বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৩৯ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৩,৮৭৯

৩,৫০১.
আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) অ্যামিটার
  2. খ) ভোল্টামিটার
  3. গ) দূরবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তু তড়িৎগ্রস্থ কিনা তা যাচাই করা যায় এবং তড়িৎগ্রস্থ বস্তুর চার্জের প্রকৃতি নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
অ্যামিটার হলো একটি যন্ত্র যার সহায়তায় বিদ্যুতের প্রবাহ সরাসরি বৈদ্যুতিক একক অ্যাম্পিয়ারে পরিমাপ করা যায়।

যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায় তাকে ভোল্টমিটার বলে।

দূরবীক্ষণ যন্ত্র তথা দূরবীন (টেলিস্কোপ) এমন একটি যন্ত্র যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু দর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি দূরবর্তী বস্তু থেকে নির্গত বিকিরণ সংগ্রহ, পরিমাপ এবং বিশ্লেষণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান। 

৩,৫০২.
ডায়াবেটিস রোগীকে কোন কারণে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়?
  1. প্রোটিন হ্রাস হলে
  2. গ্লুকোজ উৎপাদন কম হলে
  3. ইনসুলিন অতিরিক্ত নিঃসৃত হলে
  4. ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা অকার্যকর হলে
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়, কারণ তাদের অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নিঃসৃত হয় না (টাইপ ১) অথবা শরীর ইনসুলিনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না (টাইপ ২), যার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই সঠিক উত্তরটি হলো- ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা অকার্যকর হলে। 

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- ইনসুলিনের ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। এই অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫০৩.
বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে কোনটি ঘটে? 
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপ কমে যায় 
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বন্ধ হয় 
  3. সৌরশক্তি বৃদ্ধি পায় 
  4. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায় 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব: 
- শক্তির রূপান্তরে পরিবেশের উপর প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি বা তেল, গ্যাস এবং কয়লা। 
- এই তিনটিতেই কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি এবং এগুলো পুড়িয়ে যখন তাপশক্তি তৈরি হয়, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয় যেটি একটি গ্রিন হাউস গ্যাস। 
অর্থাৎ, এই গ্রিন হাউস গ্যাস পৃথিবীতে তাপকে ধরে রাখতে পারে এবং এ কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে, যেটি বৈশ্বিক উষ্ণতা নামে পরিচিত। 
- বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে, সে কারণে পৃথিবীর যেসব দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে এবং কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে, তার মাঝে বাংলাদেশ একটি। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব দেশ মিলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছে। 

- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ হয় না, কিন্তু নিউক্লিয়ার বর্জ্য অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এদের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিরাপদ মাত্রায় পৌঁছানোর জন্য লক্ষ লক্ষ বছর সংরক্ষণ করতে হয় যেটি পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 
- আধুনিক প্রযুক্তির কারণে নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্র অনেক নিরাপদ হলেও মাঝে মাঝে মানুষের ভুল কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। 
যেমন- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল এবং জাপানের ফুকুশিমার দুর্ঘটনা। 
- তুলনামূলকভাবে পরিবেশের উপর নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষতিকর প্রভাব কম, তবে জলবিদ্যুতের জন্য যখন নদীতে বাঁধ দেওয়া হয় তখন একদিকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বাঁধের পরবর্তী এলাকায় তীব্র খরার সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫০৪.
নিচের কোনটি সংক্রামক ব্যাধি?
  1. ক) এইডস
  2. খ) ডায়াবেটিস
  3. গ) কোভিড-১৯
  4. ঘ) ক+গ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
এইডস, যক্ষ্মা, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হাম, হার্পিস, কোভিড-১৯, দাদ ইত্যাদি হল সংক্রামক রোগ।
অন্যদিকে,
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, কিডনি রোগ ইত্যাদি হল অসংক্রামক রোগ।
উৎসঃ প্রথম আলো।

৩,৫০৫.
মহাবিষ্ফোরণ তত্ত্বের প্রবর্তক কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. জর্জ ল্যামেটার
  3. স্টিফেন হকিং
  4. এডুইন হাবল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
বিজ্ঞানের বিষয় হিসাবে বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব এর জন্ম শুরু হয় ১৯১৬ সালে আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রণয়নের পর থেকে। ১৯২৯ সালে এডুইন হাবল এর মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আবিষ্কারের ফলে এর উৎপত্তি এর উৎপত্তি সম্পর্কীয় আলোচনা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়। আজ থেকে ১৫০০-২০০০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের আকৃতি ছিলো ডিম্বাকার। অভ্যন্তরীণ বিপুল চাপ ও তাপের কারণে প্রচন্ড শব্দে ডিম্বাকার বস্তুর মহাবিষ্ফোরণ ঘটে। এই বিষ্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিলো আমাদের এই মহাবিশ্ব। এটাই বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব বা মহাবিষ্ফোরণ তত্ত্ব। বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী জর্জ ল্যামেটার এই তত্ত্বের প্রবক্তা।
অনেকেরই ধারণা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা স্টিফেন হকিং। এটি ভুল ধারণা। বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বিজ্ঞানী জর্জ ল্যামেটার। স্টিফেন হকিং শুধুমাত্র বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৫০৬.
কোন ভাইরাসটিতে নিউক্লিক এসিড হিসেবে RNA থাকে?
  1. ভ্যাকসিনিয়া
  2. ভ্যারিওলা
  3. এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স
  4. র‍্যাবিস
ব্যাখ্যা
• র‍্যাবিস ভাইরাসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে RNA থাকে। 

• ভাইরাস:

- ভাইরাস (Virus) হলো একটি অতিআণুবীক্ষণিক সংক্রামক বস্তু যা শুধুমাত্র জীবের জীবন্ত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

• নিউক্লিক এসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাসকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
→ RNA ভাইরাস: যে ভাইরাসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে বলা হয় RNA ভাইরাস। 
উদাহরণ-
- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিওভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

→ DNA ভাইরাস: যে ভাইরাসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA থাকে তাকে বলা হয় DNA ভাইরাস। 
উদাহরণ-
- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ( phi X 174 oplus M 13 কলিফায়) ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৫০৭.
পাঁচ বছরের নিচে বাচ্চার সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ কোনটি নয়?
  1. ক) ডায়রিয়া
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) ক্যান্সার
  4. ঘ) অপুষ্টিজনিত
ব্যাখ্যা
পাঁচ বছরের নিচে বাচ্চার সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে অপুষ্টিজনিত, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। কিন্তু পাঁচ বছরের নিচের বাচ্চাদের সাধারণত ক্যান্সার রোগ হয় না।
৩,৫০৮.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. এডুইন হাবল 
  3. স্টিফেন হকিং
  4. জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’.

উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩,৫০৯.
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ ও প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়া পরিবেশে কীভাবে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করে?
  1. একে অপরের শক্তির চাহিদা পূরণ করে
  2. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখে
  3. শুধুমাত্র উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করে
  4. কেবল প্রাণীর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করে
ব্যাখ্যা

• সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়।

• পরিবেশের উপাদানের আন্তঃসম্পর্ক:
- পরিবেশে জীব উপাদান ও জড় উপাদান সবসময় পরস্পরের সাথে ক্রিয়া ও আদান-প্রদানে যুক্ত থাকে।
- জীব উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণী অন্তর্ভুক্ত।
- জড় উপাদানের মধ্যে বায়ু, পানি, মাটি, আলো ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- জীব ও জড় উপাদানের এই পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ককে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বলা হয়।
 
• সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া:
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে খাদ্য তৈরি করে।
- এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে।
- সালোকসংশ্লেষণের ফলে গ্লুকোজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।
- উৎপন্ন গ্লুকোজ উদ্ভিদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- উৎপন্ন অক্সিজেন পরিবেশে মুক্ত হয়।
 
• শ্বসন প্রক্রিয়া:
- শ্বসন প্রক্রিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের মধ্যেই ঘটে।
- শ্বসনে অক্সিজেন ব্যবহার করে দেহে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
- এই কার্বন ডাই-অক্সাইড পুনরায় পরিবেশে ফিরে যায়।
 
• সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের পারস্পরিক সম্পর্ক:
- সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন অক্সিজেন শ্বসনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
- এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখে।
- এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমেই জীবমণ্ডলে শক্তি ও গ্যাসের প্রবাহ সচল থাকে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- একে অপরের শক্তির চাহিদা পূরণ করে → শক্তি উৎপাদন সরাসরি নয়, গ্যাসের আদান-প্রদান মূল বিষয়।

 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

৩,৫১০.
বায়ুর আর্দ্রতা রক্ষায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. পানি
  3. সূর্যালোক
  4. বায়ুচাপ
ব্যাখ্যা
- বায়ুর আর্দ্রতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হল পানি
- বায়ুমণ্ডলীয় জলবাষ্প বা পানি হিসেবেই বায়ুতে আর্দ্রতা বহন করা হয়।
- তাই বায়ু আর্দ্রতা পরিমাণ রক্ষার জন্য পানির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
- বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ, সূর্যালোক এসব পানির মাধ্যমে আর্দ্রতার ওপর প্রভাব ফেলে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু: 

- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে। 
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে। 
- কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা। 
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ও বারিপাত ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৩,৫১১.
নিম্নের কোনটি মিঠা পানির উৎস নয়? 
  1. ভূগর্ভস্থ পানি
  2. নদী
  3. হ্রদ
  4. মহাসাগর
ব্যাখ্যা

বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
• নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫১২.
পেট্রোল ইঞ্জিন সফলতার সাথে কে চালু করেন? 
  1. কার্নো
  2. কেলভিন
  3. ড. অটো
  4. জেমস ওয়াট
ব্যাখ্যা
- নিকোলাস অটো প্রথম পেট্রোল ইঞ্জিন তৈরি করেন। 

অন্যদিকে, 
- জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের আবিষ্কার করেন। 
- তাপ গতিবিদ্যার জনক লর্ড কেলভিন, তিনি ১৮৫০ সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন। 
- তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে। 
- কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৫১৩.
ক্যান্সারের চিকিৎসায় কোন মৌলের আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. Chlorine
  2. Carbon
  3. Cobalt
  4. Hydrogen
ব্যাখ্যা

- ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো আইসোটোপ। 

- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলা হয়। 

- ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাধারনত কোবাল্ট-৬০ (60Co) আইসোটোপটি ব্যবহৃত হয়।

- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়।

- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।

 উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই, নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান।

 

৩,৫১৪.
সাইক্লোনের কেন্দ্রের চারদিকে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে ঘুরতে থাকে?
  1. ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
  2. ঘড়ির কাঁটার দিকে
  3. দ্রাঘিমারেখার সাথে সমান্তরালে
  4. নিরক্ষরেখা বরাবর
ব্যাখ্যা

সাইক্লোন হলো উষ্ণ কেন্দ্রীয় লঘুচাপ, যার চারদিকে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রচণ্ডভাবে ঘুরতে থাকে
ঘূর্ণিঝড় এর ব্যাসার্ধ সাধারণত ৫০০-৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৫১৫.
সেরিকালচার কী?
  1. পাখিপালন
  2. মৎস্য চাষ
  3. রেশম চাষ
  4. মৌমাছি চাষ
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষাবাদ:
• পাখিপালন বিষয়ক বিদ্যা - এভিকালচার;
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা - পিসিকালচার;
রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যা - সেরিকালচার;
• মৌমাছির চাষ বিষয়ক বিদ্যা - এপিকালচার;
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার;
• সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৫১৬.
১৮২০ সালে কে দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়? 
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. ফ্যারাডে
  3. অরস্টেড
  4. হেনরি
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের অবদান ও আবিষ্কার: 
- বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ওপরে এক সময় ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। 
- 1778 সালে কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জের ভেতরকার বলের জন্য সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- 1800 সালে ভোল্টা বৈদ্যুতিক ব্যাটারি আবিষ্কার করার পর বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা শুরু হয়। 
- 1820 সালে অরস্টেড দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়। 
- 1831 সালে ফ্যারাডে এবং হেনরি ঠিক তার বিপরীত প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। তারা দেখান চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। 
- 1864 সালে ম্যাক্সওয়েল তার বিখ্যাত ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ দিয়ে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে একই সূত্রের মাঝে নিয়ে এসে দেখান যে, আলো আসলে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। বিদ্যুৎ ও চুম্বক আলাদা কিছু নয়, আসলে এ দুটি একই শক্তির দুটি ভিন্ন রূপ। এটি সময়োপযোগী একটি আবিষ্কার ছিল কারণ, 1801 সালে ইয়ং পরীক্ষার মাধ্যমে আলোর তরঙ্গ ধর্মের প্রমাণ করে রেখেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫১৭.
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় কত? 
  1. ৬,০০০ কি.মি. 
  2. ৭,৯০০ কি.মি. 
  3. ৬,৪০০ কি.মি. 
  4. ১২,৭১৪ কি.মি.
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর ব্যাস (Diameter) ও ব্যাসার্ধ (Radius): 
- পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুকে ছেদ করে একটি রেখা যদি পৃথিবীর যে কোনো দুইটি প্রান্তকে স্পর্শ করে, তবে ঐ রেখাকে পৃথিবীর ব্যাস বলা হয়। 
- ইরাটোসথেনিসের গণনা অনুযায়ী- মেরুদেশীয় এলাকায় পৃথিবীর ব্যাস ১২,৭১৪ কি.মি. বা ৭,৯০০ মাইল এবং নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস ১২,৭৫৭ কি.মি. বা ৭,৯২৭ মাইল। 
- অপরদিকে, ব্যাসার্ধ (Radius) হলো, এমন একটি রেখা বা লাইন যেটি পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দু থেকে যে কোনো একটি প্রান্ত স্পর্শ করে। 
- পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ হলো প্রায় ৬,৪০০ কি.মি.। 


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫১৮.
চুনাপাথর পরিবর্তন হয়ে কি হয়?
  1. নিস
  2. ফিলাইট
  3. মার্বেল
  4. ক্যালসাইট
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
উদাহরণস্বরূপ নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। 
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে। 
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়। 
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫১৯.
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি?
  1. প্রাকৃতিক পরিবেশ
  2. সামাজিক পরিবেশ
  3. বায়বীয় পরিবেশ
  4. সাংস্কৃতিক পরিবেশ
ব্যাখ্যা
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য বাসস্থান, রাস্তাঘাট,খাদ্যসহ সবকিছুই বেশি দরকার হয়। 
- এর ফলে গাছপালা ও বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। 
- অধিক মাত্রায় খাদ্যশস্য ও ফসল ফলানোর জন্য জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- প্রাকৃতিক (ভৌগোলিক) পরিবেশ প্রকৃতিগত অবস্থাই প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ যেমন- ভুমিবন্ধুরতা, উদ্ভিদ, প্রাণী, মৃত্তিকা, নদ-নদী ইত্যাদি। 
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ
৩,৫২০.
মৌলের প্রোটন বা ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের ‘পারমাণবিক সংখ্যা’ নামকরণ করেন -
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) হেনরি মোসলে
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number)
১৮৯৫ সনে বিজ্ঞানী রন্টজেন একটি ধাতব মৌলকে ক্যাথোড রশ্মির লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করে অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে এক ধরনের বিকিরণ আবিষ্কার করেন। এই বিকিরণের যথার্থ পরিচয় না দিতে পারায় একে X-Ray (এক্সরে) নাম দেয়া হয়।
১৯১৪ সনে পদার্থ বিজ্ঞানী মোসলে দেখান যে, ক্যাথোড রশ্মির বিক্ষেপণে প্রতিটি মৌল থেকে একটি সুনির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে রশ্নি (X-Ray) নির্গত হয়। তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, X-Ray এর
কম্পন সংখ্যা মৌলের পরমাণুর ধনাত্মক চার্জ অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। তিনি মৌলের প্রোটন বা ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের ‘পারমাণবিক সংখ্যা’ নামকরন করেন এবং একে z দ্বারা চিহ্নিত করেন। একটি নিরপেক্ষ পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান।
সুত্রঃ রসায়ন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫২১.
একটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কমপক্ষে কত শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত? 
  1. ১৫%
  2. ২৫%
  3. ২০%
  4. ৩০%
ব্যাখ্যা
বনের পরিবেশগত গুরুত্ব: 
- যে কোনো এলাকার আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট এলাকার বনাঞ্চলের দ্বারা দারুনভাবে প্রভাবিত হয়।
- সাধারণভাবে বলা হয় যে কোন অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অন্ততঃ ২৫% বনভূমি থাকা অত্যাবশ্যক। 
- বনের বৃক্ষরাজি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উৎপাদনের মাধমে পরিবেশ নির্মল রাখে এবং বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে গ্রীন হাউন গ্যাসের বিরূপ প্রতিক্রিয়া কমায়। 
- বনের গাছপালা বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের আধিক্য ঘটায় বলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ে। 
- যে সমস্ত এলাকায় গাছপালা কম সেখানে মরুকরণ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। 
- গাছপালা মাটিতে জৈব পদার্থের সংযোজন করে মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং প্রাণিজগতের খাদ্য শিকলের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২২.
পৃথিবীর বারিমন্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল হিমবাহ ধারণ করে?
  1. ক) ০.৬৮%
  2. খ) ২.০৫%
  3. গ) ০.০০১%
  4. ঘ) ০.০০০১%
ব্যাখ্যা


উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ
৩,৫২৩.
কোন ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দেখা যায়?
  1. ক) কোহুটেক
  2. খ) লেক্সেল
  3. গ) হেইল-বপ
  4. ঘ) হ্যালির ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দেখা যায়।

ধূমকেতু (Comet): ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক।
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। যেমন: মস্তক বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ।
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে।
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ।
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৪.
আমেরিকান বিজ্ঞানী এডউইন হাবলের নাম কোন তত্ত্বের সাথে জড়িয়ে আছে?
  1. Partial Coherence of Light Theory
  2. Lattice Gauge Theory
  3. Theory of Expansion of the universe
  4. Quantum Chromodynamics Theory
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে-
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৫.
নিচের কোনগুলো জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. বায়ুর মৃদুভাবাপন্ন
  2. অক্ষাংশ, বায়ুপ্রবাহ
  3. বায়ুর ঘনত্ব
  4. আহ্নিক গতি, বার্ষিক গতি
ব্যাখ্যা
- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে যথা- বন্যা, ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৬.
ব্ল্যাক হোলে আলো কেন প্রবেশ বা বের হতে পারে না?
  1. অতি উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
  2. মহাকাশে আলো চলাচলের উপযুক্ত মাধ্যম না থাকার কারণে
  3. ভিতরের চাপ খুব কম হওয়ায় 
  4. তাপমাত্রা বেশি থাকায়
ব্যাখ্যা
◉ ব্ল্যাক হোল হলো মহাকাশের এমন এক অঞ্চল যেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত বেশি যে আলো পর্যন্ত এর আকর্ষণ থেকে বের হতে পারে না।
- ব্ল্যাক হোলের চারপাশে একটি ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon) থাকে, যার ভেতর প্রবেশ করলে কিছুই আর বাইরে আসতে পারে না। মাধ্যমের অভাব, তাপমাত্রা বা চাপের পরিবর্তন এর মূল কারণ নয়—এখানে একমাত্র প্রধান কারণ অত্যধিক মাধ্যাকর্ষণ।

কৃষ্ণবিবর (Black Hole): 
- ব্ল্যাক হোল হলো মহাবিশ্বের এমন একটি মহাজাগতিক বস্তু যার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত প্রবল যে সেখান থেকে কিছুই, এমনকি আলোও, পালাতে পারে না।
- একটি বিশাল ভরবিশিষ্ট নক্ষত্র জীবন শেষে কেন্দ্রের পারমাণবিক জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
- এর কেন্দ্র (core) মাধ্যাকর্ষণজনিত ধসে ভেতরের দিকে সংকুচিত হয়।
- বাইরের স্তরগুলো মহাকাশে ছিটকে যায় এবং কেন্দ্র সংকুচিত হয়ে শূন্য আয়তন ও অসীম ঘনত্বের বিন্দুতে (singularity) পরিণত হয়।
- ব্ল্যাক হোলের গঠন ও বৈশিষ্ট্য আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,৫২৭.
মানুষের মধ্যে আকার, গায়ের রং, চুলের রং ইত্যাদি ভিন্নতা দেখা যায় কোন বৈচিত্রতার কারণে?
  1. ক) ভৌগোলিক
  2. খ) জিনগত
  3. গ) বাস্তুতান্ত্রিক
  4. ঘ) প্রজাতিগত
ব্যাখ্যা


উৎস: প্রাণি বিজ্ঞান, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৮.
গ্রিন হাউজের ফলে মূলত বৈশ্বিক কোন পরিবর্তনটি ঘটে?
  1. ক) মরুকরণ
  2. খ) পানির উচ্চতা বৃদ্ধি
  3. গ) উদ্ভিদকুলে নতুন প্রজাতির আবির্ভাব
  4. ঘ) তাপমাত্রা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

- বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
- এই ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডলের নিম্ন স্তরে কিছু গ্যাস গ্রিন হাউস বা কাচের ঘরের দেওয়াল বা ছাদের মতো কাজ করে।
- সূর্যের আলো পৃথিবীর তাপ ও শক্তির মূলউৎস। সূর্যরশ্মি (রশ্মি নিকটবর্তী, দৃশ্যমান, নিকটবর্তী অবলোহিত বর্ণালি ইত্যাদি ক্ষতিকর রশ্মি) বায়ুমন্ডলে এসব গ্যাসীয় স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে এসে পড়ে।
- পৃথিবীতে আসা সূর্যালোকের সবটুকু কাজে লাগে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সূর্যালোক ভূপৃষ্ঠে ছেড়ে দেয়।
- আবার ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরণ তাপের সবটুকু মহাশূন্যে চলে যায় না। এই বিকিরিত তাপের একাংশ প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড জলীয় বাষ্প এবং অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস দ্বারা শোষিত হয়ে আবহাওয়া মন্ডলে কতটুকু থেকে যায় তা নির্ভর করে গ্রিন হাউস গ্যাসের ওপর।
- এসব গ্রিন হাউস গ্যাস বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা প্রদান করে।
- সুতরাং গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বায়ুমন্ডলের তাপ ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ইহাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
- উষ্ণতার বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস প্রভাব বলে।

গ্রিন হাউজের বিরূপ প্রতিক্রিয়াসমূহ-
১. তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিছু অঞ্চল নতুনভাবে জলমগ্ন হবে এবং কিছু অঞ্চল শুষ্ক হবে।
৩. বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং অসংখ্য উদ্ভিদ ও পানির অস্তিত্বও বিপন্ন হবে।
৪. সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সামুদ্রিক ঝড় জলোচ্ছ্বাস ও টাইফুনের হার বেড়ে যাবে।
৫. সমুদ্র পৃষ্ঠ স্ফীত হলে আবহাওয়ায় প্রকৃতি পরিবর্তিত হবে।

সূত্র: NASA Website [লিঙ্ক]
৩,৫২৯.
ডেলিভারীর ৬ মাসের মধ্যে নিচের কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না?
  1. IUCD
  2. Implant
  3. Minipill
  4. OCP
ব্যাখ্যা
IUCD (Intrauterine Contraceptive Device):
- সাধারণত IUCD ব্যবহারের আগে প্রসবের কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- এই অপেক্ষার সময়টি জরায়ুকে তার স্বাভাবিক আকার এবং অবস্থানে ফিরে আসতে দেয় এবং জটিলতার ঝুঁকি কমায়। তবে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সুপারিশ এবং ব্যক্তির পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সঠিক সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

ইমপ্লান্ট:
গর্ভনিরোধক ইমপ্লান্ট সাধারণত সন্তানের জন্মের পরপরই ব্যবহার যেতে পারে, এমনকি প্রসবের পরপরই, যদি ইচ্ছা হয়। এটি প্রসবোত্তর গর্ভনিরোধের জন্য একটি সুবিধাজনক বিকল্প এবং জরায়ু তার প্রাক-গর্ভাবস্থার আকারে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন হয় না।

মিনিপিল (শুধুমাত্র প্রোজেস্টিন পিল):
মিনিপিল সাধারণত সন্তান প্রসবের পরপরই বা কয়েক দিনের মধ্যে শুরু করা যেতে পারে, যতক্ষণ না কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে। এটি বুকের দুধ খাওয়ানো ব্যক্তিদের জন্য একটি উপযুক্ত বিকল্প কারণ এটি স্তনের দুধ উৎপাদনকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে না।

ওসিপি (ওরাল গর্ভনিরোধক বড়ি):
সংমিশ্রণ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি  যা এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টিন উভয়ই বহন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।  
৩,৫৩০.
সাইক্লোন শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে এবং তার অর্থ কী?
  1. ল্যাটিন, 'Coil of Snakes'
  2. গ্রিক, 'Coil of Snakes'
  3. ইংরেজি, 'Whirlwind'
  4. ইংরেজি, 'Storm'
ব্যাখ্যা
• সাইক্লোন:
- সাইক্লোন শব্দটি এসেছে গ্রিক 'Kyklos' থেকে, যার অর্থ হল Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী।
- নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচণ্ড গতিবেগে ঘুরতে থাকে, তখন সেটাকে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলে।
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
- সাইক্লোন তৈরির জন্য সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়।
- বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার চাইতে বেশি হলে সেটাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়।
- বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। তখন বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৩,৫৩১.
কেন জেট বিমানগুলো সাধারণত স্ট্রাটোমন্ডল স্তর দিয়ে চলাচল করে?
  1. এই স্তরে বাতাসের চাপ অনেক বেশি থাকে
  2. এই স্তরে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে
  3. এই স্তরে প্রচুর মেঘ থাকে
  4. আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে এবং ঝড়-বৃষ্টি থাকে না
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ঘ) আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে এবং ঝড়-বৃষ্টি থাকে না

• স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):

- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।

• স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য:
ক) স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
খ) এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
গ) এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
ঘ) পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
ঙ) স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
চ) এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না
ছ) প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৩২.
গ্রীনিচ মান সময় থেকে বাংলাদেশ কত ঘন্টা এগিয়ে?
  1. ৬ ঘণ্টা
  2. ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
  3. ১০ ঘণ্টা
  4. ৮ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

• গ্রীনিচ মান সময়: 
- লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে অতিক্রান্ত ০° দ্রাঘিমারেখা (মূল মধ্যরেখা) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়কে গ্রীনিচ মান সময় (GMT) বলা হয়।
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রীনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রীনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ × ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৩৩.
IPCC এর তথ্য অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত হতে পারে?
  1. ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস
  2. ১.৮-৬.৮° সেলসিয়াস
  3. ১.৫-৬.৯° সেলসিয়াস
  4. ২.১ -৭.৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
- জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ১৯৮৮ সালে গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- বিগত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭৪° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- অন্যদিকে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল বিলুপ্ত হবে। যা উদ্ভিদ ও প্রাণির বসবাসের অনুকূল পরিবেশে সরাসরি আঘাত হানার মধ্য দিয়ে ধ্বংস সাধন করবে।   

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৩৪.
মানবদেহের লালাগ্রন্থি কয়জোড়া?
  1. ক) দুই জোড়া
  2. খ) তিন জোড়া
  3. গ) চার জোড়া
  4. ঘ) পাঁচ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানবদেহে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে। 

লালাগ্রন্থির কাজসমূহ-
১. লালা খাবার পিচ্ছিল করে।
২. লালা খাদ্যকে নরম করে।
৩. লালা জীবাণু ধ্বংস করে।
৪. লালা আমাদের মুখে এসিডের সমতা রক্ষা করে।
৫. লালা শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাবার কে হজমপোযোগী করে তোলে। 
৬. লালা খাবার হজমে সাহায্য করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৩৫.
প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয় কোনটি?
  1. বন্যা
  2. ভূমিকম্প
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. রাসায়নিক বিষক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিপর্যয়: 
- বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। 
অর্থাৎ, যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে। 
- বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। 
যেমন: 
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়: যেমন- ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। 
২. মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়: যেমন- পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ,  , যুদ্ধ ইত্যাদি। 
- বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশংকা বা সম্ভাবনা মাত্র। 
- একটি এলাকায় সংঘটিত যে কোনো বিপর্যয় বা আপদ যখন উক্ত এলাকার অধিবাসীগণ তাদের নিজস্ব চেষ্টা ও সম্পদের সাহায্যে মোকাবিলা করতে সক্ষম না হয় কেবল তখনই সেই আপদটি দুর্যোগে পরিণত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩৬.
বায়োমের সজীব উপাদান হলো-
  1. ইউরিয়া ও হিউমাস
  2. উৎপাদক ও খাদক
  3. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন গ্যাস
ব্যাখ্যা
বায়োম: 
- ইকোসিস্টেম যখন বৃহৎ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে তখন তাকে বায়োম বলে। 
- নির্দিষ্ট পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাবে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠা জীবমণ্ডলের বৃহৎ ভৌগোলিক এককই বায়োম। 
- তাই বায়োম হচ্ছে জীবমণ্ডলের সর্ববৃহৎ একক। 

বাংলাদেশের বায়োম: 
- বাংলাদেশে পরিবেশের অজীব উপাদান (যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদি), মাটির জৈব উপাদান (যেমন- মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচে সৃষ্ট ইউরিয়া ও হিউমাস, ভূপ্রকৃতি ও মাটি ইত্যাদি) এবং সজীব উপাদানের (যেমিন- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক ইত্যাদি) প্রভাবে সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ভিত্তিতে যে বাস্তুতন্ত্রের একক গড়ে উঠে তাকেই বাংলাদেশী বায়োম বলা হয়। 
- এতে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে পুষ্টিচক্র সক্রিয় হয় অর্থাৎ শক্তির প্রবাহ অক্ষুণ্ণ থাকে। 
- বাংলাদেশের বায়োম দুই প্রকার। 
যথা- স্থলজ বায়োম ও জলজ বায়োম। 

(ক) বাংলাদেশের স্থলজ বায়োম হলো: 
১। শস্যক্ষেত্রের বায়োম (Biome of Crops): 
- বাংলাদেশের শস্যক্ষেত্রের প্রধান উদ্ভিদ হচ্ছে ধান, পাট, ঘাস, আগাছা ইত্যাদি। 
- এখানে ইকোসিস্টেমের উৎপাদক হচ্ছে ঐ সকল উদ্ভিদসমূহ। 
- কীট-পতঙ্গ প্রথম স্তরের খাদক। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদক ব্যাঙ, পাখি, গরু, ছাগল, ভেড়া, মানুষ ইত্যাদি। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হলো সাপ ও শিকারী পাখি। 
এখানে, মাটিতে বিয়োজক সৃষ্টি হয় ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং কাক, শিয়াল ও পাখির গলিত মৃতদেহের সমন্বয়ে। 

২। বনভূমির বায়োম (Biome of Forest): 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যেসব বনভূমি রয়েছে তাদের বায়োম প্রায় একই প্রকার। 
- তবে খাদ্য শৃঙ্খলে বিভিন্ন স্তরের উৎসগুলো এক প্রকার নয়। এখানে উৎপাদক হচ্ছে তৃণ, গুল্ম, ঘাস, গাছপালা ইত্যাদি। 
- আর প্রথম স্তরের খাদক বানর, হরিণ, বাদুড়, হাতি নানা ধরনে পোকামাকড় ইত্যাদি। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদ্য হচ্ছে- পাখি, ফড়িং, ব্যাঙ, বাঘ। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হচ্ছে- বেজি, সাপ, চিল প্রভৃতি। 
- বনভূমির গাছের পাতা, বিভিন্ন মৃত প্রাণীদের দেহ মাটিতে পঁচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের প্রভাবে বিয়োজক সৃষ্টি হয়, পরিশেষে পুষ্টিচক্র সক্রিয় থাকে। 
- বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বনভূমির বায়োমকে কতিপয় বায়োম -এ ভাগ করা যায়। 
যেমন- (১) সুন্দর বনের বায়োম, (২) মধুপুর অরণ্যের বায়োম (৩) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বায়োম এবং (৪) সিলেট অঞ্চলের বনভূমির বায়োম। 

(খ) বাংলাদেশের জলজ বায়োম (Aquatic Biome of Bangladesh): 
- বাংলাদেশের জলজ বায়োম আবার দুই প্রকার। 
যথা- স্বাদু পানির বায়োম এবং লবণাক্ত পানির বায়োম। 
- বাংলাদেশের হাওড়, বাঁওড়, বিল প্রভৃতি এলাকার বায়োমকে স্বাদু পানির বায়োম বলা হয়। 
যেমিন- নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জের হাওড়, দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলের বাঁওড়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের বিল প্রভৃতি বাংলাদেশের স্বাদু পানির বায়োমের উদাহরণ। 
- বাংলাদেশের উপকূলীয় সাগর ও মহাসাগরের লবণাক্ত পানির বায়োমকে লবণাক্ত পানির বায়োম বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৩,৫৩৭.
নিচের কোনটি স্নায়ু রোগ?
  1. ক) উচ্চ রক্তচাপ
  2. খ) সিওপিডি
  3. গ) মেনিনজাইটিস
  4. ঘ) নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
• স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
• হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
• নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,৫৩৮.
CRISPR প্রযুক্তি কোন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জিন এডিটিং
  2. রক্ত পরিশোধন
  3. হাড় মেরামত
  4. হার্ট সার্জারি
ব্যাখ্যা
• CRISPR প্রযুক্তি জিন এডিটিং এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। 

CRISPR:
- CRISPR (Clustered Regularly Interspaced Short Palindromic Repeats) হলো একটি অত্যাধুনিক জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি, যেটির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ডিএনএ-এর নির্দিষ্ট অংশ কাটা, যোগ করা বা পরিবর্তন করতে ব্যবহার করেন।
- এটি মূলত ব্যাকটেরিয়ার একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা ভাইরাসের ডিএনএ কেটে দেয়।

• CRISPR-এর প্রধান প্রয়োগ:
→ জিন থেরাপি:
- বংশগত রোগ (যেমন সিকেল সেল অ্যানিমিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিস) সারাতে ব্যবহৃত হয়।
→ কৃষি:
- রোগ-প্রতিরোধী ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফসল তৈরি (যেমন জিএমও শস্য)।
→ চিকিৎসা গবেষণা:
- ক্যানসার, এইডসের মতো রোগের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।
→ জীববিজ্ঞান:
- জিনের কার্যকারিতা বুঝতে মডেল অর্গানিজম (যেমন ইঁদুর) এ ডিএনএ মডিফিকেশন।

• কার্যপ্রণালী:
- CRISPR প্রযুক্তিতে Cas9 নামক একটি এনজাইম ব্যবহার হয়। 
- এটি DNA-এর নির্দিষ্ট অংশ কেটে ফেলতে পারে। 
- এরপর বিজ্ঞানীরা প্রয়োজনীয় জিন প্রবেশ করাতে পারেন। 

তথ্যসূত্র:
- NIH (National Institutes of Health). 
- ব্রিটানিকা।
৩,৫৩৯.
কোনটির অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়?
  1. সায়ানোকোবালামিন
  2. রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. নিয়াসিন
  4. থায়ামিন
ব্যাখ্যা
- দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
- রাইবোফ্ল্যাভিনের অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এর অভাবে তীব্র আলোতে চোখ খুলতে অসুবিধা হয়।
- নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
- কোবালামিন/ সায়ানোকোবালামিন/ ভিটামিন B12 এর অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং স্নায়ুর অবক্ষয় ঘটে।

সূত্র: মাধমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৫৪০.
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে-
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  3. গ) পাঞ্চকার্ড
  4. ঘ) বায়ুশূন্য টিউব
ব্যাখ্যা
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি)। এটি ১৯৫৮ সালে আবিষ্কার করেন জ্যাক কেলবি। আইসি হলো এক ধরনের মাইক্রো সার্কিট। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহক চিপে সাধারণত থাকে- রোধক, ধারক, ডায়োড, ট্রানজিস্টর ইত্যাদি।
৩,৫৪১.
‘অলটিমিটার’ যন্ত্রের সাহায্যে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) উচ্চতা
  2. খ) বিদ্যুৎ প্রবাহ
  3. গ) শব্দের তীব্রতা
  4. ঘ) গ্যাসের চাপ
ব্যাখ্যা

উচ্চতা নির্ণয়ের যন্ত্র - অলটিমিটার
শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অডিওমিটার
বিদ্যুৎ প্রবাহ মাপক যন্ত্র - অ্যামিটার
গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র - ম্যানােমিটার।

৩,৫৪২.
নিচের কোনটি দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. বোসন
  2. লেপ্টন
  3. প্রোটন
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা
ফার্মিওন (Fermion): 
- মহাবিশ্বের সকল পদার্থ এই কণিকা দ্বারা গঠিত। 
- এদের স্পিন 1/2 । 
- এরা পাউলির (Pauli) বর্জন নীতি মেনে চলে অর্থাৎ কখনই একটি পরমাণুতে দুটি ভিন্ন কণার সকল বৈশিষ্ট্য এক হতে পারে না। 
- অদ্ভুত পক্ষে স্পিনের দিক থেকে হলেও বিপরীত হবে। 
- এদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকণা আছে। 
- ফার্মিওন কণা আবার দু'রকমের (১) কোয়ার্ক ও (২) লেপ্টন। 

কোয়ার্ক (Quark): 
- কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। 
- সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত, আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হলো কোয়ার্ক দিয়ে। 
- দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত। 
- কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। 
যথা- আপ (u) ও ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)। 
- এদের প্রত্যেকের আবার তিনটি করে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ (Colour) রয়েছে। এই বর্ণ বাস্তবের রং নির্দেশ করে না বরং কণাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন কোয়ান্টাম অবস্থা নির্দেশ করে। 
- কোয়ার্কগুলোর চার্জের পরিমাণ ভগ্নাংশ; যেমন: 2/3, -1/3 । তবে তারা সব সময় এমনভাবে থাকে যেন নীট চার্জ পূর্ণসংখ্যা হয়। 
- কোয়ার্ক সব সময় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে। 
- কোয়ার্কের এক একটি দলকে বলে হ্যাড্রন (Hadron)। 
- তিনটি কোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন গঠিত হয় তাদেরকে বলা হয় বেরিয়ন (Baryon)। 
যেমন- প্রোটন, নিউট্রন বেরিয়ন কণা। 
- একটি কোয়ার্ক ও তার এন্টিকোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন হয় তাদের বলা হয় মেসন (Meson)। 
যেমন- π মেসন, k মেসন ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৩.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্গত তার নাম কী?
  1. ছায়াগঙ্গা
  2. ম্যাজিলানিক ক্লাউডস
  3. মিল্কিওয়ে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত:
- গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ ছায়াপথ নামে পরিচিত।
- সুদুর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বপ্নালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয় ।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৪৪.
কোন পদার্থ পরম শূন্য তাপমাত্রায় অন্তরকের ন্যায় কাজ করে?
  1. পরিবাহী পদার্থ
  2. অপরিবাহী পদার্থ
  3. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৫.
বাংলাদেশের কোন জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ।
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
৩,৫৪৬.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
  1. ৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  3. ৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
  4. ৮ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৪৭.
সবুজ গ্রহ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ইউরেনাস
  2. বৃহস্পতি
  3. বুধ
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা
• ইউরেনাস:
- ইউরেনাস একটি অত্যন্ত ঠান্ডা এবং শীতল গ্রহ।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।

- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ এবং এটির সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- নেপচুন হলো সৌরজগতের সবচেয়ে দূরতম গ্রহ।
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। একে গ্রহরাজ বলা হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৩,৫৪৮.
শুক্র গ্রহের গড় তাপমাত্রা -
  1. ১৬৭° সেলসিয়াস
  2. ৪৬৪° সেলসিয়াস
  3. ১৫° সেলসিয়াস
  4. -৬৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের তাপমাত্রা:
- প্রতিটি গ্রহের গড় তাপমাত্রা একটি গ্রহ সূর্য থেকে যত দূরে থাকে গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ততই শীতল হতে থাকে।
- শুক্র ব্যতিক্রম, কারণ সূর্যের সান্নিধ্য এবং এর ঘন বায়ুমণ্ডল এটিকে আমাদের সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ করে তোলে।
- আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির গড় তাপমাত্রা হল:
• বুধ: ১৬৭° সেলসিয়াস।
• শুক্র: ৪৬৪° সেলসিয়াস।
• পৃথিবী: ১৫° সেলসিয়াস।
• মঙ্গল: -৬৫° সেলসিয়াস।
• বৃহস্পতি: -১১০° সেলসিয়াস।
• শনি: -১৪০° সেলসিয়াস।
• ইউরেনাস: -১৯৫° সেলসিয়াস।
• নেপচুন: -২০০° সেলসিয়াস।
• বামন গ্রহ প্লুটো: -২২৫° সেলসিয়াস।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [link]
৩,৫৪৯.
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম কী?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা
  2. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
  3. আলফা সেন্টোরি
  4. সৌরজগৎ
ব্যাখ্যা

• আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
সঠিক উত্তর: খ) মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
 
মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৫৫০.
বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ কত?
  1. ০.০৩%
  2. ০.০১%
  3. ০.০০১%
  4. ০.০০০১%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ:
- নাইট্রোজেনের (N2) পরিমাণ ৭৮.০২%,
- অক্সিজেনের (O2) পরিমাণ ২০.৭১%,
- আর্গনের (Ar) এর পরিমাণ ০.৮০%,
- কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ ০.০৩%,

- ওজোনের পরিমাণ (O3) ০.০০০১%,
- জলীয় বাষ্পের পরিমাণ (H2O) ০.৪১%,
- ধূলিকণা ও কনিক্সের পরিমাণ ০.০১%,
- অন্যান্য গ্যাসের পরিমাণ ০.০১৯৯%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম - দশম শ্রেণি।
৩,৫৫১.
Seismograph কি?
  1. ক) পানির প্রবাহ মাপার যন্ত্র
  2. খ) বায়ু মাপার যন্ত্র
  3. গ) ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র
  4. ঘ) বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র
ব্যাখ্যা

Seismograph (noun) ভূমিকম্পের শক্তি, স্থায়িত্ব ও দূরত্ব মাপার যন্ত্রবিশেষ; ভূকম্পলিখ।
Seismology (noun) [uncountable noun] ভূকম্পবিদ্যা।
Seismologist (noun) ভূকম্পবিদ।

৩,৫৫২.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত সংঘটিত হয় কবে?
  1. ২২ ডিসেম্বর
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৫৫৩.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পদ্ধতি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জে.সি. বসু
  2. মার্কনী
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. হেনরিখ হার্জ
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৫৪.
পৃথিবী পৃষ্ঠের শতকরা কতভাগ জলরাশি দখল করে আছে?
  1. ৭৪ ভাগ
  2. ২৯ ভাগ
  3. ৩২ ভাগ
  4. ৭১ ভাগ
ব্যাখ্যা
পানির উৎস ও বন্টন:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের মোট আয়তন প্রায় ৫১০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ১৯৭ মিলিয়ন বর্গমাইল।
- এর মধ্যে ৩৬২.১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ ৭১% জলভাগ এবং ১৪৭.৯ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ ২৯% স্থলভাগ।
- আবার পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগই মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে। অবশিষ্ট ৩ ভাগ অন্যান্য জলাধার ধারণ করছে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পানি একই অবস্থায় না থেকে তিনটি বিশেষ অবস্থায় রয়েছে।
- পানির তিনটি অবস্থা হলো-
• কঠিন (বরফ)।
• গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প)।
• তরল।
- পানি বায়ুমন্ডলে রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে এবং ভূ-পৃষ্ঠে রয়েছে কঠিন ও তরল অবস্থায়। 

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৫৫.
সমুদ্র তলদেশের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. টেলিস্কোপ 
  2. সিসমোমিটার
  3. ফ্যাদোমিটার 
  4. ব্যারোমিটার 
ব্যাখ্যা

সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: 
- সাগর, মহাসাগরের পানিরাশির উপরিভাগ সমতল দেখা গেলেও সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ সমতল নয়। 
- স্থলভাগ যেমন বন্ধুর প্রকৃতির অর্থাৎ কোথাও সমভূমি, কোথাও মালভূমি, কোথাও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, আবার কোথাও গভীর খাত, সমুদ্র তলদেশের ভূমির প্রকৃতিও তেমন বন্ধুর। বরং স্থলভাগের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। 
- সমুদ্র তলদেশে অসংখ্য পাহাড়, পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মালভূমি, পর্বতচূড়া এবং সুগভীর খাত বর্তমান। 
- অতীতে জাহাজ হতে শিকল বা শক্ত তারের মাথায় ভারী জিনিস বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হতো। 
- বর্তমানে অন্যান্য পদ্ধতিসহ শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার গিয়ে আবার ফিরে আসে, আর এভাবেই সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা সাধারণত ফ্যাদমে (এক ফ্যাদম সমান ছয় ফুট) পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- টেলিস্কোপ (Telescope) মূলত দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- সিসমোমিটার (Seismometer) ভূমিকম্প বা কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র। 
- ব্যারোমিটার (Barometer) বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৩,৫৫৬.
সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. এশিয়া
  2. মেক্সিকো
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
- সোইয়ইন ফ্লু ভাইরাসটি সর্বপ্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল মেক্সিকোতে, এপ্রিল, ২০০৯ সালে। পরবর্তীতে, এই রোগটি অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- সোয়াইন ফ্লু হচ্ছে মানবদেহের ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসের মতোই এক ধরনের ভাইরাস, যা প্রধানত শূকরের দেহে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে।
এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস টাইপ A (H1N1)।
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৯-এর জুন মাসে বিশ্বের ৭৪টি দেশে নতুন H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপস্থিতির কারণে এই রোগের সাম্প্রতিক অবস্থাকে বিশ্বব্যাপী মহামারি বলে চিহ্নিত করেছে।
- মানুষ, শূকর ও পাখির সংমিশ্রণে উদ্ভব হওয়া ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের এই রূপটি সম্পর্কে ধারণা করা হয় এটি শূকরের মাধ্যমে মানুষকে আক্রান্ত করেছে।
- সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের মধ্যে জ্বর হওয়া, মাথা ব্যথা, গলা ও শরীর ব্যথা, শ্বাস কষ্ট, ক্ষুধামান্দ্য ও আলস্যবোধ করা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি অন্যতম। 
- ২০০৯ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশে প্রথম সোয়াইন ফ্লু রোগী শনাক্ত করা হয়। 

সূত্র: WHO Website [লিঙ্ক]
৩,৫৫৭.
কৃষ্ণবিবর সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. এখানে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ প্রবল
  2. আবিষ্কার করেন জন হুইলার
  3. এর ভর তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি
  4. এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণবিবর (Black hole):
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)।
- কৃষ্ণবিবিরের ঘনত্ব থাকে অত্যন্ত বেশি।এবং পৃষ্ঠে g এর মান অত্যন্ত বেশি থাকে।
-  g-এর মান এত বেশি হয় যে, এমনটি ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না।
- ১৯৬৯ সালে  মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৫৫৮.
নিম্নের কোনটি শনি গ্রহের উপগ্রহ?
  1. টাইটান
  2. টাইটানিয়া
  3. মিরান্ডা
  4. ওবেরন
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ১৪৬টি।

উল্লেখ্য,
- টাইটান শনি গ্রহের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ।
- ১৬৫৫ সালে ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস এটি আবিস্কার করেন।
- টাইটান একমাত্র উপগ্রহ, যেটা অনেকটা পৃথিবীর মতো।
- টাইটানের বায়ুমণ্ডল অনেক ঘন। বায়ুমণ্ডলের ৯৭% হলো নাইট্রোজেন।
- অর্থাৎ পৃথিবীর পর টাইটানের বায়ুমণ্ডলই কেবল এত বেশি নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে,
⇒ ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের প্রধান পাঁচটি উপগ্রহ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA ওয়েবসাইট।
৩,৫৫৯.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) কবে গঠন করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) ২০১২ সালে গঠন করা হয়।
- ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদনের পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর আগে ১৯৭৩ সালে গঠিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে সৃষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (ডিএমবি) একীভূত হয়ে ডিডিএম গঠিত হয়।
- এই অধিদপ্তর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, 
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজ করে।
- ডিডিএম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৩,৫৬০.
সুনামি সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. অতিবৃষ্টি 
  2. বজ্রপাত 
  3. সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প 
  4. ঘূর্ণিঝড় 
ব্যাখ্যা

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ।  
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৬১.
ম্যালেরিয়ার ওষুধ ‘কুইনিন’ কোন গাছ থেকে পাওয়া যায়?
  1. ক) নিম গাছ
  2. খ) পাথরকুচি
  3. গ) সিনকোনা
  4. ঘ) তুলসী গাছ
ব্যাখ্যা
• ম্যালেরিয়ার ওষুধ ‘কুইনিন’ সিনকোনা গাছ থেকে পাওয়া যায়।
- এ গাছের বাকল থেকেই বিশ্ব প্রথম পায় কুইনিন, যা ম্যালেরিয়ার প্রথম ওষুধ হিসেবে সমাদৃত।
- কুইনিনের আবিষ্কার নিয়ে বিশ্বজুড়ে শিহরণ যেমন ছিল, তেমনি ছিল সন্দেহও।
- এ গাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে উৎপাদিত ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৫৬২.
সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ -
  1. ক) নিয়ত বায়ু প্রবাহ
  2. খ) সমুদ্রের পানিতে তাপ পরিচালনা
  3. গ) সমুদ্রের পানিতে ঘনত্বের তারতম্য
  4. ঘ) সমুদ্রের ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
সমুদ্র স্রোত:
সমুদ্র স্রোতের প্রধান কারন - বায়ু প্রবাহ।
বায়ু প্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন  (Gyre/spiral pattern) তৈরি করে। সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরন করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে।

সমুদ্রস্রোতকে উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে, দুইভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. উষ্ণ স্রোত:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়; এরূপ স্রোতকে উষ্ণ স্রোত বলে।
২. শীতল স্রোত:
- মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচে অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে শীতল স্রোত বলে।

সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (প্রধান কারন)
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি।
- সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য
- সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য
- ভূখন্ডের অবস্থান
- অসম বাষ্পীভবন
- সমুদ্রের গভীরতা

উৎস: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।
৩,৫৬৩.
সমুদ্রের পানির ফুলে ওঠাকে কী বলা হয়?
  1. ভাটা
  2. জোয়ার
  3. সাগরপ্রবাহ
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

- চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে ওঠে, এই ঘটনাকে জোয়ার (Tide/High tide) বলে। 

জোয়ার-ভাটা: 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্র পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে বলা হয় ভাটা। 
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দুই বার জোয়ার ও দুই বার ভাটা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথপম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬৪.
কোনটি রুপান্তরিত শিলার উদাহরণ নয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. কয়লা
  3. মার্বেল
  4. নিস
ব্যাখ্যা

- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা।
- এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
- পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

• পাললিক শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর,
- কয়লা,
- নুড়িপাথর,
- বেলেপাথর,
- পলিপাথর,
- কর্দমপাথর,
- চক,
- কোকিনা,
- লবণ,
- জিপসাম,
- ডায়াটম,
- ডোলোমাইট ইত্যাদি।

• কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- গ্রাফাইট (কয়লার রূপান্তরিত রূপ),
- মার্বেল (চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ),
- নিস (গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৬৫.
কোনটি এন্টিবায়োটিক?
  1. ইনসুলিন
  2. পেপসিন
  3. পেনিসিলিন
  4. ইথিলিন
ব্যাখ্যা
- পেনিসিলিন হলো একটি এন্টিবায়োটিক।
- স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে পেনিসিলিন নামক জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।

অন্যদিকে,
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- পেপসিন নামক এনজাইম প্রোটিন পরিপাকে সহায়তা করে ।
- ফল পাকানোর জন্য দায়ী ফাইটোহরমোনের নাম ইথিলিন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৫৬৬.
পৃথিবীর কোন অক্ষাংশতে আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. ০° অক্ষাংশ
  2. ২৩.৫° অক্ষাংশ
  3. ৬৬.৫° অক্ষাংশ
  4. ৯০° অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

উল্লেখ্য:

- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে- কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬৭.
ভূপৃষ্ঠে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু কী পরিমাণে আছে?
  1. ক) ৩.৬%
  2. খ) ৫%
  3. গ) ৭.৮%
  4. ঘ) ৮.১%
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)। লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।
Source: space.com
৩,৫৬৮.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমপক্ষে কত হতে হবে?
  1. ২৭° সেলসিয়াস
  2. ২০° সেলসিয়াস
  3. ১৭° সেলসিয়াস
  4. ১৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৭° সেলসিয়াস হতে হয়। এই উচ্চ তাপমাত্রা সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে বাষ্পীভবন ঘটায়, যা বায়ুমণ্ডলে আদ্রতা বৃদ্ধি করে। আদ্র বায়ু উত্তোলিত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় অংশে ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী বাতাসের সঞ্চার ঘটায়। যদি সমুদ্রের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের নিচে থাকে, তবে পর্যাপ্ত শক্তি সৃষ্টি হয় না এবং ঘূর্ণিঝড় গঠন কঠিন হয়। তাই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়া। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) ২৭° সেলসিয়াস।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস (Cyclone and Tidal Surge):

- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে। এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।
- বিগত অর্ধশতাব্দীতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে।
- এর মধ্যে ১৯৭০, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০৭, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় অন্যতম।
- জীবনহানির দিকে থেকে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ১৯৭০, ১৯৮৮ এবং ১৯৯১ সালে সংঘটিত হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬৯.
'সোয়াইন ফ্লু' রোগের ভাইরাস কোনটি?
  1. HN
  2. H1N1
  3. H2N1
  4. H1N2
ব্যাখ্যা
সোইয়ইন ফ্লু ভাইরাস: 
- সোইয়ইন ফ্লু ভাইরাসটি সর্বপ্রথম ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে মেক্সিকোতে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই রোগটি অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। 
- সোয়াইন ফ্লু হচ্ছে মানবদেহের ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসের মতোই এক ধরনের ভাইরাস, যা প্রধানত শূকরের দেহে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। 
- এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস টাইপ A (H1N1)। 
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৯-এর জুন মাসে বিশ্বের ৭৪টি দেশে নতুন H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপস্থিতির কারণে এই রোগের সাম্প্রতিক অবস্থাকে বিশ্বব্যাপী মহামারি বলে চিহ্নিত করেছে। 
- মানুষ, শূকর ও পাখির সংমিশ্রণে উদ্ভব হওয়া ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের এই রূপটি সম্পর্কে ধারণা করা হয় এটি শূকরের মাধ্যমে মানুষকে আক্রান্ত করেছে। 
- সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের মধ্যে জ্বর হওয়া, মাথা ব্যথা, গলা ও শরীর ব্যথা, শ্বাস কষ্ট, ক্ষুধামান্দ্য ও আলস্যবোধ করা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি অন্যতম। 
- ২০০৯ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশে প্রথম সোয়াইন ফ্লু রোগী শনাক্ত করা হয়। 

উৎস: WHO Website [লিঙ্ক]।
৩,৫৭০.
পৃথিবীর ঘৃর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না-
  1. ক) মহাকর্ষ বলের জন্য
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
  3. গ) আমরা স্থির থাকার জন্য
  4. ঘ) পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের আবর্তনের জন্য
ব্যাখ্যা
পৃথিবী সবকিছুকে নিজের দিকে টানে। পৃথিবী সবকিছুকে নিজের দিকে টেনে রাখে বলেই কোনো কিছু উপরের দিকে না গিয়ে নিচের দিকে পড়ে এবং সবকিছু পৃথিবীর সাথে লেগে থাকে, ছিটকে যায় না। এজন্যই আমরা মাটিতে হেঁটে বেড়াতে পারি, শূন্যে ভেসে থাকি না। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৩,৫৭১.
মহাকাশযাত্রার প্রথম প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি? 
  1. ভস্টক-১
  2. স্পুটনিক-১
  3. এক্সপ্লোরার-১
  4. ইনটেলসেট-১
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম উপগ্রহ ও এর ইতিহাস: 
- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। 
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরে। 
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং চাঁদের তুলনায় অনেক নিচু দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে। 
- নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরার জন্য এদের প্রয়োজনীয় দ্রুতি থাকতে হয়। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উচ্চতা যত বেশি হবে তার দ্রুতি হবে তত কম। ফলে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে এরা বেশি সময় নেবে। 
- পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় এর নিজ অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরে। সুতরাং, কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ যদি ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে, তাহলে একে পৃথিবী থেকে স্থির বলে মনে হবে। 

- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। তারা স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে, স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী। একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান। 
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১, এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়। 
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যে মানুষটি প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন। তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন। 
- ভস্টক-৬ নামক কৃত্রিম উপগ্রহে (মহাকাশযান) চড়ে প্রথম সোভিয়েত নারী মহাকাশচারি ভেলেনটিনা তেরেসকোভা মহাকাশে ঘুরে আসেন ১৯৬৩ সালে। 
- ইনটেলসেট-১ কৃত্রিম উপগ্রহকে পাঠানো হয় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে। 
- রিমোটসেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ হলো ল্যান্ডসেট-১, একে পাঠানো হয় ১৯৭২ সালে। 
- আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য অ্যাপোলো-সয়োজ টেস্ট প্রজেক্ট নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রথম পাঠানো হয় ১৯৭৫ সালে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এ পর্যন্ত হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। কয়েক হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হাজার হাজার অব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ বা তাদের অংশবিশেষ মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৩,৫৭২.
সুনামি নিচের কোন কারণে সৃষ্টি হতে পারে? 
  1. সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউ 
  2. আগ্নেয়গিরি
  3. বাতাসের নিম্ন চাপ 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুনামি (Tsunami): 
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ, জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'। 
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়, এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির। 
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। 
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে। 
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে। 
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে। 
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৭৩.
আমাদের দেহে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে অনুপ্রবেশকারী ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে-
  1. ক) রক্তরস
  2. খ) শ্বেতকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত কণিকা
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা। এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
৩,৫৭৪.
নিচের তত্ত্বগুলো বিবেচনা করুন
i. আলো গ্রাভিটি (Gravity) দ্বারা প্রভাবিত হয়।
ii. মহাবিশ্ব (Universe) ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
উপরের কোনটি আইনস্টানের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের ভবিষ্যতবাণী?
  1. শুধু i
  2. i ও ii উভয়
  3. শুধু ii
  4. i ও ii কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- উভয়ই আইনস্টানের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে, 
ক) আলো অভিকর্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়। অভিকর্ষ আলোর পথকে বক্র করে দেয়। 
খ) মহাবিশ্ব (Universe) ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং গতি ত্বরাবর্তিত হচ্ছে। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে আইনস্টাইন কসমোলজিক্যাল ঘনত্ব বা কসমোলজিক্যাল স্থিতিশীল দ্বারা ব্যাখ্যা করেছিলেন। 
 
আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।
 
আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।
 
অতএব, আলো মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ উভয়ই আইনস্টানের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)।
৩,৫৭৫.
ট্রানজিস্টারে কয়টি p-n জাংশন থাকে?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) চারটি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টার একটি এক্টিভ সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস যা সেমিকন্ডাক্টর দ্বারা গঠিত। এর অভ্যন্তরে দুটি জাংশন রয়েছে। এটি হতে পারে n-p-n বা p-n-p জাংশন। এর তিনটি টার্মিনাল আছে।
৩,৫৭৬.
কোনটি ঋনাত্মক চার্জ বহন করে?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মিঃ ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমান 3.2×10-19 C
বিটা রশ্মিঃ এরা ঋণাত্নক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6×10-19 C
গামা রশ্মিঃ এর কোনো চার্জ ও ভর নাই।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭৭.
গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. গ্রাডিমিটার
  2. ম্যানোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ক্রনোমিটার
ব্যাখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৩,৫৭৮.
ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি কি ধরনের সমভূমির উদাহরণ? 
  1. ক্ষয়জাত সমভূমি
  2. কার্স্ট সমভূমি
  3. হৈমবাহিক সমভূমি 
  4. সঞ্চয়জাত সমভূমি
ব্যাখ্যা
ক্ষয়জাত সমভূমি: 

• বায়ুপ্রবাহ, সৌরতাপ, বৃষ্টিপাত, পানিস্রোত, হিমবাহ প্রভৃতি দ্বারা ক্ষয় হয়ে ধীরে ধীরে অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিতে পরিণত হয়ে ক্ষয়জাত সমভূমি গঠিত হয়। 
• ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি ক্ষয়জাত সমভূমির উদাহরণ।
• সমভূমিতে সাধারণত কোনো উচ্চভূমি, নিম্নভূমি বা খাড়া ঢাল থাকে না। 
• সমভূমিসমূহ সাধারণত মহাদেশের সীমান্তে, মহাসাগরের তীরে অথবা মহাদেশীয় ভূ-ভাগের অভ্যন্তরে হতে পারে।
• হিমবাহের মাধ্যমে যে সমভূমি সৃষ্টি হয় তাদেরকে হৈমবাহিক সমভূমি বলে ।
• উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ, ফিনল্যান্ড, পূর্ব কানাডা এবং সুইডেনে  হৈমবাহিক সমভূমি দেখা যায়।
• যুগোশ্লোভিয়ার কার্স্ট অঞ্চলে কার্স্ট সমভূমি জাতীয় সমভূমি দেখা যায়।
• সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। 
• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
• সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
• সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। 
• পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭৯.
গ্রিনিচের পশ্চিমে অবস্থিত দেশগুলোর সময় গ্রিনিচের সময় থেকে -
  1. এগিয়ে থাকে
  2. পিছিয়ে থাকে
  3. সমান থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

 গ্রিনিচের সময়:
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা শূন্য ডিগ্রি (০) ধরা হয়।
- প্রতি ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্যে ১
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকের দেশগুলো সময়ের হিসেবে গ্রিনিচের চেয়ে এগিয়ে থাকে।
- এবং গ্রিনিচের পশ্চিমে অবস্থিত দেশগুলোর সময় গ্রিনিচের সময় থেকে পিছিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে অবস্থিত বলে বাংলাদেশের সময় ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
- এভাবে দ্রাঘিমার সাহায্যে সময় এবং সময়ের মাধ্যমে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

উৎস:  NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৩,৫৮০.
বারিমণ্ডলের কতভাগ পানি সমুদ্র ধারণ করে?
  1. ক) ৯৭.২৫%
  2. খ) ৯৫.৬০%
  3. গ) ৯৮.৩৫%
  4. ঘ) ৯৬.৭৫%
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টনঃ
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৮১.
ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) দেহে বিভিন্ন এনজাইম বিদ্যমান
  2. খ) পোষকদেহের সজীব কোষের বাইরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে
  3. গ) DNA বা RNA উভয় প্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে
  4. ঘ) নিউক্লিক এসিড ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া কোষীয় এবং এতে আদি প্রকৃতির নিউক্লিয়াস থাকে। এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
- সজীব কোষের বাইরেও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। কেলাসিত করলে আর জীবনের লক্ষণ প্রকাশ করে না।
- ব্যাকটেরিয়াতে DNA বা RNA উভয় প্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে এবং এই নিউক্লিক এসিড সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে।
- এদের দেহে বিভিন্ন এনজাইমও থাকে এবং দেহে বিপাকক্রিয়া ঘটে।

- ভাইরাসের ক্ষেত্রে DNA বা RNA যে কোনো একপ্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে এবং তা ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৫৮২.
গরুর গো-বসন্ত রোগের ভাইরাস কোনটি?
  1. র‍্যাবিস ভাইরাস
  2. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
  3. ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস
  4. অ্যাডিনো ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- গরুর গো-বসন্ত রোগের ভাইরাস হচ্ছে - ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস। 

ভাইরাস: 

- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো -


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৩.
কন্টিনেন্টাল ড্রিফট এর প্রবক্তা-
  1. ক্যালভিন
  2. আলফ্রেড ওয়েগেনার
  3. টলস্টয়
  4. হার্ভে যে অল্টার
ব্যাখ্যা
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে।
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়।
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়।
- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৫৮৪.
আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব কে ব্যাখ্যা করেন?
  1. ক) আইজ্যাক নিউটন
  2. খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. গ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
দীপ্তিমান বস্তু থেকে কিভাবে আলো আমাদের চোখে আসে সে বিষয়ে চারটি তত্ত্ব রয়েছে:

১) নিউটনের কণিকা তত্ত্ব :
এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।

২) হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

৩) ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে আলাের সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।

৪) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
৩,৫৮৫.
জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ কী?
  1. সমুদ্র স্রোত
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. গ্রহের আকর্ষণ
  4. চাঁদের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা

◉ জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ হলো চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ। চাঁদ পৃথিবীর উপর আকর্ষণ বল প্রয়োগ করে। এর ফলে সমুদ্রের পানিতে একটি উঁচু-নীচু ঢেউ তৈরি হয়।

​জোয়ার-ভাটা:
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or low Tide) বলে।
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়।
- অর্থাৎ সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাঁটা বেশি অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।

⇒ জোয়ার ভাঁটার কারণ:
- চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাঁটা হয়। জোয়ার ভাঁটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -
ক. মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং,
খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৮৬.
ভোর রাতে পূর্ব আকাশে 'শুকতারা' নামে পরিচিত?
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. নেপচুন
  4. শুক্র
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৭.
BCG টিকা কোন ধরনের টিকার অন্তর্ভুক্ত? 
  1. ডিএনএ টিকা
  2. নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা
  3. নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা
  4. মৃত জীবাণুভিত্তিক টিকা
ব্যাখ্যা
টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

২। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা: 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ- ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুয়েরিন (BCG), হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ- ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু: 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৮.
বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল ও দুর্বল নিউক্লিয় বলকে একত্রিত করলে যে বল পাওয়া যায়, তার নাম কী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. চৌম্বকত্ব
  3. নিউক্লিয়ার বল 
  4. ইলেকট্রো উইক ফোর্স
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের আবিষ্কার:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে এক টুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) । 
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত। এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)। 
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)। 
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৮৯.
নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) মার্বেল
  2. খ) কয়লা
  3. গ) গ্রানাইট
  4. ঘ) নিস
ব্যাখ্যা
বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর, কেওলিন ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৫৯০.
কোনটি ধনুষ্টংকার রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) ব্যাসিলাস
  2. খ) কমা
  3. গ) স্পাইরাল
  4. ঘ) কক্কাস
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া হল আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
ব্যাকটেরিয়া কোষগোলাকার, দন্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।
দেহের আকার আকৃতির ভিত্তিতে একে নিম্নরূপে শ্রেণীবদ্ধকরা হয়ঃ
কক্কাসঃ কোন কোন ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া।
এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাসিলাসঃ এরা লম্বা দন্ডের ন্যায় দেখতে। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
কমাঃ এরা বাঁকা দন্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরণের।
স্পাইরিলামঃ এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ামের আকৃতি প্যাঁচানো।
সূত্রঃ পৃষ্ঠা নং-০৩, বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

৩,৫৯১.
COVID-19 রোগটি কোন অঙ্গকে প্রধানভাবে প্রভাবিত করে?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. পাকস্থলী
  3. ফুসফুস
  4. মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
• COVID-19 রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটির নাম SARS-CoV-2, যা করোনাভাইরাস গোত্রের সদস্য। এটি একটি RNA ভাইরাস, যা প্রধানত মানুষের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। ভাইরাসটি সাধারণত সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি অথবা স্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

• এটি একটি সংক্রামক রোগ, যা ২০১৯ সালের শেষদিকে চীনের উহান শহরে প্রথম সনাক্ত হয়। অল্প সময়েই এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১১ মার্চ, ২০২০-তে একে বৈশ্বিক মহামারী (Pandemic) ঘোষণা করে।

এর লক্ষণ-
- জ্বর 
- শুষ্ক কাশি
- শ্বাসকষ্ট
- গলা ব্যথা, ক্লান্তি। 
- গন্ধ/স্বাদ হারানো। 
- গাঁট ব্যথা, মাথাব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ। 
-  অনেকে অসিম্পটোমেটিক (লক্ষণহীন) হলেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
 
ফুস্ফুসে যেভাবে সংক্রমন ঘটায়
- ফুসফুসের ভেতরে সংক্রমণ ঘটায়। 
- শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। 
- গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ফুসফুসে তরল জমা, বা অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। 

গুরুতর অবস্থায়
- Acute Respiratory Distress Syndrome (ARDS) হতে পারে । 
- ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয়।
- কখনো কখনো এটি মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- WHO (World Health Organization): “COVID-19 and the Lung.
৩,৫৯২.
CPM এর পূর্ণ অভিব্যক্তি হলো
  1. Common Project Method
  2. Common Path Method
  3. Critical Project Method
  4. Critical Path Method
ব্যাখ্যা
The critical path method (CPM) is a technique where you identify tasks that are necessary for project completion and determine scheduling flexibilities. A critical path in project management is the longest sequence of activities that must be finished on time in order for the entire project to be complete. Any delays in critical tasks will delay the rest of the project.

CPM revolves around discovering the most important tasks in the project timeline, identifying task dependencies, and calculating task durations.

CPM was developed in the late 1950s as a method to resolve the issue of increased costs due to inefficient scheduling. Since then, CPM has become popular for planning projects and prioritizing tasks. It helps you break down complex projects into individual tasks and gain a better understanding of the project’s flexibility. 
৩,৫৯৩.
Geography শব্দের পূর্ণ অর্থ কী?
  1. ভূ-চিত্র
  2. পৃথিবীর বর্ণনা 
  3. পৃথিবীর মানচিত্র
  4. ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• ভূগোলের ধারণা (Concept of Geography):
- মানুষের আবাসভূমি হিসেবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল।
- ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দ এসেছে।
- প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটোসথেনিস প্রথম 'Geography' শব্দ ব্যবহার করেন।
- 'Geo' ও 'graphy' শব্দ দু'টি মিলে হয়েছে 'Geography' 'Geo' শব্দের অর্থ 'ভূ' বা পৃথিবী এবং 'graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা।
- সুতরাং 'Geography' শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
- জার্মান ভূগোলবিদ কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- বৃটিশ ভূগোলবিদ ডাডলি স্ট্যাম্পের (Professor L. Dudley Stamp)মতে, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল।
 কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ,কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৩,৫৯৪.
'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা' কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা

• জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫:
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫ (National Disaster Management Policy) হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRM) ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত, সক্রিয় এবং টেকসই কাঠামো প্রদান করে, যার লক্ষ্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, যা মূলত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২-এর আওতায় প্রণীত হয়েছে এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি, প্রশমন, সাড়া ও পুনরুদ্ধার—এই চারটি মূল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫।

৩,৫৯৫.
কোনাে বস্তুকণা আলাের দ্রুতিতে চললে এর ভর হবে-
  1. ক) অর্ধেক হবে
  2. খ) শূন্য হবে
  3. গ) দ্বিগুণ হবে
  4. ঘ) অসীম হবে
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে বস্তুর ভর বেগের সাথে পরিবর্তিত হয়। গতিবেগ আলাের বেগের কাছাকাছি হলে ভর উল্লেখযােগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এজন্যই বস্তুর নিজস্ব ধর্ম হিসেবে ভরের উল্লেখ করতে হবে। স্থির অবস্থায় তার ভর নিতে হয়। একেই বস্তুর স্থির ভর বলা হয়। অর্থাৎ একটি বস্তুর স্থির অবস্থার ভরই হলাে এর স্থির ভর। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৩,৫৯৬.
কোয়াসারের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কোনটি মনে করা হয়? 
  1. সুপারনোভা বিস্ফোরণ 
  2. ব্ল্যাক হোল দ্বারা নক্ষত্রের গ্রাস 
  3. কোয়াসারের নিউক্লিয়ার ফিউশন 
  4. সৌরজগতের গ্রহসমূহের প্রতিফলন 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি, অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি এই সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
অর্থাৎ, কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু।
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- 
• কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, 
• কোয়াসারের রং নীলাভ, 
• কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস এবং 
• কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯৭.
উদ্যানচর্চা বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয়-
  1. হর্টিকালচার
  2. বোটানি
  3. প্লান্টকালচার 
  4. পিসিকালচার
ব্যাখ্যা

• হর্টিকালচার:
- হর্টিকালচার হলো ফসল উৎপাদন ও উদ্যানচর্চার বিজ্ঞান ও শিল্প, যা মূলত ফুল, ফল, সবজি, ঔষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদ, বনজ উদ্ভিদ ইত্যাদির চাষ এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এটি কৃষি বিজ্ঞানের একটি উপশাখা হলেও এর লক্ষ্য মানুষের খাদ্য, সুগন্ধি, সৌন্দর্য এবং পরিবেশের উন্নতি।

 • হর্টিকালচারের প্রধান শাখা:
- ফলবীজ (Pomology): ফলমূল উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা।
উদাহরণ: আম, কলা, লিচু, আপেল, কমলা।

- সবজি চাষ (Olericulture): সবজি উৎপাদন ও সংরক্ষণ।
উদাহরণ: টমেটো, গাজর, পটল, বাঁধাকপি।

- ফুলচাষ (Floriculture): ফুল ও শোভামূলক উদ্ভিদ উৎপাদন।
উদাহরণ: গোলাপ, জবা, শাপলা, লিলি।

- সুগন্ধি ও ঔষধি উদ্ভিদ (Aromatic & Medicinal Plants): গন্ধযুক্ত ও ঔষধি উদ্ভিদ উৎপাদন।
উদাহরণ: লবঙ্গ, পুদিনা, তুলসী, হরিতকি।

- ল্যান্ডস্কেপ হর্টিকালচার (Landscape Horticulture): উদ্যান, পার্ক, রাস্তার গাছপালা, বাগান ও সবুজ পরিবেশের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ।
 
• হর্টিকালচারের গুরুত্ব:
১। পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা: ফল ও সবজি মানুষের পুষ্টি ও ভিটামিন সরবরাহ করে।

২। আর্থিক গুরুত্ব: ফুল, ফল ও ঔষধি উদ্ভিদ বিক্রয় থেকে আয় বৃদ্ধি।

৩। পরিবেশগত গুরুত্ব: সবুজায়ন ও বায়ু, মাটি ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য।

৪। সৌন্দর্য ও পর্যটন: ফুলবাগান, উদ্যান ও ল্যান্ডস্কেপ শিল্পে সৌন্দর্য বৃদ্ধি।

৫। স্বাস্থ্য ও ঔষধি ব্যবহার: ঔষধি উদ্ভিদ ও সুগন্ধি উদ্ভিদ থেকে জীবনমান উন্নয়ন।

অপরদিকে,
পিসিকালচার হলো মাছ চাষের বিজ্ঞান ও শিল্প, যা মূলত মাছের প্রজনন, বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কিত।এটি পানির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় এবং কৃষি ও প্রাণি সম্পদের উপশাখা।

উৎস: Britannica [Link]

৩,৫৯৮.
বাংলাদেশের একমাত্র ভূমিকম্পন মানমন্দিরটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মাত্র একটি ভূমিকম্প রেকর্ড কেন্দ্র বা ভূমিকম্পন মানমন্দির রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগ চট্টগ্রাম শহরে ১৯৫৪ সালে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করে।
৩,৫৯৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. এক্সোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. আয়নমণ্ডল
ব্যাখ্যা

এক্সোমণ্ডল (Exosphere): 
- তাপমণ্ডলের উপরে প্রায় ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়। 

এক্সোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- এক্সোমণ্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এটি ক্রমান্বয়ে ইন্টারপ্লানেটারি স্পেসে প্রবেশ করে। 
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। 
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলাে সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬০০.
শান্ত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. শনি গ্রহে
  2. বুধ গ্রহে
  3. চাঁদে
  4. পৃথিবীতে
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

• সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।
• সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে।
• সূর্য পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুন বড় এবং চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুন বড়।
• সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ। যথা: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

অপরদিকে, 
• চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
• শান্ত সাগর চাঁদে অবস্থিত।
• Sea of Tranquility এর অপর নাম Mare Tranquillitatis.
• চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণকারী প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১
• অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযান ২০ জুলাই, ১৯৬৯ সালে সর্বপ্রথম চাঁদে অবতরণ করে।
• মঙ্গলগ্রহে প্রেরিত নভযান নাসার প্রথম রোভার স্কাউট ‘পাথপাইন্ডার’ ১৯৯৭ সালে অবতরণ করে।
 

ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং নাসা ওয়েবসাইট।