বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৩৯ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ৩,৮৭৯

৩,৭০১.
টর্নেডো সৃষ্টির মূল কারণ কী? 
  1. উচ্চ চাপ 
  2. নিম্ন চাপ
  3. নিম্ন তাপমাত্রা
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

টর্নেডো (Tornado): 
- টর্নেডো শব্দটির উৎপত্তি স্প্যানিশ শব্দ 'Tornada' থেকে যার অর্থ Thunder storm বা শব্দ বজ্রঝড়। 
- সাইক্লোনের ন্যায় টর্নেডো সৃষ্টির মূল কারণ হলো বায়ুর নিম্ন চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা। 
- টর্নেডোর ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ অনেক বেশি হয়। এই সাধারণ গতিবেগ ঘন্টায় ৪৮০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার হতে পারে। 
- টর্নেডোর সাথে সাইক্লোনের প্রধান পার্থক্য হলো সাইক্লোন সৃষ্টি হয় সাগরে এবং উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। 
- অপরদিকে টর্নেডো যে কোনো স্থানেই সৃষ্টি হতে পারে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্ষতিসাধন করতে পারে। 
- বাংলাদেশে প্রলয়ংকরী টর্নেডো হয় ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতে। 
- টর্নেডোর সাথে কালবৈশাখী ঝড়ের যথেষ্ট মিল রয়েছে। শুধু পার্থক্য হলো কালবৈশাখী ঝড় দুই ধরনের বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহের দরুণ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হয় কিন্তু টর্নেডো যে কোনো সময় হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭০২.
২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কী বলা হয়?
  1. সুমেরুবৃত্ত
  2. নিরক্ষরেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা: 
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে। 
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো বিষুবরেখা (Equator), ০° অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)। 

কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে। 
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। 
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে। 

সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: 
- উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭০৩.
কোন যন্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যারােমিটার
  2. ম্যানােমিটার
  3. পাইরোমিটার 
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

- ব্যারোমিটার হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা বোঝার জন্য এই যন্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৭০৪.
কোনটিকে আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়ে থাকে?
  1. ক) তাপমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমন্ডল (Thermosphere) : মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে। এই স্তরে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসে পোঁছায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৩,৭০৫.
নিচের কোনটি চাষের ধরন ও বিদ্যার সঠিক জোড়া?
  1. পাখি — এপিকালচার
  2. মৎস্য — পিসিকালচার
  3. মৌমাছি — এভিকালচার
  4. রেশম — প্রণকালচার
ব্যাখ্যা

- পিসিকালচার (Pisciculture) হলো বাণিজ্যিকভাবে ট্যাঙ্ক বা পুকুরে মাছ চাষ করার প্রক্রিয়া। এটি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যের চাহিদা মেটাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।

আধুনিক কৃষি ও চাষ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি: 

• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা

৩,৭০৬.
জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করতে কোন অণুজীব ব্যবহার হয়?
  1. প্রোটোজোয়া
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

- জন্ডিস প্রধানত হেপাটাইটিস ভাইরাসের (যেমন: হেপাটাইটিস-এ, বি, সি ইত্যাদি) সংক্রমণের কারণে ঘটে। জন্ডিস বা হেপাটাইটিস রোগের (বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি) টিকা তৈরি করতে এই ভাইরাসের অংশ বা জেনেটিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। আধুনিক রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের অ্যান্টিজেন ব্যবহার করে এই টিকা প্রস্তুত করা হয়। 

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যেমন- 
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭০৭.
নিচের কোনটি মস্তিষ্কে ঘ্রান উদ্দীপনা বহন করে?
  1. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু
  2. অকুলোমোটর স্নায়ু
  3. ট্রকলিয়ার
  4. ট্রাইজেমিনাল
ব্যাখ্যা
অলফ্যাক্টরি স্নায়ুঃ অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে ( অপটিক লোবের অঙ্কীয়দেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এগুলো সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণ উদ্দীপনা বহন করে।

উৎসঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম।
৩,৭০৮.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
  3. তুষারপাত
  4. খরা
ব্যাখ্যা
• মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ,
- যুদ্ধ,
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ,
- মরুকরণ,
- অগ্নিকাণ্ড,
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি,
- বন উজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প,
- অগ্ন্যুৎপাত,
- নদীভাঙন,
- তুষারপাত,
- ঘূর্ণিঝড়,
- খরা,
- জলোচ্ছ্বাস,
- বন্যা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অষ্টম শ্রেণি।
৩,৭০৯.
শক্তির একক-
  1. ক) জুল
  2. খ) ওয়াট
  3. গ) মাসল
  4. ঘ) ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
শক্তির একক হচ্ছে জুল, ক্ষমতার একক ওয়াট।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৭১০.
বাংলাদেশে নিম্নের কোন অঞ্চলটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রা কম?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) খুলনা
  3. গ) হবিগঞ্জ
  4. ঘ) সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,
- ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর,ঢাকা, কুমিল্লা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু্ অংশ।
এর মধ্যে সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
একইভাবে ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি জেলাও ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ঢাকা বিভাগের মধ্যে টাঙ্গাইল,গাজীপুর, নরসিংদী জেলার অংশ বিশেষ, পুরাে কিশােরগঞ্জ জেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ছাড়া ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে আছে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার উত্তরাংশ।
- মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নােয়াখালী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অংশ বিশেষ করে চট্টগ্রাম,বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলা।
- ভূমিকম্পের কম ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের পুরাে অঞ্চল।
সূত্র: প্রথম আলো আর্কাইভ।

৩,৭১১.
পেঁয়াজের প্রধান রোগ কোনটি?
  1. পার্পল ব্লেচ
  2. লিফ ব্লাইট
  3. অ্যানথ্রাকনোজ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
পিঁয়াজ:
- একটি দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদ।
- আমাদের দেশে এর একবর্ষজীবী জাতও দেখা যায়।
- এর বৈজ্ঞানিক নাম Allium cepa.
- পিঁয়াজের রূপান্তরিত কান্ড সংলগ্ন পাতার গোড়ায় খাদ্য জমাটের ফলে স্ফীত হয় এবং কান্ডের সাথে একটির পর একটি সংযোজিত হয়ে শল্ককন্দ উৎপাদন করে।
- এ শল্ককন্দ পিঁয়াজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এ থেকে নতুন গাছ জন্মে থাকে।
- পিঁয়াজের ফুল উভলিঙ্গী, ফল ক্যাপসুল জাতীয় এবং বীজের রং কালো।

⇒ রোগবালাই ও পোকামাকড়:
- পেঁয়াজের প্রধান রোগগুলোর মধ্যে পার্পল ব্লেচ, লিফ ব্লাইট, অ্যানথ্রাকনোজ, বালব রট প্রধান।
- পার্পল ব্লেচ রোগ বীজবাহিত।
- সুতরাং বীজ বপনের পূর্বে শোধন করে নিতে হবে।
- পেঁয়াজের ক্ষতিকর পোকামাকড় হচ্ছে থ্রিপস, মাছি ইত্যাদি।
- এক্ষেত্রে ডায়াজিনন স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১২.
কৃষ্ণবিবরের ধারণাটি কে প্রবর্তন করেন? 
  1. জন হুইলার
  2. স্টিফেন হকিং
  3. আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. গ্যালিলিও গ্যালিলি
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- কৃষ্ণবিবর (Black Hole) হল এমন একটি সঞ্চালিত আকাশগঙ্গা বস্তু, যা অত্যন্ত ঘন ও সংকুচিত হয়ে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তিশালী মহাকর্ষ ক্ষেত্র তৈরি করে। 
- ১৯৬৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার কৃষ্ণবিবরের ধারণা প্রবর্তন করেন। 
- সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর, তিন সৌর ভরের বা তার চেয়ে বেশি ভরের নক্ষত্রের কেন্দ্রের গঠন অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হয়, যার ফলে এর আয়তন শূন্যে পরিণত হয়ে মহাকর্ষ ক্ষেত্র এত প্রবল হয়ে ওঠে যে, আলোকরশ্মি কিংবা কোনো সংকেতও বের হতে পারে না। ফলে এটি এক ধরনের অদৃশ্য বস্তু হিসেবে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৩.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-
  1. ধূলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতি বেগুনী রশ্মি 
ব্যাখ্যা

- আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ- বৃষ্টির কণা। 
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা। 
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে। 
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়। 
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে। 
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে। 
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।  
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই। 
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ  প্রতিফলন বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭১৪.
পেনিসিলিন আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) ১৯১৯ সালে
  2. খ) ১৯২৭ সালে
  3. গ) ১৯২৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
পেনিসিলিন এক ধরনের এন্টিবায়োটিক যা পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে তৈরি হয়। পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে। উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭১৫.
নিচের কোনটি Pre-eclampsia এর অন্যতম চিহ্ন?
  1. High pressure with oedema
  2. High BP with protenuria
  3. High BP with convulsion
  4. উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
Pre-eclampsia হল একটি গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত চিকিৎসা অবস্থা যা উচ্চ রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এবং একাধিক অঙ্গ সিস্টেমের ক্ষতি দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, সাধারণত লিভার এবং কিডনি।
- এটি সাধারণত গর্ভাবস্থার 20 তম সপ্তাহের পরে ঘটে (সাধারণত তৃতীয় ত্রৈমাসিকে) এবং এটি প্লাসেন্টা এবং অনাগত শিশুকেও প্রভাবিত করতে পারে। 

- প্রি-এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণ যা এই অবস্থার সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত তা হল "High BP with protenuria"

- উচ্চ রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এবং protenuria (প্রস্রাবে অস্বাভাবিক পরিমাণে প্রোটিনের উপস্থিতি) এই সংমিশ্রণ হল প্রি-এক্লাম্পসিয়ার একটি হলমার্ক চিহ্ন। প্রি-এক্লাম্পসিয়ার অন্যান্য উপসর্গগুলির মধ্যে বিশেষ করে হাতে এবং মুখে, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তির ব্যাঘাত, পেটে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব বা বমি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, খিঁচুনি সাধারণত প্রি-এক্লাম্পসিয়ার লক্ষণ নয় কিন্তু একলাম্পসিয়া নামে পরিচিত অবস্থার একটি গুরুতর জটিলতা। এক্লাম্পসিয়া একটি জীবন-হুমকিপূর্ণ অবস্থা যা সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে প্রি-এক্লাম্পসিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটতে পারে। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,৭১৬.
পরিবেশ রক্ষায় একটি দেশের কত শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন?
  1. ১৫%
  2. ২০%
  3. ২৫%
  4. ৩০%
ব্যাখ্যা
- যে সকল স্থানে বিভিন্ন প্রকারের প্রচুর পরিমানে গাছপালা দেখা যায় তাকে বন ভূমি বলা হয়ে থাকে।
- এক সময় পৃথিবীর স্থল ভাগের প্রায় ৪০ ভাগ বনভূমি দ্বারা আবৃত ছিল।
- কিন্তু মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বনভূমি থেকে গাছপালা কেটে ফেলে বর্তমানে তা প্রায় ২৪ ভাগে এসে দাড়িয়েছে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের তাপ, মাটি, আলো, জলবায়ু প্রভৃতির কারণে বনভূমির তারতম্য হয়ে থাকে। 
- দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমি অপরিহার্য।
- একটি দেশের জন্য অন্তত ২৫% বনভূমির প্রয়োজন।
- বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৭.
জোয়ার অত্যন্ত প্রবাল হয় কখন?
  1. চন্দ্র ও সূর্য কৌণিকভাবে অবস্থান করলে
  2. পৃথিবী ও চন্দ্র একই সরলরেখায় অবস্থান করলে
  3. চন্দ্র ও সূর্য একই সরল রেখায় থাকলে
  4. সূর্য ও পৃথিবী এক সমকোণে অবস্থান করলে
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়৷ এগুলো হলো-
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং ২. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি৷
সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না।
তবে চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকলে উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।
অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে অধিকমাত্রায় জোয়ারের ফলে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যায় এবং জানমালের ক্ষতি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল বোর্ড বই
৩,৭১৮.
বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর অবক্ষয়ে কোন গ্যাসটির ভূমিকা সর্বোচ্চ?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. জলীয় বাষ্প
  3. CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- ওজনস্তর ক্ষয়ের জন্যে সবচেয়ে বেশি দায়ী ক্লোরোফ্লোরোকার্বন বা সিএফসি গ্যাস। 
- এছাড়া ওজনস্তরের জন্যে ক্ষতিকর অন্যান্য গ্যাসসমূহের মধ্যে রয়েছে নাইট্রাস অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ব্রোমিন, মিথেন, মিথাইল ক্লোরাইড ইত্যাদি। 
- ওজনস্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত একটি আবরণ যা প্রাণীকুলকে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে রক্ষা করে। 

CFC গ্যাস: 
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। 
- সিএফসি বায়ুমন্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের ক্ষতি করে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর। 
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে। 
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩,৭১৯.
নিচের কোনটিকে মহাবিষুব বলা হয়?
  1. ক) ২১ মার্চ
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- নিরক্ষরেখায় সূর্যের গমনকে বিষুব বলা হয়। সূর্যের উত্তরায়ণের সময় ২১শে মার্চ সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে করে ২১শে মার্চ পৃথিবীর দিন-রাত্রি সমান থাকে। এই দিনটিকে মহাবিষুব বলা হয়।
- আবার এইদিন (২১ মার্চ) থেকে উত্তর গোলার্ধে বসন্ত শুরু হয় বিধায় একে বাসন্ত বিষুব বলা হয়।
- ২৩শে সেপ্টেম্বর দক্ষিণায়নের অংশ হিসেবে সূর্য নিরক্ষরেখায় অবস্থান করে। এতে ২৩শে সেপ্টেম্বরও পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়। এই দিনটিকে শারদ বিষুব বলা হয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
৩,৭২০.
সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় -
  1. প্রায় ১৮০ মিলিয়ন বছর
  2. প্রায় ২২০ মিলিয়ন বছর
  3. প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর
  4. প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
গ্যালাক্সি:
- সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ তাদের নিজস্ব কক্ষপথে অবিরত আবর্তন করে।
- পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালক্সি সবকিছু নিয়েই গঠিত হয় মহাবিশ্ব।
- গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের অংশ।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।

⇒ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি:
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এটি মাত্র এক লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি একটি স্পাইরাল বা সর্পিল গ্যালাক্সি।
- আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর।
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- অর্থাৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে পৃথিবীতে আলো এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৫ হাজার বছর। 
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল।
- এর বেশির ভাগ অংশই ঢাকা পড়ে আছে হাইড্রোজেন গ্যাসে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA (.gov).
৩,৭২১.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য কিভাবে কিরণ দেয়? 
  1. তির্যকভাবে
  2. লম্বভাবে
  3. কৌণিকভাবে
  4. আড়াআড়িভাবে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা: 
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। 
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। 
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৩,৭২২.
স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্বের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি
  2. খ) একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লােকের এই দূরত্ব ২৫ সেমি পর্যন্ত হতে পারে
  3. গ) এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্বঃ মানুষ তার চোখের সবচেয়ে কাছে যে বিন্দু পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু বলে এবং চোখ থেকে বিন্দুর দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব ধরে নেওয়া হয়। এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লােকের এই দূরত্ব ২৫ সেমি পর্যন্ত হতে পারে। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৩,৭২৩.
কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোকে আটকায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. Spacetime
  2. Gravitational Wave
  3. Event Horizon
  4. Singularity
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোসহ সবকিছুকে আটকায়, তাকে Event Horizon বলা হয়। এটি এমন একটি সীমানা, যার বাইরে কিছুই, এমনকি আলোও, কৃষ্ণ গহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি থেকে পালাতে পারে না। Event Horizon হলো সেই বিন্দু, যেখানে স্থান ও সময়ের গতি এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে, কোনো বস্তুর জন্য ফিরে আসা অসম্ভব হয়। এটি কৃষ্ণ গহ্বরকে দৃশ্যমানভাবে বিচ্ছিন্ন করে তোলে এবং আমাদের পক্ষে তার অভ্যন্তরের কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয় না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: গ) Event Horizon.

• কৃষ্ণ গহ্বর:

- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- কৃষ্ণ গহ্বরের চারপাশে যে অঞ্চলটি আলোকে আটকায়, তাকে বলা হয় ইভেন্ট হরিজন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭২৪.
ধানের পামরি পোকা আক্রমণের লক্ষণ -
  1. শীষ আসার সময় হলে 'হোয়াইট হেড' বের হয়
  2. গাছ খাটো হয় 
  3. পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়
  4. আক্রান্ত কুঁশি পিয়াজের মত রং
ব্যাখ্যা
পামরি পোকা (Rice hispa):
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
১) পামরি পোকা পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ও কীড়া এ দু-অবস্থায় ধান গাছ আক্রমন করে।
২) কীড়া পাতা ছিদ্র করে সবুজ অংশ খায়।
৩) পূর্ণবয়স্ক পোকা ধানের পাতার উপর সমান্তরাল দাগ করে সবুজ অংশ কুরে কুরে খেয়ে ফেলে।
৪) পাতা শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মত হয়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) হাতজাল অথবা মশারিরর কাপড় দিয়ে পূর্ণবয়স্ক পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।
২) গাছের পাতা ছেঁটে দিয়ে কীড়া মারা যায়।
৩) পাতার ৩৫% ক্ষতি হলে অথবা প্রতি গোছায় ধানগাছে ৪টি পূর্ণবয়স্ক পোকা থাকলে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৫.
আপেক্ষিক তত্ত্বের (Theory of Relativity) প্রবক্তা কে?
  1. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  4. নিলস বোর
ব্যাখ্যা
◉ আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (Special Theory of Relativity) এবং ১৯১৫ সালে সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব (General Theory of Relativity) প্রবর্তন করেন।

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব Einstein's Theory of Relativity:
- চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব।
- আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
ক. আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
খ. আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)।

- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। যথা-
১. প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
২. দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 
- তার ভর শক্তির সম্পর্ক সূত্রটি হলো
E = mc2
যেখানে,
E = শক্তি,
m = ভর,
c = আলাের বেগ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)। 
৩,৭২৬.
বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের দ্রাবক হিসাবে কাজ করে কোনটি?
  1. জলীয়বাষ্প
  2. নাইট্রোজেন
  3. ওজোন
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন (Nitrogen) : নাইট্রোজেন বায়ুমন্ডলে নিস্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে অবস্থান করে। এটি ধ্রুব (Constant) গ্যাস যা অপরিবর্তনীয়।
বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন অক্সিজেনের দ্রাবক হিসেবে কাজ করে। এর দ্বারা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া পরিবর্তিত এবং যৌগ গঠিত হয়, যা খাদ্য উৎপাদন ও অঙ্গজ গঠনে উদ্ভিদজগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া জীবজগতের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। নাইট্রোজেন সরাসরি কোনো প্রাণি কিংবা উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে না। তবে নাইট্রোজেন ছাড়া কোনো প্রাণি কিংবা উদ্ভিদ বাঁচতে পারে না।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৩,৭২৭.
সূর্যগ্রহণ কোন সময় ঘটে?
  1. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর উল্টো পাশে অবস্থান করলে
  2. চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় হলে
  3. চাঁদ পূর্ণিমার অবস্থায় থাকলে 
  4. চাঁদ নতুন চাঁদের অবস্থায় থাকলে কিন্তু পৃথিবী আলোর উৎসে না থাকলে
ব্যাখ্যা

- সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় আসে এবং চাঁদ মাঝখানে থাকে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর কিছু অংশে পড়ে এবং সেই অংশ থেকে সূর্যকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে দেখা যায় না 

অমাবস্যা: 

- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

পূর্ণিমা: 
- যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে তখনই পূর্ণিমা হয়। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

উৎস: বিবিসি বাংলা, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১ [লিঙ্ক]।

৩,৭২৮.
জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. সমুদ্রের তাপমাত্রা 
  2. বাতাসের চাপ 
  3. সমুদ্রের নীচের ঢেউ 
  4. চন্দ্র-সূর্যের মহাকর্ষ ও পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 

জোয়ার-ভাটার শ্রেণিবিভাগ: 
- জোয়ার-ভাটাকে নিম্নলিখিত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
 যথা- 
১. মুখ্য জোয়ার (Primary Tide): 
- প্রধানত চন্দ্রের আকর্ষণেই জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে সর্বদা ঘুরছে। আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। ফলে চারদিক হতে পানি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বা Primary Tide বলে। 

২. গৌণ জোয়ার (Secondary Tide): 
- পৃথিবীর যে পাশে চন্দ্র আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকে পৃথিবীকে চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তির প্রভাব অপেক্ষাকৃত কম। আবার পানির নিম্নের কঠিন স্থলভাগ যা পৃথিবীর সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। ফলে তার ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ কেন্দ্র স্থলের আকর্ষণেরই সমান এবং বিপরীত দিকের জলরাশি অপেক্ষা স্থলভাগ চন্দ্রের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। এই সময় চন্দ্রের বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক হতে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চন্দ্রের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বা Secondary Tide বলে। 

৩. ভরা কটাল (Spring Tide): 
- অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই দিকে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে এবং উভয়ের মিলিত শক্তিতে আকর্ষণ প্রবল হয় এবং পানি বেশি ফুলে ওঠে। এই ধরনের জোয়ারকে ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে। অপরদিকে পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর একদিকে সূর্য এবং অন্যদিকে চন্দ্র একই সমান্তরালে অবস্থান করে এবং চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে মুখ্য জোয়ার হয়, সেখানেই সূর্যের আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়। আবার চন্দ্রের বিপরীত দিকে যেখানে তার আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়। অর্থাৎ পূর্ণিমা তিথিতে উভয় বিপরীত স্থানেই জোয়ারের বেগ সর্বাধিক হয়। একেও ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে। 

৪. মরা কটাল (Neap Tide): 
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না। এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭২৯.
গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ কী নামে পরিচিত?
  1. গ্রহ
  2. নক্ষত্র
  3. নীহারিকা
  4. ছায়াপথ
ব্যাখ্যা
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত (Milkyway Galaxy & Solar System):

- গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ ছায়াপথ নামে পরিচিত
- সুদুর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বপ্নালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয় ।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩০.
আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে কত সময় লাগবে?
  1. প্রায় ২.৩ মিনিট
  2. প্রায় ১.৩ সেকেন্ড
  3. প্রায় ২৩ সেকেন্ড
  4. প্রায় ২.৩ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব  ৩,৮৪,৪০০ কিমি কিলোমিটার।
- আলোর গতি - ৩০০০০০ Kms-1.
- সুতরাং আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে সময় লাগবে:
- আমরা জানি, সময় = দূরত্ব ÷ বেগ
∴ ৩,৮৪,৪০০ ÷ ৩০০০০০ = ১.২৮ সেকেন্ড।
- আলোর গতিতে কোন বস্তু পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে ১.২৮ সেকেন্ড বা প্রায় ১.৩ সেকেন্ড সময় লাগবে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি ও নাসা ওয়েবসাইট।
৩,৭৩১.
পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান -
  1. ক) অসীম
  2. খ) নেগেটিভ
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) পজিটিভ
ব্যাখ্যা
পরিবাহী : যে সব পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং যেগুলোর মধ্য দিয়ে খুব সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলাচল করতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। যেমন : তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রূপা, লোহা ইত্যাদি পরিবাহী।

পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মাঝে কোন শক্তি ব্যবধান থাকে না। অর্থাৎ Ep এর মান শূন্য হয়। 
এক্ষেত্রে পরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড এর মধ্যে আংশিক উপরিলেপন ঘটে , কাজেই যোজন ইলেকট্রন খুব সহজেই পরিবহন ইলেকট্রনে পরিণত হতে পারে। এই উপরিলেপনের জন্য, পরিবাহীর দুই প্রান্ডে খুব সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকার ফলে এদের রোধ খুব কম হয় অর্থাৎ তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি হয়।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩২.
'ওয়ার্ম হোল' নামটির প্রচলন করেন কে?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জন আর্চিবল্ড হুইলার
  3. গ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. ঘ) জন নিউটন
ব্যাখ্যা
জন আর্চিবল্ড হুইলার প্রখ্যাত মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি আপেক্ষিকতার তত্ত্ব নিয়ে আইনস্টাইনের সাথে কাজ করেছিলেন । তিনি ব্ল্যাক হোল, ওয়ার্ম হোল এবং It from Bit নামগুলোর প্রণেতা হিসেবে পরিচিত।

ওয়ার্মহোল হল তাত্ত্বিকভাবে মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি স্থানের বা স্থান-কালের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য তৈরি একটি টানেল স্বরূপ। এটির মাধ্যমে মহাবিশ্বের একটি স্থান থেকে অন্য একটি স্থানে কম সময়ের মাঝেই ভ্রমণ করা যায়। কেননা এটি প্রায় কয়েক বিলিয়ন আলোকবর্ষের পার্থক্যে থাকা মহাবিশ্বের দুটি বিন্দুকে মাত্র কয়েক মিটারের একটি টানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত করে দিতে পারে!
৩,৭৩৩.
কার্বন সবচেয়ে বেশি আছে কোন কয়লায়?
  1. ক) লিগনাইট
  2. খ) বিটুমিনাস
  3. গ) অ্যানথ্রাসাইট
  4. ঘ) পিট
ব্যাখ্যা
- কয়লা হলো জীবাশ্ম জ্বালানি।
- কয়লায় কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, গন্ধক, ফসফরাস, অ্যামোনিয়া, বেঞ্জিন এবং জলীয় ও বায়বীয় পদার্থ আছে।
- কার্বোনাইজেশনের মাত্রা অনুযায়ী লিগলাইট ও অ্যানথ্রাসাইট জাতীয় কয়লা তৈরি হয়।
- অ্যান্থ্রাসাইট সর্বাধিক ভালো মানের কয়লা।
- বাংলাদেশে প্রধানত তিন ধরনের কয়লা পাওয়া যায় যথা- বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পিট।
- কয়লা সাধারণত মাটির নিচে ৩ মিটার থেকে ১৮০০ মিটার গভীর পর্যন্ত অবস্থান করে। 

উৎস : পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৪.
গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে কোনটি ঘটবে না?
  1. ক) সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে
  2. খ) আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে
  3. গ) ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে
  4. ঘ) সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাবে
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে।
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়।
- গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রিনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে।
- গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে-
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে
আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে
• বনাঞ্চল ধবংস হবে
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে

- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রিনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
- তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৩৫.
প্লেগ রোগের জীবাণু কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) Susumu Hotta
  2. খ) Erwin Popper
  3. গ) Alexandre Yersin
  4. ঘ) Hippocrates
ব্যাখ্যা
প্লেগ রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন Alexandre Yersin. 

- প্লেগ (Plague) Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয় তাই ব্যাপক প্রাণসংহারকারী বা অনিস্টকর কোন পরিস্তিতি বর্ণনায় ‘প্লেগ’ শব্দের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- প্লেগ অতি প্রাচীনকালীন এক ব্যাধি, প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে এর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।
- ইতিহাস সূত্রে জানা যায় মধ্য যুগে বহু রাজ্য এ রোগ দ্বারা ধ্বংসাত্মক পরিণতির শিকার হয়েছে।
- Y. pestis একটি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া যা ইঁদুরের ফ্লি Xenopsylla chaeopis নামক পতঙ্গের অন্ত্রে বাস করে।
- ফ্লি ইঁদুর ও ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর বহিঃপরজীবী এবং পোষকের ত্বকে দংশনের মাধ্যমে এর অন্ত্র থেকে ব্যাকটেরিয়াকে পোষকের দেহে চালান করে।
- ফ্লি ইঁদুর থেকে ইঁদুরে, কখনও কখনও ইঁদুর থেকে মানুষে প্লেগ জীবাণু স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং রোগের উপসর্গ সৃষ্টি করে। একজন নিউমোনিক প্লেগে সংক্রমিত মানুষ অন্য মানুষে রোগ ছড়ায় এবং এভাবে প্লেগ মহামারীর আকার পায়।

সূত্র: National Library of Medicine [লিঙ্ক]
৩,৭৩৬.
বিজ্ঞানী হাবল মহাবিশ্ব সম্পর্কে বলেন-
  1. ক) মহাবিশ্ব ভেঙ্গে নতুন মহাবিশ্ব হচ্ছে
  2. খ) মহাবিশ্বের ছায়াপথগুলো ক্রমেই নিকটে আসছে
  3. গ) মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে
  4. ঘ) মহাবিশ্ব স্থির এর কোনো পরিবর্তন নাই
ব্যাখ্যা
১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী এডউইন হাবল মহাবিশ্বের প্রসারণ আবিষ্কার করেন। তিনি মহাবিশ্ব সম্পর্কে বলেন- 'মহাবিশ্ব প্রতিনিয়তই সম্প্রসারিত হচ্ছে'।
৩,৭৩৭.
পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে মূলত কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়?
  1. অতিবেগুনি রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
Nuclear bombs release their energy in the form of a blast, a fireball, visible light and radioactive ionising rays. For a small bomb, 50% of its energy release comes from the blast, 35% through heat, and the remaining 15% in the form of radiation.

During the explosion and a few seconds after, the effects of neutrons and gamma rays, which are long range, is very intensive. Gamma radiation prevails for powerful bombs. Neutrons dominate the small bombs and neutron bombs.

Source:radioactivity.eu.com
৩,৭৩৮.
ভূমিকম্পের সময় নিচের কোনটি করা সমীচীন?
  1. ক) ফাঁকা ও উন্মুক্ত স্থানে আশ্রয় নিবেন।
  2. খ) ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে গাড়ি খোলা জায়গায় থামিয়ে গাড়িতেই থাকবেন।
  3. গ) গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে অবস্থান নিবেন।
  4. ঘ) সবগুলো 
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের সময় যা করবেন:

- ভূমিকম্প হচ্ছে টের পেলে বা খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা ও উন্মুক্ত স্থানে আশ্রয় নিন।
- উঁচু ভবনে থাকলে এবং বের হতে না পারলে জানালা বা দেয়ালের পাশে অবস্থান না নিয়ে শক্ত কোনো বীম, টেবিলের নিচে অবস্থান নিন।
- হতবিহ্বল না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।
- বহুতল ভবনে একই জায়গায় অনেক মানুষ একসঙ্গে না থেকে ভাগ হয়ে আশ্রয় নিন। 
- আপনার মুঠোফোনে ফায়ার সাভির্স এবং দরকারি মোবাইল নম্বরগুলো আগাম সতর্কতা হিসেবে আগেই রেখে দিন। বিপদের সময় আপনার কাজে লাগবে।
- দ্রুত নামার জন্য ভবন থেকে লাফিয়ে পড়বেন না।
- ভূমিকম্পের সময় সম্ভব হলে মাথার ওপর শক্তকরে বালিশ অথবা অন্য কোনো শক্ত বস্তু [কাঠবোর্ড, নরম কাপড় চোপড়ের কুণ্ডলি] ধরে রাখুন।
- গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে অবস্থান নিন।
- উচু ভবন থেকে দ্রুত নামার জন্য লিফট ব্যবহার করবেন না।
- ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে গাড়ি খোলা জায়গায় থামিয়ে গাড়িতেই থাকুন।
- একবার ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয় যাকে আফটার শক’ বলে। নিজেকে বিপদমুক্ত ভাবতে অন্তত একঘণ্টা সময় নিন। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
৩,৭৩৯.
গ্রিনিচে যখন রবিবার সকাল ৬টা তখন ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমায় সময় যথাক্রমে-
  1. রবিবার দুপুর ১২টা ও শনিবার সকাল ৬টা
  2. রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ও শনিবার দুপুর ১২টা
  3. রবিবার ১২টা ও শনিবার রাত ১২টা
  4. রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
∴ ১৮০ ডিগ্রি = ১৮০ × ৪ = ৭২০ মিনিট 
= ১২ ঘন্টা।
- কোন স্থান থেকে পূর্বে গেলে সময় বাড়বে আর পশ্চিমে গেলে সময় কমবে। 
- কোন স্থানে সময় যখন রবিবার সকাল ৬টা তখন - 
∴ ১৮০ ডিগ্রি পূর্বে সময় হবে রবিবার সন্ধ্যা ৬ টা এবং ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিমে সময় হবে শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা। 
৩,৭৪০.
উত্তল লেন্সের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হলাে:
  1. ক) এটির ক্ষমতা ধনাত্মক
  2. খ) লেন্সের মধ্যভাগ সরু ও প্রান্ত মােটা
  3. গ) সমান্তরাল রশ্মিগুলােকে একটি বিন্দুতে মিলিত করে
  4. ঘ) ক+গ
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৩,৭৪১.
নিচের কোনটি ট্রানজিস্টরের অংশ নয়?
  1. ক) নিঃসারক
  2. খ) পীঠ
  3. গ) সংগ্রাহক
  4. ঘ) বহির্মুখ
ব্যাখ্যা

p-n-p or n-p-n ট্রানজিস্টরে সজ্জিত কেলাসের প্রথমটিকে নিঃসারক, মাঝেরটিকে পীঠ এবং অন্য পাশেরটিকে সংগ্রাহক বলা হয়। ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক সার্কিট বা বর্তনীতে বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।

৩,৭৪২.
সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ - 
  1. সমুদ্রের ঘূর্ণিঝড়
  2. বায়ু প্রবাহের প্রভাব
  3. সমুদ্রের পানিতে ঘনত্বের তারতম্য
  4. সমুদ্রের পানিতে তাপের পরিচালনা
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ- বায়ু প্রবাহের প্রভাব। 

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের অন্যতম প্রভাব। 
- প্রধান বায়ুপ্রবাহের গতি অনুসরণ করে সমুদ্রের প্রধান শ্রোতগুলো প্রবাহিত হয়। 
- অয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্রস্রোত পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে এবং প্রত্যয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ুর চলাচল নিয়ত পরিবর্তনশীল। 
- বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ। 
- বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়- 
(১) নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
(২) পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৩.
আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান কী?
  1. ক) খনিজ
  2. খ) আগুন
  3. গ) লবণ
  4. ঘ) ম্যাগমা
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান ম্যাগমা
• আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের গভীর তলদেশ থেকে (প্রায় ২০০ কি.মি.) ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরেই জমাটবদ্ধ হয় যা ম্যাগমা নামে পরিচিত।
• এই ম্যাগমা যখন ভূ-ত্বকের গভীর থেকে ফাঁটল বরাবর সজোরে ভূ-পৃষ্ঠে উঠে এসে প্রবাহিত হয় তখন তাকে লাভা বলে।
• শিলার বুনট এই ম্যাগমা বা লাভার বৈশিষ্ট্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শিলার বুনট বলতে এর গঠনকারী খনিজ উপাদানের আকার, আকৃতি, বিন্যাস বুঝায়।
• আগ্নেয় শিলায় প্রধানত ৫ ধরনের বুনট দেখা যায়।     

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৪.
এমআরআই যন্ত্রে কোন তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ইনফ্রারেড
  2. খ) রেডিও ওয়েব
  3. গ) এক্সরে
  4. ঘ) মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

এমআরআই
:
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।

- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- শরীরের যে অংশের এমআরআই স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়।

- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে।
-এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়।
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৫.
ইউরেনাসের উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক্যাপিটাস
  2. গ্যানিমেড
  3. অ্যারিয়েল
  4. নেরাইড
ব্যাখ্যা
♦ ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৭টি।
- এগুলো হলো: অ্যামব্রিয়েল, অ্যারিয়েল, ওফেলিয়া, ওবেরন, কর্ডেলিয়া, কিউপিড, ক্যালিবান, ক্রেসিডা, জুলিয়েট, টাইটানিয়া, ট্রিকুলো, ডেসডিমোনা, প্যাদ্রিতা, পুক, পোর্শিয়া, প্রোসপেরা, ফ্রান্সিসকো, ফার্ডিনান্দ, বিয়াঙ্কা, বেলিন্দা, মার্গারেট, মিরান্ডা, ম্যাব, রোসালিন্ড, সাইকোরাক্স, সেটেবস, স্টেফানো।

উৎস:
i)ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA ওয়েবসাইট
৩,৭৪৬.
ভিটামিন D-এর অভাবে শিশুদের কোন রোগ হয়?
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রিকেটস
  4. রাতকানা
ব্যাখ্যা
ভিটামিন D:
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- এই ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে উপস্থিত কোলেস্টেরল হতে ধাপে ধাপে
লিভার ও কিডনির সহায়তায় সংশ্লেষিত হয়।
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D-এর প্রধান উৎস।
- বাঁধাকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে।
- ভিটামিন D-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হতে পারে।

অন্যদিকে,
- স্কার্ভি হয় ভিটামিন C এর অভাবে হয়।
- রাতকানা হয় ভিটামিন A এর অভাবে হয়।
- পেলেগ্রা হয় ভিটামিন B3 (নিয়াসিন) এর অভাবে হয়।

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৭৪৭.
নিচের কোনটি মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  3. হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
  4. ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো - 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৮.
তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে -
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে TMV নামক ভাইরাস

• টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV):
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত।
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়।
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে।
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৯.
'গ্যালিলিও' কি?
  1. ক) মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ
  2. খ) বৃহস্পতি গ্রহের একটি উপগ্রহ
  3. গ) শনি গ্রহের একটি উপগ্রহ
  4. ঘ) পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতিরএকটি কৃত্রিম উপগ্রহ
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতির একটি কৃত্রিম উপগ্রহ।

বৃহস্পতি গ্রহে কৃত্রিম উপগ্রহ গ্যালিলিও অবতরণ করে- ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে। এর মিশন শেষ হয় ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা, নাসা
৩,৭৫০.
কৃষ্ণগহবর হতে এমনকি আলোও বের হতে পারে না। কারণ-
  1. ক) এর মধ্যাকর্ষণ শক্তি খুবই বেশি
  2. খ) এতে ভাসমান ধুলিকণা খুবই বেশি
  3. গ) এর মহাকর্ষ শক্তি খুবই বেশি
  4. ঘ) এদের কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণবিবর (Blackhole)
তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Blackhole)। বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না।
১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।
সুত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৫১.
Light year is related-
  1. Energy
  2. Speed
  3. Distance
  4. Intensity
ব্যাখ্যা
আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

তথ্যসূত্র - NASA ওয়েবসাইট।
৩,৭৫২.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. ক) নিউট্রন স্টার
  2. খ) কোয়াসার
  3. গ) কৃষ্ণবিবর
  4. ঘ) বোসন
ব্যাখ্যা
কোয়াসার (Quasar):
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার।
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি।
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো।
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে।
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে।
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু।
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭৫৩.
কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষতা বেশি?
  1. ক) কালো
  2. খ) লাল
  3. গ) বেগুনি
  4. ঘ) সাদা
ব্যাখ্যা
সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। এজন্যই গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক। অন্যদিকে, কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, সেজন্য তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩,৭৫৪.
পার্থিব গ্রহের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা

টেরেস্ট্রিয়াল গ্রহ বা পার্থিব গ্রহ: 

বুধ, শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল এই চারটি গ্রহকে পার্থিব গ্রহ বলা হয় কারণ তাদের পৃথিবীর টেরা ফার্মের মতো একটি কম্প্যাক্ট, পাথুরে পৃষ্ঠ রয়েছে।
পার্থিব গ্রহগুলি হচ্ছে সৌরজগতে সূর্যের সবচেয়ে কাছের চারটি গ্রহ।
এই গ্রহগুলোর কোনোটিরই রিং নেই।

জোভিয়ান গ্রহ: 
বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুনকে জোভিয়ান (বৃহস্পতির মতো) গ্রহ হিসাবে পরিচিত, কারণ তারা পৃথিবীর তুলনায় বিশাল, এবং তাদের বৃহস্পতির মতো বায়বীয় প্রকৃতি রয়েছে।
জোভিয়ান গ্রহগুলিকে "গ্যাস জায়ান্টস" হিসাবে উল্লেখ করা হয় কারণ তারা বেশিরভাগই গ্যাস দিয়ে তৈরি, যদিও তাদের ছোট শক্ত কোর রয়েছে।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট [লিংক]

৩,৭৫৫.
কোন রোগে শরীরে ইমিউনিট (immunity) নষ্ট হয়?
  1. ক) গনোরিয়া
  2. খ) হারপিন
  3. গ) ডায়রিয়া
  4. ঘ) এইডস
ব্যাখ্যা

AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে এক ধরণের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus এবং একে সংক্ষেপে HIV বলা হয়।
HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) নষ্ট করে দেয়। এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৭৫৬.
কোনটি পারমানবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. রেডিয়াম
  2. গ্রাফাইট
  3. সোডিয়াম
  4. সীসা
ব্যাখ্যা
• মডারেটর:
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন।
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো:
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D₂O) এবং
২। গ্রাফাইট।
- পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট।
- পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৩,৭৫৭.
নিকোলাস কোপার্নিকাস ছিলেন মূলত একজন -
  1. গণিতবিদ
  2. দার্শনিক
  3. রসায়নবিদ
  4. জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
ব্যাখ্যা
নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭৩ সালে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে।
- তিনি ২৪ মে, ১৫৪৩ সালে ইতালির রোমে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৩,৭৫৮.
গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলা হয় কোন অঞ্চলকে?
  1. ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ
  2. ৪০° থেকে ৪৭° উত্তর অক্ষাংশ
  3. ৪০° থেকে ৪৭° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
  4. ৪০° থেকে ৪৭° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু (The Westerlies):
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু (Brave west winds) বলে। ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলে।
- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের ন্যায় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় দুটি অবস্থিত।
- বায়ু নিম্নগামী বলে এই অঞ্চলে অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ অনুভব করা যায় না।
- প্রাচীনকালে যখন আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজযোগে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করা হতো, তখন এ অঞ্চলে পৌঁছলে বায়ুপ্রবাহের অভাবে পালচালিত জাহাজের গতি মন্থর বা প্রায় নিশ্চল হয়ে পড়ত।
- এ অবস্থায় নাবিকগণ খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে অনেক সময় তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিত।
- এজন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse latitude) বলে।
- নিরক্ষীয় শান্তবলয় এর অপর নাম ডোলড্রাম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৭৫৯.
বাংলাদেশের স্যাটেলাইট পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নাম কি?
  1. BSCL
  2. BCSL
  3. BCSCL
  4. BCISL
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের স্যাটেলাইট পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নাম - বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (BSCL)।
- এটি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি।
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (BS-1) এর উৎক্ষেপণ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা, স্থল স্টেশন থেকে উপগ্রহকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিপনন ও বিক্রয় সেবা ইত্যাদির জন্য BSCL কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (BCSCL)।
- ১৬ আগস্ট ২০২০ কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (BSCL) করা হয়।
৩,৭৬০.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে -
  1. প্রায় ১২.২ বিলিয়ন বছর আগে
  2. প্রায় ১২.৮ বিলিয়ন বছর আগে
  3. প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন বছর আগে
  4. প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- বিগ ব্যাং সিদ্ধান্ত অনুসারে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে
- এই সিদ্ধান্তে বলা হয় যে, মহাবিশ্ব একটি একটি সুপারনোভা বা মহাস্থির বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুগুলি আরম্ভিক অবস্থায় ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬১.
'ডেনভি-৩' কোন রোগের নতুন ধরণ?
  1. ডেঙ্গু
  2. করোনা
  3. চিকুনগুনিয়া
  4. ডায়রিয়া
ব্যাখ্যা
দেশে ডেঙ্গু রোগের নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। যার নাম ডেনভি-৩।
আর এই ধরনটি দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকার রোগীরা।
দেশে এ বছর ডেঙ্গুর সবচেয়ে ক্ষতিকর ধরনগুলোর একটি ডেনভি–৩–এ মানুষ বেশি আক্রান্তহয়েছে।
ডেঙ্গুর এই ধরনে আক্রান্ত হলে দ্রুত রোগীর রক্তের প্লাটিলেট কমে যায়।
২০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।
উৎস : পত্রিকা রিপোর্ট
৩,৭৬২.
পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কার করেন-
  1. ক) ডোনাল্ড রস
  2. খ) জোনাস স্যাক
  3. গ) এডওয়ার্ড জেনার
  4. ঘ) লুই প্রাস্তুর
ব্যাখ্যা
পোলিও এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। ১৯৫৪ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জোনাস স্যাক পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
৩,৭৬৩.
গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে?
  1. মাইক্রোওয়েভ দ্বারা
  2. স্যাটেলাইট দ্বারা
  3. ফাইবার দ্বারা
  4. লেজার দ্বারা
ব্যাখ্যা

• GPS (Global Positioning System) হলো এমন একটি উপগ্রহভিত্তিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা, যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ব্যবহারকারীর অবস্থান (Location), বেগ (Velocity) ও সময় (Time) নির্ণয় করে।

- এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (U.S. Department of Defense) দ্বারা তৈরি ও নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থা।

GPS কীভাবে কাজ করে:
- পৃথিবীর চারপাশে ২৪টি উপগ্রহ (Satellite) নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে।
- প্রতিটি স্যাটেলাইট থেকে নির্দিষ্ট সময় ও অবস্থানের রেডিও সিগন্যাল (Radio Signal) পাঠানো হয়।
- পৃথিবীতে থাকা GPS রিসিভার (যেমন মোবাইল, গাড়ির ন্যাভিগেশন ডিভাইস ইত্যাদি) অন্তত চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল গ্রহণ করে।
- এই সিগন্যালের সময়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ করে রিসিভার তার অবস্থান, উচ্চতা ও সময় নির্ণয় করে। এ প্রক্রিয়াকে বলে Trilateration।

GPS-এর মূল উপাদান:
- Space Segment: কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলো (২৪ বা তার বেশি)।
- Control Segment: পৃথিবীতে থাকা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যা স্যাটেলাইটগুলোর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে।
- User Segment: ব্যবহারকারীর ডিভাইস বা GPS রিসিভার।
 
ব্যবহার:
- মোবাইল ও গাড়ির ন্যাভিগেশন সিস্টেমে অবস্থান নির্ধারণে।
- জাহাজ, বিমান ও সামরিক বাহিনীতে দিকনির্দেশে।
- ভূগোল, কৃষি, সার্ভে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার অভিযানে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৩,৭৬৪.
মানুষের শ্বসন অঙ্গ কোনটি দ্বারা সংক্রমিত হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন - 

সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭৬৫.
টলেমি ছিলেন-
  1. চিকিৎসক
  2. দার্শনিক
  3. ঐতিহাসিক
  4. জ্যোতির্বিদ
ব্যাখ্যা
টলেমি:
- ক্লডিয়াস টলেমি ছিলেন একজন গ্রিকো-মিশরীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ।
- তিনি রোমান শাসিত মিশরের ইজিপ্টাস প্রদেশে বসবাস করতেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ার কাছাকাছি একটি মানমন্দিরে কাজ করতেন।

তাঁর অবদান:
১. টলেমি মহাবিশ্বের একটি মডেল তৈরি করেন, যেখানে পৃথিবীকে কেন্দ্রস্থলে রেখে ধারাবাহিকভাবে চাঁদ, বুধ, শুক্র, সূর্য, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিকে অবস্থান করানো হয়েছে।
২. তিনি চতুর্ভুজ সম্পর্কিত একটি উপপাদ্য প্রণয়ন করেন, যা জ্যামিতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. এই উপপাদ্যটি ত্রিকোণমিতিক ছক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বিটানিকা।
৩,৭৬৬.
বন-জঙ্গল ধ্বংস করার ফলে বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে
  1. CO
  2. CO2
  3. S2O
  4. CFC
ব্যাখ্যা
জলবাযু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরণ দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। 
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না। 
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনেরই নেতিবাচক প্রভাব। 
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব। 

বনাঞ্চল: 
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা বেড়ে গেলে বনভূমির উপরও প্রভাব পড়বে। 
- গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা যদি ৪৫ সেন্টিমিটার বাড়ে, তাহলে একমাত্র ম্যানগ্রোভ বনের ৭৫% পানির নিচে তলিয়ে যাবে। 
- আর যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় পুরো সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। 
- এছাড়া অধিক হারে বন-জঙ্গল ধ্বংস করার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬৭.
সিফিলিস ছড়ায়-
  1. ক) যৌন মিলন
  2. খ) Droplet infection
  3. গ) অনিরাপদ পানি পান
  4. ঘ) খাদ্যের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

সংক্রামক রোগ ছড়ানোর মাধ্যমঃ
১) স্পর্শঃ বেশ কিছু রোগ এভাবে ছড়ায়। যেমন স্কেবিস, ছত্রাক জনিত চর্ম রোগ।
২) যৌন সংস্পর্শঃ এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস (বি, সি), হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেকশন যেটি জরায়ুমুুখ ক্যান্সারের অন্যতম কারণ, লিমফো গ্রানুলোমা ভেনেরিয়াম, শ্যাাংক্রয়েড।
৩) খাদ্য ও পানীয়ঃ টাইফয়েড, পোলিও মায়েলাইটিস, হেপাটাইটিস (এ, ডি), কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, বিভিন্ন কৃমি সংক্রমণ।
৪) বায়ু বাহিতঃ যক্ষা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হুপিং কাশি, মেনিনজাইটিস, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, ব্রংকিওলাইটিস, মাম্পস, রুবেলা, হাম।
৫) ভেক্টর বাহিতঃ
মশাঃ ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসিস।
মাছিঃ উদরাময়, আমাশয়, ক্রিমি সংক্রমণ, কালাজ্বর, চ্যাগাস ডিজিস, স্লিপিং সিকনেস, চোখের কৃমি (deer fly)।

৩,৭৬৮.
মানবদেহে হাড় ও দাঁত গঠনে এবং ফসফোলিপিড তৈরি করে কোন খনিজ লবণ?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) ফসফরাস
ব্যাখ্যা
মানবদেহে হাড় ও দাঁত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম। অস্থির বা হাড়ের প্রায় ৬০% ক্যালসিয়াম ফসফেট। এছাড়া প্রাণীদেহে ফসফোপ্রোটিন বা ফসফোলিপিড হিসেবেও ফসফরাস থাকে। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৬৯.
কসমিক রে মূলত কী দ্বারা গঠিত?
  1. আলো বহনকারী ফোটন
  2. উচ্চ শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণা
  3. শব্দ তরঙ্গ
  4. চৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
◉  কসমিক রে হল মহাকাশ থেকে আগত উচ্চ গতির কণা।
- এগুলোর বেশিরভাগই প্রোটন (হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস), কিছু আলফা কণা (হিলিয়াম নিউক্লিয়াস) এবং সামান্য ইলেকট্রন ও ভারী নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত। এগুলো আলোর কণা নয়, কারণ আলো ফোটন দিয়ে গঠিত এবং বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে না।

মহাজাগতিক রশ্মি: 
- মহাজাগতিক রশ্মি হল উচ্চ-গতির কণা, যা পারমাণবিক নিউক্লিয়াস বা ইলেকট্রন হতে পারে।
- এগুলো মহাকাশে ভ্রমণ করে এবং প্রধানত গ্যালাকটিক মহাজাগতিক রশ্মি (GCRs) নামে পরিচিত।
- বেশিরভাগ GCR আসে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে। কিছু আসে সূর্য থেকে (সৌর মহাজাগতিক রশ্মি)। সর্বোচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাগুলি সম্ভবত মিল্কিওয়ের বাইরের উৎস থেকে আসে।
- প্রাথমিক মহাজাগতিক রশ্মি সরাসরি পৃথিবীর পৃষ্ঠে দেখা যায় না। প্রাথমিক কণা পর্যবেক্ষণ করতে উচ্চ-উচ্চতার বেলুন বা মহাকাশযান ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,৭৭০.
নিচের কোনটিকে গ্রহরাজ বলা হয়?
  1. সূর্য
  2. পৃথিবী
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ।
- একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,৭৭১.
মহাবিশ্বের সকল পদার্থ কোন কণিকা দ্বারা গঠিত?
  1. ক) বোসন
  2. খ) ফার্মিওন
  3. গ) গ্রাভিটন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সকল পদার্থ ফার্মিওন নামক কণিকা দ্বারা গঠিত হয়। 

- ফার্মিওন কণা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে।
- ফার্মিওন কণাসমূহের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকণা আছে। 
- ফার্মিওন কণা আবার দুইরকমের হয়ে থাকে। 
যথা-
- Quark- এই ধরনের কণা পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণা। সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। 
- Lepton- ছয় প্রকারের লেপটন কণিকা রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ইলেকট্রন।

সূত্র- ৪২১ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭৭২.
ভূ-গোলকে কতটি অক্ষাংশ রেখা আছে?
  1. ৯০
  2. ৯১
  3. ১৮০
  4. ১৮১
ব্যাখ্যা

- পৃথিবী সৌরজগতে অভিগত গোলক আকৃতির মাঝারি একটি গ্রহ।
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যম একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে ।
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমভাবে দুইভাগে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটি নিরক্ষরেখা বা বিষবরেখা নামে অভিহিত।
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখাটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।
- ভূ-গোলকে ১৮১ টি অক্ষাংশ রেখা আছে। 
- নিরক্ষরেখার (০°) উত্তর ও দক্ষিণে এই অক্ষরেখা সমূহের আকার ক্রমশ ছোট হতে হতে দুই মেরুতে একেবারে বিন্দুতে পরিণত হয়।
- ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকর ক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত ও কুমেরু বৃত্ত নামে অভিহিত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

৩,৭৭৩.
সূক্ষ্ম রক্তনালিকার ব্লকেজ পরীক্ষা করার প্রযুক্তি কোনটি?
  1. ইটিটি
  2. ইসিজি
  3. এনজিওগ্রাফি
  4. সিটিস্ক্যান
ব্যাখ্যা
এনজিওগ্রাফি: 
- এনজিওগ্রাফি হলো এমন একটি প্রতিবিম্ব তৈরির পরীক্ষা যেখানে শরীরের রক্তনালিকাসমূহ দেখার জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তবাহী শিরা বা ধমনীগুলো সরু, ব্লক ও প্রসারিত হয়েছে কী না তা নির্ণয় করা যায়। 
- রক্তনালিতে ব্লক এবং রক্তনালি সরু এবং অপ্রসস্থ হলে শরীরে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হয়। 
- এনজিওগ্রাম করার সময় চিকিৎসক রোগীর দেহে একটি তরল পদার্থ একটি সরু ও নমনীয় নলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দেন। 
- তরল পদার্থটিকে 'ডাই' এবং নলটিকে ক্যাথেটার বলে। 
- এই ডাই ব্যবহারের ফলে রক্তবাহী নালিকাগুলো এক্সরের সাহায্যে দৃশ্যমান হয়। 
- এই ডাই পরে কিডনী এবং মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- একটি নির্দিষ্ট প্রবেশ বিন্দুর মধ্য দিয়ে ক্যাথেটারটিকে নির্দিষ্ট ধমনী বা শিরার মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। 
- প্রবেশ বিন্দুটি শরীরের যে কোনো স্থানের রক্তনালিতে হতে পারে। 
- ব্যবহৃত ডাইটিকে কখনো কখনো বৈসাদৃশ্য বা Contrast হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

- সাধারণত যে সকল কারণে চিকিৎসকগণ এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন, এগুলো হলো - 
ক. হৃৎপিণ্ডের বাহিরে ধমনীতে ব্লকেজ হলে
খ. ধমনী প্রসারিত হলে, 
গ. কিডনির ধমনীর অবস্থা বুঝার জন্য, 
ঘ. শিরার যে কোনো সমস্যা হলে। 
- কখনো কখনো চিকিসকগণ এনজিওগ্রাম করার সময় একই সময়ে সার্জারী ছাড়াই রক্তনালির ব্লকের চিকিৎসা করে থাকেন। 
- যে কৌশলে বা প্রক্রিয়ায় এনজিওগ্রাম করার সময় ধমনীর ব্লক মুক্ত করা হয়, তাকে এনজিওপ্লাষ্টি বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদালয়।
৩,৭৭৪.
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিত রোগী প্রথম কোন তারিখে সনাক্ত হয়?
  1. ক) ৭ মার্চ, ২০২০
  2. খ) ৮ এপ্রিল, ২০২০
  3. গ) ৭ এপ্রিল, ২০২০
  4. ঘ) ৮ মার্চ, ২০২০ 
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে ৮ মার্চ ২০২০ সর্বপ্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।
- ১৮ মার্চ ২০২০ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগী মারা যায়।
- ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখে দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
- ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে করোনা ইস্যুতে সারাদেশ ব্যাপী প্রথমবারের লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
- ২৭ জানুয়ারি ২০২১ বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কুর্মিটোলা হাসপাতালের সেবিকা রুনো ভেরোনিকা কস্তা ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটি উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
- ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ থেকে সারাদেশ কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক টিকাদান শুরু হয়।

(তথ্যসূত্র: করোনা ইনফো, বাংলাদেশ সরকার এবং বিবিসি বাংলা)
৩,৭৭৫.
পৃথিবীর মোট পানির প্রায় কত শতাংশ সমুদ্রে বিদ্যমান?
  1. ৭০%
  2. ৯০%
  3. ৯৭%
  4. ৫০%
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭% মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরে সংরক্ষিত থাকে, যা লবণাক্ত পানি।

• বারিমণ্ডলের ধারণা (Concept of Hydrosphere):
- ‘Hydrosphere’ শব্দটি গ্রিক শব্দ Hydro (পানি) ও Sphere (মণ্ডল) থেকে উদ্ভূত।
- পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল প্রকার পানির সমষ্টিকে বারিমণ্ডল বলা হয়।
- পৃথিবীর পানি বিভিন্ন অবস্থায় বিদ্যমান—কঠিন (বরফ), তরল (পানি) ও গ্যাসীয় (জলীয় বাষ্প)।
- বায়ুমণ্ডলে পানি জলীয় বাষ্প হিসেবে থাকে, ভূ-পৃষ্ঠে ও ভূ-গর্ভে পানি তরল ও কঠিন অবস্থায় বিদ্যমান।
- পৃথিবীর সকল জলাশয়ের অবস্থানগত বিস্তৃতিকেই বারিমণ্ডল বলা হয়।
- পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭% রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরে)।
- অবশিষ্ট প্রায় ৩% পানি নদী, হ্রদ, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ পানি, মাটি ও বায়ুমণ্ডলে বিদ্যমান।
- পৃথিবীর পানি মূলত দুই প্রকার—লবণাক্ত পানি ও মিঠা পানি।
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের পানি লবণাক্ত, আর নদী, হ্রদ, হিমবাহ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩,৭৭৬.
পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন-
  1. ক) বাজ আলড্রিন
  2. খ) জন প্লেন
  3. গ) ইউরি গ্যাগারিন
  4. ঘ) নীল আর্মস্ট্রং
ব্যাখ্যা
বিশ্বের প্রথম মানুষ বহনকারী মহাকাশ যান হচ্ছে ভস্টক - ১। এতে করে রাশিয়ার ইউরি গ্যাগারিন পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। এপোলো-১১ এ করে নীল আর্মস্ট্রং ও এডউইন আলড্রিন চাঁদে অবতরণ করেন।
উৎসঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান
৩,৭৭৭.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ইলেকট্রনিক্স বর্তনী হলো একটি-
  1. ক) অতি সাধারণ বর্তনী
  2. খ) অতি সস্তা দামের বর্তনী
  3. গ) অতি সহজ বর্তনী
  4. ঘ) অতি ছোট টুকরা সিলিকনের টুকরার উপর তৈরি অতি ক্ষুদ্র বর্তনী
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট হলো সে বর্তনী যাতে বর্তনীর উপাংশগুলো একটি ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহক চিপে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গঠন করা হয় যারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঐ চিপের অংশ। সাধারণভাবে মাইক্রো সার্কিট হলো ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের ক্ষুদ্রতম সমাবেশ। আইসি হলো এক ধরনের মাইক্রো সার্কিট। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহক চিপে সাধারণত থাকে- রোধক, ধারক, ডায়োড, ট্রানজিস্টর ইত্যাদি।
৩,৭৭৮.
টেকটনিক প্লেট ধারণাটির প্রবক্তা কে?
  1. ক) আলফ্রেড নোবেল
  2. খ) রবার্ট টেকটিউনস
  3. গ) আলফ্রেড ওয়েগেনার
  4. ঘ) এডওয়ার্ড স্নোডেন
ব্যাখ্যা

- সর্বপ্রথম ১৯১২ সালে জার্মান আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব থেকেই টেকটনিক প্লেট ধারণাটির জন্ম হয়।
- ওয়েগেনারের মতে, বহুকাল আগে পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশ একত্রে একটি মহাদেশ ছিল (প্যানজিয়া), কালের আবর্তে যা টেকটনিক প্লেট নামক প্লেটগুলোর নড়াচড়ায় আলাদা আলাদা মহাদেশে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- এই তত্ত্বটিকে বলা হয় মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব।

৩,৭৭৯.
কে প্রমাণ করেন যে অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া জ্বরের জন্য দায়ী?
  1. ক) স্যার আইজ্যাক নিউটন
  2. খ) এডিসন
  3. গ) লুই পাস্তুর
  4. ঘ) স্যার রোনাল্ড রস
ব্যাখ্যা
স্যার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন যে অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া জ্বরের জন্য দায়ী।
- ১৮৯৭ সালে ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ ডাক্তার স‍্যার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন যে Anopheles মশা এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- এ আবিষ্কারের কারণে তাকে ১৯০২ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।
- তিনি সুস্থ ও সংক্রমিত পাখিদেরকে অধ্যয়ন করে প্লাসমোডিয়াম জীবাণুর সমগ্র জীবনচক্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেন।
- তিনি দেখান যে মশার লালাগ্রন্থিতে প্লাসমোডিয়াম জীবাণু থাকে এবং মশার কামড়ের মাধ্যমে এটি অন্য পোষকের দেহে সংক্রমিত হয়।
- তাঁর এই কাজের উপর ভিত্তি করে অ্যানোফিলিস মশার বংশবিস্তার রোধের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৭৮০.
মহাজাগতিক রশ্মির অন্য নাম কী?
  1. ইউনিভার্সাল রে
  2. কসমিক রে
  3. এটারনাল রে
  4. কসমপলিটন রে
ব্যাখ্যা
• মহাজগতিক রশ্মি:
- মহাজগতিক রশ্মির অন্যনাম কসমিক রে (Cosmic rays)।
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- এগুলো মূলত প্রোটন, হেলিয়াম নিউক্লিয়াস এবং অন্যান্য ভারী উপাদানের আয়নযুক্ত কণা নিয়ে গঠিত।
- অস্ট্রিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস (Victor Hess) প্রথম মহাজাগতিক রশ্মির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।
- ১৯১২ সালে, তিনি বেলুনে বসে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পরিবর্তন হয় কি না তা পরীক্ষা করছিলেন।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৩,৭৮১.
ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা কোনটি?
  1. ক) আইসোহেলাইন
  2. খ) আইসোথার্ম
  3. গ) আইসোহাইট
  4. ঘ) আইসোবার
ব্যাখ্যা
- আইসোথার্ম : সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার : সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা
- আইসোহাইট : সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ব. এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট)
৩,৭৮২.
নিচের কোন বিষয়টি প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের সাথে জড়িত?
  1. খরা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. আগ্নেয়গিরির উদগীরণ
  4. সুনামি
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়।
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে।
- কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে।
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 
- একটি প্লেটের সাথে আরেকটি প্লেট যেখানে মেশে সেখানেই বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয় ।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে।
- আজকাল বাংলাদেশেও ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৭৮৩.
জীববিজ্ঞানে কী ধরনের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?
  1. বায়োইনফরমেটিক্স
  2. বায়োমেট্রিক্স
  3. বায়োকেমিস্ট্রি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
◉ জীববিজ্ঞানে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ হলো 'বায়োইনফরমেটিক্স'।
 
বায়োইনফরমেটিক্স: 
 - বায়োইনফরমেটিক্স জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত ও পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিষয়। 
 - জীববিজ্ঞানের বিশাল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করে সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য মূলত এই বিষয়টির জন্ম হয়েছে। 
 অর্থাৎ, জীববিজ্ঞানে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ হলো বায়োইনফরমেটিক্স। 
 - জীববিজ্ঞানের সমস্যাগুলো যখন কম্পিউটার প্রযুক্তি কৌশল ব্যবহার করে সমাধান করা হয়, তখন সেটাকে বলা হয় বায়োইনফরমেটিক্স। 
- জিন ফাইন্ডিং গবেষণায় বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। 
 
 উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (মাহবুবুর রহমান)।
৩,৭৮৪.
কোন বিজ্ঞানী ইউরেনিয়াম লবণ অধ্যয়ন করে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন?
  1. James Clerk Maxwell
  2. Henri Becquerel
  3. Niels Bohr
  4. Lise Meitner
ব্যাখ্যা
• তেজষ্ক্রিয়তা:
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত স্বীয় বিচ্ছিন্নকারী প্রক্রিয়া।
- ১৮৯৬ খিস্টাব্দে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন যে, ইউরেনিয়াম এবং তাদের যৌগ হতে আপনা আপনি এক প্রকার রহস্যজনক কণা এবং রশ্মি নির্গত হতে থাকে।
- এর পরে পিয়েরে কুরী এবং তাঁর স্ত্রী মাদাম কুরী থোরিয়ামের মধ্যে একই গুণ আবিষ্কার করেন।
- ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তিনি এটি আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার একক বেকরেল।
- তাছাড়া, কুরি এবং রাদারফোর্ড ও তেজষ্ক্রিয়তার ২ টি একক। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই, (শাহাজাহান তপন)।
৩,৭৮৫.
২১ মার্চ উত্তর গােলার্ধে কোন ঋতু চলে?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. শরৎকাল
  3. শীতকাল
  4. বসন্তকাল
ব্যাখ্যা
মহাবিষুব:
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়।
- বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১ শে মার্চ দিনটিকে উত্তর গোলার্ধে মহাবিষুব বলে।
- ২৩ শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে বলে জলবিষুব।

⇒ ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৮৬.
গ্রহগুলোর গতিপথ উপবৃত্তাকার- এ সূত্রটি কোন বিজ্ঞানীর ?
  1. ক) টমেলি
  2. খ) কেপলার
  3. গ) পিথাগোরাস
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
গ্রহের গতি সম্পর্কে কেপলার ৩ টি সূত্র প্রদান করেন।
এগুলোকে কেপলারের সুত্র বলে।
৩,৭৮৭.
মস্তিষ্কের সবচেয়ে পেছনের অংশ কোনটি?
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) পনস
  3. গ) মেডুলা অবলংগটা
  4. ঘ) সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা
পশ্চাৎ মস্তিষ্ক সেরিবেলাম, পনস, মেডুলা অবলংগাটা নিয়ে গঠিত।

• সেরিবেলাম (Cerebellum) : পনসের পৃষ্ঠভাগে অবস্থিত খণ্ডাংশটি সেরিবেলাম। এটি ডান এবং বাম দুই অংশে বিভক্ত। এর বাইরের দিকে ধূসর পদার্থের আবরণ এবং ভিতরের দিকে শ্বেত পদার্থ থাকে। সেরিবেলাম দেহের পেশির টান নিয়ন্ত্রণ, চলনে সমন্বয় সাধন, দেহের ভারসাম্য রক্ষা, দৌড়ানো এবং লাফানোর কাজে জড়িত পেশিগুলোর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

• পনস (Pons): মেডুলা অবলংগাটা এবং মধ্যমস্তিষ্কের মাঝখানে পনস অবস্থিত। এটি একগুচ্ছ স্নায়ুর সমন্বয়ে তৈরি।

• মেডুলা অবলংগাটা (Medulla Oblongata): এটি মস্তিষ্কের সবচেয়ে পিছনের অংশ। এর সামনের দিকে রয়েছে পনস, পিছনের দিক সুষুম্নাকাণ্ডের উপরিভাগের সথে যুক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৭৮৮.
সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম-
  1. ক্রোনোমিটার
  2. কম্পাস
  3. সিসমোগ্রাফ
  4. সেক্সট্যান্ট
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র: 
• অ্যানিমোমিটার - বায়ু প্রবাহের গতিবেগ নির্ণয়ের যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার - বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• সেক্সট্যান্ট - সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ - ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ম্যানােমিটার - গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার - সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• জাইরাে কম্পাস - জাহাজের দিক নির্ণয়ের যন্ত্র। 
• ক্রোনােমিটার - সমুদ্রের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের যন্ত্র বা সূক্ষ্মভাবে সময় পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং উচ্চ-মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।
৩,৭৮৯.
সৌরজগতের গ্রহ সংখ্যা কতটি?
  1. সাতটি
  2. আটটি
  3. নয়টি
  4. এগারোটি
ব্যাখ্যা
• গ্রহ (Planet):
- মহাকাশে কতকগুলো জ্যোতিষ্ক সূর্যকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পথে পরিক্রমণ করে।
- এদের নিজেদের কোনো আলো বা তাপ নেই।
- মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
- এরা সূর্য থেকে আলো ও তাপ পায়।
- এই তাপেই উত্তপ্ত হয়।
- এরা তারার মতো মিটমিট করে জ্বলে না।
- এসব জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে।
- আমাদের সৌরজগতের আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি এবং নাসা।
৩,৭৯০.
রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়াকে কী বলে?
  1. পলিসাইথিমিয়া
  2. লিউকেমিয়া
  3. অ্যানিমিয়া
  4. লিউকোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা

 রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা:
মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
- যেমন:
১. পলিসাইথিমিয়া: হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং রক্তকোষের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া।
২. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া
৩. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কোষের সংখ্যা সেসবের চাইতেও অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।        
৪. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যায়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে।
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৩,৭৯১.
আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত কোন বিজ্ঞানী?
  1. আর্কিমিডিস
  2. নিউটন
  3. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যা: 

• গ্যালিলিও গ্যালিলিকে 'আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

• গ্যালিলিও গ্যালিলি একটি প্রতিসরণকারী টেলিস্কোপ আবিষ্ককার করেন।
• আইনস্টাইন গ্যালিলিও গ্যালিলিকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবে অভিহিত করেন।
• জন্ম: ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ১৫৬৪ সালে ইতালির পিসাতে। 
• তার পিতা ছিলেন ভিনসেঞ্জো গ্যালিলি, একজন দক্ষ ফ্লোরেনটাইন গণিতবিদ এবং সঙ্গীতজ্ঞ।
• গ্যালিলিও ১৫৮১ থেকে ১৫৮৫ সাল পর্যন্ত পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন বিভাগে অধ্যয়ন করেছিলেন কিন্তু কোনো ডিগ্রি ছাড়াই ফ্লোরেন্সে গণিতের শিক্ষকে ফিরে আসেন।
• তিনি ১৫৮৯ সালে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান তারপর জ্যামিতি, বলবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিদ্যা শেখানোর জন্য ১৫৯২ সালে পাড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান।

উৎস: New Mexico Museum of Space History Website.
৩,৭৯২.
ইউরি গ্যাগারিন মহাশূন্যে যান-
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৬৪ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ইউরি গ্যাগারিন:
- মহাকাশে প্রথম ভ্রমণকারী ইউরি গ্যাগারিন।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ অভিযাত্রী ইউরি গ্যাগারিন।
- মহাকাশে তিনিই হলেন প্রথম মানব অভিযাত্রী।
- ১৯৬১ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণ করেন।
- ভস্টক–১ নভোযানে তিনি মহাকাশে যান।
- গ্যাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১০৮ মিনিট।
- মাত্র দেড় ঘণ্টার মতো সময়ে তিনি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৭৯৩.
ক্যান্সারের চিকিৎসায় যে গামা রশ্মি ব্যবহার করা হয়, তা মূলত কোন উৎস থেকে পাওয়া যায়?
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

◉ ক্যান্সার চিকিৎসায় সাধারণত কোবাল্ট-৬০ (Cobalt-60) অথবা রেডিয়াম-২২৬ (Radium-226) এর মতো রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ থেকে উৎপন্ন গামা রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়।
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯৪.
নিম্নের কোন শিলায় জীবাশ্ম নেই?
  1. ক) আগ্নেয় শিলা
  2. খ) পাললিক শিলা
  3. গ) স্তরীভূত শিলা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলাতে জীবাশ্ম দেখা যায় না। শুধুমাত্র পাললিক/স্তরীভূত শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায়।

আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
(ক) স্ফটিকাকার
(খ) অস্তরীভূত,
(গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর,
(ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং
(ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী।

রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
১। পাললিক শিলা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়;
২। পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়;
৩। পাললিক শিলা স্ফটিকাকার নয়;
৪। পাললিকা শিলা হালকা, ভঙ্গুর ও তরঙ্গ বিশিষ্ট।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির ভূগোল বোর্ড বই এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য বই।
৩,৭৯৫.
নিচের কোনটি পরিবেশের ভৌত উপাদান? 
  1. ক্যালসিয়াম
  2. জলবায়ু
  3. মাটি
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে পরিবেশের ভৌত উপাদান হচ্ছে জলবায়ু। 

• পরিবেশে বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান এবং 
খ. জড় উপাদান। 

ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক:
- সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 

২. খাদক: 
- ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। 
যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 

৩. বিয়োজক: 
- ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭৯৬.
কৃষ্ণবিবর বা ব্ল্যাকহোল হচ্ছে এক প্রকার -
  1. ক) মৃত বা সংকুচিত তারকা
  2. খ) নক্ষত্রমণ্ডলী
  3. গ) ছায়াপথ
  4. ঘ) সম্প্রসারিত তারকা
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণবিবর (Blackhole)
তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Blackhole)। বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না।
১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।
সুত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯৭.
পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. পেট্রোলিয়াম
  2. ইউরেনিয়াম
  3. হিলিয়াম
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- অন্যদিকে, পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।
Liquid sodium is used as a coolant in fast breeder reactors on account of its excellent heat transfer properties.
It must, however, be in the pure form to be compatible with structural materials.

উৎস: ব্রিটানিকা
৩,৭৯৮.
পৃথিবীতে একজন লোকের ভর ৭০ কেজি। চাঁদে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ পৃথিবীর ১/৬ গুণ। চাঁদে তার ভর কত কেজি?
  1. ১১৪.৩৩ কেজি
  2. ৭০ কেজি
  3. ১১.৬৭ কেজি
  4. ৪২০ কেজি
ব্যাখ্যা
- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- অর্থাৎ, পৃথিবীতে একজন লোকের ভর ৭০ কেজি হলে চাঁদে তার ভর হবে ৭০ কেজি।

- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে।
আমরা জানি,
ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি।
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি।

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ।
তাই চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ১.৬৩ নিউটন।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
৩,৭৯৯.
রিকটার স্কেলে ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ করা যায়-
  1. ক) ০ থেকে ৭ মাত্রার
  2. খ) ০ থেকে ১১ মাত্রার
  3. গ) ০ থেকে ৬ মাত্রার
  4. ঘ) ০ থেকে ১০ মাত্রার
ব্যাখ্যা

- রিখটার স্কেলের মাধ্যমে ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়।
- এই স্কেলের সাহায্যে ০-১০ মাত্রার তীব্রতা পরিমাপ করা যায়।
- ১৯৩৫ সালে মার্কিন ভূকম্প ও পদার্থবিদ চার্লস এবং রিখটার ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের এই স্কেল আবিস্কার করেন।
- তাঁর নামানুসারে এই স্কেলের নামকরণ করা হয়েছে রিখটার স্কেল।

৩,৮০০.
হাড়ে ফ্র্যাকচার নির্ণয়ের জন্য কী ধরনের রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

• হাড়ে ফ্র্যাকচার বা ভাঙা হাড় নির্ণয়ের জন্য রঞ্জন রশ্মি (X-ray) ব্যবহার করা হয়। রঞ্জন রশ্মি হাড়ের ঘনত্ব বেশি জায়গায় সহজেই প্রতিফলিত হয়, ফলে হাড় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই রশ্মি শরীরের নরম অংশের মধ্য দিয়ে সহজে যেতে পারে, তাই হাড়ের অবস্থান, ফ্র্যাকচার বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা নির্ধারণে এটি খুব কার্যকর। চিকিৎসক X-ray ছবি দেখে হাড়ের সঠিক ভাঙন ও চিকিৎসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তাই হাড় পরীক্ষা করার জন্য সবচেয়ে সাধারণ এবং কার্যকর পদ্ধতি হলো রঞ্জন রশ্মি।

- উত্তর: ঘ) রঞ্জন রশ্মি।

• এক্সরে (রঞ্জন রশ্মি):
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়।
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 8 m থেকে 10- 13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

• এক্সরে এর ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।