৩৯২,০০০ কিমি (৮৬৪,৯৫০ মাইল)
- ভর: পৃথিবীর তুলনায় ৩৩০,০০০ গুণ বেশি
- কেন্দ্রের তাপমাত্রা: প্রায় ১৫,০০০,০০০ K (২৭,০০০,০০০ °F)
- পৃষ্ঠের তাপমাত্রা: প্রায় ৬,০০০ K (১০,০০০ °F)
- সূর্য থেকে নির্গত সৌর বিকিরণ ও নিউট্রিনো পৃথিবীতে আলো ও তাপ সরবরাহ করে, যা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।
 
উৎস: Britannica.
৪৩১.
কোন যন্ত্র হিগস কণা (Higgs Boson) আবিষ্কারে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. Hubble Space Telescope
  2. Spitzer Space Telescope
  3. Large Hadron Collider
  4. Kepler Space Observatory
ব্যাখ্যা

◉ হিগস বোসন (Higgs Boson), যাকে অনেক সময় “God Particle” বলা হয়, এটি ২০১২ সালে CERN-এর Large Hadron Collider (LHC)-এ আবিষ্কৃত হয়। LHC হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় কণাত্বরণযন্ত্র (particle accelerator), যা প্রোটনকে আলোর কাছাকাছি গতিতে সংঘর্ষ ঘটিয়ে নতুন কণা সনাক্ত করে।

হিগস বোসন: 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। 
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। 
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্ডরিত হয়। 
- এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

৪৩২.
পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরে- এ মতবাদের প্রবক্তা কে?
  1. ক) কেপলার
  2. খ) কোপারনিকাস
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
-“পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।” - এই মতবাদের প্রবক্তা ১৬ শতকের অন্যতম জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাস।

-কোপারনিকাসকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক।  
-পরবর্তীতে গ্যালিলিও এবং কেপলার এ মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন। 

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৩৩.
জ্যাঙ্ক ফুডে নিচের কোন দ্রব্যের আধিক্য থাকে?
  1. ক) চর্বি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) শর্করা
  4. ঘ) আমিষ
ব্যাখ্যা
- জাঙ্ক ফুড হচ্ছে একধরনের খাদ্য, যাতে চর্বি, লবণ, কার্বনেট প্রভৃতি ক্ষতিকারক দ্রব্যের আধিক্য থাকে।
- ফাস্টফুড অসম্পৃক্ত চর্বি বা ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ। এ ধরনের চর্বি রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিয়ে ধমনিতে ব্লক সৃষ্টি করে।
-  পাশাপাশি উচ্চমাত্রার লবণ, টেস্টিং সল্ট বা মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট ও কৃত্রিম রং থাকায় ফাস্টফুড উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। সমান ঝুঁকি থাকে ডুবো তেলে ভাজা ফাস্টফুডেও।
-  ওজন বাড়ার সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, পেটের সমস্যাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির প্রধান কারণ ফাস্টফুড। 
 
উৎস : প্রথম আলো  
৪৩৪.
কোন দিনটিকে 'বাসন্ত বিষুব' বলা হয়?
  1. ২১ ডিসেম্বর
  2. ২১ জুন
  3. ২১ সেপ্টেম্বর
  4. ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২এ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১এ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১এ  মার্চ মাস  পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১এ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা
মহাবিষুব বলে ।

এছাড়া, 
- ২৩ এ সেপ্টেম্বরের দেড় মাস আগে থেকেই উত্তর গোলার্ধে শরৎকালের সূচনা হয় এবং দেড় মাস পর পর্যন্ত এই শরৎকাল স্থায়ী থাকে।
২৩এ সেপ্টেম্বর শারদ বিষুব। 

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৫.
মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে কোনটি?
  1. ক) বায়ু দূষণ
  2. খ) পানি দূষণ
  3. গ) শব্দ দূষণ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ:

- অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
- উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে।
- অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
- পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
- সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৪৩৬.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জি. ল্যামেটার
  3. এডুইন হাবল
  4. আলবার্ট আইন্সটাইন
ব্যাখ্যা
জর্জ লেমিটার: বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা:
- তিনি ১৯২৭ সালে বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory) প্রথম প্রস্তাব করেন।
- ল্যামেটার "অ্যাটমিক হিপোথিসিস" নামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পৃথিবী এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি নতুন তত্ত্ব দেন।
- তিনি পরামর্শ দেন যে, মহাবিশ্ব এক সময়ে একক বিন্দু বা "প্রাইমল আটম" থেকে বিস্ফোরিত হয়েছিল, এবং সেই বিস্ফোরণ থেকেই মহাবিশ্বের বিস্তার শুরু হয়।
- এটি পরবর্তীতে বিগ ব্যাং তত্ত্ব নামে পরিচিতি পায়। ল্যামেটার মহাবিশ্বের বিস্তারকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ধারণা দেন।
- পরে, এডউইন হাবল (Edwin Hubble) তার পর্যবেক্ষণ দিয়ে ল্যামেটারের তত্ত্বের সমর্থন দেন।
- হাবল তার গবেষণায় দেখেন যে, দূরের গ্যালাক্সিগুলো পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা মহাবিশ্বের বিস্তারকে প্রমাণ করে।

অন্যদিকে, 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 

উৎস: American Museum of Natural History.
৪৩৭.
কোনটি সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ?
  1. আল্ট্রা ভায়োলেট
  2. এক্স-রে
  3. রেডিও ওয়েভ
  4. গামা রে
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো।
- আরো ছোট হলে এক্স-রে আরো ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।
- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরো বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরো বড় হলে রেডিও ওয়েভ।
- সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোকে গামা রে বলে এবং সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলোকে রেডিও ওয়েভ বলে। 
---------
- গামা-রে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পাল্লা 5 x 10-11 থেকে 5 x 10-15 বা এর চেয়ে কম।
- ক্যান্সার, টিউমার ইত্যাদি রোগ নির্ণয়ে এক্স-রে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু, এসবের চিকিৎসায় Gamma Ray ব্যবহৃত হয়।

[সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৪৩৮.
সূর্য কী?
  1. একটি গ্রহ
  2. একটি উপগ্রহ
  3. একটি নক্ষত্র
  4. একটি ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৯.
ভূমিকম্পের কম্পনের বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. ক) কেন্দ্রে
  2. খ) উপকেন্দ্রে
  3. গ) ভূ-অভ্যন্তরে
  4. ঘ) উপকেন্দ্রের চারপাশে
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্পের কম্পনের বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি উপকেন্দ্রে
- ভূঅভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের ফলে আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- এই উপকেন্দ্র ভূমিকম্পের তীব্রতা সর্বাধিক হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহাযে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।
- তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয় করা হয় রিখটার স্কেলের সাহায্যে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪০.
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ সাধারণত কোথায় ঘটে? 
  1. চৌম্বক উত্তর মেরুতে
  2. মরুভূমির কেন্দ্রে
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের ঠিক নিচে
  4. টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত, এগুলোকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে। 
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 

- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 
- দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে। 
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয় । 
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে। 
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। 
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে। 
- আজকাল বাংলাদেশেও ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৪১.
কোন গ্যাসটি গ্রীনহাউস গ্যাস নয়?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মূল উপাদান হলেও গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে না। 

​গ্রীনহাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect):
- শীতপ্রধান দেশে গ্রীন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।

​গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N2O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC), 
- ওজোন (O3), 
- জলীয় বাষ্প। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Royal Society of Chemistry.

৪৪২.
আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে গ্রহণ করে-
  1. ক) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
  2. খ) অক্সিজেন ও রক্তের আমিষ
  3. গ) ইউরিয়া ও গ্লুকোজ
  4. ঘ) এমাইনো এসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
রক্তের হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ফুসফুস হতে কোষে এবং রক্তের মাধ্যমে গ্লুকোজ সমস্ত দেহে পরিবাহিত হয়। যা পরবর্তীতে দেহকোষ গ্রহণ করে নেয়।

উৎসঃ ৭ম শ্রেণি বিজ্ঞান বই।
৪৪৩.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম আলাের তরঙ্গ তত্ত্ব প্রবর্তন করেন?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) হাইগেনস
ব্যাখ্যা

আলােকের প্রকৃতি সম্মন্ধে যেসব তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে সেগুলি হলাে
(i) নিউটনের কণিকা তত্ত্ব : এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।
(ii) হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব : এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।
(iii) ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব : এই তত্ত্বের সাহায্যে আলাের সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।
(iv) আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম তত্ত্ব : এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।
(উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান আলোকে )

৪৪৪.
রক্তে প্লেইটলেট এর প্রধান কাজ কি?
  1. ক) O2 পরিবহন
  2. খ) রোগ প্রতিরোধ করা
  3. গ) রক্ত তঞ্চন করা
  4. ঘ) CO2 পরিবহন
ব্যাখ্যা
Platelets play an important role in the formation of a blood clot by aggregating to block a cut blood vessel and provide a surface on which strands of fibrin form an organized clot, by contracting to pull the fibrin strands together to make the clot firm and permanent, and, perhaps most important, by providing or mediating a series of clotting factors necessary to the formation of the clot. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৪৪৫.
মদ তৈরীর জন্য আঙ্গুর চাষ করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. Viticulture
  2. Herpetoculture
  3. Sericulture
  4. Cuniculture
ব্যাখ্যা
• Viticulture:
- ভিটিকালচার বা ওয়াইনগ্রোয়িং (ওয়াইন গ্রোয়িং) হল মদ তৈরীর জন্য আঙ্গুর চাষ করার প্রক্রিয়া।
- এটি হর্টিকালচার একটি শাখা।

অপশন আলোচনা:
• Herpetoculture:
- হার্পেটোকালচার হল জীবন্ত সরীসৃপ এবং উভচর প্রাণীদের বাণিজ্যিক প্রজনন প্রক্রিয়া।

• Sericulture:
- রেশম বা সিল্ক চাষের বিজ্ঞানসম্মত এবং আধুনিক প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার বলে। 

• Cuniculture:
- কুনিকালচার হল প্রজনন এবং গৃহপালিত খরগোশকে তাদের মাংস, পশম বা উলের জন্য পশুসম্পদ হিসাবে লালন-পালন প্রক্রিয়া।

সূত্র: sciencedirect.
৪৪৬.
E = mc2 কোন দুটির মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে?
  1. ক) ভর ও শক্তি
  2. খ) ভর ও ওজন
  3. গ) ওজন ও শক্তি
  4. ঘ) ভর ও বেগ
ব্যাখ্যা
ভরশক্তি সম্পর্ক : E=mc2
আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে একটি বিখ্যাত সম্পর্ক বের করেন। এটি হলো ভর ও শক্তির সম্পর্ক। ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের সম্পর্ক নিম্নোক্তভাবে লেখা যায়,
E = mc2
যেখানে,
E = মোট শক্তি
m= বস্তুর ভর এবং
C = আলোর দ্রুতি

এই সমীকরণটি আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অন্যতম ফসল যা হলো ভর শক্তির একটি রূপ । আবার শক্তির ও ভর রয়েছে বা শক্তিও ভরের একটি রূপ । ভরকে শক্তিতে রূপান্তর তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্ষমতার উৎস এবং নিউক্লিয় ক্ষমতা (বিদ্যুৎ) উৎপাদনের ভিত্তি।


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
(ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)
৪৪৭.
পোলিও রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকার নাম কী? 
  1. DPT
  2. TT
  3. BCG
  4. OPV
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম: 
- রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকার আবিষ্কার এবং এর প্রচলন মানুষের জন্য আশীর্বাদ। 
- টিকার মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে চূড়ান্তভাবে নির্মূলের পূর্বে গুটি বসন্ত এককভাবে পৃথিবীর প্রায় ৩০-৪০ কোটি মানুষের প্রাণ হরণ করেছে। 
- আবিষ্কৃত পোলিও ভ্যাকসিন OPV এবং এর ব্যবহার দ্বারা বাংলাদেশ বর্তমানে পোলিও রোগ মুক্ত। 
- এই টিকা বা ভ্যাকসিনের জন্যই রুবেলা, হাম, মাম্পস, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, পারটুসিস, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ, যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্মসূচীতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়- 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৮.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে কখন?
  1. ক) আপেক্ষিকতার তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে
  2. খ) আলোক ক্রিয়া আবিষ্কারের মাধ্যমে
  3. গ) কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে
  4. ঘ) ব্ল্যাক হোল আবিষ্কারের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত.১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন।
 উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।

৪৪৯.
এমআরআই পরীক্ষায় কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. তড়িৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. প্রতিধ্বনি
  4. আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
এমআরআই: 
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি। 
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে। 
- এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। 
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫০.
পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে -
  1. ক) লিগামেন্ট
  2. খ) ফাইবার
  3. গ) কানেক্টিভ জয়েন্ট
  4. ঘ) টেনডন
ব্যাখ্যা
টেনডন:
- টেনডন হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত একটি শক্ত ফিতা বিশেষ যা পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে।
- টেনডন পেশির ফাইবার হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের ফাইবারের সাথে পারস্পরিক শক্ত বুনন কাঠামো তৈরি করে, তাই সহজে পেশি থেকে হাড় বা হাড় থেকে পেশি বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
- টেনডন বেশ শক্ত, সহজে ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে যায় না।

লিগামেন্ট:
- লিগামেন্ট হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত নমনীয় বন্ধনী যা দুটি হাঁড়কে একত্রে বেঁধে রাখে।
- অস্থিসন্ধির হাড়সমূহকে যার যার অবস্থানে সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখে লিগামেন্ট।
- লিগামেন্টের ফাইবারসমূহ হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের বর্ধিত অংশ। লিগামেন্ট ইলাস্টিক তন্তু দিয়ে গঠিত, আর ইলাস্টিন নামক প্রোটিন দিয়ে ইলাস্টিক তন্তু গঠিত।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই।
৪৫১.
আলোকবর্ষ (Light Year) ব্যবহার করে কী পরিমাপ সম্ভব?
  1. সময়
  2. দূরত্ব
  3. ভর 
  4. শক্তি 
ব্যাখ্যা

আলোকবর্ষ হলো দূরত্বের একক। এর মানে হলো, আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে সেটাই ১ আলোকবর্ষ।

​নক্ষত্র (Stars):
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে আমরা মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়।
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না।
- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে।

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্‌টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫২.
নিচের মানগুলোর মধ্যে পানির BOD কত হলে তা নিরাপদ পানযোগ্য পানি হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. 0
  2. 10
  3. 20
  4. 25
ব্যাখ্যা
• BOD (Biochemical Oxygen Demand) :
- BOD (Biochemical Oxygen Demand) হলো পানির মধ্যে উপস্থিত জৈব বস্তুকে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের (DO - Dissolved Oxygen) পরিমাণ।
- এটি পানির জৈব দূষণের মাত্রা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- BOD এর মান 0 হলে পানিতে দূষণের পরিমাণ কম এবং তা নিরাপদ পানযোগ্য পানি হিসেবে বিবেচিত হবে।

 - BOD এর মান 1-2 mg/L=খুব পরিষ্কার পানি, দূষণ খুবই কম।
 - BOD এর মান 3-5 mg/L= মাঝারি দূষণযুক্ত পানি।
 - BOD এর মান 6-9 mg/L= উচ্চ মাত্রার দূষণ, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
 - BOD এর মান 10 mg/L বা তার বেশি = অত্যন্ত দূষিত পানি, যা জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক হতে পারে।

- উচ্চ BOD মান = বেশি জৈব দূষণ = পানির গুণমান খারাপ। 
- নিম্ন BOD মান = কম জৈব দূষণ = পানির গুণমান ভালো। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও WHO Website।
৪৫৩.
'Meteor' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) ছায়াপথ
  2. খ) পিণ্ড
  3. গ) ধূমকেতু
  4. ঘ) উল্কা
ব্যাখ্যা
'Meteor' শব্দের অর্থ উল্কা, Comet শব্দের অর্থ ধূমকেতু এবং Milky Way শব্দের অর্থ ছায়াপথ।
৪৫৪.
Entomology হলো-
  1. ক) বাস্তুবিদ্যা
  2. খ) ভ্রূনবিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) কীটতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
কিটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং দমন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে Entomolgy বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪৫৫.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কবে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে?
  1. ১১ মার্চ ২০২০
  2. ১৩ মার্চ ২০২০
  3. ১৮ মার্চ ২০২০
  4. ২২ মার্চ ২০২০
ব্যাখ্যা
COVID-19 অতিমারী বা মহামারি:
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
৪৫৬.
'Adult Cell' ক্লোন করে কোন দেশে একটি ভেড়ার জন্ম হয়েছে?
  1. যুক্তরাজ্যে
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. অস্ট্রোলিয়ায়
  4. ফ্রান্সে
ব্যাখ্যা
- সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
- ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী।
- ডলির জন্ম হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই।
- ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে।
- ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি।
- ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।

উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট।
৪৫৭.
আমাদের সৌরজগত কীসের অংশবিশেষ?
  1. জ্যোতিষ্ক
  2. ধূমকেতু
  3. ছায়াপথ
  4. নীহারিকা
ব্যাখ্যা
• মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত:
- সুদূর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বল্পালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয়।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর- দক্ষিণে বিস্তৃত।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সির নাম ‘আন্ড্রোমিডা’ (Andromeda).

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৪৫৮.
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে বুঝায় -
  1. এক ওয়াট
  2. এক ওয়াট ঘন্টা
  3. এক মেগাওয়াট
  4. এক কিলোওয়াট ঘন্টা
ব্যাখ্যা
কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট Χ ১ঘণ্টা। 

- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট Χ ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল। 
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 

- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে এক কিলোওয়াট ঘন্টা বুঝায়। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৯.
ডোপিং এর জন্য অপদ্রব্য হিসেবে পর্যায় সারণির কোন সারির মৌলগুলোকে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) প্রথম ও তৃতীয়
  2. খ) তৃতীয় ও পঞ্চম
  3. গ) দ্বিতীয় ও চতুর্থ
  4. ঘ) পঞ্চম ও সপ্তম
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
(ক) পর্যায় সারণির তৃতীয় সারির মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
(খ) পর্যায় সারণির পঞ্চম সারির মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬০.
কোনটি মিথ্যা?
  1. ক) অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন
  3. গ) অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না
  4. ঘ) গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ
ব্যাখ্যা
পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।
১. অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
২. অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
৩. অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
৪. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
৫. অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
১. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
২. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬১.
সৌরজগতে কতটি গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে?
  1. ৭টি 
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এটি একটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের নক্ষত্র।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার এবং ভর প্রায় ১.৯৯×১০১৩ কিলোগ্রাম।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষ্ক।
- পৃথিবী, অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহের তাপ ও আলোর মূল উৎস সূর্য।
- সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবী চির অন্ধকারে থাকত এবং পৃথিবীতে জীবজগৎ ও উদ্ভিদজগতের কিছুই বাঁচত না।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ।
- সূর্য থেকে গ্রহগুলো দূরত্ব অনুযায়ী পর পর যেভাবে রয়েছে তা হলো বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)।
- গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং ছোট বুধ।
- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি বেশ উজ্জ্বল এবং কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই দেখা যায়।
- ইউরেনাস ও নেপচুন এতটা কম উজ্জ্বল যে দূরবীক্ষণ ছাড়া এদের দেখা যায় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৬২.
কোনটির সাহায্যে ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয়? 
  1. ব্যারোমিটার
  2. রিখটার স্কেল
  3. হাইড্রোমিটার
  4. ফ্যাদোমিটার
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 
- বড় ধরনের ভূমিকম্প নদীর গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে। যেমন - ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছিল। 
- পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। 
- ২০১০ সালে হাইতিতে, ২০১১ সালে জাপানে এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। 
- জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল। 
- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 
- ১৯৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। 

অন্যদিকে, 
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র হাইড্রোমিটার। 
- বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। 
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৩.
জন্মের এক মাসের মধ্যে শিশুকে কোন টিকা দেওয়া হয়?
  1. DPT - I
  2. DT
  3. BCG
  4. TT - 1
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কিছু রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদি এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে-


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৪.
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার গ্রহের গতির তিনটি সূত্র দিয়েছিলেন:
১। প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২। সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩। একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।
সূত্র: ''Kepler's Laws of Planetary Motion''

৪৬৫.
চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রথম অবতরণকারী মানুষের নাম ও দেশ -
  1. ইয়ুরি গ্যাগারিন, রাশিয়া
  2. জন গ্লেন, যুক্তরাষ্ট্র
  3. রিচার্ড এলড্রিন, যুক্তরাষ্ট্র
  4. নীল আর্মস্ট্রং, যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে চাঁদের বুকে মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং প্রথম পা রাখেন। 
- তাঁর কিছুক্ষণ পরই চাঁদে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পা রাখেন বাজ অলড্রিন। 
- তাঁরা দুজনই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রযানে করে চাঁদের বুকে অবতরণ করেছিলেন। 
- সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় তাঁদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। 
- তিনি অবশ্য দুই সঙ্গীর সঙ্গে চাঁদে পা রাখতে পারেননি, কারণ তিনি চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউলের দায়িত্বে ছিলেন। 
- এই তিন মার্কিন নভোচারীই পরে ইতিহাসের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। 

উৎস: নাসার ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২১ জুলাই, ২০১৯)।
৪৬৬.
ডেঙ্গু সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ
  2. খ) এর ভাইরাসের নাম ফ্লাভিভাইরাস
  3. গ) এর বাহক Aedes aegypti
  4. ঘ) উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- এর ভাইরাসের নাম ফ্লাভিভাইরাস।
- এর ভাইরাস RNA ভাইরাস।
- এর বাহক Aedes aegypti.
[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২৫।]
৪৬৭.
লসিকায় কোন উপাদানের পরিমাণ সবেচেয়ে বেশি?
  1. পানি
  2. প্রোটিন
  3. স্নেহ পদার্থ
  4. কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৬৮.
বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ কোথায় ঘটেছিল?
  1. সর্বত্র
  2. মহাকাশে
  3. পৃথিবীতে
  4. সৌরজগতে
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ঘটেনি, বরং এটি সর্বত্র ঘটেছিল। বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সূচনা একটি বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে হয়েছিল, যা থেকে সময়, স্থান, পদার্থ এবং শক্তি সবই সৃষ্টি হয়। এই বিস্ফোরণ কোন নির্দিষ্ট ‘স্থান’ থেকে নয়, বরং সময় ও স্থান উভয়ের সাথে সঙ্গে শুরু হয়েছিল। তাই বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণকে মহাকাশের কোনও নির্দিষ্ট বিন্দুতে বা পৃথিবীতে বা সৌরজগতে ঘটানো যায় না। এটি মহাবিশ্বের প্রতিটি স্থানে একই সাথে বিস্তৃত হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক) সর্বত্র।


• বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 

- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 

- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাগ-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে। একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৯.
পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমানভাবে বিভক্তকারী রেখা কোনটি?
  1. দ্রাঘিমারেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. নিরক্ষরেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে।
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭০.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কিসের তারতম্যের জন্য এ অঞ্চলের জলবায়ু ভিন্ন রকম?
  1. বায়ুর আর্দ্রতা
  2. উচ্চতা
  3. বায়ুর চাপ
  4. বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা

Altitude বা উচ্চতা :
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম
-  উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭১.
অর্ধপরিবাহীতে কি মেশালে পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
সেমিকন্ডাক্টরের সাথে ফসফরাস মেশালে ফসফরাসের মুক্ত ইলেকট্রন থাকার কারণে সেটার সহযোগীতায় সেমিকন্ডাক্টর কন্ডাক্টর বা পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে।
উৎসঃ নবম-দশম
৪৭২.
কোন গ্রহের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের অর্ধেক?
  1. বুধ
  2. মঙ্গল
  3. শনি
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৭৩.
মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত কোন অংশ উপস্থিত থাকে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. নিউট্রন
  4. প্রোটন
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত প্রোটন উপস্থিত থাকে। প্রোটন হলো পরমাণুর একটি মূল কণা যা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। মহাবিশ্বের সাধারণ পদার্থের বড় অংশ হাইড্রোজেন গ্যাসের আকারে থাকে, এবং প্রতিটি হাইড্রোজেন পরমাণুতে একটিমাত্র প্রোটন থাকে। তাই মহাবিশ্বের জ্যোতির্মণ্ডলে যে রশ্মি বা বিকিরণ দেখা যায়, তার প্রধান উপাদান হিসেবে প্রোটনই প্রাধান্য পায়। অন্যদিকে, নাইট্রোজেন ও কার্বন মহাবিশ্বে কম পরিমাণে আছে, আর নিউট্রন সাধারণত প্রোটনের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং স্বাধীনভাবে দীর্ঘ সময় টিকে থাকে না। ফলে, মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত প্রোটনই উপস্থিত।

- সঠিক উত্তর: ঘ) প্রোটন।
 
• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মিকে বলে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে।
- বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা। 

৪৭৪.
উদ্যানতাত্ত্বিক চাষাবাদ বিষয়ক বিদ্যার নাম কী? 
  1. এপিকালচার
  2. হর্টিকালচার
  3. সেরিকালচার
  4. প্রণকালচার
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যাবিষয়ক নামসমূহ: 
- চিংড়ি চাষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলে প্রণকালচার (Prawn Culture)। 
- সামুদ্রিক মাছ চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে মেরিকালচার (Mariculture)। 
- সাধারণ মাছ চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার (Pisciculture)। 
- মৌমাছি পালন সংক্রান্ত বিদ্যাকে বলে এপিকালচার (Apiculture)। 
- রেশম উৎপাদনের জন্য রেশম গুটি ও গুটি পোকা পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে সেরিকালচার (Sericulture)। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার (Aviculture)। 
- বাগান বা উদ্যানতাত্ত্বিক চাষাবাদ (যেমন: ফল, ফুল, শাকসবজি) সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার (Horticulture)। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৪৭৫.
রিকেটস রোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিচের কোনটি?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) মস্তিষ্ক
  3. গ) হাড়
  4. ঘ) কিডনি
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rickets)
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রােগ হয়। অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শােষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়ােজন।
- সুতরাং, রিকেটস্‌ রোগের ফলে হাড়ের গঠন ব্যাহত হয়।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন "ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।

৪৭৬.
ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. অলটিমিটার
  2. ক্যালরিমিটার
  3. অ্যামিটার
  4. ইনকিউবিটর
ব্যাখ্যা
কৃত্রিমভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর পদ্ধতি: 
 -বাণিজ্যিকভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য কৃত্রিম পদ্ধতি সবচেয়ে উপযুক্ত। 
- কৃত্রিমভাবে ডিম ফোটানোর যন্ত্র বা ইনকিউবেটরের সাহায্যে ডিম ফোটানো যায়। 
- ১৮৪৪ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকাতে ডিম ফোটানো যন্ত্র বা ইনকিউবেটর আবিষ্কৃত হয়েছিল। 
- বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের ইনকিউবেটর তৈরি করেছে। 
- তবে, কোনো হ্যাচারিতে কী ধরনের ইনকিউবেটর ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করে ঐ হ্যাচারির আকার, হ্যাচারি মালিকের ক্ষমতা এবং যেখানে হ্যাচারি স্থাপন করা হবে সেখানে বিদ্যুতের সরবরাহ রয়েছে কি-না তার ওপর। 

উৎস: গৃহপালিত পাখি পালন ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, বিএজিএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৭.
করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেন____
  1. ক) উইলিয়াম কেলি
  2. খ) কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
  3. গ) রোনাল্ড কচ
  4. ঘ) প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয় নি
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি চীনে ভয়াবহ আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের প্রতিষধক আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনো এর যথাযথ কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয় নি।।করোনা ভাইরাসের লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে - জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, পেটে জ্বালাপোড়া, পাতলা পায়খানা।মারাত্মক লক্ষণ সমূহের মধ্যে রয়েছে - নিউমোনিয়া, সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপেটরি সিনড্রোম, কিডনি বিকল, মৃত্যু।
৪৭৮.
উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন-
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ জুন
  4. ২৩ সেপ্টেম্বর 
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলাধে শীতকাল:
- ২১ এ মার্চের পর থেকে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে থাকে।
- এভাবে ২১ এ জুনে গিয়ে সূর্যকর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ এ জুন উত্তর গোলার্ধে বড় দিন এবং ছোট রাত হয়।
- ঐ দিনই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য দক্ষিণ দিকে আসতে থাকে।
- দিন বড় হওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধে ২১ এ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকেই গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল স্থায়ী হয়।
- এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা যায় অর্থাৎ শীতকাল অনুভূত হয়।
- এ সময় সূর্য হেলে থাকার কারণে এ গোলার্ধে সূর্য কম সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে দিন ছোট এবংরাত বড় হয়।
- দিনে ভূপৃষ্ঠ যতটুকু উত্তপ্ত হয়, রাতে তাপ বিকিরণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে যায়।
- এখানে তখন শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এ সময়কে শীতকাল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৭৯.
ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ইরিডিয়াম
  2. টেকনিশিয়াম-99
  3. আয়োডিন-131
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
-  আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনিশিয়াম-99 আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৪৮০.
দিবারাত্রি সংঘটিত হয় -
  1. মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে
  2. বার্ষিক গতির জন্য
  3. আহ্নিক গতির জন্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ - 
দিন-রাত্রি সংঘটন
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি, 
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি, 
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি, 
• সময় গণনা বা সময় নির্ধারণ প্রভৃতি। 

অন্যদিকে, 
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন-রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৮১.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোঅক্সাইড
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড: 
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে। 
- কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide) এর রাসায়নিক সংকেত হলো CO যা একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম। 
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে। 
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। 
- কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে- 
• দুর্বলতা, 
• বমি বমি ভাব, 
• মাথা ঘোরানো, 
• ক্লান্তি, 
• ক্ষুধা, 
• মাথা ব্যাথা, 
• অজ্ঞান হওয়া, 
• খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website [লিঙ্ক]।
৪৮২.
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (IPNS) এ ব্যবহৃত হয় –
  1. রাসায়নিক সার ও হরমোন
  2. রাসায়নিক সার
  3. জৈব সার
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System- IPNS):
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System- IPNS) হলো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কৃষকদের তাদের ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির উপাদানগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করা হয়।
- এটি মূলত জৈব এবং রাসায়নিক উভয় ধরনের পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে একটি সুসমন্বিত পদ্ধতি।

⇒ সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য:
- পুষ্টির সমতা: পুষ্টি উপাদানের সঠিক ভারসাম্য স্থাপন করা যাতে ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানো যায়।
- মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন: মাটির উর্বরতা বাড়ানো এবং তার স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
- ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি: ফসলের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়কেই বাড়ানো।
- পরিবেশ সুরক্ষা: রাসায়নিক সার ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো।
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মূল উপাদান:
- জৈব সার: কম্পোস্ট, পশুর বর্জ্য, সবজি পচা ইত্যাদি।
- রাসায়নিক সার: নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: Integrated Plant Nutrition System (IPNS) - A Practice for Sustainable Agriculture Resource management. Indian Journal of Environment and Ecoplanning
৪৮৩.
হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে কোন রোগ সৃষ্টি হয়?
  1. হার্ট অ্যাটাক
  2. হার্ট ব্লক
  3. হার্ট ফেইলিউর
  4. সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
ব্যাখ্যা
হার্ট ব্লক:
- হৃদপিন্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে হৃদ অবরোধ বা হার্ট ব্লক বলে ।

হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপিন্ডের করোনারি ধমনি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে যে রোগ সৃষ্টি হয় তাকে হার্ট অ্যাটাক বলে।

হার্ট ফেইলিউর:
- হৃদপিন্ডের অ্যাট্রিয়াম অথবা ভেন্ট্রিকল অথবা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে হার্ট ফেলিওর বলে।
 
তথ্যসূত্র - হৃদপিণ্ডের যত কথা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৪.
ভূপৃষ্ঠে যে ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমানে আছে -
  1. ক) তামা
  2. খ) লোহা
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)।
লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।

Source: space.com
৪৮৫.
গর্ভাবস্থায় নিম্নের কোন ঔষধটি অত্যাবশ্যকীয়?
  1. ক) কৃমির ওষুধ
  2. খ) বমির ওষুধ
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) এন্টাসিড
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড গ্রহন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (NTD) যেমন- স্পাইনাল কর্ড (Spina Bifida) ও ব্রেইনের (anencephaly) জন্মগত ত্রুটি প্রতিরােধে সাহায্য করে।
নিউরাল টিউব হলাে ভূনের একটি অংশ যা থেকে মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কের গঠন হয়।
৪৮৬.
নিচের কোনটি আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) মাওনালেয়া
  2. খ) কোটোপ্যাক্সি
  3. গ) ভিসুভিয়াস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধনকারী প্রক্রিয়া বা শক্তিগুলোর মধ্যে অগ্নুৎপাত অন্যতম।
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সবসময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন:
• ইতালির ভিসুভিয়াস,
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া,
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৭.
কসমিক রে মূলত কী?
  1. মহাকাশ থেকে আগত উচ্চশক্তির কণা
  2. সূর্য থেকে নির্গত আলোক রশ্মি
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. এক ধরনের গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে হলো মহাকাশ (আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম) থেকে আগত উচ্চ-শক্তির আধানযুক্ত কণা। 

• মহাজাগতিক রশ্মি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী ভিকটর হেস।
- এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ প্রোটন, প্রায় ৯ ভাগ বিকিরণ এবং বাকি অংশে থাকে কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারি নিউক্লিয়াস।
- এগুলোই হলো প্রাইমারি মহাজাগতিক রশ্মি। এসব রশ্মি  প্রায় আলোর বেগে ছুটে চলে।

• সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে প্রধানত পজিট্রন, নিউট্রন, মেসন, নিউট্রিনো ইত্যাদি। এ সব কণাদের বলা হয় প্রাথমিক বা মৌলিক কণা।

অন্যদিকে,
সূর্য থেকে নির্গত আলোকরশ্মি, রেডিও তরঙ্গ, গামা রশ্মি হলো আধানশূন্য । 

তথ্যসূত্র: 
- ব্রিটানিকা।
৪৮৮.
নিচের কোন পদ্ধতিতে Bacteria এর Spore ধ্বংস হয়?
  1. Boiling
  2. Fumigation
  3. Cidex solution
  4. Autoclave
ব্যাখ্যা
Autoclave:
একটি অটোক্লেভ হল জীবাণুমুক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং পরীক্ষাগার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি বিশেষ সরঞ্জাম। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং স্পোর সহ অণুজীবকে হত্যা বা নিষ্ক্রিয় করতে উচ্চ-চাপের বাষ্প ব্যবহার করে।

Boiling:
ফুটানো হল জীবাণুমুক্তকরণ এবং জীবাণুমুক্ত করার একটি পদ্ধতি যাতে একটি তরল, সাধারণত জল, তার স্ফুটনাঙ্কে, যা 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস (212 ডিগ্রি ফারেনহাইট) আদর্শ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে গরম করা জড়িত। 

Fumigation:
ফিউমিগেশন হল একটি প্রক্রিয়া যা একটি এলাকা বা বস্তুকে বায়বীয় রাসায়নিক বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে এনে জীবাণুমুক্ত বা জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিটি প্রায়শই বদ্ধ স্থানে কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় বা অণুজীব দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যেমন ভবন, স্টোরেজ এলাকা বা সরঞ্জাম।

Cidex solutio:
সিডেক্স হল একটি উচ্চ-স্তরের জীবাণুনাশক দ্রবণের একটি ব্র্যান্ড নাম যা প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা সেটিংসে চিকিৎসা যন্ত্র এবং সরঞ্জামগুলিকে জীবাণুমুক্ত এবং জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৪৮৯.
শীতে শরীর কাঁপে কেন?
  1. ক) শরীরের তাপ ও বাহিরের তাপ সমান থাকায়
  2. খ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম বলে
  3. গ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ বেশি বলে
  4. ঘ) বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি বলে
ব্যাখ্যা
Shivering is one such tactic, in which your muscles contract and expand in speedy bursts. In addition to quaky limbs, your jaw muscles might begin to shiver, making your teeth chatter. This twitching exercise produces heat, which helps to raise body temperature. It's also your signal to find a toasty haven and a warm drink. সূত্রঃ Live Science.com
৪৯০.
Exclusive breast feeding কয়মাস পর্যন্ত করানো হয়?
  1. ৬ মাস
  2. ১২ মাস
  3. ৪ মাস
  4. ১৮ মাস
ব্যাখ্যা
- Exclusive breast feeding হল শিশুদের জন্য একটি খাওয়ানোর অভ্যাস যেখানে তাদের জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো হয়, পানি সহ অন্য কোন খাবার বা তরল না দিয়ে।
- প্রথম ছয় মাসের পর, মা ও শিশুর  ইচ্ছা অনুযায়ী শিশুর কমপক্ষে দুই বছর বা তার বেশি বয়স না হওয়া পর্যন্ত পরিপূরক খাবারের সাথে breast feeding অব্যাহত থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৪৯১.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি?
  1. টাইটান
  2. চন্দ্র
  3. ডিমোস
  4. গ্যানিমেড
ব্যাখ্যা
পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো 'পৃথিবী'। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। 
- এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- ডিমোস মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- টাইটান শনি গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- গ্যানিমেড বৃহস্পতি গ্রহের একটি উপগ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯২.
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?
  1. ক) ২৯০৩৫ ফুট
  2. খ) ৩৫০৩৫ ফুট
  3. গ) ৪১০৪১ ফুট
  4. ঘ) ২১০২১ ফুট
ব্যাখ্যা
মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৯০৩৫ ফুট৷
Source: Britannica
৪৯৩.
কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়?
  1. ক) মোবাইল
  2. খ) রেডিও
  3. গ) টেলিফোন
  4. ঘ) ফ্যাক্স
ব্যাখ্যা
রেডিও (Radio):
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়।
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু।
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই।
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়।
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৯৪.
CFC গ্যাস কী?
  1. ক) ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
  2. খ) কমপ্লেন্ড ফ্লুরো কার্বন
  3. গ) কমন ফ্লুরোকার্বন
  4. ঘ) ক্লোরোফেরিক কার্বন
ব্যাখ্যা
CFC গ্যাস:
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর।
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৪৯৫.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ট্যাকোমিটার 
  2. অডিওমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪৯৬.
একটি সিনক্রোনাস মোটরের ফিল্ড under excited হলে পাওয়ার ফ্যাক্টর হবে-
  1. Leading
  2. Lagging
  3. Unity
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• If the field of a synchronous motor is under excited, then the power factor will be lagging
• If the field of a synchronous motor is overexcited, then it acts as a synchronous capacitor and the corresponding power factor will be leading
• At normal excitation, synchronous motor works at the unity power factor
• A Synchronous motor can operate at all the power factors.
৪৯৭.
কোন দূষক পদার্থটি সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না?
  1. নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
  2. সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
  3. সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
  4. অ্যামোনিয়া (NH3)
ব্যাখ্যা
• প্রাইমারি দূষক:
যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে।
যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
- অ্যামোনিয়া (NH3)
- ছাই, ধুলিকণা
- Volatile organic compounds (VOCs)

• সেকেন্ডারি দূষক:
যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে।
যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
- নাইট্রিক এসিড (HNO3)
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4)
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2)
- অ্যামোনিয়াম (NH4+)
- ওজোন (O3)

উল্লেখ্য - কিছু দূষণকারী পদার্থ প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উভয় দূষকই হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ: নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড জীবাশ্ব-জালানী থেকে এবং বজ্রপাত থেকে সৃষ্টি হয়, আবার এটি অন্যান্য রাসায়নিক থেকেও বায়ুমণ্ডলে তৈরি হতে পারে।

সূত্র: University of California এবং Energy Education
৪৯৮.
বায়োমে বাসকারী জীবেরা কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে?
  1. পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে
  2. আলাদা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলে
  3. শিকার করে
  4. একে অপরকে এড়িয়ে চলে
ব্যাখ্যা
• বায়োম:
- পৃথিবীর কোনো বিশাল অঞ্চলে প্রায় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সম্প্রদায় একত্রে যে সুসংহত জীবন গড়ে তুলে তাকে বায়োম বলে।
- বায়োমে যারা বাস করে তারা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একে অন্যকে প্রভাবিত করে।
- পৃথিবীর সকল বায়োম বা সজীব বস্তু মিলে গড়ে উঠে জীবমন্ডল।
- জীবমন্ডল হলো এক বিশাল বাস্তুসংস্থান যেখানে জীবের সম্মিলিত অস্তিত্ব গড়ে তুলে এক নতুন পরিবেশ।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানারকম আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বায়োম গড়ে উঠে। যেমন- অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি ইত্যাদি।
- বায়োমে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সদস্যের মধ্যে সমতা বজায় থাকে।

• বায়োমের বৈশিষ্ট্য:
 ১. বায়োমে বৈশিষ্ট্যসূচক উদ্ভিদ ও প্রাণি বিদ্যমান থাকে।
২. সকল বায়োম ক্রমবর্ধমান পর্যায়ে সিরিজ অতিক্রম করে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
৩. আঞ্চলিক পরিবেশে এগুলোর প্রত্যেকটি মোটামুটি ভারসাম্য অবস্থা বহন করে।
৪. প্রত্যেক বায়োম প্রাকৃতিক অবস্থায় নিজস্ব ভারসাম্য প্রকাশ করে এবং এই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অন্য বায়োম হতে পৃথক।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৯.
গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে এমন গ্যাসগুলোর মধ্যে কোনটির পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সর্বাধিক?
  1. ওজোন
  2. মিথেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা

- গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে এমন গ্যাসগুলোর মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)-এর পরিমাণ সর্বাধিক। 

গ্রীন হাউজ গ্যাস: 
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়। 
- এছাড়াও জলীয় বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। 
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি, তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। 

গ্রিন হাউজ গ্যাস ⇔ বায়ুতে % পরিমাণ:
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস ⇔ 49%, 
২। মিথেন (CH4) গ্যাস ⇔ 18%, 
৩। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) গ্যাস ⇔ 6%, 
৪। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) গ্যাস ⇔ 14%, 
৫। ওজোন (O3) গ্যাস ⇔ 8% এবং 
৬। জলীয় বাষ্প ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

৫০০.
নিচের কোনটির প্রভাবে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না? 
  1. তাপ
  2. তড়িৎক্ষেত্র
  3. চৌম্বকক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার।
যথা- 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়। 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ)নির্গত হয়। 
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।