বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২২ / ৩৯ · ২,১০১২,২০০ / ৩,৮৭৯

২,১০১.
কৃমি বিস্তারে প্রধানত কোন নিয়ামকটি সহায়তা করে?
  1. ক) দূষিত বায়ু
  2. খ) দূষিত খাদ্য
  3. গ) দূষিত মাটি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দূষিত খাদ্য প্রধানত কৃমি বিস্তারে সহায়তা করে। 

কৃমি হচ্ছে একরকমের পরজীবী প্রাণী, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে বাস করে সেখান থেকে খাবার গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।
লক্ষণসমূহ- 
১. কৃমি হলে কিছু কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, যেমন-বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেট মোটা বা ভারি হওয়া, খাবারে অরুচি, মুখে থুথু ওঠা।
২. কৃমি হলে সাধারণত অপুষ্টি দেখা দেয়। রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
৩. অনেক সময় বক্র কৃমির এক মুখ শিশুদের এপেনডিক্সের মধ্যে প্রবেশ করে, ফলে এপেনডিসাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

কৃমির ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ- 
- পেটে ব্যথা
- বমি
- শরীর দুর্বল লাগা
- ডায়রিয়া
- রক্তশূন্যতা
- ওজন কমে যাওয়া।

সূত্র- ১২১ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১০২.
সাইক্লোনের উৎপত্তির জন্য সমুদ্রের তাপমাত্রা ন্যূনতম কত ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হতে হবে?
  1. ২১° সেলসিয়াস
  2. ২৭° সেলসিয়াস
  3. ২৩° সেলসিয়াস
  4. ৩০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- সাইক্লোন (ঘূর্ণিঝড়) সৃষ্টির জন্য সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা ন্যূনতম ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়, যা উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস সরবরাহ করে এবং ঘূর্ণিঝড়কে শক্তি জোগায়। 

সাইক্লোন: 
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone.
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কুণ্ডলি পাকানো সাপের আকার ধারণ করে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। 

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ: 
- সাইক্লোন নামক দুর্যোগটি সৃষ্টির প্রধান কারণ উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্নচাপ। 
- গভীর সমুদ্রে এবং আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায় সাইক্লোন সৃষ্টি হয়। 
- সাধারণত সাইক্লোন সৃষ্টির জন্য তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রয়োজন এবং ঝড়ের সময় বাযুপ্রবাহের গতিবেগ ৬৫ কিলোমিটার বা তার বেশি হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এইরূপ তাপমাত্রা বিদ্যমান। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। 
- এটি উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে। 
- এছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১০৩.
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত সূত্র প্রদান করেন কে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. এডুউন হাবল
  3. জি. লেমেটার
  4. জন হেস এবং ডি. কার্ল
ব্যাখ্যা

- ১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী এডুইন হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
- তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এটি হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।
সূত্রটি হলো-
- গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি, পরস্পর থেকে দূরে সরে যাওয়ার বেগও তত বেশি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,১০৪.
'On the Origin of Species' বইটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৫৮
  2. খ) ১৮৫৯
  3. গ) ১৮৫৭
  4. ঘ) ১৮৬১
ব্যাখ্যা

On the Origin of Species, published on 24 November 1859, is a work of scientific literature by Charles Darwin that is considered to be the foundation of evolutionary biology.
Darwin's book introduced the scientific theory that populations evolve over the course of generations through a process of natural selection.
Source: Britannica.com

২,১০৫.
এক রক্তদান শিবিরে আপনি যদি 250 ml রক্তদান করেন তাহলে আপনার শরীরের মোট রক্তের শতকরা কত ভাগ রক্ত নেয়া হবে?
  1. ক) ৫%
  2. খ) ৮%
  3. গ) ৭%
  4. ঘ) ৪%
ব্যাখ্যা

গড়ে একজন মানুষের শরীরে ৫ লিটার বা ৫০০০ মি.লি. রক্ত থাকে। 
রক্ত দান শিবিরে কেউ ২৫০  মি.লি. রক্ত দান করলে সে তার শরীরের শতকরা = ২৫০×১০০/৫০০০ = ৫% রক্ত নেয়া হবে। 

২,১০৬.
নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সঞ্চিত জলরাশিতে কোন শক্তি জমা হয়?
  1. স্থিতি শক্তি
  2. গতি শক্তি
  3. ঘর্ষণ শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা
জলবিদ্যুৎ

- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি। পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়। একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় জলরাশিতে জমা হয় স্থিতিশক্তি, কিন্তু যে শক্তি কাজে লাগানাে হয় তা হলাে গতিশক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০৭.
টেট্রাসাইক্লিন এন্টিবায়োটিক উৎপাদনে কোন অণুজীবটি ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) Penicillium sp
  2. খ) Streptomyces griseus
  3. গ) Streptomyces rimosus
  4. ঘ) Streptomyces fradic
ব্যাখ্যা
অনুজীব দ্বারা তৈরি বিভিন্ন এন্টিবায়োটিক:
- Penicillium sp - পেনিসিলিন।
- Streptomyces griseus - স্ট্রেপটোমাইসিন।
- Streptomyces rimosus - ট্রেট্রাসাইক্লিন। 
- Bacillus polymyxa - পলিমিক্সন।
- Streptomyces fradic - নিউমাইসিন।
২,১০৮.
পাটের জিনোম আবিষ্কারকের নাম কী?
  1. ড. রফিকুল ইসলাম
  2. ড. গোলাম মোস্তফা
  3. ড. মাকসুদুল আলম
  4. ড. এম আর খান
ব্যাখ্যা
• পাটের জীবন রহস্য:
- ২০১০ সালে পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একটি গবেষণাদল।
- প্রথমে তোষা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কৃত হয়।
- ২০১৩ সালে মাকসুদুল আলম দ্বিতীয় ধাপে দেশি পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করেন।
- যার মাধ্যমে প্রাণী বা উদ্ভিদের জেনেটিক (জন্মগত) বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা জানা যায়।
- ২০১২ সালে পাটের জন্য ক্ষতিকর ম্যাক্রোফমিনা ফাসিওলিনা নামের এক ধরনের ছত্রাকের জিনোম সিকোয়েন্স জীবনরহস্য উন্মোচন করা।
- যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ইউনিভার্সিটির অণুজীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন মাকসুদুল আলম।
- ২০০৮ সালে এই গবেষণার সূত্রপাত হয়। স্বপ্নযাত্রা নামে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ১১ জন গবেষক ও ২০ জন তথ্য-প্রযুক্তিবিদ।

উৎস: বিবিসি নিউজ রিপোর্ট এবং কালের কণ্ঠ নিউজ রিপোর্ট, ১৯ জানুয়ারি ২০১১।
২,১০৯.
বাংলাদেশে কয়টি ভূ-কম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আছে?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ০২ টি
  4. ঘ) ০৪ টি
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-কম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে মোট ৪টি। যথা : ঢাকা, চট্রগ্রাম, রংপুর ও সিলেট।
২,১১০.
বায়ুমণ্ডলে CO2-এর উপস্থিতি কত শতাংশ?
  1. ৭৮.০২%
  2. ২০.৭১%
  3. ০.০৩%
  4. ০.৮০%
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)-এর পরিমাণ মোট গ্যাসের তুলনায় খুবই ছোট, তবে তা পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বায়ুমণ্ডলের প্রধান গ্যাস হলো নাইট্রোজেন, যার অংশ ৭৮.০২%, এবং অক্সিজেনের অংশ ২০.৭১%। CO2-এর পরিমাণ এই দুইটির তুলনায় খুব কম, মাত্র প্রায় ০.০৩%। অর্থাৎ, চারটি অপশনের মধ্যে সঠিক উত্তর হলো গ) ০.০৩%। যদিও CO2 মাত্রই থাকে, তাপ ধরে রাখার কারণে এটি গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। মানুষের ক্রিয়াকলাপ যেমন জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো CO2-এর পরিমাণ বাড়াচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে।

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত। 
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে। 

• আয়তন অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণ-
নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
অক্সিজেন- ২০.৭১%
আর্গন - ০.৮০%
কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
অন্যান্য গ্যাসসমূহ- ০.০২%
ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১১১.
সমুদ্রস্রোতের কারণ নয় কোনটি?
  1. অনিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  2. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  3. পৃথিবীর আহ্নিক গতি
  4. সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রস্রোতের কারণ নয়- অনিয়ত বায়ুপ্রবাহ । 

সমুদ্রস্রোত (Ocean Currents): 

- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ (Friction) তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন (Gyre/spiral pattern) তৈরি করে। 
- সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে। 
- সমুদ্রস্রোতকে উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) উষ্ণ স্রোত: 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে উষ্ণ স্রোত (Warm currents) বলে। 

(খ) শীতল স্রোত: 
- মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে শীতল স্রোত (Cold currents) বলে। 

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
১। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। 
- এসব বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলোর সৃষ্টি হয়। 

২। পৃথিবীর আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ুপ্রবাহের মতো সমুদ্রজলও উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৩। সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য: 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলের সমুদ্রের জল বেশি উষ্ণ বলে তা জলের উপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ বা বহিঃস্রোতরূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- অন্যদিকে মেরু অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহ বা অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এইভাবে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৪। মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফের গলন: 
- মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফ কিছু পরিমাণ গলে গেলে জলরাশি স্ফীত হয় ও সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পরিমাণ হ্রাস পায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৫। সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য: 
- সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য অনুসারে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। 
- অগভীর সমুদ্রের জল দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উপরে ওঠে। তখন গভীরতর অংশের শীতল জল নিচে নেমে আসে। এজন্য ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগামী সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 
- সমুদ্রের পৃষ্ঠে গতি সবচেয়ে বেশি। 
- সমুদ্রের ১০০ মিটার নিচ থেকে গতি কমতে থাকে। 

৬। সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য: 
- সমুদ্রজলে লবণের পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়। 
- অধিক লবণাক্ত জল বেশি ভারী বলে তার ঘনত্বও বেশি। 
- বেশি ঘনত্বের জল কম ঘনত্বের দিকে নিম্ন প্রবাহরূপে প্রবাহিত হয় ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। 

৭। ভূখন্ডের অবস্থান: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে কোনো মহাদেশ, দ্বীপ প্রভৃতি ভূখণ্ড অবস্থান করলে সমুদ্রস্রোত তাতে বাধা পেয়ে দিক ও গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। 
- অনেক সময় এর প্রভাবে সমুদ্রস্রোত একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১২.
বিগ ব্যাং এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে -
  1. ক) সময়
  2. খ) শক্তি
  3. গ) স্থান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• অভ্যন্তরীণ বিপুল তাপ ও চাপের কারণে প্রচন্ড শব্দে ডিম্বাকার বস্তুর মহাবিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের এই মহাবিশ্ব আর এটাই বিগ ব্যাং তত্ত্ব‌।
এর ফলে সৃষ্টি হয় সময়, স্থান, শক্তি ও পদার্থ।
• এর কারণে সৃষ্ট খণ্ডগুলো হলো- গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, ধূমকেতু ইত্যাদির যা প্রতিনিয়ত পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
• ১৯২৭ সালে এই তত্ত্ব প্রকাশ করে বিজ্ঞানী জি ল্যামেটার।
• এইজন্য তাকে বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বলা হয়।
• বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। তিনি একজন ব্রিটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী।
২,১১৩.
পৃথিবী সূর্যের কততম নিকটতম গ্রহ? 
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
পৃথিবী (Earth): 
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার। 
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড, তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হয়। 
- চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী। 
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১৪.
পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস কত কিলোমিটার?
  1. ১২,৭১৫ কি.মি.
  2. ১২,৭৫৭ কি.মি.
  3. ৬,৪০০ কি.মি.
  4. ১২,৮০০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
২,১১৫.
চা-পাতার রেড রাস্ট রোগের সৃষ্টি করে-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) শৈবাল
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) সায়ানো ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী উদ্ভিদরাই শৈবাল। এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে। এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না। এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে। ‘স্পাইরোগাইরা’ নামক শৈবাল জলাশয়ে পাওয়া যায়। সামদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আয়োডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামদ্রিক শৈবাল। মৎস্য চাষে ফাইটোপ্ল্যাংক্টন বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর প্রধান অংশই শৈবাল। চা-পাতার রেড রাস্ট শৈবাল জাতীয় মারাত্মক রোগ। পুকুরে শৈবাল ওয়াটারব্লুম সৃষ্টি করে। ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
২,১১৬.
সূর্যের কয়টি গ্রহ আছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
ব্যাখ্যা
পূর্বে সৌরজগতের গ্রহের সংখ্যা ৯টি থাকলেও পরবর্তীতে প্লুটো গ্রহ তার গ্রহ হওয়ার যোগ্যতা হারায় যার ফলে বর্তমানে গ্রহের সংখ্যা ৮টি। 

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি। 
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই। 
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)। 
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের। 
- শনি গ্রহের উপগ্রহের্ সংখ্যা  ৮৩টি। 
- অপরদিকে বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
২,১১৭.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'সমুদ্রস্রোত' একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যা পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়। 
- এই 'সমুদ্রস্রোত' নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৮.
লোহিত রক্ত কণিকা সৃষ্টি হয় -
  1. ক) প্লীহাতে
  2. খ) যকৃতে
  3. গ) অস্থিমজ্জায়
  4. ঘ) হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকার আয়ু ১২০ দিন।
লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

[উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।]
২,১১৯.
SARS রোগটি প্রথম দেখা দেয়
  1. ক) ২০০৩ সালে
  2. খ) ২০০৪ সালে
  3. গ) ২০০৫ সালে
  4. ঘ) ২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা
SARS(Severe acute respiratory syndrome) একটি ভাইরাল শ্বাসযন্ত্রের রোগ। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে এটি প্রথম চীনে দেখা দেয় এবং ৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
Source: www.who.int/
২,১২০.
'সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে'- সূত্রটি কে প্রদান করেন?
  1. কোপারনিকাস
  2. গ্যালিলিও
  3. কেপলার
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- তিনি সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত

• প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২১.
জীবাশ্মগত বিদ্যাকে বলা হয়-
  1. ক) Parasitology
  2. খ) Ophthalmology
  3. গ) Palaeontology
  4. ঘ) Helminthology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি ।
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা।
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো।
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়।
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১২২.
BCG টিকা কোন রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা হয়?
  1. যক্ষ্মা
  2. হাম
  3. হেপাটাইটিস
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

• BCG টিকা প্রধানত যক্ষ্মা (Tuberculosis) প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। সাধারণত শিশুরা জন্মের পর এই টিকা গ্রহণ করে, যা শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে যক্ষ্মার সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে। BCG টিকা কাশির মাধ্যমে ছড়ানো সংক্রমণকে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অন্যান্য রোগ যেমন হাম, হেপাটাইটিস বা টাইফয়েড প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক) যক্ষ্মা।

• যক্ষ্মা:
- যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। যেকোনো লোক যেকোনো সময় এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
- যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গে হতে পারে। 

• দেহে এ রোগের আক্রমণ ঘটলে সহজে এর লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
-  যখন জীবাণুগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকাকে পরাস্ত করে দেহকে দুর্বল করে, তখনই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- এ মারাত্মক রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে হলে যক্ষ্মা প্রতিষেধক বিসিজি টিকা দিতে হবে।
- সাধারণত শিশুর জন্মের পর থেকে এক বছর বয়সের মধ্যে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

২,১২৩.
অনিশ্চয়তা নীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. আর্থার কম্পটন
  2. লুই দ্য ব্রগলি
  3. নিলস বোর
  4. ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ
ব্যাখ্যা

• অনিশ্চয়তা নীতি (Uncertainty Principle):
- প্রবর্তন করেন Werner Heisenberg.
- এটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার (যেমন ইলেকট্রন) অবস্থান ও ভরবেগ একই সাথে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায় না।
- কোনো কণার অবস্থান যত বেশি নির্ভুলভাবে জানা যাবে, তার ভরবেগ তত কম নির্ভুলভাবে জানা যাবে—এবং বিপরীতটিও সত্য।

• গুরুত্ব:
- এটি প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্র জগতে (Quantum world) নির্ধারিত (deterministic) ধারণা প্রযোজ্য নয়।
- কণার আচরণ সম্ভাবনাভিত্তিক।
- শাস্ত্রীয় পদার্থবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এখানেই স্পষ্ট হয়।

• সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা (আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিকাশে অবদান):
- Max Planck — কোয়ান্টাম তত্ত্ব,
- Albert Einstein — আপেক্ষিকতা তত্ত্ব,
- Niels Bohr — পরমাণু মডেল,
- Louis de Broglie — বস্তু তরঙ্গ তত্ত্ব,
- Arthur Compton — কম্পটন প্রভাব।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২৪.
আইভরি ব্ল্যাক কি?
  1. ক) রক্ত কয়লা
  2. খ) সক্রিয় কয়লা
  3. গ) কালো রঙ
  4. ঘ) অস্থিজ কয়লা
ব্যাখ্যা

'আইভরি ব্ল্যাক' হলো অস্থিজ কয়লা।

প্রাণিদেহের চর্বিমুক্ত হাড়ের বিধ্বংসী পাতনের ফলে উৎপন্ন হয় প্রাণীজ বা অস্থিজ কয়লা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়লার কার্বনের অনুপাত বাড়তে থাকে এবং কয়লার গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। এজন্য খনিজ কয়লার মধ্যেও শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।
যেমন: পীট কয়লা, লিগনাইট, বিটুমিনাস এবং অ্যানথ্রাসাইট।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।

২,১২৫.
জিকা ( Zika) একটি _____ এর নাম।
  1. ক) মুল্যবান পাথর
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) পার্ক
  4. ঘ) নদী
ব্যাখ্যা
জিকা ভাইরাস প্রথম ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় রেসাস ম্যাকাক বানরের দেহে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে উগান্ডা ও তানজানিয়াতে মানবদেহে প্রথমবারের মত শনাক্ত করা হয়। Aedes aegypti ও Aedes albopictus এই ২ ধরণের এডিস মশা দিয়ে এই ভাইরাস ছড়ায়।
সূত্রঃ britannica
২,১২৬.
অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে-
  1. অফসেট মুদ্রণ পদ্ধতিতে
  2. পোলারয়েড ফটোগ্রাফি পদ্ধতিতে
  3. ডিজিটাল ইমেজিং পদ্ধতিতে
  4. স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
ফটোকপি মেশিন কাজ করে বিপরীত আকর্ষণ নীতিতে। যা তৈরি হয় স্ট্যাটিক ইলেক্ট্রিসিটি অর্থাৎ স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে। 
২,১২৭.
ইউরিয়া সার জমিতে একবারে প্রয়োগ না করে কয়েক বারে প্রয়োগ করা হয় কেন?
  1. গাছ দ্রুত গ্রহন করতে পারে না বলে
  2. মাটিতে সংযোজন হয়ে যায় বলে
  3. চুয়ানির মাধ্যমে নষ্ট হয় বলে
  4. গ্রহনোপযোগী হতে দেরী হয় বলে
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া:
- নাইট্রোজেনজাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে।
- ইউরিয়া এক ধরণের সাদা দানাদার পদার্থ।
- এর উল্লেখযোগ্য ধর্ম হচেছ এটি পানি গ্রাহী পদার্থ।
- যদিও এ সার সহজেই পানিতে দ্রবণীয় কিন্তু সাধারণ অবস্থায় এটি জলীয় বাষ্প শোষণ করে না তবে স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় দানা গলে যেতে পারে।

⇒ বাজারে সচরাচর প্রাপ্ত ইউরিয়ায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪০-৪৫%, তবে রাসায়নিকভাবে বিশুদ্ধ ইউরিয়ায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬-৪৭%।
- কৃত্রিম উপায়ে কল- কারখানায় উৎপাদিত সার ছাড়াও ইউরিয়া জৈব রাসায়নিক যৌগ হিসেবে মাটিতে অবস্থান করে।
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়।

⇒ এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে।
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে।
- ইউরিয়া সার মাটিতে প্রয়োগ করার পর পানির সাথে যুক্ত হয়ে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম প্রস্তুত হয়।
- উদ্ভিদ সাধারণত নাইট্রেট ও অ্যামোনিয়াম আকারে ইউরিয়া সার গ্রহণ করে।
- অ্যামোনিয়াম পরিণত হওয়ার সময় কিছু পরিমাণ ইউরিয়ার বায়বীয় অপচয় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- এতে ইউরিয়ার শুধু অপচয়ই হয় না উদ্বায়নের সময় বীজের অঙ্কুরোদগম বা চারা গাছের ক্ষতি করে।
- চুনযুক্ত ক্ষারীয় মাটিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- চুয়ানির মাধ্যমেও ইউরিয়া নষ্ট হয়, ফলে জমিতে ইউরিয়া একবারে ব্যবহার না করে কয়েকবার ব্যবহার করা হয়।
- ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা দ্রুত এবং স্থায়ীত্বও কম।
- প্রয়োগের এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ পরিশোষণ শুরু করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৮.
কোন প্রকার সতর্কতা ছাড়াই কোন ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. খরা
  2. ভূমিকম্প 
  3. সুনামি
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake):
- ভূ-ত্বক সাতটি বৃহৎ এবং কতকগুলো ছোট প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহ একে অপরের দিকে, একে অপরের বিপরীতে অথবা পরস্পর সমান্তরালভাবে সঞ্চালিত হয়।
- এইরূপ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট চাপ থেকে আকস্মিকভাবে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-পৃষ্ঠে এই কম্পন ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
- কোন প্রকার সতর্কতা ছাড়াই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
 
উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-গাঠনিক কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। 
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- দেশের কোন অঞ্চল কোন মাত্রার ভূমিকম্প ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত তা নিম্নে দেখানো হলো:
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের মধ্যাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
 
উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,১২৯.
পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি দায়ী?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. কার্বন মনো অক্সাইড
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা
• পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস সবচেয়ে বেশি দায়ী।
- এটি গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কাজ করে, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ ধারণ করে।

• কার্বন ডাইঅক্সাইড পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর কারণ এটি:
- দীর্ঘস্থায়ী: CO₂ বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায়, প্রায় ১০০ বছর বা তার বেশি।
- প্রধান উষ্ণায়নকারী গ্যাস: অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন মিথেন (CH₄) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) এর তুলনায় CO₂ বেশি পরিমাণে বায়ুমণ্ডলে থাকে এবং এটি উষ্ণায়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
- নির্গমন বৃদ্ধি: শিল্পায়ন, যানবাহন, এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে CO₂ নির্গমন বৃদ্ধি পায়, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও U.S. Environmental Protection Agency।
২,১৩০.
কোন প্রকার শিলাতে জীবাশ্ম দেখা যায়?
  1. পাললিক শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা 
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ। 

⇒ পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
- এই শিলায় স্তরায়ন এবং কাদার চির খাওয়া দাগ লক্ষ্য করা যায়।
- একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় সচ্ছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা দেখা যায়।
- এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি।
- ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বিভিন্ন রকম হয়।
- কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার এই শিলা।
- কাঠিন্য আগ্নেয় শিলার থেকে কম।
- দারণ, ফাটল বা কেলাসের গঠন থাকে না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩১.
নিম্নে উল্লেখিত ভূমিরূপসমূহের মধ্যে কোনটি হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত?
  1. পার্শ্ব গ্রাবরেখা
  2. শৈলশিরা
  3. ভি-আকৃতির উপত্যকা
  4. ইউ-আকৃতির উপত্যকা
ব্যাখ্যা
ইউ-আকৃতির উপত্যকা- হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত হয়। 
-------------------- 
হিমবাহের ক্ষয় সাধনের ফলে অনেক নতুন নতুন ভূমির সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন প্রকার হিমবাহের বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় সাধনের ফলে নিম্নোক্ত ক্ষয়জাত ভূমিরূপের সৃস্টি করে :
১) হৈমবাহিক উপত্যকা (ইউক আকৃতির উপত্যকা - Glaciated Valley), 
২) ঝুৃলন্ত উপত্যকা, 
৩) সার্ক বা কোরি, 
৪) এরিটি ও পিরামিডীয় শৃঙ্গ, 
৫) নুনাট্যাক, 
৬) রসে মতানো, 
৭) হিমসিড়ি ও প্যাটার্নস্টার হ্রদ, 
৮) শৈলময় পর্বত ও অনিয়মিত প্রস্তরখন্ড, 
৯) ক্রিভাসেস, 
১০) ঢিবি ও পুচ্ছ, 
১১) দানবীর সিঁড়ি, 
১২) ফিয়র্ড, 
১৩) কর্তিত স্পার। 

সুত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যবই।
২,১৩২.
গ্রিন হাউস প্রভাবের ফলে পৃথিবীতে কোন পরিবর্তন ঘটে?
  1. বায়ুমণ্ডলের চাপ বৃদ্ধি পায়
  2. রোদ কমে যায়
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় 
  4. সমুদ্রের রঙ পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে, ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে- 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩৩.
কোন পদার্থের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পেছনে দায়ী?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) পেপার
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
- প্লাস্টিক রিসাইকেল করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

সূত্র: Plastics NZ Website [লিঙ্ক]
২,১৩৪.
ফোটন কণা সম্পর্কিত যে তথ্যটি ভুল-
  1. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
  2. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ।
  3. ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ নেই।
  4. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৫.
মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যার নাম কী?
  1. পিসিকালচার
  2. মেরিকালচার
  3. এভিকালচার
  4. এপিকালচার
ব্যাখ্যা

মৌমাছির জাত: 
- মৌমাছির কলোনি তিন প্রকার মৌমাছি নিয়ে গঠিত। 
যেমন- একটি রাণী, কিছু হাজার কর্মী এবং কিছু শত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি মৌমাছি নির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। 
- বহুরূপতা দেখা যায় তাদের দৈহিক গঠনেও, যেখানে রাণী, কর্মী এবং পুরুষ মৌমাছির শারীরিক গঠন ভিন্ন। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে এপিকালচার বলা হয়। 

রাণী মৌমাছির জীবনমান: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে বড় এবং তার উদর প্রশস্ত হয়। 
- রাণী মৌমাছির ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্তে সরু, যেখানে বাঁকানো হুল থাকে যা একটি রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- রাণী মৌমাছির প্রোবোসিস ও রেণুখলি নেই, এবং তাদের ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ হয়। 
- রাণী মৌমাছি মোম ও মধু তৈরি করতে পারে না, তার লালাগ্রন্থি নেই। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,১৩৬.
সমুদ্রস্রোত সংঘটিত হতে নিচের কোনটির প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না?  
  1. লবণাক্ততার তারতম্য
  2. মহীসোপানের অবস্থান
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা
- 'মহীসোপানের অবস্থান' সমুদ্রস্রোত সংঘটিত হতে কোনো প্রভাব ফেলে না। 

সমুদ্রস্রোত: 

- একস্থান থেকে অন্যস্থানে মহাসাগর ও সাগরের পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে মহাসাগরীয় স্রোত বা সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে। 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে এবং সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। 
- উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী সমুদ্রস্রোতকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) উষ্ণ স্রোত ও (খ) শীতল স্রোত।

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
- পানির স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে তার উপরিভাগের সমতা রক্ষা করা। তাই সমুদ্রের একস্থানের পানি অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- নিম্নলিখিত কারণে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়- 
১. বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement) যা সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ,
২. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of Earth),
৩. তাপমাত্রার তারতম্য (Variation in Temperature),
৪. লবণাক্ততার তারতম্য (Variation in Salinity),
৫. স্থলভাগের অবস্থান (Presence of Landmasses),
৬. অসম বাষ্পীভবন (Unequal Evaporation) এবং
৭. সমুদ্রের গভীরতা (Depth of the Ocean) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৭.
দেহে যথেষ্ট স্নেহ না থাকলে মূলত কী সমস্যা বা রোগ হতে পারে?
  1. রাতকানা
  2. অ্যানিমিয়া
  3. একজিমা
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা

• দেহে যথেষ্ট স্নেহ (চর্বি বা ফ্যাট) না থাকলে শরীরের ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর সুরক্ষা কমে যায়। স্নেহ ত্বককে নমনীয় রাখে, আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিকর জৈবিক ও রাসায়নিক পদার্থ থেকে রক্ষা করে। স্নেহের অভাবে ত্বক শুষ্ক, চামড়া ফেটে যাওয়া এবং খসখসে হয়ে যায়, যা একজিমা বা অন্যান্য ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া, স্নেহ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন যেমন A, D, E, K শোষণে সাহায্য করে। তাই স্নেহের অভাব সরাসরি ত্বকের রোগ যেমন একজিমা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত স্নেহ দেহের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

- উত্তর: গ) একজিমা। 

স্নেহ পদার্থের গঠন: 
- তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানকে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট বলা হয়। 
- ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে স্নেহ পদার্থে গঠিত। 
- ফ্যাটি অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যের উপর স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- খাদ্যে প্রায় ২০ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন স্নেহ পদার্থগুলোকে চর্বি বলে। 
যেমন- মাছ ও মাংসের চর্বি। 
- চর্বি হলো সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল স্নেহ পদার্থকে তেল বলে। 
যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি। 
- তেলগুলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 

স্নেহ পদার্থের কাজ: 
১। স্নেহ পদর্থের প্রধান কাজ দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা। 
২। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে। 
৩। দেহে সঞ্চিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
৪। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। 
৫। চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। 
৬। শেহে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে। 

স্নেহ পদার্থের অভাবজনিত অবস্থা: 
- দেহে স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া, একজিমা ইত্যাদি হতে পারে। 
- দীর্ঘদিন স্নেহ পদার্থের ঘাটতি হলে দেহে সঞ্চিত প্রোটিনের ক্ষয় হয়। 
- এতে ওজন হ্রাস হয় ও স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 

অধিক ফ্যাট গ্রহণের কুফল: 
- অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করলে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ইত্যাদি অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩৮.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় কত লাগে? 
  1. ৬ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড 
  2. ১০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড 
  3. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড 
  4. ১২ মিনিট ৫ সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩৯.
পৃথিবীতে চাঁদের আলো আসতে কতক্ষণ লাগে?
  1. ০.৬ সেকেন্ড
  2. ১.৩ সেকেন্ড
  3. ৮ সেকেন্ড
  4. ১.৬ মিনিট
ব্যাখ্যা
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩,৮৪,৪০০ কিমি আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩,০০,০০০ কিমি বেগে চলে।
তাই, চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আলো পৌছাতে ১.৩ সেকেন্ড সময় লাগে।
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৫ম শ্রেণি
২,১৪০.
হিগস বোসন (Higgs Boson) কণা সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. হিগস ক্ষেত্র মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করে।
  2. বোসন কণা সবসময় পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে।
  3. হিগস বোসনের স্পিন ঋণাত্মক।
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

◉ বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। 
- এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের। 
১। গেজ বোসন (Gauge Boson) এবং ২। হিগস বোসন (Higgs Boson) । 

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪১.
'সুনামি' (Tsunami) কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) জাপানি    
  2. খ) ডাচ্
  3. গ) ফরাসী    
  4. ঘ) চীন 
ব্যাখ্যা
সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ।
এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ। এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ। সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম.
২,১৪২.
স্টিফেন হকিং তাঁর কোন গ্রন্থে বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিকতম ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন?
  1. The Theory of Everything
  2. The Universe in a Nutshell
  3. A Brief History of Time
  4. The Grand Design
ব্যাখ্যা
• স্টিফেন হকিং (১৯৪২-২০১৮):
- স্টিফেন হকিং ছিলেন একজন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।
- তিনি মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং বিবর্তন, কৃষ্ণগহ্বর, কাল এবং মহাকর্ষের বিভিন্ন তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেন।
- স্টিফেন হকিং তার বিখ্যাত গ্রন্থ "A Brief History of Time" (১৯৮৮) বইতে বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিকতম ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
- এই বইতে তিনি মহাবিশ্বের সৃষ্টি, কাল, মহাকর্ষ, এবং কণিকা-তত্ত্বের নানা দিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
- পৃথিবীর মানুষের কাছে “The Scientist on a Wheelchair” হিসেবে পরিচিত।
- স্টিফেন হকিং এর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র- ‘Theory of Everything.’

• তাঁর রচিত বইসমূহ-
- The Theory of Everything,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- My Brief History ইত্যাদি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,১৪৩.
নিচের কোনটি দ্বারা দূষিত বাতাস বোঝায়?
  1. GAS
  2. FOG
  3. SMOG
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• SMOG বা ধোঁয়াশা: 
- SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস।
- কতিপয় বিষাক্ত পদার্থ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে ধোঁয়াশায় পরিণত হয় যা জীবের পক্ষে আরও ক্ষতিকর, একে আলোক রাসায়নিক ধোঁয়াশা বা ফটোকেমিক্যাল স্মগ (Photochemical smog) বলে।
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- 'SMOG' শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে।
- মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস:
১. পরিবেশ রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. National Geographic Society.
২,১৪৪.
বৃহস্পতিকে কী বলা হয়?
  1. নক্ষত্র
  2. গ্রহরাজ
  3. সূর্য 
  4. উপগ্রহ
ব্যাখ্যা

- বৃহস্পতি হলো সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। এর বিশাল আয়তন ও ভরের কারণে একে 'গ্রহরাজ' বা 'গ্রহদের রাজা' বলা হয় 

বৃহস্পতি (Jupiter): 

- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ, তাই একে গ্রহরাজ বলে। 
- বৃহস্পতির ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়। 
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে। তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়। 
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)। 
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন। 
- বৃহস্পতির গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৪৫.
টাইডাল রেঞ্জ -এর দৈর্ঘ্য সাধারণত কত মিটার হয়ে থাকে?
  1. ক) ১-১০ মিটার
  2. খ) ৫-১৫ মিটার
  3. গ) ১-২০ মিটার
  4. ঘ) ১০-২৫ মিটার
ব্যাখ্যা
জোয়ার ভাঁটার বিস্তৃতি (Tidal Range):
- উচ্চ জোয়ারের সময় পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ও নিম্ন জোয়ারের সময় পানির সর্বনিম্ন উচ্চতার ব্যবধানকে জোয়ার ভাঁটার বিস্তৃতি বা টাইডাল রেঞ্জ বলে।
- টাইডাল রেঞ্জ সাধারণত ১ মিটার থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে
- ভৌগোলিক অবস্থা ও এলাকার জ্যামিতিক আকৃতি অনুযায়ী টাইডাল রেঞ্জ এর বিভিন্নতা হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৬.
স্নায়ুবিক অস্থিরতা ও চলফেরায় অক্ষমতা দেখা দেয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
  1. ভিটামিন বি-১
  2. ভিটামিন বি-২
  3. ভিটামিন বি-৫
  4. ভিটামিন বি-১২
ব্যাখ্যা
ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিন (Vitamin B12)
ভিটামিন বি-১২ এর রাসায়নিক নাম সায়ানোকোবালামিন (Cyanocobalamin)।
সায়ানোকোবালামিনের উৎস: যকৃত, মাছ, মাংস, বৃক্ক, ডিম ইত্যাদিতে এই ভিটামিন যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়।

সায়ানোকোবালামিনের কাজ: 
১। রক্তের লোহিত কণিকা গঠনে ফলিক এসিডের সাথে ভিটামিন বি-১২ কাজ করে।
২। অত্যাবশ্যক এ্যামাইনো এসিড মিথিওনিন তৈরিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

সায়ানোকোবালামিনের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে পার্নিসাস এ্যনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা হয়ে শরীর ফ্যাকাশে, দুর্বল ও অবসন্ন হয়ে যায়।
২। স্নায়ুবিক অস্থিরতা ও চলফেরায় অক্ষমতা দেখা দেয়।
 
অপরদিকে,
ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়৷
ভিটামিন বি-২ বা রিবোফ্ল্যাভিন এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়।
ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।


উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৭.
বাংলাদেশের কৃষিতে 'শতাব্দী ও ডেলফোজ'  কী ধরনের ফসলের জাত হিসেবে পরিচিত?
  1. ভুট্টা ও তামাক
  2. গম ও তুলা
  3. গম ও টমেটো
  4. আলু ও আম
ব্যাখ্যা

গম:
- গমের উন্নত জাত: বলাকা, দোয়েল, সোনালিকা, আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী
- তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।

অন্যান্য ফসল ও তাদের কিছু উন্নত জাত:
-  ধান: ব্রি হাইব্রিড - ১, সুফলা, প্রগতি।
-  ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা, উত্তরণ।
-  বেগুন: নয়নতারা, শুকতারা, বিজয়।
- আলু: হিরা, গ্রানোলা, কার্ডিনাল।
- আম: ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস। 

২,১৪৮.
মানবদেহে মোট কশেরুকা কয়টি?
  1. ক) ৩০টি
  2. খ) ৩২টি
  3. গ) ৩৩টি
  4. ঘ) ৩৫টি
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ড : অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দন্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া বলে।
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখন্ডক সমন্বয়ে মেরুদন্ড গঠিত। এ সকল অস্থিখন্ডককে কশেরুকা বলে।
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৯.
গামা রশ্মির প্রকৃতি কেমন?
  1. চার্জ পরিবর্তনশীল 
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  4. আধানহীন
ব্যাখ্যা

• গামা রশ্মি একটি ধরনের বৈদ্যুতিক চুম্বকীয় তড়িৎ তরঙ্গ, যা পারমাণবিক বিকিরণ থেকে উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে কোন প্রকার চার্জ বা আধান থাকে না, অর্থাৎ এটি নিরপেক্ষ। গামা রশ্মি শক্তিশালী এবং খুব ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো হিসাবে কাজ করে। এটি পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজেই প্রবেশ করতে পারে এবং ধাতব বা ঘন পদার্থের দ্বারা আংশিকভাবে শোষিত হয়। তাই গামা রশ্মি আধানহীন এবং চার্জবিহীন, যা এটিকে অন্যান্য কণা বিকিরণের তুলনায় আলাদা করে।

- সঠিক উত্তর: ঘ) আধানহীন।

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৫০.
মানবদেহে মাঙ্কিপক্সের উপস্থিতি সর্বপ্রথম কখন ধরা পড়ে?
  1. ক) ১৯৬৮
  2. খ) ১৯৫৮
  3. গ) ২০২২
  4. ঘ) ১৯৭০ 
ব্যাখ্যা
মানবদেহে মাঙ্কিপক্সের উপস্থিতি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে ১৯৫৮ সালে। 

মাঙ্কিপক্স এমন একটি ভাইরাল সংক্রমণ, যা যা পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে। মাঙ্কিপক্সের উপসর্গ অনেকটাই স্মলপক্স বা গুটিবসন্তের মতো। মাঙ্কিপক্স মূলত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। তবে নাম ‘মাঙ্কিপক্স’ হলেও একাধিক বন্যপ্রাণির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ছড়ায় ইঁদুরের মাধ্যমে। 

পশু থেকে মানুষের মধ্যে যে ভাবে সংক্রমণ ছড়াতে পারে:
১. আঁচড় বা কামড়ের মাধ্যমে
২. বন্য প্রাণী শিকার করে পাওয়া মাংস থেকে 
৩. সংক্রমিত কোনো পশুর শরীরের কোনও রস বা চোট-আঘাতের সংস্পর্শে এসে 

শ্বাসনালী, চামড়ার উপরের ক্ষত, অথবা মুখ, নাক বা চোখের মিউকাস মেম্ব্রেন-এর মাধ্যমে ভাইরাসটি শরীরে ঢুকতে পারে।   

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention Website. 
২,১৫১.
পৃথিবীর কেন্দ্রে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. লোহা
  3. কপার
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল (Core) মূলত লোহা (Fe) দ্বারা গঠিত, সাথে কিছু পরিমাণ নিকেল (Ni) ও হালকা উপাদান (যেমন সালফার, অক্সিজেন ইত্যাদি) থাকে।

পৃথিবীর কেন্দ্র: 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে গভীরতার সাথে তাপমাত্রা ও চাপ বৃদ্ধি পায়।
- গড়ে প্রতি ১ কিলোমিটার গভীরতায় প্রায় ২৫° সেলসিয়াস (অথবা প্রতি ২১.৩ মিটার গভীরতায় ১° ফারেনহাইট) তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটে।
- পৃথিবীর কেন্দ্র প্রায় সম্পূর্ণই ধাতব; প্রধানত লোহা (Fe) ও নিকেল (Ni)। এজন্য কেন্দ্রকে সংক্ষেপে বলা হয় NiFe (Nickel + Iron)।
- পৃথিবীর মোট ভরের ৯০% গঠিত লোহা (Fe), অক্সিজেন (O), সিলিকন (Si), ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা। এরা মূলত silicate minerals তৈরি করে।
- পৃথিবীর ভরের ৮৫–৯০% লোহা (Iron) মূলত কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত।

পৃথিবী গঠনের (প্রায় ৪.৫৬ বিলিয়ন বছর আগে) অল্প সময় পরই ভিন্ন ভিন্ন স্তরে বিভক্ত হয়েছিল—
Core (কেন্দ্র): ধাতব উপাদানে সমৃদ্ধ।
Mantle: সিলিকেট সমৃদ্ধ।
Crust: খনিজে বৈচিত্র্যময়, কিন্তু আয়তনে খুব পাতলা।

উৎস: 
১। ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
২। National Geographic ওয়েবসাইট। 

২,১৫২.
'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে?
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. স্টিফেন হকিং
  3. রিচার্ড ফেইম্যান
  4. নীলস বোর
ব্যাখ্যা

• 'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।

- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল, হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটি বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।

• স্টিফেন হকিং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।
- তাই বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design.

উৎস: ব্রিটানিকা

২,১৫৩.
উপগ্রহ কী? 
  1. সূর্যের অংশবিশেষ 
  2. গ্রহাণুপুঞ্জের বড় অংশ 
  3. গ্রহের চারদিকে আবর্তিত ক্ষুদ্র গোলাকার বস্তু 
  4. দূরবর্তী নক্ষত্রের প্রভাবাধীন বস্তু 
ব্যাখ্যা

সৌরজগত: 
- মহাকাশে মাঝারী এক নক্ষত্র হলো সূর্য। 
- সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি (Gravitational Force) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আকারের গ্রহ-উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ ও উল্কাসমূহ একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে ও নির্দিষ্ট গতিতে অনবরত ঘুর্ণনরত অবস্থায় বিরাজ করছে। 
 - সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুর্ণনরত অবস্থায় সকল গ্রহ-উপগ্রহ, গ্রহানুপুঞ্জ ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সৌরজগৎ।
- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত সূর্যের প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বিভিন্ন আকারের গ্রহ (Planet) একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে, ডিম্বাকৃতির একটি পথে ক্রমাগত আবর্তিত হচ্ছে, এই পথটি কক্ষপথ নামে পরিচিত। 
- আবার গ্রহসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকারের কিছু গোলাকার বস্তু, যা উপগ্রহ (Satellite) পরিচিত। 
যেমন: পৃথিবী নামক গ্রহটিকে ঘিরে আবর্তিত হয় চাঁদ নামক উপগ্রহ। 
- বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- মঙ্গল ও বৃহস্পতি নামক গ্রহ দুইটির কক্ষপথের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে এক কিলোমিটার বা তার চেয়ে ক্ষুদ্রায়তনের হাজার হাজার গ্রহাণু (Asteroids), লক্ষ লক্ষ ধূমকেতু (Comet), উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteoroids), সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থসমূহের এক বলয়, যা গ্রহানুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৫৪.
প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে মোট সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ২ মিনিট
  2. ৪ মিনিট
  3. ২ সেকেন্ড
  4. ৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে মোট সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়
- বাংলাদেশের প্রমাণ সময় হিসেবে গণনা করা হয় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।   

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৫৫.
সূর্য প্রধানত কোন দুটি গ্যাস দিয়ে গঠিত? 
  1. হিলিয়াম ও কার্বন 
  2. হিলিয়াম ও অক্সিজেন 
  3. হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
  4. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- সূর্য প্রধানত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৫৬.
আধুনিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কাকে?
  1. জেমস গ্রেগরি
  2. জন ম্যাক্সওয়েল
  3. জি. মার্কনী
  4. কার্ল রিটার
ব্যাখ্যা
• হুমবোল্ট ও রিটারের ধারণা:
- আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্ট এবং কার্ল রিটার হলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর দুই জার্মান মনীষী।
- এই দুইজনকে আধুনিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা বলা যেতে পারে।
- হুমবোল্টের বিভিন্ন রচনার মধ্যে ১৮৪৫ থেকে ১৮৬২ সালের মধ্যে পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত প্রাকৃতিক পৃথিবীর বর্ণনা সম্বলিত "The Cosmos" সর্বশ্রেষ্ঠ।
- এসব কাজে তিনি প্রাকৃতিক বিশ্বের "একত্ব" বা "সামগ্রিকত্ব” প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
- তাঁর মতে প্রাকৃতিক বিশ্বকে কতগুলি মৌলিক নীতির সৃষ্ট ফল বলে ব্যাখ্যা করা যায়।
- তাঁর রচনার সমগ্রভাগে প্রাকৃতিক ঘটনাবলি এবং মানবজাতির পারস্পরিক নির্ভরশীলতার উপর জোর দেয়া হয়েছে এবং তিনি প্রাকৃতিক বিশ্বকে ব্যাখ্যার জন্য সার্বজনীন তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পেয়েছেন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৫৭.
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান-
  1. ক) ১৯০০ সালে
  2. খ) ১৯০১ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯১৮ সালে
ব্যাখ্যা
কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন, কোয়ান্টাম তত্ত্বের কারণে ১৯১৮ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
২,১৫৮.
জিকা ভাইরাস ছড়ায় কিসের মাধ্যমে?
  1. মশা
  2. মাছি
  3. পানি
  4. বাতাস
ব্যাখ্যা
• জিকা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করা হয় উগান্ডায় ১৯৪৭ সালে বানরের শরীরে। পরবর্তীতে, ১৯৫২ সালে মানবদেহে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব এর প্রমাণ পেলে উগান্ডায় এবং তানজানিয়ায়। 

• ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতোই জিকা ভাইরাসও মশাবাহিত একটি ভাইরাস। জানা যাচ্ছে, যে এডিস মশার কারণে ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া প্রভৃতি রোগ ছড়ায়, সেই এডিস মশাই জিকা ভাইরাস বহন করে। 

লক্ষণ:
জিকা ভাইরাসের সর্বাধিক সাধারণ লক্ষণগুলি হল জ্বর এবং ত্বকে ফুসকুড়ি, সাধারণত পেশি/অস্থিসন্ধিতে ব্যাথা এবং কনজাংটিভাইটিস। এই লক্ষণগুলি সাধারণত মৃদু হয়, ২-৭ দিন অবধি থাকতে পারে।

সূত্র: World Health Organization Website.
২,১৫৯.
১ ফ্যারাডে সমান কত কুলম্ব?
  1. ক) ৯৬৫০০
  2. খ) ৯৫০০০
  3. গ) ৯৫৬০০
  4. ঘ) ৯৫৫০০
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২,১৬০.
স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোনস্তর ক্ষয়ের জন্য প্রধানত দায়ী -
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা

- স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোন স্তর হ্রাসের জন্য প্রধানত দায়ী ক্লোরিন এবং ব্রোমিন পরমাণু । 
- ক্লোরিন এবং ব্রোমিন পরমাণু যখন স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ওজোনের সংস্পর্শে আসে তখন এই পরমাণুগুলো ওজোন অণু ধ্বংস করে।
- একটি ক্লোরিন পরমাণু ১ লক্ষ ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে।
- ওজোন প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়ার চেয়ে দ্রুত ধ্বংস হয়ে থাকে।
- রেফ্রিজারেশন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি) এবং হাইড্রোক্লোরোফ্লুরোকার্বন (এইচসিএফসি) ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লোরিন ও ব্রোমিন পরমাণু বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। 

উৎস :  এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) ওয়েবসাইট

২,১৬১.
নিচের কোন গ্যাস গ্রীনহাউস গ্যাস নয়?
  1. ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. খ) নাইট্রাস অক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
সালফার ডাইঅক্সাইড গ্রীনহাউস গ্যাস নয়। 

গ্রীনহাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect):
- শীতপ্রধান দেশে গ্রীন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।

গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N2O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC).
- ওজোন (O3)
- জলীয় বাষ্প

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Royal Society of Chemistry.
২,১৬২.
সূর্যগ্রহণ ঘটে কখন?
  1. যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চাঁদ অবস্থান করে
  2. যখন সূর্য ও শনির মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে
  3. যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় অবস্থান করে
  4. যখন চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে
ব্যাখ্যা
সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]।
২,১৬৩.
নিচের কোন অঙ্গটির গঠনতন্ত্রের একক হচ্ছে অ্যালভিওলাস?
  1. ক) রেচনতন্ত্র
  2. খ) কংকালতন্ত্র
  3. গ) যকৃত
  4. ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা

ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট পুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনাে ঘর্ষণ হয় না।
ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। বায়ুথলিগুলােকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। বায়ুথলিগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতাে অবস্থিত। নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে।
বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। বায়ু প্রবেশ করলে এগুলাে বেলুনের মতাে ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান

২,১৬৪.
আলোর কোয়ান্টাম তথ্যের প্রস্তাবনা করেন কে?
  1. ক) আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. খ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) রন্টজেন
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিয় শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন।
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৫.
রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিস্তৃতি কতটুকু? 
  1. 10–380 nm
  2. 0.01-10 nm
  3. 400-700 nm
  4. 0.0005-0.15 nm
ব্যাখ্যা
তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িচ্চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। যথা- 

১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৬.
নিম্নের কোন রোগটি পশুর কামড়ে হয়ে থাকে?
  1. ক) অ্যান্থ্রাক্স
  2. খ) বার্ড ফ্লু
  3. গ) জলাতঙ্ক
  4. ঘ) ফিতাকৃমি
ব্যাখ্যা
জলাতঙ্ক রোগটি পশুর কামড়ে হয়ে থাকে। 

- জলাতঙ্ক, যা হাইড্রোফোবিয়া নামেও পরিচিত, একটি তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ যা প্রায় সবসময়ই মারাত্মক।
- এটি সংক্রামক রোগের বিভাগের অধীনে আসে এবং খামার বা বন্য প্রাণীদের দ্বারা সংক্রামিত হয়; সাধারণত মাংসাশী যেমন কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, রেকুন।
- জলাতঙ্ক রোগ সংক্রমণের পর থেকে উপসর্গ দেখা দেয়ার সময় সাধারণত এক থেকে তিন মাস।
- ৬ই জুলাই, ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। 

সূত্র- WHO Website [লিঙ্ক]
২,১৬৭.
এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন-
  1. ক) ১৭৬৭ সালে
  2. খ) ১৭৮৭ সালে
  3. গ) ১৭৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৮৬৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন। এজন্য জানার কে প্রতিষেধক বিদ্যার জনক বলা হয়। ১৯৬৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সারাবিশ্বে গুটিবসন্ত নির্মূলের প্রচারণা চালায় এবং সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়িত করে।
২,১৬৮.
ইউরি গ্যাগারিন কোন মহাকাশযানে করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন?
  1. ভস্টক- ৪
  2. ভস্টক- ৩
  3. ভস্টক- ১
  4. ভস্টক- ২
ব্যাখ্যা
ইউরি গ্যাগারিন:
- মহাকাশে প্রথম ভ্রমণকারী ইউরি গ্যাগারিন।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ অভিযাত্রী ইউরি গ্যাগারিন। 
- মহাকাশে তিনিই হলেন প্রথম মানব অভিযাত্রী।
- ১৯৬১ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষপথ পরিভ্রমণ করেন। 
- ভস্টক–১ নভোযানে তিনি মহাকাশে যান।
- গ্যাগারিন মহাকাশে ছিলেন ১০৮ মিনিট।
- মাত্র দেড় ঘণ্টার মতো সময়ে তিনি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: Britannica.
২,১৬৯.
ভূগোলের কোন শাখায় বায়ুর গঠন, বায়ু প্রবাহ, আবহাওয়া ও জলবায়ু ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়?
  1. Geomorphology
  2. Regional Geography
  3. Climatology
  4. Urban Geography
ব্যাখ্যা
ভূগোলের শাখা: 
- ভূগোলের প্রধান দুইটি শাখা রয়েছে। 
যথা- 


প্রাকৃতিক ভূগোল: 
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে। 
- প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ - 

১। ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): 
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে। 

২। জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): 
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। 

৩। সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): 
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র। এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। 

৪। মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): 
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে। 

৫। জীব ভূগোল (Bio-Geography): 
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে। 

৬। গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): 
- গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমণ্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

মানব ভূগোল: 
- স্থান এবং কালের ভিত্তিতে মানুষ কীভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে, বিভিন্ন পরিবেশের সাথে জীবনযাত্রা নির্বাহ করছে তার কার্যকারণ অনুসন্ধান মানবিক ভূগোলের প্রধান আলোচ্য বিষয়। 
- মানব ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ - 

১। অর্থনৈতিক ভূগোল (Economie Geography): 
- কৃষিকাজ, পশুপালন, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ, ব্যবসা- বাণিজ্য ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভূগোলের যে শাখায় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাকে অর্থনৈতিক ভূগোল বলে। 

২। জনসংখ্যা ভূগোল (Population Geography): 
- জনসংখ্যার বিভিন্ন বিষয় যেমন লিঙ্গ, জন্মহার, মৃত্যুহার, বয়স কাঠামো, বৈবাহিক অবস্থা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উপর জনসংখ্যার প্রভাব প্রস্তুতি জনসংখ্যা বিষয়ক বিষয়াদি ভূগোলের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে জনসংখ্যা ভূগোল বলে। 

৩। আঞ্চলিক ভূগোল (Regional Geography): 
- আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক বিষয়বস্তু অনুশীলন করা আঞ্চলিক ভূগোলের প্রধান বিষয়। 

৪। রাজনৈতিক ভূগোল (Political Geography): 
- রাজনৈতিক বিভাগ, পরিসীমা, বিবর্তন প্রভৃতি ভৌগোলিক বিষয় রাজনৈতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়। 

৫। পরিবহন ভূগোল (Transport Geography): 
- পরিবহন ভূগোলে মানুষ ও পণ্যের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি সকল ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা, সমস্যা ও এর সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করে। 

৬। নগর ভূগোল (Urban Geography): 
- ভূগোলের যে শাখার নগরের উৎপত্তি, বিকাশ, নগর ও শহরের শ্রেণীবিভাগ, নগর পরিবেশ, নগরের কেন্দ্রীয় এলাকা, নগর বস্তি, প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তাকে নগর ভূগোল বলে। 

৭। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management): 
- বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ও দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস, দুর্যোগ থেকে পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষার কৌশল প্রভৃতি বিষয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আলোচ্য বিষয়। 

৮। ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ( Geographic Information System): 
- ভৌগোলিক তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে যে প্রক্রিয়ায় ডাটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং মানচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় তাকে বলা হয় ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা বা Geographic Information System (GIS)। এটি মূলত ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য নির্মিত সফটওয়্যার। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১৭০.
কোন বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. নিয়ত বায়ু 
  2. সাময়িক বায়ু 
  3. স্থানীয় বায়ু 
  4. অনিয়মিত বায়ু 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু।

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৭১.
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) এর অবস্থান -
  1. পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ
  2. পৃথিবীর মধ্য কক্ষপথ
  3. পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথ
  4. ভূ-স্থির কক্ষপথ
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS):
- আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) হলো পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থিত একটি গবেষণাগার, যা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA), জাপান ও অন্যান্য দেশের যৌথ প্রকল্প।
- ISS নির্মাণে নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকসমস (Roscosmos), ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA), জাপান (JAXA) ও কানাডা (CSA) অবদান রেখেছে।
- এটি বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে।

ইতিহাস ও উন্নয়ন:
- ১৯৮০-এর দশকে এটি প্রথম "ফ্রিডম" নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে পরিকল্পিত হয়েছিল।
- ১৯৯০-এর দশকে, ব্যয় হ্রাস ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য প্রকল্পটি পুনরায় ডিজাইন করা হয় এবং ISS নামকরণ করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পৃথক মহাকাশ স্টেশন প্রকল্পগুলো একত্রিত করে ISS গঠনে একমত হয়।

উৎস: Britannica.
২,১৭২.
মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত ব্ল্যাকহোল আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন কে?
  1. রজার পেনরোজ
  2. আন্দ্রেয়া গেজ
  3. চার্লস রাইস
  4. মাইকেল হটন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর হল মহাকাশের এমন এলাকা যেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতটাই প্রচণ্ড যে সেখান থেকে কোনো কণা, এমনকি আলোর মত বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গও বেরিয়ে আসতে পারে না। বিরাট আকৃতির কোনো নক্ষত্র যখন তার আয়ুষ্কাল শেষে চুপসে যায়, এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি প্রচণ্ড মাত্রা পায়, বিপুল পরিমাণ ভর সন্নিবেশিত হয় তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র আয়তনের ভেতরে, তখনই তা পরিণত হয় কৃষ্ণগহ্বরে।
জার্মান পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯১৫ সালে তার সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের ধারণা দেন, যা স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়। তার ওই তত্ত্বেই ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের ধারণা আরো জোর পায়, যদিও আইনস্টাইন নিজেও এক সময় ওই তত্ত্ব ‘ভুল’ বলে ভাবতে শুরু করেন। তার মনে হয়েছিল, বাস্তবে ব্ল্যাক হোলের মত কিছু থাকা সম্ভব না।
আইনস্টাইনের মৃত্যুর ১০ বছর পর ১৯৬৫ সালে তার সেই সংশয় দূর করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক পদার্থবিদ রজার পেনরোজ।
গাণিতিকভাবে তিনি দেখিয়ে দেন ব্ল্যাক হোল সত্যিই থাকা সম্ভব। আর কীভাবে তা তৈরি হয়, তাও তিনি গাণিতিক সমাধানে দেখিয়ে দেন আইনস্টাইনের সেই সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের পথ ধরেই।
আইনস্টাইনের তত্ত্বের পর পেনরোজের ওই গাণিতিক সমাধানকেই সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কাজ বলে বিবেচনা করা হয়।
- জার্মানির ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ফিজিক্সের গবেষক রাইনার্ড গেনসেল এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার আন্দ্রেয়া গেজ ১৯৯০ এর দশকে আলাদা দুই দল জ্যোতির্বিদকে নিয়ে নজর রাখছিলেন আমাদের ছায়াপথের ঠিক মাঝামাঝি এলাকার একটি অংশে, যাকে বলা হয় ‘স্যাগিটেরিয়াস এ’।
ওই এলাকার কাছাকাছি সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটির কক্ষপথ পরিমাপ করতে গিয়ে দুই দলই এক অদৃশ বস্তুর সন্ধান পান, যা আকারে আমাদের সৌরজগতের চেয়ে ছোট, কিন্তু ভর আমাদের সূর্যের ভরের প্রায় ৪০ লাখ গুণ বেশি। আর অদৃশ্য সেই বস্তু প্রচণ্ড শক্তিতে আশপাশের নক্ষত্রগুলোকে টানছে।
আসলে তাদের ওই গবেষণার মধ্য দিয়েই আমাদের আকাশগঙ্গার ঠিক কেন্দ্রে বিপুল বিশাল এব ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। এ আবিষ্কারের জন্য তাঁরা ২০২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন।
সূত্র: www.nobelprize.org ওয়েবসাইট

২,১৭৩.
ভাইরাসকে জীব এবং অজীবের মাঝামাঝি বলা হয় কারণ এতে-
  1. RNA ও কোষ উভয়ই আছে
  2. প্রোটিন নেই
  3. শুধুমাত্র এককোষী
  4. কোষ নেই কিন্তু DNA আছে
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস হলো এক ধরনের অণুজীব (Microorganism) যা জীবন ও অজীব উভয়ের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এই কারণে বিজ্ঞানীরা ভাইরাসকে জীব ও অজীবের মধ্যবর্তী সত্তা (borderline entity) হিসেবে বিবেচনা করেন।

ভাইরাসের জীব বৈশিষ্ট্য:

১। জিনগত উপাদান:
- ভাইরাসের মধ্যে DNA বা RNA থাকে, যা তার জিনগত তথ্য বহন করে।
- এই জিনগত উপাদান নতুন ভাইরাস উৎপাদনে মূল ভূমিকা রাখে।

২। প্রজনন ক্ষমতা:
- ভাইরাস নিজে থেকে প্রজনন করতে পারে না।
- এটি হোস্ট কোষের ভিতরে প্রবেশ করে কোষের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস তৈরি করে।

৩। সংক্রমণ ও বৃদ্ধি:
- ভাইরাস সংক্রমণের মাধ্যমে তার প্রজাতি বৃদ্ধি করতে পারে।
- এটি হোস্ট কোষের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলে সক্রিয় জীবন ধারণ করতে পারে না।

ভাইরাসের অজীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসের নিজস্ব কোষ নেই, তাই এটি স্বনির্ভরভাবে শক্তি উৎপাদন বা খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না।
- এককভাবে ভাইরাসকে জীবিত বলা যায় না; হোস্ট কোষ ছাড়া এটি কোন শারীরিক কাজ করতে সক্ষম নয়।
- ভাইরাসের প্রোটিন কোট (Capsid) থাকলেও কোষের মতো অঙ্গাণু বা যন্ত্রাংশ নেই।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

২,১৭৪.
হিগস বোসন কণার নামের সাথে কোন বাঙালীর নাম সম্পৃক্ত?
  1. ক) জগদীশ্চন্দ্র বসু
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. গ) জামাল নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা
পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে শক্তি হিসেবে এমন একটি কণার ধারণা দেন যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং যার ফলে এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে এ কণাটিই হলো হিগের কণা। হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'। বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা। হিগস বোসন কণার অপর নাম- ঈশ্বর কণা। হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে।
২,১৭৫.
খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে কোন ভিটামিন?
  1. ক) ভিটামিন সি
  2. খ) ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
  3. গ) ভিটামিন ই
  4. ঘ) ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
আটটি বি ভিটামিনকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলা হয়। এগুলোর মধ্যে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, বি সিক্স, বি টুয়েলভ, ফলিক এসিড ও প্যানথোনিক এসিড। এরা খাদ্যকে এনার্জিতে রূপান্তরিত হতে সাহায্য করে।

সঠিক বৃদ্ধির জন্য রক্তকোষ, হরমোন ও নার্ভাস সিস্টেমের জন্য ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অত্যাবশ্যকীয়। এসব ভিটামিন পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন, এবং প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকা আবশ্যক। শরীরে এসব ভিটামিন এর অভাবে হতে পারে বিভিন্ন রোগব্যাধি।
২,১৭৬.
Variola নামের ভাইরাসটি কোন রোগের জন্য দায়ী?
  1. ক) হেপাটাইটিস
  2. খ) গুটিবসন্ত
  3. গ) পোলিও
  4. ঘ) ডেঙ্গুজ্বর
ব্যাখ্যা
- পক্সভাইরাস দলের Variola নামের ভাইরাসটি মানুষের গুটিবসন্তের জন্য দায়ী, যা দীর্ঘদিন ছিল অসহনীয় দুর্ভোগ ও যন্ত্রণাময় এক রোগ। 
- এ দলের কম ক্ষতিকর কতিপয় ভাইরাস মানুষের আরো কয়েকটি রোগের কারণ হলেও সেসব অতটা তীব্র নয়। এসব ভাইরাস থেকেই গুটি বসন্তের টীকা উদ্ভাবিত হয়েছিল।
- ১৯৬৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সর্ব প্রথম সারা বিশ্বে গুটি বসন্ত নির্মূলের প্রচারণা চালায় এবং সফলভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত করে।
-  ফলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবী থেকে গুটি বসন্ত তিরোহিত হয়। 
- বাংলাদেশে সর্বশেষ গুটি বসন্তের ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে ১৯৭৫ সালে। সোমালিয়ায় গুটি বসন্তে আক্রান্ত শেষ রোগী মারা যায় ১৯৭৭ সালে। 
- Institute of Public Health (IPH) বাংলাদেশে সফলভাবে বসন্ত নির্মূল কার্যক্রমে এবং টীকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,১৭৭.
জার্মেনিয়াম এক ধরণের-
  1. ক) পরিবাহী
  2. খ) অর্ধপরিবাহী
  3. গ) অপরিবাহী
  4. ঘ) অন্তরক
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। উদাহরণ: সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টর। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
২,১৭৮.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে? 
  1. এডুইন হাবল
  2. স্টিফেন হকিং 
  3. জর্জ গ্যামো
  4. জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

২,১৭৯.
রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়-
  1. কিডনির পাথর গলাতে
  2. পিত্তপাথর গলাতে
  3. গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
  4. নতুন পরমাণু তৈরিতে
ব্যাখ্যা
- কোনো কোনো আইসোটোপ অস্থিতিশীল হয়ে থাকে, অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে থাকে।
- ফলস্বরূপ, এই আইসোটোপ থেকে কিছু কণা বিচ্ছুরিত হয়, কখনো কখনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে।
- এই প্রকার আইসােটোপকে রেডিও আইসোটোপ (radio isotope) বলা হয়। 
- এই রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে। 

- An exceptionally useful radioactive isotope is iodine-131, which has a half-life of eight days. 
- t is employed in medicine to monitor thyroid gland functioning, to treat goitre and thyroid cancer, and to locate tumours of the brain and of the liver.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি ও Britannica. 
২,১৮০.
Ichthyology কী?
  1. ক) বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা
  2. খ) মাছ সম্পর্কিত বিদ্যা
  3. গ) শৈবাল সম্পর্কিত বিদ্যা
  4. ঘ) হাড় সম্পর্কিত বিদ্যা
ব্যাখ্যা
• Ichthyology হলো মাছ সম্পর্কিত বিদ্যা।
- Ichthyology মাছের বৈজ্ঞানিক গবেষণা।
- এটি জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যা সমস্ত জীবন্ত জিনিস নিয়ে কাজ করে।
- Ichthyology মাছের প্রজাতির সাথে সম্পর্কিত, বিশেষ করে Chondrichthyes, Osteichthyes (অস্থি মাছ) এবং Agnatha (চোয়ালবিহীন মাছ) নিয়ে গবেষণা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,১৮১.
তড়িৎ চৌম্বক আবেশ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ওয়ারস্টেড
  2. মাইকেল ফ্যারাডে
  3. টমাস আল্ভা এডিসন
  4. মার্কনি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ চৌম্বক আবেশ:
- ওয়েরস্টেড (১৮২০) তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথায় চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টির কথা চিন্তা করেন।
- তখন তিন দেশের তিন জন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেনজ পৃথক পৃথক ভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে ১৮৩১ সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎ চৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত।
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুণ্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুণ্ডলীতে
একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তড়িৎ চৌম্বক আবেশ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮২.
বায়ুমন্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য হতে আসে?
  1. ৯০ শতাংশ
  2. ৯৪ শতাংশ
  3. ৯৮ শতাংশ
  4. ৯৯.৭ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। 
- বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। 
- পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় বিকিরণ পদ্ধতি। 
- ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় পরিবহন প্রক্রিয়া। 
- পানি ও বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয় পরিচলন প্রক্রিয়ায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৮৩.
সালফিউরিক এসিডে ভরের অনুপাতে প্রায় কত ভাগ সালফিউরিক এসিড থাকে?
  1. ক) ৯৮ ভাগ
  2. খ) ৬৭ ভাগ
  3. গ) ৪৫ ভাগ
  4. ঘ) ৫৬ ভাগ
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO4
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,১৮৪.
বিগ ব্যাং এর কত বছর পর সৌরজগতের উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর
  2. খ) ৮.৫ - ৯ বিলিয়ন বছর
  3. গ) ১১.২ বিলিয়ন বছর
  4. ঘ) ১৩.৮ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের উৎপত্তি বিগ ব্যাং এর প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পরে এবং আজ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে৷ গত ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে তারকার জন্মমৃত্যু চক্রাকারে চলে আসছে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১৮৫.
কোন পেশি রক্ত চলাচল বজায় রাখতে সহায়তা করে?
  1. ক) ডেলটয়েড
  2. খ) ট্রাইসেপ
  3. গ) নিউরন
  4. ঘ) কার্ডিয়াক
ব্যাখ্যা
মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।
উৎসঃজীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী
২,১৮৬.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র নিচের কোনটি? 
  1. অডিওমিটার 
  2. ম্যানোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. ক্রনোমিটার 
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র হচ্ছে- অডিওমিটার। 

গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত কিছু পরিমাপক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,১৮৭.
কৃষ্ণগহ্বর ও ঘটনা দিগন্তের মধ্যে সম্পর্ক কোনটি?
  1. কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্র হলো ঘটনা দিগন্ত
  2. প্রত্যেক কৃষ্ণবিবরের দুইটি ঘটনা দিগন্ত থাকে
  3. কৃষ্ণবিবরের বাইরের সীমানাই ঘটনা দিগন্ত
  4. দুইটি পরস্পর সম্পর্কহীন
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণগহ্বর:
- কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণ বিবর মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা।
-  এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা অতি ঘন সন্নিবিষ্ট।
- অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকেও (যেমন: আলো) নয়। 

• প্রত্যেক কৃষ্ণ বিবরের একটি ঘটনা দিগন্ত (Event horizon) থাকে। ঘটনা দিগন্ত হলো কৃষ্ণ বিবরের চারপাশের যে অঞ্চল থেকে কোনো প্রকার বিকিরণ বা সংকেত বেরিয়ে আসতে পারে না তার সীমানা। অর্থাৎ
- কৃষ্ণ বিবরকে ঘিরে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের গোলকের পৃষ্ঠকে বা সীমানাকে বলা হয় ঘটনা দিগন্ত।
- সুতরাং কৃষ্ণ বিবরের কেন্দ্র থেকে ঘটনা দিগন্ত পর্যন্ত দূরত্বকে সোয়ার্জস্কাইল্ড ব্যাসার্ধ বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৮.
এপিকালচার বলতে বুঝায়-
  1. রেশমের চাষ
  2. মৎস্য চাষ
  3. মৌমাছির চাষ
  4. পাখিপালন বিদ্যা
ব্যাখ্যা
• এপিকালচার (Apiculture):
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।
- বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

আধুনিক চাষ:
• উদ্যান বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার।
• পাখি পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার।
• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার।
• সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার।
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার।

উৎস:
১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
২,১৮৯.
ওজোন গ্যাসের রং কী?
  1. গাঢ় সবুজ
  2. গাঢ় নীল
  3. বেগুনী
  4. সাদা
ব্যাখ্যা
ওজোন গ্যাসের রং গাঢ় নীল ।
- ওজোন স্তর (Ozone layer) হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে।
- এই স্তর থাকে প্রধানতঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কম বেশি ২০-৩০ কিমি উপরে অবস্থিত।
- এই স্তরের পুরুত্ব স্থানভেদে এবং মৌসুমী কম বেশি হয়।
- বায়ুমণ্ডলে ওজোনের প্রায় ৯০ শতাংশ স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ওজোন কেন্দ্রীকরণ প্রায় ২০ এবং ৪০ কিলোমিটার (৬৬,০০০ এবং ১৩১,০০০ ফুট), তারা যেখানে মিলিয়ন প্রতি প্রায় ২ থেকে ৮ অংশ থেকে পরিসীমার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়।

সূত্র: Britannica.com
২,১৯০.
ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  4. কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

• ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs)। এটি বিভিন্ন এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, এবং স্প্রে ক্যানের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। যখন CFC বায়ুমণ্ডলে উঠে ওজোন স্তরে পৌঁছায়, সানলাইটের আলোর কারণে এটি ক্লোরিন আয়ন বের করে। এই ক্লোরিন আয়ন ওজোন অণুর সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে তাকে ভাঙতে শুরু করে, যার ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়। ওজোন স্তর আমাদেরকে সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। CFC ছাড়া অন্য উপাদান যেমন নাইট্রোজেন অক্সাইড বা মিথেনও ওজোন ক্ষয় ঘটাতে পারে, তবে তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। তাই CFC কে ওজোন স্তর নষ্টের প্রধান দায়ী ধরা হয়।

• ওজোন স্তর:
- ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামুলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে ।

• ওজোন স্তরের ভূমিকা- 
-  সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত অতিবেগুনি রশ্মিকে (Ultra-Violet Ray) শোষণ করে ভূপৃষ্ঠে আসতে দেয় না, যার ফলে জীবজগৎ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় ।
 - বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে ।
 - জীববৈচিত্র রক্ষা করে ।
 - ওজোন গ্যাস সূর্যের তাপ ও অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে, ফলে এই স্তরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও তা বায়ুমন্ডলীয় তাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

• CFC (Chlorofluorocarbons) হলো এমন রাসায়নিক যৌগ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- এই যৌগগুলো বায়ুমণ্ডলে উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (stratosphere) পৌঁছে ওজোন (O3) গ্যাসকে ধ্বংস করে।

• ক্ষয় প্রক্রিয়া:
- CFC গ্যাস UV রশ্মিতে ভেঙে যায় → ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত হয়।
- একটি ক্লোরিন পরমাণু → হাজার হাজার ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।

২,১৯১.
নবজাতক শিশুর জন্য প্রথম টিকার কাজ করে কোনটি?
  1. ক) বিসিজি ভ্যাক্সিন
  2. খ) পোলিও ভ্যাক্সিন
  3. গ) ডিপিটি ভ্যাক্সিন
  4. ঘ) শালদুধ
ব্যাখ্যা

সন্তান প্রসবের পরপরই মায়ের বুকে যে হলদেটে বর্ণের তরল নিঃসরিত হয়, তাকে শালদুধ বলা হয়।
নবজাতক শিশুর জন্য প্রথম টিকার কাজ করে এই শালদুধ।
কারণ শালদুধে আছে প্রয়োজনীয় এন্টিবডি, খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন যা নবজাতকের বিভিন্ন ধরণের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,১৯২.
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন কতবার জোয়ার ও ভাটা ঘটে?
  1. একবার জোয়ার ও একবার ভাটা
  2. একবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা
  3. দুইবার জোয়ার ও একবার ভাটা
  4. দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা
ব্যাখ্যা

- অধিকাংশ সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। এর প্রধান কারণ হলো পৃথিবী প্রতি চন্দ্র দিনে দুটি জোয়ারের স্ফীতির (tidal bulges) মধ্য দিয়ে ঘোরে। একটি জোয়ার ঘটে চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে এবং একই সময়ে পৃথিবীর বিপরীত পাশে কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে আরেকটি জোয়ার তৈরি হয়। এই দুটি জোয়ারের মধ্যবর্তী স্থানে ভাটা হয়। 

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। 
- ফুলে ওঠে আবার নেমে যাওয়ার কারণ মূলত দুটি। 
যথা- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো- 
(ক) মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব (The Force of Gravitational Attraction) এবং (খ) কেন্দ্রাতিগ/বহির্মুখী শক্তি (Centrifugal force) । 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

২,১৯৩.
সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন -
  1. পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝে আসে
  2. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে আসে
  3. সূর্য পৃথিবীর ছায়ায় পড়ে
  4. সূর্য ও চাঁদ বিপরীত দিকে থাকে
ব্যাখ্যা

সূর্যগ্রহণ:
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন  সূর্যগ্রহণ হয়।
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অন্যদিকে,
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) প্রথম আলো

২,১৯৪.
নিচের কোনটি পৌষ্টকনালির অংশ?
  1. ক) মুখ
  2. খ) দাঁত
  3. গ) অন্ননালি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকনালি
মুখগহ্বর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত এই নালিপথ কোথাও সরু আবার কোথাও প্রশস্ত। এর প্রধান অংশগুলো নিম্নরূপ:
• মুখ
• মুখগহ্বর
• দাঁত
• গলবিল
• অন্ননালি
• পাকস্থলী
• অন্ত্র
• পায়ু

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২,১৯৫.
একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের BMI কত হওয়া উচিত?
  1. ক) 15.00-18.40
  2. খ) 18.50-24.90
  3. গ) 25.00-29.90
  4. ঘ) 30.00-35.00
ব্যাখ্যা
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঠিক বিএমআই হওয়া উচিত ১৮.৫০ থেকে ২৪.৯০ এর মধ্যে। ১৮.৫ এর কম হলে ওজন কম এবং ২৫-২৯.৯ হলে ওজন বেশি ধরা হয়। বিএমআই এর মান ৩০ এর বেশি হলে স্থুলাকায় বলা হবে সেই ব্যক্তিকে।
উৎসঃ বিজ্ঞা্‌ন নবম-দশম শ্রেণী
২,১৯৬.
ক্যালকুলাসের জনক কে?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) নিউটন
  3. গ) কোপার্নিকাস
  4. ঘ) আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা

নিউটন ক্যালকুলাসের আবিষ্কারক।
নিউটন প্রথমে ফ্লাক্সিওন নামে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন বটে, কিন্তু তিনি তার আবিষ্কার ঠিকমত প্রকাশও করেননি।
তবে ক্যালকুলাস আবিষ্কারের কৃতিত্ব নিউটন আর লিবনিজ দুজনকেই দেওয়া হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

২,১৯৭.
কোন প্রতিষ্ঠান টি বাংলাদেশের ভূকম্প বলয় সম্বলিত মানচিত্র টি তৈরি করেন?
  1. ক) ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম
  2. খ) জাইকা
  3. গ) ইউএনডিপি
  4. ঘ) চায়না মেজর ব্রিজ কম্পানি
ব্যাখ্যা
১৯৮৯ সালে ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসাের্টিয়াম বাংলাদেশের ভূমিকম্প বলয় সম্বলিত মানচিত্র তৈরি করেন। এতে ৩টি বলয় দেখানাে হয়েছে। প্রথম বলয়কে “প্রলয়ঙ্করী”; দ্বিতীয় বলয়কে ‘বিপজ্জনক’ এবং তৃতীয় বলয়কে ‘লঘু' বলে বর্ণনা করেছেন।
২,১৯৮.
তেজস্ক্রিয় রশ্মি পূর্বে কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. ক) কুরী রশ্মি
  2. খ) গামা রশ্মি
  3. গ) ইউ-ভি রশ্মি
  4. ঘ) বেকেরেল রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। - ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- পরবর্তিতে মাদাম কুরী এবং তাঁর স্বামী পিয়ারে কুরী নানা পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,১৯৯.
নিচের কোন Instrument টি very high resistance (Insulation resistance) পরিমাপে ব্যবহৃত হয়?
  1. Multimeter
  2. Meggar
  3. Wheatstone bridge
  4. Potentiometer
ব্যাখ্যা
• The Megger insulation tester is a small, portable instrument that gives you a direct reading of insulation resistance in ohms or megohms. For good insulation, the resistance usually reads in the megohm range.

• The Megger insulation tester is essentially a high-range resistance meter (ohmmeter) with a built-in direct-current generator. This meter is of special construction with both current and voltage coils, enabling true ohms to be read directly, independent of the actual voltage applied. This method is non- destructive; that is, it does not cause deterioration of the insulation.
২,২০০.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা-
  1. ৯৮.৪° সেলসিয়াস
  2. ৫৪.৯° সেলসিয়াস
  3. ৯৮.৯° সেলসিয়াস
  4. ৩৬.৯° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।