বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৫ / ৩৯ · ২,৪০১২,৫০০ / ৩,৮৭৯

২,৪০১.
পানির ফোঁটা গোলাকৃতি ধারণ করার কারণ কী?
  1. স্থিতিস্থাপকতা
  2. প্লবতা
  3. বায়ুচাপ
  4. পৃষ্ঠটান
ব্যাখ্যা
তলটান বা পৃষ্ঠটান: 
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।

পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘটনা ঘটে তা হলো: 
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা। 
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা। 
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া। 

- পানির ছোট ফোঁটা পৃষ্ঠটানের কারণে গোলাকৃতির হয়। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪০২.
জোয়ার-ভাঁটার কারণ কিসের প্রভাবে সংঘটিত হয়?
  1. ক) পৃথিবীর সাথে গ্রহ নক্ষত্রের আকর্ষণ
  2. খ) পৃথিবীর সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  3. গ) পৃথিবীর সাথে মঙ্গলের আকর্ষণ
  4. ঘ) গ্রহ নক্ষত্রের সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা
জোয়ার ভাঁটা:
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা (Ebb or low Tide) বলে। 
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়। অর্থাৎ সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাঁটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাঁটা বলে না।

জোয়ার ভাটার কারণ:
জোয়ার ভাঁটা সম্পর্কে প্রাচীনকালে মানুষ নানা রকম অবাস্তুব কল্পনা করত।
- কিন্তু বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাঁটা হয়
- জোয়ার ভাঁটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং
খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৩.
চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে কী বলে?
  1. মুখ্য জোয়ার
  2. গৌণ জোয়ার
  3. তেজ কটাল
  4. মরা কটাল
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা:
মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে  ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা -

১. মুখ্য জোয়ার:
চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার:
চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল:
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল:
চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৪.
ওজোন স্তর কিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. CFC গ্যাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তর হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত একটি গ্যাসীয় স্তর, যেখানে ওজোন (O₃) গ্যাসের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি।

- এই স্তরটি পৃথিবীর পৃষ্ঠকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। UV-B রশ্মি ত্বক ক্যান্সার, চোখের ছানি এবং উদ্ভিদের DNA ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- ওজোন স্তর এই ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।

CFC:
- CFC বা ক্লোরোফ্লুরো-কার্বন  (Chlorofluorocarbon) হলো এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যা প্রধানত রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- যখন CFC বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যায়, তখন সূর্যের UV রশ্মির কারণে তা ভেঙে যায় এবং ক্লোরিন (Cl) মুক্ত হয়।
- এই ক্লোরিন ওজোন অণুর (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে তা ভেঙে ফেলে, যার ফলে ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটে।
- একটি CFC অণু প্রায় 1,00,000 ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে।
- এর ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছে ত্বকের ক্যানসার, চোখের সমস্যা ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
অর্থাৎ ওজন স্তর CFC গ্যাস এর কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB).
- DOE Bangladesh – পরিবেশ অধিদপ্তর।
- UNEP (United Nations Environment Programme)
২,৪০৫.
সূর্যকিরণ নিরক্ষরেখায় সারাবছর কেমনভাবে পড়ে?
  1. কৌণিকভাবে 
  2. তির্যকভাবে 
  3. লম্বভাবে 
  4. কিছু সময় লম্ব ও কিছু সময় তির্যকভাবে 
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা: 
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। 
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। 
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

২,৪০৬.
মানুষের নিঃশ্বাসে শব্দের পরিমাণ কত ডেসিবল হয়ে থাকে?
  1. 50 dB
  2. 10 dB
  3. 30 dB
  4. 40 dB
ব্যাখ্যা
শব্দের দূষণ: 
- শব্দ জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি বিষয়, কিন্তু এর বাড়াবাড়ি জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পারে।
- যারা শহরে থাকে বিশেষ করে যারা বড় রাস্তার পাশে থাকে তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছে রাস্তায় বাস, গাড়ি, ট্রাকের ইঞ্জিনের শব্দ এবং অনবরত হর্নের শব্দ প্রায়ই সহনশীল সীমার বাইরে চলে যায়।
- দীর্ঘদিন এই শব্দদূষণে থাকতে থাকতে অনেক সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন শব্দদূষণহীন কোনো নিরিবিলি জায়গায় যাওয়ার সৌভাগ্য হলে হঠাৎ করে শব্দদূষণহীন জীবনের গুরুত্ব ধরা যায়।
- বিভিন্ন ধরনের শব্দের পরিমাণ নিচে দেখানো হয়েছে- 
• জেট ইঞ্জিন → 110-140 dB, 
• ট্রাফিক → 80-90 dB, 
• গাড়ি → 60-80 dB, 
• টেলিভিশন → 50-60 dB, 
• কথাবার্তা → 40-60 dB, 
নিঃশ্বাস → 10 dB এবং 
• মশার পাখার শব্দ → 0 dB । 

- শব্দদূষণের কারণে শোনার ক্ষমতা অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
- অনেকে অপ্রয়োজনেও কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনে, যাতে সমস্যাটি আরো জটিল হয়ে যায়।
- শব্দদূষণ কমানোর জন্য প্রথম প্রয়োজন দেশে এর বিরুদ্ধে আইন তৈরি করা যেন কেউ শব্দদূষণ সৃষ্টি করতে না পারে এবং করা হলে যেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- এরপর প্রয়োজন জনসচেতনতা, যথাসম্ভব কম হর্ন ব্যবহার করে চলাচল, কলকারখানায় শব্দ শোষণের যন্ত্র চালু, মাইকের ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া কিংবা বন্ধ করে দেওয়া, কম শব্দের যানবাহন ব্যবহার ইত্যাদি।
- একই সাথে শহরের ফাঁকা জায়গায় প্রচুর গাছ লাগিয়ে শব্দকে শোষণ করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪০৭.
অক্সানোমিটার দ্বারা কী নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) রক্তচাপ
  2. খ) উদ্ভিদের বৃদ্ধি
  3. গ) পাতার পানি নিঃস্বরণের হার
  4. ঘ) বাতাসের গতিবেগ
ব্যাখ্যা
অক্সানোমিটার (auxanometer) দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
Auxanometer (Noun):
Meaning: an instrument for determining and measuring the rate of growth in plants consisting essentially of a lever with a long and a short arm which is attached to the plant.

এছাড়া 
- ক্রেস্কোগ্রাফ হলো উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র ।
- এটির আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসু।
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।
 
অপরদিকে, 
- রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো স্ফিগমোম্যানোমিটার,
- পোটোমিটার হলো উদ্ভিদের প্রস্বেদন বা উদ্ভিদের পাতার পানি নিঃস্বরণের হার নির্ণায়ক যন্ত্র।
- এনিমোমিটার হলো বাতাসের গতিবেগ ও শক্তি পরিমাপক যন্ত্র

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪০৮.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে কী বলে?
  1. ক) সোলার প্যানেল
  2. খ) সান সান সিস্টেম মডেল
  3. গ) লুনার প্যানেল
  4. ঘ) সোলার সিস্টেম মডেল
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে একে সোলার সিস্টেম মডেল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,৪০৯.
কৃষ্ণগহবরের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) কৃষ্ণগহবরের মহাকর্ষীয় বল দুর্বল প্রকৃতির
  2. খ) কৃষ্ণগহবর হতে আলো বের হয় না
  3. গ) কৃষ্ণগহবর একটি বিশাল কালো আকৃতির গ্রহ
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক হোল হল মহাকাশের এমন একটি জায়গা যেখানে মাধ্যাকর্ষণ এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় বলের  টানে আলোও বের হতে পারে না।

মাধ্যাকর্ষণ এত শক্তিশালী কারণ পদার্থ একটি ক্ষুদ্র স্থানের মধ্যে চাপা পড়ে গেছে। একটি তারকা মারা গেলে এটি ঘটতে পারে। মানুষ ব্ল্যাক হোল দেখতে পায় না, কারণ ইহা অদৃশ্য। বিশেষ সরঞ্জাম সহ স্পেস টেলিস্কোপ ব্ল্যাক হোল খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। 

ব্ল্যাক হোল বড় বা ছোট হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাক হোল একটি পরমাণুর মতোই ছোট। এই ব্ল্যাক হোলগুলি খুব ছোট কিন্তু একটি বড় পাহাড়ের ভর রয়েছে। আরেক ধরনের ব্ল্যাক হোলকে বলা হয় ‘স্টেলার’। এর ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি হতে পারে।  পৃথিবীর ছায়াপথকে মিল্কিওয়ে বলা হয়। 

সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলকে বলা হয় "সুপারম্যাসিভ"। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে প্রতিটি বড় গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল রয়েছে।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট। 
২,৪১০.
নিচের কোনটি বাস্তুতন্ত্রের বিযোজক?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাঙ
  3. কচ্ছপ
  4. সবুজ উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্র: 
- কোনো একটি পরিবেশের অজীব এবং জীব উপাদানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশে যে তন্ত্র গড়ে উঠে, তাই বাস্তুতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল উপাদানের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে।  

বাস্তুতন্ত্রের উপাদান: 
- অজীব এবং জীব এই দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে বাস্তুতন্ত্র গঠিত। 
১। অজীব উপাদান: 
- বাস্তুতন্ত্রের প্রাণহীন সব উপাদান অজীব উপাদান নামে পরিচিত। 
- এই অজীব উপাদান আবার দুই ধরনের। 
(ক) অজৈব বা ভৌত উপাদান: অজৈব উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণ, মাটি, আলো, পানি, বায়ু, তাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি। 
(খ) জৈব উপাদান: সকল জীবের মৃত ও গলিত দেহাবশেষ জৈব উপাদান নামে পরিচিত। 
- পরিবেশের জীব উপাদানের বেঁচে থাকার জন্য এসব অজৈব ও জৈব উপাদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

২। জীব উপাদান: 
- পরিবেশের সকল জীবন্ত অংশই বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল জীব ও অজীব উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। 
- বাস্তুতন্ত্রকে কার্যকরী রাখার জন্য এ সকল জীব যে ধরনের ভূমিকা রাখে, তার উপর ভিত্তি করে এসব জীব উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
(ক) উৎপাদক: 
- সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, তারা উৎপাদক নামে পরিচিত। 
- যারা উৎপাদক তারা সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- যার উপর বাস্তুতন্ত্রের অন্যান্য সকল প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 

(খ) খাদক বা ভক্ষক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে, তারাই খাদক বা ভক্ষক নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক রয়েছে। 
প্রথম স্তরের খাদক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদভোজী তারা প্রথম স্তরের খাদক, এরা তৃণভোজী নামেও পরিচিত। 
- তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ছোট কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে অনেক বড় প্রাণী। 
যেমন- গরু, ছাগল ইত্যাদি। 

দ্বিতীয় স্তরের খাদক: 
- যারা প্রথম স্তরের খাদকদেরকে খেয়ে বাঁচে, তারাই দ্বিতীয় স্তরের খাদক, এরা মাংসাশী বলেও পরিচিত। 
যেমন- পাখি, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 

তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক: 
- যারা দ্বিতীয় স্তরের খাদকদের খায়, তারাই তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক। 
যেমন- কচ্ছপ, বক, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 
- এদের মধ্যে কোনো কোনো প্রাণী আবার একাধিক স্তরের খাবার খায়, এদেরকে বলা হয় সর্বভুক। 

(গ) বিযোজক: 
- এরা পচনকারী নামেও পরিচিত। 
- পরিবেশে কিছু অণুজীব আছে, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে এবং বিযোজিত হয়। 
- এসময় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে মৃতদেহ ক্রমশ বিযোজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এসব দ্রব্যের কিছুটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। 
- মৃতদেহ থেকে তৈরি বাকি খাদ্য পরিবেশের মাটি ও বায়ুতে জমা হয়, যা উদ্ভিদ পুনরায় ব্যবহার করে। 
- এভাবে প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয়ে বাস্তুসংস্থান সচল থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪১১.
ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা রশ্মির উৎস কী? 
  1. কোবাল্ট-৬০ 
  2. প্লুটোনিয়াম-২৩৮
  3. আয়োডিন-১৩১
  4. ফসফরাস-৩২ 
ব্যাখ্যা
• ক্যান্সারের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় রশ্মির ব্যবহার:
- ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো কোবাল্ট-৬০ (60Co) আইসোটোপ।
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলা হয়।
- ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাধারনত কোবাল্ট-৬০ (60Co) আইসোটোপটি ব্যবহৃত হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়।
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪১২.
মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা -
  1. ক) ৪৪ টি
  2. খ) ৪২ টি
  3. গ) ৪৬ টি
  4. ঘ) ৪৮ টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমসোম থাকে।

- এ  ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম ।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই ।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয়টি নিয়ে যেহেতু অনেকের কনফিউশন আছে তাই আমরা নিচে দুইটি বইয়ের স্ক্রিনশট যুক্ত করে দিচ্ছি -
জীববিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) বই এর স্ক্রিনশট:


বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের স্ক্রিনশট:
২,৪১৩.
নিম্নের কোনটি লবণাক্ত পানির উৎস? 
  1. উপসাগর
  2. বৃষ্টি
  3. ভূগর্ভস্থ পানি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উপসাগর হলো সমুদ্র বা মহাসাগরের একটি অংশ যা স্থলভাগের দিকে প্রসারিত থাকে। সাগর বা উপসাগরের পানিতে সোডিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইডসহ বিভিন্ন লবণের উপস্থিতির কারণে এটি লবণাক্ত হয়।

• বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, বৃষ্টির পানি, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
• নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪১৪.
কোন অবদানের জন্য রজার পেনরোজ নোবেল প্রাইজ পান?
  1. ক) বিগব্যাং থিউরি
  2. খ) স্ট্রিং থিউরি
  3. গ) ব্ল্যাক হোল
  4. ঘ) কোয়ান্টাম থিউরি
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী রজার পেনরোজ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রমাণ করেছিলেন যে, মুমুর্ষ তারা থেকে ব্ল্যাক হোল গঠন সম্ভব। তার স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি ২০২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।
সোর্সঃ nobelprize.org
২,৪১৫.
ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. ক) শেরপুর
  2. খ) টাঙ্গাইল
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) মুন্সীগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।

- এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

২,৪১৬.
মৌমাছির কলোনিতে কোন প্রজাতির মৌমাছি শুধুমাত্র একটি থাকে? 
  1. কর্মী মৌমাছি 
  2. পুরুষ মৌমাছি 
  3. রাণী মৌমাছি 
  4. সব প্রজাতির মৌমাছি 
ব্যাখ্যা

মৌমাছির জাত: 
- মৌমাছির কলোনি তিন প্রকার মৌমাছি নিয়ে গঠিত।
যেমন- একটি রাণী, কিছু হাজার কর্মী এবং কিছু শত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি মৌমাছি নির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। 
- বহুরূপতা দেখা যায় তাদের দৈহিক গঠনেও, যেখানে রাণী, কর্মী এবং পুরুষ মৌমাছির শারীরিক গঠন ভিন্ন। 

রাণী মৌমাছির গঠন: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে বড় এবং তার উদর প্রশস্ত হয়। 
- রাণী মৌমাছির ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্তে সরু, যেখানে বাঁকানো হুল থাকে যা একটি রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- রাণী মৌমাছির প্রোবোসিস ও রেণুখলি নেই, এবং তাদের ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ হয়। 
- রাণী মৌমাছি মোম ও মধু তৈরি করতে পারে না, তার লালাগ্রন্থি নেই। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪১৭.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. পুকুরের পানি
  2. লেকের পানি
  3. নদীর পানি
  4. সাগরের পানি
ব্যাখ্যা
- নদীর পানিতে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। কারণ নদীর পানি প্রবাহিত হয় এবং এতে ঢেউ ও স্রোতের কারণে বাতাসের সংস্পর্শে বেশি আসে। ফলে পানি বাতাস থেকে বেশি পরিমাণে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে। 
- স্থির জলাশয়ের (যেমন পুকুর বা লেক) তুলনায় প্রবাহমান পানিতে গ্যাসের আদান-প্রদান বেশি কার্যকরভাবে ঘটে। 
- পুকুরের পানি ও লেকের পানি স্থির থাকে, ফলে সেখানে অক্সিজেন কম মিশতে পারে। 
- সাগরের পানি গভীরতা এবং লবণাক্ততার কারণে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হয়। 

উৎস: [লিঙ্ক]।
২,৪১৮.
গ্রীনিচে যখন সময় রবিবার সকাল ৬টা তখন এর ৯০ ডিগ্রী পূর্বদিকে অবস্থিত স্থানের সময় হবে-
  1. ক) শনিবার রাত্রি ১২টা
  2. খ) শনিবার সন্ধ্যা ৬টা
  3. গ) রবিবার সন্ধ্যা ৬টা
  4. ঘ) রবিবার দুপুর ১২টা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
∴ ৯০ ডিগ্রি = ৯০ X ৪ = ৩৬০ মিনিট = ৬ ঘন্টা।
কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।
কোন স্থানে সময় যখন রবিবার সকাল ৬টা তখন-
১) ৯০ ডিগ্রি পশ্চিমে সময় হবে রবিবার রাত ১২ টা।
এবং ২) ৯০ ডিগ্রি পূর্বে সময় হবে রবিবার দুপুর ১২ টা।

২,৪১৯.
কোন রক্তকণিকা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. ক) অণুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) লোহিত ও শ্বেতকণিকা
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন বয়সের মানব দেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা হচ্ছে:
- ভ্রূণ দেহে: ৮০-৯০ লাখ,
- শিশুর দেহে: ৬০-৭০ লাখ,
- পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দেহে: ৪.৫ - ৫.৫ লাখ এবং
- পূর্ণ বয়স্ক নারীর দেহে: ৪ - ৫ লাখ।

মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০ - ১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

২,৪২০.
ট্রানজিস্টর তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কন্ডাক্টর
  2. সেমিকন্ডাক্টর
  3. কপার
  4. সিলিকোন
ব্যাখ্যা
- দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়ােডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্ৰাটেইন।
- ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়ােজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
- ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
- ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
- ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।

- সিলিকোন হল পলিসিলোক্সেন যা সিলোক্সেন এর পলিমার।
২,৪২১.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে-
  1. ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট 20 সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২,৪২২.
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কতজনকে দুই ডোজ কোভিড -১৯ টিকা দেয়া হয়েছে?
  1. ক) ১১.৫০ কোটি
  2. খ) ১২.৫০ কোটি
  3. গ) ২২.০০ কোটি
  4. ঘ) ১৬.০০ কোটি
ব্যাখ্যা
দুই ডোজ কোভিড -১৯ টিকা:
- প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বুস্টার ডোজ টিকা নিয়েছেন পাঁচ কোটি ৬৮ লাখেরও বেশি মানুষ।
- দেশে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৩ কোটি ২০ লাখ ৮৬ হাজার ১০০ জন।
- এছাড়া দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ জন মানুষ।
- আর বুস্টার ডোজ নিয়েছে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৬৪ হাজার ৮১ জন।

উৎস: ৯ অক্টোবর, ২০২২, বাংলা ইনসাইডার। link
২,৪২৩.
ফোটন কণা শূন্য মাধ্যমে কোন বেগে চলে?
  1. শব্দের বেগে 
  2. আলোর বেগে 
  3. পৃথিবীর কক্ষপথের বেগে 
  4. শূন্য বেগে 
ব্যাখ্যা

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
 
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:   
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। 
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২৪.
নিম্নের কোন রোগ দুটি অসংক্রামক ব্যাধি?
  1. টাইফয়েড ও ডায়াবেটিকস
  2. কলেরা ও স্ট্রোক
  3. আমাশয় ও ডায়াবেটিকস
  4. ক্যান্সার ও স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
- সাধারণত প্যারালাইসিসের এর জন্য স্ট্রোক দায়ী। 
- স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ।
- রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া অথবা ব্লক হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের কারণ।
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাই-প্রেসার, হাই-কোলেস্টেরল, ধূমপান, পারিবারিক স্ট্রোকের ইতিহাস, হার্টের অসুখ যেমন- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্তজমাট বাঁধা - অসুখ, ক্যান্সার ইত্যাদি অনেক কারণ রয়েছে স্ট্রোকের পেছনে। 
- স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।
- প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ততা হচ্ছে মানুষের শরীরের কোনো অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারানো। 
- এছাড়া স্নায়ু রোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও পারালাইসিসের কারণ হতে পারে। 
- Oncology হল ক্যান্সার বিষয়ক বিদ্যা। 
- একজন অনকোলজিস্ট হলেন একজন ডাক্তার যিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা করেন এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। 
- একজন oncologist কে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞও বলা যেতে পারে।
- বাংলাদেশে ৫৯ ভাগ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে হৃদ্‌রোগে ১৭ ভাগ, ফুসফুসের রোগে ১১ ভাগ, ক্যান্সারে ১০ ভাগ, ডায়াবেটিসে ৩ ভাগ এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগে মারা যায় ১৮ ভাগ মানুষ।
 - আমাশয়, কলেরা ও টাইফয়েড তিনটিই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়।
 
উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২. Source.cancer.net
৩. প্রথম আলো
২,৪২৫.
'ছয় সপ্তাহ' বয়সে নিচের কোন টিকাটির জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. TT Vaccine
  2. BCG
  3. DT Vaccine
  4. DPT-Ι
ব্যাখ্যা
- 'ছয় সপ্তাহ' বয়সে DPT-Ι টিকা'র জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে- 
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৬.
সাধারণত মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা কত এর বেশি হলে মৌলটি তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে? 
  1. ৭৮
  2. ৮৫
  3. ৮২
  4. ৮৮
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয়তা: 
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে। 
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে। 
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়- 
১. তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
৩. তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪. এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৭.
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গণনা করা হয় কত ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে?
  1. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে
  2. ৬০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে
  3. ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে
  4. ৬০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে
ব্যাখ্যা
• প্রমাণ সময়:
- একটি দেশে একাধিক দ্রাঘিমারেখার অবস্থান থাকতে পারে। এমতাবস্থায় একই দেশে একাধিক স্থানীয় সময় গণনা করা হলে, ঐ দেশের অভ্যন্তরীণ সকল প্রকার কর্মকান্ডে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। আর্ন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐ দেশের সময় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের সমস্যা দূরীকরণের জন্যে প্রত্যেক দেশের মধ্যবর্তী একটি দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গণনা করা হয় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের স্থানীয় সময় অনুসারে।
- এই দ্রাঘিমা রেখাটি (৯০° পূর্ব) ঢাকা বিভাগের অধীনস্থ মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা হারুকান্দি ইউনিয়ন বরাবর কল্পনা করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের মোট চারটি প্রমাণ সময় রয়েছে .

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৮.
নিচের কোনটির ভর অধিক?
  1. লাল বামন
  2. সূর্য
  3. পালসার
  4. কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর (Black hole):
যদিও তত্ত্ব অনুযায়ী সব ভরের ব্ল্যাক হোল থাকা সম্ভব, বাস্তবে আমরা চারটি প্রাথমিক ধরণের ব্ল্যাক হোল দেখতে পাই।

১. মিনি ব্ল্যাক হোল (Mini Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৩ গুণের কম।
- অবস্থান: বিরল বা অনুপস্থিত।
- হকিং বিকিরণের কারণে দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় এদের উৎপত্তি দেখা যায়নি।

২. স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোল (Stellar-Mass Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৩ থেকে ৫০ গুণ।
- গঠন: একক নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় পতন বা দুটি নিউট্রন তারার সংঘর্ষ।
- এটি নক্ষত্রের মৃত্যুর একটি স্বাভাবিক ফল।

৩. ইন্টারমিডিয়েট ব্ল্যাক হোল (Intermediate Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৫০ থেকে ৫০,০০০ গুণ।
- এই ভর পরিসরে ব্ল্যাক হোলের জন্য কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নেই।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় সম্ভাব্য অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

৪. সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (Supermassive Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৫০,০০০ থেকে বিলিয়ন গুণ।
- সাধারণ, প্রতিটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে বিদ্যমান।
- এটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রের মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

- স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোল এবং সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল সবচেয়ে সাধারণ।

পালসার: 
- পালসার এর ভর সূর্যের ১.১৮ থেকে ১.৯৭ গুণের মধ্যে, তবে বেশিরভাগ পালসারের ভর সূর্যের ১.৩৫ গুণ বেশি ।

লালবামন: 
- সূর্যের প্রায় ০.০৮ থেকে ০.৬ গুণ পর্যন্ত ভর রয়েছে। 

উৎস: Science Questions with Surprising Answers
Britannica.
২,৪২৯.
'ট্রিনিটি টেস্ট' কি?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগরে ব্রিটিশদের প্রথম বোমা পরীক্ষা
  2. খ) প্রথম অ্যাটোমিক বোমা নিক্ষেপের ছদ্মনাম
  3. গ) প্রথম হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার ছদ্মনাম
  4. ঘ) প্রথম পারমানবিক বোমা এক্সপ্লোশন
ব্যাখ্যা
১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর আলামোগোর্ডোর নামক স্থানে বিশ্বের প্রথম পারমানবিক বোমা ট্রিনিটি এর সফল বিস্ফোরণ ঘটায়।
২,৪৩০.
নিচের কোনটির অভাবে রক্তশূন্যতা হয়?
  1. লৌহ
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
→ লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

• লৌহ বা আয়রণ (Fe):

- রক্তের অন্যতম প্রধান উপাদান লৌহ বা আয়রণ।
- প্রতি ১০০ মিলি রক্তের প্রায় ৫০ মিলি গ্রাম লৌহ থাকে।
- এছাড়া যকৃত, প্লিহা, অস্তিমজ্জায় লৌহ সঞ্চিত থাকে।
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে বিদ্যমান ৩-৪ গ্রাম লৌহের চার ভাগের তিন ভাগই রক্তে থাকে।

• উৎস:
- কাঁচা কলা, সবুজ শাক, কচু, শুকনো ফল, আপেল, কলা ইত্যাদি লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস।
- ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস ইত্যাদি লৌহের প্রাণিজ উৎস।

• কাজ:
- লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, রক্তে অক্সিজেন বহন করে।

• অভাবজনিত অবস্থা:
- লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩১.
MRI তে ব্যবহৃত হয় ____। 
  1. এক্স-রে
  2. ম্যাগনেটিক ফিল্ড
  3. গামা রশ্মি
  4. আলফা কণা
ব্যাখ্যা

• MRI প্রযুক্তিতে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠন দেখা হয়, কোনো বিকিরণ নয়।

MRI কী?
- MRI (Magnetic Resonance Imaging) হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা ইমেজিং পদ্ধতি, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও টিস্যুর বিস্তারিত ছবি তৈরি করে।
- এটি আয়নাইজিং বিকিরণ (যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মি) ব্যবহার করে না, তাই নিরাপদ।
 
কাজের মূলনীতি:
- MRI কাজ করে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) এবং রেডিও তরঙ্গ (Radio Waves) এর সাহায্যে।
- মানবদেহের হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস (প্রোটন) এই চৌম্বক ক্ষেত্রে সারিবদ্ধ হয়।
- রেডিও তরঙ্গ প্রয়োগ করলে এই প্রোটনগুলো শক্তি শোষণ করে এবং ফিরে আসার সময় সংকেত দেয়।
- কম্পিউটার এই সংকেত বিশ্লেষণ করে ছবিতে রূপান্তরিত করে।

ব্যবহার:
- মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পেশী, ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নির্ভুল ইমেজ তৈরি করতে।
- টিউমার, স্নায়ু সমস্যা ও ইনজুরি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২,৪৩২.
ইভেন্ট হরাইজন নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. শ্বেত বামন
  2. লাল বামন
  3. কৃষ্ণগহ্বর
  4. ধুমকেতু
ব্যাখ্যা
ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon): 
- ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon) — এটি একটি সীমারেখা যা একটি ব্ল্যাক হোলের (কৃষ্ণগহ্বর) সীমানা নির্দেশ করে।
- এই সীমারেখায় পৌঁছালে পালানোর জন্য যেকোনো বস্তুর গতি আলোর গতির সমান হতে হয়।
- সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ (General Relativity) অনুসারে, আলোর চেয়ে দ্রুত কিছুই চলতে পারে না, তাই ইভেন্ট হরাইজনের ভেতর যে-ই ঢোকে না কেন, তা আর বাইরে বের হতে পারে না—এমনকি আলো-ও নয়।
- তাই এই সীমার ভেতরের কিছুই বাহির থেকে দেখা যায় না বা পর্যবেক্ষণ করা যায় না।
- যদি কোনো বস্তু বা বিকিরণ (radiation) ইভেন্ট হরাইজনের ভেতর উৎপন্ন হয়, তবে তা চিরতরে ব্ল্যাক হোলের মধ্যে আটকে যায়।
- একটি অঘূর্ণনশীল (non-rotating) ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজন একটি গোলাকৃতি সীমানা—এটিকে শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ (Schwarzschild radius) বলা হয়।
- ঘূর্ণনশীল (rotating) ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রে, এই সীমা কিছুটা বিকৃত বা অসমান হতে পারে।
- ইভেন্ট হরাইজন কোনো কঠিন বা দৃশ্যমান পৃষ্ঠ নয়।
- এটি কেবল একটি গাণিতিকভাবে নির্ধারিত সীমা, যার ভিতরে সবকিছু আটকে যায় এবং কিছুই আর ফিরে আসতে পারে না।

উৎস: Britannica.
২,৪৩৩.
ভূগর্ভের ভাগগুলোকে বলে-
  1. ক) টেকটোনিক প্লেট
  2. খ) লেয়ার
  3. গ) স্ট্রাটা
  4. ঘ) অশ্মমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ভূগর্ভ বা ভূঅভ্যন্তর প্রধাণত ৩টি স্তরে তথা Layer এ বিভক্ত। প্রত্যেকটা স্তরকে কে বাংলায় মণ্ডল বলা হয়ে থাকে। ৩টি মণ্ডল নিয়ে ভূঅভ্যন্তর গঠিত, যথা, অশ্মমণ্ডল, গুরুমণ্ডল, কেন্দ্রমণ্ডল।
এর মধ্যে, অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক কতগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত এগুলোকে টেকটোনিক প্লেট বলা হয়ে থাকে।
প্রশ্নানুসারে, সঠিক উত্তর হয়, Layer বা মণ্ডল।
সুত্রঃ মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই।

২,৪৩৪.
আলুর একটি জাতের নাম-
  1. ডায়মন্ড
  2. রূপালী
  3. ড্রামহেড
  4. ব্রিশাইল
ব্যাখ্যা

• আলুর একটি জনপ্রিয় জাত হলো ডায়মন্ড। এই জাতটি উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধক্ষম। ডায়মন্ড আলুর গাছ মাঝারি উচ্চতার হয় এবং পাতাগুলো গাঢ় সবুজ রঙের। এর কন্দ বা আলু মাঝারি আকারের, খোসা মসৃণ ও হালকা বাদামি বর্ণের। এই জাতটি মূলত মাঝারি ও শীতপ্রধান অঞ্চলে ভালো ফলন দেয়। ডায়মন্ড জাতের আলু রান্নার জন্য খুব উপযুক্ত এবং সংরক্ষণক্ষমতাও ভালো। কৃষকরা কম সময়ের মধ্যে অধিক ফলন পাওয়ার জন্য এটি চাষ করতে আগ্রহী। এজন্য ডায়মন্ড বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় আলুর জাত হিসেবে পরিচিত।

• আলুর উন্নত জাত:- হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী, সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
• তুলার উন্নত জাত:- রুপালী ও ডেলফোজ।
• ড্রামহেড, গ্রীন এক্সপ্রেস ও গোল্ডেন ক্রস হচ্ছে উন্নত জাতের বাঁধাকপি।
• উন্নত জাতের ধান:- ময়না, হীরা, মালা, ইরাটম, চান্দিনা, ব্রিশাইল, সুফলা, হরিধান।

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

২,৪৩৫.
নিচের কোনটি আগ্নেয় পর্বত?
  1. আন্দিজ
  2. কিলিমাঞ্জারো
  3. ব্ল্যাক ফরেস্ট
  4. হেনরী পর্বত
ব্যাখ্যা
- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে সৃষ্ট পর্বত আগ্নেয় পর্বত নামে পরিচিত।
উদাহরণ:
- কিলিমাঞ্জারো (আফ্রিকা)
- ফুজিয়ামা (জাপান)
- ভিসুভিয়াস (ইতালি)
- পিনাটুবো (ফিলিপাইন) ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ : ভঙ্গিল পর্বত
- ব্ল্যাক ফরেস্ট (জার্মনি) : চ্যূতি-স্তূপ পর্বত
- হেনরী (যুক্তরাষ্ট্র) : ল্যাকোলিথ পর্বত।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৪৩৬.
সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে কোনটি পরিমাপ করা হয়?
  1. সূর্যের উন্নতি
  2. ধ্রুবতারার উন্নতি
  3. সূর্যের অবনতি
  4. ধ্রুবতারার অবনতি
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি: 
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে।
- সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০° - (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি ± বিষুবলম্ব)।

২। ধ্রুবতারার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয়:
- ধ্রুবতারার উন্নতি জেনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- এর সাহায্যে শুধু উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারার উন্নতি ০° এবং উত্তর মেরুতে ঠিক মাথার উপর ধ্রুবতারার উন্নতি ৯০° হয়।
- সুতরাং উত্তর গোলার্ধে কোনো স্থানের অক্ষাংশ ধ্রুবতারার উন্নতির সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,৪৩৭.
p-টাইপ জার্মেনিয়াম অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য নিচের কোনটি দিয়ে ডোপিং করতে হয়? 
  1. এন্টিমনি
  2. আর্সেনিক
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
p- টাইপ অর্ধপরিবাহী: 
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে। 
- বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্যকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় উচ্চতাপে মেশানো হয়। 
- অপদ্রব্যের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন এর পরমাণুগুলো মূল অর্ধপরিবাহী কেলাসের গঠন কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেলাস ল্যাটিসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। 
- বিশুদ্ধ জার্মেনিয়ামের সাথে যদি উপযুক্ত মাত্রায় (দশ লক্ষে একটি) অ্যালুমিনিয়ামের মতো ত্রিযোজী মৌল মেশানো হয়, তা হলো ঐ কেলাসের গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু পার্শ্ববর্তী চতুর্যোজী অর্ধপরিবাহীর সাথে সমযোজী বন্ধন গঠন করতে এর একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে। 
- এই ইলেকট্রন ঘাটতি মানেই 'হোল' সৃষ্টি হয়। প্রতিটি AI পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। এ হোলগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে। 
- এ জন্য অ্যালুমিনিয়াম পরমানুকে 'গ্রাহক' পরমাণু বলে। 
- এভাবে প্রতিটি অ্যালুমিনিয়াম পরমাণু একটি করে হোল সৃষ্টি করে। 
- এখানে গরিষ্ঠ আধান বাহক হলো হোল এবং লঘিষ্ঠ আধান বাহক হলো ইলেকট্রন। 
- এ কারণে এ ধরনের অর্ধপরিবাহীকে টাইপ p- অর্ধপরিবাহী বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৮.
হার্টে পেইসমেকার বসাতে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. কার্বন- 14
  2. ফসফরাস- 32
  3. আয়োডিন-131
  4. প্লুটোনিয়াম- 238
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। 
যেমন - 
ক) রোগ নিরাময়ে ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়। 

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। 
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 

- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 
- এ ছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৯.
ফসফরাসের অভাব হলে কোন রোগটি দেখা যেতে পারে?
  1. রিকেটস
  2. অস্থিক্ষরতা
  3. দন্তক্ষয়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- দেহে পরিমাণের দিক থেকে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরই ফসফরাসের স্থান। 
- ফসফরাসও ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের একটি প্রধান উপাদান।
-  ফসফরাস হাড়, যকৃৎ এবং রক্তরসে সঞ্চিত থাকে। 
- নিউক্লিক এসিড, নিউক্লিয় প্রোটিন তৈরি এবং শর্করা বিপাকের দ্বারা শক্তি উৎপাদনে ফসফরাস প্রধান ভূমিকা রাখে।
- ফসফরাসের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: দানা শস্য, শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের মতো হাড় এবং দাঁত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ। 
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষরতা, দন্তক্ষয়— এইসব রোগ দেখা দেয়। 
- খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে ফসফরাসের অভাব হয় না।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
২,৪৪০.
শান্ট হলাে যন্ত্রের সাথে-
  1. ক) সমান্তরালে যুক্ত উচ্চমানের রােধ
  2. খ) সমান্তরালে যুক্ত নিম্নমানের রােধ
  3. গ) শ্রেণিতে যুক্ত উচ্চমানের রােধ
  4. ঘ) শ্রেণিতে যুক্ত নিম্নমানের রােধ
ব্যাখ্যা
গ্যালভানােমিটার বা সুক্ষ্ম ও সুবেদী বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাতে উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত না হতে পারে তার জন্য যন্ত্রের সাথে সমান্তরালে স্বল্প মানের যে রােধ যুক্ত তা হয় তাতে শান্ট বলে। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
২,৪৪১.
অ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা আবিষ্কার করেন -
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) মার্কনি
  3. গ) লুই পাস্তুর
  4. ঘ) আলেকজান্ডার
ব্যাখ্যা
- লুই পাস্তুর অ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
- এ্যানথ্রাক্স Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি।
- গ্রীক শব্দ এ্যানথ্রাক্স-এর অর্থ Coal বা কয়লা।
- এ রোগের কারণে শরীরে কালো রঙের ক্ষত সৃষ্টি হয় বলেই এর এই নামকরণ, বাংলায় একে তড়কা রোগ বলা হয়।
- গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণি আক্রান্ত হতে পারে। এটি ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু বাহিত রোগ।
- এ জীবাণুর মূল উৎস মাটি।
- দীর্ঘদিন (অন্তত ৩/৪ দশক) রড আকৃতির এই জীবাণু স্পোর মাটিতে টিকে থাকতে পারে।
- গবাদিপশু বা কোনো তৃণভোজী প্রাণি মাটি থেকে ঘাস খাবার সময় সহজেই এ রোগের জীবাণু (Spore) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
- এ রোগের জীবাণু সংক্রমিত পানি পান করলেও গবাদিপশু এ্যানথ্রাক্স দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
- প্রাণি থেকে এ রোগ মানুষেও ছড়ায় এবং এটি একটি জোনোটিক (zoonotic) রোগ, তবে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগের বিস্তার ঘটেনা।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
২,৪৪২.
জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ কোন ধরনের রেডিয়েশন ব্যবহার করে?
  1. Ultra-violet
  2. Infrared
  3. Visible
  4. X-ray
ব্যাখ্যা
• জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ Infrared রেডিয়েশন ব্যবহার করে।

• জেমস্ ওয়েব টেলিস্কোপ:
- বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচাইতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের একটি হচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।
- নাসার দূরবীক্ষণ যন্ত্র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি বা জুপিটারের কিছু বিস্ময়কর ছবি তুলেছে।
- এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতি গ্রহের অরোরা বা বর্ণচ্ছটা, দানবীয় ঝড়, বৃহস্পতির চাঁদ এবং গ্রহটিকে ঘিরে থাকা বলয়।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ অভিযান প্রকল্প।
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার নেতৃত্বে এটির অন্যান্য অংশীদার হচ্ছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি।
- এটা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি এখন পৃথিবী থেকে ১৬ লাখ (ষোল লাখ) কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবি প্রকাশ করা হয় ২০২২ সালের ১২ই জুলাই।
- বলা হয় এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তারিত "অবলোহিত (ইনফ্রারেড)" চিত্র এটি যাতে এমন সব ছায়াপথ দেখা যাচ্ছে, যেখান থেকে পৃথিবী পর্যন্ত আলো পৌঁছাতে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- তখন থেকেই মহাবিশ্বের নিত্যনতুন দৃশ্য দেখে আসছে হাবল টেলিস্কোপের এই উত্তরসূরী।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ক্যারিনা নেবুলা নিহারীকার নক্ষত্রপুঞ্জ এবং কিছু তারকা।
- ক্যারিনা নেবুলা মহাকাশের বৃহত্তম এবং উজ্জ্বলতম নিহারীকাগুলোর একটি।
- এটির অবস্থান পৃথিবী থেকে কম বেশি ৭ হাজার ৬শ আলোকবর্ষ দূরে।

উৎস: NASA,  BBC NEWS বাংলা, ২৪ আগস্ট, ২০২২ এবং ব্রিটানিকা।
২,৪৪৩.
অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) মেডুলা অবলংগাটা
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) থ্যালামাস
ব্যাখ্যা
মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক, (২) মধ্যমস্তিষ্ক ও (৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক - অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা- (ক) সেরেব্রাম, (খ) থ্যালামাস ও (গ) হাইপোথ্যালামাস

মধ্যমস্তিষ্ক - হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

পশ্চাৎমস্তিষ্ক - এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪৪৪.
প্রণকালচার বলতে কী বোঝানো হয়? 
  1. মৎস্য চাষ
  2. সামুদ্রিক মৎস্য চাষ
  3. রেশম চাষ
  4. চিংড়ি চাষ
ব্যাখ্যা

• প্রণকালচার বলতে সাধারণত জলজ প্রাণীর নিয়ন্ত্রিত চাষকেই বোঝানো হয়, যার মধ্যে চিংড়ি, মাছ, কচ্ছপ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রাকৃতিক জলাশয় বা কৃত্রিম পুকুরে পরিচালিত হয়, যেখানে প্রাণীর বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিশেষ যত্ন ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রণকালচারের প্রধান উদাহরণ হলো চিংড়ি চাষ, যা খাদ্যসামগ্রী ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে মৎস্য চাষ বা রেশম চাষ সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ে।
- সুতরাং, প্রণকালচার বলতে মূলত চিংড়ি চাষকেই বোঝানো হয়। এটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় একটি লাভজনক এবং দায়িত্বশীল জলজ চাষ প্রক্রিয়া।

 
আধুনিক চাষ: 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার। 
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার। 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার। 
- উদ্যান বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার। 
- পাখী পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার। 
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,৪৪৫.
বায়ুমন্ডলের ওজোনস্তর অবক্ষয়ে কোন গ্যাসটির ভূমিকা সর্ব্বোচ্চ?
  1. ক) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. খ) জলীয় বাষ্প
  3. গ) CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. ঘ) নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সিএফসি হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের সংক্ষিপ্ত রুপ।
- এটি বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরে পৌঁছে ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অক্সিজেনে পরিণত করে (CFC+O302+…..)।
- এর ফলে ওজোনস্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়। এই ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে।
উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির রসায়ন বই।
২,৪৪৬.
মানূষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় কোন রোগে আক্রান্ত হলে?
  1. ক) কোভিড-১৯
  2. খ) জন্ডিস
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) ধনুষ্টংকার
ব্যাখ্যা

AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে এক ধরণের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus এবং একে সংক্ষেপে HIV বলা হয়।
HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,৪৪৭.
ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করতে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. কার্বন-১৪ 
  2. ফসফরাস-৩২
  3. কোবাল্ট-৬০ 
  4. আয়োডিন-১৩১ 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন-
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণে: 
- বিভিন্ন কৃষিজাত ও অন্যান্য পচনশীল খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- খাদ্যদ্রব্য বেশি দিন ঘরে বা গুদামে রাখলে তা বিভিন্ন পোকামাকড় বা জীবাণুর আক্রমণে নষ্ট হতে পারে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রয়োগ করলে এ সকল আক্রমণ থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা যায়। 
- কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪৮.
প্রাণীর মলমূত্র থেকে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়‒
  1. ইথেন
  2. এমোনিয়া
  3. মিথেন
  4. বিউটেন
ব্যাখ্যা
- প্রাণীর মলমূত্র থেকে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় মিথেন।
- প্রাণীর মলমূত্র বিশেষ করে গরু, ঘােড়া, মহিষ ইত্যাদির গােবরের কিছু পচা লতা-পাতা ও পানি মিশালে গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া সংগঠিত হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় যে গ্যাসীয় মিশ্রণ উৎপন্ন হয় তাই বায়ােগ্যাস।
- বায়ােগ্যাসের উপাদানগুলাের মধ্যে মিথেন (CH4), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), হাইডােজেন সালফাইড (H2S) ও হাইড্রোজেন (H2) থাকে।
- এর শতকরা ৬০-৭০ ভাগই মিথেন গ্যাস।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৯.
হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে কী বলা হয়? 
  1. শিরা 
  2. সিস্টোল 
  3. অক্সিজেনেশন 
  4. ডায়াস্টোল 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড(Heart): 
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হচ্ছে হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত সংবহন করে। 
- হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- হৃৎপিণ্ডের স্বতঃস্ফূর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (systole) বলে এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (diastole) বলে। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয় তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৫০.
বায়ুমণ্ডল না থাকলে কোনটি সম্ভব হতো না?
  1. শব্দ শোনা
  2. আলো দেখা
  3. তাপ উৎপন্ন হওয়া
  4. ছায়া পড়া
ব্যাখ্যা

• শব্দ তরঙ্গ চলাচলের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন; বায়ুমণ্ডল না থাকলে শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত ও পরিবাহিত হতো না, ফলে শব্দ শোনা সম্ভব হতো না।

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্ব (Importance of Different Atmospheric Layers):
- বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গ ফিরে আসতে পারত না; ফলে কোনো শব্দ শোনা যেত না।
- ট্রপোস্ফিয়ার স্তর ছাড়া পৃথিবীতে কোনো আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটত না; যেমন—মেঘ সৃষ্টি, বৃষ্টি, কুয়াশা, শিশির, ঝড়, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি সম্ভব হতো না, ফলে কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিও হতো না।
- বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের কারণে সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ শোষিত বা প্রতিহত হয়; বিশেষ করে ওজোন স্তর না থাকলে এসব রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছে জীবজগতের মারাত্মক ক্ষতি করত।
- বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ না থাকলে পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব থাকত না; তখন পৃথিবী চাঁদের মতো শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও বসবাসের অনুপযোগী হতো।

উৎস: ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,৪৫১.
বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ক) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  2. খ) মকরক্রান্তি রেখা
  3. গ) মূল মধ্যরেখা
  4. ঘ) কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) দেশের মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর অতিক্রম করেছে।
- রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে অতিক্রম করেছে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৪৫২.
__________ এর অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।
  1. ক) ভিটামিন 'এ'
  2. খ) ভিটামিন 'বি'
  3. গ) ভিটামিন 'সি'
  4. ঘ) ভিটামিন 'ডি'
ব্যাখ্যা

ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন এর চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
ভিটামিন বি-২ বা রাইবোফ্ল্যাভিন এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়।
ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৫৩.
নিম্নের কোন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন প্রচলিত আছে?
  1. দাদ
  2. পীতজ্বর
  3. আমাশয়
  4. এইডস
ব্যাখ্যা
- দাদ, আমাশয়, এইডস ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন প্রচলিত নেই।
- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, হাম, রুবেলা, জলবসন্ত, পীতজ্বর, যক্ষ্মা, পোলিও ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন প্রচলিত আছে৷

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
২,৪৫৪.
What is the division of the nucleus called?
  1. ক) mason
  2. খ) Fusion
  3. গ) Fission
  4. ঘ) Fusion and Mason
ব্যাখ্যা
• পরমাণুর নিউক্লিয়াস বিভাজনকে ফিশন বলে।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। প্রক্রিয়া দুটি হল:
১.  নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন।
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন।

১.  নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 
- উচ্চ শক্তিসম্পন্ন প্রোটন, নিউট্রন বা ডিউটেরনের আঘাতের ফলে ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াস ৩টি নিউট্রনসহ দুটি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে পড়ে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- অত্যধিক উচ্চ তাপে ফিউশন সংঘটিত হয়।
- চারটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস ফিউশন প্রক্রিয়াতে জড়িত হয়ে একটি করে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫৫.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ম্যানোমিটার 
  2. ক্রনোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অডিওমিটার 
ব্যাখ্যা

শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,৪৫৬.
ম্যালেরিয়া নিরাময়ের ওষুধ কুইনাইন কোন গাছ হতে তৈরি করা হয়?
  1. গজার
  2. সিনকোনা
  3. শাল
  4. উলফিয়া
ব্যাখ্যা
• সিনকোনা গাছের বাকল হতে ম্যালেরিয়া নিরাময়ের ওষুধ কুইনাইন তৈরি করা হয়। 

• ম্যালেরিয়া:
- ম্যালেরিয়া একটি মশকীবাহিত রোগ। 

• ম্যালেরিয়া রোগীর চিকিৎসা (Treatment):
- ম্যালেরিয়া রোগীকে অবশ্যই উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা আবশ্যক। রোগ শনাক্ত করা ও উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করলে ম্যালেরিয়া রোগ হতে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
- সিনকোনা গাছের বাকল হতে তৈরি কুইনাইন ম্যালেরিয়া নিরাময়ের মূল ওষুধ।
- এ কুইনাইন দ্বারাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হয়েছে। যেমন-ক্লোরোকুইন, নিভাকুইন, কেমোকুইন, অ্যাভলোক্লোর, ম্যাপাক্রিন, প্যালুড্রিন ইত্যাদিসহ ম্যালেরিয়া পরজীবী ধ্বংসের ভালো মানের বেশ কিছু ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২,৪৫৭.
মহাকাশে পাঠানো স্যাটেলাইট অবস্থান করে কোন স্তরে ?
  1. স্ট্রাটোমন্ডল
  2. মেসোমন্ডল
  3. তাপমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
- মহাকাশে পাঠানো স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহসমূহ তাপমন্ডলে অবস্থান করে।
- তাপমন্ডলের বিস্তৃতি ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. এর মধ্যে। রকেটও এ স্তর দিয়ে চলাচল করে।
- তাপমন্ডলের নিচের অংশ আয়নমন্ডল নামে পরিচিত যেখানে পৃথিবী থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসে।
- পৃথিবীর দিকে ধেয়ে উল্কাপিণ্ড এই স্তরেই পুড়ে যায়। এটি বায়ুমন্ডলের চতুর্থ স্তর।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৪৫৮.
সুনামি অগভীর জলের দিকে অগ্রসর হলে তার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. বিস্ফোরণ ঘটে
  2. এর গতি বাড়ে
  3. শক্তি হ্রাস পায়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৫৯.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ?
  1. ক) পুকুরে
  2. খ) সাগরে
  3. গ) নদীতে
  4. ঘ) খালে
ব্যাখ্যা
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
• সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে যার ফলে পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি। তাই সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪৬০.
ইউরেনাস-কে বলা হয় _______ গ্রহ।
  1. ক) বামন
  2. খ) প্রাচীন
  3. গ) নীলাভ
  4. ঘ) সবুজ
ব্যাখ্যা
• ইউরেনাস (Uranus):
- দূরত্বের দিক থেকে সৌরজগতের সপ্তম গ্রহ ও তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ ইউরেনাসকে সবুজ গ্রহ বলা হয়। 
- এটি সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যার নাম গ্রীক পুরান থেকে নেয়া হয়েছে।
- সূর্য থেকে ইউরেনাস এর গড় দূরত্ব ২৯০ কোটি কিলোমিটার।
- ৮৪ বছরে এটি সূর্যের চতুর্দিকে নিজ কক্ষপথে ঘুরে।
- এ গ্রহেরও শনির মত বলয় রয়েছে। তবে বলয়গুলো উজ্জ্বল নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬১.
ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) আদি কোষবিশিষ্ট
  2. খ) বাধ্যতামূলক পরজীবী
  3. গ) অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা
  4. ঘ) DNA অথবা RNA উপস্থিত
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ। এটি প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক এসিড (DNA অথবা RNA) এই দু'টি অংশ নিয়ে গঠিত। ভাইরাস অকোষীয় (আদি কোষীয় নয়), অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা, বাধ্যতামূলক পরজীবী জৈবকণা যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
সত্যিকার অর্থে এরা অণুজীব নয়, অণুজীবের মতো। ভাইরাস দেহে কোষীয় বৈশিষ্ট্য তথা কোষ প্রাচীর, কোষঝিল্লি ও সাইটোপ্লাজম নেই- তাই ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৪৬২.
ঋতু পরিবর্তনের সাথে বায়ুর যে দিক পরিবর্তন হয়, তাকে কী বলে? 
  1. স্থানীয় বায়ু
  2. অয়ন বায়ু
  3. মৌসুমী বায়ু
  4. প্রত্যয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ু: 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু। 
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। 
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু। 

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।  
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুএশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। 
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়, কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬৩.
গ্রাইসিওফুলভিন কোন ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  2. ভাইরাসজনিত রোগ
  3. ছত্রাকজনিত ত্বকের রোগ
  4. পরজীবীজনিত রোগ
ব্যাখ্যা

• গ্রাইসিওফুলভিন দাদ ও অন্যান্য ছত্রাকজনিত ত্বক রোগে ব্যবহৃত হয়।

• অ্যান্টিবায়োটিক ও ঔষধ শিল্পে ছত্রাকের ব্যবহার:

- গ্রাইসিওফুলভিন প্রস্তুতকরণ:
- Penicillium griseofulvum নামক ছত্রাক প্রজাতি থেকে গ্রাইসিওফুলভিন নামক ঔষধ প্রস্তুত করা হয়।
- এই ঔষধ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দাদ ও ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

- পেনিসিলিনের আবিষ্কার ও উৎপাদন:
- ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি প্রথমে Penicillium notatum ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন প্রস্তুত করেন।

- বাণিজ্যিক উৎপাদন:
- পরবর্তীতে Penicillium notatum থেকে উৎপাদন কম হওয়ায়,
- Penicillium chrysogenum থেকে উচ্চ মানের ও অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৬৪.
কয়লা রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলা তৈরি হয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. কোয়ার্টজাইট
  3. মার্বেল
  4. নিস
ব্যাখ্যা
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক চাপ, তাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে যে নতুন রূপ ধারণ করে তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
যেমন:
- বেলপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইট
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস।
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৪৬৫.
ফুসফুসের আবরণী পর্দার নাম -
  1. ক) অ্যালভিওলাস
  2. খ) পেরিঅস্টিয়াম
  3. গ) প্লুরা
  4. ঘ) মেনিনজিস
ব্যাখ্যা
• ফুসফুসের আবরণী পর্দার নাম - প্লুরা;
• ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো - অ্যালভিওলাস;
• হৃদপিন্ডের আবরণী পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
• অস্থির আবরণীর নাম - পেরিঅস্টিয়াম;
• মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম -  মেনিনজিস;
• খুলির হাড়ে থাকা আবরণ হলো পেরিক্রেনিয়াম;
• বৃক্কের আবরণকে বলা হয় - ক্যাপসুল।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৪৬৬.
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডায়াবেটিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন
  4. ঘ) গলগণ্ড
ব্যাখ্যা
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে গলগণ্ড রোগটি হয়ে থাকে। 

গলগন্ড (Goiter)  খাদ্য ও খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব, সংক্রমণজনিত প্রদাহ, টিউমার, অথবা গলগ্রন্থির কম কার্যকারিতার কারণে গলগ্রন্থির (thyroid) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ফুলে ওঠা গলগ্রন্থি গলার সামনে সহজদৃষ্ট হয়ে ওঠে। বেশির ভাগ গলগন্ড গলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগুলি বুকের উপর দিকে বা কদাচিৎ অন্তর্বক্ষীয়ও হতে পারে।

বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে গলগন্ড ও আয়োডিনঘটিত অন্যান্য অসুস্থতা প্রশমনের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৯টি জেলার প্রায় ৯৫,০০০ লোককে লেপিওডল ইনজেকশন দেওয়া হয়। একইভাবে ১৯৮৩ সালে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ইউনিসেফের সহযোগিতায় রংপুর জেলার জলঢাকা উপজেলায় ৮০,০০০ লোককে ইনজেকশন দেয়। ১৯৮৫ সালে খাবার লবণে আয়োডিন মিশ্রণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বর্তমানে আয়োডিন মিশ্রিত লবণ বাজারজাত করা বাধ্যতামূলক এবং প্রায় দু’ডজন উদ্যোক্তা এ ধরনের খাবার লবণ তৈরি করছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট এ পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনের সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে এবং এ কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে থাকে।  

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
২,৪৬৭.
মহাকাশে প্রেরণকৃত প্রথম মহাকাশযান কোনটি?
  1. ক) লুনা-২
  2. খ) স্পুটনিক-১
  3. গ) আর্টেমিস-৩
  4. ঘ) লুনা-৯
ব্যাখ্যা
মহাকাশে প্রেরণকৃত প্রথম মহাকাশযানটির নাম হচ্ছে স্পুটনিক-১। 

- ১৯৫৭ সালে ৪ই অক্টোবর, সোভিয়েত রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা সর্বপ্রথম মহাকাশে স্পুটনিক-১ নামের কৃত্রিম উপগ্রহ প্রেরণ করেন।
- এ পর্যন্ত উৎক্ষিপ্ত কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা প্রায় ৬,৬০০। 
- উৎক্ষিপ্ত কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে প্রায় ৩,৬০০টি বর্তমানে কক্ষ পথে অবস্থান করছে। 
- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। 
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ টানের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের কক্ষপথে ঘুরে। 
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং ছোট কক্ষপথ নিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে।
- একই বছরের ২ নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ রাশিয়া মহাকাশে পাঠায়।  

সূত্র- ১৭৭ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬৮.
মানসিক চাপ, আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয় নিচের কোনটি?
  1. শব্দ দূষণ
  2. পানি দূষণ
  3. বায়ু দূষণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

শব্দ দূষণ:
-অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
- উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে।
- অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
- পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
- সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়।
- ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৬৯.
রিখটার স্কেলে প্রতি এক সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ভূমিকম্পের শক্তি কত গুন বেড়ে যায়?
  1. ৪০ গুন
  2. ২০ গুন
  3. ৩০ গুন
  4. ১৬ গুন
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র  (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।  
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
-  ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

- ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই রিখটার স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 

ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
• পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
• আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
• শিলাচ্যুতি,
• তাপ বিকিরণ,
• ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
• ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
• হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

- অধিকাংশ ভূমিকম্প (শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ) পৃথিবীর অল্প কিছু জায়গায় সংঘটিত হয়। যেমন- পৃথিবীর বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালা জাপান, ফিলিপাইন, নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা ও সামুদ্রিক শৈলশিরাসমূহ।
- ভূমিকম্পের সংখ্যার দিক থেকে জাপান বিশ্বে প্রথম।
- বছরে প্রায় গড়ে ৭,৫০০টি ভূমিকম্প হয় জাপানে।
- জাপানের পর সর্বাধিক ভূমিকম্প হয় ইতালিতে, গড়ে প্রায় ৫০০টি।
- এছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও চিলি এবং আমেরিকার গুয়েতেমালায় অধিক ভূমিকম্প হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি ১ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে জাপানে ৭.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- এরপর জাপানি কর্তৃপক্ষ ইশিকাওয়া, নিগাতা, নাগানো এবং তোয়ামা প্রশাসনিক অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।
- পৃথিবীর ভূ-ত্বক ৮টি বড় বড় টুকরা এবং ৬টি আঞ্চলিক টুকরা দ্বারা বিভক্ত। এগুলো টেকটনিক প্লেট নামে পরিচিত।

- ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা
Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো -
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।) 
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)। 
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি) ।

তথ্যসূত্র:  ১. ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
২,৪৭০.
পেঁপে - এর ‘রিং স্পট’ রোগ হয় কোনটির কারনে?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. পরজীবী
ব্যাখ্যা
 ভাইরাস পোষকের নাম রোগের নাম
 মোজাইক ভাইরাস তামাক, ফুলকপি, শিম ও শসা মোজাইক
 পিআরএসভি ভাইরাস পেঁপে রিং স্পট
 বুশিষ্ট্যান্ট ভাইরাস টমেটো বুশিষ্ট্যান্ট
 টুংগ্রো ভাইরাস ধান টুংগ্রো
 টারনিপ ইয়েলো ভাইরাস শালগম পীত

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২,৪৭১.
পোলিও ভাইরাস আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
  1. ১৯০০ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা

- The poliovirus itself was discovered in 1908 by a team led by Viennese immunologist and future Nobel Prize winner Karl Landsteiner.
- The existence of telltale antibodies specific to the virus circulating in the blood of infected persons was discovered only two years later.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

২,৪৭২.
ঈশ্বর কণা কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) পিটার হিগস
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) জি. লেমেটার
ব্যাখ্যা
পিটার হিগস একজন ব্রিটিশ পদার্থবিদ, যার পুরো নাম পিটার ওয়ার হিগস।

তিনি ২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানের উপর নোবেল পুরস্কার পান। পিটার ওয়ার হিগস এবং তার সহকর্মী ১৯৬৪ সালে এই বসন কণা সম্পর্কে ধারণা দেন। পরবর্তীকালে, বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালে এর অস্তিত্ব খুজে পান। 

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
 
২,৪৭৩.
AIDS কবে প্রথম ধরা পড়ে?
  1. ক) ১৯৮০
  2. খ) ১৯৯৮
  3. গ) ১৯৯৪
  4. ঘ) ১৯৮১
ব্যাখ্যা

On June 5, 1981, the first cases of an illness subsequently defined as acquired immunodeficiency syndrome (AIDS) were reported by health-care providers in California and CDC.
In September of 1982, the CDC used the term AIDS to describe the disease for the first time.
Scientists have traced the origin of HIV back to chimpanzees and simian immunodeficiency virus (SIV), an HIV-like virus that attacks the immune system of monkeys and apes.
Source: CDC and History.com 

২,৪৭৪.
নিচের কোন জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে?
  1. চাঁদ
  2. শুক্র
  3. ডিমোস
  4. লুব্ধক
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ ও ভূ-মন্ডল:
⇒মহাবিশ্বের মহাকাশে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, নীহারিকা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও উল্কা ইত্যাদিকে জ্যোতিষ্ক বলে।
-যে সকল জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তাদেরকে নক্ষত্র বলে। যেমন: সূর্য, লুব্ধক, প্রক্সিমা সেন্টরাই।
- পৃথিবীর আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম হল লুব্ধক। লুব্ধক একটি জোড়া বা যুগ্মতারা।
উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে শুধু লুব্ধক এর নিজস্ব আলো আছে,
-বাকি অপশনের শুক্র একটি গ্রহ এবং চাঁদ ও ডিমোস দুইটি উপগ্রহ যারদের  নিজস্ব আলো নেই।


উল্লেখ্য,
-আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। যেমন-পৃথিবী, সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়।
- গ্রহসমূহের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান নিজস্ব আলোকবিহীন জ্যোতিষ্ককে উপগ্রহ বলে। যেমন- চাঁদ, পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- মহাকাশে কখনও কখনও কোন জ্যোতিষ্ক কিছু দিনের জন্য দেখা যায় আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। এসব জ্যোতিষ্ক কে ধূমকেতু বলে। যেমন- হ্যালির ধূমকেতু।
- সুদূর আকাশে স্বল্প আলোকিত মেঘের মত আস্তরণকে নীহারিকা বলে। এগুলো আসলে হালকা গ্যাসের অতিকায় পিণ্ড।
- একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে।
- মেঘমুক্ত রাতের আকাশে কোটি কোটি নক্ষত্রকে উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত দীপ্তমান পথের মত দেখায় বলে একে ছায়াপথ বলে।
- মহাশূন্যের কোটি কোটি নক্ষত্র, ধূলিকণা ও বিশাল বাষ্পকুন্ডসহ নীহারিকার এক একটি দলকে বলা হয় গ্যালাক্সি।
- একটিমাত্র গ্যালাক্সিতেই প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি নক্ষত্র রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন।
- বিজ্ঞানীরা বিশ্বভ্রহ্মান্ডে কয়েক হাজার কোটি গ্যালাক্সির আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭৫.
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চিংড়ি চাষের জন্য কী করা হয়?
  1. মিঠা পানি সংরক্ষণ করা হয়
  2. গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়
  3. নালা কেটে লবণাক্ত পানি আনা হয়
  4. বৃষ্টির পানি পরিশোধন করা হয়
ব্যাখ্যা

• সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলায় চিংড়ি চাষের জন্য নালা কেটে লবণাক্ত পানি আনা হয়।

• বাংলাদেশে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব:
- বর্তমানে গ্রীষ্মকালে অনেক বেশি গরম পড়ে।
- মাঝে মাঝে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ৪৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়।
- গ্রীষ্ম ও শীত—উভয় ঋতুতেই আগের তুলনায় তাপমাত্রা বেশি থাকে।
- এটি বৈশ্বিক উষ্ণতার স্পষ্ট প্রমাণ।

• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- পৃথিবীতে সঞ্চিত বরফ গলতে শুরু করে।
- সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
- এর ফলে বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে পারে।

• লবণাক্ততার বিস্তার:
- সাগরের লবণাক্ত পানি মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
- নদনদী, খালবিল ও ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ে।
- মিঠা পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।

• দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাস্তব চিত্র:
- সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলায় চিংড়ি চাষের জন্য নালা কেটে লবণাক্ত পানি আনা হয়।
- এর ফলে ঐ এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিসহ অন্যান্য মিঠা পানির উৎস লবণাক্ত হয়েছে।
- অনেক স্থানে মিঠা পানির একমাত্র উৎস এখন বৃষ্টির পানি।
- ১০–১৫টি গ্রামের মানুষ একটি পুকুরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সারা বছর ব্যবহার করে।
- পানি সংগ্রহের জন্য অনেক গৃহবধূকে ৭–৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়।

• আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
- মালদ্বীপ ও ভারতের কিছু অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে আংশিকভাবে ডুবে গেছে।
- বহু মানুষ জলবায়ু শরণার্থী হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,৪৭৬.
জন্মের কত দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়?
  1. ৪৫ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

• টিকা দেওয়া বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination):
- ইমিউনিটি অর্জনের জন্য দেহের মধ্যে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতিতে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন বলে।
- টিকা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেহে প্রবেশ করিয়ে ইমিউনিটি গড়ে তোলা হয়। এই পদ্ধতিতে সক্রিয় অনাক্রমীকরণের মাধ্যমে ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরির (immunological memory) সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রোগ সংক্রামক জীবাণু শরীরে প্রবশে করলে দেহ দ্রুততার সঙ্গে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- প্রকৃতপক্ষে, দেহে প্রবিষ্ট ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিজেন নির্দিষ্ট T ও B-লিম্ফোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং মেমোরি সেল উৎপন্ন ভ্যাকসিনেশন প্রধানত অণুজীবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও বিভিন্ন বিষ (toxins), যেমন-সাপের বিষ (snake venoun), মাকড়সার বিষ প্রভৃতির বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়।
- জীবাণু বা পরজীবীর আক্রমণে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে ভ্যাকসিনেশন আর কোনো কাজে আসে না। 

• পোলিও:
পোলিও (Poliomyelitis) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সৃষ্ট। এটি মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে স্থায়ী পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে।
- পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকাকে পোলিও ভ্যাকসিন বলা হয়। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

 • পোলিও টিকার প্রকারভেদ: 
১। OPV (Oral Polio Vaccine):
- মুখে খাওয়ানো টিকা।
- জীবিত কিন্তু দুর্বল ভাইরাস থাকে।
- বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। 
- জন্মের একমাস বা ৩০ দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়। যা দ্রুত সুরক্ষার জন্য নিয়মিত টিকাদান তালিকার অংশ হিসেবে ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে দেওয়া ডোজের আগে দেওয়া হয়। 

২। IPV (Inactivated Polio Vaccine):
- ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
- মৃত ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
- এটি পোলিও ভাইরাসের কারণে হওয়া পক্ষাঘাত প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
- সাধারণত শিশুদের পোলিও টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ডোজ হিসেবে ২ মাস বয়সে দেওয়া হয়।



উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৭৭.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয়ের সঙ্গে কতটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি ওপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে।
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে  ডান  এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৪৭৮.
কোথায় অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. ক) হ্রদ
  2. খ) পাহাড়ি ঝরনা
  3. গ) পুকুর
  4. ঘ) সাগর
ব্যাখ্যা
আবদ্ধ পানি (যেমন: হ্রদের পানি, পুকুরের পানি) এর চেয়ে দ্রুত চলমান পানিতে (যেমন: পাহাড়ি ঝরনা, নদী) অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। 
Rapidly moving water, such as in a mountain stream or large river, tends to contain a lot of dissolved oxygen, whereas stagnant water contains less.

Source: usgs.gov and others.
২,৪৭৯.
'যক্ষা' রোগের টিকার নাম কী?
  1. ক) ওপিভি
  2. খ) বিসিজি
  3. গ) ডিপিটি
  4. ঘ) এমএমআর
ব্যাখ্যা
- যক্ষা বায়বাহিত রোগ।
- যক্ষা রোগের টিকার নাম বিসিজি।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।

------------------------
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine)।
- ডিপিটি ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকা।
- এমএমআর ভ্যাকসিন হাম রোগের টিকা।

উৎস: ব্রিটানিকা
২,৪৮০.
কোন বায়ু সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. সাময়িক বায়ু
  2. অনিয়মিত বায়ু
  3. স্থানীয় বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮১.
মাইটোকনড্রিয়া কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) বেনডা
  2. খ) রবার্ট হুক
  3. গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ঘ) থ্রিওফাস্টাস
ব্যাখ্যা
শ্বসনে অংশগ্রহণকারী মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা। ১৮৯৮ সালে বেনডা (Benda) এ অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস।
আবিষ্কার নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। তবে, প্রচলিত উত্তর হিসেবে বেনডা ঠিক আছে।
রেফারেন্সঃ জীববিজ্ঞান বই, এসএসসি লেভেল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮২.
রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রে কয়টি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়? 
  1. ১টি 
  2. ২টি 
  3. ৩টি 
  4. ৭টি 
ব্যাখ্যা

◉ রঙিন টেলিভিশনের (CRT) গ্রাহক যন্ত্রে সাধারণত ৩টি ইলেকট্রন গান ব্যবহার করা হয়। 
প্রতিটি প্রাথমিক রং (লাল, সবুজ, নীল - RGB) এর জন্য আলাদা ইলেকট্রন গান ব্যবহৃত হয়। এই তিনটি রঙের সমন্বয়ে সমস্ত রং তৈরি করা হয়।

রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

তথ্যসূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮৩.
ইকোকার্ডিওগ্রাফি করা হয় কোনটির সাহায্যে?
  1. ক) এক্স রে
  2. খ) আলট্রাসাউন্ড
  3. গ) ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম
  4. ঘ) সিটিস্ক্যান
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ড পরীক্ষা করার জন্য যখন আলট্রাসাউন্ড ব্যবহার করা হয়, তখন এই পরীক্ষাকে ইকোকার্ডিওগ্রাফি বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৪৮৪.
নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. ক) বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
  2. খ) বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
  3. গ) বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
  4. ঘ) বায়ু বলতে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনকেই বোঝায়
ব্যাখ্যা
বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ।

- অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন হল বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদান।
- অক্সিজেন বায়ুর একটি সক্রিয় উপাদান যা, শ্বসনে এবং দহনে সহায়তা করে।
- নাইট্রোজেন উদ্ভিদ এবং জীবদেহে প্রোটিন গঠনের প্রদান উপাদান।
- এছাড়াও বায়ুতে সামান্য পরিমাণে জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই অক্সাইড, ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস আছে।

সূত্র- পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৫.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়-
  1. ইউরেনিয়াম আইসোটোপ
  2. আয়োডিন আইসোটোপ
  3. টেকনিশিয়াম আইসোটোপ
  4. ইরিডিয়াম আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
২,৪৮৬.
চোখের কর্নিয়ায় আলসার রোগটির নাম কী?
  1. অঞ্জনি
  2. রাতকানা
  3. চোখ ওঠা
  4. জেরপথ্যালমিয়া
ব্যাখ্যা
ভিটামিন এ: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃত ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন: লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে। 

ভিটামিন A - এর কাজ হলো: 
- দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে, 
- দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে, 
- হাঁড় এবং দাঁতের গঠন ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে, 
- দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 

- দেহে রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ করে। 
- ভিটামিন A- এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন A- এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে। এই রোগে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন A- এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি,গলাব্যাথা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন A- এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮৭.
বংশগত রোগ কোনটি?
  1. নিউমোনিয়া
  2. হুপিং কাশি
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা
থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে একটি রক্তজনিত সমস্যা। 

থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

লক্ষণসমূহ- 
১. জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
২. তন্দ্রা ও ক্লান্তি
৩. বুকে ব্যথা
৪. হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, হুপিং কাশি ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
২,৪৮৮.
‘সিএফসি’ কী ক্ষতি করে?
  1. ওজোন স্তর ধ্বংস করে
  2. পানির আর্সেনিক দূষণ ঘটায়
  3. মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি করে
  4. বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার পরিমাণ কমিয়ে দেয়
ব্যাখ্যা

• CFC গ্যাস: 
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর। 
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮৯.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে তার নাম কী?
  1. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
  2. সৌরজগৎ
  3. আলফা সেন্টোরি
  4. অ্যান্ড্রোমিডা
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪৯০.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) নিস
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) মার্বেল
ব্যাখ্যা
• পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

• পাললিক শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর,
- কয়লা,
- নুড়িপাথর,
- বেলেপাথর,
- পলিপাথর,
- কর্দমপাথর,
- চক,
- কোকিনা,
- লবণ,
- জিপসাম,
- ডায়াটম,
- ডোলোমাইট ইত্যাদি।

• কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- গ্রাফাইট (কয়লার রূপান্তরিত রূপ),
- মার্বেল (চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ),
- নিস (গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৯১.
Vit-D এর অভাবে-
  1. ক) বেরিবেরি
  2. খ) স্কার্ভি
  3. গ) রিকেটস
  4. ঘ) পেলেগ্রা
ব্যাখ্যা

ভিটামিন-বি১(B1) এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এছাড়া ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি; ভিটামিন-ডি(D) এর অভাবে রিকেটস; এবং ভিটামিন-এ(A) এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,৪৯২.
Which field is associated with honey production?
  1. Pisciculture
  2. Sericulture
  3. Apiculture
  4. Horticulture
  5. Aquaculture
ব্যাখ্যা
• মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা হলো এপিকালচার। 

• এপিকালচার:
- যে পদ্ধতিতে কৃত্রিম ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন করে মৌচাক থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়, তাকে এপিকালচার বলা হয়।

• এটি কৃষির একটি বিশেষায়িত শাখা যেখানে মৌমাছির প্রজনন, পরিচর্যা এবং মধু, মোম, পরাগরেণু, রয়‍্যাল জেলি ও প্রোপোলিসের মতো মূল্যবান পণ্য উৎপাদন সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
- মধু উৎপাদন বা মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা হলো এপিকালচার।
- এটি কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মৌমাছি পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

• এপিকালচারের গুরুত্ব:
→ অর্থনৈতিক উপকারিতা:
- মধু ও মৌমাছির অন্যান্য উপজাত দ্রব্য (যেমন মোম, প্রোপোলিস) বিক্রি করে আয় করা যায়।
- বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষকদের জন্য এটি একটি লাভজনক পেশা।
→ পরাগায়নে ভূমিকা:
- মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে, যা কৃষি উৎপাদন ২০-৩০% পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
→ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা:
- মৌমাছি বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
• পিসিকালচার- এটি হলো আধুনিক কৃষির একটি বিশেষ শাখা যেখানে মাছ চাষ, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• সেরিকালচার- এ শাখায় রেশমকীট পালন ও রেশম উৎপাদন অর্থাৎ রেশম চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• হর্টিকালচার- আধুনিক কৃষির এ শাখায় ফলমূল, শাকসবজি ও ফুলের চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• অ্যাকুয়াকালচার- এ শাখায় মাছ, শেলফিশ, জলজ উদ্ভিদ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- FAO (Food and Agriculture Organization).
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)।
২,৪৯৩.
অ্যাডিনো ভাইরাস মানুষের দেহে কোন রোগ সৃষ্টি করে?
  1. জলাতঙ্ক
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা
  3. গুটিবসন্ত
  4. নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
- অ্যাডিনো ভাইরাস মানুষের দেহে 'নিউমোনিয়া' রোগ সৃষ্টি করে।  

ভাইরাস: 

- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো - 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪৯৪.
নিচের কোনটি অকোষীয়?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
- ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
- কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৪৯৫.
ধানের টুংরো ভাইরাস ছড়ায় কোন পোকা?
  1. সবুজ পাতা ফড়িং
  2. মাজরা পোকা
  3. গলমাছি
  4. পামরি পোকা
ব্যাখ্যা
সবুজ পাতা ফড়িং (Green leaf hopper):
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
১) পূর্ণবয়স্ক ও বাচ্চা উভয় অবস্থায় এ পোকা ধানের পাতার রস শুষে খায়।
২) গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও গাছ খাটো হয়।
৩) এ পোকা টুংরো ভাইরাস ছড়ায়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
২) হাতজাল ব্যবহার করে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
৩) প্রতিরোধী জাত যেমন বিআর-১, বিআর-২, বিআর-৫, বিআর-৬, বিআর-১০, বিআর-১২ জাতের ধান চাষ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৬.
নিচের কোনটি রবি মৌসুমের শাকসবজি নয়?
  1. বাঁধাকপি
  2. মূলা
  3. গাজর
  4. পটল
ব্যাখ্যা
→ পটল খরিপ মৌসুমের শাকসবজি।

• রবি মৌসুম:
- শাকসবজি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, গাজর, লাউ, সীম, টমেটো, আলু।

- এ ছাড়া বোরো ধান, গম, ডাল ও সরিষা রবি মৌসুমের ফসল।

• খরিপ মৌসুমকে পুনরায় দু'ভাগে ভাগ করা হয়।
• খরিপ-১:
- ফাল্গুন মাস হতে আষাঢ় মাস (মার্চ মাস থেকে জুলাই মাস) পর্যন্ত সময় খরিপ-১ এর অন্তর্ভুক্ত।
- এ সময়কালকে গ্রীষ্মকালও বলা হয়।
- এ সময় তাপমাত্রা বেশি থাকে। মাঝে মাঝে ঝড় বৃষ্টি হয়।
- আউশ ধান, পাট, ঢেঁড়শ, করলা, পটল, কাঁকরোল, বরবটি ইত্যাদি ফসলের চাষ হয়।
- আম, জাম, কাঠাল, লিচু, পেঁপে ইত্যাদি এ মৌসুমের প্রধান ফল।

• খরিপ-২:
- আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস (মধ্য জুলাই থেকে মধ্য অক্টোবর) পর্যন্ত সময়কাল খরিপ-২ এর অন্তর্ভুক্ত।
- এ মৌসুমে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- এ মৌসুমকে তাই বর্ষাকাল বলে।
- আমন ধান ও বর্ষাকালীন শাকসবজি এ মৌসুমের প্রধান ফসল।
- প্রধান ফলের মধ্যে জাম্বুরা, তাল, আমলকি, কাঁঠাল, জলপাই উল্লেখযোগ্য।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৭.
কোনটির উপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি (Camotherapy) গঠিত?
  1. ক) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  2. খ) কোষ বিভাজন
  3. গ) চৌম্বকক্ষেত্র
  4. ঘ) আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
কেমোথেরাপি (Camotherapy) :
কেমোথেরাপি এমন এক ধরনের চিকিৎসা যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনের কোষ ধ্বংস করা হয়। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।
জীবদেহের কোষ বিভাজনের উপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত।

কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। কোষ বিভাজনের কোন ধাপে প্রয়োগ করা হবে তার উপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধ ঠিক করা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে।
যেমন প্রতিদিনে একবার, সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার প্রভৃতি । সাধারণত এভাবে প্রায় ছয়বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়।

উৎস : বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৮.
T2 ভাইরাস কোনটিকে আক্রমণ করে?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) মাছি
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের পরজীবিতা সাধারণত সুনির্দিষ্ট অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রকারের ভাইরাস কোনো সুনির্দিষ্ট জীবদেহে পরজীবী হয়।
প্রকৃতপক্ষে কোনো ভাইরাসের প্রোটিন আবরণটিই নির্ণয় করে তার আক্রমণের সুনির্দিষ্টতা।

- ফায ভাইরাস কেবল ব্যাকটেরিয়া কোষেই আক্রমণ করে।
- ফায ভাইরাসের মধ্যে T2- ব্যাকটেরিওফায E. coli ব্যাকটেরিয়াকেই আক্রমণ করে।
- TMV ভাইরাস কেবল তামাক গাছকেই আক্রমণ করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৪৯৯.
শিশুদের জন্মের কত বছর পর পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে?
  1. ক) ১২ মাস
  2. খ) ২০ মাস
  3. গ) ১৮ মাস
  4. ঘ) ২৪ মাস
ব্যাখ্যা
পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে সিরিয়াল এবং শাকসবজি ও ডিমের মতো পারিবারিক খাবার চটকে খাওয়াতে হবে।
দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে। একেই বলে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো। এর মধ্য দিয়ে শিশু শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়া থেকে পারিবারিক খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। শিশুর ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্বে ছয় মাস থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং এমন একটি সময়ে এটা হয় যখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

সূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট। 
২,৫০০.
ক্রিটিনিজমে কোন হরমোনের ঘাটতি শিশুর বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি করে? 
  1. অক্সিটোসিন
  2. ইনসুলিন
  3. থাইরয়েড
  4. অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতার সাথে সম্পর্কিত কিছু রোগ রয়েছে যা দেখে সহজে শনাক্ত করা যায়। 
যেমন- 
ক) মাইক্রোসেফালি: 
- মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক ছোট, এরা গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়। 

খ) হাইড্রোসেফালি: 
- মাথার ভিতরে তরল পদার্থ জমে থাকে, ফলে মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক বড় হয়। 

গ) ডাউন সিনড্রোম: 
- মুখোমন্ডল গোলাকার, তীর্যক চোখ, চোখের পাতা পুরু হয়। জন্মের সময় শিশু দুর্বল ও শিথিল থাকে। হাত, পা ও ঘাড় খাটো হয়। উপুর হওয়া, বসা, হাঁটা দেরি হয়। 

ঘ) ক্রিটিনিজম: 
- শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বিলম্ব হয়। শিশুর দেহে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কম হয়। ফলে শিশু খুব ধীরে বেড়ে ওঠে, কপাল ছোট, মুখমন্ডল ও হাত-পা ফোলা ইত্যাদি। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।